নির্বাচন ইন্টারন্যাশনাল ডাইমেনশন পেয়েছে: সিইসি

নির্বাচন ইন্টারন্যাশনাল ডাইমেনশন পেয়েছে সিইসি - জাতীয় - ৩১ ডিসেম্বর ২০২৩ (ফাইল ছবি)
নির্বাচন ইন্টারন্যাশনাল ডাইমেনশন পেয়েছে সিইসি - জাতীয় - ৩১ ডিসেম্বর ২০২৩ (ফাইল ছবি)

www.HelloBangla.News – জাতীয় – ৩১ ডিসেম্বর, ২০২৩: নির্বাচন ইন্টারন্যাশনাল ডাইমেনশন পেয়েছে, বলে জনিয়েছেন্ প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) কাজী হাবিবুল আউয়াল। তিনি বলেন, “আমরা জাতিসংঘের সদস্য। পৃথিবীর বিভিন্ন রাষ্ট্র, তাদের আগ্রহ ব্যক্ত করেছে। সরকার এবং আমাদের সঙ্গে তারা বারবার সাক্ষাত করছেন। তাদের প্রত্যাশা তারা ব্যক্ত করেছেন, তারা আশা করেন, দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনটা অবাধ, সুষ্ঠু হবে। তারা যখন আশা করেন, বুঝতে হবে খুব শক্তভাবেই আশা করেন। তাদের আশাটা অন্যায় নয়। আমরা যেহেতু গ্লোবাল কমিউনিটিতে বসবাস করি। আমরা গ্লোবাল কমিউনিটির সদস্য।”

আজ রবিবার (৩১ ডিসেম্বর) বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে আয়োজিত প্রশিক্ষণ কর্মসূচি উদ্বোধনকালে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটদের উদ্দেশ্যে তিনি এই বক্তব্য দেন। নির্বাচন কমিশন (ইসি) সচিব মো. জাহাংগীর আলমের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এই অনুষ্ঠানে নির্বাচন কমিশনার মো. আনিছুর রহমান, জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব মোহাম্মদ মেজবাহ উদ্দিন চৌধুরীসহ ইসির ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

তিনি বলেন, “সংসদ নির্বাচনে ২ হাজারের মতো অতিরিক্ত নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট নিয়োজিত থাকবে। এবারে নির্বাচনের আন্তর্জাতিক ডাইমেশনটা দেশের অর্থনীতি, সামাজিক স্বার্থে আমাদের মাথায় রাখতে হবে। কোনো রকম যদি অনাচার ধরা পড়ে, সেটা অবশ্যই ক্ষমতা দিয়ে প্রতিবিধান করবেন।”

তিনি বলেন, “বাংলাদেশ একটি প্রজাতন্ত্র। প্রজাতন্ত্র মানে হচ্ছে জনগণের নির্বাচিত প্রতিনিধির মাধ্যমে সরকার পরিচালিত হবে। নির্বাচনে যারা সংসদে বসবেন, সংখ্যাগরিষ্ঠ যারা তারাই সংবিধান গঠন করবেন। নির্বাচন আমাদের দ্বারপ্রান্তে। নির্বাচন নিয়ে দেশে দীর্ঘদিন ধরে বিতর্ক রয়েছে। নির্বাচনের গ্রহণযোগ্যতা প্রশ্নের যেমন বাগবিতণ্ডা হচ্ছে, সহিংসতাও হয়েছে। আমাদের নির্বাচনে আরেকটি কারণে মনোযোগী হতে হবে, কারণ রাজনৈতিক একটা অংশ নির্বাচন বর্জন করেছে। সাধারণত নির্বাচন খুব উৎসবমুখর হয়।”

সিইসি বলেন, “১৯৫৪ সালের যুক্তফ্রন্টের নির্বাচনের সময় নির্বাচনটা পরিচালনা করেছিল স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। সে নির্বাচনে মুসলীম লীগের ভরাডুবি হয়েছিল। অবাধ, নিরপেক্ষ নির্বাচন হয়েছে। এরপর সব সময়ই নির্বাচন উৎসমুখর হয়েছে। সে বিষয়টা এবার বিঘ্নিত হয়েছে, যেহেতু একটা অংশ নির্বাচন বর্জন করেছে। ১৪ সালে নির্বাচন বর্জন হয়েছিল, সহিংসতা হয়েছিল। সেটাও একটা চ্যালেঞ্জ, আপনারা জানেন। ১৮ সালের নির্বাচন নিয়েও কিছু বিতর্ক হয়েছে। নির্বাচন সার্বিকভাবে অংশগ্রহণমূলক ছিল। কোনো চ্যালেঞ্জ ছিল না। পরবর্তীতে সেটা নিয়ে কিছু বিতর্ক হয়েছে। যার ফলে আমাদের দেশে প্রচলিত যে নির্বাচনটা নিয়ে সার্বিক গ্রহণযোগ্যতা ক্ষুণ্ন হয়েছে।”

কাজী হাবিবুল আউয়াল বলেন, “এবারের নির্বাচনটা যে কোনো মূল্যে আমাদের প্রমাণ করতে হবে যে একটি সরকার তার দায়িত্বে থেকে নির্বাচন আয়োজন করতে পারে নির্বাচন কমিশনের মাধ্যমে, নির্বাচন কমিশন ইলেকশন ম্যানেজমেন্ট বডি, সরকার সেখানে সাংবিধানিকভাবে সাহায্য করতে বাধ্য। আবার সরকারের সহায়তা ছাড়া আমরা নির্বাচন করতে পারি না। ১৬ লাখ লোক ভোটের কাজে নিয়োজিত হবে। এতে আট লাখ ভোটগ্রহণ কর্মকর্তা, আট লাখ আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্য।”

নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটদের উদ্দেশ্যে সিইসি বলেন, “নির্বাচনে নিয়ে কোনো প্রশ্ন থাকবে না। নির্বাচন অবাধ, সুষ্ঠু হতে হবে। সেখানে আপনাদের যে দায়িত্বটা, সেটা আপনারা খুব স্পষ্টভাবে বুঝে নেবেন। যে দায়িত্বটা আরোপ করা হবে, সে দায়িত্বটা যদি ভালোভাবে বুঝে নেন, তাহলে দায়িত্ব পালন ও ক্ষমতা প্রয়োগে অনেক বেশি দক্ষ হবেন।”

তিনি বলেন, “নির্বাচনে ম্যাজিস্ট্রেটে দায়িত্ব অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। নির্বাচনে ভোটের দিন, ভোটের আগে আচরণ বিধি প্রতিপালনে কিছু অসদুপায় অবলম্বনের চেষ্টা হয়। যেমন সিল মেরে ব্যালট বাক্স ভরে দেওয়া, কেন্দ্র দখল হয়ে যাওয়া, এতে ভোটাররা ভোটটাকে প্রত্যাখ্যান করেন। আপনাদের  দায়িত্ব হচ্ছে তাৎক্ষণিক পদক্ষেপ গ্রহণের মাধ্যমে জনগণের মধ্যে আস্থা, বিশ্বাস গড়ে তুলবে হবে যে, নির্বাচনের পরিবেশ আছে, আপনারা নির্ভয়ে ভোটা দিতে পারবেন।”

প্রধান নির্বাচন কমিশনার আরো বলেন, “কোনো অবাঞ্ছিত লোককে কেন্দ্রে ঢুকতে দেবেন না। গণমাধ্যমের প্রতিনিধি ও পর্যবেক্ষকরা অবাধে প্রবেশ করতে পারবেন। তারা স্বাধীনভাবে প্রবেশ করে অবাধে বিচরণ ও প্রচার করতে পারবে।”

পূর্ববর্তী মেট্রোরেলের কারওয়ান বাজার ও শাহবাগ স্টেশন খুলেছে আজ
পরবর্তী পাঠ্যপুস্তক বিতরণ কার্যক্রমের উদ্বোধন করলেন প্রধানমন্ত্রী