রংপুরের বিখ্যাত হাড়িভাঙ্গা আমের বাগান

রংপুরের বিখ্যাত হাড়িভাঙ্গা আমের বাগান

হঠাত এই গরমে আম বাগানে উপস্থিত থেকে আম খেতে কেমন লাগবে ভেবে দেখুন তো! হাড়িভাঙ্গা আম গাছের উচ্চতা বেশি হয় না বরং অল্প উচ্চতায় চারিদিকে শাখা-প্রশাখা ছড়িয়ে পড়ে। মৌসুমে গাছের ঝুলন্ত পাকা আম থোকায় থোকায় ধরে থাকে, গাছতলাতেও আম পড়ে থাকতে দেখা যায়। এভাবে বিস্তীর্ণ ফলজ বাগান এতো কাছ থেকে দেখার অন্যরকম এক আনন্দানুভূতি রয়েছে।

স্বাদে-গন্ধে জনপ্রিয় আঁশবিহীন আম হিসেবে রংপুর জেলার হাড়িভাঙ্গা আম (Haribhanga Mango) বাংলাদেশে চেনেনা এরকম মানুষ খুঁজে পাওয়া কঠিন। আকর্ষণীয় এই আমের উৎস রংপুরের মিঠাপুকুর উপজেলার খোড়াগাছের তেকানি গ্রামে। হাড়িভাঙ্গা আমের নামকরণ নিয়ে বেশ প্রচলিত এক জনশ্রুতি রয়েছে। তেকানি ও তার আশেপাশের এলাকা বরেন্দ্রপ্রবণ অঞ্চল হবার কারণে চারা গাছে পানি দেওয়ার জন্য আলাদা ব্যবস্থা করতে হতো।

আমটির ‘ইতিহাসের’ গোড়াপত্তন করেছিলেন নফল উদ্দিন পাইকার নামের এক বৃক্ষবিলাসী মানুষ। শুরুতে এর নাম ছিল মালদিয়া। আমগাছটির নিচে তিনি মাটির হাঁড়ি দিয়ে ফিল্টার বানিয়ে পানি দিতেন। একদিন রাতে কে বা কারা ওই মাটির হাঁড়িটি ভেঙে ফেলে। ওই গাছে বিপুল পরিমাণ আম ধরে। সেগুলো ছিল খুবই সুস্বাদু। সেগুলো বিক্রির জন্য বাজারে নিয়ে গেলে লোকজন ওই আম সম্পর্কে জানতে চায়। তখন চাষি নফল উদ্দিন মানুষকে বলেন, ‘যে গাছের নিচের হাড়িটা মানুষ ভাঙছিল সেই গাছেরই আম এগুলা।’ তখন থেকেই ওই গাছটির আম ‘হাড়িভাঙ্গা আম’ নামে পরিচিতি পায়। বর্তমানে রংপুরের হাঁড়িভাঙা আমের সেই মাতৃ গাছটির বয়স প্রায় ৬৭ বছর। সেই মাতৃগাছটি আজো রংপুরের মিঠাপুকুরের খোড়াগাছের তেকানি গ্রামে মাথা উঁচু করে দাড়িয়ে আছে। প্রাচীন সেই গাছটির থেকেই হাজার হাজার কলম তৈরি করে হাড়িভাঙ্গার চারা গাছ ছড়িয়ে দেওয়া হয়েছে।

হাড়িভাঙ্গা আমের স্বাদ ও গন্ধ অন্যান্য আমের তুলনায় ভিন্ন। আঁশহীন এই আমের উপরের অংশ বেশ মোটা ও চওড়া এবং নিচের অংশ চিকন। সাধারণত অন্যান্য আমের তুলনায় এই আম কিছুদিন পর পাকে। হাড়িভাঙ্গা পাকলেও কিছুটা সবুজ থাকে এবং হালকা হলুদাভাব বর্ণ ধারণ করে। এক একটি আমের ওজন ৪০০-৭০০ গ্রাম পর্যন্ত হয়ে থাকে। হাঁড়িভাঙা আমের একটি বিশেষ বৈশিষ্ট্য হল চামড়া কুচকে গেলেও আম সহজে পচে না। হাড়িভাঙ্গা আম খেতে হলে মৌসুমের মাঝামাঝি জুন মাস পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হয়।

কিভাবে যাবেন

ঢাকা থেকে বাস ও ট্রেনে রংপুর (Rangpur) জেলায় যাওয়া যায়। ঢাকা থেকে হানিফ, গ্রীন লাইন, এস আর, আগমনী, শ্যামলী, নাবিল বা টি আর পরিবহণের বাসে রংপুরে যেতে পারবেন। আবার ঢাকার কমলাপুর রেলওয়ে ষ্টেশন থেকে রংপুর এক্সপ্রেস ট্রেনে চড়েও রংপুর যাওয়া যায়। রংপুর থেকে স্থানীয় পরিবহণে মিঠাপুকুরে অবস্থিত হাড়িভাঙ্গা আমের বাগানে যেতে পারবেন।

কোথায় থাকবেন

রংপুর জেলায় হোটেল প্রভৃতি আবাসিক হোটেল রয়েছে।

কোথায় খাবেন

মিঠাপুকুরে মধ্যম মানের কিছু রেস্তোরাঁ রয়েছে। আর রংপুর জেলায় উন্নতমানের বাঙ্গালী, চাইনিজ ও ফাস্ট ফুড খাবারের রেস্তোরাঁ পাবেন। খেতে পারবেন রংপুরের শীল বিলাতি আলুর উল্লেখযোগ্য খাবার।

তথ্যসূত্রঃ ভ্রমন ব্লগ ও উইকিওয়ান্ড

পূর্ববর্তী ২০২৩-২৪ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেট পেশ করছেন অর্থমন্ত্রী
পরবর্তী বাজেটে সামাজিক নিরাপত্তা খাতে ১৬.১৮ শতাংশ বরাদ্দ দেয়া হয়েছে: হাছান মাহমুদ