Author: Hello Bangla News

  • রান্না-কাঁচাগোল্লা

    রান্না-কাঁচাগোল্লা

    www.HelloBangla.News – লাইফস্টাইল – ১৬ আগস্ট, ২০২৩ : মিষ্টি জাতিয় খাবারগুলোর মধ্যে অন্যতম কাঁচাগোল্লা। সাধারণত কাঁচাগোল্লা তৈরির ক্ষেত্রে দুধের ছানা খুব একটা রান্নার পদ্ধতিতে ফেলতে হয়না। তাই একে কাঁচাগোল্লা বলা হয়। আজ দেওয়া হয়েছে এই মজার খাবারের রেসিপি।

    উপকরণ:
    ১ কেজি দুধের–ছানা, চিনি-২ টেবিল চামচ, কনডেন্স মিল্ক-২ টেবিল চামচ, গুড়া দুধ-২ টেবিল চামচ, বাদাম-জাফরান (সাজানোর জন্য), গুড়া দুধ- ১/২ কাপ (কোটিং জন্য), ঘি-১ চা চামচ

    রান্না-কাঁচাগোল্লা – লাইফস্টাইল – ১৬ আগস্ট ২০২৩ (খ)

    প্রস্তুত প্রণালী:
    প্রথমে ছানা কে দুই ভাগ করে নিতে হবে। অর্ধেকের চেয়ে বেশি (২ অংশ) সাথে চিনি, কনডেন্স মিল্ক, গুড়া দুধ, ঘি দিয়ে অল্প আচে চুলায় বসিয়ে দিতে হবে। এবার চিনি গলে যাওয়া পযন্ত জ্বাল করতে হবে। এবার গরম গরম ছানা কে নিয়ে কাঁচা ছানার সাথে মথে ভালো করে এটি মিষ্টির আকৃতি দিয়ে তা গুড়া দুধে গড়িয়ে নিতে হবে। তৈরি হবে সবার প্রিয় কাঁচাগোল্লা।

    রেসিপি দিয়েছেন : মরিয়ম নিপা

  • রাশিয়ায় পেট্রোল পাম্পে বিস্ফোরণে ৩৩ জন নিহত

    রাশিয়ায় পেট্রোল পাম্পে বিস্ফোরণে ৩৩ জন নিহত

    www.HelloBangla.News – আন্তর্জাতিক – ১৫ – আগস্ট, ২০২৩ : রাশিয়ার একটি পেট্রোল পাম্পে বিস্ফোরণ ও অগ্নিকাণ্ডে ৩ শিশুসহ কমপক্ষে ৩৩ জন নিহত এবং শতাধিক মানুষ আহত হয়েছে। দেশটির ককেশাস প্রজাতন্ত্রের দাগেস্তানে এই বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে। আজ মঙ্গলবার জরুরি পরিস্থিতি মন্ত্রণালয় এ কথা জানিয়েছে।

    মন্ত্রণালয় টেলিগ্রাম বার্তায় জানায়, এ মর্মান্তিক ঘটনায় দুর্ভাগ্যবশত ৩৩ জনের প্রাণহানি ঘটেছে এবং ১০২ জন আহত হয়েছে।

    দাগেস্তান বিষয়ক রাশিয়ান ফেডারেশনের তদন্ত কমিটি টেলিগ্রামে জানায়, মাখাচকালা শহরের একটি পেট্রোল পাম্পে আগুন ছড়িয়ে পড়ার পর বিস্ফোরণ ঘটে।

    কমিটি জানায়, ‘গাড়ি মেরামতের কাজ চলাকালে সেখানে আগুন ছড়িয়ে পড়ার পর বিস্ফোরণ ঘটে। এতে এসব মানুষ হতাহত হয়।

    তারা আরো জানায়, এ বিস্ফোরণের ঘটনায় পার্শ্ববর্তী বিভিন্ন ভবন এবং অনেক গাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয়।
    কমিটি জানায়, এ ব্যাপারে একটি ফৌজদারি মামলা দায়ের করা হয়েছে এবং অগ্নিকাণ্ডের কারণ জানতে তদন্ত কাজ শুরু হয়েছে।

    রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা ‘তাস’ এবং ‘রিয়া নভোস্তি’ মন্ত্রণালয়ের বরাত দিয়ে জানায়, আগুন নিয়ন্ত্রণে আনা হয়েছে।

    সূত্র : বাসস

  • বিএনপি-জামায়াতের নেতৃত্বে নাশকতার ছক আঁকা হয়েছে: তথ্যমন্ত্রী

    বিএনপি-জামায়াতের নেতৃত্বে নাশকতার ছক আঁকা হয়েছে: তথ্যমন্ত্রী

    www.HelloBangla.News – জাতীয় – ১৫ – আগস্ট, ২০২৩ : তথ্যমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ড. হাছান মাহমুদ বলেছেন, বাঙালি জীবনের বেদনাবিধূর আগস্ট মাস ঘিরে সাঈদীর মৃত্যুকে কেন্দ্র করে বিএনপি-জামায়াতের নেতৃত্বে নাশকতার ছক আঁকা হয়েছে।

    তিনি বলেন, ‘গতকাল দেলোয়ার হোসেন সাঈদীর স্বাভাবিক মৃত্যু হয়েছে। সেটিকে কেন্দ্র করে বিএনপি-জামায়াত বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির অপচেষ্টা হচ্ছে গতরাত থেকে।’

    আজ ১৫ আগস্ট বিকেলে রাজধানীর কাকরাইলে তথ্য ভবনে জাতীয় শোক দিবস উপলক্ষে চলচ্চিত্র ও প্রকাশনা অধিদফতর (ডিএফপি) আয়োজিত আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তৃতায় তিনি এসব কথা বলেন।

    হাছান মাহমুদ বলেন, ‘১৫ আগস্ট বঙ্গবন্ধুকে হত্যা করা হয়েছে, ২১ আগস্ট বঙ্গবন্ধুকন্যা শেখ হাসিনাকে হত্যা করার উদ্দেশ্যে গ্রেনেড হামলা পরিচালনা করা হয়েছে। ১৭ আগস্ট সারাদেশে পাঁচশ’ জায়গায় বোমা ফোটানো হয়েছে। ৬৪ জেলার মধ্যে ৬৩ জেলাতেই বোমা ফোটানো হয়েছে।’

    আগস্ট মাসকে বেদনাবিধূর মাস হিসেবে উল্লেখ করে তথ্যমন্ত্রী বলেন, ‘এই আগস্ট মাসেই সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ বাঙালি জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে হত্যা করা হয়েছে।বাঙালি জীবনের বেদনাবিধূর এই মাস এলেই বাঙালি বিরোধী, বাঙালিত্ব বিরোধী, আমাদের কৃষ্টি-সংস্কৃতি বিরোধী, দেশ বিরোধী অপশক্তি তৎপর হয়। সে জন্য আমাদের সবার সতর্ক দৃষ্টি রাখা প্রয়োজন। আমাদের দেশকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়া প্রয়োজন। আর দেশকে এগিয়ে নিতে হলে সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে।

    ডিএফপি’র মহাপরিচালক স. ম. গোলাম কিবরিয়ার সভাপতিত্বে বাংলাদেশ টেলিভিশনের মহাপরিচালক ড. মো. জাহাঙ্গীর আলম এবং প্রধান তথ্য অফিসার মো. শাহেনুর মিয়া সভায় বক্তব্য রাখেন।

    এদিকে আজ সকালে তথ্য ও সম্প্রচার সচিব মো. হুমায়ুন কবীর খোন্দকারের নেতৃত্বে মন্ত্রণালয় ও সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলোর কর্মকর্তারা ধানমন্ডি ৩২ নম্বরে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের প্রতিকৃতিতে পুষ্পস্তবক অর্পণের মাধ্যমে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন।

    সূত্র : বাসস

  • টুঙ্গিপাড়ায় বঙ্গবন্ধুর সমাধিতে প্রধানমন্ত্রীর শ্রদ্ধা নিবেদন

    টুঙ্গিপাড়ায় বঙ্গবন্ধুর সমাধিতে প্রধানমন্ত্রীর শ্রদ্ধা নিবেদন

    www.HelloBangla.News – জাতীয় – ১৫ – আগস্ট, ২০২৩ : জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ৪৮তম শাহাদাৎ বার্ষিকী ও জাতীয় শোক দিবসে আজ টুঙ্গিপাড়ায় বঙ্গবন্ধুর সমাধিতে পুষ্পস্তবক অর্পণের মাধ্যমে গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ।

    পুষ্পস্তবক অর্পণের পর প্রধানমন্ত্রী স্বাধীনতার মহান স্থপতির স্মৃতির প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানিয়ে কিছুক্ষণ নীরবে দাঁড়িয়ে থাকেন।বঙ্গবন্ধু ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্টের ভয়াল রাতে কিছু বিপথগামী সেনা সদস্যের হাতে নিহত হন।সেদিন জাতির পিতার পরিবারের অধিকাংশ সদস্য নিহত হয়ছিরেন ।

    বাংলাদেশ সশস্ত্র বাহিনীর একটি সুসজ্জিত চৌকস দল সে সময় রাষ্ট্রীয় সালাম প্রদান করে এবং বিউগলে করুণ সুর বাজানো হয়।

    ছোট বোন শেখ রেহানা ও তাঁর পরিবারের সদস্যদের সাথে নিয়ে প্রধানমন্ত্রী এরপর জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান, বঙ্গমাতা বেগম ফজিলাতুন নেছা মুজিব এবং ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্টের হত্যাযঞ্জের শিকার অন্যান্য শহীদদের বিদেহী আত্মার শান্তি কামনা করে ফাতেহা পাঠ ও মোনাজাত করেন।

    জাতীয় সংসদের স্পিকার, মন্ত্রিসভার সদস্যগণ, তিন বাহিনীর প্রধানগণ, পুলিশ মহা পরিদর্শক এ সময় উপস্থিত ছিলেন।
    এছাড়া দেশের অব্যাহত শান্তি, অগ্রগতি ও সমৃদ্ধি কামনা করে মোনাজাত করা হয়।

    আওয়ামী লীগের জ্যেষ্ঠ নেতাদের নিয়ে প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা পরে দলের পক্ষ থেকে বঙ্গবন্ধুর সমাধিতে আর একটি পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন।
    আওয়ামী লীগের বিভিন্ন অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের নেতৃবৃন্দও সমাধিতে পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন।

    প্রধানমন্ত্রী জাতীয় শোক দিবস উপলক্ষে সমাধিসৌধ প্রাঙ্গণে মন্ত্রিসভার সদস্য, তাঁর উপদেষ্টাগণ এবং দলীয় নেতা-কর্মীদের সঙ্গে নিয়ে মিলাদ ও দোয়া মাহফিলে যোগ দেন।

    জাতীয় সংসদের স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরী ও বঙ্গবন্ধুর সমাধিতে পুষ্পস্তবক অর্পণ করে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন।
    এরআগে, জাতীয় কর্মসূচির অংশ হিসেবে ঢাকার ধানমন্ডি ৩২ নম্বরে জাতির পিতার প্রতিকৃতিতে পুষ্পস্তবক অর্পণের পর আজ সকাল ১১টা ৩৫ মিনিটে হেলিকপ্টারযোগে বঙ্গবন্ধুর পৈতৃক নিবাস টুঙ্গিপাড়ায় পৌঁছান শেখ হাসিনা।

    প্রধানমন্ত্রী ঢাকার বনানী কবরস্থানে ১৫ আগস্ট হত্যাকাণ্ডের শহীদদের কবরেও পুষ্পার্ঘ্য অর্পণ করে ফুলের পাপড়ি ছিটিয়ে দেন। তিনি ফাতেহা পাঠ করেন ও মোনাজাতে যোগ দেন।

    সূত্র : বাসস

  • জাতীয় শোক দিবসে বঙ্গভবনে রাষ্ট্রপতির মিলাদের আয়োজন

    জাতীয় শোক দিবসে বঙ্গভবনে রাষ্ট্রপতির মিলাদের আয়োজন

    www.HelloBangla.News – জাতীয় – ১৫ – আগস্ট, ২০২৩ : রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন জাতীয় শোক দিবস ও জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ৪৮তম শাহাদত বার্ষিকী উপলক্ষে এক আলোচনা সভা ও মিলাদ মাহফিলের আয়োজন করেন। আজ মঙ্গলবার বঙ্গভবনের দরবার হলে এর আয়োজন করা হয়।
    রাষ্ট্রপ্রধান দোয়া মাহফিলে যোগদানের আগে দরবার হলে আসরের নামাজ আদায় করেন ।
    আসরের নামাজের আগে এক সংক্ষিপ্ত আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। অনুষ্ঠানে রাষ্ট্রপতির সামরিক সচিব মেজর জেনারেল সালাহউদ্দিন ইসলাম, সচিব সম্পদ বড়–য়া, প্রেস সচিব মোঃ জয়নাল আবেদীন এবং সচিব (সংযুক্ত) মোঃ ওয়াহিদুল ইসলাম খান বক্তব্য রাখেন।
    আসর নামাজের পর মিলাদ ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়। দোয়া মাহফিল পরিচালনা করেন বঙ্গভবন জামে মসজিদের পেশ ইমাম মাওলানা মুহাম্মদ সাইফুল কাবির।
    ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্টের নির্মম রাতে শাহাদাত বরণকারী বঙ্গবন্ধু ও পরিবারের অন্যান্য সদস্যদের বিদেহী আত্মার মাগফেরাত কামনা করে বিশেষ মোনাজাত করা হয়। বাংলাদেশের পাশাপাশি বিশ্ব ও মুসলিম উম্মাহর শান্তি ও সমৃদ্ধি কামনা করে দোয়া করা হয়।
    মিলাদ মাহফিল ও মোনাজাতে রাষ্ট্রপতির পরিবারের সদস্য, সংশ্লিষ্ট সচিবগণ, বেসামরিক ও সামরিক কর্মকর্তা ও রাষ্ট্রপতি ভবনের কর্মচারীরা অংশ নেন।
    সূত্র : বাসস

  • ১৫ আগস্টে জাতির পিতাকে বিনম্র শ্রদ্ধায় স্মরণ

    ১৫ আগস্টে জাতির পিতাকে বিনম্র শ্রদ্ধায় স্মরণ

    www.HelloBangla.News – জাতীয় – ১৫ – আগস্ট, ২০২৩ : আজ মঙ্গলবার জাতীয় শোক দিবন। রাজধানী ঢাকাসহ সারাদেশে পালিত হয়েছে স্বাধীনতার স্থপতি, মুক্তিযুদ্ধের সর্বাধিনায়ক, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ৪৮তম শাহাদত বার্ষিকী ও জাতীয় শোক দিবস। দেশজুড়ে নানা কর্মসূচিতে ছিল শোকের আবহ।

    শোক দিবসে বঙ্গবন্ধুর প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে আসা মানুষের মাঝে জোরালো দাবী ছিল গণতদন্ত কমিশন গঠন করার মাধ্যমে বঙ্গবন্ধুকে সপরিবারে হত্যার নেপথ্যে ষড়যন্ত্রকারী ও কুশীলবদের ধরে বিচারের কাঠগড়ায় দাঁড় করানো ।

    প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নের অসাম্প্রদায়িক গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ এবং ক্ষুধা-দারিদ্র্যমুক্ত সোনার বাংলা প্রতিষ্ঠার দৃঢ় অঙ্গীকার ছিল মানুষের কণ্ঠে।

    ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট ভোর রাতে সেনাবাহিনীর কিছুসংখ্যক বিপথগামী সদস্য ধানমন্ডির বাসভবনে বঙ্গবন্ধুকে সপরিবারে হত্যা করে। ঘাতকরা শুধু বঙ্গবন্ধুকেই হত্যা করেনি, তাদের হাতে একে একে প্রাণ হারিয়েছেন বঙ্গবন্ধুর সহধর্মিণী বঙ্গমাতা বেগম ফজিলাতুন্নেছা মুজিব, বঙ্গবন্ধুর সন্তান শেখ কামাল, শেখ জামাল ও শিশু শেখ রাসেলসহ পুত্রবধু সুলতানা কামাল ও রোজি জামাল।

    পৃথিবীর এই জঘন্যতম হত্যাকান্ড থেকে বাঁচতে পারেননি বঙ্গবন্ধুর অনুজ শেখ নাসের, ভগ্নিপতি আবদুর রব সেরনিয়াবাত, তার ছেলে আরিফ ও মেয়ে বেবি, সুকান্তবাবু, বঙ্গবন্ধুর ভাগ্নে যুবনেতা ও মুক্তিযুদ্ধের সংগঠক শেখ ফজলুল হক মণি, তার অন্তঃস্বত্ত্বা স্ত্রী আরজু মনি এবং আবদুল নাঈম খান রিন্টু ও কর্নেল জামিলসহ পরিবারের ১৬ জন সদস্য ও ঘনিষ্ঠজন। এ সময় বঙ্গবন্ধুর দু’কন্যা শেখ হাসিনা ও শেখ রেহানা বিদেশে থাকায় প্রাণে রক্ষা পান।

    বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ৪৮তম শাহাদাত বার্ষিকী ও জাতীয় শোক দিবস উপলক্ষে মঙ্গলবার রাজধানীর ধানমন্ডিস্থ বঙ্গবন্ধু স্মৃতি জাদুঘরের সামনে রক্ষিত তাঁর প্রতিকৃতিতে বিভিন্ন শ্রেণি পেশার মানুষ পুষ্পস্তবক অর্পণের মধ্য দিয়ে জাতির পিতাকে শ্রদ্ধাভরে স্মরণ করেন।

    সকালে বঙ্গবন্ধু ভবনের সামনে রক্ষিত জাতির পিতার প্রতিকৃতিতে পুষ্পস্তবক অর্পণের মাধ্যমে তাঁর স্মৃতির প্রতি গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন করেন রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এসময় বিউগলে করুণ সুর বেজে ওঠে। অনুষ্ঠানে সশস্ত্র বাহিনীর একটি চৌকস দল গার্ড অব অনার প্রদান করে।

    পরে দলের সভাপতি শেখ হাসিনা আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় নেতাদের সাথে নিয়ে দলের পক্ষে বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতিতে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন। এ সময়ে প্রধানমন্ত্রীর ছোট বোন শেখ রেহানা উপস্থিত ছিলেন।

    আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে শ্রদ্ধা নিবেদনের পর বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতিতে কেন্দ্রীয় ১৪ দলের পক্ষ থেকে শ্রদ্ধা নিবেদন করা হয়।
    এরপর বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতিতে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন জাতীয় সংসদের স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরী ও প্রধান বিচারপতি হাসান ফয়েজ সিদ্দিকী।

    আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে শ্রদ্ধা নিবেদনের সময় উপস্থিত ছিলেন দলের উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য আমির হোসেন আমু, সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের, সভাপতিমন্ডলীর সদস্য মোশাররফ হোসেন, বেগম মতিয়া চৌধুরী, ড. আব্দুর রাজ্জাক, জাহাঙ্গীর কবির নানক, আব্দুর রহমান, শাজাহান খান ও ডা. মোস্তফা জালাল মহিউদ্দিন, যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক এবং তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ, মাহবুব উল আলম হানিফ ও আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম, সাংগঠনিক সম্পাদক আহমদ হোসেন, আবু সাঈদ আল মাহমুদ স্বপন ও এস এম কামাল হোসেন, প্রচার সম্পাদক ড. আবদুস সোবহান গোলাপ, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিষয়ক সম্পাদক আব্দুস সবুর, দপ্তর সম্পাদক বিপ্লব বড়ুয়া প্রমুখ।

    এরপর শেখ হাসিনা বনানী কবরস্থানে তাঁর পরিবারের শহীদ সদস্যদের কবরে পুষ্পস্তবক অর্পণের মাধ্যমে তাদের স্মৃতির প্রতি গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন করেন। এ সময়ে আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় নেতারা উপস্থিত ছিলেন।

    এদিকে প্রধানমন্ত্রী ধানমন্ডি ৩২ নম্বর ত্যাগ করার পর বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতিতে আরও শ্রদ্ধা জানায় ঢাকা মহানগর উত্তর ও দক্ষিণ আওয়ামী লীগ, মহিলা আওয়ামী লীগ, জাতীয় শ্রমিক লীগ, কৃষক লীগ, যুবলীগ, যুব মহিলা লীগ, স্বেচ্ছাসেবক লীগ, ছাত্রলীগ, তাঁতী লীগ, বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থা (বাসস), বঙ্গবন্ধু আওয়ামী আইনজীবী পরিষদ, স্বাধীনতা চিকিৎসক পরিষদ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়, বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন, জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়, একাত্তরের ঘাতক-দালাল নির্মূল কমিটি, সেক্টর কমান্ডারস ফোরাম, বাংলা একাডেমি, জাতীয় জাদুঘর, শিশু একাডেমি, বাংলাদেশ বেতার, বঙ্গবন্ধু পরিষদ, বঙ্গবন্ধু সাংস্কৃতিক জোট, শেখ রাসেল শিশু সংসদ, আমরা মুক্তিযোদ্ধার সন্তান, রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকসহ বিভিন্ন দল, সামাজিক-সাংস্কৃতিক সংগঠন ও প্রতিষ্ঠানের পাশাপাশি সর্বস্তরের হাজারো মানুষ। এছাড়াও বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে শোক দিবস উপলক্ষে জাতির পিতার প্রতিকৃতিতে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানানো হয়।

    এদিকে হাজার বছরের শ্রেষ্ঠ বাঙালি, স্বাধীন বাংলাদেশের মহান স্থপতি জাতির পিতার ৪৮তম শাহাদত বার্ষিকী ও জাতীয় শোক দিবসে টুঙ্গিপাড়ায় বঙ্গবন্ধুর সমাধিসৌধে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা শ্রদ্ধা নিবেদন করেন এবং পরে দলীয় নেতাকর্মীদের সাথে নিয়ে দলের পক্ষ থেকে শ্রদ্ধা নিবেন করেন। এ সময়ে আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় নেতারা উপস্থিত ছিলেন।

    রাজধানী ছাড়াও সারাদেশে এবং দেশের বাইরে বাংলাদেশের কূটনৈতিক মিশনগুলো বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতিতে ফুলেল শ্রদ্ধা নিবেদনসহ নানা কর্মসূচির মধ্য দিয়ে শোক দিবস পালন করেছে।

    শোক দিবস উপলক্ষে দিনব্যাপী কোরআন তেলাওয়াত, বঙ্গবন্ধুর ৭ মার্চের ভাষণ প্রচার, বঙ্গবন্ধুর সমাধি ও প্রতিকৃতিতে পুষ্পার্ঘ্য অর্পণ, কালো ব্যাজ ধারণ, চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতা, মিলাদ মাহফিল, রক্তদান কর্মসূচি, আলোচনা সভা, আলোকচিত্র প্রদর্শনী ও দুস্থদের মাঝে খাবার বিতরণ করা হয়।

    ভোরে বঙ্গবন্ধু এভিনিউস্থ আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কার্যালয়সহ দলের ঢাকা মহানগরীর বিভিন্ন ইউনিট কার্যালয়ে জাতীয় পতাকা অর্ধনমিত এবং কালো পতাকা উত্তোলন করা হয়।

    সূর্যোদয়ের সাথে সাথে সরকারি, আধা-সরকারি, স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠান, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, বেসরকারি ভবন ও বিদেশস্থ বাংলাদেশ মিশনসমূহে জাতীয় পতাকা অর্ধনমিত রাখা হয়।

    শোক দিবস উপলক্ষে বাংলাদেশ বেতার এবং বাংলাদেশ টেলিভিশনে শোক দিবসের বিভিন্ন অনুষ্ঠানমালা সরাসরি সম্প্রচারসহ বিশেষ অনুষ্ঠানমালা প্রচার এবং সংবাদপত্রসমূহ বিশেষ ক্রোড়পত্র প্রকাশ করে।

    বঙ্গবন্ধুর শাহাদত বার্ষিকী ও জাতীয় শোক দিবস উপলক্ষে বায়তুল মুকাররম জাতীয় মসজিদে ১০০ বার কুরআন খতম ও বিশেষ মোনাজাত অনুষ্ঠিত হয়। ইসলামিক ফাউন্ডেশন কুরআন খতম ও বিশেষ মোনাজাতের আয়োজন করে। কুরআন খতম শেষে জাতির পিতা ও তার পরিবারের শহীদ সদস্যদের রূহের মাগফিরাত কামনা করে বিশেষ মোনাজাত করা হয়।

    এদিকে মন্দির, প্যাগোডা, গির্জাসহ বিভিন্ন উপাসনালয়ে দেশব্যাপী বিশেষ প্রার্থনা কর্মসূচির অংশ হিসেবে কেন্দ্রীয়ভাবে ১৫ আগস্টের প্রথম প্রহরে (রাত ১২ টা ১ মিনিট) মিরপুর ব্যাপ্টিস্ট চার্চে (৩/৭-এ সেনপাড়া, পর্বতা, মিরপুর-১০) মোমবাতি প্রজ্জ্বলন ও বিশেষ প্রার্থনা, সকাল ৯টায় তেজগাঁও হলি রোজারি চার্চে বিশেষ প্রার্থনার আয়োজন করেছে খ্রিস্টান সম্প্রদায়, সকাল ১০টায় রাজধানীর মেরুল বাড্ডাস্থ আন্তর্জাতিক বৌদ্ধ বিহারে বৌদ্ধ সম্প্রদায় এবং সকাল সাড়ে ১১টায় ঢাকেশ্বরী জাতীয় মন্দিরে হিন্দু সম্প্রদায় প্রার্থনা সভার আয়োজন করে।

    এছাড়াও জাতীয় প্রেসক্লাব প্রাঙ্গণে রক্ষিত জাতির পিতার প্রতিকৃতিতে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা নিবেদন করে জাতীয় প্রেসক্লাব, বিএফইউজে-বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়ন, ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়ন, বঙ্গবন্ধু সাংবাদিক পরিষদসহ সাংবাদিকদের বিভিন্ন সংগঠন।

    বঙ্গবন্ধু এভিনিউস্থ আওয়ামী লীগ কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে দুস্থ ও গরীব মানুষের মধ্যে খাবার বিতরণ করা হয়। আওয়ামী লীগ কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনেসহ রাজধানীর বিভিন্ন স্থানে দরিদ্রদের মধ্যে খাবার বিতরণের ব্যবস্থা করে আওয়ামী লীগ ও এর সহযোগী সংগঠনগুলোর থানা ও ওয়ার্ড ইউনিটগুলো।

    এদিকে জাতীয় শোক দিবস উপলক্ষে সারাদেশের সরকারি ও বেসরকারি হাসপাতালগুলোতে দরিদ্র রোগীদের বিনামূল্যে চিকিৎসা সেবা দেয়া হয়।

    এছাড়াও আওয়ামী যুবলীগ, শ্রমিক লীগ, ছাত্রলীগ, বঙ্গবন্ধুর ৪৮তম শাহাদাতবার্ষিকী ও জাতীয় শোক দিবস উপলক্ষে আলোচনা সভা ও দরিদ্রদের মাঝে খাবার বিতরণ করে।
    সূত্র : বাসস

  • ২ সেপ্টেম্বর এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে ও ২৮ অক্টোবর বঙ্গবন্ধু টানেল উদ্বোধন

    ২ সেপ্টেম্বর এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে ও ২৮ অক্টোবর বঙ্গবন্ধু টানেল উদ্বোধন

    www.HelloBangla.News – জাতীয় – ১৪ আগস্ট, ২০২৩ : মাস্টারপ্ল্যান অনুযায়ী রাজধানী ঢাকাকে নতুন করে সাজাচ্ছে সরকার; বলে জনিয়েছেন, সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী এবং আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের । তিনি বলেন, ‘আগামী ২ সেপ্টেম্বর এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ের বিমানবন্দর থেকে ফার্মগেট অংশ এবং ২৮ অক্টোবর চট্টগ্রামে বঙ্গবন্ধু টানেল উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।’

    বিমানবন্দরের কাওলা থেকে ফার্মগেট অংশের উদ্বোধন উপলক্ষে আজ সোমবার বনানীস্থ সেতুভবনে সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ কথা জানান।

    ওবায়দুল কাদের বলেন, বিমানবন্দর থেকে ফার্মগেট পর্যন্ত যান চলাচলের জন্য প্রস্তুত হয়েছে। এ অংশের দৈর্ঘ্য ১১.৫ কিলোমিটার। উঠানামার জন্য থাকছে ১৫ টি রাম্প। এর মধ্যে দুটি রাম্প বনানী ও মহাখালীতে আপাতত বন্ধ থাকবে। যান চলাচলের সর্বোচ্চ গতিসীমা হবে ঘন্টায় ৬০ কিলোমিটার। থ্রি হুইলার, সাইকেল, পথচারী চলাচল করতে পারবে না। মোটরবাইক আপাতত চলাচল করতে পারবে না। এ অংশে এখনো টোল চূড়ান্ত হয়নি।

    সেতুমন্ত্রী বলেন, নদীর তলদেশে চট্টগ্রামে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান কর্ণফুলী টানেল আগামী অক্টোবরের ২৮ তারিখে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা উদ্বোধন করবেন।

    তিনি বলেন, অক্টোবরের মাঝামাঝিতে আগারগাঁও থেকে মতিঝিল পর্যন্ত মেট্রোরেলের উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী। এ ছাড়া আগামী সেপ্টেম্বরে ১৫০ সেতু একদিনে উদ্বোধনের জন্য প্রস্তুত আছে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সময় দিলে তারিখ জানানো হবে। সংবাদ সম্মেলন আরও উপস্থিত ছিলেন সেতু বিভাগের সচিব মনজুর হোসেন।

    সূত্র : বাসস

  • পিএসজি ছেড়ে সৌদি আরবে যাচ্ছেন নেইমার

    পিএসজি ছেড়ে সৌদি আরবে যাচ্ছেন নেইমার

    www.HelloBangla.News – খেলাধুলা – ১৪ আগস্ট, ২০২৩ : ব্রাজিলীয় তারকা নেইমারকে সৌদি আরবের কাছে বিক্রির উদ্যোগ নিচ্ছে প্যারিস সেন্ট জার্মেই (পিএসজি)।

    জানা গেছে, ৩১ বছর বয়সি ব্রাজিলীয় তারকা আর বেশীদিন ক্লাবটিতে থাকছেন না। সৌদি ক্লাব আল-হিলালে যোগ দিতে পারেন নেইমার।

    সৌদি আরবের আরেকটি সূত্র বলেছেন, নেইমারের এজেন্ট ও সৌদি আরবের পাবলিক ইনভেস্টেমেন্ট ফান্ডের (পিআইএফ) মধ্যে এ বিষয়ে সরাসরি সমঝোতার আলোচনা চলছে। সুত্রটি আরো জানায়, ‘আমরা যদি আগামী কয়েক ঘন্টার মধ্যে নেইমারের সঙ্গে একটি সমঝোতায় আসতে পারি, তাহলে পিএসজির সঙ্গে আলোচনা শুরু করব। চুক্তি সম্পাদিত হলে তাকে যুক্ত করা হবে আল হিলালে।’

    ২০১৭ সালে রেকর্ড ২২০ মিলিয়ন ইউরোতে বার্সেলোনা থেকে পিএসজিতে যোগ দিয়েছিলেন নেইমার। গতকাল কয়েকটি গণমাধ্যমে প্রকাশিত রিপোর্ট অনুযায়ী নেইমারের জন্য ৮০ মিলিয়ন মার্কিন ডলার প্রস্তাব করেছে আল হিলাল।

    গত মাসে নেইমারের পিএসজি সতীর্থ কিলিয়ান এমবাপ্পের জন্য ৩০০ মিলিয়ন ইউরো প্রস্তাব করেছির আল হিলাল। যদিও প্রস্তাবটি ফিরিয়ে দিয়েছিলেন ফরাসি স্ট্রাইকার। মার্চের শুরুতে ডান পায়ের গোঁড়ালির অস্ত্রোপচার করানো নেইমার পিএসজিতে ফিরেছেন ক্লাবটির মৌসুম পুর্ব এশিয়া সফরের সময়। বারবার ইনজুরিতে পড়ে পিএসজিতে ভালো সময় কাটাতে পারেননি নেইমার। যদিও ক্লাবটিকে ২০২০ মৌসুমের চ্যাম্পিয়ন্স লিগের ফাইনালে পৌঁছাতে সহায়তা করেছিলেন ব্রাজিলীয় সুপার স্টার।

    সূত্র : বাসস

  • প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে যুক্তরাজ্যের রাষ্ট্রদূতের সৌজন্য সাক্ষাৎ

    প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে যুক্তরাজ্যের রাষ্ট্রদূতের সৌজন্য সাক্ষাৎ

    www.HelloBangla.News – জাতীয় – ১৪ আগস্ট, ২০২৩ : প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে বৃটিশ হাইকমিশনারের সৌজন্য সাক্ষাৎ হয়েছে।

    আজ সোমবার প্রধানমন্ত্রীর সরকারি বাসভবন গণভবনে সৌজন্য সাক্ষাৎকালে ব্রিটিশ হাইকমিশনার সারাহ কুক জানিয়েছেন, যুক্তরাজ্য (ইউকে) বাংলাদেশের সাথে দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য ও বিনিয়োগ বাড়াতে আগ্রহী।

    বৈঠকের পর সংবাদ সম্মেলনে কুককে উদ্ধৃত করে প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিব ইহসানুল করিম বলেন, ‘বাংলাদেশের সার্বিক উন্নয়নে বিশেষ করে নারী শিক্ষার প্রচেষ্টায় যুক্তরাজ্য সহযোগিতা অব্যাহত রাখবে।’
    বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনের ওপর জোর দিয়ে বলেছেন, যত তাড়াতাড়ি রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন হবে ততই বাংলাদেশের জন্য মঙ্গল।

    তিনি আশা করেন,“রোহিঙ্গা ইস্যুতে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের যথাযথ মনোযোগ মিয়ানমারের নাগরিকদের প্রত্যাবাসনকে ত্বরান্বিত করবে”।

    প্রধানমন্ত্রী সতর্ক করে বলেন, রোহিঙ্গাদের দীর্ঘস্থায়ী অবস্থান কক্সবাজার অঞ্চলে সামাজিক সমস্যা আরও বাড়িয়ে দিতে পারে।

    যুক্তরাজ্যের রাষ্ট্রদূত বলেন, বিষয়টি আন্তর্জাতিক মনোযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে থাকলে রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন ত্বরান্বিত হবে।

    তিনি রোহিঙ্গাদের শিক্ষা এবং তাদের দক্ষতা উন্নয়ন প্রশিক্ষণ দেয়ার কথা বলেন যাতে তারা তাদের স্বদেশ মিয়ানমারে ফিরে পুনরায় কর্মসংস্থান করতে পারে।

    বৈঠকে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক, নিরাপত্তা, জলবায়ু পরিবর্তন এবং আঞ্চলিক বিষয়ের মতো বিভিন্ন বিষয়ও আলোচিত হয়। এছাড়া বৈঠকে বাংলাদেশ ও যুক্তরাজ্যের মধ্যে বিদ্যমান দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কে সন্তোষ প্রকাশ এবং সম্পর্ক আরও সুসংহত করারও আশা প্রকাশ করা হয়।

    যুক্তরাজ্যের রাষ্ট্রদূত বলেন, তারা চান বাংলাদেশে একটি অবাধ, সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হোক।
    এ প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী বলেন, দেশে গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারে দীর্ঘ ২১ বছর সংগ্রাম করতে হয়েছে। তিনি বলেন, ২০০৪ সালের ২১ আগস্ট আওয়ামী লীগ নেত্রী আইভি রহমানসহ ২৪ জন নিহত ও ৫০০ জনেরও বেশি আহত হওয়ার সবচেয়ে ভয়াবহ ঘটনাসহ তাঁর প্রাণনাশের ১৯টি প্রচেষ্টা চালানো হয়েছে।

    শেখ হাসিনা আরো বলেন, বিএনপি-জামায়াত ২০০১ সালে তাদের বিজয় উদযাপন করেছিল সন্ত্রাসের রাজত্ব জারি করে শত শত মানুষকে হত্যার পাশাপাশি সারাদেশে গ্রামে গ্রামে ধর্ষণ ও লুটপাটের মাধ্যমে।
    তিনি বলেন, আমরাই মত প্রকাশের স্বাধীনতা প্রতিষ্ঠা করেছি ও গণমাধ্যমকে বেসরকারি খাতের জন্য উন্মুক্ত করেছি।

    জলবায়ু ইস্যুতে বাংলাদেশ-যুক্তরাজ্যের মধ্যে বিদ্যমান সম্পর্কে সন্তোষ প্রকাশ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, দ্বিপাক্ষিক ও বহুপাক্ষিকভাবে জলবায়ু কর্মকা-কে আরও এগিয়ে নিতে দুই দেশ চলতি বছরের মার্চ মাসে একটি জলবায়ু চুক্তি স্বাক্ষর করেছে।

    প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে ব্রিটিশ হাইকমিশনারের সৌজন্য সাক্ষাৎতের সময় অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন, প্রধানমন্ত্রীর অ্যাম্বাসেডর-এট-লার্জ মোহাম্মদ জিয়াউদ্দিন ও মুখ্য সচিব মো. তোফাজ্জেল হোসেন মিয়া ।

    সূত্র : বাসস

  • আগামীকাল ১৫ আগস্ট জাতীয় শোক দিবস

    আগামীকাল ১৫ আগস্ট জাতীয় শোক দিবস

    www.HelloBangla.News – জাতীয় – ১৪ আগস্ট, ২০২৩ : আগামীকাল ১৫ আগস্ট জাতীয় শোক দিবস। স্বাধীনতার স্থপতি, মুক্তিযুদ্ধের সর্বাধিনায়ক, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ৪৮তম শাহাদত বার্ষিকী।

    জাতি-ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে বাঙালি জাতি গভীর শ্রদ্ধার সঙ্গে দিবসটি পালন করবে। দিবসটি উপলক্ষে আওয়ামী লীগসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দল এবং সামাজিক সাংস্কৃতিক সংগঠন বিস্তারিত কর্মসূচি গ্রহন করেছে।

    কর্মসূচির মধ্যে রয়েছে-সূর্য উদয় ক্ষণে বঙ্গবন্ধু ভবন এবং কেন্দ্রীয় কার্যালয়সহ সারাদেশে সংগঠনের সকল স্তরের কার্যালয়ে জাতীয় ও দলীয় পতাকা অর্ধনমিতকরণ ও কালো পতাকা উত্তোলন। জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ঐতিহাসিক স্মৃতি-বিজড়িত ধানমন্ডিস্থ বঙ্গবন্ধু ভবন প্রাঙ্গণে বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতিতে পুষ্পার্ঘ্য অর্পণ। বনানী কবরস্থানে ১৫ আগস্টের শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধার্ঘ নিবেদন, মাজার জিয়ারত, ফাতেহা পাঠ, মোনাজাত ও মিলাদ মাহফিল এবং টুঙ্গীপাড়ায় জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের সমাধিতে শ্রদ্ধার্ঘ নিবেদন, ফাতেহা পাঠ, মিলাদ ও দোয়া মাহফিল এবং আলোচনা সভা।

    ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট ভোর রাতে সেনাবাহিনীর কিছুসংখ্যক বিপথগামী সদস্য ধানমন্ডির বাসভবনে বঙ্গবন্ধুকে সপরিবারে হত্যা করে। ঘাতকরা শুধু বঙ্গবন্ধুকেই হত্যা করেনি, তাদের হাতে একে একে প্রাণ হারিয়েছেন বঙ্গবন্ধুর সহধর্মিনী বঙ্গমাতা বেগম ফজিলাতুন নেছা মুজিব, বঙ্গবন্ধুর সন্তান শেখ কামাল, শেখ জামাল ও শিশু শেখ রাসেলসহ পুত্রবধু সুলতানা কামাল ও রোজি জামাল। পৃথিবীর এই জঘন্যতম হত্যাকান্ড থেকে বাঁচতে পারেননি বঙ্গবন্ধুর অনুজ শেখ নাসের, ভগ্নিপতি আবদুর রব সেরনিয়াবাত এবং তার ছেলে আরিফ ও সুকান্তবাবু, মেয়ে বেবি, বঙ্গবন্ধুর ভাগ্নে মুক্তিযুদ্ধের সংগঠক শেখ ফজলুল হক মণি, তার অন্তঃস্বত্ত্বা স্ত্রী আরজু মনি এবং আবদুল নাঈম খান রিন্টু ও কর্নেল জামিলসহ পরিবারের ১৬ জন সদস্য ও ঘনিষ্ঠজন। এ সময় বঙ্গবন্ধুর দু’কন্যা শেখ হাসিনা ও শেখ রেহানা বিদেশে থাকায় প্রাণে রক্ষা পান।

    মূলত, ‘৭৫ এর ১৫ আগস্ট থেকেই বাংলাদেশে এক বিপরীত ধারার যাত্রা শুরু হয়। বেসামরিক সরকারকে উৎখাত করে সামরিক শাসনের অনাচারি ইতিহাস রচিত হতে থাকে। সপরিবারে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধুকে হত্যার পর গোটা বিশ্বে নেমে আসে তীব্র শোকের ছায়া এবং ছড়িয়ে পড়ে ঘৃণার বিষবাষ্প। বঙ্গবন্ধুকে হত্যার পর নোবেল জয়ী পশ্চিম জার্মানীর নেতা উইলি ব্রানডিট বলেন, মুজিবকে হত্যার পর বাঙালিদের আর বিশ্বাস করা যায় না। যে বাঙালি শেখ মুজিবকে হত্যা করতে পারে তারা যে কোন জঘন্য কাজ করতে পারে।

    ভারতীয় বংশোদ্ভূত ব্রিটিশ নাগরিক ও বিশিষ্ট সাহিত্যিক নীরদ সি চৌধুরী বাঙালিদের ‘বিশ্বাসঘাতক’ হিসেবে বর্ণনা করে বলেন, বাঙালি জাতির স্বপ্নদ্রষ্টা শেখ মুজিবকে হত্যার মধ্য দিয়ে বাঙালি জাতি বিশ্বের মানুষের কাছে নিজেদের আত্মঘাতী চরিত্রই তুলে ধরেছে। দ্য টাইমস অব লন্ডন এর ১৯৭৫ সালের ১৬ আগস্ট সংখ্যায় উল্লেখ করা হয় ‘সবকিছু সত্ত্বেও বঙ্গবন্ধুকে সব সময় স্মরণ করা হবে। কারণ, তাঁকে ছাড়া বাংলাদেশের বাস্তব কোন অস্তিত্ব নেই। একই দিন লন্ডন থেকে প্রকাশিত ডেইলি টেলিগ্রাফ পত্রিকায় বলা হয়েছে, ‘বাংলাদেশের লাখ লাখ লোক শেখ মুজিবের জঘন্য হত্যাকান্ডকে অপূরণীয় ক্ষতি হিসেবে বিবেচনা করবে।’

    বঙ্গবন্ধুকে হত্যার পর ১৯৭৫ সালের ২৬ সেপ্টেম্বর স্বঘোষিত প্রেসিডেন্ট খন্দকার মোশতাক আহমেদ বিচারের হাত থেকে খুনীদের রক্ষা করতে ইনডেমনিটি অর্ডিন্যান্স জারি করে। পরবর্তীতে জিয়াউর রহমান ১৯৭৯ সালে ইনডেমনিটি অর্ডিন্যান্সকে আইন হিসেবে অনুমোদন করে।

    জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের কন্যা শেখ হাসিনার নেতৃত্বে আওয়ামী লীগ সুদীর্ঘ একুশ বছর পর ক্ষমতায় এলে ১৯৯৬ সালের ১৪ আগস্ট বঙ্গবন্ধু হত্যা মামলার তিন প্রধান আসামী বরখাস্ত লে. কর্নেল সৈয়দ ফারুক রহমান, সুলতান শাহরিয়ার রশিদ খান ও সাবেক প্রতিমন্ত্রী তাহের উদ্দিন ঠাকুরকে গ্রেফতার করা হয়। একই বছরের ২ অক্টোবর বঙ্গবন্ধুর একান্ত সহকারি (পিএ) এ এফ এম মোহিতুল ইসলাম পঁচাত্তরের ১৫ আগস্ট সংঘটিত নারকীয় হত্যাকান্ডের ঘটনায় থানায় একটি এফআইআর করেন।
    ১৯৯৬ সালের ১৪ নভেম্বর খুনীদের বিচারের হাতে ন্যস্ত করতে পার্লামেন্টে ইনডেমনিটি আইন বাতিল করা হয়। ১৯৯৭ সালের ১৫ জানুয়ারি সিআইডি এই মামলায় ২০ জনকে অভিযুক্ত করে মুখ্য মহানগর হাকিমের আদালতে চার্জশীট দাখিল করে এবং একই বছরের ১২ মার্চ ছয় আসামীর উপস্থিতিতে আদালতে বিচার শুরু হয়।

    ১৯৯৭ সালের ১৯ জুন পর্যন্ত বিচারক বিব্রত হওয়াসহ স্বাধীনতা-বিরোধী চক্রের নানা বাধার কারণে আটবার বিচার কার্যক্রম স্থগিত হয়ে যায়। এভাবে দীর্ঘ প্রক্রিয়া শেষে ১৯৯৮ সালের ৮ নভেম্বর মামলার রায়ে বিচারক কাজী গোলাম রসুল ১৫ জন সাবেক সেনা কর্মকর্তাকে মৃত্যুদ- প্রদান করেন। অন্যদিকে, ২০০০ সালের ১৪ ডিসেম্বর হাইকোর্ট বেঞ্চ ২৪ দিনের শুনানি শেষে বিভক্ত রায় প্রদান করে। বিচারক এম রুহুল আমিন অভিযুক্ত ১৫ আসামীর মধ্যে ১০ জনের মৃত্যুদণ্ড দেশ বজায় রাখেন। কিন্তু অপর বিচারক এ বি এম খায়রুল হক অভিযুক্ত ১৫ জনকেই সর্বোচ্চ শাস্তি মৃত্যুদণ্ড প্রদান করেন।

    পরবর্তীতে ২০০১ সালের অক্টোবরের সংসদ নির্বাচনে বিএনপি-জামায়াত জোট ক্ষমতায় এলে বিচার কাজ বন্ধ থাকে। দীর্ঘ ছয় বছর পর ২০০৭ সালের ২৩ আগস্ট রাষ্ট্রপক্ষের মুখ্য আইনজীবী বর্তমান সরকারের আইনমন্ত্রী আনিসুল হক সুুপ্রিম কোর্টে সংক্ষিপ্ত বিবৃতি প্রদান করেন এবং ২৩ সেপ্টেম্বর আপিল বিভাগের তিন সদস্যের একটি বেঞ্চ ২৭ দিনের শুনানি শেষে ৫ আসামীকে নিয়মিত আপিল করার অনুমতিদানের লিভ টু আপিল মঞ্জুর করেন।

    ২০০৯ সালের ১২ নভেম্বর-২৯ দিনের শুনানির পর চূড়ান্ত আপিল শুনানি শেষ হয় এবং আদালত ১৯ নভেম্বর রায়ের তারিখ নির্ধারণ করেন। ওইদিন (১৯ নভেম্বর) বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগের পাঁচ সদস্যের বেঞ্চে হাইকোর্টের দেয়া রায় বহাল রেখে মৃত্যুদ-প্রাপ্ত ৫ আসামীর দায়ের করা আপিল আবেদন খারিজ করা হয়। ২০১০ সালের ২৭ জানুয়ারি আপিলের রায়ের বিরুদ্ধে আসামীদের রিভিউ খারিজ হয়ে গেলে ২৮ জানুয়ারি ৫ আসামীর ফাঁসির রায় কার্যকর করে জাতিকে দায়মুক্ত করা হয়।

    ২০২০ সালের ১২ এপ্রিল ভারতে পালিয়ে থাকা বঙ্গবন্ধুর আরো একজন খুনি আবদুল মাজেদের ফাঁসি কার্যকর করা হয়। বঙ্গবন্ধুকে সপরিবার হত্যার ৪৫ বছর, নৃশংস ওই হত্যাকান্ডের মামলার ২৫ বছর এবং উচ্চ আদালতের রায়ে ৫ আসামির ফাঁসি কার্যকরের প্রায় দশ বছর পর গ্রেফতার হয় খুনি মাজেদ।

    জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল-জাসদ সভাপতি হাসানুল হক ইনু এমপি বলেন, বঙ্গবন্ধুর হত্যাকা- ছিল একটি সুপরিকল্পিত রাজনৈতিক হত্যাকাণ্ড। খুনীরা শুধু বঙ্গবন্ধুকে শারীরিকভাবেই হত্যা করেনি, খুনীরা বাংলাদেশ রাষ্ট্রের আত্মাকেই হত্যা করে পাকিস্তানী আত্মাকে বাংলাদেশ রাষ্ট্রের দেহে প্রতিস্থাপন করতে চেয়েছিল।

    অনেকে মনে করেন , একটি বৃহৎ পরাশক্তির ছত্রছায়ায় প্রণীত সুপরিকল্পিত প্রয়াস ছিল ’৭৫-এর ১৫ আগস্টের অভ্যুত্থান। এদিনটি শুধু জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান, তাঁর পরিবারের সদস্য এবং আরো কিছু লোকের হত্যাকান্ডের স্মারক বা আওয়ামী লীগ সরকারের ক্ষমতাচ্যুতির ঘটনা নয়। এটি ছিল রাষ্ট্র শাসন এবং সরকারি যন্ত্রের ভিন্ন পথে সম্পূর্ণ বিপরীত স্রোতে যাত্রার সূচনা। এই অভ্যুত্থান যেমন ছিল একটি বৃহৎ পরাশক্তির ছত্রছায়ায় প্রণীত সুপরিকল্পিত প্রয়াস, তেমনি এর টাইমিং ছিল গভীর চিন্তাপ্রসূত। বস্তুত, ১৫ আগস্ট, ১৯৭৫ থেকেই বাংলাদেশে এক বিপরীত ধারার যাত্রা শুরু করে।

    ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে হত্যা করা হলেও তাঁর অবিনাশী সত্তার যে প্রভাব তা ধ্বংস করা যায়নি। দেশে বিদেশে তিনি নানা ভাবে আলোচিত। স্যালুট জানানো হয় তাঁর নেতৃত্বের মহিমাকে। বিবিসি’র জরিপে সর্বকালের সেরা বাঙ্গালির তালিকায় এক নাম্বারের আছে বঙ্গবন্ধুর নাম। আমাদের মুক্তিযুদ্ধের সময় সার্বজনীন স্লোগান হয়ে উঠেছিল ‘জয় বাংলা’। বঙ্গবন্ধু হত্যার পর সেই স্লোগান মুছে ফেলার চেষ্টা করা হয়েছে। পরে আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় থাকার সময় যেমন বঙ্গবন্ধুর হত্যার বিচার হয়েছে তেমনি হাইকোর্ট এক রায়ে ‘জয় বাংলা’কে বাংলাদেশের জাতীয় স্লোগান করার জন্য প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে নির্দেশ দেয়। মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ প্রজ্ঞাপন জারির পর ‘জয় বাংলা’ এখন জাতীয় স্লোগান। বঙ্গবন্ধুর ঐতিহাসিক ৭ মার্চের ভাষণ এখন বিশ্ব ঐতিহ্যের অংশ। অথচ বঙ্গবন্ধু হত্যার পর তৎকালীন ক্ষমতায় থাকা সরকারগুলো এই ৭ মার্চের ভাষণকে মুছে ফেলতে চেয়েছিলো। এভাবে বঙ্গবন্ধুকে এবং বাংলাদেশ সৃষ্টির পেছনে তাঁর যে রাজনৈতিক অবদান তা শত ষড়যন্ত্র করে থামিয়ে দেওয়া হয়নি। এই বাংলাদেশ যতদিন থাকবে ততদিন থাকবে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নাম। তিনি আমাদের জাতির পিতা।

    সূত্র : বাসস