Author: Hello Bangla News

  • ২০২৩-২০২৪ বাজেটে দাম কমছে ইন্টারনেটের

    ২০২৩-২০২৪ বাজেটে দাম কমছে ইন্টারনেটের

    অপটিক্যাল ফাইবার ক্যাবল উৎপাদন পর্যায়ে ৫ শতাংশ অতিরিক্ত মূল্য সংযোজন কর অব্যাহতি প্রদানের প্রস্তাব করা হয়েছে ২০২৩-২৪ অর্থবছরের বাজেটে। এ প্রস্তাবের কারণে ইন্টারনেটের দাম কমবে।

    বৃহস্পতিবার দুপুরে জাতীয় সংসদে ২০২৩-২০২৪ অর্থবছরের জন্য প্রস্তাবিত জাতীয় বাজেট পেশ করার সময় এ প্রস্তাব করেন অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল। প্রস্তাবিত বাজেটে অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল বলেন, অপটিক্যাল ফাইবার ক্যাবল উৎপাদন পর্যায়ে ৫ শতাংশের অতিরিক্ত মূল্য সংযোজন কর অব্যাহতি প্রদানের মেয়াদ ২০২৪ সালের ৩০ জুন পর্যন্ত নির্ধারণের প্রস্তাব করছি। ব্যবসা বাণিজ্যের পরিবেশ অধিকতর সহজীকরণ, আমদানি বিকল্প পণ্য উৎপাদন এবং স্থানীয় উৎপাদন পর্যায়ে করভার লাঘব করার লক্ষ্যে এ প্রস্তাব পেশ করা হয়েছে। এ প্রস্তাবের কারণে ইন্টারনেটের দাম কমবে।

    উল্লেখ্য, ‘উন্নয়ন অগ্রযাত্রায় দেড় দশক পেরিয়ে স্মার্ট বাংলাদেশের অভিমুখে’ এই শিরোনামকে সামনে রেখে ২০২৩-২৪ অর্থবছরের জন্য ৭ লাখ ৬১ হাজার ৭৮৫ কোটি টাকার জাতীয় বাজেট পেশ করছেন অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল। যা চলতি অর্থবছরের সংশোধিত বাজেটের চেয়ে ১ লাখ ১ হাজার ২৭৮ কোটি টাকা বেশি।

    তথ্যসূত্রঃ বাংলাদেশ বাজেট ২০২৩-২৪

  • ভারতে ট্রেন দুর্ঘটনায় প্রাণহানিতে শেখ হাসিনার শোক প্রকাশ

    ভারতে ট্রেন দুর্ঘটনায় প্রাণহানিতে শেখ হাসিনার শোক প্রকাশ

    হ্যালো বাংলা ডেস্ক: প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আজ ভারতের ওড়িশ্যায় ট্রেন দুর্ঘটনায় দুই শতাধিক মানুষের প্রাণহানিতে গভীর শোক ও দুঃখ প্রকাশ করেছেন।

    শনিবার (৩ জুন) প্রধানমন্ত্রীর সহকারী প্রেস সচিব এ বি এম সরওয়ার-ই-আলম সরকার এ তথ্য জানিয়েছেন।

    শুক্রবার তিনটি ট্রেনের মধ্যে সংঘর্ষের ফলে সৃষ্ট এই দুর্ঘটনায় কমপক্ষে ২৮০ জন নিহত এবং ৯০০ জনের বেশি আহত হয়েছে।

    চেন্নাইগামী শালিমার-চেন্নাই সেন্ট্রাল করোমন্ডল এক্সপ্রেস লাইনচ্যুত হলে এই ভয়াবহ দুর্ঘটনা ঘটে। এটির সংলগ্ন ট্র্যাকের একটি পণ্যবাহী ট্রেনের সঙ্গে সংঘর্ষ হয়, যার ফলে করোমন্ডেল এক্সপ্রেসের পিছনের বগি তৃতীয় ট্র্যাকে চলে যায়।

    তৃতীয় ট্র্যাকে বিপরীত দিক থেকে আসা বেঙ্গালুরু-হাওড়া সুপারফাস্ট এক্সপ্রেস লাইনচ্যুত কোচগুলোর সাথে ধাক্কা খায়।

    সূত্র: বাসস

  • গরুর মাংসের কালা ভুনা

    গরুর মাংসের কালা ভুনা

    উপকরণ:

    গরুর মাংস :   দেড় কেজি, পেয়াজ বেরেস্তা-দুই কাপ, আদা   বাটা-দুই টেবিল চামচ,

    রসুন বাটা-দুই টেবিল চামচ, টক দই-এক কাপ, ডার্ক সয়াসস-দুই টেবিল চামচ, হলুদগুঁড়া-হাফ চা চামচ, ধনিয়া গুঁড়া-এক টেবিল চামচ, শুকনা মরিচ-দুই টেবিল চামচ, কিউব করে কাটা পেয়াজ-এক কাপ, জায় ফল গুড়া-হাফ চা চামচ, জয়এি  গুড়া- হাফ চা চামচ, গরম মশলা গুড়া-এক চা চামচ, কালো গোলমরিচ গুড়া-হাফ চা চামচ, দাড়চিনি আস্ত-তিন টুকরা, তেজপাতা-তিন টা, রসুন কুচি-দেড় টেবিল চামচ, আস্ত শুকনা মরিচ-সাত/ আট টা, সরিষার তেল-আধা কাপ, লবন: স্বাদ মত।

    গরুর মাংসের কালা ভুনা

    প্রনালি: ভালোমত ধুয়ে পানি ছাড়িয়ে নিয়ে গরুর মাংসের সঙ্গে হলুদ, মরিচ, ধনিয়া গুড়া, আদা, রসুন, ডার্ক সয়াসস, টক দই, পেয়াজ বেরেস্তা, জয়ফল, জয়এি গুড়া, গোলমরিচ গুড়া,গরম মশলা গুড়া, লবন , চার টেবিল চামচ তেল এক সঙ্গে ভালো ভাবে হাত দিয়ে মাখাতে হবে। এক কাপ পানি দিয়ে মাঝারী  আঁচে ঢাকনা দিয়ে রান্না  করতে হবে।  কিছু ক্ষণ পরপর নাড়তে হবে। মাংসে  পানি উঠবে, আর পানি দিতে হবে না।  মাংসে সামান্য কিছু পানি থাকা অবস্থায়  কষানো হলে নামিয়ে রাখতে হবে।

    এখন একটা কড়াইতে বাকী সরিষার তেল গরম করে আস্ত দাড়চিনি তিন টুকরা, তেজপাতা তিন টি,  শুকনা মরিচ ছয় সাতটি, এবং কিউব করে কাটা পেয়াজ  দিয়ে  ভেজে নিতে হবে। পেয়াজ লালচে হয়ে এলে রান্না করা মাংস ঢেলে দিয়ে নাড়তে হবে যাতে নীচে লেগে না যায়। এর মধ্যেই মাংস সিদ্ধ হয়ে আসবে। নাড়তে নাড়তে কালো রং টা চলে আসলে ঝোল মাখা মাখা হলে নামিয়ে নিতে হবে। বাটিতে ঢেলে উপরে বেরেস্তা ছিটিয়ে পরিবেশন করতে হবে।  গরম ভাত,  পোলাও, রুটি বা পরোটার সাথে খেতে দারুণ লাগবে মজাদার গরুর কালা ভুনা।

    রেসিপি দিয়েছেন : রাজিয়া স্মৃতি

  • বলিউড বাদশা শাহরুখ খান ৬ হাজার কোটি টাকা সম্পত্তির মালিক

    বলিউড বাদশা শাহরুখ খান ৬ হাজার কোটি টাকা সম্পত্তির মালিক

    হ্যালো বাংলা ডেস্ক: বলিউড বাদশা শাহরুখ খান বর্তামানে ৬ হাজার কোটি টাকা সম্পত্তির মালিক। শাহরুখের অভিনয় জীবনের দ্বিতীয় ছবি ১৯৯২ সালে মুক্তি পায় ‘রাজু বন গিয়া জেন্টেলম্যান’। সেই ছবিতে এই তারকা পেয়েছিলেন ২৫ হাজার টাকা। অথচ চলতি বছর মুক্তি পাওয়া ‘পাঠান’ সিনেমা থেতে শাহরুখ পেয়েছেন ২০০ কোটি টাকা। শুধু অভিনয় নয় বিভিন্ন ধরণের রিয়্যালিটি শো ও নিজের অন্যান্য ব্যবসা থেকে তিনি অর্থ উপার্জন করে থাকেন। তার পরেও তাঁর জীবনের আছে সাফল্য-ব্যর্থতা। অবশ্য তারকাদের জীবনে এমনটাই। চলতি বছরে শাহরুখ খানের জীবনেও এসেছে সাফল্য, রয়েছে ব্যর্থতা। এক দিকে তাঁর অভিনীত ‘পাঠান’ বক্স অফিসে ব্লকবাস্টার হয়েছে। আগামী সেপ্টেম্বরে মুক্তি পাবে ‘জওয়ান’। এদিকে আইপিএলে তাঁর দল কলকাতা নাইট রাইডার্সের ব্যর্থ। কিন্তু তা সত্ত্বেও শাহরুখের উপার্জন ঊর্ধ্বমুখী। কী ভাবে এই বিপুল পরিমাণ সম্পত্তি তৈরি করলেন শাহরুখ। এটাই জানা যাবে এই প্রতিবেদনে।

    সিনেমা থেকে আয়:

    তিন দশকেরও বেশি সময় ধরে ফিল্ম ইন্ডাস্ট্রিতে রয়েছেন শাহরুখ। শুরু থেকে তাঁর অভিনীত কয়েকটি ছবির দিকে তাকালে বোঝা যাবে, কী ভাবে সময়ের সঙ্গে শাহরুখ তাঁর পারিশ্রমিক বাড়িয়েছেন। ১৯৯২ সালে মুক্তি পায় অভিনেতার প্রথম ছবি ‘দিওয়ানা’। ওই একই বছরে মুক্তি পেয়েছিল ‘রাজু বন গিয়া জেন্টেলম্যান’। এই ছবির জন্য শাহরুখের পারিশ্রমিক জানলে অনেকেই বিস্মিত হতে পারেন। ‘রাজু…’র জন্য শাহরুখ পেয়েছিলেন ২৫ হাজার টাকা। এর পর শাহরুখের সব থেকে বড় ব্লকবাস্টার ছিল ‘দিলওয়ালে দুলহনিয়া লে জায়েঙ্গে’। সূত্র বলছে, এই ছবিতে শাহরুখের পারিশ্রমিক ছিল ৩০ লক্ষ টাকা। শাহরুখের সাম্প্রতিক ছবি ‘পাঠান’-এ পারিশ্রমিক এবং ছবি থেকে প্রাপ্ত লভ্যাংশের নিরিখে প্রযোজক যশরাজ ফিল্মসের সঙ্গে চুক্তি হয়েছিল। এই ছবির জন্য বাদশার পারিশ্রমিক ধার্য হয়েছে ২০০ কোটি টাকা!

    ব্যবসা থেকে আয়:

    অভিনয়ের জগতে শাহরুখ যেমন সফল ব্যবসায়ীক ক্ষেত্রেও তিনি অতটাই দক্ষ।  নিজস্ব প্রযোজনা সংস্থা এবং ভিএফএক্স কোম্পানি রয়েছে, যার নাম রেড চিলিজ় এন্টারটেনমেন্ট। ২০২২ সালের একটি সমীক্ষা বলছে, এই সংস্থার বর্তমান বাজার মূল্য ১০০ থেকে ৫০০ কোটি টাকার মধ্যে। এ ছাড়াও একটি জনপ্রিয় ছাত্র প্রশিক্ষণ অ্যাপেও বিনিয়োগ করেছেন শাহরুখ। একটি অ্যামিউজ়মেন্ট পার্কেরও তিনি অংশীদার। এ বারে আসা যাক তাঁর সব থেকে উল্লেখযোগ্য বিনিয়োগ প্রসঙ্গে। আইপিএল-এ কলকাতা নাইট রাইডার্সের মালিক শাহরুখ। এ ছাড়াও অভিনেতা দক্ষিণ আফ্রিকার টি টোয়েন্টি লিগের অন্তর্গত ‘কেট টাউন নাইট রাইডার্স’-এর মালিক। প্রত্যেক বছর, টি টোয়েন্টি লিগ থেকে এক বড় অংশের মুনাফা অর্জন করেন শাহরুখ। এখানেই শেষ নয়। বিভিন্ন অনুষ্ঠানে বিশেষ করে বিয়ের অনুষ্ঠানেও পারফর্ম করেন শাহরুখ। ইন্ডাস্ট্রি সূত্রে খবর, কোনও অনুষ্ঠানের অংশ হতে বা সেখানে পারফর্ম করার জন্য শাহরুখ ৩ কোটি টাকা পারিশ্রমিক নেন।

    বিজ্ঞাপন থেকে আয়:

    কেরিয়ারের শুরু থেকেই দেশের বিজ্ঞাপনে অন্যতম পছন্দের মুখ শাহরুখ খান। বছরে প্রায় ১০ থেকে ১২টি দেশের প্রথম সারির পণ্য এবং পরিষেবার হয়ে প্রচার করেন শাহরুখ। প্রতি বিজ্ঞাপনে বাদশার পারিশ্রমিক ৫ থেকে ১০ কোটি টাকার মধ্যে সিমাবদ্ধ থাকে।

    অনুষ্ঠান সঞ্চালনা থেকে আয়:

    শাহরুখকে বিভিন্ন সময়ে ছোট পর্দায় বিভিন্ন শোয়ের সঞ্চালকের আসনে বসেছেন। জনপ্রিয় গেম শো ‘কোন বনেগা ক্রোড়পতি’র তৃতীয় সিজ়নের সঞ্চালক ছিলেন শাহরুখ। এ ছাড়াও তাঁর ঝুলিতে ছিল ‘কেয়া আপ পাঁচয়ি পাস সে তেজ় হ্যায়’ এবং ‘জোর কা ঝটকা’ রিয়্যালিটি শো। বিভিন্ন সমীক্ষায় দাবি করা হয়েছে, এই মুহূর্তে কোনও শোয়ের অংশ হতে প্রতি এপিসোডে বাদশা আড়াই কোটি টাকা নিয়ে থাকেন।

    বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম থেতে আয়:

    সময়ের সঙ্গে বিজ্ঞাপনের ক্ষেত্রে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম টিভির সঙ্গেই প্রথম সারিতে জায়গা করে নিয়েছে। শাহরুখও সেখানে পিছিয়ে নেই। বিভিন্ন ব্র্যান্ডের জন্য সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে তিনি প্রচার করে থাকেন। ইনস্টাগ্রাম এবং টুইটারে শাহরুখের ঈর্ষণীয় অনুসরণকারী যে কোনও বড় ব্র্যান্ডের কাছে পাখির চোখ। সূত্রের দাবি, কোনও ব্র্যান্ডের হয়ে শাহরুখ তাঁর সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যমের পাতায় একটি পোস্ট করা জন্য ৮০ লক্ষ থেকে ১ কোটি টাকা পর্যন্ত পারিশ্রমিক নিয়ে থাকেন।

    প্রাসাদসম বাড়ি ও বাগানবাড়ির মূল্য:

    যে কোনও পর্যটকের কাছে প্রথম মুম্বই ভ্রমণ মানেই অন্যতম আকর্ষণ শাহরুখের বাড়ি ‘মন্নত’। ২০২৩ সালের একটি সমীক্ষা অনুযায়ী, বান্দ্রার এই প্রাসাদোপম বাড়িটির বাজারদর ২০০ কোটি টাকা। মহারাষ্ট্রের আলিবাগে শাহরুখের নিজস্ব বাগানবাড়ি রয়েছে। এই বাড়িটির দাম প্রায় ১৫ থেকে ২০ কোটি টাকার মধ্যে। দেশের বাইরেও অভিনেতার একাধিক বাড়ি রয়েছে। যেমন দুবাইয়ের পাম জুমেইরাতে শাহরুখের একটি নিজস্ব বাড়ি রয়েছে, ভারতীয় মুদ্রায় যার দাম ১০০ কোটি টাকা। এ ছাড়াও লন্ডনে শাহরুখের একটি বাড়ি রয়েছে। ভারতীয় মুদ্রায় এই বাড়িটির বর্তমান বাজারদর ১৮৫ কোটি টাকা!

    সূত্র : আনন্দবাজার পত্রিকা

  • ভারতে ভয়াবহ ট্রেন দুর্ঘটনায় নিহত ২৮৮ জন

    ভারতে ভয়াবহ ট্রেন দুর্ঘটনায় নিহত ২৮৮ জন

    হ্যালো বাংলা ডেস্ক: ভারতের ভয়াবহ ট্রেন দুর্ঘটনায় নিহতের সংখ্যা বেড়ে ২৮৮ হয়েছে। আহত হয়েছে ৯শরও বেশি। দুর্ঘটনাটি ঘটেছে ওড়িশা রাজ্যের বালাসোরে।

    গতকাল শুক্রবার সন্ধ্যা সাতটার দিকে ওড়িশার বালাসোর জেলার বাহাঙ্গাবাজার এলাকায় তিনটি ট্রেনের সংঘর্ষে ভয়াবহ এ দুর্ঘটনা ঘটে।

    ট্রেনের ভেতর থেকে একের পর এক মরদেহ উদ্ধার করা হচ্ছে। ভেতরে আটকা পড়ে আছে অনেকেই। তাই নিহত মানুষের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

    এদিকে ওডিশার মুখ্যমন্ত্রী নবীন পট্টনায়েক রাজ্যে শনিবার এক দিনের শোক ঘোষণা করেছেন । তিনি দুর্ঘটনাস্থলও পরিদর্শন করেছেন ।

    জানা গেছে, কলকাতাগামী বেঙ্গালুরু-হাওড়া সুপারফাস্ট এক্সপ্রেস ট্রেনটি ওডিশার বাহাঙ্গাবাজার এলাকায় লাইনচ্যুত হয়ে পড়েছিল। চেন্নাইগামী শালিমার-চেন্নাই সেন্ট্রাল করমন্ডল এক্সপ্রেস ট্রেনটি ওই এলাকা পেরিয়ে যাওয়ার সময় লাইনচ্যুত ট্রেনের বগির সঙ্গে সংঘর্ষ হয়। এতে ভয়াবহ দুর্ঘটনা ঘটে। এ সময় করমন্ডল এক্সপ্রেস ট্রেনটির কয়েকটি বগি একটি পণ্যবাহী ট্রেনের বগির ওপরও আছড়ে পড়ে।

    দুর্ঘটনার পর উদ্ধারকাজে নেমেছে ভারতের ন্যাশনাল ডিজাস্টার রিলিফ ফোর্সের (এনডিআরএফ) সদস্যরা। আরো রয়েছে ওড়িশা ডিজাস্টার র‌্যাপিড অ্যাকশন ফোর্স (ওডিআরএএফ)।

    দুর্ঘটনার পর পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণে রয়েছেন পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। এক টুইট বার্তায় তিনি বলেন, রাজ্যের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের নিয়ে ঘটনা পর্যবেক্ষণ করছেন।

    এদিকে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি দুর্ঘটনার খবরে টুইটারে দুঃখ প্রকাশ করে বলেছেন, ‘ওড়িশায় ট্রেন দুর্ঘটনায় আমি মর্মাহত।’

    মোদি দুর্ঘটনায় নিহত ব্যক্তিদের প্রতি পরিবারকে ২ লাখ রুপি দেয়ার ঘোষণা দিয়েছেন। পাশাপাশি আহত ব্যক্তিদের ৫০ হাজার রুপি করে সহায়তা দেয়ার কথা বলেছেন তিনি।

    এ ছাড়া রেলমন্ত্রী অশ্বিনী বৈষ্ণব নিহত ব্যক্তিদের পরিবারকে ১০ লাখ রুপি ও গুরুতর আহত ব্যক্তিদের ২ লাখ রুপি দেয়ার ঘোষণা দিয়েছেন ।

    ভারতের রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মু দুর্ঘটনায় নিহত ব্যক্তিদের প্রতি শোক ও আহত ব্যক্তিদের প্রতি সমবেদনা প্রকাশ করে টুইট করেছেন ।

    সর্বশেষ এ দুর্ঘটনাকে ভারতে সাম্প্রতিক বছরগুলোর মধ্যে সবচেয়ে ভয়াবহ ট্রেন দুর্ঘটনা হিসেবে আখ্যায়িত করা হচ্ছে।  এ দুর্ঘটনার কারনে এ পর্যন্ত ১৮টি দূরগামী ট্রেন যাত্রা বাতিল করা  হয়েছে।

    সূত্র : বাসস

  • বাজেটে সামাজিক নিরাপত্তা খাতে ১৬.১৮ শতাংশ বরাদ্দ দেয়া হয়েছে: হাছান মাহমুদ

    বাজেটে সামাজিক নিরাপত্তা খাতে ১৬.১৮ শতাংশ বরাদ্দ দেয়া হয়েছে: হাছান মাহমুদ

    হ্যালো বাংলা ডেস্ক: আওয়ামী লীগের যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক এবং তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ আগামী ২০২৩-২৪ অর্থবছরের জন্য প্রস্তাবিত বাজেট সম্পর্কে বলেন, বিশ্বময় মন্দা, ইউক্রেন যুদ্ধ, ডলার সংকটের কারণে অর্থনৈতিক কর্মকান্ডে শৈথিল্য আসায় বাজেট প্রণয়ন বড় চ্যালেঞ্জ ছিলো তারপরও এবারের বাজেট গত বছরের তুলনায় প্রায় ১ লাখ হাজার কোটি টাকা বেশি।  সামাজিক নিরাপত্তা খাতে মোট বাজেটের ১৬.১৮ শতাংশ বরাদ্দ দেয়া হয়েছে। আরো মানুষকে সামাজিক নিরাপত্তা বলয়ে আনার এবং এ খাতে বিভিন্ন ভাতার পরিমাণ বাড়ানোর প্রস্তাব করা হয়েছে।

    শুক্রবার দুপুরে রাজধানীর মিন্টো রোডের সরকারি বাসভবনে সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময়কালে তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী বাজেট সম্পর্কে এ প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেন।

    তথ্যমন্ত্রী আরো বলেন, ‘বাজেটের সমালোচকদের সমালোচনা বরাবরের মতোই গৎবাঁধা ও গতানুগতিক। অনেকে বাজেট ভালোভাবে না দেখেই তাড়াহুড়া করে সমালোচনায় ব্যস্ত।’

    ড. হাছান মাহমুদ বলেন, ‘আওয়ামী লীগ সরকারের টানা ১৫তম বাজেট এবং প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে ২০তম এই বাজেট ২০০৮-৯ সালের তুলনায় প্রায় ৯ গুণ বড় এবং পিপিপিতে (পারচেজিং পাওয়ার প্যারিটি) ২০০৯ সালের ১০০ বিলিয়ন ডলার জিডিপির তুলনায় এখনকার জিডিপি এক ট্রিলিয়ন  প্লাস ডলার, অর্থাৎ প্রায় ১০ গুণ বড়, যা নি:সন্দেহে দেশের অগ্রগতি ও সমৃদ্ধির পরিচায়ক।

    স্বাস্থ্য ও শিক্ষা খাতে বাজেটে বরাদ্দ বৃদ্ধির কথা উল্লেখ করে হাছান মাহমুদ বলেন, ‘এই বাজেটের সবচেয়ে বড় উল্লেখযোগ্য দিক হচ্ছে, এই অর্থ বছরেই প্রথম সার্বজনীন পেনশন ব্যবস্থা চালু করা হচ্ছে, যা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার চিন্তাপ্রসূত। কোনো রাজনৈতিক দল এ ধরণের সার্বজনীন পেনশন চালুর প্রস্তাব দেয়নি। আপনারা বিএনপির দাবি-দাওয়া জানেন। খালেদা জিয়ার স্বাস্থ্য, তার ও তারেক জিয়ার শাস্তি-মুক্তির বাইরে জনমানুষ নিয়ে তাদের কোনো দাবি থাকে না।’

    ১৮ থেকে ৫০ বছর বয়সের যে কেউ ১০ বছরের জন্যে চাঁদা দিয়ে পেনশন ব্যবস্থার আওতায় আসতে পারবে উল্লেখ করে তথ্যমন্ত্রী বলেন, পঞ্চাশের বেশি বয়স হলেও ১০ বছর চাঁদা দিয়ে পেনশনের সুযোগ রয়েছে।

    আয়কর সম্পর্কিত সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে হাছান মাহমুদ বলেন, ‘বাংলাদেশের কর ও জিডিপি’র অনুপাত দক্ষিণ এশিয়ায় সর্বনিম্ন। গত ১৪ বছরে দেশের জিডিপি প্রায় ১০ গুণ, বাজেট প্রায় ৯ গুণ বৃদ্ধি পেলেও আয়কর দেয়ার হার বেড়েছে মাত্র ৩ গুণ। ২০০৯ সালে ১১ লাখ মানুষ আয়কর দিতো, গত বছর ২৯ লাখ মানুষ আয়কর দিয়েছে। অথচ দেশে অন্তত ২ কোটি মানুষ আয়কর দিতে সক্ষম। কিন্তু মানুষ কর দেয় না। তাই করের আওতা বাড়ানো অযৌক্তিক নয়।

    ‘আইএমএফের প্রেসক্রিপশনে এ বাজেট লুটপাটের’- বিএনপির এমন সমালোচনার জবাবে সম্প্রচারমন্ত্রী বলেন, বিএনপি’র অর্থমন্ত্রী সাইফুর রহমান আইএমএফের প্রেসক্রিপশনে বাজেট দিতে প্রতিবার বাজেটের আগে প্যারিস কনসোর্টিয়ামে ছুটে যেতেন সাহায্যের জন্যে। বর্তমানে বাংলাদেশের বাজেট কোনভাবেই বিদেশি সাহায্য নির্ভর নয়। এ বাজেটে ১ লাখ কোটি টাকার কিছু বেশি বৈদেশিক ঋণ নেয়া হবে। বিএনপি লুটপাটে বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন, তারা পরপর পাঁচবার দেশকে দুর্নীতিতে চ্যাম্পিয়ন বানিয়েছিল। তাদের মুখে লুটপাটের অভিযোগ শুনলে হাসি পায়।

    বেসরকারি গবেষণা সংস্থা সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগ (সিপিডি) বাজেটকে বাস্তব বিবর্জিত বলেছে, এ সম্পর্কিত এক প্রশ্নের জবাবে তথ্যমন্ত্রী হাছান মাহমুদ বলেন, গত ১৪ বছরে সিপিডি বাজেটের প্রশংসা করতে পারেনি। এবছর তো বাজেট প্রস্তাব অধিবেশন চলমান থাকা অবস্থায়ই তারা বলেছে, এই বাজেট উচ্চাভিলাষী, বাজেট বাস্তবায়ন হবে না। অথচ বাংলাদেশের বাজেট বাস্তবায়নের গড় হার ৯৭ শতাংশ। ডলারের মূল্য না বাড়লে আমাদের মাথাপিছু আয় ৩ হাজার ডলার ছাড়িয়ে যেতো। এ সময় দেশের জিডিপি বেড়েছে, দারিদ্র্য ৪১ শতাংশ থেকে কমে ১৮ শতাংশে নেমে এসেছে। এগুলো তাদের চোখে পড়ে না। আসলে সিপিডিকে তাদের পান্ডিত্য দেখাতে হয় এবং ভুল ধরাটাই তাদের পেশা।

    ওয়ার্কাস পার্টির সভাপতি রাশেদ খান মেননের চলতি বাজেট নিয়ে সমালোচনার প্রেক্ষিতে মন্ত্রী বলেন, প্রস্তাবিত বাজেট নিয়ে আলোচনা-সমালোচনা থাকবে, ইতিবাচক সমালোচনাকে আমরা সবসময় স্বাগত জানাই।

    সূত্র : বাসস

  • রংপুরের বিখ্যাত হাড়িভাঙ্গা আমের বাগান

    রংপুরের বিখ্যাত হাড়িভাঙ্গা আমের বাগান

    হঠাত এই গরমে আম বাগানে উপস্থিত থেকে আম খেতে কেমন লাগবে ভেবে দেখুন তো! হাড়িভাঙ্গা আম গাছের উচ্চতা বেশি হয় না বরং অল্প উচ্চতায় চারিদিকে শাখা-প্রশাখা ছড়িয়ে পড়ে। মৌসুমে গাছের ঝুলন্ত পাকা আম থোকায় থোকায় ধরে থাকে, গাছতলাতেও আম পড়ে থাকতে দেখা যায়। এভাবে বিস্তীর্ণ ফলজ বাগান এতো কাছ থেকে দেখার অন্যরকম এক আনন্দানুভূতি রয়েছে।

    স্বাদে-গন্ধে জনপ্রিয় আঁশবিহীন আম হিসেবে রংপুর জেলার হাড়িভাঙ্গা আম (Haribhanga Mango) বাংলাদেশে চেনেনা এরকম মানুষ খুঁজে পাওয়া কঠিন। আকর্ষণীয় এই আমের উৎস রংপুরের মিঠাপুকুর উপজেলার খোড়াগাছের তেকানি গ্রামে। হাড়িভাঙ্গা আমের নামকরণ নিয়ে বেশ প্রচলিত এক জনশ্রুতি রয়েছে। তেকানি ও তার আশেপাশের এলাকা বরেন্দ্রপ্রবণ অঞ্চল হবার কারণে চারা গাছে পানি দেওয়ার জন্য আলাদা ব্যবস্থা করতে হতো।

    আমটির ‘ইতিহাসের’ গোড়াপত্তন করেছিলেন নফল উদ্দিন পাইকার নামের এক বৃক্ষবিলাসী মানুষ। শুরুতে এর নাম ছিল মালদিয়া। আমগাছটির নিচে তিনি মাটির হাঁড়ি দিয়ে ফিল্টার বানিয়ে পানি দিতেন। একদিন রাতে কে বা কারা ওই মাটির হাঁড়িটি ভেঙে ফেলে। ওই গাছে বিপুল পরিমাণ আম ধরে। সেগুলো ছিল খুবই সুস্বাদু। সেগুলো বিক্রির জন্য বাজারে নিয়ে গেলে লোকজন ওই আম সম্পর্কে জানতে চায়। তখন চাষি নফল উদ্দিন মানুষকে বলেন, ‘যে গাছের নিচের হাড়িটা মানুষ ভাঙছিল সেই গাছেরই আম এগুলা।’ তখন থেকেই ওই গাছটির আম ‘হাড়িভাঙ্গা আম’ নামে পরিচিতি পায়। বর্তমানে রংপুরের হাঁড়িভাঙা আমের সেই মাতৃ গাছটির বয়স প্রায় ৬৭ বছর। সেই মাতৃগাছটি আজো রংপুরের মিঠাপুকুরের খোড়াগাছের তেকানি গ্রামে মাথা উঁচু করে দাড়িয়ে আছে। প্রাচীন সেই গাছটির থেকেই হাজার হাজার কলম তৈরি করে হাড়িভাঙ্গার চারা গাছ ছড়িয়ে দেওয়া হয়েছে।

    হাড়িভাঙ্গা আমের স্বাদ ও গন্ধ অন্যান্য আমের তুলনায় ভিন্ন। আঁশহীন এই আমের উপরের অংশ বেশ মোটা ও চওড়া এবং নিচের অংশ চিকন। সাধারণত অন্যান্য আমের তুলনায় এই আম কিছুদিন পর পাকে। হাড়িভাঙ্গা পাকলেও কিছুটা সবুজ থাকে এবং হালকা হলুদাভাব বর্ণ ধারণ করে। এক একটি আমের ওজন ৪০০-৭০০ গ্রাম পর্যন্ত হয়ে থাকে। হাঁড়িভাঙা আমের একটি বিশেষ বৈশিষ্ট্য হল চামড়া কুচকে গেলেও আম সহজে পচে না। হাড়িভাঙ্গা আম খেতে হলে মৌসুমের মাঝামাঝি জুন মাস পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হয়।

    কিভাবে যাবেন

    ঢাকা থেকে বাস ও ট্রেনে রংপুর (Rangpur) জেলায় যাওয়া যায়। ঢাকা থেকে হানিফ, গ্রীন লাইন, এস আর, আগমনী, শ্যামলী, নাবিল বা টি আর পরিবহণের বাসে রংপুরে যেতে পারবেন। আবার ঢাকার কমলাপুর রেলওয়ে ষ্টেশন থেকে রংপুর এক্সপ্রেস ট্রেনে চড়েও রংপুর যাওয়া যায়। রংপুর থেকে স্থানীয় পরিবহণে মিঠাপুকুরে অবস্থিত হাড়িভাঙ্গা আমের বাগানে যেতে পারবেন।

    কোথায় থাকবেন

    রংপুর জেলায় হোটেল প্রভৃতি আবাসিক হোটেল রয়েছে।

    কোথায় খাবেন

    মিঠাপুকুরে মধ্যম মানের কিছু রেস্তোরাঁ রয়েছে। আর রংপুর জেলায় উন্নতমানের বাঙ্গালী, চাইনিজ ও ফাস্ট ফুড খাবারের রেস্তোরাঁ পাবেন। খেতে পারবেন রংপুরের শীল বিলাতি আলুর উল্লেখযোগ্য খাবার।

    তথ্যসূত্রঃ ভ্রমন ব্লগ ও উইকিওয়ান্ড

  • ২০২৩-২৪ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেট পেশ করছেন অর্থমন্ত্রী

    ২০২৩-২৪ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেট পেশ করছেন অর্থমন্ত্রী

    হ্যালো বাংলা ডেস্ক: অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল২০২৩-২৪ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেট জাতীয় সংসদে পেশ করছেন । বৃহস্পতিবার বিকেল ৩টায় জাতীয় সংসদের অধিবেশনে প্রস্তাবিত বাজেট পেশ শুরু করেন তিনি।

    আওয়ামী লীগের তৃতীয় মেয়াদে ক্ষমতায় আসার পর এটি শেষ বাজেট এবং অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামালের পঞ্চম বাজেট এটি । স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরীর সভাপতিত্বে শুরু হওয়া অধিবেশনে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা উপস্থিত ছিলেন।

    এর আগে মন্ত্রিসভার বিশেষ বৈঠকে ২০২৩-২৪ অর্থবছরের প্রস্তাবিত জাতীয় বাজেটে অনুমোদন দেয়া হয়েছে।

    জাতীয় সংসদ ভবনের মন্ত্রিসভা কক্ষে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সভাপতিত্বে মন্ত্রিসভার বিশেষ বৈঠকে প্রস্তাবিত বাজেটে অনুমোদন দেয়া হয়। অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তাফা কামাল, অন্যান্য মন্ত্রীবর্গ এবং সংশ্লিষ্ট প্রতিমন্ত্রীরা বৈঠকে যোগ দেন। ২০২৩-২৪ অর্থবছরের প্রস্তাবিত ৭ লাখ ৬১ হাজার কোটি টাকার জাতীয় বাজেট।

    সূত্র : বাসস

  • নিওনেল মেসি নিজের কাঁধে ইতিহাসের নি:শ্বাস অনুভব করছিলেন

    নিওনেল মেসি নিজের কাঁধে ইতিহাসের নি:শ্বাস অনুভব করছিলেন

    হ্যালো বাংলা ডেস্ক: বলা হয়ে থাকে নিওনেল মেসি এবার কাতার বিশ্বকাপে এসে অনেকটাই পাল্টে গেছে। অনেক পুরস্কার ও মর্যাদা পেয়েছেন কিন্তু বিশ্বকাপ শিরোপা জেতাটা অপূর্ণতাই ছিলো। কিন্তু সেটাও এবার অর্জন করে নিলেন তিনি। শুধু তাই নয় বিশ্বকাপ শুরুর আগে অনেকে যে মেসিকে দেখেছেন সেই লাজুক খেলোয়াড়টি হয়ে গেছে অনেকটা মিশুক। বিশ্বকাপ শুরুর প্রথম থেকে মেসির কাছে যে কেউ এসে সেলফি তুলতে পারতেন। মেয়েরাও তাঁর পাশে দাঁড়াতে পারছেন দ্বিধাহীন ভাবে। এই পরিবর্তনের নেপথ্যে কি ছিলো সেটাই এখন ভাবার বিষয়। তাই বিশ্বকাপ জয় যদি হয়ে থাকে একটি গল্প তাহলে তার পরিবর্তনটা ছিল অনেকটা রোমাঞ্চকর।

    ৩৫ বছর বয়সী মেসির প্রতিভা নিয়ে কোনও সন্দেহ বা বিতর্ক কোনও কালেই ছিল না, কিন্তু তার চরিত্রে একটা পরিবর্তন এসেছে। বার্সেলোনার যুব দলে খেলার সময় লিওনেল মেসি এতোটাই লাজুক ছিল যে তার সতীর্থদের এড়াতে করিডোরেই পোশাক বদল করে নিতেন । কিন্তু লিওনেল মেসি ‘এই বিশ্বকাপে ছিলেন আলাদা’ – বলছেন আর্জেন্টিনা ও অ্যাস্টন ভিলায় খেলা গোলকিপার এমিলিয়ানো মার্টিনেজ। পরে মেসিকে নিয়ে তৈরি হয়েছে ‘লিওনেল মেসি: ডেস্টিনি’ নামের  অনবদ্য এক ডকুমেন্টারি।

    বিবিসি স্পোর্ট ডকুমেন্টারিতে আর্জেন্টিনার গোলকিপার বলেন “আগে যারা জাতীয় দলে খেলতেন তাদের চেয়ে মনে হয় আমরা আক্রমণাত্মক, এখন মেসিও মনে হয় আমাদের মতো হয়ে যাচ্ছে- দুষ্টু বালক।”

    সম্প্রতি মুক্তি পাওয়া এই ডকুমেন্টারিতে আরও তারকারা লিওনেল মেসির এই ‘লাজুক বালক’ থেকে ‘ডানপিটে বেপরোয়া’ হয়ে ওঠার গল্পের কথা বলেন।

    ২০১৮ সালে যখন লিওনেল স্কালোনি যখন আর্জেন্টিনার কোচের দায়িত্ব পেলেন তখন আর্জেন্টিনার আরেক গ্রেট ডিয়েগো ম্যারাডোনা তার স্বভাবসুলভ ভঙ্গিমায় বলেছিলেন, “দারুণ লোক, কিন্তু ও তো ট্রাফিকই নিয়ন্ত্রণ করতে পারবে না। আপনি জাতীয় দলের দায়িত্ব কী করে স্কালোনিকে দেন?” আর্জেন্টিনায় অনেকেই ম্যারাডোনার সাথে একমত ছিল।

    কিন্তু স্কালোনি ছিলেন লিওনেল মেসির কোচ। স্পষ্টত, মেসিই তাকে আর্জেন্টিনার জাতীয় দলে নিয়ে এসেছেন। আর্জেন্টিনা ফুটবল অ্যাসোসিয়েশনও প্রজন্মের সেরা এই ফুটবলারকে নিজের মতো করে, নিজেদের দলে রাখতে চেয়েছেন। স্কালোনির নিয়োগের বছরখানেক আগে লিওনেল মেসির সাথে জাতীয় দলের সম্পর্ক খুব একটা ভালো যাচ্ছিল না, কোচদের সাথেও ঝামেলা হচ্ছিল।

    দক্ষিণ আফ্রিকায় ২০১০ সালে প্রতিভাবান একটি আর্জেন্টিনা দল জার্মানির বিপক্ষে কোয়ার্টার ফাইনালে হারের পর তখনকার কোচ ম্যারাডোনা লিওনেল মেসির নেতৃত্বগুণ নিয়ে সমালোচনা করেছিলেন। ২০১৮ সালের বিশ্বকাপেও হোর্হে সাম্পাওলির অধীনে আর্জেন্টিনার বিদায় হয় দ্রুতই, দ্বিতীয় রাউন্ডে, একই সাথে কোচও বিদায় নেন। এর মাঝে ২০১৬ সালে লিওনেল মেসি কোপা আমেরিকার ফাইনালে চিলির বিপক্ষে পেনাল্টি মিস করে হারের পর সাময়িক অবসরেও গিয়েছিলেন।

    আর্জেন্টিনা ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন তখন একটা ব্যাপারই নিশ্চিত করতে চেয়েছে, লিওনেল মেসি অর্থাৎ তাদের সবচেয়ে বড় তারকা যাতে খুশি থাকেন।

    লিওনেল মেসির আত্মজীবনীর লেখক গিলেম বালাগ বলেন, “এফএর একটাই লক্ষ্য ছিল, মেসির সাথে কাজ করে তার সেরাটা বের করে আনতে পারেন এমন একজন ম্যানেজার খুঁজে বের করা”।

    “স্কালোনি দায়িত্ব নিয়ে মেসিকে প্রশ্ন করেছে, ‘তোমার কী মনে হয়, কী হলে তোমার কাজ চলবে?”

    “এটা একটা পারষ্পরিক আলোচনা, আপনার কাছে বিশ্বের সেরা ফুটবলার থাকলে আপনার এটা করতেই হবে”।

    স্কালোনি ছিলেন লিওনেল মেসির কোচ, স্পষ্টত: মেসিই তাকে আর্জেন্টিনার জাতীয় দলে নিয়ে এসেছেন

    সে যা-ই হোক, স্কালোনির খুব জনপ্রিয় না হওয়া, ছোট শহরের মানুষের মতো বিনয় এবং নাক উঁচু স্বভাব না থাকাটা গুরুত্বপূর্ণ ছিল আর্জেন্টিনা স্কোয়াডের জন্য, বিশেষত মেসির জন্য।

    আর্জেন্টিনা ও ম্যানচেস্টার সিটির ফরোয়ার্ড হুলিয়ান আলভারেজ বলেন, “স্কালোনি খুবই নির্ভার, খুব সৎ এবং ছোট শহর থেকে এলে যেমন হয়। আমি এটা মেলাতে পারি কারণ আমিও এমন ছোট শহরে বড় হয়েছিলাম, তার ভেতরের মানবিক গুণ আপনি দেখতে পারেন”।

    মার্টিনেজ তার সাথে যোগ করেন, “আপনার প্রতিভাবান ফুটবলার থাকবেই কিন্তু আপনি কীভাবে তাদের চালাবেন তা জানতে হবে। এটা অনেকটা ফেরারি চালানোর মতো, আপনি যদি না জানেন কীভাবে চালাতে হয় সেটা, আপনি প্রতি কোণে ধাক্কা খাবেন”।

    “আমি স্কালোনির ব্যাপারে একটা কথাই বলতে পারি, স্কালোনি জানেন কীভাবে ফেরারি চালাতে হয়”।

    ‘ছোট আর্জেন্টিনা’ তৈরি করা:

    কাতারে লিওনেল মেসিকে এবং আর্জেন্টিনা দলকে খুশি রাখার পন্থা কী ছিল?

    লিওনেল মেসি অল্প বয়সে আর্জেন্টিনা ছাড়ার পরেও তার আর্জেন্টাইন শেকড় বিশেষত তার জন্মভূমি রোজারিওর সাথে সম্পর্ক ধরে রেখেছেন।

    ‘অ্যাঞ্জেলস উইথ ডার্ট ফেইসেস- অ্যা ফুটবলিং স্টোরি অফ আর্জেন্টিনার’ লেখক জনাথন উইলসন বলেন, “মেসি আর্জেন্টিনিয়ানদের উচ্চারণে কথা বলেন, আর্জেন্টিনিয়ান খাবার খান, আর্জেন্টিনিয়ান সিনেমা দেখেন ও আর্জেন্টিনিয়ান গান শোনেন”।

    স্কালোনি ও আর্জেন্টিনার ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন দ্রুতই লিওনেল মেসি ও তার সতীর্থদের জন্য কাতারে একটা ঘরোয়া পরিবেশ তৈরির প্রতি ঝুঁকে পড়েন। কাতার বিশ্ববিদ্যালয়ে দলটি যেখানে ছিল সেখানে একটা ‘ছোট আর্জেন্টিনা’ তৈরি করা হয়।

    স্কালোনির অধীনে শুরুর দিকে জুনিয়র সতীর্থরা আর্জেন্টাইন কার্ড গেম ট্রাকো খেলতে মেসির হোটেলের দরজায় নক দিতেন।

    এই একই খেলা কাতারেও সব জায়গায় খেলতেন মেসিরা, পান করতেন আর্জেন্টিনিয়ান চা। আরও গুরুত্বপূর্ণ বিষয় ছিল আর্জেন্টিনিয়ান গরুর মাংসের বার-বি-কিউ আসাদোস, পুরো সফরের জন্য এই মাংসের ৯০০ কেজি কাতারে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল। মেসির সাবেক সতীর্থ পাবলো জাবালেতা বলেন, “আমার মনে হয় যদি মাতে আর সুন্দর বারবিকিউ থাকে তাহলে আর্জেন্টিনার মানুষ জীবনে আর কিছু চাইবে না”।

    বালাগ ও আরাউহো দুজনই বলেন এই পন্থায় আর্জেন্টিনা মেসির সেরাটা বের করে এনেছে, বিশ্বের সেরা ফুটবলারকে এমন একটা জগতে নিয়ে যাওয়া হয়েছে যেখানে তিনি ছিলেন ১৩ বছর বয়সে, যখন তিনি বার্সেলোনা চলে যান। নেদারল্যান্ডসের বিপক্ষে ম্যাচে মেসি শৈশবের একটা প্রতিচ্ছবি দেখা যায় স্পষ্টভাবে।

    ডাচ ম্যানেজার লুই ফন হাল লিওনেল মেসির মাঠে কর্মক্ষমতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছিলেন, এটা মেসির সতীর্থদের তাঁতিয়ে তোলে এবং ঐতিহাসিক এক বৈরীতায় আগুন লাগিয়ে দেয়।

    ব্রাইটনের ম্যাক অ্যালিস্টার বলেন, “লিওকে আক্রমণ, আর্জেন্টাইন কারও সামনে এটা করা উচিৎ হবে না”।

    মেসির আবেগ প্রকাশ পায় ম্যাচের ৭৩তম মিনিটে আর্জেন্টিনার দ্বিতীয় গোলের পর লিওনেল মেসি কানের পাশে হাত নিয়ে লুই ফন হালকে দেখান, তার কর্মক্ষমতা নিয়ে করা মন্তব্যের জবাব দেন।

    লিওনেল মেসি ও আর্জেন্টিনার সাবেক তারকা ফুটবলার হুয়ান রোমান রিকোয়েলমে ভালো বন্ধু। যদিও এর আগে, রিকোয়েলমে ২০০২ সালে এক মৌসুমের জন্য বার্সেলোনায় ছিলেন বলে, সম্পর্কটা ছিল স্তুতির।

    রিকোয়েলমের সাবেক এজেন্ট মনে করিয়ে দিলেন, একবার বার্সায় দক্ষিণ আমেরিকান ফুটবলারদের জন্য আয়োজিত বারবিকিউ পার্টিতে লিওনেল মেসি রিকোয়লমের দিকে ‘এমনভাবে চেয়েছিলেন যেন যীশুকে দেখছেন’।

    আর্জেন্টিনার সাংবাদিক আরাউহো মনে করেন, নেদারল্যান্ডসের বিপক্ষে লিওনেল মেসির উদযাপন ছিল রিকোয়েলমের উদযাপন যা তিনি ক্যারিয়ারে বহুবার করেছেন, লুই ফন হাল ২০০০ এর শুরুর দিকে ছিলেন বার্সেলোনা ম্যানেজার তিনি রিকোয়েলমেকে তার পছন্দের জায়গায় খেলাননি। আরাউহো বলেন, ‘এটা মেসির থেকে অপ্রত্যাশিত’।

    তবে এটাই এই ম্যাচে মেসির লড়াকু মনোভাবের শেষ ছিল না, ম্যাচের পরে আর্জেন্টিনার মেসি নেডারল্যান্ডসের সহকারী কোচ এডগার ডেভিডসের মুখোমুখ হয়েছিলেন এরপর টানেলে সরাসরি টিভি সাক্ষাৎকারের মধ্যে হল্যান্ডের ১৯ নম্বর জার্সি ওউট ওয়েঘোর্স্টের উদ্দেশ্যে বলেন, “তুমি এদিকে চেয়ে কী দেখছো, যাও এখান থেকে”।

    আরাউহো বলেন, “লিওনেল মেসির এই কথাটা ছিল স্বত:স্ফূর্ত। এতে রোজারিওর ধাঁচ ছিল, মনে হয়েছে এটা হয়তো কারও দাদি বলছে”।

    “এটা নিশ্চিতভাবেই হালকা কোনও রাগ ছিল না”।

    বালাগ বলেন, “মেসি এমনভাবে প্রতিক্রিয়া করলেন, যে তিনি নিজেকেই হয়তো চিনতে ভুল করবেন”।

    এই রাগ প্রকাশের পেছনের গল্প মেসির শৈশবের শহর রোজারিওর সাথে জড়িয়ে, যা আর্জেন্টিনার রাজধানী বুয়েনস এইরেসের ১৮৫ মাইল দূরে অবস্থিত। বালাগ বলেন, “বিশ্বকাপে মেসির মধ্যে একটা ব্যাপার ছিল, যে লোকেদের সে পাশে পেয়েছে এরই মধ্যে সে স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করেছে”।

    মেসি হয়তো ১২ বছর বয়সে রাস্তায় খেলার সময় এমন ছিলেন, “এরপর সে বার্সেলোনায় যায় সেখানে মেসি একটা ভিন্ন মানুষ, কাতালান, আরও দূরের মানুষ, আরও শান্ত”।

    “কিন্তু তার মধ্যেই এই ব্যাপারটি রয়ে গেছে”।

    “এমন না যে মেসি ম্যারাডোনা হয়ে গেছেন কিন্তু মেসির মধ্যে যে রোজারিওর ব্যাপারটা ছিল সেটাই বিশ্বকাপে আমাদের সামনে এসেছে”।

    মেসি ওয়েঘোর্স্টের উদ্দেশ্যে ‘বোবো’ বলেন, যার অর্থ বোকা, বাচ্চারাই কেবল এই শব্দটা ব্যবহার করেন। বালাগের সাথে মার্টিনেজও একমত, মেসি যেন স্কুলের সেই শিশু যে কি না ভুলে অন্য গ্রুপের সঙ্গে পড়ে গেছে।

    অ্যাঞ্জেলস উইথ ডার্ট ফেইসেস- অ্যা ফুটবলিং স্টোরি অফ আর্জেন্টিনার লেখক জনাথন উইলসন বলেন, মেসি আসলে তাদেরও অভাব পূরণ করেছেন যারা এই বিশ্বকাপে ছিলেন না। যারা কথা বলতে পটু যেমন হাভিয়ের মাসচেরানো থাকাকালীন মেসিকে বেশি কথা বলতে হয়নি। কিন্তু কাতারে এখানে একটা শুণ্যতা ছিল।

    সাংবাদিক ক্রিশ্চিয়ান মার্টিন পুরো বিশ্বকাপ সফরেই আর্জেন্টিনার দলের সঙ্গে ছিলেন, তিনি ও লিওনেল মেসির আত্মজীবনীর লেখক বালাগ দুজনই মেসির আচরণে ধাক্কা খান, কীভাবে মেসি এই শুণ্যতা পূরণ করে দিলেন একদম প্রথম ম্যাচ থেকেই। সৌদি আরবের বিপক্ষে ২-১ গোলের হার আর্জেন্টিনা দলের দ্রুতই বিদায়ের শংকা জাগিয়ে তুলেছিল। অতীত বলে, এমন সব ম্যাচের পর লিওনেল মেসি যত কম সময় সম্ভব মাইকের সামনে কাটাতে চাইবেন কিন্তু বালাগ বলেন, এদিন মেসির মিক্সড জোন পার হতে প্রায় এক ঘণ্টা লেগে গিয়েছিল। মেসি সবাইকে বলছিলেন, “আমরা এর চেয়ে ভালো”।

    মার্টিনেজ যোগ করেন, “মেসি উপস্থিত সাংবাদিক প্রায় সবার সাথেই কথা বলেছেন, তিনি তাদের বলেন, ‘আমাদের ওপর বিশ্বাস রাখেন, আমরা আপনাদের হতাশ করবো না, আমাদের সাথে থাকুন’।

    “লিওর এই কথাগুলো খুব শক্তিশালী ছিল”।

    জাবালেটা বলেন, “আমরা মেসিকে উপভোগ করেছি, তিনি একজন যথাযথ নেতা হয়ে উঠেছেন দারুণভাবে”।

    “কঠিন সব মুহূর্তে মেসি একাই কথা বলেছেন, মেসি তার কোনও অনভিজ্ঞ ফুটবলারকে ঠেলে পাঠিয়ে দেননি, এটা দারুণ একটা বিষয় ছিল”।

    মিডিয়ার সামনে বা নেদারল্যান্ডসের বিপক্ষে ম্যাচের মতো প্র্রতিপক্ষের সামনে সামনে গিয়ে দাঁড়ানোর যে তাগিদ, এটা ছিল অনেকটা ম্যারাডোনার মতো, মেসি যেন নিজের ভেতরকার ডিয়েগোকে খুঁজে পেয়েছিলেন এই বিশ্বকাপে।

    সাংবাদিক আরোউহো অবশ্য ‘মেসি ম্যারাডোনাকে চ্যালেঞ্জ করছেন’ বা ‘লিওনেল মেসি ম্যারাডোনার মতো হয়ে উঠছেন’ এই ধারণায় বিশ্বাসী নন, তিনি মনে করেন মেসি মেসির মতো থাকতেই স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করেন, যে শৈশবে তার পরিবারের নিয়তির বোঝা নিয়ে বার্সেলোনায় এসেছিলেন কিংবা যে সুপারস্টার মেসি একটা জাতির প্রত্যাশা পূরণ করতে পারছিলেন না আগের বিশ্বকাপগুলোতে।

    তিনি বলেন, “মাঠে অনেক হাসিখুশি একটা ব্যাপার ছিল, মেসির মাথা ছিল উঁচু এবং আত্মবিশ্বাসী ছিলেন তিনি”।

    “মেসি নিজের মধ্যেই একটা গ্রহণযোগ্যতা তৈরি করে নিয়েছিলেন। সে নিজের মতো করে বিব্রত হতেও বিব্রত বোধ করতেন না, যদি সেটার কোনও মানে দাঁড়ায়”।

    “লোকে এসএমএস দিচ্ছিলেন, মেসির ওপর কি ম্যারাডোনা ভর করেছে, মেসির হয়ে কি ম্যারাডোনা কথা বলছেন? না, মেসি ম্যারাডোনা হননি, মেসি নিজের ভেতরই বেড়ে উঠেছেন”।

    “বহু বছর ধরেই মেসির ওপর পারফর্ম করার জন্য চাপ ছিল, আরও কিছু অস্পষ্ট চাপ ছিল, যেমন আরও আর্জেন্টিনিয়ান হয়ে ওঠো, আরও ম্যারাডোনার মতো হয়ে ওঠো”।

    “আমার মনে হয় মেসি এটা নিয়ে খুব একটা স্বস্তিতে ছিলেন না”।

    “এই বিশ্বকাপে দেখার মতো বিষয় ছিল লিওনেল মেসির শারীরিক স্বস্তি, পারফর্ম করার চাপ নেই, নিজের মতো থাকার স্বাচ্ছন্দ্য আছে”।

    মেসি নিজের মধ্যেই স্বস্তিতে ছিলেন। জনাথন উইলসন বলেন, “আমার মনে হয় মেসি নিজের কাঁধে ইতিহাসের নি:শ্বাস অনুভব করছিলেন, তার সময় আসছে এটা তিনি বুঝতে পারছিলেন”।

    সাংবাদিক আরাউহোর মতে, কাতারে লিওনেল মেসির সবচেয়ে দারুণ ব্যাপার ছিল শান্ত থাকা, জয়ের তীব্র আকাঙ্ক্ষা সামলে রাখা।

    “একটা মজার বিষয় হচ্ছে, ২০০৬ সালে মেসি বেঞ্চে বসেছিলেন তিনি জার্মানির বিপক্ষে কোয়ার্টার ফাইনালে খেলেননি”।

    “মেসির মধ্যে একটা বিষাদ ছিল, একটা তাগিদ ছিল, শিশুসুলভ কিছু ব্যাপার ছিল যা আমরা কাতারে দেখেছি”।

    “মানুষের আবেগের পরিপক্ক হয়ে ওঠার চূড়ান্ত এক রূপ দেখেছি।”

    “প্রায় দুই দশকের ক্যারিয়ারে এই বেড়ে ওঠা দেখাটা আসলেই দারুণ”।

    এবার কী তবে মেসির বয়স হলো, তিনি কি প্রয়াত ম্যারাডোনার সংস্পর্শ পেয়েছেন, তিনি কি রোজারিওতে ফেলে আসা ছোট মেসিকে ফিরে পেয়েছেন। যাই চলুক না কেন মেসির মনে মধ্যে মধ্যপ্রাচ্যে সেটা তাকে সাহায্য করেছে জয়ী মেডেলটি জিততে।

    মার্টিনেজ বলেন, “এই বিশ্বকাপের পর আমার মনে হয়, মেসি ফুটবলকে সম্পূর্ণ করেছে”।

    সূত্র : বিবিসি বাংলা

  • রেসিপি: গুলাপ জামুন

    রেসিপি: গুলাপ জামুন

    মিষ্টি সাবর প্রিয় একটি খাবার। তাই যে কোন উৎসব আমাদের মিষ্টি চাই। কিন্তু ছানা দিয়ে বানানো মিষ্টি, অনেকের কাছেই কঠিন। সঠিকভাবে মিষ্টি না বানাতে পারার কারণে, অনেকেই না চাইতেও বেছে নিচ্ছেন বিভিন্ন দোকানের মিষ্টি। আজকের রেসিপিটি মূলত তাদের জন্য। যারা মিষ্টি পছন্দ করেন কিন্তু বাইরের অস্বাস্থ্যকর পরিবেশের মিষ্টি চান না।

    গুলাপ জামুন তৈরির উপকরণ :

    গুড়া দুধ -৩/৪ কাপ, ময়দা -১/২ কাপ, বেকিং পাউডার -২ চা চামচ, ডিম-১টি, পানি -২ টেবিল চামচ, চিনি-চামচ, তেল-ভাজার জন্য, পানি -২ কাপ, চিনি- ২ কাপ, এলাচ -৪ টি।

    রেসিপি: গুলাপ জামুন

    প্রস্তুত প্রণালী :

    পাতিলে ২ কাপ পানি, ২ কাপ চিনি দিয়ে, ৪টি এলাচ দিয়ে একটি পাতলা সিরা তৈরি করি, একটা ছোট বাটিতে ১টি ডিম,  ১/২টেবিল চামচ তেল, চিনি ১ টেবিল চামচ ও ১ টেবিল চামচ পানি দিয়ে খুব ভালো করে দিয়ে ফেটিয়ে নিতে হবে।  তারপর বড় একটি পাত্রে ফুল ক্রিম গুড়া দুধ, ময়দা, বেকিং পাউডার ঢেলে নিন। এবারে ডিমের মিশ্রণটি দিয়ে ময়দা গুলো মাখিয়ে নিতে হবে। ময়দার খমির দিয়ে গোল গোল করে মিষ্টি বানিয়ে একটি প্লেটে রাখুন। তারপর ডুবো তেলে মিষ্টি গুলো ভেজে চিনির শিরার মধ্যে দিতে হবে। মনে রাখতে হবে, মিষ্টিগুলো সিরায় দেবার সময় সিরা এবং মিষ্টি দুটোই গরম থাকবে। চুলা বন্ধ করে ঢেকে দেই। ৭ থেকে ৮ ঘন্টা পরে পছন্দমত সাজিয়ে পরিবেশন করি।

    রেসিপি দিয়েছেন: খালেদা ইয়াসমিন রুপা, ডিজিটাল সেবা ঘর