Author: Hello Bangla News

  • রাষ্ট্রপতি আগামীকাল ধানমন্ডি বঙ্গবন্ধু স্মৃতি জাদুঘরে শ্রদ্ধা জানাবেন

    রাষ্ট্রপতি আগামীকাল ধানমন্ডি বঙ্গবন্ধু স্মৃতি জাদুঘরে শ্রদ্ধা জানাবেন

    www.HelloBangla.News – জাতীয় – ১৪ আগস্ট, ২০২৩ : রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন আগামীকাল জাতীয় শোক দিবস এবং জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ৪৮তম শাহাদাত বার্ষিকী উপলক্ষে বঙ্গবন্ধুর প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করবেন।

    রাষ্ট্রপতির প্রেস সচিব মো. জয়নাল আবেদীন বাসস’কে জানান, ‘সকাল সাড়ে ৬টায় রাজধানীর ধানমন্ডি ৩২ নম্বরে বঙ্গবন্ধু স্মৃতি জাদুঘরের সামনে রক্ষিত জাতির পিতার প্রতিকৃতিতে পুষ্পস্তবক অর্পণের মাধ্যমে রাষ্ট্র প্রধান বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতিতে শ্রদ্ধা নিবেদন করবেন।’

    এর আগে বঙ্গবন্ধু স্মৃতি জাদুঘর প্রাঙ্গণে রাষ্ট্রপতিকে স্বাগত জানাবেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

    পরে রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রী উভয়েই সেখানে বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতিতে পুষ্পস্তবক অর্পণ করবেন।

    পুষ্পস্তবক অর্পণের পর তাঁরা স্বাধীন বাংলাদেশের মহান স্থপতি এবং সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ বাঙালি বঙ্গবন্ধুর স্মৃতির প্রতি গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন করে কিছুক্ষণ নীরবে দাঁড়িয়ে থাকবেন।

    বাংলাদেশ সেনাবাহিনী, নৌবাহিনী ও বিমান বাহিনীর একটি চৌকস দল এই অনুষ্ঠানে অনার গার্ড প্রদান করবে।

    সেখানে ১৫ আগস্টের শহীদদের বিদেহী আত্মার মাগফেরাত কামনা করে মোনাজাত করা হবে।

    এদিকে বিকেলে বাদ আছর রাষ্ট্রপতি বঙ্গভবনের দরবার হলে বিশেষ দোয়া ও মিলাদ মাহফিলের আয়োজন করবেন।

    ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্টের রাতে নির্মমভাবে শাহাদাত বরণকারী জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান এবং তাঁর পরিবারের সদস্যদের চিরশান্তি কামনা করে বিশেষ দোয়া করা হবে।

    এছাড়া দেশের শান্তি ও সমৃদ্ধি, জনগণের কল্যাণ এবং বিশ্বব্যাপী মুসলিম উম্মাহর বৃহত্তর ঐক্য কামনা করে দোয়াও করা হবে।

    অনুষ্ঠানে রাষ্ট্রপতির পরিবারের সদস্য, সংশ্লিষ্ট সচিবগণ, বেসামরিক ও সামরিক কর্মকর্তা ও বঙ্গভবনের কর্মচারীরা উপস্থিত থাকবেন বলে আশা করা হচ্ছে।

    সূত্র : বাসস

  • বেদনায় ভরা দিন

    বেদনায় ভরা দিন

    www.HelloBangla.News – জাতীয় – ১৪ আগস্ট, ২০২৩ : শেখ হাসিনা, রোড ৩২, ধানমন্ডি।

    তখনও ভোরের আলো ফোটেনি। দূরের মসজিদ থেকে আজানের ধ্বনি ভেসে আসছে। এমন সময় প্রচন্ড গোলাগুলির আওয়াজ। এ গোলাগুলির আওয়াজ ঢাকার ধানমন্ডির ৩২ নম্বর সড়কের একটি বাড়ি ঘিরে, যে বাড়িতে বসবাস করেন বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান। এক বিঘা জমির উপর খুবই সাধারণ মানের ছোট্ট একটা বাড়ি। মধ্যবিত্ত মানুষের মতই সেখানে বসবাস করেন দেশের রাষ্ট্রপ্রধান। তিনি সবসময়ই সাধারণ জীবনযাপন করতেন। এই বাড়ি থেকেই ১৯৭১ সালের ২৬-এ মার্চ বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব স্বাধীনতার ঘোষণা দিয়েছিলেন। বাংলাদেশের স্বাধীনতা অর্জনের যে আন্দোলন-সংগ্রাম – এই বাড়িটি তার নীরব সাক্ষী। সেই বাড়িটিই হলো আক্রমণের লক্ষ্যবস্তু। গোলাগুলির আওয়াজের মধ্যে আযানের ধ্বনি হারিয়ে যায়।

    রাষ্ট্রপতির বাসভবনের নিরাপত্তায় সাধারণত সেনাবাহিনীর ইনফেন্ট্রি ডিভিশনকে দায়িত্ব দেওয়া হয়। কিন্তু মাত্র ১০-১২ দিন পূর্বে বেঙ্গল ল্যাঞ্চারের অফিসার ও সৈনিকদের এ দায়িত্বে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। আমার মা, বেগম ফজিলাতুন্নেছা মুজিব, লক্ষ্য করলেন কালো পোশাকধারী সৈনিকেরা বাড়ির পাহারায় নিয়োজিত। তিনি প্রশ্নটা তুলেছিলেনও। কিন্তু কোন সদুত্তর পাননি।

    আমার বাবা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবের ছিল দেশের মানুষের প্রতি অঢেল ভালোবাসা। তিনি সকলকেই অন্ধের মত বিশ্বাস করতেন। তিনি কখনও এটা ভাবতেও পারেননি যে, কোন বাঙালি তাঁর ওপর গুলি চালাতে পারে বা তাঁকে হত্যা করতে পারে। তাঁকে বাঙালি কখনও মারবে না, ক্ষতি করবে না – এই বিশ্বাস নিয়েই তিনি চলতেন। কিন্তু দুর্ভাগ্যের বিষয় হলো, সেই বিশ্বাসের কি মূল্য তিনি পেয়েছিলেন?

    চারদিকে মুহুর্মুহু গুলির আওয়াজ। বিকট শব্দে মেশিনগান হতে গুলি করতে করতে মিলিটারি গাড়ি এসে দাঁড়ালো ৩২ নম্বর রোডের বাড়ির সামনে। গুলির আওয়াজে ততক্ষণে বাড়ির সকলেই জেগে উঠেছে। আমার ভাই শেখ কামাল দ্রুত নিচে নেমে গেল রিসেপশন রুমে – কারা আক্রমণ করলো, কী ঘটনা জানতে। বাবার ব্যক্তিগত সহকারী মহিতুল ইসলাম বিভিন্ন জায়গায় ফোন করার চেষ্টা করছিলেন। কিন্তু কোন সাড়া পাচ্ছিলেন না।

    সেখানে কিছুক্ষণ দাঁড়িয়ে থাকার পর কামাল বেরিয়ে বারান্দায় এসে দেখে বাড়ির গেট দিয়ে মেজর নূর ও ক্যাপ্টেন হুদা এগিয়ে আসছে। কামাল তাদের দেখেই বলতে শুরু করলো : আপনারা এসে গেছেন, দেখেন তো কারা বাড়ি আক্রমণ করলো ?

    ওর কথা শেষ হতে পারলো না। তাদের হাতের অস্ত্র গর্জে উঠলো। কামাল সেখানেই লুটিয়ে পড়লো। অথচ মুক্তিযুদ্ধের সময় মেজর নূর আর কামাল একইসঙ্গে কর্নেল ওসমানীর এডিসি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছে। আর সেই কারণে ওরা একে অপরকে ভালোভাবে চিনতো। কিন্তু কী দুর্ভাগ্য! সেই চেনা মানুষগুলি কেমন অচেনা ঘাতকের চেহারায় আবির্ভূত হলো। নিজ হাতে গুলি করে হত্যা করলো সহযোদ্ধা কামালকে। কামাল তো মুক্তিযোদ্ধা। দেরাদুন থেকে ট্রেনিং নিয়ে দেশের অভ্যন্তরে যায় যুদ্ধ করতে। এরপর বাংলাদেশ সরকার ক্যাপ্টেন শেখ কামালকে নিয়োগ দেয় বাংলাদেশের সশস্ত্র বাহিনী প্রধান কর্নেল ওসমানীর এডিসি হিসেবে।

    মেজর সৈয়দ ফারুক ট্যাঙ্ক নিয়ে আমাদের বাড়ি লক্ষ্য করে গুলি চালাচ্ছিল। আব্বা সবার আগে ঘর থেকে সেনাবাহিনী প্রধান সফিউল্লাহ সাহেবকে ফোন করেন। তাঁকে জানান বাড়ি আক্রান্ত। তিনি জবাব দেন : আমি দেখছি। আপনি পারলে বাইরে কোথাও চলে যান।

    এর মধ্যে ফোন বেজে ওঠে। কৃষিমন্ত্রী আব্দুর রব সেরিয়াবাত, আমার সেজ ফুফা, ফোনে জানান যে তাঁর বাড়ি কারা যেন আক্রমণ করেছে। আব্বা জবাব দেন তাঁর বাড়িও আক্রান্ত। আব্বা আওয়ামী লীগ নেতা আব্দুর রাজ্জাক ও তোফায়েল আহমেদকে ফোন করেন। আব্দুর রাজ্জাক বলেন : লিডার দেখি কী করা যায়। আব্দুর রাজ্জাক স্বেচ্ছাসেবক বাহিনীর দায়িত্বে ছিলেন। তোফায়েল আহমেদ ফোনে বলেন : আমি দেখছি। রিসিভার নামিয়ে রাখতে রাখতে বলতে থাকেন : আমি কী করবো ? তোফায়েল আহমেদ রক্ষী বাহিনীর দায়িত্বে ছিলেন। আব্বা নিচে যাওয়ার জন্য ঘর থেকে বের হন। মা পাঞ্জাবিটা পরিয়ে দেন। আব্বা যেতে যেতে – কামাল কোথায় – জিজ্ঞেস করতে থাকেন। কথা বলতে বলতে তিনি সিঁড়ির কাছে পৌঁছান।
    এ সময় সিড়ির মাঝের প্ল্যাটফর্মে যারা দাঁড়িয়েছিল, তারাও দোতালায় উঠে আসছিল। এদের মধ্যে হুদাকে চিনতে পারেন আব্বা। আব্বা তার বাবার নাম ধরে বলেন : তুমি রিয়াজের ছেলে না ? কী চাস তোরা ? কথা শেষ করতে না করতেই গর্জে উঠে ওদের হাতের অস্ত্র। তাদের সঙ্গে ইতোমধ্যেই যোগ দিয়েছিল রিসালদার মোসলেউদ্দিন।

    ঘাতকদের নির্মম বুলেটের আঘাতে সিঁড়ির উপর লুকিয়ে পড়লেন আব্বা। আমার মা সিড়ির দিকে এগিয়ে যাচ্ছিলেন। ঘাতকের দল ততক্ষণে ওপরে উঠে এসেছে। আমার মাকে তারা বাধা দিল এবং বললো যে আপনি আমাদের সঙ্গে চলেন। মা বললেন : আমি এক পা-ও নড়বো না, কোথাও যাবো না। তোমরা উনাকে মারলে কেন ? আমাকেও মেরে ফেলো। ঘাতকদের হাতের অস্ত্র গর্জে উঠলো। আমার মা লুটিয়ে পড়লেন মাটিতে।

    কামালের স্ত্রী সুলতানা কামাল ও জামালের স্ত্রী রোজী জামাল মা’র ঘরে ছিল। সেখানেই তাঁদের গুলি করে হত্যা করে ঘাতকেরা। রাসেলকে রমা জড়িয়ে ধরে এক কোণে দাঁড়িয়েছিল। ছোট্ট রাসেল কিছুই বুঝতে পারছে না। একজন সৈনিক রাসেল আর রমাকে ধরে নিচের তলায় নিয়ে যায়। একইসঙ্গে বাড়িতে আরও যারা ছিল তাদেরও নিচে নিয়ে দাঁড় করায়।

    গৃহকর্মী আব্দুল গুলিবিদ্ধ হয়েছিল। তাকেও নিয়ে যায়। বাড়ির সামনে আম গাছতলায় সকলকে দাঁড় করিয়ে একে একে পরিচয় জিজ্ঞেস করে। আমার একমাত্র চাচা মুক্তিযোদ্ধা শেখ আবু নাসের পঙ্গু ছিলেন। তিনি বার বার মিনতি করছিলেন : আমার স্ত্রী অন্তঃসত্ত্বা ; আমি মুক্তিযোদ্ধা। আমাকে মেরো না। ছোট ছোট বাচ্চারা আমার, ওদের কী হবে ? কিন্তু খুনিরা কোন কথাই কানে নেয় না। তাঁর পরিচয় পেয়ে তাঁকে অফিস ঘরের বাথরুমে দাঁড় করিয়ে গুলি করে হত্যা করে।

    রমার হাত ধরে রাসেল “মা’র কাছে যাব, মা’র কাছে যাব” বলে কান্নাকাটি করছিল। রমা বারবার ওকে বোঝাচ্ছিল : তুমি কেঁদো না ভাই। ওরা তোমাকে মেরে ফেলবে। কিন্তু অবুঝ শিশু মায়ের কাছে যাব বলে কেঁদেই চলছে। এ সময় একজন পরিচয় জানতে চায়। পরিচয় পেয়ে বলে : চলো, তোমাকে মায়ের কাছে দিয়ে আসি।

    ভাইয়ের লাশ, বাবার লাশ মাড়িয়ে রাসেলকে টানতে টানতে দোতলায় নিয়ে মায়ের লাশের পাশেই গুলি করে হত্যা করে। দশ বছরের ছোট্ট শিশুটাকে ঘাতকের দল বাঁচতে দিল না।

    যে বাড়ি থেকে একদিন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব স্বাধীনতার ঘোষণা দিয়েছিলেন, সেই বাড়িটি রক্তে ভেসে গেল। সেই রক্তের ধারা ওই সিঁড়ি বেয়ে বাংলার মাটিতে মিশে গেছে- যে মাটির মানুষকে তিনি গভীরভাবে ভালোবাসতেন।
    ৪৬ ব্রিগেডের দায়িত্বে ছিলেন সাফায়েত জামিল। সেনাপ্রধান তাঁকে ফোন করে পায়নি। সিজিএস খালেদ মোশাররফও কোন দায়িত্ব পালন করেনি। সেনাবাহিনীর ডেপুটি চিফ জিয়াউর রহমান কোন ব্যবস্থা নেওয়ার চেষ্টা করেনি বরং সে পুরো ষড়যন্ত্রের সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে জড়িত ছিল। খুনি রশিদ ও ফারুক বিবিসি-তে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে জিয়াউর রহমানের জড়িত থাকার কথা বলেছে। খুনি মোস্তাক জিয়াকে সেনাপ্রধান হিসেবে নিয়োগ দেয়। ঢাকার তৎকালীন এসপি মাহবুবকেও ফোন করে পাওয়া যায়নি।

    মেজ ফুপুর বাসা
    ঘাতকেরা ধানমন্ডির মেজ ফুফুর বাড়ি আক্রমণ করে রিসালদার মোসলেউদ্দিনের নেতৃত্বে। তাদের একটি দল সিঁড়ি বেয়ে উপরে উঠতে উঠতে গালি দিতে থাকে। বুটের আওয়াজ আর চিৎকার-চেঁচামেচি শুনে মুক্তিযোদ্ধা যুবনেতা এবং বাংলার বাণীর সম্পাদক শেখ ফজলুল হক মনি ঘর থেকে বেরিয়ে আসেন। বন্দুক তাক করে তাঁকে অকথ্য ভাষায় গালি দিতে থাকে ঘাতকের দল। এ সময় তাঁর অন্তঃসত্তা স্ত্রী আরজু ছুটে এসে স্বামীকে জড়িয়ে ধরে ঘাতকদের বুলেট থেকে বাঁচাতে। কিন্তু ঘাতকের দল তাঁদের লক্ষ্য করে গুলি করে। বুলেটের আঘাতে দুজনের শরীর ঝাঁঝরা হয়ে যায়। মাটিতে লুটিয়ে পড়ে নিথর দেহ দুটি। ছোট দুই ছেলে, তিন বছরের তাপস আর বছর পাঁচেকের পরশ, মা-বাবার লাশের পাশে এসে চিৎকার করতে থাকে আর বলতে থাকে : মা ওঠো, বাবা ওঠো। ঐ শিশুদের কান্না মা-বাবা কি শুনতে পেয়েছিল ? ততক্ষণে তাঁরা তো না-ফেরার দেশে চলে গেছে। শিশুদের চোখের পানি মা-বাবার রক্তের সঙ্গে মিশে একাকার হয়ে যায়।

    সেজ ফুপুর বাড়ি
    গুলি করতে করতে মেজর সুলতান শাহরিয়ার রশিদ খান ও মেজর এ এম রাশেদ চৌধুরী মিন্টু রোডে সেজ ফুফার সরকারি বাড়ির সিঁড়ি বেয়ে দোতালায় উঠে যায়। পরিবারের সকল সদস্যকে তাঁদের ঘর থেকে বের করে নিচতলায় বসার ঘরে নিয়ে আসে। এর পর তাদের উপর ব্রাশ ফায়ার করে। গুলির আঘাতে লুটিয়ে পড়েন আবার ফুপু আমিনা সেরনিয়াবাত, আমার ফুফা কৃষিমন্ত্রী মুক্তিযোদ্ধা আব্দুর রব সেরিয়াবাত, তাঁর মেয়ে বিউটি, বেবি, রিনা, ছেলে খোকন, আরিফ, বড় ছেলে আবুল হাসানাত আব্দুল্লাহর স্ত্রী শাহানা, নাতি সুকান্ত, ভাইয়ের ছেলে মুক্তিযোদ্ধা শহীদ, ভাগ্নে রেন্টু। আট বছরের নাতনি কান্তা গুলিবিদ্ধ লাশের নিচে চাপা পড়ে যাওয়ায় বেঁচে যায়। দেড় বছরের নাতি সাদেক গুলিবিদ্ধ মায়ের বুকে পড়ে কাঁদতে থাকে। আট বছরের কান্তা নিজের ফুফু বেবির লাশের নিচে চাপা পড়েছিল। সেখান থেকে কোন মতে বের হয়ে অবাক বিস্ময়ে তাকিয়ে থাকে। সারি সারি গুলিবিদ্ধ আপনজন পড়ে আছে। কারও নিথর দেহ, কেউ বা যন্ত্রণায় কাতরাচ্ছেন। ঘরের কোণায় রাখা অ্যাকুরিয়াম গুলি লেগে ভেঙে যায়। অ্যাকুরিয়ামের পানির সঙ্গে মাছগুলি মাটিতে পড়ে যায়। রক্ত ভেজা পানিতে মাছগুলিও ছটফট করে লাফাতে থাকে। কিছুক্ষণ আগে যে আপনজন মা, বাবা, দাদা-দাদি, চাচা, ফুফুসহ সকলকে নিয়ে এই শিশুরা ছিল, আর এখন গুলিবিদ্ধ রক্তে ভেজা আপনজন। লাশের নিচ থেকে নিজেকে বের করে ঘরের কোণে দাঁড়িয়ে ৮ বছরের শিশুটি অবাক বিস্ময়ে ভীত-সন্ত্রস্ত চোখে তাকিয়ে থাকে।

    মেজর ফারুক ট্যাঙ্ক নিয়ে লেকের ওপার থেকে ৩২ নম্বরের বঙ্গবন্ধু ভবন লক্ষ্য করে গুলি চালাচ্ছিল। সেই গুলি মোহাম্মদপুরে এক বাড়িতে পড়ে। সেখানে ১১ জন মানুষ নিহত হয় আরও অনেকেই আহত হয়। মেজর ডালিম রেডিও স্টেশন দখলের দায়িত্বে ছিল। সেখান থেকেই সে ঘোষণা দেয় : শেখ মুজিবুর রহমানকে হত্যা করা হয়েছে। ঘাতকেরা শুধু হত্যা করে তাই নয়, তারা আমাদের বাসা লুটপাট করে। আমার বাবার শোবার ঘরে এবং ড্রেসিং রুমের সকল আলমারি, লকার সবকিছু ভেঙ্গে সেখান থেকে যা কিছু মূল্যবান ছিল – গহনা, ঘড়ি, টাকা-পয়সা লুটপাট করে নিয়ে যায়। বাসায় ব্যবহার করা গাড়িটাও মেজর হুদা ও নূর নিয়ে যায়।

    আলমারীর সব কাপড় চোপড় বিছানার ওপর পড়েছিল। সেগুলোর অনেকগুলোতে ছিল রক্তের দাগ। এই হত্যাকান্ডের পর লুটপাটের ঘটনা মনে করিয়ে দেয় ওদের চরিত্রের অন্ধকার দিকটা। এই ষড়যন্ত্রের সঙ্গে যারা জড়িত ছিল, তারা এই সদ্য স্বাধীন দেশের মানুষের কত বড় সর্বনাশ করেছিল তা কি ওরা বুঝতে পেরেছিল ?

    যে বুকে বাংলার মানুষের জন্য প্রচন্ড ভালোবাসা ছিল, সেই বুকটাই ঝাঁঝরা করে দিল তাঁরই প্রিয় বাংলাদেশের সেনাবাহিনীর কিছু দুর্বৃত্ত। আমার আব্বা কোনদিন বিশ্বাস করতেই পারতেন না যে, বাংলাদেশের কোন মানুষ তাঁকে মারতে পারে, বা কোন ক্ষতি করতে পারে। পৃথিবীর অনেক নেতাই তাঁকে এ বিষয়ে সতর্ক করেছিলেন। কিন্তু তিনি বলেছেন, ওরা তো আমার ছেলে, আমাকে কেন মারবে ? এত বড় বিশ্বাস ভঙ্গ করে ওরা বাঙালির ললাটে কলঙ্ক লেপন করল।

    কী বিচিত্র এ দেশ! একদিন যে মানুষটির একটি ডাকে এদেশের মানুষ অস্ত্র তুলে নিয়ে যুদ্ধ করে বিজয় এনেছিল, বীরের জাতি হিসেবে সারা বিশ্বের কাছে মর্যাদা পেয়েছিল, আজ এই হত্যাকান্ডের মধ্যে দিয়ে সেই জাতি সমগ্র বিশ্বের কাছে বিশ্বাসঘাতক জাতি হিসেবে পরিচিতি পায়। খুনি ও ষড়যন্ত্রকারীদের এদেশের অগণিত জনগণ ঘৃণা করে এবং বিশ্বাসঘাতক হিসেবে চিহ্নিত করে।
    আমার অন্তঃসত্ত্বা চাচী ছয় জন সন্তান নিয়ে চরম বিপদের সম্মুখীন হন। খুলনায় ভাড়ার বাসায় বসবাস করতেন। সে বাসা থেকে তাঁকে বিতাড়িত করা হয়। টুঙ্গিপাড়ার বাড়িও সিল করে রাখা হয়। ঘরবাড়ি হারা সদ্য বিধবা কোথায় ঠাঁই পাবেন?

    সোবহানবাগ
    আব্বার সামরিক সচিব কর্নেল জামিল তাঁর ব্যক্তিগত গাড়িতে করে বঙ্গবন্ধুর বাড়ির দিকে রওয়ানা হন। সোবহানবাগ মসজিদের কাছে তাঁর গাড়ি আটকে দেয় ঘাতকেরা। তিনি এগুতে চাইলে ঘাতকেরা তাঁকে খুব কাছ থেকে গুলি করে হত্যা করে।
    আমাদের বাড়ির নিচে পুলিশের বিশেষ শাখার সদস্য এসআই সিদ্দিকুর রহমানকেও তারা গুলি করে হত্যা করে।

    বেলজিয়াম
    ক্রিং ক্রিং ক্রিং …। টেলিফোনটা বেজেই যাচ্ছে। আমার ঘুম ভেঙে গেল। মনে হলো টেলিফোনের আওয়াজ এত কর্কশ ? আমি ঘুম থেকে উঠে সিঁড়ির কাছে দাঁড়ালাম। দেখি নিচে অ্যাম্বাসেডর সানাউল হক সাহেব ফোন ধরে দাঁড়িয়ে আছেন। আমাকে দেখে বললেন, ওয়াজেদের সঙ্গে কথা বলবেন। আমি তাঁকে ঘুম থেকে ডেকে তুললাম। অপর পারে জার্মানির অ্যাম্বাসেডর হুমায়ুন রশিদ সাহেব কথা বলছেন। তিনি জানালেন বাংলাদেশে ক্যু হয়েছে। আমার মুখ থেকে বের হল : “তাহলে তো আমাদের আর কেউ বেঁচে নাই”। রেহানা পাশে ছিল। তাঁকে জড়িয়ে ধরলাম। কিন্তু তখনও জানি না কী ঘটনা ঘটেছে।
    মাত্র ১৫ দিন আগে জার্মানি এসেছি। বেলজিয়ামে বেড়াতে এসেছি। নেদারল্যান্ডেও গিয়েছিলাম। আব্বা বলেছিলেন, নেদারল্যান্ড কীভাবে সাগর থেকে ভূমি উত্তোলন করে – পারলে একবার দেখে এসো।” একদিন আগেই আব্বা-মার সঙ্গে কথা হয়েছে। কেন জানি মা খুব কাঁদছিলেন। বললেন “তোর সাথে আমার অনেক কথা আছে, তুই আসলে আমি বলবো।” আমাদের খুব খারাপ লাগছিল। মনে হচ্ছিল তখনই দেশে ছুটে চলে যাই।
    আব্বা বললেন : রোমানিয়া ও বুলগেরিয়াতে তিনি যাবেন। আর ফেরার পথে আমাদের নিয়ে আসবেন।

    কিন্তু আমাদের আর দেশে ফেরা হলো না। একদিন পরই সব শেষ। বেলজিয়ামের বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত সানাউল হক, যিনি রাজনৈতিক সদিচ্ছায় অ্যাম্বাসেডর পদে নিয়োগ পেয়েছিলেন, রাতারাতি তার চেহারাটাই পাল্টে গেল। তিনি জার্মানিতে নিয়োজিত রাষ্ট্রদূত হুমায়ূন রশিদ সাহেবকে বলেন, যে বিপদ আমার কাঁধে পাঠিয়েছেন তাঁদের ফেরত নেন।
    যিনি আগের রাতে আমাদের জন্য ‘ক্যান্ডেল লাইট ডিনার’ এর আয়োজন করেছিলেন ; কত খাতির, আদর-যত্ন, আর এখন আমরা তার কাছে আপদ হয়ে গেলাম। আমাদের বর্ডার পর্যন্ত পৌঁছে দেওয়ার জন্য গাড়িটাও দিলেন না। বেলজিয়াম অ্যাম্বাসিতে কর্মরত আমার স্কুলের বান্ধবী নমি’র স্বামী জাহাঙ্গীর সাদাতের গাড়িতে করে আমদের বেলজিয়াম বর্ডারে যেতে বললেন। জাহাঙ্গীর সাদাত আমাদের জার্মানির বর্ডারে পৌঁছে দিলেন। সেখান থেকে পায়ে হেঁটে নোম্যান্স ল্যান্ড পার হয়ে আমরা জার্মানির মাটিতে পৌঁছলাম। জার্মানির অ্যাম্বাসেডর হুমায়ুন রশিদ সাহেব গাড়ি পাঠিয়েছেন। আর তাঁর স্ত্রী আমার বাচ্চাদের জন্য শুকনো খাবার-দাবারও গাড়িতে দিয়েছিলেন। তাঁদের কাছে কয়েকদিন আশ্রয় পেলাম। তাঁদের আদর যত্ন দুঃসময়ে আমাদের জন্য অনেক মূল্যবান। আমরা কোনদিন ভুলতে পারবো না হুমায়ুন রশীদ ও তাঁর স্ত্রীর অবদান। জার্মান অ্যাম্বাসির সকল অফিসার ও কর্মচারি আমাদের অত্যন্ত যত্ন করেছিলেন। অ্যাম্বাসির গাড়িতে আমাদের কার্লস রুয়ে পৌঁছে দিলেন। জার্মান সরকার, যগোস্লাভিয়ার প্রেসিডেন্ট মার্শাল টিটো, ভারতের প্রধানমন্ত্রী ইন্দিরা গান্ধীসহ আরও অনেকে আমাদের রাজনৈতিক আশ্রয় দিতে চাইলেন। জার্মানিতে নিযুক্ত ভারতের অ্যাম্বাসেডর জনাব হুমায়ুন রশিদ ও ডক্টর ওয়াজেদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করলেন। তিনি আমাদের ভারতে যাওয়ার সব ব্যবস্থা করে দেন। আমরা জার্মানি থেকে ভারতে পৌঁছালাম।

    উপসংহার
    ১৯৭৫ সালের ১৫ই আগস্টের রক্তাক্ত বেদনার আঘাত বুকে ধারণ করে আমার পথচলা। বাবা মা ভাইদের হারিয়ে ৬ বছর পর ১৯৮১ সালের ১৭ই মে দেশে ফিরে আসতে পেরেছি। একটি প্রতিজ্ঞা নিয়ে এসেছি, যে বাংলাদেশ আমার বাবা স্বাধীন করে দিয়ে গেছেন, তা ব্যর্থ হতে পারে না। লাখো শহিদের রক্ত আর আমার বাবা-মা ভাইদের রক্ত ব্যর্থ হতে আমি দেব না।

    আমার চলার পথ খুব সহজ ছিল না, বারবার আমার উপর আঘাত এসেছে। মিথ্যা অপপ্রচার, গুলি, বোমা ও গ্রেনেড হামলার শিকার হতে হয়েছে আমাকে। খুনি জিয়াউর রহমানের স্ত্রী খালেদা জিয়া বিভিন্ন সময় বলেছিল, “শত বছরেও আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় যেতে পারবে না।” “শেখ হাসিনা, প্রধানমন্ত্রী তো দূরের কথা বিরোধী দলের নেতাও কখনও হতে পারবে না।” এর পরেই তো সেই ভয়াবহ ২০০৪ সালের ২১-এ আগস্টের গ্রেনেড হামলা। আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা মানবঢাল রচনা করে সেদিন আমাকে রক্ষা করেছিলেন। উপরে আল্লাহ, আওয়ামী লীগের নেতাকর্মী আর বাংলাদেশের জনগণই আমার শক্তি। আমার চলার কন্টকাকীর্ণ পথে এরাই আমাকে সাহায্য করে চলেছেন। তাই আজকের বাংলাদেশ ঘুরে দাঁড়িয়েছে।
    ২০০৯ সাল থেকে ২০২৩ সাল পর্যন্ত জনগণের নির্বাচিত গণতান্ত্রিক সরকার ক্ষমতায় আছে বলেই আজকের বাংলাদেশ উন্নয়নশীল দেশের মর্যাদা পেয়েছে। বাংলাদেশের জনগণকে ক্ষুধার হাত থেকে মুক্তি দিতে পেরেছি। তারা এখন উন্নত জীবনের স্বপ্ন দেখতে শুরু করেছে। আত্মবিশ্বাস ফিরে পেয়েছে।
    বাবা! তুমি যেখানেই থাক না কেন, তোমার আশীর্বাদের হাত আমার মাথার উপর আছে – আমি তা অনুভব করতে পারি। তোমার স্বপ্ন বাংলাদেশের জনগণের অন্ন, বস্ত্র, বাসস্থান, চিকিৎসা, শিক্ষার ব্যবস্থা করে সোনার বাংলাদেশ গড়ে তুলবো। তোমার দেশের মানুষ তোমার গভীর ভালোবাসা পেয়েছে আর এই ভালোবাসার শক্তিই হচ্ছে এগিয়ে যাবার প্রেরণা।
    (বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী এবং জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জ্যেষ্ঠ কন্যা)

    সূত্র : বাসস

  • সয়াবিন তেলের দাম লিটারে কমেছে ৫ টাকা

    সয়াবিন তেলের দাম লিটারে কমেছে ৫ টাকা

    www.HelloBangla.News – অর্থনীতি – ১৪ আগস্ট, ২০২৩ : বাংলাদেশ ভেজিটেবল অয়েল রিফাইনার্স অ্যান্ড বনষ্পতি ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যাসোসিয়েশন গতকাল রবিবার এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে সয়াবিন তেলের দাম কমানোর সিদ্ধান্ত জানায়।

    উক্ত বিজ্ঞপ্তি অনুসারে দেশের বাজারে সয়াবিন তেলের দাম লিটার প্রতি ৫ টাকা কমেছে। এতে করে বোতলজাত এক লিটার সয়াবিন তেলের দাম হবে ১৭৪ টাকা। বর্তমানে প্রতি লিটার ১৭৯ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

    এ ছাড়া খোলা সয়াবিনের নতুন দর হবে ১৫৪ টাকা লিটার। বর্তমানে খোলা সয়াবিন তেল বিক্রি হচ্ছে ১৫৯ টাকায়।

    সূত্র : বাসস

  • ডিম আমদানির অনুমতি দেয়া হবে: বাণিজ্যমন্ত্রী

    ডিম আমদানির অনুমতি দেয়া হবে: বাণিজ্যমন্ত্রী

    www.HelloBangla.News – অর্থনীতি – ১৩ আগস্ট, ২০২৩ : বাজারে ডিমের দাম প্রতিদিন বাড়ছে। এই পেক্ষিতে বাণিজ্যমন্ত্রী টিপু মুনশি জানিয়েছেন ডিমের দাম নিয়ন্ত্রণে না আসলে মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়রে সাথে সমন্বয় করে ডিম আমদানির অনুমতি দেয়া হবে ।
    আজ রবিবার রাজধানীর মোহাম্মদপুর টাউন হলে ট্রেডিং কর্পোরেশন অব বাংলাদেশ (টিসিবি) আয়োজিত দেশব্যাপী এক কোটি ‘ফ্যামিলি কার্ডধারী‘ নিম্ন আয়ের পরিবারের মাঝে আগস্ট মাসের চালসহ টিসিবির পণ্য সাশ্রয়ী মূল্যে বিক্রয় কার্যক্রমের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্য শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি একথা বলেন।
    বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, বাজারে ডিমের দাম কত হবে তা মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয় নির্ধারণ করে দিলে আমাদের জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের মাধ্যমে অভিযান চালিয়ে নিয়ন্ত্রণ করা হবে। ডিমের বাজার হঠাৎ অস্থিতিশীল হওয়ায় ভোক্তা অধিকার রাতে দিনে রাজধানীর বিভিন্ন আড়তে অভিযান চালাচ্ছে এবং জরিমানা করছে।
    তিনি আরও বলেন, বাণিজ্য মন্ত্রণালয় চাইলেই ডিম আমদানি করতে পারবে না। সেক্ষেত্রে মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের আমদানি অনুমতি লাগবে। তাদের সহযোগিতা ছাড়া ডিম আমদানি করার সুযোগ নেই। আমার আশা খুব শিগগিরই এ ব্যাপারে সিদ্ধান্ত আসবে। মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয় গ্রীন সিগন্যাল দিলেই ডিম আমদানির উদ্যোগ নেয়া হবে বলে জানান তিনি।
    সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের উত্তরে টিপু মুনশি জানান, আন্তর্জাতিক বাজার থেকে চিনি আমদানি করা ছাড়াও স্থানীয় বাজার থেকে ক্রয় করা হয়। কারণ, অনেক সময় চিনি দেশে এসে পৌঁছাতে দেরি হয়। আবার জাহাজ বন্দরে আসলে নানা জটিলতায় খালাসে সময় লাগে। এতে করে চাহিদা অনুযায়ী সরবরাহ করতে বেগ পেতে হয়। এ কারণে আন্তর্জাতিক বাজারের পাশাপাশি স্থানীয় বাজার থেকে চিনি ক্রয় করা হয়ে থাকে।
    ভারত থেকে কোটায় নিত্য প্রয়োজনীয় পণ্য আমদানির বিষয়ে জানতে চাইলে মন্ত্রী বলেন, চলতি মাসেই তিনি ভারত সফরে যাবেন এবং সে দেশের বাণিজ্যমন্ত্রীর সাথে বৈঠক করবেন তখন এই ব্যাপারে একটি সিদ্ধান্ত জানানো হবে।
    তিনি তাঁর বক্তব্যে আরও বলেন, টিসিবি এক কোটি ফ্যামিলি কার্ডের মাধ্যমে নিম্ন আয়ের পরিবারের মাঝে ডাল, চিনি এবং তেলের পাশাপাশি গতমাসে থেকে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নির্দেশে চাল দেয়া শুরু করেছে। গরীব মানুষ কষ্টে থাকুক শেখ হাসিনা এটা কখনো চান না।
    অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হেসেবে বক্তব্য রাখেন, বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব তপন কান্তি ঘোষ । এসময় অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন, এসময় টিসিবির চেয়ারম্যান ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মো. আরিফুল হাসান, ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনের ৩১ নং ওয়ার্ডের কাউন্সিলর আলহাজ্ব মোঃ শফিকুল ইসলাম ।
    সূত্র : বাসস

  • ১৫ আগস্ট ঘাতকরা চার বছরের শিশুকেও ছাড়েনি: প্রধানমন্ত্রী

    ১৫ আগস্ট ঘাতকরা চার বছরের শিশুকেও ছাড়েনি: প্রধানমন্ত্রী

    www.HelloBangla.News – জাতীয় – ১৩ আগস্ট, ২০২৩ : প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, কারবালার ঘটনায় নারী-শিশুদের হত্যা করা হয়নি, কিন্তু ১৫ আগস্ট ঘাতকরা আমার মা, আমার ভাইয়ের স্ত্রীদের ছাড়েনি। চার বছরের শিশুকেও ছাড়েনি।

    আজ রাবিবার (১৩ আগস্ট) দুপুরে বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে জাতীয় হিফজুল কোরআন প্রতিযোগিতার পুরস্কার ও সম্মাননা ক্রেস্ট বিতরণ অনুষ্ঠানে তিনি এ কথা বলেন।

    প্রধানমন্ত্রী বলেন, সেই রাতে আমি ও আমার ছোট বোন দেশের বাইরে ছিলাম। স্বজনহারা আর্তনাদ আর ঘর বাড়ি ছাড়া ছয়টি বছর আমাদের কাটাতে হয়েছে। ‘৮১ সালে আমরা দেশে ফিরে আসি। দেশে ফিরে আমি সেই চেনা মুখগুলো পাইনি। যারা আমাকে এয়ারপোর্টে পৌঁছে দিয়েছিল। আমি পেয়েছিলাম বনানীতে সারি সারি কবর। পেয়েছি বাংলাদেশের মানুষ। তাদের মাঝেই ফিরে পেয়েছি আমার বাবার ভালোবাসা, মায়ের স্নেহ।

    শেখ হাসিনা বলেন, আমি বাংলাদেশের মানুষের ভালোবাসা, আস্থা, বিশ্বাস পেয়েছি। যা আমাকে প্রেরণা যুগিয়েছে, শক্তি যুগিয়েছে, সাহস যুগিয়েছে। বারবার মৃত্যুকে সামনে থেকে দেখেছি। কিন্তু আমি কোনোদিন ভয় পাইনি। কেন যেন মনে হতো আল্লাহ আমাকে বাঁচিয়ে রেখেছেন, এ দেশের মানুষের জন্য কিছু করার জন্য। এ বিশ্বাস নিয়ে আমার পথ চলা।

    প্রধানমন্ত্রী আলেম-ওলামাদেরকে সকলের মাঝে ইসলামের প্রকৃত মর্মবাণী ছড়িয়ে দিতে বলেন, যাতে কেউ কাউকে জঙ্গিবাদ ও সন্ত্রাসবাদের পথে বিচ্যুত করতে না পারে এবং ইসলামের বদনাম করতে না পারে। কেননা ইসলাম পৃথিবীর সর্বশ্রেষ্ঠ ধর্ম এবং সর্বদা শান্তির কথা বলে।

    প্রধানমন্ত্রী বলেন, যারা জঙ্গিবাদী সন্ত্রাসী, তারা সন্ত্রাসী। তারা কোন ধর্ম, দেশ বা জাতি গোষ্ঠীর নয়। তাই সকলের কাছে আমার অনুরোধ থাকবে, আমাদের ধর্মের মান ইজ্জতটা রক্ষা করবেন। কেউ যেন এই বিপথে না যায়। সন্তানের নিয়মিত স্কুল-কলেজ- বিশ্ববিদ্যালয়ে উপস্থিতির বিষয়টা এবং কার সঙ্গে মিশছে সে বিষয়টা আপনাদের লক্ষ্য রাখতে হবে।

    তিনি বলেন, পৃথিবীর সর্বশ্রেষ্ঠ ধর্ম ইসলাম, সেই ধর্মের সঙ্গে সামান্য মুষ্টিমেয় কয়েকজনের জন্য কেন সন্ত্রাসী নামটা যুক্ত হবে? সত্যিকারের যারা ধর্মে বিশ্বাসী তাদের জন্য এটা খুব কষ্টদায়ক। কাজেই আপনাদের কাছে আমার অনুরোধ, এই সমস্ত কুসংস্কার, জঙ্গিবাদ ও সন্ত্রাস নির্মূলের ক্ষেত্রে আমি আপনাদের সহযোগিতা চাই। আপনাদের দোয়া চাই এবং আমাদের ছেলে মেয়েরা যেন বিপথে না যায় সেজন্য আপনাদের সহযোগিতা চাই।

    আওয়ামী লীগ সবসময় ইসলামের উন্নয়নের কাজ করে জানিয়ে তিনি বলেন, ’৯৬ সালে যখন আমরা প্রথম ক্ষমতায় আসি তখনই বায়তুল মোকাররমের একটি মিনার ও মসজিদের উন্নয়নের কাজের পদক্ষেপ নিয়েছিলাম। সে কাজও শুরু করেছিলাম। দুর্ভাগ্যের বিষয় ২০০১ সালে আওয়ামী লীগ সরকারে আসতে পারেনি। এসেছিল খালেদা জিয়া। তার সঙ্গে ছিল জামায়াত। খালেদা জিয়া এসেই মসজিদ নির্মাণ কাজ বন্ধ করে দেয়। শুধু বায়তুল মোকাররম নয়, ঢাকা ক্যান্টনমেন্টেও বড় একটি মসজিদের কাজে হাত দিয়েছিলাম, এটার কাজও বন্ধ করে দেয়। তারপর সরকারে আসার পর সেই বায়তুল মোকাররমের অসমাপ্ত কাজ সম্পন্ন করি।

    প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, বাংলাদেশের মানুষ ভূমিহীন থাকবে না। প্রতিটা জেলা-উপজেলায় কেউ ভূমিহীন থাকবে না। সবার মাথা গোজার ঠাঁই করে দেওয়া হবে। ১৯৯৬ সাল থেকে আমরা সেই পরিকল্পনা শুরু করেছিলাম।

    অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন বাংলাদেশ দ্বীনি সেবা ফাউন্ডেশনের প্রধান পৃষ্ঠপোষক ও প্রধানমন্ত্রীর সাবেক মুখ্য সচিব মো. আবুল কালাম আজাদ। ধর্মবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের তত্ত্বাবধানে বাংলাদেশ দ্বীনি সেবা ফাউন্ডেশন আয়োজিত অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল, ধর্ম প্রতিমন্ত্রী ফরিদুল হক খান।

    সূত্র : বাসস

  • রাশিয়া বন্যা কবলিত এলাকা থেকে দুই হাজার মানুষকে সরিয়ে নিয়েছে

    রাশিয়া বন্যা কবলিত এলাকা থেকে দুই হাজার মানুষকে সরিয়ে নিয়েছে

    www.HelloBangla.News – আন্তর্জাতিক – ১৩ আগস্ট, ২০২৩ : রাশিয়া বন্যা কবলিত এলাকা থেকে ২,০০০ জনেরও বেশি মানুষকে সরিয়ে নিয়েছে। দেশটির দূর-পূর্বাঞ্চলে এই বন্যা ও নদীভাঙ্গন দেখা দিয়েছে।

    ক্রান্তীয় ঝড় খানুন এর প্রভাবে এ অঞ্চলে ভারী বৃষ্টিপাতের পর এই লোকদের সরিয়ে নেয়া হয় বলে জানিয়েছে জরুরি কর্মকর্তারা ।

    আজ রবিবার রাশিয়ার জরুরি পরিস্থিতি মন্ত্রণালয় টেলিগ্রামে বলেছে, রাশিয়ার দূর ‘প্রিমোরি (অঞ্চল) থেকে ৪০৫ শিশুসহ দুই হাজার জনেরও বেশি মানুষকে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে।’

    মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, চীন ও উত্তর কোরিয়ার সীমান্তবর্তী ‘প্রিমোরি অঞ্চলের প্রায় ৫,০০০ ভবন প্লাবিত হয়েছে। উদ্ধারকারীরা এই অঞ্চলে ১৩টি অস্থায়ী আবাসন কেন্দ্র স্থাপন করেছে।

    তাস নিউজ এজেন্সি জানায়, উসুরিয়স্ক শহরে বন্যা এক দশকের মধ্যে সবচেয়ে ভয়াবহ ছিল।
    এর আগে জাপানে আঘাত হানে খানুন । তারপর এই সপ্তাহের শুরুতে কোরীয় উপদ্বীপের দিকে বৃত্তাকার পথ নেয় জড়টি ।

    এই ঝড়ের কারণে দক্ষিণ কোরিয়াতে তাদের জাম্বোরি ক্যাম্প সাইট থেকে কয়েক হাজার স্কাউটকে সরিয়ে নিতে বাধ্য করেছে।

    সূত্র : বাসস

  • বাংলাদেশের ক্রিকেটাররা এখন জিপিএস প্রযুক্তির যুগে

    বাংলাদেশের ক্রিকেটাররা এখন জিপিএস প্রযুক্তির যুগে

    www.HelloBangla.News – খেলাধুলা – ১৩ আগস্ট, ২০২৩ : জিপিএস (গ্লোবাল পজিশনিং সিস্টেম) হচ্ছে ক্রিকেট খেলোয়াড়দের শারীরিক দক্ষতার তথ্য প্রদানকারী একটি আধুনিক প্রযুক্তি। বিশ্বে অন্যান্য দেশে এই প্রযুক্তির ব্যবহার অনেক আগে শুরু হলেও বাংলাদেশ সদ্য এই জিপিএস প্রযুক্তির যুগে প্রবেশ করলো। গতকাল শনিবার মিরপুর শেরে বাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে দলের অনুশীলন সেশনে প্রথমবারের মতো জিপিএস প্রযুক্তি ব্যবহার করা হয়।

    এই প্রযুক্তি থেকে ক্রিকেটারদের ফিটনেসের সব ধরনের তথ্য পাওয়া যাবে। একজন ক্রিকেটার অনুশীলনের সময় কতটা দৌঁড়াচ্ছেন, তার হৃদস্পন্দনের গতি কত ছিলো, কতটুকু হেঁটেছেন, সব তথ্য জিপিএস প্রযুক্তির মাধ্যমে ড্রেসিং রুমে থাকা ল্যাপটপে স্থানান্তরিত হবে।

    ক্রিকেট অপারেশন্স কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, এই সিস্টেমে প্রত্যেক খেলোয়াড়ের জন্য ভিন্ন ‘অ্যাকাউন্ট’ থাকবে। এটির মাধ্যমে সকল কোচ এবং খেলোয়াড়রা খুব সহজেই সব তথ্য পেয়ে যাবে। একজন খেলোয়াড় ম্যাচ খেলার জন্য ফিট কিনা, সেটি তার নামের পাশে সবুজ-হলুদ বা লাল চিহ্ন দ্বারা বুঝা যাবে। সবুজ মানে ফিট, লাল মানে ফিট নয় এবং হলুদ মানে তার ফিটনেস নিয়ে সন্দেহ আছে।

    শনিবার সকালে এশিয়া কাপের স্কোয়াড ঘোষণা হয়ে যাওয়ার পর দুপুরে মিরপুর শেরে বাংলা স্টেডিয়ামের মূল মাঠে ম্যাচ আবহে অনুশীলন শুরু করেন দলের ক্রিকেটাররা। অনুশীলন চলাকালে সেসময় দুই পেসার তাসকিন-হাসানের গায়ে দেখা যায় অস্ট্রেলিয়া থেকে আনা ক্যাটাপল্ট কোম্পানির কালো রঙের জিপিএস ভেস্ট। অনুশীলন জার্সির ওপরে এটি পড়েছিলেন তারা, যা তাদের কাঁধ থেকে বুকের নিচ পর্যন্ত বিস্তৃত ছিল। মাঠে একজন টেকনিশিয়ানও ছিলেন। তার কাজ ছিল জিপিএসের ব্যবহার বুঝিয়ে দেওয়া।

    গত জানুয়ারিতে অস্ট্রেলিয়ান ডেভিড মুরকে হেড অব প্রোগ্রাম হিসেবে নিয়োগ দেয় বিসিবি। দায়িত্ব নেওয়ার পর তিনি বাংলাদেশের ক্রিকেটে জিপিএস চালু করার ইচ্ছার কথা জানিয়েছিলেন। তার পরামর্শ মেনে ক্রিকেটারদের ফিটনেসের পূর্ণ চিত্র পেতে ও মানোন্নয়নের জন্য এবার এই আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার শুরু হয়েছে। ভারত-অস্ট্রেলিয়ার মতো ক্রিকেট পরাশক্তিরা বেশ কয়েক বছর ধরে জিপিএস ব্যবহার করছে।

    বাংলাদেশে এই প্রযুক্তিটি নতুন হলেও আন্তর্জাতিক দল এবং খেলোয়াড়রা এই বিশেষ জিপিএস ভেস্ট ব্যবহার করে থাকে।

    সূত্র : বাসস

  • বিএনপি দেশকে ধ্বংস করতে তৎপর : প্রধানমন্ত্রী

    বিএনপি দেশকে ধ্বংস করতে তৎপর : প্রধানমন্ত্রী

    www.HelloBangla.News – জাতীয় – ১৩ আগস্ট, ২০২৩ : বিএনপি দেশকে ধ্বংস করতে তৎপর বলে জানিয়েছেন, প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা ।
    তিনি বলেন, ‘খুনী, সন্ত্রাসী, জঙ্গি, গ্রেনেড হামলাকারী, দশ ট্রাক আগ্নেয়াস্ত্র চোরাকারবারিদের বিরুদ্ধে সতর্ক থাকুন, যেহেতু বিএনপি দেশকে ধ্বংস করার তৎপরতা চালাচ্ছে।’
    প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, ‘বিএনপি দেশের গণতন্ত্র ধ্বংস করতে নেমেছে।’
    প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা গতকাল শনিবার সন্ধ্যায় গণভবনে আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী কমিটির সভায় সভাপতিত্বকালে দেয়া সূচনা বক্তব্যে এ কথা বলেন।
    শেখ হাসিনা বলেন, বুদ্ধিজীবী হত্যাকারী, যুদ্ধাপরাধী, ধর্ষক ও লুটেরাদের বিরুদ্ধে দেশবাসীকে সজাগ থাকতে হবে।
    প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘তারা দাবি করে, তাদের আন্তর্জাতিক শক্তি আছে। আমরা জানতে চাই কোন শক্তি তাদের পাশে আছে? লুটেরাদের সাথে কেউ থাকবে না।’
    আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের সভাটি সঞ্চালনা করেন।
    আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য ও সংসদ উপনেতা বেগম মতিয়া চৌধুরী এমপি, ইঞ্জিনিয়ার মোশাররফ হোসেন এমপি, শেখ ফজলুল করিম সেলিম এমপি ও কাজী জাফরউল্লাহ মঞ্চে উপস্থিত ছিলেন।
    বিএনপির ১৯৯১-’৯৬ এবং ২০০১-’০৬ এর শাসনামলকে ‘অন্ধকার যুগ’ আখ্যায়িত করে শেখ হাসিনা দেশবাসীকে সতর্ক করে দিয়ে বলেন, তারা ক্ষমতায় এলে দেশ আবার অন্ধকারের যুগে ফিরে যাবে।
    তিনি বলেন, বিএনপি ক্ষমতায় এলে দেশ পেছনের দিকে ধাবিত হয়।
    তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে নির্বাচনের দাবিতে আন্দোলনরত বিএনপি’র তীব্র সমালোচনা করে শেখ হাসিনা বলেন, ‘বিএনপি কিভাবে নির্বাচন নিয়ে কথা বলে যেখানে ভোট কারচুপির জন্য তারা সরকার থেকে উৎখাত হয়েছিল।’
    প্রধানমন্ত্রী বলেন, ১৯৯৬ সালের ১৫ ফেব্রুয়ারি প্রহসনমূলক নির্বাচনের মাধ্যমে ক্ষমতায় আসার পর ১৯৯৬ সালের ৩০ মে সরকার থেকে পদত্যাগ করতে বাধ্য হয়েছিল বিএনপি।
    তিনি বলেন, তাঁর দল দেশের গণতন্ত্রকে রক্ষা করেছে এবং ক্ষমতায় আসতে তাদের ভোট কারচুপির প্রয়োজন নেই।
    শেখ হাসিনা বলেন, ‘আওয়ামী লীগ দেশ ও জনগণের কল্যাণে কাজ করে এবং এভাবেই দেশবাসীর মন জয় করে। ক্ষমতায় যাওয়ার জন্য ভোটে কারচুপির প্রয়োজন হয় না।’
    প্রধানমন্ত্রী ২০২৬ সাল নাগাদ দেশের উন্নয়নশীল দেশের মর্যাদা নিশ্চিত করতে আওয়ামী লীগকে ভোট দেয়ার আহ্বান পুনর্ব্যক্ত করেন।
    সূত্র : বাসস

  • রান্না-আস্ত রসুনে গরুর মাংস

    রান্না-আস্ত রসুনে গরুর মাংস

    www.HelloBangla.News – লাইফস্টাইল – ১৩ আগস্ট, ২০২৩ : আস্ত রসুন রান্নার জন্য একটি স্বাস্থ্যকর মসলা। গরুর মাংসের সঙ্গে আস্ত রসুন রান্না করলে যেম খেতে মজা তেমনি স্বাস্থ্যসম্মত । আজ দেওয়া হলো এই খাবারের রেসিপি।

    উপকরণ:
    ১. গরুর মাংস ১ কেজি, ২. আস্ত মাঝারি আকারের রসুন ৬/৭টি, ৩. পেঁয়াজ বাটা আধা কাপ, ৪. আদা বাটা ১ টেবিল চামচ, ৫. সাদা এলাচ ৫-৬টি, ৬. কালো এলাচ ২টি, ৭. দারুচিনি ৫-৬ টুকরো, ৮. তেল ১ কাপ ৯. জিরার গুঁড়া আধা টেবিল চামচ, ১০. মরিচের গুঁড়া ১ টেবিল চামচ, ১১. লবণ স্বাদমতো, ১২. হলুদ আধা টেবিল চামচ, ১৩. কাঁচা মরিচ ৬-৭টি।

    রান্না-আস্ত রসুনে গরুর মাংস - লাইফস্টাইল - ১৩ আগস্ট ২০২৩ (খ)
    রান্না-আস্ত রসুনে গরুর মাংস – লাইফস্টাইল – ১৩ আগস্ট ২০২৩ (খ)

    প্রণালি :
    প্রথমে মাংস ভালো করে ধুয়ে পানি ঝড়িয়ে নিন। এর পর একটি গভীর প্যানে মাংস নিন। এবার রসুন ছাড়া বাকি সব উপকরণ মাংসের সঙ্গে মাখিয়ে নিন। এর পর ৪ কাপ গরম পানি মিশিয়ে দিন মাংসে।
    প্যানের ঢাকনা দিয়ে ঢেকে চুলায় মাঝারি আঁচে রান্না করুন মাংস। মাঝে মাঝে ঢাকনা উঠিয়ে নেড়ে দিতে হবে। মাংস অর্ধেক সেদ্ধ হলে আস্ত রসুন দিয়ে দিন।

    অবশ্যই রসুন আগে থেকে ধুয়ে নিতে হবে। আবারও কিছুক্ষণ ঢেকে রান্না করুন। মাংস পুরো সেদ্ধ হলে নামানোর ২ মিনিট আগে ৬-৭টি কাঁচা মরিচ ছড়িয়ে দিন। ব্যাস, তৈরি হয়ে গেলো মজাদার আস্ত রসুনে গরুর মাংস রান্না। নামিয়ে গরম-গরম পরিবেশন করুন রুটি, পরোটা, খিঁচুড়ি, ভাত বা পোলাওয়ের সঙ্গে।

    রেসিপি দিয়েছেন : শামিমা ইসলাম মুন্নি

  • সুনামগঞ্জে হাওর সাংস্কৃতিক সমীক্ষার উদ্বোধন

    সুনামগঞ্জে হাওর সাংস্কৃতিক সমীক্ষার উদ্বোধন

    www.HelloBangla.News – বিনোদন – ১৩ আগস্ট, ২০২৩ : সুনামগঞ্জ জেলা শিল্পকলা একাডেমিতে, গতকাল শনিবার হাওর সাংস্কৃতিক উৎসব আয়োজনের লক্ষ্যে হাওড় অঞ্চলের সাংস্কৃতিক সমীক্ষার কর্মসূচিটি শুরু হয়েছে। লুপ্তপ্রায় সাংস্কৃতিক উপাদান সংগ্রহ ও সংরক্ষণ কর্মসূচির উদ্বোধন করেন বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির মহাপরিচালক জনাব লিয়াকত আলী লাকী।

    অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন জেলার স্থানীয় সরকার বিভাগের উপপরিচালক কবি জাকির জাফরান। স্বাগত বক্তব্য রাখেন কর্মসূচি সমন্বয়কারী কবি সৌম্য সালেক এবং শুভেচ্ছা বক্তব্য রাখেন গবেষক সৈয়দা আঁখি হক। সঞ্চালনা করেন জেলা কালচারাল অফিসার আহমেদ মঞ্জুরুল হক চৌধুরী পাভেল।

    অনুষ্ঠান শেষে জেলার শিল্পীরা হাওর অঞ্চলের ঐতিহ্যবাহী সাংস্কৃতিক পরিবেশনা উপস্থাপনা করেন। তার আগে অতিথিবৃন্দ বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমি থেকে প্রকাশিত ‘হাওর : জীবন ও সংস্কৃতি’ শীর্ষক প্রকাশনার মোড়ক উন্মোচন করেন। এ সময় অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন তিনশতাধিক শিল্পী ও সংস্কৃতিজন।
    জেলা শিল্পকলা একাডেমি মিলনায়তনে সাংস্কৃতিক উপাদান সংগ্রহ কার্যক্রম চলবে আজ ১৩ আগস্ট সন্ধ্যা পর্যন্ত।

    উদ্বোধনী পর্ব শেষে মহাপরিচালক জনাব লিয়াকত আলী লাকীর পরিচালনায় শতাধিক শিশুশিল্পীকে নিয়ে অনুষ্ঠিত হয় প্রশিক্ষণ কর্মশালা। হাওরের ছয়টি জেলায় সাংস্কৃতিক সমীক্ষা কার্যক্রম শেষে আগামী নভেম্বর মাসে অনুষ্ঠিত হবে হাওর সাংস্কৃতিক উৎসব ২০২৩।