
আপনি চাইলেই আর একা থাকতে পারবেনা বা আপনার কেউ নেই এমনটা ভাববার দিন শেষ। হ্যাঁ বিজ্ঞানের আর্টিফিসিয়াল ইনটেলিজেন্স বা কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা আপনাকে আর একা থাকতে দিচ্ছে না এমনকি কোনো কাজ আপনার না পারার ব্যর্থতাকে দক্ষতায় পরিপূর্ন করে দিবে। যেমন আপনার ক্লাসের যেকোন টপিকের এসাইমেন্ট মুহুর্তের ভেতর করে দেয়া থেকে শুরু করে রান্না-বান্না, কম্পিউটার প্রোগ্রামিং কোর্ডি, বেড়াতে যাওয়ার প্ল্যানিং পর্যন্ত করে দিতে পারে। আপনার মন খারাপ বা একটু গল্প করার মতো কাউকে পাচ্ছেন না তাহলে সমস্যা নেই আপনার পাশে না সাথেই আছে চ্যাট জিপিটি নামে এক আলাদীনের চেরাগ। চ্যাট জিপিটি আপনাকে এমন ভাবে সঙ্গ দিবে যে মজার জোক শোনানো থেকে শুরু করে কবিতা, গান, জটিল অঙ্কের সমাধানও করে দিবে। লিখে দেবে পাতার পর পাতা রচনা। এমনি চলিচ্চিত্র বা নাটকের স্ক্রিপ্টও লিখে দিবে। তা পড়ে কারও বোঝার সাধ্যি নেই যে সেটি আর্টিফিসিয়াল ইনটেলিজেন্সের লেখা। আপনার ইমেল কিংবা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে লেখালিখির কাজটাও করে দিতে পারে।
চ্যাট জিপিটি একটি লার্জ ল্যাঙ্গুয়েজ মডেল যা তৈরি করেছে ওপেন এআই নামে একটি সংস্থা। এক কথায় এটা একটা আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স টুল। যা ব্যবহার করে এমন অনেক কাজ মুহূর্তে করা সম্ভব যা করতে আগে ঘণ্টার পর ঘণ্টা সময় লাগত। যেমন ধরুন আপনি কোনও নির্দিষ্ট বিষয়ে প্রতিবেদন লিখতে চান, তাহলে আপনাকে সেই কাজ করে দেবে এই এআই টুল। ২০২২ সালের নভেম্বরে যখন সবাই ফুটবল বিশ্বকাপ নিয়ে ব্যস্ত ঠিক তখনি ৩০ নভেম্বর ওপেন এআই প্রতিষ্ঠানটি চ্যাট জিপিটি উন্মুক্ত করে সারা বিশ্বে আলোড়ন ফেলে দেয়। মাত্র পাঁচদিনে দশ মিলিয়ন সাবক্রাইবে পৌঁছে যায়। যা ফেইসবুকের পৌঁছাতে সময় লেগেছিল দশ মাস। বর্তমানে জ্যামিতিক হারে বাড়ছে এর সংখ্যা। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার অনান্য সেবা বা পন্য থেকে এটি সর্ম্পূন আলাদা। আপনি প্রশ্ন করলেই আলাপচারিতার মাধ্যমে মানুষের মতো করেই জানিয়ে দিবে উত্তর। এমনকি আপনার করা প্রশ্নের ভালো উত্তরের জন্য তথ্য ভান্ডারের অনেক গভীরেও অন্সুন্ধান চালায়। ওপেন এআই বলছে,‘ চ্যাট জিপিটি আছে নানান বিষয়ের উপর বিপুল পরিমান তথ্য যা মানুষ মূহুতের্ই তার প্রয়োজন অনুযায়ী পেয়ে যায়। কিন্তু আপনি যদি আবল তাবল বা ভুলভাল প্রশ্ন করেন সে ক্ষেত্রে আপনাকে প্রত্যাখানও করতে পারে চ্যাট জিপিটি।
চ্যাট জিপিটি চালু হার পর থেকেই অনেকেই এর বিরোধীতা করতে শুরু করেছেন। এর সবচেয়ে খারাপ প্রভাব পড়বে শিক্ষার্থীদের উপর। ইতোমধ্যে আমেরিকার নিউ ইয়র্র্কের বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে তা নিষিদ্ধ করে নোটিশ জারি করা হয়েছে।
চ্যাট জিপিটি হলো আর্টিফিসিয়াল ইন্টেলিজেন্স রিসার্চ কোম্পানি “এআই” দ্বারা তৈরি। এই প্রতিষ্ঠানের মূল উদ্দেশ্যই হলো নিরাপদ ও সুবিধাজনক আর্টিফিসিয়াল ইন্টেলিজেন্স সিস্টেম তৈরী করা বা তৈরী করতে অন্যদের সাহায্য করা। পূর্বে জিপিটি-৩ এর কারণে ওপেন এআই বেশ আলোচনায় আসে, যা “মানুষের মত করে” টেক্সট লিখতে পারতো। এরপর আসে ডিএএলএল-ই যার সাথে কমবেশি সবাই পরিচিত আছেন, যা যেকোনো ধরনের টেক্সট থেকে আর্ট জেনারেট করতে পারে। আর চ্যাট জিপিটি হলো উল্লেখিত সিস্টেমগুলোর আপডেট ভার্সন যেখানে এআই’কে বিশাল ল্যাংগুয়েজ মডেল দ্বারা ট্রেইন করা হয়। টেক্সট দ্বারা সহজে, দ্রুতও অটোমেটিক্যালি ট্রেইন করা যায় বলে ওপেনএআই এই মেথড বাছাই করেছে।
“এআই” প্রতিষ্ঠাদের মধ্যে অন্যতম একটি নাম হলো এলেন মাস্ক। ২০১৫ সালে এলেন মাস্ক, সেন্ট এম্যান সহ মোট ছয়জন সহযোগী মিলে ওপেন এআই প্রতিষ্ঠা করেন। ২০১৮ সালে এলেন মাস্ক প্রতিষ্ঠান থেকে সরে আসেন। ২০১৯ সালে মাইক্রোসফটের প্রতিষ্ঠাতা বিল গেটস এক বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগ করেন ওপেন এআই।
