নোবেল শান্তি পুরস্কার বিজয়ী মার্কিন কূটনীতিক হেনরি কিসিঞ্জারের মৃত্যু

মার্কিন কূটনীতিক হেনরি কিসিঞ্জারের মৃত্যু - আন্তর্জাতিক - ৩০ নভেম্বর ২০২৩ (ফাইল ছবি)
মার্কিন কূটনীতিক হেনরি কিসিঞ্জারের মৃত্যু - আন্তর্জাতিক - ৩০ নভেম্বর ২০২৩ (ফাইল ছবি)

www.HelloBangla.News – আন্তর্জাতিক – ৩০ নভেম্বর, ২০২৩: বহুল আলোচিত নোবেল শান্তি পুরস্কার বিজয়ী এবং প্রভাবশালী মার্কিন কূটনীতিক হেনরি কিসিঞ্জার মরা গেছেন।

দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ পরবর্তী মার্কিন কূটনীতির প্রতীক ছিলেন হেনরি কিসিঞ্জার। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ১০০ বছর। স্থানীয় সময় বুধবার (২৯ নভেম্বর) রাতে কিসিঞ্জার অ্যাসোসিয়েটসের পক্ষ থেকে এক বিবৃতিতে তার মৃত্যুর খবর জানানো হয়। এতে বলা হয়, কানেকটিকাট অঙ্গরাজ্যে নিজ বাড়িতে তিনি মারা যান।

আজ বৃহস্পতিবার (৩০ নভেম্বর) এক প্রতিবেদনে এই তথ্য জানিয়েছে বিশ্বের প্রভাবশালী গণমাধ্যম বার্তাসংস্থা রয়টার্স।

কিসিঞ্জার অ্যাসোসিয়েটস জানিয়েছে, সাবেক দুই মার্কিন প্রেসিডেন্টের অধীনে কাজ করে মার্কিন পররাষ্ট্র নীতিতে ব্যাপক প্রভাব রেখে যাওয়া এই কূটনীতিক কানেকটিকাটে তার বাড়িতে মারা গেছেন।

রয়টার্স বলছে, চলতি বছরের মে মাসেই শতবর্ষ পার করেন হেনরি কিসিঞ্জার। কিন্তু এরপরও নানা কর্মকাণ্ডে সক্রিয় ছিলেন তিনি। তিনি হোয়াইট হাউসে মিটিংয়ে অংশ নিয়েছিলেন, নেতৃত্বের শৈলীর ওপর একটি বই প্রকাশ করেছিলেন এবং উত্তর কোরিয়ার সৃষ্ট পারমাণবিক হুমকি সম্পর্কে সিনেট কমিটির সামনে সাক্ষ্যও দিয়েছিলেন।

আর ২০২৩ সালের জুলাই মাসে তিনি চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের সাথে দেখা করতে আকস্মিক সফরে বেইজিংয়ে যান।

১৯৭০-এর দশকে রিপাবলিকান প্রেসিডেন্ট রিচার্ড নিক্সনের অধীনে সেক্রেটারি অব স্টেট তথা পররাষ্ট্রমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করার সময় তৎকালীন সময়ের বহু যুগ-পরিবর্তনকারী বৈশ্বিক ইভেন্টে তার হাত ছিল।

তার প্রচেষ্টায় চীনের সঙ্গে কূটনৈতিক সম্পর্কের সূচনা, মার্কিন-সোভিয়েত অস্ত্র নিয়ন্ত্রণ আলোচনা, ইসরায়েল এবং তার আরব প্রতিবেশীদের মধ্যে সম্প্রসারিত সম্পর্ক এবং উত্তর ভিয়েতনামের সাথে প্যারিস শান্তি চুক্তি ছিল তার সেই কূটনৈতিক দক্ষতারই প্রমাণ।

১৯৭৪ সালে নিক্সনের পদত্যাগের পর মার্কিন পররাষ্ট্রনীতির প্রধান স্থপতি হিসেবে কিসিঞ্জারের রাজত্ব অনেকটা ক্ষয় হয়ে যায়। তারপরও প্রেসিডেন্ট জেরাল্ড ফোর্ডের অধীনে তিনি কূটনৈতিক শক্তি হিসেবে কাজ করেছেন এবং তার বাকি জীবনজুড়ে কূটনীতি-সংশ্লিষ্ট নানা বিষয়ে তিনি দৃঢ় মতামত প্রদান অব্যাহত রেখেছিলেন।

উল্লেখ্য, গত ২৭ মে হেনরি কিসিঞ্জার তার শতবর্ষ উদযাপন করেন। মার্কিন ইতিহাসে তিনিই একমাত্র কর্মকর্তা যিনি পররাষ্ট্রমন্ত্রী এবং প্রেসিডেন্টের জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা হিসেবে উভয় দায়িত্ব পালন করেছেন।

১৯২৩ সালের ২৭ মে জার্মানির এক ইহুদি পরিবারে জন্ম নেন কিসিঞ্জার। পরে ১৯৩৪ সালে তার পরিবার পালিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কে যায়। ওই শহরেই বেড়ে ওঠেন কিসিঞ্জার। ১৯৪৩ সালে কিসিঞ্জার মার্কিন নাগরিকত্ব লাভ করেন। তিনি দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় ইউরোপে মার্কিন সামরিক বাহিনীতে কর্মরত ছিলেন। পরে হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ১৯৫২ সালে মাস্টার ডিগ্রি  এবং  ১৯৫৪ সালে ডক্টরেট ডিগ্রি লাভ করেন।

তাকে ১৯৭৩ সালে নোবেল শান্তি পুরষ্কার দেওয়া হয় হেনরি কিসিঞ্জারকে। ভিয়েতনামের লি ডাক থোর সাথে নোবেল শান্তি পুরষ্কার দেয়া হলে, মি. থো সেই পুরষ্কার গ্রহণে অস্বীকৃতি জানান।

পূর্ববর্তী তফসিল ঘোষণার আগে ও পরের পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করা হয়েছে: টিআইবি
পরবর্তী বাংলাদেশের শিল্পকলা একাডেমির নবনিযুক্ত কর্মচারীদের প্রশিক্ষণ অনুষ্ঠিত