Category: লাইফস্টাইল

  • রান্না “বুটের ডালের সন্দেশ “

    রান্না “বুটের ডালের সন্দেশ “

    www.HelloBangla.News – লাইফস্টাইল – ৩ মার্চ, ২০২৪: আমরা ছানার সন্দেশের কথা এতদিন শুনে এসেছি। কিন্তু বুটে ডাল দিয়েও তৈরি হতে পারে মজাদার সন্দেশ। ছানার তৈরি বিকল্প হিসেবে বুটের ডারের তৈরি সন্দেশ অনেক মজার। আজ দেওয়া হলো বুটের ডারের তৈরি সন্দেশের রেসিপি।

    কানিজ ফাতেমা রুমা  - লাইফস্টাইল - ৩ মার্চ ২০২৪ (২)
    কানিজ ফাতেমা রুমা – লাইফস্টাইল – ৩ মার্চ ২০২৪ (২)

    উপকরণ:

    বুটের ডাল-১ কাপ, চিনি- ১কাপ, গুড়াদুধ-১/২ কাপ, ছানা -১/২ কাপ, ঘি-১/৪ কাপ, এলাচ/দারচিনি-২টা করে

     

    প্রণালী:

    বুটের ডালে ভিজিয়ে রেখে কিছুক্ষণ পর সিদ্ধ করে বেটে নিতে হবে। এরপর একটা প্যান এ বাটা বুটের ডাল, চিনি, ছানা,এলাচ দারচিনি নিয়ে ভালোমত কষাতে হবে। চিনির পানি শুকিয়ে এলে গুড়াদুধ ও ঘি দিয়ে ভালোমত জ্বাল দিতে হবে হালুয়া প্যান এর গা ছেরে আসা শুরু করলে নামিয়ে নিতে হবে। কিছুটা গরম থাকা অবস্থায় বরফি কেটে বা ছাঁচে দিয়ে বানিয়ে নিতে হবে বুটের ডালের সন্দেশ।

     

    রেসিপি দিয়েছেন: কানিজ ফাতেমা রুমা 

  • ১০টি বিষয় দেখে বুঝে নিন ভবনটি কতটা নিরাপদ

    ১০টি বিষয় দেখে বুঝে নিন ভবনটি কতটা নিরাপদ

    www.HelloBangla.News – লাইফস্টাইল – ১ মার্চ, ২০২৪: ২৯ ফেব্রুয়ারি ঢাকার বেইলি রোডের গ্রিন কজি কটেজ নামের বহুতল একটি ভবনে আগুন লেগে প্রায় ৪৬ জনের মৃত্যু হয়। আহত হয় বেশ কয়েকজন। এই ঘটনার পর উক্ত ভবন তৈরি ও ব্যবস্থাপনার অনেক ত্রুটি বেরিয়ে আসে। আলোচনা হয় বেশ কিছুদিন। তারপর তদন্ড কমিটির রিপোর্টে কি থাকে সেটা জনার আগে মানুষ সব কিছু ভুলে যায় । আবার শুরু হয় অনিয়ম। ঘটে অনাকাঙ্খিত কিছু ঘটনার । মৃত্যুসহ মানুষ নতুন ধরণের বিভিষিকার মুখোমুখি হয়।

    গতবছরও ঢাকায় একাধিক বড় বড় অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। উদারহরণস্বরূপ, এপ্রিলের প্রথম সপ্তাহে ঈদের আগে আগে রাজধানীর বঙ্গবাজারের সেই ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ড, যাতে প্রায় পাঁচ হাজার দোকান নিশ্চিহ্ন হয়ে যায় এবং অনেক ব্যবসায়ী সর্বশান্ত হয়ে যায়।এই ঘটনার কিছুদিন আগে পুরান ঢাকার সিদ্দিকবাজার এবং বছর শেষে মোহাম্মদপুর কৃষি মার্কেটের ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছিল।

    বাংলাদেশ ফায়ার সার্ভিস এন্ড সিভিল ডিফেন্সের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৩ সালে সারা দেশে মোট ২৭ হাজার ৬২৪টি অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। অর্থাৎ, প্রতিদিন গড়ে দেশে ৭৭টি আগুনের ঘটনা ঘটেছে এবং তাতে কয়েকশত মানুষ আহত ও নিহত হয়েছেন।

    এর আগে রাজধানীতে বড় তিনটি অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। ২০১০ সালের ৩ জুন রাতে পুরান ঢাকার নিমতলীতে রাসায়নিকের গুদাম থেকে ছড়ানো আগুনে ১২৪ জনের মৃত্যু হয়।২০১৯ সালের ২০ ফেব্রুয়ারি চকবাজারের চুড়িহাট্টায় রাসায়নিক গুদামে আগুনে প্রাণ হারান ৭১ জন এবং ২০১৯ সালের ২৮ মার্চ রাজধানীর বনানীর এফআর টাওয়ারে আগুনে ২৭ জনের মুত্যু হয়।

    কোনও আবাসিক বা বাণিজ্যিক ভবনে আগুন লাগার পর ঘুরে ফিরে প্রায়ই একটা বিষয় আলোচনায় আসে যে আগুন নেভানোর জন্য সেখানে কোনও পর্যাপ্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা ছিলো না।

    বেইলি রোডের গ্রিন কজি কটেজে আগুন লাগার পরও এই প্রশ্ন সামনে এসেছে। ফায়ার সার্ভিস থেকে বলা হয়েছে, ভবনটিতে আগুন নেভানোর কোনও ব্যবস্থাই ছিলো না।

    আগুন নেভানোর জন্য ‘পর্যাপ্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা’সমূহ কী কী বা, নিজের প্রিয়জনদের নিয়ে কোনও ভবনে প্রবেশের আগে একজন সাধারণ মানুষ কিভাবে বুঝবেন যে ভবনটি তাদের জন্য নিরাপদ কি-না; এই বিষয়গুলো সম্বন্ধে পরিষ্কার ধারণা থাকা প্রয়োজন।

    কারণ, বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ঢাকা শহরের অন্তত ৬০ থেকে ৭০ শতাংশ ভবন ঝুঁকিপূর্ণ এবং আগুন নেভানোর জন্য সেসব ভবনে কোনওপ্রকার নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেই।

    স্থপতিরা জানিয়েছেন তাই, খাওয়া-দাওয়া বা ঘোরাঘুরি, যে কোনও প্রয়োজনেই কোনও ভবনে প্রবেশ করার আগে ঐ ভবনটি কতটা নিরাপদ, সেটা জানা যাবে নিচের বিষয়গুলো যাচাই করার পর।

     

    প্রকাশ্যে ‘সার্টিফিকেট’ প্রদর্শন:

    একটা ভবন কতটা নিরাপদ বা ভবনের ত্রুটিগুলো কোথায়, একজন সাধারণ মানুষের পক্ষে খালি চোখে সেটা যাচাই-বাছাই করা প্রায় অসম্ভব। কারণ এটি বিশেষজ্ঞদের কাজ। কিন্তু কিছু বিষয় আছে, যা দেখে যেকোনও সাধারণ মানুষ বুঝতে পারবেন যে ভবনটি তার জন্য কতটুকু নিরাপদ। সেসবের মাঝে সবচেয়ে সহজ হলো, ভবনের সামনে নিরাপত্তা সনদ বা সার্টিফিকেট প্রদর্শন করা আছে কি-না, তা দেখে ঐ ভবনে প্রবেশ করা।

    রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (রাজউক), ফায়ার সার্ভিস, সিটি কর্পোরেশন, পরিবেশ অধিদপ্তরসহ সংশ্লিষ্ট সকল কর্তৃপক্ষের আইন ও বিধিমালা মেনে যে ঐ ভবনটি নির্মাণ করা হয়েছে এবং নির্মাণের পর সেখানকার সমস্ত কাজও যে আইন মেনেই হচ্ছে, সেই মর্মে একটা নির্দিষ্ট কর্তৃপক্ষ ভবন মালিককে একটি সার্টিফিকেট তথা সনদ দিবে।

    সনদ প্রাপ্তির পর ভবন মালিক সেটিকে ফলক বা নোটিশ আকারে ভবনের সামনে টাঙ্গিয়ে রাখবে। যদিও বাংলাদেশের ক্ষেত্রে এমন কোনও উদ্যোগ দেখা যায় না।  তবে শুধু সার্টিফিকেট প্রাপ্তি-ই শেষ কথা না, প্রতিবছর সেটির নবায়ন কররা নিয়ম রয়েছে।

    সেই সার্টিফিকেট বা সনদে এটাও লেখা থাকবে যে ‘এটার সর্বশেষ অনুমোদন কত তারিখ হয়েছে এবং পরবর্তী অনুমোদন কত তারিখের মাঝে নিতে হবে’।

     

    প্রবেশদ্বার তিন মিটারের কম না হওয়া:

    কোনও জনাকীর্ণ ভবনের প্রবেশদ্বার যদি তিন মিটারের কম হয়, তাহলে সেখানে প্রবেশ করার আগে ভাবা উচিৎ। জনাকীর্ণ স্থানসমূহের মাঝে আছে—রেস্টুরেন্ট, মসজিদ, গীর্জা, হাসপাতাল, এমনকি স্কুলও। এই ধরনের স্থানে একসাথে একসাথে অনেক মানুষ প্রবেশ করে এবং বের হয়। এছাড়া, বাণিজ্যিক ভবনে বিভিন্ন অফিস থাকায় সেসব স্থানও সবসময় লোকে লোকারণ্য থাকে। তাই, এগুলোর ‘প্রবেশদ্বার অবশ্যই তিন মিটারের চেয়ে কম হতে পারবে না।

     

    পর্যাপ্ত সিঁড়ি ও অ্যালার্ম সিস্টেম:

    মনে রাখবেন, আগুন লাগার পর একটা মানুষের জীবন বাঁচানোর জন্য ভবনে মূলত দুইটা জিনিস থাকা দরকার। পর্যাপ্ত সিঁড়ি এবং অ্যালার্ম সিস্টেম। আর কিছুর দরকার নাই। কোনও আবাসিক ভবন যদি ছয় তলার চেয়ে বেশি হয়, তাহলে আইন অনুযায়ী সেখানে চলাচলের জন্য দু’টি সিঁড়ি থাকতে হবে। তবে যেগুলো বাণিজ্যিক ভবন বা কারখানা, সেখানে সিঁড়ি সংখ্যা আরও বেশি হবে।

    কমার্শিয়াল বিল্ডিং বা ফ্যাক্টরি যদি এক তলাও হয়, কিন্তু লোকসংখ্যা যদি দুই-তিনশো থাকে, তাহলে সেখানে ২৩ মিটার পরপর সিঁড়ি দিতে হবে।

    এছাড়া, আগুন লাগার পর ক্ষয়ক্ষতি কমিয়ে আনার উপায় হলো ভবনে ফায়ার এবং স্মোক অ্যালার্ম সিস্টেম বসানো। কারণ অ্যালার্ম সিস্টেম যদি কার্যকর থাকে, তাহলে কোথাও আগুন লাগার সাথে সাথে (ধোঁয়া হলেই) এটি তা চিহ্নিত করতে পারে এবং বিকট শব্দ করে। তখন পুরো ভবনের প্রত্যেক তলার বাসিন্দারাই আগুন সম্পর্কে জানতে পারে এবং দ্রুত ভবন খালি করে নিচে নেমে আসতে পারে। এতে প্রাণহানি অনেকটাই কমিয়ে আনা যায়।

     

    জরুরী বহির্গমন পথ:

    একটি আদর্শ ভবনে দুই ধরনের সিঁড়ি থাকে। একটি দিয়ে সবসময় চলাচল করা হয়। অন্যটি দিয়ে জরুরী অবস্থায় আত্মরক্ষার জন্য বের হওয়া যায়। সেজন্য একে বলা হয় জরুরী বহির্গমন পথ। আগুন লাগলে একে অগ্নি নির্গমন পথও বলা হয়।

    জরুরী বহির্গমনের সিঁড়ির নির্মাণশৈলী সাধারণ সিঁড়ির চাইতে আলাদা হয় এবং এর অবস্থানও সাধারণ সিঁড়ির সাথে না হয়ে ভিন্ন জায়গায় হয় সাধারণত। এই বিশেষায়িত সিঁড়ি বা জরুরী বহির্গমন পথ এমন স্থানে করা হয়, যেন ভবনে আগুন লাগলে সেখানে কোনও আগুন এবং ধোঁয়া প্রবেশ করতে না পারে। এছাড়া ভবনের যে অংশে এই সিঁড়ি থাকে, সেই অংশের দেয়ালের গঠনও অনেকটা ভিন্ন হয়।

    স্থপতিরা জানিয়েছেন আবাসিক ভবন ছাড়া অন্য কিছু হলে সেই ভবনের প্রত্যেক তলায় অগ্নি নির্গমন পথ থাকতে হবে।”

     

    অগ্নি চলাকালে ‘এক্সিট সাইন’ জ্বলা:

    ধরা যাক, কোনও ভবনে আগুন লেগেছে এবং সেই ভবনে পর্যাপ্ত সিঁড়ি এবং আলাদা অগ্নি নির্গমন পথও রয়েছে। কিন্তু সব থাকার পরও আগুনের মাঝে পড়লে সাধারণত মানুষ দিশেহারা হয়ে যায়। তাড়াহুড়োর কারণে ঘটনাস্থল থেকে বের হওয়ার পথ খুঁজে পায় না।

    সেজন্য ভবনে আগুন লাগলে (বিদ্যুৎ থাকুক বা না থাকুক) জরুরি বহির্গমনের দিকে যাওয়ার পথে স্বয়ংক্রিয়ভাবে আলো জ্বলে ওঠার ব্যবস্থা থাকতে হবে বলে স্থপতিরা জানিয়েছেন ।

     

    ফায়ার এক্সটিংগুইশার বা অগ্নিনির্বাপক যন্ত্র:

    আগুন নেভানো বা নিয়ন্ত্রণে রাখার জন্য যে যন্ত্র ব্যবহার করা হয়, সেটিকে ফায়ার এক্সটিংগুইশার বা অগ্নিনির্বাপক যন্ত্র বলা হয়। অগ্নিনির্বাপক যন্ত্রগুলোতে উচ্চচাপে রক্ষিত তরল কার্বন ডাই-অক্সাইড থাকে। আগুন লাগলে এই যন্ত্র থেকে স্প্রে আকারে কার্বন ডাই-অক্সাইড বের করে আগুন নেভানো হয়। একটি নিরাপদ ভবনে অন্যান্য অনুষঙ্গের সাথে বাধ্যতামূলকভাবে অগ্নি নির্বাপন সিলিণ্ডার বা ফায়ার এক্সটিংগুইশার থাকবে, সেটাই স্বাভাবিক।

    কারণ কোনও একটি ভবনে আগুন লাগার পর সেটি ছড়িয়ে পড়তে কিছুটা হলেও সময় লাগে। আগুন লাগার পর প্রথম দুই মিনিটকে বলা হয় প্লাটিনাম আওয়ার বা সবচেয়ে মূল্যবান সময়। এই সময়ে মাথা ঠান্ডা রেখে ফায়ার এক্সটিংগুইশার ব্যবহার করলে অনেকক্ষেত্রেই আগুন নিভিয়ে ফেলা যায় এবং আগুনকে অনেকটাই নিয়ন্ত্রণে রাখা যায়। তাই, কোনও ভবনে প্রবেশের আগে সেই ভবনে ফায়ার এক্সটিংগুইশার বা অগ্নিনির্বাপক যন্ত্র আছে কিনা এবং থাকলে সেটি আদৌ কাজ করছে না, সেটি দেখে নিতে বলেন তিনি।

     

    মিশ্র ব্যবহারের ভবনে না যাওয়া:

    একই ভবনকে একাধিক কাজে ব্যবহার করাকে ‘ভবনের মিশ্র ব্যবহার’ বলছেন বিশেষজ্ঞরা। যেমন, একটি ভবনে যদি মানুষের বাসাবাড়ি, অফিস, এমনকি রেস্টুরেন্ট থাকে; তাহলে সেটিকে বহু কাজে ব্যবহৃত ভবন হিসেবে ধরা হয়।

    রাজউক ‘মিশ্র ব্যবহার’ নাম দিয়ে মানুষের সাথে এই অন্যায়টা করছে…এর জন্য রাজউক এককভাবে দায়ী।

    মিশ্র ব্যবহার মানে হলো, অফিস এবং আবাসিক একসাথে থাকতে পারবে। কিন্তু রেস্টুরেন্ট থাকতে পারবে না। কারণ রেস্টুরেন্ট একটা বিশেষায়িত ব্যবহার। রেস্টুরেন্টের কিচেনকে (রান্নাঘর) বাণিজ্যিক কিচেন বলা হয়। এটির ডিজাইন করা অত্যন্ত কঠিন এবং জটিল কাজ। এই যে এত এত রেস্টুরেন্ট বানানো হচ্ছে, সেগুলোর কিচেন নিয়মকানুন মেনে করা হচ্ছে না। কিন্তু সেটা দেখার জন্যও কেউ নাই।

    বাণিজ্যিক রান্নাঘর করতে হলে গ্যাস, বিদ্যুৎ, পানি, ভেন্টিলেশনসহ সবকিছু বিশেষ যত্নে ডিজাইন করতে হয়।

     

    ডাক্ট লাইন ও ক্যাবল হোল সিল করা:

    উপরের বিষয়গুলো সাদা চোখে দেখে বুঝে নেয়া যায় যে ভবনটি নিরাপদ কি-না। কিন্তু কিছু বিষয় আছে, যা সাধারণ মানুষের দৃষ্টিতে পড়বে না। কিন্তু ভবনের নিরাপত্তার জন্য সেগুলো গুরুত্বপূর্ণ।

    অগ্নি নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞ ও ফায়ার সার্ভিসের সাবেক মহাপরিচালক ব্রিগেডিয়ার (অব) আলী আহমেদ খান বলেন, ভবনের ডাক্ট লাইন ও ক্যাবল হোল সিল করা গুরুপূর্ণ।

    আধুনিক বহুতল ভবনগুলিতে শীতাতপ নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা, হিটিং, বিদ্যুৎ এবং গ্যাস সংযোগের জন্য যে পাইপগুলো টানা হয়, সেগুলো যায় ডাক্ট লাইন এবং ক্যাবল হোলের ভেতর দিয়ে। এই লাইন ও গর্ত দিয়ে ধোঁয়া এবং আগুন খুব দ্রুত ছড়িয়ে পড়তে পারে।

    ধোঁয়া এবং আগুন যাতে ছড়িয়ে না পড়ে, তাই ডাক্ট লাইন ও ক্যাবল হোলগুলো আগুন প্রতিরোধক উপাদান দিয়ে ভাল করে বন্ধ করা প্রয়োজন।

    আমরা সবসময় আগুন লাগার পরে কিভাবে তা নিয়ন্ত্রণ করা হবে, সেটা বলি। কিন্তু আগুন লাগবেই না, আমাদেরকে সে ব্যবস্থা নিতে হবে। সেজন্য ভবন নির্মাণের সময়ই ইলেকট্রিক্যাল লাইনসহ অন্যান্য বিষয়গুলো মানতে হবে।

     

    স্প্রিঙ্কলার সিস্টেম:

    আগুন নেভানোর জন্য একটা প্রযুক্তিগত ব্যবস্থা হচ্ছে স্প্রিঙ্কলার সিস্টেম। এটি একটি ভবনের পানি সরবরাহ ব্যবস্থার সাথে যুক্ত থাকে। কোনও স্থানের তাপমাত্রা ৫৭ ডিগ্রির বেশি হলে এটি স্বয়ংক্রিয়ভাবে বিস্ফোরিত হয়ে পানি ছিটিয়ে দেয়। ফলে আগুন নিভে যায়।

    সাধারণত বড় বড় বাণিজ্যিক বা কারখানা ভবনে সাধারণত এগুলো ব্যবহার করা হয়। তবে বর্তমানে কিছু কিছু আবাসিক ভবনেও এগুলোর ব্যবহার লক্ষ্য করা যায়। ভবনে আগুন লাগার পর মানুষের প্রাণ বাঁচানোর জন্য সেখানে সিঁড়ি এবং অ্যালার্ম সিস্টেম সবচেয়ে জরুরী। কিন্তু সম্পত্তি রক্ষার জন্য সেখানে পানির ব্যবস্থা থাকতে হবে। বা, স্প্রিঙ্কলার সিস্টেম থাকা লাগবে।

     

    ভবনের ডিজাইন ও উদ্দেশে পরিবর্তন:

    বেইলি রোডের যে ভবনে আগুন লাগে, সেটি একটি আবাসিক ভবন ছিলো এই ভবনটা প্রাথমিকভাবে আবাসিক ভবন ছিলো। কিন্তু পরে এর স্ট্রাকচারাল ডিজাইন চেঞ্জ করলে রাজউক, আবাসিক ভবনে রেস্টুরেন্টকে ব্যবসা করার লাইসেন্স দিলে সিটি কর্পোরেশন, সামনের দিকে কাঁচ বসালে সেই ইঞ্জিনিয়ার; এরা এই ঘটনার জন্য দায়বদ্ধ থাকবে।

    যদিও কিছু গণমাধ্যমে রাজউকের বরাত দিয়ে বলা হয়েছে যে এই ভবনের পাঁচতলা পর্যন্ত বাণিজ্যিক এবং এই ভবনে শুধুমাত্র বাসাবাড়ি ও অফিস করার অনুমোদন ছিলো।

    কোনও ভবনে গ্লাস দিতে হলে সেটার ড্রয়িং এবং ডিজাইন পরিবর্তন করতে হবে…স্মোক এলে যেন তা অটোমেটিক্যালি বের হতে যেতে পারে। এই ভবনের ঐ গ্লাসের জন্য ভেতরের তাপমাত্রা বেড়ে গেছে। ধোঁয়া ভেতরে ঢুকে গেছে, আগুন দ্রুত ছড়িয়েছে। এখানে কোনও ভেন্টিলেশন ছিলো না। ভবন বানানোর পর তার উদ্দেশ্য পরিবর্তন করাটা গর্হিত অপরাধ। কারণ আবাসিক ও বাণিজ্যিক ভবনের নকশা এবং নিরাপত্তা ব্যবস্থা একদমই আলাদা।

    তাই, কোনও ভবনে প্রবেশের আগে তার শুরুর ইতিহাস এবং উদ্দেশ্য জেনে নেয়া গেলে নিজেকে অনেকাংশে নিরাপদে রাখা সম্ভব।

    তবে ভবন মালিক যদি আইন মেনে চলে ও সচেতন হয় তাহলে এই ধরনের দুর্ঘটনার মুখোমুখি কখনও হতে হবে না।

    সূত্র: বিবিসি বাংলা

  • বিশ্বে বহুল ব্যবহৃত ভাষাগুলির মধ্যে বাংলার অবস্থান সপ্তম

    বিশ্বে বহুল ব্যবহৃত ভাষাগুলির মধ্যে বাংলার অবস্থান সপ্তম

    www.HelloBangla.News – লাইফস্টাইল – ২৯ ফেব্রুয়ারি, ২০২৪: ভাষার জন্য দক্ত দানের ঘটনা আমাদের এই ভূখণ্ডেই ঘটেছিল। বাংলাদেশ সৃষ্টির আগে বাংলা ভাষা রাষ্ট্রভাষার মর্যাদা পায় রক্তস্নাত ঘটনার মধ্য দিয়ে। ১৯৫২ সালের ২১ শে ফেব্রুয়ারি ভাষার দাবিতে আন্দোলন করতে গিয়ে শহীদ হয়েছিলেন কয়েকজন্য তরুণ। তারপর তৎকালীন পাকিস্তান সরকার বাধ্য হয় বাংলাকে রাষ্ট্রভাষার মর্যাদা দেয়। তারপর থেকে ২১ ফেব্রুয়ারির এই দিনটিকে যথাযোগ্য মর্যাদায় স্মরণ করা হয় ভাষা শহীদের। ইউনেস্কোর ঘোষণা অনুসারে ২০০০ সালে ২১ ফেব্রুয়ারিকে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস হিসেবে পালন করা হচ্ছে সারা বিশ্বে। কিন্তু আপনারা কি জানেন বিশ্বে বাংলায় কথা বলে এই ধরণের মানুষের সংখ্যা কতো। বিশ্বে কয়টি ভাষা আছে। কয়টি ভাষা বিলুপ্ত হয়েছে। আজ আমরা সেটাই জেন নেব এই প্রতিবেদনের মাধ্যমে।

    যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক সামার ইন্সটিটিউট অফ লিঙ্গুইস্টিক্‌স (এসআইএল) ইন্টারন্যাশনাল-এর ভাষা নিয়ে গবেষণাকারী প্রতিষ্ঠান ‘এথনোলগ’ বলছে, পৃথিবীতে বর্তমানে সাত হাজার ১৬৮টি ভাষা আছে।

    কিন্তু, এর ৪২ শতাংশ ভাষাই ‘ঝুঁকিপূর্ণ’ অবস্থায় আছে; অর্থাৎ, তিন হাজার ৪৫টি ভাষা এখন বিলুপ্তির পথে। এর আগেও সময়ের সাথে সাথে বাংলাদেশসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশ থেকে অনেক ভাষা চিরতরে হারিয়ে গেছে।

    তবে যেসব ভাষা পৃথিবীতে এখনও বহাল তবিয়তে টিকে আছে, সেগুলোর মাঝে সবচেয়ে বহুল ব্যবহৃত ভাষা কোনগুলো, আমরা কী তা জানি? কিংবা, পৃথিবীতে কোন ভাষায় মানুষ সবচেয়ে বেশি কথা বলে? এবং কোন কোন দেশে এসব ভাষা ব্যবহার করা হয়?

    আজ আমরা এমন সাতটি ভাষার বিষয়ে জানবো, যেগুলোর ব্যবহার সবচেয়ে বেশি।

     

     ইংরেজি:

    যদি বহুল ব্যবহৃত ভাষার কথা বলতে হয়, তবে নিঃসন্দেহে প্রথমেই সেখানে ইংলিশের নাম উঠে আসবে। পৃথিবীতে খুব অল্প কয়েকটি দেশের মাতৃভাষা ইংরেজি, কিন্তু পৃথিবীতে এমন দেশ বিরল যেখানে মাতৃভাষার পর ইংলিশকে প্রাধান্য দেয়া হয় না।

    এথনোলগ-এর তথ্য অনুযায়ী, ৮০০ কোটি মানুষের পৃথিবীতে প্রায় ১৫০ কোটি মানুষই ইংলিশে কথা বলে। যদিও পৃথিবীর মাত্র ৩৮ কোটি মানুষের মাতৃভাষা ইংলিশ এবং মাতৃভাষাভাষীর সংখ্যার বিচারে এর অবস্থান বিশ্বে তৃতীয়।

    এই ভাষার আঁতুড়ঘর হলো যুক্তরাজ্য, অর্থাৎ ইউনাইটেড কিংডম। বিপুল সংখ্যক জনগোষ্ঠীর মাতৃভাষা না হওয়া সত্ত্বেও পৃথিবী জুড়ে ইংলিশের এত বিস্তৃতির পেছনে মূল ভূমিকা রেখেছে কয়েকশো বছর ধরে পৃথিবীজুড়ে চলা ব্রিটিশ উপনিবেশবাদ।

    ঐ সময় ব্রিটিশরা আফ্রিকা, দক্ষিণ আমেরিকা, এশিয়া এবং ক্যারিবীয় অঞ্চলে তাদের উপনিবেশ স্থাপন করে। সাধারণত উপনিবেশ প্রতিষ্ঠার পেছনে উদ্দেশ্য থাকে ঐ অঞ্চলে ওপর অর্থনৈতিক আধিপত্য তৈরি করা। ভারতীয় উপমহাদেশসহ পৃথিবীর অন্যান্য দেশগুলো থেকে ব্রিটিশ সাম্রাজ্যের অবসান ঘটলেও উপনিবেশবাদের প্রভাব রয়ে গেছে। ইংলিশের জনপ্রিয়তা হিসেবে এই প্রভাবকে উদাহরণ হিসেবে দেখা হয়। ব্রিটিশ সাম্রাজ্যের পতনের পর সারাবিশ্বে যুক্তরাষ্ট্র একক আধিপত্য বিস্তার করে। যুক্তরাষ্ট্রের মাতৃভাষাও ইংলিশ হওয়ায় মার্কিন সংস্কৃতির অংশ হিসেবেই সেটি বিশ্বের বিভিন্ন অঞ্চলে আরও প্রভাবশালী হয়ে উঠে।

    এথনোলগ অনুযায়ী, পৃথিবীর মোট ১৪৬টি দেশে ইংলিশ ভাষাভাষী মানুষ পাওয়া যায়। এর মাঝে উল্লেখযোগ্য হলো অস্ট্রেলিয়া, যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, কানাডা এবং ইউরোপ ও এশিয়ার অনেক দেশ।

    উল্লেখ্য, ইংলিশ বা ইংরেজি ইন্দো-ইউরোপীয় ভাষা পরিবারের একটি ভাষা।

     

    ম্যান্ডারিন চাইনিজ:

    চীনের অধিকাংশ মানুষ কথা বলে ম্যান্ডারিন চাইনিজ ভাষায়। যদি শুধুমাত্র মাতৃভাষার কথা বিবেচনা করা হয়, তাহলে পৃথিবীতে ম্যান্ডারিন চাইনিজ ভাষাভাষীর সংখ্যাই সর্বোচ্চ। এথনোলগ থেকে প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, পৃথিবীর ৯৪ কোটি মানুষের মাতৃভাষা ম্যান্ডারিন চাইনিজ। এছাড়া, পৃথিবীর প্রায় ১১০ কোটি মানুষ ম্যান্ডারিন চাইনিজে কথা বলে। সেক্ষেত্রে, ইংলিশের পরেই এর অবস্থান। ম্যান্ডারিন ভাষাভাষীর সংখ্যা এত বেশি হওয়ার কারণ, বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম জনবহুল দেশ চীন। ওয়ার্ল্ড স্ট্যাটিসটিকস অব চায়না-এর তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে দেশটির মোট জনসংখ্যা ১৪০ কোটির একটু বেশি।

    এথনোলগ বলছে, চীনের ৮১ শতাংশ মানুষ ম্যান্ডারিন চাইনিজে কথা বলে। এছাড়া, কানাডা, মিয়ানমার, মঙ্গোলিয়া, ভিয়েতনাম, অস্ট্রেলিয়া, নিউজিল্যান্ডসহ মোট ৩৭টি দেশে উল্লেখযোগ্য সংখ্যক ম্যান্ডারিন ভাষাভাষী রয়েছে।

    বলা হয়ে থাকে যে চীনে জন্ম নেয়া ম্যান্ডারিন চাইনিজ পৃথিবীর অন্যতম কঠিন ভাষা। ৫০০০ বছরের বিবর্তনে তৈরি এই ম্যান্ডারিন চাইনিজ সিনো-তিব্বতীয় ভাষা পরিবারের একটি ভাষা।

     

    হিন্দি:

    জনসংখ্যার দিক থেকে তৃতীয় অবস্থানে আছে হিন্দি ভাষাভাষীরা। এথনোলগ-এর তথ্য অনুযায়ী, পৃথিবীর প্রায় ৬০ কোটি ৯০ লাখ মানুষ হিন্দিতে কথা বলে। এদের মাঝে ৩৫ কোটি মানুষের মাতৃভাষা হিন্দি। হিন্দি ভাষাভাষী মানুষের বসবাস ভারতেই বেশি। তবে ১৪০ কোটি মানুষের দেশ ভারতে হিন্দি ছাড়াও আরও অনেক ভাষা আছে। সেই হিসেবে করলে, দেশটির মোট জনসংখ্যার প্রায় ২৫ শতাংশ মানুষের মাতৃভাষা হিন্দি।

    ভারতের শিক্ষা মন্ত্রণালয় থেকে প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, দেশটির মোট ২২টি দাপ্তরিক ভাষার মাঝে হিন্দি অন্যতম। ১৯৪৭ সালে স্বাধীনতা অর্জনের পর ১৯৪৯ সালের ১৪ই সেপ্টেম্বর ভারতে হিন্দিকে সরকারি ভাষা হিসেবে গ্রহণ করা হয়েছিল। বর্তমানে এ দিনটি হিন্দি দিবস হিসেবে পালন করা হয়। হিন্দির সাথে আরও কিছু ভাষার উচ্চারণগত মিল রয়েছে। যেমন, বাংলা, উর্দু, নেপালি, ভোজপুরি, রাজস্থানি ইত্যাদি।

    উল্লেখ্য, ১৯৫০ সালের পর থেকে বলিউড ইন্ডাস্ট্রি, অর্থাৎ বলিউড সিনেমার উত্থানও হিন্দি ভাষাকে বিশ্বব্যাপী নতুন করে পরিচয় করে দিয়েছে।

     

    স্প্যানিশ:

    পৃথিবীতে প্রায় ৫৬ কোটি মানুষ স্প্যানিশে কথা বলে। সে হিসেবে বিশ্বের চতুর্থ বৃহত্তম ভাষা স্প্যানিশ। মাতৃভাষা হিসেবে পৃথিবীর প্রায় ৪৯ কোটি মানুষ স্প্যানিশে কথা বলে। এদিক দিয়ে ম্যান্ডারিনের পরেই স্প্যানিশের অবস্থান। অর্থাৎ, মাতৃভাষা হিসেবে এটি পৃথিবীর দ্বিতীয় বৃহত্তম ভাষা।

    এনসাইক্লোপিডিয়া ব্রিটানিকা থেকে প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, মেক্সিকোতে স্প্যানিশ ভাষাভাষী মানুষের সংখ্যা সবচেয়ে বেশি। এরপরই আছে কলম্বিয়া, আর্জেন্টিনা, যুক্তরাষ্ট্র ও স্পেন। ইন্দো-ইউরোপীয় ভাষা-পরিবারের রোমান্স শাখার ভাষা স্প্যানিশ বর্তমানে মোট ১৮টি দেশের দাপ্তরিক ভাষা। তবে স্প্যানিশ কিন্তু শুরুতেই এতটা বহুল ব্যবহৃত ভাষা ছিল না। ব্রিটেনের মতো স্পেনও এক সময় পৃথিবীর অনেক দেশকে নিজেদের কলোনি করে রাখে এবং পরবর্তীতে সেইসব কলোনিতে ভাষাটির প্রভাব রয়ে যায়। যার প্রায় সবগুলোই ল্যাটিন আমেরিকায়। উল্লেখ্য, ইংলিশসহ মোট ছয়টি ভাষাকে জাতিসংঘের দাপ্তরিক ভাষা বলা হয়। সেই ছয়টি ভাষার একটি স্প্যানিশ।

     

    ফরাসি:

    ফরাসি বা ফ্রেঞ্চও জাতিসংঘের অন্যতম দাপ্তরিক ভাষা। অধিকাংশ আন্তর্জাতিক সংস্থা ইংরেজির পাশাপাশি ফ্রেঞ্চকে তাদের দাপ্তরিক ভাষা হিসেবে ব্যবহার করে। এথনোলগ অনুযায়ী, বর্তমান পৃথিবীতে ফ্রেঞ্চ বা ফরাসি ভাষাভাষী মানুষের সংখ্যা ৩০ কোটির চেয়ে কিছুটা বেশি। ব্রিটানিকা বলছে, বিশ্বের ২৫টিরও বেশি দেশে দাপ্তরিক ভাষা হিসেবে এর ব্যবহার আছে। এর মাঝে উল্লেখযোগ্য হলো- ফ্রান্স এবং কানাডা। এর বাইরে রয়েছে আফ্রিকার বেশ কয়েকটি দেশ। এছাড়া সুইজারল্যান্ড, বেলজিয়াম, ইতালি, যুক্তরাষ্ট্রসহ অনেক দেশে প্রচুর ফ্রেঞ্চ ভাষাভাষী পাওয়া যায়। স্প্যানিশের মতো ফ্রেঞ্চের বিস্তৃতির পেছনেও অন্যতম কারণ উপনিবেশবাদ।

    বিশ্বের বিভিন্ন দেশে তাদের কলোনি বিস্তার করেছিলো ফ্রান্স, যার অধিকাংশই আফ্রিকা মহাদেশে। ‌এই কারণেও ফরাসি ভাষা মানুষের মুখে মুখে ছড়িয়ে পড়ে।

     

    আরবি:

    এথনোলগের তথ্য অনুযায়ী, পৃথিবীতে আরবি ভাষাভাষীর সংখ্যা ২৭ কোটির কিছুটা বেশি। সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরাত, বাহরাইনের মতো মধ্যপ্রাচ্য ও আফ্রিকার বিভিন্ন দেশের মানুষের মাতৃভাষা হচ্ছে আরবি। আবার অনেক দেশের মাতৃভাষা না হলেও সেখানে ব্যাপক হারে আরবির প্রচলন রয়েছে। বর্তমানে পৃথিবীর প্রায় ৩০টি দেশের দাপ্তরিক ভাষা আরবি। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য আলজেরিয়া, মিশর, ইরাক, জর্ডান, কুয়েত, লেবানন, মরক্কো, ওমান, সৌদি আরব, সুদান, সিরিয়া ইত্যাদি। ধর্মীয় কারণে মুসলিম সম্প্রদায়ের প্রায় অনেকে কম-বেশি আরবি লিখতে, পড়তে, বলতে জানেন। সেমেটিক ভাষা পরিবারের বৃহত্তম ভাষা এই আরবি জাতিসংঘের অন্যতম একটি দাপ্তরিক ভাষাও।

    আরবি ভাষার সাথে অন্যান্য ভাষার একটি বিশেষ পার্থক্য রয়েছে। আরবি লিপি লেখা হয় ডান থেকে বামে।

     

    বাংলা:

    এথনোলগ অনুযায়ী, বর্তমান পৃথিবীতে বাংলা ভাষাভাষীর সংখ্যা ২৭ কোটির কিছুটা বেশি।পৃথিবীর বহুল ব্যবহৃত ভাষাগুলোর মাঝে বাংলা সপ্তম। পৃথিবীতে সবচেয়ে বেশি বাংলা ভাষাভাষী মানুষ বসবাস করে বাংলাদেশে এবং এরপর ভারতের পশ্চিমবঙ্গ ও আসামে। ১৯৪৭ সালে দ্বিজাতি তত্ত্বের ভিত্তিতে ভারতবর্ষ ভাগের আগে থেকেই ভাষা নিয়ে জটিলতা তৈরি হয়েছিলো। ১৯৪৮ সালে তৎকালীন পাকিস্তান সরকার উর্দুকে পাকিস্তানের রাষ্ট্রভাষা করার নির্দেশ দেয় এবং পাকিস্তান সরকারের এমন ঘোষণার বিরোধিতা করে বর্তমান বাংলাদেশের জনগণ।

    তৎকালীন পূর্ব বাংলা তথা বাংলাদেশে এই নিয়ে আন্দোলন চলতে থাকে। সেটি সংঘাতে রূপ নেয় ১৯৫২ সালের ২১ ফেব্রুয়ারি। সেদিন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাধারণ শিক্ষার্থী ও রাজনৈতিক কর্মীরা মিলে তৎকালীন পাকিস্তান সরকারের জারি করা ১৪৪ ধারা ভঙ্গ করে বিক্ষোভ মিছিল শুরু করেন। কিন্তু সেই মিছিল যখন ঢাকা মেডিকেল কলেজের কাছাকাছি যায়, তখন পুলিশ আন্দোলনকারীদের ওপর গুলি চালায়। সেই গুলিতে সালাম, বরকত, রফিক, জব্বার, শফিউরসহ আরও অনেকে শহীদ হন। তবে ছাত্রদের ওপর নির্বিচারে গুলি চালানোর কারণে সেদিন সারাদেশে বিদ্রোহ শুরু হয়।

    ক্রমবর্ধমান আন্দোলনের চাপে শেষ পর্যন্ত ১৯৫৪ সালের ৭ মে পাকিস্তান গণপরিষদে বাংলা তৎকালীন পাকিস্তানের অন্যতম রাষ্ট্রভাষা হিসেবে গৃহীত হয়। পরবর্তীতে ১৯৭১ সালে বাংলাদেশ স্বাধীনতা লাভ করার পর বাংলাকে দেশের একমাত্র রাষ্ট্রভাষা করা হয়।

    সবশেষে, বাংলা ভাষা রক্ষার জন্য আন্দোলন এবং ভাষার অধিকারের প্রতি সম্মান জানিয়ে ১৯৯৯ সালের ১৭ই নভেম্বর ইউনেস্কো ২১ ফেব্রুয়ারিকে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস হিসেবে ঘোষণা করে।

    ১৯৯৯ সালের ১৭ই নভেম্বর ঘোষণা আসে তাই ২০০০ সাল থেমে সারা বিশ্বের মানুষ ২১ ফেব্রুয়ারিকে আন্তর্জাতিক মতৃভাষা দিবস হিসেব পান করে আসছে।

    সূত্র: বিবিসি বাংলা

  • লিপ ইয়ারের আগমন রহস্য ও মজার কিছু তথ্য

    লিপ ইয়ারের আগমন রহস্য ও মজার কিছু তথ্য

    www.HelloBangla.News – লাইফস্টাইল – ২৮ ফেব্রুয়ারি, ২০২৪: লিপ ইয়ার মানে বছরে একটি দিন বেড়ে যাওয়ার সঙ্গে একটি কর্মদিন বেড়ে যায়। নানা ঘটনা আর মতামতের পর এসেছে লিপ ইয়ার। চার বছর পর পর বছরের একটি দিন বেড়ে যাওয়াকে বলা হয় লিপ ইয়ার। যার কিছুটা বৈজ্ঞানিক যুক্তি থাকলেও অধিকাংশই জ্যোর্তিবিজ্ঞানের কারণে এসেছে ২৯ ফেব্রুয়ারি।

    দেখা গেছে অতীতে আগস্ট মাস ছিল ২৯ দিনে। কিন্তু সম্রাট সিজার অগাস্টাস ক্ষমতায় আসার পর তার নামের মাস ২৯ দিন হবে সেটা তিনি মেনে নিতে পারেনি। তাই ফেব্রুয়ারি মাসের দুই দিন কমিয়ে আগস্ট মাস ৩১ দিন করা হয়। এভাবে নানা কারণে এক সময় লিপ ইয়ারের সৃষ্টি।

    কীভাবে হয় লিপ ইয়ার, এর ইতিহাস কী, ফেব্রুয়ারিতেই বা কেন এক দিন বাড়ানো হয়, এই একটি দিন ঘিরে আছে এমন নানা প্রশ্ন। সে সবের উত্তর খোঁজা যাক এখানে। উঠে এসেছে ১০ টি মজার তথ্য।

     

    ১. লিপ ইয়ারের অতিরিক্ত দিনটা জরুরি আমাদের সৌরজগতের ‘বিশৃঙ্খল’ অবস্থার জন্যই। কারণ এক বছরে পৃথিবী সূর্যের চারপাশে একটা সম্পূর্ণ কক্ষপথ ঘুরে আসতে কিন্তু ঠিক পুরোপুরি ৩৬৫ দিন লাগে না। বরং সব মিলে সময়টা ৩৬৫.২৪২২ দিনের মতো। অর্থাৎ ৩৬৫ দিন ৬ ঘন্টা। ফলে প্রতি বছর আসলে এক দিনের চার ভাগের প্রায় এক ভাগ সময় যোগ হয়। যা প্রতি চার বছরে একটা বাড়তি দিন যোগ করে।

     

    ২. জুলিয়াস সিজার রোমের ক্ষমতায় আসার আগে পর্যন্ত ৩৫৫ দিনে বছর, এমন ক্যালেন্ডারই সবাই মেনে চলত – যেখানে প্রতি দুই বছর পরপর একটা অতিরিক্ত ২২ দিনের মাস যু্ক্ত হত। কিন্তু এটা আসলে সমস্যার একটা জটিল সমাধান ছিল এবং উৎসবের দিনগুলো ভিন্ন ভিন্ন ঋতুতে যেতে শুরু করে। তাই সিজার তার জ্যোতির্বিজ্ঞানী সোসিজেনেসকে বিষয়টি সহজ করার নির্দেশ দেন।

    সোসিজেনেস তখন ৩৬৫ দিনে বছর করে যে অতিরিক্ত ছয় ঘন্টার মতো থেকে যায় সেটা মিলিয়ে নিতে চার বছর পরপর একটা অতিরিক্ত দিন ক্যালেন্ডারে যুক্ত করেন। আর এভাবেই ২৯শে ফেব্রুয়ারির জন্ম। যা পরবর্তীতে পোপ ত্রয়োদশ গ্রেগরি সূক্ষ পরিমার্জন করেন।

     

    ৩. আঙুলের হিসেবে প্রতি চার বছর পরপর আসে লিপ ইয়ার বা অধিবর্ষ। কিন্তু কথা এখানেই শেষ না। যেই বছরটাকে ১০০ দিয়ে ভাগ করা যায় কিন্তু আবার ৪০০ দিয়ে করা যায় না, সেটা লিপ ইয়ার নয়। সে কারণেই গ্রেগরিয়ান পঞ্জিকাবর্ষ অনুযায়ী আমরা ২০০০ সালে লিপ ইয়ার পেয়েছি, ১৬০০ সালে লিপ ইয়ার ছিল, কিন্তু আবার ১৭০০, ১৮০০ ও ১৯০০ লিপ ইয়ার নয়।

    “এটা খানিকটা স্বেচ্ছাচার মনে হতে পারে”, বলেন ওয়ারউইক বিশ্ববিদ্যালয়ের গণিতের এমিরিটাস অধ্যাপক ইয়ান স্টুয়ার্ট। তবে এর পেছনেও আসলে যুক্তিযুক্ত কারণ আছে।

    “বছরে ৩৬৫ দিন ও একটা দিনের চার ভাগের এক ভাগ – কিন্তু সেটাও ঠিক পুরোপুরি নয়, বরং তার চেয়ে খানিকটা কম। সেটা একদম যথার্থ চার ভাগের এক ভাগ হলে প্রতি চার বছর পরপর লিপ ইয়ার হত।”

    এই হিসাবটা আসে যখন পোপ ত্রয়োদশ গ্রেগরি ও তার সঙ্গী জ্যোর্তিবিজ্ঞানীরা ১৫৮২ সালে গ্রেগরিয়ান ক্যালেন্ডার চালু করেন এবং তাতে প্রতি চারশ বছরে তিনটা লিপ ডে বাদ পড়ে। এই হিসাবটা তখন থেকে আজ অবধি চালু আছে।

    কিন্তু ইয়ান স্টুয়ার্ট মনে করেন মানুষকে হয়তো ১০ হাজার বছর পর এটা নিয়ে আবার নতুন করে ভাবতে হবে। কিন্তু তত দিনে অবশ্য মানবজাতি নতুন কোন পদ্ধতিও চালু করে ফেলতে পারে।

     

    ৪. ফেব্রুয়ারি নানা ঘটনার মধ্য দিয়ে হয়েছে ৩০ দিন থেকে ২৮ দিন । অন্য সব মাসেই আছে ৩০ বা ৩১ দিন করে, কিন্তু ইয়ান স্টুয়ার্ট জানাচ্ছেন রোমান সম্রাট সিজার অগাস্টাসের ব্যক্তিগত ইচ্ছের কাছে বলি হয়েছে ফেব্রুয়ারি।

    জুলিয়াস সিজারের অধীনে কিন্তু ফেব্রুয়ারি ৩০ দিনের মাস ছিল। কিন্তু সিজার অগাস্টাস যখন সম্রাট হন, তখন তিনি তার নিজের নামাঙ্কিত মাস আগাস্ট মাস ২৯ দিনের হওয়ায় খানিকটা বিরক্ত হন। কারণ তার আগের সম্রাট জুলিয়াসের নামাঙ্কিত মাস – জুলাই – ছিল ৩১ দিনের।

    অধ্যাপক স্টুয়ার্ট বলেন, “তিনি তখন আগাস্টে আরো দুই দিন যুক্ত করে জুলাইয়ের সমান করেন, আর বেচারা ফেব্রুয়ারিকে সেই দুই দিন হারাতে হয়”,

     

    ৫. ঐতিহ্যগতভাবে লিপ ইয়ারের দিন মেয়েরা ছেলেদের প্রস্তাব দেয় বলে বিভিন্ন ইতিহাসবিদের কথায় উঠে আসে। যার একটা ৫ম শতকে সেন্ট ব্রিজেটের ঘটনা, যেটা নিয়ে অবশ্য বেশ বিতর্ক আছে।

    বলা হয়ে থাকে যে তিনি সেন্ট প্যাট্রিকের কাছে অভিযোগ নিয়ে যান যে মেয়েদের তাদের পছন্দের মানুষের কাছে প্রস্তাব নিয়ে যেতে দীর্ঘ অপেক্ষা করতে হয়। সেন্ট প্যাট্রিক তখন সম্ভবত মেয়েদের প্রস্তাব দেয়ার জন্য ঐ লিপ ইয়ারের একটি দিন নির্দিষ্ট করে দেন – সবচেয়ে ছোট মাসের সব শেষ দিন।

    আরেকটা জনপ্রিয় গল্প প্রচলিত আছে যে স্কটল্যান্ডের রানি মার্গারেট একটা আইন জারি করেন, যে সমস্ত পুরুষ লিপ ইয়ারে মেয়েদের দিক থেকে আসা বিয়ের প্রস্তাব ফিরিয়ে দেবে তাদের জরিমানা দিতে হবে।

    কিন্তু অনেকে আবার বলে থাকেন সে সময় মার্গারেটের বয়স ছিল মাত্র ৫ বছর এবং তিনি তখন অনেক দূরে নরওয়েতে ছিলেন। এই রীতি আসলে ১৯ শতক থেকে বেশি প্রচলিত হয়।

    মনে করা হয় যে মেয়েদের পক্ষ থেকে প্রস্তাব দেয়ার এই রীতি চলে আসছে যখন ইংলিশ আইনে লিপ ইয়ার অর্ন্তভুক্ত হয়নি তখন থেকেই। এই মতবাদ অনুসারে যেহেতু এই দিনের কোন আইনগত ভিত্তি নেই, তাই সাধারণত ছেলেদের প্রস্তাব দেয়ার প্রথাগত রীতি ভাঙাটা গ্রহণযোগ্য।

     

    ৬. লিপ ইয়ারে মেয়েদের পক্ষ থেকে প্রস্তাব দেয়ার বিষয়টি বিশ্ব জুড়ে একেক দেশে একেক রকম। ডেনমার্কে যেমন এটা ২৯শে ফেব্রুয়ারি নয়, বরং ২৪শে ফেব্রুয়ারি – যা জুলিয়াস সিজারের সময় থেকে চলে আসছে।

    কোনও ড্যানিশ পুরুষ কোন নারীর বিয়ের প্রস্তাব না মানলে তাকে তখন ঐ নারীকে ১২ জোড়া দস্তানা দিতে হয়। ফিনল্যান্ডে আবার দস্তানা নয়, বরং তাকে স্কার্ট বানানোর কাপড় দিতে হবে। তবে গ্রিসে লিপ ইয়ারের দিন বিয়ে করা অশুভ মনে করা হয় তাই অনেকে সেটি এড়িয়ে চলে।

     

    ৭. ১৪৬১ জনে ১ লিপ ডে-তে জন্ম নেয়ার সম্ভাবনা সম্পর্কে বলা হয় প্রতি ১৪৬১ জনে একজন এদিন জন্ম নেন। চার বছরে হয় ১৪৬০ দিন আর লিপ ইয়ারের অতিরিক্ত এক দিন মিলে হয় ১৪৬১। এক্ষেত্রে তাই সম্ভাব্যতা দাঁড়ায় ১/১৪৬১।

    তবে ইয়ান স্টুয়ার্ট বলছেন এই হিসাবটাও পুরোপুরি ঠিক নয়, কারণ চারশ বছরে তিনটা লিপ ইয়ার হারাচ্ছি আমরা। এছাড়া নানা বিষয় মিলিয়ে বছরের কিছু নির্দিষ্ট সময়ে শিশুদের জন্ম বেশি হয় বলে মনে করেন তিনি। ২৯শে ফেব্রুয়ারি জন্ম নেওয়াদের বলা হয় ‘লিপার্স’ বা ‘লিপলিংস’।

     

    ৮. লিপ ইয়ারের রাজধানী বলে স্বীকৃত টেক্সাসের অ্যান্থনি শহর। ১৯৮৮ সালে এই শহরের বাসিন্দা ও লিপ ইয়ারে জন্ম নেওয়া ম্যারি অ্যান ব্রাউন চেম্বার অফ কমার্সের কাছে যান শহরে একটা লিপ ইয়ার উৎসবের আবেদন নিয়ে। তার সেই আবেদন গ্রহণ করা হয় এবং অ্যান্থনিকে ঘোষণা দেয়া হয় বিশ্বের লিপ ইয়ার রাজধানী হিসেবে।

    তার পর থেকে প্রতি বছর সারা বিশ্বের লিপাররা টেক্সাসের এই শহরে জড়ো হয়ে প্যারেডে অংশ নেন, একসাথে বার্থডে ডিনার, নাচানাচি এবং হট এয়ার বেলুনে চড়েন সবাই।

     

    ৯. গ্রেগরিয়ান ক্যালেন্ডার ছাড়া অন্যান্য ক্যালেন্ডারেও লিপ ইয়ারের দরকার পড়ে। আধুনিক ইরানের ক্যালেন্ডারটি যেমন সৌর ক্যালেন্ডার, যাতে প্রতি ৩৩ বছরে ৮টা লিপ ডে আছে। ভারতের জাতীয় ক্যালেন্ডার এবং বাংলাদেশের যে বাংলা পঞ্জিকাবর্ষ তাতে লিপ ইয়ার এমনভাবে রাখা হয় যাতে লিপ ডে সব সময় গ্রেগরিয়ান ক্যালেন্ডার অনুযায়ী ২৯শে ফেব্রুয়ারির খুব কাছাকাছি থাকে।

     

    ১০. অভিযাত্রী ক্রিস্টোফার কলম্বাস ওয়েস্ট ইন্ডিজে তার চূড়ান্ত অভিযানের সময় ১৫০৪ সালের ২৯শে ফেব্রুয়ারির চন্দ্র গ্রহণকে নিজের সুবিধার্থে কাজে লাগান।

    তিনি যখন জ্যামাইকা দ্বীপে বেশ কয়েক মাস তার নাবিকদের নিয়ে আটকা পড়েন, তখন এক পর্যায়ে স্থানীয় আদিবাসীদের সাথে তাদের সম্পর্কের অবনতি ঘটে এবং তারা খাবার ও অন্যান্য জিনিস দিয়ে সহায়তায় অস্বীকৃতি জানায়।

    কলম্বাস জানতেন যে একটা চন্দ্রগ্রহণ আসন্ন, তার সহযোগীদের সাথে আলাপ করে তিনি স্থানীয় সব আদিবাসী নেতাদের একসাথে করেন ২৯শে ফেব্রুয়ারি। তিনি তাদের বলেন, ঈশ্বর চাঁদকে লাল বর্ণ করে তাদের শাস্তি দেবে। চন্দ্রগ্রহণের সময় বলেন যদি তারা আবার সহায়তা করতে শুরু করে তাহলে ঈশ্বর তার শাস্তি ফিরিয়ে নেবেন।

    আরেকটা অতিপ্রাকৃত ঘটনা হল, ১৬৯২ সালের ২৯শে ফেব্রুয়ারি ম্যাসচুসেটসের সালেম উইচক্র্যাফট ট্রায়ালের প্রথম ওয়ারেন্ট জারি হয়।

    সব কথার শেষ কথা, লিপ ইয়ারে আপনি সৌভাগ্যবান যে বছরে একটা অতিরিক্ত দিন পাচ্ছেন। আবার যারা চাকরিজীবী তারা ভাবতে পারেন যে বছরে একদিন কোনও বাড়তি বেতন ছাড়াই কাজ করতে হচ্ছে।

    যাদের জন্ম ২৯ ফেব্রুয়ারি তারা চার বছর পর পর জন্মদিন পালন করার সুযোগ পায়। যাদের বিয়ে হয় ২৯ ফেব্রুয়ারি তারা চার বছর পর পর বিবাহ বার্ষিকী পালন করার সুযোগ পায়। তবে খুব কম মানুষ আছেন যারা ২৯ ফেব্রুয়ারি বিয়ে করেন। কেননা প্রতি বছর বিবাহ বার্ষিকীর উৎসব পান করা থেকে কেউ বিরত থাকতে চায় না।

    সূত্র: বিবিসি বাংলা

  • রান্না: রাজদোল্লা পিঠা

    রান্না: রাজদোল্লা পিঠা

    www.HelloBangla.News – লাইফস্টাইল – ২৫ ফেব্রুয়ারি, ২০২৪: আগামীকাল দিনটি হচ্ছে পবিত্র শবে ই বরাত বা লাইলাতুল বারাত। আজকের রাতে হালুয়া রুটি বানানো এবং পাড়া প্রতিবেশি ও আত্মীয় স্বজনদের তা বিতরণ করা হয়। এই লাইলাতুল বারাতে একটি মজার রেসিপি থাকছে, নাম “রাজদোল্লা পিঠা” । আপনারা ট্রাই করে দেখবেন। চলুন এর মূল রেসিপি টি দেখে আসি।

    রেসিপি দিয়েছেন - মরিয়ম নিপা
    রেসিপি দিয়েছেন – মরিয়ম নিপা

     

    উপকরণ:

    চালের গুড়ো-২ কাপ, কোরানো নারকেল-১ কাপ, খেজুরের গুড় কোরানো-১ কাপ, পাউডার দুধ-১/৩ কাপ, লবন-স্বাদমতো, তরল দুধ-১ কেজি।

     

    প্রণালী:

    প্রথমে তরল দুধ জ্বাল করে ১/৪ কাপ করে নিতে হবে। এবার জ্বাল করা দুধে কোরানো নারকেল ও খেজুরের গুড় দিয়ে ১ মিনিট জ্বাল করে নিতে হবে।এবার চালের গুড়ো, পাউডার দুধ, পরিমানমতো লবন দিয়ে পিঠার একটা ডো তৈরি করে নিতে হবে। ডো টা যাতে বেশী নরম না হয়। এবার একটি পাত্রে গরম পানি দিতে হবে পিঠা ভাপ দেয়ার জন্য। পছন্দ মতো আকৃতি দিয়ে পিঠা ভাপ দিয়ে নিতে হবে। গরম অথবা ঠান্ডা উভয়ভাবেই পরিবেশন করা যায়।

    রেসিপি দিয়েছেন : মরিয়ম নিপা

  • রান্না সুজি গাজরের হালুয়া

    রান্না সুজি গাজরের হালুয়া

    www.HelloBangla.News – লাইফস্টাইল – ২৪ ফেব্রুয়ারি, ২০২৪: আসছে পবিত্র রামজান মাস। তার আভাস নিয়ে  এলো পবিত্র শবে ই বরাত বা লাইলাতুল বারাত। আমাদের নানি দাদিরা এই দিনটি আসলে বিভিন্ন দরধের হালুয়া রুটি বানাতেন এবং পাড়া প্রতিবেশি ও আত্মীয় স্বজনদের বাসায় মজার সব হালুয়া পাঠাতেন। ইদানিং  এই প্রথা কম দেখা গেলেও একেবারে হারিয়ে যায়নি।

    এই লাইলাতুল বারাতে আমার একটি মজার রেসিপি থাকছে। আপনারা ট্রাই করে দেখবেন। খুব মজার  এই হালুয়ার নাম সুজি গাজরের হালুয়া। চলুন এর মূল রেসিপি টি দেখে আসি।

    রেসিপি দিয়েছেন-শামিমা ইসলাম মুন্নি (২)
    রেসিপি দিয়েছেন-শামিমা ইসলাম মুন্নি (২)

     

    উপকরণ:

    ঘি-২ টেবিল চামচ, গাজর কুচি-২ কাপ, সুজি- ১/২ কাপ, গুড়ো দুধ-২ টেবিল চামচ, দারুচিনি-১টি, তেজপাতা-১টি, এলাচ-২ টি, চিনি-স্বাদ মতো,তরল দুধ-১ কাপ।

     

    প্রস্তুত প্রণালী:

    চুলায় লো মিডিয়াম আঁচে প্যান বসিয়ে ২ টেবিল চামচ ঘি দিয়ে দিন। গরম মসলা সামান্য ভেজে গাজর কুচি দিয়ে দিন। গাজর ভালো ভাবে ভাজা হলে দিয়ে দিন সুজি আর দুধে গুড়ো। সবকিছু ভালো ভাবে ভেজে এতে যোগ করুন ১ কাপ তরল দুধ। অনবরত নাড়তে থাকুন। সবশেষে যোগ করুন চিনি। প্যান থেকে উঠে আসতে শুরু করলে নামিয়ে ঘি ব্রাশ করা মোল্ডে ঢেলে দিন। ঠাণ্ডা হলে বরফি আকারে কেটে পরিবেশন করুন।

    ব্যাস এভাবে তৈরি হয়ে যাবে মজাদার সুজি গাজরের হালুয়া।

    রেসিপি দিয়েছেন : শামিমা ইসলাম মুন্নি

  • বসা এবং দাঁড়ানোর মাধ্যমে স্বাস্থ্য পরীক্ষা

    বসা এবং দাঁড়ানোর মাধ্যমে স্বাস্থ্য পরীক্ষা

    www.HelloBangla.News – লাইফস্টাইল – ১৮ ফেব্রুয়ারি, ২০২৪: বসা এবং দাঁড়ানো বা সিট অ্যান্ড স্ট্যান্ড এই পরীক্ষার মাধ্যমে আপনি আপনার স্বাস্থ্যের গুরুপুর্ণ পরীক্ষা করতে পারেন। এই পরীক্ষাটি সবার আগে সামনে আনেন দু’জন ব্রাজিলিয়ান গবেষক, যা পরে সারা বিশ্বে ছড়িয়ে পড়ে।

    এই পরীক্ষাটি করতে, প্রথমে দাঁড়ানো অবস্থায় পা ক্রস করে শুধুমাত্র পায়ের ওপর ভর করে নীচে বসুন। একইভাবে শুধু পায়ের পাতায় ভর করে আবার উঠে দাঁড়ান। এই বসা বা দাঁড়ানোর সময় পায়ের পাতা ছাড়া হাত বা শরীরের কোনো অংশ দিয়ে মেঝে স্পর্শ করা বা ভর দেয়া যাবে না। তবে এই পরীক্ষাটি ধীরে ধীরে করার পরামর্শ দিয়েছেন গবেষকরা।

    মূলত স্বাস্থ্যের চারটি বিষয় ওজন, নমনীয়তা, ভারসাম্য ও পেশী শক্তি মূল্যায়নের ক্ষেত্রে এই বসা এবং দাঁড়ানো পরীক্ষাটি করতে বলা হয়। অতিরিক্ত ওজন বা মোটা হয়ে যাওয়ার কারণে নির্দিষ্ট ধরণের ক্যান্সার, স্ট্রোক ও হার্ট অ্যাটাকের ঝুঁকি থাকে।

    আবার ভারসাম্য, নমনীয়তা ও পেশী শক্তির অভাব হাড় ক্ষয়সহ হাড়ের দুর্বলতার সংকেত দেয়। পরীক্ষাটি অবশ্যই খালি পায়ে, আরামদায়ক পোশাক পরে একটি সমতল জায়গায় করতে হবে। সবচেয়ে ভালো নীচে মাদুর বা কার্পেট বিছানো থাকলে। এতে পড়ে গেলেও আঘাত পাওয়ার আশঙ্কা কমে যাবে।

    তবে যদি কোন গর্ভবতী নারী বা বয়স হয়ে যায় কিংবা পড়ে যাওয়ার ভয় থাকে তাহলে পাশে অবশ্যই একজন সাহায্যকারীকে রাখতে হবে।

    যখন কাউকে পা ক্রস করে বসতে ও দাঁড়াতে বলা হয়, তখন ওই ব্যক্তির শরীরের সম্পূর্ণ ভর তার পায়ের তলায় ছাড়া শরীরের অন্য কোনো অংশে পড়ে না। এটি আপনি কতটা দ্রুত করছেন সেটি বিষয় না। আপনি ঠিকভাবে করতে পারছেন কি না সেটাই দেখার বিষয়।

     

    বাসা এবং দাঁড়ানোর এই  স্বাস্থ্য পরীক্ষাটি ঠিকভাবে করতে পয়েন্ট দিয়ে অভ্যাস করুন:

    ধরুন, বসা ও দাঁড়ানো এই দুটি ধাপের জন্য মোট ১০ পয়েন্ট। যদি আপনি বসা বা দাঁড়ানোর সময় হোঁচট খান বা ভারসাম্য হারান তাহলে প্রতিবারের জন্য আধা নম্বর কাটা যাবে। যদি হাত দিয়ে বা শরীরের অন্য অংশ যেমন বাহু, হাঁটুর ওপর ভর করেন তাহলে প্রতিবার ভর দেয়ার জন্য এক নম্বর কাটা যাবে। আবার আপনি যদি হাঁটু বা উরুতে আপনার হাত বিশ্রাম করান তাহলেও আধা নম্বর কাটা যাবে।

    আদর্শ স্কোর আট থেকে ১০ পয়েন্টের মধ্যে, তবে এটি লিঙ্গ ও বয়সের উপর নির্ভর করে পরিবর্তিত হয়। ৬৫ বছরের বেশি বয়সী ব্যক্তিদের পক্ষে সম্পূর্ণ স্কোর অর্জন করা খুবই কঠিন ও বিরল বিষয়।

    যাদের স্কোর ছয় ও সাত দশমিক পাঁচ পয়েন্টের কম, তাদের এর চেয়ে বেশি স্কোর করা মানুষদের তুলনায় পরবর্তী ছয় বছরে মারা যাওয়ার আশঙ্কা দ্বিগুণ; যাদের স্কোর তিন পয়েন্ট বা ‌এর চেয়েও কম, তাদের ওই সময়ের মধ্যে মারা যাওয়ার আশঙ্কা পাঁচগুণ বেশি।

    বছরের পর বছর ধরে ২০০০ মানুষের স্বাস্থ্যের ইতিহাস পর্যবেক্ষণ করে, ব্রাজিলিয়ান গবেষকরা বুঝতে পেরেছিলেন যে ভাল স্কোর মানে জীবনের মান ভাল এবং আপনি বেশি বছর বাঁচবেন। তবে ভাল খবর হল যাদের স্কোর কম তারা চাইলে এই স্কোর বাড়াতে পারেন। এজন্য দরকার নিয়মিত ব্যায়াম ও ডায়েটের মাধ্যমে স্বাস্থ্য ঠিক রাখা।

    বেশি ‍দিন সুস্থ থাকতে আপনি নিয়মিত এই এই ব্যায়ামটি করতে পারেন। এতে একদিকে শরিরের ফিটনেস বাড়ে অপরদিকে আপনার জীবন শক্তি বাড়িয়ে দেয়।

    সূত্র: বিবিসি বাংলা

  • একুশের সাংস্কৃতিক উৎসব দেখে মুগ্ধ দর্শকরা

    একুশের সাংস্কৃতিক উৎসব দেখে মুগ্ধ দর্শকরা

    www.HelloBangla.News – বিনোদন – ১৭ ফেব্রুয়ারি, ২০২৪: মহান একুশে ফেব্রুয়ারি ২০২৪ উপলক্ষে বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমি ও বাংলাদেশ গ্রুপ থিয়েটার ফেডারেশনের যৌথ আয়োজনে শুরু হয়েছে ৮ দিনব্যাপী আয়োজন ‘একুশের সাংস্কৃতিক উৎসব ২০২৪’। ১৫ ফেব্রুয়ারি বিকাল ৪.০০ টায় সোহরাওয়ার্দী উদ্যানের উন্মুক্ত মঞ্চে অনুষ্ঠানের উদ্বোধন করা হয়। প্রথম দিনের অনুষ্ঠান দেখে মুদ্ধ দর্শকরা।

    ‘একুশের সাংস্কৃতিক উৎসব ২০২৪’। অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য প্রদান করেন একাডেমির সম্মানিত সচিব জনাব সালাহউদ্দিন আহাম্মদ। প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন একুশে পদকপ্রাপ্ত মঞ্চসারধি জনাব আতাউর রহমান। বিশেষ অতিথি হিসেবে ছিলেন বাংলাদেশ গ্রুপ থিয়েটার ফেডারেশন এর সেক্রেটারী চন্দন রেজা এবং সভাপতিত্ব করেন বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির মহাপরিচালক জনাব লিয়াকত আলী লাকী।

    একুশের সাংস্কৃতিক উৎসব - বিনোদন - ১৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৪ (২)_1
    একুশের সাংস্কৃতিক উৎসব – বিনোদন – ১৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৪ (২)_1

    শিল্পকলা একাডেমির মহাপরিচালক বলেন “ফেব্রুয়ারি ভাষা আন্দোলনের মাস, আসুন আমরা সংস্কৃতির এই আন্দোলনে একাত্ম হয়ে বিশ্বের প্রত্যেক দেশে শহীদ মিনার করি। শুধু বাংলাদেশে নয়, বিশ্বের প্রত্যেকটা দেশে যেন শহীদ মিনার রয়েছে ইতোমধ্যেই অনেক দেশে হয়েছে।”

    ১ম দিনের আয়োজনে অনুষ্ঠানের শুরুতেই পরিবেশিত হয় ‘আমার ভাইয়ের রক্তে রাঙানো একুশে ফেব্রুয়ারি’ গান পরিবেশন করেন বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির প্রতিশ্রুতিশীল শিশু-কিশোর সংগীত দল। এরপর লিয়াকত আলী লাকীর ভাবনা ও পরিকল্পনায় ‘বীর পুরষ’ নৃত্য পরিবেশন করেন একাডেমির শিশু নৃত্যদল। নৃত্য পরিচালনা করেন সোমা গিরি। এরপর ‘ইতিহাস জানো তুমি আমারা’ নৃত্য পরিবেশন করে ধৃতি নর্তনালয়, নৃত্য পরিচালনা করেছেন নৃত্য পরিচালক ওয়ার্দা রিহাব। এরপর লিয়াকত আলী লাকীর ভাবনা ও পরিকল্পনা এবং জয়দীপ পালিত এর পরিচালনায় পরিবেশিত হয় শিশু নৃত্য ‘চলো বাংলাদেশ’। পরিবেশন করে বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির শিশুনৃত্যদল। এরপর নৃত্যলোক নৃত্যদল পরিবেশন করে ‘একুশ জাগরণ’। নৃত্য পরিচালনা করেছেন নৃত্য পরিচালক কবিরুল ইসলাম রতন। এরপর ধুতি নর্তনালয় নৃত্যদল ২য় পরিবেশন করে ‘বাংলা হিন্দু, বাংলার বৌদ্ধ’। নৃত্য পরিচালনা করেন ওয়ার্দা রিহাব। এরপর নৃত্যলোক নৃত্যদল পরিবেশন করে ‘ও পৃথিবী এবার এসো’। নৃত্য পরিচালনা করেছেন নৃত্য পরিচালক কবিরুল ইলাম রতন। এরপর আবার নৃত্য ‘ধন ধান্য পুষ্পভরা’ পরিবেশন করে বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির প্রতিশ্রুতিশীল শিশু-কিশোর সংগীত দল।

    এরপর কবি কন্ঠে স্বরচিত কবিতা পাঠ করেন কবি মিনার মনসুর ও আসলাম সানি। এরপর পরিবেশিত হয় একক সংগীত। একক সংগীত ‘অপমানে তুমি জ্বলে উঠেছিলে’ ও ‘মাগো ভাবনা কেনো’ পরিবেশন করেন সোহানুর রহমান। হিমাদ্রি রায় পরিবেশন করেন একক সংগীত ‘মাগো ধন্য হলো জীবন’ ও ‘ভেবনা গো মা’। এরপর ধারাবাহিক আয়োজনে পরিবেশিত হয় নৃত্য ‘বাংলার ধ্রুবতারা’। ভাবনা ও পরিকল্পনা লিয়াকত আলী লাকী এবং পরিচালনা করেছেন নৃত্য পরিচালক স্নাতা শাহরীন। নৃত্য পরিবেশন করে বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির প্রতিশ্রুতিশীল নৃত্যদল। এরপর পরিবেশিত হয় সংগীত। একক সংগীত ‘আমায় গেঁথে দাও না মাগো’ ও এই শিকল পড়া ছল’ পরিবেশন করেন বর্ণালী সরকার এবং অন্তরা পরিবেশন করেন একক সংগীত ‘সূয্যেদয়ে তুমি, সূর্যাস্তেও তুমি’ ও ‘সেই রেল লাইনের ধারে’। এরপর লিয়াকত আলী লাকীর ভাবনা ও পরিকল্পনায় ‘ আজ যত যুদ্ধবাজ’ নৃত্য পরিবেশন করে বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির প্রতিশ্রুতিশীল নৃত্যদল। নৃত্য পরিচালনা করেন মেহরাজ হক তুষার। সহযোগীতায় ছিলেন এস কে জাহিদ।

    সবশেষ পরিবেশিত হয় গ্রামবাংলার ঐতিহ্যবাহী পালা `উথুলা সুন্দরী’। পরিবেশন করেন পালাকার ইসলাম উদ্দিন।

    বইমেলায় আগত দর্শনার্থীদের উপস্থিতিতে জমজমাট হয়ে ওঠে পালার দর্শক গ্যালারী। গ্রাম বাংলার বহু পুরোনো পালা শিল্পীর ভাষ্যমতে ১শ থেকে দেড়শ বছরের পুরোনো পালা উতুলা সুন্দরী মুলত প্রেমের কাহিনী। কাল্পনিক এ পালায় এক সুন্দরী রমনীর গল্প তুলে ধরেন পালাকার।

    অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন আব্দুল্লাহ বিপ্লব ও তামান্না তিথি।

  • ঘড়ির ছবি আঁকার মাধ্যমে মানুষের মেধা পরীক্ষা

    ঘড়ির ছবি আঁকার মাধ্যমে মানুষের মেধা পরীক্ষা

    www.HelloBangla.News – লাইফস্টাইল – ১৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৪: মানুষের জীবনে শারীরিক বা মানসিক অনেক বিষয় আছে যার পরীক্ষা আমরা ঘরে বসেই করতে পারিেএর জন্য কোন ওষুধ বা যন্ত্রের প্রয়োজন হয় না। কার মেধা কটতা। সেটাও পরীক্ষা করা সম্ভব ঘরে বসেই।  কাগজের ওপর কলম বা পেন্সিল দিয়ে ঘড়ির ছবি আঁকার মাধ্যমে মানুষের মেধা সম্পর্কে ধারণা পাওয়া যেতে পারে। মেধা মূল্যায়নের জন্য নিউরোলজিস্ট বা স্নায়ু বিশেষজ্ঞরা এই পরীক্ষাটি করে থাকেন।

    এজন্য যাকে পরীক্ষা করা হচ্ছে তাকে কাগজের ওপর একটি ঘড়ি আঁকতে দেয়া হয়। প্রথমে বৃত্ত, তারপর সঠিক ক্রম অনুযায়ী সংখ্যা ও সবশেষে সূচ বা ঘড়ির কাঁটা।

    সাও পাওলোর নিউরোলজিস্ট ফ্যাবিও পোর্তো এক্ষেত্রে ঘড়িতে বেলা দু’টা পয়তাল্লিশ ও এগারোটা বেজে দশ মিনিটের ছবি আঁকার পরামর্শ দেন৷

    এক্ষেত্রে ফলাফলগুলো কীভাবে পরিমাপ করা উচিত তা নিয়ে বিশ্বজুড়ে বিভিন্ন গবেষণা ও পদ্ধতি রয়েছে, তবে কেউ যদি “অস্বাভাবিক” ছবি আঁকেন, তখন সেটা মনোযোগ দিয়ে দেখতে হবে। যেমন, কেউ যদি একই সংখ্যা একাধিকবার লেখেন, ঘড়ির কাঁটা যদি ঘড়ি থেকে বেরিয়ে যায়, অথবা যে সময়টি আঁকতে বলা হয়েছে তার চাইতে ভিন্ন কিছু আঁকেন।

    সেইসাথে কেউ যদি ছবিটি আঁকতে অনেক সময় নেন। ছবি আঁকার নির্দেশ বুঝতে এবং সে অনুযায়ী আঁকতে অসুবিধা হলে এর পেছনে স্মৃতিশক্তি ও মেধা কমে যাওয়াকে নির্দেশ করা হয়। বিশেষ করে, বৃদ্ধ বয়সে এই পরিবর্তনগুলো দেখা গেলে সেটি আলঝেইমার ও ডিমেনশিয়ার লক্ষণ হতে পারে।

    এই পরীক্ষার মাধ্যমে ভিজ্যুয়াল ফাংশন অর্থাৎ চোখের মাধ্যমে তথ্য নেয়া এবং মস্তিষ্কের সামনের অংশে থাকা ফ্রন্টাল লোবের কার্যকারিতা যাচাই করা হয়। ফ্রন্টাল লোবের সাহায্যে মানুষ পরিকল্পনা করা, যুক্তিসঙ্গত কারণ বের করা এবং আবেগ অনুভূতি প্রকাশের মতো কাজগুলো থাকে।

    এছাড়া অন্যান্য ছোট ও সহজ কাজের মাধ্যমেও মস্তিষ্কের কার্যকারিতার বিষয়ে ধারণা পাওয়া যেতে পারে।

    যেমন, বছরের ১২টি মাসের নাম পেছন থেকে বলা, একই অক্ষর দিয়ে শুরু হওয়া ১১টি শব্দ এক মিনিটের মধ্যে বলা অথবা একই ধরণের জিনিষ যেমন, পশুর নাম, পাখির নাম, রান্নাঘরের বাসনকোসনের নাম একটানা বলা। এই পরীক্ষার মাধ্যমে মূলত অমনোযোগিতা, উদ্বেগ, বিষণ্ণতা, শিক্ষা ও কথা বুঝতে সমস্যা আছে কিনা সে ব্যাপারে ধারণা পাওয়া যায়।

    সূত্র: বিবিসি বাংলা

  • আঙ্গুলের ওপর চাপ দিয়ে বাড়িতে বসে করতে পারবেন স্বাস্থ্য পরীক্ষা

    আঙ্গুলের ওপর চাপ দিয়ে বাড়িতে বসে করতে পারবেন স্বাস্থ্য পরীক্ষা

    www.HelloBangla.News – লাইফস্টাইল – ১৪ ফেব্রুয়ারি, ২০২৪: আমাদের আঙ্গুলে রয়েছে খুব সূক্ষ্ম কিছু শিরা উপশিরা। আঙ্গুলের ওপর চাপ দিয়ে  আপনার শরীরের শিরা উপশিরা ধমনি দিয়ে রক্তসহ অন্যান্য তরলের সঞ্চালন ঠিকঠাক আছে কিনা তা বুঝতে এই পরীক্ষাটি করতে পারেন।

    এজন্য আপনি এক হাত দিয়ে আরেক হাতের কোনো একটি আঙ্গুলের নখের অংশটি চেপে ধরে রাখুন, যতক্ষণ না সেই অংশটির রঙ হালকা হয়ে যায়। এরপর আঙ্গুলটি ছেড়ে দিন। এখন নখের নীচের অংশটির স্বাভাবিক রঙে ফিরতে যদি দুই সেকেন্ডের বেশি সময় লাগে তাহলে বিষয়টি অস্বাভাবিকতার লক্ষণ হতে পারে।

    সাধারণত এটি ‘পেরিফেরাল ভাস্কুলার ডিজিজ’ আক্রান্ত হওয়ার লক্ষণ। পেরিফেরাল ভাস্কুলার ডিজিজ হচ্ছে আমাদের হৃদযন্ত্র ও মস্তিষ্ক বাদে শরীরের অন্যান্য অংশে যেমন, হাতে পায়ে যে রক্ত সঞ্চালনে সমস্যা হওয়া।

    সাধারণত রক্তনালী সংকুচিত হয়ে রক্ত প্রবাহ কমে গেলে বা বন্ধ হয়ে গেলে এই সমস্যা দেখা দেয়। আবার শরীরে পানিশূন্যতার কারণে বা রোগী শকে চলে গেলেও আঙ্গুল স্বাভাবিক রঙে ফিরতে সময় লাগতে পারে। বিষয়টি শিশুদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য।

    এখন প্রশ্ন করতে পারেন সামান্য আঙ্গুলের আগা চেপে ধরে পুরো শরীরের রক্ত সঞ্চালনের ধারণা কীভাবে পাওয়া যায়?

    এর কারণ আমাদের আঙ্গুলে রয়েছে খুব সূক্ষ্ম কিছু শিরা উপশিরা। এ কারণে এই অংশটি চেপে ধরলে ওইসব শিরা থেকে রক্ত সরে গিয়ে রং হালকা হয়ে যায়। তাই, যখন আমরা আঙ্গুল ছেড়ে দিই, তখন কী গতিতে সেই রক্ত ফিরে আসছে তা থেকে ধারণা করা যায়, আমাদের রক্ত সঞ্চালন কতটা স্বাস্থ্যকর অবস্থায় রয়েছে।

    সূত্র: বিবিসি বাংলা