ফিলিস্তিনে শান্তি প্রতিষ্ঠায় প্রধান বাধা ইসরায়েলের দখলদারিত্ব

ফিলিস্তিনে ইসরায়েলের দখলদারিত্ব - আন্তর্জাতিক - ২৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৪ (ফাইল ছবি)
ফিলিস্তিনে ইসরায়েলের দখলদারিত্ব - আন্তর্জাতিক - ২৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৪ (ফাইল ছবি)

www.HelloBangla.News – আন্তর্জাতিক – ২৭ ফেব্রুয়ারি, ২০২৪: ফিলিস্তিনের ভূখণ্ডে ইসরায়েলের দখলদারি নিয়ে আন্তর্জাতিক বিচার আদালতের (আইসিজে) ছয় দিনের শুনানি শেষ হয়েছে।  শুনানিতে অংশ নিয়ে তুরস্ক ও কয়েকটি সংগঠন জানিয়েছে, ফিলিস্তিনের ভূখণ্ডে ইসরায়েলের দখলদারিত্ব ওই অঞ্চলে শান্তি প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রে প্রধান বাধা হয়ে রয়েছে। এই দখলদারিত্বকে অবৈধ ঘোষণা করতে হবে। স্থায়ী শান্তি প্রতিষ্ঠার জন্য দুই রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার নীতিতে এগিয়ে নিতে হবে। আর গাজায় ইসরায়েল যে আগ্রাসন চালাচ্ছে, তা আরেকটি মহাবিপর্যয় সৃষ্টির লজ্জাজনক অপচেষ্টা।

গতকাল সোমবার ছিল এই শুনানির ষষ্ঠ ও শেষ দিন। এরপর এ বিষয়ে আইসিজে তার মতামত ও নির্দেশনা দেওয়ার কথা। এ জন্য ছয় মাসের মতো সময় লাগতে পারে। তুরস্ক ছাড়াও সোমবার শুনানিতে অংশ নেন ইসলামি সহযোগিতা সংস্থা (ওআইসি), আরব লিগ, আফ্রিকান ইউনিয়ন (এইউ), জাম্বিয়া, মালদ্বীপ, স্পেন ও ফিজির প্রতিনিধিরা। তিন সংস্থার প্রতিনিধিরা আদালতকে বলেন, ইসরায়েলের এ দখলদারিত্বকে অবৈধ ঘোষণা এবং ইসরায়েলের দখলকৃত ফিলিস্তিনি ভূখণ্ড ছেড়ে যাওয়ার বিষয়ে আইসিজের রুল জারি করা উচিত।

নেদারল্যান্ডসের দ্য হেগ শহরে অবস্থিত আইসিজেতে তুরস্কের প্রতিনিধি উপপররাষ্ট্রমন্ত্রী আহমত ইলদিজ বিচারকদের উদ্দেশে বলেন, “মধ্যপ্রাচ্যে সংঘাতের মূল কারণ ইসরায়েলের এই দখলদারিত্ব। তিনি বলেন, ইসরায়েলি দখলদারির অবসান না হওয়া পর্যন্ত মধ্যপ্রাচ্যে শান্তি আসবে না। এই দখলদারিত্ব অবৈধ ঘোষণা করতে বিচারকদের প্রতি আহ্বান জানান তিনি।”

ফিলিস্তিনি ভূখণ্ড দখল করে রেখে ইসরায়েল কীভাবে আন্তর্জাতিক আইন লঙ্ঘন করছে, তার আইনি দিকগুলো তুলে ধরেন ওআইসি, আরব লিগ ও আফ্রিকান ইউনিয়নের প্রতিনিধিরা। একই সঙ্গে ইসরায়েলি দখলদারি কেন অবৈধ ও এতে ফিলিস্তিনিদের আত্মনিয়ন্ত্রণের অধিকার কীভাবে লঙ্ঘিত হচ্ছে, সে বিষয়ে যুক্তি দেন তারা। তিন সংস্থার প্রতিনিধিরা আদালতকে বলেন, ইসরায়েলের এ দখলদারিত্বকে অবৈধ ঘোষণা এবং ইসরায়েলের দখলকৃত ফিলিস্তিনি ভূখণ্ড ছেড়ে যাওয়ার বিষয়ে আইসিজের রুল জারি করা উচিত। শুনানিতে আরব দেশগুলোর জোট আরব লিগের মহাসচিব আহমদ আবৌল ঘেইতির বিবৃতি আদালতকে পড়ে শোনান সংস্থাটির একজন প্রতিনিধি। বিবৃতিতে আরব লিগের মহাসচিব ইসরায়েলের দখলদারি আন্তর্জাতিক বিচারের প্রতি অবমাননা বলে বর্ণনা করেন। ইসরায়েলি দখলদারিকে অবৈধ ঘোষণা ও এর আইনি পরিণতি সম্পর্কে দ্ব্যর্থহীনভাবে রুল জারি করতে আদালতের প্রতি আহ্বান জানান তিনি।

ওআইসির মহাসচিব হিসেন ব্রাহিম তাহা দখলদার ইসরায়েলকে অস্ত্র দেওয়া বন্ধে সব দেশের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, “এসব অস্ত্রই ফিলিস্তিনিদের বিরুদ্ধে ব্যবহার করছে ইসরায়েলের সেনাবাহিনী ও অবৈধ বসতি স্থাপনকারীরা।”

গাজায় চলমান ইসরায়েলি হত্যাযজ্ঞেরও নিন্দা জানান ওআইসির মহাসচিব। আইসিজের ছয় দিনের শুনানিতে বেশির ভাগ দেশ ফিলিস্তিনি ভূখণ্ডে ইসরায়েলের দখলদারিত্বের অবসানের দাবি জানিয়েছে। একই সঙ্গে ফিলিস্তিন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠাই যে ফিলিস্তিনিদের দুর্দশা লাঘবের অন্যতম উপায়, সে বিষয়ে যুক্তি তুলে ধরেছেন দেশগুলোর প্রতিনিধিরা।

শুনানিতে আফ্রিকান ইউনিয়নের প্রতিনিধি মোহামেদ হেলাল বলেন, “অতীতের মতো আবারও ফিলিস্তিনি ভূখণ্ডে ইসরায়েলের দখলদারির অবসান চায় আফ্রিকান ইউনিয়ন।”

একই সঙ্গে আইসিজের প্রতি ইসরায়েলি দখলদারিকে অবৈধ ঘোষণা করার দাবি জানান তিনি। তিনি আরও বলেন, “এই শুনানির পর শেষ পর্যন্ত আদালত কী নির্দেশনা দেন, তা ইতিহাসে থেকে যাবে।”

আফ্রিকান ইউনিয়নের আরেক প্রতিনিধি হাজের গুলেদিচ বলেন, “ফিলিস্তিনের অবরুদ্ধ গাজা উপত্যকায় ইসরায়েলের নির্বিচার হামলা আরেকটি ‘নাকবা’ (মহাবিপর্যয়) সৃষ্টির লজ্জাজনক অপচেষ্টা। ফিলিস্তিনিদের ওপর যেভাবে জুলুম ও অত্যাচার চলছে, কোনো কিছু দিয়েই তার বৈধতা দেওয়া যায় না।”

আইসিজের ছয় দিনের শুনানিতে বেশির ভাগ দেশ ফিলিস্তিনি ভূখণ্ডে ইসরায়েলের দখলদারিত্বের অবসানের দাবি জানিয়েছে।

তবে গত সপ্তাহে শুনানিতে অংশ নিয়ে কেবল যুক্তরাষ্ট্র নেতিবাচক কথা বলেছে, ইসরায়েল নিরাপত্তার নিশ্চয়তা না পাওয়া পর্যন্ত দখলকৃত ফিলিস্তিনি ভূখণ্ড ছেড়ে যেতে দেশটিকে বাধ্য করা যাবে না বলে মন্তব্য  করে ওয়াশিংটন।

পূর্ববর্তী বিদ্যুতের দাম প্রতি ইউনিটে বাড়ছে ৩৪ থেকে ৭০ পয়সা: বিদ্যুৎ প্রতিমন্ত্রী
পরবর্তী প্রাথমিকে শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষার ফল প্রকাশ