Author: Hello Bangla News

  • নেপাল আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবে ‘গৌতম বুদ্ধ’ পুরস্কার পেল ‘সাঁতাও’

    নেপাল আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবে ‘গৌতম বুদ্ধ’ পুরস্কার পেল ‘সাঁতাও’

    নেপাল আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবে ‘সাঁতাও’ চলচ্চিত্রটি আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতা বিভাগে সেরা চলচ্চিত্রের পুরস্কার ‘গৌতম বুদ্ধ এওয়ার্ড’ পেয়েছে। খন্দকার সুমন পরিচালিত চলচ্চিত্রটির প্রযোজক শারিফ উল আনোয়ার সজ্জন, মুখ্য অভিনয় শিল্পী আইনুন পুতুল এবং বিশেষ প্রতিনিধি মোহাম্মদ রফিকের হাতে বিচারক মণ্ডলী পুরস্কার তুলে দেন।

    গত ১৬ থেকে ২০ মার্চ নেপালে অনুষ্ঠিত হলো নেপাল আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসব। সেখানে ৩৫টি দেশের ৯৫টি ছবি দেখানো হয়। উৎসবের ওয়ার্ল্ড প্যানোরমা ইন্টারন্যাশনাল ফিচার বিভাগে গত ১৭ মার্চ রাজধানী কাঠমান্ডুর দুইটি সিনেপ্লেক্সে প্রদর্শিত হয় ‘সাঁতাও’। গত ৩ মার্চ ‘সাঁতাও’ চলচ্চিত্রটি বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমি’র আয়োজনে ‘তৃতীয় বাংলাদেশ চলচ্চিত্র উৎসব’-এ প্রতিযোগিতা সেরা ‘প্রযোজনা এবং পরিকল্পনা’ পুরস্কারে পুরস্কৃত হয়। গত ৫ মার্চ ভারতের কেরলা প্রদেশের ত্রিশুল শহরে অনুষ্ঠিত চলচ্চিত্র উৎসব ইন্টারন্যাশনাল ফিল্ম ফেস্টিভ্যাল অব ত্রিশুল (ইন্ডিয়া)-এর ১৮ তম আসরে চলচ্চিত্রটি প্রদর্শিত হয়। এর আগে চলচ্চিত্রটি গত ২৩ জানুয়ারি ঢাকা আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবে বাংলাদেশ প্যানওরমা বিভাগে সেরা চলচ্চিত্র পুরস্কার ‘ফিফরিসি অ্যাওয়ার্ড’ পেয়েছিল।

    গত ২৭ জানুয়ারি ‘সাঁতাও’ চলচ্চিত্রটি মুক্তি পেয়েছে বাংলাদেশে। এরপর বিকল্প ভাবে বাংলাদেশের বিভিন্ন জায়গায় চলচ্চিত্রটি প্রদর্শিত হচ্ছে। গত বছরের নভেম্বরে ২৪ তারিখে ভারতের ‘৫৩তম ইন্টারন্যাশনাল ফিল্ম ফেস্টিভ্যাল অব ইন্ডিয়া’ চলচ্চিত্র উৎসবের গোয়া প্রদেশের পাঞ্জি শহরে চলচ্চিত্রটির ‘ওয়ার্ল্ড প্রিমিয়ার’ হয়। কৃষকের সংগ্রামী জীবন, নারীর মাতৃত্বের সর্বজনীন রূপ এবং সুরেলা জনগোষ্ঠীর সুখ-দুঃখ, হাসি-কান্নায় গল্প চলচ্চিত্রের পর্দায় হাজির করেছে চলচ্চিত্র “সাঁতাও’’।

    গণ-অর্থায়নে নির্মিত চলচ্চিত্র ‘সাঁতাও’-এর মূল চরিত্রে অভিনয় করেছেন আইনুন পুতুল, ফজলুল হক। ‘‘সাঁতাও’’ চলচ্চিত্রের কাহিনী, চিত্রনাট্য এবং সংলাপ লিখেছেন খন্দকার সুমন, সহকারি পরিচালক হিসাবে ছিলেন শ্যামল শিশির, সুপিন বর্মণ ও মাসুদ রানা নকীব, সম্পাদনা, রং-বিন্যাস, এফেক্ট ও টাইটেল, সাউন্ড ডিজাইন ও সাউন্ড মিক্সিং করেছেন সুজন মাহমুদ, শব্দ গ্রহণে ছিলেন নাহিদ মাসুদ, চিত্রগ্রহণে ছিলেন সজল হোসেন, ইহতেশাম আহমদ টিংকু ও খন্দকার সুমন, আবহ সংহীত করেছেন মাহমুদ হায়াৎ অর্পণ, গানে কণ্ঠ দিয়েছেন কামরুজ্জামান রাব্বী, লায়লা তাজনূর সাউদী, লিমা হক, শিল্প নির্দেশনা দিয়েছেন রবি দেওয়ান, পোশাক পরিকল্পনায় ছিলেন আফ্রিনা বুলবুল, নৃত্য পরিচালনা করেছেন ফাহিম রায়হান, রূপসজ্জা করেছেন ফরহাদ রেজা মিলন, পোস্টার ডিজাইন করেছেন সাজ্জাদুল ইসলাম সায়েম। চলচ্চিত্রটির অন্যান্য চরিত্রে অভিনয় করেছেন মোঃ সালাউদ্দিন, সাবেরা ইয়াসমিন, স্বাক্ষ্য শাহীদ, শ্রাবণী দাস রিমি, তাসমিতা শিমু, মিতু সরকার, ফারুক শিয়ার চিনু, আফ্রিনা বুলবুল, রুবল লোদী, কামরুজ্জামান রাব্বী, আব্দুল আজিজ মন্ডল, বিধান রায়, জুলফিকার চঞ্চল, বিনয় প্রসাদ গুপ্ত, সুপিন বর্মণ, রেফাত হাসান সৈকত, আব্দুল্লাহ আল সেন্টু, আলমগীর কবীর বাদল, রবি দেওয়ান, দীনবন্ধু পাল, হামিদ সরকার, মোঃ হানিফ রানা, আকতার হোসেন, আজিজুল হাকিম শিউস, সাইফুল ইসলাম লিটন, রাসেল তোকদার, মজনু সরকার, আবু কালাম, সিদ্দীক আলী, সুজন মাহমুদ, তাহসিনা আকতার তন্বী, নিশাত তাহিয়াত মিমন এবং তিস্তাবাজার এলাকাবাসী।

     

  • চিনির দাম কমেনি বাজারে

    চিনির দাম কমেনি বাজারে

    চিনি আমদানিতে শুল্কছাড় দিয়েছিল সরকার রোজা সামনে রেখে । কিন্তু রোজা আসার পর শুল্কছাড়ের কোনো প্রভাব দেখা যাচ্ছে না বাজারে। ২ শতাংশ বেড়েছে হিসাবে চিনির দাম শুল্ক কমানোর পরেও। সরকার গত ৭ মাসে চিনির দাম চারবার বেঁধে দিয়েও বাজারের লাগাম টানতে পারেনি। ব্যবসায়ীদের দাবির মুখে শেষমেশ শুল্ক কমায় জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। এত কিছুর পরও সরকারের বেঁধে দেওয়া দামে চিনি পাওয়া যাচ্ছে না। কয়েক দিন আগে বাণিজ্যমন্ত্রী টিপু মুনশী আশা প্রকাশ করেছেন যে রোজার মধ্যে চিনির দাম কেজিতে ৫ টাকা কমতে পারে। গতকাল শুক্রবার রোজা শুরু হয়ে গেছে। এখন অপেক্ষার পালা, চিনির দাম কবে কমবে?

    রাজধানীর মৌলভীবাজারে গত বৃহস্পতিবার ৫০ কেজি ওজনের প্রতি বস্তা খোলা চিনি পাইকারিতে ৫ হাজার ৪০০ টাকার কমবেশিতে বিক্রি হয়েছে। এতে প্রতি কেজি চিনির পাইকারি দাম পড়ে ১০৮ টাকা। অথচ সরকারিভাবে খোলা এই চিনির খুচরা দাম বেঁধে দেওয়া আছে ১০৭ টাকা। অর্থাৎ পাইকারি বাজারেই সরকারের বেঁধে দেওয়া দামের চেয়ে বেশি দামে চিনি বিক্রি হচ্ছে। সরকার প্যাকেটজাত চিনির খুচরা মূল্য নির্ধারণ করেছে প্রতি কেজি ১১২ টাকা। কিন্তু এই দাম তো পরের বিষয়, বাজারে প্যাকেটজাত চিনি মিলছেই খুব কম। অবশ্য এখন খোলা চিনির সংকট নেই। খুচরা বাজারে প্রতি কেজি খোলা ও প্যাকেটজাত চিনি বিক্রি হচ্ছে কমবেশি ১২০ টাকায়।

    এতটুকু নিশ্চয়তা দিতে পারি, মিল থেকে দাম বাড়তি রাখা হচ্ছে না। সরবরাহেও কোনো সমস্যা নেই। এর পরও বাড়তি দামে চিনি বিক্রি হলে পাইকারি ও খুচরা বাজারে সরকারের পক্ষ থেকে তদারকি বাড়াতে হবে।

    গোলাম রহমান, মহাসচিব, সুগার রিফাইনার্স অ্যাসোসিয়েশন রাজধানীর সেগুনবাগিচা বাজারের আল্লাহর দান স্টোরের স্বত্বাধিকারী মো. শিপন প্রথম আলোকে বলেন, ‘পাইকারি বাজারে চিনির দাম এখনো বেশি। এর সঙ্গে পরিবহন খরচ ও শ্রমিকের মজুরি আছে। তাতে চিনি সরকার নির্ধারিত দামের চেয়ে বেশিতেই দোকানে ওঠাতে হয়। তাই আমাদের খুচরা বিক্রিতে লাভ করতে গেলে প্রশ্নের মুখোমুখি হতে হচ্ছে।’

    সরকারি সংস্থা ট্রেডিং করপোরেশন অব বাংলাদেশের (টিসিবি) তথ্য অনুযায়ী, বাজারে সরকারের বেঁধে দেওয়া দামের চেয়ে বেশিতে বিক্রি হচ্ছে চিনি। অর্থাৎ সরকার দাম বেঁধে দেওয়ার পাশাপাশি শুল্ক কমালেও বাজারে চিনির দাম আরেক দফা বেড়েছে। শুল্ক কমানোর পরে চিনির দাম ২ শতাংশের বেশি বেড়েছে। টিসিবির হিসাবেই বাজারে এখন প্রতি কেজি চিনি বিক্রি হচ্ছে ১১৫ থেকে ১২০ টাকায়।

    রাজধানীর মৌলভীবাজারের পাইকারি বিক্রেতারা বলছেন, ‘শুল্ক কমানোর আগে আমরা যে দামে চিনি মিল ফটক থেকে পেতাম, এখনো সেই দামেই পাচ্ছি। শুল্ক কমানোর সিদ্ধান্ত আসার পর ১০ দিন অতিবাহিত হলেও চিনির দামে কোনো পরিবর্তন নেই।’

    তবে মিল ফটক থেকে সরকারের বেঁধে দেওয়া পাইকারি দামেই চিনি বিক্রি হচ্ছে উল্লেখ করে সুগার রিফাইনার্স অ্যাসোসিয়েশনের মহাসচিব গোলাম রহমান প্রথম আলোকে বলেন, ‘এতটুকু নিশ্চয়তা দিতে পারি, মিল থেকে দাম বাড়তি রাখা হচ্ছে না। সরবরাহেও কোনো সমস্যা নেই। এর পরও বাড়তি দামে চিনি বিক্রি হলে পাইকারি ও খুচরা বাজারে সরকারের পক্ষ থেকে তদারকি বাড়াতে হবে।’ অবশ্য শুল্ক কমার প্রভাব বাজারে পড়তে আরও কিছুটা সময় লাগবে বলে মন্তব্য করেন তিনি।

    শুল্ক কমার প্রভাব বাজারে কখন পড়বে তা নিশ্চিত করে জানাতে পারেননি মিলমালিকদের প্রতিনিধিরা। তাঁরা বলছেন, চিনির বাজার যখন একটু একটু করে বাড়তে শুরু করেছিল, তখনই সরকারকে চিনি আমদানিতে বিদ্যমান শুল্ক কাঠামো সংস্কারের অনুরোধ করা হয়। সরকার বিষয়টি সেই সময় আমলে নিলে বাজার এতটা চড়ত না। রোজা সামনে রেখে যখন সরকার শুল্ক কমানোর সিদ্ধান্ত নিল, তখন বাজারে প্রভাব পড়ার মতো পরিস্থিতি নেই। তাঁরা বলেন, চিনি আমদানিতে দুই মাসের বেশি সময় লেগে যায়। নতুন চিনি না এলে বাজারে শুল্ক কমার প্রভাব পড়বে না।

    গত ১৯ মার্চ সচিবালয়ে ‘দ্রব্যমূল্য ও বাজার পরিস্থিতি পর্যালোচনা-সংক্রান্ত টাস্কফোর্সের ষষ্ঠ সভা’ শেষে বাণিজ্যমন্ত্রী টিপু মুনশি বলেন, চিনির দাম কেজিতে পাঁচ টাকা কমাতে রাজি হয়েছেন ব্যবসায়ীরা।

    গত ফেব্রুয়ারির শেষ সপ্তাহে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) চিনি আমদানিতে নিয়ন্ত্রণমূলক শুল্ক ৩০ শতাংশ থেকে কমিয়ে ২৫ শতাংশ করেছে। একই সঙ্গে প্রতি টন অপরিশোধিত চিনি আমদানিতে তিন হাজার টাকা এবং পরিশোধিত চিনিতে ছয় হাজার টাকা আমদানি শুল্ক প্রত্যাহার করেছে। এই সুবিধা আগামী ৩০ মে পর্যন্ত বহাল থাকবে। এই শুল্ক কাঠামোর মধ্যে আমদানি হওয়া প্রতি কেজি চিনিতে ৫ টাকা দাম কমতে পারে বলে ধারণা ব্যবসায়ীদের। অর্থাৎ এত কিছুর পরও খুব শিগগির প্রতি কেজি চিনি ১০০ টাকার নিচে নামার লক্ষণ নেই।

    টিসিবির তথ্য অনুযায়ী গত বছর এ সময়ে বাজারে প্রতি কেজি চিনির দাম ছিল ৭৫ থেকে ৮০ টাকা। সেই হিসাবে গত এক বছরে চিনির দাম ৫০ শতাংশের মতো বেড়েছে। বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের হিসাবে দেশে বছরে চিনির চাহিদা ১৮ থেকে ২০ লাখ টন। এর মধ্যে শুধু রোজার মাসেই চাহিদা থাকে তিন লাখ টনের। অথচ দেশের সরকারি চিনিকলগুলোতে সব মিলিয়ে উৎপাদন হয় মাত্র ৩০ থেকে ৩৫ হাজার টন।

     

  • মেসি ১৫টি ব্যালন ডি’অর জিততো রোনালদোর মতো পরিশ্রমী হলে

    মেসি ১৫টি ব্যালন ডি’অর জিততো রোনালদোর মতো পরিশ্রমী হলে

    আর্জেন্টিনাকে বিশ্বকাপ শিরোপা উপহার দিয়ে লিওনেল মেসি ক্যারিয়ারের সেরা অর্জনের স্বাদ গ্রহণ করেছেন। সম্প্রতি ফিফা বর্ষসেরা খেলোয়াড়ের পুরস্কার গ্রহণ করে সেই অর্জনের স্বীকৃতিও পেয়ে গেছেন। পুরো ক্যারিয়ার জুড়ে তার বিরুদ্ধে সমালোচকদের যে প্রশ্ন ছিল, ক্লাব ফুটবলের অন্যতম সফল এই তারকা জাতীয় দলে কবে সাফল্য পাবেন, তার জবাবও বিশ্বকাপ শিরোপা অর্জনের মাধ্যমে দিয়ে দিয়েছেন।

    প্রশংসার সাগরে ভাসতে থাকা মেসিকে নিয়ে অবশ্য তার বর্তমান ক্লাব পিএসজি এখনও খুশী হতে পারেনি। এবারের মৌসুমটা দারুনভাবে শুরু হলেও বায়ার্ন মিউনিখের কাছে শেষ ষোলর দুই লেগেই পরাজিত হয়ে বিদায় নিতে হয়েছে পিএসজিকে। ফলে আরও একবার ইউরোপীয়ান সাফল্য থেকে বঞ্চিত হতে হলো তারকা সমৃদ্ধ পিএসজিকে।

    পিএসজির এই বিদায়ে মেসি ছিলেন একবারেই নিষ্প্রভ। নকআউট পর্বের দুই লেগের ম্যাচে মেসি কিছুই করতে পারেননি। এজন্য অবশ্য সাবেকদের সমালোচনাও শুনতে হয়েছে তাকে।

  • আওয়ামী লীগের সংসদীয় মনোনয়ন বোর্ডের সভা শনিবার

    আওয়ামী লীগের সংসদীয় মনোনয়ন বোর্ডের সভা শনিবার

    আওয়ামী লীগের সংসদীয় মনোনয়ন বোর্ডের এক সভা আগামীকাল শনিবার (২৫ মার্চ) সকাল সাড়ে ১১টায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সরকারি বাসভবন গণভবনে অনুষ্ঠিত হবে।

    সভায় সভাপতিত্ব করবেন আওয়ামী লীগের সংসদীয় মনোনয়ন বোর্ডের সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

    আজ শুক্রবার (২৪ মার্চ) আওয়ামী লীগের দফতর সম্পাদক ব্যারিস্টার বিপ্লব বড়ুয়ার সই করা এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এসব তথ্য জানানো হয়।

    এতে বলা হয়, সভায় সংশ্লিষ্ট সবাইকে স্বাস্থ্য সুরক্ষা বিধি মেনে যথাসময়ে উপস্থিত থাকার জন্য অনুরোধ জানিয়েছেন আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের।

  • ভয়াল ২৫ মার্চ, গণহত্যা দিবস

    ভয়াল ২৫ মার্চ, গণহত্যা দিবস

    আজ ২৫ মার্চ গণহত্যা দিবস। মানব সভ্যতার ইতিহাসে একটি কলঙ্কিত হত্যাযজ্ঞের দিন। সেদিন দিবাগত রাতে পাক-হানাদার বাহিনী ‘অপারেশন সার্চ লাইট’-এর নামে নিরস্ত্র বাঙালির ওপর নির্বিচারে চালায় বিশ্ব ইতিহাসের নৃশংসতম গণহত্যা। যথাযোগ্য মর্যাদায় দিবসটি পালনের লক্ষ্যে জাতীয় পর্যায়ে বিভিন্ন কর্মসূচি গ্রহণ করা হয়েছে। এ উপলক্ষে আজ শনিবার (২৫ মার্চ) রাত ১০টা ৩০মিনিট থেকে ১০টা ৩১ মিনিট পর্যন্ত সারাদেশে প্রতীকী ‘ব্ল্যাক আউট’ পালন করা হবে।  দিবসটি উপলক্ষে রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রী বাণী প্রদান করেছেন এবং সংবাদপত্রসমূহে বিশেষ ক্রোড়পত্র প্রকাশ করা হয়েছে।

    ১৯৭১ সালের এইদিনে বাঙালী জাতির জীবনে এক বিভীষিকাময় রাত নেমে আসে। মধ্যরাতে বর্বর পাকিস্তানি হানানদার বাহিনী তাদের পূর্ব পরিকল্পিত অপারেশন সার্চলাইটের নীলনকশা অনুযায়ী আন্দোলনরত বাঙালীদের কণ্ঠ চিরতরে স্তব্ধ করে দেয়ার ঘৃণ্য লক্ষ্যে রাজধানী ঢাকাসহ সারা দেশে নিরস্ত্র বাঙালীদের ওপর অত্যাধুনিক অস্ত্রে সজ্জিত হয়ে ঝাঁপিয়ে পড়ে।

    হঠাৎ করে থেমে গেল ঢাকা। নেমে এলো কবরের নিস্তবদ্ধতা । দানবের অশুভ শক্তির পদভারে কাঁপছে পুরোদেশ। মানুষের রক্তের স্রোতে ভেসে যাচ্ছিল সোঁদা মাটি । গন্ধ মিলিয়ে গেল হাসনাহেনার। চার দিকে রক্তের গন্ধ। বাঁচার জন্যে নারি-পুরুষের আকুতি। কোন কিছুতেই পাকিস্তানি দানব , পশুশক্তি সৈন্যদের মন গলে না। ঘরে ঘরে চলে নির্বিচার হত্যাকান্ড ।

    মার্কিন সাংবাদিক রবার্ট পেইন ২৫ মার্চ রাত সর্ম্পকে লিখেছেন, “সে রাতে ৭০০০ মানুষকে হত্যা করা হয়, গ্রেপ্তার হয় ৩ হাজার লোক। ঢাকায় ঘটনার শুরু মাত্র হয়েছিল। সমস্ত পূর্ব পাকিস্তান জুড়ে সৈন্যরা বাড়িয়ে চললো মৃতের সংখ্যা। জ্বালাতে শুরু করলো ঘর-বাড়ি, দোকান-পাট লুট। রাস্তায় রাস্তায় পড়ে থাকা মৃতদেহগুলো কাক-শেয়ালের খাবারে পরিণত হলো। সমস্ত বাংলাদেশ হয়ে উঠলো শকুনতাড়িত শ্মশান ভূমি।”

    পাইকারি এই গণহত্যার স্বীকৃতি খোদ পাকিস্তান সরকার প্রকাশিত দলিলেও রয়েছে। পূর্ব পাকিস্তানের সঙ্কট সম্পর্কে যে শ্বেতপত্র পাকিস্তানি সরকার মুক্তিযুদ্ধ চলাকালে প্রকাশ করেছিল, তাতে বলা হয়: “১৯৭১ সালের পয়লা মার্চ থেকে ২৫ মার্চ রাত পর্যন্ত এক লাখেরও বেশী মানুষের জীবননাশ হয়েছিল।”

    আজ সেই কালরাত ।পচিঁশে মার্চ। বাঙ্গলীর জীবনে এক দগ দগে গা। যে ক্ষত ইচ্ছে করলে ও কোন দিন মুছে ফেলা যাবেনা। স্বাধীনতার লাল টুকটুকে সূর্যটাকে ছিনিয়ে আনবে বলে বেরিয়ে পড়ে বাংলা মায়ের দামাল ছেলেরা।

    ১৯৭০-এর সাধারণ নির্বাচনে সংখ্যাগরিষ্ঠ ভোটে জয়লাভ করা সত্ত্বেও আওয়ামী লীগের কাছে পাকিস্তানি জান্তা ক্ষমতা হস্তান্তর না করার ফলে সৃষ্ট রাজনৈতিক অচলাবস্থা নিরসনের প্রক্রিয়া চলাকালে পাকিস্তানি সেনারা কুখ্যাত ‘অপারেশন সার্চলাইট’ নাম দিয়ে নিরীহ বাঙালী বেসামরিক লোকজনের ওপর গণহত্যা শুরু করে। তাদের এ অভিযানের মূল লক্ষ্য ছিল আওয়ামী লীগসহ তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তানের প্রগতিশীল রাজনৈতিক নেতা-কর্মীসহ সকল সচেতন নাগরিককে নির্বিচারে হত্যা করা।

    এদিন সকালে পাকিস্তান পিপলস্ পার্টি (পিপিপি) প্রধান জুলফিকার আলী ভুট্টো প্রেসিডেন্ট ইয়াহিয়া খানের সঙ্গে ৪৫ মিনিটি ধরে বৈঠক করেন।

    রাত ১টায় শুরু হয় পাকবাহিনীর বরর্বরচিত উন্মত্ততা।ইতিহাসের এই নিষ্টুর হত্যাকান্ডের নাম ”অপারেশন সার্চলাইট”। এই ব্লুপ্রিন্ট বাস্তবায়ন করতে ঢাকায় ডেকে আনা হয় ”বেলুচিস্তানের কসাই ” খ্যাত জেনারেল টিক্কা খান কে। বঙ্গবন্ধুর সাথে প্রেসিডেন্ট ইয়াহিয়ার আলোচনা ছিল একটি শঠতা , সময়ক্ষেপন মাত্র। নইলে আলোচনার ফলাফল জানার জন্য যখন উদগ্রীব সারা বিশ্ববাসী তখন চোরের মত পালিয়ে গেল কেন ইয়াহিয়া ?

    ইয়াহিয়া পালিয়ে ঢাকা ত্যগের সাথে সাথে শুরু হয় ঘুমন্ত নিরস্ত্র জনতার উপর হানাদার বাহিনীর পৈশাচিক হত্যাযজ্ঞ।

    রংপুর, সৈয়দপুর ও চট্টগ্রামে সেনাবাহিনীর গুলিতে ১১ জন নিহত হওয়ার সংবাদ পাওয়া যায়। সেনাবাহিনীর এ হত্যাকাণ্ডের প্রতিবাদে বঙ্গবন্ধু ২৭ মার্চ সারা দেশে হরতাল আহ্বান করেন।

    এদিন বঙ্গবন্ধু ব্যবসা-বাণিজ্য বিশেষ করে পাট ব্যবসা ও টেলিযোগাযোগ অব্যাহত রাখার আহ্বান জানান। তিনি দেশের রাজনৈতিক সমস্যা সমাধানে সরকারের অতিরিক্ত কালক্ষেপণে উদ্বেগ প্রকাশ করেন।

    দুপুরের পর থেকেই ঢাকাসহ সারা দেশে থমথমে অবস্থা বিরাজ করতে থাকে। এদিন সকাল থেকেই সেনা কর্মকর্তাদের তৎপরতা ছিল চোখে পড়ার মত। হেলিকপ্টারযোগে তারা দেশের বিভিন্ন সেনানিবাস পরিদর্শন করে বিকেলের মধ্যে ঢাকা সেনানিবাসে ফিরে আসে।

    ঢাকার ইপিআর সদর দফতর পিলখানাতে অবস্থানরত ২২তম বালুচ রেজিমেন্টকে পিলখানার বিভিন্নস্থানে অবস্থান নিতে দেখা যায়।

    এদিন মধ্যরাতে পিলখানা, রাজারবাগ, নীলক্ষেত আক্রমণ করে পাকিস্তানি সেনারা। হানাদার বাহিনী ট্যাঙ্ক ও মর্টারের মাধ্যমে নীলক্ষেতসহ বিশ্ববিদ্যালয় এলাকা দখল নেয়। সেনাবাহিনীর মেশিনগানের গুলিতে, ট্যাঙ্ক-মর্টারের গোলায় ও আগুনের লেলিহান শিখায় নগরীর রাত হয়ে উঠে বিভীষিকাময়।

    পাকিস্তানি হায়েনাদের কাছ থেকে রক্ষা পায়নি রোকেয়া হলের ছাত্রীরাও। ড. গোবিন্দ চন্দ্র দেব ও জ্যোতির্ময় গুহ ঠাকুরতা, অধ্যাপক সন্তোষ ভট্টাচার্য, ড. মনিরুজ্জামানসহ বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন বিভাগের ৯ জন শিক্ষককে নিষ্ঠুরভাবে হত্যা করা হয়।

    ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের জগন্নাথ হলে চলে নৃশংসতম হত্যার সবচেয়ে বড় ঘটনাটি। এখানে হত্যাযজ্ঞ চলে রাত থেকে সকাল পর্যন্ত। হত্যাযজ্ঞ চলে সার্জেন্ট জহুরুল হক হলে।গোটা বিশ্ববিদ্যালয় অঞ্চল পরিণত হয় ভুতুরে এলাকায়।

    প্রেসিডেন্ট ইয়াহিয়া খান অপারেশন সার্চলাইট পরিকল্পনা বাস্তবায়নের সকল পদক্ষেপ চুড়ান্ত করে গোপনে ঢাকা ত্যাগ করে করাচি চলে যান।

    কাপুরোষোচিত ক্রেকডাউনের পর পরই বাঙ্গলীর অবিসংবাদিত নেতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ধানমন্ডির ঐতিহাসিক বত্রিশ নম্বরের বাড়ী থেকে আনুষ্ঠানিক ভাবে বাংলাদেশের স্বাধীনতা ঘোষনা করেন। হানাদার বাহিনী বাঙালী জাতির অবিসংবাদিত নেতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে তাঁর ধানমণ্ডির বাসভবন থেকে গ্রেপ্তার করে।সেখান থেকে পরবর্তিতে পশ্চিম পাকিস্তানে নিয়ে যাওয়া হয় বঙ্গবন্ধুকে। গ্রেপ্তারের আগে বঙ্গবন্ধু বাংলাদেশের স্বাধীনতা ঘোষণায় যা বলেছিলেন “যে কোনো মূল্যে শত্রুর বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তোলার আহবান জানান। তিনি আগত জনতার উদ্দেশ্য বলেন বিশ্বের কোন শক্তিই পূর্ব বাংলার সাড়ে সাত কোটি মানুষের ন্যায়সঙ্গত দাবীকে নস্যাত করতে পারবে না ”। তিনি বলেন,জনতার দাবীকে শক্তির দাপটে যদি কেউ রক্তচক্ষু দেখায় আমরা তা বরদাশত করবোনা ।তার দাঁত ভাঙ্গা জবাব দিব।

    বঙ্গবন্ধুর এই আহ্বানে সাড়া দিয়ে বাঙালী জাতি পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর বিরুদ্ধে যুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়ে এবং দীর্ঘ ৯ মাস সশস্ত্র লড়াই শেষে একাত্তরের ১৬ ডিসেম্বর পূর্ণ বিজয় অর্জন করে। বিশ্বের মানচিত্রে অভ্যুদয় ঘটে নতুন রাষ্ট্র বাংলাদেশের।

  • ব্ল্যাক আউট’ থাকবে আজ রাত সাড়ে ১০টায় এক মিনিটে

    ব্ল্যাক আউট’ থাকবে আজ রাত সাড়ে ১০টায় এক মিনিটে

    এ উপলক্ষে আজ ২৫ মার্চ রাত ১০টা ৩০ থেকে ১০টা ৩১ মিনিট পর্যন্ত সারাদেশে প্রতীকী ‘ব্ল্যাক আউট’ পালন করা হবে। তবে কেপিআই এবং জরুরি স্থাপনাসমূহ এ কর্মসূচির আওতামুক্ত থাকবে। আজ ২৫ মার্চ গণহত্যা দিবস উপলক্ষে যথাযোগ্য মর্যাদায় দিবসটি পালনের লক্ষ্যে জাতীয় পর্যায়ে বিভিন্ন কর্মসূচি গ্রহণ করা হয়েছে।

    দিবসটি উপলক্ষ্যে রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রী বাণী প্রদান করেছেন এবং সংবাদপত্রসমূহে বিশেষ ক্রোড়পত্র প্রকাশ করা হবে। এদিন সকাল সাড়ে ৯টায় মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘর মিলনায়তনে গণহত্যা দিবসের উপর আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হবে।

    সারাদেশে গণহত্যা ও মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক গীতিনাট্য এবং সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হবে। এছাড়া স্কুল, কলেজ এবং মাদ্রাসাসহ সকল শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে বিশিষ্ট ব্যক্তি এবং বীর মুক্তিযোদ্ধাদের কন্ঠে ২৫ মার্চ গণহত্যার স্মৃতিচারণ ও আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হবে।

    ঢাকাসহ সকল সিটি কর্পোরেশনের মিনিপোলগুলোতে গণহত্যার ওপর দুর্লভ আলোকচিত্র ও প্রামাণ্যচিত্র প্রচার করা হবে।

    ১৯৭১ সালের ২৫ মার্চ রাতে নিহতদের আত্মার মাগফেরাত কামনা করে এদিন বাদ জোহর/সুবিধাজনক সময়ে দেশের সকল মসজিদে বিশেষ মোনাজাত এবং অন্যান্য উপাসনালয়গুলোতে প্রার্থনা করা হবে।

    জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে এবং বিদেশে অবস্থিত বাংলাদেশ দূতাবাসেও দিবসের তাৎপর্য তুলে ধরে কর্মসূচি পালন করা হবে। (বাসস)

  • কিডনি সুরক্ষায় যত্নশীল হোন

    কিডনি সুরক্ষায় যত্নশীল হোন

    কিডনি হল মানবদেহের গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গ, যা আমাদের শরীর থেকে বর্জ্য এবং অতিরিক্ত তরল ফিল্টার করতে সাহায্য করে। আপনার কিডনিকে সুস্থ রাখতে, স্বাস্থ্যকর জীবনযাপনের অভ্যাসগুলি গ্রহণ করা গুরুত্বপূর্ণ। যেমন, একটি সুষম খাদ্য বজায় রাখা, হাইড্রেটেড থাকা, নিয়মিত ব্যায়াম করা, ধূমপান এবং অত্যধিক অ্যালকোহল সেবন এড়ানো, এবং ডায়াবেটিস এবং উচ্চ রক্তচাপের মতো চিকিৎসা পরিস্থিতি পরিচালনা করা, যা কিডনি রোগের কারন হতে পারে। তাই নিয়মিত চেক আপ করানো উচিত।

    কিডনির ভালো যত্ন নেওয়ার জন্য সেরা উপায়গুলির মধ্যে একটি হল স্বাস্থ্যকর এবং সুষম খাদ্য খাওয়া। তো চলুন, জেনে নেই কিডনির সুরক্ষায় সেরা কিছু খাবার-

    কম পটাসিয়ামযুক্ত ফল: আপেল, বেরি, আঙ্গুর এবং আনারসের মতো ফলগুলিতে পটাসিয়াম কম এবং অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট সমৃদ্ধ, যা কিডনিকে সুস্থ রাখতে সাহায্য করে।

    শাকসবজি: ফুলকপি, বাঁধাকপি, রসূন, মরিচ এবং পেঁয়াজের মতো শাকসবজিতে পটাসিয়াম কম এবং ফাইবার বেশি, যা রক্তে শর্করার মাত্রা নিয়ন্ত্রণ করতে এবং কিডনি স্বাস্থ্যের উন্নতিতে সাহায্য করে।

    শস্যদানা: শস্যদানা যেমন বাদামী চাল, গমের রুটি এবং কুইনো ফাইবার, ভিটামিন এবং খনিজগুলির একটি দুর্দান্ত উৎস, যা কিডনিকে সুস্থ রাখতে সাহায্য করে।

    মাছ: স্যামন, টুনা এবং ম্যাকেরেলের মতো মাছ ওমেগা-3 ফ্যাটি অ্যাসিড সমৃদ্ধ, যা প্রদাহ কমাতে এবং কিডনির স্বাস্থ্যের উন্নতিতে সাহায্য করে।

    পানি: কিডনির স্বাস্থ্যের জন্য পর্যাপ্ত পানি পান করা অপরিহার্য কারণ এটি শরীর থেকে টক্সিন এবং বর্জ্য পদার্থ বের করে দিতে সাহায্য করে।

    সুতরাং, আপনার কাছে আছে, স্বাস্থ্যকর কিডনির জন্য সেরা কিছু খাবার। আপনার ডায়েটে এই খাবারগুলি অন্তর্ভুক্ত করতে মনে রাখবেন এবং সুস্থ কিডনির জন্য পর্যাপ্ত পানি পান করবেন।

    তথ্যসূত্রঃ হেলথলাইন.কম , এভেরিডেহেলথ.কম

  • প্রয়োজনে আন্তর্জাতিক আদালতের দিকে ক্ষেপণাস্ত্র ছোড়া হবে রাশিয়ার হুমকি

    প্রয়োজনে আন্তর্জাতিক আদালতের দিকে ক্ষেপণাস্ত্র ছোড়া হবে রাশিয়ার হুমকি

    রুশ নিরাপত্তা পরিষদের ডেপুটি চেয়ারম্যান দিমিত্রি মেদভেদেভ টেলিগ্রামে একটি বিবৃতিতে বলেছেন, ‘হায়, সবাই সৃষ্টিকর্তা ও রকেটের অধীনে আছে…সতর্কতার সঙ্গে আকাশের দিকে তাকান। এটি চিন্তা করা সম্ভব যে সাগরে অবস্থানরত রাশিয়ার যুদ্ধজাহাজ থেকে একটি হাইপারসনিক ক্ষেপণাস্ত্র হেগের আদালত ভবনে আঘাত করেছে।’

    প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করায় আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতকে (আইসিসি) হামলার এই হুমকি দিয়েছেন তিনি।

    মেদভেদেভ অভিযোগ করেছেন, পুতিনের বিরুদ্ধে  আইসিসির গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করার সিদ্ধান্ত ‘আন্তর্জাতিক আইনের জন্য ভয়ংকর পরিণতি’ বয়ে আনবে। তিনি আরো বলেন, এটা আইনের নীতির এবং ভিত্তির ধস। এখন কেউ আর আন্তর্জাতিক সংস্থায় যাবে না। সবাই নিজেদের মধ্যে আলোচনা করবে। জাতিসংঘ এবং অন্যান্য কাঠামোর নেওয়া সব বোকামী সিদ্ধান্তগুলো শুরুতেই ভেঙে পড়বে। আন্তর্জাতিক সম্পর্কের পুরো ব্যবস্থায় অন্ধকারাচ্ছন্ন পতন আসছে। এটা থেকে বিশ্বাস উঠে গেছে।

    গত শুক্রবার আইসিসি ইউক্রেনে যুদ্ধাপরাধের অভিযোগে রুশ প্রেসিডেন্টের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করে। কিয়েভের পক্ষ থেকে ইউক্রেনের প্রধানমন্ত্রী পুতিনের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারিকে ‘ন্যায়বিচারের দিকে একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ’ বলে স্বাগত জানিয়েছেন। আইসিসি বলেছে, ২০২২ সালের ২৪ ফেব্রুয়ারি ইউক্রেনে অভিযান শুরুর পর পুতিন যুদ্ধের আন্তর্জাতিক নীতি লঙ্ঘন করেছেন। ইউক্রেনের শিশুদের জোরপূর্বক রাশিয়ায় নিয়ে গেছেন।

    তবে জবাবে রুশ পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র মারিয়া জাকারোভা এ ব্যাপারে বলেছেন, ‘রাশিয়া রোম সংবিধির আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতের কোনো সদস্য নয় এবং এর নির্দেশ মানার জন্য বাধ্য নয়। রাশিয়া এ আদালতকে কোনো সহযোগিতা করে না। আন্তর্জাতিক আদালত থেকে আসা গ্রেপ্তারি পরোয়ানা আইনগতভাবে আমাদের কাছে ভিত্তিহীন।’

    বিশ্বের ১২৩টি দেশ এই আদালতের সদস্য। বিধি অনুযায়ী, আইসিসি যখন কারো বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করবে এবং অভিযুক্ত যদি এই সদস্য দেশগুলোতে যান, তাহলে তাকে আটক করতে হবে এবং আদালতের কাছে হস্তান্তর করতে হবে। আইসিসির নিজস্ব কোনো পুলিশ বাহিনী নেই। ফলে এই আদালত পুরোপুরি সদস্য রাষ্ট্রগুলোর ওপর নির্ভরশীল।

  • এবার কোন দেশে রোজার সময় বেশি, কোন দেশে কম

    এবার কোন দেশে রোজার সময় বেশি, কোন দেশে কম

    প্রতিবছর পবিত্র রমজান মাস প্রায় ১০ দিন করে এগিয়ে আসে। সাধারণত, গ্রীষ্মকালে দিন অনেক বড় হয় এবং শীতকালের দিকে যত এগোয়, দিনের ব্যপ্তি তত কমতে থাকে। পৃথিবীর প্রায় অর্ধেকের বেশি অংশে তীব্র গরমে রোজা শুরু হয় এবং শেষ দিকে অনেকটা শীতল আবহাওয়া বিরাজ করে। এবারের রমজান মাসে ১০০ কোটিরও বেশি মুসলিম রোজা রাখবেন। এবারের রোজায় সবচেয়ে বড় ও ছোট দিন কোন দেশগুলোতে-

     যে দেশে রোজা সব চেয়ে দীর্ঘ

    নরডিক দেশ আইসল্যান্ডে এবার সবচেয়ে দীর্ঘ সময় রোজা থাকবেন রোজাদাররা। দেশটিতে গড়ে প্রায় ১৬ ঘণ্টা ৫০ মিনিট রোজা রাখতে হবে তাদের। তিউনিসিয়ার মুসলিমরা রোজা রাখবেন প্রায় ১৫ ঘণ্টা।

    এছাড়া মধ্য প্রাচ্যের মুসলিম দেশগুলোতে প্রতিদিন গড়ে সাড়ে ১৩ থেকে ১৪ ঘণ্টা রোজা রাখতে হবে।

    যে দেশগুলোতে সবচেয়ে কম সময় রোজা

    এবারের রমজানে দক্ষিণ আমেরিকার দেশ চিলিতে সবচেয়ে কম সময় রোজা রাখতে হবে। চিলির মুসলিমরা গড়ে প্রতিদিন সাড়ে ১১ ঘণ্টা রোজা রাখবেন।

    এছাড়া মানচিত্রের দক্ষিণের দেশগুলো, যেমন- নিউ জিল্যান্ড, আর্জেন্টিনা ও দক্ষিণ আফ্রিকাতেও রোজার সময় কম। দেশগুলোতে গড়ে প্রতিদিন ১১ থেকে ১২ ঘণ্টা রোজা রাখতে হবে।

    যেসব দেশে রাতই হয় না, তারা কীভাবে রোজা রাখেন?

    পৃথিবীর কিছু দেশের দিন ২০ ঘণ্টারও বেশি সময় হয়ে থাকে। তবে ২০ ঘণ্টারও বেশি সময় ধরে তো রোজা রাখা সম্ভব না। তাহলে এক্ষেত্রে কী করেন তারা?  ফতোয়ার মাধ্যমে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে, যেসব দেশে সূর্যাস্ত এবং সূর্যোদয়ের ব্যবধান ৩ ঘণ্টার চেয়ে কম, তারা অন্য কোনও শহরের ইফতার ও সেহরির সময় অনুসরণ করতে পারে। বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই তারা মক্কা শহরের সময়সূচী অনুসরণ করে রোজা পালন করে থাকেন।

    এমন দেশের একটি হলো গ্রিনল্যান্ড। এখানকার মুসলিমরা সৌদি আরবের মক্কার সময় অনুসরণ করে সেহরি ও ইফতার করেন।

    সূত্র: দ্য ন্যাশনাল  

  • গরুর মাংস ৬৪০, ডিম ১২০, ব্রয়লার মুরগি ৩৮০ টাকা

    গরুর মাংস ৬৪০, ডিম ১২০, ব্রয়লার মুরগি ৩৮০ টাকা

    প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের উদ্যোগে প্রথম রোজার দিন থেকে রাজধানীর ২০টি পয়েন্টে এ বিক্রি কার্যক্রম শুরু হবে, চলবে ২৮ রমজান পর্যন্ত। এ প্রসঙ্গে মন্ত্রণালয় থেকে জানানো হয়, আগামীকাল বিকাল ৩টায় মৎস্য ও প্রাণিসম্পদমন্ত্রী শ ম রেজাউল করিম আনুষ্ঠানিকভাবে বিক্রি কার্যক্রম উদ্বোধন করবেন। তবে বিক্রি কার্যক্রম শুরু হবে প্রথম রোজার দিন থেকে। যা চলবে ২৮ রমজান পর্যন্ত।

    প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তর জানায় এবার রমজান মাসে গরুর মাংস প্রতি কেজি ৬৪০ টাকা, খাসির মাংস প্রতি কেজি ৯৪০ টাকা, ড্রেসড (চামড়া ছাড়া) ব্রয়লার প্রতি কেজি ৩৪০ টাকা, দুধ প্রতি লিটার ৮০ টাকা এবং ডিম প্রতিটি ১০ টাকা মূল্যে বিক্রয় করা হবে।

    আরও জানানো হয়, প্রতিটি ভ্যানে প্রতিদিন, ২৫ কেজি খাসির মাংস, ১০০ কেজি গরুর মাংস, ৫০ কেজি ড্রেসড ব্রয়লার এবং ২০০ লিটার দুধ বিক্রি করা হবে। একজন ক্রেতা সর্বোচ্চ, ১ কেজি খাসির মাংস, ১ কেজি গরুর মাংস, ১ কেজি ড্রেসড ব্রয়লার, ২ লিটার দুধ এবং ১ ডজন ডিম কিনতে পারবেন।

    যেসব স্থানে বিক্রি হবে: খামারবাড়ি, মিরপুর ষাট ফুট রাস্তা, সচিবালয়সংলগ্ন আবদুল গণি রোড, পুরান ঢাকার নয়াবাজার, আরামবাগ, নতুন বাজার, মিরপুরের কালশী, মোহাম্মদপুরের জাপান গার্ডেন সিটি, খিলগাঁও রেলগেট, নাখালপাড়ার লুকাস মোড়, সেগুনবাগিচা কাঁচাবাজার, মোহাম্মদপুরের বছিলা, উত্তরার দিয়াবাড়ি, যাত্রাবাড়ী, গাবতলী, আজিমপুর মাতৃসদন, হাজারীবাগ, বনানীর কড়াইল বস্তি, কামরাঙ্গীরচর ও রামপুরা।