www.HelloBangla.News – আন্তর্জাতিক – ২ অক্টোবর, ২০২৩ : অত্যাধুনিক এমআরএনএ করোনা টিকা আবিষ্কারে বিশেষ অবদান রাখার জন্য ২০২৩ সালে চিকিৎসা খাতে নোবেল পুরস্কার জয় করলেন ক্যাথিলন কারিকো এবং ড্রিউ ওয়েইসম্যান। আজ সোমবার (২ অক্টোবর) সুইডেনের নোবেল অ্যাসেম্বলি চিকিৎসায় চলতি বছরের নোবেলজয়ী হিসেবে এই দুই বিজ্ঞানীর নাম ঘোষণা করেছে।
চিকিৎসাবিজ্ঞানে এ বছর নোবেল পুরস্কার পেলেন দুই বিজ্ঞানী। তারা এমন এক প্রযুক্তি তৈরি করেন, যেটি এমআরএনএ কোভিড টিকা তৈরিতে অবদান রাখে। মহামারি শুরুর আগে এই প্রযুক্তি ছিল পরীক্ষামূলক। তবে এখন এই প্রযুক্তিতে তৈরি টিকা এখন বিশ্বের কোটি কোটি মানুষকে দেওয়া হয়েছে।
ক্যানসারসহ অন্যান্য রোগের ক্ষেত্রে একই ধরনের এমআরএনএ প্রযুক্তি নিয়ে এখন গবেষণা চলছে।
নোবেল কমিট বলছে, আধুনিক যুগে মানবস্বাস্থ্যের বড় হুমকির সময়ে এই দুই বিজ্ঞানী নজিরবিহীন হারে টিকা তৈরিতে অবদান রাখেন। টিকা মানবদেহের ইমিউন সিস্টেমকে প্রশিক্ষণ দেয়, যাতে ভাইরাস বা ব্যাকটেরিয়ার মতো হুমকি শনাক্ত করতে পারে এবং এদের বিরুদ্ধে লড়তে পারে।
প্রচলিত টিকা প্রযুক্তি প্রকৃত ভাইরাস বা ব্যাকটেরিয়ার মৃত বা দুর্বল সংস্করণ ব্যবহার করে বা সংক্রামক এজেন্টের টুকরো ব্যবহার করে তৈরি করা হয়। বিপরীতে এমআরএন টিকাগুলো সম্পূর্ণ ভিন্ন পদ্ধতি ব্যবহার করে।
করোনা মহামারির সময়ে মডার্না ও ফাইজার/ বায়োনটেক টিকাগুলো এমআরএনএ প্রযুক্তি ব্যবহার করে তৈরি করা হয়।
ক্যারিকো ও ওয়েইসম্যান ১৯৯০ এর দশকের শুরুতে যুক্তরাষ্ট্রের ইউনির্ভার্সটি অব পেনসেলভেনিয়ায় প্রথম একত্রে কাজ করতে শুরু করেন।
করোনা টিকা প্রস্তুতের ক্ষেত্রে সর্বাধুনিক প্রযুক্তির নাম ম্যাসেঞ্জার আরএনএ বা এমআরএনএ। মার্কিন কোম্পানি ফাইজার ও মডার্নার করোনা টিকা এমআরএনএ প্রযুক্তির। এই প্রযুক্তিতে টিকা প্রস্তুতে মৃত বা বিশেষভাবে প্রক্রিয়াজাত জীবাণু ব্যবহার করা হয় না। বরং ব্যবহার করা হয় এক ধরনের প্রোটিন, যা দেহের অভ্যন্তরে প্রবেশের পর কোনো নির্দিষ্ট জীবাণুর বিরুদ্ধে মানবদেহের সহজাত প্রতিরোধ ব্যবস্থাকে শক্তিশালী করে।
এই এমআরএনএ প্রযুক্তিকে কার্যকর করতে মানবকোষের প্রধান অংশ নিউক্লিয়াসের অনুপুঙ্খ গবেষণা জরুরি ছিল। এই দুই বিজ্ঞানী সেই কাজটিই করেছেন। তাদের ‘নিউক্লিওসাইড বেইজড মডিফিকেশন’ গবেষণার সাফল্যই এমআরএনএ করোনা টিকার আগমনের পথ সুগম করে।
২০১৯ সালের ডিসেম্বরে চীনের উহান শহরে প্রথম সার্স-কোভ-২ ভাইরাসে আক্রান্ত রোগী শনাক্ত হয়। পরে সাধারণভাবে এই ভাইরাসটি পরিচিতি পায় নতুন বা নভেল করোনাভাইরাস নামে। করোনায় প্রথম মৃত্যুর ঘটনাটিও ঘটেছিল উহানেই।
তারপর অবিশ্বাস্য দ্রুতগতিতে ভাইরাসটি ছড়িয়ে পড়তে থাকায় ২০২০ সালের জানুয়ারিতে বিশ্বজুড়ে জরুরি পরিস্থিতি ঘোষণা করে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও); কিন্তু তাতেও কাজ না হওয়ায় অবশেষে ওই বছর ১১ মার্চ করোনাকে মহামারি ঘোষণা ডব্লিউএইচও।
বৈশ্বিক করোনা পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণকারী ওয়েবসাইট ওয়ার্ল্ডোমিটার্সের তথ্য অনুযায়ী, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা করোনাকে মহামারি হিসেবে ঘোষণার পর থেকে এ পর্যন্ত বিশ্বজুড়ে এই ভাইরাসের সংক্রমণে মারা গেছেন ৬৯ লাখ ২১ হাজার ৮১৯ জন। এই মৃতের মিছিলে বাংলাদেশিদের সংখ্যা ২৯ হাজার ৪৭৭ জন।
ক্যাথিলন কারিকো ১৯৫৫ সালে জন্মগ্রহণ করেন। তিনি হাঙ্গেরির সেজড বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক এবং পেনসিলভানিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের পেরেলম্যান স্কুল অফ মেডিসিনের সহযোগী অধ্যাপক। ড্রিউ ওয়েইসম্যান ভ্যাকসিন গবেষণার অধ্যাপক এবং পেন ইনস্টিটিউট ফর আরএনএ ইনোভেশনের ডিরেক্টর।










