Category: ভ্রমণ

  • রংপুরের বিখ্যাত হাড়িভাঙ্গা আমের বাগান

    রংপুরের বিখ্যাত হাড়িভাঙ্গা আমের বাগান

    হঠাত এই গরমে আম বাগানে উপস্থিত থেকে আম খেতে কেমন লাগবে ভেবে দেখুন তো! হাড়িভাঙ্গা আম গাছের উচ্চতা বেশি হয় না বরং অল্প উচ্চতায় চারিদিকে শাখা-প্রশাখা ছড়িয়ে পড়ে। মৌসুমে গাছের ঝুলন্ত পাকা আম থোকায় থোকায় ধরে থাকে, গাছতলাতেও আম পড়ে থাকতে দেখা যায়। এভাবে বিস্তীর্ণ ফলজ বাগান এতো কাছ থেকে দেখার অন্যরকম এক আনন্দানুভূতি রয়েছে।

    স্বাদে-গন্ধে জনপ্রিয় আঁশবিহীন আম হিসেবে রংপুর জেলার হাড়িভাঙ্গা আম (Haribhanga Mango) বাংলাদেশে চেনেনা এরকম মানুষ খুঁজে পাওয়া কঠিন। আকর্ষণীয় এই আমের উৎস রংপুরের মিঠাপুকুর উপজেলার খোড়াগাছের তেকানি গ্রামে। হাড়িভাঙ্গা আমের নামকরণ নিয়ে বেশ প্রচলিত এক জনশ্রুতি রয়েছে। তেকানি ও তার আশেপাশের এলাকা বরেন্দ্রপ্রবণ অঞ্চল হবার কারণে চারা গাছে পানি দেওয়ার জন্য আলাদা ব্যবস্থা করতে হতো।

    আমটির ‘ইতিহাসের’ গোড়াপত্তন করেছিলেন নফল উদ্দিন পাইকার নামের এক বৃক্ষবিলাসী মানুষ। শুরুতে এর নাম ছিল মালদিয়া। আমগাছটির নিচে তিনি মাটির হাঁড়ি দিয়ে ফিল্টার বানিয়ে পানি দিতেন। একদিন রাতে কে বা কারা ওই মাটির হাঁড়িটি ভেঙে ফেলে। ওই গাছে বিপুল পরিমাণ আম ধরে। সেগুলো ছিল খুবই সুস্বাদু। সেগুলো বিক্রির জন্য বাজারে নিয়ে গেলে লোকজন ওই আম সম্পর্কে জানতে চায়। তখন চাষি নফল উদ্দিন মানুষকে বলেন, ‘যে গাছের নিচের হাড়িটা মানুষ ভাঙছিল সেই গাছেরই আম এগুলা।’ তখন থেকেই ওই গাছটির আম ‘হাড়িভাঙ্গা আম’ নামে পরিচিতি পায়। বর্তমানে রংপুরের হাঁড়িভাঙা আমের সেই মাতৃ গাছটির বয়স প্রায় ৬৭ বছর। সেই মাতৃগাছটি আজো রংপুরের মিঠাপুকুরের খোড়াগাছের তেকানি গ্রামে মাথা উঁচু করে দাড়িয়ে আছে। প্রাচীন সেই গাছটির থেকেই হাজার হাজার কলম তৈরি করে হাড়িভাঙ্গার চারা গাছ ছড়িয়ে দেওয়া হয়েছে।

    হাড়িভাঙ্গা আমের স্বাদ ও গন্ধ অন্যান্য আমের তুলনায় ভিন্ন। আঁশহীন এই আমের উপরের অংশ বেশ মোটা ও চওড়া এবং নিচের অংশ চিকন। সাধারণত অন্যান্য আমের তুলনায় এই আম কিছুদিন পর পাকে। হাড়িভাঙ্গা পাকলেও কিছুটা সবুজ থাকে এবং হালকা হলুদাভাব বর্ণ ধারণ করে। এক একটি আমের ওজন ৪০০-৭০০ গ্রাম পর্যন্ত হয়ে থাকে। হাঁড়িভাঙা আমের একটি বিশেষ বৈশিষ্ট্য হল চামড়া কুচকে গেলেও আম সহজে পচে না। হাড়িভাঙ্গা আম খেতে হলে মৌসুমের মাঝামাঝি জুন মাস পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হয়।

    কিভাবে যাবেন

    ঢাকা থেকে বাস ও ট্রেনে রংপুর (Rangpur) জেলায় যাওয়া যায়। ঢাকা থেকে হানিফ, গ্রীন লাইন, এস আর, আগমনী, শ্যামলী, নাবিল বা টি আর পরিবহণের বাসে রংপুরে যেতে পারবেন। আবার ঢাকার কমলাপুর রেলওয়ে ষ্টেশন থেকে রংপুর এক্সপ্রেস ট্রেনে চড়েও রংপুর যাওয়া যায়। রংপুর থেকে স্থানীয় পরিবহণে মিঠাপুকুরে অবস্থিত হাড়িভাঙ্গা আমের বাগানে যেতে পারবেন।

    কোথায় থাকবেন

    রংপুর জেলায় হোটেল প্রভৃতি আবাসিক হোটেল রয়েছে।

    কোথায় খাবেন

    মিঠাপুকুরে মধ্যম মানের কিছু রেস্তোরাঁ রয়েছে। আর রংপুর জেলায় উন্নতমানের বাঙ্গালী, চাইনিজ ও ফাস্ট ফুড খাবারের রেস্তোরাঁ পাবেন। খেতে পারবেন রংপুরের শীল বিলাতি আলুর উল্লেখযোগ্য খাবার।

    তথ্যসূত্রঃ ভ্রমন ব্লগ ও উইকিওয়ান্ড

  • বেড়িয়ে আসুন ঐতিহাসিক হারানো নগরী- পানাম নগর

    বেড়িয়ে আসুন ঐতিহাসিক হারানো নগরী- পানাম নগর

    প্রাচীন প্রাচীরের ইট এবং কালো পাথরের উপর পোড়ামাটির কারুকার্যে এখনও রাজত্বের নিদর্শন রয়েছে! এক সময়ের ব্যস্ত শহর এখন ইতিহাসের অংশ মাত্র। ভিড় নেই, কোলাহল নেই। শত বছর ধরে হারিয়ে যাওয়া শহরের মতো। এটি পানাম নগর যা ‘হারানো নগরী’ নামেও পরিচিত। এটি এখনও সোনারগাঁওয়ের গৌরবময় ইতিহাসের সাক্ষ্য বহন করে, যা বাংলার রাজধানী হিসাবে পরিচিত ছিল। শহরটি প্রায় ধ্বংসের মুখে। ২০০৬ সালে, ওয়ার্ল্ড মনুমেন্ট ফান্ড পানাম নগরকে ১০০টি ধ্বংসাত্মক ঐতিহাসিক স্থাপনার একটি হিসাবে ঘোষণা করে।

    প্রায় ৪৫০ বছর আগে, ১৫ শতকে ঈশা খাঁ সোনারগাঁয়ে বাংলার প্রথম রাজধানী স্থাপন করেন। সোনারগাঁয়ের প্রায় ২০ বর্গকিলোমিটার এলাকাজুড়ে গড়ে উঠে এই নগরী। পানাম নগরী চতুর্দিক থেকে পঙ্খীরাজ খাল দিয়ে ঘেরা। পঙ্খীরাজ খাল মেনিখালী নদ নামে মেঘনা নদীতে গিয়ে মিশেছে। পানাম নগরীর পূর্ব দিকে রয়েছে মেঘনা নদী আর পশ্চিম দিকে শীতলক্ষ্যা। এই নদী পথেই বাংলার ঐতিহ্যবাহী মসলিন রপ্তানি হত। পানাম নগরীর প্রবেশ পথে আছে বিশাল গেট, সূর্যাস্থের সাথে সাথে এই গেট বন্ধ করা হত। বর্তমানেও কোন দর্শনার্থী সন্ধ্যার পর পানাম নগরীতে অবস্থান করতে পারেনা।

    পানাম নগরীর বিভিন্ন স্থাপনার নির্মাণশৈলীতে রয়েছে ভিন্নতার ছাপ। তৎকালীন ধনী শ্রেনীর এই নগরীর প্রতিটি দালানে রয়েছে অপূর্ব কারুকার্য ও আভিজাত্য ছোঁয়া। নগরীর বুক চিরে চলে যাওয়া রাস্তার দুই পাশে রয়েছে প্রায় ৫২ টি ভবন। মূল রাস্তার উত্তর দিকে ৩১ টি এবং দক্ষিণ দিকে ২১ টি ভবন আছে। এই ভবন গুলো কোনটি এক তলা, কোনটি আবার দুই বা তিন তলা বিশিষ্ট।

    নগরীর অভ্যন্তরে আবাসিক ভবন ছাড়াও মসজিদ, গির্জা, মন্দির, মঠ, নাচঘর, চিত্রশালা, পান্থশালা, খাজাঞ্চিখানা (কোষাগার), দরবার কক্ষ, পুরনো জাদুঘর, গোসলখানা ও গুপ্ত পথ রয়েছে। এছাড়া ৪০০ বছরের পুরনো টাকশাল বাড়ি ও ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির তৈরি নীলকুঠি এখানে দেখতে পাওয়া যায়।

    পানাম নগরে আর যা দেখবেন    

    লোক ও কারুশিল্প জাদুঘর: পানাম নগরী থেকে মাত্র এক কিলোমিটার দুরত্বে রয়েছে লোক ও কারুশিল্প জাদুঘর। লোক ও কারুশিল্প জাদুঘরের প্রবেশ পথে শিল্পাচার্য জয়নুল আবেদিনের একটি ভাস্কর্য রয়েছে। জাদুঘরে মোট ১১ টি গ্যালারিতে দুর্লভ ঐতিহ্যের নিদর্শন সংরক্ষিত রয়েছে। গ্যালারিগুলোতে নিপুণ কাঠ খোদাই করা জিনিস, মুখোশ, নৌকার মডেল, লোকজ বাদ্যযন্ত্র ও পোড়া মাটির নিদর্শন, জামদানি ও নকশিকাঁথা ইত্যাদি স্থান পেয়েছে।

    গোয়ালদি মসজিদ: লোক ও কারুশিল্প জাদুঘর থেকে কাছেই রিকশা ভাড়া করে গোয়ালদি মসজিদ থেকে ঘুরে আসতে পারেন। ১৫১৯ সালে সুলতান আলাউদ্দিন হোসেন শাহর রাজত্বকালে মোল্লা হিজাবর আকবর খান কতৃক নির্মিত গোয়ালদি মসজিদটি পর্যটকদের কাছে আকর্ষণীয় স্থান।

    বেড়িয়ে আসুন ঐতিহাসিক হারানো নগরী- পানাম নগরপানাম নগর কিভাবে যাবেন

    ঢাকার গুলিস্তান থেকে দোয়েল, স্বদেশ কিংবা বোরাকের এসি বাসে করে মোগড়াপাড়া চৌরাস্তা নামতে হবে। মোগড়াপাড়া চৌরাস্তা থেকে ব্যাটারী চালিত অটোতে কিংবা রিকশায় ভাড়া করে পানাম নগরীতে যেতে পারবেন।

    প্রবেশ ফি : পানাম সিটিতে প্রবেশ করতে ১৫ টাকার টিকেট কাটতে হয়। জাদুঘরে প্রবেশ করতে জনপ্রতি ৩০ টাকায় টিকিট কাটতে হয়।

    সময়সূচী : প্রতি বুধ ও বৃহস্পতিবার জাদুঘর বন্ধ থাকে।

    সতর্কতা : ভবনগুলো অনেক বছরের পুরনো হওয়া সেগুলি এখন বেশ ঝুঁকিপূর্ণ তাই নির্দেশনা অমান্য করে কোন ভবনের উপরে উঠবেন না।

    তথ্যসূত্রঃ উইকিওয়ান্ড ও ভ্রমণ ব্লগ

  • ৮১ বছরের দুই বান্ধবী প্রমাণ করলেন, ভ্রমণের কোনো বয়স নেই

    ৮১ বছরের দুই বান্ধবী প্রমাণ করলেন, ভ্রমণের কোনো বয়স নেই

    তাদের একজন হলেন এলি হামবি। যিনি একজন তথ্যচিত্র পরিচালক। আরেকজন হলেন স্যান্ডি হ্যাজেলিপ। তিনি পেশায় একজন চিকিৎসক। যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসের দুই বান্ধবী প্রমাণ করছেন রোমাঞ্চকর ভ্রমণের কোনো বয়স সীমা নেই। এমনকি আপনার বয়স যখন ৮১, তখনও সেটি সম্ভব। তারা ইন্দোনেশিয়ার বালির সমুদ্র সৈকত থেকে মিশরের মরুভূমি পর্যন্ত দুঃসাহসিক কাজ করে ৮০ দিনে বিশ্ব ভ্রমণ করেছেন।

    ৮১ বছর বয়সী দাদিরা গত ১১ জানুয়ারি তাদের উচ্চাভিলাষী দুঃসাহসিক ভ্রমণ শুরু করেছিলেন। দুই বান্ধবীর ব্যবহারকারী ব্লগ থেকে এসব তথ্য পাওয়া যায়।

    তাদের অভিযানের প্রথম স্টপেজ ছিল অ্যান্টার্টিকার এমন একটি স্থান, যে স্থানটি অনেক পাকা ভ্রমণকারীরাও এড়িয়ে যায়। এটি ছিল অনেক দুর্গম।

    সবচেয়ে দক্ষিণের এ মহাদেশে যেতে হলে ড্রেক প্যাসেজ পার হতে হয়। দক্ষিণ আমেরিকার সবচেয়ে দক্ষিণাঞ্চল ও অ্যান্টার্টিকার সাউথ শেটল্যান্ড আইল্যান্ডসের মধ্যে তীব্র খরস্রোতা এ করিডরের অবস্থান।৮১ বছরের দুই বান্ধবী প্রমাণ করলেন, ভ্রমণের কোনো বয়স নেই

    হামবি বলেন, বিরূপ অবস্থার মধ্যে খরস্রোতা করিডর পার হতে আমাদের দুই দিন লেগেছিল। অবস্থা এমন ছিল যে মনে হচ্ছিল, জীবনকে হাতে নিয়ে আমার পার হয়েছি। অতিক্রান্ত পথ ছিল অনেক ঝুঁকিপূর্ণ।

    তিনি আরও বলেন, যখন আমরা অ্যান্টার্টিকার মাটিতে পা রেখেছিলাম, তখন সব কষ্ট ভুলে গেলাম। তখন শুধু অ্যান্টার্টিকার অসাধারণ সৌন্দর্য পেঙ্গুইন, হিমশৈল, হিমবাহ সবকিছু মিলিয়ে অন্য রকম অনভূতির কথা স্মরণ হচ্ছিল।

    সেই ঝুঁকিপূর্ণ ভ্রমণের যাত্রা থেকে শুরু করে দুই বান্ধবী সাতটি মহাদেশের ১৮টি দেশ ঘুরেছেন। দুই বান্ধবী একই রকম টি–শার্ট পরতেন। টিকটক, ইনস্টাগ্রাম, ফেসবুকে বিভিন্ন ছবি পোস্ট করে অনুসারীদের সীমাহীন ভালোবাসা পেয়েছেন তারা।

    স্যান্ডি বলেন, ১৯৯৯ সালে তার স্বামী মারা যাওয়ার পর হামবির সঙ্গে আমার দেখা হয়েছিল। সেটি দক্ষিণ আফ্রিকায় আমার স্বামীর পরিচালিত জাম্বিয়া মেডিকেল মিশনে। মৃত্যুর আগে আমার স্বামী গ্রীষ্মে নাতিদের ভ্রমণে নিয়ে যাওয়ার বিষয়ে

     

    উৎসাহিত করতেন।

    এ মিশনই হামবি ও স্যান্ডির গভীর বন্ধুত্ব গড়ে দেয়। তারা পরস্পরের সঙ্গে নিজেদের ভ্রমণের আগ্রহের কথা বলতেন। ২০০৫ সালে হামবির স্বামীর মৃত্যুর পর দুজনের বন্ধুত্ব গাঢ় হয়।

    স্যান্ডি বলেন, আমাদের ভ্রমণের ধারণাটি উভয়ের ৮০ বছর পূর্ণ হওয়ার কয়েক বছর আগে থেকে শুরু হয়েছিল।

    হামবি বলেন, আরও আগেই আমাদের বিশ্বভ্রমণে বের হওয়ার পরিকল্পনা ছিল। কিন্তু করোনার কারণে তা সম্ভব হয়নি। কোভিডের দাপট কমতেই আমরা ব্যাগ গুছিয়ে বেরিয়ে পড়ি।

    লন্ডন, জাঞ্জিবার, জাম্বিয়া, মিশর, নেপাল, বালি এবং ভারত ঘুরে ৮০ দিনের বিশ্বভ্রমণ শেষে সম্প্রতি টেক্সাস ফিরে গেছেন হামবি ও স্যান্ডি।

    সূত্র: সিএনএন

  • ঘরে বসেই ভার্চুয়াল ট্যুর দিয়ে দেখুন মদীনার মসজিদে নববী

    ঘরে বসেই ভার্চুয়াল ট্যুর দিয়ে দেখুন মদীনার মসজিদে নববী

    সৌদি আরব একটি ভার্চুয়াল 3D প্ল্যাটফর্ম তৈরি করেছে যা বিশ্বব্যাপী মুসলমানদের মদীনার মসজিদে নববী,

    বিশ্বের দ্বিতীয় পবিত্রতম মসজিদ পরিদর্শন করতে দেয়।

    পোর্টালটি ব্যবহারকারীদের একটি নিমগ্ন অভিজ্ঞতা লাভ করতে দেয়। কারণ ঘরে বসে থেকে পবিত্র মসজিদের বিভিন্ন অংশের মধ্য দিয়ে সে ঘুরে দেখতে পারবে।

    নবীর মসজিদ হিসাবে পরিচিত, মসজিদে নববী মদিনার কেন্দ্রস্থলে অবস্থিত। এটি মুসলমানদের জন্য একটি প্রধান ইসলামী তীর্থস্থান।

    ভার্চুয়াল ট্যুরটি ৪টি ভাষায় পাওয়া যায় – আরবি, ইংরেজি, ফরাসি এবং স্প্যানিশ।

    দর্শনার্থীরা পবিত্র মসজিদে-নববী অন্বেষণ করতে vr.qurancomplex.gov.sa/msq/ ওয়েবসাইটে লগ ইন করতে পারেন । তাছাড়া, ভার্চুয়াল ট্যুরটি অফলাইনেও দেখার জন্য ডাউনলোড করা যাবে।

  • ঢাকার কাছেই ঘুরে আসুন ইদ্রাকপুর দূর্গ

    ঢাকার কাছেই ঘুরে আসুন ইদ্রাকপুর দূর্গ

    ঢাকার যান্ত্রিক জীবনের ব্যস্ততায় মন চায় ঘুরাঘুরি করতে। সময় স্বল্পতায় খুব দূরে কোথাও যাওয়ার কথা ভাবা যায়না। সেজন্য কোথায় গেলে ভালো লাগতে পারে এবং দিনে গিয়ে দিনে ফিরে আসা যায় এমন জায়গার সন্ধান থাকে সবসময়। তেমনি একটি ঐতিহাসিক জায়গা ও মোঘল স্থাপত্য আছে এমন স্থান- মুন্সিগঞ্জের ইদ্রাকপুর দূর্গ।

    ইদ্রাকপুর দূর্গ মুন্সিগঞ্জ সদরে অবস্থিত। শহরের মধ্য দিয়ে প্রবাহিত খালের পশ্চিমপাড়ে এবং দেওভোগ গ্রামের পূর্বপ্রান্তে দুর্গটির অবস্থান। এই জল-দুর্গটি একসময় ইছামতী ও মেঘনা নদীর সংগমস্থলে সামরিক গুরুত্বপূর্ণ স্থানে নির্মিত হয়েছিল। তখন দুর্গের নির্মাণস্থলের নাম ছিল ইদ্রাকপুর। এ এলাকায় পরবর্তী সময়ে যে শহরটি গড়ে উঠে একসময় তার নামকরণ হয় মুন্সিগঞ্জ। শহরের উপকণ্ঠে এখনো ইদ্রাকপুর নামে একটি গ্রাম রয়েছে। তবে দুর্গটির চারপাশ এখন মাটিতে ভরাট হয়ে গেছে এবং কিছু জায়গা দূর্গর শীর্ষে উঠে গেছে।

    ইদ্রাকপুর দূর্গটি মোঘল স্থাপত্য। বাংলার সুবাদার ও সেনাপতি মীর জুমলা ১৬৬০ খ্রিষ্টাব্দে বর্তমানে মুন্সীগঞ্জ জেলা সদরে তদানীন্তন ইচ্ছামতি নদী পশ্চিম তীরে ইদ্রাকপুর নামক স্থানে এই দুর্গটি নির্মাণ করেন। ৮২ মি.×৭২ মি. আয়তাকার নির্মিত ইটের তৈরি এই দুর্গটি তৎকালীন মগ জলদস্যু ও পর্তুগিজ আক্রমণের হাত থেকে ঢাকা ও নারায়ণগঞ্জসহ সমগ্র এলাকাকে রক্ষা করার জন্য নির্মিত হয়।

    কিভাবে যাবেন

    মুন্সীগঞ্জ জেলা সদরের পুরাতন কোর্ট অফিসের কাছে ইদ্রাকপুর দূর্গ অবস্থান। রাজধানী ঢাকার গুলিস্তান থেকে দিঘীরপাড় এবং ঢাকা ট্রান্সপোর্ট বাসে করে মুক্তারপুর এসে জনপ্রতি ১০ টাকা অটোরিক্সা ভাড়া এবং ২০-২৫ টাকা রিক্সা ভাড়ায় ইদ্রাকপুর দূর্গয় আসা যায়।

    কোথায় থাকবেন

    সাধারণত ঢাকা থেকে দিনে মুন্সিগঞ্জ গিয়ে দিনেই ঢাকায় ফেরা যায়। তবুও প্রয়োজনে রাত্রি যাপনের জন্য মুন্সিগঞ্জে মধ্যম মানের আবাসিক হোটেল ব্যবস্থা আছে।

  • চলুন ঘুরে আসি

    চলুন ঘুরে আসি

    ঘুরতে ভালো লাগে না এমন মানুষ খুঁজে পাওয়া খুব কঠিন। একঘেয়েমি জীবন থেকে স্বস্তির নিশ্বাস ফেলতে ভ্রমণ অনেক বড় ভূমিকা পালন করে। দেশ থেকে বিদেশে ঘুরে বেড়ানো, পৃথিবীর নিখুঁত বৈচিত্র্যময় সৌন্দর্য অবলোকন করতে সবাই চায়। তবে ভ্রমণে যাওয়ার আগে সবচেয়ে বেশি যেটা জরুরি সেটা হলো প্রস্তুতি। ভ্রমণ তখনই আনন্দের হবে, যখন আপনার প্রস্তুতি থাকবে সুন্দর ও গোছানো। প্রতিটি কাজের পেছনেই সঠিক পরিকল্পনা থাকা উচিত। ভ্রমণের ক্ষেত্রেও ঠিক তাই। ভ্রমণের উদ্দেশ্যে বের হওয়ার কমপক্ষে দুদিন আগে প্রস্তুতি নিয়ে নিবেন। দূরে কোথাও ভ্রমণের ক্ষেত্রে এক সপ্তাহ আগে প্রস্তুতি নিতে পারেন। শারীরিক ও মানসিক প্রস্তুতি ভ্রমণের জন্য জরুরি। ঘুরতে যাওয়ার আগে যেসব প্রস্তুতি নিতে হবে সেসব তুলে ধরা হলো।

    আসুব ব্যাগটা গুছাই

    কোথায় যাচ্ছেন এবং কতদিন থাকবেন তার ওপর নির্ভর করে আপনার ব্যাগে কী কী নেবেন। তবে ব্যাগের ওজন সমসময় চেষ্টা করবেন হালকা রাখার। একটা ভারী ব্যাগ আপনার ভ্রমণ আনন্দ মাটি করে দিতে পারে। ভ্রমণের আগে ব্যাগ গোছানোর সময় মন দিয়ে দেখুন কী কী জিনিসপত্র আপনার লাগবে। মনে রাখবেন ছোট ছোট অনেকগুলো ব্যাগ না নিয়ে চেষ্টা করবেন একটি ব্যাগেই সব নিতে। এতে আপনার গুরুত্বপূর্ণ জিনিসপত্রগুলো হারানোর ঝুঁকি অনেক কম থাকে।

    কি কি পোশাক নিবো

    আপনার ভ্রমণের লোকেশন কোথায় সেটার ওপর নির্ভর করবে আপনার পোশাক বাছাই করা। কারণ যে স্থানে ভ্রমণ করার জন্য যাবেন সেখানকার আবহাওয়া কেমন সেটাও জানতে হবে। আবহাওয়া অনুযায়ী সঠিক পোশাক নির্বাচন করা খুব জরুরি। এতে আপনার ভ্রমণ হবে আরামদায়ক। শীতের সময় ভ্রমণের ক্ষেত্রে তাপনিরোধক কাপড়ের তৈরি জামা পরিধান করতে হবে। ভ্রমণে জামার রং একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। উজ্জ্বল রঙের পোশাকে ছবি সুন্দর হয়। উজ্জ্বল রঙে মনও ফুরফুরে থাকে। এ ছাড়াও রাতে ঘুমানোর পোশাক, মোজা, মাফলার ইত্যাদি লাগেজের একপাশে রাখবেন। রাতের জন্য হালকা ও আরামদায়ক পোশাক নেওয়ার চেষ্টা করবেন। বিশেষ করে যেখানে যাচ্ছেন সেখানকার আবহাওয়া অনুযায়ী হলে বেশ ভালো। মোজা, মাফলার ইত্যাদি যে কদিন থাকবেন সেই হিসাবে নেবেন।

    যেসব জিনিস নিতে ভোলা যাবেনা

    ব্রাশ, পেস্ট, শ্যাম্পু, চিরুনি, ক্রিম/লোশন, লিপজেল, সানগ্লাস, ছোট আয়না, স্কার্ফ, চিরুনি, লাইট, ক্যাপ/হ্যাট, রুমাল, ওয়েট টিস্যু ইত্যাদি জিনিস একটা আলাদা ছোট ব্যাগে নিয়ে নিন। পুরুষরা যারা নিয়মিত সেভ করেন তারা রেজর-ফোম, এসব নিতে ভুলবেন না। নারীরা মেকআপ কিট বা অন্যান্য প্রয়োজনীয় জিনিস এ ব্যাগেই নিতে পারেন। আপনার স্যান্ডেল-জুতাও পলিথিন বা কাগজে মুড়িয়ে লাগেজের একপাশে রাখতে পারেন। আপনার ভ্রমণ যদি দেশের ভেতর হয় তাহলে অবশ্যই ব্যাগে একটা ছাতা রাখবেন। তাই ব্যাগে ছাতা রাখাটা হবে বুদ্ধিমানের কাজ।
    বেড়াতে গিয়ে স্মৃতি ধরে রাখতে কে না চায়? তাই ক্যামেরা সঙ্গে রাখতে পারেন। তা ছাড়া মোবাইলেও আজকাল ভালো ছবি ওঠে। তাই মোবাইলের স্পেস খালি রাখবেন ভ্রমণে যাওয়ার আগে। সে ক্ষেত্রে চার্জার, মেমোরি কার্ড, ব্যাটারি ব্যাগে ঢুকাতে ভুলবেন না। আর মোবাইল চার্জারের পাশাপাশি একটি পাওয়ার ব্যাংকও সঙ্গে রাখুন। ল্যাপটপ নিলে অবশ্যই মনে করে তার চার্জারটি ব্যাগে রাখতে ভুল করবেন না। সবচেয়ে ভালো হয়, সব চার্জার এবং গ্যাজেট একটা ব্যাগে রাখলে। তাহলে প্রয়োজনের সময় সহজে খুঁজে পাবেন। বেশ কয়েকজন মিলে বন্ধুরা যখন ভ্রমণে যাই দেশে হোক আর বিদেশেই হোক সবাই মিলে মোবাইল, ক্যামেরা চার্জ দিতে গেলে বিপাকে পড়তে হয়। যথেষ্ট সংখ্যক চার্জিং পয়েন্ট না থাকায় এ সমস্যায় অনেকেই পড়েন। এজন্য একটা ছোট মাল্টিপ্লাগ সঙ্গে থ্রি-পিন থেকে টু-পিন কনভার্টার ব্যাগে রাখা ভালো। সেইসঙ্গে হালকা শুকনো খাবার, পানি ও আপনার প্রয়োজনীয় ওষুধ রাখা অত্যন্ত জরুরি। এ ছাড়াও যে কোনো ধরনের ঘটনা কিংবা বিব্রতকর পরিস্থিতি এড়িয়ে যেতে অবশ্যই নিজের সঙ্গে জাতীয় পরিচয়পত্র, পাসপোর্ট কিংবা আপনার প্রতিষ্ঠানের আইডি কার্ড রাখুন।

    একটু হিসাব-নিকাশ করি

    টাকা-পয়সা ছাড়া তো ভ্রমণের কথা চিন্তাই করা যায় না। ভ্রমণে যাওয়ার আগে ভ্রমণের হিসাব-নিকাশ করে ফেলা ভালো। কত টাকা খরচ করবেন সে অনুযায়ী বাজেট পরিকল্পনা করতে হবে। যে দেশ বা স্থানে যাবেন সে অনুযায়ী কিছু পরিমাণ নগদ টাকা অবশ্যই সঙ্গে রাখবেন। সেখানে এটিএম কার্ডের ব্যবহার আছে কিনা কিংবা বুথ পাওয়া যাবে কিনা সে ব্যাপারে আগেই জেনে নিন। এ ছাড়া বিকাশ কিংবা মোবাইলে লেনদেন করা যায় এমন কোনো অ্যাকাউন্ট থাকলে ভ্রমণে কাজে আসবে। অবশ্যই মোবাইলে পর্যাপ্ত পরিমাণ ব্যালান্স রাখবেন।

    ভ্রমণসঙ্গী যদি শিশু হয়

    আপনার ভ্রমণসঙ্গী হিসাবে আপনার শিশুড়-সন্তান থাকতেই পারে। সে ক্ষেত্রে অবশ্যই তার বিশেষ খেয়াল রাখতে হবে। তার খাবার থেকে শুরু করে প্রয়োজনীয় সব ভ্রমণ অনুষঙ্গ গুছিয়ে নিতে হবে সবার আগে। কারণ বেড়াতে গিয়ে শিশুর যদি কোনো সমস্যা হয়, তাহলে বেড়াতে যাওয়াটাও তখন নিরানন্দের হয়ে যায়। তাই আপনার ছোট্ট ভ্রমণসঙ্গীর জন্য চাই বাড়তি সতর্কতা।

    ক্লান্তি দূর করতে কি করবো

    ভ্রমণে যাওয়ার আগে অনেক সময় বাস-ট্রেন কিংবা প্লেনের জার্নি বোরিং লাগে। অনেকেই এ সময়টুকু উপভোগ করতে পারেন না। এ সময়টুকু উপভোগ করতে আপনি সঙ্গে দু-একটা বই নিন। অবশ্যই সেটা আপনার প্রিয় লেখক এবং পছন্দের বই হলে ভালো হয়। প্লেন, বাস বা ট্রেনে বসে পড়তে পারবেন। এ ছাড়া আপনি যদি লিখতে ভালোবাসেন তাহলে খাতা-কলম নিতে পারেন সঙ্গে। হঠাৎ কোনো জরুরি তথ্য পেলে নোট করা যাবে তাতে। তা ছাড়া বলা তো যায় না, কোনো সুন্দর স্থান দেখে আপনার ভেতর কবিতাও চলে আসতে পারে। ভ্রমণে যাবার আগে অবশ্যই আপনার পছন্দসই গান নিয়ে নেবেন। গানে গানে পথ চললে ভ্রমণ আরও উপভোগ্য হবে।

    যেসব বিষয়ে সতর্ক থাকতে হবে

    যানবাহন থেকে নামার সময় কোনো মালপত্র ফেলে গেলেন কি না সেদিকে খেয়াল রাখবেন। নামার সময় তাড়াহুড়া করা যাবে না। মানি ব্যাগ, ক্রেডিট কার্ড সাবধানে রাখবেন। সব টাকা মানিব্যাগে না রেখে কিছু টাকা অন্য কোনো জায়গা কিংবা আপনার ভ্রমণসঙ্গীর কাছে রাখবেন। একটি কার্ডে আপনার ঠিকানা লিখে রাখবেন। ব্যাগ হারিয়ে গেলে কেউ পেয়ে থাকলে ফেরত পাওয়ার সম্ভাবনা থাকবে। খোলামেলা অ-স্বাস্থ্যকর পরিবেশে খাবার খাওয়া যাবে না। পরিমিত খাবার এবং পর্যাপ্ত পানি পান করুন। সন্ধ্যার পর অথবা বেশি রাত পর্যন্ত হোটেলের বাইরে অবস্থান করবেন না। বিশেষ করে পরিবার নিয়ে ভ্রমণ করতে গেলে। অবশ্যই শিশুদের দিকে লক্ষ্য রাখুন। ভ্রমণের সময় অপরিচিত লোকদের ব্যাপারে সর্বোচ্চ সতর্ক থাকুন।