আইপিএলের রুদ্ধশ্বাস ফাইনালে অবিশ্বাস্য জয় চেন্নাইয়ের

আইপিএলের রুদ্ধশ্বাস ফাইনালে অবিশ্বাস্য জয় চেন্নাইয়ের

হ্যালো বাংলা ডেস্ক: গত বছর লিগ পর্বে নিজেদের শেষ ম্যাচে হেরে যখন নবম স্থানে থেকে বিদায় নিচ্ছে চেন্নাই সুপার কিংস, দলের অধিনায়ক মহেন্দ্র সিংহ ধোনি জানিয়েছিলেন, এই ব্যর্থতা ভুলে পরের বার সমর্থকদের মনে হাসি ফোটাতে চান তাঁরা। এ বছর সেটাই করে দেখালেন ধোনিরা। অবশ্য গতবার রবীন্দ্র জাদেজা ছিলেন দলের নেতৃত্বে। মাঝপথে আবার দলের হাল ধরেন ধোনি। এবার তাঁর নেতৃত্বেই গতবারের চাম্পিয়ন গুজরাটক ৫ উইকেটে হরিয়ে পঞ্চম বারের জন্য ট্রফি জিতলেন ধোনিরা। ছুঁয়ে ফেললেন মুম্বই ইন্ডিয়ান্সকে।

রুদ্ধশ্বাস ম্যাচে শেষ ২ বলে জিততে দরকার ছিল ১০ রান। মোহিত শর্মা তার আগের চারটি বলে মাত্র ৩ রান দিয়েছিলেন। দেখে মনে হচ্ছিল চ্যাম্পিয়ন হওয়া সময়ের অপেক্ষা গুজরাত টাইটান্সের। কিন্তু শেষ ২ বলে বদলে গেল খেলার সব হিসেব। পঞ্চম বলে ছক্কা মারলেন রবীন্দ্র জাদেজা। শেষ বলে চার মেরে দলকে জিতিয়ে দিলেন রবীন্দ্র জাদেজা। পঞ্চম বারের জন্য আইপিএল চ্যাম্পিয়ন হলেন মহেন্দ্র সিংহ ধোনি।

প্রথমে ব্যাট করে ২০ ওভারে ২১৪ রানের পাহাড় গড়ে গুজরাট টাইটান্স। বৃষ্টি আইনে ১৫ ওভারে ১৭১ রানের টার্গেট পায় চেন্নাই সুপার কিংস। ম্যাচের শেষ দুই বলে ১০ রানের প্রয়োজনে ১টি করে চার-ছক্কায় চেন্নাইকে অবিশ্বাস্য জয়ের স্বাদ দেন অলরাউন্ডার রবীন্দ্র জাদেজা।

আহমেদাবাদের নরেন্দ্র মোদি স্টেডিয়ামে রিজার্ভ ডে’তে গড়ানো গতরাতের ফাইনালে টস জিতে প্রথমে বোলিং করতে নামে চেন্নাই। ব্যাট হাতে নেমে গুজরাটকে ৭ ওভারে ৬৭ রানের সূচনা এনে দেন দুই ওপেনার ঋদ্ধিমান সাহা ও সুবমান গিল। জাদেজার বলে ধোনির দুর্দান্ত স্টাম্পিংয়ের ফাঁদে পড়ে ২০ বলে ৭টি চারে ৩৯ রান করে থামেন ফর্মের তুঙ্গে থাকা গিল। এ নিয়ে আইপিএলে নিজের ২৫০তম ম্যাচে  ৩০০তম ডিসমিসাল করেন ধোনি।

গিল ফেরার পর তিন নম্বরে নামা সাই সুদর্শনকে নিয়ে গুজরাটের রানের চাকা দ্রুত ঘুড়িয়েছেন ঋদ্ধি। দ্বিতীয় উইকেটে ৪২ বলে ৬৪ রান যোগ করেন তারা। এই জুটিতে হাফ-সেঞ্চুরি তুলে পেসার দীপক চাহারের বলে আউট হন ৫টি চার ও ১টি ছক্কায় ৩৯ বলে ৫৪ রান করা ঋদ্ধি।

১৪তম ওভারে দলীয় ১৩১ রানে ঋদ্ধি ফিরলেও গুজরাটের রান তোলায় ভাটা পড়েনি। ব্যাট হাতে চেন্নাইয়ের বোলারদের শাসন করেছেন সুদর্শন। তার চার-ছক্কায় তোপে ১৯তম ওভারেই ২শ রান পায় গুজরাট। ঐ সময় ৮৪ রানে অপরাজিত ছিলেন সুদর্শন। পেসার মাথিশা পাথিরানার করা ইনিংসের শেষ ওভারের প্রথম দুই ছক্কা মেরে সেঞ্চুরির সম্ভাবনা জাগান সুদর্শন। কিন্তু তৃতীয় বলে আউট হলে সেঞ্চুরি বঞ্চিত হন । ৮টি চার ও ৬টি ছক্কায় ৪৭ বলে ৯৬ রান করেন সুদর্শন। শেষ দিকে অধিনায়ক হার্দিক পান্ডিয়ার ১২ বলে অপরাজিত ২১ রানের সুবাদে ২০ ওভারে ৪ উইকেটে ২১৪ রানের বড় সংগ্রহ পায় গুজরাট। চেন্নাইয়ের পাথিরানা ৪৪ রানে ২ উইকেট নেন।

এরপর চেন্নাই ইনিংসে ৩ বল হবার পর বৃষ্টিতে বন্ধ হয় খেলা। প্রায় দুই ঘন্টা খেলা বন্ধ থাকলে বৃষ্টি আইনে ১৫ ওভারে ১৭১ রানের নতুন টার্গেট পায় চেন্নাই। ৩৯ বল খেলে ৭৪ রানের সূচনা করেন চেন্নাইয়ের দুই ওপেনার ঋুতুরাজ গায়কোয়াড় ও নিউজিল্যান্ডের ডেভন কনওয়ে। সপ্তম ওভারে দ্বিতীয়বারের মত আক্রমনে এসে চেন্নাইয়ের দুই ওপেনারকে বিদায় দেন গুজরাটের আফগানিস্তানী স্পিনার নূর আহমেদ। গায়কোয়াড় ১৬ বলে ২৬ এবং কনওয়ে ২৫ বলে ৪৭ রান করেন।

৭৮ রানের মধ্যে দুই ওপেনারকে হারিয়ে চাপে পড়লেও আজিঙ্কা রাহানের মারমুখী ব্যাটিংয়ে লড়াইয়ের থাকে চেন্নাই। ২টি করে চার-ছক্কায় ১৩ বলে ২৭ রান করে আউট হন রাহানে। উইকেটে এসেই রাহানের পথ অনুসরণ করে দ্রুত ব্যাট চালিয়ে ৮ বলে ১টি চার ও ২টি ছক্কায় ১৯ তুলে ফিরেন আইপিএলে শেষ ম্যাচ খেলতে নামা আম্বাতি রাইদু। এরপর ক্রিজে এসে প্রথম বলেই ক্যাচ আউট হন অধিনায়ক ধোনি। রাহানে-রাইদু ও ধোনির উইকেট নেন পেসার মোহিত শর্মা।

শেষ দুই ওভারে ২২ রানের প্রয়োজন পড়ে চেন্নাইয়ের। ১৪তম ওভারে ৮ রান তুলতে পায় চেন্নাই। মোহিতের করা শেষ ওভারে ১৩ রানের দরকারে প্রথম চার বলে মাত্র ৩ রান পায় চেন্নাই। এতে শেষ দুই বলে ১০ রানের সমীকরণ পায় তারা। পঞ্চম বলে লং-অন দিয়ে ছক্কা মারেন জাদেজা। শেষ বলে ৪ রানের দরকারে শর্ট ফাইন লেগ দিয়ে বাউন্ডারি আদায় করে জয় নিশ্চিত করেন জাদেজা। ৬ বলে অপরাজিত ১৫ রান করেন জাদেজা। ২টি ছক্কায় ২১ বলে অনবদ্য ৩২ রানের দায়িত্বশীল ইনিংস খেলেন শিবম দুবে। গুজরাটের মোহিত ৩টি ও নূর ২টি উইকেট নেন। ম্যাচ সেরা হন কনওয়ে এবং টুর্নামেন্ট সেরা হয়েছেন গিল।

আহমেদাবাদের নরেন্দ্র মোদি স্টেডিয়ামে এবার গুজরাট ফেবারিট হলেও ধনিকে সমর্থন দিয়েছে সারা স্টেডিয়ামের দর্শকরা। সম্ভবত এটাই ছিলো ধনির শেষ আইপিএল তাই স্টেডিয়ামের হলুদ জার্সি পরে তাঁকে স্বাগত জানিয়েছে অধিকাংশ দর্শক। শুধু তাই নয় ম্যাচ শেষে রবীন্দ্র জাদেজা বলেন, “আমরা আমাদের এই শিরোপা ধোনিকে উৎসর্গ করছি”।

রানার আপ দলের অধিনায়ক হার্দিক পান্ডিয়া বলেছেন, “আমি হেরেছি, খারাপ লাগছে কিন্তু ধোনির কাছে হেরেছি তাই আমি মনে করি এতে কোনও সমস্যা নেই”

সূত্র : বাসস

পূর্ববর্তী আমরা শান্তিতে বিশ্বাস করি, সংঘাতে নয়: শেখ হাসিনা
পরবর্তী রুই মাছের চপ