Category: অন্যান্য

  • আজ গুলিবিদ্ধ হয়ে ৯ জন নিহত

    আজ গুলিবিদ্ধ হয়ে ৯ জন নিহত

    www.HelloBangla.News – জাতীয় – ৫ আগস্ট, ২০২৪: বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের ডাকা অসহযোগ আন্দোলনে রাজধানীসহ বিভিন্ন এলাকায় সংঘর্ষ ঘটছে। এতে গুলিবিদ্ধ নয়জন নিহত হয়েছেন।

    আজ সোমবার (৫ আগস্ট) বেলা ১১টা থেকে দুপুর পর্যন্ত তাদের ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে নিয়ে আসা হয়।

    নিহতরা হলেন- যাত্রাবাড়ী এলাকার রাসেল (২৮), সাউথইস্ট বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী রাকিব হোসেন (২৪), তুলারাম কলেজের শিক্ষার্থী আব্দুর রহমান (২২), অজ্ঞাত (২৭), সাইফুল ইসলাম তন্ময় (২২), প্রবাসী আবু ইসহাক (৫২) ও আজমত মিয়া (৪০), ঢাকা মেডিকেল কলেজের নতুন ভবনের সামনে একটি ব্যাংকের স্টাফ মানিক মিয়া (২৭) ও অজ্ঞাত (২৫)।

    ঢামেক হাসপাতালের পুলিশ ক্যাম্পের ইনচার্জ (পরিদর্শক) মো. বাচ্চু মিয়া জানান, হাসপাতালে সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত নয়জন মারা গেছেন। এছাড়া ৭৮ জন আহত হয়ে চিকিৎসা নিতে আসেন। এরমধ্যে নয়জনকে ভর্তি করা হয়েছে। আহতদের মধ্যে সবাই গুলিবিদ্ধ।

  • কমনওয়েলথ প্রতিনিধি দলের সঙ্গে ইসি সচিবের বৈঠক

    কমনওয়েলথ প্রতিনিধি দলের সঙ্গে ইসি সচিবের বৈঠক

    www.HelloBangla.News – জাতীয় – ১৯ নভেম্বর, ২০২৩: কমনওয়েলথের চার সদস্যের প্রতিনিধিদলের সঙ্গে আজ ইসি সচিব মো. জাহাংগীর আলমের বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে।

    বৈঠকে কমনওয়েলথ প্রতিনিধিদলটি দেশের ভোটের পদ্ধতি জেনে গেছে। পরিস্থিতি মূল্যায়নের পর পূর্ণাঙ্গ নির্বাচন পর্যবেক্ষক পাঠানোর সিদ্ধান্ত অবহিত করবে বলে জানিয়েছেন নির্বাচন কমিশন (ইসি) সচিব মো. জাহাংগীর আলম।

    আজ রবিবার (১৯ নভেম্বর) নির্বাচন ভবনে সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন।

    বৈঠকে সিইসিসহ নির্বাচন কমিশনাররা উপস্থিত ছিলেন। এছাড়া সভায় লন্ডনের কমনওয়েলথ সেক্রেটারিয়েটের হেড অব ইলেক্টরাল সাপোর্ট সেকশন লিনফোর্ড এন্ড্রো, পলিটিক্যাল অ্যাডভাইজার লিনডে মাললেকা, এক্সিকিউটিভ অফিসার জিপি ওজাগো ও অ্যাসিস্ট্যান্ট রিসার্চ অফিসার সার্থক রায় অংশ নেন।

    বৈঠক শেষে ইসি সচিব মো. জাহাংগীর আলম জানান, এটা একটা কমনওয়েলথের অগ্রবর্তী দল। (পরিস্থিতি জেনে) তারা কমনওয়েলথ সচিবালয়ে গিয়ে রিপোর্ট জমা দেবে। এরপর প্রতিবেদন পেয়ে কমনওয়েলথের পূর্ণাঙ্গ টিম নির্বাচন পর্যবেক্ষণে আসার বিষয়ে সম্মতি জানাবেন কি, জানাবেন না– পরে সিদ্ধান্ত নেবে।

    এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে কোনো আলোচনা হয়নি। শুধু নির্বাচন পদ্ধতি, নির্বাচনী কর্মপদ্ধতি ও নির্বাচনী আইন, বিধিবিধান, ভোট ব্যবস্থাপনা, প্রতিবন্ধী ভোটারদের জন্য কি ব্যবস্থা, নির্বাচনী কর্মকাণ্ডে সম্পৃক্ত ও প্রবাসীদের জন্য পোস্টাল ব্যালট এবং ভোটের দিন যানবাহন ব্যবস্থাপনা বিষয়ে অবহিত হতে চেয়েছেন। সিইসি ও নির্বাচন কমিশনাররা এ বিষয়ে বিস্তারিত তুলে ধরেছেন। এ নিয়ে সন্তোষ প্রকাশ করেছেন সফরকারী প্রতিনিধিদল।’

    মো. জাহাংগীর আলম বলেন, ‘এটা দ্বিপাক্ষিক আলোচনা। তারা কিছু জানতে চেয়েছেন, তুলে ধরেছি। তাদের কাজ হচ্ছে বাংলাদেশের নির্বাচন পদ্ধতির বিষয়ে জানা। অন্য কোনো প্রশ্ন তারা করেননি। দেশের নির্বাচন পদ্ধতিতে ভোটাররা কীভাবে ভোট দিতে যাবেন, ভোট নেওয়া হবে, ভোট স্বচ্ছ করতে গেলে ভোট পদ্ধতিসহ রিটার্নিং অফিসারসহ সবার কাজগুলো জেনেছেন।’

  • ইন্টারন্যাশনাল চ্যারিটি বাজারের উদ্বোধন করলেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী

    ইন্টারন্যাশনাল চ্যারিটি বাজারের উদ্বোধন করলেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী

    www.HelloBangla.News – জাতীয় – ১৭ নভেম্বর, ২০২৩:  আজ শুক্রবার (১৭ নভেম্বর) সকালে রাজধানীর বেইলি রোডের ফরেন সার্ভিস একাডেমিতে কল্যাণমূলক সংগঠন ফরেন অফিস স্পাউসেস অ্যাসোসিয়েশনের (ফোসা) উদ্যোগে দিনব্যাপী ইন্টারন্যাশনাল চ্যারিটি বাজারের উদ্বোধন করেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী এ কে আব্দুল মোমেন।এসময় তিনি সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন।

    জাতীয় সংসদ নির্বাচন নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের সাম্প্রতিক নানা বক্তব্য প্রসঙ্গে পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘প্রবাসী সাংবাদিক ও কয়েকজন বাঙালি নাগরিক ষড়যন্ত্রে নেমেছেন। তারাই জোর করে যুক্তরাষ্ট্রকে বাংলাদেশের নির্বাচন নিয়ে কথা বলতে বাধ্য করছেন। অন্য দেশের নির্বাচন নিয়ে তো তারা এতো কথা বলে না।’

    নির্বাচন নিয়ে তিনি বলেন, ‘আওয়ামী লীগ কখনো অবৈধভাবে ক্ষমতায় আসবে না। আমরা নির্বাচনের মধ্য দিয়েই যাব। আমরা জনগণকে সঙ্গে নিয়েই যাব। এর আগেও অনেক নির্বাচন হয়েছে এবং সেগুলো সুষ্ঠু ও সুন্দর হয়েছে। আর এ নির্বাচন সুষ্ঠু ও সুন্দর করতে কোনো বন্ধু দেশ যদি আমাদের সহযোগিতা করতে চায়, অবশ্যই তাদের স্বাগত জানাই।’

    পররাষ্ট্রমন্ত্রী আরও বলেন, ‘যুক্তরাষ্ট্র আমাদের বন্ধু দেশ। তারা আমাদের দেশে সবচেয়ে বেশি বিনিয়োগ করে। তারা আমাদের সঙ্গে এ সম্পর্ক আরও বাড়াতে চায়। তারা নানা সময় পরামর্শ দেয়। তাদের পরামর্শ বিবেচনা করে গ্রহণযোগ্য হলে আমরা নেব।’

    তিনে বিএনপিকে ঔপনিবেশিক আচরণ বাদ দিয়ে শান্তিপূর্ণভাবে নির্বাচনে আসার আহ্বান জানান।

    ফোসার উদ্যোগে আয়োজিত দিনব্যাপী চ্যারিটি বাজার সম্পর্কে পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, এ ধরনের মেলা থেকে যা আয় হয়, অসহায় হতদরিদ্রদের কল্যাণে আমরা ব্যয় করি। বেশ কয়েক বছর ধরে আমরা সাধারণ মানুষের পাশে থাকছি।

    ভারত, ইন্দোনেশিয়া, রাশিয়া, তুরস্ক, থাইল্যান্ড ও ভিয়েতনাম, চীন, শ্রীলঙ্কা দূতাবাসসহ ১৮টি বিদেশি মিশন ও ৩২ স্থানীয় সংস্থা চ্যারিটি বাজারে অংশ নিয়েছে।

    পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তা-কর্মচারীসহ সর্বসাধারণের জন্য উন্মুক্ত এ আয়োজনে বাংলাদেশের ঐতিহ্যবাহী খাদ্য, পোশাক, শাড়ি, বুটিক পণ্য, লেদার পণ্য, বই প্রদর্শন ও বিক্রয় করা হচ্ছে।

    বিদেশে বাংলাদেশ মিশনগুলোর মাধ্যমে সংগৃহীত অন্যান্য দেশের পণ্যসামগ্রীও চ্যারিটি বাজারে স্থান পেয়েছে।

    ফোসার সামাজিক ও কল্যাণমূলক উদ্যোগের অংশ হিসেবে এ মেলার আয়োজন করা হয়েছে। চ্যারিটি বাজার থেকে অর্জিত আয় আর্ত মানবতার সেবায় ব্যয় করা হবে।

  • রাজনৈতিক পরিস্থিতি তুলে ধরতে বিদেশি কূটনীতিকদের ব্রিফিং করবেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী

    রাজনৈতিক পরিস্থিতি তুলে ধরতে বিদেশি কূটনীতিকদের ব্রিফিং করবেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী

    www.HelloBangla.News – জাতীয় – ৩০ অক্টোবর, ২০২৩: দেশের চলমান রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে বিদেশিদের কাছে সরকারের অবস্থান তুলে ধরার লক্ষ্যে পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এ কে আব্দুল মোমেনের পক্ষ থেকে এক কূটনৈতিক ব্রিফিংয়ের আয়োজন করা হয়েছে।

    আজ সোমবার (৩০ অক্টোবর) বিকেল ৪টায় রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় কূটনৈতিক, মিশন প্রধান, জাতিসংঘের সংস্থা প্রধানদের সঙ্গে এ ব্রিফিং অনুষ্ঠিত হবে।

    এতে শনিবার (২৮ অক্টোবর) বিএনপির মহাসমাবেশ ঘিরে যেসব ঘটনা ঘটেছে তার সরকারি ভাষ্য আন্তজার্তিক সম্প্রদায়ের কাছে তুলে ধরা হবে বলে জানা গেছে।

    ব্রিফিংয়ে মোমেন ছাড়াও পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী, সচিব, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ছাড়াও থাকতে পারেন মন্ত্রিসভার সিনিয়র সদস্যরা। এতে প্রস্তুতি হিসেবে ২৮ অক্টোবরের সার্বিক ঘটনার অডিও ভিডিও রাখা হয়েছে।

    এদিকে আজ সোমবার (৩০ অক্টোবর) কূটনৈতিক মিশনগুলো এক যৌথ বিবৃতিতে বিএনপির সমাবেশ ঘিরে ২৮ অক্টোবরের সহিংসতার ঘটনায় বিদেশি মিশনগুলো উদ্বেগ প্রকাশ করেছে।

    ঢাকাস্থ অস্ট্রেলিয়ান হাইকমিশন তাদের ফেসবুকে এক পোস্টে যৌথ বিবৃতি প্রকাশ করেছে।

    কূটনৈতিক মিশনগুলোর যৌথ বিবৃতিতে বলা হয়, অস্ট্রেলিয়া, কানাডা, জাপান, দক্ষিণ কোরিয়া, নরওয়ে, যুক্তরাজ্য এবং মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ঢাকায় ২৮ অক্টোবর রাজনৈতিক সমাবেশকে কেন্দ্র করে যে সহিংসতা হয়েছে, সেজন্য গভীরভাবে উদ্বিগ্ন। সহিংসতাকে কেন্দ্র করে যারা প্রাণ হারিয়েছেন এবং আহত হয়েছেন তাদের প্রতি সমবেদনা জানাই।

    বিবৃতিতে অবাধ, সুষ্ঠু, অংশগ্রহণমূলক এবং শান্তিপূর্ণ নির্বাচন প্রসঙ্গ যুক্ত করে বলা হয়েছে, আমরা সব স্টেকহোল্ডারদের সংযম অনুশীলনের মাধ্যমে সহিংসতা পরিহার এবং একইসঙ্গে অবাধ, সুষ্ঠু, অংশগ্রহণমূলক এবং শান্তিপূর্ণ নির্বাচনের শর্ত মানতে একসঙ্গে কাজ করতে সবাইকে আহ্বান জানাই।

    বিবৃতিতে স্বাক্ষর করা মিশনগুলো হলো- অস্ট্রেলিয়া, কানাডা, জাপান, দক্ষিণ কোরিয়া, নরওয়ে, যুক্তরাজ্য এবং মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র।

    এর আগে শনিবার ঢাকায় রাজনৈতিক সহিংসতার ঘটনায় ওই দিনই প্রতিক্রিয়া জানায় মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র। ঢাকায় সংঘাত-সহিংসতার নিন্দা জানিয়ে দেশটির বাংলাদেশের জন্য দেওয়া ভিসা নিষেধাজ্ঞা আরোপে সহিংস ঘটনা পর্যালোচনার কথা স্মরণ করিয়ে দেয়।

  • ঘূর্ণিঝড় ‘ইদালিয়া’ ফ্লোরিডার দিকে ধেয়ে আসছে

    ঘূর্ণিঝড় ‘ইদালিয়া’ ফ্লোরিডার দিকে ধেয়ে আসছে

    www.HelloBangla.News – আন্তর্জাতিক – ২৮ আগস্ট, ২০২৩ : গ্রীস্মমন্ডলীয় ঝড় ইদালিয়ার প্রভাব দ্রুত ছড়িয়ে পড়ছে।ক্যারিবিয়ান অঞ্চলে সৃষ্টি হওয়া এই ঘূর্ণিঝড়টির প্রভাবে দক্ষিণ পূর্ব মেক্সিকোতে তীব্র বাতাস ও বৃষ্টি দেখা দিয়েছে।
    এদিকে আবহাওয়ার পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, সপ্তাহের শেষ দিকে ফ্লোরিডা পৌঁছানোর আগে এটি শক্তিশালী হারিকেনে রূপ নেবে।
    যুক্তরাষ্ট্রের ন্যাশনাল হারিকেন সেন্টার (এনএইচসি) বলেছে, ফ্লোরিডার উত্তর পশ্চিমে পৌঁছানোর আগে ঝড়টি মেক্সিকো উপসাগর দিয়ে বয়ে যাবে, কিন্তু মেক্সিকোতে আঘাত হানবে না।
    ন্যাশনাল হারিকেন সেন্টার জানিয়েছে, ফ্লোরিডার পশ্চিম উপকূল জুড়ে ইদালিয়া শক্তিশালী হারিকেনের মতো বয়ে যাবে। এর প্রভাবে প্রাণহানিরও আশংকা রয়েছে।
    ক্যারিবীয় অঞ্চলে ঘুরপাক খাওয়া ইদালিয়া গতকাল রবিবার ২১০০ জিমটিতে ৬৫ কিলোমিটার বেগে বয়ে যাচ্ছিল।
    ইদালিয়ার প্রভাবে মেক্সিকোর পূর্বাঞ্চলীয় ইউকাটানের কিছু অংশে এবং কিউবার পশ্চিমাঞ্চলে প্রবল বৃষ্টির আশংকা করা হচ্ছে।ইতিমধ্যে সহযোগিতা প্রদানের জন্য আহবান জানিয়েছেন অধিদপ্তরের মহাপরিচালক।
    সূত্র: বাসস

  • ওয়াগনার গ্রুপের বিদ্রোহ পুতিনের অবস্থানের জন্য একটি বড় আঘাত

    ওয়াগনার গ্রুপের বিদ্রোহ পুতিনের অবস্থানের জন্য একটি বড় আঘাত

    হ্যালো বাংলা ডেস্ক: ওয়াগনার গ্রুপের ভাড়াটে সৈন্যদের বিদ্রোহের পর রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের অবস্থান নড়বড়ে হয়ে পড়েছিল বলে মনে করেন অনেক বিশ্লেষক। যদিও দ্রুতই পরিস্থিতি সামাল দিতে চুক্তি করেছে ক্রেমলিন এবং ওয়াগনার বাহিনী। এর পরেও অনেক প্রশ্ন এখনও অমীমাংসিত রয়ে গেছে। কেননা মস্কোতে জারি করা জরুরী নিরাপত্তা ব্যবস্থা এখনও বহাল রয়েছে।

    ক্ষমতা গ্রহণের দুই দশকের মধ্যে কখনো এই ধরনের বিশাল চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হয়নি ভ্লাদিমির পুতিনকে।

    উত্তেজনা প্রশমন হলেও ঝুঁকি এখনো কিছু রয়েছে বলে মনে করেন অনেক বিশ্লেষক। রাশিয়ার বিশেষজ্ঞরা বলছেন যে, পুতিনকে খুব শক্তিশালী ভূমিকায় দেখা যাচ্ছে না। বরং তাকে বিধ্বস্ত মনে হচ্ছে।

    শনিবার সকালে রাশিয়ার রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে দেয়া ভাষণে মি. পুতিন যে বক্তব্য দিয়েছেন তাতে ওয়াগনারের বিরুদ্ধে তার ঘৃণা এবং বিশ্বাসঘাতকতার অভিযোগ প্রতিফলিত হয়েছে। ওই ভাষণে তিনি ওয়াগনার নেতা ইয়েভগেনি প্রিগোশিনের বিরুদ্ধে ‘পিছন থেকে ছুরি মারা’ এবং রাষ্ট্রদ্রোহিতার অভিযোগ আনেন।

    এরপর থেকে রাশিয়ার প্রেসিডেন্টকে জনসমক্ষে দেখা যায়নি এবং সামনে তিনি নতুন কোন ভাষণ দেবেন কিনা সেটাও পরিকল্পনা করা হয়নি।

    রবিবার রাষ্ট্রীয় টিভিতে আগে থেকে রেকর্ড করা সাক্ষাৎকারে-যা বিদ্রোহের আগে রেকর্ড করা হয়েছিল-সেখানে মি. পুতিন বলেছিলেন যে তিনি ইউক্রেন যুদ্ধের অগ্রগতির বিষয়ে আত্মবিশ্বাসী।

    মস্কোতে এখনও সন্ত্রাসবিরোধী নিরাপত্তা ব্যবস্থা বহাল রয়েছে। তবে প্রেসিডেন্ট পুতিন এই মুহূর্তে রাশিয়ার রাজধানীতে আছেন কিনা তা নিশ্চিত করে বলা যাচ্ছে না। কেউ কেউ ধারণা করছেন মি. পুতিন কোন না কোনভাবে আক্রমণ করবেন – ইউক্রেনে সেনা হামলা অথবা রাশিয়ার অভ্যন্তরে বিরোধীদের ওপরও হতে পারে সে হামলা।

    পোলিশ এমইপি রাদেক সিকোরস্কি মনে করেন, এই ঘটনার পর মি. পুতিনের শাসন ‘একই সাথে আরও কর্তৃত্ববাদী এবং আরও নৃশংস’ হয়ে উঠতে পারে।

    প্রিগোশিন কী বিদ্রোহের পেছনের ছিলেন?

    বিদ্রোহের পেছনের প্রধান ব্যক্তি, ইয়েভগেনি প্রিগোশিন, একজন স্বাধীন মানুষ। তিনি রাশিয়ার সামরিক নেতৃত্বকে উৎখাতের চেষ্টা করলেও তার বিরুদ্ধে সশস্ত্র বিদ্রোহের অভিযোগ তুলে নেয়া হয়েছে। তবে ক্রেমলিন এবং ওয়াগনারের মধ্যে যে চুক্তি হয়েছিল তার পুরো বিবরণ জানা যায়নি। প্রিগোশিন রাতের আধারে মিলিয়ে যাবেন, রুশ বিশ্লেষকরা তা আশা করেন না।

    এই ভাড়াটে গ্রুপের নেতা দীর্ঘদিন পর্দার আড়ালে কাজ করছেন। অথচ তিনি ইউক্রেনের হাজার হাজার যোদ্ধা জন্য এমনকি প্রেসিডেন্ট পুতিনের জন্য বেশ গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিত্ব। তিনি ক্রেমলিনের জন্য বছরের পর বছর বিতর্কিত কাজ করেছেন। বিশেষ করে সিরিয়ায় যুদ্ধ থেকে শুরু করে ২০১৪ সালে ইউক্রেন যুদ্ধ পর্যন্ত, যখন ক্রাইমিয়া রাশিয়ার সঙ্গে যুক্ত হয়। কিন্তু মি. পুতিনের কর্তৃত্বকে চ্যালেঞ্জ করার পরে – এবং কারো কারো মতে রুশ প্রেসিডেন্টকে অপমান করার পরে প্রশ্ন উঠেছে -প্রিগোশিনের নিরাপত্তার কী গ্যারান্টি দেওয়া হয়েছে? সামনে তার ভূমিকা কী হবে সেই উত্তর জানা এখনও বাকি রয়েছে।

    পর্যবেক্ষকরা প্রশ্ন করছেন যে, বেলারুশিয়ান নেতা আলেকজান্ডার লুকাশেঙ্কো প্রিগোশিনের উপর কতটা নিয়ন্ত্রণ করতে সক্ষম হবেন – যদি তিনি সত্যিই মিনস্কে যান? এবং, ওয়াগনার বাহিনী তাকে অনুসরণ করলে, তারা রাশিয়া, বেলারুশ এবং ইউক্রেনের জন্য কী হুমকি সৃষ্টি করবে?

    ওয়াগনার গ্রুপের এখন কী হবে?

    এই সশস্ত্র বিদ্রোহের আগে, ইউক্রেনের বিরুদ্ধে মি. পুতিনের যুদ্ধে কয়েক হাজার ওয়াগনার ভাড়াটে সৈন্য অংশ নিয়েছিল। কিন্তু স্বাধীন সেনাবাহিনী হিসেবে ওয়াগনারের দিন শেষ হয়ে আসছে। কিন্তু স্বল্পস্থায়ী বিদ্রোহ শেষ হওয়ার সাথে সাথে – এবং প্রিগোশিন এখন দৃশ্যত নির্বাসনে যাচ্ছেন – এই অবস্থায় অনেকেরই প্রশ্ন যে এখন তার যোদ্ধারা কী করবে।

    বিদ্রোহের সাথে জড়িতদের বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রত্যাহার করা হয়েছে বলে মনে হচ্ছে। সোশ্যাল মিডিয়ার ভিডিওতে দেখা গেছে ওয়াগনার সৈন্যরা রোস্তভ-অন-ডন শহর ছেড়ে চলে যাচ্ছেন, যেখানে তারা সামরিক ঘাঁটির নিয়ন্ত্রণ নিয়েছিল। রোস্তভ এবং মস্কোর মাঝামাঝি থাকা ভোরোনজের গভর্নর বলেছেন, ওয়াগনার বাহিনী তার অঞ্চলও ছেড়ে যাচ্ছে।

    এটা স্পষ্ট নয় যে, তারা এখন কেবল সহযোগিতা করবে নাকি রাশিয়ার নিয়মিত সামরিক বাহিনীতে একীভূত হবে – বা রাশিয়ার নিয়মিত সৈন্যরা এখন স্বেচ্ছায় তাদের সাথে কাজ করবে কিনা, তা পরিষ্কার নয়।

    তারা কি কেবল ইউক্রেনের বিদ্যমান বিরোধপূর্ণ অঞ্চলে যুদ্ধে করতে যাবে, যেমনটা রুশ রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম বলছে? কিছু বিশ্লেষক উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন যে, যোদ্ধারা প্রিগোশিনকে পশ্চিমে অনুসরণ করতে পারে যদি তিনি বেলারুশে যান ।

    এ বিদ্রোহ কিভাবে ইউক্রেনে যুদ্ধ প্রভাবিত করবে?

    ওয়াগনার গ্রুপ ইউক্রেনের যুদ্ধে সবচেয়ে সফল সৈন্য দল পাঠিয়েছে, যদিও এর অনেক যোদ্ধাকে কারাগার থেকে আনা হয়েছে, স্বাধীনতার প্রতিশ্রুতি দিয়ে ফ্রন্টলাইন সার্ভিসের হয়ে লড়াই করতে প্রলুব্ধ করা হয়েছে। উদাহরণস্বরূপ, বাখমুত শহর রাশিয়ার দখলে আনতে এই ওয়াগনার সৈন্যদের ব্যাপক সম্পৃক্ততা ছিল।

    রাশিয়া দাবি করেছে যে, ওয়াগনার বাহিনীর বিদ্রোহ এখন পর্যন্ত ইউক্রেন অভিযানে কোন প্রভাব ফেলেনি। তবে, যা ঘটছে রুশ বাহিনী নিঃসন্দেহে সে ব্যাপারে জানতে পেরেছে এবং এ খবরে তারা হতাশ হতে পারে।

    শনিবারের ঘটনার পর আগামী দিনগুলোয় কী ধরণের প্রতিক্রিয়া হতে পারে, সেটি ব্যাখ্যা করতে গিয়ে কেউ কেউ বলছেন যে, রাশিয়ায় সামনের দিনগুলোয় প্রতিদ্বন্দ্বী ইউনিটগুলির মধ্যে লড়াই শুরু হতে পারে।

    ইউক্রেনে, রাশিয়া তার সম্পৃক্ততা বাড়াতে পারে এমন উদ্বেগের মধ্যে সামরিক নেতারা সীমান্তের অস্থিতিশীলতার সুযোগ নিতে পারে। কিয়েভের বাহিনী দখলদারদের দখলকৃত এলাকা পুনরুদ্ধার করতে পাল্টা আক্রমণ শুরু করেছে এবং তাদের বিশ্বাস যে রাশিয়ার এই অস্থিরতা তাদের জন্য ‘বড় সুযোগ’ তৈরি করবে।

    ইউক্রেনে নিযুক্ত সাবেক মার্কিন রাষ্ট্রদূত বিল টেলর বিবিসিকে বলেছেন, ওয়াগনার যোদ্ধাদের আকস্মিক বিদ্রোহের ফলে রাশিয়ার যে কৌশলগত দুর্বলতা সামনে এসেছে তা কাজে লাগাতে ইউক্রেনীয় বাহিনী ‘ভাল অবস্থানে’ রয়েছে।

    যুক্তরাষ্ট্র এবং অন্যরা কি আগে থেকে জানত?

    প্রিগোশিনের বিদ্রোহের বিষয়ে মার্কিন গুপ্তচর সংস্থাগুলো আগে থেকেই ইঙ্গিত পেয়েছিল। এই সপ্তাহের শুরুতে কংগ্রেসের প্রধান নেতাদের পাশাপাশি প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনকে বিষয়টি জানানো হয়, মার্কিন মিডিয়ার প্রতিবেদন তাই বলছে। সিএনএন জানিয়েছে, মার্কিন গোয়েন্দারা দেখেছে যে, ভাড়াটে গোষ্ঠীর নেতা রাশিয়ার সীমান্তের কাছে অস্ত্র, গোলাবারুদ এবং অন্যান্য সরঞ্জাম সংগ্রহ করছেন।

    নিউইয়র্ক টাইমস বলছে, মার্কিন গোয়েন্দা প্রধানরা কয়েক মাস ধরে প্রিগোশিন এবং রাশিয়ান প্রতিরক্ষা কর্মকর্তাদের মধ্যে বিরূপ সম্পর্কের উপর নজর রাখছিলেন এবং গোয়েন্দারা মনে করেন যে ইউক্রেনের যুদ্ধ ওয়াগনার এবং রুশ সামরিক বাহিনী উভয়ের জন্যই খারাপ হয়েছে।

    এদিকে, ওয়াশিংটন পোস্ট বলেছে যে যুক্তরাষ্ট্র হয়তো জেনেছে যে প্রিগোশিন জুনের মাঝামাঝি থেকে কিছু পরিকল্পনা করছেন।

    এর মূল লক্ষ্য ছিল ১০ই জুন রাশিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের একটি ডিক্রি। যেখানে মন্ত্রণালয় ওয়াগনার গ্রুপের মতো সমস্ত বিদ্রোহী দলগুলোকে নির্দেশ দিয়েছিল – সরকারের সাথে চুক্তি স্বাক্ষর করতে, যা কার্যকরভাবে প্রিগোশিনের ভাড়াটে সৈন্যদের দখলে নেওয়া হবে। প্রেসিডেন্ট পুতিনকেও তার নিজস্ব গোয়েন্দারা বলেছিল যে প্রিগোশিন কিছু একটা ষড়যন্ত্র করছে।

    ঠিক কখন মি. পুতিনকে বলা হয়েছিল তা স্পষ্ট নয়, তবে সেটি ‘অবশ্যই ২৪ ঘণ্টারও বেশি সময় আগে’ ছিল, শনিবার এক মার্কিন কর্মকর্তার বরাত দিয়ে পত্রিকাটি বলেছে।

    সঙ্কট ঘনীভূত হওয়ার সাথে সাথে মি. পুতিন জাতির উদ্দেশ্যে যে ভাষণ দিয়েছেন সেখানে দেখা যায় যে তিনি এই হুমকিকে কতটা গুরুত্বের সাথে দেখছেন। তাই প্রশ্ন দেখা দিয়েছে রাশিয়ার জনগণ এখন  কি মনে করেন?

    টেলিগ্রামে একজন শীর্ষস্থানীয় রাশিয়া বিশ্লেষক তাতিয়ানা স্ট্যানোভায়া লিখেছেন, “এলিট বাহিনীর মধ্যে অনেকেই ব্যক্তিগতভাবে পুতিনকে দোষারোপ করবে যে সবকিছু এতদূর গড়াল অথচ প্রেসিডেন্টের কাছ থেকে যথাযথ প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। কিন্তু এই পুরো ঘটনাটি পুতিনের অবস্থানের জন্যও একটি আঘাত।”

    যদিও সামগ্রিক রুশ জনমত সম্পর্কে এক কথায় কিছু বলা কঠিন।

    সূত্র : বিবিসি বাংলা

  • প্রযুক্তির বহুল ব্যবহারে হতে পারে এক ভয়াবহ অসুখ – ফোমো

    প্রযুক্তির বহুল ব্যবহারে হতে পারে এক ভয়াবহ অসুখ – ফোমো

    প্রযুক্তির অতি ব্যবহারের কারনে এক ধরনের জটিল মানসিক ভীতি, উদ্বিগ্নতা এবং উত্তেজনাপূর্ণ এক অনুভূতির প্রবনতা কাজ করে বেশিরভাগ মানুষের মাঝে যার নাম ফিয়ার অব মিসিং আউট (ফোমো)। এটি এমন একটি বিষয়, যা আপনার মধ্যে একধরনের অনিশ্চয়তা বা হারানোর অনুভূতির জন্ম দেয় । এসব বেশিরভাগই সোশ্যাল মিডিয়া কেন্দ্র করে সৃষ্টি হয়, যেমন আপনি ভাবছেন অন্যরা হয়তো আপনার অনুপস্থিতিতে অনেক মজা করছেন বা বন্ধুরা কে কি করছেন? অথবা, অন্যদের দেখে মনে হওয়া যে তারা আমার থেকে অনেক ভালো জীবনযাপন করছেন, অথচ আপনি তাদের মতো সুখী হতে পারছেন না ইত্যাদি।

    মোটকথা, এটি আপনার মধ্যে এমন একটি অনুভূতির সৃষ্টি করে যে আপনি গুরুত্বপূর্ণ কিছু মিস করছেন। কিন্তু বাস্তবতা বেশির ভাগ ক্ষেত্রেই ভিন্ন। ফোমোর ফলে ব্যক্তির মধ্যে সামাজিক অস্বস্তি, অসন্তোষ, বিষণ্নতা, চাপের অনুভূতি, হীনম্মন্যতা, হিংসা, একাকিত্ব এবং তীব্র ক্রোধের মতো গভীর অনুভূতির সৃষ্টি হতে পারে। এমনকি এটি আপনার আত্মসম্মানকেও প্রভাবিত করতে পারে। ফোমো একটি অপেক্ষাকৃত নতুন ধরনের মনস্তাত্ত্বিক ঘটনা। বিপণন কৌশলবিদ ড্যান হারম্যান ১৯৯৬ সালে একটি গবেষণাপত্রে শব্দটি প্রথম ব্যবহার করেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমগুলোয় পর্যবেক্ষণ করা একটি ঘটনা বর্ণনা করার জন্য ‘ফোমো’ শব্দটি ব্যবহার করা হয়। ফোমোর অনুভূতি প্রায়ই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেয়া পোস্টগুলো থেকে অনুপ্রাণিত হয়। উদ্বেগটি আপনাকে বোঝায় যে একটি উত্তেজনাপূর্ণ বা আকর্ষণীয় ঘটনা বর্তমানে অন্য কোথাও ঘটছে, যেটি সম্পর্কে আপনি অনবরত খোঁজ না রাখলে পিছিয়ে পড়বেন।

    মানুষ তাদের বাছাই করা সেরা ছবি দিয়ে অভিজ্ঞতা বর্ণনা করেন, যা অন্যদের উদ্বেগ আরও বাড়িয়ে দেয়। নিজের মধ্যে কী কী অভাব রয়েছে, সে বিষয়ে সচেতনতা বাড়িয়ে তোলে।

    দ্য ওয়ার্ল্ড জার্নাল অফ ক্লিনিক্যাল কেস দ্বারা প্রকাশিত একটি ২০২১ সালের গবেষণায়, লেখক মায়াঙ্ক গুপ্তা এবং আদিত্য শর্মা লিখেছেন যে, যেকোনো ব্যক্তির জীবনযাপন ফোমোর কারনে বিভিন্ন ধরনের নেতিবাচক ভূমিকায় পরিণত হতে পারে, যার মধ্যে রয়েছে:

    ঘুমের অভাব, ব্যর্থ হতাশ জীবন, মানসিক উত্তেজনা, শারীরিক সুস্থতার উপর নেতিবাচক প্রভাব, উদ্বেগ, মানসিক নিয়ন্ত্রণের অভাব।

    ফোমোর মতো প্রযুক্তিনির্ভর ভয়াবহ মানসিক ক্রাইসিস অল্প অল্প করে আমাদের জীবনকে নষ্ট করে তুলছে। এর থেকে রক্ষা পেতে আমরা প্রযুক্তিকে অস্বীকার করতে পারবো না আবার প্রযুক্তিকে পৃথিবীর থেকে উধাও করেও দিতে পারবো না। সুতরাং আমাদের সতর্ক হতে হবে যেন এমন ক্রাইসিসে আমাদের না পড়তে হয়। সেজন্য প্রথমেই দরকার –

    দৃষ্টিভঙ্গির পরিবর্তনঃ

    আপনার কিসের অভাব রয়েছে, তার ওপর মনোযোগ দেয়ার পরিবর্তে আপনার কী আছে, সেদিকে মনোযোগ দেয়ার চেষ্টা করুন। আপনার কী নেই, সেই তালিকা যদি বেশি লম্বা করে ফেলেন, তাহলে নিজেকে অসুখী মনে হবে। তাই নিজের যা আছে, সেটার মধ্যে সুখ খোঁজার চেষ্টা করুন।

    ডিজিটাল ডিটক্স করার চেষ্টা করুন

    ডিজিটাল ডিটক্স মানে হচ্ছে- সব ডিজিটাল ডিভাইস থেকে নির্দিষ্ট সময়ের জন্য বিরতি নেয়ার প্রক্রিয়া। ফোমো থেকে দূরে থাকতে এবং আপনার বাস্তব জীবনের দিকে আগ্রহী হতে ডিজিটাল ডিভাইসের ব্যবহার কমাতে হবে। এতে আপনার মধ্যে ফোমোর প্রবণতা কমে আসবে।

    বাস্তব সম্পর্ক স্থাপন

    বিভিন্ন সোশ্যাল মিডিয়ায় যেরকমভাবে একজন ব্যবহারকারী নিজেকে উপস্থাপন করে তার সাথে বাস্তব জীবনের সাথে অনেক সময়ই মিল থাকে না। আর আমরা প্রতিটি মানুষ বাস্তব দুনিয়ায় বাস করি এটা ভুলে যাওয়া যাবেনা। সব সময় যোগাযোগ ধরে রাখতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের দ্বারস্থ হওয়া স্বাভাবিক মনে হলেও শুধু ভার্চুয়াল জগতের ওপর নির্ভরশীল না থেকে, বাস্তবে সংযোগ স্থাপনের চেষ্টা করতে পারেন।

    তথ্যসূত্রঃ ইউএসএটুডে

  • বিফ স্টেইক

    বিফ স্টেইক

    উপকরণ: গরুর চোষের মাংস-২ স্লাইস, রসুন-৩/৪ কোঁয়া, গোল মরিচের গুঁড়ো-১ চা চামচ, মাখন-২ টেবিল চামচ, লবন পরিমান মত, অলিভ অয়েল-২ টেবিল চামচ

    স্পেশাল সস তৈরীর জন্য: টমেটো সস, বারবিকিউ সস, সয়া সস, লেবুর রস

    বিফ স্টেইক

    প্রণালি: প্রথমে চোষের মাংস একটু ভারী করে শ্লাইস করে কেটে নিতে হবে। এতে রসুনের কোঁয়া থেঁতো করে, গোল মরিচের গুঁড়ো, অলিভ অয়েল, লবন মেখে দুই থেকে তিন ঘন্টা মেরিনেট করে রাখতে হবে। তারপর একটি নন্ স্টিক ফ্রাইং প্যানে অলিভ অয়েল দিয়ে তাতে মেরিনেট করা মাংসের স্লাইস গুলো দিতে হবে। কিছুক্ষন পর পর একটি চিমটার সাহায্যে উল্টিয়ে দিতে হবে । স্টেইক একেক জন একেক রকম খেতে পছন্দ করেন। কেউ হাফ ডান, কেউ মিডিয়াম কুক, কেউ আবার ফুল ডান। পছন্দ অনুযায়ী নামিয়ে নিতে হবে । নামানোর আগে অল্প বাটার দিয়ে নিলে খেতে বেশ সুস্বাদু হবে ।

    সস: উপরে লিখা সব সস মিলিয়ে তাতে অল্প পরিমান লেবুর রস মিশিয়ে স্টেইকের সাথে পরিবেশন করা যেতে পারে । আলু সিদ্ধ করে একটু বাটার দিয়ে মাখিয়ে ম্যাশ পটেটো  আর পছন্দ অনুযায়ী সটেড্ সব্জী স্টেইকের সাথে খেতে খুবই মজাদার একটি পরিবেশনা ।

    রেসিপি দিয়েছেন: নভেরা সারোয়ার জয়া

  • কচু দিয়ে নারকেলি চিংড়ি

    কচু দিয়ে নারকেলি চিংড়ি

    উপকরণঃ

    কচুর মূল ২৫০ গ্রাম, চিংড়ি মাছ ৩০০ গ্রাম, নারকেল এর দুধ দেড় কাপ, মিহি নারকেল বাটা ১ কাপ, আদা বাটা হাফ চা চামচ, রসুন বাটা ১ চা চামচ, হলুদ গুড়া দেড় চা চামচ, মরিচ গুড়া ২ চা চামচ, ধনিয়া গুড়া হাফ চা চামচ, জিরা গুড়া হাফ চা চামচ, লবন স্বাদ মতো, কাচা মরিচ ফালি ৪/৫ টা, পেয়াজ কুচি ৩ টেবিল চামচ, রসুন কুচি ২ টেবিল চামচ, সয়াবিন তেল ৪ টেবিল চামচ, সরিষা তেল ২ টেবিল চামচ, ধনে পাতা সামান্য।

    কচু দিয়ে নারকেলি চিংড়িপ্রনালি:

    প্রথমে কচু পাতলা করে কেটে ধুয়ে, ফুটন্ত গরম পানিতে সিদ্ধ করে নিতে হবে। সিন্ধ কচু ঠান্ডা পানি দিয়ে ধুয়ে নিতে হবে। তার পর ১ টেবিল চামচ তেল গরম করে তাতে রসুন কুচি, হাফ চামচ হলুদ, লবন ও ধনিয়া দিয়ে কচু গুলি ভাজতে হবে।

    একটা হাড়িতে ৩ টেবিল চামচ তেল গরম করে পেয়াজ কুচি দিয়ে তাতে হাফ চা চামচ আদা বাটা, ১ চা চামচ রসুন বাটা, দিয়ে কসাতে হবে। এর পর একে একে সব গুড়া মসলা এবং নারকেল বাটা দিয়ে ভালো করে কসিয়ে নিতে হবে, তেল উপরে উঠলে, চিংড়ি মাছ দিয়ে কসাতে হবে হাল্কা আচে  ভালো করে। এর পরে হাফ কাপ নারকেল এর দুধ দিয়ে অল্প গরম তাপে রাখতে হবে।  এর পর ভেজে রাখা কচুর টুকরো গুলি দিয়ে ভালো ভাবে কসিয়ে নিতে হবে তেল উপরে উঠে আসা পযন্ত। ১ কাপ ফুটন্ত গরম পানি দিয়ে কিছুক্ষন রান্না করতে হবে। বাকি  ১ কাপ নারকেল এর দুধ দিয়ে রান্না করতে হবে আরো ১৫ মিনিট মৃদু আঁচে, ঝোল ঘনো হয়ে তেল উপরে উঠে আসলে সব শেষে  কাচা মরিচ ফালি ও ধনে পাতা দিতে হবে,  লবন চেক করে নামিয়ে রাখুন। একটা কড়াইতে ১ টেবিল চামচ সরিষা তেল দিয়ে তাতে রসুন ও শুকনো মরিচ পোড়ন দিয়ে বাগাড় দিন। অল্প আচে রান্না করুন আরো ৫ মিনিট। সব শেষ উপরে এক টেবিল চামচ সরিষার তেল ছিটিয়ে দিন।  হয়ে গেলো দারুন স্বাদের কচু দিয়ে নারকেলি চিংড়ি।

    রেসিপি দিয়েছেন :জাহানারা আকতার নীলা (নাজু)

  • বিশ্বজুড়ে বাস্তুচ্যুত মানুষের সংখ্যা প্রায় ৭১ মিলিয়ন

    বিশ্বজুড়ে বাস্তুচ্যুত মানুষের সংখ্যা প্রায় ৭১ মিলিয়ন

    সংঘাত এবং প্রাকৃতিক দুর্যোগে বিশ্বে ক্রমশ বেড়ে চলেছে বাস্তচ্যুত মানুষের সংখ্যা। যুদ্ধ বিগ্রহ, প্রাকৃতিক দুর্যোগ ও জলবায়ু পরিবর্তনগত কারণে গত এক বছরেই কয়েক মিলিয়ন মানুষ তাদের নিজ দেশেই বাস্তচ্যুত হয়েছেন। নিরাপত্তা ও আশ্রয়ের সন্ধানে বিপুল মানুষ পালিয়ে যাওয়ার যাচ্ছে দেশের অভ্যন্তরে।

    বৃহষ্পতিবার নরওয়ে রিফিউজি কাউন্সিল (এনআরসি) ও ইন্টারনাল ডিসপ্লেসড পিপলস (আইডিপি) এক যৌথ প্রতিবেদনে প্রকাশ করেছে। এনআরসি, আইডিপি

    প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এটি এরইমধ্যে সর্চ্চ রেকর্ড হিসেবে দেখা হচ্ছে বলে ২০২১ সালের তুলনায় ২০২২ সালে নতুন বাস্তুচ্যুত বেড়েছে ৬০ শতাংশ। এর আগে ২০২১ সালে সংখ্যাটি ছিল ৩ কোটি ৮০ লাখ।

    আইডিএম প্রধান আলেকজেন্ডার বিলাক বলেছেন, বিশ্বে ২০২২ সালে এ পর্যন্ত ৭১ দশমিক ১ মিলিয়ন মানুষ বাস্তচ্যুত হয়েছে। এই সংখ্যার মধ্যে ২০ শতাংশ রয়েছে রাশিয়া ইউক্রেন যুদ্ধের কারণে। একইসঙ্গে জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে পাকিস্তানের বন্যার কারণও রয়েছে। ২০২১ সাল থেকে অভ্যন্তরীণভাবে বাস্তুচ্যুত মানুষের সংখ্যা ২০ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে।

    ২০২২ সালে নতুন এই বাস্তচ্যুতের সংখ্যা ৬০ দশমিক ৯ মিলিয়ন। আর যা সকল রেকর্ডকে পেছনে ফেলে দিয়েছে বলেও প্রতিবেদনে প্রকাশ। বিলাক বলেন, এ সংখ্যাটি  যুক্তরাষ্ট্র ও প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলের চেয়ে অবশ্য বেশি।

    এদিকে গত বছর নানা সংঘাতের ফলে নতুন করে এটি বেড়েছে ২৮ দশমিক ৩ মিলিয়ন। যা গত বছরেরে তুলনায় প্রায় দ্বিগুণ ও গত এক দশকের বার্ষিক গড় থেকে তিনগুণ বেশি।

    গত বছর ইউক্রেনে যুদ্ধের কারণে ১ কোটি ৭০ লাখ ও পাকিস্তানে ভয়াবহ বন্যার কারণে ৮০ লাখ মানুষ তাদের বাড়িঘর ছাড়তে বাধ্য হয়েছিল।

    এছাড়া যুদ্ধ ও সংঘাতের কারণে সিরিয়া, আফ্রিকাসহ বিশ্বের বেশ কয়েকটি দেশের ১৬ দশমিক ৫ ইলিয়ন মানুষ বাস্তচ্যুতির কবলে পড়েছে। এদের মধ্যে অর্ধেকই রয়েছেন কঙ্গো ও ইথিওপিয়ার মানুষ।

    জাতিসংঘের বরাত দিয়ে সংস্থাটি জানিয়েছে, এর আগে চলতি বছরের ১৫ এপ্রিল ৭ লাখেরও বেশি মানুষ তাদের ঘর ছেড়ে যায় জাতিগত নানা সংঘাতের ফলে। অন্যদিকে ১ লাখ ৫০ হাজার মানুষ এরইমধ্যে বাস্তচ্যুত হয়েছে।

    বিলাক বলেন, স্পষ্টতই এটি একটি অস্থিতিশীল পরিস্থিতি। নতুন করে সুদানে আরো ৩ লাখেরও বেশি মানুষ এ পরিস্থিতির শিকার।

    প্রতিবেদনে দেখা যায়, গত তিন কোয়ার্টের মধ্যে শুধু খাদ্য সংকটের কারণেই সিরিয়া, আফগানিস্তান, কঙ্গো, কলোম্বিয়া, ইথিওপিয়া, ইয়েমেন, নাইজেরিয়া, সোমালিয়া ও সুদানের মানুষেরা ঘরছাড়া হয়েছে।

    এনআরসি প্রধান জেন ইগল্যান্ড বলেন, এটি একটি প্রবল ঝড়ে রুপ নিচ্ছে। পরিস্থিতি প্রকট আকার ধারণ করায় সামাজিক বৈষম্য আরো ঘনীভূত হয়েছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।