Author: Hello Bangla News

  • দেশের মানুষ সব বোঝে, জানে, আওয়ামী লীগের ওপর আস্থা রাখে: পররাষ্ট্রমন্ত্রী

    দেশের মানুষ সব বোঝে, জানে, আওয়ামী লীগের ওপর আস্থা রাখে: পররাষ্ট্রমন্ত্রী

    পররাষ্ট্রমন্ত্রী এ কে আব্দুল মোমেন বলেছেন, আওয়ামী লীগের ভয় নেই। এ দেশের মানুষ সব বোঝে, জানে। তারা ভুল করে না। আওয়ামী লীগ জনগণের ওপর আস্থা রাখে।

    আজ শুক্রবার সকালে সিলেট জেলা প্রশাসন আয়োজিত বৈশাখের মঙ্গল শোভাযাত্রায় অংশ নিয়ে পররাষ্ট্রমন্ত্রী এ কথা বলেন।

    আব্দুল মোমেন বলেন, নতুন বছরের প্রত্যাশা হচ্ছে, সবার মধ্যে সহিষ্ণুতা, সম্প্রীতি ও সম্মানবোধ জাগ্রত হোক। ধর্ম-বর্ণ গোষ্ঠীর সংমিশ্রণে দেশটা হবে একটি স্বতন্ত্র অসাম্প্রদায়িক অর্থনীতির উন্নত বাংলাদেশ।

    সাংবাদিকরা নির্বাচন নিয়ে প্রশ্ন করলে মন্ত্রী বলেন, নির্বাচনের এখনো নয় মাস বাকি, নির্বাচন নিয়ে তাড়াহুড়ার কিছু নেই। সরকার সুষ্ঠু ও অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন অনুষ্ঠানের ব্যাপারে আন্তরিক। তবে শুধু সরকার চাইলেই হবে না। নির্বাচন কমিশনের বড় দায়দায়িত্ব রয়েছে। এ জন্য শক্তিশালী নির্বাচন কমিশন গঠন করা হয়েছে। সকল দায়দায়িত্ব তাদের। তবে সবচেয়ে বেশি দায়িত্ব পালন করতে হবে রাজনৈতিক দল, সমর্থক ও ভোটারদের। সবাই আন্তরিক হলে ফ্রি অ্যান্ড ফেয়ার ইলেকশন অনুষ্ঠিত হবে।

    তিনি বলেন, গ্রহণযোগ্য নির্বাচনের জন্য সব ধরনের ব্যবস্থা করেছে সরকার। আগে বিএনপির সময়ে ভুয়া ভোটার ছিল ১ কোটি ২৩ লাখ। এই ভুয়া ভোট যাতে না হয় জন্য এখন ফটো আইডি বায়োমেট্রিক ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে। আগে অভিযোগ হতো ব্যালট বাক্স ভরে দেওয়ার, এ জন্য এখন স্বচ্ছ ব্যালট বাক্স আনা হয়েছে।

    পররাষ্ট্রমন্ত্রী আরও বলেন, ১৪ বছরে আওয়ামী লীগের হাত ধরে বাংলাদেশের যে অভাবনীয় সাফল্য ও উন্নয়ন সাধিত হয়েছে সে জন্যই জনগণ আবারও আওয়ামী লীগকে নির্বাচিত করবে।

  • বর্ণিল উৎসবে নববর্ষ উদযাপন, নতুন বাংলা বর্ষ ১৪৩০

    বর্ণিল উৎসবে নববর্ষ উদযাপন, নতুন বাংলা বর্ষ ১৪৩০

    পহেলা বৈশাখে এবার বর্ণিল উৎসবে মেতেছে দেশ। নতুন বাংলা বর্ষের প্রথম দিনের ভোরের আলো রাঙিয়ে দেয় নতুন স্বপ্ন, প্রত্যাশা আর সম্ভাবনাকে। রাজধানীসহ সারাদেশেই ছিল বর্ষবরণের নানা আয়োজন। বাংলা বর্ষপঞ্জিতে যুক্ত হয়েছে নতুন বাংলা বর্ষ ১৪৩০।

    আনন্দঘন পরিবেশে নব আনন্দে বরণ করে নেয়া হয় নতুন বছরকে। কল্যাণ ও নতুন জীবনের প্রতীক হলো নববর্ষ। অতীতের ভুলত্রুটি ও ব্যর্থতার গ্লানি ভুলে নতুন করে সুখ-শান্তি ও সমৃদ্ধি কামনায় উদযাপিত হয় নববর্ষ। জীর্ণ পুরাতন সবকিছু ভেসে যাক, ‘মুছে যাক গ্লানি’ এ আহ্বান জানায় বাঙালি।

    ‘বাংলা নববর্ষ ১৪৩০’ জাঁকজমকপূর্ণভাবে উদযাপনের লক্ষ্যে এবার জাতীয় পর্যায়ে ব্যাপক কর্মসূচি গ্রহণ করা হয়। দিনটি সরকারি ছুটির দিন। বিভিন্ন সামাজিক সাংস্কৃতিক সংগঠন বিস্তারিত কর্মসূচি গ্রহণ করে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা অনুষদ ‘মঙ্গল শোভাযাত্রা’ ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান আয়োজন করে। ছায়ানট ভোরে রমনা বটমূলে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান আয়োজন করে।

    ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের থিয়েটার এন্ড পারফরম্যান্স স্টাডিজ বিভাগ দিনব্যাপী বিভিন্ন অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে দিবসটি উদযাপন করেছে। ঋষিজ শিল্পীগোষ্ঠীসহ অন্যান্য সাংস্কৃতিক সংগঠন যথাযোগ্য মর্যাদায় বাংলা নববর্ষ উদযাপন করেছে। বাংলা নববর্ষের অনুষ্ঠান জাতীয় সংগীত ও ‘এসো হে বৈশাখ গান’ পরিবেশনের মাধ্যমে শুরু হয়। বাংলা নববর্ষের তাৎপর্য এবং মঙ্গল শোভাযাত্রার ইতিহাস ও ইউনেস্কো কর্তৃক এটিকে বিশ্ব সংস্কৃতির ঐতিহ্য হিসাবে অন্তর্ভুক্তির বিষয়টি তুলে ধরে সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয় ও বাংলা একাডেমির উদ্যোগে বিভিন্ন জাতীয় পত্রিকায় ক্রোড়পত্র প্রকাশ করা হয়েছে। বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমি দিনব্যাপী অনুষ্ঠানমালার আয়োজন করেছে। বাংলা নববর্ষে সকল কারাগার, হাসপাতাল ও শিশু পরিবারে (এতিমখানা) উন্নতমানের ঐতিহ্যবাহী বাঙালি খাবার ও ইফতারের আয়োজন করা হয়েছে। এবার দেশের সকল শিক্ষা প্রতিষ্ঠানকে বাধ্যতামূলকভাবে বাংলা নববর্ষ উদযাপনের নির্দেশনা দিয়েছে সরকারের সংশ্লিষ্ট বিভাগ।

    সকাল ৯টায় শোভাযাত্রাটি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের  (ঢাবি) চারুকলা থেকে শুরু হয়। শোভাযাত্রাটি শাহবাগ মোড় ঘুরে আবারও একই স্থানে গিয়ে শেষ হয়। শোভাযাত্রায় আবহমান বাংলার ইতিহাস-ঐতিহ্যের সঙ্গে সাম্প্রতিক ঘটনা প্রবাহের প্রতীকী উপস্থাপনের নানা বিষয় স্থান পেয়েছে।

    বর্ণিল উৎসবে নববর্ষ উদযাপন, নতুন বাংলা বর্ষ ১৪৩০

    উৎসবপ্রিয় বাঙালির প্রাণের উৎসব বাংলা বর্ষবরণের প্রধান অনুষঙ্গ মঙ্গল শোভাযাত্রা। এবারের মঙ্গল শোভাযাত্রার প্রতিপাদ্য রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের গান থেকে নেওয়া-‘বরিষ ধরা মাঝে শান্তির বারি।’

    সকালে শোভাযাত্রার উদ্বোধন করেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক মো. আখতারুজ্জামান। শোভাযাত্রায় সংস্কৃতি প্রতিমন্ত্রী কে এম খালিদ, উপ-উপাচার্য (প্রশাসন) অধ্যাপক মুহাম্মদ সামাদ, উপ-উপাচার্য (শিক্ষা) অধ্যাপক এ এস এম মাকসুদ কামাল, বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও বিভিন্ন স্তরের মানুষ স্বতঃস্ফূর্তভাবে অংশ নিয়েছেন। কঠোর নিরাপত্তার চাদরে মোড়ানো ছিল পুরো এলাকা।

    শোভাযাত্রায় এবার স্থান পেয়েছে পাঁচটি মোটিফ। মোটিফ পাঁচটি হলো- টেপা পুতুল, ময়ুর, নীল গাই, হাতি ও বাঘ। এছাড়াও শোভাযাত্রায় অংশ গ্রহণকারীদের হাতে ছিলো বিভিন্ন আকৃতির মুখোশ। চারুকলা থেকে মঙ্গল শোভাযাত্রা শুরু হওয়ার পর ঢোলের তালে তালে নাচতে শুরু করেন

    অংশগ্রহণকারীরা। অনেকেই রাস্তার দু’পাশে দাঁড়িয়ে মঙ্গল শোভাযাত্রা উপভোগ করেন। বিদেশি নাগরিকদেরও শোভাযাত্রায় অংশ নিতে দেখা গেছে। তারাও সেজেছেন বাঙালি সাজে।

    বর্ণিল উৎসবে নববর্ষ উদযাপন, নতুন বাংলা বর্ষ ১৪৩০পরে শোভাযাত্রায় প্রদর্শিত শিল্পবস্তু নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা অনুষদে যাওয়ার পর ঢাকের তালে উচ্ছ্বাসে মাতেন শিক্ষার্থীরা।

    রমনার বটমূলে ভোর সোয়া ৬টায় আহির ভৈরব সুরে শুরু হয় ছায়ানটের অনুষ্ঠান। সবশেষে জাতীয় সংগীতের মাধ্যমে সমাপ্তি ঘটে। এতে ছায়ানটের শিল্পীদের পাশাপাশি অংশ নিয়েছেন অন্য শিল্পীরাও। রবীন্দ্র-নজরুলের গানের সঙ্গে জায়গা করে নিয়েছে লোকজ সুরও।

    দুই ঘণ্টাব্যাপী এ অনুষ্ঠানে শিল্পী

    দের পরিবেশনায় গানগুলোর মধ্যে ছিল-‘মনমোহন গহন যামিনী’, ‘রাত্রি এসে যেথায় মেশে’, ‘মোরে ডাকি লয়ে যাও’, ‘অন্তরে তুমি আছো চিরদিন’, ‘সংকটের বিহ্বলতা’, ‘আমাদের নানান মতে’, ‘মন মজালে ওরে বাউলা গান’, ‘মানুষ ভজলে সোনার মানুষ হবি’, ‘এমন মানব সমাজ কোনদিন গো সৃজন হবে’, ‘মানুষ ধরো মানুষ ভজো’, ‘আগে কী সুন্দর দিন কাটাইতাম’ ইত্যাদি।

    এবারের আয়োজনে ছায়ানটের পক্ষ থেকে লিখিত বক্তব্য পেশ করেন সংগঠনটির সাধারণ সম্পাদক লাইসা আহমদ লিসা। অনুষ্ঠানের শেষ পর্বে তিনি মঞ্চে উঠে সম্প্রীতির বার্তা ও নববর্ষের শুভেচ্ছা জানান।

    বাংলা নববর্ষ উদযাপন উপলক্ষে দেশের সকল জেলা, উপজেলা ও ইউনিয়নে বৈশাখী র‌্যালি আয়োজন করে। বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমি আয়োজন করে দিনব্যাপী অনুষ্ঠানমালার। বাংলা একাডেমি এবং বাংলাদেশ ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্প কর্পোরেশন (বিসিক)  বাংলা একাডেমি প্রাঙ্গণে এবং বাংলাদেশ লোক ও কারুশিল্প ফাউন্ডেশন ফাউন্ডেশন প্রাঙ্গণে নববর্ষ মেলা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান আয়োজন করে। সকল সরকারি-বেসরকারি টিভি, বাংলাদেশ বেতার, এফএম ও কমিউনিটি রেডিও বাংলা নববর্ষের অনুষ্ঠানমালা সম্প্রচার এবং বাংলা নববর্ষের ওপর বিশেষ অনুষ্ঠানমালা প্রচার করে। বাংলাদেশ টেলিভিশন, বাংলাদেশ বেতার ও বেসরকারি চ্যানেলসমূহ রমনা বটমূলে ছায়ানট আয়োজিত সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান সরাসরি সম্প্রচার করেছে।

    পহেলা বৈশাখ আমাদের সকল সঙ্কীর্ণতা, কুপমুন্ডকতা পরিহার করে উদারনৈতিক জীবন-ব্যবস্থা গড়তে উদ্বুদ্ধ করে। আমাদের মনের ভিতরের সকল ক্লেদ, জীর্ণতা দূর করে আমাদের নতুন উদ্যমে বাঁচার অনুপ্রেরণা দেয়। আমরা যে বাঙালি, বিশ্বের বুকে এক গর্বিত জাতি, পয়লা বৈশাখের বর্ষবরণে আমাদের মধ্যে এই স্বাজাত্যবোধ এবং বাঙালিয়ানা নতুন করে প্রাণ পায়, উজ্জীবিত হয়। অন্য দিকে পহেলা বৈশাখ বাঙালির একটি সার্বজনীন লোকউৎসব। এদিন আনন্দঘন পরিবেশে বরণ করে নেওয়া হয় নতুন বছরকে। কল্যাণ ও নতুন জীবনের প্রতীক হলো নববর্ষ। অতীতের ভুলত্রুটি ও ব্যর্থতার গ্লানি ভুলে নতুন করে সুখ-শান্তি ও সমৃদ্ধি কামনায় উদযাপিত হয় নববর্ষ।- বাসস

  • সামরিক শক্তিতে ইরানের সমকক্ষ নয় ইসরাইল

    সামরিক শক্তিতে ইরানের সমকক্ষ নয় ইসরাইল

    ইসলামি প্রজাতন্ত্র ইরানের সেনাবাহিনীর প্রধান মেজর জেনারেল আব্দুর রহীম মুসাভি বলেছেন, ইহুদিবাদী ইসরাইলের সামরিক বাহিনী কোনভাবেই ইরানের সামরিক বাহিনীর সমকক্ষ নয়। তিনি আরো বলেন, ইসরাইলের সামরিক বাহিনী অত্যাধুনিক গোলাবারুদের জন্য পশ্চিমাদের ওপর নির্ভরশীল।

    ইসরাইলের সেনাবাহিনীর চিফ অফিস স্টাফ সম্প্রতি হুমকি দিয়েছেন যে, তারা ইরানের ওপরে হামলা চালাতে প্রস্তুত রয়েছেন, এমনকি এ ব্যাপারে তাদের যুক্তরাষ্ট্রের সহযোগিতা প্রয়োজন নেই।

    ইসরাইলের সেনাপ্রধানের এই বক্তব্যের জবাবে ইরানের সেনাপ্রধান তার দেশের সামরিক শক্তির কথা তুলে ধরে বলেন, ইসরাইলের সামরিক বাহিনী অত্যাধুনিক গোলাবারুদের জন্য পশ্চিমাদের ওপর নির্ভরশীল।

    জেনারেল মুসাভি বলেন, যারা দুই পক্ষের সামরিক শক্তি সম্পর্কে ধারণা রাখে তারা বুঝতে পারবে যে, ইহুদিবাদী ইসরাইলের সাম্প্রতিক সক্ষমতা এবং সামরিক বাহিনীর আকার বড়জোর ইরাকের বিরুদ্ধে যুদ্ধের সময় ইরানের যে শক্তি ছিল তার সমান হতে পারে।

    তিনি আরও বলেন, ডুবন্ত ইসরাইলের পতনের লক্ষণ আগের যেকোনো সময়ের চেয়ে এখন বেশি স্পষ্ট হয়ে উঠেছে এবং তারা এতটাই দুর্বল যে, তাদেরকে ইরান হুমকি হিসেবেই মনে করে না।

    ইরানের এ সামরিক নেতা বলেন, ইসরাইলি সেনাপ্রধান ইরানের ওপর হামলার হুমকি দিয়ে মূলত তার দেশের সেনাদের মনবল বাড়ানোর চেষ্টা করেছেন এবং এই মুহূর্তে ইহুদিবাদী ইসরাইল যে অভ্যন্তরীণ সংকট মোকাবেলা করছে তা থেকে জনগণের দৃষ্টি ভিন্ন দিকে ফেরানোর কৌশল অবলম্বন করেছেন।

  • ৮১ বছরের দুই বান্ধবী প্রমাণ করলেন, ভ্রমণের কোনো বয়স নেই

    ৮১ বছরের দুই বান্ধবী প্রমাণ করলেন, ভ্রমণের কোনো বয়স নেই

    তাদের একজন হলেন এলি হামবি। যিনি একজন তথ্যচিত্র পরিচালক। আরেকজন হলেন স্যান্ডি হ্যাজেলিপ। তিনি পেশায় একজন চিকিৎসক। যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসের দুই বান্ধবী প্রমাণ করছেন রোমাঞ্চকর ভ্রমণের কোনো বয়স সীমা নেই। এমনকি আপনার বয়স যখন ৮১, তখনও সেটি সম্ভব। তারা ইন্দোনেশিয়ার বালির সমুদ্র সৈকত থেকে মিশরের মরুভূমি পর্যন্ত দুঃসাহসিক কাজ করে ৮০ দিনে বিশ্ব ভ্রমণ করেছেন।

    ৮১ বছর বয়সী দাদিরা গত ১১ জানুয়ারি তাদের উচ্চাভিলাষী দুঃসাহসিক ভ্রমণ শুরু করেছিলেন। দুই বান্ধবীর ব্যবহারকারী ব্লগ থেকে এসব তথ্য পাওয়া যায়।

    তাদের অভিযানের প্রথম স্টপেজ ছিল অ্যান্টার্টিকার এমন একটি স্থান, যে স্থানটি অনেক পাকা ভ্রমণকারীরাও এড়িয়ে যায়। এটি ছিল অনেক দুর্গম।

    সবচেয়ে দক্ষিণের এ মহাদেশে যেতে হলে ড্রেক প্যাসেজ পার হতে হয়। দক্ষিণ আমেরিকার সবচেয়ে দক্ষিণাঞ্চল ও অ্যান্টার্টিকার সাউথ শেটল্যান্ড আইল্যান্ডসের মধ্যে তীব্র খরস্রোতা এ করিডরের অবস্থান।৮১ বছরের দুই বান্ধবী প্রমাণ করলেন, ভ্রমণের কোনো বয়স নেই

    হামবি বলেন, বিরূপ অবস্থার মধ্যে খরস্রোতা করিডর পার হতে আমাদের দুই দিন লেগেছিল। অবস্থা এমন ছিল যে মনে হচ্ছিল, জীবনকে হাতে নিয়ে আমার পার হয়েছি। অতিক্রান্ত পথ ছিল অনেক ঝুঁকিপূর্ণ।

    তিনি আরও বলেন, যখন আমরা অ্যান্টার্টিকার মাটিতে পা রেখেছিলাম, তখন সব কষ্ট ভুলে গেলাম। তখন শুধু অ্যান্টার্টিকার অসাধারণ সৌন্দর্য পেঙ্গুইন, হিমশৈল, হিমবাহ সবকিছু মিলিয়ে অন্য রকম অনভূতির কথা স্মরণ হচ্ছিল।

    সেই ঝুঁকিপূর্ণ ভ্রমণের যাত্রা থেকে শুরু করে দুই বান্ধবী সাতটি মহাদেশের ১৮টি দেশ ঘুরেছেন। দুই বান্ধবী একই রকম টি–শার্ট পরতেন। টিকটক, ইনস্টাগ্রাম, ফেসবুকে বিভিন্ন ছবি পোস্ট করে অনুসারীদের সীমাহীন ভালোবাসা পেয়েছেন তারা।

    স্যান্ডি বলেন, ১৯৯৯ সালে তার স্বামী মারা যাওয়ার পর হামবির সঙ্গে আমার দেখা হয়েছিল। সেটি দক্ষিণ আফ্রিকায় আমার স্বামীর পরিচালিত জাম্বিয়া মেডিকেল মিশনে। মৃত্যুর আগে আমার স্বামী গ্রীষ্মে নাতিদের ভ্রমণে নিয়ে যাওয়ার বিষয়ে

     

    উৎসাহিত করতেন।

    এ মিশনই হামবি ও স্যান্ডির গভীর বন্ধুত্ব গড়ে দেয়। তারা পরস্পরের সঙ্গে নিজেদের ভ্রমণের আগ্রহের কথা বলতেন। ২০০৫ সালে হামবির স্বামীর মৃত্যুর পর দুজনের বন্ধুত্ব গাঢ় হয়।

    স্যান্ডি বলেন, আমাদের ভ্রমণের ধারণাটি উভয়ের ৮০ বছর পূর্ণ হওয়ার কয়েক বছর আগে থেকে শুরু হয়েছিল।

    হামবি বলেন, আরও আগেই আমাদের বিশ্বভ্রমণে বের হওয়ার পরিকল্পনা ছিল। কিন্তু করোনার কারণে তা সম্ভব হয়নি। কোভিডের দাপট কমতেই আমরা ব্যাগ গুছিয়ে বেরিয়ে পড়ি।

    লন্ডন, জাঞ্জিবার, জাম্বিয়া, মিশর, নেপাল, বালি এবং ভারত ঘুরে ৮০ দিনের বিশ্বভ্রমণ শেষে সম্প্রতি টেক্সাস ফিরে গেছেন হামবি ও স্যান্ডি।

    সূত্র: সিএনএন

  • দেশের মানুষ দুর্নীতিবাজ দলকে সমর্থন করে না : বাহাউদ্দিন নাছিম

    দেশের মানুষ দুর্নীতিবাজ দলকে সমর্থন করে না : বাহাউদ্দিন নাছিম

    আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক কৃষিবিদ আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম বলেন, বাংলাদেশের মানুষ শান্তিতে বসবাস করতে চায়। তারা সন্ত্রাস ও সন্ত্রাসী দলকে প্রত্যাখ্যান করেছে। দেশের মানুষ এখন আর বিএনপি-জামাতের মত দুর্নীতিবাজ দলকে সমর্থন করে না।

    বুধবার দুপুরে ডেমরা চৌরাস্তায় থানা আওয়ামী লীগ আয়োজিত ইফতার সামগ্রি বিতরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তৃতায় তিনি এ সব কথা বলেন।

    বাহাউদ্দিন নাছিম বলেন, বিএনপি-জামাত এখনও বাংলাদেশের মানুষের অর্থনৈতিক সমৃদ্ধির কথা ভাবতে পারেনা। দেশের মানুষ অতীত অপকর্মের জন্য তাদের প্রত্যাখান করেছে। তাদের দুর্নীতি, সন্ত্রাস ও লুটপাটের জন্য দেশের মানুষ তাদের ঘৃণা করে। এরা অগ্নি সন্ত্রাস করে দেশের মানুষকে হত্যা করে।

    তিনি বলেন, হাওয়া ভবনের কর্ণধার, সন্ত্রাসীদের গডফাদার, খুনি তারেক রহমান বিদেশে বসে দেশের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করছে। তারা বিদেশীদের কাছে মিথ্যা কথা বলে দেশের ভাবমূর্তি নষ্ট করছে। বিএনপি দেশের মূল্যবোধকে ধ্বংস ও মুক্তিযুদ্ধের চেতনাকে নষ্ট করতে সব চেষ্টাই করছে। তাদের এই রাজনীতি আমাদের প্রতিহত করতে হবে।

    ডেমরা থানা আওয়ামী লীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক মশিউর রহমান মোল্লা সজলের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে ঢাকা মহানগর দক্ষিণ আওয়ামী লীগের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি নুরুল আমিন রুহুল এমপি, সাধারণ সম্পাদক মোঃ হুমায়ুন কবির, সহসভাপতি সরফুদ্দিন আহমেদ সেন্টু, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মহিউদ্দিন মহি ও মিরাজ হোসেন এবং সাংগঠনিক সম্পাদক আক্তার হোসেন প্রমুখ বক্তব্য রাখেন। – সূত্রঃ বাসস

  • নতুন নোটের বাজার জমে উঠেছে

    নতুন নোটের বাজার জমে উঠেছে

    ঈদ মানেই খুশি-আনন্দ। আর ছোটদের ঈদে নতুন টাকা এ আনন্দ অনেকটাই বাড়িয়ে দেয়। তাই তো ছোটদের মুখে হাসি ফোটাতে বড়রা কিনে নেন নতুন টাকার বান্ডিল। আসন্ন পবিত্র ঈদুল ফিতর সামনে রেখে এরই মধ্যে জমে উঠেছে নতুন টাকার বাজার। চাহিদাও বেড়েছে।  এই সুযোগে নতুন টাকার দাম বাড়িয়ে দিয়েছেন বিক্রেতারা। তবে ব্যাংক থেকে নতুন টাকা পেতে বাড়তি টাকা গুনতে হচ্ছে না।

    ঈদে সালামি পাওয়া শিশুদের মূল আকর্ষণের একটি। ঈদের সকালে বড়দের কাছ থেকে সালামি পাওয়ার অপেক্ষায় প্রহর গুনতে থাকে তারা। নতুন চকচকে টাকায় ঈদি বা ঈদ সালামি তাদের আনন্দকে বাড়িয়ে তোলে বহুগুণ। শুধু শিশুদেরই নয়, বড়দেরও নতুন নোটে সালামি দেওয়ার রীতি বহুদিনের। এ কারণে ঈদের আগে অনেকেই সংগ্রহ করে থাকেন নতুন টাকা। কেউবা সংগ্রহ করেন ব্যাংক থেকে, কেউবা সংগ্রহ করেন পথের পাশে বসে থাকা নতুন টাকা বিক্রেতার কাছ থেকে।

    রাজধানীর গুলিস্তানে মাওলানা ভাসানী হকি স্টেডিয়ামের উল্টো পাশে, আন্ডার পাসের পাস ঘেঁসে রাস্তার ওপর বিক্রি হচ্ছে নতুন নোট। বুধবার (১২ এপ্রিল) সরেজমিনে দেখা দেখা যায়, জমে উঠেছে নতুন টাকা কেনাবেচার বাজার। নানা বয়সী ক্রেতারা ঈদের আমেজকে গায়ে জড়িয়ে কিনে নিয়ে যাচ্ছেন নতুন টাকা। তবে বিক্রেতারা জানান, ঈদ কাছাকাছি চলে আসলেও তাদের আশানুরূপ বিক্রি হচ্ছে না।

    ঈদে বকশিস দেওয়া ও নেওয়া দুটিই বেশ আনন্দদায়ক ও উপভোগ্য। বাবার সঙ্গে ঈদ উপলক্ষে নতুন নোট কিনতে আসা ১২ বছরের শিশু মো. শাকিল হোসেনও জানালো এমনটাই। তার ভাষায়, প্রতি বছরই বাবার সঙ্গে নতুন নোট কিনতে আসি, খুবই ভালো লাগে। নতুন টাকা দিয়ে কী হবে জানতে চাইলে শাকিল বলে, ঈদের দিন সালামি হিসেবে এই নতুন নতুন টাকাগুলো সবাইকে দেওয়া হবে। বড় ভাইয়া আপু সবাইকে। আমিও পাবো। আবার আমি আমার ছোট চাচাতো-মামাতো ভাইবোনকে ঈদের বকশিস দেবো।

    কদমতলী জিয়া নগর থেকে আসা জুনায়েদ খান বলেন, ১৪ হাজার ৫০০ টাকার নতুন নোট কিনেছি আমি। এর মধ্যে একশো, বিশ, দশ ও পাঁচ টাকার নোটের বান্ডিল কেনা হয়েছে। ঈদ উপলক্ষে সবাইকে সালামি দেওয়া হবে। তাই এই নতুন নোট কেনা হলো। প্রতি বছরই আমাদের কেনা হয়। এই গুলিস্তান থেকেই কিনি।

    ব্যাংক থেকে কেন সংগ্রহ করেন না জানতে চাইলে তিনি বলেন, ব্যাংক থেকে তো আসলে আমাকে এভাবে ভেঙে ভেঙে নোট নিতে দেবে না। আবার আমি চাইলেই একটা একশো বা বিশ এভাবে কিনতে পারবো না। এখান থেকে খুচরা কিনতে পারি। তাই এখান থেকেই কিনি।

    নতুন টাকার বিক্রেতা মো. নাজিমউদ্দীন বলেন, আমি নতুন টাকা বিক্রি করি, আবার পুরাতন টাকাও কিনি। ছেঁড়ার ওপর নির্ভর করে পনের থেকে বিশ শতাংশ কমে আমরা পুরাতন বা ছেড়া নোট কিনি। আর নতুন নোট বিক্রি করি একেকটা একেক দামে। যেমন একশো টাকার এক বান্ডিল আমি বিক্রি দেড়শো টাকা বেশিতে। বড় নোটের থেকে ছোট নোটের দাম বেশি। আমি যে দাম দিয়ে কিনি তার থেকে বিশ টাকা বেশি দিয়ে বিক্রি করি। আমার লাভ সীমিত। ঈদের আগে যে বিক্রিটা হয় সেটা  এখনও শুরু হয় নাই। তবে সাধারণ সময়ের থেকে বিক্রি বেড়েছে এটা সত্য।

    এই নতুন টাকা কোথা থেকে আনেন জানতে চাইলে বিক্রেতারা জানান, তারা এসব নোট ব্যাংক থেকেই কিনে আনেন। তবে সরাসরি ব্যাংক থেকে তারা পান না। কয়েকজনের হাত ঘুরে তাদের হাতে আসে।

    মাল্টিন্যাশনাল কোম্পানিতে চাকরি করেন জাহেরুল ইসলাম জাহিদ। ঈদে ছোট বাচ্চাদের সালামি দেওয়ার জন্যই মূলত এই নতুন নোট কেনা বলে জানান তিনি। জাহিদ বলেন, আমি প্রতি বছরই নতুন নোট কিনি। ব্যাংক থেকে কিনলে আসলে ভালো। কারণ ব্যাংকে অতিরিক্ত টাকাটা দিতে হয় না। এখানে তো আমার অতিরিক্ত টাকা দিতে হচ্ছে। কিন্তু ওখানে (ব্যাংকে) গেলে বড় লাইন ধরতে হয়। অনেক সময় চলে যায়। এটাও একটা কারণ ওখানে না যাওয়ার।

    বিক্রেতারা জানান, এখন নতুন নোটের দাম কিছুটা বেশি। কারণ ব্যাংক থেকে নতুন নোট এখন বেশি দিচ্ছে না। আবার প্রতিদিনই ওঠানামা করছে নতুন এসব টাকার দাম। একেকজনের কেনার ওপর বিক্রির মূল্যেও রয়েছে ভিন্নতা।  যদিও বিক্রেতারা জানান, সবার কাছে একই মূল্যে নতুন নোট বিক্রি হচ্ছে। তবে সরেজমিনে নতুন টাকার এসব দোকান ঘুরে দেখা যায় তাদের মধ্যে রয়েছে মূল্যের ভিন্নতা।

    মো. আমিনুল ইসলাম নতুন টাকার বিক্রেতা। দুই বছর ধরে তার বড় ভাইয়ের সঙ্গে তিনি এই ব্যবসা করছেন। বড় ভাই অনেক আগে থেকেই এই ব্যবসায় জড়িত। ঈদের বাজারে নতুন টাকার দাম জানিয়ে আমিনুল বলেন, দশ টাকার এক বান্ডিল (এক হাজার নোট) আমরা বিক্রি করছি দশ হাজার দুইশো টাকায়। পঞ্চাশ টাকার বান্ডিল (১০০টি নোট) বিক্রি করছি পাঁচ হাজার দুইশো পঞ্চাশ টাকায়। আর একশো টাকার বান্ডিলে তিনশো টাকা বেশি নিচ্ছি। আর পুরাতন টাকার কন্ডিশন বুঝে ৫ থেকে ২০ শতাংশ কমিয়ে আমরা সেগুলো রাখি।

    ঈদ কাছাকাছি চলে আসলেও বেচাকিনি তেমন হচ্ছে না বলে জানান আমিনুল। তবে অন্য সময়ের থেকে সামান্য বিক্রি বেড়েছে। অন্যসময় প্রতিদিন গড়ে আয় হয় সাত থেকে আটশো টাকা।  ঈদ উপলক্ষে তা হাজার টাকা ছুঁয়েছে।

    উল্লেখ্য, ঈদের আনন্দ-উৎসবকে কেন্দ্র করে বাড়তি চাহিদার কারণে এবারও বাজারে নতুন নোট ছেড়েছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক।  ঈদ উপলক্ষে বাজারে ছাড়া হচ্ছে ১৫ হাজার কোটি টাকার নতুন নোট। তবে এটা অন্যান্য বছরের তুলনায় কিছুটা কম। রবিবার (৯ এপ্রিল) থেকে ঢাকা, গাজীপুর ও নারায়ণগঞ্জ অঞ্চলের ৩২ ব্যাংকের ৪০ শাখার মাধ্যমে নতুন নোট বিনিময় শুরু করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। শাখাগুলো থেকে একজন গ্রাহক সর্বোচ্চ সাড়ে আট হাজার টাকা সংগ্রহ করতে পারছেন।

    বাংলাদেশ ব্যাংকের সহকারী মুখপাত্র  মো. সারওয়ার হোসেন বলেন, এবারের ঈদে মোট ১৫ হাজার কোটি টাকার নতুন নোট বাজারে ছাড়ছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক।  একজন সর্বোচ্চ সাড়ে আট হাজার টাকার নতুন নোট নিতে পারবেন বলেও জানান তিনি।

  • বাংলা নববর্ষের অনুষ্ঠানে র‍্যাবের বিশেষ নিরাপত্তাব্যবস্থা

    বাংলা নববর্ষের অনুষ্ঠানে র‍্যাবের বিশেষ নিরাপত্তাব্যবস্থা

    বাংলা নববর্ষে নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রতিবছরের মতো এবারও বিশেষ নিরাপত্তামূলক ব্যবস্থা নিয়েছে র‍্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র‍্যাব)। নববর্ষের অনুষ্ঠান শেষ না হওয়া পর্যন্ত সারাদেশে পর্যাপ্তসংখ্যক সদস্যরা মোতায়েন থাকবে।

    আজ বৃহস্পতিবার নববর্ষ উদযাপন উপলক্ষে সার্বিক নিরাপত্তাব্যবস্থা পরিদর্শন শেষে রাজধানীর রমনা বটমূলে র‍্যাবের মহাপরিচালক এম খুরশীদ হোসেন এক সংবাদ সম্মেলনে এ কথা জানান। তিনি বলেন, র‍্যাব অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সঙ্গে সমন্বয় করে দায়িত্ব পালন করবে।

    নববর্ষের অনুষ্ঠান শেষ না হওয়া পর্যন্ত সারা দেশে র‍্যাবের সব ব্যাটালিয়নসহ নিজ নিজ দায়িত্বপূর্ণ এলাকায় পর্যাপ্তসংখ্যক র‍্যাব সদস্যরা মোতায়েন থাকবেন বলে জানান তিনি।

    র‍্যাবের মহাপরিচালক নববর্ষ উপলক্ষে রাজধানীর রমনা বটমূল, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের টিএসসি, শাহবাগসহ যেসব জায়গায় অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে, সেসব স্থানে র‍্যাবের নিরাপত্তাচৌকি, টহল ও পর্যবেক্ষণসহ পর্যাপ্ত নিরাপত্তামূলক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। রাজধানীর গুরুত্বপূর্ণ স্থানে র‍্যাবের বোমা উদ্ধার ও নিষ্ক্রিয় করণদল ডগ স্কোয়াড দিয়ে সুইপিং করা হবে। এ ছাড়া যেকোনো উদ্ভুত পরিস্থিতি মোকাবিলায় র‍্যাব সার্বক্ষণিক প্রস্তুত থাকবে।

    সারা দেশে বর্ষবরণের অনুষ্ঠান চলাকালে র‍্যাবের কন্ট্রোল রুম, স্ট্রাইকিং রিজার্ভ ফোর্স, ফুট প্যাট্রল, মোটরসাইকেল  প্যাট্রলিং, বোট প্যাট্রলসহ পর্যাপ্তসংখ্যক র‍্যাব সদস্য তৎপর থাকবেন।

    এম খুরশীদ হোসেন বলেন, বাংলা নববর্ষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সারা দেশে গোয়েন্দা নজরদারি বাড়ানো হয়েছে। নববর্ষের অনুষ্ঠান শেষ না হওয়া পর্যন্ত সারা দেশের সব ব্যাটালিয়নসহ নিজ নিজ দায়িত্বপূর্ণ এলাকায় পর্যাপ্তসংখ্যক র‍্যাব সদস্য মোতায়েন থাকবেন। র‍্যাব অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সঙ্গে সমন্বয় করে দায়িত্ব পালন করবে।

     

    বাংলা নববর্ষের অনুষ্ঠানে র‍্যাবের বিশেষ নিরাপত্তাব্যবস্থা

    যেকোনো হামলা ও নাশকতায় র‍্যাবের সাদা পোশাকধারীসহ পর্যাপ্তসংখ্যক র‍্যাব সদস্য তৎপর রয়েছেন।

    র‍্যাব সদর দপ্তরের কন্ট্রোলরুমের হটলাইন নম্বর ০১৭৭৭৭২০০২৯–এর মাধ্যমে ঢাকাসহ সারা দেশে যোগাযোগ করে সারা দেশে নিরাপত্তাব্যবস্থা পর্যবেক্ষণ করা হবে। সাইবার মনিটরিংসহ অন্যান্য তথ্যসহ বিশ্লেষণপূর্বক নববর্ষে কেন্দ্র করে জঙ্গি হামলার ব্যাপারে কোনো সুনির্দিষ্ট তথ্য পাওয়া যায়নি।

    নববর্ষ কেন্দ্র করে যেকোনো ধরনের গুজব ও মিথ্যা তথ্য দিয়ে কেউ অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি যাতে সৃষ্টি করতে না পারে, সে জন্য র‍্যাব সাইবার মনিটরিং টিম অনলাইনে সার্বক্ষণিক নজরদারি করছে। নববর্ষ উদ্‌যাপনে আসা নারীদের ইভটিজিং ও যৌন হয়রানি রোধকল্পে র‍্যাবের ভ্রাম্যমাণ আদালত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবে। এ ছাড়া কেউ হেনস্তার শিকার হলে তা র‌্যাব সদস্যদের জানালে র‍্যাব কঠোর ব্যবস্থা নেবে।

    সংবাদ সম্মেলনে আরও উপস্থিত ছিলেন র‍্যাবের অতিরিক্ত মহাপরিচালক (অপরেশনস) কর্নেল কামরুল হাসান, অতিরিক্ত মহাপরিচালক (প্রশাসন) ইমতিয়াজ আহমেদ, র‍্যাবের আইন ও গণমাধ্যম শাখার পরিচালক কমান্ডার খন্দকার আল মঈন প্রমুখ।

     

  • তীব্র গরমে বিশেষজ্ঞদের ৫ টি পরামর্শ মেনে চলুন

    তীব্র গরমে বিশেষজ্ঞদের ৫ টি পরামর্শ মেনে চলুন

    ২০২১ সালে যৌথভাবে একটি গবেষণা পরিচালনা করে বাংলাদেশ রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটি, জার্মান রেডক্রস এবং বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদপ্তর।

    ঢাকায় হিটওয়েভ বা তাপপ্রবাহের প্রবণতা বেড়েই চলেছে। আর হিটওয়েভের কারণে বাড়ছে স্ট্রোকে আক্রান্ত হওয়াসহ নানা স্বাস্থ্যঝুঁকি।

    বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার হিসাবে বয়স্ক মানুষ, শিশু, অন্তঃসত্ত্বা, খেলোয়াড় এবং যারা বাইরে কায়িক পরিশ্রমের পেশার সঙ্গে জড়িত, তারা সবচেয়ে বেশি স্বাস্থ্যঝুঁকিতে থাকেন তাপপ্রবাহের সময়। সরাসরি সূর্যের নিচে যাদের কাজ করতে হয়, তাদের ঝুঁকি আরও বেশি।

    তীব্র তাপদাহের সময়ে সুস্থ থাকতে বাড়ির বাইরে বের হওয়ার সময় বাড়তি সতর্কতা অবলম্বন করতে হবে।

    ১. ত্বকের যত্নঃ প্রবল রোদে ত্বক পুড়ে যাওয়ার ব্যাপারে সতর্ক থাকতে পরামর্শ দেন চিকিৎসকরা। অতিরিক্ত রোদে বের হলে ত্বক লাল হয়ে যায়। সঙ্গে ত্বকে ফুসকুড়িও দেখা যেতে পারে। ত্বক পুড়ে গেলে আক্রান্ত জায়গাটিতে চিকিৎসকের পরামর্শ না নিয়ে কিছু না লাগানোই ভালো। এ সময়ে ত্বক বাঁচাতে চড়া রোদে না থাকা, ঠান্ডা পানিতে ভেজানো কাপড় ত্বকের ওপর রাখার পরামর্শ দিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা। গরমে ত্বকের অনেকটা অংশ জুড়ে র‌্যাশ বেরোতে পারে। একে ‘হিট র‌্যাশ’ বলা হয়। এ ধরনের র‍্যাশ এড়াতে নিয়মিত সানস্ক্রিন ব্যবহার করতে হবে।

    ২. পানিশূন্যতা দূরীকরণঃ মাত্রাতিরিক্ত গরমে শরীরে পানির ঘাটতি হতে পারে। শরীরে অতিরিক্ত পানি ও খনিজ পদার্থের ঘাটতি হলে পেশিতে টান পড়ার ঝুঁকি বেড়ে যায়। এ সমস্যাকে ‘হিট ক্র্যাম্পস’ বলা হয়। এ সমস্যা এড়াতে পর্যাপ্ত পরিমাণে পানি পান করতে হবে। প্রয়োজনে স্যালাইন খেতে হবে।

    ৩. হিটস্ট্রোকে সতর্কতাঃ প্রচণ্ড গরমে ‘হিট স্ট্রোক’ হতে পারে।  এ সময়ে ‘হিট স্ট্রোক’- এ আক্রান্ত হলে শরীরে তাপমাত্রার ভারসাম্য থাকে না। তাই ঘাম হয় না। কিন্তু হিট স্ট্রোক হলে তা থেকে মস্তিষ্ক, কিডনি, হৃৎপিণ্ডে প্রভাব পড়তে পারে। অনেকে অজ্ঞান হয়ে যেতে পারেন। ঘাম না হওয়ায় শরীরের তাপমাত্রা বেড়ে ১০৩-১০৪ ডিগ্রি ফারেনহাইট পর্যন্ত হতে পারে। মাথাব্যথা, মাথা ঘোরার মতো উপসর্গও দেখা যেতে পারে। এমন সমস্যা হলে দ্রুত রোগীকে চিকিৎসকের কাছে বা হাসপাতালে নিয়ে যেতে হবে। তার আগে রোগীকে বারবার ভেজা কাপড় দিয়ে শরীর মুছিয়ে দেওয়া ভালো।

    ৪. খাদ্যতালিকায় সচেতনতাঃ এ গরমে সুস্থ থাকতে তেল-মসলাদার খাবার এড়িয়ে চলুন। উচ্চ প্রোটিনযুক্ত আমিষ খাবার কম খাওয়াই ভালো। বরং তাড়াতাড়ি হজম হয়ে যায় এমন খাবার খান। একেবারে অনেকটা খাবার না খেয়ে অল্প মাত্রায় বার বার খাওয়ার অভ্যাস করুন।

    ৫. ফ্যাশনের স্বস্তিতেঃ গরমের সময় হালকা সুতির পোশাক পরুন, যাতে ঘাম হলে তাড়াতা়ড়ি শুকিয়ে যায়। পা ঢাকা জুতার বদলে খোলা স্যান্ডেল ব্যবহার পরুন। ব্যাগে সানগ্লাস, স্কার্ফ, পানির বোতল, ছাতা রাখতে ভুলবেন না।

  • জাপানের বিনিয়োগের স্বর্গভূমি হতে পারে চট্টগ্রাম: মেয়রকে রাষ্ট্রদূত

    জাপানের বিনিয়োগের স্বর্গভূমি হতে পারে চট্টগ্রাম: মেয়রকে রাষ্ট্রদূত

    জাপানের রাষ্ট্রদূত ইওয়ামা কিমিনরি বলেছেন, ‘বন্দর ও সড়ক ব্যবহারের ক্ষেত্রে কাস্টমসহ প্রশাসনিক জটিলতা কমানো গেলে জাপানের বিনিয়োগের স্বর্গভূমি হতে পারে চট্টগ্রাম।’
    রাষ্ট্রদূত বলেন, এলডিসি থেকে বাংলাদেশের উত্তরণ ঘটেছে। তাই ব্যবসা ক্ষেত্রের বৈচিত্র আনয়নে জাপানি বিনিয়োগ বাংলাদেশে ভারী শিল্পের বিকাশ ঘটাতে পারে।’

    জাপানের রাষ্ট্রদূত ইওয়ামা কিমিনরি আজ সোমবার টাইগারপাসস্থ চসিক কার্যালয়ে চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের (চসিক) মেয়র বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. রেজাউল করিম চৌধুরীর সাথে সৌজন্য সাক্ষাৎকালে এ কথা বলেন।

    বৈঠকে মেয়র মো. রেজাউল করিম চৌধুরী বলেন, চট্টগ্রাম ঐতিহাসিকভাবেই বন্দর ও বাণিজ্য নগরী হিসেবে বিখ্যাত। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা চট্টগ্রামের এই বাণিজ্য সম্ভাবনাকে কাজে লাগাতে টানেল নির্মাণ, বন্দরের সক্ষমতা বৃদ্ধিসহ বিভিন্ন খাতে বিশাল বিনিয়োগ করেছেন। বিশেষ করে প্রধানমন্ত্রী চট্টগ্রামের উন্নয়নে আড়াই হাজার কোটি টাকার প্রকল্প বরাদ্দ দিয়েছেন। এ প্রকল্পের মাধ্যমে চট্টগ্রামে উন্নত যোগাযোগ ব্যবস্থা গড়ে তোলা হচ্ছে যা চট্টগ্রামকে বিশ্বের বাণিজ্যিক হাবে পরিণত করবে। এই উন্নয়নে জাপানকে পাশে চাই।

    তিনি বলেন, ‘প্রাকৃতিক অবস্থানের কারণে চট্টগ্রামের যে বিপুল বাণিজ্যিক সম্ভাবনা আছে তা কাজে লাগাতে উন্নত মানের যোগাযোগ এবং লজিস্টিকস গড়ে তোলার চেষ্টা করছি আমি। জাইকাসহ জাপানের সরকারি-বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থাগুলো এক্ষেত্রে বাংলাদেশের পাশে দাঁড়াতে পারে। জাপানের অর্থনৈতিক সহায়তার পাশাপাশি প্রযুক্তিগত জ্ঞান আর অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগিয়ে আমি নান্দনিক চট্টগ্রাম গড়তে চাই।’

    মেয়রকে আশ্বস্ত করে জাপানের রাষ্ট্রদূত ইওয়ামা কিমিনরি বলেন, জাইকার পাশাপাশি প্রাইভেট-পাবলিক পার্টনারশিপ মডেলে বিনিয়োগ করে জাপানি বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানগুলো চট্টগ্রামের অবকাঠামো উন্নয়নে ভূমিকা রাখছে। ভবিষ্যতেও এ ধারা অব্যাহত থাকবে।

    বাংলাদেশে বাণিজ্য প্রসারে জাপান আগ্রহী জানিয়ে রাষ্ট্রদূত বলেন, চট্টগ্রাম ও মিরসরাই ইপিজেডে জাপানের অনেকগুলো প্রতিষ্ঠানের বিনিয়োগ রয়েছে। বর্তমানে চট্টগ্রামে জাপানের সবচেয়ে বড় কর্পোরেশনগুলোর একটি নিপ্পন স্টিলসহ বড় ২০টি শিল্পগ্রুপ বাণিজ্যিক কর্মকা- পরিচালনা করছে এবং আরো অনেক প্রতিষ্ঠান বিনিয়োগ করতে আগ্রহী। পর্যাপ্ত সহযোগিতা পেলে এই বিনিয়োগ অনেক গুণ বাড়তে পারে।

    বন্দর নগরী চট্টগ্রামের অমিত সম্ভাবনাকে কাজে লাগিয়ে বাংলাদেশের উন্নয়নের গতিধারাকে বেগবান করতে জাপান সবসময় সহযোগিতা করে আসছে বলে মন্তব্য করেন রাষ্ট্রদূত।
    এসময় চট্টগ্রাম সফররত জাপানি সামরিক জাহাজ জেএস উরাগা এবং জেএস আয়াজি’র সাথে আসা প্রতিনিধি দল মেয়রকে বলেন, জাপান পারস্পরিক সহযোগিতার মাধ্যমে শান্তিপূর্ণ বিশ্ব নির্মাণের সংকল্প বাস্তবায়নে বাংলাদেশের সহযোগিতা চায়।

    বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন চসিকের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা শেখ মুহম্মদ তৌহিদুল ইসলাম, প্রধান শিক্ষা কর্মকর্তা লুৎফুন নাহার, মেয়রের একান্ত সচিব ও প্রধান পরিচ্ছন্ন কর্মকর্তা মুহাম্মদ আবুল হাশেম, অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী মুনিরুল হুদা, তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী বিপ্লব দাশ, নির্বাহী প্রকৌশলী মীর্জা ফজলুল কাদের, মো. শাহীনুল ইসলাম, শিক্ষা কর্মকর্তা উজালা চাকমা, জনসংযোগ ও প্রটোকল কর্মকর্তা আজিজ আহমদ।

    আরো উপস্থিত ছিলেন জাপানি জাহাজ বহরের নেতৃত্বে থাকা ক্যাপ্টেন নাকাই ইচি, অনাবাসিক ডিফেন্স এটাচি ক্যাপ্টেন তাচিবানা হিরোশি, কমান্ডার মাতসুনাগা আকিহিতো, তাগুচি তাকুমি, প্রথম সচিব ইগাই ইয়ুকা, দ্বিতীয় সচিব কোবায়াশি য়ুশিহাকি।

    সূত্রঃ বাসস

  • হাজারো মানুষের ইফতার ঐতিহাসিক মোস্তার সেতুর নিচে

    হাজারো মানুষের ইফতার ঐতিহাসিক মোস্তার সেতুর নিচে

    এক হাজার ৩০০ জন মানুষের জন্য মঙ্গলবার ইফতারের আয়োজন করা হয়েছে বসনিয়া ও হার্জেগোভিনার ঐতিহাসিক মোস্তার সেতুতে।

    আয়োজনের সমন্বয়কারী নেদিম হোন্ডো বলেছেন, এই আয়োজনটি ইতিমধ্যেই হার্জেগোভিনার বৃহত্তম শহরে একটি ঐতিহ্য হয়ে উঠেছে, যা প্রতি বছর জড়ো হওয়া লোকের সংখ্যা বৃদ্ধির মাধ্যমেও প্রমাণিত হয়।

    ইসলামিক ইউনিয়ন আয়োজিত ইফতারে সার্বিয়া, মন্টিনিগ্রো এবং ক্রোয়েশিয়ার মানুষ অংশ নেন। আযানের পর তারা সবাই একসঙ্গে তাদের রোজা ভাঙে। এরপর সবাই জামাতে নামাজ আদায় করে।

    হানা ওমেরিকা নামে

    হাজারো মানুষের ইফতার ঐতিহাসিক মোস্তার সেতুর নিচে

    আয়োজকদের একজন বলেন,

    ‘আমরা ৯ বছর ধরে মোস্তার সেতুর নিচে ইফতারের আয়োজন করে আসছি। বসনিয়া ও হার্জেগোভিনা এবং এই অঞ্চলের রোজাদারদের আপ্যায়ন করতে পেরে আমরা খুশি।’

    নেদিম আরো বলেন, ‘আমরা খুশি এবং আনন্দিত যে এই বছর আমরা ২০০ জন তরুণ-তরুণীর সংখ্যা বাড়াতে পেরেছি। তাই এই বছর এক হাজার ৩০০ জন ওল্ড ব্রিজের নিচে জড়ো হয়েছে।’

    সূত্র : সারাজেভো টাইমস