Category: অর্থনীতি

  • আজ ব্যাংক থেকে এক লাখ টাকার বেশি তোলা যাবে না

    আজ ব্যাংক থেকে এক লাখ টাকার বেশি তোলা যাবে না

    www.HelloBangla.News – অর্থনীতি – ৮ আগস্ট, ২০২৪: নিরাপত্তার স্বার্থে আজ বৃহস্পতিবার (৮ আগস্ট)  ব্যাংক থেকে টাকা উত্তোলনের সীমা আরোপ করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। এক অ্যাকাউন্ট থেকে এক লাখের বেশি নগদ টাকা উত্তোলন করা যাবে না। তবে, এ সিদ্ধান্ত শুধু আজকের জন্য প্রযোজ্য হবে বলে জানা গেছে।

    বুধবার রাতে বাংলাদেশ ব্যাংক বাণিজ্যিক ব্যাংক সমূহের ব্যবস্থাপনা পরিচালক বা এমডিদের এক জরুরি বার্তায় এই নির্দেশনা দিয়েছে।

    বার্তায় বলা হয়েছে, এক হিসাব থেকে এক লাখের বেশি নগদ টাকা উত্তোলন করা যাবে না। তবে একজন গ্রাহক নগদ টাকা উত্তোলন করতে না পারলেও যেকোনো পরিমাণ নগদ টাকা স্থানান্তর ও ডিজিটাল লেনদেন করতে পারবেন।

    কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, কেন্দ্রীয় ব্যাংক আজকের জন্য প্রধান কার্যালয় থেকে শাখায় টাকা দেওয়া বন্ধ রাখার নির্দেশ দিয়েছে। গ্রাহকদের চেকের মাধ্যমে টাকা পরিশোধ করারও পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

    জানা গেছে, সরকার পরিবর্তনের পর নগদ টাকা উত্তোলনের চাপ কিছুটা বেড়ে যায়। বিশেষ করে আওয়ামীপন্থি রাজনীতিবিদ ও ব্যবসায়ী পরিবার থেকে নগদ টাকা উত্তোলনের চাপ দেখা যায়। এসব অর্থ যাতে কোনোভাবেই সন্ত্রাসী বা অবৈধ কাজে ব্যবহৃত না হয়, সেজন্য নগদ টাকা উত্তোলন কিছুটা নিরুৎসাহিত করতে এ সিদ্ধান্ত  নেয় বাংলাদেশ ব্যাংক।

    এ ছাড়া  শুধু  আজকের জন্য কেন্দ্রীয় ব্যাংকের প্রধান কার্যালয় থেকে শাখায় টাকা দেওয়া বন্ধ রাখার নির্দেশ দিয়েছে। পাশাপাশি গ্রাহকদের চেকের মাধ্যমে টাকা পরিশোধ উৎসাহিত করার পরামর্শ দেওয়া হয়।

    এ সব নির্দেশ শুধু আজকের জন্য প্রযোজ্য হবে।

  • কেন্দ্রীয় ব্যাংকের ডেপুটি গভর্নরের ‘পদত্যাগ’

    কেন্দ্রীয় ব্যাংকের ডেপুটি গভর্নরের ‘পদত্যাগ’

    www.HelloBangla.News – জাতীয় – ৭ আগস্ট, ২০২৪: বিক্ষুব্ধ কর্মকর্তাদের চাপের মুখে পদত্যাগ করেছেন বাংলাদেশ ব্যাংকের ডেপুটি গভর্নর কাজী সাইদুর রহমান। জানা গেছে হাতে লিখে পদত্যাগপত্র জমা দিয়ে তিনি নিজ দপ্তর ছেড়েছেন।

    সাইদুর রহমানের পদত্যাগপত্রে লেখা আছে, “আমি কাজী সাইদুর রহমান, ডিজি-১ নির্বাহী পরিচালক-১ এর কাছে দায়িত্ব অর্পণ করে অদ্য পদত্যাগ করলাম।”

    আজ বুধবার (৭ আগস্ট) সকাল থেকে কেন্দ্রীয় ব্যাংকে এই বিক্ষোভ শুরু হয়।

    সাইদুর রহমানের প্রতি বিক্ষোভকারীরা আক্রমণাত্মক ছিল কিন্তু তিনি নিরাপদে বের হয়ে যেতে পেরেছেন।

    জানা যাচ্ছে, কেন্দ্রীয় ব্যাংকের চার ডেপুটি গভর্নর এবং আর্থিক গোয়েন্দা দপ্তরের প্রধান বিক্ষুব্ধ কর্মকর্তাদের দাবির মুখে ‘পদত্যাগ’ করেছেন এবং এদের মধ্যে যারা কার্যালয়ে ছিলেন তারা এরইমধ্যে বেরিয়ে গেছেন। গভর্নর আব্দুর রউফ তালুকদার কার্যালয়ে যাননি।

    শতাধিক কর্মকর্তা-কর্মচারী এই বিক্ষোভে যোগ দেন। তাদের দাবি, ব্যাংকের এসব শীর্ষ কর্মকর্তা ব্যাংক খাতে অনিয়ম ও দুর্নীতির জন্য দায়ী।

  • সাংবাদিকদের ওপর নিষেধাজ্ঞা তুলে নিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক

    সাংবাদিকদের ওপর নিষেধাজ্ঞা তুলে নিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক

    www.HelloBangla.News – অর্থনীতি – ৬ আগস্ট, ২০২৪: বাংলাদেশ ব্যাংক সাংবাদিকদের ওপর নিষেধাজ্ঞা তুলে নিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। প্রায় চার মাস পর আজ মঙ্গলবার (৬ আগস্ট) অর্থনীতি-বিষয়ক সাংবাদিকদের সঙ্গে বৈঠকে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের ডেপুটি গভর্নর কাজী সাইদুর রহমান এ সিদ্ধান্তের কথা জানান।

    প্রসঙ্গত, গত মার্চ মাসে বাংলাদেশ ব্যাংকে সাংবাদিকদের প্রবেশে অলিখিত নিষেধাজ্ঞা দেয় নিয়ন্ত্রক সংস্থাটি। ফলে সাংবাদিকরা আগের মতো কেন্দ্রীয় ব্যাংকে প্রবেশ করতে পারছিলেন না।

    কেন্দ্রীয় ব্যাংক এমন একসময়ে এই কড়াকড়ি আরোপ করে, যখন নানা সমস্যায় আর্থিক খাত টালমাটাল। বেশিরভাগ আর্থিক প্রতিষ্ঠান থেকে গ্রাহকরা টাকা ফেরত পাচ্ছেন না, কেন্দ্রীয় ব্যাংকের বিশেষ ধারে কার্যক্রম পরিচালনা করছে সংকটে পড়া কয়েকটি ব্যাংক। আবার ঋণখেলাপিদের দাপট আগের মতোই আছে।

    এ নিয়ে সাংবাদিকদের মধ্যে অসন্তোষ সৃষ্টি হয়। ফলে বিক্ষুব্ধ সাংবাদিকরা একাধিক বার বাংলাদেশ ব্যাংকের সামনে অবস্থান নেন।

    বৈঠকে অর্থনীতিবিষয়ক সাংবাদিকদের সংগঠন ইকোনমিক রিপোর্টার্স ফোরামের (ইআরএফ) সভাপতি মোহাম্মদ রেফায়েত উল্লাহ মীরধা ও সাধারণ সম্পাদক আবুল কাশেমসহ ইআরএফ সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।

  • আন্দোলনের জেরে জুলাই মাসে প্রবাসী আয় কমেছে

    আন্দোলনের জেরে জুলাই মাসে প্রবাসী আয় কমেছে

    www.HelloBangla.News – অর্থনীতি – ২ আগস্ট, ২০২৪: কোটা বিরোধী আন্দোলনের সময় সহিংসতার জেরে দেশে জুলাই মাসে প্রবাসী আয়ে মারাত্মক প্রভাব পড়েছে। বিশেষ ভাবে ১৮ জুলাই ২৭ জুলাই এই কয়দিন প্রবাসী আয় অর্ধেকে নেমে আসে তবে মাসের শেষ চারদিনে প্রবাসী আয় কিছুটা বাড়ে।

    বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রবাসী আয়ের হাল নাগাদ প্রতিবেদনে এ তথ্য উঠে এসেছে। ব্যাংটি থেকে বৃহস্পতিবার এ তথ্য প্রকাশ করা হয়েছে।

    জানা গেছে, বিদায়ী জুলাই মাসের ১৩দিন দিনে যে প্রবাসী আয় আসে, দেশে সরকারি চাকরিতে কোটা সংস্কারের দাবিতে শিক্ষার্থীদের আন্দোলন তীব্রতার মধ্যে দুই সপ্তাহে প্রবাসী আয় অর্ধেকে নেমে আসে। মাসের ২৭ জুলাই পযর্ন্ত প্রবাসী আয় আসে ১৫৬ কোটি ৭৪ লাখ ৬০ হাজার ডলার। মাসের শেষ চার দিনে ২৮ থেকে ৩১ জুলাই পযর্ন্ত প্রবাসী আয় আসে ৩৪ কোটি ১৫ লাখ ৪০ হাজার ডলার। পুরো জুলাই মাসে প্রবাসী আয় আসে ১৯০ কোটি ৯০ লাখ ডলার।

    এ তথ্য বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, মাসের প্রথম ২৭ দিনে প্রতিদিন প্রবাসী আয় আসে ৫ কোটি ৮০ লাখ ৫৪ হাজার ৭৪ ডলার। শেষ চারদিন ২৮ থেকে ৩১ জুলাই পর্যন্ত চারদিনে প্রতিদিন প্রবাসী আয় আসে ৮ কোটি ৫৩ লাথ ৮৫ হাজার ডলার।

    কোটা সংস্কার আন্দোলন কেন্দ্র করে দেশে অস্থিরতা কমে আসার প্রেক্ষাপটে শেষের দিকে প্রবাসী আয় কিছুটা বাড়লেও গত বছরের জুলাই ও আগের মাস জুনের তুলনায় কমেছে প্রবাসী আয়।

  • কোটাবিরোধী আন্দোলনের কারণে প্রবাসী আয় কমেছে

    কোটাবিরোধী আন্দোলনের কারণে প্রবাসী আয় কমেছে

    www.HelloBangla.News – অর্থনীতি – ২৯ জুলাই, ২০২৪: সম্প্রতি কোটা সংস্কারের দাবিতে শিক্ষার্থীদের করা আন্দোলনের জেরে প্রায় প্রতিটি সেক্টরে অস্থিরতা বিরাজ করে। ব্যাংক বন্ধ থাকার পাশাপাশি ছিলোনা ইন্টারনেট সেবা। এমন পরিস্থিতিতে প্রবাসী আয় কমেছে।

    জানা গেছে আন্দোলনকালীন সময়ে প্রবাসী আয় নেমে আসে অর্ধেকে। প্রবাসী আয় কমে যাওয়ার ধাক্কা লাগে দেশের অর্থনীতিতে। এই নেতিবাচক ধারা কাটিয়ে উঠতে প্রয়োজনে বেশি দামে হলেও রেমিট্যান্স সংগ্রহের নির্দেশ দেওয়া হবে বলে জানা গেছে। আজ সোমবার (২৯ জুলাই) প্রবাসী আয়ের এ তথ্য প্রকাশ করে বাংলাদেশ ব্যাংক।

    বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য বলছে, চলতি জুলাই মাসে ২৭ দিনে প্রবাসী আয় এসেছে ১৫৬ কোটি ৭৪ লাখ ৬০ হাজার ডলার। এর মধ্যে প্রথম ১৩ দিনে আসে ৯৭ কোটি ৮৬ লাখ ৪০ হাজার ডলার এবং ১৪ থেকে ২০ জুলাই ৭ দিনে আসে ৪৫ কোটি ৭০ লাখ ৫০ হাজার ডলার। আর পরের সপ্তাহ অর্থাৎ ২১ থেকে ২৭ জুলাই তা নেমে দাঁড়ায় ১৩ কোটি ৮০ লাখ ৬০ হাজার ডলারে।

    এ হিসাব অনুযায়ী জুলাইয়ের ২৭ দিনে প্রতিদিন গড়ে প্রবাসী আয় এসেছে ৫ কোটি ৪০ লাখ ৫৪ হাজার ৭৪ ডলার। এটি আগের মাসের (জুন) চেয়ে কম। জুনে প্রবাসী আয় এসেছিল ২৫৪ কোটি ১৬ লাখ ৫০ হাজার মার্কিন ডলার। ওই মাসে প্রতিদিন প্রবাসী আয় ছিল ৮ কোটি ৪৭ লাখ ২১ হাজার ৬৬৬ মার্কিন ডলার।

    জুলাইয়ের প্রথম ১৩ দিন প্রতিদিন প্রবাসী আয় আসে ৭ কোটি ৭২ লাখ ৮০ হাজার ডলার। ১৪ জুলাই থেকে ২৭ জুলাই সময়ের মধ্যে এ হিসাব নেমে প্রতিদিন প্রবাসী আয় দাঁড়ায় ৪ কোটি ২০ লাখ ৫৭ হাজার ৮৫৭ ডলারে।

    শিক্ষার্থীদের আন্দোলনকে কেন্দ্র করে ১৮ জুলাই (বৃহস্পতিবার) সন্ধ্যার পর থেকে সারা দেশে পুরোদমে ইন্টারনেট বন্ধ হয়ে যায়। ইন্টারনেট ব্লাকআউটের ফলে প্রবাসীরা কোনো রেমিট্যান্স পাঠাতে পারেননি। এরই প্রভাব পড়ে পুরো মাসের প্রবাসী আয়ে।

  • ২০২৩-২৪ অর্থবছরের প্রথম ১১ মাসে দেশের বাণিজ্য ঘাটতি কমেছে

    ২০২৩-২৪ অর্থবছরের প্রথম ১১ মাসে দেশের বাণিজ্য ঘাটতি কমেছে

    www.HelloBangla.News – অর্থনীতি – ২৬ জুলাই, ২০২৪: আমদানিতে কড়াকড়ি আরোপ করার পর দেশের রপ্তানি কমেছে। আর এই কারণে উল্লেখযোগ্য পরিমাণে কমেছে আমদানিও। যে কারণে ২০২৩-২৪ অর্থবছরের প্রথম ১১ মাসে দেশের বাণিজ্য ঘাটতি কিছুটা কমেছে। যদিও গত মে মাসে বাণিজ্য ঘাটতি বেড়েছে দেড় বিলিয়ন ডলার। বাংলাদেশ ব্যাংকের হালনাগাদ প্রতিবেদনে এ তথ্য উঠে এসেছে।

    বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্যমতে, ২০২৩-২৪ অর্থবছরের প্রথম ১১ মাসে (জুলাই-মে) বাণিজ্য ঘাটতি ২০ দশমিক ২২ বিলিয়ন ডলার। তার আগে ২০২২-২৩ অর্থবছরের একই সময়ে (প্রথম ১১ মাস) যা ছিল ২৬ দশমিক ২০ বিলিয়ন ডলার। সে হিসাবে এক বছরের ব্যবধানে বাণিজ্য ঘাটতি কমেছে ২২ দশমিক ৮২ শতাংশ বা ৬ বিলিয়ন ডলার। তবে ২০২৩-২৪ অর্থবছরের মে মাসে বাণিজ্য ঘাটতি বেড়েছে এক দশমিক ৫২ বিলিয়ন ডলার।

    যদিও বাণিজ্য ভারসাম্যের (ব্যালেন্স অব ট্রেড) ওপর চাপ কমেছে। ২০২৩-২৪ অর্থবছরের প্রথম ১১ মাসে আমদানি ২০২২-২৩ অর্থবছরের একই সময়ের তুলনায় ১২ দশমিক ৬ শতাংশ কমেছে। আলোচিত সময়ে রেমিট্যান্সে ১০ দশমিক এক শতাংশ প্রবৃদ্ধি হলেও রপ্তানি কমে যাওয়ায় চলতি হিসাবের ঘাটতি কিছুটা বেড়েছে। মূলত বাণিজ্য ঘাটতি বেশি থাকায় রেমিট্যান্সের প্রবৃদ্ধি দিয়েও চলতি হিসাবকে উদ্বৃত্ত করা যায়নি।

    রপ্তানি কমলেও জুলাই-মে সময়ে ১২ দশমিক ৬ শতাংশ আমদানি কমায় বাণিজ্য ঘাটতির চাপ কিছুটা কমেছে। ২০২৩-২৪ অর্থবছরের জুলাই-মে সময়ে আমদানির পরিমাণ ছিল ৫৭ দশমিক ৫৬ বিলিয়ন ডলার। তার আগের অর্থবছরের প্রথম ১১ মাসে যা ছিল ৬৫ দশমিক ৮৮ বিলিয়ন ডলার।

    তথ্য বলছে, জুলাই-মে সময়ে রপ্তানি আয় কমেছে প্রায় ৫ দশমিক ৯ শতাংশ। ২০২৩-২৪ অর্থবছরের জুলাই থেকে মে পর্যন্ত রপ্তানি হয়েছে ৩৭ দশমিক ৩৪ বিলিয়ন ডলার। বিগত ২০২২-২৩ অর্থবছরের একই সময়ে যা ছিল ৩৯ দশমিক ৬৮ বিলিয়ন ডলার।

  • আমাদের দেশের অর্থনীতি এখন যথেষ্ট শক্তিশালী: প্রধানমন্ত্রী

    আমাদের দেশের অর্থনীতি এখন যথেষ্ট শক্তিশালী: প্রধানমন্ত্রী

    www.HelloBangla.News – অর্থনীতি – ১৪ জুলাই, ২০২৪: আমাদের দেশের অর্থনীতি এখন যথেষ্ট শক্তিশালী, বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তিনি বলেন, “শেখ হাসিনা বলেন, আমরা প্রেক্ষিত পরিকল্পনা নিচ্ছি এবং পঞ্চবার্ষিকী পরিকল্পনা নিচ্ছি। ২০১০ সাল থেকে ২১ সাল পর্যন্ত যে প্রেক্ষিত পরিকল্পনা করেছিলাম, যে লক্ষ্য স্থির করেছিলাম, এটা আমরা অর্জন করতে সক্ষম হয়েছি। ১৯৭৫ সালে জাতির পিতা স্বল্পোন্নত দেশ রেখে গিয়েছিলেন। এরপর দীর্ঘ সময় এদেশের মানুষের জীবনে কোনো উন্নতি হয়নি, পরিবর্তন ছিল না। আওয়ামী লীগ সরকারে আসার পর আমরা দেশকে এগিয়ে নিতে সক্ষম হয়েছি। আমাদের দেশের অর্থনীতি এখন যথেষ্ট শক্তিশালী করতে পেরেছি।“

    আজ রবিবার (১৪ জুলাই) সকালে রাজধানীর ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে জাতীয় রপ্তানি ট্রফি ২০২১-২২ প্রদান অনুষ্ঠানে তিনি এ কথা বলেন।

    প্রধানমন্ত্রী বলেন,  “আমরা কেন গার্মেন্ট সেক্টরের ওপর নির্ভর থাকব? আমরা পণ্য যখন উৎপাদন করব যখন ডিজাইন, রং এবং এক একটা সময় এক একটা জিনিসের চল আসে, সেটার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে আমাদের ফ্যাশন ডিজাইন পরিবর্তন করতে হবে। আমরা কোন দেশের কোন বাজারে ঢুকতে পারব, সেটা সরকার থেকে করে দেব। তবে ব্যবসায়ীদেরও নিজেদের পার্টনার নিজেদের খুঁজে নিতে হবে। সেদিকে আপনাদের নিজেদের দৃষ্টি দিতে হবে। নিজেদের উৎপাদক যেমন বাড়াবো, রপ্তানি বাড়াবো। আবার নিজের দেশের ক্রয়ক্ষমতা বাড়িয়ে অর্থনৈতিকভাবে শক্তিশালী অবস্থান আমরা রেখে যাব। শুধু সীমিত কয়েকটা পণ্যের ওপর আমরা আর নির্ভরশীল থাকতে চাই না।“

    প্রধানমন্ত্রী বলেন, “বেসরকারি খাতকে উন্মুক্ত করা হয়েছে। পণ্য শুধু বিদেশে রপ্তানি নয়, পণ্য দেশের বাজারেও বাজারজাত করতে হবে ব্যবসায়ীদের।“

    তিনি বলেন, “চতুর্থ শিল্প বিপ্লব যখন আসবে তার সঙ্গে তাল মিলিয়ে আমাদের জনশক্তি তৈরি করতে হবে। উপযুক্ত জনশক্তি যাতে তৈরি হয় সেজন্য বিভিন্ন পদক্ষেপ আমরা নিয়েছি। যাতে আমাদের যুব সমাজ এগিয়ে আসে। বাংলাদেশকে এই যুবসমাজ এগিয়ে নিতে পারবে। “

    সরকারপ্রধান বলেন, “দেশের মানুষের আর্থ-সামাজিক উন্নতি করাই লক্ষ্য বর্তমান সরকারের। সরকারের প্রচেষ্টায় এরইমধ্যে ৫৮ জেলা ভূমিহীন গৃহহীনমুক্ত ঘোষণা করা হয়েছে।“

    পুরস্কার পেয়েছে যেসব প্রতিষ্ঠান:

    ২০২১-২২ অর্থবছরের জন্য সর্বোচ্চ বিদেশি মুদ্রা অর্জনকারী প্রতিষ্ঠান হিসেবে স্বীকৃতি পেয়েছে রিফাত গার্মেন্টস। তৈরি পোশাক (ওভেন) খাতের এই প্রতিষ্ঠানকে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব রপ্তানি পদক দেওয়া হয়েছে।

    তৈরি পোশাকের ওভেন খাত থেকে স্বর্ণপদক পেয়েছে উইন্ডি অ্যাপারেলস, রৌপ্য পদক পেয়েছে অ্যাপারেল গ্যালারি লিমিটেড ও ব্রোঞ্জ পদক পেয়েছে মেসার্স চিটাগাং এশিয়ান অ্যাপারেলস।

    তৈরি পোশাকে নিটওয়্যার খাত থেকে স্বর্ণপদক পেয়েছে লিবার্টি নিটওয়্যার লিমিটেড, রৌপ্যপদক পেয়েছে ডিভাইন ইন্টিমেটস লিমিটেড এবং ব্রোঞ্জ পদক পেয়েছে ফ্ল্যামিংগো ফ্যাশনস লিমিটেড।

    সুতা খাত থেকে স্বর্ণ পদক পেয়েছে বাদশা টেক্সটাইলস লিমিটেড, রৌপ্য পদক পেয়েছে স্কয়ার টেক্সটাইলস লিমিটেড এবং ব্রোঞ্জ পদক পেয়েছে কামাল ইয়ার্ন লিমিটেড।

    টেক্সটাইল ফেব্রিকস খাত থেকে স্বর্ণপদক পেয়েছে নাইস ডেনিম মিলস লিমিটেড, রৌপ্যপদক পেয়েছে হা-মীম ডেনিম লিমিটেড এবং ব্রোঞ্জ পদক পেয়েছে ফোর এইচ ডাইং অ্যান্ড প্রিন্টিং।

    হোম ও স্পেশালাইজড টেক্সটাইল খাত থেকে স্বর্ণ পদক পেয়েছে জাবের অ্যান্ড জোবায়ের ফেব্রিকস লিমিটেড, রৌপ্যপদক পেয়েছে মমটেক্স এক্সপো লিমিটেড এবং ব্রোঞ্জ পদক পেয়েছে এসিএস টেক্সটাইলস (বাংলাদেশ) লিমিটেড।

    টেরিটাওয়েল খাত থেকে স্বর্ণ পদক পেয়েছে নোমান টেরিটাওয়েল মিলস লিমিটেড এবং রৌপ্য পদক পেয়েছে এসিএস টাওয়েল লিমিটেড।

    হিমায়িত পণ্য খাত থেকে স্বর্ণ পদক পেয়েছে ছবি ফিশ প্রসেসিং ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেড, রৌপ্যপদক পেয়েছে প্রিয়াম ফিশ এক্সপোর্ট লিমিটেড এবং ব্রোঞ্জ পদক পেয়েছে এমইউসি ফুডস লিমিটেড।

    কাঁচাপাট খাত থেকে স্বর্ণপদক পেয়েছে পপুলার জুট এক্সচেঞ্জ লিমিটেড, রৌপ্যপদক পেয়েছে মেসার্স তানফিয়া জুট ট্রেডিং এবং ব্রোঞ্জ পদক পেয়েছে মেসার্স ইন্টারন্যাশনাল জুট ট্রেডার্স।

    পাটজাত দ্রব্য থেকে স্বর্ণপদক পেয়েছে জনতা জুট মিলস এবং রৌপ্যপদক পেয়েছে আকিজ জুট মিলস। চামড়াজাত পণ্য থেকে স্বর্ণপদক পেয়েছে পিকার্ড বাংলাদেশ এবং রৌপ্যপদক পেয়েছে এবিসি ফুটওয়্যার।

    ফুটওয়্যার থেকে স্বর্ণপদক পেয়েছে বে-ফুটওয়্যার, রৌপ্য পদক পেয়েছে এডিসন ফুটওয়্যার এবং এফবি ফুটওয়্যার পেয়েছে ব্রোঞ্জ পদক।

    কৃষিপণ্য থেকে স্বর্ণপদক পেয়েছে ইনডিগো করপোরেশন, রৌপ্যপদক পেয়েছে মনসুর জেনারেল ট্রেডিং এবং ব্রোঞ্জ পদক পেয়েছে সিএসএস ইন্টারন্যাশনাল।

    কৃষি প্রক্রিয়াজাতকরণ থেকে স্বর্ণপদক পেয়েছে হবিগঞ্জ অ্যাগ্রো, রৌপ্যপদক পেয়েছে প্রাণ অ্যাগ্রো এবং ব্রোঞ্জ পদক পেয়েছে প্রাণ ফুডস লিমিটেড।

    হস্তশিল্পজাত পণ্য খাত থেকে স্বর্ণপদক পেয়েছে কারুপণ্য রংপুর, রৌপ্যপদক পেয়েছে বিডি ক্রিয়েশন এবং ক্ল্যাসিকস হ্যান্ডমেড প্রোডাক্টস পেয়েছে ব্রোঞ্জ পদক।

    মেলামাইন খাত থেকে স্বর্ণপদক পেয়েছে ডিউরেবল প্লাস্টিক, প্লাস্টিক পণ্য থেকে স্বর্ণপদক পেয়েছে অলপ্লাস্ট, রৌপ্যপদক পেয়েছে আকিজ বায়াক্স ফিল্মস এবং ব্রোঞ্জ পদক পেয়েছে বঙ্গ প্লাস্টিক ইন্টারন্যাশনাল।

    সিরামিকের সামগ্রী খাত থেকে স্বর্ণ পদক পেয়েছে শাইনপুকুর সিরামিকস, রৌপ্য পদক পেয়েছে আর্টিসান সিরামিকস এবং ব্রোঞ্জ পদক পেয়েছে প্রতীক সিরামিকস।

    হালকা প্রকৌশল খাত থেকে স্বর্ণপদক পেয়েছে এমঅ্যান্ডইউ সাইকেলস, রৌপ্যপদক পেয়েছে মেঘনা বাংলাদেশ এবং ব্রোঞ্জ পদক পেয়েছে রংপুর মেটাল ইন্ডাস্ট্রিজ।

    ইলেকট্রিক ও ইলেকট্রনিক খাতে স্বর্ণপদক পেয়েছে ওয়ালটন হাইটেক ইন্ডাস্ট্রিজ এবং রৌপ্যপদক পেয়েছে বিআরবি কেব্ল ইন্ডাস্ট্রিজ।

    অন্যান্য শিল্পজাত পণ্য খাত থেকে স্বর্ণপদক পেয়েছে মেরিন সেফটি সিস্টেম, রৌপ্যপদক পেয়েছে মেসার্স এশিয়া মেটাল মেরিন সার্ভিস এবং ব্রোঞ্জ পদক পেয়েছে তাসনিম কেব্লস।

    ফার্মাসিউটিক্যাল পণ্য খাত থেকে স্বর্ণপদক পেয়েছে বেক্সিমকো ফার্মাসিউটিক্যাল, রৌপ্যপদক পেয়েছে ইনসেপটা ফার্মা এবং র স্কয়ার ফার্মা পেয়েছে ব্রোঞ্জ পদক।

    কম্পিউটার সফটওয়্যার থেকে স্বর্ণপদক পেয়েছে সার্ভিস ইঞ্জিন লিমিটেড এবং গোল্ডেন হারভেস্ট ইনফোটেক পেয়েছে রৌপ্যপদক।

    ইপিজেডভুক্ত শতভাগ বাংলাদেশি মালিকানাধীন তৈরি পোশাক শিল্প (নিট ও ওভেন) থেকে স্বর্ণপদক পেয়েছে ইউনিভার্সেল জিনস, রৌপ্যপদক পেয়েছে প্যাসিফিক জিনস এবং ব্রোঞ্জ পদক পেয়েছে শামা ডেনিমস।

    ইপিজেডভুক্ত শতভাগ বাংলাদেশি মালিকানাধীন অন্যান্য পণ্য ও সেবা খাত থেকে স্বর্ণপদক পেয়েছে স্টার প্যাকেজিং অ্যান্ড অ্যাকসেসরিজ, রৌপ্য পদক পেয়েছে পদ্মা স্পিনিং অ্যান্ড কম্পোজিট এবং ব্রোঞ্জ পদক পেয়েছে ফারদিন অ্যাকসেসরিজ।

    প্যাকেজিং ও অ্যাকসেসরিজ খাত থেকে স্বর্ণপদক পেয়েছে এমঅ্যান্ডইউ প্যাকেজিং, রৌপ্যপদক পেয়েছে মনট্রিমস লিমিটেড ও ব্রোঞ্জ পদক পেয়েছে মেসার্স ইউনিগ্লোরি পেপার অ্যান্ড প্যাকেজিং।

    অন্যান্য প্রাথমিক পণ্য থেকে স্বর্ণপদক পেয়েছে হেয়ার স্টাইল ফ্যাক্টরি, রৌপ্যপদক পেয়েছে রায় ট্রেড ইন্টারন্যাশনাল এবং ব্রোঞ্জ পদক পেয়েছে ইকো ফ্রেশ ইন্টারন্যাশনাল।

    সেবা খাত থেকে স্বর্ণপদক পেয়েছে মেসার্স এক্সপো ফ্রেইট লিমিটেড ও রৌপ্যপদক পেয়েছে মীর টেলিকম লিমিটেড।

    নারী উদ্যোক্তা বা রপ্তানিকারকদের জন্য সংরক্ষিত খাত থেকে স্বর্ণপদক পেয়েছে পাইওনিয়ার নিটওয়্যারস, রৌপ্যপদক পেয়েছে বি-কন নিটওয়্যার ও ব্রোঞ্জ পদক পেয়েছে ইব্রাহিম নিট গার্মেন্টস।

    এ সময় অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন বাণিজ্য প্রতিমন্ত্রী আহসানুল ইসলাম টিটু, বাণিজ্য মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি টিপু মুনশি, বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সচিব মোহাং সেলিম উদ্দিন ও রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরোর ভাইস-চেয়ারম্যান মো. আনোয়ার হোসেন, এফবিসিসিআই সভাপতি মাহবুবুল আলম।

  • বন্যার কারণে বাজারে কাঁচাপণ্যের দাম বেড়েছে: বাণিজ্য প্রতিমন্ত্রী

    বন্যার কারণে বাজারে কাঁচাপণ্যের দাম বেড়েছে: বাণিজ্য প্রতিমন্ত্রী

    www.HelloBangla.News – অর্থনীতি – ১৩ জুলাই, ২০২৪: বন্যার কারণে বাজারে কাঁচাপণ্যের দাম বেড়েছে, বলে জানিয়েছেন বাণিজ্য প্রতিমন্ত্রী আহসানুল ইসলাম টিটু। তিনি বলেন, “দেশের ১৮টি জেলায় বৃষ্টি ও ভারী বর্ষণের কারণে পানি বেড়ে গেছে। বিভিন্ন কাঁচাবাজারে পানি উঠেছে। বীজতলা পানির নিচে তলিয়ে গেছে। তাই বন্যার কারণে বাজারে কাঁচাপণ্যের দাম বেড়ে গেছে।

    আজ শনিবার (১৩ জুলাই) সকালে কারওয়ান বাজারের টিসিবি অডিটোরিয়ামে এক সংবাদ সম্মেলন শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে এ কথা বলেন তিনি।

    বাণিজ্য প্রতিমন্ত্রী বলেন, “এই মুহূর্তে ১৮টি জেলায় বৃষ্টি ও ভারী বর্ষণের কারণে পানি বেড়ে গেছে। বিভিন্ন কাঁচাবাজারে পানি উঠেছে। বীজতলা পানির নিচে তলিয়ে গেছে। এটি সাময়িক। কৃষি মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে আমরা যোগাযোগ করব, বন্যা পরবর্তী তারা কী পদক্ষেপ নিয়েছে। বন্যা পরবর্তী সাপ্লাই চেইন নিশ্চিত করার জন্য কৃষি মন্ত্রণালয়ের সচিবের সঙ্গে বসতে বলবো। বর্তমানে কৃষি পণ্যের কী অবস্থা, সেটা জেনে আমরা আপনাদের জানাবো।”

    তিনি আরও বলেন, “আমাদের ভোক্তা অধিদপ্তর সব সময় সচেষ্ট আছে। আপনারা নিজেরাই দেখতে পারছেন ভারী বর্ষণ হচ্ছে। এটা কিন্তু কোনও কন্সপিরেসি না। বাজারে বসার মত অবস্থা নেই। যেখান থেকে আমাদের কৃষি পণ্য আসার কথা, সেখান থেকে আসতে পারছে না। মজুদদারে বিরুদ্ধে আমাদের শক্ত অবস্থা থাকবে। আমরা সব সময় প্রস্তুত আছি। কোনও ব্যবসায়ীকে মজুদদারি করে পণ্যের দাম বাড়াতে দেওয়া হবে না।”

  • নিজস্ব মুদ্রায় বাণিজ্য করলে সার্কভুক্ত দেশগুলোর অর্থনীতি শক্তিশালী হবে: আব্দুর রাউফ

    নিজস্ব মুদ্রায় বাণিজ্য করলে সার্কভুক্ত দেশগুলোর অর্থনীতি শক্তিশালী হবে: আব্দুর রাউফ

    www.HelloBangla.News – অর্থনীতি – ১২ জুলাই, ২০২৪: সার্কভুক্ত দেশে স্থানীয় মুদ্রা বাণিজ্যে অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা, প্রবৃদ্ধি এবং আঞ্চলিক সহযোগিতার অপার সম্ভাবনা রয়েছে বলে মন্তব্য করেন বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর আব্দুর রউফ তালুকদার। তিনি বলেন, ‘সার্কভুক্ত দেশগুলোর মধ্যে স্থানীয় মুদ্রায় লেনদেন করলে মার্কিন অর্থনীতির উপর থেকে নির্ভরশীলতা কমে আসবে। এতে সার্কভুক্ত দেশগুলোর মধ্যে অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা বাড়বে এবং বিনিময় ঝুঁকি ও লেনদেনের খরচ কমবে। নিজস্ব মুদ্রায় বাণিজ্য পরিচালনা করলে আমরা আমাদের অর্থনীতিকে শক্তিশালী করতে পারি।’

    আজ শুক্রবার (১২ জুলাই) সকালে রেডিসন ব্লু চট্টগ্রাম বে ভিউর মোহনা হলে বাংলাদেশ ব্যাংকের উদ্যোগে আয়োজিত ‘Trading in Local Currencies: Problems and Prospects for the SAARC Countries’ শীর্ষক সার্ক ফাইন্যান্স সেমিনারে তিনি এসব কথা বলেন।

    প্রধান অতিথির বক্তব্যে গভর্নর বলেন, আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে মার্কিন ডলার দীর্ঘসময় ধরে আধিপত্য বিরাজ করে আসছে। বাণিজ্যের প্রায় ৪০ শতাংশ লেনদেন এ মুদ্রার মাধ্যমে হয়ে আসছে, কিন্তু ভূরাজনৈতিক উত্তেজনা ও অর্থনীতি নিষেধাজ্ঞার আলোকে এবং ভারসাম্যহীনতার ফলে অনেক দেশ একটি একক মুদ্রার ওপর নির্ভরশীল না থেকে বিকল্প পথ খুঁজে বের করার জন্য চেষ্টা করছে।

    তিনি বলেন, সার্কভুক্ত দেশগুলোর মধ্যে স্থানীয় মুদ্রায় লেনদেন করলে মার্কিন অর্থনীতির ওপর থেকে নির্ভরশীলতা কমে আসবে। এতে সার্কভুক্ত দেশগুলোর মধ্যে অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা বাড়বে এবং বিনিময় ঝুঁকি ও লেনদেনের খরচ কমবে। নিজস্ব মুদ্রায় বাণিজ্য চালনা করলে আমরা আমাদের অর্থনীতিকে শক্তিশালী করতে পারি। স্থানীয় বাণিজ্যের ক্ষেত্রে অনেক চ্যালেঞ্জ রয়েছে। তার মধ্যে প্রধান চ্যালেঞ্জ হলো অংশগ্রহণকারী দেশগুলোর মধ্যে শক্তিশালী দ্বিপাক্ষিক চুক্তি এবং সহযোগিতার কাঠামো প্রতিষ্ঠা করা। সেক্ষেত্রে স্থানীয় মুদ্রার স্থিতিশীলতা ও রূপান্তরযোগ্যতা নিশ্চিত করতে হবে এবং বাণিজ্যে ভারসাম্য বজায় রাখতে হবে।

    বিশেষ অতিথি ছিলেন রির্জাভ ব্যাংক অব ইন্ডিয়ার চিফ জেনারেল ম্যানেজার আদিত্য গায়হা, অর্থ মন্ত্রণালয়ের সচিব ড. মো. খায়েরুজ্জামান মজুমদার। বাংলাদেশ ব্যাংকের ডেপুটি গর্ভনর ড. মো. হাবিবুর রহমান, নির্বাহী পরিচালক সায়েরা ইউনুস বক্তব্য দেন।

    সেমিনারে বাংলাদেশ ব্যাংক ও কমার্শিয়াল ব্যাংকের কর্মকর্তারা অংশ নেন।

  • পদ্মা সেতুর বরাদ্দ থেকে ১৮৩৫ কোটি ৬৮ লাখ টাকা কম খরচ হয়েছে

    পদ্মা সেতুর বরাদ্দ থেকে ১৮৩৫ কোটি ৬৮ লাখ টাকা কম খরচ হয়েছে

    www.HelloBangla.News – অর্থনীতি – ৫ জুলাই, ২০২৪: পদ্মা সেতু প্রকল্পে জন্য বরাদ্দ করা হয় ৩২ হাজার ৬০৭ কোটি টাকা। এই টাকা থেকে এক হাজার ৮৩৫ কোটি ৬৮ লাখ টাকা কম খরচ হয়েছে। মূল সেতুর ১৩ হাজার ১৩৩ কোটি টাকা খরচে সাশ্রয় হয়েছে প্রায় ৫২৬ কোটি টাকা। তবে নদী শাসনে বেশি লেগেছে প্রায় ১৭১ কোটি ২৭ লাখ টাকা।

    আজ শুক্রবার (৫ জুলাই) পদ্মা বহুমুখী সেতুর প্রকল্প পরিচালক শফিকুল ইসলাম বিষয়টি জানান।

    শফিকুল ইসলাম বলেন, “নানা অনিশ্চয়তার মধ্যেই আমাদের কাজটি সম্পন্ন করতে হয়েছে। বিশ্বব্যাংকসহ বিভিন্ন সংস্থা সরে যাওয়ার পর প্রধানমন্ত্রীর চেষ্টায় আমরা সেতুর কাজ শেষ করতে পেরেছি। আমাদের সর্বশেষ বরাদ্দ থেকে এক হাজার ৮৩৫ কোটি ৬৮ লাখ টাকা কম খরচ হয়েছে। আমরা ওই টাকা নিয়ম অনুযায়ী সরকারি কোষাগারে জমা দেব।”

    তিনি আরও বলেন, “এটি অনেক বড় একটি প্রকল্প। আমাদের কিছু ক্লেইম ছিল। নদীশাসন ও কারিগরি কিছু কাজ বাকি ছিল। বড় কাঠামো তৈরির পর ডিফেক্ট লায়াবিলিটি পিরিয়ড থাকে। এ সময়ে অবকাঠামোর ত্রুটি-বিচ্যুতি থাকলে (যেমন কোথাও রং উঠে গেছে, কোথাও কিছুটা কাজ বাকি থেকে গেছে ইত্যাদি) তা সংশোধন করা হয়। ঠিকাদারদেরও বেশ কিছু ক্লেইম ছিল। এ কারণে বারবার আমাদের মিটিং করতে হয়েছে। অর্থাৎ সব কাজ এ সময়ের মধ্যে সম্পন্ন করা হয়েছে, গত ৩০ জুনই সম্পন্ন হয়েছে।”

    ২৩ বছর আগে ২০০১ সালের ৪ জুলাই মাওয়ায় পদ্মা সেতুর ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেছিলেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এরপর সরকারে ফিরে ২০০৯ সাল থেকে আবার পুরোদমে কাজ শুরু করে আওয়ামী লীগ সরকার। ২০১০ সালের ১১ এপ্রিল দরপত্র আহ্বান করা হয়। পরের বছর ২০১১ সালের ২৮ এপ্রিল পদ্মার বুকে চলন্ত ফেরিতে বিশ্বব্যাংকের সঙ্গে ১২০ কোটি ডলারের ঋণচুক্তি স্বাক্ষর হয়। পরে জাইকা, আইডিবি ও এডিবির সঙ্গে ঋণচুক্তি হয়।

    কিন্তু ২০১২ সালের ২৯ জুন বিশ্ব ব্যাংক ঋণচুক্তি বাতিল করে। ২৫ জুলাই প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা নিজস্ব অর্থায়নে পদ্মা সেতু নির্মাণের ঘোষণা দিয়ে কাজ চলমান রাখেন এবং ২০১৫ সালের ১২ ডিসেম্বর মূল পদ্মা সেতুর নির্মাণকাজের উদ্বোধন করেন তিনি। বিশ্বকে তাক লাগিয়ে নিজস্ব অর্থায়নে নির্মাণ শেষে ২০২৩ সালের ১০ অক্টোবর স্বপ্ন জয়ের পদ্মা সেতু উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।