Category: লাইফস্টাইল

  • রান্না: ভ্যালেন্টাইন কেক

    রান্না: ভ্যালেন্টাইন কেক

    www.HelloBangla.News – লাইফস্টাইল – ১৪ ফেব্রুয়ারি, ২০২৪: কেক একটি জনপ্রিয় ডেজার্ট। বিভিন্ন  অনুষ্ঠানে কেক আজকাল থাকা চাই। বিয়ে, গায়ে হলুদ, পানচিনি আর জন্মদিন তো আছেই। তবে কেকের ও কিন্তু প্রকারভেদ লক্ষ করা যায়। চকলেট,ভ‍্যনিলা, মাড, ময়েস্ট, ভেলভেট, ফ্রুট, আরো অনেক  রকম। আজ ভালবাসা দিবসে আমি আপনাদের জন্য  এনেছি খুব মজার ব্লুবেরি চিজ কেক। চলুন দেখে নেই কিভাবে কেকটি বাড়িতেই সহজে বানানো যায়।

     

    উপকরণ:  

    ময়দা-হাফ কাপ, বেকিং পাউডার-হাফ চা চামচ, বেকিং সোডা-এক চিমটি, কোকপাউডার-এক টেবিল চামচ, ভ্যানিলা পাউডার-এক চা চামচ, কর্ন ফ্লাওয়ার-দেড় টেবিল চামচ, চিনি-হাফ কাপ, তেল                     তিন ভাগের এক ভাগ, বাটাররমিল্ক-দুই টেবিল চামচ, ডিম-তিন টা।

    রেসিপি দিয়েছেন জিনিয়া ইসলাম (২)
    রেসিপি দিয়েছেন জিনিয়া ইসলাম (২)

    প্রস্তুত প্রণালী :

    প্রথমে কেক মোল্ডে তেল ব্রাশ করে বেকিং পেপার লাগিয়ে নিবো। ওভেন প্রি হিট করতে হবে ১৮০ ডিগ্রি তাপমাত্রায় ১০ মিনিট।

    এর মাঝে শুকনা উপকরন গুলি চেলে নিয়ে ঢেকে রাখতে হবে।

    একটা বাটিতে ডিমের সাদা অংশ বিট করবো। চিনি দিবো তবে তিনবারে। অল্প অল্প করে। ফোম স্টিফ পিক হলে ডিমের কুসুম দিবো এবং বিট করবো। এখন তেল ও বাটার মিল্ক  দিবো। এখন বিটার দিয়ে বিট করবোনা। হুইস্ক দিয়ে  নারবো। এর মধ্যে এখন শুকনা উপকরণ গুলি অল্প অল্প করে দিতে হবে প্রায় দুই থেকে তিন বারে। এবং হুইস্ক দিয়ে ফোল্ড কাট করে নিবো। কেক মোল্ডে ঢেলে ওভেনে দিবো ৩০ মিনিট। ওভেন থেকে ৩০ মিনিট পর নামিয়ে ভেজা কাপড় দিয়ে ঢেকে রাখবো। নরমাল হলে ফ্রিজে  রাখবো।

    সাজানোটা আসলে নিজের মতো করেই সাজানো  যায়। তবে এই কেকটি  ক্রিমচিজ ব্যাবহার করলে অথেনটিক টেস্ট পাওয়া যায়।

    ক্রিম চিজ-এক কাপ, হুইপড ক্রিম-এক কাপ, সুগার সিরাপ-হাফ কাপ।

    কেক ঠান্ডা হলে স্লাইস করে নিতে হবে। ক্রিমচিজ ও হুইপড ক্রিম ভালো  করে বিট করে নিতে হবে।

    কেকের লেয়ারে সুগার সিরাপ দিয়ে  উপরে চিজের ক্রিমও ব্লু বেরি ফিলিং  ছড়িয়ে দিবো। এভাবে প্রতিটা লেয়ারে দিবো। ক্রাম্ব কোড করে ফ্রিজে রেখে দিবো দুই ঘন্টা। দুই ঘন্টা পর বের করে বাকি চিজক্রিম দিয়ে ফ্রস্টিং করে নিবো পুরা কেকটা।  বিভিন্ন ধরনের নজেল দিয়ে আপনি ফুল বানিয়ে নিতে পারেন।

    ক্রিমচিজের সাথে বেগুনি ফুড কালার দিয়ে বিট করে কেক সাজাতে পারেন। উপরে অবশ্যই ব্লুবেরীর ফিলিং দিতে হবে টপিং এ।

    মনের মতো সৌন্দর্যের রূপ দিয়ে আপনি ভালোবাসা দিবসে বানিয়ে সবাইকে চমকে  দিতে পারেন।

    রেসিপি দিয়েছেন: জিনিয়া ইসলাম

  • সিপিআর চিকিৎসা পদ্ধতি সবার জানা থাকলে অন্যের জীবন রক্ষা করা সম্ভব

    সিপিআর চিকিৎসা পদ্ধতি সবার জানা থাকলে অন্যের জীবন রক্ষা করা সম্ভব

    www.HelloBangla.News – লাইফস্টাইল  – ১০ ফেব্রুয়ারি, ২০২৪: কেউ অসুস্থ হয়ে জ্ঞান হারালে, তার হৃদস্পন্দন বন্ধ হয়ে গেলে বা শ্বাস প্রশ্বাস চালু না থাকলে, সেই ব্যক্তিকে ‘কার্ডিওপালমোনারি রিসাসিটেশন’ বা সংক্ষেপে ‘সিপিআর’ দিতে হয়। এই জরুরি প্রাথমিক চিকিৎসা পদ্ধতি জানা থাকলে তা আশীর্বাদ হয়ে আসতে পারে হঠাৎ এক অসুস্থ ব্যক্তির জন্য ।

    সিপিআর এর মাধ্যমে ঐ ব্যক্তির ফুসফুসে অক্সিজেন দেওয়া হয়, একই সাথে শরীরে অক্সিজেনযুক্ত রক্ত সঞ্চালন করতে থাকে, ফলে জীবন বাঁচানোও সম্ভব নয়। সিপিআর বিশ্ব জুড়ে বহুল প্রচলিত এক জরুরি চিকিৎসা পদ্ধতি।

    আমরা সিনেমা বা নাটকে দেখেছি, কোনও অচেতন ব্যক্তির বুকের উপর দুহাত রেখে বারবার চাপপ্রয়োগ করা হচ্ছে এবং তার মুখে শ্বাস দেয়া হচ্ছে, যার ফলে ঐ ব্যক্তির জ্ঞান ফিরে আসছে। এটাকেই সিপিআর বলে।

    তবে এর সঠিক পদ্ধতি যেমন জানা দরকার, তেমনি কোন ক্ষেত্রে সিপিআর দেওয়া যেতে পারে সেটাও জেনে রাখতে হবে। স্বাস্থ্যকর্মীদের তো অবশ্যই সিপিআর প্রশিক্ষণ নিতে হয়, আবার বিভিন্ন বিশেষ বাহিনী আর সংস্থার লোকজনেরও বাধ্যতামূলক সিপিআর প্রশিক্ষণ থাকে। তবে বিশেষজ্ঞরা মনে করেন সাধারণ মানুষদেরও তাদের নিজেদের স্বার্থেই সিপিআর প্রক্রিয়া সম্পর্কে জানা উচিত। যা বিশ্বের অনেক দেশে ছোট থেকেই ট্রেনিং দেওয়ানো হয়। বিশ্বের অনেক দেশে স্কুল-কলেজে সিপিআর ট্রেনিং দেয়া হয়।

    তবে বাংলাদেশে এর যথেষ্ট ঘাটতি দেখা যায়, অনেকেই এই জীবন রক্ষাকারী সিপিআর এর ব্যাপারে সচেতন নন।

     

     

    সিপিআর কখন দিতে হবে:

    “আপনার সামনে যদি কারো কার্ডিয়াক অ্যারেস্ট হয়, তাহলে দ্রুত ৯৯৯-এ ফোন করুন এবং সিপিআর দেওয়া শুরু করুন,” ব্রিটিশ হার্ট ফাউন্ডেশনের ওয়েবসাইটে এমনটাই বলা আছে।

    অনেকটা একই রকম কথা বলছে যুক্তরাজ্যের জাতীয় স্বাস্থ্য সেবা বিভাগ। তাদের ভাষায়, “যদি কেউ অজ্ঞান হয়ে যায় এবং স্বাভাবিক শ্বাস-প্রশ্বাস না নেয় তাহলে ৯৯৯-এ ফোন করতে হবে এবং সিপিআর দেওয়া শুরু করতে হবে।”

    বিশ্বজুড়ে স্বেচ্ছাসেবীদের প্রাথমিক চিকিৎসা প্রশিক্ষণ দিয়ে থাকে রেড ক্রস ও রেড ক্রিসেন্ট।

    আমেরিকান রেড ক্রসের ভাষ্য অনুযায়ী, সিপিআর বা কার্ডিওপালমোনারি রিসাসিটেশন কারও কার্ডিয়াক অ্যারেস্টের সময় জীবন বাঁচাতে সাহায্য করে থাকে। যখন হৃদযন্ত্রের ক্রিয়া বন্ধ হয় অথবা হার্টবিট নিয়মিত না হয়, তখন মস্তিষ্কে ও অন্যান্য জরুরি প্রত্যঙ্গে রক্ত সঞ্চালন স্বাভাবিক থাকে না। ফলে তা মস্তিষ্কের উপর প্রভাব ফেলে, যার কারণে অনেক সময় ব্যক্তি মারাও যেতে পারে। কিন্তু সিপিআর দিলে বেঁচে থাকার সম্ভাবনা অনেক বেড়ে যায়।

     

    চিকিৎসক বলেন, কেউ জোরে আঘাত পেলে বা পড়ে গেলে, যদি দেখা যায় যে তার হার্ট বন্ধ হয়ে আসছে, তিনি মাটিতে শুয়ে পড়ছেন তখন সিপিআর শুরু করলে তাকে বাঁচানোর সময় পাওয়া যায়।“

    এরকম পরিস্থিতি যেমন হৃদরোগ থেকে হতে পারে, তেমনি ইলেকট্রিক শক, জোরে আঘাত, পানিতে ডুবে, শরীরে বড় ধরনের ইনফেকশন থাকা, এমন নানা কারণেই হতে পারে – যাতে করে হৃদযন্ত্র কাজ করা বন্ধ করে দেয়। আর এমন সময় গুলোতেই জরুরি ভিত্তিতে সিপিআর দেয়ার কথা বলছেন চিকিৎসকরা। তবে সিপিআর দ্রুত একেবারে প্রথম অবস্থাতেই শুরু করা জরুরি ।

     

    সিপিআরের সাতটি ধাপ রয়েছে:

    • যেখানে প্রথম ধাপেই নিরাপত্তার দিকটা দেখতে বলা হয়েছে। অর্থাৎ আক্রান্ত ব্যক্তির আশেপাশে আগুন বা পানির মতো কোন বিপদ আছে কি না, তিনি রাস্তার মাঝখানে কি না ইত্যাদি বিষয়। প্রয়োজনে পিপিই বা পারসোনাল প্রটেক্টিভ ইকুইপমেন্ট ব্যবহারের কথা বলা হয়েছে।
    • দ্বিতীয় ধাপে দেখতে হবে ব্যক্তিটি কোনও সাড়া দেয় কি না। এজন্য তাকে ধাক্কা দিয়ে জোরে জোরে ডাকতে হবে। একই সাথে পরীক্ষা করে দেখে নিশ্চিত হতে হবে যে কোনও রক্তক্ষরণ হচ্ছে না।
    • তৃতীয় ধাপ, যদি লোকটির কোনও সাড়া না পাওয়া না যায় এবং সে যদি নিঃশ্বাস না নেয়, তার পালস না থাকে অথবা যদি ঘড়ঘড় করে, তাহলে এই পর্যায়ে তৃতীয় ধাপে এসে সাহায্যের জন্য ডাকতে হবে ও ৯১১ নাম্বারে (অথবা সে দেশে যেটা ইমার্জেন্সি বা জরুরি পরিষেবার নম্বর) কল করতে হবে।
    • এরপর চতুর্থ ধাপে হাঁটু গেড়ে ঐ ব্যক্তির পাশে বসতে হবে। এ সময় হাত কাঁধ বরাবর সামনে থাকবে, আর ঐ ব্যক্তিকে সমতল জায়গায় চিৎ করে শুইয়ে দিতে হবে।
    • পঞ্চম ধাপে এসে মূল সিপিআর শুরু। প্রথমে ঐ ব্যক্তির বুকের উপর দুটো হাত প্রতিস্থাপন করতে হবে। এক্ষেত্রে এক হাতের উপর আরেক হাত রেখে দুই হাতের আঙুলগুলো ধরে তালু দিয়ে চাপ দিতে হবে।

    ( খেয়াল রাখতে হবে যেন চাপটি অন্তত দুই ইঞ্চি গভীরে যায়। প্রতিবার চাপ দিয়ে ছেড়ে দিতে হবে যাতে বুক আবার আগের অবস্থানে চলে আসে। এর গতি থাকবে মিনিটে ১০০ থেকে ১২০ বার।)

    • তবে টানা ৩০ বার এরকম চাপ দেবার পর একটা বিরতি নিতে হবে। তখন আসবে ষষ্ঠ ধাপ অর্থাৎ মুখ দিয়ে নিঃশ্বাস দেয়া।

    (এজন্য মাথা সোজা রেখে থুতনিতে চাপ দিয়ে উপরে ঠেলে দিতে হবে, এরপর মুখটা হাঁ করতে হবে। তারপর ঐ ব্যক্তির নাক ধরে একটা স্বাভাবিক দম নিয়ে তার মুখে পুরো মুখ চেপে শ্বাস দিতে হবে।

    এর স্থায়িত্ব হবে এক সেকেন্ড এবং খেয়াল রাখতে হবে যাতে বুকটা একটা ফুলে উঠে। এরপর পরের শ্বাস দেবার আগে মুখ উঠিয়ে সেটি বের হয়ে যাবার সুযোগ করে দিতে হবে।

    কিন্তু এক্ষেত্রে যদি প্রথমবারে বুকের উঠানামা না হয়, তাহলে মাথাটা আবার নাড়িয়ে নিয়ে মুখটা খুলে দেখে নিতে হবে যে গলায় বা মুখের ভেতরে কিছু আটকে আছে কি না, যা নিঃশ্বাসের ক্ষেত্রে বাধা দিচ্ছে।)

    • ৭ম ধাপে বলা হয়েছে আবারও এরকম ৩০বার বুকে চাপ দেওয়া চালিয়ে যেতে হবে। এবং আবার মুখে দুবার নিঃশ্বাস দিতে হবে। খেয়াল রাখতে হবে বুকে চাপ দেওয়ার বিরতি যেন ১০ সেকেন্ডের বেশি না হয়।

    (এভাবে অ্যাম্বুলেন্স বা কোনও সাহায্য না আসা পর্যন্ত সিপিআর চালিয়ে যেতে হবে।)

     

    শিশুদের ক্ষেত্রে সিপিআর প্রয়োগ:

    অনেক সময় ছোট বাচ্চাদেরও সিপিআর দেওয়ার প্রয়োজন পড়ে। সেটা অবশ্য তাদের হৃদরোগের সমস্যার চেয়ে বেশি দেখা যায় যখন নিঃশ্বাসে কোনও সমস্যা হয়।

    যুক্তরাজ্যের জাতীয় স্বাস্থ্য সেবা বলছে শিশুদের সিপিআরের ক্ষেত্রে কিছু সতর্কতা মেনে চলার কথা।

    • প্রথমেই এক হাত কপালে রেখে মাথাটা পেছনের দিকে নিয়ে থুতনিটা উঁচু করতে হবে। মুখ বা নাকে কোনও কিছু আটকে থাকলে সেটা সরিয়ে দিতে হবে।
    • এরপর নাক ধরে মুখ থেকে মুখে পাঁচবার নিঃশ্বাস দেওয়ার কথা বলা হয়েছে, একই সাথে খেয়াল রাখতে হবে বুকের উঠানামার দিকে।
    • এরপর এক হাতের তালু শিশুটির বুকের উপর বসাতে হবে এবং ৫ সেন্টিমিটার (প্রায় দুই ইঞ্চি) পর্যন্ত চাপ দিতে হবে।

    এই গভীরতা খুবই গুরুত্বপূর্ণ, যদি এক হাতে সেটা সম্ভব না হয় তাহলে দুই হাতের তালু ব্যবহার করা যেতে পারে।

     

    আর এক বছরের নিচের শিশুর ক্ষেত্রে দুই হাতের বদলে দুটি আঙুল ব্যবহারের কথা বলা হয়েছে। সেক্ষেত্রে চাপের গভীরতা হবে ৪ সেন্টিমিটার বা দেড় ইঞ্চি।

    একইভাবে বড়দের মতোই মিনিটে ১০০ থেকে ১২০ বার চাপ দেয়ার গতিতে, ৩০ বার পরপর দুবার করে মুখ দিয়ে নিঃশ্বাস দিতে হবে।

    শিশুদের ক্ষেত্রেও অ্যাম্বুলেন্স বা কোনও সাহায্য না আসা পর্যন্ত এভাবে সিপিআর চালিয়ে যেতে হবে।

    হৃদরোগে আক্রান্ত হলে হাসপাতালে পৌঁছানোর আগেই অনেক ক্ষেত্রে রোগীর মৃত্যু হয়। সেক্ষেত্রে সিপিআর জানা থাকলে তা জীবন বাঁচাতে রাখতে পারে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা।

    বাংলাদেশে প্রায়ই এই ধরনের মৃত্যুর ঘটনা ঘটছে। তাই আমাদের সিপিআর নামের প্রাথমিক চিকিৎসা পদ্ধতি জানা দরকার। এটা খুব একটি কঠিন কিছু নয়। একটি সচেতন হলে বা উপস্থিত বুদ্ধি খাটিয়ে কোন ব্যক্তির ‘হৃদস্পন্দন বন্ধ হয়ে গেলে বা শ্বাস প্রশ্বাস চালু না থাকলে’ তাকে সিপিআরের মাধ্যমে বাঁচিয়ে তোলা সম্ভব। কিছুদিন আগে বাংলাদেশে জনপ্রিয় অভিনেতা আহমেদ রুবেলের আকস্মিক মৃত্যুর হাত থেকে হয়তোবা বাঁচানো যেত, যদি অভিনেতাকে সিপিআর প্রয়োগ করা হতো।

    সূত্র: বিবিসি বাংলা

  • রান্না: ইলিশ মাছ তিলের ভর্তা

    রান্না: ইলিশ মাছ তিলের ভর্তা

    www.HelloBangla.News – লাইফস্টাইল – ৪ ফেব্রুয়ারি, ২০২৪: ভর্তা নামটা শুনলেই জিভে পানি চলে আসে। আর আমাদের বাঙালী খাবার বলতেই বিভিন্ন ধরনের ভর্তা কিন্তু  আগেই বুঝি। আর ভাত বা খিচুড়ি অথবা বৌভাতের সাথে এমন ভর্তাই কিন্তু  বেশি চলে। চলুন আজ একটা মজার ভর্তা রেসিপি দেখি যা এই শীতে গরম ভাতের সাথে দারুন ভাবে জমবে। আজকের ভর্তা হলো ইলিশ মাছে তিলের ভর্তা।

    রেসিপি দিয়েছেন রাজিয়া সুলতানা (২)
    রেসিপি দিয়েছেন রাজিয়া সুলতানা (২)

    উপকরণ :

    ইলিশমাছ-তিনপিস, তিল-আধাকাপ, শুকনো মরিচ-৫টি, রসুন-৬ কোয়া, লবণ-স্বাদমতো, সরিষার তেল-পরিমাণ মতো, পেঁয়াজকুচি-একটি, ধনিয়াপাতা-পরিমাণ মতো।

     

    প্রণালী:

    ইলিশ মাছ ধুয়ে সামান্য লবণ হলুদ মেখে সরিষার তেল দিয়ে ভেজে নিতে হবে। ওই তেলেই শুকনো মরিচ, রসুন ভেজে নিতে হবে। ভাজা মাছের কাঁটা বেছে নিতে হবে।

    তিল ভালো করে ধুয়ে শুকনো তাওয়ায় মচমচে করে ভেজে নিতে হবে।

    এবার বাটনায় / পাটায় তিল বেটে একপাশে রেখে লবণ মরিচ রসুন একসাথে বেটে নিয়ে কাঁটা বেছে রাখা মাছ দিয়ে আবারও সবকিছু একসাথে  বেটে নিয়ে এতে পেঁয়াজ কুচি, সরিষার তেল, ধনিয়াপাতা দিয়ে ভালো করে মেখে নিলেই তৈরি হয়ে যাবে খুব মজাদার ইলিশমাছ তিলের ভর্তা।গরম ভাতে খেতে মজা এই ভর্তা।

    রেসিপি দিয়েছেন; রাজিয়া সুলতানা

  • সম্পূর্ণা ফুড শপের যাত্রা শুরু

    সম্পূর্ণা ফুড শপের যাত্রা শুরু

    www.HelloBangla.News – লাইফস্টাইল – ৩ ফেব্রুয়ারি, ২০২৪: সম্পূর্ণা নারীদের জন্য এমন একটি প্লাটফর্ম যেখানে ক্ষুদ্র উদ্যোক্তাদের তৈরি পণ্য বাজাতকরণের সুযোগ রয়েছে। রান্না, হাতের কাজ ও ফ্যাশন ডিজাইনিংয়ের বিষয়গুলোকে গুরুত্ব দিয়ে প্রতিষ্ঠানটি যাত্রা শুরু করে কয়েক তিন বছর আগে। প্রায় চার মাস আগে ধানমন্ডির রাপা প্লাজায় হাতের তৈরি পণ্য নিয়ে প্রথম চেইন শপের যাত্রা শুরু হয়। গতকাল দ্বিতীয় শপের উদ্বোধন হয়েছে, মোহাম্মদপুর তাজমহল রোডের, চিলড্রেন পার্কে। এই চেইন শপে পাওয়া যাবে সম্পূর্ণার সদস্যদের তৈরি বিভিন্ন ধরনের মাজাদার ফাস্টফুড, পিঠা, আচারসহ সিজিনাল অন্যান্য খাবার।

    সম্পূর্ণা ফুড শপের উদ্বোধনী দিনে উপস্থিত ছিলেন, প্রতিষ্ঠানটির প্রেসিডিন্ট স্বর্ণলাতা দেবনাথ, সেক্রেটারি তাহমিনা আমিন রোজি, কো প্রসিডেন্ট এ‍্যনি চৌধুরী, সাংগঠনিক সম্পাদক কানিজ ফাতেমা রুমা, জয়েন সেক্রেটারি জিনিয়া ইসলাম ও প্রতিষ্ঠানটির প্রতিষ্ঠাতা সুব্রত দে। এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন সম্ভবনাময় সম্পূর্ণার কয়েকজন সদস্য।

    এই ফুড শপ খোলা থাকবে প্রতিদিন সকাল ৮ টা থেকে রাত ১০ টা পর্যন্ত। এখানে অর্ডার নিয়ে ঘরোয়া পার্টি ও জন্মদিনের খাবার সরবরাহ করা হয়। আপনাকে সার্বিক সেবা প্রদানের জন্য এখানে থাকছে ভদ্র ও মার্জিত সম্পূর্ণার নিজস্ব সদস্যরা।

  • রান্না:  “রংধনু সালাদ”

    রান্না: “রংধনু সালাদ”

    www.HelloBangla.News – লাইফস্টাইল – ১ ফেব্রুয়ারি, ২০২৪: দুপুর বা রাতের খাবারের সঙ্গে সালাদ এটি স্বস্থ্যকর ও গুরুত্বপূর্ণ অনুসঙ্গ। তাই বিভিন্ন পার্টিতে খাবারের সঙ্গে সালাদ অপরিহার্য হয়ে পড়েছে। আজ দেওয়া হলো রংধনু সালাদের রেসিপি।

    রেসিপি কানিজ ফাতেমা রুমা  (২)
    রেসিপি কানিজ ফাতেমা রুমা (২)

    উপকরণ:

    শশা কিউব করে কাটা-১কাপ, টমেটো কিউব করে কাটা-১কাপ, আপেল কিউব করে কাটা-১কাপ, আনার দানা-১ কাপ, ক্যাপসিকাম কিউব করে কাটা-১/৪ কাপ, গাজর কিউব করে কাটা-১/৪ কাপ, লেটুস পাতা কুচি-১/৪ কাপ, বিট লবন-১/৪ চা চামচ, টমেটো সস-১চা চামচ, চিলি সস-২ চা চামচ, মধু-২চা চামচ, চাট মশলা-২ চা চামচ, গোল মরিচ গুড়া-১/২ চা চামচ

     

    প্রণালী:

    ফল বাদে সব মশলা সস ও অন্য উপকরণ গুলো ভালো মত মিশিয়ে নিতে হবে এবারে সব কেটে রাখা ফল ও সবজী ঐ সস এর সাথে মাখিয়ে পরিবেশন করতে হবে হেলদী ও মজাদার রংধনু সালাদ।

     

    রেসিপি দিয়েছেন: কানিজ ফাতেমা রুমা

  • রান্না: চিকেন মাশরুম পালং পাটিসাপটা

    রান্না: চিকেন মাশরুম পালং পাটিসাপটা

    www.HelloBangla.News – লাইফস্টাইল – ২৮ জানুয়ারি, ২০২৪: শীত মানেই পিঠার মৌসুম। রন্ধন শিল্পীরা এখন তৈরি করছে নানা স্বাদের মজাদার পিঠা। এখানে এই ধরনের একটি পিঠার রেসিপি দেওয়া হলো।

     

    উপকরণ:

    চিকেন কিমা, মাশরুম কুচি, পিয়াজ বেরেসতা, কাঁচামরিচ কুচি, লবন, সরিষার তৈল, ম্যাগি মসলা, টমেটো সস, ধনিয়াপাতা কুচি, পালংশাক, ময়দা, চালের গুরি।

    রেসিপি দিয়েছেন- নাসরীন নওরোজ স্বপ্না (২)
    রেসিপি দিয়েছেন- নাসরীন নওরোজ স্বপ্না (২)

    প্রণালীঃ

    প্রথমে চিকেন কিমা আদারশুন বাটা হাফ চা চামচ, লবন সাদ মতো ও ম্যাগি মসলা দিয়ে অল্প তৈলে মাশরুম কুচিসহ ভেজে নিতে হবে। এরপর একটা বাটিতে ভেজে রাখা চিকেন ও মাশরুম, পিয়াজ বেরেসতা, কাঁচামরিচ ও ধনিয়াপাতা কুচি, ম্যাগি মসলা, সরিষার তৈল সমন্য, সাদ মতো লবন দিয়ে মেখে নিতে হবে,অন্যদিকে এক কাপ চাউলের গুড়া হাফ কাপ ময়দা, লবন সামান্য, সামান্য চিনি, একটা ডিম, পালংশাকের পিউরি(পালংশাক ধুয়ে অল্প পানি দিয়ে ব্লান করে নিতে হবে) সাথে পানি দিয়ে পাটিসাপটার বেটার করে নিয়ে ফ্রাইপ্যানে সামান্য তেল ব্রাশ করে সামান্য বেটার দিয়ে হয়ে এলে বাটির সামান্য পুর দিয়ে, পাটিসাপটা তৈরি করে নিতে হবে। হয়ে যাবে অন্যরকম সাদের ঝাল পাটিসাপটা।

     

    রেসিপি দিয়েছেন: নাসরীন নওরোজ স্বপ্না

  • পেটে গ্যাস হওয়ার কারণেই শুধু পেটব্যথা হয় না

    পেটে গ্যাস হওয়ার কারণেই শুধু পেটব্যথা হয় না

    www.HelloBangla.News – লাইফস্টাইল – ২৭ জানুয়ারি, ২০২৪: পেটে ব্যথা অনুভব করাটা আমাদের দেশে প্রচলিত অসুখ গুলোর মধ্যে অন্যতম প্রধান একটি অসুখ। তবে আমরা সাধারণত ভেবে থাকি যে পেটে গ্যাস হলেই পেটব্যথা হয়। আসলে বিষটি তা নয়। তবে আমাদের দেশে খাদ্যাভ্যাস বিষয়টি এমন যে কারণ গ্যাসের কারণে সবচেয়ে বেশি পেট ব্যথা হয়ে থাকে। কিন্তু সব সময় পেটব্যথাকে অবহেলা করা উচিত নয়। বিভিন্ন কারণে পেটব্যথা হয়ে থাকে। কখন কি পরিস্থিতে ডাক্তারের পরামর্শ নিতে হয় এখানে সেটাই উল্লেখ করা হলো।

     

    পেটের ব্যথা নানা ধরনের হয়ে থাকে: 

    • কিছু ব্যথা আছে যেগুলো হঠাৎ করে শুরু হয় এবং একটু পর ভাল হয়ে যায়। এই ব্যথা খুব তীব্র হয় না।
    • আবার কিছু ব্যথা আছে হঠাৎ করে শুরু হলেও বেশ তীব্র ও কষ্টদায়ক হয়।
    • আর কিছু ব্যথা একবার শুরু হলে সেটা সহজে ভালো হয় না বা বিরতি দিয়ে চলতে থাকে।

     

    যুক্তরাজ্যের ক্লিভল্যান্ড ক্লিনিকের তথ্য অনুযায়ী, পেট হল পাঁজর ও শ্রোণির (পেলভিস) মধ্যবর্তী জায়গা। এই জায়গাটায় থাকে পাকস্থলী, যকৃত, পিত্তথলি, অগ্ন্যাশয়, ক্ষুদ্রান্ত্র, বৃহদন্ত্র। এগুলোকে একসাথে পাচনতন্ত্র বলা হয়।

    এইসব অঙ্গের কোথাও যদি সামান্যতম অস্বস্তিও হয়, তাহলেই আমরা পেটে ব্যথা অনুভব করি। যদিও, পেটে ব্যথা হলেই আমাদের দেশে ধরে নেয়া হয়, এটা হয়ত আলসার বা গ্যাস্ট্রিকের ব্যথা। কিন্তু পেটে গ্যাস হওয়ার কারণেই যে শুধু পেটব্যথা হয়, বিষয়টা কিন্তু মোটেও তেমন না। পেটে ব্যথা পাচনতন্ত্রের যে কোনও অঙ্গ থেকে হতে পারে। আলাদা ধরনের পেট ব্যথার কারণও ভিন্ন হয়।

     

    হঠাৎ করে পেট ব্যথা ও ঢেকুর:

    সাধারণত পেটে বাতাস আটকে যাওয়ার কারণে পেট সাময়িক ব্যথা করতে পারে। একই সাথে ঢেকুরও উঠতে পারে।

    যুক্তরাজ্যের জাতীয় স্বাস্থ্য সেবা বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, যদি আপনার ঢেকুর হয় এবং একই সাথে প্রচুর পরিমাণে বায়ু নির্গমন হতে থাকে তাহলে এমন পেট ব্যথার কারণ হতে পারে পেটে আটকে পড়া বাতাস।

     

    পেট ব্যথা ও ডায়রিয়া:

    যদি ডায়রিয়ার সাথে পেট ব্যথা থাকে তার মানে হচ্ছে গ্যাসট্রোএনটারাইটিস বা পাকস্থলী ও অন্ত্রের প্রদাহে এমনটা হয়েছে। সাধারণত পাকস্থলী ও অন্ত্রে ব্যাকটেরিয়া বা ভাইরাসের সংক্রমণে এই অবস্থা হয়। চিকিৎসা ছাড়াও এটি কয়েক দিন পর ভাল হয়ে যেতে পারে।

    গ্যাসট্রোএনটারাইটিসে আক্রান্ত কারো সংস্পর্শে এলে বা জীবাণু সমৃদ্ধ খাবার খেলে এতে আক্রান্ত হওয়ার আশঙ্কা থাকে।

    যদি পেট ব্যথা ও ডায়রিয়া বার বার হয় তাহলে সেটি আবার ইরিটেবেল বাওয়েল সিনড্রোম বা আইবিএস’র উপসর্গ হয়ে দাঁড়ায়।

    এছাড়া পেট ভর্তি অনুভূত হওয়া, খাওয়ার পর ঢেকুর, বুক জ্বালাপোড়া, অসুস্থবোধ করলে বুঝতে হবে বদহজমের কারণে হচ্ছে। আর পাতলা পায়খানা, অসুস্থতা, বমি এগুলো পাকস্থলীতে জীবাণুর সংক্রমণ বা খাদ্য বিষক্রিয়ার লক্ষণ হতে পারে।

     

    পেটে তীব্র ব্যথা যে কারণে হতে পারে:

     

    ১. অ্যাপেনডিসাইটিস: বেশিরভাগ মানুষ অ্যাপেডিসাইটিসে আক্রান্ত হলে হঠাৎ করেই তীব্র পেট ব্যথা দেখা দেয়। সাধারণত ডান পাশের পেটের নিচের দিকে প্রচণ্ড ব্যথা হয়। যুক্তরাষ্ট্রের ইস্টার্ন ভার্জিনিয়া মেডিকেল স্কুলের সহযোগী অধ্যাপক প্যাট্রিসিয়া এল রেমন্ড বলেন, পা ভাঁজ করলে ব্যথা অনুভূত হয় কারণ এতে অ্যাপেনডিক্সের পাশে থাকা একটি পেশিতে টান পড়ে। এ ধরনের ব্যথা হলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে।

     

    ২. গ্যাসট্রাইটিস: গ্যাসট্রাইটিসের কারণেও পেটে ব্যথা হয়। এছাড়া বমি বমি ভাব ও বমি হতে পারে। চিকিৎসা করানো না হলে এর ফলে গ্যাস্ট্রিক আলসার ও রক্তপাত হতে পারে। অ্যালকোহল পান, ধূমপান, হেলিকোব্যাকটর পাইলরি ব্যাকটেরিয়াসহ নানা কারণে গ্যাসট্রাইটিস হতে পারে।

    ৩. কিডনিতে পাথর: কিডনিতে হওয়া পাথর যখন মূত্রনালীতে চলাচল করে তখন পেটে ব্যথা হতে পারে। সাধারণত পিঠের নিচের দিকে এই ব্যথা শুরু হয় এবং এটি তলপেটে ছড়িয়ে পড়ে। কিডনিতে পাথর হওয়ার লক্ষণ হচ্ছে, মূত্রের সঙ্গে রক্ত পড়া, প্রস্রাবে জ্বালাপোড়া, জ্বর, মূত্র ঘোলাটে ও দুর্গন্ধযুক্ত হওয়া এবং বমি হওয়া।

    ৪. ওষুধ সেবন: অনেক সময় অন্য রোগের ওষুধ সেবনের কারণে পেটে ব্যথা হতে পারে। বিশেষ করে অ্যান্টিবায়োটিক, মাদক প্রতিরোধী ওষুধ, উচ্চ রক্তচাপের ওষুধ, প্রদাহ বা জ্বালাপোড়া প্রতিরোধের ওষুধ গ্রহণের কারণে পেটে ব্যথা হতে পারে।

    ৫. জীবাণুর আক্রমণ: প্যারাসাইট বা জীবাণু ও কৃমি যদি পেটে চলে যায় তাহলে পেট ব্যথা হতে পারে। দূষিত পানীয় ও পানি পান বা এতে সাঁতার কাটার কারণে এই জীবাণু পেটে চলে যেতে পারে। এ ধরনের জীবাণুর আক্রমণে পেটে ব্যথা, ডায়রিয়া ও বমি হতে পারে। সাধারণত দুই থেকে ১০ দিনের মধ্যে উপসর্গ দেখা দেয়। প্রচুর পরিমাণে তরল ও সাধারণ কিছু ওষুধ খেলে এটি ভালও হয়ে যায়।

    ৬. পেলভিক ইনফ্লেমেটরি ডিজিস বা পিআইডি বা প্রদাহজনিত রোগ: ফ্যালোপিয়ান টিউব, জরায়ু বা ডিম্বাশয়ে ব্যাকটেরিয়ার আক্রমণে পেটে প্রদাহজনিত রোগ দেখা দেয়। এর ফলে নাভির নিচে প্রচণ্ড ব্যথা হতে পারে। যৌন সংক্রমিত রোগ বা এসটিডি যেমন গনোরিয়ার কারণে এই প্রদাহ দেখা দেয়।

    ৭. মানসিক চাপ: মানসিক চাপের কারণে পেট ব্যথা, মাথাব্যথা, উচ্চরক্তচাপ ও ইনসমনিয়া বা ঘুমের সমস্যা হতে পারে। এছাড়া বদহজম, ব্যথা ও ইরিটেবল বাওয়েল সিনড্রোম বা আইবিএস’র মতো রোগ দেখা দিতে পারে।

    ৮. আলসার: পেটে ব্যথার একটি সাধারণ কারণ হচ্ছে পেপটিক আলসার। এর কারণে পেটের উপরের দিকে মাঝ বরাবর ব্যথা হয়। সাধারণত খাওয়ার পরপরই এই ব্যথা শুরু হয়।

    ৯. ত্রুটিযুক্ত গর্ভধারণ; যখন গর্ভাশয়ের বাইরে কোনও নিষিক্ত ডিম্বাণু বিকশিত হতে শুরু করে তখন তাকে একটোপিক প্রেগন্যান্সি বা ত্রুটিযুক্ত গর্ভধারণ বলা হয়। এর চিকিৎসা না করানো হলে তা মারাত্মক আকার ধারণ করতে পারে।

     

    দীর্ঘস্থায়ী বা বার বার ফিরে আসা পেট ব্যথা:

    দীর্ঘদিন ধরে যদি বার বার পেট ব্যথা হয় তাহলে অবশ্যই চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে। এ ধরণের পেটব্যথার পেছনে সাধারণত জটিল কারণ থাকে না এবং সেগুলো চিকিৎসার মাধ্যমে সেরে উঠা সম্ভব।

    এই পেট ব্যথার কারণ হতে পারে, ইরিটেবল বাওয়েল সিনড্রোম বা আইবিএস। সাধারণত টয়লেটে গেলে এই ব্যথা শুরু হয়।

    এছাড়া পেটে প্রদাহজনিত রোগ এবং মূত্রনালীতে সংক্রমণের জন্য পেট ব্যথা হতে পারে। মূত্রনালীতে সংক্রমণ হলে বার বার পেট ব্যথা হয় এবং প্রস্রাবের সময় জ্বালাপোড়া হতে পারে।

    কোষ্ঠ্যকাঠিন্যের কারণেও দীর্ঘস্থায়ী পেট ব্যথা বা বার বার পেট ব্যথা হতে পারে। পেটব্যথার সাথে মলত্যাগ না হওয়ার লক্ষণ থাকলে সেটি কোষ্ঠ্যকাঠিন্যের লক্ষণ।

    নারীদের ক্ষেত্রে ঋতুস্রাবের সময় পেট ব্যথা হতে পারে। এছাড়া পাকস্থলীর আলসার, বুক জ্বালাপোড়া ও পাকস্থলীর এসিড নিঃসরণের কারণেও পেট ব্যথা হতে পারে।

    দীর্ঘ দিন ধরে বার বার পেট ব্যথার একটি সাধারণ কারণ গ্যাসট্রাইটিস বা পাকস্থলীর প্রদাহ।

     

    পেট ব্যথা হলে কখন চিকিৎসকের পরামর্শ নেবেন:

    • পেট ব্যথা যদি দ্রুত বাড়তে থাকে
    • পেট ব্যথা বা ঢেকুর তোলা থামছে না এবং একটু পর পর আবার শুরু হচ্ছে
    • পেট ব্যথার সাথে খাবার গিলতে সমস্যা হচ্ছে
    • চেষ্টা না করেও ওজন কমছে
    • বার বার প্রস্রাব হচ্ছে কিংবা একেবারেই প্রস্রাব হচ্ছে না
    • প্রস্রাবে জ্বালাপোড়া হচ্ছে
    • মলদ্বার বা মূত্রনালী থেকে রক্তপাত হচ্ছে বা অস্বাভাবিকভাবে অন্য কোনও তরল নির্গত হচ্ছে
    • ডায়রিয়া হওয়ার কয়েক দিন পরও তা ভালো হচ্ছে না

     

     

    কেমন পেট ব্যথা হলে জরুরি ভিত্তিতে হাসপাতালে যাবেন:

    যুক্তরাজ্যের জাতীয় স্বাস্থ্য সেবা বিভাগের তথ্য বলছে, পেট ব্যথার সাথে যদি নিচের লক্ষণগুলোও থাকে তাহলে জরুরি ভিত্তিতে হাসপাতালে যেতে হবে:

     

    • হঠাৎ করে পেট ব্যথা শুরু হওয়ার পর সেটা অতিরিক্ত বেড়ে গেলে
    • পেটে স্পর্শ করলেই ব্যথা অনুভব হলে
    • রক্ত বমি শুরু হলে বা বমির রঙ কফির মতো হলে
    • মলের সাথে রক্ত পড়লে বা মলের রঙ কালো, আঠালো ও তীব্র দুর্গন্ধ হলে
    • প্রস্রাব বন্ধ হয়ে গেলে
    • মলত্যাগ বা বায়ু নির্গমন বন্ধ হয়ে গেলে
    • নিশ্বাস বন্ধ হয়ে আসলে বা শ্বাস-প্রশ্বাসে কষ্ট হলে
    • বুকের ব্যথা শুরু হলে
    • ডায়াবেটিস থাকলে এবং বমি শুরু হলে
    • অজ্ঞান হয়ে গেলে

     

    সূত্র: বিবিসি বাংলা

  • শুরু হতে যাচ্ছে জাতীয় পিঠা উৎসব

    শুরু হতে যাচ্ছে জাতীয় পিঠা উৎসব

    www.HelloBangla.News – লাইফস্টাইল – ২৪ জানুয়ারি, ২০২৪: বংলাদেশের পিঠার পরম্পরা অনেক প্রাচীন। সাধারণত শীতকালেই বেশি পিঠা তৈরি হয়। তবে বর্তমান সময়ে সব মৌসুমে পিঠা পাওয়া যায়। বিশেষভাবে পিঠাকে আধুনিক ধারায় এনে এক সর্বজনীন করে তুলেছে বেশ কিছু নারী উদ্যোক্তা। আগে আঞ্চলিক ভাবে পিঠা তৈরি হতো। এখনও হয়।  কিন্তু এমন কিছু পিঠা আছে যা সারাদেশেই প্রসিদ্ধ এবং জনপ্রিয়। এগুলি হচ্ছে ভাপা পিঠা, ঝাল পিঠা, ছাঁচ পিঠা, ছিটকা, চিতই, দুধ চিতই, বিবিখানা, চুটকি, চাপড়ি, চাঁদ পাকান, ছিট, সুন্দরী পাকান, সরভাজা, পুলি পিঠা, পাটিসাপটা, পাকান, পানতোয়া, মালপোয়া, মালাই, মুঠি, আন্দশা, কুলশি, কাটা পিঠা, কলা পিঠা, খেজুরের পিঠা, ক্ষীর কুলি, গোকুল, গোলাপ ফুল পিঠা, লবঙ্গ লতিকা, রসফুল, পাকোয়ান, গুড়ি, জামদানি, ঝালপোয়া, ঝুরি পিঠা, ঝিনুক, সূর্যমুখী, নকশি, নারকেল পিঠা, নারকেলের ভাজা পুলি, নারকেলের সেদ্ধ পুলি, নারকেল জেলাফি, তেজপাতা পিঠা, তেলের পিঠা, তেলপোয়া, দুধরাজ, ফুল ঝুরি, ফুল পিঠা, বিবিয়ানা, সেমাই পিঠা প্রভৃতি। পিঠা তৈরির সাধারণ উপাদান হচ্ছে চালের গুঁড়া, ময়দা, গুড় বা চিনি, নারকেল, দুধ ও তেল। অনেক সময় কিছু কিছু পিঠাতে মাংস ও সবজি ব্যবহার করা হয়।

    বাংলাদেশের এই পিঠা তৈরির শিল্পীদের উৎসাহ দিতে বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির আয়োজনে এবং সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের পৃষ্ঠপোষকতায় শুরু হতে যাচ্ছে পিঠা উৎসব। সারাদেশব্যাপী একযোগে পিঠা উৎসব উদ্বোধন হবে ৩১ জানুয়ারি। একযোগে ৬৪ জেলায় ৩ দিনব্যাপী পিঠা উৎসব চলবে ৩১ জানুয়ারি থেকে ২ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত। আর বাংলাদেশ শিল্পকলায় পিঠা উৎসব চলবে ১০ ফিব্রুয়ারি পর্যন্ত।

    যারা পিঠা তৈরী করেন তারা মেলায় “পিঠাশিল্পী” হিসেবে অংশ নিতে পারবেন। যারা পিঠা তৈরী ও ক্যাটারিং উদোক্তা হিসেবে কাজ করছেন তারাও অংশ নিতে পারবেন। আবেদন ফরম ডাউনলোড করুন বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির ওয়েবসাইট থেকে। আগামী ২৮ জানুয়ারির মধ্যে নিম্নে উল্লেখিত ঠিকানায় জমা দিন অথবা মেইল করুন।

    অংশগ্রহণ করতে ফরম সংগ্রহ করুন ওয়েবসাইট থেকে: www.shilpakala.gov.bd. স্থান : তথ্যকেন্দ্র, প্রশিক্ষণ ভবন (নীচতলা), বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমি।

    অথবা ইমেইল: info@shilpakala.gov.bd

  • মানুষ মোটা হয় ‘ওবিসোজিনস’ কেমিকেলের কারণে

    মানুষ মোটা হয় ‘ওবিসোজিনস’ কেমিকেলের কারণে

    www.HelloBangla.News – লাইফস্টাইল – ২২ জানুয়ারি, ২০২৪: মোটা হওয়া বা অতিরিক্ত ওজন বেড়ে যাওয়াটা বিরাট স্বাস্থ্য ঝুকি বলে মনে করছেন চিকিৎসকরা। অনেকে দেহের ওজন যেন নিয়ন্ত্রণে রাখতে অল্প আহার ও ব্যায়াম করেন। কিন্তু তার পরেও কোন লাভ হয়না। এর কারণ কারণ হচ্ছে অস্বাস্থ্যকর আর অপরিমিত খাবার খাওয়ার অভ্যাস এবং আরাম আয়েশের জীবন যাপন।

    ওজন বাড়ার ক্ষেত্রে এগুলো বড় কারণ অবশ্যই। তবে যারা নিয়মিত ব্যায়াম বা ডায়েট করেও ওজন কমাতে পারছেন না তাদের এই ওজন বাড়ার পেছনে রয়েছে ভিন্ন আরেকটি কারণ। আর সেটা হল ‘ওবিসোজিনস’। ওবিসোজিনস হল এমন এক ধরণের কেমিকেল যা আপনার পরিপাকতন্ত্রে আঘাত হানে এবং অনেক সময় সেক্স হরমোনের ওপরও প্রভাব ফেলে।

    কারো শরীরে ওবিসোজিনস বেশি পরিমাণে থাকলে তার শরীরে চর্বি জমার জন্য যে কোষগুলো দায়ী সেই কোষের সংখ্যা ও আকার বাড়িয়ে দেয়। আবার যেসব ব্যাকটেরিয়া চর্বি শোষণ করে, সেগুলোর পরিমাণ কমিয়ে দেয়। এতে চামড়ার নীচে চর্বির আবরণের ঘনত্ব বাড়তে থাকে।

    সেইসাথে টাইপ টু ডায়াবেটিস, স্থূলতা এবং এই দুটির প্রভাবে উচ্চ রক্তচাপ, হৃদরোগ বা হার্টের সমস্যা, স্লিপ অ্যাপনিয়া এমনকি ক্যান্সারের ঝুঁকিও দেখা দেয়।

    এছাড়াও লিভারসহ বিভিন্ন অঙ্গে গ্লুকোজ ও ফ্যাটি অ্যাসিড জমতে থাকায় হরমোনের কার্যকলাপেও পরিবর্তন আসে, হজমেও সমস্যা দেখা দেয়। তবে এই কেমিকেল সবচেয়ে বেশি ক্ষতি করে যদি কেউ মাতৃগর্ভে বা ছোটবেলায় এই কেমিকেলের সংস্পর্শে আসেন। তখন সেটা ‘ডিএনএ’র গঠনকে পরিবর্তন করে ফেলতে পারে। এতে ওই ব্যক্তির জিনের বৈশিষ্ট্য, কোষের কার্যকলাপ বদলে যায়। এটি ভবিষ্যৎ প্রজন্মকেও প্রভাবিত করতে পারে। সহজ কথায় ওবিসোজিনসের কারণে মানুষের হজম শক্তি, প্রজনন ও বৃদ্ধি এই তিনটিই বেশি প্রভাবিত হয়।

     

    যে সব কারণে ওবিসোজিনস কেমিকেল বাড়ে:

    আমরা প্রতিদিন ব্যবহার করি, এমন অনেক পণ্যে এই ওবিসোজেনিক কেমিকেল বা রাসায়নিক উপাদানগুলো রয়েছে।

    যেমন: ডিটারজেন্ট বা যেকোনো পরিষ্কারক উপাদান, প্রসাধনী বা ব্যক্তিগত যত্নের পণ্য, খাবারের প্যাকেট, প্লাস্টিকের বাসন, রান্নার সামগ্রী, পোশাক, খেলনা, চিকিৎসা সামগ্রী ইত্যাদি। এসব পণ্য আমাদের জীবনের সাথে এমনভাবে জুড়ে আছে যে চাইলেই এর প্রভাব এড়ানো যাবে না। কিন্তু নিয়মিত এসব পণ্য ব্যবহারের ফলে খাবার, পানি ও বাতাস আরো বেশি দূষিত হচ্ছে এবং মানুষের স্থূলতা ও অন্যান্য রোগে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে।

    মানুষের শরীরে এমন ৫০ ধরণের ওবিসোজেনিক কেমিকেল রয়েছে যার কোনো একটা বেড়ে গেলে ওজন বাড়তে শুরু করে।

    এর মধ্যে পাঁচ ধরণের ওবিসোজিনসে আক্রান্তের ঝুঁকি বেশি থাকে। যেমন: ১.বিপিএ, ২.প্যাথালেট, ৩.অ্যাট্রাজিন, ৪.অর্গানোটিন্স, ৫.পিএফওএ

     

    বিপিএ:

    বিভিন্ন ফুডক্যান, খাবার ও পানীয় পাত্র, পলিকার্বোনেট প্লাস্টিকের সামগ্রী ও ইপোক্সি রেজিনে বিপিএ থাকে। এটা নারীদের সেক্স হরমোন এস্ট্রোজেন, শরীরের চিনির ভারসাম্য রাখা ইনসুলিনের উৎপাদন এবং চর্বির গঠনের ওপর প্রভাব ফেলে। এতে স্থূলতা, ডায়াবেটিস ও উচ্চ রক্তচাপ দেখা দিতে পারে।

    কেউ যদি বিপিএযুক্ত প্লাস্টিকের পাত্রে খাবার গরম করেন বা গরম খাবার সংরক্ষণ করেন তাহলে মানুষ সেই খাবারের মাধ্যমে বিপিএ’র সংস্পর্শে আসে। সব বয়সী মানুষ এমনকি নবজাতকের শরীরেও বিপিএ পাওয়া গিয়েছে। সাধারণত রক্ত, প্রস্রাব, বুকের দুধ ও চর্বি পরীক্ষা করে বিপিএ আছে কিনা জানা যায়। তবে যুক্তরাষ্ট্রের ফুড অ্যান্ড ড্রাগ অ্যাডমিনিস্ট্রেশন-এফডিএ’র মতে, খাবারের প্যাকেটে যে পরিমাণ বিপিএ থাকে তা খুবই সামান্য এবং এতে মানবদেহে ক্ষতির ঝুঁকি নেই।

     

    প্যাথালেটস:

    প্লাস্টিককে টেকসই ও নমনীয় করতে প্যাথালেটস ব্যবহৃত হয়। সাধারণত খেলনা, চিকিৎসা সামগ্রী, খাদ্যের প্যাকেজিং, ডিটারজেন্ট, সাবান, শ্যাম্পু, নেইল পলিশ, লোশন ও পারফিউমে প্যাথালেটস পাওয়া যায়।

    এই কেমিকেলটি পুরুষদের যৌন হরমোন অ্যান্ড্রোজেনের ওপর প্রভাব ফেলে, হজমে সমস্যা তৈরি করে; যার কারণে টাইপ টু ডায়াবেটিসসহ ওজন বাড়ার ঝুঁকি তৈরি হয়। সাধারণত প্যাথালেটযুক্ত পাত্র ও প্যাকেজিং এর খাবার খেলে বা এই কেমিকেলযুক্ত পণ্য ব্যবহার করলে এমনকি ধুলোবালি থেকেও মানুষের শরীরে এই কেমিকেল প্রবেশ করতে পারে। তবে, যুক্তরাষ্ট্রের সেন্টার ফর ডিজিজ কন্ট্রোল অ্যান্ড প্রিভেনশন (সিডিসি) বলেছে যে খাবার প্যাকেটে বা প্রসাধনীতে যে পরিমাণে প্যাথালেট থাকে তা স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর নয়।

     

    অ্যাট্রাজিন:

    অ্যাট্রাজিন কেমিকেলটি ফসলের উৎপাদন বাড়াতে ব্যবহার করা হয়। এ কারণে মাটি ও পানিতে এই কেমিকেলের অস্তিত্ব পাওয়া গিয়েছে।

    এটি নারী ও পুরুষ উভয়ের যৌন হরমোনের ওপরে প্রভাব ফেলে। সেইসাথে স্থূলতা, ডায়াবেটিস, জন্মগত ত্রুটি এমনকি ক্যান্সারের ঝুঁকিও বাড়ায়।

     

    অর্গানোটিন্স:

    এই কেমিকেলটি বেশি পাওয়া গিয়েছে পিভিসি পণ্য যেমন পাইপ, নৌকা বা জাহাজে ব্যবহার করা অ্যান্টিফাঙ্গাল পেইন্ট ও কীটনাশকে। এ কারণে পানিতে ও সামুদ্রিক শামুকে এই কেমিকেলের অস্তিত্ব পাওয়া গিয়েছে।

    সেইসাথে প্লাস্টিক র‍্যাপ, প্লাস্টিকের খেলনা, স্টেশনারি, কাপড়েও এই কেমিকেল পাওয়া গিয়েছে। যার প্রভাব সেক্স হরমোনের ওপর পড়ে এবং শরীরে চর্বি বাড়তে থাকে।

     

    পিএফওএ:

    যেকোনো পানিরোধী কাপড় যেমন: রেইনকোট/ছাতা/তাঁবু, ননস্টিক রান্নার সামগ্রী, প্রসাধনী, পরিষ্কারক পণ্য, দাগ প্রতিরোধক, মাইক্রোওয়েভের খাবার এমনকি পানিতেও পিএফওএ পাওয়া গিয়েছে।

    এর প্রভাবে স্থূলতা, ডায়াবেটিস ও ওজন বাড়ার সমস্যা দেখা দেয়।

     

    এই কেমিকেল কিভাবে এড়ানো যায়:

    ওবিসোজিনস কেমিকেলের সংস্পর্শ এড়াতে কয়েকটি দিকে খেয়াল রাখতে হবে।

    যেমন:

    # সবার আগে ধূমপান ছাড়তে হবে

    # প্যাকেটজাত খাবার ও পানীয় খাওয়া যতোটা সম্ভব কমিয়ে আনতে হবে

    # প্লাস্টিকের বাসনপত্রের পরিবর্তে কাঁচ, স্টিল বা মাটির পণ্য ব্যবহার

    # প্লাস্টিকের পাত্র যদি ব্যবহার করতেই হয় সেটা এসব কেমিকেলমুক্ত কিনা পরীক্ষা করা, তবে যে প্লাস্টিকই হোক সেটায় খাবার গরম করা যাবে না বা গরম খাবার পরিবেশন করা যাবে না

    # কীটনাশক দেয়া খাবার খাওয়া কমানো

    # ক্ষতিকর কেমিকেলমুক্ত প্রসাধনী ব্যবহার না করা

     

    সূত্র: বিবিসি বাংলা

  • বিশ্বে প্রাপ্তবয়স্কদের মধ্যে ধূমপান ছাড়ার প্রবণতা বৃদ্ধি পাচ্ছে

    বিশ্বে প্রাপ্তবয়স্কদের মধ্যে ধূমপান ছাড়ার প্রবণতা বৃদ্ধি পাচ্ছে

    www.HelloBangla.News – লাইফস্টাইল – ১৭ জানুয়ারি, ২০২৪: সারা বিশ্বে ধূমপান জনিত কারণে মৃত্যু ঘটনা বেড়ে যাওয়ায় বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (ডব্লিউএইচও) কিছু পদক্ষেপ ও এর নিয়ন্ত্রণে কিছু কিছু ব্যবস্থা নিলে তা সাফল্য লাভ করেছে। দেখা যাচ্ছে বিশ্বে এখন প্রাপ্তবয়স্কদের মধ্যে ধূমপান ছাড়ার প্রবণতা বৃদ্ধি পাচ্ছে। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বিভিন্ন দেশে চালানো এক জরিপে এই তথ্য উঠে এসেছে।

    ডব্লিউএইচও সদ্য প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে, ২০২২ সালে বিশ্বে গড়ে প্রতি ৫ জন প্রাপ্তবয়স্ক ধূমপায়ীদের মধ্যে একজন এই বদঅভ্যাস ত্যাগ করেছেন। এর আগে এত ব্যাপক মাত্রায় ধূমপান ছাড়ার চিত্র পরিলক্ষিত হয়েছিল ২০০০ সালে। সে বছর গড়ে ধূমপান ছেড়েছিলেন প্রতি ৩ জন প্রাপ্তবয়স্কদের একজন।

    বর্তমানে যে হারে ধূমপান ছেড়ে দেওয়ার প্রবণতা লক্ষ্য করা যাচ্ছে, এই ধারা অব্যাহত থাকলে আগামী ২০৩০ সালের মধ্যে বিশ্বের অন্তত ১৫০টি দেশ ধূমপান ও তামাকজাত পণ্যের ব্যবহার নিয়ন্ত্রণে উল্লেখযোগ্য সাফল্য লাভ করবে বলে জানিয়েছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা।

     

    ধূমপানজনিত কারণে মৃত্যু কমতে সময় লাগবে:

    তবে ধূমপায়ীদের সংখ্যা কমতে থাকলেও ধূমপানজনিত কারণে মৃত্যুর সংখ্যায় খুব একটা কমবে না। ডব্লিউএইচও জানায়, তামাকজনিত মৃত্যুর হারে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তনের জন্য আরও সময় প্রয়োজন।

    ডব্লিউএইচও’র প্রতিবেদনে এ প্রসঙ্গে বলা হয়েছে, ‘যেসব দেশ ধূমপান নিয়ন্ত্রণে ইতোমধ্যে দৃঢ় পদক্ষেপ নিয়েছে, তামাকজনিত কারণে মৃত্যুর হার হ্রাস বা এ জাতীয় কোনো বড় পরিবর্তন দেখতে হলে সেইসব দেশকে অন্তত আরও ৩০ বছর অপেক্ষা করতে হবে।’

    বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থঅর হিসাব অনুযায়ী, বর্তমানে বিশ্বে ধূমপান ও তামাকজনিত কারণে বর্তমানে প্রতি বছর বিশ্বে মৃত্যু হয় আশি লাখেরও বেশি মানুষের। এই মৃতদের মধ্যে প্রায় ১৩ লাখ পরোক্ষ ধূমপায়ী। অর্থাৎ নিজেরা ধূমপান করেন না, কিন্তু ধূমপায়ীদের আশেপাশে থাকার কারণে বিভিন্ন শারীরিক জটিলতায় ভুগে মারা যান।

    তাছাড়া বর্তমানে যে গতিতে ধূমপায়ীদের সংখ্যা হ্রাস পাচ্ছে, তা আশাব্যাঞ্জক হলেও বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার গৃহীত লক্ষ্যমাত্রার তুলনায় ধীর। ২০১০ সাল থেকে ২০২৫ সালের মধ্যে বিশ্বজুড়ে ধূমপান ও তামাকজনিত কারণে মৃত্যুহার ৩০ শতাংশ হ্রাসের লক্ষ্যমাত্রা নিয়েছিল বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা।

    এই মুহূর্তে বিশ্বের মাত্র ছয়টি দেশ এই লক্ষ্যমাত্রার কাছাকাছি রয়েছে। এই দেশগুলো হলো ব্রাজিল, ডেমোক্রেটিক রিপাবলিক (ডিআর) কঙ্গো, মিসর, ইন্দোনেশিয়া, জর্ডান, মলদোভা এবং ওমান।

     

    তার পরেও উদ্বেগ থেকেই যাচ্ছে:

    প্রাপ্তবয়স্ক ধূমপায়ীদের মধ্যে ধূমপান ত্যাগের প্রবণতা বৃদ্ধি পেলেও সমাজ থেকে এ সংক্রান্ত উদ্বেগ এখনও কাটেনি। কারণ ডব্লিউএইচও’র পর্যবেক্ষণ বলছে, অপ্রাপ্তবয়স্ক ধূমপায়ীদের ধূমপান ত্যাগের ক্ষেত্রে তেমন কোনো সাফল্য এখনও আসেনি।

    সংস্থাটির পরিসংখ্যান অনুযায়ী, বিশ্বে বর্তমানে অন্তত ৩ কোটি ৭০ লাখ অপ্রাপ্তবয়স্ক সিগারেট এবং অন্যান্য তামাকজাত পণ্যে অভ্যস্ত। এই অপ্রাপ্তবয়স্কদের সবাই ১৩ থেকে ১৫ বছর বয়সী কিশোর-কিশোরী। বর্তমানে বিশ্বে যত ধূমপায়ী রয়েছেন, তাদের মধ্যে এই কিশোর-কিশোরীদের হার অন্তত ১০ শতাংশ।

    তবে ধূমপায়ী কিশোর-কিশোরীদের প্রকৃত সংখ্যা পরিসংখ্যানের চেয়ে আরও অনেক বেশি বলে মনে করে ডব্লিউএইচও। কারণ, অন্তত ৭০টি সদস্যরাষ্ট্র এ সংক্রান্ত কোনো তথ্য বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থাকে দেয়নি।

    ডব্লিউএইচও’র হেলথ প্রমোশন বিভাগের পরিচালক রুয়েডিগের ক্রেচ মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিবিসিকে এ প্রসঙ্গে বলেন, ‘অপ্রাপ্তবয়স্কদের কাছে সিগারেট ও তামাকজাত পণ্য বিক্রিতে কড়াকড়ি আরোপের জন্য আমরা বহুদিন ধরে প্রচারাভিযান চালাচ্ছি; কিন্তু অনেক দেশ এই ব্যাপারটিকে গুরুত্ব দিচ্ছে না। তাছাড়া সিগারেট ও তামাক কোম্পানিগুলো তাদের পণ্য বিক্রি করতে নানা কৌশলের আশ্রয় নিচ্ছে। এই মুহূর্তে অপ্রাপ্তবয়স্কদের সিগারেট ও তামাকজাত পণ্য থেকে মুক্ত রাখা আমাদের সামনে একটি বড় চ্যালেঞ্জ।’

    বাংলাদেশে অপ্রাপ্তবয়স্কদের মধ্যে ধূমপান আসক্তি থেকে বাঁচাতে কিছু পদক্ষেপ বাস্তবায় করতে হবে সরকারকে। যেমন প্রকাশ্যে তামাকজাতিয় পণ্য বিক্রি বন্ধ করতে হবে। তবে এখানে সামাজিক দায়বদ্ধতাও খুবই জরুরি। কেননা অপ্রপ্তবয়স্কদের জন্য ঢাকাসহ সারাদেশে বিনোদনের ব্যবস্থা বা খেলার জন্য কোন মাঠ নেই। স্কুল কলেজগুলোতে নেই শিক্ষার সঙ্গে খেলাধুলার ব্যবস্থা। সংস্কৃতিক চর্চা ও খেলাধুলায় অংশগ্রহণকারিদের জন্য রাখতে হবে আকর্ষনীয় পুরস্কার। সাহিত্য চর্চাটাও খুব জরুরি হয়ে পড়েছে। তাছাড়া স্কুল পর্যায়ে ধূমপান বিষয়ে সচেতনতা দান করতে  পারলে তা দ্রুত শিক্ষার্থীদের মধ্যে প্রভাবিত হয়। তবে মনে রাখতে হবে সৌজন্যবোধ শেখার সবচেয়ে বড় স্থান হচ্ছে পরিবার। পারিবারিক শিক্ষাটাই সবচেয়ে জরুরি।