Category: লাইফস্টাইল

  • ‘তাভাস এবং ডিমান্ড’এর ঈদ কালেকশন

    ‘তাভাস এবং ডিমান্ড’এর ঈদ কালেকশন

    www.HelloBangla.News – লাইফস্টাইল – ১৮ মার্চ, ২০২৪: ফ্যাশন হাউজ ‘তাভাস এবং ডিমান্ড’ লাইফস্টাইলও এবার ঈদের সংগ্রহে নিয়ে এসেছে সব বয়সীদের জন্য আকর্ষণীয় ডিজাইনের বিভিন্ন পোশাকের আয়োজন।

    বিগত কয়েক বছরের ন্যায় এবারের ঈদ অনেকটা সামার কেন্দ্রিক, তাই এই সামারে গরমের কথা মাথায় রেখেই ‘তাভাস এবং ডিমান্ড’ ঈদ কালেকশনের এবারের থিম সমুদ্র এবং রোদ্রজ্জল আবহ থেকে অনুপ্রাণিত হওয়া।

    সেখান থেকেই বিভিন্ন মোটিফ, প্যাটার্ন নির্ধারণ করা হয়েছে। স্ক্রিন প্রিন্ট, ডিজিটাল প্রিন্ট, কারচুপি, এমব্রয়ডারির কাজ, জিওমেট্রিক, ট্র্যাডিশনাল, ফ্লোরাল এমন অনেক কিছুই থাকছে ‘তাভাস এবং ডিমান্ড’ এবারের ঈদ আয়োজনের পোশাকের মোটিফ হিসেবে। এ লাইন, সিমেট্রিক, এসিমেট্রিক নিয়ে বিভিন্ন কাজ থাকছে পোশাকগুলোর প্যাটার্নে। এছাড়াও কালারের ক্ষেত্রে ভাইব্রেন্ট রাখা হয়েছে এবারের ঈদ কালেকশন।

    ঈদুল ফিতরের এবারের আয়োজনে মেয়েদের জন্য ‘তাভাস’এনেছে সিঙ্গেল পিস কামিজ, লন থ্রি পিস, আকর্ষণীয় পার্টি থ্রি পিস, এথনিক কুর্তি, ফ্যাশন টপস, কাফতান ইত্যাদি।

    ‘তাভাস এবং ডিমান্ড’ এবারের আয়োজনে ছেলেদের জন্য থাকছে পাঞ্জাবি, কাবলি সেট, সিঙ্গেল পিস কাবলি, ক্যাজুয়াল শার্ট, ফরমাল শার্ট, টি-শার্ট, পোলো শার্ট, ফতুয়া, কাতুয়া, ডেনিম প্যান্ট, চিনো প্যান্ট, কার্গো প্যান্ট, পায়জামা ইত্যাদি।

    প্রকৃতি ও ফ্যাশনের সঙ্গে তাল মিলিয়ে এবারের ঈদে সুতিসহ আরামদায়ক কাপড়ে তৈরি এসব পোশাকের কাটিং ও প্যাটার্নে রয়েছে বৈচিত্র্য। পাশাপাশি থাকছে ফেব্রিক্স ও ট্রেন্ডের ভিন্নতাও। এসব পোশাকে ব্যাবহার করা হয়েছে, কটন, ভিসকস, শার্টিন, নেট, ডেনিম ও টুইল ফেব্রিক্স, জ্যাকার্ড কটন, ডবি কটন, জর্জেট, সিল্ক ইত্যাদি।

    প্রতিবারের মতোই এবারও ‘তাভাস এবং ডিমান্ড’ ঈদ আয়োজনে গুণগত মান ও ক্রেতাদের ক্রয়ক্ষমতার বিষয়টি প্রাধান্য দেওয়া হয়েছে। আকার, ডিজাইন ও প্যাটার্নের ভিন্নতার দিক বিবেচনা করে এসব পোশাকের মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে। ক্রেতারা এসব পোশাক পেয়ে যাবেন পাঁচশ থেকে পাঁচহাজার টাকার মধ্যে। পাশাপাশি এক্সক্লুসিভ পাঞ্জাবি থাকছে এবারের ‘তাভাস এবং ডিমান্ড’ ঈদের কালেকশনের মূল আকর্ষণ।

    ‘তাভাস এবং ডিমান্ড’ ঈদ আয়োজনে ছেলে শিশুদের শার্ট বা ফতুয়ায় প্রাধান্য পাচ্ছে শর্ট স্লিভ ও ফুল স্লিভ। লং প্যান্টের পাশাপাশি রয়েছে কোয়ার্টার প্যান্ট। সাদা পাঞ্জাবির পাশাপাশি ভাইব্রেন্ট কালারেরও পাঞ্জাবি থাকছে।

    অন্যদিকে ছেলে শিশুদের জন্য থাকছে পাঞ্জাবি, কাতুয়া, লং ও শর্ট স্লিভ শার্ট, পলো টি-শার্ট, ফ্যাশনেবল শার্ট-প্যান্ট সেট, বয়েজ কার্গো ইত্যাদি। থাকছে বাবা-ছেলের পাঞ্জাবি ও কাবলির মিনিমি। ‘তাভাস এবং ডিমান্ড’ এবার ঈদের বিশেষ আয়োজনের মধ্যে থাকছে ফুল ফ্যামিলি (বাবা-ছেলে-মা-মেয়ে) একই ডিজাইনের পোশাকের সংগ্রহ।

    সারা বাংলাদেশে ডিমান্ড ব্রান্ডের মোট ১৮টি আউটলেট রয়েছে এবং তাভাস এর রয়েছে ফ্ল্যাগশীপ আকারের মোট ৫টি আউটলেটস! এসব আউটলেটে পেয়ে যাবেন এক্সক্লুসিভ সব ঈদ কালেকশন। যা অফিসিয়াল ফেসবুক পেজে প্রতিনিয়ত আপডেট দেওয়া হচ্ছে।

  • ঈদ আয়োজনে বিশ্বরঙ

    ঈদ আয়োজনে বিশ্বরঙ

    www.HelloBangla.News – লাইফস্টাইল – ১৭ মার্চ, ২০২৪: ঈদ মানেই আনন্দ, ঈদ উৎসবের এই আনন্দের রঙে বাড়তি মাত্রা যোগ করতে বরাবরের মতোই দেশীয় কাপড় ও উপকরণ ব্যাবহার করে “বিশ্বরঙ” এবারেও ঈদ-উল-ফিতরের আয়োজনে পোশাকে ট্রেন্ডি এবং ট্রেডিশনাল লুকের নান্দনিক উপস্থাপন করেছে। কালের আবর্তে প্রায় হারিয়ে যাওয়া আদিবাসী সম্প্রদায়ের হাতে তৈরি বাহারি রঙের ঐতিহ্যবাহী পোশাক এ ব্যাবহৃত নকশার অনুপ্রেরণায়। আদিবাসী সম্প্রদায়ের নিজ হাতে তৈরি পোশাক দিনে দিনে প্রায় বিলুপ্তির পথে, তাই আমাদের এবারের আয়োজন আদিবাসীদের নিজস্ব সৃষ্টিশীলতাকে আমাদের নাগরিক জীবনে পৌছে দেয়ার অভিপ্রায় মাত্র।

    স্বতন্ত্রতায় বিশ্বাসী বিশ্বরঙ সুপ্রিয় ক্রেতা সাধারণের উৎসব আনন্দে অনন্যা মাত্রা যোগ করার প্রয়াসে প্রতিবারের মত এবারেও নতুনত্ব ও ব্যাতিক্রমী উদ্যোগ নিয়েছে। “বিশ্বরঙ” এর পোশাক মানেই নতুনত্ব এবং ঐতিহ্যগত আভিজাত্যেও গর্বিত উপস্থাপনা। ঈদ মানেই আনন্দ, ঈদ মানেই খুশি, ঈদ উৎসবের রঙে বাড়তি মাত্রা যোগ করতে প্রতি বছরের ন্যায় এবারও নতুন বিশেষ সমারহ নিয়ে সাজিয়েছে। বরাবরের মতোই দেশীয় কাপড়, উপকরণ ব্যাবহার করে “বিশ্বরঙ”এবারেও ঈদ-উল-ফিতর আয়োজনে পোশাকে ট্রেন্ডি এবং ট্রেডিশনাল লুকের নান্দনিক উপস্থাপন করেছে। দেশের আবহাওয়ার কথা মাথায় রেখে আরামদায়ক কাপড় যেমন সুতি, ধুপিয়ান সিল্ক, তসর সিল্ক, লিলেন, কাতান, জ্যাকার্ড কাপড় ব্যবহার করেছে, রঙের ব্যবহারেও কনট্রাস্ট কালারের পাশাপাশি রঙে ও ম্যাচিউরড টোন এর পরিমিত ব্যবহার লক্ষ্যনীয়। কাজের মাধ্যম হিসাবে রয়েছে স্ক্রিন প্রিন্ট, ব্লক, ডিজিটাল প্রিন্ট, মেশিন এমব্রয়ডারী, কম্পিউটার এমব্রয়ডারী, হ্যান্ড এমব্রয়ডারী, কারচুপি, নকশী কাঁথা জারদৌসীসহ মিশ্র মাধ্যমের নিজস্ব বিভিন্ন কৌশল।  এবারের ঈদ আয়োজনে “বিশ্বরঙ” প্রতিটি শ্রেণীর মানুষের জন্যই ভিন্ন কিছু যোগ করেছে। বাচ্চাদের জন্য এনেছে নান্দনিক সব কালেকশন সেই সাথে প্রাপ্ত বয়স্ক এবং নারীদের জন্য আছে ঐতিহ্য ও আভিজাত্যের ছোঁয়া। শোরুমে গিয়ে কেনাকাটার সুযোগের পাশাপাশি যে কেউ ঘরে বসে অনলাইনে কেনাকাটা করতে পারবেন।

    www.bishworang.com.bd এই ওয়েব পেইজটি এবং BISHWORANG ফেইজবুক পেইজের মাধ্যমে অনলাইনে ঘরে বসেই কিনতে পারেন আপনার পছন্দের পোশাকটি । প্রয়োজনে যোগাযোগ করুন “বিশ্বরঙ”এর কাষ্টমার কেয়ারে ০১৮১৯-২৫৭৭৬৮,  ০১৭৩০০৬৮০২৯।

  • নরসিংদীতে “ইজি” ফ্যাশনের   ৮৬  তম শাখার উদ্বোধন

    নরসিংদীতে “ইজি” ফ্যাশনের ৮৬ তম শাখার উদ্বোধন

    www.HelloBangla.News – লাইফস্টাইল – ১৬ মার্চ, ২০২৪: গতকাল শুক্রবার  ১৫ মার্চ বিকাল  চারটায় ইজির ৮৬তম  শাখার উদ্বোধন করেন  বাংলাদেশ জাতীয় ক্রিকেট দলের সাবেক অধিনায়ক মোঃ আশরাফুল। এসময় আরো উপস্থিত ছিলেন, ইজি’র ম্যানেজিং ডিরেক্টার,  ইসাদ  চৌধুরী,  ইজির চেয়ারম্যান  আসাদ চৌধুরী ও  ডিরেক্টার, তৌহিদ চৌধুরী ও নরসিংদী পৌরসভার মেয়র আলহাজ্ব  আমজাদ হোসেন বাচ্চু।

    উদ্বোধন উপলক্ষে ২টি পণ্য কিনলে, ১টি নির্দিষ্ট টি-শার্ট ফ্রি এই আফার দেওয়া হয়।

    ইজি’র  চেয়ারম্যান  আসাদ চৌধুরী ও ম্যানেজিং ডিরেক্টার,  ইসাদ  চৌধুরী বলেন,  নরসিংদী সদরে “ইজি” এখন বড় পরিসরে শুরু করেছি অনেকদিনের লালিত স্বপ্ন ছিলো নিজ হোমটাউন নরসিংদীতে ইজির শোরুম করার আমাদের বাবার ও তাই ইচ্ছে ছিলো  আল্লাহ তাআলার  মেহেরবানীতে  আমাদের ইচ্ছে পূরণ হয়েছে।  প্রায় ১০ হাজার স্কয়ার ফিটে মতো একটি  শোরুম  করেছি।  নিজেরা মনের মাধুরী দিয়ে শোরুম টি সাজানো   চেষ্টা করেছি।

    ইজি’র  পরিচালক  তৌহিদ চৌধুরী বলেন,  ২০০৯ সালে আমরা ইজি ফ্যাশনের যাএা  শুরু করেছিলাম  প্রায় ১৫ বছর  আগে,   আল্লাহর অশেষ  রহমতে   ৮৬  তম শোরুমের যাত্রা শুরু করলাম।  সামনে আরো বহুদূর এগিয়ে যেতে চাই । এবার ঈদে পাওয়া যাবে টি শার্ট, পলো শার্ট, শার্ট, ফরমাল শার্ট  ও পাঞ্জাবি  প্যান্ট ইত্যাদি  ।  শুধু মুনাফা নয় কাস্টমারদের সেবা দেওয়াই আমাদের  মূল লক্ষ্য  ।

    ঢাকা ছাড়া ও বাংলাদেশের সকল জেলাতেই ইজির শো-রুম রয়েছে।

    ফেইসবুক পেইজ : https://www.facebook.com/easyfashionltd.bd/

  • রান্না: গরুর মাংসের কোপ্তা

    রান্না: গরুর মাংসের কোপ্তা

    www.HelloBangla.News – লাইফস্টাইল – ১৬ মার্চ, ২০২৪: রমজানে বিশেষ ভাবে ইফতারে প্রোটিনের চাহিদা মেটাতে গরুর মাংসের কোপ্তা হতে পারে একটি উপাদেও খাবার। তবে সেটা হতে হবে বাসায় তৈরি। তাই বাসায় তৈরি করতে এবার দেওয়া হলো গরুর মাংসের কোপ্তার রেসিপি।

    রেসিপি দিয়েছেন- মাহফুজা মজুমদার  (২)
    রেসিপি দিয়েছেন- মাহফুজা মজুমদার (২)

     

    উপকরণ:

    গরুর হাড় ছাড়া মাংস ১/২ কেজি, ডিম ১টি, আদা রসুন বাটা ১ টেবিল চামচ করে, হলুদ মরিচ গুড়ো  ১ চা চামচ করে, ধনে গুড়ো আধা চা চামচ,  ভাজা জিরা গুড়া ১ চা চামচ, গরম মসলা১/২ চা চামচ, গোলমরিচের গুঁড়া আধা চা চামচ,  বেসন আধা কাপ, কাঁচা মরিচ ২ টেবিল চামচ, ধনে পাতা কুচি১/৩ কাপ. পেয়াজ মিহি কুচি বড় ২ টা, লেবুর রস ১ টেবিল চামচ, লবন স্বাদ মতো, ভাজার জন্য তেল আধা কাপ।

     

    প্রস্তুত প্রণালী

    মাংস কিমা করে নিতে হবে। তারপর এতে আদা,, রাসুন, হলুদ, মরিচ, ধনে, জিরা,গরম মসলা, গোলমরিচ, কাবাব মসলা গুড়ো, দিবো। ধনে পাতা, কাঁচা মরিচ, পেঁয়াজ কুচি লবন দিয়ে চটকে নিয়ে তারপর কিমাতে মিশাতে হবে। একটি ডিম দিতে হবে।এরপর বেসন দিব।(বেসন টেলে নিতে হবে এতে বেসনের কাঁচা গন্ধটা থাকবে না) এবার সব উপকারণ খুব ভালো করে মেখে নিতে হবে। বুঝতে হবে যেন শেপ করা যায়। পছন্দ মতো আকার দিয়ে এবার তেল ভাজতে হবে, মিডিয়াম তাপে সময় নিয়ে। যেহেতু কোপ্তা টা কাঁচা মাংসের। এতে ভিতরটা ও সুন্দর ভাবে হয়ে যাবে আর বাহির টাও সঠিক ভাবে হয়ে যাবে।  কোপ্তা ভাপেও করা যায়। এবং এভাবে ডিপে রিজার্ভ  করা যাবে।

    সারাদিন রোজার পরে প্রোটিনের চাহিদা মেটাতে অতুলনীয়। আর মুখোরচোক। সবার পছন্দ।

     

    রেসিপি দিয়েছেন: মাহফুজা মজুমদার

  • রান্না : খেজুর বাদামের ডেজার্ট

    রান্না : খেজুর বাদামের ডেজার্ট

    www.HelloBangla.News – লাইফস্টাইল – ১৩ মার্চ, ২০২৪: ইফতারি হিসেবে খেজুর আমরা সব সময় খেয়ে থাকি। তবে অনেকে বাদম রাখেন ইফতারে। তবে এই দেই উপকরণ দিয় তৈরি হয়েছে মজাদার ইফতার “খেজুর বাদামের ডেজার্ট”। এই খাবারের রেসিপি এখানে দেওয়া হয়েছে। আপনি ইচ্ছা করলে খুব সহজেই তৈরি করতে পারেন এই ইফতারটি।

    রেসিপি দিয়েছেন-কানিজ ফাতেমা রুমা (২)
    রেসিপি দিয়েছেন-কানিজ ফাতেমা রুমা (২)

     

    উপকরণ:

    খেজুর-২ কাপ, কাঠ বাদাম-হাফ কাপ, কাজু বাদাম-হাফ কাপ, পেস্তা বাদাম-হাফ কাপ, সাদা তিল-১/৪ কাপ, ঘি-৩টেবল চামচ।

     

    প্রণালী:

    খেজুর পানিতে ভিজিয়ে নরম করে নিতে হবে। বিচি ছাড়িয়ে ব্লেন্ড করে নিতে হবে। এবার একটি প্যান এ সাদা তিল হাল্কা ভেজে তুলে রাখতে হবে। প্যান এ ঘি দিয়ে কাঠ ও কাজু বাদাম ভেজে তুলে রাখতে হবে। এবার প্যান এ যে ঘি আছে তাতেই খেজুর দিয়ে ভাজা ভাজা করতে হবে। ঘন হয়ে এলে ভাজা তিল ও পেস্তা বাদাম কুচি অর্ধেকটা এবং কাঠ ও কাজু বাদাম ভাজা দিয়ে ভালো মত মিশিয়ে নিতে হবে। নাড়তে নাড়তে কড়াইয়ের গা ছেড়ে এলে নামিয়ে ঠান্ডা করে নিতে হবে। এবার হাতের তালুতে ঘি লাগিয়ে খেজুর শেপ এ বানিয়ে নিন। বরফির আকারেও কেটে নিতে পারেন। ফ্রিজ এ রেখে  ঠান্ডা ঠান্ডা পরিবেশন করুন খেজুরের ডেজার্ট।  এই রমজানে আপনার খাওয়ার টেবিলে  খুবই উপাদেয় একটি ডেজার্ট হতে পারে এটি।

     

    রেসিপি দিয়েছেন: কানিজ ফাতেমা রুমা।

  • রান্না: চিকেন ব্রেড চপ

    রান্না: চিকেন ব্রেড চপ

    www.HelloBangla.News – লাইফস্টাইল – ১১ মার্চ, ২০২৪: রমজানে এমন খাবার প্রয়োজন যা হতে হবে স্বাস্থ্যসম্মত। এই ধরনের একটি ইফতারির আইটেম দেওয়া হল এবার। আপনি ইচ্ছা করলে বাইরের খাবার না খেয়ে বাসায় তৈরি করতে পারেন, চিকেন ব্রেড চপ।

    রেসিপি জাহানারা আকতার নীলা (২)
    রেসিপি জাহানারা আকতার নীলা (২)

    উপকরণঃ

    মুরগী মাংস হাড় ছাড়া-এক কাপ, ডিম-৪ টা, গাজর কুচি-১ কাপ, পাতা কপি কুচি-১ কাপ, আদা ও রসুন বাটা-দেড় চা চামচ, কাচারি-কুচি ৫ টা, টমেটো সস,সয়া সস,গোল মরিচ গুড়া, লবন, ধনে পাতা, তেল ও ব্রেক কাম পরিমান মতো।

     

    প্রস্তুত প্রণালী: 

    প্রথমে স্টেপ- মুরগীর মাংস ধুয়ে পানি ঝরিয়ে আদা ও রসুন বাটা, সয়া সস, টমেটো সস, গোল মরিচ গুড়া, লবন, সব এক সাথে মেরিনেট করে ৩০ মিনিট রাখতে হবে, চুলায় তেল দিয়ে মেরিনেট করা মাংস টা দিয়ে হাল্কা আগুন এ রান্না করুন ১০ মিনিট মাংসের পানি শুকিয়ে এলে, গাজর ও পাতা কপি দিয়ে কিছু ক্ষন নাড়তে হবে সব শেষ এ ২ টা ডিম ভেঙে দিয়ে কাচা মরিচ, ধনে পাতা দিয়ে নামিয়ে নিতে হবে।

    দ্বিতীয় স্টেপ- পাউ রুটির চার পাশ কেটে পানিতে ভিজিয়ে হাতের তালু দিয়ে পানি ঝরিয়ে,  মাংসের পুর দিয়ে চেপে চেপে চপ আকারে বানাতে হবে। ফেটানো ডিমে ভিজিয়ে ব্রেড কাম এ গড়িয়ে ডুবো তেল এ লাল করে ভেজে গরম গরম পরিবেশন করুন চিকেন ব্রেড চপ।

     

    রেসিপি দিয়েছেন: জাহানারা আকতার নীলা

  • রমজানে সেহরি ও ইফতারের খাবার বিষয়ে সচেতন হতে হবে

    রমজানে সেহরি ও ইফতারের খাবার বিষয়ে সচেতন হতে হবে

    www.HelloBangla.News – লাইফস্টাইল – ১০ মার্চ, ২০২৪: পরিত্র রমজানে সেহরি ও ইফতারের খাবার কেমন হবে সেটা নিয়ে কথা বলেছেন: রন্ধনশিল্পী- জিনিয়া ইসলাম।

    সবাই কে পবিত্র মাহে রামজানের অনেক  অনেক  শুভেচ্ছা। একটা মাস জুড়ে চলবে মুসলিম  উম্মার এই সিয়াম সাধনা। বছরের  এই একটা মাস মুসলমানদের সবকিছুই  কিছু টা পরিবর্তিত হয় সময়ে, কাজে, খাওয়া দাওয়ায়। তাই এই পরিবর্তিত  সময় টার আমরা  আগে থেকেই প্রস্তুতি নিয়ে থাকি। রমজানের এই মাসে আমাদের প্রতিটা মুহুর্ত কাটে কাজে এবং  ইবাদতে। কারন আল্লাহ্ পাক এবং  রাসূলে পাক সাঃ এই মাসকে মুসলিম  উম্মার জন্য পরীক্ষার মাস, ক্ষমা চাওয়ার মাস এবং নিজের ভুলত্রুটি শুধরে পবিত্র হবার সুযোগ দিয়ে থাকেন । তাই আমরা যতটা পারি পুরো রমজান মাসকে সকল ভালো কাজ ও ইবাদত কাজে লাগাবো। তবে যেহেতু পরিবর্তিত সময়  এই মাস তাই নিজের  শরীর স্বাস্থ্য  খাওয়া দাওয়া,  ওষুধ এবং অন্যান্য শারীরিক বিষয় নিয়ে ও সচেতন হওয়া জরুরি।

    রন্ধনশিল্পী - জিনিয়া ইসলাম
    রন্ধনশিল্পী – জিনিয়া ইসলাম

    যেমন যাদের ডায়াবেটিস, উচ্চ রক্তচাপ বা হার্টের  বা লিভার বা কিডনির সমস্যা  আছে তাদের খাওয়া, ওষুধ এবং নিয়মটাও সেভাবেই মেনে চলতে হবে। তবে এমন রুগীর রমজানের আগে একটা পূর্ণ চেকআপ করানো উচিত। তাহলে রমজানে খাবারের তালিকা কি হওয়া উচিত সেটা ঠিক করা যাবে সহজে।

     

    প্রথমেই আসি রমজানের সেহরির খাওয়া কেমন হওয়া উচিত :

    সারাদিন রোজা রাখার কারনে ওষুধের সময় টাও বদলে যায় বলে এই ওষুধের সময় টাও ইফতার  ও সেহেরি মধ্যে এডজাস্ট করা উচিত।

    যারা আমরা সুস্থ  আছি আলহামদুলিল্লাহ্ তারা ও কিন্তু  সেহরি ও ইফতার নিয়ম করেই খেতে পারি এবং  উচিত।

    সেহরিতে ভাত খাওয়াটাই ভালো। তবে লাল ভাত সাথে ডাল, শবজী, মাছ খাওয়া ভালো। মাংস পানির চাহিদা বাড়িয়ে দেয় বলে এটা এড়িয়ে চলাটাই উত্তম। তবুও বাচ্চারা মাংস খেতে চায় সেক্ষেত্রে মুরগীর পাতলা ঝোল আলু দিয়ে করা যেতে পারে। তবে ডায়াবেটিস রোগির জন্য  রুটি, দুধ, শব্জী, ফল থাকাটা ভালো।

    পানি যেহেতু সারাদিন খাওয়া যাবেনা তাই রাতে পানির পরিমান টা বাড়ানো যায় নরমাল পানি খেয়ে, জুস খেয়ে এবং ডাল ও তরকারির ঝোল দিয়ে।  সেহেরি খাবার একটু ভারী হওয়া ভালো যেহেতু সারাদিন না খেয়ে থাকতে হয়। হার্টের রুগীর জন্য মাছ খুবই  উপকারী। তৈলাক্ত খাবার এড়িয়ে চলাটা খুবই জরুরী। ডায়বেটিসের রুগীর রাতে সামান্য মিষ্টান্ন খাবার খেলে ভালো কারণ সারাদিনে সুগার ইনব্যালেন্স হতে পারে। তাই সুগারের পরিমাণ যেন শরীরে ঠিক মাত্রায় থাকে। তাছাড়া সেররিতে দুধভাত একটু খেতে পারেন।

     

    ইফতারের খাবার:

    এবার ইফতারের খাবার কেমন হওয়া উচিত সেটা দেখি। সারাদিন প্রায় ১৩ ঘন্টার মতো সিয়াম সাধনা বা রোজা রেখে শুরুটাই ইফতার যদি স্বাস্থ্যকর পুষ্টিকর না হয় তাহলে শরীরের ক্ষতি হতে পারে। তবে অসুস্থ যারা তাদের ইফতারের ব্যাপারে অবশ্যই সতর্কতা মেন চলা প্রয়োজন। যেমন একটা খেজুর আমরা খেতেই পারি। এতে সারাদিনের শারীরিক ক্লান্তি কিন্তু দূর হয়ে যায়। কারন এতে আছে ফাইবার যা পেট পরিস্কার রাখে। এবং ন্যাচারাল সুগার যা শরীরের শক্তি জোগায়।  এছাড়া খেজুরের পরপর সরবত না খেয়ে পানি, বিভিন্ন ফলের জুস,  নাবিজ বা খেজুরের সরবত, লাচ্ছি, ও  ডাবের পানি খাওয়া খুবই ভালো।  খাবার টা হালকা হওয়া জরুরি। চিড়া দৈ, দৈ দিয়ে রুটি বা দৈ ভাত খেলে পেট ঠান্ডা থাকবে এবং  এসিডিটি হবেনা। আবার রুটি, ঘন ডাল, শবজি দিয়ে ইফতার করা ভালো। ফল থাকাটা জরুরি। অর্থাৎ প্রোটিন জাতীয় খাবার হতে হবে। ওটস ও খুব ভালো শরীরের জন্য। ইফতার থেকে সেহরি পযর্ন্ত প্রায় দশ গ্লাস পানি খাওয়াটা খুবই জরুরী।

    রমজানে অনেকে মনে করেন ব্যায়াম করা ভালো না। এটা একদম ভুল কথা। ব্যায়াম শরীরের প্রতিটি অঙ্গ কে ফিট রাখে এবং রক্ত চলাচল ভালো রাখে। তাই রমজানে ব্যায়াম বন্ধ না রাখাই ভালো।

    একটা মাস রামজানে নিজের ও পরিবারের সবার যত্ন নিন। সুস্থ থাকুন। স্বাস্থ্যকর  ও পুষ্টিকর খাবার খান।

     

    ধন্যবাদ : জিনিয়া ইসলাম

  • ফ্যাশন ব্র্যান্ড আর্টিজ্যানের আউটলেট উদ্বোধন করলেন জায়েদ খান

    ফ্যাশন ব্র্যান্ড আর্টিজ্যানের আউটলেট উদ্বোধন করলেন জায়েদ খান

    www.HelloBangla.News – লাইফস্টাইল – ৯ মার্চ, ২০২৪: বাংলাদেশের শীর্ষস্থানীয় ফ্যাশন ব্র্যান্ড গুলোর মধ্যে অন্যতম আর্টিজ্যান। রাজধানী ঢাকার বিভিন্ন এলাকায় রয়েছে এই ফ্যাশন হাউজের শোরুম। এরই ধারাবাহিকতায় শাহবাগের নতুন শোরুম খোলা হয়েছে। ঈদকে সামনে রেখে এই শোরুমটি ক্রেতাদের চাহিদা মেটাতে পারবে বলে মনে করছেন আর্টিজ্যানের কর্মকর্তারা।

    ফ্যাশন ব্র্যান্ড আর্টিজ্যানের নতুন আউটলেট উদ্বোধন করলেন চিত্রনায়ক জায়েদ খান। সদ্য শাহবাগের আজিজ সুপার মার্কেটের নিচতলায় তিনি নতুন এই আউটলেট উদ্বোধন করেন। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন আর্টিজ্যানের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা রাকিব হোসাইন, লেখক-সাংবাদিক ও পরিব্রাজক গাজী মুনছুর আজিজ, গণমাধ্যম কর্মী ও আর্টিজ্যানের শুভাকাঙ্খীরা।

    জায়েদ খান বলেন, আমাদের সবারই উচিৎ দেশীয় ফ্যাশন ব্র্যান্ডের পোশাক ব্যবহার করা। কারণ, নিজেরা দেশীয় ব্র্যান্ড ব্যবহার করলে তবেই আমাদের ফ্যাশন শিল্প এগিয়ে যাবে। এছাড়া ফ্যাশন ব্র্যান্ড আর্টিজ্যান এরই মধ্যে দেশীয় ব্র্যান্ড হিসেবে সুনাম অর্জন করেছে। আমার গায়ের পলো শার্টটিও আর্টিজ্যানের এবং এটি খুবই আরামদায়ক ও কালারফুল। গণমাধ্যম কর্মীদের প্রতি আমার অনুরোধ, আপনারা দেশীয় ব্যান্ডকে বেশি বেশি প্রমোট করবেন।

    আর্টিজ্যানের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা রাকিব হোসাইন বলেন, একটি টেইলার্স দিয়ে আর্টিজ্যানের যাত্রা। বর্তমানে ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন শহরে আর্টিজ্যানের একাধিক আউটলেট রয়েছে। এর সবই হয়েছে আমাদের শ্রম, মেধা ও ক্রেতাদের ভালোবাসায়। রাকিব হোসাইন বলেন, আসছে ঈদ উপলক্ষে আর্টিজ্যান নিয়ে এসেছে এক্সক্লুসিভ ডিজাইনের পাঞ্জাবি, শার্ট, পলো শার্ট ও টি-শার্ট। বর্তমান আবহাওয়া উপযোগী কালারফুল ডিজাইনের এসব কালেকশন তৈরি করা হয়েছে সুতিসহ আরামদায়ক কাপড়ে। কাটিং ও প্যাটার্নে আনা হয়েছে বৈচিত্র্য। কেনা যাবে পাইকারি ও খুচরা। আজিজ মার্কেটসহ আর্টিজ্যানের রয়েছে একাধিক শোরুম। ঠিকানা : ৩/৩২ (তৃতীয় তলা); ১১৭/১১৭এ (দ্বিতীয় তলা); ৬৭ (নিচতলা), আজিজ সুপার মার্কেট শাহবাগ; প্রি-ক্যাডেট স্কুল মার্কেট, জেলা সদর রোড, টাঙ্গাইল; টাইন হল রোড, হবিগঞ্জ; থানা পাড়া, চাদ মোহাম্মদ রোড, কুষ্টিয়া; সোনাডাংগা, খুলনা এবং ১৪৪/৩ দক্ষিণ পিরেরবাগ, মিপরপুর, ঢাকা। ফেইসবুক  : artizan fashion

  • সতর্ক হলে ‘হেড অ্যান্ড নেক ক্যান্সার’ থেকে মুক্তি মেলে

    সতর্ক হলে ‘হেড অ্যান্ড নেক ক্যান্সার’ থেকে মুক্তি মেলে

    www.HelloBangla.News – লাইফস্টাইল – ৭ মার্চ, ২০২৪: হেড অ্যান্ড নেক ক্যান্সার যে কোন বয়সের মানুষের হতে পারে।  বাংলাদেশের শিশুরা যত ধরনের ক্যান্সারে ভোগে তার আট থেকে ১০ শতাংশই হেড অ্যান্ড নেক ক্যান্সারে আক্রান্ত। শিশুদের মধ্যে এই ক্যানসার জিনগত কারণে হয় বলে এটি প্রতিরোধের কোনো উপায় নেই। তবে প্রাপ্তবয়স্কদের এই ক্যান্সারে আক্রান্ত হওয়ার পেছনে বেশ কয়েকটি কারণ রয়েছে যা প্রতিরোধ করা যেতে পারে।

    প্রাথমিক অবস্থায় রোগটি নির্ণয় হলে এবং সঠিক সময় চিকিৎসা নিলে সব বয়সী রোগীর শতভাগ সেরে ওঠা সম্ভব।

     

    হেড অ্যান্ড নেক ক্যান্সার বলতে মানুষের মাথা থেকে ঘাড় পর্যন্ত অন্তত ৩০টি অংশের ক্যান্সারকে বুঝিয়ে থাকে। এর মধ্যে রয়েছে মানুষের নাক, নাকের গহ্বর, সাইনাস, ঠোঁট, জিহ্বা, মাড়ি, গালের ভেতরের অংশ, মুখের তালু, গলা, কণ্ঠনালী, শ্বাসনালী, খাদ্যনালী, টনসিল, লালাগ্রন্থি, হেড নেকের ত্বক, ইত্যাদি।

    ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব ক্যানসার রিসার্চ অ্যান্ড হসপিটালের সর্বশেষ প্রকাশিত ২০১৫ সাল থেকে ২০১৭ সালের রিপোর্ট অনুযায়ী, পুরুষের প্রথম ১০টি ক্যানসারের মধ্যে অন্তত চারটি এই হেড অ্যান্ড নেক ক্যানসারের সাথে সম্পৃক্ত।

    অন্যদিকে, নারীদের প্রথম ১০টি ক্যানসারের মধ্যে তিনটি হেড অ্যান্ড নেক ক্যানসারের সাথে সম্পৃক্ত। অর্থাৎ সব ক্যান্সারের মধ্যে হেড অ্যান্ড নেক ক্যান্সারে আক্রান্তের সংখ্যা সবচেয়ে বেশি।

     

    হেড অ্যান্ড নেক ক্যান্সারের লক্ষণ:

    মাথা ও ঘাড়ের একেকটি অংশের ক্যান্সারের ক্ষেত্রে একেক ধরণের লক্ষণ দেখা দেয়। তাই নীচের লক্ষণের কোনো একটি বা একাধিক দেখা দিলে এবং ১৫ দিনেও না সারলে দেরী না করে একজন নাক কান গলা বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নিতে বলেছেন চিকিৎসকরা।

     

    • গলায় দীর্ঘসময় ধরে ব্যথা, খাবার চিবিয়ে খেতে বা গিলতে কষ্ট
    • শ্বাস নিতে কষ্ট, নাক বন্ধ হয়ে যাওয়া, শ্বাস নিতে গেলে শব্দ হওয়া, গন্ধের অনুভূতি কমে যাওয়া
    • অবিরাম কাশি
    • গালে, জিহ্বায় বা মুখ গহ্বরে কোথাও কোনো সাদা বা লাল ক্ষত হওয়া, যা দুই সপ্তাহ পরেও সারছে না
    • দীর্ঘদিন সর্দি, নাক থেকে রক্তক্ষরণ
    • গলার স্বর পরিবর্তন হয়ে যাওয়া, কথা বলতে কষ্ট হওয়া
    • মুখের কোনো অংশ যেমন চোখের ওপরে, ঘাড়ে, গলায়,নাকের চারপাশ, কানের আশপাশ বা চোয়াল ফুলে যাওয়া বা মুখের এক পাশ ফুলে যাওয়া, যা দীর্ঘদিনেও সারছে না
    • মুখে ব্যথা, মুখ খুলতে সমস্যা, মুখে অসারতা বা মুখ ঝুলে যাওয়া
    • কানে ব্যথা, এক কানে শুনতে সমস্যা
    • দাঁতে ব্যথা
    • থেমে থেমে জ্বর ও দীর্ঘদিন মাথাব্যথা

     

    হেড অ্যান্ড নেক ক্যান্সার কেন হয় এবং কাদের হয়:

    এই ক্যান্সার হওয়ার মূল কারণ তামাক ও মদ।

    • ধূমপান ও মদ্যপান একসাথে করা
    • পান, জর্দা, সাদা পাতা, চুন, গুল, খৈনি ইত্যাদি খাওয়ার অভ্যাস
    • মুখ অপরিস্কার রাখা ও দাঁত ব্রাশ না করা
    • দুর্বল রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা
    • বংশে কারো ক্যান্সারের ইতিহাস এই ঝুঁকি বাড়িয়ে দেয়
    • সূর্যের অতিবেগুনী রশ্মির অতিরিক্ত সংস্পর্শ, গায়ের রং পুড়িয়ে কালো করার প্রবণতা বেশি থাকলে ঠোঁটের ক্যান্সারের ঝুঁকি বেশি থাকে
    • মাথা ও ঘাড়ে অতিরিক্ত রেডিয়েশন ট্রিটমেন্ট নেয়া
    • নির্মাণ, টেক্সটাইল, সিরামিক ও খাদ্য প্রক্রিয়াকরণ শিল্পে কাজ করা, যা মানুষকে প্রতিনিয়ত কাঠের ধুলো, ফর্মালডিহাইড, অ্যাসবেস্টস, নিকেলসহ অন্যান্য রাসায়নিক পদার্থের সংস্পর্শে আনে, এতে এই ক্যান্সারের ঝুঁকি বাড়ে
    • এপস্টাইন-বার ভাইরাসের সংক্রমণে মনোনিউক্লিওসিস কিংবা অন্যান্য অসুস্থতায় আক্রান্ত হলে অথবা হিউম্যান প্যাপিলোমা ভাইরাসে আক্রান্ত হলে এই ক্যান্সারের ঝুঁকি বেশি থাকে
    • শিশু থেকে শুরু করে যেকোনো বয়সীরা এতে আক্রান্ত হতে পারেন, তবে ৫০ বছরের বেশি বয়সীদের মধ্যে এই ক্যান্সারের ঝুঁকি বেড়ে যায়, নারীদের তুলনায় পুরুষদের এই ক্যান্সারে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি দ্বিগুন বেশি
    • দেখা গেছে, প্রতি ১০০ জন ক্যান্সার আক্রান্ত পুরুষের মধ্যে ৩৩ জন এবং ১০০ জন ক্যান্সার আক্রান্ত নারীদের মধ্যে ১১-১৩ জন হেড ও নেক ক্যান্সারে আক্রান্ত।

     

    ঝুঁকি কমাতে করণীয়:

    এ ধরণের ক্যান্সারের ঝুঁকি কমাতে কয়েকটি বিষয়ে সচেতন হওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা-

    • ধূমপান, মদপান ও যেকোনো ধরণের তামাক গ্রহণ বন্ধ করা
    • মুখের ভেতর পরিস্কার রাখতে প্রতিদিন ব্রাশ করা
    • নিয়মিত ডেন্টিস্টের কাছে চেকআপ করানো কারণ প্রায়শই মাথা ও ঘাড়ের ক্যান্সারের লক্ষণ দাঁতের পরীক্ষা করাতে গিয়ে বেরিয়ে আসে
    • চিকিৎসকের পরামর্শে হিউম্যান প্যাপিলোমা ভাইরাস-এইচপিভি টিকা গ্রহণ
    • সূর্যের অতিবেগুনি রশ্মি থেকে নিজেকে রক্ষা করতে ছাতা ও টুপি ব্যবহার, ত্বকে সানস্ক্রিন ও ঠোঁটে সানস্ক্রিনযুক্ত লিপবাম ব্যবহার করা

     

    চিকিৎসা:

    • চিকিৎসা দেয়ার আগে চিকিৎসকরা মূলত রোগীর ইতিহাস জেনে নিয়ে থাকেন যে, কবে থেকে এসব লক্ষণ প্রকাশ পেয়েছে।
    • এরপর কোন অংশে ক্যান্সার সেই তথ্যের ভিত্তিতে শারীরিক পরীক্ষা করানো হয়। সিটি স্ক্যান, এমআরআই, পিটিই, ন্যাজো অ্যান্ডোস্কোপি, সেইসাথে রক্ত ও প্রস্রাবের বিভিন্ন পরীক্ষা করানো হয়।
    • পরীক্ষার ফলাফলের ভিত্তিতে চিকিৎসকরা অস্ত্রপচার করতে পারেন এবং বায়োপসি করানো হতে পারে।
    • প্রয়োজন হলে কেমোথেরাপি, রেডিওথেরাপি, ইমিউনোথেরাপি চলে।

     

    তবে ক্যান্সার একবার সেরে উঠলেও পুনরায় ফিরে আসতে পারে। এজন্য চিকিৎসকরা ক্যান্সার থেকে সেরে ওঠার পর পরবর্তী চেক আপ অব্যাহত রাখার পরামর্শ দিয়েছেন।

     

    হেড অ্যান্ড নেক ক্যান্সারের বিষয়ে বিস্তারিত সব তথ্য সংগ্রহ করা হয়েছে ব্রিটেনের জাতীয় স্বাস্থ্য সংস্থা, যুক্তরাষ্ট্রের সেন্টার ফর ডিজিজ কন্ট্রোল ও নাক কান গলা বিশেষজ্ঞদের কাছ থেকে।

    সূত্র: বিবিসি বাংলা

  • মস্তিষ্কের ক্ষতি করে এই ধরণের অভ্যাস পরিহার করুণ

    মস্তিষ্কের ক্ষতি করে এই ধরণের অভ্যাস পরিহার করুণ

    www.HelloBangla.News – লাইফস্টাইল – ৫ মার্চ, ২০২৪: বর্তমান সময়ে নিজের বুদ্ধিমত্তা দিয়ে নিজের প্রতিভার বিকাশ লাভ করতে হয়। বিজ্ঞানিরা বলেন প্রতিটি মানুষ সৃজনশীল। যে একে সঠিক নিয়মে বিকশিত করতে পারে সেই সাফল্য লাভ করে। কিন্তু বুদ্ধির বিকাশ তখন হয় যখনই মস্তিষ্ক  স্বাভাবিক প্রক্রিয়ায় চলে। তবে বুদ্ধিমত্তা তখনি জট পাকায় যখন কিছু বদ-অভ্যাস আমাদের মধ্যে বাসা বাঁধে।

    মস্তিষ্কের ক্ষতিকারক এমন ১১টি অভ্যাস এবং এই ক্ষতি কীভাবে কাটিয়ে উঠবেন সেই বিষয়ে ব্যাখ্যা থাকছে এই নিবন্ধে।

    বিবিসি বাংলা এখানে দেওয়া বেশিরভাগ তথ্য সংগ্রহ করেছে যুক্তরাষ্ট্রের হার্ভার্ড মেডিকেল স্কুল, ন্যাশনাল ইন্সটিটিউট অফ নিউরোলজিক্যাল ডিজঅর্ডার্স অ্যান্ড স্ট্রোকসহ বিভিন্ন গবেষণা প্রতিবেদন থেকে।

     

    ১. অপর্যাপ্ত ঘুম

    যুক্তরাষ্ট্রের প্রিমিয়ার নিউরোলজি অ্যান্ড ওয়েলনেস সেন্টারের তথ্য অনুযায়ী, আমাদের মস্তিষ্কের সবচেয়ে বেশি ক্ষতি হয় অপর্যাপ্ত ঘুমের কারণে। প্রাপ্তবয়স্কদের ক্ষেত্রে পর্যাপ্ত ঘুম বলতে ২৪ ঘণ্টায় ৭ থেকে ৮ ঘণ্টা ঘুমকে বোঝানো হয়। এক্ষেত্রে রাতে নিরবচ্ছিন্ন ঘুম সবচেয়ে বেশি কার্যকর। ঘুমানোর সময় মস্তিষ্ক বিশ্রাম নেয়ার পাশাপাশি, বিষাক্ত পদার্থ পরিষ্কার করে এবং নতুন কোষ তৈরি করে। কিন্তু ৭ ঘণ্টার কম ঘুমালে নতুন কোষ গঠন হয় না। এর ফলে আপনি কিছু মনে রাখতে পারেন না, মনোযোগ দিতে কষ্ট হয়, মেজাজ খিটখিটে হয়ে যায়, সিদ্ধান্ত নিতে সমস্যা হয়। ঘুমের অভাবে ডিমেনশিয়া অ্যালঝেইমার্সের ঝুঁকিও বেড়ে যায়।

    যদি আপনি আপনার মস্তিষ্ককে রক্ষা করতে চান তাহলে সমাধান একটাই- প্রতি রাতে কমপক্ষে সাত ঘণ্টা ঘুমানো। আট ঘণ্টা হলে বেশি ভালো। এজন্য যেটা করতে পারেন ঘুমের সময়ের অন্তত এক ঘণ্টা আগে বিছানায় যান, এসময় কোনো ডিভাইস ব্যবহার করবেন না।

    আর ঘুমের পরিবেশ তৈরি করতে আগেই শোবার ঘর পরিষ্কার করে নিন, ঘরের আলো কমিয়ে দিন, আপনার বিছানা, পোশাক, ঘরের তাপমাত্রা সবকিছু যেন আরামদায়ক হয়। আরেকটা বিষয়- কখনও মাথা ঢেকে ঘুমাবেন না। কারণ মাথা ঢাকলে আপনার মাথার চারপাশে অক্সিজেনের পাশাপাশি প্রশ্বাসের সাথে বেরিয়ে আসা কার্বন ডাই অক্সাইড গ্যাস জমে থাকে। এই গ্যাসের মিশ্রণ নিশ্বাসের সাথে গ্রহণ করলে মস্তিষ্কে অক্সিজেনের ঘাটতি দেখা দেয়

     

    ২. সকালের নাস্তা এড়িয়ে যাওয়া

    সারা রাত না খেয়ে থাকার পর, দিনে কাজ করার শক্তি আসে সকালের নাস্তা থেকে। কিন্তু আমরা অনেকেই সকালে তাড়াহুড়ো করতে গিয়ে নাস্তার মতো গুরুত্বপূর্ণ কাজটি এড়িয়ে যাই। এতে যেটা হয় রক্তে শর্করার মাত্রা কমে যায় যার প্রভাব গিয়ে পড়ে মস্তিষ্কে। দিনের পর দিন নাস্তা না খাওয়ার ফলে মস্তিষ্কের ক্ষয় হতে থাকে, কোষগুলো কার্যকারিতা হারায়। এতে পুষ্টির অভাবে স্বাভাবিক কাজগুলো করা কঠিন হয়ে যায়।

     

    ৩. পর্যাপ্ত পানি পান না করা

    আমাদের মস্তিষ্কের ৭৫% পানি। তাই মস্তিষ্কের সবচেয়ে ভালো কাজ করার জন্য একে আর্দ্র রাখা বেশ জরুরি। পানির অভাবে মস্তিষ্কের টিস্যু সঙ্কুচিত হয়ে যায় ও কোষগুলো কার্যক্ষমতা হারায়। এতে যৌক্তিক চিন্তা বা সিদ্ধান্ত নেয়ার ক্ষমতা কমে যেতে পারে।

    তাই মস্তিষ্ক সুস্থ রাখতে একজন প্রাপ্তবয়স্ক মানুষকে দিনে কমপক্ষে দুই লিটার পানি খেতেই হবে।

    তবে ওজন, স্বাস্থ্য, বয়স, জীবনযাত্রা এবং আবহাওয়ার ওপর ভিত্তি করে পানির পরিমাণ আরও বাড়তে পারে।

     

    ৪. অতিরিক্ত চাপ এবং শুয়ে বসে থাকা

    দীর্ঘসময় খুব চাপের মধ্যে কাজ করলে মস্তিষ্কের কোষ মারা যায় এবং মস্তিষ্কের সামনে থাকা ফ্রন্টাল কর্টেক্স সঙ্কুচিত হয়ে পড়ে। এতে আমাদের স্মৃতি ও চিন্তাশক্তি ক্ষতিগ্রস্ত হয়। গবেষকদের মতে, যারা কাজের ব্যাপারে ভীষণ খুঁতখুঁতে, অন্যের সাহায্য নিতে ভরসা পাননা, আবার যারা ‘না’ বলতে পারেন না তারা সবচেয়ে বেশি মানসিক চাপে ভোগেন।

    তাই যেকোনো উপায়ে অতিরিক্ত চাপ নেয়া থেকে বিরত থাকতে হবে। অনেকেই আছেন যারা অসুস্থ অবস্থাতেও মস্তিষ্কে জোর দিয়ে কাজ করেন। কিন্তু মনে রাখতে হবে শরীর অসুস্থ থাকলে মস্তিষ্ক রোগ প্রতিরোধে ব্যস্ত থাকে তাই এই সময় বাড়তি চাপ না দিয়ে মস্তিষ্ককে বিশ্রাম দিন। ছুটি নিন। না হলে মস্তিষ্কে এর দীর্ঘমেয়াদী বিরূপ প্রভাব পড়বে। অতিরিক্ত চাপ নেয়া যেমন খারাপ তেমনি দীর্ঘ সময় শুয়ে বসে থাকাও ক্ষতিকর। অনেকে আছেন এমন কাজ করেন যেখানে সারাদিন বসে থাকতে হয়। আবার ছুটির দিন এলে শুয়ে বসে সময় কাটিয়ে দেন। পর্যাপ্ত নড়াচড়া, চলাফেরা বা কায়িক শ্রম করেন না। এতে স্থূলতা, হৃদরোগ এবং ডায়াবেটিসের ঝুঁকি বাড়ে। যার প্রভাবে ডিমেনশিয়া হতে পারে। তাই মস্তিষ্ককে সুস্থ রাখতে নিয়মিত ব্যায়াম করুন, প্রতি আধাঘণ্টা পর পর চেয়ার থেকে উঠে চলাফেরা করুন, এজন্য টাইমার সেট করে রাখতে পারেন।

    চেষ্টা করুন সপ্তাহে অন্তত তিন দিন আধা ঘণ্টা করে হাঁটতে।

     

    ৫. গুগল সার্চ

    খেয়াল করে দেখবেন আমাদের আগের প্রজন্মের অনেকেই ক্যালকুলেটর ছাড়াই ছোটখাটো হিসাব কষে ফেলেন। তাদের ফোন নম্বর মুখস্থ থাকে। প্রচুর বই পড়ার কারণে তাদের সাধারণ জ্ঞানও সমৃদ্ধ। তাদের এই অভ্যাসগুলো মস্তিষ্কের ব্যায়ামের মতো যা তাদের চিন্তাশক্তি ও স্মরণশক্তিকে দীর্ঘসময় শানিত রেখেছে।

    কিন্তু এই যুগে আমাদের এতকিছু মনে রাখার প্রয়োজন হয় না। প্রযুক্তির উপর এই অতিরিক্ত নির্ভরশীলতার কারণে আমাদের ব্রেইনের নিজস্ব ক্ষমতা কমে গিয়েছে। স্মৃতি ও চিন্তাশক্তি দুর্বল হয়ে পড়েছে। মস্তিষ্ক শাণিত করতে সবকিছু গুগল সার্চ না করে মনে রাখতে চেষ্টা করার পরামর্শ দিয়েছেন গবেষকরা। সেইসাথে শব্দ-জট খেলা বিভিন্ন ধরনের পাজল মেলানো, সুডোকু ইত্যাদি ব্রেইন অ্যাকটিভিটির খেলা খেলতে পারেন।

     

    ৬. হেডফোন ব্যবহার, উচ্চ শব্দে জোরে গান শোনা

    আপনি যে হেডফোন বা এয়ারপড ব্যবহার করছেন সেটা ৩০ মিনিটেরও কম সময়ে শ্রবণশক্তির ক্ষতি করতে পারে। সেইসাথে জোরে জোরে গান শুনলে কিংবা উচ্চ শব্দের মধ্যে থাকলে শ্রবণের মারাত্মক ক্ষতি হয়। এবং ভয়ের বিষয় হল শ্রবণশক্তিকে একবার যে ক্ষতি হয় সেটা আর ঠিক করা যায় না। আর শ্রবণশক্তি কমে গেলে এর সরাসরি প্রভাব মস্তিষ্কে গিয়ে পড়ে। মার্কিন গবেষকদের মতে, শ্রবণশক্তি হ্রাস পাওয়া ব্যক্তিদের মস্তিষ্কের টিস্যুর ক্ষতিগ্রস্ত হয় এতে তাদের আলঝেইমার্স হওয়ার আশঙ্কা বেড়ে যায়। ফলে পড়ালেখা করতে এবং মনোযোগ দিতেও কষ্ট হয়।

    তাই হেডফোন ব্যবহারের আগে বা প্রিয় গানটি জোরে ভলিউমে শোনার আগে দুবার ভাববেন। যদি শুনতেই হয় ভলিউম ৬০ শতাংশের চেয়ে বাড়াবেন না। হেডফোন টানা ব্যবহার না করে, এক ঘণ্টা বিরতি দিয়ে করুন। আরেকটি বিষয় অনেকেই গান শুনে জোরে জোরে মাথা ঝাঁকান বা হেড ব্যাঙ করেন। ব্রিটিশ মেডিক্যাল জার্নাল বলেছে এতে মস্তিষ্কের কোষ মারা গিয়ে মারাত্মক ক্ষতি হয়।

     

    ৭. একা একা থাকা, সামাজিক না হওয়া

    মানুষের সাথে কথা বলা, আড্ডা দেয়া, এক কথায় সামাজিকীকরণ আপনার মস্তিষ্কের স্বাস্থ্যের জন্য ভীষণ জরুরি। খুব বেশি সময় একা একা সময় কাটানো আপনার মস্তিষ্কে ঠিক ততটাই খারাপ প্রভাব ফেলতে পারে যেমনটা পর্যাপ্ত ঘুম না হলে হয়। সামাজিকীকরণের ফলে আমাদের মস্তিষ্ক উদ্দীপ্ত থাকলে যা একা থাকলে হয় না।

    বরং একাকীত্ব থেকে বিষণ্নতা, উদ্বেগ ভর করে এবং এমনকি ডিমেনশিয়া এবং আলঝেইমার্স রোগের আশঙ্কা বেড়ে যায়।

    তাই যদি মস্তিষ্ক সুস্থ রাখতে চান তাহলে নিয়মিত কাছের কয়েকজন বন্ধু এবং পরিবারের সাথে সময় কাটান। তবে হ্যাঁ তারা যেন অবশ্যই ইতিবাচক মানসিকতার মানুষ হন।

     

    ৮. নেতিবাচক চিন্তা ও মানুষ

    আপনার যদি প্রতিনিয়ত নেতিবাচক চিন্তার অভ্যাস থাকে: আপনাকে দিয়ে কিছুই হবে না, বিশ্বের অবস্থা খুব খারাপ, ভবিষ্যৎ অন্ধকার, আপনি অভাগা, এমন নেগেটিভ চিন্তার ক্ষতিকর প্রভাব মস্তিষ্কে গিয়ে পড়ে। কেননা নেতিবাচক চিন্তা করার ফলে একদিকে যেমন মানসিক চাপ, হতাশা এবং উদ্বিগ্নতা দেখা দেয়। তেমনি মস্তিষ্কে প্রচুর পরিমাণে অ্যামাইলয়েড এবং টাউ জমে। যা ডিমেনশিয়া ও আলেঝেইমার্স হওয়ার বড় কারণ।

    এজন্য নেতিবাচক চিন্তা আসলেই সেটা সাথে সাথে থামিয়ে দেয়ার চেষ্টা করুন। এমনটা বার বার করলে একসময় অভ্যাস হয়ে যাবে। যদি একার চেষ্টায় না পারেন তাহলে মনোরোগবিদের সাহায্য নিন।

    সেইসাথে নেতিবাচক সঙ্গ এড়িয়ে চলা খুব জরুরি। চেষ্টা করুন অতিরিক্ত নেতিবাচক খবর দেখা থেকে নিজেকে বিরত রাখতে।

     

    ৯. অন্ধকারে সময় কাটানো

    মার্কিন এক গবেষণায় দেখা গিয়েছে যারা অন্ধকারে বেশি সময় কাটান। কিংবা দীর্ঘসময় এমন কোন আবদ্ধ স্থানে থাকেন যেখানে তেমন আলো বাতাস চলাচল করে না, এমন পরিবেশ মস্তিষ্কের ওপর ভীষণ চাপ তৈরি করে। কারণ আমাদের মস্তিষ্কের জন্য সূর্যের আলোর সংস্পর্শ পাওয়া বেশ জরুরি। নাহলে ডিপ্রেশনের মতো সমস্যা হতে পারে।

    আপনি মস্তিষ্ক সুস্থ রাখতে প্রতিদিন সূর্যের আলোয় যেতে হবে। এজন্য বাইরে বেরিয়ে পড়ুন। ঘরে থাকলে দরজা জানালা খুলে দিন।

     

    ১০. খাদ্যাভ্যাস

    অতিরিক্ত খাওয়ার অভ্যাস, সেটা স্বাস্থ্যকর খাবার হলেও মস্তিষ্কের ক্ষতি করে। গবেষণা দেখা গিয়েছে অতিরিক্ত খাওয়ার ফলে মস্তিষ্কের ধমনীগুলোয় কোলেস্টেরল জমে রক্তপ্রবাহ কমে যায়। এতে স্মৃতিশক্তি ও চিন্তাশক্তি লোপ পায় যার প্রভাব ডিমেনশিয়া ও আলঝেইমার্স হতে পারে।

    জাঙ্ক ফুড, ভাজাপোড়া, অতিরিক্ত চিনিযুক্ত খাবার, কোমল পানীয় ইত্যাদি খেলেও মস্তিষ্ক একই ধরণের ঝুঁকির মধ্যে পড়ে। এজন্য পরিমিত ও সঠিক খাদ্যাভ্যাস খুব জরুরি। অনেকে দৈনিক ক্যালোরির হিসাব রাখতে বিভিন্ন অ্যাপ ব্যবহার করেন। তবে সবচেয়ে ভালো উপায় পুষ্টিবিদের পরামর্শে নিজের ডায়েট তৈরি করে তা মেনে চলা।

    অনেকেই ডায়েট বলতে মনে করেন চর্বি বাদ দিতে হবে। কিন্তু মনে রাখতে হবে মস্তিষ্কের ৬০ শতাংশই ফ্যাট বা চর্বি। তাই সব ধরণের খাবারই খেতে হবে কিন্তু পরিমিত হারে। আরেকটি বিষয় মদপান ও ধূমপান যে স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর সবাই জানি। কিন্তু সবচেয়ে খারাপ প্রভাব পড়ে মস্তিষ্কে। এতে মস্তিষ্কের স্নায়ু সঙ্কুচিত হয়ে যায়, কোষ ক্ষতিগ্রস্ত হয়। ফলে আমাদের মস্তিষ্কের হিপোক্যাম্পাস, যেখানে স্মৃতি জমা হয়, সেটি বিকাশ হতে পারে না। এগুলো আলঝেইমার্স ও ডিমেনশিয়া হওয়ার প্রধান কারণ। এসবের প্রভাবে মস্তিষ্কের হাইপোক্সিয়া পর্যন্ত হতে পারে।

     

    ১১. অতিরিক্ত স্ক্রিন টাইম

    অত্যধিক স্ক্রিন টাইম মস্তিষ্কের আকার এবং বিকাশে ব্যাপক ক্ষতি করে। বেশি ক্ষতি হয় ফ্রন্টাল কর্টেক্সে, যা বয়ঃসন্ধিকাল থেকে ২৫ বছর বয়স পর্যন্ত পরিবর্তিত হয়।

    গবেষণায় দেখা গিয়েছে যেসব শিশু পর্দার সামনে দিনে সাত ঘণ্টার বেশি সময় কাটায় তাদের সেরিব্রাল কর্টেক্স পাতলা হয়ে গিয়েছেন। কেননা মোবাইলের ইলেক্ট্রোম্যাগনেটিক ফিল্ড থেকে যে বিকিরণ হয় তার সংস্পর্শে বেশি সময় থাকলে মাথাব্যথা, বিভ্রান্তি, মস্তিষ্কে টিউমারের মতো ক্ষতি হতে পারে।

    এজন্য শিশুদের স্ক্রিনটাইম একদম কমিয়ে ফেলতে হবে। ফোন শরীরের কাছাকাছি রেখে ঘুমানো যাবে না। ফোন পকেটে না রেখে ব্যাগে রাখুন। বেশি সময় কথা বলতে হলে ফোন কানে লাগিয়ে না রেখে স্পিকারে দিয়ে কথা বলতে পারেন। কথা বলার চেয়ে টেক্সট করা নিরাপদ।

    আসুন আমারা নিজের বুদ্ধি বিকাশের জন্য এই খারাপ অভ্যাসগুলি ছেড়ে দেই এবং নিজেকে একজন সমাজের যোগ্য আধুনিক মানুষ হিসেবে গড়ে তুলি।