
www.HelloBangla.News – খেলাধুলা – ২৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৫: টি-টোয়েন্টি এশিয়া কাপে আগামীকাল বুধবার ভারতের বিপক্ষে মাঠে নামবে বাংলাদেশ। সুপার ফোরের প্রথম খেলায় বাংলাদেশ হারায় শ্রীলঙ্কাকে। অপর দিকে ভারত হারায় পাকিস্তানকে। টুর্নামেন্টে এখন পর্যন্ত একমাত্র অপরাজিত দল ভারত। যোগ্যতা ও অভিজ্ঞতায় ভারত অবশ্যই বাংলাদেশের চেয়ে অনেক শক্তিশালী দল।
বাংলাদেশ দলের কোচ ফিল সিমন্স অবশ্য সেভাবে ভাবছেন না। তার মতে, ভারতকে যেকোনো দলেরই হারানোর সামর্থ্য রয়েছে। শুধু নিজেদের সেরা খেলাটাই খেলতে হবে। আজ মঙ্গলবার (২৩ সেপ্টেম্বর) ম্যাচপূর্ব সংবাদ সম্মেলনে সিমন্স বলেন, “প্রত্যেক দলেরই ভারতকে হারানোর সামর্থ্য আছে। খেলা নির্ধারিত দিনে হয়। ভারতের আগে কী করেছে, সেটি নয়, কী হবে বুধবারে (কাল), সেটিই আসল। ওই সাড়ে তিন ঘণ্টার মধ্যেই সবকিছু হবে। আমরা আমাদের সেরাটা দেওয়ার চেষ্টা করব এবং ভারতের খেলায় দুর্বলতা বের করার চেষ্টা করব। এভাবেই আমরা ম্যাচ জিততে পারি।”
আগামীকাল দুবাইয়ে সুপার ফোরে ভারতের মুখোমুখি হবে লিটন দাসরা। ভারতের বর্তমান ছন্দ দেখে বাংলাদেশকে অনেকেই এগিয়ে রাখতে চাচ্ছেন না। কিন্তু ম্যাচপূর্ব সংবাদ সম্মেলনে সিমন্স জোর দিয়ে বললেন, “আগের পারফরম্যান্স নয়, ম্যাচের দিনেই আসল লড়াইটা গড়ে ওঠে। তার ভাষায়, ‘প্রতিটি দলেরই ভারতকে হারানোর সামর্থ্য আছে। খেলা যেদিন হয়, সেদিনই নির্ধারিত হয় সবকিছু। ভারত আগে কী করেছে, সেটা গুরুত্বপূর্ণ নয়। গুরুত্বপূর্ণ হলো বুধবারের ৩ ঘণ্টা ৩০ মিনিট। আমরা যতটা ভালো খেলতে পারি, খেলবো এবং চেষ্টা করবো ভারতকে ভুল করতে বাধ্য করতে। এভাবেই ম্যাচ জেতা যায়।’
আন্তর্জাতিক টি–টোয়েন্টিতে ভারতকে হারানোর অভিজ্ঞতা বাংলাদেশের খুব সীমিত। ১৭ ম্যাচে মাত্র একবারই জয় পেয়েছে টাইগাররা। সেটাও দ্বিপাক্ষিক সিরিজে। বহুজাতিক টুর্নামেন্টে ভারত এখনও অজেয়। তাই ভারতকে হারাতে গেলে সবচেয়ে বড় অস্ত্র হতে হবে বিশ্বাস। সিমন্সও তাই মনে করেন, ‘বিশ্বাস থাকতে হবে। আজ দলের সঙ্গে বসে আলাপ করার পর আমরা বিশ্বাস করেছি যে আমাদের সুযোগ আছে। যদি কোনো সুযোগ আসে, সেটা আঁকড়ে ধরতে হবে। সুযোগগুলো কাজে লাগাতে পারলে ভারতের বিপক্ষে জয়ের সম্ভাবনা তৈরি হবে।’
তার মতে, দুবাই আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়ামের উইকেট ব্যাটিংয়ের জন্য দারুণ, তাই টস ম্যাচের ভাগ্য নির্ধারণ করবে না, ‘৪০ ওভার জুড়ে উইকেটে তেমন কোনও পরিবর্তন দেখিনি। এটা বেশ কিছুদিনের মধ্যে এখানকার সেরা উইকেটগুলোর একটি। গতরাতেও (ভারত-পাকিস্তান ম্যাচে) একই রকম ছিল।
উইকেট ব্যাটিংয়ের জন্য দারুণ ছিল। বোলারদের সঠিক জায়গায় বল করতে হয়েছে। আমার মনে হয় না টসের তেমন প্রভাব আছে।’
বাংলাদেশকে একমাত্র সুপার ফোরে টানা দুটি ম্যাচ খেলতে হবে। ভারতের পরদিনই তারা মুখোমুখি হবে পাকিস্তানের। সেপ্টেম্বরের গরম আর টানা ম্যাচ খেলার ধকলকে চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখছেন তিনি। দুবাই-আবুধাবির তীব্র গরমে একের পর এক টি–টোয়েন্টি খেলা শারীরিকভাবে কঠিন- এই প্রসঙ্গে সিমন্স বলেন, “টানা টি–টোয়েন্টি খেলা, টানা ওয়ানডে খেলা—খুবই কঠিন। এটা ভালো কিছু নয়। তবে আমরা প্রস্তুত, কঠোর পরিশ্রম করেছি। আমি মনে করি ছেলেরা যথেষ্ট ফিট, টানা ম্যাচ সামলাতে পারবে। কিন্তু কোনও দলের জন্যই টানা টি–টোয়েন্টি খেলা ন্যায্য নয়। মানুষ যেমনটা ভাবে, আসলে এর চেয়ে অনেক বেশি কঠিন।”
সিমন্স আরও বলেন, “আমি সাধারণত নিজের আবেগ যতটা সম্ভব নিয়ন্ত্রণে রাখার চেষ্টা করি। আমরা এখানে শুধু শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে একটা ম্যাচ জিততে আসিনি। এসেছি পুরো টুর্নামেন্ট জিততে… তখনই আমি আবেগ প্রকাশ করতে পারবো। তবে এখনও ড্রেসিংরুমে সবাইকে বাস্তবতার জমিনে রাখাই আমার দায়িত্ব।”
