দেশের ভাঙাচোরা শিক্ষা ব্যবস্থা আর রাখা হবে না: জামায়াতের আমির

দেশের ভাঙাচোরা শিক্ষা ব্যবস্থা আর রাখা হবে না জামায়াতের আমির - রাজনীতি - ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২৫ (ফাইল ছবি)
দেশের ভাঙাচোরা শিক্ষা ব্যবস্থা আর রাখা হবে না জামায়াতের আমির - রাজনীতি - ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২৫ (ফাইল ছবি)

www.HelloBangla.News – রাজনীতি – ২৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৫: দেশের ভাঙাচোরা শিক্ষা ব্যবস্থা আর রাখা হবে না বলে জানিয়েছেন জামায়াতের আমির ডা. শফিকুর রহমান। তিনি বলেন, “বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী ক্ষমতায় আসার সুযোগ পায় ভাঙাচোরা শিক্ষা ব্যবস্থা আর রাখা হবে না। এমন শিক্ষা ব্যবস্থা চালু করা হবে, যা মানুষকে কেবল জ্ঞান নয়, নৈতিকতা শেখাবে।”

আজ শনিবার (২৭ সেপ্টেম্বর) দুপুরে রাজধানীর কাকরাইলে অবস্থিত ইনস্টিটিউট অব ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার্স বাংলাদেশ ভবনে ফোরাম অব ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার্স বাংলাদেশের (এফডিইবি) বার্ষিক কাউন্সিল অধিবেশনে প্রধান অতিথির ভাষণে তিনি এসব অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন।

জামায়াতের আমির বলেন, “আমরা ক্ষমতায় এলে দাবি আদায়ে কাউকে এক মিনিটের জন্যও কর্মস্থল ফেলে রাস্তায় আসতে হবে না। ইনসাফের ভিত্তিতে যার যেটা পাওনা সেটা তার হাতে তুলে দেওয়া হবে।”

ডা. শফিকুর রহমান বলেন, “ভাঙাচোরা শিক্ষা ব্যবস্থা আর রাখা হবে না। এমন শিক্ষা ব্যবস্থা চালু করা হবে, যা মানুষকে কেবল জ্ঞান নয়, নৈতিকতা শেখাবে।”

তিনি বলেন, “যে শিক্ষা মানুষকে অনৈতিক করে, দুর্নীতিগ্রস্ত করে, ইতর প্রাণীতে পরিণত করে সেই শিক্ষা দেবো না। যে শিক্ষা মানুষকে মানুষ বানায়, প্রত্যেকটা মানুষকে সম্মান দিতে শেখায়, মর্যাদা দিতে শেখায় আমরা সেই শিক্ষাটা দেবো। এই শিক্ষার সঙ্গে নৈতিক ও বৈষয়িক শিক্ষার সম্মিলনে ছেলে বা মেয়ে তার যোগ্যতা অনুযায়ী কাজ পাবে।”

জামায়াতের আমির বলেন, “শুধু ডিগ্রির ভিত্তিতে এই কল্যাণ রাষ্ট্রে কারও মর্যাদা নির্ধারণ হবে না। কাজের ভিত্তিতে মর্যাদা নির্ধারণ করা হবে।”

ডা. শফিকুর রহমান বলেন, “কোনো যুবক-যুবতী কাজের বাইরে থাকবে না। কাজ যেটাই হোক সে কাজে থাকবে। হয় উদ্যোক্তা নয়তো চাকরিজীবী। যারাই সমাজে উজাড় করে দেবে তারাই সম্মানিত হবে। তাদের দেখে সবাই উদ্যোগী ও উদ্যমী হব।”

তিনি আরও বলেন, “দেশে দুর্নীতির জোয়ার থামিয়ে দেওয়া হবে। এতে অনেকের অস্বস্তি তৈরি হবে, তবে ন্যায়ভিত্তিক সমাজ প্রতিষ্ঠার জন্য দুর্নীতি দমন জরুরি। একই সঙ্গে প্রতিটি সেবার গুরুত্ব ও গভীরতার ভিত্তিতে বেতন কাঠামো নির্ধারণ করা হবে।”

জামায়াতের আমির বলেন, “জনগণের আস্থা ও ন্যায্যতার ভিত্তিতে রাষ্ট্র পরিচালিত হলে আর কাউকে বঞ্চিত হতে হবে না। ইনসাফের মাধ্যমে প্রত্যেকেই তার প্রাপ্য অধিকার পাবে।”

ডা. শফিকুর রহমান বলেন, “আমাদের মানসিকতার পরিবর্তন করতে হবে। আল্লাহর দেওয়া হাত দিয়ে আমরা কারো হক নষ্ট করব না, কারো সম্পদের ওপর অন্যায়ভাবে হস্তক্ষেপ করব না। সূর্য তো একটাই, কিন্তু সে তো শুধু দুনিয়া নয়, প্রত্যেকটা উপগ্রহকে আলোকিত করে রাখে। আমাদের একেকটা সূর্য হয়ে আলো ছড়াতে হবে, দেশকে আলোকিত করতে হবে।”

পুলিশের উদাহরণ দিয়ে তিনি বলেন, “পুলিশের ২৪ ঘণ্টা ডিউটি। কখন ডাক পড়ে ঠিক নেই। অস্ত্র হাতে থাকলেও তাকে ঝুঁকি নিয়েই দায়িত্ব পালন করতে হয়। কারণ প্রতিপক্ষের কাছেও অস্ত্র আছে। কিন্তু তাকে যদি ফকিরের ভিক্ষার মতো বেতন দেওয়া হয়, সে ঝুঁকি নেবে কেন? যে কারণে সমাজের আজকের এ অবস্থা। তাকে তার কাজ অনুযায়ী পারিশ্রমিক বা বেতন দেওয়া উচিত।”

পূর্ববর্তী তরুণদের প্রকৃতিনির্ভর পর্যটনে আগ্রহ সৃষ্টিতে সরকার উদ্যোগ নিয়েছে: পরিবেশ উপদেষ্টা
পরবর্তী বিভিন্ন ইস্যুতে নির্বাচন বিলম্বিত করলে দেশে সংকট বাড়বে: আমীর খসরু