Category: মতামত

  • সুন্দরবনে বর্তমানে বাঘের সংখ্যা কত তা জানা যাবে আগস্টে

    সুন্দরবনে বর্তমানে বাঘের সংখ্যা কত তা জানা যাবে আগস্টে

    www.HelloBangla.News – মতামত – ২৯ জুলাই, ২০২৪: সুন্দরবনে গিয়ে বাঘ দেখার সৌভাগ্য সবার হয় না। তবে আমরা মিরপুর চিড়িয়াখানায় বাঘ দেখে থাকি। বাঘ দেখতে খুব নিরিহ প্রাণী মনে হলেও তারা বাস্তবে অনেক হিংস্র। তবে বাংলাদেশের বাঘ অনেক সুন্দর ও আকারে অনেক ছোট।

    আজ সোমবার (২৯ জুলাই) বিশ্ব বাঘ দিবস। বাঘের প্রাকৃতিক আবাস রক্ষা করা এবং বাঘ সংরক্ষণের জন্য সাধারণ মানুষের মধ্যে সচেতনতা তৈরির লক্ষ্যে প্রতি বছরের ২৯ জুলাই বিশ্ব বাঘ দিবস পালন করা হয়।

    বাঘ আমাদের জতীয় পশু। তবে বাংলাদেশে বছরে বাঘের সংখ্যা বাড়ার হার খুব হতাশাজনক। সুন্দরবনে প্রথম বাঘ জরিপের কাজ শুরু হয় ২০১৩-১৪ সালে। সেই জরিপে ১০৬টি বাঘ সুন্দরবনে আছে বলে জানা যায়। ২০১৮ সালে সর্বশেষ জরিপে সুন্দরবনে বাঘের সংখ্যা ছিল ১১৪টি। অর্থাৎ চার বছরে সুন্দরবনে বাঘ বেড়েছে ৮টি।

    বর্তমানে বাঘ জরিপের কাজ চলছে। জানা গেছে আগস্টের মাঝামাঝি জানা যাবে বর্তমানে সুন্দবনে কয়টি বাঘ আছে।

    বাঘের বসবাস কিন্তু এশিয়ার মাত্র কয়েকটি দেশের বন-জঙ্গলে। বাংলাদেশ ও ভারতের কোল ঘেঁষা সুন্দরবনেও আছে বাঘের আনাগোনা।

    প্রাণিবিদরা এই বাঘকে বিড়াল জাতীয় বা ক্যাট গ্রুপের প্রাণী হিসেবে চিহ্নিত করেছেন। এর আভিধানিক নাম ‘প্যান্থেরা টাইগ্রিস’। একসময় পৃথিবীতে বাঘের নয়টি উপ-প্রজাতি ছিল। কিন্তু আজ থেকে প্রায় দেড়শো বা দুইশো বছর আগে তিনটি প্রজাতি বিলুপ্ত হয়ে গেছে এবং পৃথিবীতে এখন টিকে রয়েছে মাত্র ছয়টি উপ-প্রজাতির বাঘ।

    তবে আকৃতি এবং সৌন্দর্যে যেসব বাঘ খ্যাতিমান, তার মধ্যে নিঃসন্দেহে সুন্দরবনের বাঘ, অর্থাৎ বেঙ্গল টাইগার অন্যতম। এই বাঘের বৈজ্ঞানিক নাম ‘প্যান্থেরা টাইগ্রিস টাইগ্রিস’।

    সুন্দরবনের এই বেঙ্গল টাইগারকে যা দিয়ে চেনেন সকলে, সেই ডোরাকাটা বাঘের আরও জ্ঞাতিভাই রয়েছে।

    চলুন, জেনে নেয়া যাক যে সুন্দরবনের বেঙ্গল টাইগার পৃথিবীর অন্যসব ডোরাকাটা বাঘের থেকে কোথায় আলাদা, আর কীসব বৈশিষ্ট্য দিয়েই-বা তাকে আলাদা করে চেনা যাবে।

    প্রাণিবিদদের মতে, সুন্দরবনের বাঘ চেনার অন্যতম প্রধান নিয়ামক হলো এদের দেহের আকার। বলা হয়ে থাকে, সুন্দরবনের বাঘ বিবর্তনের মাধ্যমে নিজেদের দেহের আকৃতি ছোট করে ম্যানগ্রোভ বনে টিকে থাকার মতো শারীরিক যোগ্যতা অর্জন করেছে। জানা গেছে সারা পৃথিবীতে বাঘের যত উপ-প্রজাতি রয়েছে, সবগুলোর চাইতে সুন্দরবনের বাঘ ছোট। সুন্দরবন ছাড়াও ভারত, ভূটান, নেপাল এবং মিয়ানমারেও বেঙ্গল টাইগার পাওয়া যায়। সেগুলোর সাথে সুন্দরবনের বাঘের একমাত্র পার্থক্য হলো দেহের আকার। এই আকার ছাড়া সুন্দরবনের বেঙ্গল টাইগার ও পৃথিবীর অন্য জায়গার বেঙ্গল টাইগারের মাঝে আর তেমন কোনও পার্থক্য নেই বলে জানান প্রাণিবিদরা।

     

    সুন্দরবনের বাঘের দেহের আকার যেমন ছোট, তেমনি এই বনের বাঘের ওজনও কম। জানা গেছে সুমাত্রান মেয়ে বাঘের ওজন সাধারণত গড়ে ৮৫ থেকে ৯০ কিলোগ্রাম হয়। কিন্তু সুন্দরবনের মেয়ে বাঘের গড় ওজন ৭৫ থেকে ৮০ কিলোগ্রাম। সুন্দরবন ছাড়া পৃথিবীর অন্যান্য দেশে যেসব বেঙ্গল টাইগার পাওয়া যায়, সেখানকার মেয়ে বাঘের ওজন গড়ে ১৩৫ থেকে ১৪০ কেজি পর্যন্ত হতে পারে।

    বাংলাদেশ ও ভারতের পশ্চিমবঙ্গ জুড়ে বিস্তৃত দশ হাজার বর্গ কিলোমিটার জুড়ে গড়ে ওঠা সুন্দরবনের বাংলাদেশ অংশের আয়তন ছয় হাজার ১৭ বর্গ কিলোমিটার। অর্থাৎ, এর ৬০ শতাংশ রয়েছে বাংলাদেশে। সুন্দরবন জুড়ে খাল-বিল, নদী, শ্বাসমূল থাকায় বাঘের চলাচলের জন্য তা কিছুটা অসুবিধাজনক। সেইসাথে, এখানে খাবারের স্বল্পতা রয়েছে। এইসব কারণে সেখানে একেকটি বেঙ্গল টাইগারের বিচরণভূমি ১৫ থেকে ২০ বর্গ কিলোমিটার। কোনও কোনও ক্ষেত্রে আবার এটি ৩০ থেকে ৪০ বর্গ কিলোমিটারও হতে দেখা যায়।

    কিন্তু সুন্দরবন বাদে অন্যান্য অঞ্চলের বেঙ্গল টাইগারকে সাধারণত ৬০ থেকে ১০০ বর্গ কিলোমিটার এলাকা জুড়ে বিচরণ করতে দেখা যায়।

    বেঙ্গল টাইগারের বাইরে যেসব বাঘ, তাদের একেকটির বিচরণভূমি একেকরকম। যেমন, সাইবেরিয়ান বাঘের বিচরণভূমি বেশি, কারণ সাইবেরিয়াতে জায়গার অভাব নেই। সেখানকার একটা বাঘের বিচরণভূমি ৫০০ থেকে ১০০০ বর্গ কিলোমিটার পর্যন্ত হয়ে থাকে।

    ২০২৩ সালের ৫ নভেম্বর দুপুরে সুন্দরবন পূর্ব বন বিভাগের হাড়বাড়িয়া ইকো-ট্যুরিজম কেন্দ্রে বাঘ গণনার জরিপ কাজের উদ্বোধন করেন সাবেক পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের উপমন্ত্রী বেগম হাবিবুন নাহার। আগস্ট মাসের মাঝামাঝি বাঘ জরিপের ফলাফল প্রকাশ করা হবে। জানা গেছে এই বাঘ জরিপ ‘ক্যামেরা ট্র্যাপিং’ পদ্ধতিতে করা হয়েছে। ১২১৬ টি ক্যামেরা নিয়ে প্রায় ৪৫ জনের একটি গবেষণা টিম বাঘ গণনার কাজ করেছেন।

    সূত্র: বিবিসি বাংলা

  • বিশ্বের সবথেকে বিপজ্জনক প্রাণী মশা আর সাপের স্থান তৃতীয়

    বিশ্বের সবথেকে বিপজ্জনক প্রাণী মশা আর সাপের স্থান তৃতীয়

    www.HelloBangla.News – মতামত – ২৯ জুন, ২০২৪: সম্প্রতি বাংলাদেশে সাপের আতঙ্ক নিয়ে অনেক কথা শোনা যাচ্ছে। রাসেলস ভাইপার বা চন্দ্রবোড়া সাপের ফিরে আসাকে কেন্দ্র করে সাধারণ মানুষের মধ্যে ভীতির সৃষ্টি হয়েছে। সবথেকে বিপদে আছে কৃষক শ্রেণির মানুষ। যারা জমিতে সাপের আতঙ্কে ঠিকমতো কাজ করতে পারছেনা। যদিও প্রাণী গবেষকরা বলছেন রাসেলস ভাইপার বিষাক্ত সাপগুলোর মধ্যে ৯ স্থানে অবস্থান করছে। এবং এই সাপ পরিবেশের জন্য উপকারী।

    অপর দিকে দেখা যাচ্ছে বিশ্বে সাপের কামড়ে নয় বরং মশার কামড়ে সবথেকে বেশি মানুষের মৃত্যু হয়। আর সেই তালিকায় তৃতীয় স্থানে আছে সাপের নাম।তারপরে মানুষে মানুষে সংঘাত ও যুদ্ধ বিগ্রহের কারণে মানুষের মৃত্যু হয়। ফলে মানুষের হাতে মানুষের মত্যুও কম হচ্ছেনা। কিন্তু বাস্তবতা হচ্ছে যে মশার কারণেই সবচেয়ে বেশি মানুষের মৃত্যু ঘটে।

    বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিষয়ক খ্যাতনামা সাময়িকী ‘বিবিসি সায়েন্স ফোকাস’দশটি বিপজ্জনক প্রাণীর তালিকা তৈরি করেছে। যুক্তরাজ্যভিত্তিক এই সাময়িকীটির তালিকায় একেবারে শীর্ষে এমন একটি প্রাণীর নাম দেখা যাচ্ছে, যেটির বসবাস বাংলাদেশের মানুষের ঘরে ঘরে। আরও কৌতুহল উদ্দীপক এবং নির্মম বাস্তবতা হচ্ছে, ‘বিপজ্জনক’ প্রাণী ওই তালিকায় মানুষের নিজের নামও উঠে এসেছে। এটাও দেখা যাচ্ছে যে, শীর্ষ প্রাণঘাতী প্রাণিগুলোর বেশিরভাগই আকার-আকৃতিতেও খুব একটা বড় নয়। এবার জেনে নেওয়া যাক ওই তালিকায় ঠিক কোন কোন প্রাণীর নাম রয়েছে এবং সেগুলোর আক্রমণে প্রতিবছর কত মানুষ অকালে প্রাণ হারাচ্ছেন?

    ১. মশা:

    দেখতে ক্ষুদ্র মনে হলেও প্রাণনাশের সংখ্যা বিবেচনায় মশা হিংস্র প্রাণীদেরকেও হার মানিয়েছে।

    বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার তথ্যমতে, ক্ষুদ্র এই প্রাণীটির কারণে বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত হয়ে সারা বিশ্বে প্রতিবছর সাত লাখ ২৫ হাজারেরও বেশি মানুষ অকালে প্রাণ হারাচ্ছেন। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি মানুষ মারা যায় ম্যালেরিয়া এবং ডেঙ্গুতে।

    বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা বলছে, শুধুমাত্র ২০২২ সালে বিশ্বের প্রায় ২৫ কোটি মানুষ মশাবাহিত ম্যালেরিয়া রোগে আক্রান্ত হন, যাদের বড় অংশই আফ্রিকা অঞ্চলের। এদের মধ্যে প্রাণ হারান ছয় লাখেরও বেশি মানুষ।

    অন্যদিকে, ২০২৩ সালে বিভিন্ন দেশে ৫০ লাখেরও বেশি মানুষ ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হন, যাদের মধ্যে পাঁচ হাজারেরও বেশি মানুষ মারা গেছেন।

    গত কয়েক দশকে বাংলাদেশেও বেশ কয়েকবার ডেঙ্গুর প্রকোপ দেখা গেছে।

    এর মধ্যে ২০২৩ সালে দেশটির ইতিহাসে সর্বোচ্চ সংখ্যক মানুষ ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়েছে এবং মারা গেছে। সরকারি হিসেবে, গত বছর সারা দেশে তিন লাখেরও বেশি মানুষ ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হন, যাদের মধ্যে মৃত্যুবরণকারীর সংখ্যা দেড় হাজারেরও বেশি। 

    ২. মানুষ:

    বিবিসি সায়েন্স ফোকাস ম্যাগাজিন বলছে, পৃথিবীতে মানুষ নিজেই নিজের জন্য ‘বিপজ্জনক’ একটি প্রাণী। কেননা, মানুষের হাতেই প্রতিবছর তার নিজ প্রজাতির প্রায় চার লাখ সদস্য খুন হচ্ছে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার হিসেবে, শুধুমাত্র ২০১৯ সালে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে চার লাখ ৭৫ হাজারেরও বেশি মানুষ হত্যাকাণ্ডের শিকার হয়েছে। এর মধ্যে খুনের হার সবচেয়ে বেশি দেখা গেছে মধ্য আমেরিকা এবং ক্যারিবীয় অঞ্চলে। ওই এলাকার দেশগুলোতে যত হত্যাকাণ্ড হয়েছে, সেগুলোর অর্ধেকেরও ঘটনায় আগ্নেয়াস্ত্র ব্যবহার করা হয়েছে বলেও জানাচ্ছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা।

    প্রতিষ্ঠানটি এটাও বলছে যে, আত্মহত্যা এবং গাড়ি দুর্ঘটনায় নিহতদের সংখ্যা বিবেচনা করলে মানুষের হাতে মানুষের মৃত্যুর এই সংখ্যা বছরে ১২ লাখেরও বেশি। 

    ৩. সাপ:

    অনেকেই হয়তো এতদিন ভেবে এসেছেন যে, সাপের কামড়েই পৃথিবীতে সবচেয়ে বেশি মানুষের মৃত্যু হয়ে থাকে।

    কিন্তু বিবিসি সায়েন্স ফোকাসের তালিকা বলছে, ধারণাটি সঠিক নয়। ম্যাগাজিনটির হিসেবে, বিপজ্জনক প্রাণীর তালিকায় সাপের অবস্থান তিন নম্বরে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার হিসেবে, পৃথিবীতে প্রতিবছর প্রায় ৫৪ লাখ মানুষকে সাপে কামড়ায় বা দংশন করে, যার মধ্যে প্রায় ৮১ হাজার থেকে এক লাখ ৩৮ হাজার মানুষ মৃত্যুবরণ করেন।

    এছাড়া যারা প্রাণে বেঁচে যান, তাদের মধ্যে কয়েক লাখ মানুষ অঙ্গহানি, পঙ্গুত্ববরণসহ শারীরিক ও মানসিক নানা ক্ষতির মুখে পড়েন।

    ৪. কুকুর:

    কুকুরকে মানুষের বিশ্বস্ত সঙ্গী ভাবা হয়ে থাকে। অথচ এই প্রাণীটির কামড়ে প্রতিবছর সারা বিশ্বে গড়ে ৫৯ হাজার জনের মতো মানুষ মৃত্যুবরণ করেন। এক্ষেত্রে বেওয়ারিশ পাগলা কুকুরের পাশাপাশি বুনো কুকুর, এমনকি পোষা কুকুরও কামড় দিয়ে বসতে পারে। তেমনটি ঘটলে দ্রুত চিকিৎসা নেওয়া উচিৎ। আর এক্ষেত্রে ব্যত্যয় ঘটলেই ব্যক্তির জলাতঙ্ক রোগ হয় এবং এক পর্যায়ে তিনি মারা যান। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার মতে, কুকুরের মাধ্যমেই মানুষের শরীরে প্রধানত জলাতঙ্কের ভাইরাস সংক্রিত হয়ে থাকে। তবে কামড়ানো ছাড়াও আক্রান্ত কুকুরের শরীরের ক্ষতস্থান, লালা এবং নখের আঁচড়ের মাধ্যমেও মানুষের শরীরে জলাতঙ্কের জীবাণু প্রবেশ করতে পারে। 

    ৫. অ্যাসাসিন বাগ:

    এটি এক ধরনের পতঙ্গ, যেটি মধ্য ও দক্ষিণ আমেরিকায় বেশি দেখা যায়।দেখতে অনেকটা মশা-মাছির মতো এই প্রাণীকে কেউ কেউ ‘কিসিং বাগ’ নামেও ডেকে থাকেন।আকারে ছোট হলেও রক্তচোষা এই প্রাণীটি চাগাস রোগের জীবাণু ছড়ায়। চাগাস এমন একটি সংক্রামক রোগ, যাতে আক্রান্ত হয়ে প্রতিবছর ১০ হাজারেরও বেশি মানুষ মারা যান। অ্যাসাসিন বাগ সাধারণত ঘুমন্ত মানুষকে কামড়ায়। তখন মানুষের শরীরে ‘প্রোটোজোয়ান ট্রাইপানোসোমা ক্রুজি’ নামক একপ্রকার জীবাণু ঢুকে পড়ে।

    তবে এই রোগাক্রান্ত হলে বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই মানুষ বুঝতে পারে না। ফলে ধীরে ধীরে জীবাণু শরীরে ছড়াতে থাকে এবং এক পর্যায়ে আক্রান্ত মানুষটি মারা যায়। কামড়ানোর বাইরে অ্যাসাসিন বাগের মাধ্যমে সংক্রমিত খাবার খেলেও চাগাস রোগ হতে পারে।

    ৬. বৃশ্চিক:

    পৃথিবীর অন্যতম প্রাচীন এই বিষাক্ত প্রাণীটির কারণে সারা বিশ্বে প্রতিবছর গড়ে তিন হাজারের বেশি মানুষ প্রাণ হারান। ক্ষুদ্রাকার এই প্রাণীটির দৈহিক গঠন এবং হাঁটা-চলায় কাঁকড়ার সঙ্গে কিছুটা মিল রয়েছে বলে বাংলাদেশে এরা ‘কাঁকড়াবিছা’ নামেও বেশ পরিচিত। মধ্যপ্রাচ্য ও উত্তর আফ্রিকার মরুভূমি অঞ্চলেই এদেরকে বেশি দেখা যায়। বৃশ্চিকের সাধারণত লেজের অংশে বিষ ধাকে। আক্রমণকালে এরা লেজ দিয়ে হুল ফোটায় এবং শিকারের শরীরে বিষ ঢেলে দেয়।

    ৭. কুমির:

    হাতির মতো বিশাল দেহের অধিকারী না হয়েও মানুষ হত্যার দিক থেকে এগিয়ে রয়েছে জলভাগের অন্যতম হিংস্র মাংসাশী প্রাণী কুমির। এদের আক্রমণে বছরে গড়ে এক হাজার মানুষ মারা যায় বলে জানিয়েছেন গবেষকরা। এছাড়া আরও কয়েকশ’ মানুষ কুমিরের আক্রমণে গুরুতর আহত, এমনকি পঙ্গুত্বও বরণ করে থাকেন। এর অর্থ এই নয় যে, এরা মানুষকে মারার জন্য ওঁৎ পেতে থাকে। তবে সুযোগ পেলে ছাড়েও না। মূলত সেকারণেই বিজ্ঞানীদের অনেকে কুমিরকে ‘সুযোগ সন্ধানী শিকারী’ বলে অভিহিত করে থাকেন।

    বাংলাদেশের সুন্দরবন-সহ নদী তীরবর্তী এবং উপকূলীয় এলাকায় প্রায়ই কুমিরের আক্রমণের খবর পাওয়া যায়।চলতি বছরের শুরুতে সুন্দরবনে কুমিরের আক্রমণে একজন মারাও গেছে।

    ৮. হাতি:

    স্থলভাগের সবচেয়ে বড় এবং ওজনদার স্তন্যপায়ী প্রাণী হচ্ছে হাতি। এর বিশাল দেহ এবং অসাধারণ শক্তি অনেক সময় মানুষের মৃত্যুর কারণ হয়ে দাঁড়ায়। পূর্ণবয়স্ক একটি হাতির ওজন পাঁচ থেকে আট টন পর্যন্ত হয়ে থাকে, যা একজন মানুষকে পায়ের নিচে ফেলে পিষে মারার জন্য যথেষ্ট। এছাড়া রেগে গেলে এরা শুঁড় দিয়ে আছড়েও মানুষ মেরে থাকে। বিবিসি সায়েন্স ফোকাসের মতে, মানুষের জন্য বিপজ্জনক প্রাণিগুলোর মধ্যে হাতির অবস্থান অষ্টম।এর আক্রমণে বছরে গড়ে প্রায় ৬০০ জন মানুষ নিহত হয়।

    বাংলাদেশের পার্বত্য চট্টগ্রাম এলাকায় মাঝে মধ্যে বন্য হাতির আক্রমণে মানুষ মারা যাওয়ার ঘটনা ঘটতে দেখা যায়।

    ৯. জলহস্তী:

    মানুষের জন্য বিপজ্জনক প্রাণীর তালিকায় সিংহের পরেই নাম রয়েছে জলহস্তীর। তৃণভোজী এই প্রাণীটির নাম তালিকায় দেখে অনেকেই হয়তো অবাক হবেন। কারণ এ ধরনের প্রাণীরা সাধারণত নিরীহ ও শান্ত স্বভাবের হয়ে থাকে।

    কিন্তু জলহস্তী এক্ষেত্রে সম্পূর্ণ ব্যতিক্রম। গবেষকরা বলছেন, এদের আক্রমণে আফ্রিকায় প্রতিবছর গড়ে প্রায় ৫০০ জন মানুষ অকালে প্রাণ হারান। জল ও স্থলপথে চলাচলের সময় সাধারণত এরা মানুষের উপর আক্রমণ করে থাকে। বিবিসি সায়েন্স ফোকাস সাময়িকী বলছে, ধারালো দাঁত দিয়ে এরা সিংহের চেয়ে তিনগুণ বেশি গতিতে কামড় বসাতে পারে, যা একজন মানুষের শরীরকে দু’খণ্ড করার জন্য যথেষ্ট।

    মূলত সেই কারণেই জলহস্তীকে মানুষের জন্য অন্যতম বিপজ্জনক স্তন্যপায়ী প্রাণী হিসেবে চিহ্নিত করেছেন গবেষকরা।

    ১০. সিংহ

    বনে বসবাস না করেও ‘বনের রাজা’ নামে পরিচিত সিংহের গর্জন যারা নিজ কানে শুনেছেন, তারাই কেবল জানেন সেটি কতটা ভয়ঙ্কর হতে পারে। কিন্তু আকৃতিতে বড় এবং শক্তিশালী এই প্রাণীর অবস্থান দেখা যাচ্ছে প্রাণঘাতী দশ প্রাণীর তালিকার একেবারে তলানিতে। কারণ এর কারণে খুব বেশি মানুষের প্রাণ দিতে হয় না। গবেষকদের বরাত দিয়ে বিবিসি সায়েন্স ফোকাস বলছে, সিংহের আক্রমণে বছরে গড়ে ২০০ জনের মতো মানুষ মারা যান, যাদের বেশিরভাগই আফ্রিকা মহাদেশের। কারণ সিংহের বসবাস সেখানেই সবচেয়ে বেশি।

    তবে তালিকায় একবারে নিচে রয়েছে বলে হিংস্র এই প্রাণীটিকে মোটেও খাটো করে দেখার সুযোগ নেই। এদের সামনে পড়লে মুহূর্তেই প্রাণ যেতে পারে যে কারও। মানুষ নিজেও সেটি জানে বলেই এদের কাছ থেকে দূরে থাকে।

    মূলত সেই কারণেই সিংহের আক্রমণে তুলনামূলক কম মানুষের মৃত্যু হয় বলে জানাচ্ছেন গবেষকরা।

    তাই হঠাৎ সাপ নিয়ে আতঙ্ক আমাদেরকে বিড়ম্বনায় ফেলেছে। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে আতঙ্কের বিষয়টি ব্যাপকতা পেয়েছে। অথচ সারা বিশ্বে প্রায় সাপের কামড়ে ৮১ হাজার থেকে এক লাখ ৩৮ হাজার মানুষ মৃত্যুবরণ করেন। অপর দিকে মশাবাহিত রোগে প্রতি বছর বিশ্বে মারা যায় প্রায় ৬ লাখ মানুষ। এই গুজবে ভিত হয় লাভ নেই। ঘরের মশা ও বাইরের সাপ থেকে নিরাপদ থাকা খুব জরুরি।

    সূত্র: বিবিসি বাংলা

  • রাসেলস ভাইপার আতঙ্কে সব ধরনের সাপ নিধনে পরিবেশে খারাপ প্রভাব পড়বে

    রাসেলস ভাইপার আতঙ্কে সব ধরনের সাপ নিধনে পরিবেশে খারাপ প্রভাব পড়বে

    www.HelloBangla.News – মতামত – ২৬ জুন, ২০২৪: সারা দেশে হঠাৎ করে রাসেলস ভাইপার সাপের প্রদুর্ভাব দেখা দিয়েছে। বলা হচ্ছে এই সাপ খুব বিষাক্ত এবং একবার কাউকে দংশন করলে তার মৃত্যু অবধারিত। ফলে গত কিছুদিন ধরে দেশের বিভিন্ন স্থানে রাসেলস ভাইপার সাপ মনে করে আতঙ্কে সব ধরনের সাপ পিটিয়ে মারা হচ্ছে। যা পরিবেশে খারাপ প্রভাব পড়েছে। টোটাল ফুড চেইনে বিরুপ প্রভাব পড়বে। কেননা ফসলী খেতে ইঁদুর ফসল ধ্বংস করে। আবার সাপ ইঁদুর খায় যা ফসল ধ্বংসের হাত থেকে রক্ষা করে।

    বন অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা বলছেন, বাংলাদেশে ৮৫ ভাগের বেশি সাপেরই বিষ নেই। এমনকি রাসেলস ভাইপার বা চন্দ্রবোড়া সাপ বিষধর সাপের তালিকায় নয় নম্বরে রয়েছে। আর এখন আতঙ্কিত হয়ে মানুষ যেসব সাপগুলো মারছে তার বেশিরভাগই নির্বিষ ও পরিবেশের জন্য উপকারী।

    প্রাণী বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সাপ জীববৈচিত্র্যের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ। পরিবেশের ভারসাম্য বজায় রাখার জন্যই অন্যান্য প্রাণীর মতই সাপও গুরুত্বপূর্ণ।

    গত কয়েক সপ্তাহ ধরে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে যেসব বিষয় নিয়ে সবচেয়ে বেশি আলোচনা চলছে তার মধ্যে অন্যতম রাসেলস ভাইপার সাপ।

    একসময় এই রাসেলস ভাইপার সাপটি বাংলাদেশ থেকে বিলুপ্ত হয়েছিল বলে ধারণা করা হয়েছিল। কিন্তু ১০ -১২ বছর আগে আবারো এই সাপের কামড়ে মানুষ মারা যাওয়ার ঘটনা ঘটে। অর্থাৎ ২০১৩ সাল থেকে এই সাপটি বেশি দেখা যায় বলে জানান সাপ গবেষকরা। ২০২১ সালে আবার দেশের উত্তর- পশ্চিমাঞ্চলের কয়েকটি এলাকায় বিশেষ করে পদ্মা তীরবর্তী কয়েকটি জেলা ও চরাঞ্চলে চন্দ্রবোড়া বা রাসেলস ভাইপার সাপের কামড়ে দুইজন নিহত ও কয়েকজন আহত হওয়ার ঘটনা সে সময় বেশ আলোড়ন তুলেছিল।

    এ বছর আবার মানিকগঞ্জে এই সাপের কামড়ে গত তিন মাসে পাঁচজন মারা গেছে বলে জানিয়েছেন সরকারি কর্মকর্তারা। যারা মারা গেছেন তাদের বেশিরভাগই কৃষক বলে জানিয়েছেন তারা। কারণ এখন ধান কাটার মৌসুম চলছে। ফলে ফসলের ক্ষেতে স্বাভাবিকভাবেই সাপের উপদ্রব হয়।

    রাজশাহীতে এই সপ্তাহেই সাপের কামড়ে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীসহ দুজনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে। ধান কাটার এই মৌসুমে পদ্মা তীরবর্তী এলাকায় সবচেয়ে বেশি আতঙ্কে রয়েছে কৃষকরা।

    রাজশাহীর চারঘাট উপজেলার সারদায় পদ্মার পাড়ে অবস্থিত পুলিশ একাডেমি চত্বর গত সপ্তাহে আটটি রাসেলস ভাইপার সাপের বাচ্চা উদ্ধার করা হয়েছে। তবে পুলিশ সদস্যরা পিটিয়ে সাপের বাচ্চাগুলো মেরে ফেলেছে বলে সংবাদ প্রকাশিত হয়েছে গণমাধ্যমে।

    এমনকি ফরিদপুরের স্থানীয় একজন রাজনীতিবিদ প্রকাশ্যে ঘোষণা দিয়েছিলেন যে রাসেলস ভাইপার সাপ মারতে পারলে প্রতিটির জন্য ৫০ হাজার টাকা পুরস্কার দেয়া হবে। যদিও পরে তিনি সেই ঘোষণা প্রত্যাহার করে নেন।

    বন অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা বলছেন, রাসেলস ভাইপার সাপের আতঙ্কে যেগুলো মারা হচ্ছে সেগুলোর মধ্যে শঙ্খিনী, অজগর, ঘরগিন্নি, দারাজ, ঢোঁড়াসাপ, গুইসাপসহ বিভিন্ন প্রজাতির সাপ রয়েছে। এরাই রাসেলস ভাইপার সাপ খেয়ে পরিবেশের ভারসাম্য আনে। অথচ এই উপকারী সাপগুলো মেরে ফেলা হচ্ছে।

    অনেকের ধারণা, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে রাসেলস ভাইপার সাপ নিয়ে নেতিবাচক প্রচারণা চালানোয় মানুষ আতঙ্কিত হয়ে না জেনেই মেরে ফেলছে প্রকৃতির বন্ধু নির্বিষ বিভিন্ন ধরনের সাপ ও সরীসৃপ জাতীয় প্রাণী। যে কোন সাপ দেখলেই মারা হচ্ছে।

    বন অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা জানিযেছেন ‘রাসেলস ভাইপার আগ্রাসী সাপ নয়। তাকে আঘাত করলেই কেবল সে তেড়ে আসে। সাপ মারার কোন দরকার নেই। সতর্ক হতে হবে। আমরা সচেতনতা তৈরির জন্য কাজ করছি”।

    বন বিভাগের কর্মকর্তারা জানান, মেডিকেল সার্ভিসের তথ্য অনুযায়ী বছরে সাপের কামড়ে প্রায় সাড়ে সাত হাজার মানুষ মারা যায়। এর মধ্যে একশ বিশ জন রাসেলস ভাইপারের কামড়ে মারা যায়।

    ফসলি ক্ষেতে প্রচুর পরিমাণ সাপ থাকে। তাই সাপ না মারার জন্য এবং কৃষকদের যাতে সচেতন করে তোলা হয় সেজন্য স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও প্রশাসন এবং স্বেচ্ছাসেবকরা কাজ করছে। কারণ সচেতনতা বাড়লে ও সোশাল মিডিয়ায় নেতিবাচক প্রচার কমলে অল্প কিছুদিনের মধ্যেই সাপ মারার ঘটনা কমে আসবে।

    সাপ প্রকৃতির বন্ধু বলছেন বিশেষজ্ঞরা

    বিশেষজ্ঞরা বলছেন, জীব-বৈচিত্র্য রক্ষায় সাপের ভূমিকা অপরিসীম। বস্তুত সাপ প্রকৃতির বন্ধু এবং প্রাকৃতিক পরিবেশের অবিচ্ছেদ্য ও অত্যাবশ্যকীয় অংশ। বাস্তুতন্ত্রের শীর্ষস্থানীয় মাংসাশী প্রাণীদের মধ্যে সাপ অন্যতম।

    সাপ খুব অলস ও নিরীহ প্রাণী। সাপ মানুষকে ভয় পায়, ফলে মানুষকে দেখলে সাপ পালিয়ে নিজের প্রাণ বাঁচাতে চায়। কিন্তু সাপের উপর আক্রমণ হলে আত্মরক্ষার জন্য সাপ মানুষকে কামড় দেয়। বাস্তুতন্ত্রের ভারসাম্য রক্ষায় সাপ অবিচ্ছেদ্য ভূমিকা পালন করে। এই ধরণের তথ্য আছে ‘বাংলাদেশের সাপ ও সর্পদংশন প্রতিরোধ ও চিকিৎসা’ নামক বইতে। এই বইটি যৌথভাবে লিখেছেন মো. আবু সাইদ এবং মো. ফরিদ আহসান। বইটির লেখক মো. ফরিদ আহসান চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাণীবিদ্যা বিভাগের অধ্যাপক।

    সাপ কীটপতঙ্গ নিয়ন্ত্রণের একটি প্রাকৃতিক রূপ। কারণ শিকারি হিসেবে সাপ যেসব প্রাণী খায়, সেটার ভারসাম্য বজায় রাখে।

    প্রাণীবিদরা বলছেন, একশ বছর আগেও এই রাসেলস ভাইপার সাপের উপস্থিতি ছিল এ এলাকায়। এখন এই সাপ বেড়ে যাওয়ার কারণ হলো বাস্তুতন্ত্রে পরিবর্তন হয়েছে। অর্থাৎ এদের যেসব প্রাণী খেতো সেসব প্রাণীর সংখ্যা এখন কমে গেছে। যেমন: গুইসাপ, বেজি, চিল, ঈগল, গন্ধগোকুল এ ধরনের বিভিন্ন প্রাণীর সংখ্যা কমে গেছে। ফলে বেড়ে গেছে সাপের সংখ্যা।

    বিশেষজ্ঞরা বলছেন, প্রকৃতির অংশ হিসাবে সাপ মেরে ফেললে এর প্রভাব পড়বে পুরো বাস্তুচক্রে। ফসলি ক্ষেতে সাপ মারলে ইঁদুরের প্রভাব বাড়বে। সাধারণত প্রতি বছরই ১০ থেকে ২০ শতাংশ ফসল ইঁদুর নষ্ট করে। ফলে নির্বিচারে সাপ মারলে ইঁদুরের সংখ্যা বাড়বে। উৎপাদন কমে যাবে ফসলের।

    সাপ ব্যাঙ, ইঁদুর খায়। বেজি, বাগডাশ, গন্ধগোকুল, বনবিড়াল সাপ খায়। আবার শঙ্খচূড়, গোখরা, কেউটে এই সাপগুলোও রাসেলস ভাইপারসহ অন্য সাপ খায়।

    বন বিভাগের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, ফসলী খেতে সাপ ইঁদুর খায়। তারা ইঁদুর খেয়ে ফসলের উপকার করে। এভাবে যদি প্রচুর পরিমাণ সাপ মারা হয় তবে এক শ্রেণির শিকারি প্রাণী কমে যাবে, ফলে ইঁদুর বেড়ে যাবে। সেগুলো ফসল খেয়ে নষ্ট করে ফেলবে। উৎপাদন কমে যাবে ফসলের। যেটা ফুড সাইকেলে প্রভাব ফেলবে। এভাবে সাপ মারলে ভবিষ্যতের জন্য অনেক ক্ষতি হবে।

    বাংলাদেশে সাপ নিয়ে নেতিবাচক ধারণার কারণে এ ধরনের প্রাণী নির্বিচারে মারা হয়। কিন্তু, বাস্তুতন্ত্রে সাপের ভূমিকা অন্য কেউ পূরণ করতে পারে না বলে জানান বিশেষজ্ঞরা।

    বিশেষজ্ঞরা আরও জানিয়েছেন, ইকোসিস্টেমে সাপের যে রোল রয়েছে তার তো কোন রিপ্লেসমেন্ট করা যায় না। এই সিস্টেমের প্রতিটি প্রাণীর প্রভাব অপরটিকে প্রভাবিত করে। ফলে সাপের অভাবে টোটাল ফুড চেইনে প্রভাব পড়বে।

    ২০১২ সালের বন্যপ্রাণী আইন অনুযায়ী, রাসেলস ভাইপার সাপকে সংরক্ষিত প্রাণী হিসেবে নথিভুক্ত করা হয়েছে। এই আইন অনুযায়ী রাসেলস ভাইপার সাপ মারা, ধরা এবং বহন করা দণ্ডনীয় অপরাধ।

    সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে যেভাবে রাসেলস ভাইপার সাপকে উপস্থাপন করা হচ্ছে তা সঠিক নয়। এই সাপ কামড়ালে টিকিৎসা আছে। তাই সাপ না মরার আহ্বান জানিয়েছে পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়।

    সূত্র: বিবিসি বাংলা

  • রোজার ঈদের কয়েক বছর পর কোরবানি দেওয়ার রীতি চালু হয়েছিল

    রোজার ঈদের কয়েক বছর পর কোরবানি দেওয়ার রীতি চালু হয়েছিল

    www.HelloBangla.News – মতামত – ১৩ জুন, ২০২৪: আমাদের মুসলিমদের জন্য যে দুটি ইদ পালন করা হয় তা হচ্ছে ঈদুল ফিতর বা রোজার ঈদ, ও ঈদুল আযহা বা কোরবানির ঈদ। কিন্তু কোরবানির ঈদে পশু কোরবানি দেওয়া কখন থেকে শুরু হয় সেটা সম্পর্কে আমাদের অনেকের অনেক কিছু জানা নেই। আজ আমরা পশু কোরবানি কখন থেকে শরু হয়েছে সেই বিষয়ে কিছু তথ্য জেনে নেব।

    আমরা ইসলামের ইতিহসা থেকে জানতে পারি যে নবী আদম বা নবী ইব্রাহিমের সময় থেকেই পশু কোরবানি দেয়ার রীতি থাকলেও ঈদুল ফিতর বা রোজার মতো বেশ কয়েক বছর পরে কোরবানি দেয়ার রীতি চালু হয়।

    ইসলামিক বিশেষজ্ঞরা বলছেন, মক্কায় প্রতি বছরই কোরবানি দেয়া হতো। কিন্তু তখন মক্কার বাসিন্দারা বিভিন্ন দেবদেবীর নামে সেগুলো কোরবানি দিতেন। ফলে ইসলামের নবী সেই সময় মক্কায় থাকলেও তিনি এই রীতি অনুসরণ করতেন না। নবুয়ত প্রাপ্তির প্রায় তের বছর পরে মদিনায় হিজরত করার পর আনুষ্ঠানিকভাবে কোরবানি দেয়ার রীতি চালু হয়।

    ইসলামিক চিন্তাবিদরা জানিয়েছেন, ‘ইসলামের অনেক বিধিবিধান রাসুল (সাঃ) মদিনায় আসার পর কার্যকর হয়েছে। কারণ তিনি ইসলাম প্রচার শুরু করার পর মক্কার মানুষের মধ্যে একাত্মবাদ প্রতিষ্ঠা ছিল প্রাথমিক কাজ। আর মদিনায় হিজরত করে আসার পর ইসলামের বিধিবিধান জারি হয়। হিজরি দ্বিতীয় সনে রোজা এবং ঈদুল ফিতরের প্রবর্তন হয়েছিল। অবশ্য তার আগে থেকেই মদিনার মানুষজন অনেকটা একই আদলে উৎসব এবং রোজা পালন করতেন।

    ইসলামিক বিশেষজ্ঞরা, হিজরি দ্বিতীয় সনে ঈদের প্রবর্তন করা হয়েছিল। আনাস নামে নবী মুহাম্মদের একজন সাহাবী বা সাথীর বর্ণনা করা একটি হাদিসের উদ্ধৃতি দিয়ে বাংলাদেশের জাতীয় জ্ঞানকোষ বাংলাপিডিয়া বলছে, মদিনায় যাওয়ার পর নবী দেখলেন যে সেখানকার মানুষ বছরে দুইটি বড় উৎসব পালন করে।

    তিনি তখন জানতে চান, সেগুলো কী উৎসব?

    এগুলো ছিল নওরোজ এবং মিহিরজান নামে দুটি উৎসব – যেগুলো সেখানকার বাসিন্দাদের ধর্ম এবং গোত্রের রীতি অনুযায়ী একটি শরতে এবং আরেকটি বসন্তকালে উদযাপিত হত। তখন ওই দুইটি উৎসবের আদলে মুসলমানদের জন্য বছরে দুইটি ধর্মীয়, সামাজিক এবং জাতীয় উৎসব পালনের রীতি প্রবর্তন করা হয়। সেই দুই ঈদের একটি হজের সময় পালন করা হতো, যা ঈদুল আযহা নামে পরিচিত।

    তবে ইসলাম প্রচারের পর ঠিক কবে আর কীভাবে প্রথম কোরবানি দেয়া হয়েছে সেই সম্পর্কে নির্ভুল তথ্য পাওয়া যায় না। কোন কোন ইতিহাসবিদ বলেন, মদিনায় আসার পর ইসলামের নবী প্রথম দুইটা দুম্বা নিজ হাতে কোরবানি দিয়েছেন। তখন তিনি বলেছিলেন, একটা আমার নিজের পক্ষ থেকে আরেকটা আমরা উম্মতের পক্ষ থেকে।

    ইসলামিক বিশেষজ্ঞরা জানিয়েছেন, ‘ইসলামের অনেক কিছুই আগের পয়গম্বরদের রীতি মেনে করা হয়েছে। যেমন প্রথম দিকে বায়তুল মোকাদ্দেসের দিকে সিজদা করা হলেও পরবর্তীতে ইব্রাহিম (আঃ) এর আদর্শ অনুযায়ী কাবার দিকে সিজদা করা হয়। কোরবানির ব্যাপারটিও তেমনি এসেছে। ইসলামের কোরান ও হাদিস অনুযায়ী, আদম (আঃ) থেকে কোরবানি শুরু হয়েছে। তবে সুরা কাওসার ও সুরা হজে কোরবানি করার নির্দেশনা পাওয়া যায়। এই সুরা কাওসার নাজিল হয়েছিল হিজরতের আগেই, রাসুল (সাঃ) মক্কায় থাকার সময়। আর সুরা হজ মক্কা ও মদিনায় মিলিয়ে নাজিল হয়েছিল বলে মনে করা হয়। এই দুইটি সুরাতেই কোরবানি দেয়ার নির্দেশ দেয়া হয়েছে। এ থেকে বোঝা যাচ্ছে, রাসুল (সাঃ) মক্কায় থাকার সময় থেকেই কোরবানির বিষয়টা এসেছে। তবে তিনি প্রথম কবে কোরবানি দিয়েছেন, সেই বিষয়ে আনুষ্ঠানিক কোন তথ্য পাওয়া যায়নি।

    তিরমিজি হাদিসে উল্লেখ আছে, আবদুল্লাহ ইবনে ওমর বলেছেন, হিজরতের পরে রাসুল (সাঃ) ১০ বছর মদিনায় ছিলেন, ১০ বছরেই কোরবানি করেছেন। আর আনাস ইবনে মালিক বলেছেন, রাসুল (সাঃ) দুইটা শিং ওয়ালা নাদুস-নুদুস দুম্বা জবাই করেছেন আর বলেছেন একটি আমার উম্মতের পক্ষ থেকে একটা আমার পক্ষ থেকে।’

    আরেকটি হাদিসে বলা হয়েছে, তিনি সবসময়ে দুটা দুম্বা কোরবানি দিতেন।

    আলেম বা বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সেই সময় কোরবানির বিষয়টি ছিল অনেকটাই হজ কেন্দ্রিক।

    যারা হজ বা ওমরাহ করতে যেতেন, তারা কোরবানির জন্য উট বা দুম্বার মতো পশু সঙ্গে করে নিয়ে যেতেন। এসব পশুকে বলা হতো হাদি।

    ইসলামের ইতিহাসের আলোকে কেউ কেউ বলেন, ‘ষষ্ঠ হিজরিতে বা ৬২৮ খৃষ্টাব্দে যখন রাসুল (সাঃ) ওমরাহের উদ্দেশ্যে রওনা হন, তখন হুদাইবিয়ায় বাধা দেয়া হলে তিনি তাবুতে অবস্থান করেন। হুদাইবিয়ার সন্ধি হলে তিনি সেই সময় নিজের ও পরিবারের জন্য উট কোরবানি দেন। এ সময় তিনি ৬৩টি উট কোরবানি দেন বলে জানা যায়।

    সেই সময় ইসলামের বিধিবিধানে উট, মহিষ, গরু, ছাগল, ভেড়া, দুম্বা কোরবানি দেয়ার তথ্য পাওয়া যায়।

    ইতিহাস গবেষকদের মতে, ‘ষষ্ঠ হিজরিতে ওমরাহ করতে যাচ্ছিলেন, সেই সময় পশুগুলোকে সাথে করে নিয়ে যাওয়ার নিয়ম ছিল। তখন কোরবানি ছাড়া আরেকটা রীতি ছিল। পশুগুলোর সিনায় কেটে দাগ লাগিয়ে মক্কার দিকে ছেড়ে দেয়া হতো, যাতে বোঝা যেতো যে এগুলো কোরবানির পশু। হুদাইবিয়ার সন্ধির পর কিছু পশু কোরবানি দেয়া হয়, আর কিছু পশুকে সিনায় দাগ লাগিয়ে ছেড়ে দেয়া হয়।

    ‘দশম হিজরিতে রাসুল (সাঃ) মক্কা বিজয়ের পর সেই বছর তিনি নিজে আনুষ্ঠানিকভাবে হজ করেন এবং কোরবানি দেন।’

    এর আগের বছর সাহাবী আবুবকরের নেতৃত্বে একটি দলকে হজের জন্য পাঠানো হয়েছিল। সেই দলের সঙ্গেও কোরবানির জন্য হাদি বা পশু ছিল।

    বাংলাদেশে এবার ঈদুল আযহা পালন করা হবে ১৭ জুন (সোমবার)। তবে ঈদকে কেন্দ্র করে আমাদের একটা আর্থিক বিষয় জড়িত থাকে। কে বেশি দামের পশু কোরবানি দিতে পারে সেই প্রতিযোগিতা লেগে থাকে। ইসলামের ইতিহাস পর্যালোচনা করে পশু কোরবানির বিষয়টি সঙ্গে আর্থিক বিষয়টি কোন উল্লেখ পাওয়া যায়নি। তাই আমাদেরকে কোরবানির পশু কেনার সময় আর্থিক প্রতিযোগিতার বিষয়টি যেন প্রভাবিত না করে সে বিষয়টি খেয়াল রাখতে হবে। কেননা কোরবানি ঈদ হচ্ছে ত্যাগ ও মানবতার।

    সূত্র: বিবিসি বাংলা

  • বিদ্রোহী কবি কে স্বাধীন বাংলাদেশে ফিরিয়ে আনেন বঙ্গবন্ধু

    বিদ্রোহী কবি কে স্বাধীন বাংলাদেশে ফিরিয়ে আনেন বঙ্গবন্ধু

    www.HelloBangla.News – মতামত – ২৪ মে, ২০২৪: বিদ্রোহী কবি কাজী নজরুল ইসলাম আমাদের রণ-সংগীতের প্রবক্তা।তিনি শুধু বিদ্রোহী কবি ছিলেননা, ছিলেন সাম্যের কবি। তাঁর সঙ্গিত স্বাধীনতা যুদ্ধে দারুণ অনুপ্রেরণা যুগিয়েছিলো রণাঙ্গনের মুক্তিযোদ্ধাদের।স্বাধীনতা যুদ্ধে ১৬ ডিসেম্বর দেশ যখন চুড়ান্ত বিজয় লাভ করে তখন কবি কাজি নজরুল ইসলাম ছিলেন ভারতে।

    ১৯৭২ সালে ২৪ মে স্বাধীন বাংলাদেশে এসেছিলেন কবি কাজী নজরুল। তার আগে ১৯৭২ সালের সালের ফেব্রুয়ারি মাসে ভারতে রাষ্ট্রীয় সফরে শেখ মুজিবকে রাষ্ট্রীয় অতিথির মর্যাদায় রাখা হয়েছিল কলকাতার রাজভবনে, যেটা পশ্চিমবঙ্গের রাজ্যপালের বাসভবন। পশ্চিমবঙ্গের রাজ্যপাল তখন এ এল ডায়াস, বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী প্রথমে কথাটা তাঁর কাছেই নজরুলকে বাংলাদেশে আনার কথা বলেছিলেন।

    নজরুল গবেষক ও প্রাবন্ধিক বাঁধন সেনগুপ্ত সেই ঘটনার বর্ণনা দিয়েছেন এভাবে “শেখ মুজিব মি ডায়াসকে বললেন, দেখুন আপনাদের কাছে আমার একটা অনুরোধ আছে। এই শহরেই থাকেন কাজী নজরুল ইসলাম – তিনি যেমন আপনাদের কবি, তেমনি আমাদেরও কবি।আমাদের ভাষা এক, সংস্কৃতিও এক। কবি নিজেও আগে বহুবার ঢাকায় এসেছেন। তো এবারে আমরা চাই কবিকে ঢাকায় নিয়ে গিয়ে ধুমধাম করে তাঁর জন্মদিন পালন করতে।”

    “এ এল ডায়াস সব শুনেটুনে বললেন, অতি উত্তম প্রস্তাব – এমন তো হতেই পারে আমরা না হয় পালা করে কবির জন্মদিন পালন করলাম, একবার ঢাকায় আর পরেরবার কলকাতায়!”

    “তবে দিল্লিই পারবে এই অনুমতি দিতে, ফলে আপনি বরং সরাসরি মিসেস গান্ধীর সঙ্গেই কথা বলুন। পরদিনই মুজিবও ঠিক সেটাই করলেন”

    শুধু প্রধানমন্ত্রী ইন্দিরা গান্ধীর সঙ্গে কথা বলাই নয়, এরই মধ্যে রাজভবনে কাজী নজরুল ইসলামের পরিবারের সদস্যদের সঙ্গেও দেখা করলেন শেখ মুজিব। কবির দুই পুত্র, কাজী সব্যসাচী ও কাজী অনিরুদ্ধকেও তিনি জানিয়ে রাখলেন বাংলাদেশ সসম্মানে নজরুলকে নিয়ে গিয়ে সংবর্ধনা দিতে চায়।

    এরপরই শুরু হল এক নজিরবিহীন কূটনৈতিক তৎপরতা – তিন দশক ধরে বোধশক্তিহীন, নির্বাক এক কবিকে ভিনদেশে পাঠানো নিয়ে চিঠি-চালাচালি, শলা-পরামর্শ আর ভাবনা-চিন্তা। ফেব্রুয়ারি থেকে মে-এই কয়েকমাসে নজরুলকে বাংলাদেশে পাঠানো নিয়ে দুই দেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী, আবদুস সামাদ আজাদ ও শরণ সিংয়ের মধ্যেও বেশ কয়েকদফা পত্রবিনিময় হয়েছিল।

    প্রধানমন্ত্রী ইন্দিরা গান্ধী আবার মতামত চাইলেন পশ্চিমবঙ্গের তখনকার মুখ্যমন্ত্রী ও তাঁর অত্যন্ত আস্থাভাজন কংগ্রেসি নেতা সিদ্ধার্থশঙ্কর রায়ের। কবি নিজে সিদ্ধান্ত নেওয়ার অবস্থাতেই নেই, ফলে দূত পাঠিয়ে প্রধানমন্ত্রী কথা বললেন কবির পরিবারের সদস্যদের সঙ্গেও।

    এই বিষয়ে বাংলাদেশে ভারতের সাবেক রাষ্ট্রদূত ভিনা সিক্রির জানিয়েছিলেন, “শেষ পর্যন্ত মৈত্রী আর বন্ধুত্বেরই জয় হল। দুটো দেশের মধ্যে যে পারস্পরিক প্রীতি ও শ্রদ্ধার সম্পর্ক, সেটার ভিত্তিতেই শেখ মুজিবুর রহমানের অনুরোধ ভারত মেনে নিল। তবে এটাও ঠিক, দিল্লি ভেবেছিল কবির এই যাত্রাটা হবে সাময়িক-তিনি আবার কিছুদিন পরে ফিরে আসবেন।”

    ভিনা সিক্রি আরও বলেন, “কাজী নজরুল ইসলাম বা তাঁর পরিবারের সদস্যদের বাংলাদেশের নাগরিকত্ব দেওয়া হবে বা তাঁকে একদিন সেখানে জাতীয় কবির মর্যাদায় ভূষিত করা হবে – এগুলো কিন্তু তখন জানা ছিল না, আর ভাবাও হয়নি।”

    তবে ভিনা সিক্রি আজও নজরুলকেই বাংলাদেশ ও ভারতের মৈত্রীর সেরা নিদর্শন বলেই মনে করেন তিনি বলেন, “নবীন একটি দেশে তার বন্ধু প্রতিবেশী একজন কবিকে পাঠাচ্ছে – এমন দ্বিতীয় কোনও নজির বিশ্বে আছে বলে আমার জানা নেই!”

    ভারতের প্রবীণ রাজনীতিবিদ, পার্লামেন্টারিয়ান ও সাবেক কেন্দ্রীয় মন্ত্রী সৌগত রায় মতে, “ইন্দিরার সম্মতিটাই ছিল মূল কথা। উনি চেয়েছিলেন বলেই নজরুলকে ঢাকায় পাঠানো গিয়েছিল-এর মধ্যে কোনও ভুল নেই। বাকি ফ্যাক্টরগুলো গৌণ।”

    নজরুলকে ঢাকায় পাঠানো ঠিক হবে কি না, তা নিয়ে কবির পরিবারের সদস্যদের মধ্যেই মতবিরোধ ছিল। কেননা কবির ছোট ছেলে কাজী অনিরুদ্ধ চাননি বাবাকে ঢাকায় নিয়ে যাওয়া হোক। কিন্তু বড় ছেলে কাজী সব্যসাচীর আবার এ ব্যাপারে তুমুল উৎসাহ ছিল। স্ত্রী প্রমীলার মৃত্যুর পর (১৯৬২) কবি তখন থাকতেন কলকাতার পদ্মপুকুর এলাকার ক্রিস্টোফার রোডে কাজী সব্যসাচীর পরিবারের সঙ্গেই।

    কাজী অনিরুদ্ধর কন্যা ও নজরুলের নাতনি অনিন্দিতা কাজীও এখন থাকেন আমেরিকার নিউ জার্সিতে। তিনি বলছিলেন, “আসলে কী, আমার বাবা (কাজী অনিরুদ্ধ) ছিলেন একটু শান্ত, মিতবাক ও টিমিড প্রকৃতির মানুষ। উল্টোদিকে জেঠু (কাজী সব্যসাচী) ছিলেন দাপুটে মানুষ – আর বড় ভাই হিসেবে পরিবারে তাঁর মতামতটাই প্রাধান্য পেত।”

    “অনেকের মনেই এই প্রশ্নটা জাগতে পারে, মাত্র দিন সাতেকের জন্য ঢাকায় গিয়ে দাদু (কাজী নজরুল) কেন পাকাপাকিভাবে সেখানে থেকে গেলেন? আসলে কী হয়েছিল, দিনকয়েক পর শেখ মুজিব যখন জেঠুর কাছে জানতে চাইলেন তারা কী করবেন, তখন জেঠু বললেন কবি তো ঢাকায় বেশ ভালই আছেন, চিকিৎসাতেও বেশ সাড়া দিচ্ছেন মনে হচ্ছে – তো উনি থাকুন না কেন?আসলে ঢাকায় চিকিৎসার যে সুযোগ-সুবিধাগুলো পাওয়া যাচ্ছিল, কলকাতায় সেটা পাওয়া যাবে না বলেই জেঠুর মনে হয়েছিল”,

    নজরুল ইসলামের পরিবারের যে শাখাটি তাঁর জন্মস্থান চুরুলিয়া বা তার আশেপাশে এখনও বসবাস করেন, তারই একজন গুরুত্বপূর্ণ সদস্য সঙ্গীতশিল্পী সোনালি কাজী। সোনালি কাজী মনে করেন, কবিকে ঢাকায় পাঠাতে তাঁর পরিবার রাজি হয়েছিল প্রধানত উন্নত চিকিৎসার আকর্ষণে।

    তিনি বলছিলেন, “একটা জিনিস ভাবুন, তিরিশ বছর ধরে একটা মানুষ নির্বাক, তাঁর মস্তিষ্ক কাজ করছে না। কলকাতার ডাক্তাররাও একরকম জবাব দিয়ে দিয়েছেন। এই অবস্থায় একটি নতুন দেশের প্রধানমন্ত্রী বলছেন তাঁরা যথাযোগ্য মর্যাদায় কবিকে নিয়ে যাবেন এবং ভাল করে চিকিৎসা করাবেন। তখন কবির পরিবার যদি তাঁর কথায় আস্থা রাখে, তাহলে কি তাদের দোষ দেওয়া যায়?”

    তিরিশ বছর ধরে নজরুলের তখন কোনও রোজগার নেই। ভারত সরকারের চারশো রুপি আর পূর্ব পাকিস্তান সরকারের আড়াইশো রুপি মাসোহারাই ভরসা। এর ওপর বহু বছর ধরে কবির আর তাঁর স্ত্রীর চিকিৎসা, ওষুধপত্রের খরচ!ফলে রাষ্ট্রীয় সম্মানে যখন কবিকে বন্ধু দেশ সব খরচ দিয়ে নিয়ে যেতে চায়, পরিবারের তাতে রাজি হওয়াটাই তো স্বাভাবিক, বলে মনে করে অনেক ব্যক্তি। যাদের কেউ ছিরেন আমলা, বেউবা বুদ্ধিজীবী।

    ঠিক পঞ্চাশ বছর আগে ক্রিস্টোফার রোডের ফ্ল্যাট থেকে অ্যাম্বাসাডর গাড়িতে রওনা দিয়ে কাজী নজরুল ইসলাম যখন ঢাকার বিমানে চাপলেন, কলকাতায় সেদিন কিন্তু সত্যিই কোনও তাপ-উত্তাপ ছিল না।

    এই প্রজন্মের তরুণ নজরুল গবেষক ও গ্রন্থকার অর্ক দেব বলেন, “আসলে ততদিনে কলকাতা শহরে নজরুল ক্রমশ বিস্মৃত হতে শুরু করেছেন। তাঁর সৃষ্টি থেমে গেছে বহু বছর আগেই, তাঁর ঘনিষ্ঠ বৃত্তের লোকজনও ধীরে ধীরে হারিয়ে যাচ্ছেন। এমনকী, বাংলায় যে কমিউনিস্ট আন্দোলনকে সংহত করার ক্ষেত্রে নজরুলের বিরাট অবদান ছিল, সেই পার্টিও কিন্তু কবিকে কোনও স্বীকৃতি দিচ্ছে না। নজরুল আর তাঁর ঘনিষ্ঠ বন্ধু কমরেড মুজফফর আহমেদ ছিলেন কার্যত পার্টির জগাই-মাধাই। নজরুল স্তব্ধ হয়ে গেলেন-আর মুজফফর আহমেদ প্রয়াত হওয়ার পর কমিউনিস্টরাতো নজরুলকে পুরোপুরি ভুলেই গেল”,

    শহর কলকাতাতেও তখন চলছে একটা অস্থির পর্ব। খাদ্য আন্দোলন সবে থেমেছে, নকশালবাড়ির স্ফুলিঙ্গ মাথা চাড়া দিতে শুরু করেছে। সময়টা কলকাতারও মধুমাস ছিল না – ফলে নজরুল থাকলেন না গেলেন তা নিয়ে শহরটার ভাববারও কোনও অবকাশ হয়নি, বলে জানান তরুণ নজরুল গবেষক।

    প্রবীণ রাজনীতিবিদ সৌগত রায়েরও স্বীকার করেন, “কলকাতায় কিন্তু তখন নজরুলকে নিয়ে উন্মাদনা অনেক স্তিমিত হয়ে এসেছে। সেন্টিমেন্ট, আবেগগুলো থিতিয়ে এসেছে। ফলে তিনি যখন ঢাকায় গেলেন বা সেখানেই থেকে গেলেন, কলকাতায় কোনও হই-চই হয়েছিল বলে আমার আদৌ মনে পড়ে না!”

     

    শেখ মুজিবুর রহমানের উদ্যোগ আর কূটনৈতিক তৎপরতার পর অবশেষে বাহাত্তর সালের চব্বিশে মে একটি বিশেষ ফ্লাইটে চড়ে কলকাতা থেকে সপরিবারে ঢাকায় এসে পৌঁছেন কবি। তেজগাঁওয়ের বিমানবন্দরে সেদিন হাজার হাজার উৎসুক জনতার ভিড়।

    অনেকের মত সেদিন বিমানবন্দরে গিয়েছিলেন নজরুল গবেষক, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রয়াত শিক্ষক রফিকুল ইসলাম।

    তিনি ২০১১ সালে এক সাক্ষতকারে বলেন, “বিমানবন্দরের রানওয়ে সম্পূর্ণ জনতায় ভরা আমার মনে আছে ২৪শে মে সকাল বেলা। বিমান থেকে নামলেন, পরিবার ছিল। কিন্তু জনতার ভিড় এমন যে কবিকে বিমান থেকে নামানো যাচ্ছিল না”।

    হাজারো মানুষের ভিড় ঠেলে কবিকে নেওয়া হয় ধানমন্ডিতে তাঁর জন্য নির্ধারিত বাড়িতে। সরকারের বরাদ্দ করা সেই বাড়িটি এখন নজরুল ইন্সটিটিউট।

    রফিকুল ইসলাম আরও বলেন, “বহু কষ্টে কবি এবং কবির পরিবারকে বিমান থেকে নামিয়ে সোজা রাস্তা দিয়ে না, রানওয়ের অপরদিক দিয়ে ঘুরিয়ে এই বাড়িতে আনা হয়। এবং এই বাড়িতে তখন তাকে রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় রাখা হয়। এখানে প্রতিদিন সকালে পূর্ণ রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় জাতীয় পতাকা উত্তোলন করা হত আবার সন্ধ্যায় রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় জাতীয় পতাকা অবনমিত করা হত”,

    বিদ্রোহী কবিকে এক নজর দেখার জন্য বহু মানুষ ভিড় করেছিলেন ধানমন্ডির সেই বাড়িতেও।

    মানুষের ভিড়ের পেক্ষিতে প্রয়াত নজরুল সঙ্গীতশিল্পী খালিদ হোসেন ২০১১ সালের এক সাক্ষাতকারে বলেন কবি-ভবনের সামনে দাঁড়িয়ে থাকা মানুষের মনে হচ্ছিল “স্বপ্ন বাস্তবে ধরা দিয়েছে।সেটি একটা রত্ন হাতে পাওয়ার মত। প্রত্যেকে অত্যন্ত উৎসাহী ছিল তাকে পাওয়ার জন্য যেন এটা একটা আশাতীত প্রাপ্তি তার আসাটা”।

     

    দেশান্তরী, তবু ব্যতিক্রমী:

    পৃথিবীর বহু বিখ্যাত কবি-সাহিত্যিককে নানা কারণে স্বভূমি ছেড়ে অন্যত্র গিয়ে আশ্রয় নিতে হয়েছে। তাঁরা কেউ একদিন নিজের দেশে ফিরতে পেরেছেন, কেউ কখনোই পারেননি।

    রাশিয়ার আলেকজান্ডার সলঝেনিৎসিন, জোসেফ ব্রডস্কি বা বরিস পাস্তেরনাক, চেকোশ্লোভাকিয়ার মিলান কুন্দেরা বা চীনের বেই দাও – হাতের কাছেই এমন উদাহরণ অজস্র।

    পশ্চিমবঙ্গের সুপরিচিত কবি ও নজরুল একাডেমির সভাপতি জয় গোস্বামী মনে করেন, বাহাত্তর সালে কাজী নজরুল ইসলামও এক অর্থে দেশান্তরী হয়েছিলেন – তবে অন্যদের সঙ্গে তাঁর দেশান্তরী হওয়ার একটা মৌলিক পার্থক্য আছে।

    গোস্বামী বলছিলেন, “অন্যরা কেন দেশ ছেড়েছিলেন? কারণ তাঁরা ভয় পাচ্ছিলেন রাষ্ট্র তাদের লিখতে দেবে না, পুরস্কার নিতে দেবে না, এমন কী প্রাণেও মেরে ফেলতে পারে।জীবনের একটা পর্যায়ে নজরুলও রাষ্ট্রের বিরুদ্ধে বহু লিখেছেন, তার রচনা নিষিদ্ধ হয়েছে – কিন্তু বাহাত্তরে যখন তিনি ঢাকা যাচ্ছেন তখন তাঁর ক্ষেত্রে একথাটা সত্যি ছিল না। আর দ্বিতীয় বিষয়টা হল, অন্য কবিরা দেশ ছেড়ে পালিয়ে যাচ্ছেন বা পালাতে বাধ্য হচ্ছেন। নজরুলকে কিন্তু অন্য দেশের রাষ্ট্রনায়ক প্রভূত সম্মান দিয়ে, বিরাট মর্যাদা দিয়ে আমন্ত্রণ করে নিয়ে যাচ্ছেন! তখন তাঁর মেমোরি অব ওয়ার্ডস নেই, শব্দরা তাঁর স্মৃতি থেকে হারিয়ে গেছে, একটা লাইনও তিনি লিখতে পারেন না-তারপরও তাঁকে আপ্যায়নে, সম্মানে ভাসিয়ে দিয়েছিলেন বাংলাদেশের রাষ্ট্রনায়ক ও সাধারণ মানুষ। আর এখানেই নজরুলের অনন্যতা।”

    ১৯৭২ সালের ২৪ মে বিদ্রোহী কবি কাজী নজরুলের জন্মদিনে, যে সন্মান তিনি একজন রাষ্ট্রনায়কের কাছে পেয়েছিলেন তা ইতিহাসে বিরল। তাই তিনি বাংলাদেশেই থেকে গিয়েছিলেন। বাংলাদেশের মানুষ নজরুলকে সন্মান দেখিয়েছে, ভালো বেসেছে, গবেষণা করেছে। তাই নজরুলের প্রতিভা সারা বিশ্বে ছড়িয়ে পড়ে।

    বিবিসির জরিপে সর্বকালের সেরা বাঙালীর যে তালিকা প্রকাশিত হয় তাতে তৃতীয় স্থানটি ছিল কাজী নজরুল ইসলামের। প্রথমটি ছিলো বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান, দ্বিতীয়টি বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর।

    বঙ্গবন্ধুর হাত ধরে ১৯৭২ এর ২৪শে মে কবি ঢাকা আসেন, যেখান থেকে কোনও দিনই তাঁর আর কলকাতায় ফেরা হয়নি।কাজী নজরুল আজ আমাদের মাঝে নেই। কিন্তু তার অমর সৃষ্টি আজও আমাদেরকে ভাবায়। কবি চিরকাল থাকবেন আমাদের হৃদয়ের মনিকোঠায়।

    সূত্র: বিবিসি বাংলা

  • আলোর দূষণের ফলে মানসিক ব্যাধিও দেখা দেয়

    আলোর দূষণের ফলে মানসিক ব্যাধিও দেখা দেয়

    www.HelloBangla.News – মতামত – ১৮ মে, ২০২৪: বর্তমান গবেষকরা জানিয়েছে প্রয়োজনের তুলনায় অতিরিক্ত আলোর মধ্যে জীবন ধারণ মানব দেহে নানা ধরণের সমস্যার সৃষ্টি হয়। আর এটাকেই বলা হচ্ছে আলোর দুষণ।

    আমরা এতদিন শুনে এসেছি বায়ুদূষণ, পানিদূষণ, শব্দদূষণ সহ নানা ধরনের দূষণের কথা।  কিন্তু আলোও যে দূষণ ঘটাতে পারে, তা আমাদের অজানা।

    আলো দূষণ আসলে কী? আর এর কারণে মানুষের ঠিক কী ক্ষতি হয়? বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বাংলাদেশ যদি এখন থেকেই ওইসব কারণের দিকে আলোকপাত করে আলোর দূষণ না কমায়, তবে একসময় তা বায়ুদূষণের মতো জটিল আর বড় ক্ষতির কারণ হয়ে দাঁড়াবে।

    আলোর সঠিক মাত্রা কত?

    আলো দূষণ, ইংরেজিতে একে বলা হয় লাইট পলিউশন। মানুষ এবং প্রাণীজগতের সকল সদস্যের দিনের কর্মযজ্ঞের যে চক্র তাতে দিনের একটি নির্দিষ্ট সময় শরীরের আলো থেকে দূরে বিশ্রাম দরকার। আবার প্রয়োজনের চেয়ে বেশি মাত্রায় এবং বেশি সময় ধরে জ্বলে থাকা আলো অস্বস্তি আর বিরক্তির পাশাপাশি অন্য সমস্যাও তৈরি করে।

    সহজভাবে বলতে গেলে, কোথাও যদি স্বাভাবিকের চেয়ে বেশি মাত্রার আলো থাকে, বা কোথাও যদি অপ্রয়োজনীয় আলো থাকে, তাহলে সেটিকেই আলো দূষণ বলে ব্যাখ্যা করেন বিশষজ্ঞরা।

    মূলত কৃত্রিম আলো জন্যই মানব দেহের ক্ষতি হচ্ছে:

    যত্রতত্র নিয়ম না মেনে সড়ক বাতি স্থাপন, ভবনের ভেতরে ও বাইরের অতিরিক্ত আলোকসজ্জা, সড়কে ছোট-বড় নানা আকারের বিলবোর্ড বসিয়ে তাতে বিজ্ঞাপন প্রদর্শন সহ নানা কারণে আলো দূষণ হচ্ছে। তবে ঠিক কত মাত্রার আলো হলে তা দূষণের পর্যায়ে পড়বে না, সে বিষয়ে সুনির্দিষ্ট কোনও মানদণ্ড নেই। কারণ, কোনও স্থানে কতটুকু আলো প্রয়োজন, তা অনেক ধরনের নিয়ামকের ওপর নির্ভর করে। যেমন- স্থানের ধরণ, আয়তন, গুরুত্ব ইত্যাদি।

    তবে বাংলাদেশ জাতীয় বিল্ডিং কোড (বিএনবিসি)-তে ভবনে কী ধরনের আলো ব্যবহার করা উচিৎ, তা নিয়ে কিছু নির্দেশনা দেওয়া আছে।

    অ্যাডেক্স লাইটিং সিস্টেম লিমিটেড নামক কোম্পানির ব্যবস্থাপনা পরিচালক তারানা আলী বলেন, আলোর ক্ষেত্রে ঘরে কী ধরনের আসবাবপত্র আছে, ঘরটি কোন কাজে ব্যবহার করা হবে, তা আয়তন বা ভবনটি কী দিয়ে তৈরি ইত্যাদি দেখতে হয়। ধরা যাক, কোন অফিসের আয়তন ১০০ বর্গ ফুট, সেক্ষেত্রে সেখানের অভ্যন্তরীণ আলোর মাত্রা আনুমানিক ৭৪ থেকে ২১০ ওয়াটের মাঝে থাকতে হবে। আবার ভবনের বাইরের আলোর ক্ষেত্রে এটি হওয়া উচিৎ ৪৯ থেকে ৯১ ওয়াটের মাঝে।

    ঢাকা শহর কৃত্রিম আলো সবচেয়ে বেশি:

    সর্বশেষ ২০১৬ সালে করা ‘ওয়ার্ল্ড অ্যাটলাস অব আর্টিফিশিয়াল নাইট স্কাই ব্রাইটনেস’ নামে এক গবেষণায় দেখা গেছে, বিশ্বের ৮০ শতাংশ মানুষ আকাশ জুড়ে থাকা কৃত্রিম আলোর নীচে বসবাস করে। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এবং ইউরোপের ৯৯ শতাংশ মানুষ ওই আলোর জন্য রাতের প্রকৃত চিত্র প্রায় দেখতেই পায় না।

    বাংলাদেশের ক্ষেত্রে আলো দূষণের ভয়াবহতা কতটা, সে সম্বন্ধে সাম্প্রতিক সময়ে করা বিশদ কোনও গবেষণা খুঁজে পাওয়া যায়নি। তবে ২০০৩ থেকে ২০১৩ সাল, এই ১০ বছরের তথ্য নিয়ে করা ‘নেক্সাস বিটুইন লাইট পলিউশন এ্যান্ড এয়ার টেম্পারেচার: আ স্টাডি অব বাংলাদেশ’ শীর্ষক এক গবেষণায় দেখা গেছে, আলো দূষণ বাড়ছে বাংলাদেশে।

    খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. কাজী সাইফুল ইসলামের করা সেই গবেষণায় বলা হয়েছে, ২০০৩ সালে সমগ্র বাংলাদেশের মাত্র সাত দশমিক এক শতাংশ এলাকায় আলো দূষণ হত। কিন্তু এক দশক পরে আলো দূষণ বেড়ে হয়েছে ২৫ দশমিক চার শতাংশ।

    সেখানে বলা হয়েছে, ২০০৩ সালে শহর এলাকাগুলোতে আলো দূষণ লক্ষ্য করা যেত। কিন্তু ২০১৩ সালে সেই দূষণ শহরতলি পর্যন্ত ছড়িয়ে পড়ে। গবেষণা অনুযায়ী, আলো দূষণের পরিমাণ সবচেয়ে বেশি বাংলাদেশের রাজধানী ঢাকায়। ঢাকার পরেই আছে চট্টগ্রাম, খুলনা, সিলেট, রাজশাহী, যশোর, রংপুরের নাম।

    আলো দূষণের অন্যতম উৎস বিলবোর্ড?

    ঢাকা সহ সারাদেশের যে আলো দূষণের পেছনে সড়কবাতির পাশাপাশি বিলবোর্ডের প্রত্যক্ষ ভূমিকা আছে বলে মনে করেন বিভিন্ন খাতের বিশেষজ্ঞরা।

    ওইসব বিলবোর্ড ও সড়কবাতির কারণে প্রচুর সড়ক দুর্ঘটনাও হয় বলে মনে করেন তারা।

    বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়— বুয়েটের অ্যাকসিডেন্ট রিসার্চ ইনস্টিটিউটের সাবেক পরিচালক অধ্যাপক মো. হাদিউজ্জামান বলেন, “ডেস্ট্রাক্টিভ ড্রাইভিংয়ের অন্যতম কম্পোনেন্ট শহরের যত্রতত্র জুড়ে থাকা বিলবোর্ড।

    বিলবোর্ডের আলো ক্ষণে ক্ষণে পরিবর্তন হয় এবং তাতে বিজ্ঞাপন চলে। এতে ড্রাইভারদের মনোযোগে ব্যাঘাত ঘটে।”

    “আমাদের বিলবোর্ডগুলোতে এত উচ্চ মানের কেলভিনযুক্ত আলো থাকে যে দিনের বেলায়ও বিলবোর্ডগুলি স্পষ্ট দেখা যায় এবং রাতে তা আরও প্রকট হয়ে চোখে অস্বস্তি তৈরি করে। এগুলা দুর্ঘটনার জন্যও দায়ী,” বলেন নগর পরিকল্পনাবিদ ইকবাল হাবিব।

    খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. কাজী সাইফুল ইসলামের বক্তব্যও একই।

    তিনি বলেন, উন্নত যে কোনও দেশে বিলবোর্ডের জন্যও একটা স্ট্যান্ডার্ড লুমেন থাকে, সেই অনুযায়ী তাদেরকে এসব স্থাপন করতে হয়।

    “কিন্তু আমাদের দেশে তো কোনও নিয়ম নেই, আলো দূষণ বিষয়ক সুনির্দিষ্ট কোনো নীতিমালা নেই। সড়কবাতি বা বিলবোর্ডের ক্ষেত্রে বাংলাদেশে এখনও কোনও নির্দেশনা নেই।”

    তিনি বলেন, বাইরের যে লাইট, তা তো আকাশের দিকেও যায়, সড়কের দিকেও আসে, সেগুলো কীভাবে বসাতে হবে, বিলবোর্ড কেমন হবে, তা নিয়ে কোনও স্ট্যান্ডার্ড ফিক্স করা নাই।

    “আপনি যদি কোনও বিলবোর্ডের সামনে গিয়ে দাঁড়ান, আপনি দেখবেন যে আপনার চোখ ধাঁধিয়ে যাবে। এমনকি রিকশা করে কোনও বিলবোর্ড ক্রস করলেও আপনার ঠিক এমনই অনুভূত হবে,” তিনি যোগ করেন।

    মানবদেহে অতিরিক্ত আলোর প্রভাব:

    অতিরিক্ত আলো মানুষের শরীরে কী ধরনের প্রভাব ফেলে সেই বিষয়ে জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বলেন, লাইট পলিউশন নিয়ে আমাদের দেশে কোনও কথা হয় না। কিন্তু এটা যে কি পরিমাণ স্বাস্থ্যহানি ঘটায়, আমাদের ধারণ নাই।

    যেমন, মানুষের দেহে একটা জৈব ঘড়ি আছে, যা সূর্য ওঠা এবং ডোবার সাথে সম্পর্কিত। কিন্তু এই অনাহূত আলোর জন্য ঘড়ির কাজে ব্যাঘাত ঘটে।

    আর মস্তিষ্ক যখন দিন-রাতের পার্থক্য বুঝতে পারে না, তখন নানা ধরনের শারীরিক সমস্যার পাশাপাশি বিভিন্ন মানসিক ব্যাধিও দেখা দেয়। যেমন: “অতিরিক্ত আলোতে মেজাজ খিটখিটে হয়ে যায়, প্রেশার বেড়ে যায়, ডায়াবেটিস সহ নানা সমস্যা হয়।”

    কিন্তু চলাফেরা ও নিরাপত্তার জন্য রাস্তাঘাটে আলো থাকবে, সেটাই স্বাভাবিক। তবে তার প্রভাব কোনোভাবে বসতবাড়িতে পড়তে পারবে না। বসবাসের জায়গায় উজ্জ্বল আলো দেয়া যাবে না, তাতে মানুষের ঘুমের সমস্যা হয়। হাসপাতাল এরিয়াতে দেয়া যাবে না, তাতে রোগীদের অসুবিধা না হয়। উজ্জ্বল আলো লাইব্রেরিতেও থাকতে পারবে না। সেজন্যই লাইব্রেরিতে সাধারণত উজ্জ্বল আলো থাকে না। লাইব্রেরির বাতিগুলো এমনভাবে দেওয়া হয়, যা শুধু বইয়ের পাতার ওপরই পড়ে।

    “অতি আলো চোখে পড়লে মানুষ বিরক্ত হয়। সেজন্যই শাস্তি দেয়ার জন্য আসামীকে আলোর মাঝে রাখা হয়, কারণ এটা মারাত্মক যন্ত্রণাদায়ক,”

    আলোতে পাখি সহ বাকীদেরও কষ্ট:

    অনেকেই আছেন, যারা লাইট জ্বেলে ঘুমাতে পারেন না। যদি আলোতে ঘুমাতেও হয়, তাহলে তারা স্লিপিং মাস্ক বা চোখে কোনও কাপড়ের আবরণ দিয়ে ঘুমান। এখন, মানুষের না হয় চোখে আবরণ দেওয়ার উপায় আছে। কিন্তু অন্য প্রাণীদের কি আছে?উত্তর না, নাই।

    শহরাঞ্চলে গাছপালা কমে যাওয়ায় এমনিতেই পাখিদের আবাসস্থলের পরিমাণ কমছে। এর মাঝে এই বিভিন্ন ধরনের আলোর কারণে তাদের জীবনচক্র ব্যাহত হচ্ছে। পিপল ফর এনিম্যাল ওয়েলফেয়ার বা প’ নামক এক প্রাণী কল্যাণ সংগঠনের চেয়ারম্যান রাকিবুল হক এমিল বলেন, “লাইটের জন্য পাখিদের জন্য রাত নামে না।”

    তিনি মনে করেন যে ঢাকায় আগে যে সোডিয়াম লাইট ছিলো, “তা পাখিদের জন্য অনেক সুদিং ছিলো। কিন্তু এখনকার এলইডি লাইটগুলি ওদের জন্য যন্ত্রণাদায়ক।”

    “আর লাইট থেকে বাঁচতে ওরা যে গাছের পাতায় আড়াল নিবে, গাছ কমে যাওয়ায় সেই উপায়ও নাই এখন, তাই ভবনের কোণায় কোণায় ওদেরকে আশ্রয় নিতে হয়।”

    অতিরিক্ত আলোতে শুধু পাখি না, বিভিন্ন পোকামাকড়ও ক্ষতিগ্রস্ত হয়। অনেক সময়ই কোন কোন বিলবোর্ডের নীচে তাকালে দেখা যায় যে বিভিন্নরকম পোকামাকড় মরে পড়ে আছে।

    আলোকদূষণ রোধে করণীয় কী?

    আলো দূষণ থেকে বাঁচার জন্য এই মুহুর্তে ‘লুমেন কন্ট্রোল’ করার বিকল্প নেই।

    স্বাস্থ্য বিষেজ্ঞরা বলেন “লুমেন কন্ট্রোল করার পাশাপাশি রাত ১০ টার পর অপ্রয়োজনীয় বাতি বন্ধ করতে হবে যাতে তা রাতের স্বাভাবিকতা ব্যাহত না করে।”

    সেইসাথে, অবশ্যই সড়ক বাতির ওপর শেড দিতে হবে বলে মনে করেন বিশেষজ্ঞরা। নয়তো ঐ আলো আকাশের দিকে বিচ্ছুরিত হয়ে প্রাণীদের বিভ্রান্ত করে।

    কিন্তু বিলবোর্ডে যেহেতু শেড দেওয়ার কোনও ব্যবস্থা নেই, সেক্ষেত্রে এগুলো স্থাপনের ক্ষেত্রে আরও বেশি সতর্ক হওয়া বলে মনে করেন তারা। তবে সবচেয়ে বেশি জোর দেন আইনের প্রয়োগের বিষয়টির ওপর।

    কারণ, জাতীয় পরিবেশ নীতি ২০১৮-তে আলো দূষণ সম্বন্ধে স্পষ্ট করে বলা আছে যে “আলোকদূষণ রোধ করিতে হইবে।”

    পরিবেশ অধিদপ্তরের বক্তব্য:

    নীতিমালায় উল্লেখ থাকলেও পরিবেশ সংরক্ষণ বিধিমালায় আলো দূষণ নিয়ে কোনও নির্দেশনা নেই। সেজন্য খুব শীঘ্রই বিধিমালা সংশোধন করা হবে বলে জানায় পরিবেশ অধিদপ্তর।

    পরিবেশ অধিদপ্তরের মতে, যত সময় যাচ্ছে, তত বেশি নতুন নতুন চ্যালেঞ্জ আসছে। পলিসিতে এটি বলা আছে, কিন্তু এর জন্য কোনও বিধিমালা করা হয় নি এখনও। আমায় তো একটা স্ট্যান্ডার্ড সেট করে দিতে হবে যে আপনি এর নীচে বা উপরে যাবেন না। আইন প্রয়োগ করতে হলে আগে আমায় মাপতে হবে যে বেজলাইনের উপরে আছে না কি নীচে আছে।”

    এ বছর অধিদপ্তর সেই বিধিমালা সংশোধন করবে। কিন্তু সংশোধন করতে “সময় লাগবে। কারণ অনেক পলিসি মেকার, এক্সপার্টদের সাথে কথা বলতে হবে।”

    এত বছরেও বিধিমালা না হওয়ার কারণ সম্বন্ধে তিনি বলেন, “এর মাঝে ২০২৩ সালে পরিবেশ সংরক্ষণ বিধিমালা সংশোধন হয়েছে একবার। এগুলো লম্বা প্রক্রিয়া, করতে সময় লাগে। অনেক কনসাল্টেশন করতে হয়।, এখন আমরা আবার করে কাজ শুরু করবে পরিবেশ অধিদপ্তর।

    বিশ্ব ব্যাংকের পাঁচ বছরমেয়াদী একটি প্রকল্পের আওতায় এটি করা হবে। রাজশাহী শহরের ঝাড়বাতির মতো দেখতে সড়কবাতি নিয়ে পরিবেশবিদদের সমালোচনা দীর্ঘদিনের। কারণ ওই বাতিগুলোয় কোনও শেড নেই এবং বাতিগুলোর ঘনত্বও বেশি। ওই ধরনের প্রকল্পের অনুমোদন দেওয়ার ক্ষেত্রে পরিবেশ অধিদপ্তরের ভূমিকা রয়েছে বলে অনেকে মনে করেন।

    তবে সব কিছু আইন দিয়ে সমাধান করা যায় না। এই বিষয়ে নাগরিক সচেতনতা জরুরি। তবে আলোর দূষণ আমাদের কাছে একটি নতুন বিষয়। তাই এই নিয়ে যথেষ্ট প্রচার করা প্রয়োজন। পাঠ্যসূচিতেও বিষয়টি অন্তর্ভুক্ত করা জরুরি।

    সুত্র: বিবিসি বাংলা

  • মা দিবসের কথা প্রথম আসে ফিলাডেলফিয়ার জারভিসের মাথা থেকে

    মা দিবসের কথা প্রথম আসে ফিলাডেলফিয়ার জারভিসের মাথা থেকে

    www.HelloBangla.News – মতামত – ১৩ মে, ২০২৪: মা দিবসের চিন্তাটা প্রথম আসে ফিলাডেলফিয়ার আনা জারভিসের মাথা থেকে। তিনি ১৯০৭ সালে ১২ই মে তার মাকে নিয়ে এক ছোট্ট স্মরণসভার আয়োজন করেন। আনা জারভিসের মা নারীদের একসঙ্গে করে বন্ধুত্ব ও স্বাস্থ্য নিয়ে কাজ করতেন। মায়েদের সন্তান মানুষ করাটা যে অনেক পরিশ্রমের কাজ সেটা সবাইকে জানাতে চেয়েছিলেন তিনি। আর সেটাই হয়ে যায় মা দিবসের প্রচলন। কিন্তু এটা নিয়েও বিস্তর মতামত আছে। তবে সে বিষয়ে জানার আগে আমরা জানবো বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটি কিভাবে পালিত হয় মা দিবস।

    Mother's Day Talk From the Head of Come Jarvis - Opinion - 13 May 2024 2
    Mother’s Day Talk From the Head of Come Jarvis – Opinion – 13 May 2024 2

    সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে মা দিবসকে নিয়ে বহু চর্চা হয়। মা দিবস সবার কাছেই একটা স্মৃতিকাতর দিন। যাদের মা আছেন এবং যাদের মা নাই তারা সবাই মাকে নিয়ে ভাবেন বলেই বেশ কয়েক বছর ধরে বাংলাদেশে এই দিবসটি এলে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের পাতায় মাকে নিয়ে নানা ধরণের স্মৃতিকথা বর্ননা থাকে। এর কিছু থাকে আনন্দের কিছু বেদনা। কিছু শিক্ষনীয়। অনেকের লেখায় প্রকাশ পায় অতীত দিনের বর্ননা। এর মাধ্যমে অবশ্য অতীত সমাজ ব্যবস্থার চিত্রটি আমরা দেখতে পাই। তবে সব বক্তব্যেই থাকে মাকে সম্মান  জানানোর বিষয়টি। বাংলাদেশে প্রতি বছরের মে মাসের ১২ তারিখ মা দিবস পালন করা হয়। তবে এই মা দিবস বিভিন্ন দেশে ভিন্ন ভিন্ন দিনে পালিত হতে দেখা যায়।

    কীভাবে উদযাপিত হয় এটি? কে প্রথম এর প্রচলন করেন? চলুন জানা যাক মা দিবসের যত কথা।

     

    মা দিবসের ইতিহাস:

    মধ্যযুগে এক চর্চা চালু হয়েছিল যে, যারা কাজের জন্য যেখানে বড় হয়েছেন সেখান থেকে চলে গিয়েছেন, তারা আবার তাদের বাড়িতে বা মায়ের কাছে এবং ছোটবেলার চার্চে ফেরত আসবেন। সেটা হবে খ্রিস্টান ধর্মের উৎসব লেন্টের চতুর্থ রবিবার।

    সেসময় ১০ বছর বয়স হতেই কাজের জন্য বাড়ির বাইরে চলে যাওয়াটা খুবই স্বাভাবিক ছিল। তাই এটা ছিল সবাই মিলে পরিবারের সঙ্গে আবারও দেখা করার ও একসাথে সময় কাটানোর একটা সুযোগ । এভাবে ব্রিটেনে এটা মায়ের রবিবার হয়ে উঠে। কিন্তু যেহেতু লেন্টের তারিখ পরিবর্তিত হয়, তাই এই রবিবারও নির্দিষ্ট থাকে না। আধুনিক যুগে মা দিবসের উৎপত্তি যুক্তরাষ্ট্র থেকে। সেখানে প্রতি বছরের মে মাসের ২য় রবিবার পালিত হয় এটি।

    ওয়েস্ট ভার্জিনিয়ার গ্র্যাফটনে আনা জারভিসের মা, আনা রিভস জারভিস মায়েদের একটা ‘ডে ওয়ার্ক ক্লাব’ প্রতিষ্ঠা করেন যার লক্ষ্য ছিল শিশু মৃত্যুহার কমিয়ে আনা।

    কারণ মিজ জারভিস নিজেও তার নয়টি সন্তান হারিয়েছিলেন। তিনি মারা যান ১৯০৫ সালের ৯ই মে। আর তার স্মরণসভার জন্য আনা জারভিস ১২ই মে বেছে নেন কারণ ওটাই ছিল তার মা মারা যাবার কাছাকাছি একটা রোববার। তার মা যে চার্চে যেতেন সেখানে তার মার উদ্দেশ্য একটি ছোট্ট অনুষ্ঠান করেন।

    এরপরের পাঁচ বছরের মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের প্রায় সবকয়টি রাজ্যে মা দিবস পালনের চল শুরু হয়। আর ১৯১৪ সালে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট উড্রো উইলসন এ দিনটাকে সরকারি ছুটির দিন হিসেবে ঘোষণা করেন। এরপর থেকে প্রতি বছরের মে মাসের দ্বিতীয় রবিবার বেশিরভাগ জায়গায় মা দিবস পালন হয়ে আসছে।

     

    মা দিবস একেক দেশে একেক ভাবে ও একেক দিনে উদযাপিত হয়:

    মা দিবস বিশ্বজুড়ে বছরের বিভিন্ন সময় ও বিভিন্ন ঋতুতে পালিত হতে দেখা যায়।ইথিওপিয়াতে বর্ষার শেষে ও শরতের শুরুতে তিনদিন ব্যাপি এক উৎসব হয় – অ্যানট্রোস্ট, এটি ঘিরেই এখানে পালিত হয় মা দিবস। আবহাওয়া পরিষ্কার হয়ে যাওয়ার পরে পরিবারের সব সদস্যরা একসাথে মিলিত হয়, একসাথে সবজি, চিজ আর মাংস মিলে একটা খাবার প্রস্তুত হয়, এরপর সবাই মিলে একসাথে নাচ-গান করে।

    জাপানে আগে প্রতি বছরের ৬ই মার্চ মা দিবস পালন করা হত – কারণ এদিনটা সম্রাজ্ঞী কোজুনের জন্মদিন। তবে ১৯৪৯ সাল থেকে মে মাসের ২য় রবিবার নিয়ে যাওয়া হয়েছে এটিকে।

    এসময় মা দিবসে মূলত সেইসব মায়েদের সান্ত্বনা দেয়া হত যারা দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে তাদের সন্তানকে হারিয়েছে এবং প্রথাগতভাবে এইদিন তাদের বিভিন্ন রঙিন ফুল উপহার দেয়া হত।

    মেক্সিকোতে, মা দিবসকে বলা হয় দিয়া দে লাস মাদরেস – যা ১০ই মে পালিত হয় এবং দিনটি ঘিরে ব্যাপক আয়োজন হয় সেখানে। এদিনে সবাই তার মা-কে খেতে নিয়ে যায় রেস্টুরেন্টে। সেখানে বিভিন্ন মেক্সিকান ব্যান্ডদল তাদের বিখ্যাত জন্মদিনের গান “লাস মানিতাস” পরিবেশন করে। এছাড়া বিশ্বজুড়ে এদিন ঘিরে দেশে দেশে নানান বাণিজ্যিক আয়োজনও থাকে।

     

    মা দিবস চালু করে সেটি নিয়েই আক্ষেপ:

    ১৯০৭ সালে আনা জারভিস তার মাকে নিয়ে স্মরণসভার করার পরের বছর থেকে আস্তে আস্তে অন্যান্য জায়গাতেও মা দিবস পালিত হতে থাকে। ১৯১০ সালে ওয়েস্ট ভার্জিনিয়ায় সরকারি ছুটি ঘোষণা করা হয়, আর ১৯১৪ সালে তো পুরো আমেরিকাজুড়েই এটি ছুটির দিনে পালিত হয়।

    আর এই দিবসটি বিভিন্ন কোম্পানি আর প্রতিষ্ঠানকেও আকৃষ্ট করে।

    “আনা কখনোই এটার বাণিজ্যিকরণ চাননি,” বলেন ইতিহাসবিদ ও অধ্যাপক ক্যাথেরিন আন্তোলিনি। “কিন্তু শুরু থেকেই এটার বাণিজ্যিকরণ হতে থাকে, ফুলের ব্যবসা, কার্ড, চকোলেট বিভিন্ন শিল্প প্রতিষ্ঠান নানান অফার নিয়ে হাজির হতে থাকে, এ দিনটি জনপ্রিয় করার পেছনে অবশ্য তাদেরও অবদান আছে।”

    কিন্তু আনা এই ঘটনা মেনে নিতে পারেন নি।

    একবার যখন এ দিন ঘিরে ফুলের দাম অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে যায়, তখন তিনি একটা প্রেস বিজ্ঞপ্তি দিয়ে এটার নিন্দা জানান: “আপনি এসব ঠকবাজ, ডাকাত, দস্যু, কিডনাপার ও অন্যান্য উইপোকাদের সাথে কি করবেন যারা এরকম একটা সুন্দর, মহান ও সত্যিকারের একটা উদযাপন ও আন্দোলনকে তাদের লোভ দিয়ে ঢেকে দিচ্ছে?”

    ১৯২০ সালের দিকে তিনি মানুষকে আহবান জানান যাতে কেউ আর ফুল না কেনে।

    ওয়েস্ট ভার্জিনিয়া কলেজের অধ্যাপক আন্তোলিনি জানান, আনা তার এই আবেগপূর্ণ দিনটি কোন সংস্থার ব্যবহার করা নিয়েও হতাশ ছিলেন। সেটা যদি কোন দাতব্য প্রতিষ্ঠান এই দিনকে কাজে লাগিয়ে তহবিল সংগ্রহ করে সেটা নিয়েও আপত্তি ছিল তার।

    “এই দিনটা আসলে মায়েদের নিয়ে উদযাপনের, তাদের করুণা করার জন্য নয়,” ব্যাখ্যা করেন আন্তোলিনি।

    কিন্তু এই দিনটা যিনি চালু করেন, সেই আনা ছাড়া বাকি সবাই এই দিনটা থেকে সুবিধা নিতে থাকে। এমনকি ফুলের শিল্প-প্রতিষ্ঠান থেকে টাকা দিতে চাইলেও তিনি সেটা গ্রহণ করেন নি। বরং নিজের সঞ্চিত সমস্ত অর্থ দিয়ে এই দিনটার বাণিজ্যিকরণের বিরুদ্ধে লড়ে যান তিনি।

    তবে সবকিছু বাণিজ্যিক হলেও মায়ের প্রতি সন্তানের ভালোবাসা আসলে প্রকৃতই থেকে যায়।

    এখানে বাণিজ্যের বিষয়টি থাকে না। মাকে উপহার দেওয়া যায় এই ধরণের মূল্যবান কোন সম্পদ পৃথিবীতে নেই। অনেকে বলে থাকে মা দিবস বলে কোন দিন নেই। বছরের প্রতিটি দিন হচ্ছে মায়ের। তার পরেও মাদের স্মরণ করার জন্য একটি দিন বেছে নিয়েছে সবাই। এই প্রথাই এখন চালু আছে সারা বিশ্বে, এমন কি বাংলাদেশেও।

    সূত্র : বিবিসি বাংলা

  • আখের থেকে  সুগারবিট দিয়ে আরও বেশি চিনি উৎপাদন সম্ভব

    আখের থেকে সুগারবিট দিয়ে আরও বেশি চিনি উৎপাদন সম্ভব

    www.HelloBangla.News – মতামত – ১৫ এপ্রিল, ২০২৪: বাংলাদেশে সাধরণত আখ থেকেই চিনি উৎপাদন সম্ভব। তবে গবেষণায় দেখা গেছে সুগারবিট এমন এক ধরনের আলু জাতিয় সবজি যার মাধ্যমে চিনি উৎপাদন সম্ভব। সাধারণত দেখা যায় আখ চাষে যে সময় যায় তার থেকে অল্প সময়ের মধ্যে সুগারবিট চাষ করা সম্ভব। তাই এর উৎপাদন দ্রুত হয় এবং চিনি উৎপাদনের মাত্রাও আখের থেতে বেশি। তবে সুগার মিলে আধুনিকায়ন করার পর তবেই সুগারবিট থেকে ভালো  চিনি উৎপাদন করা সম্ভব।

    তাছাড়া আখ যখন চাষ হয় এবং চিনি উৎপদনের জন্য উপযুক্ত হয় তখন সুগার মিলগুলি সেই পরিমান আখ প্রকৃয়াজাত করে চিনি উৎপদনে সক্ষম নয়। ফলে অনেক আখ জমিতে দীর্ঘদিন ধরে থাকে এবং তা শুকিয়ে যায়। ফলে আখ চাষিরা ক্ষতির মুখে পড়ে। কিন্তু সুগারবিট থেকে চিনি উৎপাদনে সেই সমম্যার সৃষ্টি হয় না।

    বাংলাদেশে যতটুকু চিনি উৎপাদন করা হয় তার পুরোটাই তৈরি হয় আখ থেকে। যদিও দেশে চালু থাকা নয়টি রাষ্ট্রায়ত্ত চিনি কলে যে পরিমাণ চিনি উৎপাদন হয়, তা বাংলাদেশের বার্ষিক চাহিদার পাঁচ শতাংশেরও কম।

    কিন্তু গবেষক ও বিশেষজ্ঞরা মনে করেন এই চিত্র পরিবর্তন করা সম্ভব আখের পাশাপাশি নতুন ফসল সুগারবিট থেকে চিনি তৈরি করে।

    তবে সুগারবিট চাষের পরীক্ষামূলক প্রকল্প সফল হওয়ার পর বাণিজ্যিকভাবে চাষের প্রকল্প হাতে নেওয়া হলেও বাংলাদেশে শেষ পযর্ন্ত সুগারবিট চাষ ও সুগারবিট দিয়ে চিনি তৈরির কার্যক্রম আলোর মুখ দেখেনি।

     

    সুগারবিট অনেকটা মিষ্টি আলু জাতীয় একটি উদ্ভিদ, যেটির মূলে উচ্চ মাত্রায় সুক্রোজ থাকে। পৃথিবীর অনেক দেশেই সুগারবিট থেকে বাণিজ্যিকভাবে সাদা চিনি উৎপাদন করা হয়।সাদা চিনির পাশাপাশি গুড় ও লাল চিনিও তৈরি হয়ে থাকে সুগারবিট থেকে।

    সুগারবিটের মূলকে কুচি কুচি করে কেটে এটিকে পানির সাথে মিশিয়ে নির্দিষ্ট তাপমাত্রায় জাল দিলে এর ভেতরে থাকা চিনি নির্গত হয়ে পানির সাথে মিশে যায়। তারপর সেই পানিকে সিদ্ধ করলে এক পর্যায়ে দানাদার চিনি পাওয়া যায়।

    সুগারবিট সাধারণত শীত প্রধান দেশের ফসল হলেও নাতিশীতোষ্ণ এলাকাতেও এটি হয়ে থাকে। গবেষকরা বলছেন, আখ উৎপাদন করতে এক বছর সময় লাগলেও সুগারবিট শীতের পাঁচ মাসেই উৎপাদন করা সম্ভব। পাশাপাশি আঁখের সাথে একই জমিতে সাথী ফসল হিসেবেও সুগারবিট উৎপাদন করা সম্ভব।

    আখের তুলনায় সুগারবিট থেকে চিনি উৎপাদনে কিছুটা বেশি খরচ হয়। আখের ক্ষেত্রে ফসলের রস নিয়ে সেটিকে তাপ দিয়ে চিনি উৎপাদন করা হয়। তাপ দেয়ার ক্ষেত্রে জ্বালানি হিসেবে আখের বাকি অংশই সাধারণত ব্যবহার করা হয়। আর সুগারবিটের ক্ষেত্রে বিটকে ছোট করে কেটে সেটিতে পানি মিশিয়ে তাপ দিয়ে চিনি আলাদা করা হয়। এই প্রক্রিয়ার জন্য আলাদা যন্ত্রপাতি প্রয়োজন হয়। বিশ্বের মোট উৎপাদিত চিনির ৮০ ভাগই আসে আখ থেকে। সবচেয়ে বেশি চিনি উৎপাদন করে ব্রাজিল আর ভারত।

     

    বাংলাদেশ ইক্ষু গবেষণা ইনস্টিটিউট ২০১০-১১ থেকে প্রায় আট বছর বাংলাদেশে সুগারবিট উৎপাদনের সম্ভাব্যতা যাচাই বাছাই করে। এই সময়ে বাংলাদেশের বিভিন্ন অঞ্চলে অবস্থিত চিনি কলের জমিতে আখ চাষীদের সুগারবিট চাষের প্রশিক্ষণ দেয়া হয়।

    কৃষিবিদরা জানিয়েছেন, প্রায় আট বছর তিন ধাপে গবেষণা করে আমরা সিদ্ধান্তে পৌঁছাই যে, বাংলাদেশে সুগারবিট উৎপাদন করা সম্ভব। উত্তরাঞ্চলের পাশাপাশি দক্ষিণের লবণাক্ত পানির অঞ্চলেও সুগারবিট চাষ করা যায়। দেশে ২০১০ থেকে ২০১৮ সাল পর্যন্ত ১২টি চিনি কল এলাকায় এক হাজারের বেশি আখ চাষীকে সুগারবিট উৎপাদনের প্রশিক্ষণ দেয়া হয় পাইলট প্রকল্পের অধীনে। এই প্রশিক্ষণের পুরোটাই ছিল গবেষণা প্রকল্পের অংশ, তাই এ সময় আখ চাষীদের জমিতে সুগারবিট চাষ না করে চিনি কলের নিজস্ব জমিতে এই গবেষণা চালানো হয়। গবেষণার সাথে জড়িত থাকা ব্যক্তিরা বলছেন, জমিতে ফলন এবং চিনি উৎপাদনের হার – দুই হিসেবেই আখের চেয়ে বেশি লাভজনক সুগারবিট।

    এক একর জমিতে যেখানে ৩০ থেকে ৪০ টন সুগারবিট উৎপাদন করা সম্ভব, যেখানে এক একর জমিতে বাংলাদেশে ২০-২৫ টন আখ উৎপাদন করাই কঠিন হয়ে পড়ে। আখের ক্ষেত্রে এমন দেখা যায় যে, কারও জমিতে অনেক ফলন হয় আবার কারও জমিতে খুব কম ফলন হয়। কিন্তু সুগারবিট প্রায় সব জমিতেই একই ধরণের ফলন হয়।

    এছাড়া সুগারবিটে আখের তুলনায় প্রায় দ্বিগুণ পরিমাণ চিনি থাকে। একশো কেজি আখ থেকে যেখানে সর্বোচ্চ সাত কেজি চিনি উৎপাদন করা সম্ভব, একই পরিমাণ সুগারবিট থেকে উৎপাদিত চিনির পরিমাণ সেখানে ১২ থেকে ১৩ কেজি হয়ে থাকে।

    কৃষিবিদরা আরও বলেন, উৎপাদনশীল জাতের আখের অভাব, সময়ের আগে বা পরে আখ কাটা, চিনি কলে পৌঁছানোর আগে আখ শুকিয়ে যাওয়া, কারখানার ভুলত্রুটি – এরকম নানা কারণে বাংলাদেশে যে পরিমাণ আখ উৎপাদন হতে পারে, সেটা তা হয় না।

    বাংলাদেশ সুগারক্রপ গবেষণা ইনস্টিটিউটের গবেষকরা দুই ধরনের সুগারবিটের জাতও উদ্ভাবন করে যেগুলো বাংলাদেশের লবণাক্ত মাটিতে সহজে, কম খরচে চাষ করা যায়।

    বাংলাদেশে বিভিন্ন এলাকায় চিনি কলে পরীক্ষামূলকভাবে সুগারবিট চাষ করা হলেও কৃষকরা নিজে থেকে সুগারবিট চাষ করেননি। চাষের ক্ষেত্রে বীজ দেয়া থেকে শুরু করে চাষ পরবর্তী সার্বিক সহায়তাও সবসময় ইক্ষু গবেষণা ইনস্টিটিউটের পক্ষ থেকে দেয়া হয়েছে। আর বাংলাদেশে এই ফসলের বাজার না থাকায় এর নির্ধারিত বাজারমূল্যও নেই। তবে কয়েকজন কৃষক নিজেদের অভিজ্ঞতা থেকে ধারণা পোষণ করেন যে ফসল সময়মত বিক্রি করা গেলে সুগারবিট চাষ বেশ লাভজনক হতে পারে।

    ঠাকুরগাঁও ছাড়াও গাইবান্ধা, পাবনা, সাতক্ষীরার মতো যেসব অঞ্চলে কৃষকদের সুগারবিট চাষে প্রশিক্ষণ দেয়া হয়েছিল, তাদের অধিকাংশই সুগারবিট চাষ চালিয়ে যেতে আগ্রহী ছিলেন বলে জানা যায়।

    তবে সুগারবিট চাষ এবং এর থেকে চিনি উৎপাদনের জন্য চিনি কলকে আধুনিকায়ন ও প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতি কেনার উদ্যোগ নেওয়া হলেও তা বাস্তবায়ন হয়নি। প্ফলে প্রকল্পটির আর কোনও অগ্রগতি হয়নি।

    কিন্তু বর্তমান বাজারে এখন চিনির মুল্য এতটাই বেশি যে সুগারবিট দিয়ে চিনি উৎপাদন না করলে আমাদের চিনির সমস্যা বাড়তেই থাকে। তাই সুপার মিলগুলোকে আধুনিক করে এবং কৃষকদেরকে সুগারবিট চাষে উৎসায়িত করে দেশে চিনির উৎপাদন বাড়ানো উচিত বলে মনে করছেন।

    সূত্র: বিবিসি বাংলা

  • ২৫শে মার্চ রাতে অপারেশন সার্চলাইটের পরিকল্পনা করা হয় ১৮ই মার্চ

    ২৫শে মার্চ রাতে অপারেশন সার্চলাইটের পরিকল্পনা করা হয় ১৮ই মার্চ

    www.HelloBangla.News – মতামত – ২৪ মার্চ, ২০২৪: পাকিস্তানি সেনাবাহিনী ১৯৭১ সালের ২৫শে মার্চ রাতে ঢাকায় যে অভিযানে অর্ধ লক্ষ মানুষের প্রাণহানী হয়েছিল, সেই রাতটিকে স্বাধীন বাংলাদেশে বর্ণনা করা হয় ‘কালরাত্রি’ হিসেবে।

    পাকিস্তানি সেনারা সেই অভিযানের সাংকেতিক নাম বা কোডনেম দিয়েছিল ‘অপারেশন সার্চলাইট’। যার পরিকল্পনা করা হয়েছিল ১৮ই মার্চ।

    ১৯৭১ সালে মার্চ মাসের সেই সময়টা ছিল রাজনৈতিকভাবে উত্তেজনাপূর্ণ। গণপরিষদের অধিবেশন স্থগিত করায় ঢাকা তখন বিক্ষোভের শহর। ঢাকায় ইতিমধ্যে ওড়ানো হয়েছে স্বাধীন বাংলাদেশের পতাকা। এরই মধ্যে ৭ই মার্চ তৎকালীন রেসকোর্স ময়দানে শেখ মুজিবুর রহমান ভাষণ দিয়েছেন। ডামি রাইফেল নিয়ে ঢাকার রাস্তায় মার্চ করছেন ছাত্র-ছাত্রীরা।

    ঢাকায় তখন চলছে মুজিব-ইয়াহিয়া বৈঠক। আলোচনায় অংশ নিতে জুলফিকার আলী ভুট্টোও রয়েছেন শহরে। সব মিলে খুবই উত্তেজনাকর পরিস্থিতি। এরকম প্রেক্ষাপটে পরিকল্পনা অপারেশন সার্চলাইটের, যুক্তি ছিল রাজনৈতিক সমঝোতা ‘ব্যর্থ’ হলে সামরিক অভিযান চালিয়ে ‘পাকিস্তান সরকারের কর্তৃত্ব’ প্রতিষ্ঠা করা হবে।

    ‘কালরাত্রির’ সেই ভয়াবহ সেনা অভিযানের পরিকল্পনা কীভাবে হয় তার ধারণা পাওয়া যায় সেসময় ঢাকায় দায়িত্বরত পাকিস্তানের অবসরপ্রাপ্ত সেনা কর্মকর্তাদের স্মৃতিকথা থেকে।

     

    যেভাবে ‘অপারেশন সার্চলাইটের’ পরিকল্পনা করা হয়েছিল:

    মেজর জেনারেল খাদিম হুসাইন রাজা তখন পূর্ব পাকিস্তানের ১৪তম ডিভিশনের জিওসি ছিলেন। ‘অপারেশন সার্চলাইট’ নামে সামরিক অভিযানের অন্যতম পরিকল্পনাকারী তিনি।

    ‘আ স্ট্রেঞ্জার ইন মাই ঔন কান্ট্রি ইস্ট পাকিস্তান, ১৯৬৯-১৯৭১’ শিরোনামের একটি স্মৃতিচারণমূলক গ্রন্থ তিনি লিখেছেন, ১৯৭১ সালের ১৭ই মার্চ রাতে পূর্ব পাকিস্তানের গভর্নর লেফটেন্যান্ট জেনারেল টিক্কা খান টেলিফোনে মেজর জেনারেল রাও ফরমান আলী এবং মেজর জেনারেল খাদিম হুসাইন রাজাকে কমান্ড হাউজে ডেকে পাঠান। মেজর জেনারেল রাও ফরমান আলী ছিলেন পূর্ব পাকিস্তান গভর্নরের উপদেষ্টা। দুইজন সেখানে যাওয়ার পর টিক্কা খান তাদের বলেন, শেখ মুজিবুর রহমানের সাথে প্রেসিডেন্ট ইয়াহিয়ার আলোচনায় ‘প্রত্যাশিত অগ্রগতি’ হচ্ছে না।

    যে কারণে এখন প্রেসিডেন্ট ইয়াহিয়া খান ‘মিলিটারি অ্যাকশনে’র জন্য প্রস্তুত থাকতে বলেছেন। আর সে কারণে তিনি ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের একটি সামরিক পরিকল্পনা তৈরি করার নির্দেশ দিয়েছেন। সে অনুযায়ী ১৮ই মার্চ সকাল থেকে ক্যান্টনমেন্টে খাদিম হুসাইন রাজার বাসায় রাও ফরমান আলী এবং তিনি দুইজন মিলে অপারেশন সার্চলাইটের খসড়া তৈরি করেন।

    খাদিম হুসাইন রাজা লিখেছেন, ১৮ই মার্চ সকালে তিনি তাঁর স্ত্রীকে দায়িত্ব দিয়েছিলেন যাতে তিনি তার বাঙ্গালি এডিসিকে ব্যস্ত রাখেন, এবং তাঁর অফিস থেকে দূরে রাখেন।

    যেন রাও ফরমান আলী সকাল সকাল খাদিম হুসাইন রাজার অফিসে কী করছেন এমন সন্দেহ বাঙ্গালি এডিসির মনে উদয় না হয়। সারা সকাল ধরে জেনারেল রাজা এবং জেনারেল আলী সামরিক অভিযান পরিচালনার খসড়া তৈরি করেন। অল্প সময়ের মধ্যেই তারা দুইজন পরিকল্পনার পরিসর নিয়ে একমত হন, এরপর দুইজনে দুইটি আলাদা পরিকল্পনা লেখেন। ঢাকা অঞ্চলে সামরিক অপারেশনের দায়িত্ব নেন রাও ফরমান আলী, আর বাকি পুরো প্রদেশে অভিযানের দায়িত্ব নেন খাদিম হুসাইন রাজা। রাও ফরমান আলী পরিকল্পনায় তার অংশে একটি মুখবন্ধ লেখেন, এবং কিভাবে ঢাকায় অপারেশন চালানো হবে তা বিস্তারিত লেখেন। ঢাকার বাইরে বাহিনী কী দায়িত্ব, কিভাবে পালন করবে তার বিস্তারিত পরিকল্পনা করেন খাদিম।

    সন্ধ্যায় খসড়া পরিকল্পনা নিয়ে তারা হাজির হন কমান্ড হাউজে। খাদিম হুসাইন রাজা পরিকল্পনা উপস্থাপন করেন এবং কোন আলোচনা ছাড়াই পরিকল্পনা অনুমোদিত হয়।

    ১৯৭১ সালে পাকিস্তান সেনাবাহিনীর জনসংযোগ কর্মকর্তা হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন সিদ্দিক সালিক। ‘উইটনেস টু সারেন্ডার’ শিরোনামের একটি বইয়ে তিনি ‘অপারেশন সার্চলাইট’ নিয়ে লিখেছেন, জেনারেল রাও ফরমান আলী হালকা নীল কাগজের অফিসিয়াল প্যাডের ওপর একটি সাধারণ কাঠ পেন্সিল দিয়ে ওই পরিকল্পনা লিপিবদ্ধ করেছিলেন।

    সিদ্দিক সালিক লিখেছেন, তিনি স্বচক্ষে সেই হাতে লেখা পরিকল্পনার খসড়া দেখেছিলেন। তাতে সামরিক অভিযানের প্রাথমিক উদ্দেশ্য নির্ধারণ করা হয়েছিল, ‘শেখ মুজিবের ডিফ্যাক্টো শাসনকে উৎখাত করা এবং সরকারের (পাকিস্তানের) কর্তৃত্ব পুনঃপ্রতিষ্ঠা করা।’

    সিদ্দিক সালিক লিখেছেন, ‘অপারেশন সার্চলাইট’ নামে পরিকল্পনা ছিল ১৬টি প্যারা সম্বলিত এবং পাঁচ পৃষ্ঠা দীর্ঘ। পরিকল্পনা অনুমোদিত হলেও কবে সামরিক অপারেশন চালানো হবে সেই দিনক্ষণ নির্ধারিত ছিল না।

    খাদিম হুসাইন রাজা তাঁর বইয়ে লিখেছেন, ২৪শে মার্চ দুইটি হেলিকপ্টার নিয়ে রাও ফরমান আলী এবং তিনি নিজে ঢাকার বাইরে অবস্থানরত ব্রিগেড কমান্ডারদের সামরিক ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য প্রস্তুত হবার নির্দেশনা দিতে রওয়ানা হন।তারা চেয়েছিলেন গোপনীয়তা বজায় রেখে বিভাগীয় কমান্ডারদের সরাসরি নির্দেশনা দেবেন এবং মাঠ পর্যায়ে যদি কোন সমস্যা থাকে সেটি কৌশলে সমাধান করবেন। তারা যশোর, কুমিল্লা, চট্টগ্রামে যান। সিলেট, রংপুর এবং রাজশাহী ক্যান্টনমেন্টে পাঠানো হয় সিনিয়র স্টাফ অফিসারদের।

    অভিযানের জন্য প্রস্তুত হতে বলেও ব্রিগেড কমান্ডারদেরকে জানানো হয়েছিল যে, আঘাত হানার সময় পরে জানানো হবে। সিদ্ধান্ত হয়েছিল সব গ্যারিসনকে একই সঙ্গে এক সময়ে অপারেশনে নামতে হবে।

    পূর্ব পাকিস্তানে সামরিক বাহিনী আটটি স্থায়ী ও অস্থায়ী ক্যান্টনমেন্টে বিন্যস্ত ছিল—ঢাকা, কুমিল্লা, চট্টগ্রাম, সিলেট, যশোর, রাজশাহী, রংপুর, সৈয়দপুর। এর সাথে ২ নম্বর ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্টের অবস্থান ছিল ঢাকার কাছে, জয়দেবপুরে।

     

    অপারেশন সার্চলাইট পরিকল্পনা সম্পর্কে খাদিম হুসাইন রাজা তাঁর ‘আ স্ট্রেঞ্জার ইন মাই ঔন কান্ট্রি ইস্ট পাকিস্তান, ১৯৬৯-১৯৭১’ বইয়ে লিখেছেন, পরিকল্পনার মূল দিকগুলো ছিল এরকম:

    * যে কোন ধরণের বিদ্রোহ বা বিরোধিতাকে কঠোরভাবে দমন করা হবে

    * সফল হওয়ার জন্য আকস্মিক চমক এবং চাতুরীর গুরুত্ব আছে। সেনাবাহিনী প্রেসিডেন্ট ইয়াহিয়া খানকেও চাতুরীর আশ্রয় নিয়ে তাদের সাহায্য করার পরামর্শ দিয়েছিল

    * বাঙ্গালি সেনা সদস্য ও পুলিশকে নিরস্ত্র করা হবে। বিশেষ করে পিলখানায় ইস্ট পাকিস্তান রাইফেলসের অস্ত্রাগার, রাজারবাগের রিজার্ভ পুলিশ এবং চট্টগ্রামে কুড়ি হাজার রাইফেলের অস্ত্রভাণ্ডারের নিয়ন্ত্রণ আগেভাগে নিয়ে নেয়া,

    * অপারেশন শুরুর সাথে সাথে সব রকমের অভ্যন্তরীণ ও আন্তর্জাতিক যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন করতে হবে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এলে নতুন করে যাচাই-বাছাই করে যোগাযোগ ব্যবস্থা চালু করা হবে

    * অস্ত্রশস্ত্র এবং অপরাধীদের খোঁজে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের হলগুলো ঘিরে ফেলতে হবে, এবং তল্লাশি চালাতে হবে

    * শেখ মুজিবকে জীবিত অবস্থায় ধরতে হবে। এর বাইরে ১৫ জন আওয়ামী লীগ এবং কম্যুনিস্ট পার্টির নেতার বাড়িতে তল্লাশি চালাতে হবে, তাদের কাউকে পাওয়া গেলে গ্রেপ্তার করতে হবে।

    ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা দেশের বিভিন্ন ব্যারাকে ঘুরে পরিকল্পনা বাস্তবায়নের ব্যবস্থা তদারকি করলেও, অপারেশন সার্চলাইটে অংশ নেয়ার জন্য সামরিক বাহিনীর কারো কাছেই কোন লিখিত অর্ডার পাঠানো হয়নি।

    সময় জানিয়ে মেজর জেনারেল খাদিম হুসাইনের কাছে লেফটেন্যান্ট জেনারেল টিক্কা খানের কাছ থেকে ফোনটি এসেছিল ২৫শে মার্চ সকাল ১১টায়।

    সংক্ষেপে বলা হয়েছিল, “খাদিম, আজ রাতেই।”

    সময় নির্দিষ্ট হয়েছিল রাত ১টা। গ্রেগরিয়ান ক্যালেন্ডারের হিসেবে অবশ্য তখন থাকবে ছাব্বিশে মার্চ। হিসেব করা হয়েছিল, প্রেসিডেন্ট ইয়াহিয়া খান ততক্ষণে নিরাপদে করাচি পৌঁছে যাবেন।

    আর এদিকে ঢাকায় ‘অপারেশন সার্চলাইট’ পরিচালনা করবে পাকিস্তানি সেনাবাহিনী আর আমাদের জীবনে নেমে আসে বিভিষিকাময় ‘কালরাত্রি’।

    সূত্র: সাইয়েদা আক্তার-বিবিসি বাংলা।

  • অনেক ক্ষেত্রে রোজা রাখা স্বাস্থ্যের জন্য ভাল

    অনেক ক্ষেত্রে রোজা রাখা স্বাস্থ্যের জন্য ভাল

    www.HelloBangla.News – মতামত – ১১ মার্চ, ২০২৪: রমজানে রোজা রাখাটা প্রপ্তবয়স্ক মুসলমানদের জন্য অপরির্য করা হয়েছে। সূর্যোদয়ের  প্রায় ৩০ মিনিট আগে সেহরির সময় হতে সূর্যাস্ত পর্যন্ত পানাহারে বিরত থেকে। কয়েক বছর ধরে বাংলাদেশে রোজা পড়ছে গ্রীষ্মকালে। ফলে এসব দেশের মুসলিমদের রোজা রাখতে হচ্ছে গরমের মধ্যে অনেক দীর্ঘসময় ধরে। এই সময় দেখা দিতে পারে পানিশূন্যতা। প্রথম কয়েক দিন সচেতন থাকতে হয়। পরে তা অভ্যাসে পরিণত হয়। তবে চিকিৎসকরা বলছেন রোজা রাখা অনেক ক্ষেত্রে স্বাস্থ্যের জন্য ভালো।

     

     গরমে রোজা রাখা প্রথম কয়েকদিন সবচেয়ে কষ্টকর:

    শেষবার খাবার খাওয়ার পর আট ঘন্টা পার না হওয়া পর্যন্ত কিন্তু মানুষের শরীরে সেই অর্থে রোজার প্রভাব পড়ে না। আমরা যে খাবার খাই, পাকস্থলীতে তা পুরোপুরি হজম হতে এবং এর পুষ্টি শোষণ করতে অন্তত আট ঘন্টা সময় নেয় শরীর।

    যখন এই খাদ্য পুরোপুরি হজম হয়ে যায়, তখন আমাদের শরীর যকৃৎ এবং মাংসপেশীতে সঞ্চিত থাকে যে গ্লুকোজ, সেটা থেকে শক্তি নেয়ার চেষ্টা করে। শরীর যখন এই চর্বি খরচ করতে শুরু করে, তা আমাদের ওজন কমাতে সাহায্য করে। এটি কোলেস্টেরলের মাত্রা কমায় এবং ডায়াবেটিসের ঝুঁকি কমায়। তবে যেহেতু রক্তে সুগার বা শর্করার মাত্রা কমে যায়, সে কারণে হয়তো কিছুটা দুর্বল এবং ঝিমুনির ভাব আসতে পারে। এছাড়া কারও কারও ক্ষেত্রে মাথাব্যাথা, মাথা ঘোরা, বমি বমি ভাব বা নিশ্বাসে দুর্গন্ধ হতে পারে। এ সময়টাতেই আসলে শরীরে সবচেয়ে বেশি ক্ষুধা লাগে।

     

    ৩ হতে ৭ রোজায় সাবধান থাকতে হয় পানিশূন্যতা থেকে:

    প্রথম কয়েকদিনের পর আপনার শরীর যখন রোজায় অভ্যস্ত হয়ে উঠছে, তখন শরীরে চর্বি গলে গিয়ে তা রক্তের শর্করায় পরিণত হচ্ছে। কিন্তু রোজার সময় দিনের বেলায় যেহেতু আপনি কিছুই খেতে বা পান করতে পারছেন না, তাই রোজা ভাঙ্গার পর অবশ্যই আপনাকে সেটার ঘাটতি পূরণের জন্য প্রচুর পানি পান করতে হবে।

    নইলে আপনি মারাত্মক পানি-শূন্যতায় আক্রান্ত হতে পারেন। বিশেষ করে গরমের দিনে যদি শরীরে ঘাম হয়। আর যে খাবার আপনি খাবেন, সেটাতেও যথেষ্ট শক্তিদায়ক খাবার থাকতে হবে। যেমন কার্বোহাইড্রেট বা শর্করা এবং চর্বি। একটা ভারসাম্যপূর্ণ খাবার খুব গুরুত্বপূর্ণ, যেখানে সব ধরণের পুষ্টি, প্রোটিন বা আমিষ, লবণ এবং পানি থাকবে।

     

    অভ্যস্ত হয়ে উঠছে শরীর-৮ হতে ১৫ রোজায়:

    এই পর্যায়ে এসে আপনি নিশ্চয়ই অনুভব করতে পারছেন যে আপনার শরীর-মন ভালো লাগছে, কারণ রোজার সঙ্গে আপনার শরীর মানিয়ে নিতে শুরু করেছে।

    চিকৎসকরা বলেন, “সাধারণত দৈনন্দিন জীবনে আমরা অনেক বেশি ক্যালরিযুক্ত খাবার খাই এবং এর ফলে আমাদের শরীর অন্য অনেক কাজ ঠিকমত করতে পারে না, যেমন ধরুণ শরীর নিজেই নিজেকে সারিয়ে তুলতে পারে। কিন্তু রোজার সময় যেহেতু দিনের বেলা আমরা না খেরয় থাকি থাকছি, তাই শরীর তখন অন্যান্য কাজের দিকে মনোযোগ দিতে পারে। কাজেই রোজা কিন্তু শরীরের জন্য বেশ উপকারী। এটি শরীরের ক্ষত সারিয়ে তোলা বা সংক্রমণ রোধে সাহায্য করতে পারে।”

     

    শরীর মানিয়ে নেয়-১৬ হতে ৩০ রোজা: 

    রমজান মাসের দ্বিতীয়ার্ধে আপনার শরীর কিন্তু পুরোপুরি রোজার সঙ্গে মানিয়ে নেবে। আপনার শরীরের পাচকতন্ত্র, যকৃৎ, কিডনি এবং দেহত্বক এখন এক ধরণের পরিবর্তনের ভেতর দিয়ে যাবে। সেখানে থেকে সব দূষিত বস্তু বেরিয়ে আপনার শরীর যেন শুদ্ধ হয়ে উঠবে।

    চিকিৎকরা বলেন, “এসময় আপনার শরীরের অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ তাদের পূর্ণ কর্মক্ষমতা ফিরে পাবে। আপনার স্মৃতি এবং মনোযোগের উন্নতি হবে এবং আপনি যেন শরীরে অনেক শক্তি পাবেন। শরীরের শক্তি জোগানোর জন্য আপনার আমিষের ওপর নির্ভরশীল হওয়া ঠিক হবে না। যখন আপনার শরীর ‘ক্ষুধার্ত’ থাকছে তখন এটি শক্তির জন্য দেহের মাংসপেশীকে ব্যবহার করছে। এবং এটি ঘটে যখন একটানা বহুদিন বা কয়েক সপ্তাহ ধরে আপনি রোজা রাখছেন। যেহেতু রোজার সময় কেবল দিনের বেলাতেই আপনাকে না খেয়ে থাকতে হয়, তাই আমাদের শরীরের চাহিদা মেটানোর জন্য যথেষ্ট খাবার এবং তরল বা পানীয় গ্রহণের সুযোগ থাকছে রোজা ভাঙ্গার পর। এটি আমাদের মাংসপেশীকে রক্ষা করছে এবং একই সঙ্গে আমাদের আবার ওজন কমাতেও সাহায্য করছে।”

     

    অনেক ক্ষেত্রে রোজা রাখা স্বাস্থ্যের জন্য ভাল:

    চিকিৎকরা বলেন, “রোজা রাখা শরীরের জন্য ভালো, কারণ আমরা কী খাই এবং কখন খাই সেটার ওপর আমাদের মনোযোগ দিতে সাহায্য করে। একমাসের রোজা রাখা হয়তো ভালো। কিন্তু একটানা রোজা রেখে যাওয়ার পরামর্শ দেয়া যাবে না। শরীরের ওজন কমানোর জন্য একটানা রোজা রাখা কোন উপায় হতে পারে না। কারণ একটা সময় আপনার শরীর চর্বি গলিয়ে তা শক্তিতে পরিণত করার কাজ বন্ধ করে দেবে। তখন এটি শক্তির জন্য নির্ভর করবে মাংসপেশীর ওপর। এটা স্বাস্থ্যের জন্য ভালো নয়। কারণ আপনার শরীর তখন ক্ষুধায় ভুগবে।”

    চিকিৎসকদের পরামর্শ হচ্ছে, রমজান মাসের পর মাঝে মধ্যে অন্যধরণের উপোস করা যেতে পারে। যেমন ৫:২ ডায়েট (পাঁচদিন কম খেয়ে দুদিন ঠিকমত খাওয়া-দাওয়া করা)। যেখানে কয়েকদিন রোজা রেখে আবার স্বাস্থ্যসম্মতভাবে খাওয়া-দাওয়া করা যেতে পারে।

    অনেকে মনে করে রোজা রাখলে দেহে পানিশূন্যতার সৃষ্টি হতে পারে। কিন্তু ৫ থেকে ৬ দিনের মধ্যে মানুষ তাতে অভ্যস্ত হয়ে পড়ে। তবে ইফতারির পরে প্রচুর পানি পান করা উচিৎ বলে মনে করেন চিকিৎসকরা। বিশেষ ভাবে গ্রীষ্মকালের রোজার সময়।

     

    সূত্র: বিবিসি