একজন আমেরিকান অভিনেত্রী, চলচ্চিত্র নির্মাতা ও মানবতাবাদী নারী- অ্যাঞ্জেলিনা জোলি

একজন আমেরিকান অভিনেত্রী, চলচ্চিত্র নির্মাতা ও মানবতাবাদী নারী- অ্যাঞ্জেলিনা জোলি
একজন আমেরিকান অভিনেত্রী, চলচ্চিত্র নির্মাতা ও মানবতাবাদী নারী- অ্যাঞ্জেলিনা জোলি

 

অ্যাঞ্জেলিনা জোলি একজন আমেরিকান অভিনেত্রী, চলচ্চিত্র নির্মাতা এবং মানবতাবাদী। তিনি লস অ্যাঞ্জেলেস ক্যালিফোর্নিয়ায় ৪ জুন, ১৯৭৫-এ অভিনেতা জন ভয়েট এবং প্রাক্তন মডেল ও অভিনেত্রী মার্চেলিন বার্ট্রান্ডের ঘরে জন্মগ্রহণ করেন। তিনি লারা ক্রফ্ট চলচ্চিত্রে অভিনয়ের মাধ্যমে সারাবিশ্বে খ্যাতি অর্জন করেন। এছাড়াও তিনি অসংখ্য চলচ্চিত্রে অভিনয় করেছেন এবং ২০০০ সালে শ্রেষ্ঠ পার্শ্ব অভিনেত্রীর জন্য একাডেমি পুরস্কার সহ অনেক পুরস্কার পেয়েছেন।

চলচ্চিত্র জগতের বাইরে ২০০১ সালে তিনি জাতিসংঘের শরণার্থী সংস্থার শুভেচ্ছাদূত মনোনীত হয়েছেন। বাংলাদেশে রোহিঙ্গা সমস্যায় উদারতা দেখানোর পাশাপাশি নেতৃত্ব দেওয়ায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ভুয়সী প্রশংসা করেছিলেন জাতিসংঘের শরনার্থীবিষয়ক হাইকমিশনারের বিশেষ দূত অ্যাঞ্জেলিনা জোলি। বিশ্বব্যাপী মানবতার প্রচার, এবং বিশেষ করে শরণার্থীদের নিয়ে কাজ করার জন্য অ্যাঞ্জেলিনা জোলি বিশেষভাবে সমাদৃত। মানবিক কাজের পাশাপাশি তিনি প্রিভেনটিং সেক্সুয়াল ভায়োলেন্স ইনিশিয়েটিভের প্রতিষ্ঠাতা এবং শিশুদের জন্য শিক্ষা অংশীদারিত্বের সহ-প্রতিষ্ঠাতা।

অ্যাঞ্জেলিনা জোলি  নিউইয়র্কের শৈশবের বেশিরভাগ সময় কাটিয়েছিলেন। তিনি লি স্ট্রেসবার্গ থিয়েটার এবং ফিল্ম ইনস্টিটিউটে দুই বছর অংশ নিয়েছিলেন এবং তারপরে বেভারলি হিলস উচ্চ বিদ্যালয়ে ভর্তি হন। পরে তিনি নিউ ইয়র্ক বিশ্ববিদ্যালয়ে নাটক অধ্যয়ন করেছিলেন। থিয়েটার প্রযোজনায় অভিনয় করার পাশাপাশি তিনি মডেল করেছেন এবং মিউজিক ভিডিওগুলিতে হাজির হন।

অ্যাঞ্জেলিনা জোলির প্রথম চলচ্চিত্রে উপস্থিতি দেখা যায় শিশু শিল্পী হিসেবে ‘লুকিং ত গেট আউট’ (১৯৮২) চলচ্চিত্রে। এরপর চলচ্চিত্র ‘হ্যাকার’(১৯৯৫) সালে প্রকাশ পায়। কিন্তু চলচ্চিত্রটি দর্শক আকর্ষণ করতে ব্যর্থ হয়। অ্যাঞ্জেলিনা জোলি প্রধানত সুপারস্টার হয়ে উঠে ‘জিয়া’(১৯৯৮) একটি টেলি চলচ্চিত্রের মাধ্যমে। এই চলচ্চিত্রে তিনি গোল্ডেন গ্লোব এওয়ার্ড লাভ করেন। তাঁর অভিনীত অনেক চলচ্চিত্রই ব্যবসা সফল হয়েছে এবং তাকেও এনে দিয়েছে বড় মাপের খ্যাতি। তাঁর ঝুলিতে আছে ‘গার্ল ইন্টারাপ্টেড (১৯৯৯)’ চলচ্চিত্রের জন্য গোল্ডেন গ্লোব এওয়ার্ড এবং অস্কার বিজয়ী একাডেমি এওয়ার্ড লাভ করেছেন সেরা সহকারি অভিনেত্রী হিসেবে। বিশ্বব্যাপী তাঁর পরিচিতি তৈরি হয়েছিলো ‘টম্ব রাইডার (২০০১)’ চলচ্চিত্রের মাধ্যমে। এই একশন মুভি এতোটাই জনপ্রিয় হয়েছিলো যে এই চরিত্রের উপর ভিডিও গেইম নির্মান করা হয়েছিলো। এছাড়াও তাঁর বেশ কিছু বৈচিত্রময় চরিত্রে চলচ্চিত্রগুলোও তাঁকে চিনিয়েছে বিশেষভাবে। রোম্যান্টিক, একশন, কমেডি সকল ধরনের অভিনয়েই তিনি বেশ পারদর্শী। যেমন – ‘অরিজিনাল সিন (২০০১)’, লাইফ অর সামথিং লাইক ইট (২০০২), সিকিউয়েল ‘লারা ক্রফটঃ টম্ব রাইডার- দ্য ক্রাডেল অফ লাইফ (২০০৩), মিঃ অ্যান্ড মিসেস স্মিথ (২০০৫)।

তিনি চলচ্চিত্র নির্মাতা এবং প্রযোজক হিসেবেও পরিচিত। উল্ল্যেখযোগ্য চলচ্চিত্রগুলো হচ্ছে- আনব্রোকেন(২০১৪), ফার্স্ট দে কিলড মাই ফাদার (২০১৭), বাই দ্যা সী (২০১৫), ইন দ্যা ল্যান্ড অফ ব্লাড অ্যান্ড হানি (২০১১)। তাঁর সবচেয়ে ব্যবসা সফল চলচ্চিত্র হচ্ছে মেইলফিসেন্ট(২০১৪), মেইলফিসেন্টঃ মিস্ট্রেস অফ এভিল(২০১৯)।

অ্যাঞ্জেলিনা জোলির সর্বশেষ মুক্তি প্রাপ্ত চলচ্চিত্র হচ্ছে ‘দোউজ হু উইশ মি ডেড (২০১৯)

পার্সোনাল লাইফঃ

তাঁর অভিনীত প্রথম চলচ্চিত্রের কো-স্টার জনি লি মিলারকে ভালবেসে ১৯৯৬ সালে বিয়ে করেন অ্যাঞ্জেলিনা জলি। কিন্তু তাদের মধ্যে একসময় সম্পর্কের দূরত্ব বাড়তে থাকে। অতঃপর ১৯৯৯ সালে তাদের ডিভোর্স হয়।

বিলি বব থরটন ছিলেন অ্যাঞ্জেলিনা জোলির কো-স্টার এবং ২০ বছরের বড়। এর সাথে বিয়ে হয় ২০০০ সালে এবং ডিভোর্স হয় ২০০৩ সালে

মিঃ অ্যান্ড মিসেস স্মিথে জুটি বাঁধাকালে পরষ্পরকে ভালোবেসে ফেললেও তাঁরা বিয়ে থেকে তখন বিরত থাকে। অতঃপর ব্রাড পিট তাঁর স্ত্রীকে ২০০৫ সালে ডিভোর্স দিলে ২০০৬ সালে অ্যাঞ্জেলিনা জোলি ও ব্রাড পিট বিয়ে করে। অ্যাঞ্জেলিনা জোলি ও ব্রাড পিটের সন্তান আছে ৩ জন এবং পালক সন্তান আছে আরো ৩ জন।

বিশ্বের সবচেয়ে আকর্ষণীয় মহিলার একজন, অ্যাঞ্জেলিনা জোলি, ব্যাপকভাবে বিবেচিত। তার বৈশিষ্ট্যগুলি, কাঠ বাদামী চোখ, কালো চুল, পুরু চোয়াল, আকর্ষনীয় ঠোঁট, উজ্জ্বল ত্বক, চমতকার মেকাপ এবং আকর্ষনীয় দৈহিক গড়নের জন্য খুবই আলোচিত এবং হার্ট থ্রব পুরুষদের কাছে। বিশ্বের শ্রেষ্ঠ সুন্দরীদের মধ্যে ২০ বছর ধরে এফ এইচ এম ম্যাগাযিনে তিনি অন্যতম। এমনকি ২০০৫ থেকে ২০০৮ পর্যন্ত সেরা দশের তালিকায় তাঁর নাম দেখা যায়।

অ্যাঞ্জেলিনা জোলি বিশ্বের সবচেয়ে ধনী অভিনেত্রীদের তালিকায় র‍্যাঙ্কিং ১৩ তে আছে এই বছর। তাঁর নেট সম্পত্তির মূল্য ১৬০ মিলিয়ন ডলার। এছাড়াও বিশ্বের সর্বোচ্চ পারিশ্রমিক নেয়া অভিনেত্রীর মধ্যেও তিনি অন্যতম।

অ্যাঞ্জেলিনা জোলির জীবনে অনেক প্রাপ্তি থাকলেও, চলেছে অনেক ভাঙা গড়ার খেলা। ক্যান্সার আক্রান্ত হয়েও তিনি তাঁর অসুস্থতা লুকায়নি। সে চেয়েছিলো তাঁকে দেখে যেন অনেক ক্যান্সার আক্রান্ত মহিলা যেন সাহসী এবং আত্মবিশ্বাসী হয় সামনের দিকে এগিয়ে যাবার।

পূর্ববর্তী বিশ্বের সবচেয়ে বেশি পারিশ্রমিক নেয়া সুপারস্টার – টম ক্রুজ
পরবর্তী চিকিৎসকের ব্যবস্থাপত্র ছাড়া এন্টিবায়োটিক বিক্রি বন্ধ করতে হবে: প্রধানমন্ত্রী