অগ্নিকাণ্ড গুলো বিএনপি-জামায়াতের ষড়যন্ত্র কি না, খতিয়ে দেখার নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর

অগ্নিকাণ্ড গুলো বিএনপি-জামায়াতের ষড়যন্ত্র কি না, খতিয়ে দেখার নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর

প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা বলেন, ভুলে যাবেন না বিএনপি-জামায়াতের অগ্নি সন্ত্রাসের কথা, কেউ যেন ভুলে না যায় তাদের অগ্নি সন্ত্রাস ভিন্ন রূপে বিরাজমান কিনা; ভিন্নরূপে তারা এ ধরনের কিছু করছে কিনা, এটা সবাইকে একটু নজরদারিতে রাখতে হবে।

রাজধানীর বিভিন্ন মার্কেটে একের পর এক অগ্নিকাণ্ডে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন প্রধানমন্ত্রী। একই সাথে এসব ঘটনা নাশকতা কি না তা খতিয়ে দেখার নির্দেশ দিয়েছেন সরকার প্রধান।

তিনি বলেন, সেই অগ্নি সন্ত্রাসীরা এখন কি ভিন্ন পথ ধরল কিনা এটাই আমাদের দেখতে হবে। আগে তারা সাধারণ মানুষ পুড়িয়েছে, এখন তারা অর্থনীতিকে পঙ্গু করার পথে পা দিচ্ছে কিনা এর রহস্যটা বের করতে হবে।

গণভবনে আওয়ামী লীগের স্থানীয় সরকার মনোনয়ন বোর্ডের সভা। সভাপতিত্ব করেন দলের সভাপতি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

সভায় বিভিন্ন মার্কেটে একের পর এক আগুন কেন? এ নিয়ে প্রশ্ন তুলে এগুলেঅ ষড়যন্ত্র বা নাশকতা কিনা তা খতিয়ে দেখার নির্দেশ দেন।

দেশব্যাপী গুরুত্বপূর্ণ মার্কেটগুলোতে নজরদারিতে বাড়ানোও নির্দেশ দেন প্রধানমন্ত্রী। এসব অগ্নিকাণ্ডের সঙ্গে বিএনপি-জামায়াতের অগ্নিসন্ত্রাসের বিষয়টি জড়িত আছে কিনা তাও তদন্ত করে দেখতে বলেন।

তিনি বলেন, “অগ্নিকাণ্ডের সঙ্গে বিএনপি-জামায়াতের অগ্নি-সন্ত্রাসের বিষয়টি জড়িত আছে কি না তাও তদন্ত করে দেখতে হবে। তারা অগ্নিকাণ্ডের মতো ঘটনা ঘটিয়ে ভিন্ন পন্থা অবলম্বন করছে কি না, তা খতিয়ে দেখতে হবে।”

পরপর আগুন লাগা সন্দেহের কারণ জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ঠিক ছয়টার পর আগুনটা লেগেছে। এটার ওপর নজরদারিটা বাড়াতে হবে, অন্যান্য মার্কেটগুলোকে সতর্ক থাকতে হবে। যদিও ফায়ার সার্ভিসের পক্ষ থেকে প্রত্যেকটা মার্কেটকে বারবার সতর্ক করা হচ্ছে। তাদের মার্কেটের যে অবস্থা সেখানে যেকোনো সময় দুর্ঘটনা ঘটতে পারে। কিন্তু এরপর চারটা দুর্ঘটনাকে যদি আমরা দেখি তাহলে এটা কি আদতেই আসলেই কোনো দুর্ঘটনা! নাকি এর পেছনে কোনো কারসাজি আছে?

সবাইকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়ে শেখ হাসিনা বলেন, আগামীতে কেউ যাতে এ ধরনের ঘটনা ঘটাতে না পারে, আমি শুধু ঢাকা শহরে না সারা দেশের সবাইকে সতর্ক করছি, সবাই যেন সতর্ক থাকেন।

মার্কেটগুলোতে পাহারা জোরদার এবং নিজস্ব আগুন নেভানোর ব্যবস্থা রাখার আহ্বান জানিয়ে দোকান মালিকদের প্রধানমন্ত্রী বলেন, প্রত্যেকটা মার্কেটে যারা দোকান মালিক এবং মালিক সমিতি আছেন, তাদের আমি বলব- একটা সময় আগুন লাগছে। ওই সময়টা তাদের পাহারার ব্যবস্থা করা উচিত। তাদের প্রত্যেকের দোকানে তাদের নিজস্ব লোক রাখা দরকার, তাদের সতর্ক থাকা দরকার। আগুন লাগলে সঙ্গে সঙ্গে আগুন নেভানোর জন্য ফায়ার সার্ভিস যায়, তবে তাদের নিজস্ব ব্যবস্থাপনাও থাকতে হবে।

কোথাও আগুন লাগলে সেখানে অহেতুক ভিড় করে কাজে বাধা সৃষ্টি না করার আহ্বান জানিয়ে শেখ হাসিনা বলেন, আগুন লাগলে দেখার জন্য মানুষের ভিড় কমাতে হবে। দাঁড়িয়ে না দেখে সবাই যদি এক বালতি করে পানি নিয়ে আসে তাও তো আগুনটা নেভাতে সাহায্য হয়। সেটা না করে সবাই দেখতে আসে, সেলফি তোলে, ফটো তোলে, এটা কি ধরনের কাজ!

যারা কাজে বাধা দেয় তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, এখানে যারা কাজ করবে, কাজে যেন কেউ বাধা দিতে না পারে। আর যারা বাধা দেবে তাদের বিরুদ্ধে যথাযথ ব্যবস্থা নিতে হবে।

ফায়ার সার্ভিসের কাজে যারা বাধা সৃষ্টি করে তাদের সতর্ক করে শেখ হাসিনা বলেন, বঙ্গবাজারের অগ্নিকাণ্ডের পর যারা ফায়ার সার্ভিস ভেঙেছে, বঙ্গবাজারের যারা বাধা দিয়েছে, ভিডিও ফুটেজ দেখে তাদের শনাক্ত করা হচ্ছে, গ্রেফতার করা হচ্ছে, তাদের শাস্তি দেওয়া হবে।

সবাইকে আরও বেশি সচেতন হওয়ার আহবান জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী মার্কেট সংশ্লিষ্ট সবাইকে নিজস্ব উদ্যোগে পাহারার ব্যবস্থা করতে বলেন।

পূর্ববর্তী ঈদের আগে ৩ দিন ব্যাংক খোলা থাকবে যেসব এলাকায়
পরবর্তী নিউ সুপার মার্কেটের আগুন নিয়ন্ত্রণে