Author: Hello Bangla News

  • ওয়াইফাই রাউটার কিনবেন? এই ৬ টি ভুল এড়িয়ে চলুন

    ওয়াইফাই রাউটার কিনবেন? এই ৬ টি ভুল এড়িয়ে চলুন

    কর্মক্ষেত্র হোক বা বিনোদন, জীবনের প্রতিটি পদে মানুষ এখন ভার্চুয়াল জগতের ওপর নির্ভরশীল। আর দৈনন্দিন জীবনে ঘরে বসেই অবাধে সেই ইন্টারনেট ব্যবহারের সুযোগ করে দিচ্ছে ওয়াইফাই রাউটার। প্রতিটি বাসা এবং অফিসে রাউটার এখন অত্যন্ত প্রয়োজনীয়। করোনা পরবর্তী সময়ে এর গুরুত্ব যেন আরও বহুগুণে বেড়ে গেছে। ফলশ্রুতিতে বেড়েছে বেচাকেনার হার। ভালো ইন্টারনেট পরিষেবার জন্য একটি ভালো ওয়াইফাই রাউটারের কোনো বিকল্প নেই। ওয়াইফাই রাউটার কেনার সময় প্রায়ই আমরা কিছু সাধারন ভুল করে থাকি। এ রকম ছয়টি ভুল না করলে ওয়াইফাই কেনার বিষয়টি অনেকটাই সহজ হয়।

    ওয়াইফাই এক্সটেন্ডারের সাথে ওয়াইফাই নেটওয়ার্ক এর পার্থক্য বুঝতে না পারা

    অনেক সময়ই দেখা যায় পুরনো ওয়াইফাইটি বদলে ফেলার প্রয়োজন হলেও আমরা তা করতে চাই না। সবগুলো ডিভাইসে সংযোগ না পাওয়া, প্রায় সময়ই সংযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যাওয়া, গেম সেশন শেষ হওয়ার আগেই টাইম আউট হওয়া- এসবই রাউটার পরিবর্তনের আভাস দেয়। কিন্তু অনেকেই ওয়াইফাই এক্সটেন্ডার দিয়ে এসব সমস্যা পাশ কাটাতে চায়। ওয়াইফাই এক্সটেন্ডার দিয়ে এসব সমস্যার একটি বা দুটি সমাধান করা যায়। কিন্তু পুরোপুরি সমাধানের জন্য রাউটার কেনাই সেরা সিদ্ধান্ত।

    কম্বো মডেম বা রাউটার ইউনিট কেনা

    ওয়াইফাই রাউটার/ইন্টারনেট মডেম ইউনিটের সাথে বেশিরভাগ মানুষই পরিচিত। এই ইউনিটের সংমিশ্রন অনেক লোকের জন্য কাজ করতে পারে তবে এক্ষেত্রে কিছু সমস্যাও থাকে। সবচেয়ে বড় বিষয় হচ্ছে যে পরিমান অর্থ ব্যয় করা হয় তা দিয়ে সেরা রাউটার বা মডেম পাওয়া যায় না। আরো একটি সমস্যা হচ্ছে এই ডিভাইসটি একটি নির্দিষ্ট জায়গায় একেবারে সেট করে নিতে হয়। অর্থাৎ পুরনো বাড়ি ছেড়ে নতুন বাড়িতে গেলে তা সহজেই নিয়ে যাওয়া যায় না।

    এছাড়াও ক্যাবল মডেম এবং ওয়াইফাইয়ের সংমিশ্রন থাকলে এর ক্যাবল মডেমের অংশটি কোন ফাইবার কোম্পানি অথবা ইন্টারনেট নেই এমন স্থানে কাজ করবে না। এছাড়া ক্যাবল কোম্পানি নতুন ডিওসিএসআইএস মানদন্ডে উন্নীত হলেও একই ধরনের সমস্যা দেখা দিবে। এক্ষেত্রে একটি ভালো স্ট্যান্ড এলোন রাউটারে বিনিয়োগ করলে ভালো ফলাফল পাওয়া যাবে। নির্দিষ্ট কিছু বিশেষ পরিস্থিতিতে রাউটার/মডেম ইউনিটের কম্বিনেশন উপকারী হলেও সবার জন্য তা নয়।

    নতুন বা আপগ্রেড রাউটার না কেনা

    রাউটার কেনার ক্ষেত্রে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হচ্ছে বাজারে যে নতুন রাউটার এসেছে তা কেনা। পুরনো মডেলের নতুন রাউটার কেনা এক অর্থে অর্থেরই অপচয়। নতুন বক্সে থাকা পুরনো মডেলের রাউটারটি মূলত পাঁচ বছর আগের প্রযুক্তির। ফলে এই রাউটার কিনলে সেখানে কখনোই নতুন ওয়াইফাই প্রযুক্তি থাকবে না। প্রতি তিন থেকে পাঁচ বছর অন্তর ওয়াইফাই রাউটার হালনাগাদ করা উচিত। তাই যদি প্রথম কেনা রাউটারটিই যদি পাঁচ বছর আগের প্রযুক্তির হয় তাহলে এমনিই ওয়াফাই প্রজন্মের কার্ভে পিছিয়ে থাকবেন আপনি।

    তাই ওয়াইফাই রাউটার কেনার সময় শুধুমাত্র রিভিউ এবং রেটিংয়ে কান দিলে হবে না; এটি কখন তৈরি করা হয়েছে সে বিষয়ের দিকেও খেয়াল রাখতে হবে।

     ওয়াইফাই কভারেজ এরিয়া মাথায় না রাখা

    শুধুমাত্র একটি ডিভাইসে সংযোগ দেয়ার জন্য কেউ কখনো রাউটার কেনে না। অনেকগুলো ডিভাইসে ব্যবহারের জন্যই তা ব্যবহার করা হয়। এক্ষেত্রে অনেকেই বলে থাকেন বাড়ির কিছু কিছু জায়গায় তারা ওয়াইফাই সংযোগ পাচ্ছেন না। এক্ষেত্রে ওয়াইফাই মেশ সিস্টেম কিনে নেয়া যায় যা বাড়ির প্রতিটি কোনা কভার করবে।

     স্মার্ট হোম চাহিদা এড়িয়ে যাওয়া

    যখন নতুন রাউটার কেনার বিষয়টি চিন্তা করা হয় তখন শুধুমাত্র স্মার্ট টিভি অথবা ফোনের বিষয়টিই ভেবে থাকি আমরা। তবে এক্ষেত্রে বাসায় থাকা ভিডিও ডোরবেল, স্মার্ট ক্যামেরা, স্মার্ট প্লাগ ও স্মার্ট স্পিকারের মতো অন্যান্য হোম নেটওয়ার্কের কথাও মাথায় রাখা উচিত।

    একটি ভালো আধুনিক রাউটার এমনভাবে তৈরি থাকে যা শুধুমাত্র ল্যাটপট ও স্মার্টফোনের মতো গুটিকয়েক ডিভাইসের সংযোগে সীমাবদ্ধ থাকে না। স্মার্ট হোম অ্যাপ্লায়েন্সের বিষয়টি সেখানে অন্তর্ভূক্ত থাকে।

     অতি সাধারন বা অতি টেকনিক্যল রাউটার বাছাই করা

    কয়েক বছর ধরে রাউটার নির্মাতারা বিশেষ করে মেশ নেটওয়ার্ক তৈরি করে আসছে তারা ব্যবহারীরর অভিজ্ঞতাকে আরো সহজ করার চেষ্টা করছে। নেটওয়াার্ক প্রযুক্তি সম্পর্কে খুব বেশি কিছু জানা না থাকলে সেক্ষেত্রে মেশ রাউটারের মতো রাউটার প্লাটফর্ম বাছাই করা খুব ভুল কিছু নয়। বেশিরভাগই কাস্টম ভার্চুয়াল ল্যানস সেট আপ করতে, রাউটারে স্টার্ট আপ স্ক্রিপ্ট অথবা সফটওয়্যার চালাতে অথবা এসএসএইচ টানেল করতে চায় না। তবে কেউ যদি এধরনের কিছুতে আগ্রহি হয় তাহলে ইয়েরোর মতো ইন্টারফেস সেটআপ নিলে হতাশ হতে হবে।

    আর একটি মেশ প্লাটফর্ম চাইলে এএসইউএস জেনওয়াইফাই প্লাটফর্মের বিষয়টি ভাবা যেতে পারে।
    সূত্রঃ টেকশহর

  • দ্বিতীয় দিন শেষে হাতে ৯ উইকেট রেখে বাংলাদেশ এগিয়ে ৩৭০ রানে

    দ্বিতীয় দিন শেষে হাতে ৯ উইকেট রেখে বাংলাদেশ এগিয়ে ৩৭০ রানে

    হ্যালো বাংলা ডেস্ক: মিরপুর টেস্টের দ্বিতীয় দিন সকালটা দুর্দান্ত বোলিং করেছে আফগানিস্তানের বোলাররা। ৫ উইকেটে ৩৬২ রান নিয়ে দ্বিতীয় দিন শুরু করে বাংলাদেশ। কিন্তু আর মাত্র ২০ রান যোগ করেই শেষ ৫ উইকেট হারিয়ে ৩৮২ রানে অলআউট হয়ে যায় বাংলাদেশ দল। এর পর পাল্টা আঘাত হানে বাংলাদেশের বোলাররা। ১৪৬ রানেই গুটিয়ে দেয় আফগানিস্তানকে। ইবাদত নিয়েছেন ৪ উইকেট। শরীফুল, মিরাজ ও তাইজুল প্রত্যেকে নেয় ২ টি করে উইকেট।

    বাংলাদেশ দ্বিতীয় ইনিংসে এক উকেট হারিয়ে করেছে ১৩৪ রান। দ্বিতীয় দিনশেষে এগিয়ে গেছে ৩৭০ রাসে।

    প্রতিপক্ষকে ফলো-অন করানোর সুযোগ পেয়েছিল বাংলাদেশ, লিড ছিল ২৩৬ রানের। প্রথম ইনিংসে ৩৯ ওভার করতে হলেও গরমের কথা ভেবেই হয়তো আবারও ব্যাটিংয়ে নামে তারা। মাহমুদুল হাসান দ্রুতগতিতে ১৭ রান করার পর থামলেও নাজমুল ও জাকির ইনিংস গড়েছেন দারুণভাবে। দুই বাঁহাতিই ফিফটি পেয়েছেন, দুজনই অপরাজিত ৫৪ রানে। দুজনের জুটি অবিচ্ছিন্ন ১১৬ রানে। দ্বিতীয় ইনিংসে ৯ উইকেট হাতে রেখে বাংলাদেশ এগিয়ে ৩৭০ রানে।

    প্রথম ইনিংসে ব্যর্থ হয়েছিলেন, এবার দারুণ ইতিবাচক জাকির পূর্ণ করলেন ক্যারিয়ারের দ্বিতীয় ফিফটি।  অপর দিকে ফিফটি পূর্ণ করেছেন প্রথম ইনিংসে সেঞ্চুরি করা নাজমুলও। দেখার বিষয় বাংলাদেশ দ্বিতীয় ইংনিসে কত রানের লিড নিয়ে ইনিংস ঘোষণা করে। বা কোথায় গিয়ে  থামে বাংলাদেশের ইনিংস।

  • ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে প্রস্তুত করতে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় ও সংস্থাগুলোকে উদ্যোগ নেওয়ার আহ্বান শেখ হাসিনার

    ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে প্রস্তুত করতে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় ও সংস্থাগুলোকে উদ্যোগ নেওয়ার আহ্বান শেখ হাসিনার

    হ্যালো বাংলা ডেস্ক: নতুন বিশ্ব ব্যবস্থার জন্য ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে প্রস্তুত করতে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় ও সংস্থাগুলোকে উদ্যোগ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

    বুধবার (১৪ জুন) সুইজারল্যান্ডের জেনেভায় প্যালাইস ডেস ন্যাশন্সে দুই দিনব্যাপী ‘ওয়ার্ল্ড অব ওয়ার্ক সামিট: সবার জন্য সামাজিক ন্যায়বিচার’ শীর্ষ সম্মেলনের সাধারণ অধিবেশনে অংশ নেওয়ার পর এক প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী এ মন্তব্য করেন।

    সামাজিক ন্যায়বিচারের সমর্থনে বর্ধিত, সমন্বিত এবং সুসংহত পদক্ষেপের প্রয়োজনীয়তা মোকাবেলায় বিশ্বব্যাপী কণ্ঠস্বরগুলোর একটি উচ্চ-স্তরের ফোরামের এই শীর্ষ সম্মেলনে শেখ হাসিনা বলেন, ‘আমি যা অনুভব করি তাহলো আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে সামাজিক ন্যায়বিচার এসডিজির মতো আন্তর্জাতিক উন্নয়ন এজেন্ডায় কেন্দ্রে রাখা দরকার।’

    এ প্রসঙ্গে তিনি বাংলাদেশে ব্যাপক সামাজিক নিরাপত্তা বেষ্টনীর কর্মসূচি রয়েছে উল্লেখ করে বলেন, ‘শ্রমিক, কৃষক, বয়স্ক মানুষ বা বৃদ্ধ মানুষ, ছাত্র-ছাত্রী এমনকি কর্মজীবী মা বা স্তন্যদানকারী মা এবং প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের জন্য এই সামাজিক নিরাপত্তা বেষ্টনী কার্যক্রম রয়েছে।’

    বাংলাদেশে সরকার তাদের ভাতা দিচ্ছে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আমরা আমাদের সর্বোত্তম উপায়ে সামাজিক নিরাপত্তা বেষ্টনী তৈরি করেছি। তবে, আমি মনে করি এটি ব্যাপকভাবে হওয়া উচিত। আইএলও এব্যাপারে উদ্যোগ নিতে পারে এবং কেউ যাতে পিছিয়ে না থাকে তা নিশ্চিত করতে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে মানুষের সহাযতায় এগিয়ে আসতে হবে।’

    তিনি তার আহ্বান পুনর্ব্যক্ত করে বলেন, সামাজিক ন্যায়বিচার ছাড়া স্থায়ী শান্তি বা টেকসই উন্নয়ন হতে পারে না।

    শেখ হাসিনা আরেকটি বিষয় উল্লেখ করেছেন যে, বিশ্ব পরিবর্তন হচ্ছে, নতুন প্রযুক্তি আসছে এবং চতুর্থ শিল্প বিপ্লব ঘটছে। ‘আমরা কি চাই যে কেউ তাদের চাকরি হারাবে না।’

    এ বিষয়ে তিনি বলেন, চাকরির সুযোগ সৃষ্টির জন্য শিক্ষা প্রয়োজন। ‘প্রত্যেককে অবশ্যই তাদের ডিজিটাল ডিভাইসের মাধ্যমে শিক্ষিত হতে হবে এবং এটি কীভাবে ব্যবহার করতে হয় তা শিখতে হবে।’

    এই উদ্দেশ্যে তিনি নতুন প্রযুক্তিতে প্রশিক্ষণ প্রদানের অগ্রাধিকারের প্রয়োজনীয়তার উপর জোর দেন, এবিষয়ে তিনি বলেন, ‘আমরা স্কুল পর্যায় থেকে ডিজিটাল ল্যাবরেটরি এবং কম্পিউটার ল্যাবরেটরি, তারপর প্রশিক্ষণ এবং ইনকিউবেশন সেন্টার করেছি। তরুণ প্রজন্ম তাদের প্রশিক্ষণ পায় এবং আমরা আমাদের জনগণকে প্রস্তুত করছি।

    সূত্র: বাসস

  • লাউ ডিমের ঘন্ট

    লাউ ডিমের ঘন্ট

    উপকরণ:

    ছোট সাইজের কচি লাউ-১টা ( ডুমো করে কাটা), ডিম-২টা, পেঁয়াজ কুচি-৩ টেবিল চামচ, হলুদ গুঁড়া-১/৪ চা চামচ, মরিচ গুঁড়া -১/৪ চা চামচ, আদা বাটা-১চা চামচ, রসুন বাটা-১/২ চা চামচ, জিরা গুঁড়া-১/২ চা চামচ, ধনিয়া গুড়া-১/২ চা চামচ, তেল-১/৪ কাপ, লবণ-পরিমাণমতো, পানি-২কাপ, কাঁচা মরিচ-৩/৪টা, পাতা কুচি-২ টেবিল চামচ, টমেটো মাঝারি সাইজের-১টা (চারকোনা করে কাটা), ম্যাগি স্বাদে ম্যজিক-১প্যাকেট

    লাইফস্টাইল

    প্রণালি:

    প্রথমে চুলায় একটা পাত্র বসিয়ে তাতে তেল দিয়ে দিতে হবে।তেল হালকা গরম হলে পেঁয়াজ কুচি দিয়ে লবন দিতে হবে। পেঁয়াজ একটু নরম হলে  স্বাদে ম্যজিক মশলা ছাড়া একে একে সব মশলা  দিয়ে কিছুক্ষণ তেলে ভেজে নিন। তারপর পানি দিয়ে ঢেকে ৩/৪ মিনিট রান্না করতে হবে। এবার লাউ দিয়ে আবার ঢেকে দিন ৪/৫ মিনিট রান্না হলে চুলার আঁচ থাকবে মিডিয়াম ঢাকনা সরিয়ে নিন। লাউ থেকে যে পানি বের হবে সেই পানিতে ই লাউ রান্না হয়ে যাবে। লাউ একটু নরম হয়ে এলে টমেটো কুচি কাঁচা মরিচ ফালি করে কেটে দিন। মোটামুটি ঝোল কমে এলে একে একে ডিম দুটো ভেঙে দিয়ে খুন্তি/চামচ দিয়ে হালকা করে নেড়ে মিশিয়ে দিতে হবে। ২ মিনিট রান্না করে স্বাদে ম্যাজিক মশলা দিয়ে ১মিনিট রান্না করে ধনেপাতা কুচি দিয়ে নামিয়ে নিন।গরম ভাত, রুটি, পরোটার সাথে পরিবেশন করুন।

    রেসিপি দিয়েছেন: শাহানারা নুর

  • শিল্পকলায় শুরু হলো ৫ দিনব্যাপী মিউজিক অ্যাপ্রিসিয়েশন কোর্স

    শিল্পকলায় শুরু হলো ৫ দিনব্যাপী মিউজিক অ্যাপ্রিসিয়েশন কোর্স

    হ্যালো বাংলা ডেস্ক: গানকে নান্দনিক বোধের মাধ্যমে উপস্থাপন করতে পারলে এর আবেদন মানুষের হৃদয়কে প্রবল ভাবে নাড়া দেয়। গানের সব বিষয়গুলো জানতে হলে এর মুদ্ধতার বিষয়গুলো আরও ভালো ভাবে আয়ত্বে আনা জরুরি। তাই বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির আয়োজনে সঙ্গীত, নৃত্য ও আবৃত্তি বিভাগের ব্যবস্থাপনায় গতকাল ১৪ জুন ২০২৩ থেকে শুরু হলো ৫ দিনব্যাপী মিউজিক অ্যাপ্রিসিয়েশন কোর্স- ২০২৩। একাডেমির মহাপরিচালক জনাব লিয়াকত আলী লাকীর ভাবনা ও পরিকল্পনায় সংগীত, সংগীত পরিভাষা, নান্দনিকবোধ, পাঠ ও চর্চার মাধ্যমে সংগীত উপস্থাপন, চিন্তা ও লেখার উৎকর্ষ সাধনের লক্ষ্যে এ কোর্স পরিচালিত হচ্ছে।

    গতকাল উদ্বোধনী দিনের আয়োজনে উপস্থিত ছিলেন একাডেমির মহাপরিচালক জনাব লিয়াকত আলী লাকী।

    ১ম দিনের আলোচনায় ভারতীয় সংগীতের উৎপত্তি ও ক্রমবিকাশ বিষয়ে আলোচনা করেন ড. প্রদীপ নন্দী। পরে ভারতীয় শাস্ত্রীয় সংগীত এর গায়ন শৈলী আলোচনা করেন কানিজ সিম্পী। আলোচনায় শাস্ত্রীয় সংগীতের নানান দিক, রাগ নির্ভর গান, ও শাস্ত্রীয় বিভিন্ন ঘরানার বিষয়ে আলোচনা করেন আলোচকরা।

    আজ ১৫ জুন বৃহস্পতিবার, বিকাল ৫.০০ টায় নন্দনতত্ত্ব, সংগীত ও নন্দনতত্ত্ব নিয়ে আলোচনা করবেন আজিজুর রহমান তুহিন এবং ভারতীয় সংগীত ও পাশ্চাত্য সংগীতের সাদৃশ্য-বৈসাদৃশ্য নিয়ে আলোচনায় থাকবেন বিপ্লব সরকার।

    শিল্পকলায় শুরু হলো ৫ দিনব্যাপী মিউজিক অ্যাপ্রিসিয়েশন কোর্স

    ১৬ জুন শুক্রবার, বিকাল ৫.০০ টায় রবীন্দ্রসংগীতের সুর-বাণী ও নান্দনিকতা নিয়ে আলোচনা করবেন প্রফেসর কৃষ্টি হেফাজ এবং রবীন্দ্রনাথের গান ও গায়নশৈলী নিয়ে কথা বলবেন ড. সাবরিনা আক্তার।

    ১৭ জুন শনিবার, বিকাল ৫.০০টায় নজরুল সংগীত ও গায়নশৈলী নিয়ে আলোচনা করবেন খায়রুল আনাম শাকিল এবং নজরুল সংগীতের সুর-বাণী ও নান্দনিকতা নিয়ে থাকবেন ড. ইদরিস আলী।

    ১৮ জুন রবিবার,কোর্সের শেষ দিন বিকাল ৫.০০ টায় বাংলা লোকসংগীত ও লোকসংগীতের পরিবেশন রীতি নিয়ে আলোচনা করবেন ড. জাহিদুল কবির এবং সংগীত লোক সংস্কৃতি নিয়ে কথা বলবেন ড. কমল খালিদ।

    ভারতীয় ও বাংলা সংগীতের ইতিহাস, সংগীতচর্চা, প্রাচ্য ও পাশ্চাত্য সংগীত, নন্দনতত্ত্ব, উচ্চাঙ্গসংগীত, রবীন্দ্রসংগীত, নজরুলসংগীত, লোকসংগীত এবং গণসংগীত এর পরিবেশন রীতি, প্রেক্ষাপট ও নান্দনিকবোধ এর আলোচনা ও অংশগ্রহণকারীদের অনুশীলনের সুযোগ রয়েছে এই কোর্সে। কোর্স পরিচালনায় রয়েছেন শিক্ষক ও গবেষক ড. কমল খালিদ এবং সমন্বয়কারী হিসেবে রয়েছেন একাডেমির ইন্সট্রাক্টর জনাব মুহাম্মদ আনিসুর রহমান। প্রশিক্ষণ প্রদান করছেন দেশবরেণ্য প্রশিক্ষকবৃন্দ।

    মিউজিক অ্যাপ্রিসিয়েশন কোর্সে সংগীত শিল্পী ও সংগীতের সাথে সংশ্লিষ্টরা ছাড়াও সংস্কৃতি বিষয়ক প্রতিবেদকদের জন্যও করা হয়েছে। ৫ দিনের কোর্স শেষে বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির পক্ষ থেকে অংশগ্রহণকারীদের সার্টিফিকেট প্রদান করা হবে।

  • বাংলাদেশ এবং সুইজারল্যান্ডের মধ্যে একটি সমঝোতা স্মারক  স্বাক্ষর

    বাংলাদেশ এবং সুইজারল্যান্ডের মধ্যে একটি সমঝোতা স্মারক  স্বাক্ষর

    হ্যালো বাংলা ডেস্ক:  মেডিকেল ও আইটি সেক্টর থেকে সুইজারল্যান্ডে দক্ষ কর্মী রপ্তানির সুযোগ বাড়াতে বাংলাদেশে দক্ষতা প্রশিক্ষণের সক্ষমতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে বাংলাদেশ এবং সুইজারল্যান্ড গতকাল একটি সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) স্বাক্ষর করেছে।

    সুইস কনফেডারেশনের প্রেসিডেন্ট অ্যালেন বেরেস্ট ও বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার মধ্যে  বৈঠকের পর প্যালাইস ডেস নেশনসের দ্বিপাক্ষিক বৈঠক কক্ষে এই চুক্তি স্বাক্ষর অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।

    সুইজারল্যান্ড ও বাংলাদেশের স্থায়ী প্রতিনিধি জুর্গ লাউবার এবং সুফিউর রহমান নিজ নিজ দেশের পক্ষে ‘জ্ঞান বিনিময় ও দক্ষতা বৃদ্ধি’ শীর্ষক সমঝোতা স্মারকে স্বাক্ষর করেন।

    সুইস কনফেডারেশনের প্রেসিডেন্ট অ্যালেন বেরেস্ট ও বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা চুক্তি স্বাক্ষর অনুষ্ঠান প্রত্যক্ষ করেন।

    পরে সাংবাদিকদের ব্রিফিংকালে পররাষ্ট্রমন্ত্রী এ কে আবদুল মোমেন বলেন, এই সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষর- দক্ষতা প্রশিক্ষণ ও জ্ঞান বিনিময়ের অংশীদারিত্বের পথ প্রশস্ত করবে।

    পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা জানান, সুইজারল্যান্ডের কিছু বিশেষ প্রতিষ্ঠান-বিশেষত জুরিখে একটি ইনস্টিটিউট রয়েছে, যেটি প্রযুক্তি ও উদ্ভাবনের ওপর কাজ করে এবং এই ইনস্টিটিউটটি সাধারণত দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর সঙ্গে কাজ করে।

    বাংলাদেশের মূল লক্ষ্য হচ্ছে-গবেষণা ও উদ্ভাবনে সহযোগিতা বাড়ানোর জন্য জুরিখের এই ইনস্টিটিউটের সাথে বাংলাদেশের নতুন বিশেষায়িত প্রতিষ্ঠানগুলোকে সংযুক্ত করা।

    দক্ষতা বৃদ্ধির বিষয়টি যুক্ত করা হয়েছে, কারণ, তারা (সুইজারল্যান্ড) বাংলাদেশ থেকে দক্ষ জনশক্তি- বিশেষ করে মেডিকেল ও আইটি খাত থেকে জনশক্তি আমদানি করতে চায়।

    সেই লক্ষ্যে সুইজারল্যান্ড বাংলাদেশি প্রতিষ্ঠানের অধীনে বাংলাদেশে প্রাথমিক দক্ষতা উন্নয়ন প্রশিক্ষণ দেবে ও পরবর্তীতে এই দক্ষ জনশক্তি সেদেশে নিয়োগ দেবে।

    সূত্র: বাসস

  • সামাজিক ন্যায়বিচারই স্থায়ী শান্তি ও টেকসই উন্নয়নের ভিত্তি রচনা করতে পারে: প্রধানমন্ত্রী

    সামাজিক ন্যায়বিচারই স্থায়ী শান্তি ও টেকসই উন্নয়নের ভিত্তি রচনা করতে পারে: প্রধানমন্ত্রী

    হ্যালো বাংলা ডেস্ক: সুইজারল্যান্ডের জেনেভায় প্যালেস ডি নেশনস-এ “ওয়ার্ল্ড অব ওয়ার্ক সামিট-২০২৩” এর পূর্ণাঙ্গ অধিবেশনের ভাষণে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, ‘একমাত্র সামাজিক ন্যায়বিচারই স্থায়ী শান্তি ও টেকসই উন্নয়নের ভিত্তি রচনা করতে পারে। বিশ্বব্যাপী শান্তিপূর্ণ, ন্যায্য ও অন্তর্ভুক্তিমূলক সমাজ গঠনের প্রয়াসে সামাজিক ন্যায়বিচারকে আমাদের বিশেষ গুরুত্ব দিতে হবে।’

    শেখ হাসিনা আরও বলেন, এই শীর্ষ সম্মেলনের মাধ্যমে একটি বৈশ্বিক জোট প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ টেকসই উন্নয়ন অভীষ্টসহ সকল আন্তর্জাতিক উন্নয়ন এজেন্ডার কেন্দ্রে সামাজিক ন্যায়বিচারকে স্থান দেওয়ার একটি সুযোগ করে দিয়েছে। এ প্রসঙ্গে তিনি বাংলাদেশের দৃষ্টিকোণ থেকে পাঁচটি পরামর্শ দিয়েছেন:

    শেখ হাসিনা তার প্রথম পরামর্শে বলেন, এই জোটটিকে একটি মান-নির্ধারক বা দরকষাকষির ফোরামের পরিবর্তে একটি পরামর্শমূলক বা অ্যাডভোকেসি প্ল্যাটফর্ম হিসাবে গড়ে তোলাই বাঞ্ছনীয় হবে।

    দ্বিতীয়ত, বর্তমান ভূ-রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে সামাজিক ন্যায়বিচারকে এক আন্তর্জাতিক মহল কর্তৃক অন্য মহলের বিরূদ্ধে অস্ত্র হিসেবে ব্যবহারের বিষয়ে এই জোটকে সতর্ক থাকতে হবে।

    তৃতীয়ত, এই জোটকে একটি নিয়মতান্ত্রিক বহুপক্ষীয় বাণিজ্য ব্যবস্থার আওতায় সামাজিক ন্যায়বিচারকে একটি সংরক্ষণবাদী হাতিয়ার হিসাবে ব্যবহার না করে, বরং এর ব্যাপক প্রসারে ভুমিকা রাখার বিষয়ে প্রচারণা চালাতে হবে।

    চতুর্থত, শোভনকর্ম এবং উৎপাদনশীল কর্মসংস্থান সৃষ্টির লক্ষ্যে আন্তর্জাতিক আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোকে সম্পৃক্ত করার জন্য এ জোটের বিষয়ে আইএলও’র নিজস্ব অংশীজনদের থেকে ব্যাপক সমর্থন নিশ্চিত করতে হবে।

    পরিশেষে, আমাদের তরুণ সমাজকে সামাজিক ন্যায়বিচারের প্রবক্তা হিসেবে গড়ে তোলার ক্ষেত্রে  এ জোটকে  মনোযোগী হতে হবে।

    তিনি বলেন ‘বর্তমান শতাব্দীর বহুমাত্রিক চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় বিশ্বের জন্য আমাদের একটি নতুন সামাজিক চুক্তি তৈরি করতে হবে। এই সামাজিক চুক্তির মূল উদ্দেশ্য হবে-  টেকসই উন্নয়নের লক্ষ্যে সবার জন্য সামাজিক ন্যায়বিচার নিশ্চিত করা।’ উল্লেখ্য যে, শ্রম অধিকার সুরক্ষায় বাংলাদেশ আইএলও’র দশটি মৌলিক সনদের মধ্যে আটটিতে অনুস্বাক্ষর করেছে। প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘পেশাগত স্বাস্থ্য ও সুরক্ষা বিষয়ক দুটি নতুন মৌলিক আইএলও সনদ অনুস্বাক্ষরের বিষয়টিও আমরা সক্রিয়ভাবে বিবেচনা করছি। অত্যন্ত পরিতাপের বিষয় যে, শ্রম অধিকার নিয়ে সোচ্চার কয়েকটি উন্নত দেশ এখন পর্যন্ত নিজেরা অধিকাংশ মৌলিক আইএলও সনদ অনুস্বাক্ষর করেনি। যেমন, একটি বড়ো শিল্পোন্নত দেশ মাত্র দুটি মৌলিক সনদ অনুস্বাক্ষর করেছে।’ শিশুশ্রমের ন্যূনতম বয়স নির্ধারণে বাংলাদেশ সম্প্রতি আইএলও সনদ ১৩৮ অনুস্বাক্ষর করেছে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, তার সরকার আটটি ঝুঁকিপূর্ণ খাতকে শিশু শ্রমমুক্ত ঘোষণা করেছে। তিনি বলেন ‘এছাড়া, ২০২৩-২৪ অর্থবছরে ঝুঁকিপূর্ণ কাজে নিয়োজিত এক লাখ শিশুকে উপানুষ্ঠানিক ও কারিগরি শিক্ষা প্রদানের মাধ্যমে স্বাভাবিক জীবনে ফিরিয়ে আনার কার্যক্রম চলছে।’ তিনি বলেন, ‘আমি একটি সুস্থ ও নিরাপদ আগামী প্রজন্মের স্বার্থে দেশ শিশু শ্রমের অভিশাপ থেকে মুক্তি চাই।’ শেখ হাসিনা বলেন, তারা আইএলও’র সুপারিশ অনুযায়ী ২০১৩ ও ২০১৮ সালে দুইবার বাংলাদেশ শ্রম আইন, ২০০৬ সংশোধন করেছেন। অধিকন্তু, বাংলাদেশ শ্রম বিধিমালা, ২০১৫-এ সংশোধন করা হয়েছে। এ বছর নাগাদ শ্রম আইন, ২০০৬-এ আরও সংশোধনী আনার কাজ চলছে। ইতোমধ্যেই বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চলে বাংলাদেশ শ্রম আইন, ২০০৬ প্রয়োগর অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।

    শ্রম আপীল ট্রাইব্যুনাল ও সাতটি শ্রম আদালতের সঙ্গে বর্তমান আওয়ামী লীগ সরকার আরও ছয়টি শ্রম আদালত প্রতিষ্ঠা করেছে। এছাড়া, সামাজিক অংশীদারদের অংশগ্রহণে বিকল্প বিরোধ নিষ্পত্তি (এডিআর) কার্যক্রম প্রাতিষ্ঠানিকভাবে জোরদার করা হচ্ছে। পাশাপাশি,  দেশের কারখানাগুলোর জন্য একটি ‘শিল্প পুলিশ’ ইউনিট গঠন করা হয়েছে।

    প্রধানমন্ত্রী বলেন, দেশের সব তৈরি পোশাক কারখানার নিরাপত্তা ও কাজের পরিবেশের মূল্যায়ন করা হয়েছে এবং রপ্তানিমুখী কারখানাগুলোতে সে অনুযায়ী প্রতিকার করা হয়েছে। বিশ্বের শীর্ষ ১০০টি পরিবেশবান্ধব পোশাক কারখানার অর্ধেকেরও বেশি এখন বাংলাদেশে অবস্থিত উল্লেখ করে তিনি বলেন, “এই অর্জনকে এগিয়ে নিতে আমরা একটি ‘গ্রিন ফ্যাক্টরি অ্যাওয়ার্ড পলিসি’ প্রণয়ন করেছি এবং আমি আশা করি আমাদের আন্তর্জাতিক ক্রেতারা পণ্যের ন্যায্য মূল্য পরিশোধের মাধ্যমে পরিবেশবান্ধব এই ধরনের উদ্যোগকে উৎসাহিত করবেন। ”

    শেখ হাসিনা বলেন, তার সরকার পেশাগত স্বাস্থ্য ও নিরাপত্তা সংক্রান্ত একটি জাতীয় গবেষণা ও প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউট প্রতিষ্ঠা করছে এবং ৩২টি শ্রম কল্যাণ কেন্দ্রের মাধ্যমে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকরা শ্রমিকদের নিয়মিত চিকিৎসা সেবা দিচ্ছেন। তিনি বলেন, সরকার কর্মক্ষেত্রে নিরাপত্তা এবং কাজের পরিবেশ নিশ্চিত করতে শ্রম পরিদর্শকের সংখ্যা ৭১১ জনে উন্নীত করেছে।  আইএলও’র প্রযুক্তিগত সহায়তায় একটি ওয়েব-ভিত্তিক “শ্রম পরিদর্শন ব্যবস্থাপনা অ্যাপ্লিকেশন (লিমা)” চালু করা হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী বলেন, শ্রমিক, নিয়োগকর্তা এবং সরকারের প্রতিনিধিদের সমন্বয়ে একটি ত্রিপক্ষীয় পরামর্শক পরিষদ (টিসিসি) দেশের সামগ্রিক শ্রম পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ ও অগ্রগতি অব্যাহত রেখেছে। পোশাক শিল্পের জন্য আলাদা টিসিসি গঠন করা হয়েছে। তিনি বলেন, “আমাদের সরকারই গার্মেন্টস শ্রমিকদের ন্যূনতম মজুরি ১৬০০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ৮,০০০ টাকা করেছে। আমরা বিভিন্ন শিল্প খাতে সম্মিলিত দর কষাকষির মাধ্যমে ন্যূনতম মজুরি নির্ধারণের জন্য একটি নীতি কাঠামো প্রণয়নের পরিকল্পনা করেছি।”

    শেখ হাসিনা শ্রমিকদের জন্য অনলাইন ট্রেড ইউনিয়ন রেজিস্ট্রেশনসহ তার সরকারের নেওয়া বিভিন্ন উদ্যোগের কথা তুলে ধরে বলেন, ট্রেড ইউনিয়ন রেজিস্ট্রেশনের হার ২০১৩ সালে ৬০ শতাংশ থেকে ২০২২ সালে ৯০ শতাংশে উন্নীত হয়েছে। গার্মেন্টস সেক্টরে ট্রেড ইউনিয়নের সংখ্যা গত নয় বছরে বেড়েছে নয়গুণ। এছাড়াও, শ্রমিক ও নিয়োগকর্তাদের ট্রেড ইউনিয়ন নিবন্ধন প্রক্রিয়ার বিষয়ে নিয়মিত প্রশিক্ষণ দেওয়া হচ্ছে এবং রপ্তানি প্রক্রিয়াকরণ অঞ্চল (ইপিজেড) এবং নন-ইপিজেড এলাকার জন্য দুটি পৃথক টোল-ফ্রি হেল্প-লাইন চালু করা হয়েছে।

    প্রধানমন্ত্রী বলেন, “পোশাক কারখানার শ্রমিকদের পারিশ্রমিক ও অন্যান্য সুযোগ-সুবিধা প্রদানে স্বচ্ছতা ও শৃঙ্খলা নিশ্চিত করতে তাদের বিবরণ সহ ডাটাবেস তৈরি করা হচ্ছে। শ্রম আইনে নারী শ্রমিকদের জন্য চার মাসের বেতনসহ ছুটি ও মাতৃত্বকালীন সুবিধার বিধান রাখা হয়েছে। নারায়ণগঞ্জ ও চট্টগ্রাম শিল্পাঞ্চলে সাশ্রয়ী মূল্যে ১৫৩০ জন কর্মজীবী নারীর জন্য বাসস্থানের ব্যবস্থা করা হয়েছে। বিভিন্ন কারখানা ও প্রতিষ্ঠানে ৬,৪৩০টি দিবা-যত্ন কেন্দ্র স্থাপন করা হয়েছে। আমরা শিল্প ও কর্মক্ষেত্রে নারীর প্রতি সব ধরনের সহিংসতা বা হয়রানির বিরুদ্ধে ‘জিরো-টলারেন্স’ নীতি অনুসরণ করার আহ্বান জানিয়েছি। সম্প্রতি, আমি আমাদের জাতীয় জিডিপিতে মহিলাদের অবৈতনিক গৃহকর্মের অবদান যুক্ত করার নির্দেশনা দিয়েছি।”  তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশ লেবার ওয়েলফেয়ার ফাউন্ডেশন’ এর তত্ত্বাবধানে শ্রমিক ও তাদের পরিবারের সদস্যরা বিভিন্ন খাতে আর্থিক সহায়তা পাচ্ছেন। এছাড়াও, রপ্তানিমুখী শিল্পে শ্রমিকদের পরিবারসহ তাদের আর্থ-সামাজিক উন্নয়নে সহায়তার জন্য শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের অধীনে একটি “কেন্দ্রীয় তহবিল” প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে। ২০২২ সালে, গার্মেন্টস সেক্টরে শ্রমিকদের জন্য একটি “কর্মসংস্থান ইনজুরি ইন্স্যুরেন্স স্কিম” পাইলট ভিত্তিতে চালু করা হয়েছে।

    প্রধানমন্ত্রী বলেন, তার সরকার রূপকল্প-২০৪১-এর সঙ্গে সঙ্গতি রেখে ‘স্মার্ট বাংলাদেশ’ গড়ার অঙ্গীকার করেছে। সে লক্ষ্যে গবেষণা ও উন্নয়নের জন্য আগামী অর্থবছরের বাজেটে ৯.২ মিলিয়ন মার্কিন ডলারের বিশেষ বরাদ্দ রাখা হয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে গবেষণা ও উদ্ভাবন কেন্দ্রের মাধ্যমে প্রায় ৮০ হাজার যুবক-যুবতীকে উন্নত প্রযুক্তিতে প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে।  দেশের ৬ লক্ষ ৫০হাজার আইটি ফ্রিল্যান্সারকে মূলধারার অর্থনীতির ধারায় আনতে নিবন্ধিত করা হয়েছে। তিনি বলেন, ‘২০৩০ সালের মধ্যে কারিগরি শিক্ষায় ভর্তির হার বর্তমান ১৭ শতাংশ থেকে ৩০ শতাংশে উন্নীত করার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। আমরা চতুর্থ শিল্প বিপ্লবের জন্য তরুণ প্রজন্মকে প্রস্তুত করতে সমুদ্র গবেষণা, অ্যারোনটিক্স, বায়োটেকনোলজি, ন্যানোটেকনোলজি এবং সীমান্ত প্রযুক্তির বিষয়ে বিশেষায়িত ইনস্টিটিউট স্থাপন করছি।’ তিনি বলেন, সরকার সামগ্রিক অভিবাসন খরচ কমাতে এবং অভিবাসী কর্মীদের সহজে ঋণ প্রদানের জন্য “প্রবাসী কল্যাণ ব্যাংক” প্রতিষ্ঠা করেছে। বাংলাদেশ নিরাপদ, সুশৃঙ্খল এবং নিয়মিত অভিবাসন নিশ্চিত করতে অগ্রণী ভূমিকা পালন করে চলেছে।

    প্রধানমন্ত্রী মানবিক গতিশীলতা এবং সামগ্রিক কর্মপরিবেশের ওপর জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবের বিষয়ে মনোযোগ দেওয়ার জন্য আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের প্রতি আহ্বান জানান। তিনি বলেন, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ও তার পরিবারের সদস্যদের হত্যার পর সামরিক স্বৈরশাসকরা দেশ পরিচালনা করত। ১৯৮১ সালে দেশে ফিরে আসার পর তিনি ১৯৯৬ সালে সরকার গঠনের সুযোগ পান। তিনি বলেন, “আমি দেশের মানুষের ভাগ্যের পরিবর্তনের জন্য কাজ শুরু করেছি। আমার একমাত্র লক্ষ্য তাদের ভাগ্য পরিবর্তন করা এবং বাংলাদেশকে একটি শান্তিপূর্ণ ও উন্নত সোনার বাংলায় পরিণত করা। আমি বাংলাদেশের মেহনতি মানুষের জন্য আমার জীবন উৎসর্গ করেছি।”

    সূত্র: বাসস

  • বিশ্ব রক্তদাতা দিবস ২০২৩: ‘রক্ত দান করুন, দান করুন প্লাজমা, যতবার সম্ভব গ্রহণ করুন জীবন বাঁচানোর এ অনন্য সুযোগ’

    বিশ্ব রক্তদাতা দিবস ২০২৩: ‘রক্ত দান করুন, দান করুন প্লাজমা, যতবার সম্ভব গ্রহণ করুন জীবন বাঁচানোর এ অনন্য সুযোগ’

    হৃদরোগ কিংবা হার্ট অ্যাটাক সাথে হেপাটাইটিস-বি, হেপাটাইটিস-সি, সিফিলিস, এইচআইভি (এইডস) অথবা দুরারোগ্য ক্যান্সার,উচ্চ রক্তচাপ – যে কটা রোগের নাম বললাম তার সবগুলোর ঝুঁকি থেকেই আপনি নিরাপদ থাকতে পারেন নিয়মিত রক্তদানের মাধ্যমে ।

    প্রতি বছর ১৪ জুন ‘বিশ্ব রক্তাদাতা দিবস’ উদযাপন করা হয়। ১৪ জুন এই দিনটি উদযাপনের একটি বিশেষ কারণ রয়েছে। বিজ্ঞানী কার্ল ল্যান্ডস্টেইনার রক্তের গ্রুপ পদ্ধতি আবিষ্কার করেন। এই অবদানের জন্য, কার্ল ল্যান্ডস্টেইনার ১৯৩০ সালে নোবেল পুরস্কার পান । রক্তদাতা দিবসটি বিজ্ঞানী কার্ল ল্যান্ডস্টেইনারকে উৎসর্গ করা হয়েছে। তার জন্মদিন ১৪ জুন।

    প্রতি বছর রক্তদাতা দিবসের একটি বিশেষ থিম থাকে। এ বছর বিশ্ব রক্তদাতা দিবস ২০২৩-এর থিম হল- (Give blood, give plasma, share life, share often.) ‘রক্ত দান করুন, দান করুন প্লাজমা, যতবার সম্ভব গ্রহণ করুন জীবন বাঁচানোর এ অনন্য সুযোগ’।

    সারা বিশ্বের মতো বাংলাদেশেও নানা কর্মসূচির মধ্য দিয়ে দিবসটি পালিত হবে। দেশে রক্তের চাহিদা পূরণে স্বেচ্ছা রক্তদাতাদের প্রতি আহ্বান জানিয়ে থাকছে নানা কর্মসূচি।

    আন্তর্জাতিকভাবে এবছর বিশ্ব রক্তদাতা দিবসের বিশ্বব্যাপী অনুষ্ঠানের আয়োজক দেশ আলজেরিয়া। ২০০৪ সালে দিবসটি প্রথম পালিত হয়। নিরাপদ রক্ত নিশ্চিতকরণ ও স্বেচ্ছা রক্তদাতাদের উৎসাহ দিতেই বিশ্বব্যাপী উদযাপিত হয়ে আসছে দিবসটি।

    বাংলাদেশে বুধবার দিবসটি পালনে সরকারি নানা উদ্যোগের পাশাপাশি এবারও এগিয়ে আসছে সাড়ে চার লক্ষাধিক সুসংগঠিত ডোনার পুল নিয়ে গঠিত কোয়ান্টাম ফাউন্ডেশন।

    আগামীকাল বিকালে রাজধানীর কাকরাইলের আইডিইবি ভবনে প্রথমবারের মতো দুই শতাধিক স্বেচ্ছা রক্তদাতা ও দুই শতাধিক থ্যালাসেমিক রক্তগ্রহীতার মিলনমেলা এবং বিশেষ সেমিনারের আয়োজন করছে কোয়ান্টাম।

    এ দেশে রক্ত চাহিদার একটা বড় অংশ প্রয়োজন হয় থ্যালাসেমিয়া রোগীদের জন্যে। হেমাটোলজি সোসাইটি অব বাংলাদেশ সূত্রে জানা যায়, দেশে থ্যালাসেমিয়া রোগীর সংখ্যা প্রায় ৮০ হাজার। থ্যালাসেমিয়ার বাহক রয়েছে এক কোটি সত্তর লাখেরও অধিক মানুষ। দিন দিন এ সংখ্যা বাড়ছে।

    একজন থ্যালাসেমিয়া রোগীর প্রতি মাসে ১ থেকে ৩ ব্যাগ রক্তের প্রয়োজন হয়। থ্যালাসেমিয়া ছাড়াও রক্তস্বল্পতা, প্রসূতির রক্তক্ষরণ, অগ্নিদগ্ধ রোগী, বড় অপারেশন, দুর্ঘটনা ইত্যাদি নানা কারণে রক্তের প্রয়োজন হয়। রক্তের এ চাহিদা পূরণে নতুন স্বেচ্ছা রক্তদাতার কোনো বিকল্প নেই।

    সাধারণত ১৮ থেকে ৬০ বছর বয়সী যেকোনো শারীরিক ও মানসিকভাবে সুস্থ সক্ষম ব্যক্তি প্রতি চার মাস পরপর রক্ত দিতে পারেন।

    প্রসঙ্গত, আমাদের দেশে প্রতিবছর প্রায় ৮ থেকে ১০ লাখ ব্যাগ রক্ত ও রক্ত উপাদানের চাহিদা রয়েছে। এরমধ্যে কোয়ান্টাম বছরে সরবরাহ করে এক লক্ষাধিক ব্যাগ। ২০০০ সালে প্রতিষ্ঠার পর থেকে দুই দশকের যাত্রায় কোয়ান্টাম গড়ে তুলেছে ৪ লাখ ৭৪ হাজার স্বেচ্ছা রক্তদাতার সুসংগঠিত ডোনার পুল। আর জীবন বাঁচানোর জন্যে এ পর্যন্ত সরবরাহ করেছে ১৫ লক্ষাধিক ইউনিট রক্ত ও রক্ত উপাদান।

    বিশ্ব সাস্থ্য সংস্থা এই দিবসটির উদ্দেশ্য হিসেবে বলেছে- যারা স্বেচ্ছায় রক্ত দিয়েছেন এবং নতুনদের রক্তদানে সাহস জুগিয়েছেন সেসব প্রত্যেক দাতাকে আলাদা করে ধন্যবাদ জ্ঞাপন করুন এবং রক্তদান দিবসকে উদযাপন করুন। নিয়মিত রক্তদানের মাধ্যমে সমস্ত দেশে সুরক্ষিত ও নিরাপদ রক্ত সরবরাহ করা সম্ভব। এবং অধিক মানুষের রক্তদানে প্রাণ বাঁচানো সম্ভব। মানুষদের উৎসাহিত করতে হবে রক্তদানে ও প্লাজমা দানের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা বিষয়ে।

    ভেবে দেখুন, আপনার দান করা মাত্র ৩৩০মিলি রক্ত অর্থাৎ এক ব্যাগ রক্ত একজন মানুষের জীবন রক্ষা করতে পারে । রক্তদান শুধু মাত্র রোগ থেকে নিজেকে রক্ষা করা না,একজন মুমূর্ষ মানুষের পাশে দাঁড়ানো । সাথে সাথে ধর্মীয় দিক থেকেও পবিত্র কাজ । কিন্তু সবসময় খেয়াল রাখতে হবে রক্তদানে এবং গ্রহনে যেন সঠিকভাবে তা পরীক্ষা করে নেয়া হয় ।

    তথ্যসূত্রঃ বাসস, ডব্লিউ এইচ ও

  • মিরপুর টেস্টে প্রথম দিনে বাংলাদেশ করেছে ৫ উইকেটে ৩৬২ রান

    মিরপুর টেস্টে প্রথম দিনে বাংলাদেশ করেছে ৫ উইকেটে ৩৬২ রান

    হ্যালো বাংলা ডেস্ক: আজ শুরু হয়েছে বাংলাদেশ ও আফগানস্তানের মধ্যকার একমাত্র টেস্ট। মিরপুর শেরে বাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে টস হেরে প্রথমে ব্যাটিংয়ে নামে বাংলাদেশ। দিনশেষে ৫ উইকেটে ৩৬২ রানের বড় স্কোরে নিয়ন্ত্রণ নিয়েছে বাংলাদেশ। দলের ইনিংস শুরু করেন মাহমুদুল হাসান জয় ও জাকির হাসান। দ্বিতীয় ওভারের প্রথম বলে আফগানিস্তানের হয়ে অভিষেক হওয়া পেসার নিজাত মাসুদের বলে আউট হন জাকির। ২ বল খেলে ১ রান করেন তিনি। দলীয় ৬ রানে জাকিরকে হারানোর পর জয়ের সাথে দ্বিতীয় উইকেটে ২৬৭ বলে ২১২ রানের জুটি গড়েন শান্ত। টেস্ট ক্যারিয়ারের তৃতীয় হাফ-সেঞ্চুরি তুলে আফগানিস্তানের স্পিনার রহমত শাহর বলে ৭৬ রানে আউট হন জয়।  ১৩৭ বলের ইনিংসে ৯টি চার মারেন শান্ত। নাজমুল হোসেন শান্ত আউ হয়েছেন ১৭৫ রানে। খেলেছেন ১৮৭ বল। চার মেরেছেন ২৩টি ও ছয় ২টি।

    মুমিনুল হক ১৫ ও লিটন দাস ৯ রান করে আউট হয়ে যান। এখন খেলছেন মুশফিকুর রহিম ও মেহেদী হাসান মিরাজ। দুজনের জুটি অবিচ্ছিন্ন ৭২ রানে, ৪৩ রানে ব্যাটিং করছেন মিরাজ, মুশফিক অপরাজিত ৪১ রানে।

    মিরপুর টেস্টে আজ প্রথম দিন ৭৯ ওভার খেলা হয়েছে।

  • বিশ্বজুড়ে জোরপূর্বক বাস্তুচ্যুতের সংখ্যা বেড়ে রেকর্ড ১১ কোটিতে পৌঁছেছে 

    বিশ্বজুড়ে জোরপূর্বক বাস্তুচ্যুতের সংখ্যা বেড়ে রেকর্ড ১১ কোটিতে পৌঁছেছে 

    হ্যালো বাংলা ডেস্ক: জাতিসংঘের শরণার্থী বিষয়ক সংস্থা ইউএনএইচসিআরের প্রধান জানিয়েছেন বিশ্বজুড়ে জোরপূর্বক বাস্তুচ্যুতের সংখ্যা বেড়ে রেকর্ড ১১ কোটিতে পৌঁছেছে। গত বছরের শেষ নাগাদ এই জোরপূর্বক বাস্তুচ্যুতের সংখ্যা দাঁড়িয়েছিল ১০ কোটি ৮৪ লাখে। সম্প্রতি ইউক্রেইন ও সুদানের সংঘাতে লাখ লাখ উদ্বাস্তু যোগ হওয়ায় নতুন করে প্রায় এক কোটি ৯০ লাখ মানুষ উদ্বাস্তু যুক্ত হয়েছে। এর আগে কখনোই এক বছরে এত বাস্তুচ্যুত বাড়েনি, আজ বুধবার প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে এমনটাই বলেছে ইউএনএইচসিআর।

    গত বছর শেষের ওই সংখ্যাও এখন বেড়ে ১১ কোটিতে দাঁড়িয়েছে, এর প্রধানতম কারণ সুদানের ৮ সপ্তাহের সংঘাত, বলেছেন জাতিসংঘের শরণার্থী বিষয়ক হাই কমিশনার ফিলিপো গ্রানি্‌দ।

    “এমন একটা প্রতিবেদন হচ্ছে, যার জন্য পুরো বিশ্বকেই অভিযোগের কাঠগড়ায় দাঁড়াতে হবে। এই জোরপূর্বক স্থানচ্যুতির সমাধান এতই কঠিন হয়ে উঠছে যে তার সমাধান তো দূর টেবিলে আলোচনার জন্যই তোলা যাচ্ছে না।

    “মেরুকরণ প্রবল এমন একটি বিশ্বে আছি আমরা, যেখানে আন্তর্জাতিক উত্তেজনা যাবতীয় মানবিক ইস্যুকে খারিজ করে দিচ্ছে,” জেনিভায় সংবাদ সম্মেলনে বলেছেন তিনি।

    ২০১১ সালে সিরিয়ায় সংঘাতের আগের দুই দশক বিশ্বজুড়ে অভ্যন্তরীণ বাস্তুচ্যুত ও আন্তর্জাতিক শরণার্থীর সংখ্যা মোটামুটি ৪ কোটিতে স্থির ছিল বলে জানাচ্ছে জোরপূর্বক বাস্তুচ্যুতি সংক্রান্ত ইউএনএইচসিআরের প্রতিবেদন।

    পরের এক যুগে প্রতিবছর এই সংখ্যা বেড়েছে; বাড়তে বাড়তে এখন তা ২০১১-র প্রায় তিন গুণে এসে পৌঁছেছে।

    এখন গড়ে বিশ্বের প্রতি ৭৪ জনের মধ্যে জোরপূর্বক বাস্তুচ্যুতের সংখ্যা একজনেরও বেশি, বলছে ওই প্রতিবেদন।

    এসবের জন্য সংঘাত, নিপীড়ন, বৈষম্য, সহিংসতা ও জলবায়ু পরিবর্তনের মতো কারণগুলোকে দায়ী করেছেন গ্রান্দি।

    ইউএনএইচসিআরের হিসাবে, মোট শরণার্থী এবং যাদের আন্তর্জাতিক সুরক্ষা দরকার তাদের প্রায় অর্ধেকই এসেছে তিনটি দেশ থেকে- সিরিয়া, ইউক্রেইন ও আফগানিস্তান।

    শরণার্থীদের আশ্রয় দেওয়ার ক্ষেত্রে কঠোর নিয়মকানুন এবং কোথাও কোথাও তাদের ফেরত পাঠানো নিয়ে উদ্বেগও প্রকাশ করেছেন গ্রান্দি। তবে তিনি কোনো দেশের নাম উল্লেখ করেননি।

    ব্রিফিংয়ে তিনি বলেছেন,  “১৯৫১ সালের শরণার্থী কনভেনশনের মূলনীতি অনুসরণে দেশগুলোর মধ্যে শিথিলতার মাত্রা বাড়তে দেখছি আমরা, এমনকি ওই কনভেনশনে স্বাক্ষরকারী অনেক দেশের মধ্যেও এমনটা দেখা যাচ্ছে,” ।

    গত সপ্তাহে ইউরোপীয় ইউনিয়নের মন্ত্রীরা অভিবাসী ও শরণার্থীদের বিষয়ে দায়িত্ব ভাগাভাগির চুক্তিতে পৌঁছেছেন, এরকম বেশকিছু অগ্রগতিতে সন্তুষ্টি প্রকাশ করতেও কুণ্ঠাবোধ করেননি গ্রান্দি।

    “কিছু বিষয়ে উদ্বেগ আছে, তা সত্ত্বেও (ইইউ মন্ত্রীদের চুক্তি) এটিকে একটি ইতিবাচক পদক্ষেপ হিসেবে দেখছি আমি। ইউরোপীয়রা কোনো এক বিষয়ে একমত হয়েছে, এতে আমরা খুব খুশি,” বলেছেন তিনি।

    গ্রান্দি কেনিয়ারও ভূয়সী প্রশংসা করেছেন। আফ্রিকার এই দেশটি এখন তাদের দেশে আশ্রিত ৫ লাখ শরণার্থীর জন্য নতুন সমাধান খুঁজছে; এ আশ্রিতদের মধ্যে দারিদ্র্য, খরার কারণে আফ্রিকার শিং অঞ্চল থেকে পালিয়ে আসা অনেকেও আছেন।