Author: Hello Bangla News

  • বিফ চিলি

    বিফ চিলি

    উপকরণ:( প্রথম ধাপ)

    গরুর মাংস পাতলা করে কাটা-৩৫০ গ্রাম, আদা ও রশুন বাটা-২ চা চামচ, সয়াসস-১ চা চামচ, লবন পরিমান মত, গোল মরিচ গুঁড়া পরিমান মত।

    প্রণালি: প্রথমে এ উপকরন গুলো একসাখে মিশিয়ে ৩০ মিনিট মেরিনেট করে রাখতে হবে! তারপর পরিমানমত পানি দিয়ে সিদ্ধ করে নিতে হবে!

    উপকরণ: (দ্বিতীয় ধাপ)

    পেয়াজ ভাজে ভাজে খুলে নিতে হবে-দেড় কাপ, সবুজ  ক্যাপসিকাম-১ টি, টমেটো-২/৩ টি, রশুন কুচি-৮/১০ কোয়া, লাল মরিচ কুচি-৩/৪ টা, ফিশ সস, সয়া সস, টমেটো কেচাপ, করণফ্লাওয়ার, পেয়াজ কলি, কাঁচা মরিচ আস্ত ৭/৮ টা, চিনি, লবন।

    বিফ চিলি

    প্রণালি:

    প্যানে তেল ছেড়ে প্রথমে রশুন এবং লাল মরিচ কুচি দিয়ে ভাজতে হবে , একটু হাই হিট এ! গন্ধ বের হলে পেয়াজ গুলা দিতে হবে ২/৩ মিনিট নেড়ে টমেটো দিতে হবে টমেটো একটু মজে আসলে সেদ্ধ গরুর মাংস টা দিতে হবে। পরিমান মত ফিশ সস, সয়া সস, টমেটো কেচাপ, অল্প চিনি দিতে হবে। যেহেতু সসে অনেক লবন থাকে তাই লবন টা স্বাদবুঝে দিতে হবে। ভাজার পরে হবে এরপর ক্যাপসিকাম,  পেয়াজ কলি দিতে হবে, আস্ত কাচা মরিচ দিতে হবে ভাজা হলে অল্প পানি দিতে হবে। যখন স্বাদ ঠিকঠাক লাগবে, এক টেবিল চামচ কর্ন ফ্লাওয়ার ঠান্ডা পানি তে গুলে দিয়ে দিতে হবে। পুরা রান্নায় ঢাকনা ব্যবহার করা যাবে না। এতে রং নষ্ট হয়ে যায় !  কর্ন ফ্লাওয়ার দিয়ে একটু ঝোল ঘন হয়ে গেলে ই ব্যস। তৈরী হয়ে গেলো মজার স্বাদের বিফ চিলি।

    রেসিপি দিয়েছেন: শাহানা মুসাঈদা জেসী

  • শিল্পকলায় বিশ্ব সংগীত দিবস পালিত

    শিল্পকলায় বিশ্ব সংগীত দিবস পালিত

    হ্যালো বাংলা ডেস্ক:  সংগীতের সুরে বিশ্বব্যাপী শান্তি, ইতিবাচক চিন্তা ও দর্শনকে ছড়িয়ে দিয়ে সবার সাথে মেলবন্ধন প্রতিষ্ঠার উদ্দেশ্যেই প্রতিবছর ২১ জুন, ‘বিশ্ব সংগীত দিবস’ পালিত হয়ে আসছে। সংগীত দিবসের সূচনা হয়েছিল ইউরোপের শিল্প, সংস্কৃতি ও সাহিত্যে সমৃদ্ধ দেশ ফ্রান্সে। সেখানে এই উৎসবের নাম দেয়া হয় ‘ফেট ডে লা মিউজিক’। যার অর্থ ‘বিশ্বজুড়ে সঙ্গীতের দিন’। ১৯৮২ সালে বিশেষ এই সংগীত উৎসবের দিনটি ‘ওয়ার্ল্ড মিউজিক ডে’ হিসেবে পরিচিতি লাভ করে।

    ‘বিশ্ব সংগীত দিবস’ উপলক্ষে গতকাল বুধবার বাংলাদেশ শিল্পকলার একাডেমির সংগীত, নৃত্য ও আবৃত্তি বিভাগের ব্যবস্থাপনায় জাতীয় নাট্যশালা মিলনায়তনে  আলোচনা ও বর্ণাঢ্য সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানমালার আয়োজন করা হয়। সন্ধ্যায় জাতীয় নাট্যশালা মিলনায়তনে আলোচনা পর্ব দিয়ে শুরু হয় মুল অনুষ্ঠান। অনুষ্ঠানে আলোচক হিসেবে ছিলেন ড. সাইম রানা, তেরা মালেউফ, দেবরাহ্ জান্নাত। সভাপতিত্ব করেন একাডেমির মহাপরিচালক জনাব লিয়াকত আলী লাকী।

    সভাপতির বক্তব্যে তিনি বলেন, “প্রতিটি মানুষের অন্তরে রয়েছে সুরের প্রবাহ। রবীন্দ্রনাথ বলে গেছেন গান শুধু গান নয়; এটি একটি উপাসনাও। বিশ্বে এখন মিউজিক থেরাপি ব্যবহার হচ্ছে। সেখানে বাংলা রাগ সংগীত অন্যতম ভূমিকা রাখছে।”

    ফরাসি লালন গবেষক ও ভক্ত দেবরাহ জান্নাত বিশ্ব সঙ্গীত দিবসে নিজ দেশের স্মৃতিচারন করেন। তিনি বলেন – “সংগীত নিজের আত্মার স্পন্দন। ভক্তি না থাকলে, বোধ ও চিন্তার দর্শন না থাকলে সুর তৈরী হয় না।”

    অনুষ্ঠানে অনলাইনে যুক্ত হোন লেবাননের জনপ্রিয় কন্ঠশিল্পী তারা মালেউফ। বিশ্ব সংগীত দিবসে বাংলাদেশে এ ধরনের আয়োজন নিয়ে শুভেচ্ছা জানিয়ে তিনি পরিবেশন করেন বাংলা গান -‘ সূর্যোদয়ে তুমি সূর্যাস্তে তুমি’

    শিল্পকলায় বিশ্ব সংগীত দিবস পালিত

    ২য় পর্বের সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের শুরুতেই পরিবেশিত হয় সমবেত যন্ত্রসংগীত পরিবেশনা ‘পূর্ব পশ্চিম’। সংগীত পরিচালক মো: মনিরুজ্জামান এর পরিচালনায় সমবেত যন্ত্রসংগীত পরিবেশিত হয়। ‘আকাশ ভরা সূর্যতারা’ শিরোনামে সমবেত নৃত্য-রবীন্দ্র পরিবেশন করেন বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির নৃত্যদল। এরপর একক সংগীত পরিবেশন করেন নকিব খান।

    ৫ মিনিটের সমবেত সংগীত (আধুনিক) পরিবেশন করেন- পথিক নবী, শাহনাজ বেলী, অনপমা মুক্তি, রাজিব, কিশোর, সাব্বির জামান, অপু আমান, পুলক অধিকারী, রন্টি দাস, লিজা, বিউটি, নাজু আখন্দ, আয়রুল ওয়াসী, সালমা, সন্দীপন, কানিজ খন্দকার মিতু, নিশিতা বড়ুয়া, সম্রাট, শাপলা পাল, ফারশিদ আলম ও মেহরীন।

    তারপরেই পরিবেশিত হয় ‘কনসার্ট ফর বাংলাদেশ’।

    লিয়াকত আলী লাকীর ভাবনা ও পরিকল্পনায়, সংগীত পরিচালক জাহিদুল কবির লিটন এবং মুহাম্মদ আনিসুর রহমান এর তত্ত্বাবধানে ‘গীত, বাদ্যে লোক দর্শন’। শিরোনামে পরিবেশিত হয় সমবেত লোকসংগীত।

    এর পর পরিবেশিত হয় ওস্তাদ আমজাদ আলী খান- নোবেল পিস প্রাইজ এওয়ার্ড । খুরশিদ আলম পরিবেশন করেন সিনেমার গান ‘বন্দি পাখির মতো’। একক গানে এলিজা পুতুল পরিবেশন করেন লালনগীতি এবং শরীফ সাধু পরিবেশন করেন লোকসংগীত। এরপর পরিবেশিত হয় সঙ্গীতের দুই দিকপাল উদয়শঙ্কর এবং ওস্তাদ আলাউদ্দিন খাঁ স্মরণে ভিডিও চিত্র উপস্থাপনা।

    এরপরে ‘দাও শৌর্য দাও ধৈয্য’ ও ‘আমরা সবাই মঞ্চকুড়ি ‘সমবেত সংগীত পরিবেশিত হয় একাডেমির শিশুসংগীত দলের পরিবেশনায়। ‘বিশ্ব বীণা রবে…‘শিরোনামে সমবেত নৃত্য পরিবেশন করে ধৃতি নর্তনালয় । সমবেত নৃত্য পরিচালনা করেন ওয়ার্দা রিহাব। সঙ্গীতের আরেক দিকপাল শচীনদেব বর্মন স্মরণে ভিডিওচিত্র উপস্থাপন করা হয়।

    পরে ‘তুমি লাল সবুজের দেশ’ সংগীত পরিবেশন করেন জাপানের শিল্পী মাএ ওয়াতানাবে। ‘শুকনো পাতার নুপুর..’পরিবেশিত হয় সমবেত নৃত্য-নজরুল। নৃত্যটি পরিবেশন করেন একাডেমির শিশুদল। একক সংগীত এর রেকর্ডেড- পরিবেশন করেন যুক্তরাষ্ট্রের শিল্পী বব।

    বিদেশী ভাষার সংগীত ও নৃত্য পরিবেশনা ‘বিশ্ব মায়ের সুর, ছন্দ, বাণী’ সমবেত পরিবেশনা উপস্থাপন করা হয়। এর ভাবনা ও পরিকল্পনায় ছিলেন জনাব লিয়াকত আলী লাকী। সংগীত পরিবেশনায় ছিলো ঢাকা সাংস্কৃতিক দল। সংগীত পরিচালনায় ছিলেন ইয়াসমিন আলী, নৃত্য পরিবেশনায় ভঙ্গিমা ডান্স থিয়েটার এবং নৃত্য পরিচালনায় ছিলেন সৈয়দা সায়লা আহমেদ লিমা।

    সবশেষে ব্যান্ড সংগীত পরিবেশন করে ‘স্পন্দন’। অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন নূরুল হাসনাত জিলানী ও তানজিনা তমা। বিপুল সংখ্যক দর্শক এই অনুষ্ঠানটি উপভোগ করেন।

  • আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে নির্বাচন স্বচ্ছ হয়: প্রধানমন্ত্রী

    আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে নির্বাচন স্বচ্ছ হয়: প্রধানমন্ত্রী

    হ্যালো বাংলা ডেস্ক: সদ্য সমাপ্ত খুলনা, বরিশাল, রাজশাহী ও সিলেটের সিটি করপোরেশন নির্বাচন প্রসঙ্গে আওয়ামী লীগ সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে নির্বাচন স্বচ্ছ হয়। যখনই স্বাধীনভাবে নির্বাচন হয়েছে তখনই জনগণের বিশাল পরিমাণ ভোট নিয়ে আওয়ামী লীগ জয়ী হয়েছে।

    আজ বৃহস্পতিবার সকালে গণভবনে আওয়ামী লীগের কার্যনির্বাহী সংসদের বৈঠকে তিনি এসব কথা বলেন।

    শেখ হাসিনা বলেন, প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকেই আওয়ামী লীগ জনগণের জন্য কাজ করেছে। একমাত্র সংগঠন, যারা মানুষের কথা বলে, মানুষের ভাগ্য পরিবর্তন করে। আওয়ামী লীগ সরকার গঠন করলেই জনগনের কল্যাণ হয়েছে। আর অন্যরা জনগণের ভোটাধিকার, মানবাধিকার কেড়ে নিয়েছে।

    বিএনপি আমলের নির্বাচনের কথা তুলে ধরে শেখ হাসিনা বলেন, ভোট ডাকাতি করেই তাদের (বিএনপি) জন্ম, ভোট ডাকাতি করাই তাদের অভ্যাস। আমরা জনগণের ভোটের অধিকার জনগণের হাতে ফিরিয়ে দিয়েছি।

    সরকারপ্রধান বলেন, বিএনপি জঙ্গিবাদী ও সন্ত্রাসীদের দল। কানাডার আদালত এ রায় দিয়েছে। বিএনপির ২০১৪ ও ’১৮ সালের অগ্নিসন্ত্রাস মানুষ ভুলে যায়নি। তাদের জনগণের প্রতি কোনো দায় নেই।

    তিনি আরও বলেন, বিএনপির আমলে খাম্বা ছিল, বিদ্যুৎ ছিল না। খুনি সন্ত্রাসী দল বিএনপির বিষয়ে সবাইকে সচেতন থাকতে হবে।

    তিনি বলেন, ‘অনেক মানবসৃষ্ট ও প্রাকৃতিক দুর্যোগ মোকাবেলা করে আমরা অগ্রগতি অব্যাহত রাখতে সক্ষম হয়েছি। এই অগ্রগতি অব্যাহত থাকবে এবং বাংলাদেশ হবে জাতির পিতার স্বপ্নের ক্ষুধা ও দারিদ্র্যমুক্ত স্মার্ট বাংলাদেশ।’

    প্রধানমন্ত্রী বলেন, ১৯৪৯ সালের ২৩ জুন আওয়ামী লীগ প্রতিষ্ঠার পর থেকে জনগণের অধিকার আদায়ের সংগ্রাম অব্যাহত রেখেছে।

    তিনি বলেন, ‘আওয়ামী লীগই একমাত্র সংগঠন যা জনগণের পক্ষে কথা বলে। আওয়ামী লীগ যখনই ক্ষমতায় এসেছে তখনই মানুষের অর্থনৈতিক উন্নয়ন হয়েছে।’

    সামরিক স্বৈরশাসক জিয়াউর রহমান ও তার স্ত্রী খালেদা জিয়া হাজার হাজার নেতাকর্মীকে হত্যা এবং নেতাকর্মীদের ওপর অমানবিক নির্যাতনের মাধ্যমে আওয়ামী লীগকে ধ্বংস করার বারবার চেষ্টা চালানোর কথা উল্লেখ করেন তিনি।

  • আবারও বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ ৩০ বিলিয়ন ডলার অতিক্রম

    আবারও বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ ৩০ বিলিয়ন ডলার অতিক্রম

    হ্যালো বাংলা ডেস্ক: গতকাল বুধবার বাংলাদেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ বেড়ে হয়েছে ৩০.০১ বিলিয়ন মার্কিন ডলার । এর আগের দিন ২০ জুন মঙ্গলবার যা  ছিল ২৯.৯৫ বিলিয়ন ডলার। পবিত্র ঈদুল আজহাকে সামনে রেখে রেমিট্যান্সের এই  প্রবাহ এখন ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা বজায় রাখছে।

    বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, ১-২০ জুনের মধ্যে রেমিট্যান্স হিসেবে দেশে ১.৫৩ বিলিয়ন ডলার এসেছে। গত বছরের একই সময়ে এই রেমিট্যান্সের পরিমাণ ছিল ১.১০ বিলিয়ন ডলার। ২০২২-২৩ অর্থবছরে বাংলাদেশ ব্যাংক রিজার্ভ থেকে ১৩.৪৩ বিলিয়ন ডলার বিক্রি করেছে।

    এ বিক্রয় সাধারণত সরকারি এলসি’র অর্থপ্রদান এবং প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র কেনার জন্য ব্যবহৃত হয়। সরকার মার্চ ও এপ্রিলের জন্য এশিয়ান ক্লিয়ারিং ইউনিয়ন বা এসিইউ’কে ১.১ বিলিয়ন আমদানি বিল পরিশোধ করার পরে ৮ মে রিজার্ভ ২৯.৭ বিলিয়ন ডলারে  নেমে আসে।

    ১০ মে এটি আবার বেড়ে ৩০.৩৬ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছে, যা এর মাত্র একদিন আগে ২৯.৭৮ বিলিয়ন ডলার ছিল। ২৫ মে থেকে বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্যে দেখা যায়, রিজার্ভ আবার ২৯.৯৬ বিলিয়ন ডলারে নেমে এসেছে।

    সূত্র: বাসস

  • শিশুর খাবারে অরুচি দূর করতে ৮ টি উপায়

    শিশুর খাবারে অরুচি দূর করতে ৮ টি উপায়

    দিন দিন শিশুর ক্রমশ স্বাস্থ্যহানি দেখে আপনি টেনশন এ পড়ে গেছেন। ভাবছেন, আপনার আদরের বেবিটা আগের মত আর খাচ্ছে না, রোগাটে হয়ে যাচ্ছে। মুখের সামনে খাবার ধরলে হাত দিয়ে সরিয়ে দিচ্ছে। আবার মাঝে মাঝে এটাও বলে “এই খাবার আমার পছন্দ না। আমি এটা খাব না।”

    যাই হোক, শিশু খেতে চাচ্ছেনা, কী করলে সে ঠিকমত খাবে, কিভাবে বাচ্চাকে খাওয়ানো দরকার – এসব বিষয়ে পরামর্শ দিয়েছেন শিশু বিশেষজ্ঞরা। রুচি ফেরানোর ৮টি উপায়ের কথা মনোযোগ দিয়ে পড়ুন।

    ১. চেষ্টা করবেন কিছুটা ভারি খাবার দিয়ে সকাল বেলা বাচ্চাকে ব্রেকফাস্ট করাতে। বয়স অনুযায়ী খাবার নির্ধারন করুন এবং পুষ্টিকর খাবার রাখুন। সেটা হতে পারে বিভিন্ন ডাল সবজী দিয়ে নরম খিচুড়ি, ভাত, ডিম, সাবুদানা, ওটস, সুজি কিংবা অন্যকিছু।

    ২. বাচ্চার পর্যাপ্ত শারীরিক এক্টিভিটি নিশ্চিত করুন। শারীরিক বিকাশে খেলাধূলা করার সুযোগ দিন অথবা নিজের কাজগুলোর মধ্যে সহজ কাজগুলো করতে শেখাবেন। এতে করে বাচ্চা আত্মবিশ্বাসী হয়ে বড় হবে। আবার শারীরিক কাজের কারনে ক্লান্তি ও ক্ষুধাও বৃদ্ধি পাবে।

    ৩. অনেক মায়েদের দেখা যায় অতিরিক্ত খাবার খাওয়ান বা জোর পূর্বক খাওয়ান এতে অরুচির কারন তৈরি হতে পারে। ঘনঘন খাবার দেয়া বন্ধ করুন। তাক ক্ষুধা অনুভব করতে দিন। বাচ্চা কান্না করলেই যে ক্ষুধা লেগেছে এমন নয়। অন্যকোনো সমস্যা অথবা এটেনশন বৃদ্ধি করতেও একটি বাচ্চা কান্না করতে পারে।

    ৪. আয়রন বা ভিটামিন ডি এর অভাব থেকে বাচ্চার অরুচি হতে পারে। বাচ্চাকে আয়রন সমৃদ্ধ খাবার খাওয়ান। প্রতিদিন বেলা ৮-১২টা পর্যন্ত কিছুটা সময় বাচ্চাকে রোদের সংস্পর্শে রাখার চেষ্টা করুন।

    ৫. শরীরে পানির অভাব হলে শিশুরা তাদের ক্ষুধা বুঝতে পারে না। তাই শিশুকে নানাভাবে পানি বা পানিজাতীয় নানা খাবার খাওয়াতে হবে। বাচ্চাকে কখনো প্রসেস ফুড খাইয়ে অভ্যাস করবেন না। চিপস, চকলেট, আইসক্রিম বাচ্চাদের স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর।

    ৬. গবেষণায় দেখা গেছে, যেসব শিশু মানসিকভাবে চাপে থাকে, তাদের ক্ষেত্রে খাবারে অরুচির সমস্যাটি বেশি। তাই খাবার বা অন্য যে কোনো বিষয় নিয়ে শিশুকে কোনোভাবে মানসিক চাপের মধ্যে রাখা যাবে না। শিশু যা-ই করবে তা যেন আনন্দের সঙ্গে করে সেদিকে লক্ষ্য রাখতে হবে।

    ৭. বাচ্চার রুচি ফেরাতে মাঝেমাঝে খাবারের উপাদানে কিংবা রান্নায় বৈচিত্র আনুন। এবং বাচ্চা না খেলে জোর করে খাওয়ানো অথবা বারবার খাওয়ানোর জন্য চাপ দেয়া থেকে বিরত থাকুন। এতে করে তার খাবার খাওয়ার প্রতি আরো অরুচি তৈরি হতে পারে। মনে রাখতে হবে প্রতিটি মানুষের মতো একটি বাচ্চারও ভালো লাগা খারাপ লাগার অনুভূতি আছে। তাকে বুঝতে চেষ্টা করে খাওয়ানোর প্রতি আগ্রহী করুন।

    ৮. গ্যাস, কৃমি, কষা বা কোন সংক্রামক রোগের কারণে তার খাদ্যে অরুচি হয়েছে কিনা তা সনাক্ত করে দরকারি ব্যবস্থা নিন।

    তথ্যসূত্রঃ টিংটংটিউবহেলথ

  • দেশের সম্পদ বিক্রি করে ক্ষমতায় আসতে চাই না: প্রধানমন্ত্রী

    দেশের সম্পদ বিক্রি করে ক্ষমতায় আসতে চাই না: প্রধানমন্ত্রী

    হ্যালো বাংলা ডেস্ক: প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, কারও কাছে দেশের সম্পদ বিক্রি করে ক্ষমতায় আসতে চাই না। এখন যদি বলি সেন্টমার্টিন দ্বীপ কারও কাছে লিজ দেবো, তাহলে ক্ষমতা থাকার কোনো অসুবিধা নেই। আমার দ্বারা এটা হবে না। আমার দেশের মানুষের ভাগ্য নিয়ে কাউকে খেলতে দেব না।

    আজ বুধবার (২১ জুন) দুপুরে গণভবনে সুইজারল্যান্ড সফর সম্পর্কে গণমাধ্যমকে অবহিত করতে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন।

    শেখ হাসিনা বলেন, ২০০১ সালে বিএনপি গ্যাস বিক্রির মুচলেকা দিয়ে ক্ষমতায় এসেছিল। ফলে এখন তারা দেশ বিক্রি করবে না কি সেন্টমার্টিন দ্বীপ বিক্রির মুচলেকা দিয়ে আসতে চায়? আমি এটুকু বলতে পারি, আমি জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুরের কন্যা, আমার হাত দিয়ে এই দেশের কোনো সম্পদ কারো কাছে বিক্রি করে আমি ক্ষমতায় আসতে চাই না। গ্যাস বিক্রির মুচলেকা দিলে আমিও ক্ষমতায় থাকতে পারতাম। আর এখনও যদি বলি, ওই সেন্টমার্টিন দ্বীপ কারো কাছে লিজ দেব, তাহলে আমার ক্ষমতায় থাকার কোনো অসুবিধা নাই, আমি জানি তো সেটা। কিন্তু আমার দ্বারা সেটা হবে না।

    তিনি বলেন, আমার দেশের মানুষের ভাগ্য নিয়ে আমি কাউকে খেলতে দেব না। আমাদের দেশের মানুষের ভাগ্য নিয়ে ছিনিমিনি খেলার অধিকার কারো নাই। আর আমার দেশের মাটি ব্যবহার করে কোনো জায়গায় কোনো সন্ত্রাসী, কর্মকাণ্ড চালাবে, কাউকে আঘাত করবে, ধরনের কাজ আমরা হতে দেবো না।

    প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমরা শান্তিতে বিশ্বাস করি, আমরা শান্তিপূর্ণ সহযোগিতায় বিশ্বাস করি। এমনি মিয়ানমার থেকে যে ১০ লাখের মতো রিফিউজি এসেছে তাতে তো আমরা মিয়ানমারের সঙ্গে ঝগড়া করিনি। এরা যাতে ফেরত যায় তার জন্য আমরা চেষ্টা চালাচ্ছি, আন্তর্জাতিক পর্যায়ে অনুরোধ করছি, কিন্তু আমরা তো ঝগড়া বা যুদ্ধ করতে যাইনি। আমরা সবার সঙ্গে বন্ধুত্ব, কারো সঙ্গে বৈরিতা নয়, এই নীতিতে বিশ্বাস করি, সেটাই মেনে চলি।

    শেখ হাসিনা বলেন, যেহেতু আমাদের গণতন্ত্র ওয়েস্ট মিনিস্টার ডেমোক্রেসি টাইপের। ঠিক ইংল্যান্ড অন্যান্য জায়গায় যেভাবে নির্বাচনটা হয় ঠিক সেভাবেই আমাদের এখানে নির্বাচন হবে। যে তত্ত্বাবধায়ক সরকার সম্পর্কে খালেদা জিয়াই বলেছিল, যে পাগল আর শিশু ছাড়া কেউ নিরপেক্ষ নাই। এখন তারা আবার সেটা চায়, এই পদ্ধতিটা তারাই নষ্ট করেছে। তারাই নিজেরা না করে দিয়েছে সেইটাকেই তারা আবার ফেরত চাচ্ছে। অথচ উচ্চ আদালতের রায় আছে এবং সেই মোতাবেক আমাদের সংবিধানও সংশোধন করা হয়েছে যে একজন নির্বাচিত প্রধানমন্ত্রী বা সরকার প্রধান আরেকজন নির্বাচিত সরকার প্রধান দ্বারাই প্রতিস্থাপিত হবে। এর বাইরে অনির্বাচিত কেউ আসতে পারবে না।

    তিনি আরও বলেন, দীর্ঘ সাড়ে ১৪ বছর বাংলাদেশ যে সুষ্ঠুভাবে চলছে, আর্থসামাজিক উন্নতি হচ্ছে সেটাকে নষ্ট করা। দেশবাসী এটা কীভাবে নেবে সেটাই আমার প্রশ্ন। তারা কী গণতান্ত্রিক ধারাবাহিকতা চান, অর্থনৈতিক উন্নতি চান, দেশের মানুষের কল্যাণ চান, নাকি আবার সেই ২০০৭ সালের মতো তত্ত্বাবধায়ক সরকার, আবার সেই ইমার্জেন্সি, আবার সেই ধরপাকড় সেইগুলো চান। এটা দেশের মানুষকেই বিবেচনা করতে হবে।

    তিনি বলেন, বিএনপিজামায়াত নির্বাচন বানচাল করার জন্য যেভাবে অগ্নিসংযোগ করেছে, ৩৮০০ গাড়ি পুড়িয়েছে, তিন হাজারের ওপর মানুষকে পুড়িয়েছে। কত মানুষ এখনও পঙ্গু হয়ে আছে, কত পরিবার ধ্বংস হয়ে আছে, জ্বালাও পোড়াও করে মানুষের যে ক্ষতি করেছে মানুষ তা ভুলে যাবে?

  • ঘরোয়া বিফ রেজালা

    ঘরোয়া বিফ রেজালা

    আসছে মুসলিম উম্মাহ’র আরেক উৎসব। এই ঈদেও আমরা আমাদের সাধ‍্যমতো চেষ্টা করি মেহমান আপ‍্যায়ন করতে।  এবারের ঈদে তাই আমার এই রেসিপিটা ও আপনি আপনার টেবিলে রাখতে পারেন। আমার রেসিপির নাম ঘরোয়া বিফ রেজালা।

    উপকরণ: গরুর মাংস-১ কেজি, আদাও রসুন বাটা-১টেবিল চামচ করে, হলুদগুঁড়া- ২ চা চামচ, মরিচগুঁড়া-২ চা চামচ, ধনেগুঁড়া-২ চা চামচ, জিরাগুঁড়া- ২চা চামচ, পেয়াজ-২ টা বড়, কাচামরিচ-৫/৬ টা, এলাচ-৪ টা, দারচিনি-২ টুকরা, তেজপাতা-২ টা, তেল-হাফকাপ, বাদামবাটা-২ চা চামচ, বেরেস্তাবাটা-২ চা চামচ, টক দৈ-৪ চা চামচ, জায়ফল বাটা-হাফ চা চামচ, জৈত্রি বাটা-            হাফ চা চামচ, গুড়াদুধ-১ টেবিল চামচ, ঘি-১ টেবিল চামচ

    ঘরোয়া বিফ রেজালা

    প্রস্তুত প্রণালি: মাংস পরিষ্কার করে কেটে ধুয়ে ১ টি পাত্রে রাখতে হবে। তারপর  উল্লেখ্যিত  মসলা সব  দিয়ে ভালো ভাবে হাত মেখে নিন। তারপর চুলায় দিতে হবে। ভালো করে কষানোর পর তেল উপরে আসলে বাদাম বাটা বেরেস্তা বাটা ও টক দৈ দিয়ে দিন। আবার ভালো ভাবে নেড়ে দিতে হবে এবং কষাবো তারপর  তেল উপরে আসলে পরিমাণ মতো গরম পানি দিব। সিদ্ধ না হওয়া পর্যন্ত চুলায় থাকবে।  এরপর নিজের পছন্দ অনুযায়ী ঝোল রেখে তাতে দুধ ও ঘি দিয়ে নামিয়ে নিয়ে গরম গরম  পরিবেশন করুন দারুণ মজার ঘরোয়া বিফ রেজালা।

    রেসিপি দিয়েছেন: মাহফুজা মজুমদার।

  • শিল্পকলায় শিশুতোষ গীতি আলেখ্য ‘ওরা অকারণে চঞ্চল’অনুষ্ঠিত

    শিল্পকলায় শিশুতোষ গীতি আলেখ্য ‘ওরা অকারণে চঞ্চল’অনুষ্ঠিত

    হ্যালো বাংলা ডেস্ক: গতকাল মঙ্গলবার সন্ধ্যায় বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির আয়োজনে ও প্রযোজনা বিভাগের ব্যবস্থাপনায় শিশুশিল্পীদের পরিবেশনায় অনুষ্ঠিত হয়েছে গীতি আলেখ্য ‘ওরা অকারণে চঞ্চল’। বাংলা সাহিত্যের প্রধানতম লেখকদের মধ্যে অন্যতম পাঁচজন কবি যাঁরা গান ও সুরে বাংলা গানকে সমৃদ্ধ করেছেন তাদেঁর রচিত কিছু গান ও গানের সাথে নৃত্য দিয়ে সাজানো এই অনুষ্ঠান।

    শিশুদের উদ্দেশ্যে সংক্ষিপ্ত বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির মহাপরিচালক ও শিশুবন্ধু জনাব লিয়াকত আলী লাকী। তিনি বলেন- ‘আমাদের মোট জনগোষ্ঠির ৪৫ ভাগই শিশু, শিশুদের জন্য আমরা নানামুখী কার্যক্রম পরিচালনা করছি’। পরে নতুন পূর্ণাঙ্গ একটি শিশু বিভাগ করার ঘোষণা দেন মহাপরিচালক।

    শিল্পকলায় শিশুতোষ গীতি আলেখ্য ‘ওরা অকারণে চঞ্চল’অনুষ্ঠিততিনি আরো বলেন- “শিশুরা চঞ্চল, শিশুমনের এই চাঞ্চল্যই জরুরি, যা তাদের দ্রুত জ্ঞানার্জনে সহায়তা করে থাকে। এই শিশুতোষ আয়োজনের মধ্য দিয়ে আমরা যাদেঁর গান শুনবো তাদেঁর সৃষ্টিকর্মের প্রতি শিশুদের আগ্রহ তৈরী ও সৃষ্টিশীল মনন তৈরীর লক্ষ্যেই এ আয়োজন”।

    অনুষ্ঠানে সংক্ষিপ্ত বক্তব্য উপস্থাপন করেন প্রযোজনা বিভাগের পরিচালক সোহাইলা আফসানা ইকো।

    পঞ্চকবি যাদেঁর লেখনীতে শিশু ভাবনা, কল্পনা ও আকাঙ্খার অধিকতর প্রতিফলন হয়েছে–কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, দ্বিজেন্দ্রলাল রায়, রজনীকান্ত সেন, অতুল প্রসাদ সেন, জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের রচিত গান ও নৃত্য দিয়ে সাজানো অনুষ্ঠানমালা গীতিআলেখ্য ‘ওরা অকারণে চঞ্চল’পরিবেশন করে বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির শিশুদল।

  • এজবাস্টনে অ্যাশেজের প্রথম টেস্টে রোমাঞ্চকর জয় অস্ট্রেলিয়ার

    এজবাস্টনে অ্যাশেজের প্রথম টেস্টে রোমাঞ্চকর জয় অস্ট্রেলিয়ার

    হ্যালো বাংলা ডেস্ক: এজবাস্টনে অ্যাশেজের প্রথম টেস্টে অস্ট্রেলিয়ার জয় ২ উইকেটে। ২৮১ রানের লক্ষ্য তারা ছুঁয়ে ফেলে শেষ দিনের ৫.৩ ওভার বাকি থাকতে।  টেস্টের পঞ্চম দিনের প্রথম সেশন বৃষ্টিতে ভেসে যাওয়ার পরও রোমাঞ্চ ছড়িয়েছে ম্যাচটিতে। এক প্রান্তে মাটি কামড়ে পড়ে থেকে দলকে টানলেন উসমান খাওয়াজা। ম্যাচ একটু একটু করে হেলে পড়ল অস্ট্রেলিয়ার দিকে। খাওয়াজাকে ফিরিয়েই আশা জাগাল ইংল্যান্ড। প্যাট কামিন্সের মহামূল্যবান এক ইনিংস ও ন্যাথান লায়নের সঙ্গে অসাধারণ নবম উইকেট জুটির নৈপুণ্যে রোমাঞ্চকর জয় পেল অস্ট্রেলিয়া। ৭৩ বলে ৪টি চার ও ২টি ছক্কায় অপরাজিত ৪৪ রানের ইনিংস খেলে দলের জয় নিয়ে ফেরেন অস্ট্রেলিয়া অধিনায়ক।

    ৯ নম্বরে কামিন্স যখন ক্রিজে যান, তখনও জয় থেকে ৭২ রান দূরে অস্ট্রেলিয়া। অ্যালেক্স কেয়ারি অষ্টম ব্যাটসম্যান হিসেবে ফেরার সময় তাদের দরকার ছিল ৫৪ রান। লায়নের সঙ্গে অবিচ্ছিন্ন ৫৫ রানের জুটিতে দলকে কাঙ্ক্ষিত ঠিকানায় পৌঁছে দেন কামিন্স।

    জয়ের ভিতটা গড়ে দেন অবশ্য খাওয়াজা। প্রথম ইনিংসে ৩২১ বলে ১৪১ রান করা ওপেনার এবার ১৯৭ বলে ৭ চারে খেলেন ৬৫ রানের ইনিংস।

    এজবাস্টনে যৌথভাবে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ রান তাড়ায় জয় এটি। গত বছর সর্বোচ্চ ৩৭৮ রানের লক্ষ্য তাড়ায় ইংল্যান্ড হারিয়েছিল ভারতকে।

    বার্মিংহামে মঙ্গলবার শেষ দিনে অস্ট্রেলিয়ার দরকার ছিল ১৭৪ রান, ইংল্যান্ডের ৭ উইকেট। বৃষ্টিতে প্রথম সেশন ভেস্তে যাওয়ার পর খেলা শুরু হয় স্থানীয় সময় দুপুর সোয়া দুইটায়। দিনের সম্ভাব্য ৬৭ ওভার বাকি তখন।

    আগের দিন মার্নাস লাবুশেন ও স্টিভেন স্মিথকে বিদায় করে ইংল্যান্ডকে লড়াইয়ে ফেরানো স্টুয়ার্ট ব্রড শেষ দিন বেশিদূর যেতে দেননি ‘নাইটওয়াচম্যান’ স্কট বোল্যান্ডকে। অফ স্টাম্পের বাইরের বলে ড্রাইভ করে কিপারের গ্লাভসে ক্যাচ দিয়ে ফেরেন তিনি ২০ রান করে।

    এক প্রান্তে ধৈর্যের প্রতিমূর্তি হয়ে ছিলেন খাওয়াজা। ট্রাভিস হেড প্রথম ১৩ বলে করেন ১ রান। পরে তার ব্যাট থেকেই আসে শেষ দিনে অস্ট্রেলিয়ার প্রথম বাউন্ডারি। কাটা আঙুল নিয়ে বোলিং করা মইন আলির তিন বলের মধ্যে তিনি মারেন আরও দুটি চার। ওই ওভারেই অফ স্পিনারের দারুণ ডেলিভারিতে স্লিপে ক্যাচ দেন বাঁহাতি ব্যাটসম্যান। অস্ট্রেলিয়ার দরকার তখনও ১৩৮ রান, ইংল্যান্ডের চাই ৫ উইকেট।

    শেষ দিনে খেলা প্রথম ৫০ বলে খাওয়াজা করেন স্রেফ ৭ রান। বাঁহাতি ব্যাটসম্যান পঞ্চাশ স্পর্শ করেন ১৪৩ বলে।

    ২০১২ সালে ভারতের বিপক্ষে রিকি পন্টিংয়ের পর প্রথম অস্ট্রেলিয়ান ব্যাটসম্যান হিসেবে কোনো টেস্টে ৫০০ বা এর বেশি বল খেললেন খাওয়াজা, ৫১৮ বল। এজবাস্টনে যৌথভাবে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ রান তাড়ায় জয় এটি। গত বছর সর্বোচ্চ ৩৭৮ রানের লক্ষ্য তাড়ায় ইংল্যান্ড হারিয়েছিল ভারতকে।

    ৩৪ বছরের মধ্যে প্রথম অস্ট্রেলিয়ান ওপেনার হিসেবে দেশের বাইরে অ্যাশেজের কোনো টেস্টে সেঞ্চুরি ও ফিফটি করলেন খাওয়াজা। তার আগে সবশেষ এমন কিছু করে দেখিয়েছিলেন মার্ক টেইলর। ১৯৮৯ সালে লিডসে ১৩৬ ও ৬০ রানের ইনিংস খেলেছিলেন তিনি।  ক্যামেরন গ্রিনের সঙ্গে খাওয়াজার অবিচ্ছিন্ন ৪০ রানের জুটিতে চা-বিরতিতে যায় অস্ট্রেলিয়া। শেষ সেশনে ৩৮ ওভারে দরকার ছিল ৯৮ রান।  বিরতির পর গ্রিনকে ফিরিয়ে ৪৯ রানের জুটি ভাঙার পাশাপাশি আবার লড়াই জমিয়ে তোলেন অলি রবিনসন। অ্যাঙ্গেলে ভেতরে ঢোকা বল স্টাম্পে টেনে আনেন ২৮ রান করা গ্রিন।  আক্রমণে এসে নিজের দ্বিতীয় ওভারে খাওয়াজাকে থামান বেন স্টোকস। স্লোয়ার বল বাঁহাতি ওপেনারও টেনে টানেন স্টাম্পে।  তখনও অস্ট্রেলিয়ার দরকার ৭২ রান।  এরপর দলকে এগিয়ে নেন অ্যালেক্স কেয়ারি ও প্যাট কামিন্স।

    ৮০ ওভারের পর নতুন বল না নিয়ে পুরনো বলেই চালিয়ে যায় ইংল্যান্ড। তাতেই মেলে আরেকটি সাফল্য। এই ওভারে রুটকে ফিরতি ক্যাচ দিয়ে বিদায় নেন কেয়ারি।  সেখান থেকে কামিন্স ও লায়নের ওই জুটি।

    রুটের এক ওভারে কামিন্সের দুই ছক্কায় আবার জমে ওঠে লড়াই। পরের ওভারে লায়নের কঠিন ক্যাচ নিতে পারেননি স্টোকস।  এরপর একটু একটু করে দলকে জয়ের বন্দরে নিয়ে যান কামিন্স ও লায়ন। দরকার যখন আর ৩ রান, রবিনসনের অফ স্টাম্পের বল থ্যার্ড ম্যান দিয়ে খেলেন কামিন্স, ফিল্ডার সীমানায় বল আটকাতে ব্যর্থ হওয়ার পর উল্লাসে মেতে ওঠে অস্ট্রেলিয়া শিবির।

    টেস্ট ম্যাচ শেষে নানা প্রশ্নের মুখোমুখি হতে হয়েছে। সত্যিই কি ভুল করেছিলেন বেন স্টোকস! ভুল করেছিলেন বার্মিংহ্যামে প্রথম দিন ডিক্লেয়ার করে!

    ভুল করেছিলেন অস্ট্রেলিয়ার দ্বিতীয় ইনিংসে ক্রমাগত মইন আলি ও জো রুটকে দিয়ে বল করিয়ে! ভুল করেছিলেন অফ স্টাম্পের বাইরে বল না করে অস্ট্রেলিয়ার ব্যাটারদের শরীর লক্ষ্য করে বল করার পরিকল্পনা করে! অ্যাশেজের প্রথম টেস্টে অস্ট্রেলিয়ার কাছে হারের পরে আরও বেশি করে আলোচনার কেন্দ্রে ইংল্যান্ডের খেলার পদ্ধতি। একটু বেশি আক্রমণাত্মক খেলতে গিয়েই কি ডুবতে হল ইংল্যান্ডকে? শর্ট ফরম্যাটের খেলার দাপটে হারিয়ে যেতে বসেছিলো টেস্ট ম্যাচ। এজবাস্টনে আবার টেস্ট ম্যাচ প্রাণ ফিরে পেয়েছে। তবে যাই হোক অনেকদিন পর একটি উপভোগ্য টেস্ট দেখলো দর্শকরা। বিশেষ ভাবে উসমান খাওয়াজার ইনিংসটি আলো ছড়িয়েছে।

    এই জয়েরে ফলে ৫ ম্যাচের সিরিজে প্রথমটির পর ১-০তে এগিয়ে অস্ট্রেলিয়া ।

    সংক্ষিপ্ত স্কোর:

    ইংল্যান্ড ১ম ইনিংস: ৩৯৩/৮ ডিক্লে.

    অস্ট্রেলিয়া ১ম ইনিংস: ৩৮৬

    ইংল্যান্ড ২য় ইনিংস: ২৭৩

    অস্ট্রেলিয়া ২য় ইনিংস: (লক্ষ্য ২৮১) (আগের দিন ১০৭/৩) ৯২.৩ ওভারে ২৮২/৮ (খাওয়াজা ৬৫, বোল্যান্ড ২০, হেড ১৬, গ্রিন ২৮, কেয়ারি ২০, কামিন্স ৪৪*, লায়ন ১৬*; অ্যান্ডারসন ১৭-১-৫৬-০, ব্রড ২১-৩-৬৪-৩, রবিনসন ১৮.৩-৭-৪৩-২, মইন ১৪-২-৫৭-১, রুট ১৫-২-৪৩-১, স্টোকস ৭-২-৯-১)

    ম্যান অন দা ম্যাচ: উসমান খাওয়াজা

  • কোস্ট গার্ডের বহরে পাঁচটি অত্যাধুনিক জাহাজ কমিশন করেছেন প্রধানমন্ত্রী

    কোস্ট গার্ডের বহরে পাঁচটি অত্যাধুনিক জাহাজ কমিশন করেছেন প্রধানমন্ত্রী

    হ্যালো বাংলা ডেস্ক: স্মার্ট বাংলাদেশে রূপান্তরে প্রতিটি বাহিনীকে প্রযুক্তি ও দক্ষতা নির্ভর করে গড়ে তোলায় প্রক্রিয়ায় বাংলাদেশ কোস্ট গার্ডের অত্যাধুনিক দুইটি জাহাজ, দুইটি টাগবোট ও একটি ভাসমান ক্রেন কমিশনিং করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

    আজ বুধবার (২১ জুন) গণভবন থেকে ভিডিও কনফারেন্সে এসব নৌযান উদ্বোধন করেন তিনি।

    প্রধানমন্ত্রী বলেন, “ভবিষ্যতে এর দায়িত্ব আরও বাড়বে। সেদিকে লক্ষ্য রেখে বিশ্বমানের করে গড়ে তোলা হচ্ছে কোস্ট গার্ডকে। ২০৪১ সালের মধ্যে কোস্ট গার্ড হবে নিজস্ব জনবলে স্বয়ংসম্পূর্ণ একটি স্মাট বাহিনী।”

    দেশপ্রেমে উদ্ধুদ্ধ হয়ে সার্বভৌমত্ব রক্ষায় কোস্ট গার্ডকে দায়িত্ব পালনের আহ্বান জানিয়ে সরকারপ্রধান বলেন, “২০৪১ সালের মধ্যে বাংলাদেশকে আমরা স্মার্ট বাংলাদেশে রূপান্তর করতে চাই, সে কারণে প্রতিটি বাহিনী প্রযুক্তি দক্ষতা নির্ভর আন্তর্জাতিক মানসম্পন্ন বাহিনী হবে।

    “আমরা এবার ক্ষমতায় আসার পর গেল ১৪ বছরে কোস্ট গার্ডের বহরে সংযুক্ত হয়েছে ১৫৪টি আধুনিক নৌযান। ২০২৬ থেকে ২০৩০ সাল পর্যন্ত এই বাহিনীতে সকল আবহাওয়া এবং গভীর সমুদ্র চলাচলের উপযোগী আরও কয়েকটি জাহাজ সংযোজন করে দিয়ে এ বাহিনীকে আরও শক্তিশালী করা হবে। ২০৩১ থেকে ২০৪১ সালের মধ্যে কোস্ট গার্ড হবে নিজস্ব জনশক্তিতে সম্পূর্ণ একটি স্মার্ট বাহিনী।”

    প্রধানমন্ত্রী বলেন, “বাংলাদেশের মানুষের ভাগ্য পরিবর্তন করা, দুঃখী মানুষের মুখে হাসি ফোটানো, বাঙালি জাতিকে উন্নত জীবনধারা এটাই ছিল বঙ্গবন্ধুর একমাত্র লক্ষ্য। সেই লক্ষ্য নিয়ে তিনি সারাজীবন আন্দোলন সংগ্রাম করেন।

    “আমাদের রাজনৈতিক অধিকার, সামাজিক অধিকার, অর্থনৈতিক অধিকার, আমাদের সংস্কৃতি অধিকারের জন্য তার সংগ্রাম। ১৯৬৫ সালে ভারত-পাকিস্তান যুদ্ধ হয়, বাংলাদেশ অরক্ষিত ছিল। ৬৬ সালে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব ছয় দফা দাবি উত্থাপন করেন।”

    বাংলাদেশ সরকারের বর্তমান প্রধানমন্ত্রী ১৯৯৪ সালে বিরোধী দলে থাকা অবস্থায় ‘বাংলাদেশ কোস্ট গার্ড বিল’ উত্থাপন করেন। যার ধারাবাহিকতায় ১৯৯৫ সালের ১৪ ফেব্রুয়ারি এ বাহিনীর যাত্রা শুরু হয়।

    এই পাঁচটি নৌযানের মধ্যে নৌবাহিনীর তত্ত্বাবধানে পরিচালিত সরকারী প্রতিষ্ঠান নারায়ণগঞ্জ ডকইয়ার্ড অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং ওয়ার্কস লিমিটেডে নির্মাণ করা হয়েছে দুটি ইনসোর প্যাট্রল জাহাজ। এগুলো হচ্ছে- বিসিজিএস জয় বাংলা, বিসিজিএস অপূর্ব বাংলা।

    তিনি নতুন অত্যাধুনিক জাহাজের অন্তর্ভুক্তি চিহ্নিত করার জন্য পাঁচটি পৃথক ফলক উন্মোচন করেন।

    বিসিজি পতেঙ্গা বার্থ প্রাঙ্গণে কমিশনিং অনুষ্ঠানে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল ও জননিরাপত্তা বিভাগের সিনিয়র সচিব মো. মুস্তাফিজুর রহমান উপস্থিত ছিলেন।

    কমিশনিং প্যারেড শেষে বিসিজি মহাপরিচালক রিয়ার এডমিরাল আশরাফুল হক চৌধুরী অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য রাখেন।

    বিসিজি বহরে নতুন যুক্ত হওয়া জাহাজের একটি অডিওভিজ্যুয়াল প্রদর্শন করা হয়।

    বিসিজির মহাপরিচালক রিয়ার অ্যাডমিরাল আশরাফুল হক চৌধুরী প্রধানমন্ত্রীর পক্ষে বিসিজি পতেঙ্গা বার্থে আনুষ্ঠানিকভাবে জাহাজগুলোর কমিশনিং ফরমান (বিবৃতি) নিজ নিজ অধিনায়কের কাছে হস্তান্তর করেন।

    পাঁচটি জাহাজের মধ্যে দু’টি অভ্যন্তরীণ টহল জাহাজ ‘বিসিজিএস জয় বাংলা’ এবং ‘বিসিজিএস অপূর্ব বাংলা’ তৈরি করেছে নারায়ণগঞ্জের রাষ্ট্রায়ত্ত ডকইয়ার্ড অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং ওয়ার্কস লিমিটেড এবং দ’টি টাগবোট ‘বিসিজিটি প্রত্যয়’ এবং ‘বিসিজিটি প্রমত্ত’ এবং ভাসমান ক্রেন ‘বিসিজিএফসি শক্তি’ তৈরি করেছে রাষ্ট্রায়ত্ত খুলনা শিপইয়ার্ড।

    মঙ্গলবার এক ব্রিফিংয়ে ‘বিসিজিএস জয় বাংলা’-এর ক্যাপ্টেন লেফটেন্যান্ট কমান্ডার মো. জিয়া উদ্দিন বলেন, নতুন জাহাজগুলোতে অত্যাধুনিক যন্ত্রপাতি, সেন্সর এবং নজরদারি রাডার রয়েছে।

    তিনি বলেন, এই পাঁচটি জাহাজ চালু হলে বিসিজির অপারেশনাল কার্যক্রম ত্বরান্বিত হবে এবং বহির্নোঙরে বাণিজ্যিক জাহাজে চুরি রোধ, সমুদ্রপথে মানব ও মাদক পাচার নিয়ন্ত্রণ, ব্লু- ইকোনমি সীমান্তে টহল বৃদ্ধি পাবে। প্রাকৃতিক দুর্যোগ এবং সামুদ্রিক দুর্ঘটনার ক্ষেত্রে উদ্ধার অভিযান পরিচালনা সহজ হবে।

    তিনি বলেন, সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ বাঙালি এবং জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের দূরদৃষ্টির কারণে বাংলাদেশের নিজস্ব সামুদ্রিক এলাকার দাবি সন্নিবেশিত করে ‘টেরিটোরিয়ল ওয়াটারস অ্যান্ড মেরিটাইম জোনস অ্যাক্ট, ১৯৭৪’ প্রণয়ন করা হয়েছে।

    বিসিজি কর্মকর্তাদের মতে, বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ হাসিনা ১৯৯৪ সালে সংসদে ‘বাংলাদেশ কোস্ট গার্ড বিল’ উত্থাপন করেন যখন তিনি সংসদে বিরোধীদলীয় নেতা ছিলেন। তার প্রস্তাব অনুসরণ করে, বিসিজি ১৪ ফেব্রুয়ারি ১৯৯৫ সালে প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল।

    পরবর্তীতে, বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নির্দেশে বিসিজিতে নতুন প্ল্যাটফর্ম এবং অবকাঠামোগত উন্নয়ন যুক্ত করা হয়, যা বাহিনীর অপারেশনাল কার্যক্রমকে ত্বরান্বিত করে এবং ব্যাপক সাফল্য লাভ করে।