সানিয়ার বিচ্ছেদের জল্পনা সত্যি হয়েছে শোয়েবের বিয়েতে

সানিয়ার বিচ্ছেদ শোয়েবের বিয়ে - খেলাধুলা - ২০ জানুয়ারি ২০২৪ (ফাইল ছবি)
সানিয়ার বিচ্ছেদ শোয়েবের বিয়ে - খেলাধুলা - ২০ জানুয়ারি ২০২৪ (ফাইল ছবি)

www.HelloBangla.News – খেলাধুলা – ২০ জানুয়ারি, ২০২৪: ভারতের টেনিস তারকা সানিয়া মির্জা ও পাকিস্তানের ক্রিকেট দলের প্রাক্তন অধিনায়ক শোয়েব মালিকের বিয়ে একটি নতুন দিগন্তের সূচনা হয়েছিলো। দুই দেশের বিবাদমান পরিস্থিতির মধ্যে একটা শান্তির আবহ তৈরি হয়েছিলো এই বিয়ের মাধ্যমে। ২০১০ সালে এই দুই তারকা খেলোয়াড়ের বিয়ে হয় এবং ২০১৮ সালে তারা জীবনে আসে নতুন অতিথি। শোয়েব মালিক তার টুইটারে জানিয়েছিলেন মা ও শিশু দুজনেই ভালো আছেন। নতুন বাবা মা হওয়া এই তারকা দম্পতিকে সোশ্যাল মিডিয়ায় শুভেচ্ছা জানায় অনেকে। তখনি একটি বিষয় প্রতীয়মান হয় যে এই তারকা দম্পতির কয়েক কোটি ভক্ত আছে দুই দেশে। সন্তান জম্মের কয়ে বছরের মধ্যে তাদের দাম্পত্য জীবনের অস্তিরতার নানা ‍গুজঞ্জন শোনা যায়। অবশেষে তাই বাস্তবতার রূপ নিল শোয়েব মালিকের বিয়ের মাধ্যমে।

ভারতীয় টেনিস তারকা সানিয়া মির্জার সঙ্গে বিচ্ছেদের জল্পনার মাঝেই বিয়ে করলেন পাকিস্তানের প্রাক্তন ক্রিকেটার। সমাজমাধ্যমে পোস্ট করে নিজেই জানালেন বিয়ের কথা। সানিয়া এখন ব্যস্ত অস্ট্রেলিয়ান ওপেনে ধারাভাষ্য দিতে। তার মাঝেই পাকিস্তানে বিয়ে সেরে ফেললেন শোয়েব। পাক অভিনেত্রী সানা জাভেদকে বিয়ে করেছেন তিনি। তার সঙ্গে ছবিও পোস্ট করেছেন শোয়েব।

গত বুধবার  সোশ্যাল মিডিয়ায় সানিয়ার একটি পোস্টে বিচ্ছেদের ইঙ্গিত ছিল। সানিয়ার যে পোস্ট করেছিলেন তার অর্থ, ‘‘বিয়ে কঠিন। বিচ্ছেদও কঠিন। নিজের কঠিনটাকে বেছে নিন। মুটিয়ে যাওয়াটা ভাল নয়। ফিট থাকাও কঠিন। নিজের কঠিনটা বেছে নিন। ঋণের মধ্যে থাকা কঠিন। অর্থনৈতিক শৃঙ্খলা বজায় রাখা কঠিন। নিজের কঠিনটা বেছে নিন। যোগাযোগ রাখা কঠিন। যোগাযোগ না রাখাও কঠিন। নিজের কঠিনটাকে বেছে নিন। জীবন কখনও সহজ নয়। এটা সব সময় কঠিন। কিন্তু আপনি আপনার কঠিনটা বেছে নিতে পারেন। বেছে নিন।’’

তার দু’দিন আগে সমাজমাধ্যম থেকে শোয়েবের সব ছবি মুছে দিয়েছিলেন ভারতের টেনিস তারকা। একটিমাত্রই ছবি রয়েছে। সেখানে সানিয়া এবং শোয়েবের সঙ্গে তাঁদের ছেলে ইজ়হান রয়েছেন। সেই ছবির ক্যাপশনে শোয়েবের বিশেষ নামোল্লেখ নেই। ইজ়হানের জন্মদিন উপলক্ষে সেই ছবিটি পোস্ট করেছিলেন সানিয়া। সেই ছবি বাদে শোয়েবের সব ছবি মুছে দিয়েছিলেন সানিয়া।

কিছু দিন আগে পর্যন্তও শোয়েবের ইনস্টাগ্রাম বায়োতে লেখা থাকত সানিয়ার স্বামী হিসাবে। এর পর নিজেকে একজন ‘সুপারউওম্যান’-এর স্বামী হিসেবেও উল্লেখ করেছিলেন শোয়েব। সেই বাক্য সরিয়ে নিয়েছেন। এমনকি তাঁর ইনস্টাগ্রামেও সানিয়ার ছবি খুঁজে পাওয়া যায় না। তবে ছেলে ই‌জ়হানের সঙ্গে অনেক ছবি দেখতে পাওয়া গিয়েছে।

গত বছর থেকেই সানিয়া এবং শোয়েবের সম্পর্কে চিড় ধরার ইঙ্গিত পাওয়া গিয়েছিল। সানিয়ার বাড়িতে ইফতার পার্টিতে ছিলেন না শোয়েব। ইফতার পার্টির ভিডিয়ো সমাজমাধ্যমে দিয়েছিলেন সানিয়া। সেখানে ছেলে ইজ়হান-সহ পরিবারের বাকিরা ছিলেন। কিন্তু পাকিস্তানের ক্রিকেটারকে দেখা যায়নি। ভিডিয়োর ক্যাপশনে সানিয়া লিখেছিলেন, ‘‘প্রিয়জনদের সঙ্গে ইফতার।’’ তার পরেই অনেকে প্রশ্ন তুলেছিলেন, তা হলে কি সানিয়ার প্রিয়জনদের তালিকায় আর শোয়েব নেই। নইলে তিনি কেন বাদ পড়লেন? উত্তর হয়তো পাওয়া গেল আজ শনিবার (২০ জানুয়ারি)। সানিয়া এবং শোয়েবের বিচ্ছেদের জল্পনার মাঝেই বিয়ে সেরে ফেললেন পাক ক্রিকেটার।

২০১০ সালের ১২ এপ্রিল এক হয়েছিল চার হাত। ক্রিকেট ব্যাট বা টেনিসের র‌্যাকেটের ঢোকাঢুকি ছিল না। বরং দুই দেশের কাঁটাতারের বিভেদ, সমালোচনা ঢাকা পড়েছিল দুই ক্রীড়াবিদের ভালবাসায়। হায়দরাবাদ হোক বা দুবাই অথবা করাচি, হাতে হাত রেখে হাসিমুখে দেখা গিয়েছে দু’জনকে। পাকিস্তানের প্রাক্তন ক্রিকেট অধিনায়ককে বিয়ে করলেও সানিয়া ভারতের হয়েই টেনিস খেলে গিয়েছেন। শোয়েবও ঘরজামাই হয়ে সচিন তেন্ডুলকরদের সতীর্থ হওয়ার চেষ্টা করেননি।

সমাজমাধ্যমে মাঝেমধ্যেই ভেসে উঠত সানিয়া-শোয়েবের ছবি। একসঙ্গে। পাশাপাশি। চোখে চোখ। হাতে হাত। সেই সমাজমাধ্যমও এ বার চুপ। সানিয়াকে বিবাহবার্ষিকীর শুভেচ্ছা জানাননি শোয়েব। টেনিস তারকাও বিশেষ দিনের কথা ভাগ করে নেননি অনুরাগীদের সঙ্গে। কিছু আগেও সানিয়ার জন্মদিনে শুভেচ্ছা জানিয়েছিলেন শোয়েব। গত কয়েক মাসে তাদের পারিবারিক পোস্ট বলতে ছেলে ইজ়হানের সঙ্গে। কোথাও শোয়েবের সঙ্গে সানিয়া নেই। সানিয়ার পাশেও শোয়েব নেই। কোথাও নেই বিয়ের জন্মদিনের কথা।

বিচ্ছেদ নিয়ে কেউ মুখ খোলেননি। পরস্পরকে কখনও দোষারোপ করেননি। এই সংক্রান্ত প্রশ্নের জবাব এড়িয়ে গিয়েছেন দু’জনেই। সানিয়া টেনিসকে বিদায় জানিয়েছেন। শোয়েব এখনও টেনে নিয়ে চলেছেন ক্রিকেটজীবন। পাক অভিনেত্রী আয়েষা ওমরের সঙ্গে শোয়েবের ঘনিষ্ঠতাকে কেন্দ্র করে শুরু হয়েছিল সম্পর্কের টানাপড়েন। সেই ফাটল ক্রমশ বেড়েছে। অবশেষে শোয়েব বিয়ে করলেন সানা জাভেদকে।

বিয়ের পর অবশ্য সানিয়ার চলা ফেরা ও স্বল্প ড্রেসে টেনিস খেলাটা নিয়ে অনেকে বিরুপ মন্তব্য করেছিলোন। কিন্তু শোয়েব তাতে খুব একটা প্রতিক্রিয়া দেখাননি। প্রায় ১৩ বছরের দাম্পত্য জীবনে কোন চন্দ পতন ঘটেনি। কিন্তু ২০২৪ সালে এসে হঠাৎ শোয়েবের বিয়ে তাদের ভক্তদের হৃদয়ে ক্ষরণ হচ্ছে। হওয়াটা স্বাভাবিক, কেননা সানিয়া ও শোয়েবের বিয়ে দুই দেশের কাঁটাতারের বিভেদে গোলাপের মুগ্ধতা ছড়িয়ে দিয়েছিলো।

জনপ্রিয় অভিনেত্রী সানা জাবেদ অভিনয় জগতে বিচরণ করেন ২০১২ সালে। শোয়েবের মতো সানা জাভেদও বিয়ে করেছিলেন। সানা জাভেদের আগে শোয়েব মালিক বিয়ে করেছেন আরো ২টি।

 

প্রথম বিয়ে করেছিলেন আয়েশা সিদ্দিকীর সঙ্গে। ২০১২ সালে তিনি ভারতের টেনিস তারকা সানিয়া মির্জাকে বিয়ে করেন।

সূত্র: আনন্দবাজার পত্রিকা

পূর্ববর্তী শহীদ আসাদের আত্মত্যাগ আমাদের প্রেরণা যোগাবে: প্রধানমন্ত্রী
পরবর্তী বাণিজ্যমেলায় ভোক্তারা প্রতারিত হবে না: বাণিজ্য প্রতিমন্ত্রী