বেশি মিষ্টি খেলে ডায়াবেটিস হয় না বলছেন চিকিৎসকরা

বেশি মিষ্টি খেলে ডায়াবেটিস হয় না - লাইফস্টাইল - ১৪ নভেম্বর ২০২৩
বেশি মিষ্টি খেলে ডায়াবেটিস হয় না - লাইফস্টাইল - ১৪ নভেম্বর ২০২৩

www.HelloBangla.News – লাইফস্টাইল – ১৪ নভেম্বর, ২০২৩: আমরা অনেকে জানি মিষ্টি বেশি খেলে ডায়াবেটিস হয়। আসলে এটা একটা ভুল ধারণা। চিকিৎসকরা বলছেন চিনি বা মিষ্টি বেশি খাওয়ার সঙ্গে ডায়াবেটিস হওয়ার সরাসরি কোনও যোগসূত্র নেই। তবে চিনি বা মিষ্টি খাওয়ার সঙ্গে ডায়াবেটিস হওয়ার যেমন সরাসরি সম্পর্ক নাই- এটা যেমন সত্য, যদি বেশি মিষ্টি খেতে অভ্যস্ত হন, তাহলে মুটিয়ে যেতে পারেন। আর মুটিয়ে গেলে ডায়াবেটিস হতে সাহায্য করে।

যুক্তরাষ্ট্রের স্বাস্থ্য বিষয়ক ওয়েবসাইট মেডিক্যাল নিউজ টুডে’তে বলা হয়েছে, প্রচুর চিনি খাওয়ার কারণে সরাসরি ডায়াবেটিস হয় না। কিন্তু এটি স্থূলতা, হৃদরোগ এবং ডায়াবেটিসের সঙ্গে সম্পর্কিত অন্যান্য স্বাস্থ্য সমস্যার ঝুঁকি বাড়াতে পারে। ফলে ওই ব্যক্তি সহজেই ডায়াবেটিসে আক্রান্ত হতে পারে।

 

যে সব লক্ষণ দেখলে সতর্ক হতে হবে:

ডায়াবেটিস হলে সাধারণত মানুষের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কমে যায়। ফলে এর নির্দিষ্ট কোন লক্ষণ না থাকলেও শরীরে বিশেষ কিছু বৈশিষ্ট্যের উপস্থিতি ডায়াবেটিসের জানান দিতে পারে।

 

যেমন:

(১) ঘনঘন প্রস্রাব হওয়া ও পিপাসা লাগা

(২) দুর্বল লাগা ও ঘোর ঘোর ভাব আসা

(৩) ক্ষুধা বেড়ে যাওয়া

(৪) সময়মতো খাওয়া-দাওয়া না হলে রক্তের শর্করা কমে যাওয়া

(৫) মিষ্টি জাতীয় জিনিসের প্রতি আকর্ষণ বেড়ে যাওয়া

(৬) কোন কারণ ছাড়াই ওজন অনেক কমে যাওয়া

(৭) শরীরে ক্ষত বা কাটাছেঁড়া হলেও দীর্ঘদিনেও সেটা না সারা

(৮) চামড়ায় শুষ্ক, খসখসে ও চুলকানি ভাব

(৯) বিরক্তি ও মেজাজ খিটখিটে হয়ে ওঠা

(১০) চোখে কম দেখতে শুরু করা

 

 

ডায়াবেটিস ঠেকানোর কিচু পরামর্শ

ডায়াবেটিস ঠেকানোর কিচু পরামর্শ দিয়েছেনর চিকিৎসকরা। কেউ যদি বংশগতভাবে ডায়াবেটিসে আক্রান্ত হয়, তবে খুব বেশি কিছু করার থাকে না। তবে পারিপার্শ্বিক প্রভাবের ক্ষেত্রে কিছু বিষয় মেনে চললে ডায়াবেটিস ঠেকানো যেতে পারে।

 

যেমন:

১. প্রতিদিন এক ঘণ্টা হাঁটা:

বর্তমান সময়ে জীবনযাপনের ধরনের কারণে খুব কম সংখ্যক মানুষ কায়িক পরিশ্রম করেন। আর এই ডায়াবেটিসে আক্রান্ত হবার প্রবণতাকে উসকে দেয়।

এজন্য প্রতিদিন নিয়ম করে অন্তত এক ঘণ্টা হাঁটতে হবে। পাশাপাশি নিয়মিত ব্যায়ামের অভ্যাস গড়ে তুলতে হবে। খেলাধুলা বাড়ানো যেতে পারে।

 

২. জীবনধারা বদলানো:

এছাড়া যাদের পরিবার বা বাবা-মায়ের ডায়াবেটিস হওয়ার ইতিহাস রয়েছে, তাদের এই রোগে আক্রান্ত হওয়ার আগেই জীবনযাপনের ধরন পাল্টানো উচিত।

যেমন- নিয়মিত খাবার খাওয়া, নিয়ম মেনে সকালে ঘুম থেকে ওঠা এবং রাতে ঘুমাতে যাওয়া, যানবাহন ব্যবহার কমিয়ে হাঁটাচলা বাড়ানো, মিষ্টি জাতীয়, ফাস্টফুড ও তৈলাক্ত খাবার পরিহার করা ইত্যাদি।

 

৩. ধূমপান ও মদ্যপান ছেড়ে দেয়া:

ডায়াবেটিস রোগ ঠেকাতে যেসব খারাপ অভ্যাস সবার আগে বাদ দিতে হবে, তার মধ্যে রয়েছে ধূমপান ও মদ্যপানের অভ্যাস। কারণ এগুলো ডায়াবেটিসে আক্রান্ত হওয়ার সম্ভাবনা অনেক বাড়িয়ে দেয়।

 

৪. অস্বাস্থ্যকর খাবার বাদ দেয়া:

সাধারণ মিষ্টিজাতীয় খাবার, প্রক্রিয়াজাত খাবার, ফাস্টফুড, কোমল পানীয়, ভারী খাবার স্থূলতার ঝুঁকি অনেক বাড়িয়ে দেয়। ফলে শরীরের ওজনের দিকে লক্ষ্য রাখতে হবে, যাতে কোনভাবেই অতিরিক্ত ওজন বা মুটিয়ে যাওয়া না হয়।

এজন্য বিশেষজ্ঞরা এ ধরনের খাবার যথাসম্ভব এড়িয়ে চলার পরামর্শ দেন।

এছাড়া এক বেলা পেট ভরে না খেয়ে পরিমাণে অল্প অল্প করে বিরতি দিয়ে খাওয়া।

 

৫. রক্তে চিনির মাত্রার ওপর নজর রাখুন:

যাদের শিশুর ঘনিষ্ঠ স্বজনদের ডায়াবেটিসের ইতিহাস রয়েছে, তাদের বছরে অন্তত একবার করে পরীক্ষা করাতে হবে। সেই সঙ্গে বছরে অন্তত একবার লিপিড প্রোফাইল ও রক্তে কোলেস্টেরলের মাত্রাও পরীক্ষা করে দেখতে হবে।ফলে ডায়াবেটিস আক্রান্ত হলেও দ্রুত তা শনাক্ত হবে।

তবে সব চেষ্টা সত্ত্বেও কারও কারও ডায়াবেটিস হতে পারে। সে ক্ষেত্রে আক্রান্ত ব্যক্তি যদি ডায়াবেটিসকে সম্পূর্ন নিয়ন্ত্রণে রাখে, তাহলে তিনি একদম সুস্থ স্বাভাবিক জীবন যাপন করতে পারবেন বলে জানিয়েছেন চিকিৎসকরা।

সূত্র: বিবিসি বাংলা

পূর্ববর্তী পরিসংখ্যান বলছে সেমিফাইনাল ম্যাচটি ভারতের জন্য কঠিন পরীক্ষা
পরবর্তী মেট্রো ট্রেন চলাচলের সময় বাড়ল