দিন দিন শিশুর ক্রমশ স্বাস্থ্যহানি দেখে আপনি টেনশন এ পড়ে গেছেন। ভাবছেন, আপনার আদরের বেবিটা আগের মত আর খাচ্ছে না, রোগাটে হয়ে যাচ্ছে। মুখের সামনে খাবার ধরলে হাত দিয়ে সরিয়ে দিচ্ছে। আবার মাঝে মাঝে এটাও বলে “এই খাবার আমার পছন্দ না। আমি এটা খাব না।”
যাই হোক, শিশু খেতে চাচ্ছেনা, কী করলে সে ঠিকমত খাবে, কিভাবে বাচ্চাকে খাওয়ানো দরকার – এসব বিষয়ে পরামর্শ দিয়েছেন শিশু বিশেষজ্ঞরা। রুচি ফেরানোর ৮টি উপায়ের কথা মনোযোগ দিয়ে পড়ুন।
১. চেষ্টা করবেন কিছুটা ভারি খাবার দিয়ে সকাল বেলা বাচ্চাকে ব্রেকফাস্ট করাতে। বয়স অনুযায়ী খাবার নির্ধারন করুন এবং পুষ্টিকর খাবার রাখুন। সেটা হতে পারে বিভিন্ন ডাল সবজী দিয়ে নরম খিচুড়ি, ভাত, ডিম, সাবুদানা, ওটস, সুজি কিংবা অন্যকিছু।
২. বাচ্চার পর্যাপ্ত শারীরিক এক্টিভিটি নিশ্চিত করুন। শারীরিক বিকাশে খেলাধূলা করার সুযোগ দিন অথবা নিজের কাজগুলোর মধ্যে সহজ কাজগুলো করতে শেখাবেন। এতে করে বাচ্চা আত্মবিশ্বাসী হয়ে বড় হবে। আবার শারীরিক কাজের কারনে ক্লান্তি ও ক্ষুধাও বৃদ্ধি পাবে।
৩. অনেক মায়েদের দেখা যায় অতিরিক্ত খাবার খাওয়ান বা জোর পূর্বক খাওয়ান এতে অরুচির কারন তৈরি হতে পারে। ঘনঘন খাবার দেয়া বন্ধ করুন। তাক ক্ষুধা অনুভব করতে দিন। বাচ্চা কান্না করলেই যে ক্ষুধা লেগেছে এমন নয়। অন্যকোনো সমস্যা অথবা এটেনশন বৃদ্ধি করতেও একটি বাচ্চা কান্না করতে পারে।
৪. আয়রন বা ভিটামিন ডি এর অভাব থেকে বাচ্চার অরুচি হতে পারে। বাচ্চাকে আয়রন সমৃদ্ধ খাবার খাওয়ান। প্রতিদিন বেলা ৮-১২টা পর্যন্ত কিছুটা সময় বাচ্চাকে রোদের সংস্পর্শে রাখার চেষ্টা করুন।
৫. শরীরে পানির অভাব হলে শিশুরা তাদের ক্ষুধা বুঝতে পারে না। তাই শিশুকে নানাভাবে পানি বা পানিজাতীয় নানা খাবার খাওয়াতে হবে। বাচ্চাকে কখনো প্রসেস ফুড খাইয়ে অভ্যাস করবেন না। চিপস, চকলেট, আইসক্রিম বাচ্চাদের স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর।
৬. গবেষণায় দেখা গেছে, যেসব শিশু মানসিকভাবে চাপে থাকে, তাদের ক্ষেত্রে খাবারে অরুচির সমস্যাটি বেশি। তাই খাবার বা অন্য যে কোনো বিষয় নিয়ে শিশুকে কোনোভাবে মানসিক চাপের মধ্যে রাখা যাবে না। শিশু যা-ই করবে তা যেন আনন্দের সঙ্গে করে সেদিকে লক্ষ্য রাখতে হবে।
৭. বাচ্চার রুচি ফেরাতে মাঝেমাঝে খাবারের উপাদানে কিংবা রান্নায় বৈচিত্র আনুন। এবং বাচ্চা না খেলে জোর করে খাওয়ানো অথবা বারবার খাওয়ানোর জন্য চাপ দেয়া থেকে বিরত থাকুন। এতে করে তার খাবার খাওয়ার প্রতি আরো অরুচি তৈরি হতে পারে। মনে রাখতে হবে প্রতিটি মানুষের মতো একটি বাচ্চারও ভালো লাগা খারাপ লাগার অনুভূতি আছে। তাকে বুঝতে চেষ্টা করে খাওয়ানোর প্রতি আগ্রহী করুন।
৮. গ্যাস, কৃমি, কষা বা কোন সংক্রামক রোগের কারণে তার খাদ্যে অরুচি হয়েছে কিনা তা সনাক্ত করে দরকারি ব্যবস্থা নিন।
তথ্যসূত্রঃ টিংটংটিউবহেলথ










