
www.HelloBangla.News – আন্তর্জাতিক – ১৫ নভেম্বর, ২০২৩: ট্যাংক ও বুলডোজার নিয়ে ফিলিস্তিনের অবরুদ্ধ গাজা ভূখণ্ডের সবচেয়ে বড় চিকিৎসাকেন্দ্র আল-শিফা হাসপাতালে অভিযান চালাচ্ছে ইসরায়েলি বাহিনী।
গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে অভিযান শুরু পর পরই বুধবার (১৫ নভেম্বর) বিষয়টি নিয়ে বিবৃতি দিয়েছে ফিলিস্তিনিদের সশস্ত্র প্রতিরোধ সংগঠন হামাস।
হাসপাতালটির চারপাশে নির্বিচারে বোমা বর্ষণ করা হচ্ছে। একের পর এক বিস্ফোরণে কেঁপে উঠছে ওই এলাকা।
ইসরায়েলের প্রতিরক্ষা বাহিনী এক বিবৃতিতে বলেছে, হাসপাতালটিতে ফিলিস্তিনি সংগঠন হামাসের সদস্যরা লুকিয়ে আছেন এবং সেখান থেকে কার্যক্রম পরিচালনা করছেন। তবে হামাস এই অভিযোগ অস্বীকার করে আসছে।
ইসরায়েলি সেনাবাহিনী বলেছে, তারা হাসপাতালে সুনির্দিষ্ট ও বিশেষ এলাকাগুলোয় হামাসের বিরুদ্ধে অভিযান পরিচালনা করছে। আল-শিফা হাসপাতালের চিকিৎসক আহমেদ মোখাল্লালাতি বলেন, ইসরায়েলি অভিযানের কারণে হাসপাতালটিতে ৬শ’ ৫০ জন রোগী আটকা পড়েছেন। তাঁদের মধ্যে অন্তত ১শ’ জনের অবস্থা সংকটজনক।
ফিলিস্তিনের স্বাস্থ্যমন্ত্রী মাই আল-কাইলা গাজার আল-শিফা হাসপাতালে ইসরায়েলি বাহিনীর অভিযানকে ‘মানবতার বিরুদ্ধে নতুন অপরাধ’ হিসেবে উল্লেখ করেছেন। ফিলিস্তিনের ওয়াফা সংবাদ মাধ্যমে প্রকাশিত ওই বিবৃতিতে তিনি বলেন, হাসপাতালটিতে অসহায় রোগীরা আছেন। সেই সঙ্গে আছেন চিকিৎসাকর্মীরা। হাসপাতালে অভিযান চালিয়ে ইসরায়েল মানবতার বিরুদ্ধে চরম অপরাধ করেছে।
গাজার বৃহত্তম এই হাসপাতাল ও এর আশপাশে রোগী ও চিকিৎসাকর্মীসহ হাজার হাজার বাস্তুচ্যুত ফিলিস্তিনি আশ্রয় নিয়েছে। তাঁদের সবার জীবন এখন ঝুঁকির মুখে।
আল-শিফায় ইসরায়েলি অভিযানকে ‘একটি প্রকাশ্য চক্রান্ত ও শিশুসুলভ রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত” হিসাবে আখ্যা দিয়েছেন হামাসের রাজনৈতিক ব্যুরোর সদস্য ইজ্জাত আল-রিশেক।
তিনি জোর দিয়ে বলেছেন, হাসপাতালটি রোগী, বেসামরিক নাগরিক ও বাস্তুচ্যুতদের আবাসন ও চিকিৎসাকেন্দ্র। কোনো সামরিক ঘাঁটি নয়।
একটি ভিডিও বার্তায় আল-রিশেক বলেছেন, আল-শিফায় অভিযানকে নেতানিয়াহু এবং তার সেনাবাহিনী তাদের বিজয় হিসেবে চিহ্নিত করছে কিন্তু এটি তাদের আপাতত অর্জন। মূলত তারা তাদের পরাজয়ের গভীরতার দিকে নিয়ে যাচ্ছে।
