Author: Hello Bangla News

  • চ্যাট জিপিটি

    চ্যাট জিপিটি

    আপনি চাইলেই আর একা থাকতে পারবেনা বা আপনার কেউ নেই এমনটা ভাববার দিন শেষ। হ্যাঁ বিজ্ঞানের আর্টিফিসিয়াল ইনটেলিজেন্স বা কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা আপনাকে আর একা থাকতে দিচ্ছে না এমনকি কোনো কাজ আপনার না পারার ব্যর্থতাকে দক্ষতায় পরিপূর্ন করে দিবে। যেমন আপনার ক্লাসের যেকোন টপিকের এসাইমেন্ট মুহুর্তের ভেতর করে দেয়া থেকে শুরু করে রান্না-বান্না, কম্পিউটার প্রোগ্রামিং কোর্ডি, বেড়াতে যাওয়ার প্ল্যানিং পর্যন্ত করে দিতে পারে। আপনার মন খারাপ বা একটু গল্প করার মতো কাউকে পাচ্ছেন না তাহলে সমস্যা নেই আপনার পাশে না সাথেই আছে চ্যাট জিপিটি নামে এক আলাদীনের চেরাগ। চ্যাট জিপিটি আপনাকে এমন ভাবে সঙ্গ দিবে যে মজার জোক শোনানো থেকে শুরু করে কবিতা, গান, জটিল অঙ্কের সমাধানও করে দিবে। লিখে দেবে পাতার পর পাতা রচনা। এমনি চলিচ্চিত্র বা নাটকের স্ক্রিপ্টও লিখে দিবে। তা পড়ে কারও বোঝার সাধ্যি নেই যে সেটি আর্টিফিসিয়াল ইনটেলিজেন্সের লেখা। আপনার ইমেল কিংবা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে লেখালিখির কাজটাও করে দিতে পারে।

    চ্যাট জিপিটি একটি লার্জ ল্যাঙ্গুয়েজ মডেল যা তৈরি করেছে ওপেন এআই নামে একটি সংস্থা। এক কথায় এটা একটা আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স টুল। যা ব্যবহার করে এমন অনেক কাজ মুহূর্তে করা সম্ভব যা করতে আগে ঘণ্টার পর ঘণ্টা সময় লাগত। যেমন ধরুন আপনি কোনও নির্দিষ্ট বিষয়ে প্রতিবেদন লিখতে চান, তাহলে আপনাকে সেই কাজ করে দেবে এই এআই টুল। ২০২২ সালের নভেম্বরে যখন সবাই ফুটবল বিশ্বকাপ নিয়ে ব্যস্ত ঠিক তখনি ৩০ নভেম্বর ওপেন এআই প্রতিষ্ঠানটি চ্যাট জিপিটি উন্মুক্ত করে সারা বিশ্বে আলোড়ন ফেলে দেয়। মাত্র পাঁচদিনে দশ মিলিয়ন সাবক্রাইবে পৌঁছে যায়। যা ফেইসবুকের পৌঁছাতে সময় লেগেছিল দশ মাস। বর্তমানে জ্যামিতিক হারে বাড়ছে এর সংখ্যা। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার অনান্য সেবা বা পন্য থেকে এটি সর্ম্পূন আলাদা। আপনি প্রশ্ন করলেই আলাপচারিতার মাধ্যমে মানুষের মতো করেই জানিয়ে দিবে উত্তর। এমনকি আপনার করা প্রশ্নের ভালো উত্তরের জন্য তথ্য ভান্ডারের অনেক গভীরেও অন্সুন্ধান চালায়। ওপেন এআই বলছে,‘ চ্যাট জিপিটি আছে নানান বিষয়ের উপর বিপুল পরিমান তথ্য যা মানুষ মূহুতের্ই তার প্রয়োজন অনুযায়ী পেয়ে যায়। কিন্তু আপনি যদি আবল তাবল বা ভুলভাল প্রশ্ন করেন সে ক্ষেত্রে আপনাকে প্রত্যাখানও করতে পারে চ্যাট জিপিটি।

    চ্যাট জিপিটি চালু হার পর থেকেই অনেকেই এর বিরোধীতা করতে শুরু করেছেন। এর সবচেয়ে খারাপ প্রভাব পড়বে শিক্ষার্থীদের উপর। ইতোমধ্যে আমেরিকার নিউ ইয়র্র্কের বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে তা নিষিদ্ধ করে নোটিশ জারি করা হয়েছে।

    চ্যাট জিপিটি হলো আর্টিফিসিয়াল ইন্টেলিজেন্স রিসার্চ কোম্পানি “এআই” দ্বারা তৈরি। এই প্রতিষ্ঠানের মূল উদ্দেশ্যই হলো নিরাপদ ও সুবিধাজনক আর্টিফিসিয়াল ইন্টেলিজেন্স সিস্টেম তৈরী করা বা তৈরী করতে অন্যদের সাহায্য করা। পূর্বে জিপিটি-৩ এর কারণে ওপেন এআই বেশ আলোচনায় আসে, যা “মানুষের মত করে” টেক্সট লিখতে পারতো। এরপর আসে ডিএএলএল-ই যার সাথে কমবেশি সবাই পরিচিত আছেন, যা যেকোনো ধরনের টেক্সট থেকে আর্ট জেনারেট করতে পারে। আর চ্যাট জিপিটি হলো উল্লেখিত সিস্টেমগুলোর আপডেট ভার্সন যেখানে এআই’কে বিশাল ল্যাংগুয়েজ মডেল দ্বারা ট্রেইন করা হয়। টেক্সট দ্বারা সহজে, দ্রুতও অটোমেটিক্যালি ট্রেইন করা যায় বলে ওপেনএআই এই মেথড বাছাই করেছে।

    “এআই” প্রতিষ্ঠাদের মধ্যে অন্যতম একটি নাম হলো এলেন মাস্ক। ২০১৫ সালে এলেন মাস্ক, সেন্ট এম্যান সহ মোট ছয়জন সহযোগী মিলে ওপেন এআই প্রতিষ্ঠা করেন। ২০১৮ সালে এলেন মাস্ক প্রতিষ্ঠান থেকে সরে আসেন। ২০১৯ সালে মাইক্রোসফটের প্রতিষ্ঠাতা বিল গেটস এক বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগ করেন ওপেন এআই।

  • চিনির আমদানি শুল্ক প্রত্যাহার করল এনবিআর

    চিনির আমদানি শুল্ক প্রত্যাহার করল এনবিআর

    সব ধরনের চিনি আমদানিতে শুল্ক প্রত্যাহার করেছে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। রবিবার (২৬ ফেব্রুয়ারি) এ সংক্রান্ত এক প্রজ্ঞাপনে বিষয়টি জানিয়েছে এনবিআর।

    অবিলম্বে এ সিদ্ধান্ত কার্যকর করা হবে বলে প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে। আমদানিকৃত অপরিশোধিত চিনির জন্য প্রতি টনে ৩ হাজার টাকা এবং পরিশোধিত চিনির জন্য প্রতি টনে ৬ হাজার টাকা আমদানি শুল্ক প্রত্যাহার করা হয়েছে। এ ছাড়া চিনি আমদানিতে নিয়ন্ত্রক শুল্ক ৩০ শতাংশ থেকে কমিয়ে ২৫ শতাংশ করা হয়েছে।

    আগামী ৩০ মে পর্যন্ত আমদানিকারকদের বিনা শুল্কে পরিশোধিত ও অপরিশোধিত চিনি খালাস করার সুবিধা দেওয়া হয়েছে প্রজ্ঞাপনে।

    আসন্ন রমজানে বাজারে চিনির দাম স্থিতিশীল রাখতে আমদানিতে শুল্ক হার যৌক্তিকীকরণের জন্য এনবিআরকে সুপারিশ করেছিল বাণিজ্য মন্ত্রণালয়। এ নিয়ে সংস্থাটিকে চিঠিও দেওয়া হলে চিনি আমদানিতে শুল্ক তুলে নিল এনবিআর।

  • রক্তে ভালো কোলেস্টেরল বাড়াতে যা খাবেন

    রক্তে ভালো কোলেস্টেরল বাড়াতে যা খাবেন

    রক্তে যে প্রোটিন আছে তার মধ্যে এই কোলেস্টেরল থাকে। রক্তের মাধ্যমে এটি শরীরে ঘুরে বেড়ায়। এই প্রোটিনকে বলা হয় লিপো প্রোটিন। এটা দুই রকমের; লো ডেনসিটি (কম ঘনত্বের) লিপোপ্রোটিন (এলডিএল) ও হাই ডেনসিটি (বেশি ঘনত্বের) লিপোপ্রোটিন (এইচডিএল)।এলডিএল : এলডিএল বা লো ডেনসিটি লিপোপ্রোটিনকে বলা হয় খারাপ কোলেস্টেরল। এই জাতীয় কোলেস্টেরল সহজেই মানবদেহের ধমনিগাত্রে জমা হতে পারে। এতে প্রোটিন কম ও ফ্যাট বেশি থাকে। কারো রক্তে এই ধরনের কোলেস্টেরল যত কম থাকবে, অ্যাথেরোসকেরেসিস, হার্ট অ্যাটাক, স্ট্রোক ও অন্যান্য জটিলতা থেকে তিনি তত বেশি রক্ষা পাবেন।

    এমন কিছু খাবার আছে, যা খেলে রক্তে ভালো কোলেস্টেরল বাড়বে এবং খারাপ কোলেস্টেরল কমবে। এই খাবারগুলো সম্পর্কে জেনে নিতে পারেন।♦ যেকোনো রকমের ডাল বা ছোলা রোজ যদি এক কাপ খাওয়া হয়, তবে ২০ শতাংশ পর্যন্ত খারাপ কোলেস্টেরলের মাত্রা কমবে।

    ♦ এক বাটি ওট মিল, লাল আটার রুটি ও সবজি, ওমেগা ৩ সমৃদ্ধ মাছ ও বাদাম খারাপ কোলেস্টেরল ঠেকানোর জন্য ভালো।♦ চায়ের মধ্যে গ্রিন টি খুবই ভালো। দিনে যদি দুই থেকে তিন কাপ গ্রিন টি খাওয়া হয়, তাহলে খারাপ কোলেস্টেরল অনেকটাই আয়ত্তে থাকবে।♦ খাদ্য তালিকায় রাখুন চিয়াসিড। এতে এলডিএলের মাত্রা কম থাকবে। এতে নানারকম অ্যান্টিঅক্সিড্যান্টস ও ওমেগা-৩ ফ্যাটি এসিড আছে, যা স্বাস্থ্যের জন্য দারুণ উপকারী।

    ♦ সয়াবিনে আছে আনস্যাচুরেটেড ফ্যাট, ফাইবার ও প্রোটিন। প্রাণিজ প্রোটিনের পরিবর্তে বিকল্প প্রোটিন হিসেবে নিয়মিত সয়াবিন গ্রহণ করায় প্লাজমা কোলেস্টেরলের পরিমাণ ২৩ থেকে ২৫ শতাংশ কমে।

    ♦ ডায়েটে বেগুনি রঙের ফল এবং শাক-সবজি অন্তর্ভুক্ত করুন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এতে অ্যান্থোসায়ানিন নামক অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট রয়েছে, যা এইচডিএল কোলেস্টেরলের মাত্রা বাড়াতে সহায়তা করে।

  • দায়িত্ব পেলে ২ মাসে সব পরিবর্তন করতে পারব: সাকিব

    দায়িত্ব পেলে ২ মাসে সব পরিবর্তন করতে পারব: সাকিব

    বিপিএলের সিইও হিসেবে দায়িত্ব পেলে মাত্র দুই মাসে সব পরিবর্তন করে দেবেন সাকিব আল হাসান। সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে এমন কথাই জানালেন টাইগারদের টি-টোয়েন্টি ও টেস্ট অধিনায়ক।

    গালফ অয়েল বাংলাদেশ লিমিটেড কোম্পানিতে একদিনের জন্য চিফ এক্সিকিউটিভ অফিসারের (সিইও) দায়িত্ব পেয়েছেন সাকিব আল হাসান। আজ বুধবার এত বড় এক দায়িত্ব গ্রহণ করেন তিনি।

    এর পর সাংবাদিকদের সঙ্গে প্রশ্নোত্তর পর্বে অংশ নেন তিনি। বিপিএল আয়োজনের দায়িত্ব পেলে কী করতেন— এমন প্রশ্নের উত্তরে সাকিব জানালেন, ‘বেশি দিন লাগবে না পরিবর্তন করতে। সর্বোচ্চ ১ থেকে ২ মাস। সাকিব বলছিলেন, ‘আমাকে যদি বিপিএলের সিইওয়ের দায়িত্ব দেওয়া হয়, আমার বেশি দিন লাগবে না। আমার ধারণা, ১ থেকে ২ মাস লাগবে সব কিছু ঠিক করতে— ম্যাক্সিমাম। খুব বেশি হলে দুই মাসও লাগার কথা না। দুই মাস তো অনেক দূরের কথা বলেছি।’

    সাকিব হাসির ছলে একটি সিনেমার প্রসঙ্গ টেনে বলেন, ‘নায়ক মুভিতে দেখেছেন না, একদিনে অনেক কিছু করা সম্ভব যে করতে পারে। যে পারে সে সবসময়ই করতে পারে।’

    চলতি মৌসুমে নতুন সিইও হলে আপনি কি করবেন এমন প্রশ্নের জবাবে সাকিব বলেন, ‘এই মৌসুমের সব কিছু বাদ দিয়ে আবার ড্রাফট হবে, অকশন হবে। ফ্রি টাইমে বিপিএল হবে সব আধুনিক টেকনোলজি থাকবে। ব্রডকাস্ট ভালো থাকবে হোম অ্যান্ড অ্যাওয়ে ভেন্যু থাকবে।’

  • তুরস্ক-সিরিয়ায় নিহত অর্ধ লাখ ছাড়িয়েছে

    তুরস্ক-সিরিয়ায় নিহত অর্ধ লাখ ছাড়িয়েছে

    প্রলয়ংকরী ভূমিকম্পে তুরস্ক ও সিরিয়ায় নিহতের সংখ্যা অর্ধ লাখ ছাড়িয়ে যাবে, এই আশংকা আগেই করা হয়েছিল। এবার সরকারি পরিসংখ্যানে এ তথ্য উঠে এসেছে। খবর আনাদোলু। গত ৬ ফেব্রুয়ারি তুরস্ক ও সিরিয়ার বিস্তীর্ণ অঞ্চল জু়ড়ে আঘাত হানে রিখটার স্কেলে ৭ দশমিক ৮ মাত্রার ভূমিকম্প। এর পর থেকে চলছে স্থানীয় ও আন্তর্জাতিক দলের সমন্বিত উদ্ধার অভিযান। তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়েপ এরদোগান আশঙ্কা প্রকাশ করেছিলেন, ভয়াবহ ওই ভূমিকম্পের জেরে মৃত্যু ৫০ হাজার ছাড়াবে।

    সরকারি হিসাব অনুযায়ী, এখন পর্যন্ত তুরস্কে ৪৪ হাজার ২১৮ জনের মৃত্যু হয়েছে। সিরিয়ায় মৃত্যু হয়েছে ৫ হাজার ৯১৪ জনের। সব মিলিয়ে ৫০ হাজার ছাড়িয়েছে প্রাণহানি।

    ভূমিকম্পের পর থেকে হাজার খানেক আফটারশকে কেঁপে ওঠে তুরস্ক ও সিরিয়া। কাহরামানমারাস প্রদেশে ৯ হাজার ১৩৬টি আফটারশক রেকর্ড করা হয়েছে।

    জাতিসংঘের হিসাবে, তুরস্কেই ভেঙে পড়েছে ২ লাখ ৬৪ হাজার বাড়ি। সিরিয়াতেও অন্তত হাজার পঞ্চাশেক বাড়ি ভেঙে পড়েছে বলে অনুমান ত্রাণকর্মীদের। প্রায় এক কোটি ৩৫ লাখ মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

    ভূমিকম্পের পর থেকে ১১ হাজার ৪০০ এরও বেশি স্থানীয় ও আন্তর্জাতিক অনুসন্ধান ও উদ্ধারকর্মী কাজ করছে।

  • বিএনপির আন্দোলন নিয়ে যা বললেন ওবায়দুল কাদের

    বিএনপির আন্দোলন নিয়ে যা বললেন ওবায়দুল কাদের

    আওয়ামী লীগ মাঠে আছে। নির্বাচন পর্যন্ত মাঠে থাকবে। এখান থেকে সরে দাঁড়াবে না বলে মন্তব্য করেছেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের।

    আজ রোববার সচিবালয়ে মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে সংবাদ সম্মেলনে সেতুমন্ত্রী এ কথা বলেন।

    সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘বিএনপি ডিসেম্বরের ১০ তারিখে সরকার পতনের আন্দোলনের টার্গেট নিয়েছিল। এরপর আরও কয়েকদফা নানা আন্দোলন করেছে। কিন্তু বিএনপি আন্দোলনের টার্গেট ফেল করেছে। আন্দোলনে বিএনপির পরাজয় ঘটেছে।’

    তিনি বলেন, ‘তাদের আন্দোলনে জনসম্পৃক্ততা ঘটেনি। এজন্য তারা পথ হারিয়ে নিরব পদযাত্রা করছে। আন্দোলনে হেরে গেলে নির্বাচনে বিজয়ের সম্ভাবনা থাকে না। এ কারণে নির্বাচনে হেরে যাওয়ার আশঙ্কায় এমন পরিবেশ, পরিস্থিতি সৃষ্টি করতে চায়, যাতে অনির্বাচিত সরকার ক্ষমতায় আসে।’

    আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক বলেন, ‘সরকারের উন্নয়নের জোয়ারে বিএনপির আন্দোলন তলিয়ে যাচ্ছে। যেকোনোভাবে আওয়ামী লীগকে ঠেকাতে হবে, অন্য যেকোনো সরকার আসুক, তাতে বিএনপির কোনো আপত্তি নাই, এটি এখন তাদের লক্ষ্য।’

  • চিকিৎসকের ব্যবস্থাপত্র ছাড়া এন্টিবায়োটিক বিক্রি বন্ধ করতে হবে: প্রধানমন্ত্রী

    চিকিৎসকের ব্যবস্থাপত্র ছাড়া এন্টিবায়োটিক বিক্রি বন্ধ করতে হবে: প্রধানমন্ত্রী

    রোববার ২৬ ফেব্রুয়ারি মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর শেখ হাসিনার সাথে দেখা করতে এলেন যুক্তরাজ্যের অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের বায়োলোজি ডিপার্টমেন্ট অব ইনিওস ইনস্টিটিউটের এন্টিমাইক্রোবাইয়াল রিসার্চের পরিচালক প্রফেসর টিমোথি ই ওয়ালশ। প্রধানমন্ত্রীর সাথে দেখা করতে এলে তিনি এসব কথা বলেন।

    প্রধানমন্ত্রী বলেন, চিকিৎসকদের ব্যবস্থাপত্র ছাড়া এন্টিবায়োটিক বিক্রি বন্ধে প্রয়োজনীয় বিধিনিষেধ আরোপ করতে হবে। এক সময় দেশের বিভিন্ন কমিউনিটি ক্লিনিক থেকেই এন্টিবায়োটিক দেয়া হতো। কিন্তু এখন তা সম্পূর্ণভাবে বন্ধ হয়ে গেছে। এখন সরকারি হাসপাতাল থেকে চিকিৎসকদের ব্যবস্থাপত্র অনুযায়ী এন্টিবায়োটিক দেয়া হয়।

    টিমোথি ই ওয়ালশ বলেন, এন্টি-মাইক্রোবিয়াল রেস্টিস্ট্যান্স (এএমআর) এখন বিশ্বে একটি মহামারী আকারে আবির্ভূত হয়েছে। এখনই যদি এটা বন্ধ করা না হয়, তবে ভবিষ্যতে এটা আরো প্রকট আকার ধারণ করবে।

    অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের এই প্রফেসর আশঙ্কা প্রকাশ করে বলেন, এর কারণে লাখ মানুষের মৃত্যুও ঘটতে পারে। এ সময় তিনি এএমআর বিষয়ক গ্লোবাল লিডার্স গ্রুপের কো-চেয়ার হিসেবে দায়িত্ব পালনকালে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ভূমিকার প্রশংসা করেন।

    বৈঠককালে প্রধানমন্ত্রী জাতীয় চক্ষুবিজ্ঞান ইনস্টিটিউট, শেখ রাসেল গ্যাস্ট্রোলিভার হাসপাতাল, হৃদরোগ, বক্ষব্যাধী, ক্যান্সার ও নিউরোসায়েন্সেস হাসপাতালের মতো বিশেষায়িত হাসপাতাল ও ইনস্টিটিউট প্রতিষ্ঠানসহ দেশের স্বাস্থ্য-খাতে সার্বিক উন্নয়নে সরকারের নেয়া বিভিন্ন পদক্ষেপের কথা তুলে ধরেন।

    বৈঠককালে অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের এই অধ্যাপক ইনিওস ইনস্টিটিউট অব অ্যান্টিমাইক্রোবিয়াল রিসার্চ থেকে বঙ্গবন্ধু-আইওআই ফেলোশিপের অধীনে বাংলাদেশী শিক্ষার্থীদের চিকিৎসা ও মৌলিক বিজ্ঞান বিষয়ে গবেষণার জন্য স্কলারশিপ প্রবর্তনের প্রস্তাব দেন। এর জবাবে, প্রধানমন্ত্রী নীতিগতভাবে এই ফেলোশিপের ব্যাপারে তার সম্মতি প্রকাশ করেন।

    এছাড়াও, ব্রিটিশ পার্লামেন্টে ককাসের সঙ্গে এএমআর বিষয়ে বাংলাদেশ জাতীয় সংসদের অংশীদারিত্বের একটি প্রস্তাবও দেন টিমোথি ই ওয়ালশ এবং প্রধানমন্ত্রী এতে ইতিবাচক সাড়া দেন।

    এ সময় অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন প্রধানমন্ত্রীর মুখ্যসচিব মো. তোফাজ্জল হোসেন মিয়া ও ব্যক্তিগত চিকিৎসক প্রফেসর ডা. এ বি এম আব্দুল্লাহ্।

  • একজন আমেরিকান অভিনেত্রী, চলচ্চিত্র নির্মাতা ও মানবতাবাদী নারী- অ্যাঞ্জেলিনা জোলি

    একজন আমেরিকান অভিনেত্রী, চলচ্চিত্র নির্মাতা ও মানবতাবাদী নারী- অ্যাঞ্জেলিনা জোলি

     

    অ্যাঞ্জেলিনা জোলি একজন আমেরিকান অভিনেত্রী, চলচ্চিত্র নির্মাতা এবং মানবতাবাদী। তিনি লস অ্যাঞ্জেলেস ক্যালিফোর্নিয়ায় ৪ জুন, ১৯৭৫-এ অভিনেতা জন ভয়েট এবং প্রাক্তন মডেল ও অভিনেত্রী মার্চেলিন বার্ট্রান্ডের ঘরে জন্মগ্রহণ করেন। তিনি লারা ক্রফ্ট চলচ্চিত্রে অভিনয়ের মাধ্যমে সারাবিশ্বে খ্যাতি অর্জন করেন। এছাড়াও তিনি অসংখ্য চলচ্চিত্রে অভিনয় করেছেন এবং ২০০০ সালে শ্রেষ্ঠ পার্শ্ব অভিনেত্রীর জন্য একাডেমি পুরস্কার সহ অনেক পুরস্কার পেয়েছেন।

    চলচ্চিত্র জগতের বাইরে ২০০১ সালে তিনি জাতিসংঘের শরণার্থী সংস্থার শুভেচ্ছাদূত মনোনীত হয়েছেন। বাংলাদেশে রোহিঙ্গা সমস্যায় উদারতা দেখানোর পাশাপাশি নেতৃত্ব দেওয়ায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ভুয়সী প্রশংসা করেছিলেন জাতিসংঘের শরনার্থীবিষয়ক হাইকমিশনারের বিশেষ দূত অ্যাঞ্জেলিনা জোলি। বিশ্বব্যাপী মানবতার প্রচার, এবং বিশেষ করে শরণার্থীদের নিয়ে কাজ করার জন্য অ্যাঞ্জেলিনা জোলি বিশেষভাবে সমাদৃত। মানবিক কাজের পাশাপাশি তিনি প্রিভেনটিং সেক্সুয়াল ভায়োলেন্স ইনিশিয়েটিভের প্রতিষ্ঠাতা এবং শিশুদের জন্য শিক্ষা অংশীদারিত্বের সহ-প্রতিষ্ঠাতা।

    অ্যাঞ্জেলিনা জোলি  নিউইয়র্কের শৈশবের বেশিরভাগ সময় কাটিয়েছিলেন। তিনি লি স্ট্রেসবার্গ থিয়েটার এবং ফিল্ম ইনস্টিটিউটে দুই বছর অংশ নিয়েছিলেন এবং তারপরে বেভারলি হিলস উচ্চ বিদ্যালয়ে ভর্তি হন। পরে তিনি নিউ ইয়র্ক বিশ্ববিদ্যালয়ে নাটক অধ্যয়ন করেছিলেন। থিয়েটার প্রযোজনায় অভিনয় করার পাশাপাশি তিনি মডেল করেছেন এবং মিউজিক ভিডিওগুলিতে হাজির হন।

    অ্যাঞ্জেলিনা জোলির প্রথম চলচ্চিত্রে উপস্থিতি দেখা যায় শিশু শিল্পী হিসেবে ‘লুকিং ত গেট আউট’ (১৯৮২) চলচ্চিত্রে। এরপর চলচ্চিত্র ‘হ্যাকার’(১৯৯৫) সালে প্রকাশ পায়। কিন্তু চলচ্চিত্রটি দর্শক আকর্ষণ করতে ব্যর্থ হয়। অ্যাঞ্জেলিনা জোলি প্রধানত সুপারস্টার হয়ে উঠে ‘জিয়া’(১৯৯৮) একটি টেলি চলচ্চিত্রের মাধ্যমে। এই চলচ্চিত্রে তিনি গোল্ডেন গ্লোব এওয়ার্ড লাভ করেন। তাঁর অভিনীত অনেক চলচ্চিত্রই ব্যবসা সফল হয়েছে এবং তাকেও এনে দিয়েছে বড় মাপের খ্যাতি। তাঁর ঝুলিতে আছে ‘গার্ল ইন্টারাপ্টেড (১৯৯৯)’ চলচ্চিত্রের জন্য গোল্ডেন গ্লোব এওয়ার্ড এবং অস্কার বিজয়ী একাডেমি এওয়ার্ড লাভ করেছেন সেরা সহকারি অভিনেত্রী হিসেবে। বিশ্বব্যাপী তাঁর পরিচিতি তৈরি হয়েছিলো ‘টম্ব রাইডার (২০০১)’ চলচ্চিত্রের মাধ্যমে। এই একশন মুভি এতোটাই জনপ্রিয় হয়েছিলো যে এই চরিত্রের উপর ভিডিও গেইম নির্মান করা হয়েছিলো। এছাড়াও তাঁর বেশ কিছু বৈচিত্রময় চরিত্রে চলচ্চিত্রগুলোও তাঁকে চিনিয়েছে বিশেষভাবে। রোম্যান্টিক, একশন, কমেডি সকল ধরনের অভিনয়েই তিনি বেশ পারদর্শী। যেমন – ‘অরিজিনাল সিন (২০০১)’, লাইফ অর সামথিং লাইক ইট (২০০২), সিকিউয়েল ‘লারা ক্রফটঃ টম্ব রাইডার- দ্য ক্রাডেল অফ লাইফ (২০০৩), মিঃ অ্যান্ড মিসেস স্মিথ (২০০৫)।

    তিনি চলচ্চিত্র নির্মাতা এবং প্রযোজক হিসেবেও পরিচিত। উল্ল্যেখযোগ্য চলচ্চিত্রগুলো হচ্ছে- আনব্রোকেন(২০১৪), ফার্স্ট দে কিলড মাই ফাদার (২০১৭), বাই দ্যা সী (২০১৫), ইন দ্যা ল্যান্ড অফ ব্লাড অ্যান্ড হানি (২০১১)। তাঁর সবচেয়ে ব্যবসা সফল চলচ্চিত্র হচ্ছে মেইলফিসেন্ট(২০১৪), মেইলফিসেন্টঃ মিস্ট্রেস অফ এভিল(২০১৯)।

    অ্যাঞ্জেলিনা জোলির সর্বশেষ মুক্তি প্রাপ্ত চলচ্চিত্র হচ্ছে ‘দোউজ হু উইশ মি ডেড (২০১৯)

    পার্সোনাল লাইফঃ

    তাঁর অভিনীত প্রথম চলচ্চিত্রের কো-স্টার জনি লি মিলারকে ভালবেসে ১৯৯৬ সালে বিয়ে করেন অ্যাঞ্জেলিনা জলি। কিন্তু তাদের মধ্যে একসময় সম্পর্কের দূরত্ব বাড়তে থাকে। অতঃপর ১৯৯৯ সালে তাদের ডিভোর্স হয়।

    বিলি বব থরটন ছিলেন অ্যাঞ্জেলিনা জোলির কো-স্টার এবং ২০ বছরের বড়। এর সাথে বিয়ে হয় ২০০০ সালে এবং ডিভোর্স হয় ২০০৩ সালে

    মিঃ অ্যান্ড মিসেস স্মিথে জুটি বাঁধাকালে পরষ্পরকে ভালোবেসে ফেললেও তাঁরা বিয়ে থেকে তখন বিরত থাকে। অতঃপর ব্রাড পিট তাঁর স্ত্রীকে ২০০৫ সালে ডিভোর্স দিলে ২০০৬ সালে অ্যাঞ্জেলিনা জোলি ও ব্রাড পিট বিয়ে করে। অ্যাঞ্জেলিনা জোলি ও ব্রাড পিটের সন্তান আছে ৩ জন এবং পালক সন্তান আছে আরো ৩ জন।

    বিশ্বের সবচেয়ে আকর্ষণীয় মহিলার একজন, অ্যাঞ্জেলিনা জোলি, ব্যাপকভাবে বিবেচিত। তার বৈশিষ্ট্যগুলি, কাঠ বাদামী চোখ, কালো চুল, পুরু চোয়াল, আকর্ষনীয় ঠোঁট, উজ্জ্বল ত্বক, চমতকার মেকাপ এবং আকর্ষনীয় দৈহিক গড়নের জন্য খুবই আলোচিত এবং হার্ট থ্রব পুরুষদের কাছে। বিশ্বের শ্রেষ্ঠ সুন্দরীদের মধ্যে ২০ বছর ধরে এফ এইচ এম ম্যাগাযিনে তিনি অন্যতম। এমনকি ২০০৫ থেকে ২০০৮ পর্যন্ত সেরা দশের তালিকায় তাঁর নাম দেখা যায়।

    অ্যাঞ্জেলিনা জোলি বিশ্বের সবচেয়ে ধনী অভিনেত্রীদের তালিকায় র‍্যাঙ্কিং ১৩ তে আছে এই বছর। তাঁর নেট সম্পত্তির মূল্য ১৬০ মিলিয়ন ডলার। এছাড়াও বিশ্বের সর্বোচ্চ পারিশ্রমিক নেয়া অভিনেত্রীর মধ্যেও তিনি অন্যতম।

    অ্যাঞ্জেলিনা জোলির জীবনে অনেক প্রাপ্তি থাকলেও, চলেছে অনেক ভাঙা গড়ার খেলা। ক্যান্সার আক্রান্ত হয়েও তিনি তাঁর অসুস্থতা লুকায়নি। সে চেয়েছিলো তাঁকে দেখে যেন অনেক ক্যান্সার আক্রান্ত মহিলা যেন সাহসী এবং আত্মবিশ্বাসী হয় সামনের দিকে এগিয়ে যাবার।

  • বিশ্বের সবচেয়ে বেশি পারিশ্রমিক নেয়া সুপারস্টার – টম ক্রুজ

    বিশ্বের সবচেয়ে বেশি পারিশ্রমিক নেয়া সুপারস্টার – টম ক্রুজ

    বর্তমানে বিশ্বের সবচেয়ে বেশী পারিশ্রমিক নেয়া সুপারস্টার অভিনেতা হচ্ছেন টম ক্রুজ। ১০০ মিলিয়ন ডলার নিয়েছেন তিনি টপ গানঃ মেভেরিক চলচ্চিত্রের জন্য। কিন্তু আমরা অনেকেই জানি না তাঁর অতীত জীবন কেমন ছিলো? টম ক্রুজ ৩ জুলাই, ১৯৬২ সালে নিউইয়র্কের সিরাকিউসে দারিদ্র-পীড়িত এক পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন। পরিবারে চার সন্তানের মধ্যে তিনি দ্বিতীয় ছিলেন। তার বাবা ছিলেন ইলেকট্রিক ইঞ্জিনিয়ার থমাস ক্রুজ মেফেয়ার এবং মা ছিলেন বিশেষ শিক্ষার শিক্ষিকা মেরী লি। থমাস ক্রুজ মেফেয়ার একজন বদমেজাজী স্বভাবের লোক হওয়ায় প্রায়শই বিনা কারনে তার সন্তানদের মারধর করতেন। তাঁর বাবা পরিবারের জন্য যথেষ্ট অর্থ উপার্জন করতে না পারায় কানাডা চলে যায়। এজন্য ৮ বছর বয়সে, টম তার মায়ের সাথে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে ফিরে আসতে হয়। দারিদ্রতার কারনে সংসার চালাতে তাঁর মায়ের কষ্ট হওয়ায় টম স্কুল শেষে ৩ টি কাজ করতেন। যেমন- ঘাস কাটা, পেপার বিলি করা এবং গ্রিটিংস কার্ড বিক্রি করা শুরু করে। নিউ ইয়র্ক ও কানাডায় ক্রমাগত যাওয়া আসা করার কারণে প্রতি বছর স্কুল পরিবর্তন করতে হতো এবং অবশেষে সিনসিনাটির ফ্রান্সিসকান সেমিনারিতে অধ্যয়নের জন্য একটি গির্জার বৃত্তি পান। অনেক কম মানুষই জানেন ছোট থাকতে টম স্কুলে ছাত্রদের বুলিং এর শিকার হতো কারন সে ডিস্লেক্সিয়া নামক এক অসুখে ভুগছিলেন। সেজন্য পড়তে এবং লিখতে খুব সমস্যা হতো এবং অনেক সময় তাঁর মা স্কুলের লেখা করে দিতেন। পরীক্ষার প্রশ্ন দেখলেও টম এতোটাই ঘাবড়ে যেতো যে প্রশ্নের উত্তর না দিয়েই খাতা জমা দিয়ে দিতেন। অতঃপর অনেক বছর থেরাপি নেয়ার মাধ্যমে সে ডিস্লেক্সিয়া সমস্যা থেকে বের হতে সক্ষম হয়। তাঁর স্কুল জীবনের এই ঘটনা পরবর্তী সময়ে অনেক ডিস্লেক্সিয়া আক্রান্ত বাচ্চাদের জন্য মোটিভেশন হিসেবে কাজ করে।

    টম নিজেও জানতেন না যে একদিন অভিনয় শিল্পী হবেন। স্কুলে একটি নাটকে অংশগ্রহণ করার পর টম ক্রুজের বেশ ভালো লেগেছিলো। এবং সে সিদ্ধান্ত নিয়ে ফেলেন যে তিনি বড় হয়ে অভিনয়শিল্পী হবেন। ১৮ বছর বয়সে টম একদিন, কোনো প্ল্যান বা জব ছাড়াই বাড়ি ছেড়ে একাকী নিউইয়র্কে চলে যান। তখন দেড় বছর পর্যন্ত টম বিভিন্ন জায়গায় অডিশন দেয়ার পরেও বারবার প্রত্যাখ্যান হচ্ছিলেন। নিজেকে শহরে টিকিয়ে রাখার জন্য, টম ক্রুজ ওয়েটারের কাজ করাও শুরু করেছিলেন।

    ১৯৮১ সালে টম ক্রুজ “এন্ডলেস লাভ” নামে ফিল্মে ছোট একটি চরিত্রে অভিনয় করেন এবং এখান থেকেই তার রুপালী পর্দায় অভিষেক ঘটে। টম ক্রুজের জন্য সে সময় একটি ছোট চরিত্রেরও অনেক গুরুত্ব ছিলো। কারণ সে মুহূর্তে তার ওয়েটারের কাজটিও ছিল না। একই সময়ে টম ক্রুজ ‘ট্যাপস’ ফিল্মের জন্য অডিশন দেয় এবং ডিরেক্টরের পছন্দ হওয়ায় মিলিটারির  চরিত্র করার জন্য তাকে সুযোগ দেওয়া হয়। এরপর থেকেই টমকে সাইড ক্যারেক্টারের জন্য  সিলেক্ট করা হচ্ছিলো।

    ১৯৮৬ সালে ‘টপ গান’ নামক মুভিতে অভিনয়ের মাধ্যমে টম সুপারস্টার হয়ে ওঠেন। এ ছবিতে ইউ এস এ পাইলটের ভূমিকায় টম অভিনয় করেন। ছবিটি কমারশিয়ালি সুপার হিট হয় এবং টমের অনেক ফ্যান ফলোয়ার বেড়ে যায়। এরপর থেকে প্রধান চরিত্রে অভিনয়ের জন্য অনেক পরিচালকই তাঁকে প্রস্তাব দেয়া শুরু করেন। ‘টপ গান’ মুভিটি তাঁকে অভিনয় জগতে অভিজ্ঞতা ও অনুপ্রেরণার মূল শক্তি দিয়েছে। মুভিটি সুপারহিট হবার জন্য ২০২২ সালে এর আরেকটি সিকুয়েল প্রকাশ পেয়েছে। ভক্তদের হয়তো অনেকেই জানেনা যে, টম নিজেও বাস্তব জীবনে একজন লাইসেন্সড পাইলট এবং তাঁর নিজস্ব ২টি প্রাইভেট জেট প্লেন রয়েছে।

    টম ক্রুজই প্রথম হলিউড অভিনেতা যার পরপর ৫টি সিনেমাতে ১০০ মিলিয়ন ডলার ইনকাম করার রেকর্ড আছে। বর্তমান সময়ে ১০০ মিলিয়ন ডলার ফিল্ম বিজনেসে বড় ব্যাপার না হলেও ৯০ দশকের সময় এটা আসলেই অনেক বড় ব্যাপার ছিলো।

    ১৯৯২ তে ‘আ ফিউ গুড ম্যান’ থেকে শুরু করে ১৯৯৬ সালের ‘জেরি ম্যাগুয়ার’ পর্যন্ত টমক্রুজের সবগুলো সিনেমাতেই ১০০ মিলিয়ন বিজনেস হয়।

    ১৯৮৯ সালে টম ক্রুজ ‘বর্ন অন দ্য ফোর্থ অফ জুলাই’ মুভিতে এক ভিয়েতনাম যুদ্ধে আহত এক প্যারালাইজড চরিত্রের অভিনয় করেন। ঐতিহাসিক এই ভূমিকায় অভিনয় করতে টম এক বছর ধরে প্রস্তুতি নেন এবং তাঁর অসাধরন অভিনয়ের জন্য সেরা অভিনেতার গোল্ডেন গ্লোব এওয়ার্ড অর্জন করেন এবং সেরা অভিনেতা হিসেবে টম ক্রুজের নাম প্রথম অস্কার পুরষ্কারের নমিনেশনে এসেছিলো।

    টম ক্রুজ এমন একজন অভিনেতা যে তাঁর নিজের স্টান্ট নিজেই নিয়ে থাকেন। সেটা বন্দুক যুদ্ধের দৃশ্য হোক অথবা কোন একশন দৃশ্যই হোক সে নিজেই সে দৃশ্যের অভিনয় করেন। এমনকি মিশন ইম্পসিবল সিনেমার একটি দৃশ্যে এক বিল্ডিং থেকে অন্য বিল্ডিং এ লাফিয়ে যাবার সময় সে তার গোড়ালিতে গুরুতর আহত হয়। শুটিং-টি তিনি না থামিয়ে দিয়ে আহত অবস্থাতেই শেষ করেন। এরপর হাসপাতালে চিকিৎসা নেওয়ার জন্য তিন মাস শুটিং থেকে বিরত রাখা হয়।

    টম ক্রুজ সিনেমা জগতে ১৯৮০ সাল থেকে কাজ করছে এবং এরই মধ্যে বেশ কিছু আইকনিক চরিত্র সে দিতে সক্ষম হয়েছে। টম ক্রুজের এতটাই চাহিদা ছিল যে সকল বড় বড় স্টুডিওতে তাকে প্রধান চরিত্রে নেয়ার জন্য সুযোগ খুঁজতো। নব্বই দশকে যখন মারভেল আইরন ম্যান বানানোর পরিকল্পনা চলছিলো তখনো টমকে সে চরিত্রে অভিনয়ের জন্য জানানো হয়েছিলো। টম চরিত্রটির জন্য আগ্রহ প্রকাশ করলেও তাঁর নিজস্ব ক্রিয়েটিভ অভিনয়ের জন্য স্বাধীনতা চেয়েছিলেন। কিন্তু সিনেমা পরিচালকের কাছে বিষয়টি ঠিক না লাগায় সিনেমার চরিত্রটি দীর্ঘকাল থামিয়ে রাখা হয়েছিলো। এবং পরবর্তিকালে রবার্ট ডাওনি কে দিয়ে সে চরিত্রে অভিনয় করানো হয়েছিলো।

    ‘শশাঙ্ক রিডেমশন’ সিনেমা জগতে শীর্ষে থাকা একটি সিনেমা। এই সিনেমার জন্যেও টম ক্রুজকে নেয়ার প্রস্তাব করা হয়েছিলো। সিনেমার কাহিনী টম ক্রুজ এর কাছে পছন্দের হলেও, সে সময় নতুন কোন ডিরেক্টরের সাথে কাজ করার ক্ষেত্রে টম আপত্তি জানায়।

    ১৯৯০-এর দশকে তিনি ছিলেন বিশ্বের সবচেয়ে বেশি পারিশ্রমিক পাওয়া অভিনেতাদের মধ্যে একজন যিনি গড়ে ১৫ মিলিয়ন ডলার আয় করেন। বিভিন্ন ব্লকবাস্টার হিট ছবি, যেমন ইন্টারভিউ উইথ দ্য ভ্যাম্পায়ার: দ্য ভ্যাম্পায়ার ক্রনিকলস (১৯৯৪), মিশন: ইম্পসিবল (১৯৯৬) এবং জেরি ম্যাগুয়ার (১৯৯৬), যার জন্য তিনি সেরা অভিনেতার একাডেমি পুরস্কারের মনোনয়ন পেয়েছিলেন। টম ক্রুজের সবচেয়ে বড় ফ্র্যাঞ্চাইজি মিশন ইম্পসিবলও বিশ্বব্যাপী মোট ৩ বিলিয়ন ডলার আয় করেছে। টম ক্রুজের সবচেয়ে বড় প্রযোজক ক্রেডিট হচ্ছে মিশন ইম্পসিবল ফ্র্যাঞ্চাইজি। দুঃখজনক বিষয় হচ্ছে টম ক্রুজ ব্যবসা সফল অনেক সিনেমা এবং নারী পুরুষের বিশাল ভক্ত থাকলেও সে কখনো অস্কার জিততে পারেনি। অস্কারে তিনটি সিনেমায় তাঁর নাম আসলেও পুরষ্কার না পাবার জন্য এখন আর সে অস্কার অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ করেন না। আশা করা হচ্ছে টপ গানঃ মেভেরিক (২০২২) সিনেমার জন্যও তিনি এইবার অস্কার নমিনেশন পাবেন। ইতিমধ্যেই টপ গানঃ মেভেরিক ১ বিলিয়ন ডলারের উপর বিজনেস করেছে। এবং ১ বিলিয়ন ডলার ক্লাবে টম ক্রুজের এই প্রথম সিনেমা।

    টম ক্রুজ তাঁর জীবনকালে তিনটি বিয়ে করেছিলেন। প্রথম বিয়ে মিমি রোজারস এর সাথে হয় ১৯৮৭ সালে এবং বিচ্ছেদ হয় ১৯৯০ সালে। পরবর্তী সময়কালে নিকোল কিডম্যানের সাথে বিয়ে হয় টম ক্রুজের এবং তাঁরা সংসার করেন ১৯৯০ থেকে ২০০১ সাল পর্যন্ত। এ ঘরে তাদের ২ সন্তান রয়েছে। এরপর কেটি হোমস ২০০৬ সালে বিয়ে হয় এবং তাদের এক সন্তান রয়েছে এই পরিবারে। কেটি হোমসের সাথে ডিভোর্স হয় ২০১২ সালে।