Author: Hello Bangla News

  • অস্ত্রের বিরুদ্ধে নামতে হবেঃ বাইডেন

    অস্ত্রের বিরুদ্ধে নামতে হবেঃ বাইডেন

    নব্বইয়ের দশকের তুলনা টেনে এনেছেন বাইডেন। তিনি তখন কংগ্রেসে। প্রেসিডেন্ট বিল ক্লিন্টন অস্ত্র আইন নিয়ে কড়া পদক্ষেপ নিয়েছিলেন। বাইডেন বলেন, ‘আবার সেই একইভাবে অস্ত্রের বিরুদ্ধে নামতে হবে।’

    যুক্তরাষ্ট্রের ন্যাশভিলের এক স্কুলে বন্দুকধারীর আক্রমণের ঘটনা নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন। নর্থ ক্যারোলিনার একটি অনুষ্ঠানে তিনি বলেছেন, ‘ওই স্কুলে যা ঘটেছে, তা মর্মান্তিক। একমাত্র কংগ্রেসই এই পরিস্থিতিতে এগিয়ে আসতে পারে এবং দেশকে বাঁচাতে পারে।’ এরপরই যুক্তরাষ্ট্রের বন্দুক আইন নিয়ে কথা বলেন তিনি।

    সোমবারের বক্তৃতার সময় বাইডেন জানিয়েছেন, ‘দুঃখজনক সত্য হলো, যুক্তরাষ্ট্রে সবচেয়ে বেশি শিশুর মৃত্যু হয় বন্দুকধারীর গুলিতে। গত কয়েকবছরে একের পর এক স্কুলে আক্রমণ হয়েছে এবং একের পর এক শিশুর মৃত্যু হয়েছে। ন্যাশভিল তার সাম্প্রতিকতম উদাহরণ। এই মুহূর্তে এটা বন্ধ হওয়া দরকার।’

    এক সমীক্ষা তুলে ধরে বাইডেন বলেন, ‘বলা হচ্ছে, প্রতিবছর গাড়ি দুর্ঘটনায় যত ছাত্রছাত্রীর নিহত হয়, বন্দুকধারীর হামলায় তার চেয়ে অনেক বেশি ছাত্রছাত্রী নিহত হয়।’

    দুঃখপ্রকাশ করে বাইডেন জানান, চোখের সামনে তথ্য থাকা সত্ত্বেও তার হাত-পা বাঁধা। অস্ত্র আইন বদলের চেষ্টা করেও তিনি ব্যর্থ হয়েছেন। ফলে এবার বিষয়টি তিনি কংগ্রেসের হাতে ছেড়ে দিয়েছেন।

    তার বক্তব্য একমাত্র কংগ্রেসই পারে এই পরিস্থিতির বদল ঘটাতে।

    প্রেসিডেন্ট বলেছেন, অধিকাংশ আমেরিকান ঘরে সেমি অটোমেটিক- হত্যা করা যায়, এমন অস্ত্র রাখতে চায় না। কয়েকজন রাখে। আর যারা রাখে, তারাই অস্ত্র হামলা করে। ন্যাশভিলের স্কুলে এক নারী একাধিক বন্দুক নিয়ে ওই ঘটনা ঘটিয়েছে। পুলিশ অবশ্য ঘটনাস্থলেই তাকে গুলি করে মেরেছে।

    ন্যাশভিলের ঘটনায় তিন শিশুসহ ছয়জন নিহত হয়েছে। এক নারী সেমি অটোমেটিক মেশিনগান নিয়ে স্কুলের ভেতর ঢুকে নির্বিচারে গুলি চালাতে থাকে। পুলিশ এখন পর্যন্ত তার পরিচয় প্রকাশ করেনি। কেন সে একাজ করলো, তা-ও এখনো স্পষ্ট নয়।

    সূত্র : ডয়চে ভেলে

  • আজই সিরিজ জয়ের লক্ষ্য টাইগারদের

    আজই সিরিজ জয়ের লক্ষ্য টাইগারদের

    টি-টোয়েন্টি সিরিজ জয়ের লক্ষ্যে আয়ারল্যান্ডের বিপক্ষে মাঠে নামছে বাংলাদেশ। প্রথম ম্যাচের পারফরম্যান্স এই ম্যাচেও ধরে রাখতে চায় টাইগাররা।  অন্তত প্রথম ম্যাচের পারফরম্যান্স দেখে এমনটাই বলা যায়।  এদিকে, নিজেদের ভুল থেকে শিক্ষা নিয়ে সফরে প্রথম জয়ের পাশাপাশি সিরিজ বাঁচানোয় চোখ আইরিশদের।  বাংলাদেশের ক্রিকেটের দারুণ এই পরিবর্তনে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে ছোট ফরম্যাটে সিরিজ জয়ের পর এবার সামনে আছে আয়ারল্যান্ড।

    চট্টগ্রামের জহুর আহম্মেদ চৌধুরি স্টেডিয়ামে ম্যাচটি শুরু হবে আজ বুধবার দুপুর ২টায়।  ২০ ওভারের ক্রিকেটে অস্ট্রেলিয়া, নিউজিল্যান্ড, ইংল্যান্ডের মতো দলকে হারানোর পর এখন আয়ারল্যান্ডের বিপক্ষে সিরিজ জয়ের হাতছানি।

    টাইগারদের ক্রিকেটিং মানসিকতা পরিবর্তনের লক্ষ্য নিয়েই দ্বিতীয় মেয়াদে কোচের দায়িত্ব নিয়েছেন চন্ডিকা হাথুরুসিংহে। তার প্রথম মিশনে ইংলিশদের বিপক্ষে ওয়ানডে সিরিজ হাতছাড়া হলেও টি-টোয়েন্টিতে হোয়াইটওয়াশ করে ইতিহাস সৃষ্টি করে বাংলাদেশ।

    আগের ম্যাচে বাংলাদেশ দুইশর বেশি সংগ্রহ গড়ে। ৪ বল আগেই বৃষ্টিতে শেষ হয় ইনিংস। বৃষ্টি আইনে ৮ ওভারে ১০৪ রানের লক্ষ্য পায় আয়ারল্যান্ড। শুরুটা দুর্দান্ত করলেও হাসান মাহমুদ ও তাসকিন আহমেদদের তোপে সেই ধারা ধরে রাখতে পারেনি সফরকারীরা। অনায়াসেই জয় পায় টাইগাররা।

    দ্বিতীয় টি-টুয়েন্টির আগে দুই দলই বিশ্রামে কাটিয়েছে। ওয়ানডে সিরিজ জয়ের পর টি-টুয়েন্টিতেও ভালো শুরু করা বাংলাদেশ দল অনেকটা নির্ভার। তবে চাপে আছে আয়ারল্যান্ড। টি-টুয়েন্টি সিরিজ শুরুর আগ মুহূর্তে অধিনায়ক বদলেও সাফল্য পাচ্ছে না দলটি।

     

  • সৌদিতে বাস দুর্ঘটনায় নিহত বাংলাদেশির সংখ্যা বেড়ে ১৩

    সৌদিতে বাস দুর্ঘটনায় নিহত বাংলাদেশির সংখ্যা বেড়ে ১৩

    সৌদি আরবের ভয়াবহ বাস দুর্ঘটনায় এখন পর্যন্ত ১৩ বাংলাদেশি ওমরাহ যাত্রী নিহত হওয়ার খবর জানা গেছে। এ ঘটনায় ১৭ বাংলাদেশিকে বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। আজ বুধবার (২৯ মার্চ) পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এ কথা জানিয়েছে।

    গত সোমবার (২৭ মার্চ)  ওমরাহ পালন করতে পবিত্র মক্কা নগরী যাওয়ার পথে ওমরাহ যাত্রী বহনকারী বাসটি ব্রিজের সঙ্গে ধাক্কা লেগে উল্টে আগুন ধরে যায়। সোমবার আসির প্রদেশ ও আভা শহরের সঙ্গে সংযোগকারী সড়কে বাসটির ব্রেক ফেল হওয়ায় এই দুর্ঘটনা ঘটে।

    সৌদি আরবে আসির প্রদেশে বাস উল্টে নিহত সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ২৪ জন। বুধবার (২৯ মার্চ) পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এ তথ্য জানিয়েছে। নিহত ১৩ বাংলাদেশির পরিচয় পাওয়া গেছে। তারা হলেন-

    ১। শহিদুল ইসলাম পিতাঃ মোঃ শরিয়ত উল্লাহ, সেনবাগ, নোয়াখালী।

    ২। মামুন মিয়া পিতাঃ আব্দুল আওয়াল, মুরাদনগর, কুমিল্লা।

    ৩। মোহাম্মদ হেলাল, নোয়াখালী।

    ৪। সবুজ হোসাইন, লক্ষ্মীপুর।

    ৫। রাসেল মোল্লা, মুরাদনগর কুমিল্লা।

    ৬। মোঃ আসিফ, মহেশখালী কক্সবাজার।

    ৭। মোঃ ইমাম হোসাইন রনি পিতাঃ আব্দুল লতিফ, টঙ্গী, গাজীপুর।

    ৮। রুক মিয়া পিতাঃ কালু মিয়া, চাঁদপুর।

    ৯। সিফাত উল্লাহ, মহেশখালী, কক্সবাজার।

    ১০। গিয়াস হামিদ, দেবীদ্দার, কুমিল্লা।

    ১১। মোহাম্মদ নাজমুল পিতাঃ কাওসার মিয়া, কোতোয়ালি যশোর।

    ১২। রনি, পিতাঃ ইস্কান্দার, যশোর।

    ১৩। মোহাম্মদ হোসেন, কক্সবাজার।

    নিহত ১৩ জন ছাড়াও এখনও পর্যন্ত আরও ৫ জন বাংলাদেশী নিখোঁজ রয়েছে এবং ধারণা করা হচ্ছে তারা সবাই মৃত কিন্তু তাদের লাশ পুড়ে যাওয়ায় শনাক্ত করা যাচ্ছে না।

    পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র সেহেলী সাবরীন জানিয়েছেন, সৌদি আরবে যে বাস দুর্ঘটনা ঘটেছে, সেই বাসে ৪৭ জন যাত্রী ছিলেন। এর মধ্যে বাংলাদেশি নাগরিক ছিলেন ৩৫ জন। বাস দুর্ঘটনায় ১৮ বাংলাদেশি আহত হয়েছেন। তাদের মধ্যে ১৭ জনকে বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

    এছাড়া বাসে ভিন্নদেশি ১২ জন যাত্রীদের মধ্যে ৫ জনকে মৃত এবং ৭ জনকে আহত অবস্থায় বিভিন্ন হাসপাতালে শনাক্ত করা সম্ভব হয়েছে।

  • ক্যাবল নেটওয়ার্ক ডিজিটাল হলে সব পক্ষ উপকৃত হবে : তথ্যমন্ত্রী

    ক্যাবল নেটওয়ার্ক ডিজিটাল হলে সব পক্ষ উপকৃত হবে : তথ্যমন্ত্রী

    তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ বলেছেন, ক্যাবল নেটওয়ার্ক ডিজিটাল হলে দর্শক, অপারেটর, সরকার সবাই উপকৃত হবে। দর্শক বেশি চ্যানেল ও স্বচ্ছতর ছবি পাবে, অপারেটররা ব্যবসার ঠিক হিসাব এবং সরকার ঠিক রাজস্ব পাবে।

    একইসাথে এ জন্য প্রয়োজনীয় সেট টপ বক্সগুলো যেন প্রান্তিক জনগোষ্ঠীসহ সবার সামর্থ্য অনুযায়ী কেনার সুযোগ থাকে সে বিষয়েও গুরুত্ব আরোপ করেন তিনি।

    মঙ্গলবার সন্ধ্যায় রাজধানীর কাকরাইলে ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ারস ইনস্টিটিউট মিলনায়তনে ক্যাবল অপারেটরস এসোসিয়েশন অভ বাংলাদেশ (কোয়াব) আয়োজিত ইফতার সভায় প্রধান অতিথির বক্তৃতায় মন্ত্রী এ সব কথা বলেন।

    দেশের ক্যাবল নেটওয়ার্ককে ডিজিটাল পদ্ধতিতে রূপান্তরের পথিকৃৎ আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক হাছান মাহমুদ বলেন, আমরা এক একটি এলাকা ব্লক করে নেটওয়ার্ক ডিজিটাল করাতে চাই না। ডিজিটাল করার প্রক্রিয়ার শুরুতে এনালগ পদ্ধতিও পাশাপাশি থাকতে পারে। তবে ডিজিটাল পদ্ধতিতে দেশি-বিদেশি সকল চ্যানেল আর এনালগ পদ্ধতিতে শুধু দেশি চ্যানেল দেখা যাবে।

    সম্প্রচারমন্ত্রী স্মরণ করিয়ে দেন, ‘প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনার হাত ধরেই দেশে বেসরকারি টেলিভিশনের যাত্রা শুরু। এখন প্রায় ৩৬টির মতো টিভি চ্যানেল সম্প্রচারে আছে, আরো আসছে। এটি না হলে আজ কেউ টিভি চ্যানেল মালিক বা ক্যাবল অপারেটর থাকতেন না। সুতরাং যার নেতৃত্বে দেশ অদম্য গতিতে এগিয়ে চলেছে, যার কারণে এই শিল্পের বিকাশ, তার নেতৃত্বে এই অগ্রযাত্রা বজায় রাখার বিষয়টি ভাবনায় রাখার অনুরোধ জানাই।’

    হাছান মাহমুদ এ সময় কয়েক দশক ধরে টিভি চ্যানেলগুলো প্রান্তিক জনগোষ্ঠীসহ সারাদেশের মানুষের কাছে পৌঁছে দেওয়ায় ক্যাবল অপারেটরদের ভূমিকার প্রশংসা করেন। আইনানুসারে বিদেশি চ্যানেলগুলোর বিজ্ঞাপনমুক্ত বা ক্লিনফিড সম্প্রচার ও টিভি চ্যানেলগুলোর ক্রম ঠিক রাখার বিষয়ে সহযোগিতার জন্য তিনি তাদের ধন্যবাদ জানান।

    কোয়াব নেতৃবৃন্দের উত্থাপিত দাবির প্রেক্ষিতে তিনি বলেন, ক্যাবল অপারেটররা ইন্টারনেট সংযোগ দেওয়া শুরু করলে যেমন এক ব্যবসা অঙ্গনে অন্যের ঢুকে পড়া হবে, সেটি ওটিটি প্লাটফর্ম এবং অন্য সব ক্ষেত্রেই প্রযোজ্য। ওটিটি নীতিমালার চূড়ান্ত খসড়াটি হাইকোর্টের অনুমোদন হয়ে এলে এ সব বিষয়ে সুনির্দিষ্ট পদক্ষেপ নেওয়া যাবে।

    কোয়াব সভাপতি এবিএম সাইফুল হোসেনের সভাপতিত্বে সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ মোশাররফ আলী, সহসভাপতি রাশেদুর রহমান মালিক ও সৈয়দ হাবিব আলী, সাবেক সভাপতি আনোয়ার পারভেজ প্রমুখ সভায় বক্তব্য রাখেন। একাত্তর টিভির চেয়ারম্যান মোজাম্মেল হক বাবু, এশিয়ান টিভির চেয়ারম্যান হারুনুর রশীদসহ বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেলের দায়িত্বশীল কর্মকর্তারা ইফতারে উপস্থিত ছিলেন।

  • রমজান মাসে সুস্থ থাকতে যা খাবেন

    রমজান মাসে সুস্থ থাকতে যা খাবেন

    সুস্থ থাকতে হলে সতর্ক হতে হবে খাবার নির্বাচনে। রমজানের সময় এমনিতেই আমাদের দৈনন্দিন রুটিনে পরিবর্তন আসে। অনেকে পানিশূন্যতা, কোষ্ঠকাঠিন্য, এসিডিটি, বুক-পেটে ব্যাথা, বদহজমসহ নানা জটিলতায় ভোগেন। তবে খাবার গ্রহণে কিছুটা সতর্কতা ও নিয়ম মেনে চললে এসব সমস্যার বেশিরভাগই এড়ানো সম্ভব।

    রোজায় সেহরি, ইফতার ও রাতের খাবার খাওয়ার বিষয়ে কিছু নিয়ম মানতে হবে। আসুন জেনে নেই রোজায় কি ধরনের খাবার খাবেন?

    সেহরি

    সেহেরি সময় শেষ হওয়ার ৩০ মিনিট আগে থেকে খাওয়া ‍শুরু করুন। এই সময়ের খাবারে জটিল শর্করা যেমন- লাল চাল, লাল আটা, ওটস, বার্লি, শস্য দানা খেলে অনেক সময় পর্যন্ত শক্তি পাওয়া যায়। কেননা এই জাতীয় খাবার ধীরে হজম হয় এবং সময় নিয়ে রক্তে গ্লুকোজ সরবরাহ করে।

    সেহরিতে প্রোটিন জাতীয় খাবার অবশ্যই রাখতে হবে। মাছ, মুরগির মাংস বা ডিম যেকোনো একটি খেতে পারেন। রোজায় ডাল জাতীয় খাবার পরিমাণে বেশি খাওয়া হয় বলে মাছ, মাংস, দুধ ও ডিমের দিকে একটু খেয়াল রাখতে হবে।

    এছাড়া রঙিন ও পানি জাতীয় সবজি যেমন-লাউ, পটল, পেঁপে, ঝিঙা, চিচিঙ্গা, টমেটো, চালকুমড়া, ক্যাপসিকাম ইত্যাদি খেতে পারেন। যেগুলো পাকস্থলীতে উত্তেজনা কমায় এবং সহজে হজম হয়।

    ইফতার

    ১. ইফতারে খেতে পারেন পুষ্টিগুণে ভরপুর খেজুর। এটি নিমেষেই দেহে শক্তি যোগায়। ইফতার শুরু করুন পানি ও ২টি খেজুর দিয়ে। তবে ডায়াবেটিক রোগীরা ১টি খেজুর খেতে পারেন।

    ২. সময় নিয়ে ভালো করে চিবিয়ে এবং ধীরে ধীরে ইফতার করুন। সব খাবার একবারে খাওয়া চলবে না। এতে করে খাবার পরিপাকে সমস্যা হবে না, সেই সঙ্গে তৃপ্তি সহকারে খাওয়া যাবে।

    ৩. শরবতে চিনির পরিবর্তে গুড় বা মধু ব্যবহার করুন। এছাড়া ডাবের পানি, চিনি ছাড়া ফলের রস, লাচ্ছি, স্মুদি, বিভিন্ন ফ্রুট শেইক, লেবু পানি বা স্যালাইনও রাখতে পারেন। ডায়বেটিক রোগীর খাবারে বাড়তি চিনি যোগ করা যাবে না।

    ৪. ভাজা-পোড়া খাবার খেতে হবে একটু হিসেব করে। অতিরিক্ত ভাজা খাবার শরীরে এসিডিটি, তৃষ্ণা, বদহজম, অস্বস্তি তৈরি করে। পিয়াজু, বেগুনি, আলু, মাংস ও সবজির চপ, বিভিন্ন পাকোড়া সপ্তাহের দিন হিসেবে ভাগ করে নিন।

    ৫. অল্প তেল, মসলায় রান্না করা ছোলার সঙ্গে শসা, টমেটো, লেবু, কাঁচা মরিচ, পুদিনা বা ধনে পাতার সালাদ খেলে ভিটামিন-সি’সহ অন্যান্য ভিটামিন ও মিনারেল পাওয়া যাবে। অনেকে কাঁচা ছোলা বা অঙ্কুরিত ছোলা খেতে পছন্দ করেন। যা খুবই স্বাস্থ্যকর। এই ছোলা মুখে ঘা সারাতে সাহায্য করে।

    ৬. ইফতারে খেতে পারেন মৌসুমি ফল। এসময় পেঁপে, তরমুজ, বাঙ্গি, কলা, মাল্টা, আপেল, আনারস, কমলা, পেয়ারা, আম পাওয়া যায়। ফ্রুট সালাদ করে খেলেও অনেক ধরনের ভিটামিন ও মিনারেলস পাওয়া যায় এবং রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতাও বাড়ে।

    ৭. এক কাপ দুধ বা দুধের তৈরি খাবার পুডিং, পায়েস, ছানা, সেমাই, ফ্রুট কাস্টার্ড আপনার প্রোটিন, ক্যালসিয়াম, পটাশিয়ামের ঘাটতি পূরণ করবে। দুধের সঙ্গে কাঠবাদাম যুক্ত করে খেতে পারেন।

    ৮. যারা এসিডিটির সমস্যায় ভুগছেন তারা মুড়ি ভালো করে চিবিয়ে খেলে এ সমস্যা থেকে মুক্তি পাবেন। কাঁচা পেঁপেও এক্ষেত্রে সাহায্য করে।

    ৯. চাল, ডাল, সবজি ও ডিম দিয়ে তৈরি নরম খিচুড়ি ইফতারের জন্য একটি ভালো খাবার। যদি কেউ নুডুলস খেতে চান তাহলে অল্প তেল, সবজি ও মাংস যুক্ত করে খেতে পারেন। তবে অবশ্যই অন্য খাবারের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে খেতে হবে।

    ১০. যাদের কোষ্ঠকাঠিন্যের সমস্যা আছে তারা ইসুবগুল, তোকমা প্রতিদিনের খাদ্য তালিকায় রাখুন।

    রাতের খাবার
    রাতে অল্প পরিমাণে পুষ্টিকর ও সহজপাচ্য খাবার প্রয়োজনীয় ক্যালরি চাহিদা পূরণ করবে। অল্প পরিমাণে ভাত, রুটির সঙ্গে মিক্সড সবজি, মাছ অথবা মাংস, সামান্য ডাল রাখতে পারেন।

    নিউট্রিশনিস্ট অ্যান্ড ডায়েট কনসালটেন্ট, জে বি ডায়াগনস্টিক কমপ্লেক্স, খুলনা

     

  • ১০ বছর জেল, পুঁজিবাজারে কারসাজি করলেই সম্পদ বাজেয়াপ্ত

    ১০ বছর জেল, পুঁজিবাজারে কারসাজি করলেই সম্পদ বাজেয়াপ্ত

    শেয়ারবাজারে সব সময়ই সক্রিয় থাকে কারসাজি চক্র। সাধারণ বিনিয়োগকারীদের ঠকিয়ে অর্থ হাতিয়ে নেয়ার নিত্যনতুন পদ্ধতি অবলম্বন করে তারা। এই কারসাজি চক্রের জন্য বড় দুঃসংবাদ আসছে।

    পুঁজিবাজারে কারসাজি করলে সম্পদ বাজেয়াপ্ত হবে। পাশাপাশি জড়িতদের ১০ বছর পর্যন্ত কারাদণ্ডের বিধান রেখে আইন করছে সরকার। প্রস্তাবিত ‘বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন আইন-২০২২’ এর খসড়া অর্থমন্ত্রণালয়ের ওয়েবসাইটে প্রকাশ করা হয়েছে।

    বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন আইন-২০২২ নামে প্রস্তাবিত আইনে এসব বিধান রয়েছে। এছাড়া মালিকপক্ষ বা দায়িত্বশীল ঊর্ধ্বতনদের শেয়ার ব্যবসা বা ইনসাইডার ট্রেডিং বন্ধে গোয়েন্দা কার্যক্রম চালানোর সুযোগ রাখা হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা এসব বিধানকে সময়োপযোগী বলছেন।

    পুঁজিবাজারে কারসাজি বা প্রতারণামূলক কর্মকাণ্ডে জড়িত ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের অর্জিত সম্পদ বাজেয়াপ্ত হবে। পাশাপাশি সর্বোচ্চ ১০ বছরের কারাদণ্ড বা সর্বনিম্ন ১০ লাখ টাকা জরিমানা বা উভয় দণ্ড দেওয়া যাবে।

    কোম্পানি আইন বিশেষজ্ঞ ব্যারিস্টার মোকছেদুল ইসলাম বলেন, “শেয়ার বাজার নিয়ে কারসাজি প্রায়ই শোনা যায়, তার বিপক্ষে যে এই ধরনের আইন তৈরি করা হচ্ছে সেটাকে সাধুবাদ দিতে হয়। তবে এটাকে কিভাবে কার্যকর করবে কি করবে না তার উপর নির্ভর করবে এটা কতটুকু যুগোপযোগী হলো।”

    পুঁজিবাজার বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক আবু আহমেদ বলেন, “আগের যে আইনটা করা হয়েছিল সেটা অনেককিছু কাভার করেনি। এখন যেটা হচ্ছে সেটা গ্লোবাল অনুযায়ী ঠিকই আছে।”

    খসড়ায় আরও রয়েছে, শেয়ারবাজার সংশ্লিষ্ট কোনো কোম্পানি বা প্রতিষ্ঠান দেউলিয়া হলেও তার জিম্মায় থাকা কোনো বিনিয়োগকারীর সম্পদকে পরিসম্পদ হিসেবে গণ্য করা বা অন্যের দায় মেটাতে তা ব্যবহার করা যাবে না।

    এছাড়া নতুন আইনের খসড়ায় বিনিয়োগকারীদের ক্ষতির দ্বিগুণ ক্ষতিপূরণ দেয়ার বিধান রাখা হয়েছে। তালিকাভুক্ত কোম্পানির সঙ্গে অ-তালিকাভুক্ত প্রতিষ্ঠান একীভূতকরণ বা পুনর্গঠনের ক্ষমতা পাচ্ছে বিএসইসি।

     

  • ৩৫৫ মিলিয়ন ডলার করে পাবে প্রতিটি ক্লাব আগামী দুই বিশ্বকাপে

    ৩৫৫ মিলিয়ন ডলার করে পাবে প্রতিটি ক্লাব আগামী দুই বিশ্বকাপে

    বিশ্বকাপে নিজ নিজ দেশের প্রতিনিধিত্ব করা খেলোয়াড়দের ছাড়তে সংশ্লিষ্ট ক্লাবগুলোকে ফিফা যে ক্ষতিপূরণ দিতো আগামী ২০২৬ ও ২০৩০’ এই দুই টুর্নামেন্টে তা প্রায় ৭০ শতাংশ বৃদ্ধি করা হয়েছে। এই দুই আসরের জন্য প্রতিটি ক্লাবকে ৩৫৫ মিলিয়ন মার্কিন ডলার দেয়া হবে বলে বিশ্ব ফুটবলের নিয়ন্ত্রণ সংস্থা ও ইউরোপীয়ান ক্লাব এসোসিয়েশন (ইসিএ) নিশ্চিত করেছে।

    আন্তর্জাতিক ম্যাচ খেলতে গিয়ে কোনো খেলোয়াড় যদি ইনজুরিতে পড়ে তবে তার জন্য ক্লাবগুলোকে রক্ষা করার দায়িত্ব ক্লাব বেনিফিট প্রোগামের। এই প্রোগ্রামের আওতায় জাতীয় দল থেকে যে ক্ষতিপূরণ পাওয়া যায়  সেগুলোর একটি সিংহভাগ শেয়ার ক্লাবের রাজস্বখাতে জমা হয়।

    এর আগে ২০১৮ ও ২০২২ বিশ্বকাপে এই খাতে প্রতিটি ক্লাবকে ২০৯ মিলিয়ন মার্কিন ডলার দেয়া হয়েছিল। সোমবার হাঙ্গেরির রাজধানী বুদাপেস্টে অনুষ্ঠিত ইসিএ জেনারেল এ্যাসেম্বলিতে নতুন করে এ সংক্রান্ত এমওইউ স্বাক্ষর হয়েছে।

    সোমবার হাঙ্গেরির রাজধানী বুদাপেস্টে অনুষ্ঠিত ইসিএ জেনারেল এ্যাসেম্বলিতে নতুন করে এ সংক্রান্ত এমওইউ স্বাক্ষর হয়েছে।

    এর আগে ২০১৮ ও ২০২২ বিশ্বকাপে এই খাতে প্রতিটি ক্লাবকে ২০৯ মিলিয়ন মার্কিন ডলার দেওয়া হয়েছিল।

  • পিছু হটলেন নেতানিয়াহু গণবিক্ষোভের মুখে, বিল স্থগিত

    পিছু হটলেন নেতানিয়াহু গণবিক্ষোভের মুখে, বিল স্থগিত

    ইসরায়েলের বিচারব্যবস্থায় বিতর্কিত সংস্কার পরিকল্পনা বাস্তবায়ন থেকে আপাতত সরে এসেছে সরকার। কয়েক মাস ধরে চলা গণবিক্ষোভের মুখে আজ সোমবার এ সংস্কার পরিকল্পনা আগামী মে মাস পর্যন্ত বাস্তবায়ন হচ্ছে না বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু।

    ব্যাপক বিক্ষোভের মুখে বিচার বিভাগের সংস্কার বিল সাময়িক স্থগিত করেছেন ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু। গতকাল সোমবার রাতে তিনি বলেন, জনগণের মধ্যে বিভক্তি ঠেকাতে বিলটি সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে।

    নেতানিয়াহু বলেন, ‘জাতীয় দায়িত্ববোধ, মানুষের মধ্যে বিবাদ ঠেকাতে আমি এই বিলের দ্বিতীয় ও তৃতীয় শুনানি বিলম্বিত করার সিদ্ধান্ত নিয়েছি।’ বিতর্কিত এ সংস্কার পরিকল্পনা নিয়ে বিরোধীদের সঙ্গে সমঝোতায় পৌঁছাতে কিছুটা সময় দিতে চান বলেও জানান তিনি।

    ব্রিটিশ গণমাধ্যম বিবিসি এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে, নেতানিয়াহুর এ ঘোষণার পর ইসরায়েলে আপাতত স্বস্তি ফিরে এসেছে। তবে বিলটি সাময়িক স্থগিত করা হলেও পরে আবার সংসদে উত্থাপন করা হবে কি না, তা নিশ্চিত নয়। আপাতত আগামী অধিবেশন পর্যন্ত এই বিল স্থগিত রাখা হয়েছে।

    আলজাজিরার প্রতিবেদনে বলা হয়, গত কয়েক মাস ধরে ডানপন্থি নেতানিয়াহু সরকারের বিচারব্যবস্থায় সংস্কার পরিকল্পনার বিরুদ্ধে ইসরায়েলে বিক্ষোভ চলছে। আজ সোমবার সরকারের বিরুদ্ধে বিক্ষোভ দেখাতে লাখো ইসরায়েলি রাস্তায় নেমে আসেন।

    বিচার বিভাগ সংস্কার বিলের বিরুদ্ধে এ বছরের শুরু থেকেই বিক্ষোভ করে ইসরায়েলের মানুষ। গত ২৭ মার্চ প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইয়োভ গ্যালান্টকে বরখাস্ত করার পর বিক্ষোভ আরও তীব্র হয়। লাখো মানুষ নেমে আসে তেলাবিবের রাস্তায়। বিক্ষোভে নেতৃত্ব দেন নেতানিয়াহুর রাজনৈতিক বিরোধীরা। তবে নেতানিয়াহুর পক্ষের অনেকেও তাঁর বিপক্ষে অবস্থান নিয়েছেন।

    এমনকি সরকারের এ উদ্যোগের বিরোধিতা করায় গতকাল ইসরায়েলের প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইয়োভ গ্যালান্টকে বরখাস্ত করেন নেতানিয়াহু। প্রতিরক্ষামন্ত্রীকে বরখাস্ত করার সিদ্ধান্তে লিকুদ পার্টির মধ্যেও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। কয়েকজন মন্ত্রী বলেছেন, নেতানিয়াহুকে বিচার বিভাগীয় সংস্কার আপাতত স্থগিত রাখতে হবে। জোট শরিকেরা এ নিয়ে গতকাল বৈঠক করেছে। ফলে দল ও জোটেও অস্বস্তিকর অবস্থায় পড়েছেন নেতানিয়াহু।

    বিচারব্যবস্থায় এই সংস্কার পরিকল্পনায় এমন বিষয়ও রয়েছে—যেখানে বিচারক নিয়োগ কমিটির পূর্ণ নিয়ন্ত্রণও সরকারের হাতে চলে যাবে। শুধু তাই নয়, সংস্কারকৃত আইনে শাসন কাজে অযোগ্য নেতাকেও আদালতের পক্ষে সরানো কঠিন করে তুলবে। আর এই দিকটিই অনেক ইসরায়েলিকে বিক্ষুব্ধ করে তুলেছে। তারা মনে করছেন, ক্ষমতাসীন নেতানিয়াহু নিজের স্বার্থের জন্যই এমনটা করছেন। কারণ তার বিরুদ্ধে দুর্নীতির মামলার বিচার চলছে।

    অবশেষে সোমবার রাতে সংস্কার বিল সাময়িক স্থগিতের ঘোষণা দিলেন প্রধানমন্ত্রী নেতানিয়াহু। জাতির উদ্দেশে দেওয়া ভাষণে তিনি বলেন, ‘আমি এ বিষয়ে একটা ঐকমত্যে পৌঁছানোর জন্য দ্বিতীয় ও তৃতীয় অধিবেশন পর্যন্ত অপেক্ষা করার সিদ্ধান্ত নিয়েছি। কারণ জাতির মধ্যে যে ফাটল সৃষ্টি হয়েছে, তা দূর করতেই এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।’

    ‘চরমপন্থী সংখ্যালঘু’ একটি গোষ্ঠী জাতিকে বিভক্ত করার চেষ্টা করছে বলেও তিনি অভিযোগ করেন।

    ইসরায়েলের প্রেসিডেন্ট আইজ্যাক হারজগ বলেছেন, ‘সংস্কার বিল স্থগিত করার সিদ্ধান্ত সঠিক।’ এর আগে তিনি বিতর্কিত বিলটি বাতিল করতে প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর প্রতি আহ্বান জানিয়েছিলেন।

    বিরোধী নেতা ইয়ার লাপিদও নেতানিয়াহুর এই সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়েছেন। তিনি প্রধানমন্ত্রীকে সংলাপে বসার আহ্বান জানিয়ে বলেন, ‘সরকার যদি এখন একটি বাস্তবসম্মত সংলাপে বসে, তাহলে এই সংকট থেকে বের হয়ে আসা সম্ভব।’

  • ক্ষমা চাইবেন না দণ্ডপ্রাপ্ত রাহুল গান্ধী

    ক্ষমা চাইবেন না দণ্ডপ্রাপ্ত রাহুল গান্ধী

    ভারতের বিরোধী দল কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধীর ২ বছরের জেল ও লোকসভার সদস্য পদ বাতিল হওয়ার ঘটনায় দেশটির রাজনীতির অঙ্গনে চলছে ব্যাপক তোলপাড়। সবার মাথায় একটি বিষয় ঘুরপাক খাচ্ছে— এরপর কী হবে, রাহুলের রাজনীতির ভবিষ্যৎ কী? উচ্চ আদালতে আপিল করে সাজা থেকে নিষ্কৃতি পাবেন কি তিনি।

    আমার নাম সাবাকার না। আমি একজন গান্ধী। আমি ক্ষমা চাইবো না। কথাগুলো বলেছেন দুই বছরের কারাদন্ডপ্রাপ্ত ভারতের কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধী।

    পরিস্থিতি দেখে মনে হচ্ছে, তিনি রাজনীতির মাঠে ভীষণ চাপে পড়ছেন; কিন্তু না—এতকিছুর পরও নিজ অবস্থানে অনড় রইলেন তিনি। বললেন, লন্ডনে সম্প্রতি করা মন্তব্যের জন্য ক্ষমা চাইবেন না। গতকাল শনিবার এক সংবাদ সম্মেলনে কেরালার ওয়ানাড়ের সদ্য সাবেক এমপি রাহুল বলেন, আমার পরবর্তী বক্তব্য কী হবে, তা নিয়ে প্রধানমন্ত্রী (নরেন্দ্র মোদি) ভীত হওয়ার কারণে আমাকে (পার্লামেন্টে) অযোগ্য ঘোষণা করা হয়েছে। আমি তার চোখে ভয় দেখেছি। এ কারণে তারা আমাকে পার্লামেন্টে কথা বলতে দিতে চায় না। খবর আনন্দবাজার পত্রিকা, এনডিটিভি ও টাইমস অব ইন্ডিয়ার।

    ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে নিয়ে আপত্তিকর মন্তব্য করায় দুই বছরের কারাদণ্ড প্রদান করা হয়েছে দেশটির কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধীকে। এছাড়া তাকে লোকসভা থেকেও বহিষ্কার করা হয়েছে। পাশাপাশি তাকে ক্ষমা চাইতে বলা হয়েছে নরেন্দ্র মোদির ভারতীয় জনতা পার্টি-বিজেপির পক্ষ থেকে। এর জবাবে ক্ষমা চাইবেন না বলে সাফ জানিয়ে দিয়েছেন রাহুল গান্ধী।

    রাহুলকে বলা হয় ভারতীয় রাজনীতির রাজপুত্র। ভারত তথা উপমহাদেশের সবচেয়ে প্রভাবশালী রাজনৈতিক পরিবারে জন্ম তার। বাবা রাজীব গান্ধী, দাদি ইন্দিরা গান্ধী এবং প্রমাতামহ জওহরলাল নেহরু ছিলেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী। এ কারণে হয়তো নিজ অবস্থান থেকে এক চুলও নড়লেন না তিনি। রাহুলের এমপি পদ বাতিলের প্রতিবাদে গতকাল শনিবার বিভিন্ন রাজ্যে রাস্তায় নেমে প্রতিবাদ জানায় কংগ্রেসের কর্মী ও সমর্থকরা।

    রাহুল গান্ধী আরও বলেন, বিজেপি দাবি করে তিনি (রাহুল গান্ধী) ভারতবিরোধী বিভিন্ন শক্তিকে সহায়তা করছেন। তিনি স্পিকারকে বলেছিলেন এসব অভিযোগের বিরুদ্ধে বলা তার অধিকার। কিন্তু তিনি (স্পিকার) তাকে কথা বলতে দেননি। তার (রাহুল গান্ধী) শুধু একটি পদক্ষেপই রয়েছে। আর তা হলো- সত্যের জন্য লড়াই ও দেশের গণতন্ত্র রক্ষা। তাকে আজীবনের জন্য অযোগ্য করা হোক কিংবা যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেয়া হোক তাতে তিনি থেমে যাবেন না। তিনি শুধু এগিয়েই যাবেন। তিনি মোটেও চিন্তিত নন। বরং তিনি উচ্ছ্বসিত।

    চলতি মাসের শুরুতে লন্ডনে ইন্ডিয়ান জার্নালিস্টস অ্যাসোসিয়েশনের (আইজিএ) সঙ্গে মতবিনিময়ের সময় রাহুল বলেন, বিজেপি ভারতীয়দের মুখ বন্ধ করে রাখতে চায়। ওই সময় গুজরাট দাঙ্গা ও নরেন্দ্র মোদির উত্থান নিয়ে নির্মিত বিবিসির ডকুমেন্টারির বিষয়ে তিনি বলেন, ভারতের সর্বত্র কণ্ঠস্বর দমন হচ্ছে, যার একটি উদাহরণ হলো বিবিসির ডকুমেন্টারি। ওই ডকুমেন্টারিটি ভারতে প্রদর্শন নিষিদ্ধ করেছে বিজেপি সরকার।

    লন্ডনে ওই বক্তব্যের জেরে তাকে ক্ষমা চাওয়ার দাবি জানিয়েছে বিজেপি। এ নিয়ে গতকালের সংবাদ সম্মেলনে জানতে চাইলে তিনি বলেন, আমার নাম সাভারকার নয়; আমি একজন গান্ধী। আমি ক্ষমা চাইব না। মোদি-আদানির সম্পর্ক পুরোনো। মোদি গুজরাটের মুখ্যমন্ত্রী থাকাকালে আদানির সঙ্গে পরিচয় হয়। এই আদানির সংস্থায় ২০ হাজার কোটি টাকা বিনিয়োগ করা হয়েছে। কার টাকা? আদানি ইস্যুতে মুখ খোলাতেই আমার কণ্ঠরোধ করা হচ্ছে। বিমানবন্দর তুলে দেওয়া হয়েছে আদানির হাতে। বারবার স্পিকারকে চিঠি লিখেও কোনো উত্তর পাইনি। রাহুল আরও বলেন, দেশের গণতন্ত্রের জন্য লড়াই চলবে। আমি প্রশ্ন করা বন্ধ করব না। আমাকে আটকানো যাবে না। প্রতিদিন গণতন্ত্র আক্রান্ত হচ্ছে। পার্লামেন্টে আমার বিরুদ্ধে মিথ্যা অভিযোগ করা হয়েছে। আমাকে যদি সারাজীবনের জন্য অযোগ্য ঘোষণা করা হয়, তাহলেও আমি লড়াই চালিয়ে যাব। এ সময় তার এমপি পদ বাতিল নিয়ে প্রতিবাদ জানানোর জন্য সব বিরোধী দলের প্রতি ধন্যবাদ জানান তিনি। বলেন, আমরা একজোট হয়ে কাজ করব।

    ২০১৯ সালের লোকসভা নির্বাচনের আগে প্রচারের সময় নরেন্দ্র মোদিকে নিয়ে মানহানিকর বক্তব্য দেন রাহুল। সে সময় তিনি বলেছিলেন, সব মোদি কেন চোর হয়? ওই বক্তব্যের পরিপ্রেক্ষিতে হওয়া মানহানির মামলায় গত বৃহস্পতিবার তাকে দুই বছরের কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। এর পরদিনই (শুক্রবার) কংগ্রেসের এ সাবেক সভাপতিকে লোকসভায় অযোগ্য ঘোষণা করে প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়।

  • আবোল-তাবোল বকা শুরু করেছে ফখরুল সাহেবরা: তথ্যমন্ত্রী

    আবোল-তাবোল বকা শুরু করেছে ফখরুল সাহেবরা: তথ্যমন্ত্রী

    ২৬ মার্চ মহান স্বাধীনতা দিবস উপলক্ষ্যে সকালে রাজধানীর ধানমণ্ডি ৩২ নম্বরে দলীয় নেতাদের সঙ্গে জাতির পিতার প্রতিকৃতিতে পুষ্পস্তবক অর্পণ শেষে সাংবাদিকদের তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী এবং আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ড. হাছান মাহমুদ বলেছেন, বিএনপির তারা ২১ বছর ধরে ইতিহাসবিকৃতি করেছে। সেই বিকৃতি যখন ঠেকে গেছে, তখন তাদের মাথা খারাপ হয়ে গেছে এবং সেই কারণে মির্জা ফখরুল সাহেবরা আবোল-তাবোল বকা শুরু করেছে।

    আওয়ামী লীগের ত্রাণ ও সমাজকল্যাণ সম্পাদক আমিনুল ইসলাম আমিন এবং কেন্দ্রীয় নেতারা এ সময় উপস্থিত ছিলেন।

    জিয়াউর রহমানকে নিয়ে বিএনপির নানা বক্তব্য প্রসঙ্গে এক প্রশ্নের জবাবে হাছান মাহমুদ বলেন, বাংলাদেশের প্রথম সরকার, যে সরকার মুজিবনগরে শপথ গ্রহণ করেছিল এবং বাংলাদেশে স্বাধীনতাযুদ্ধ পরিচালনা করেছিল, সেই সরকারের অধীনে জিয়াউর রহমান একজন চাকুরে ছিলেন।

    তিনি বলেন, মুক্তিযুদ্ধের সময় যদি কেউ একজন মুক্তিযোদ্ধাকে পানি খাইয়েছে বা একবেলা ভাত খাইয়েছে, সেই অপরাধে পাকিস্তানিরা তাকে ধরে নিয়ে গিয়ে হত্যা করেছে, তার বাড়িঘর জ্বালিয়ে দিয়েছে, নির্যাতন করেছে। আর জিয়াউর রহমান রণাঙ্গনে যুদ্ধ করে আর তার স্ত্রী খালেদা জিয়াকে পাকিস্তানিরা নতুন বউয়ের মতো আদর-যত্ন করে। এতেই তো প্রমাণিত হয় জিয়াউর রহমান আসলে মুক্তিযোদ্ধার ছদ্মাবরণে পাকিস্তানিদের দোসর হিসেবে কাজ করেছেন।