বসা এবং দাঁড়ানোর মাধ্যমে স্বাস্থ্য পরীক্ষা

স্বাস্থ্য পরীক্ষা - লাইফস্টাইল - ১৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৪ (ফাইল ছবি)
স্বাস্থ্য পরীক্ষা - লাইফস্টাইল - ১৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৪ (ফাইল ছবি)

www.HelloBangla.News – লাইফস্টাইল – ১৮ ফেব্রুয়ারি, ২০২৪: বসা এবং দাঁড়ানো বা সিট অ্যান্ড স্ট্যান্ড এই পরীক্ষার মাধ্যমে আপনি আপনার স্বাস্থ্যের গুরুপুর্ণ পরীক্ষা করতে পারেন। এই পরীক্ষাটি সবার আগে সামনে আনেন দু’জন ব্রাজিলিয়ান গবেষক, যা পরে সারা বিশ্বে ছড়িয়ে পড়ে।

এই পরীক্ষাটি করতে, প্রথমে দাঁড়ানো অবস্থায় পা ক্রস করে শুধুমাত্র পায়ের ওপর ভর করে নীচে বসুন। একইভাবে শুধু পায়ের পাতায় ভর করে আবার উঠে দাঁড়ান। এই বসা বা দাঁড়ানোর সময় পায়ের পাতা ছাড়া হাত বা শরীরের কোনো অংশ দিয়ে মেঝে স্পর্শ করা বা ভর দেয়া যাবে না। তবে এই পরীক্ষাটি ধীরে ধীরে করার পরামর্শ দিয়েছেন গবেষকরা।

মূলত স্বাস্থ্যের চারটি বিষয় ওজন, নমনীয়তা, ভারসাম্য ও পেশী শক্তি মূল্যায়নের ক্ষেত্রে এই বসা এবং দাঁড়ানো পরীক্ষাটি করতে বলা হয়। অতিরিক্ত ওজন বা মোটা হয়ে যাওয়ার কারণে নির্দিষ্ট ধরণের ক্যান্সার, স্ট্রোক ও হার্ট অ্যাটাকের ঝুঁকি থাকে।

আবার ভারসাম্য, নমনীয়তা ও পেশী শক্তির অভাব হাড় ক্ষয়সহ হাড়ের দুর্বলতার সংকেত দেয়। পরীক্ষাটি অবশ্যই খালি পায়ে, আরামদায়ক পোশাক পরে একটি সমতল জায়গায় করতে হবে। সবচেয়ে ভালো নীচে মাদুর বা কার্পেট বিছানো থাকলে। এতে পড়ে গেলেও আঘাত পাওয়ার আশঙ্কা কমে যাবে।

তবে যদি কোন গর্ভবতী নারী বা বয়স হয়ে যায় কিংবা পড়ে যাওয়ার ভয় থাকে তাহলে পাশে অবশ্যই একজন সাহায্যকারীকে রাখতে হবে।

যখন কাউকে পা ক্রস করে বসতে ও দাঁড়াতে বলা হয়, তখন ওই ব্যক্তির শরীরের সম্পূর্ণ ভর তার পায়ের তলায় ছাড়া শরীরের অন্য কোনো অংশে পড়ে না। এটি আপনি কতটা দ্রুত করছেন সেটি বিষয় না। আপনি ঠিকভাবে করতে পারছেন কি না সেটাই দেখার বিষয়।

 

বাসা এবং দাঁড়ানোর এই  স্বাস্থ্য পরীক্ষাটি ঠিকভাবে করতে পয়েন্ট দিয়ে অভ্যাস করুন:

ধরুন, বসা ও দাঁড়ানো এই দুটি ধাপের জন্য মোট ১০ পয়েন্ট। যদি আপনি বসা বা দাঁড়ানোর সময় হোঁচট খান বা ভারসাম্য হারান তাহলে প্রতিবারের জন্য আধা নম্বর কাটা যাবে। যদি হাত দিয়ে বা শরীরের অন্য অংশ যেমন বাহু, হাঁটুর ওপর ভর করেন তাহলে প্রতিবার ভর দেয়ার জন্য এক নম্বর কাটা যাবে। আবার আপনি যদি হাঁটু বা উরুতে আপনার হাত বিশ্রাম করান তাহলেও আধা নম্বর কাটা যাবে।

আদর্শ স্কোর আট থেকে ১০ পয়েন্টের মধ্যে, তবে এটি লিঙ্গ ও বয়সের উপর নির্ভর করে পরিবর্তিত হয়। ৬৫ বছরের বেশি বয়সী ব্যক্তিদের পক্ষে সম্পূর্ণ স্কোর অর্জন করা খুবই কঠিন ও বিরল বিষয়।

যাদের স্কোর ছয় ও সাত দশমিক পাঁচ পয়েন্টের কম, তাদের এর চেয়ে বেশি স্কোর করা মানুষদের তুলনায় পরবর্তী ছয় বছরে মারা যাওয়ার আশঙ্কা দ্বিগুণ; যাদের স্কোর তিন পয়েন্ট বা ‌এর চেয়েও কম, তাদের ওই সময়ের মধ্যে মারা যাওয়ার আশঙ্কা পাঁচগুণ বেশি।

বছরের পর বছর ধরে ২০০০ মানুষের স্বাস্থ্যের ইতিহাস পর্যবেক্ষণ করে, ব্রাজিলিয়ান গবেষকরা বুঝতে পেরেছিলেন যে ভাল স্কোর মানে জীবনের মান ভাল এবং আপনি বেশি বছর বাঁচবেন। তবে ভাল খবর হল যাদের স্কোর কম তারা চাইলে এই স্কোর বাড়াতে পারেন। এজন্য দরকার নিয়মিত ব্যায়াম ও ডায়েটের মাধ্যমে স্বাস্থ্য ঠিক রাখা।

বেশি ‍দিন সুস্থ থাকতে আপনি নিয়মিত এই এই ব্যায়ামটি করতে পারেন। এতে একদিকে শরিরের ফিটনেস বাড়ে অপরদিকে আপনার জীবন শক্তি বাড়িয়ে দেয়।

সূত্র: বিবিসি বাংলা

পূর্ববর্তী মাথায় আঘাত পেয়ে হাসপাতালে মোস্তাফিজ
পরবর্তী জাতীয় পার্টিতে আবার প্রাণ শক্তি ফিরিয়ে আনতে চাই: রওশন এরশাদ