তারা হরতাল-অবরোধ করছে নির্বাচনকে বাধা দেওয়ার জন্য: সেতুমন্ত্রী

অবরোধ করছে নির্বাচনকে বাধা দেওয়ার জন্য সেতুমন্ত্রী - জাতীয় - ২৯ নভেম্বর ২০২৩ (ফাইল ছবি)
অবরোধ করছে নির্বাচনকে বাধা দেওয়ার জন্য সেতুমন্ত্রী - জাতীয় - ২৯ নভেম্বর ২০২৩ (ফাইল ছবি)

www.HelloBangla.News – জাতীয় – ২৯ নভেম্বর, ২০২৩: তারা হরতাল-অবরোধ করছে নির্বাচনকে বাধা দেওয়ার জন্য, বলে জানিয়েছেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের। তিনি বলেন, ‘আজকে বাংলাদেশের একটা দল এবং তার দোসররা এখন হরতাল ডাকছে, অবরোধ করছে। তারা প্রকাশ্যে হামলা করে পুলিশ হত্যা করেছে। প্রধান বিচারপতির বাড়িতে হামলা করেছে, এসব কর্মকাণ্ড যারা করছে, তারা তো নির্বাচনকে বাধা দেওয়ার জন্য করছে। আমাদের সংবিধানকে চ্যালেঞ্জ করছে। আমাদের গণতন্ত্রকে চ্যালেঞ্জ করছে। আমাদের স্বাধীন বিচার ব্যবস্থাকে চ্যালেঞ্জ করছে। এটার কোনো প্রতিঘাত নেই।’

আজ বুধবার (২৯ নভেম্বর) সকালে আওয়ামী লীগ সভাপতির ধানমন্ডির রাজনৈতিক কার্যালয়ে এক বিফ্রিংয়ে তিনি এ কথা বলেন।

আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক বলেন, ‘এটা কী আন্দোলন? এটাতো নির্বাচনকে বাধাগ্রস্ত করা। নির্বাচনকে যারা বাধাগ্রস্ত করছে, তাদের বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞা আসার কথা। এসব যে চলছে, এ ব্যাপারে কারো কোনো কথা নেই, সভ্য গণতান্ত্রিক দেশ অনেক বিষয়ে কথা বলে, কিন্তু এখানে নিরব কেন?’

সেতুমন্ত্রী বলেন, ‘তারা নির্বাচন প্রক্রিয়াকে বাধা দিচ্ছে, গণতান্ত্রিক ব্যবস্থাকে বাধা দিচ্ছে, তারা গাড়ি পোড়াচ্ছে, তারা ট্রেনে হামলা করছে, তারা প্রতিনিয়ত গাড়িতে অগ্নিসংযোগ, বাসে অগ্নিসংযোগ, এসব ঘটনা ঘটাচ্ছে।’

বিএনপি অবরোধ কার বিরুদ্ধে করছে প্রশ্ন রেখে সেতুমন্ত্রী বলেন, ‘তারা হরতাল ডাকছে কার বিরুদ্ধে, এটা তো নির্বাচনের বিরুদ্ধে, নির্বাচনকে বাধাগ্রস্ত করার জন্য এসব কর্মকাণ্ড করছে।’

তিনি বলেন, ‘আজকে যারা মানবাধিকারের কথা বলে, বাংলাদেশের সুশাসনের কথা বলে, যারা ফ্রি ফেয়ার নির্বাচনের কথা বড় গলায় বলে, তারা আজকে একটা পক্ষের এসব অপকর্ম, গণতন্ত্রবিরোধী, সংবিধান বিরোধী কর্মকাণ্ডের ব্যাপারে কেন নিরব। এটা নিয়ে তো কেউ কিছু বলছে না। নির্বাচনকে যারা প্রশ্নবিদ্ধ করতে চায়, যারা বাধা দিচ্ছে, তাদের ব্যাপারে তারা কেন নিরব। আমাদের দেশে যারা সুশীল সমাজ যারা মানবাধিকারের কথা বলে, তাদের কাছে আমার প্রশ্ন।’

কাদের বলেন, ‘আমরা শুনেছিলাম আন্তর্জাতিকভাবে, নির্বাচন বাধাগ্রস্ত হবে এমন কোনো কর্মকাণ্ড হলে, সেটা নির্বাচন বিরোধী কর্মকাণ্ড বলে বিবেচিত হওয়ার কথা। এখন তো সবাই নিরব। এখন কেউ কিছু বলে না। ইউরোপও কিছু বলে না, আমেরিকাও কিছু বলে না।

আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক বলেন, ‘হরতাল অবরোধকে কি কোনোভাবে ঢেকে রাখা যায়? পুলিশ হত্যাকে কী কোনোভাবে ঢেকে রাখা যায়? প্রধান বিচারপতির বাড়িতে হামলা, গাড়িতে অগ্নি সংযোগ করছে, এগুলো কী অন্ধকারে ঢেকে রাখা যাবে? এগুলো তো প্রকাশ্যে হচ্ছে। আজকের বিশ্বে এখানকার খবর সারা দুনিয়ায় ছড়িয়ে যেতে কতক্ষণ লাগে? এখানকার কোনো খবর ল্যাটিন আমেরিকার কোনো দেশ বা দক্ষিণ আফ্রিকার কোনো দেশে পৌঁছতে কি দেরি হচ্ছে? ওয়াশিংটনের পৌঁছতে কি দেরি হচ্ছে? এসব নিয়ে তো কোন কথা আমরা শুনছি না।’

বিএনপির নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে মামলা ও গ্রেপ্তারের হওয়ার বিষয়ে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক বলেন, ‘নির্বাচনকে বাধা দিতে হরতাল, অবরোধ, নাশকতা চালানোর পর তাদের (বিএনপি) বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নিয়ে কেউ কথা বলছেন না। বিএনপির সন্ত্রাসী কার্যক্রম ঢেকে রাখার মতো নয়, সব কিছুই সবাই দেখছে। বিএনপি প্রকাশ্যে নির্বাচনের বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছে ৷ প্রকাশ্যে যারা পুলিশ হত্যা করেছে, গাড়ি পোড়াচ্ছে, হামলা করছে তাদের কি বিচার হবে না?  যারা অপকর্ম করে শাস্তিযোগ্য অপরাধ করে তাদের বিরুদ্ধে মামলা হবেই।’

শরিকদের মনোনয়নের বিষয়ে ওবায়দুল কাদের বলেন, শরিক হলেই তাকে নমিনেশন দেওয়া হবে না। নির্বাচিত হওয়ার মতো জনপ্রিয় যোগ্য মানুষকেই নমিনেশন দেওয়া হবে।

এ সময় উপস্থিত ছিলেন আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক বিএম মোজাম্মেল হক, দপ্তর সম্পাদক বিপ্লব বড়ুয়া, মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক সম্পাদক মৃণাল কান্তি দাস, উপ-দপ্তর সম্পাদক সায়েম খান প্রমুখ।

পূর্ববর্তী দুই মন্ত্রী, এক প্রতিমন্ত্রীর পদত্যাগপত্র গৃহীত
পরবর্তী রাষ্ট্রপতি মানুষের কল্যাণে কাজ করতে ডিএসসিএসসি’র প্রশিক্ষণার্থীদের আহ্বান জানিয়েছেন