Category: অর্থনীতি

  • শাহজালাল বিমানবন্দরে ৪ কোটি ৫০ লাখ টাকা মূল্যের স্বর্ণ আটক

    শাহজালাল বিমানবন্দরে ৪ কোটি ৫০ লাখ টাকা মূল্যের স্বর্ণ আটক

    www.HelloBangla.News – অর্থনীতি – ৩ জুলাই, ২০২৪: কাস্টমস গোয়েন্দারা হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে ৪ কেজি ৪২০ গ্রামের একটি স্বর্ণের চালান আটক করেছে। আটক ৩৮ পিস গোল্ডবারের অনুমানিক মূল্য ৪ কোটি ৫০ লাখ টাকা। বারগুলি বিমানের সিটে পরিত্যক্ত অবস্থায় স্কসটেপে মোড়ানো ছিলো।

    আজ বুধবার (৩ জুলাই) কাস্টমস গোয়েন্দা ও তদন্ত সার্কেল হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর সহকারী পরিচালক প্রদীপ কুমার সরকার বিষয়টি নিশ্চিত করেন।

    জানা গেছে, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে বুধবার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর, ঢাকার বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থানে সতর্ক অবস্থান গ্রহণ করা হয়। মাস্কাট থেকে আগত সালাম এয়ার এয়ারলাইন্সের ফ্লাইট নং ওভি-৪৯৭ আনুমানিক আজ বুধবার ভোর সাড়ে ৫ টায় ল্যান্ড করে। ওই বিমানের সিট নম্বর ২ (ডি-ই-এফ) এর ওপরে লাগেজ রাখার কেবিনে কালো স্কসটেপ মোড়ানো দুটি ভারী বস্তু পরিত্যক্ত অবস্থায় পাওয়া যায়। পরে ওই বিমানে দায়িত্বরত সকলের সামনে ভিডিও ধারণপূর্বক কালো স্কসটেপে মোড়ানো বস্তু দুটি কাস্টমস হলের ইনভেন্টরি টেবিলে নিয়ে এসে বিমানবন্দরে কর্মরত বিভিন্ন সংস্থার উপস্থিতিতে কালো স্কসটেপ কেটে ৩৮ পিস (প্রতি পিস দশ তোলা) গোল্ডবার পাওয়া যায়, যার ওজন ৪ কেজি ৪২০ গ্রাম।

    উদ্ধার হওয়া গোল্ডবারের আনুমানিক বাজারমূল্য ৪ কোটি ৫০ লাখ টাকা। আটক স্বর্ণগুলো কাস্টম হাউস, ঢাকার মূল্যবান শুল্ক গুদামে জমা দেওয়া হয়েছে।

  • এলপিজি গ্যাসের দাম বেড়েছে

    এলপিজি গ্যাসের দাম বেড়েছে

    www.HelloBangla.News – অর্থনীতি – ২ জুলাই, ২০২৪: তরলীকৃত পেট্রোলিয়াম গ্যাসের (এলপিজি) দাম বেড়েছে। জুলাই মাসের জন্য ভোক্তা পর্যায়ে প্রতি ১২ কেজি সিলিন্ডারের দাম মাত্র ৩ টাকা বাড়িয়ে এক হাজার ৩৬৬ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।

    জুন মাসে এর দাম ছিল এক হাজার ৩৬৩ টাকা। আজ মঙ্গলবার (২ জুলাই) সন্ধ্যা ৬টা থেকে নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (বিইআরসি) নির্ধারিত নতুন এ দর কার্যকর হবে।

    বিকেলে এক সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে নতুন দর ঘোষণা করেন বিইআরসির চেয়ারম্যান মো. নূরুল আমিন। প্রাকৃতিক গ্যাসের নতুন সংযোগ বন্ধ থাকায় গৃহস্থালি রান্নার পাশাপাশি রেস্তোরাঁ, পরিবহন, ছোট-বড় শিল্প-কারখানায়ও এলপিজি ব্যবহার ব্যাপকভাবে বেড়েছে।

    বিইআরসি প্রতি কেজি এলপিজির খুচরা দাম ১১৩ টাকা ৮৬ পয়সা নির্ধারণ করেছে। সে অনুযায়ী সাড়ে পাঁচ কেজি, ১২, ১৫, ১৬, ১৮, ২০, ২৫, ৩০, ৩৫ ও ৪৫ কেজি ওজনের সিলিন্ডারগুলোর দাম বেড়েছে।

    তবে বাজারে সরকার নির্ধারিত দামের চেয়ে বেশি দাম দিয়ে ভোক্তাকে কিনতে হয় বলে ভোক্তাদের অভিযোগ রয়েছে। বাজার ঘুরে সে অভিযোগের সত্যতাও পাওয়া গেছে।

    এলপিজির পাশাপাশি গাড়িতে ব্যবহৃত অটোগ্যাসের দামও বেড়েছে। প্রতি লিটার অটোগ্যাসের দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ৬২ টাকা ৭০ পয়সা, যা গত মাসে ছিল ৬২ টাকা ৫৩ পয়সা।  মে মাসে ১২ কেজি এলপিজি সিলিন্ডারের দাম ছিল এক হাজার ৩৯৩ টাকা।

    আন্তর্জাতিক বাজারের সঙ্গে সামঞ্জস্য রাখতে সৌদি আরামকো কোম্পানির প্রপেন ও বিউটেনের দামের সঙ্গে সমন্বয় করে প্রতি মাসে এলপিজির মূল্য ঘোষণা করে আসছে বিইআরসি।

    ২০২১ সালের ১২ এপ্রিল দেশে প্রথমবারের মতো এলপিজির দাম নির্ধারণ করে বিইআরসি। তারপর থেকে প্রতি মাসে একবার দাম সমন্বয় করা হচ্ছে।

  • প্রত্যয় স্কিম বাতিলের দাবিতে শিক্ষকদের আন্দোলন অযৌক্তিক: অর্থমন্ত্রী

    প্রত্যয় স্কিম বাতিলের দাবিতে শিক্ষকদের আন্দোলন অযৌক্তিক: অর্থমন্ত্রী

    www.HelloBangla.News – অর্থনীতি – ২ জুলাই, ২০২৪: সর্বজনীন পেনশনের প্রত্যয় স্কিম বাতিলের দাবিতে সরকারি বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষকদের আন্দোলন অযৌক্তিক বলে মন্তব্য করেছেন অর্থমন্ত্রী আবুল হাসান মাহমুদ আলী। তিনি বলেন, “প্রত্যয় স্কিম নিয়ে শিক্ষকদের আন্দোলনের কোনো যুক্তি খুঁজে পাচ্ছি না।”

    আজ মঙ্গলবার (২ জুলাই) পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ে এশীয় উন্নয়ন ব্যাংকের (এডিবি) দক্ষিণ, মধ্য ও পশ্চিম এশিয়ার ভাইস প্রেসিডেন্ট ইয়াংমিং ইয়ংয়ের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে এ মন্তব্য করেন মন্ত্রী।

    প্রত্যাশার চেয়ে এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক বেশি সহায়তা করছে বলেও জানান অর্থমন্ত্রী আবুল হাসান মাহমুদ আলী।

    এদিকে প্রত্যয় স্কিম বাতিলের দাবিতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে (ঢাবি) শিক্ষক, কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সর্বাত্মক কর্মবিরতিতে দ্বিতীয় দিনের মতো অচলাবস্থা তৈরি হয়েছে। ফলে চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন একাডেমিক কাজ করতে আসা শিক্ষার্থীরা।

    মঙ্গলবার দুপুরে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন একাডেমিক ভবন ঘুরে দেখা যায়, অধিকাংশ বিভাগেই খোলা হয়নি তালা। বন্ধ রয়েছে ক্লাস-পরীক্ষাসহ সব একাডেমিক কার্যক্রম। একই অবস্থা প্রশাসনিক ভবনেও। কিছু কিছু কক্ষের দরজা খোলা হলেও বন্ধ রয়েছে কার্যক্রম। ফলে জরুরি কাজে মার্কশিট, সার্টিফিকেট ইত্যাদি তুলতে আসা শিক্ষার্থীরা চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন।

    প্রত্যয় স্কিম বাতিলের দাবিতে শিক্ষকদের পথে হাঁটেন শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা।

    গত ২৫ থেকে ২৭ জুন তিনদিনের অর্ধদিবস কর্মবিরতি পালন করেন শাবি শিক্ষকরা। দাবি আদায় না হওয়ায় গত ৩০ জুন পূর্ণদিবস কর্মবিরতি পালন করেন এবং ১ জুলাই থেকে সর্বাত্মক কর্মবিরতি পালন করেন শিক্ষকরা। একই দাবি আদায়ে তিনদিনের কর্মবিরতির ঘোষণা দেন বিশ্ববিদ্যালয়ের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা।

  • ফায়ার সার্ভিসের গাড়ি থেকে টোল আদায় না করতে নির্দেশ হাইকোর্টের

    ফায়ার সার্ভিসের গাড়ি থেকে টোল আদায় না করতে নির্দেশ হাইকোর্টের

    www.HelloBangla.News – অর্থনীতি – ১ জুলাই, ২০২৪: হাইকোর্ট এক নির্দেশনায় জানিয়েছে এক্সপ্রেসওয়ে, হাইওয়ে, গুরুত্বপূর্ণ ব্রিজ, ফেরি ও রোডে চলাচলের ক্ষেত্রে ফায়ার সার্ভিসের গাড়ি থেকে টোল আদায় না করতে । একইসঙ্গে ফায়ার সার্ভিসের গাড়ি চলাচলে টোল নেওয়া কেন বেআইনি ও অবৈধ ঘোষণা করা হবে না তা জানতে চেয়ে রুল জারি করেছেন আদালত।

    এ সংক্রান্ত বিষয়ে দায়ের করা এক রিট আবেদনের প্রাথমিক শুনানিতে আজ সোমবার (১ জুলাই) হাইকোর্টের বিচারপতি মোস্তফা জামান ইসলাম ও বিচারপতি মাসুদ হোসেন দোলনের সমন্বয়ে গঠিত বেঞ্চ এ আদেশ দেন।আদালতে রিট আবেদনের পক্ষে শুনানি করেন সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী মোহাম্মদ মনির উদ্দিন। এর আগে গত ৭ মে জনস্বার্থে রিটটি দায়ের করেছিলেন বলেও জানান তিনি।

    ‘টোল আগে না জীবন আগে?’ শিরোনামে গত ২৮ এপ্রিল একটি পোটালে একটি বিশেষ প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, ফায়ার সার্ভিস একটি সেবা প্রদানকারী প্রতিষ্ঠান। আগুন লাগা, নৌকাডুবি, ভূমিকম্প, কোনো ভবনধস কিংবা কোনো বড় দুর্ঘটনায় ফায়ার সার্ভিসই সবার আগে ছুটে যায়। এমনকি কোনো জাহাজ বা লঞ্চ যখন দুর্ঘটনায় পড়ে তখনও এই ফায়ার ফাইটাররাই ছুটে যায়। জীবনবাজি রেখে মানুষের কল্যাণে কাজ করে।

    কিন্তু ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন সেতু ও ফেরি পার হয়ে ফায়ার সার্ভিসের গাড়ি যখন অগ্নিনির্বাপণ কিংবা উদ্ধার কার্যক্রম চালাতে যায় তখন টোল প্লাজায় টোল পরিশোধ করতে হয়। এতে ব্যাহত হয় উদ্ধার কার্যক্রম। বাড়তে থাকে জানমালের ক্ষতি। এ নিয়ে ফায়ার সার্ভিসের পক্ষ থেকে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে চিঠি দিলেও সমাধান হয়নি এখনো।

    এই প্রতিবেদন প্রকাশের প্রায় দুই মাস পর ফায়ার সার্ভিসের গাড়ি থেকে টোল না নিতে নির্দেশ দিয়েছেন হাইকোর্ট।

  • বিদায়ী বছরে রেমিট্যান্স এসেছে ২৩ দশমিক ৯১ বিলিয়ন ডলার

    বিদায়ী বছরে রেমিট্যান্স এসেছে ২৩ দশমিক ৯১ বিলিয়ন ডলার

    www.HelloBangla.News – অর্থনীতি – ১ জুলাই, ২০২৪: বিদায়ী ২০২৩-২৪ অর্থবছরে প্রবাসী আয় বা রেমিট্যান্স এসেছে ২৩ দশমিক ৯১ বিলিয়ন ডলার। আজ সোমবার (১ জুলাই) এ তথ্য জানা গেছে বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে।

    বিদায়ী অর্থবছরে এর আগের অর্থবছরের চেয়ে ২ দশমিক ৩ বিলিয়ন ডলার বেশি প্রবাসী আয় এসেছে। আগের ২০২২-২৩ অর্থবছরে প্রবাসী আয় এসেছিল ২১ দশমিক ৬১ বিলিয়ন ডলার।

    বিদায়ী বছরে প্রবাসী আয় বাড়াতে নানা উদ্যোগ নেয় সরকার। সর্বশেষ গত মে মাসে প্রবাসী আয়ে ডলারের দাম বাড়ানো হয়। এতে প্রবাসী আয়ের প্রবাহ বাড়ে। এর মধ্যে শেষের মাস জুনে এসেছে ২ দশমিক ৫৪ বিলিয়ন ডলার।

    সদ্যবিদায়ী জুন মাসে রেকর্ড ২ দশমিক ৫৪ বিলিয়ন রেমিট্যান্স এসেছে দেশে, যা ৪৭ মাসের মধ্যে সর্বোচ্চ। বাংলাদেশি মুদ্রায় (প্রতি ডলার ১১৮ টাকা ধরে) এর পরিমাণ প্রায় ২৯ হাজার ৯৯৫ কোটি টাকা। সবশেষ ২০২০-২১ অর্থবছরের জুলাই মাসে আড়াই বিলিয়ন ডলার অতিক্রম করেছিল প্রবাসী আয়। ওই মাসে এসেছিল ২৫৯ কোটি ৮২ লাখ ডলার।

    সদ্যবিদায়ী অর্থবছরের মে মাসে আসে ২২৫ কোটি ৩৮ লাখ ডলার প্রবাসী আয় আসে। সে হিসাবে মে মাসের তুলনায় জুনে ২৮ কোটি ৮২ লাখ ডলার বেশি এসেছে। আর গত বছরের একই মাসের তুলনায় বেশি এসেছে ৩৪ কোটি ৩০ লাখ ডলার। গত বছরের জুন মাসে এসেছিল ২১৯ কোটি ৯০ লাখ ডলার।

    আগের অর্থবছরে এসেছিল ২ হাজার ১৬১ কোটি ডলার। এক বছরের ব্যবধানে প্রবাসী আয় বেড়েছে ২৩১ কোটি ডলার। অর্থবছরের হিসাবে সর্বোচ্চ ২০২০-২১ অর্থবছরে ২ হাজার ৪৭৭ কোটি ডলারের প্রবাসী আয় এসেছিল।

  • আগামীকাল সোমবার ব্যাংকের সব ধরনের লেনদেন বন্ধ থাকবে

    আগামীকাল সোমবার ব্যাংকের সব ধরনের লেনদেন বন্ধ থাকবে

    www.HelloBangla.News – অর্থনীতি – ৩০ জুন, ২০২৪: আগামীকাল সোমবার (১ জুলাই) ব্যাংক বন্ধ থাকবে। তাই দিনটিতে ব্যাংকের সব ধরনের লেনদেন বন্ধ থাক‌বে। এবং একই কারণে বন্ধ থাকবে শেয়ারবাজারের সব লেনদেনও। তবে বাংলাদেশ ব্যাংকসহ সব ব্যাংকের প্রধান কার্যালয় ও গুরুত্বপূর্ণ শাখা খোলা থাক‌বে।

    জানা গেছে, ১ জুলাই ব্যাংকগু‌লোর বিভিন্ন শাখা থেকে পাঠানো হিসাব একত্রিত করে অর্ধ বার্ষিক আর্থিক প্রতিবেদন প্রস্তুত করা হয়। যে কারণে এ দিনটিকে ‘ব্যাংক হলিডে’ হিসেবে ধরা হয়।

    এদিন ব্যাংকগুলো বাংলাদেশ ব্যাংক বা অন্যান্য ব্যাংক গ্রাহকদের সঙ্গে কোনো ধরনের লেনদেন বা দাপ্তরিক কার্যক্রম করে না।

    একইভাবে ৩১ ডিসেম্বরও ব্যাংক হলিডে হিসেবে পালন করা হয়ে থাকে। ওইদিন ব্যাংকগুলো পঞ্জিকা বছরের হিসাব শেষ ক‌রে বার্ষিক আর্থিক প্রতিবেদন প্রস্তুত করে। যে কারণে ওই দিনটিকেও ‘ব্যাংক হলিডে’ হিসেবে ধরা হয়।

  • সংসদে ২০২৪-২৫ অর্থবছরের জন্য জাতীয় বাজেট পাস

    সংসদে ২০২৪-২৫ অর্থবছরের জন্য জাতীয় বাজেট পাস

    www.HelloBangla.News – অর্থনীতি – ৩০ জুন, ২০২৪: বৈশ্বিক মহামারি করোনা পরবর্তী অর্থনৈতিক পরিস্থিতি এবং চলমান রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ ও ইসরায়েল-ফিলিস্তিন সংঘাতের কারণে বিশ্ব অর্থনৈতিক মন্দা সফলভাবে মোকাবলা করে চলমান উন্নয়ন বজায় রাখা ও মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণের লক্ষ্য সামনে রেখে ২০২৪-২৫ অর্থবছরের জন্য ৭ লাখ ৯৭ হাজার কোটি টাকার বাজেট আজ জাতীয় সংসদে সর্বসম্মতিক্রমে পাস হয়েছে।

    আজ রবিবার (৩০ জুন) স্পিকার শিরীন শারমিন চৌধুরীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সংসদ অধিবেশনে এ বাজেট কণ্ঠভোটে পাস হয়, যা কার্যকর হবে আগামী ১ জুলাই থেকে। এর আগে রাষ্ট্রপতির সম্মতিসাপেক্ষে নির্দিষ্টকরণ আইন গেজেট আকারে প্রকাশিত হবে। গতকাল শনিবার বিকেলে সংসদে অর্থ বিল উত্থাপন করেন অর্থমন্ত্রী আবুল হাসান মাহমুদ আলী এবং পরে সেটি সংসদে পাস হয়।

    অর্থমন্ত্রী আবুল হাসান মাহমুদ আলী গত ৬ জুন জাতীয় সংসদে ‘টেকসই উন্নয়নের পরিক্রমায় স্মার্ট বাংলাদেশের স্বপ্নযাত্রা’ স্লোগান সম্বলিত এ বাজেট পেশ করেন।

    আজ বাজেট পাসের প্রক্রিয়ায় মন্ত্রীরা সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের ব্যয় নির্বাহের যৌক্তিকতা তুলে ধরে মোট ৫৯টি মঞ্জুরি দাবি সংসদে উত্থাপন করেন। এই মঞ্জুরি দাবিগুলো সংসদে কণ্ঠভোটে অনুমোদিত হয়।

    এসব মঞ্জুরি দাবির যৌক্তিকতা নিয়ে বিরোধীদলের ছয়জন সংসদ সদস্য মোট ২৫১টি ছাঁটাই প্রস্তাব উত্থাপন করেন। এর মধ্যে আইন ও বিচার বিভাগ, মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগ এবং সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয় খাতে তিনটি মঞ্জুরি দাবিতে আনীত ছাঁটাই প্রস্তাবের ওপর স্বতন্ত্র ও বিরোধী দলের সদস্যরা আলোচনা করেন। পরে কণ্ঠভোটে ছাঁটাই প্রস্তাবগুলো নাকচ হয়ে যায়।

    ছাঁটাই প্রস্তাবে আলোচনা করেন জাতীয় পার্টির সদস্য হাফিজ উদ্দিন আহমেদ, স্বতন্ত্র সদস্য হামিদুল হক খন্দকার, পংকজ নাথ, আবুল কালাম ও নাসের শাহরিয়ার জাহেদী। এরপর সংসদ সদস্যরা টেবিল চাপড়িয়ে নির্দিষ্টকরণ বিল-২০২৪ পাসের মাধ্যমে ২০২৪-২৫ অর্থবছরের বাজেট অনুমোদন করেন।

    এর আগে সংসদ নেতা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও অর্থমন্ত্রী আবুল হাসান মাহমুদ আলী ২০২৪-২৫ অর্থবছরের বাজেটের ওপর বক্তব্য রাখেন। বাজেটের ওপর প্রধানমন্ত্রী, বিরোধীদলীয় নেতা ও অর্থমন্ত্রীসহ ২৩৬ এমপি বক্তব্য রাখেন। গত ১১ জুন থেকে আলোচনায় অংশ নেন আওয়ামী লীগ, জাতীয় পার্টি, অন্যান্য দল ও স্বতন্ত্র এমপিরা।

    বাজেটে ব্যক্তির সর্বোচ্চ করহার ৩০ শতাংশ প্রস্তাব করা হলেও সংসদ তা গ্রহণ করেনি। এর পরিবর্তে সর্বোচ্চ কর বিদ্যমান ২৫ শতাংশই বহাল থাকছে। বাজেট প্রস্তাবে অর্থমন্ত্রী করহারের ধাপে কিছুটা পরিবর্তন এনে সর্বোচ্চ করহার ২৫ শতাংশ থেকে বাড়িয়ে ৩০ শতাংশ নির্ধারণের প্রস্তাব করেছিলেন।

    ২০২৪-২৫ অর্থবছরের জন্য ৭ লাখ ৯৭ হাজার কোটি টাকার বাজেট দেন অর্থমন্ত্রী আবুল হাসান মাহমুদ আলী। এ বাজেটে অনুদান ছাড়া ঘাটতি ধরা হয়েছে ২ লাখ ৫৬ হাজার টাকা। গত ৬ জুন জাতীয় সংসদে ২০২৪-২৫ অর্থবছরের বাজেট প্রস্তাব তুলে ধরেন অর্থমন্ত্রী। অর্থমন্ত্রী হিসেবে আবুল হাসান মাহমুদ আলীর এটা প্রথম বাজেট।

    মূল্যস্ফীতি কমিয়ে বড় প্রবৃদ্ধির আশাবাদ ব্যক্ত করে যে বাজেট প্রস্তাব উত্থাপন করেন অর্থমন্ত্রী অনুদান ছাড়া ঘাটতি ধরা হয় ২ লাখ ৫৬ হাজার কোটি টাকা। অনুদানসহ সামগ্রিক ঘাটতি ধরা হয়েছে ২ লাখ ৫১ হাজার ৬০০ কোটি টাকা। এছাড়া ৪ হাজার ৪০০ কোটি টাকা অনুদান পাওয়ার লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে।

    এই ঘাটতি মেটাতে বৈদেশিক ঋণের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ১ লাখ ২৭ হাজার ২০০ কোটি টাকা। বৈদেশিক ঋণ পরিশোধ করা হবে ৩৬ হাজার ৫০০ কোটি টাকা। এতে নিট বৈদেশিক ঋণ দাঁড়াবে ৯০ হাজার ৭০০ কোটি টাকা।

    আর অভ্যন্তরীণ ঋণ নেওয়া হবে ১ লাখ ৬০ হাজার কোটি টাকা। এর মধ্যে ব্যাংক ব্যবস্থা থেকে নেওয়া হবে ১ লাখ ৩৭ হাজার ৫০০ কোটি, যার ৭২ হাজার ৬৮২ কোটি টাকা দীর্ঘমেয়াদি ঋণ এবং ৬৪ হাজার ৮১৮ কোটি টাকা স্বল্পমেয়াদি ঋণ। ব্যাংকবহির্ভূত ঋণ নেওয়া হবে ২৩ হাজার ৪০০ কোটি টাকা। সঞ্চয়পত্র বিক্রির লক্ষ্যমাত্রা ধরা হচ্ছে ১৫ হাজার ৪০০ কোটি টাকা।

    বাজেটে ঋণের সুদ পরিশোধের ব্যয় ধরা হয়েছে ১ লাখ ১৩ হাজার ৫০০ কোটি টাকা। এর মধ্যে অভ্যন্তরীণ ঋণের সুদ ৯৩ হাজার কোটি টাকা। আর বৈদেশিক ঋণের সুদ ২০ হাজার ৫০০ কোটি টাকা।

    এবার রাজস্ব আয়ের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ৫ লাখ ৪১ হাজার কোটি টাকা। এর মধ্যে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) লক্ষ্যমাত্রা ৪ লাখ ৮০ হাজার কোটি টাকা। এনবিআরবহির্ভূত কর ধরা হয়েছে ১৫ হাজার কোটি টাকা। আর কর ব্যতীত প্রাপ্তির লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ৪৬ হাজার কোটি টাকা।

    বাজেটে পরিচালন ব্যয় ধরা হয়েছে ৫ লাখ ৬ হাজার ৯৭১ কোটি টাকা। পরিচালন ব্যয়ের মধ্যে আবর্তক ব্যয় ৪ লাখ ৬৮ হাজার ৯৮৩ কোটি টাকা। আর দেশি-বিদেশি ঋণের সুদ পরিশোধ ১ লাখ ১৩ হাজার ৫০০ কোটি টাকা। এবার মূলধন ব্যয় ধরা হয়েছে ৩৭ হাজার ৯৮৯ কোটি টাকা।

    বাজেটে উন্নয়ন ব্যয় ধরা হয়েছে ২ লাখ ৮১ হাজার ৪৫০ কোটি টাকা। এর মধ্যে স্কিমে ব্যয় হবে ৫ হাজার ৯৪৩ কোটি টাকা। এডিপিবহির্ভূত বিশেষ প্রকল্পের ব্যয় ধরা হয়েছে ৭ হাজার ৬২৭ কোটি টাকা। বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচিতে ব্যয় ধরা হয়েছে ২ লাখ ৬৫ হাজার কোটি টাকা। আর কাজের বিনিময়ে খাদ্য কর্মসূচি (এডিপিবহির্ভূত) ও স্থানান্তরে ২ হাজার ৮৮৪ কোটি টাকা ব্যয় ধরা হয়েছে।

  • বাংলাদেশে বে-টার্মিনাল প্রকল্পে বিশ্বব্যাংকের ৬৫ কোটি ডলার সহায়তা

    বাংলাদেশে বে-টার্মিনাল প্রকল্পে বিশ্বব্যাংকের ৬৫ কোটি ডলার সহায়তা

    www.HelloBangla.News – অর্থনীতি – ২৯ জুন, ২০২৪: বাংলাদেশের পতেঙ্গায় বে-টার্মিনাল প্রকল্পে গভীর সমুদ্রবন্দরের অবকাঠামো উন্নয়নে ৬৫ কোটি ডলার অনুমোদন দিয়েছে বিশ্বব্যাংক।যা বাংলাদেশি মুদ্রায় ৭ হাজার ৬৩৮ কোটি ১৫ লাখ টাকা (প্রতি ডলার ১১৭.৫১ টাকা ধরে)।

    আজ শনিবার (২৯ জুন) বিশ্বব্যাংকের ঢাকা অফিস এ তথ্য জানায়। ওয়াশিংটন ডিসিতে বিশ্বব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক বোর্ড এই অর্থ অনুমোদন করে।

    সংস্থাটি জানায়, বাংলাদেশকে বে-টার্মিনাল গভীর সমুদ্রবন্দর উন্নয়নের জন্য গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামোতে বিনিয়োগে সহায়তা করতে ৬৫ কোটি ডলার ঋণ দেওয়া হচ্ছে; যা বাংলাদেশের বৈশ্বিক বাণিজ্য প্রতিযোগিতার উল্লেখযোগ্যভাবে উন্নতি করবে এবং বন্দর বৃদ্ধির মাধ্যমে আমদানি ও রপ্তানি খরচ কমিয়ে আনবে।

    বিশ্বব্যাংক জানায়, বে টার্মিনাল সামুদ্রিক অবকাঠামো উন্নয়ন প্রকল্পের মাধ্যমে ৬ কিলোমিটার জলবায়ু-স্থিতিস্থাপক ব্রেকওয়াটার নির্মাণ করা হবে। নতুন এই আধুনিক বে টার্মিনাল আন্তর্জাতিক টার্মিনাল অপারেটরদের দ্বারা পরিচালিত হবে। এই টার্মিনালে প্যানাম্যাক্স জাহাজের মতো বড় আকারের জাহাজগুলোর জন্য সুযোগ বাড়াবে এবং জাহাজের টার্নঅ্যারাউন্ড সময়কে উল্লেখযোগ্যভাবে হ্রাস করবে। এর মাধ্যমে প্রতিদিন প্রায় এক মিলিয়ন মার্কিন ডলার সাশ্রয় হবে। বর্তমানে চট্টগ্রাম বন্দর দিয়ে ৯০ শতাংশ এবং এর ৯৮ শতাংশ কনটেইনার প্রবেশ করে। তবে এই বন্দর দিয়ে ছোট ফিডার জাহাজগুলো প্রবেশ করতে পারে।

    বাংলাদেশ ও ভুটানের বিশ্বব্যাংকের কান্ট্রি ডিরেক্টর আবদৌলায়ে সেক বলেন, বাংলাদেশের আন্তর্জাতিক বাণিজ্য চট্টগ্রাম বন্দরের ওপর অনেক বেশি নির্ভর করে। যা উল্লেখযোগ্য সক্ষমতার সীমাবদ্ধতার সম্মুখীন হয়। বে টার্মিনাল একটি গেম চেঞ্জার হবে। এটি বর্ধিত বন্দর সক্ষমতা এবং পরিবহন খরচ ও সময় হ্রাসের মাধ্যমে বাংলাদেশের রপ্তানি প্রতিযোগিতার উন্নতি ঘটাবে। এর মাধ্যমে মূল বৈশ্বিক বাজারে নতুন সুযোগ উন্মোচন করবে।

    তিনি বলেন, প্রকল্পটি কন্টেইনার টার্মিনালগুলোর উন্নয়নের জন্য বেসরকারি বিনিয়োগকে একত্রিত করবে। সরকারি অর্থায়নের সাথে বিশ্বব্যাংকের বিনিয়োগ বিনিয়োগকারীদের আস্থা বৃদ্ধি করবে এবং সামগ্রিক বে টার্মিনাল উন্নয়নের সাথে যুক্ত ঝুঁকি কমাতে অবদান রাখবে।

    বিশ্বব্যাংকের সিনিয়র ট্রান্সপোর্ট স্পেশালিস্ট এবং প্রকল্পের দলনেতা হুয়া টান বলেছেন, বে টার্মিনাল দেশের সমুদ্রবন্দর অবকাঠামোর আধুনিকীকরণ এবং আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক বাজারের সংযোগ উন্নত করতে অবদান রাখবে। বে টার্মিনাল, চট্টগ্রাম বন্দরের পশ্চিমে আনন্দনগর/সন্দ্বীপ চ্যানেলে অবস্থিত এবং ঢাকার সাথে বিদ্যমান সড়ক ও রেল যোগাযোগের কাছাকাছি, বাংলাদেশের কন্টেইনারের পরিমাণের ৩৬ শতাংশ পরিচালনা করবে বলে আশা করা হচ্ছে। শিপিং কোম্পানি, ব্যবসায়ী সম্প্রদায়, আমদানিকারক, রপ্তানিকারক এবং মালবাহী ফরওয়ার্ডারসহ টেকসই পরিবহন পরিষেবাগুলোতে উন্নত অ্যাক্সেসের মাধ্যমে এক মিলিয়নেরও বেশি মানুষ সরাসরি উপকৃত হবে বলে আশা করা হচ্ছে।

  • পদ্মা বহুমুখী সেতুর নদী শাসনে ব্যয় বাড়ানো হয়েছে

    পদ্মা বহুমুখী সেতুর নদী শাসনে ব্যয় বাড়ানো হয়েছে

    www.HelloBangla.News – অর্থনীতি – ২৯ জুন, ২০২৪: পদ্মা বহুমুখী সেতুর নদী শাসনে ব্যয় ২৪৯ কোটি ৪২ লাখ ৫২ হাজার ৩৪৯ টাকা বাড়ানো হয়েছে। এতে পদ্মা সেতুর নদী শাসনের ব্যয় নতুন করে বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৯ হাজার ৮৩৪ কোটি ৭৭ লাখ ৪৫ হাজার ৩৪৯ টাকা।

    আজ শনিবার (২৯ জুন) সরকারি ক্রয়সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির বৈঠকে নতুন করে ব্যয় বাড়ানোর প্রস্তাব অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। সরকারি ক্রয়সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির এ সভা অর্থমন্ত্রী আবুল হাসান মাহমুদ আলীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত হয়। সভা শেষে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের সমন্বয় ও সংস্কার সচিব মো. মাহমুদুল হোসাইন খান সাংবাদিকদের এ তথ্য জানান।

    সচিব বলেন, “পদ্মা বহুমুখী সেতু প্রকল্প বাংলাদেশ সেতু কর্তৃপক্ষ কর্তৃক বাস্তবায়িত হচ্ছে। প্রকল্পের মেয়াদ ৩০ জুন ২০২৪ শেষ হচ্ছে। তার মানে আগামীকাল প্রকল্পের মেয়াদ শেষ হয়ে যাবে। নদী শাসনের কাজ করছে চীনের সিনোহাইড্রো কর্পোরেশন। তাদের কাজ সমাপ্তির তারিখ ছিল ৩০ জুন ২০২৩। ডিফেক্ট লায়াবিলিটি পিরিয়ড আছে একবছর। তার মানে তাদের কাজ শেষ হবে আগামীকাল।”

    তিনি বলেন, “এ সময়ে ঠিকাদারকে অতিরিক্ত কিছু কাজ করতে হয়েছে। দুটি কারণে অতিরিক্ত কাজ করতে হয়েছে। একটা হলো প্রকল্পের জাজিরা প্রান্তে নদী শাসন কাজের সীমানায় অবস্থিত কাঁঠালাবাড়ি ফেরি ঘাট, লঞ্চ ঘাট এবং আশপাশের প্রায় এক কিলোমিটার দৈর্ঘ্যের নৌযোগাযোগ ব্যবস্থা সচল করার জন্য বিআইডব্লিউটিএ থেকে জায়গা পেতে বিলম্ব হয়েছে। এতে তিন বছরের বেশি সময় বিলম্ব হয়েছে।”

    দ্বিতীয় কারণ হলো কাজ করতে যাওয়ার সময় ডিজাইন চূড়ান্ত হওয়ার পর মাওয়া প্রান্তে মূল সেতুর ওজনে নদী শাসন কাজের সীমানা বরাবর ২০১২ সালে নদীর প্রচণ্ড স্রোতে নদীভাঙন হয়ে ঠিকাদারের কাজের কিছু অংশ নদীগর্ভে বিলীন হয়ে যায়। ফলে ডিজাইন পরিবর্তনের প্রয়োজন হয়। এই পরিপ্রেক্ষিতে ডিজাইন তৈরিতে বিলম্ব হয়। এ কারণে ঠিকাদার প্রতিষ্ঠান ব্যয় বৃদ্ধির প্রস্তাব দাখিল করেছে, জানান সচিব মাহমুদুল হোসাইন খান।

    স্বপ্নের পদ্মা সেতুর প্রাক-সম্ভাব্যতা যাচাই সমীক্ষা হয় বাংলাদেশ সরকারের অর্থায়নে ১৯৯৮-১৯৯৯ সময়ে। ২০০৩-০৫ সময়ে নিজস্ব অর্থায়নে সম্ভাব্যতা সমীক্ষা সম্পন্ন করে জাপানের জাইকা। ২০০৬ সালে ভূমি অধিগ্রহণ, পুনর্বাসন ও পরিবেশ ব্যবস্থাপনা বিষয়ে পরিকল্পনা করা হয় বাংলাদেশ সরকারের অর্থায়নে। ২০০৯-১১ সময়ে বিস্তারিত নকশা প্রণয়ন করা হয়। নিউজিল্যান্ডভিত্তিক মনসেল এইকম সেতুর পূর্ণাঙ্গ নকশা তৈরি করে। জমি অধিগ্রহণ প্রক্রিয়া শুরু হয়। এর জন্য অর্থায়ন করে এডিবি ও বাংলাদেশ সরকার।

    ২০১২ সালের জুনে বিশ্বব্যাংক তাদের ঋণ বাতিল করে। একই বছরের জুলাইয়ে বাংলাদেশ সরকার নিজস্ব অর্থায়নে পদ্মা সেতু নির্মাণের সিদ্ধান্ত নেয়। ২০১৪ সালের ১৭ জুন মূল সেতু নির্মাণ কাজের জন্য চায়না মেজর ব্রিজ ইঞ্জিনিয়ারিং কোম্পানি লিমিটেডের সঙ্গে চুক্তি হয়। ওই বছরের ২৬ নভেম্বর সেতুর মূল নির্মাণ কাজ শুরু হয়। ২০১৫ সালের ১২ ডিসেম্বর প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা মুন্সিগঞ্জের মাওয়ায় বহুল প্রত্যাশিত পদ্মা সেতুর কাজ উদ্বোধন করেন।

    এরপর ২০১৭ সালের ৩০ সেপ্টেম্বর সেতুর প্রথম স্প্যান বসানো হয়। ২০২০ সালের ১০ ডিসেম্বর শেষ স্প্যান বসানো হয়। আর ২০২২ সালের ২৫ জুন পদ্মা সেতু উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। পরের দিন ২৬ জুন পদ্মা সেতু দিয়ে যানচলাচল শুরু হয়।

    পদ্মা বহুমুখী সেতু প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করেছে বাংলাদেশ সেতু কর্তৃপক্ষ। মূল সেতুর কাজ করেছে চায়না মেজর ব্রিজ ইঞ্জিনিয়ারিং কোম্পানি লিমিটেড। মূল সেতুর দৈর্ঘ্য ৬ দশমিক ১৫ কিলোমিটার। এর অ্যাপ্রোচ সড়ক ১২ দশমিক ১১৭ কিলোমিটার। ভায়াডাক্ট ৩ দশমিক ১৪৮ কিলোমিটার (সড়ক) এবং ৫৩২ মিটার (রেল)।

    পদ্মা সেতু দিয়ে যানবাহান চলাচল শুরু হওয়ার পর গত বছরের সেপ্টেম্বরে পদ্মা বহুমুখী সেতুর নদী শাসনের ব্যয় ৮৭৭ কোটি ৫৩ লাখ ৫১ হাজার ৫৫৩ টাকা বাড়ানো হয়। এতে ভ্যাট ও ট্যাক্সসহ পদ্মা সেতুর নদী শাসনের ব্যয় বেড়ে দাঁড়ায় ৯ হাজার ৫৮৫ কোটি ৩৪ লাখ ৯৩ হাজার টাকা। এখন দ্বিতীয় দফায় পদ্মা সেতুর নদী শাসনের ব্যয় ২৪৯ কোটি ৪২ লাখ ৫২ হাজার ৩৪৯ টাকা বাড়ানো হলো। এতে মোট ব্যয় বেড়ে দাঁড়ালো ৯ হাজার ৮৩৪ কোটি ৭৭ লাখ ৪৫ হাজার ৩৪৯ টাকা।

  • পদ্মা সেতু নির্মাণে সরকারি ঋণের সপ্তম ও অষ্টম কিস্তি পরিশোধ

    পদ্মা সেতু নির্মাণে সরকারি ঋণের সপ্তম ও অষ্টম কিস্তি পরিশোধ

    www.HelloBangla.News – অর্থনীতি – ২৭ জুন, ২০২৪: পদ্মা সেতু নির্মাণের ফলে দেশের অর্থনৈতিক ধারায় এসেছে ব্যপক পরিবর্তন। নানা ষড়যন্ত্র উপেক্ষা করে বাংলাদেশ সরকার নিজস্ব অর্থায়নে সেতুটি নির্মাণ করে। তাই আজ অর্থ বিভাগ ও বাংলাদেশ সেতু কর্তৃপক্ষের মধ্যে স্বাক্ষরিত চুক্তি অনুযায়ী পদ্মা সেতু নির্মাণের জন্য গৃহীত সরকারি ঋণের সপ্তম ও অষ্টম কিস্তি বাবদ আরও ৩১৪ কোটি ৬৪ লাখ ৮৬ হাজার ৯৬৩ টাকা পরিশোধ করা হয়েছে।

    এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে সেতু বিভাগ জানায়, আজ বৃহস্পতিবার (জুন ২৭) দুপুরে গণভবনে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার হাতে সপ্তম ও অষ্টম কিস্তি পরিশোধের চেক হস্তান্তর করেন সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রী ওবায়দুল কাদের। এ সময় সংশ্লিষ্ট সচিব ও কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

    ২০২৩ সালের ৫ এপ্রিল প্রথম দুই কিস্তি বাবদ ৩১৬ কোটি ৯০ লাখ ৯৭ হাজার ৪৯ টাকা পরিশোধের মাধ্যমে পদ্মা সেতু নির্মাণে সরকারের কাছ থেকে নেওয়া ঋণ পরিশোধ শুরু হয়। ৮ কিস্তিতে এখন পর্যন্ত বাবদ মোট ১ হাজার ২৬২ কোটি ৬৬ লাখ ছয় হাজার ৫৪৮ টাকা সরকারকে পরিশোধ করেছে সেতু বিভাগ।

    পদ্মা সেতু নির্মাণে ব্যয় হয়েছে ৩২ হাজার ৬০৫ কোটি ৫২ লাখ টাকা। নির্মাণ ব্যয়ের প্রায় পুরো অর্থ বাংলাদেশ সেতু কর্তৃপক্ষকে ঋণ হিসেবে দেয় অর্থ বিভাগ।

    গত ২০২২ সালের ২৬ জুলাই সরকারের অর্থ বিভাগের সঙ্গে সংশোধিত ঋণ চুক্তি স্বাক্ষর করে বাংলাদেশ সেতু কর্তৃপক্ষ। ঋণ চুক্তি অনুযায়ী ১ শতাংশ সুদসহ ৩৫ বছরে ঋণের টাকা ফেরত দেবে বাংলাদেশ সেতু কর্তৃপক্ষ। ঋণ পরিশোধের শিডিউল অনুযায়ী প্রতি অর্থবছরে চারটি কিস্তি করে সর্বমোট ১৪০টি কিস্তিতে সুদ-আসল পরিশোধ করা হবে।

    চুক্তি অনুযায়ী ২০২২-২৩ অর্থবছর থেকে সেতুটির ঋণ পরিশোধ শুরু হয়েছে এবং এ ঋণ পরিশোধের জন্য ২০৫৬-৫৭ অর্থবছর পর্যন্ত সময় পাবে বাংলাদেশ সেতু কর্তৃপক্ষ।

    ২০২২ সালের ২৫ জুন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা প্রমত্তা পদ্মা নদীর বুকে ৬ দশমিক ১৫ কিলোমিটার দৈর্ঘ্যের দেশের বৃহত্তম সেতুর উদ্বোধন করেন। পদ্মা সেতু সরাসরি দেশের দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পশ্চিমের ২১ জেলাকে রাজধানীর সঙ্গে যুক্ত করেছে এবং আর্থ-সামাজিক উন্নয়নের মাধ্যমে দারিদ্র বিমোচনে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখছে।

    সেতু বিভাগ জানায়, পদ্মা সেতু উদ্বোধনের পর থেকে এ বছরের জুন পর্যন্ত ১৫ শতাংশ ভ্যাট বাবদ পরিশোধিত হয়েছে ২২৪ কোটি ২৩ লাখ টাকা। এছাড়া, ২০২২ সালের ২৫ জুন পদ্মা সেতু উদ্বোধনের পর থেকে গতকাল বুধবার (২৬ জুন) পর্যন্ত সংগৃহীত টোলের পরিমাণ ১ হাজার ৬৫৩ কোটি ৭১ লাখ ৬৫ হাজার ৫৫০ টাকা।