Category: খেলাধুলা

  • নিওনেল মেসি নিজের কাঁধে ইতিহাসের নি:শ্বাস অনুভব করছিলেন

    নিওনেল মেসি নিজের কাঁধে ইতিহাসের নি:শ্বাস অনুভব করছিলেন

    হ্যালো বাংলা ডেস্ক: বলা হয়ে থাকে নিওনেল মেসি এবার কাতার বিশ্বকাপে এসে অনেকটাই পাল্টে গেছে। অনেক পুরস্কার ও মর্যাদা পেয়েছেন কিন্তু বিশ্বকাপ শিরোপা জেতাটা অপূর্ণতাই ছিলো। কিন্তু সেটাও এবার অর্জন করে নিলেন তিনি। শুধু তাই নয় বিশ্বকাপ শুরুর আগে অনেকে যে মেসিকে দেখেছেন সেই লাজুক খেলোয়াড়টি হয়ে গেছে অনেকটা মিশুক। বিশ্বকাপ শুরুর প্রথম থেকে মেসির কাছে যে কেউ এসে সেলফি তুলতে পারতেন। মেয়েরাও তাঁর পাশে দাঁড়াতে পারছেন দ্বিধাহীন ভাবে। এই পরিবর্তনের নেপথ্যে কি ছিলো সেটাই এখন ভাবার বিষয়। তাই বিশ্বকাপ জয় যদি হয়ে থাকে একটি গল্প তাহলে তার পরিবর্তনটা ছিল অনেকটা রোমাঞ্চকর।

    ৩৫ বছর বয়সী মেসির প্রতিভা নিয়ে কোনও সন্দেহ বা বিতর্ক কোনও কালেই ছিল না, কিন্তু তার চরিত্রে একটা পরিবর্তন এসেছে। বার্সেলোনার যুব দলে খেলার সময় লিওনেল মেসি এতোটাই লাজুক ছিল যে তার সতীর্থদের এড়াতে করিডোরেই পোশাক বদল করে নিতেন । কিন্তু লিওনেল মেসি ‘এই বিশ্বকাপে ছিলেন আলাদা’ – বলছেন আর্জেন্টিনা ও অ্যাস্টন ভিলায় খেলা গোলকিপার এমিলিয়ানো মার্টিনেজ। পরে মেসিকে নিয়ে তৈরি হয়েছে ‘লিওনেল মেসি: ডেস্টিনি’ নামের  অনবদ্য এক ডকুমেন্টারি।

    বিবিসি স্পোর্ট ডকুমেন্টারিতে আর্জেন্টিনার গোলকিপার বলেন “আগে যারা জাতীয় দলে খেলতেন তাদের চেয়ে মনে হয় আমরা আক্রমণাত্মক, এখন মেসিও মনে হয় আমাদের মতো হয়ে যাচ্ছে- দুষ্টু বালক।”

    সম্প্রতি মুক্তি পাওয়া এই ডকুমেন্টারিতে আরও তারকারা লিওনেল মেসির এই ‘লাজুক বালক’ থেকে ‘ডানপিটে বেপরোয়া’ হয়ে ওঠার গল্পের কথা বলেন।

    ২০১৮ সালে যখন লিওনেল স্কালোনি যখন আর্জেন্টিনার কোচের দায়িত্ব পেলেন তখন আর্জেন্টিনার আরেক গ্রেট ডিয়েগো ম্যারাডোনা তার স্বভাবসুলভ ভঙ্গিমায় বলেছিলেন, “দারুণ লোক, কিন্তু ও তো ট্রাফিকই নিয়ন্ত্রণ করতে পারবে না। আপনি জাতীয় দলের দায়িত্ব কী করে স্কালোনিকে দেন?” আর্জেন্টিনায় অনেকেই ম্যারাডোনার সাথে একমত ছিল।

    কিন্তু স্কালোনি ছিলেন লিওনেল মেসির কোচ। স্পষ্টত, মেসিই তাকে আর্জেন্টিনার জাতীয় দলে নিয়ে এসেছেন। আর্জেন্টিনা ফুটবল অ্যাসোসিয়েশনও প্রজন্মের সেরা এই ফুটবলারকে নিজের মতো করে, নিজেদের দলে রাখতে চেয়েছেন। স্কালোনির নিয়োগের বছরখানেক আগে লিওনেল মেসির সাথে জাতীয় দলের সম্পর্ক খুব একটা ভালো যাচ্ছিল না, কোচদের সাথেও ঝামেলা হচ্ছিল।

    দক্ষিণ আফ্রিকায় ২০১০ সালে প্রতিভাবান একটি আর্জেন্টিনা দল জার্মানির বিপক্ষে কোয়ার্টার ফাইনালে হারের পর তখনকার কোচ ম্যারাডোনা লিওনেল মেসির নেতৃত্বগুণ নিয়ে সমালোচনা করেছিলেন। ২০১৮ সালের বিশ্বকাপেও হোর্হে সাম্পাওলির অধীনে আর্জেন্টিনার বিদায় হয় দ্রুতই, দ্বিতীয় রাউন্ডে, একই সাথে কোচও বিদায় নেন। এর মাঝে ২০১৬ সালে লিওনেল মেসি কোপা আমেরিকার ফাইনালে চিলির বিপক্ষে পেনাল্টি মিস করে হারের পর সাময়িক অবসরেও গিয়েছিলেন।

    আর্জেন্টিনা ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন তখন একটা ব্যাপারই নিশ্চিত করতে চেয়েছে, লিওনেল মেসি অর্থাৎ তাদের সবচেয়ে বড় তারকা যাতে খুশি থাকেন।

    লিওনেল মেসির আত্মজীবনীর লেখক গিলেম বালাগ বলেন, “এফএর একটাই লক্ষ্য ছিল, মেসির সাথে কাজ করে তার সেরাটা বের করে আনতে পারেন এমন একজন ম্যানেজার খুঁজে বের করা”।

    “স্কালোনি দায়িত্ব নিয়ে মেসিকে প্রশ্ন করেছে, ‘তোমার কী মনে হয়, কী হলে তোমার কাজ চলবে?”

    “এটা একটা পারষ্পরিক আলোচনা, আপনার কাছে বিশ্বের সেরা ফুটবলার থাকলে আপনার এটা করতেই হবে”।

    স্কালোনি ছিলেন লিওনেল মেসির কোচ, স্পষ্টত: মেসিই তাকে আর্জেন্টিনার জাতীয় দলে নিয়ে এসেছেন

    সে যা-ই হোক, স্কালোনির খুব জনপ্রিয় না হওয়া, ছোট শহরের মানুষের মতো বিনয় এবং নাক উঁচু স্বভাব না থাকাটা গুরুত্বপূর্ণ ছিল আর্জেন্টিনা স্কোয়াডের জন্য, বিশেষত মেসির জন্য।

    আর্জেন্টিনা ও ম্যানচেস্টার সিটির ফরোয়ার্ড হুলিয়ান আলভারেজ বলেন, “স্কালোনি খুবই নির্ভার, খুব সৎ এবং ছোট শহর থেকে এলে যেমন হয়। আমি এটা মেলাতে পারি কারণ আমিও এমন ছোট শহরে বড় হয়েছিলাম, তার ভেতরের মানবিক গুণ আপনি দেখতে পারেন”।

    মার্টিনেজ তার সাথে যোগ করেন, “আপনার প্রতিভাবান ফুটবলার থাকবেই কিন্তু আপনি কীভাবে তাদের চালাবেন তা জানতে হবে। এটা অনেকটা ফেরারি চালানোর মতো, আপনি যদি না জানেন কীভাবে চালাতে হয় সেটা, আপনি প্রতি কোণে ধাক্কা খাবেন”।

    “আমি স্কালোনির ব্যাপারে একটা কথাই বলতে পারি, স্কালোনি জানেন কীভাবে ফেরারি চালাতে হয়”।

    ‘ছোট আর্জেন্টিনা’ তৈরি করা:

    কাতারে লিওনেল মেসিকে এবং আর্জেন্টিনা দলকে খুশি রাখার পন্থা কী ছিল?

    লিওনেল মেসি অল্প বয়সে আর্জেন্টিনা ছাড়ার পরেও তার আর্জেন্টাইন শেকড় বিশেষত তার জন্মভূমি রোজারিওর সাথে সম্পর্ক ধরে রেখেছেন।

    ‘অ্যাঞ্জেলস উইথ ডার্ট ফেইসেস- অ্যা ফুটবলিং স্টোরি অফ আর্জেন্টিনার’ লেখক জনাথন উইলসন বলেন, “মেসি আর্জেন্টিনিয়ানদের উচ্চারণে কথা বলেন, আর্জেন্টিনিয়ান খাবার খান, আর্জেন্টিনিয়ান সিনেমা দেখেন ও আর্জেন্টিনিয়ান গান শোনেন”।

    স্কালোনি ও আর্জেন্টিনার ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন দ্রুতই লিওনেল মেসি ও তার সতীর্থদের জন্য কাতারে একটা ঘরোয়া পরিবেশ তৈরির প্রতি ঝুঁকে পড়েন। কাতার বিশ্ববিদ্যালয়ে দলটি যেখানে ছিল সেখানে একটা ‘ছোট আর্জেন্টিনা’ তৈরি করা হয়।

    স্কালোনির অধীনে শুরুর দিকে জুনিয়র সতীর্থরা আর্জেন্টাইন কার্ড গেম ট্রাকো খেলতে মেসির হোটেলের দরজায় নক দিতেন।

    এই একই খেলা কাতারেও সব জায়গায় খেলতেন মেসিরা, পান করতেন আর্জেন্টিনিয়ান চা। আরও গুরুত্বপূর্ণ বিষয় ছিল আর্জেন্টিনিয়ান গরুর মাংসের বার-বি-কিউ আসাদোস, পুরো সফরের জন্য এই মাংসের ৯০০ কেজি কাতারে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল। মেসির সাবেক সতীর্থ পাবলো জাবালেতা বলেন, “আমার মনে হয় যদি মাতে আর সুন্দর বারবিকিউ থাকে তাহলে আর্জেন্টিনার মানুষ জীবনে আর কিছু চাইবে না”।

    বালাগ ও আরাউহো দুজনই বলেন এই পন্থায় আর্জেন্টিনা মেসির সেরাটা বের করে এনেছে, বিশ্বের সেরা ফুটবলারকে এমন একটা জগতে নিয়ে যাওয়া হয়েছে যেখানে তিনি ছিলেন ১৩ বছর বয়সে, যখন তিনি বার্সেলোনা চলে যান। নেদারল্যান্ডসের বিপক্ষে ম্যাচে মেসি শৈশবের একটা প্রতিচ্ছবি দেখা যায় স্পষ্টভাবে।

    ডাচ ম্যানেজার লুই ফন হাল লিওনেল মেসির মাঠে কর্মক্ষমতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছিলেন, এটা মেসির সতীর্থদের তাঁতিয়ে তোলে এবং ঐতিহাসিক এক বৈরীতায় আগুন লাগিয়ে দেয়।

    ব্রাইটনের ম্যাক অ্যালিস্টার বলেন, “লিওকে আক্রমণ, আর্জেন্টাইন কারও সামনে এটা করা উচিৎ হবে না”।

    মেসির আবেগ প্রকাশ পায় ম্যাচের ৭৩তম মিনিটে আর্জেন্টিনার দ্বিতীয় গোলের পর লিওনেল মেসি কানের পাশে হাত নিয়ে লুই ফন হালকে দেখান, তার কর্মক্ষমতা নিয়ে করা মন্তব্যের জবাব দেন।

    লিওনেল মেসি ও আর্জেন্টিনার সাবেক তারকা ফুটবলার হুয়ান রোমান রিকোয়েলমে ভালো বন্ধু। যদিও এর আগে, রিকোয়েলমে ২০০২ সালে এক মৌসুমের জন্য বার্সেলোনায় ছিলেন বলে, সম্পর্কটা ছিল স্তুতির।

    রিকোয়েলমের সাবেক এজেন্ট মনে করিয়ে দিলেন, একবার বার্সায় দক্ষিণ আমেরিকান ফুটবলারদের জন্য আয়োজিত বারবিকিউ পার্টিতে লিওনেল মেসি রিকোয়লমের দিকে ‘এমনভাবে চেয়েছিলেন যেন যীশুকে দেখছেন’।

    আর্জেন্টিনার সাংবাদিক আরাউহো মনে করেন, নেদারল্যান্ডসের বিপক্ষে লিওনেল মেসির উদযাপন ছিল রিকোয়েলমের উদযাপন যা তিনি ক্যারিয়ারে বহুবার করেছেন, লুই ফন হাল ২০০০ এর শুরুর দিকে ছিলেন বার্সেলোনা ম্যানেজার তিনি রিকোয়েলমেকে তার পছন্দের জায়গায় খেলাননি। আরাউহো বলেন, ‘এটা মেসির থেকে অপ্রত্যাশিত’।

    তবে এটাই এই ম্যাচে মেসির লড়াকু মনোভাবের শেষ ছিল না, ম্যাচের পরে আর্জেন্টিনার মেসি নেডারল্যান্ডসের সহকারী কোচ এডগার ডেভিডসের মুখোমুখ হয়েছিলেন এরপর টানেলে সরাসরি টিভি সাক্ষাৎকারের মধ্যে হল্যান্ডের ১৯ নম্বর জার্সি ওউট ওয়েঘোর্স্টের উদ্দেশ্যে বলেন, “তুমি এদিকে চেয়ে কী দেখছো, যাও এখান থেকে”।

    আরাউহো বলেন, “লিওনেল মেসির এই কথাটা ছিল স্বত:স্ফূর্ত। এতে রোজারিওর ধাঁচ ছিল, মনে হয়েছে এটা হয়তো কারও দাদি বলছে”।

    “এটা নিশ্চিতভাবেই হালকা কোনও রাগ ছিল না”।

    বালাগ বলেন, “মেসি এমনভাবে প্রতিক্রিয়া করলেন, যে তিনি নিজেকেই হয়তো চিনতে ভুল করবেন”।

    এই রাগ প্রকাশের পেছনের গল্প মেসির শৈশবের শহর রোজারিওর সাথে জড়িয়ে, যা আর্জেন্টিনার রাজধানী বুয়েনস এইরেসের ১৮৫ মাইল দূরে অবস্থিত। বালাগ বলেন, “বিশ্বকাপে মেসির মধ্যে একটা ব্যাপার ছিল, যে লোকেদের সে পাশে পেয়েছে এরই মধ্যে সে স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করেছে”।

    মেসি হয়তো ১২ বছর বয়সে রাস্তায় খেলার সময় এমন ছিলেন, “এরপর সে বার্সেলোনায় যায় সেখানে মেসি একটা ভিন্ন মানুষ, কাতালান, আরও দূরের মানুষ, আরও শান্ত”।

    “কিন্তু তার মধ্যেই এই ব্যাপারটি রয়ে গেছে”।

    “এমন না যে মেসি ম্যারাডোনা হয়ে গেছেন কিন্তু মেসির মধ্যে যে রোজারিওর ব্যাপারটা ছিল সেটাই বিশ্বকাপে আমাদের সামনে এসেছে”।

    মেসি ওয়েঘোর্স্টের উদ্দেশ্যে ‘বোবো’ বলেন, যার অর্থ বোকা, বাচ্চারাই কেবল এই শব্দটা ব্যবহার করেন। বালাগের সাথে মার্টিনেজও একমত, মেসি যেন স্কুলের সেই শিশু যে কি না ভুলে অন্য গ্রুপের সঙ্গে পড়ে গেছে।

    অ্যাঞ্জেলস উইথ ডার্ট ফেইসেস- অ্যা ফুটবলিং স্টোরি অফ আর্জেন্টিনার লেখক জনাথন উইলসন বলেন, মেসি আসলে তাদেরও অভাব পূরণ করেছেন যারা এই বিশ্বকাপে ছিলেন না। যারা কথা বলতে পটু যেমন হাভিয়ের মাসচেরানো থাকাকালীন মেসিকে বেশি কথা বলতে হয়নি। কিন্তু কাতারে এখানে একটা শুণ্যতা ছিল।

    সাংবাদিক ক্রিশ্চিয়ান মার্টিন পুরো বিশ্বকাপ সফরেই আর্জেন্টিনার দলের সঙ্গে ছিলেন, তিনি ও লিওনেল মেসির আত্মজীবনীর লেখক বালাগ দুজনই মেসির আচরণে ধাক্কা খান, কীভাবে মেসি এই শুণ্যতা পূরণ করে দিলেন একদম প্রথম ম্যাচ থেকেই। সৌদি আরবের বিপক্ষে ২-১ গোলের হার আর্জেন্টিনা দলের দ্রুতই বিদায়ের শংকা জাগিয়ে তুলেছিল। অতীত বলে, এমন সব ম্যাচের পর লিওনেল মেসি যত কম সময় সম্ভব মাইকের সামনে কাটাতে চাইবেন কিন্তু বালাগ বলেন, এদিন মেসির মিক্সড জোন পার হতে প্রায় এক ঘণ্টা লেগে গিয়েছিল। মেসি সবাইকে বলছিলেন, “আমরা এর চেয়ে ভালো”।

    মার্টিনেজ যোগ করেন, “মেসি উপস্থিত সাংবাদিক প্রায় সবার সাথেই কথা বলেছেন, তিনি তাদের বলেন, ‘আমাদের ওপর বিশ্বাস রাখেন, আমরা আপনাদের হতাশ করবো না, আমাদের সাথে থাকুন’।

    “লিওর এই কথাগুলো খুব শক্তিশালী ছিল”।

    জাবালেটা বলেন, “আমরা মেসিকে উপভোগ করেছি, তিনি একজন যথাযথ নেতা হয়ে উঠেছেন দারুণভাবে”।

    “কঠিন সব মুহূর্তে মেসি একাই কথা বলেছেন, মেসি তার কোনও অনভিজ্ঞ ফুটবলারকে ঠেলে পাঠিয়ে দেননি, এটা দারুণ একটা বিষয় ছিল”।

    মিডিয়ার সামনে বা নেদারল্যান্ডসের বিপক্ষে ম্যাচের মতো প্র্রতিপক্ষের সামনে সামনে গিয়ে দাঁড়ানোর যে তাগিদ, এটা ছিল অনেকটা ম্যারাডোনার মতো, মেসি যেন নিজের ভেতরকার ডিয়েগোকে খুঁজে পেয়েছিলেন এই বিশ্বকাপে।

    সাংবাদিক আরোউহো অবশ্য ‘মেসি ম্যারাডোনাকে চ্যালেঞ্জ করছেন’ বা ‘লিওনেল মেসি ম্যারাডোনার মতো হয়ে উঠছেন’ এই ধারণায় বিশ্বাসী নন, তিনি মনে করেন মেসি মেসির মতো থাকতেই স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করেন, যে শৈশবে তার পরিবারের নিয়তির বোঝা নিয়ে বার্সেলোনায় এসেছিলেন কিংবা যে সুপারস্টার মেসি একটা জাতির প্রত্যাশা পূরণ করতে পারছিলেন না আগের বিশ্বকাপগুলোতে।

    তিনি বলেন, “মাঠে অনেক হাসিখুশি একটা ব্যাপার ছিল, মেসির মাথা ছিল উঁচু এবং আত্মবিশ্বাসী ছিলেন তিনি”।

    “মেসি নিজের মধ্যেই একটা গ্রহণযোগ্যতা তৈরি করে নিয়েছিলেন। সে নিজের মতো করে বিব্রত হতেও বিব্রত বোধ করতেন না, যদি সেটার কোনও মানে দাঁড়ায়”।

    “লোকে এসএমএস দিচ্ছিলেন, মেসির ওপর কি ম্যারাডোনা ভর করেছে, মেসির হয়ে কি ম্যারাডোনা কথা বলছেন? না, মেসি ম্যারাডোনা হননি, মেসি নিজের ভেতরই বেড়ে উঠেছেন”।

    “বহু বছর ধরেই মেসির ওপর পারফর্ম করার জন্য চাপ ছিল, আরও কিছু অস্পষ্ট চাপ ছিল, যেমন আরও আর্জেন্টিনিয়ান হয়ে ওঠো, আরও ম্যারাডোনার মতো হয়ে ওঠো”।

    “আমার মনে হয় মেসি এটা নিয়ে খুব একটা স্বস্তিতে ছিলেন না”।

    “এই বিশ্বকাপে দেখার মতো বিষয় ছিল লিওনেল মেসির শারীরিক স্বস্তি, পারফর্ম করার চাপ নেই, নিজের মতো থাকার স্বাচ্ছন্দ্য আছে”।

    মেসি নিজের মধ্যেই স্বস্তিতে ছিলেন। জনাথন উইলসন বলেন, “আমার মনে হয় মেসি নিজের কাঁধে ইতিহাসের নি:শ্বাস অনুভব করছিলেন, তার সময় আসছে এটা তিনি বুঝতে পারছিলেন”।

    সাংবাদিক আরাউহোর মতে, কাতারে লিওনেল মেসির সবচেয়ে দারুণ ব্যাপার ছিল শান্ত থাকা, জয়ের তীব্র আকাঙ্ক্ষা সামলে রাখা।

    “একটা মজার বিষয় হচ্ছে, ২০০৬ সালে মেসি বেঞ্চে বসেছিলেন তিনি জার্মানির বিপক্ষে কোয়ার্টার ফাইনালে খেলেননি”।

    “মেসির মধ্যে একটা বিষাদ ছিল, একটা তাগিদ ছিল, শিশুসুলভ কিছু ব্যাপার ছিল যা আমরা কাতারে দেখেছি”।

    “মানুষের আবেগের পরিপক্ক হয়ে ওঠার চূড়ান্ত এক রূপ দেখেছি।”

    “প্রায় দুই দশকের ক্যারিয়ারে এই বেড়ে ওঠা দেখাটা আসলেই দারুণ”।

    এবার কী তবে মেসির বয়স হলো, তিনি কি প্রয়াত ম্যারাডোনার সংস্পর্শ পেয়েছেন, তিনি কি রোজারিওতে ফেলে আসা ছোট মেসিকে ফিরে পেয়েছেন। যাই চলুক না কেন মেসির মনে মধ্যে মধ্যপ্রাচ্যে সেটা তাকে সাহায্য করেছে জয়ী মেডেলটি জিততে।

    মার্টিনেজ বলেন, “এই বিশ্বকাপের পর আমার মনে হয়, মেসি ফুটবলকে সম্পূর্ণ করেছে”।

    সূত্র : বিবিসি বাংলা

  • টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের দ্বিতীয় আসর থেকে বাংলাদেশ পাবে ১ লাখ ডলার

    টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের দ্বিতীয় আসর থেকে বাংলাদেশ পাবে ১ লাখ ডলার

    হ্যালো বাংলা ডেস্ক: দ্বিতীয় টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের ফাইনালে মুখোমুখি হবে ভারত ও অস্ট্রেলিয়া । আগামী ৭ জুন ইংল্যান্ডের  ওভালে এই ফাইনাল ম্যাচ অনুষ্ঠিত হবে। এ ম্যাচ দিয়ে পর্দা নামবে দ্বিতীয় আসরের। ফাইনালের আগে দ্বিতীয় টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের ২০২১-২৩ চক্রের প্রাইজমানি ঘোষণা করেছে ক্রিকেটের নিয়ন্ত্রক সংস্থা ইন্টারন্যাশনাল ক্রিকেট কাউন্সিল (আইসিসি)।

    নয় দলের দ্বিতীয় টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপে সব মিলিয়ে ৩.৮ মিলিয়ন ডলার প্রাইজমানি নির্ধারণ করেছে আইসিসি। এরমধ্যে ১ লাখ ডলার পাবে বাংলাদেশ। টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের প্রথম আসরেও প্রাইজমানির পরিমান একই ছিলো।

    এবারের আসরের চ্যাম্পিয়ন দল পাবে ১.৬ মিলিয়ন ডলার। রানার্স-আপ দল পাবে ৮ লাখ ডলার। টেবিলের শীর্ষ দুই দল হিসেবে  ফাইনালের টিকিট পায় ভারত ও অস্ট্রেলিয়া।

    টেবিলের তৃতীয় স্থানে থকা  দক্ষিণ আফ্রিকা  পাবে ৪ লাখ ৫০ হাজার ডলার। চতুর্থ স্থানের দল  ইংল্যান্ড পাবে ৩ লাখ ৫০ হাজার ডলার।

    টেবিলের পঞ্চম স্থানে থাকায় ২ লাখ ডলার পাচ্ছে লঙ্কানরা। টেবিলের ষষ্ঠ থেকে নবমস্থানে থাকা দলগুলো সমান এক লাখ ডলার করে পাবে। ষষ্ঠ থেকে নবমস্থানে থাকা দলগুলো হলো- গেল আসরের চ্যাম্পিয়ন নিউজিল্যান্ড, পাকিস্তান, ওয়েস্ট ইন্ডিজ ও বাংলাদেশ।

    প্রথম আসরের ফাইনালে ভারতকে ৮ উইকেটে হারিয়ে চ্যাম্পিয়ন হয়েছিলো নিউজিল্যান্ড। এবার টেবিলের ষষ্ঠ স্থানে কিউইরা। সপ্তম ও অষ্টমস্থান আছে যথাক্রমে- পাকিস্তান ও ওয়েস্ট ইন্ডিজ। টেবিলের নবম ও শেষস্থানে থেকে আসর শেষ করেছে বাংলাদেশ।

    সূত্র: বাসস

  • আইপিএলের রুদ্ধশ্বাস ফাইনালে অবিশ্বাস্য জয় চেন্নাইয়ের

    আইপিএলের রুদ্ধশ্বাস ফাইনালে অবিশ্বাস্য জয় চেন্নাইয়ের

    হ্যালো বাংলা ডেস্ক: গত বছর লিগ পর্বে নিজেদের শেষ ম্যাচে হেরে যখন নবম স্থানে থেকে বিদায় নিচ্ছে চেন্নাই সুপার কিংস, দলের অধিনায়ক মহেন্দ্র সিংহ ধোনি জানিয়েছিলেন, এই ব্যর্থতা ভুলে পরের বার সমর্থকদের মনে হাসি ফোটাতে চান তাঁরা। এ বছর সেটাই করে দেখালেন ধোনিরা। অবশ্য গতবার রবীন্দ্র জাদেজা ছিলেন দলের নেতৃত্বে। মাঝপথে আবার দলের হাল ধরেন ধোনি। এবার তাঁর নেতৃত্বেই গতবারের চাম্পিয়ন গুজরাটক ৫ উইকেটে হরিয়ে পঞ্চম বারের জন্য ট্রফি জিতলেন ধোনিরা। ছুঁয়ে ফেললেন মুম্বই ইন্ডিয়ান্সকে।

    রুদ্ধশ্বাস ম্যাচে শেষ ২ বলে জিততে দরকার ছিল ১০ রান। মোহিত শর্মা তার আগের চারটি বলে মাত্র ৩ রান দিয়েছিলেন। দেখে মনে হচ্ছিল চ্যাম্পিয়ন হওয়া সময়ের অপেক্ষা গুজরাত টাইটান্সের। কিন্তু শেষ ২ বলে বদলে গেল খেলার সব হিসেব। পঞ্চম বলে ছক্কা মারলেন রবীন্দ্র জাদেজা। শেষ বলে চার মেরে দলকে জিতিয়ে দিলেন রবীন্দ্র জাদেজা। পঞ্চম বারের জন্য আইপিএল চ্যাম্পিয়ন হলেন মহেন্দ্র সিংহ ধোনি।

    প্রথমে ব্যাট করে ২০ ওভারে ২১৪ রানের পাহাড় গড়ে গুজরাট টাইটান্স। বৃষ্টি আইনে ১৫ ওভারে ১৭১ রানের টার্গেট পায় চেন্নাই সুপার কিংস। ম্যাচের শেষ দুই বলে ১০ রানের প্রয়োজনে ১টি করে চার-ছক্কায় চেন্নাইকে অবিশ্বাস্য জয়ের স্বাদ দেন অলরাউন্ডার রবীন্দ্র জাদেজা।

    আহমেদাবাদের নরেন্দ্র মোদি স্টেডিয়ামে রিজার্ভ ডে’তে গড়ানো গতরাতের ফাইনালে টস জিতে প্রথমে বোলিং করতে নামে চেন্নাই। ব্যাট হাতে নেমে গুজরাটকে ৭ ওভারে ৬৭ রানের সূচনা এনে দেন দুই ওপেনার ঋদ্ধিমান সাহা ও সুবমান গিল। জাদেজার বলে ধোনির দুর্দান্ত স্টাম্পিংয়ের ফাঁদে পড়ে ২০ বলে ৭টি চারে ৩৯ রান করে থামেন ফর্মের তুঙ্গে থাকা গিল। এ নিয়ে আইপিএলে নিজের ২৫০তম ম্যাচে  ৩০০তম ডিসমিসাল করেন ধোনি।

    গিল ফেরার পর তিন নম্বরে নামা সাই সুদর্শনকে নিয়ে গুজরাটের রানের চাকা দ্রুত ঘুড়িয়েছেন ঋদ্ধি। দ্বিতীয় উইকেটে ৪২ বলে ৬৪ রান যোগ করেন তারা। এই জুটিতে হাফ-সেঞ্চুরি তুলে পেসার দীপক চাহারের বলে আউট হন ৫টি চার ও ১টি ছক্কায় ৩৯ বলে ৫৪ রান করা ঋদ্ধি।

    ১৪তম ওভারে দলীয় ১৩১ রানে ঋদ্ধি ফিরলেও গুজরাটের রান তোলায় ভাটা পড়েনি। ব্যাট হাতে চেন্নাইয়ের বোলারদের শাসন করেছেন সুদর্শন। তার চার-ছক্কায় তোপে ১৯তম ওভারেই ২শ রান পায় গুজরাট। ঐ সময় ৮৪ রানে অপরাজিত ছিলেন সুদর্শন। পেসার মাথিশা পাথিরানার করা ইনিংসের শেষ ওভারের প্রথম দুই ছক্কা মেরে সেঞ্চুরির সম্ভাবনা জাগান সুদর্শন। কিন্তু তৃতীয় বলে আউট হলে সেঞ্চুরি বঞ্চিত হন । ৮টি চার ও ৬টি ছক্কায় ৪৭ বলে ৯৬ রান করেন সুদর্শন। শেষ দিকে অধিনায়ক হার্দিক পান্ডিয়ার ১২ বলে অপরাজিত ২১ রানের সুবাদে ২০ ওভারে ৪ উইকেটে ২১৪ রানের বড় সংগ্রহ পায় গুজরাট। চেন্নাইয়ের পাথিরানা ৪৪ রানে ২ উইকেট নেন।

    এরপর চেন্নাই ইনিংসে ৩ বল হবার পর বৃষ্টিতে বন্ধ হয় খেলা। প্রায় দুই ঘন্টা খেলা বন্ধ থাকলে বৃষ্টি আইনে ১৫ ওভারে ১৭১ রানের নতুন টার্গেট পায় চেন্নাই। ৩৯ বল খেলে ৭৪ রানের সূচনা করেন চেন্নাইয়ের দুই ওপেনার ঋুতুরাজ গায়কোয়াড় ও নিউজিল্যান্ডের ডেভন কনওয়ে। সপ্তম ওভারে দ্বিতীয়বারের মত আক্রমনে এসে চেন্নাইয়ের দুই ওপেনারকে বিদায় দেন গুজরাটের আফগানিস্তানী স্পিনার নূর আহমেদ। গায়কোয়াড় ১৬ বলে ২৬ এবং কনওয়ে ২৫ বলে ৪৭ রান করেন।

    ৭৮ রানের মধ্যে দুই ওপেনারকে হারিয়ে চাপে পড়লেও আজিঙ্কা রাহানের মারমুখী ব্যাটিংয়ে লড়াইয়ের থাকে চেন্নাই। ২টি করে চার-ছক্কায় ১৩ বলে ২৭ রান করে আউট হন রাহানে। উইকেটে এসেই রাহানের পথ অনুসরণ করে দ্রুত ব্যাট চালিয়ে ৮ বলে ১টি চার ও ২টি ছক্কায় ১৯ তুলে ফিরেন আইপিএলে শেষ ম্যাচ খেলতে নামা আম্বাতি রাইদু। এরপর ক্রিজে এসে প্রথম বলেই ক্যাচ আউট হন অধিনায়ক ধোনি। রাহানে-রাইদু ও ধোনির উইকেট নেন পেসার মোহিত শর্মা।

    শেষ দুই ওভারে ২২ রানের প্রয়োজন পড়ে চেন্নাইয়ের। ১৪তম ওভারে ৮ রান তুলতে পায় চেন্নাই। মোহিতের করা শেষ ওভারে ১৩ রানের দরকারে প্রথম চার বলে মাত্র ৩ রান পায় চেন্নাই। এতে শেষ দুই বলে ১০ রানের সমীকরণ পায় তারা। পঞ্চম বলে লং-অন দিয়ে ছক্কা মারেন জাদেজা। শেষ বলে ৪ রানের দরকারে শর্ট ফাইন লেগ দিয়ে বাউন্ডারি আদায় করে জয় নিশ্চিত করেন জাদেজা। ৬ বলে অপরাজিত ১৫ রান করেন জাদেজা। ২টি ছক্কায় ২১ বলে অনবদ্য ৩২ রানের দায়িত্বশীল ইনিংস খেলেন শিবম দুবে। গুজরাটের মোহিত ৩টি ও নূর ২টি উইকেট নেন। ম্যাচ সেরা হন কনওয়ে এবং টুর্নামেন্ট সেরা হয়েছেন গিল।

    আহমেদাবাদের নরেন্দ্র মোদি স্টেডিয়ামে এবার গুজরাট ফেবারিট হলেও ধনিকে সমর্থন দিয়েছে সারা স্টেডিয়ামের দর্শকরা। সম্ভবত এটাই ছিলো ধনির শেষ আইপিএল তাই স্টেডিয়ামের হলুদ জার্সি পরে তাঁকে স্বাগত জানিয়েছে অধিকাংশ দর্শক। শুধু তাই নয় ম্যাচ শেষে রবীন্দ্র জাদেজা বলেন, “আমরা আমাদের এই শিরোপা ধোনিকে উৎসর্গ করছি”।

    রানার আপ দলের অধিনায়ক হার্দিক পান্ডিয়া বলেছেন, “আমি হেরেছি, খারাপ লাগছে কিন্তু ধোনির কাছে হেরেছি তাই আমি মনে করি এতে কোনও সমস্যা নেই”

    সূত্র : বাসস

  • আজও বৃষ্টি হলে যে নিয়মে হবে আইপিএলের ফাইনাল ম্যাচ

    আজও বৃষ্টি হলে যে নিয়মে হবে আইপিএলের ফাইনাল ম্যাচ

    হ্যালো বাংলা ডেস্ক: গতকাল রবিবার সন্ধ্যায় বৃষ্টির কারণে ভেস্তে গেল আইপিএলের ফাইনাল। চেন্নাই সুপার কিংস বনাম গুজরাট টাইটান্স ম্যাচে একটি ওভারও খেলা হয়নি। তবে যেহেতু ফাইনাল ম্যাচ তাই সোমবার রিজার্ভ ডে হিসাবে রাখা হয়েছে। রাত ৭.৩০ মিনিটে টস হবে। রাত ৮টা থেকে খেলা শুরু। একই নিয়মে খেলা হবে। তবে যদি সেমবারও খেলা না হয়, তা হলে চ্যাম্পিয়ন হয়ে যাবে গুজরাট টাইটান্স। কারণ, পয়েন্ট তালিকায় গুজরাটই শীর্ষে রয়েছে। রানার্স হবেন চেন্নাই ।

    দুপুর-বিকেল থেকেই দর্শকরা ভিড় জমাতে শুরু করেন রবিবার নরেন্দ্র মোদী স্টেডিয়ামে । অনেকেই ধরে নিয়েছেন এটিই ধোনির শেষ ম্যাচ। তাই হলুদ জার্সি গায়ে দর্শকরা আসেন স্টেডিয়ামে। গুজরাট টাইটান্সের ঘরের মাঠে খেলা হলেও দেখে তা বিন্দুমাত্র বোঝার উপায় ছিল না। এ বারের আইপিএলে ধোনি যখন যে শহরে খেলেছেন, সর্বত্রই এই একই ছবি দেখা গিয়েছে।

    আগে থেকেই রবিবার আহমেদাবাদে বৃষ্টির পূর্বাভাস ছিল। সেই মতো সন্ধ্যা নামতেই শুরু হয় বৃষ্টি। বেশ জোরে বৃষ্টি হচ্ছিল। ফলে মাঠ ঢাকা ছিল কভারে। কিন্তু আউটফিল্ডে বেশ কিছু জায়গায় জল জমতে শুরু করেছিল। যে বেগে বৃষ্টি হচ্ছিল, তাতে ফাইনাল রবিবার হবে কি না তা নিয়ে সংশয় শুরু হয়।

    বৃষ্টি আইনে যে নিয়মে ফাইনাল খেলা হবে:

    আজকেও যদি বৃষ্টি হয় তাহলে খেলা শুরু হওয়ার কাট অফ টাইম (যে সময়ের মধ্যে খেলা শুরু হলে অন্তত ৫ ওভার করে খেলা হবে) জানিয়ে দিয়েছে আইপিএল কতৃপক্ষ। রাত ১০.০৫ মিনিট পর্যন্ত সময় ছিল। অর্থাৎ, রাত ১০.০৫ মিনিটের আগে যদি খেলা শুরু করা যেত তা হলে এক ওভারও কমত না। পুরো ৪০ ওভারের খেলা হত।

    আর বৃষ্টি দেরিতে থামলে খেলা পরে শুরু হলে, সেই ক্ষেত্রে খেলার ফয়সালা হতে গেলে দু’টি দলকে অন্তত ৫ ওভার করে খেলতে হত। অর্থাৎ, মোট ১০ ওভারের খেলা করাতেই হত। সেই খেলা শুরু হওয়ার শেষ সময় ছিল রাত ১২.৩৬ মিনিট। অর্থাৎ, তার মধ্যে খেলা শুরু না হলে খেলা ভেস্তে যাবে। চাম্পিয়ন হবে গুজরাট টাইটান্স।

    সূত্র : আনন্দবাজার পত্রিকা

  • আইপিএল ফাইনালে আজ মুখোমুখি হচ্ছে চেন্নাই ও গুজরাট

    আইপিএল ফাইনালে আজ মুখোমুখি হচ্ছে চেন্নাই ও গুজরাট

    হ্যালো বাংলা ডেস্ক: গত বছর প্রথম খেলতে এসেই আইপিএল জয়ের স্বাদ পেয়েছিল গুজরাট । অপর দিকে মহেন্দ্র সিংহ ধোনির চেন্নাই সুপার কিংস আইপিএলের দ্বিতীয় সফল দল। চার বার আইপিএল ট্রফি জিতেছেন ধোনিরা।  টানা দু’বার আইপিএল ফাইনাল খেলবেন হার্দিকরা। উল্টো দিকে গত বার লিগ টেবিলে ন’নম্বরে শেষ করা চেন্নাই এ বার ফাইনালে। মর্যাদা রক্ষার লড়াইয়ে ধোনিরা। অন্য দিকে হার্দিকরা চাইবেন চ্যাম্পিয়নের তকমা ধরে রাখতে। আজ রবিবার আইপিএলের ফাইনালে আহমেদাবাদে মুখোমুখি চেন্নাই এবং গুজরাট।

    এ বারের আইপিএল শুরু হয়েছিল এই দুই দলের খেলা দিয়েই। সে বার গুজরাত জিতেছিল পাঁচ উইকেটে। পরে প্রথম কোয়ালিফায়ারে আবার মুখোমুখি হয় চেন্নাই এবং গুজরাট। সেই ম্যাচ ১৫ রানে জিতে সরাসরি ফাইনালের টিকিট পেয়ে যান ধোনিরা। গুজরাট দ্বিতীয় কোয়ালিফায়ারে হারায় পাঁচ বারের আইপিএলজয়ী মুম্বই ইন্ডিয়ান্সকে। এ বার ট্রফির লড়াইয়ে নামবে দুই দল। যে ম্যাচ হারলে আগের সব জয়ের উৎসবই ম্লান হয়ে যাবে। ১৬তম আইপিএলে দশম বার ফাইনাল খেলছে চেন্নাই। এর মধ্যে চার বার জিতেছে। অর্থাৎ বাকি ছ’বার হারতে হয়েছে ধোনিদের।

    চেন্নাই দলের কোচ স্টিফেন ফ্লেমিং ফাইনালের আগে বলেন, “ফাইনালে আমরা পরিবেশ, পরিস্থিতি নিয়ে ভাবছি না। দু’রকমের পিচ রয়েছে আহমেদাবাদে। কোনও একটা বেছে নেওয়া হবে। কিন্তু আমরা সেই নিয়ে কোনও চিন্তা করছি না। গত বারের থেকে অনেক ভাল জায়গায় রয়েছে আমাদের দল।”

    চেন্নাই দলের হয়ে ব্যাট হাতে রুদ্ররাজ গায়কোয়াড় এবং ডেভন কনওয়ে ছন্দে রয়েছেন। কিছু ম্যাচে রান পেয়েছেন শিবম দুবে। ধোনি শেষের দিকে নেমে কয়েক বলে রানের গতি বাড়িয়ে দিচ্ছেন। রবীন্দ্র জাদেজা রান পাচ্ছেন। বল হাতে মাথিশা পাথিরানা ভয় ধরাচ্ছেন ব্যাটারদের মনে। স্পিনারদের মধ্যে জাদেজা, মইন আলি এবং মাহেশ থিকসানা ছন্দে রয়েছেন। ফাইনালেও তাঁদের উপর ভরসা করেই দল গড়বেন ধোনি। তবে মইন ব্যাট খুব একটা হাসেনি এবার।

    অন্য দিকে গুজরাত দলে একাধিক ম্যাচ জেতানো ক্রিকেটার রয়েছেল বলে বিশ্বাস করেন হার্দিক। এবার আইপিএলে সবার আগে প্লে-অফের যোগ্যতা অর্জন করেছে গুজরাট ধারাবাহিকতা দেখিয়েছে শুরু থেকে। প্রতিটি ক্রিকেটারের মধ্যে আত্মবিশ্বাস দেখা গিয়েছে। গত বার নতুন অধিনায়ক ছিলেন হার্দিক এ বার অনেক বেশি পরিণত। তাঁর মধ্যেও আত্মবিশ্বাস দেখা যায়। ধোনিদের বিরুদ্ধে কোয়ালিফায়ারে হেরে যাওয়ার পরেও তাঁর মুখে ফাইনাল খেলার কথা শোনা গিয়েছিল। ঘরের মাঠে ফাইনাল হওয়ায় কিছুটা সুবিধা হার্দিকদের।

    সূত্র : আনন্দবাজার পত্রিকা

  • মুম্বাইকে ৬২ রানে হারিয়ে ফাইনালে গুজরাট

    মুম্বাইকে ৬২ রানে হারিয়ে ফাইনালে গুজরাট

    হ্যালো বাংলা ডেস্ক: ইন্ডিয়ান প্রিমিয়ার লিগের দ্বিতীয় কোয়ালিফাইয়ারে গুজরাট ৬২ রানে হারিয়েছে মুম্বাইকে। আর এই জয় এসেছে ওপেনার শুভমান গিলের সেঞ্চুরি ও পেসার মোহিত শর্মার দুর্দান্ত বোলিং নৈপুন্যে মুম্বাই ইন্ডিয়ান্সকে বিদায় করে আইপিএলের ফাইনাল নিশ্চিত করেছে বর্তমান চ্যাম্পিয়ন গুজরাট টাইটান্স। ৬০ বলে ১২৯ রানের ম্যাচ জয়ী ইনিংস খেলেন গিল। বল হাতে ১০ রানে ৫ উইকেট নেন মোহিত। ফাইনালে  গুজরাটের প্রতিপক্ষ  মহেন্দ্র সিং ধোনির চেন্নাই সুপার কিংস।

    আহমেদাবাদে টস হেরে প্রথমে ব্যাট করতে নামে গুজরাট। উইকেটরক্ষক ঋদ্ধিমান সাহাকে নিয়ে ৩৮ বলে ৫৪ রানের সূচনা করেন গিল। ১৬ বলে ১৮ রান করে মুম্বাই স্পিনার পিযুষ চাওলার শিকার হন ঋদ্ধি। দ্বিতীয় উইকেটে সাই সুদর্শনের সাথে ৬৪ বলে ১৩৮ রান যোগ করেন গিল। এই জুটিতেই ৪৯ বলে এই মৌসুমে তৃতীয় সেঞ্চুরি করেন  গিল। সর্বশেষ চার ম্যাচে তিনটি সেঞ্চুরি করলেন তিনি।

    ১৭তম ওভারে দলীয় ১৯২ রানে গিলকে থামান  পেসার আকাশ মাধওয়াল। ৭টি চার ও ১০টি ছক্কায় ৬০ বলে ১২৯ রান করেন গিল। এই ইনিংস খেলার পথে এবারের আসরে এ পর্যন্ত সর্বোচ্চ ৮৫১ রান করেন   গিল। আইপিএল ইতিহাসে চতুর্থ ক্রিকেটার হিসেবে এক আসরে ৮শ বা তার বেশি রানের নজির গড়লেন গিল। এর আগে এক আসরে ৮শ বা তার বেশি রান করেছিলেন বিরাট কোহলি, ডেভিড ওয়ার্নার ও জস বাটলার।

    গিল ফেরার পর সুদর্শন ৩১ বলে ৪৩ ও অধিনায়ক হার্ডিক পান্ডিয়া ১৩ বলে অপরাজিত ২৮ রান করেন। এতে ২০ ওভারে ৩ উইকেটে ২৩৩ রানের পাহাড় পড়ে গুজরাট।

    জবাবে ২১ রানের মধ্যে দুই ওপেনার নেহাল ওয়াহধেরা ও অধিনায়ক রোহিত শর্মাকে হারিয়ে চাপে পড়ে মুম্বাই। এরপর অস্ট্রেলিয়ার ক্যামেরুন গ্রিন ২০ বলে ৩০ ও তিলক ভার্মা ১৪ বলে ৫টি চার ও ৩টি ছক্কায় ৪৩ রানে আউট হন। এক প্রান্ত আগলে মারমুখী মেজাজে হাফ-সেঞ্চুরি তুলে মুম্বাইয়ের জয়ের আশা বাঁচিয়ে রাখেন সূর্যকুমার যাদব।

    ১৫তম ওভারে প্রথমবারের মত আক্রমনে এসে মুম্বাইয়ের ব্যাটিং লাইন-আপে ধস নামান মোহিত। এতে ১০ বল বাকী থাকতে ১৭১ রানে অলআউট হয় মুম্বাই। বল হাতে মাত্র ১৪ ডেলিভারিতে ১০ রানে ৫ উইকেট নেন মোহিত। টি-টোয়েন্টিতে এটিই ক্যারিয়ার সেরা বোলিং মোহিতের। মুম্বাইয়ের পক্ষে ৩৮ বলে সর্বোচ্চ ৬১ রান করেন সূর্য। ম্যাচ সেরা হন গিল।

    আগামীকাল রবিবার  রাত ৮টায় আহমেদাবাদে আইপিএলের ফাইনালে চেন্নাই সুপার কিংসের মুখোমুখি হবে গুজরাট।

    সূত্র: বাসস

  • ডট বল মানেই পাঁচশ গাছ – আইপিএলের পরিবেশ বান্ধব নতুন নিয়ম

    ডট বল মানেই পাঁচশ গাছ – আইপিএলের পরিবেশ বান্ধব নতুন নিয়ম

    হ্যালো বাংলা ডেস্ক: আইপিএলের প্লে-অফের নতুন নিয়ম করা হয়েছে যা পরিবেশ বান্ধব এবং সবার কাছে প্রশংসিত হয়েছে। নতুন নিয়ম অনুসারে প্রতি ডট বলের জন্য পাঁচশ গাছ লাগানোর উদ্যোগ নিয়েছে বিসিসিআই। ফলে প্রথম ম্যাচের মোট ডট বলের হিসেব অনুযায়ী ৪২ হাজার গাছ লাগানো হবে! কেননা এই ম্যাচে মোট ৮৪টি ডট বল হয়েছে। গতকাল মঙ্গলবার প্রথম কোয়ালিফায়ার ম্যাচে মুখোশুখি হয়েছিল চেন্নাই ও গুজরাট টাইটান্স।

    চেন্নাই প্রথমে ব্যাট করে ২০ ওভারে ১৭২ রান তুলে । চেন্নাইয়ের নিয়ন্ত্রিত বোলিংয়ে ১৫৭ রানে থেমে যায় গুজরাট। ফলে ১৫ রানের জয়ে প্রথম দল হিসেবে চেন্নাই আইপিএলের ফাইনালে উঠেছে। এ নিয়ে রেকর্ড দশমবারের মতো ফাইনালে উঠল চারবারের চ্যাম্পিয়ন চেন্নাই।

    প্রথম কোয়ালিফায়ার চলাকালীন একটা বিষয় হয়তো সবারই নজর কেড়েছে। ওভারের যে ডেলিভারিতে কোনো রান হচ্ছে না অর্থাৎ ডট বল হচ্ছে, স্কোরকার্ডে সেই বলগুলোর জায়গায় প্রতীকি গাছ দেখানো হচ্ছে! যা আগে কখনও দেখা যায়নি। মূলত আইপিএলের প্লে-অফ পর্বে বোলাররা যতগুলো ডট বল করতে পারবেন, সেই প্রত্যেকটি ডট বলের জন্য ৫০০টি করে চারাগাছ রোপন করবে বিসিসিআই। সেই উদ্যোগটির কথা দর্শকদের বারবার স্মরণ করিয়ে দেওয়ার জন্যই প্রতিটা ডট বলের চিহ্ন হিসেবে গাছের চিহ্ন ব্যবহার করা হচ্ছে।

    প্লে-অফে সবুজায়নের ওপর বেশি জোর দিয়েছে আইপিএল কর্তৃপক্ষ। সেই কারণেই এই সিদ্ধান্ত। প্রতিযোগিতা শেষ হওয়ার পরে দেশ জুড়ে লাগানো হবে সেসব চারাগাছ। বিশ্ব উষ্ণায়নের সময় ভারতে সবুজ বাড়াতে এই উদ্যোগ নিয়েছে আইপিএল।

    জানা গেছে, গুজরাট-চেন্নাই ম্যাচে ৮৪টি ডট বল হয়েছে। এসব বলে দু’দলের ব্যাটাররা কোনো রান করতে পারেননি। প্রতি ডটে পাঁচশ গাছ বরাদ্দ হলে, প্রথম ম্যাচের ৮৪ বলের জন্য বরাদ্দ হবে ৪২ হাজার গাছ। এখনও প্লে-অফ এবং ফাইনাল মিলিয়ে আইপিএলের তিনটি ম্যাচ বাকি আছে। ফলে সেই গাছের সংখ্যা বাড়তে পারে কয়েক গুণ।

    আজ (২৪ মে) এলিমিনেটর ম্যাচে মুখোমুখি হবে মুম্বাই ইন্ডিয়ান্স ও লখনৌ সুপার জায়ান্টস। তাদের মধ্যে বিজয়ী দল মুখোমুখি হবে প্রথম কোয়ালিফায়ারে পরাজিত হওয়া দল গুজরাটের বিপক্ষে। এরপর বিজয়ী দল ফাইনালে চেন্নাইয়ের বিপক্ষে লড়বে।

  • আজ থেকে শুরু হচ্ছে আইপিএলের শীর্ষ চারটি দলের প্লে অফ ম্যাচ

    আজ থেকে শুরু হচ্ছে আইপিএলের শীর্ষ চারটি দলের প্লে অফ ম্যাচ

    আজ ২৩ মে থেকে শুরু হচ্ছে ইন্ডিয়ান প্রিমিয়ার লিগের শীর্ষ চারটি দলের প্লে অফ ম্যাচ। দুটি দল খেলবে এলিমিনেটর মানে হারলেই বাদ, শীর্ষ দুটি দলের জন্য থাকবে দ্বিতীয় সুযোগ।

    একবারও আইপিএলে রয়্যালস চ্যালেঞ্জার্স ব্যাঙ্গালোরের বিদায় সবচেয়ে আলোচিত বিষয়। ভিরাট কোহলির হয়তো কোনও আইপিএলে ট্রফি ছাড়াই ক্যারিয়ারের ইতি টানতে হতে পারে বলে অনুমান করছেন বিশ্লেষকরা।

    আইপিএলের পয়েন্ট টেবিল অনুযায়ী এক নম্বর দল গতবারের চ্যাম্পিয়ন গুজরাট টাইটান্স ও আইপিএলের ইতিহাসে সফলতম দল চেন্নাই সুপার কিংস আজ চেন্নাইয়ের চিপক স্টেডিয়ামে প্রথম কোয়ালিফায়ারে মুখোমুখি হবে, এই ম্যাচে যে দল হারবে তাদের থাকবে আরও একটি সুযোগ, আর যে দল জিতবে তারা সরাসরি ফাইনালে জায়গা করে নেবে।

    ২৪শে মে লক্ষ্ণৌ সুপার জায়ান্টস ও মুম্বাই ইন্ডিয়ান্স মুখোমুখি হবে, এই ম্যাচে যে দল জিতবে তারা ফাইনালে ওঠার জন্য ২৬শে মে মাঠে নামবে প্রথম কোয়ালিফায়ারে পরাজিত দলের বিপক্ষে।

    ভারতের তরুণ ক্রিকেটাররা এবারের আইপিএলে নজর কেড়েছেন, ইয়াশাভি জেয়সওয়ালের কথা আলাদাভাবে বলতে হয়, এখনও জাতীয় দলে অভিষেক হয়নি এমন ক্রিকেটারদের মধ্যে তিনি এক আইপিএল সর্বোচ্চ রানের রেকর্ড গড়েছেন এবারে, এর আগে এই রেকর্ড ছিল অস্ট্রেলিয়ান অলরাউন্ডার শন মার্শের ২০০৮ সালে।

    ইতোমধ্যে জাতীয় দলে খেলা শুভমন গিল আছেন আলোচনায়, দুটি শতক হাঁকিয়েছেন গুজরাট টাইটান্সের এই ওপেনার। বল হাতে অভিজ্ঞরাই এখনও পর্যন্ত সফল, গুজরাটের মোহাম্মদ শামি ও রাশিদ খান ২৪ উইকেট নিয়ে শীর্ষে আছেন, রাজস্থান রয়্যালসের য়ুজভেন্দ্র চাহাল আছেন তিন নম্বরে, তিনি নিয়েছেন ২১ উইকেট।

    ক্যারিয়ারের নতুন এক বাঁকে নিজেকে আবিষ্কার করেছেন পিয়ুস চাওলা, ৩৪ বছর বয়সী এই স্পিনার মুম্বাই ইন্ডিয়ান্সের হয়ে তিনি ২০টি উইকেট নিয়েছেন।

    গুজরাট টাইটান্সের শক্তিশালী স্কোয়াড:

    ভারতের হয়ে বেশ কিছু সিরিজে ভারপ্রাপ্ত অধিনায়ক হিসেবে কাজ করেছেন ইতোমধ্যে হার্দিক পান্ডিয়া। গুজরাট টাইটান্সকে গত মৌসুমে শিরোপা জিতিয়েছেন তিনি, এই মৌসুমে ব্যাট ও বল হাতে তেমন কার্যকরী না হলেও নিজের নেতৃত্বগুণের ভূয়সী প্রশংসা কুড়িয়েছেন পান্ডিয়া।

    দল হিসেবেও গুজরাট টাইটান্সের সমন্বয় নজর কাড়ার মতো। ভারতের দল থেকে বাদ পড়া ঋধিমান সাহার ওপর ভরসা রেখেছে টাইটান্স ম্যানেজমেন্ট, তিনি আত্মবিশ্বাসী শুরু এনে দিয়েছেন বেশ কটি ম্যাচে। সাথে ছিলেন শুভমন গিল, বাকি দুটি ম্যাচে তার সামনে সুযোগ চলমান ইন্ডিয়ান প্রিমিয়ার লিগের সর্বোচ্চ রানের মালিক হওয়ার। ১৪ ম্যাচে ১৫২ স্ট্রাইক রেটে ৬৮০ রান তুলেছেন শুভমন গিল। গিল এই মৌসুমে দুটি সেঞ্চুরি করেছেন, দুটি ইনিংস খেলেছেন ৯০ এর ঘরে।

    এই দলটিতে টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটের জন্য যথাযথ কজন ইমপ্যাক্ট ক্রিকেটার আছেন, যারা ম্যাচ উইনার হিসেবে ভূমিকা রেখেছেন, যেমন রাশিদ খান, তিনি ২৪ উইকেট তো নিয়েছেনই, প্রয়োজন অনুযায়ী ব্যাট হাতেও কার্যকরী ইনিংস খেলেছেন আফগানিস্তানের এই তারকা ক্রিকেটার। আফগানিস্তানের আরেক স্পিনার নুর আহমেদ ১০ ম্যাচ ১৩ উইকেট নিয়েছেন, ইকোনমি রেট ছিল আটের কম।

    আইপিএলের দুজন নামকরা ফিনিশার এবারে গুজরাট টাইটান্সের একাদশে নিয়মিত ছিলেন, রাহুল তেওয়াতিয়া ও ডেভিড মিলার। এই মৌসুমে মোহিত শর্মা উল্লেখযোগ্য পারফর্ম করেছেন টাইটান্সের হয়ে ১১ ম্যাচ খেলে ১৭টি উইকেট নিয়েছেন একসময় ভারতের জাতীয় দলে খেলা এই ফাস্ট বোলার। একটা সময় ক্রিকেটের আলোচনার বাইরে চলে গিয়েছিলেন এই বোলার, তিনি এবারে নিজের বেশ কিছু স্কিলে ধার দিয়েছেন, ব্যাক অফ দ্য হ্যান্ড বোলিং, স্লোয়ারে পরিপক্কতা দেখিয়েছেন যা গুজরাট টাইটান্সের বোলিং আক্রমণে শক্তি বাড়িয়েছে। গত মৌসুমেও লিগ পর্বে ১৪টি ম্যাচের মধ্যে ১০টিতেই জয় তুলে নিয়েছিল গুজরাট।

    চেন্নাই মানেই ধোনি:

    মৌসুম শুরুর আগে কেউই চেন্নাই সুপার কিংস প্লে অফ খেলবে এমন অনুমান করেননি। একরকম বাতিলের খাতায় থাকা একটা দল নিয়ে মহেন্দ্র সিং ধোনি এখন ফাইনাল থেকে এক ম্যাচ জয় দূরত্বে দাঁড়িয়ে। ধোনি ব্যাট হাতে তেমন প্রভাব রাখেননি, বড় কোনও ইনিংস খেলেননি, কিন্তু এবার যে মাঠেই চেন্নাই খেলেছে ধোনির স্তুতি ছিল স্টেডিয়াম-জুড়ে। অনেকেই ধারণা করে নিয়েছেন ৪১ বছর বয়সী ধোনি হয়তো আর আইপিএল খেলবেন না, এবারই শেষ, প্রতি ম্যাচেই একরকম ফেয়ারওয়েলের আয়োজন করেছে বিভিন্ন রাজ্যের ধোনির একনিষ্ট সমর্থকরা। এখানে কে কোন দলের সমর্থক সেটা বিবেচনায় আসেনি, অনেকেই ধোনির জন্য হলুদ জার্সি গায়ে জড়িয়ে মাঠে এসেছেন।

    অধিনায়ক ধোনি এবারের আইপিএলের সাফল্যের মন্ত্র বলেছেন, ‘সেরা একটা একাদশ গঠন এবং যার যার জায়গামতো খেলার স্বাধীনতা দেয়া’।

    ঋতুরাজ গ্যায়কোয়াদ, ডেভন কনওয়েরা ধোনিকে হতাশ করেননি, দুজনই ১৪ ম্যাচ খেলে ৫০০ এর ওপর রান তুলেছেন।

    সাথে যোগ হয়েছেন নতুন মালিঙ্গা খ্যাত মাথিসা পাথিরানা, যিনি ২০২০ সালের অনুর্ধ্ব ১৯ বিশ্বকাপে প্রথম আলোচনায় এসেছিলেন শ্রীলঙ্কার কিংবদন্তী লাসিথ মালিঙ্গার মতো বোলিং অ্যাকশনের কারণে। পাথিরানার বলে আক্রমণাত্মক ক্রিকেট খেলা ব্যাটারদের জন্য কঠিন, তিনি ওভার-প্রতি সাড়ে সাতের মতো রান দিয়েছেন গোটা আইপিএলে, ১০ ম্যাচে নিয়েছেন ১৫ উইকেট।

    ইন্ডিয়ান প্রিমিয়ার লিগ ইতিহাসের প্রথম ইমপ্যাক্ট ক্রিকেটার তুষার দেশপান্ডেও দারুণ করেছেন, ১৪ ম্যাচে নিয়েছেন ২০টি উইকেট। সাথে ছিলেন ভারতের নামকরা অলরাউন্ডার রাভিন্দ্রা জাদেজা, বল হাতে তিনি ম্যাচ জিতিয়েছেন এবারের আইপিএলে। চেন্নাইয়ের হয়ে শিভাম দুবে দারুণ ব্যাট করেছেন এই মৌসুমে, ১৬০ স্ট্রাইক রেটে ৩৮৫ রান তুলেছেন এই ক্রিকেটার, যিনি অলরাউন্ডার থেকে এখন ব্যাটারের ভূমিকা পালন করতে বেশি স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করছেন।

    ঘুরে দাঁড়িয়েছে মুম্বাই ইন্ডিয়ান্স :

    মুম্বাই ইন্ডিয়ান্স এবারে আইপিএলের প্লে অফে জায়গা করে নিয়েছে রোহিত শর্মার নেতৃত্বে। জফরা আর্চারের চোট, জসপ্রিত বুমরার না থাকা মুম্বাইয়ের আইপিএল ২০২৩ মিশনে খুব বেশি প্রভাব রাখেনি শেষ পর্যন্ত। পিয়ুস চাওলা এবার দারুণ বল করেছেন, অস্ট্রেলিয়ার জেসন বেহরেনড্রফও দারুণ বল করেছেন। তবে মুম্বাই ইন্ডিয়ান্সের মূল শক্তির জায়গা হয়ে দাঁড়িয়েছে দলটির ব্যাটিং লাইন আপ, রোহিত শর্মার মতো ক্রিকেটার অফ-ফর্মে থাকার পরেও যেভাবে ব্যাট করেছে দলটি সেটা ছিল দেখার মতো। এটা সম্ভব হয়েছে দলটির তারকা সুরিয়াকুমার ইয়াদাভ ফর্মে ফেরার কারণে, আইপিএল শুরুর আগে বাজে সময় কাটাচ্ছিলেন মুম্বাইয়ের এই মারকুটে ব্যাটার। আইপিএলে ফিরেই তিনি নিজের চেনা রূপে খেলেছেন, ১৪ ম্যাচে ১৮৫ স্ট্রাইক রেট ও ৪২ গড়ে তুলছেন ৫১১ রান, যার মধ্যে একটি শতক ও চারটি ফিফটি রয়েছে। টপ অর্ডারে ভালো ব্যাট করেছেন ভারতের তরুণ সেনসেশন ইশান কিশান, তিনি রান তুলেছেন ৪৩৯।

    প্লে অফে উত্তীর্ণ হওয়ার আগে শেষ ম্যাচে ক্যামেরন গ্রিন নায়কোচিত এক ইনিংস খেলেছেন সানরাইজার্স হায়দ্রাবাদের বিপক্ষে, তিনি ৪৭ বলে তুলেছেন অপরাজিত ১০০ রান, যেখানে ছিল আটটি চার ও আটটি ছক্কা।

    তবে এবারের আইপিএলে মুম্বাইয়ের ম্যাচ উইনার হিসেবে আবির্ভূত হয়েছেন তিলক ভার্মা, এর আগেও ইন্ডিয়ান প্রিমিয়ার লিগে ভালো খেলে আলোচনায় এসেছিলেন তিনি কিন্তু এবারের মৌসুমে তিনি ছিলেন আরও কার্যকরী, ১৫৮ স্ট্রাইক রেটে ব্যাট করে ৯ ম্যাচে ২৭৪ রান তুলেছেন এই ব্যাটার।

    শেষ মুহূর্তে লক্ষ্ণৌ সুপার জায়ান্টস শেষ চারে:

    লক্ষ্ণৌ সুপার জায়ান্টস শেষ ম্যাচে কলকাতা নাইট রাইডার্সকে এক রানে হারিয়ে শেষ চারে খেলা নিশ্চিত করেছে। লক্ষ্ণৌয়ের আইপিএল ২০২৩ কেটেছে পুরোপুরি টিমওয়ার্কের ওপর ভর করে, রানের দিক থেকে সেরা দশ ব্যাটারের মধ্যে নেই লক্ষ্ণৌয়ের কোনও ব্যাটসম্যান। কিন্তু প্রভাব বিস্তার করা ব্যাট করেছেন অস্ট্রেলিয়ান অলরাউন্ডার মার্কাস স্টয়নিস ও ওয়েস্ট ইন্ডিজের নিকোলাস পুরান, দুজনই সমান ২৬টি ছক্কা হাঁকিয়েছেন এবারের আইপিএলে। পুরান ১৭৩ স্ট্রাইক রেটে ব্যাট করেছেন।

    গোটা মৌসুমই উত্থান পতনের মধ্য দিয়ে গেছে দলটি, প্রথম দিকে নিয়মিত অধিনায়ক লোকেশ রাহুল থাকলেও তিনি চোটের কারণে একটা পর্যায় পর আর খেলতে পারেননি। তাই দলের নেতৃত্ব দিয়েছেন ক্রুনাল পান্ডিয়া ।

    ওয়েস্ট ইন্ডিজের আরেক ব্যাটার কাইল মেয়ারর্স ১৪৪ স্ট্রাইক রেটে ৩৬১ রান তুলেছেন চলতি মৌসুমে। ভারতের আয়ুশ বাদোনিও বেশ কিছু ছোট কিন্তু কার্যকরী ইনিংস খেলেছেন। শুরুর দিকে ইংল্যান্ডের ফাস্ট বোলার মার্ক উডকে পেলেও তিনি চার ম্যাচের বেশি খেলেননি এবারের আইপিএলে। ভারতের তরুণ স্পিনার রাভি বিষ্ণুই ছিলেন দলটির শীর্ষ বোলার।

    সূত্র : বিবিসি বাংলা

  • অবশেষে ঢাকায় আসছেন বিশ্বকাপ জয়ী এমিলিয়ানো মার্টিনেজ

    অবশেষে ঢাকায় আসছেন বিশ্বকাপ জয়ী এমিলিয়ানো মার্টিনেজ

    বিশ্বকাপ জয়ের পর লিওনেল মেসিদের বাংলাদেশে আসার গুঞ্জন উঠেছিল। বিশ্বকাপ জয়ী দলকে ঢাকায় আনতে চেষ্টাও করেছিল বাংলাদেশ ফুটবল সংস্থা। কিন্তু সেই চেষ্টা আলোর মুখ দেখেনি। ঠিক সেই মুহূর্তেই সুখবর পেলেন বাংলাদেশের আর্জেন্টাইন ভক্তরা। পুরো দল না আসলেও ঢাকায় আসছেন আর্জেন্টিনার বিশ্বকাপজয়ী গোলরক্ষক এমিলিয়ানো মার্টিনেজ।

    ৩৬ বছর পর আর্জেন্টিনা তৃতীয়বারের মতো বিশ্বকাপ জিতেছে। কাতারের লুসাইল স্টেডিয়ামে লিওনেল মেসির হাতে উঠেছে আরাধ্য ট্রফি। ফাইনালে মেসি-আলভারেজরা ছাড়াও দারুণ খেলেছেন গোলকিপার এমিলিয়ানো মার্টিনেজ।

    সেই আর্জেন্টিনার গোলকিপারের ঢাকায় আসা এবার প্রায় চূড়ান্ত। আগামী জুলাইয়ে একদিনের সফরে ঢাকায় আসার কথা রয়েছে বিশ্বকাপের সেরা গোলকিপারের।

    মূলত মার্টিনেজ ৪ ও ৫ জুলাই কলকাতায় আসবেন। সেখানে মোহনবাগান ক্লাবে অনুষ্ঠান ছাড়াও আরও কিছু কার্যক্রমে অংশ নেওয়ার কথা রয়েছে তার।

    কিন্তু মার্টিনেজ ঢাকায় আসছেন নিজের আগ্রহেই। এর আগে এই শতদ্রু দত্তর উদ্যোগেই কলকাতা ঘুরে গেছেন ফুটবলের দুই কিংবদন্তী পেলে ও ম্যারাডোনা। গত নভেম্বরে বিশ্বকাপজয়ী ব্রাজিলিয়ান অধিনায়ক কাফুও। মার্টিনেজের আসন্ন কলকাতা সফরের সব বন্দোবস্তও তিনিই করছেন।

    তাকে আনার উদ্যোক্তা কলকাতার শতদ্রু দত্ত বাংলা ট্রিবিউনকে বলেছেন, ‘আমাদের এখানে দুই দিনের জন্য মার্টিনেজ আসছেন। ও নিজে থেকে বাংলাদেশে আসার আগ্রহ প্রকাশ করেছে। তাই কলকাতায় আসার আগে ৩ জুলাই ঢাকায় আসার কথা নিশ্চিতভাবে বলা যায়। ঢাকায় স্পন্সরদের সঙ্গে কথা চলছে। আমি নিজেও আসছি ঢাকা। এখান থেকে কলকাতায় দুই দিনের সফরে আসবে ও।’

    গত বিশ্বকাপে কাতার ফাইনালে ফ্রান্সের বিপক্ষে দারুণ সব সেভে আর্জেন্টিনার জয়ের অন্যতম নায়ক ছিলেন মার্টিনেজ। অতিরিক্ত সময়ে যখন স্কোর ৩-৩, তখন র‌্যান্ডাল কোলো মুয়ানির লক্ষ্যে নেওয়া শট অবিশ্বাস্যভাবে বাঁ পায়ে সেভ করেন তিনি। টাইব্রেকারেও কিংসলে কোম্যানকে রুখে দিয়ে ট্রফি জয়ে অবদান রাখেন মার্টিনেজ।

  • বিসিবি’র সভাপতি পাপন বলেছেন শান্তকে ‘১০০ করার পরে ৫০ রান না করতে পারলে কোনও দাম নেই’

    বিসিবি’র সভাপতি পাপন বলেছেন শান্তকে ‘১০০ করার পরে ৫০ রান না করতে পারলে কোনও দাম নেই’

    সমালোচনাকে পেছনে ঠেলে বাংলাদেশের সবচেয়ে ধারাবাহিক ক্রিকেটার হয়ে উঠছেন নাজমুল হোসেন শান্ত। সাম্প্রতিক সময়ে অসাধারণ খেলছেন নাজমুল হোসেন শান্ত। গেল আয়ারল্যান্ড সিরিজের দ্বিতীয় ম্যাচে দারুণ একটি সেঞ্চুরি হাঁকিয়ে দল জিতিয়েছেন এই টপ অর্ডার ব্যাটার। চলতি বছর বাংলাদেশের হয়ে দুটি সিরিজে ম্যান অফ দ্য সিরিজের পুরস্কার পেয়েছেন এই টপ অর্ডার ব্যাটার। বাংলাদেশে তো বটেই, ইংলিশ কন্ডিশনে আয়ারল্যান্ডের বিপক্ষেও ব্যাট হাতে উজ্জল ছিলেন শান্ত।

     এরপরও শান্তর পারফরম্যান্সে সন্তুষ্ট নন নাজমুল হাসান পাপন! কারণ সেঞ্চুরি পাওয়ার পরের ম্যাচে ফিফটি করতে পারেননি শান্ত। শান্ত যদি সিরিজের তৃতীয় ওয়ানডেতে অন্তত একটি হাফ সেঞ্চুরি করত, তাহলেই খুশি হতেন বাংলাদেশের ক্রিকেটের সর্বোচ্চ এই অভিভাবক।

    শনিবার মিরপুর শেরে বাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে ক্রিকেটার্স ওয়েলফেয়ার অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (কোয়াব) আয়োজিত অনুষ্ঠানে শান্তর সঙ্গে দেখা হয় বিসিবি সভাপতির। সেখানে তিনি শান্তকে বলেন, ১০০ করার পরে ৫০ রান না করতে পারলে কোনো দাম নেই।

    ব্যাটার হিসেবে ক্যারিয়ারের অন্যতম সেরা সময় কাটাচ্ছেন নাজমুল হোসেন শান্ত। আয়ারল্যান্ডের বিপক্ষে তিন ম্যাচ ওয়ানডে সিরিজে বাংলাদেশের সেরা ব্যাটার তিনিই। ৩ ম্যাচে তার ব্যাট থেকে এসেছে ১ সেঞ্চুরিতে ১৯৬ রান।

    এটি তার ওয়ানডে ক্যারিয়ারের প্রথম সেঞ্চুরিও বটে। যদিও শেষ ওয়ানডে ভালো শুরুর পরও ইনিংস বড় করতে পারেননি শান্ত। ৩৫ রানে ক্রেইগ ইয়াংয়ের বলে ফিরে যান তিনি। শনিবার (২০ মে) শান্তর সঙ্গে মিরপুর শের-ই বাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে দেখা হয় বিসিবি সভাপতির। শান্তর কাছে নিজের প্রত্যাশার কাছে জানিয়েছেন তিনি।

    পরে গণমাধ্যমকে একটি কথা প্রসঙ্গে পাপন বলেন, ‘শান্ত আয়ারল্যান্ড সিরিজে ভালো খেলেছে। আমি সাথে সাথে তাকে ফোন করে জানিয়েছি, তুমি খুব ভালো খেলেছো। আমি শেষ ম্যাচটা না দেখে চলে এসেছিলাম। আজকে দেখা হওয়ার পরে ওকে আবার বলেছি, একটা ১০০’র পরে আরেকটা মিনিমাম ৫০ না হলে ওই ১০০’র কোনো দাম নেই। তারমানে তাকে নিয়মিতই পারফরম্যান্স করতে হবে।’

    ক্যারিয়ারের শুরুর ভাগে অবশ্য দিনের পর দিন ব্যর্থ হয়েছিলেন শান্ত। ২০১৭ সালে টেস্ট দিয়ে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অভিষেক হয় শান্তর। ২০১৮ সালে ওয়ানডেতে এবং তার পরের বছর অভিষেক হয়েছিল টি–টোয়েন্টিতে।

    তিন সংস্করণ মিলিয়েই একটানা অফ-ফর্মে ছিলেন তিনি। ২০১৭ সালে এক ম্যাচ খেলে ১৫.০০, ২০১৮ সালে চার ম্যাচ খেলে ৭.৬০, ২০১৯ সালে দুই ম্যাচ খেলে ৮.০০ এবং ২০২০ সালে চার ম্যাচ খেলে ৩৭.৬০ গড়তে ব্যাটিং করেন তিনি।

    মূলত ২০২১ সাল থেকে উপরে উঠতে থাকে শান্তর পারফরম্যান্স গ্রাফ। সেই বছরে টেস্টে দুটি সেঞ্চুরি পান। যদিও বছর শেষে ১৪ ম্যাচে গড় দাঁড়ায় ২৪.৮০ তে। ২০২২ সালে অবশ্য সেটা আরেকটু কমে। ২৮ ম্যাচে ২৩.১৯।

    আর চলতি বছর ওয়ানডেতে আট ম্যাচে সাত ইনিংসে শান্তর ব্যাটিং গড় ৫২.৮৫। আছে ৩টি হাফ সেঞ্চুরি এবং একটি সেঞ্চুরি। টি–টোয়েন্টিতে ছয় ম্যাচে ৫৪.৬৬ গড়ে ১৬৪ রান। স্ট্রাইক রেট ১২১.৪৮।