যুক্তরাষ্ট্র ও মিত্ররা লেবানন-ইসরায়েল সীমান্তে ২১ দিনের যুদ্ধবিরতির আহ্বান জানিয়েছে

www.HelloBangla.News – আন্তর্জাতিক – ২৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৪: লেবাননে ক্রমশই বাড়ছে ইসরায়েল ও হেজবুল্লাহ’র মধ্যকার যুদ্ধ। এই প্রেক্ষিতে অস্থায়ী যুদ্ধবিরতির আহ্বান জানিয়েছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, ইউরোপীয় ইউনিয়ন ও তাদের অন্যান্য মিত্র দেশগুলো। ১১ টি দেশ এবং ইউরোপীয় ইউনিয়ন এই সমস্যার ‘কূটনৈতিকভাবে সমাধানের জন্য সুযোগ করে দিতে’ অবিলম্বে ২১ দিন লড়াই বন্ধ রাখা এবং গাজায়ও যুদ্ধবিরতির প্রস্তাব দিয়েছে। একটি যৌথ বিবৃতিতে তারা বলেছে যে এই ধরনের যুদ্ধবিগ্রহ অসহনীয় এবং এটি মধ্যপ্রাচ্যের আঞ্চলিক স্থিতিশীলতাকে ঝুঁকিতে ফেলবে, এর কোনোটিই ইসরায়েল বা লেবাননের জনগণের স্বার্থে নয়।

যুদ্ধবিরতির প্রস্তাব এমন সময়ে এল, যখন ইসরায়েলের সামরিক বাহিনীর প্রধান তার সৈন্যদেরকে বলেছিলেন যে হেজবুল্লাহকে লক্ষ্য করে লেবাননে ব্যাপক বিমান হামলা তাদের জন্য ‘শত্রুদের এলাকায় প্রবেশের’ পথ তৈরি করে দিতে পারে।

যৌথ বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়, ২০২৩ সালের ৮ অক্টোবর থেকে লেবানন এবং ইসরায়েলের মধ্যেকার পরিস্থিতি অস্থিতিশীল যা বৃহত্তর আঞ্চলিক ঝুঁকি বৃদ্ধি কারণ হতে পারে।

এর একটি কূটনৈতিক মীমাংসা করার সময় এসেছে যা সীমান্তের উভয় পাশের বেসামরিক নাগরিকদের নিরাপদে তাদের বাড়িতে ফিরে যেতে সাহায্য করবে। তাই ইউএনএসসিআর-১৭০১ ভিত্তিতে কূটনৈতিক মীমাংসার সুযোগ করে দিতে অবিলম্বে ২১ দিনের যুদ্ধবিরতির আহ্বান জানানো হচ্ছে যাতে করে ইউএনএসসিআর-২৭৩৫ এর প্রয়োগের মাধ্যমে গাজায়ও যুদ্ধবিরতি সম্ভব হবে।

বিবৃতিতে বলা হয়, আমরা ইসরায়েল এবং লেবানন সরকারসহ সকল পক্ষকে অবিলম্বে অস্থায়ী যুদ্ধবিরতিকে সমর্থন করার জন্য আহ্বান জানাই। আমরা এই সময়ের মধ্যে লেবানন এবং ইসরায়েলের মধ্যে একটি চুক্তি সম্পাদনের জন্য সমস্ত কূটনৈতিক প্রচেষ্টাকে সম্পূর্ণ সমর্থন করতে প্রস্তুত যা এই সঙ্কট কে সম্পূর্ণরূপে কাটিয়ে উঠতে সাহায্য করবে।

এই বিবৃতি এমন সময় এলো যখন ইসরায়েলের সামরিক বাহিনীর প্রধান হার্জি হালেভি লেবাননের সীমান্তে অবস্থানরত সৈন্যদের হিজবুল্লাহর বিরুদ্ধে সম্ভাব্য স্থল আক্রমণের জন্য প্রস্তুত থাকতে বলেছেন।

ইসরায়েলি সেনাবাহিনী বলছে লেবাননে স্থল হামলার প্রস্তুতি নিচ্ছেন তারা, এরই মধ্যে দুই ব্রিগেড রিজার্ভ সৈন্যকে ডাকা হয়েছে।

গত ১৭ই সেপ্টেম্বর লেবাননজুড়ে একযোগে পেজার (যোগাযোগযন্ত্র) বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে। তারপর আবার রেডিও ডিভাইস বা ওয়াকিটকি বিস্ফোরিত হয়। এই দুই আলাদা ঘটনায় লেবাননে কমপক্ষে ৩৭ জন নিহত ও হাজার হাজার মানুষ আহত হয়েছেন।  লেবাননের সশস্ত্র গোষ্ঠী হেজবুল্লাহ এই ঘটনার পেছনে ইসরায়েলকে দোষারোপ করেছে। যদিও ইসরাইল এ বিষয়ে কোনও মন্তব্য করেনি। তবে এই ঘটনা পর লেবাননের সশস্ত্র গোষ্ঠী হেজবুল্লাহ ও ইসরায়েলের মধ্যে পাল্টাপাল্টি হামলা চলছেই।

লেবাননের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় বলছে, লেবাননে ইসরায়েলের ব্যাপক বিমান হামলায় অন্তত ৪৯২ জন নিহত হয়েছে। তারা বলছে এটি গত বিশ বছরের মধ্যে প্রাণহানির দিক থেকে সবচেয়ে সংঘাতময় দিন। হাজার হাজার মানুষ তাদের বাড়িঘর ছেড়ে পালিয়েছে। এর পর থেকে যুদ্ধ ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়ে।

ইসরায়েলের সামরিক বাহিনী বলছে, ২০০৬ সালের যুদ্ধের পর থেকে হেজবুল্লাহ’র গড়ে তোলা অবকাঠামো ধ্বংস করতে তারা তেরশ লক্ষ্যবস্তুতে হামলা করেছে।

অন্যদিকে, হেজবুল্লাহ ইসরায়েলের উত্তরাঞ্চল লক্ষ্য করে দুশো রকেট ছুড়েছে বলে সামরিক বাহিনী জানিয়েছে। এতে দু’জন আহত হয়েছে।

পূর্ববর্তী লা লিগায় বার্সেলোনা ১-০ গোলে হারিয়েছে গেতাফেকে
পরবর্তী বাংলাদেশের সঙ্গে বাণিজ্যিক সম্পর্ক উন্নয়নের আশ্বাস চীনের