কোস্ট গার্ডের বহরে পাঁচটি অত্যাধুনিক জাহাজ কমিশন করেছেন প্রধানমন্ত্রী

কোস্ট গার্ডের বহরে পাঁচটি অত্যাধুনিক জাহাজ কমিশন করেছেন প্রধানমন্ত্রী

হ্যালো বাংলা ডেস্ক: স্মার্ট বাংলাদেশে রূপান্তরে প্রতিটি বাহিনীকে প্রযুক্তি ও দক্ষতা নির্ভর করে গড়ে তোলায় প্রক্রিয়ায় বাংলাদেশ কোস্ট গার্ডের অত্যাধুনিক দুইটি জাহাজ, দুইটি টাগবোট ও একটি ভাসমান ক্রেন কমিশনিং করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

আজ বুধবার (২১ জুন) গণভবন থেকে ভিডিও কনফারেন্সে এসব নৌযান উদ্বোধন করেন তিনি।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, “ভবিষ্যতে এর দায়িত্ব আরও বাড়বে। সেদিকে লক্ষ্য রেখে বিশ্বমানের করে গড়ে তোলা হচ্ছে কোস্ট গার্ডকে। ২০৪১ সালের মধ্যে কোস্ট গার্ড হবে নিজস্ব জনবলে স্বয়ংসম্পূর্ণ একটি স্মাট বাহিনী।”

দেশপ্রেমে উদ্ধুদ্ধ হয়ে সার্বভৌমত্ব রক্ষায় কোস্ট গার্ডকে দায়িত্ব পালনের আহ্বান জানিয়ে সরকারপ্রধান বলেন, “২০৪১ সালের মধ্যে বাংলাদেশকে আমরা স্মার্ট বাংলাদেশে রূপান্তর করতে চাই, সে কারণে প্রতিটি বাহিনী প্রযুক্তি দক্ষতা নির্ভর আন্তর্জাতিক মানসম্পন্ন বাহিনী হবে।

“আমরা এবার ক্ষমতায় আসার পর গেল ১৪ বছরে কোস্ট গার্ডের বহরে সংযুক্ত হয়েছে ১৫৪টি আধুনিক নৌযান। ২০২৬ থেকে ২০৩০ সাল পর্যন্ত এই বাহিনীতে সকল আবহাওয়া এবং গভীর সমুদ্র চলাচলের উপযোগী আরও কয়েকটি জাহাজ সংযোজন করে দিয়ে এ বাহিনীকে আরও শক্তিশালী করা হবে। ২০৩১ থেকে ২০৪১ সালের মধ্যে কোস্ট গার্ড হবে নিজস্ব জনশক্তিতে সম্পূর্ণ একটি স্মার্ট বাহিনী।”

প্রধানমন্ত্রী বলেন, “বাংলাদেশের মানুষের ভাগ্য পরিবর্তন করা, দুঃখী মানুষের মুখে হাসি ফোটানো, বাঙালি জাতিকে উন্নত জীবনধারা এটাই ছিল বঙ্গবন্ধুর একমাত্র লক্ষ্য। সেই লক্ষ্য নিয়ে তিনি সারাজীবন আন্দোলন সংগ্রাম করেন।

“আমাদের রাজনৈতিক অধিকার, সামাজিক অধিকার, অর্থনৈতিক অধিকার, আমাদের সংস্কৃতি অধিকারের জন্য তার সংগ্রাম। ১৯৬৫ সালে ভারত-পাকিস্তান যুদ্ধ হয়, বাংলাদেশ অরক্ষিত ছিল। ৬৬ সালে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব ছয় দফা দাবি উত্থাপন করেন।”

বাংলাদেশ সরকারের বর্তমান প্রধানমন্ত্রী ১৯৯৪ সালে বিরোধী দলে থাকা অবস্থায় ‘বাংলাদেশ কোস্ট গার্ড বিল’ উত্থাপন করেন। যার ধারাবাহিকতায় ১৯৯৫ সালের ১৪ ফেব্রুয়ারি এ বাহিনীর যাত্রা শুরু হয়।

এই পাঁচটি নৌযানের মধ্যে নৌবাহিনীর তত্ত্বাবধানে পরিচালিত সরকারী প্রতিষ্ঠান নারায়ণগঞ্জ ডকইয়ার্ড অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং ওয়ার্কস লিমিটেডে নির্মাণ করা হয়েছে দুটি ইনসোর প্যাট্রল জাহাজ। এগুলো হচ্ছে- বিসিজিএস জয় বাংলা, বিসিজিএস অপূর্ব বাংলা।

তিনি নতুন অত্যাধুনিক জাহাজের অন্তর্ভুক্তি চিহ্নিত করার জন্য পাঁচটি পৃথক ফলক উন্মোচন করেন।

বিসিজি পতেঙ্গা বার্থ প্রাঙ্গণে কমিশনিং অনুষ্ঠানে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল ও জননিরাপত্তা বিভাগের সিনিয়র সচিব মো. মুস্তাফিজুর রহমান উপস্থিত ছিলেন।

কমিশনিং প্যারেড শেষে বিসিজি মহাপরিচালক রিয়ার এডমিরাল আশরাফুল হক চৌধুরী অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য রাখেন।

বিসিজি বহরে নতুন যুক্ত হওয়া জাহাজের একটি অডিওভিজ্যুয়াল প্রদর্শন করা হয়।

বিসিজির মহাপরিচালক রিয়ার অ্যাডমিরাল আশরাফুল হক চৌধুরী প্রধানমন্ত্রীর পক্ষে বিসিজি পতেঙ্গা বার্থে আনুষ্ঠানিকভাবে জাহাজগুলোর কমিশনিং ফরমান (বিবৃতি) নিজ নিজ অধিনায়কের কাছে হস্তান্তর করেন।

পাঁচটি জাহাজের মধ্যে দু’টি অভ্যন্তরীণ টহল জাহাজ ‘বিসিজিএস জয় বাংলা’ এবং ‘বিসিজিএস অপূর্ব বাংলা’ তৈরি করেছে নারায়ণগঞ্জের রাষ্ট্রায়ত্ত ডকইয়ার্ড অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং ওয়ার্কস লিমিটেড এবং দ’টি টাগবোট ‘বিসিজিটি প্রত্যয়’ এবং ‘বিসিজিটি প্রমত্ত’ এবং ভাসমান ক্রেন ‘বিসিজিএফসি শক্তি’ তৈরি করেছে রাষ্ট্রায়ত্ত খুলনা শিপইয়ার্ড।

মঙ্গলবার এক ব্রিফিংয়ে ‘বিসিজিএস জয় বাংলা’-এর ক্যাপ্টেন লেফটেন্যান্ট কমান্ডার মো. জিয়া উদ্দিন বলেন, নতুন জাহাজগুলোতে অত্যাধুনিক যন্ত্রপাতি, সেন্সর এবং নজরদারি রাডার রয়েছে।

তিনি বলেন, এই পাঁচটি জাহাজ চালু হলে বিসিজির অপারেশনাল কার্যক্রম ত্বরান্বিত হবে এবং বহির্নোঙরে বাণিজ্যিক জাহাজে চুরি রোধ, সমুদ্রপথে মানব ও মাদক পাচার নিয়ন্ত্রণ, ব্লু- ইকোনমি সীমান্তে টহল বৃদ্ধি পাবে। প্রাকৃতিক দুর্যোগ এবং সামুদ্রিক দুর্ঘটনার ক্ষেত্রে উদ্ধার অভিযান পরিচালনা সহজ হবে।

তিনি বলেন, সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ বাঙালি এবং জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের দূরদৃষ্টির কারণে বাংলাদেশের নিজস্ব সামুদ্রিক এলাকার দাবি সন্নিবেশিত করে ‘টেরিটোরিয়ল ওয়াটারস অ্যান্ড মেরিটাইম জোনস অ্যাক্ট, ১৯৭৪’ প্রণয়ন করা হয়েছে।

বিসিজি কর্মকর্তাদের মতে, বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ হাসিনা ১৯৯৪ সালে সংসদে ‘বাংলাদেশ কোস্ট গার্ড বিল’ উত্থাপন করেন যখন তিনি সংসদে বিরোধীদলীয় নেতা ছিলেন। তার প্রস্তাব অনুসরণ করে, বিসিজি ১৪ ফেব্রুয়ারি ১৯৯৫ সালে প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল।

পরবর্তীতে, বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নির্দেশে বিসিজিতে নতুন প্ল্যাটফর্ম এবং অবকাঠামোগত উন্নয়ন যুক্ত করা হয়, যা বাহিনীর অপারেশনাল কার্যক্রমকে ত্বরান্বিত করে এবং ব্যাপক সাফল্য লাভ করে।

পূর্ববর্তী আলি ফজলের ‘কান্দাহার’ আমেরিকার পর আসছে ভারতে
পরবর্তী এজবাস্টনে অ্যাশেজের প্রথম টেস্টে রোমাঞ্চকর জয় অস্ট্রেলিয়ার