Category: স্বাস্থ্য

  • প্রাণঘাতী, মহামারী এবং সংক্রামক ভাইরাস মারবার্গ ভাইরাস নিয়ে সতর্কতা

    প্রাণঘাতী, মহামারী এবং সংক্রামক ভাইরাস মারবার্গ ভাইরাস নিয়ে সতর্কতা

    আফ্রিকায় মহামারী মতো ছড়িয়ে পড়েছে ইবোলার মতো মারাত্মক সংক্রমক মারবার্গ ভাইরাস। মারবার্গ ভাইরাস ডিজিজ একটি মারাত্মক রোগ যা আক্রান্তের দেহে রক্তক্ষরণজনিত জ্বরের সৃষ্টি করে। এই ভাইরাসে মৃত্যুর সম্ভাবনা ৮৮ শতাংশ পর্যন্ত। এটি ফিলোভাইরাস পরিবারের একটি অংশ, এই পরিবারে আফ্রিকার বেশ কয়েকটি দেশে বিপর্যয় সৃষ্টিকারী ইবোলা ভাইরাসও অন্তর্ভুক্ত আছে। ইউএস সেন্টারস ফর ডিজিজ কন্ট্রোল অ্যান্ড প্রিভেনশন (সিডিসি) সম্প্রতি গিনি এবং তানজানিয়ার উদ্দেশ্যে যাওয়া সমস্ত ভ্রমণকারীদের প্রাণঘাতী এই ভাইরাস এড়াতে প্রতিরোধ ব্যাবস্থা গ্রহণের জন্য আহ্বান জানিয়েছে। এছাড়াও ভাইরাসের বিস্তার রোধে সহায়তা করার জন্য সেখানে কর্মী পাঠাচ্ছে তারা।

    ভারতীয় সংবাদ মাধ্যম এনডিটিভি জানিয়েছে, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (ডব্লিউএইচও) তথ্য অনুসারে, মারবার্গ ভাইরাস একটি প্রাণঘাতী মহামারী এবং সংক্রামক ভাইরাস। তারা এই ভাইরাস সংক্রান্ত ২০টি কেস রেকর্ড করেছে এবং প্রতিটি কেসেই আক্রান্তের মৃত্যু হয়েছে।

    ডব্লিউএইচও’র মতে, মারবার্গ ভাইরাস ডিজিজ একটি মারাত্মক রোগ যা আক্রান্তের দেহে রক্তক্ষরণজনিত জ্বরের সৃষ্টি করে। এই ভাইরাসে মৃত্যুর সম্ভাবনা ৮৮ শতাংশ পর্যন্ত। এটি ফিলোভাইরাস পরিবারের একটি অংশ, এই পরিবারে আফ্রিকার বেশ কয়েকটি দেশে বিপর্যয় সৃষ্টিকারী ইবোলা ভাইরাসও অন্তর্ভুক্ত আছে।

    মারবার্গ ভাইরাসের প্রাকৃতিক বাহক হল আফ্রিকান বিভিন্নও ফল খাওয়া বাদুড়, যা ভাইরাস বহন করে কিন্তু এর থেকে অসুস্থ হয় না। বাদুড় ছাড়াও অন্যান্য সংক্রমিত প্রাণী মারবার্গ ভাইরাস বহন করতে পারে। অতিরিক্ত জ্বর, শরীরের অভ্যন্তরীণ এবং বাহ্যিক অংশে রক্তপাত এবং তীব্র মাথাব্যথা হল এই ভাইরাসে আক্রান্ত হওয়ার লক্ষণ।

    মারবার্গ ভাইরাসে আক্রান্ত ব্যক্তির সংস্পর্শে আসলে অন্য যে কেউ এই ভাইরাসে আক্রান্ত হতে পারে। এছাড়াও আক্রান্ত ব্যক্তির ব্যবহৃত উপকরণের সংস্পর্শে এসে যে কেউই আক্রান্ত হতে পারে। মারবার্গ ভাইরাসের এখন পর্যন্ত কোনো নিরাময় বা ভ্যাকসিন নেই, তবে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার মতে, প্রাথমিক পর্যায়ের ভ্যাকসিন আবিস্কারের জন্য চেষ্টা করা হচ্ছে।

  • দৈনিক কতোটুকু পানি পান করবেন?

    দৈনিক কতোটুকু পানি পান করবেন?

    রোজা চলছে, গরমও বাড়ছে, ভাবছেন কতোটুকু পানি পান করবেন? এ বিষয়ে পরিষ্কার ও সংক্ষিপ্ত পরামর্শ দিচ্ছেন প্রফেসর ডঃ এস এম জি কিবরিয়া বলেন, পুরোটাই নির্ভর করে আপনার শরীরের ওজনের উপর। প্রতিদিন ৩০ থেকে ৩৫ মিলি প্রতি কেজিতে আপনার পানির প্রয়োজন। অর্থাৎ, আপনার ওজন যদি ৫০ কেজি হয়, তাহলে আপনার প্রায় ১৮০০ মিলি পানি লাগবে। এই চাহিদার ২০% আসবে খাবার থেকে আর বাকিটা আসবে পানি থেকে। পানিটা যে শুধু পানিই হতে হবে এমন নয় বিষয়টা। সেটা যেকোনো পানীয়ও হতে পারে। রসালো ফলমূল প্রায় পুরোটাই পানি। অর্থাৎ, আপনি যদি স্বাভাবিক খাবার খান সেখান থেকে ৪০০ মিলি পানি পাবেন। ৫ গ্লাস পানি খান আর ২ টি ছোট কাপ চা খান তাহলেই কিন্তু ১৮০০ মিলি হয়ে যায়। আর আপনার যদি তৃষ্ণা না পায় এবং পস্রাব ঘন না হয় তাহলে বুঝবেন- আপনার পানি শূন্যতা নেই। যারা শরীর চর্চা করছেন বা ব্রেস্ট ফিডিং করছেন তাদের একটু বেশি পানি লাগবে। আর যারা কিডনী ও হার্টের রোগী তাদের ডাক্তারের পরামর্শ অনুযায়ী পানি খেতে হবে।

  • সুন্দর জীবনচর্চার মাধ্যমে অনিদ্রা দূর করুন

    সুন্দর জীবনচর্চার মাধ্যমে অনিদ্রা দূর করুন

    ফিলিপস গ্লোবাল স্লিপ জরিপে দেখা গেছে যে বিশ্বজুড়ে ৬২% প্রাপ্তবয়স্করা বলে যে তারা তাদের পছন্দ মতো ঘুমায় না এবং প্রায় ৬৭% প্রাপ্তবয়স্করা প্রতি রাতে কমপক্ষে একবার ঘুমের ব্যাঘাতের কথা জানায়। আরও জানা যায় বিশ্বে বিলিয়ন মানুষের অনিদ্রাজনিত সমস্যা রয়েছে। ২৫%-৫০% বিভিন্ন বয়সী শিশু কিশোরদের ঘুমের সমস্যা দেখা যায়। ৮ থেকে ৮০ বিভিন্ন বয়েসী মানুষের ৭-১০ ঘন্টা ঘুম গুরুত্বপূর্ণ হলেও এদের অনেকেই অনিদ্রায় ভুগছে। এর জন্যে তৈরি হচ্ছে নানারকম স্লিপিং পিল খাওয়ার অভ্যস্থতা এবং নানারকম শারীরিক ও মানসিক জটিলতা।

    অনিদ্রা দূর করতে এবং স্বাভাবিক ঘুমের জন্য গবেষকরা স্লিপিং পিল খাওয়ার পরিবর্তে, কিছু নিয়ম মাফিক সুন্দর জীবনযাপনের পরামর্শ দিয়ে থাকেন। যেমন-

    • নিয়মিত নির্দিষ্ট সময়ে ঘুমের জন্য বিছানায় যাওয়া এবং প্রতিদিন একই সময়ে ঘুম থেকে উঠার চর্চা।
    • ঘুমানোর আগে ফোন, ট্যাবলেট এবং কম্পিউটারের মতো স্ক্রিন এড়িয়ে চলুন।
    • আপনার বেডরুম ঠান্ডা এবং অন্ধকার রাখুন এবং আরামদায়ক বিছানা ব্যবহার করুন।
    • অ্যালকোহল এবং ক্যাফিন সেবন সীমিত করুন বা বাদ দিন।
    • নিয়মিত ব্যায়াম করুন, তবে শোবার সময় কাছাকাছি তীব্র ওয়ার্কআউট এড়িয়ে চলুন।
    • মেডিটেশন অনুশীলন করুন, যোগব্যায়াম ও গভীর শ্বাস নেওয়ার মাধ্যমে শিথিলায়ন করুন।

    এরপরেও আপনার ঘুমের সমস্যা অব্যাহত থাকলে একজন যোগ্যতাসম্পন্ন ঘুম বিশেষজ্ঞের সাহায্য নেওয়ার কথা বিবেচনা করুন। মনে রাখবেন যে, প্রত্যেকের ঘুমের চাহিদা আলাদা। তাই আপনার জন্য কোনটি সবচেয়ে ভাল কাজ করে তা খুঁজে বের করার জন্য আপনাকে বিভিন্ন কৌশল নিয়ে পরীক্ষা করতে হতে পারে।

    তথ্য সূত্রঃ ওয়ান মেডিকেল

  • রমজান মাসে সুস্থ থাকতে যা খাবেন

    রমজান মাসে সুস্থ থাকতে যা খাবেন

    সুস্থ থাকতে হলে সতর্ক হতে হবে খাবার নির্বাচনে। রমজানের সময় এমনিতেই আমাদের দৈনন্দিন রুটিনে পরিবর্তন আসে। অনেকে পানিশূন্যতা, কোষ্ঠকাঠিন্য, এসিডিটি, বুক-পেটে ব্যাথা, বদহজমসহ নানা জটিলতায় ভোগেন। তবে খাবার গ্রহণে কিছুটা সতর্কতা ও নিয়ম মেনে চললে এসব সমস্যার বেশিরভাগই এড়ানো সম্ভব।

    রোজায় সেহরি, ইফতার ও রাতের খাবার খাওয়ার বিষয়ে কিছু নিয়ম মানতে হবে। আসুন জেনে নেই রোজায় কি ধরনের খাবার খাবেন?

    সেহরি

    সেহেরি সময় শেষ হওয়ার ৩০ মিনিট আগে থেকে খাওয়া ‍শুরু করুন। এই সময়ের খাবারে জটিল শর্করা যেমন- লাল চাল, লাল আটা, ওটস, বার্লি, শস্য দানা খেলে অনেক সময় পর্যন্ত শক্তি পাওয়া যায়। কেননা এই জাতীয় খাবার ধীরে হজম হয় এবং সময় নিয়ে রক্তে গ্লুকোজ সরবরাহ করে।

    সেহরিতে প্রোটিন জাতীয় খাবার অবশ্যই রাখতে হবে। মাছ, মুরগির মাংস বা ডিম যেকোনো একটি খেতে পারেন। রোজায় ডাল জাতীয় খাবার পরিমাণে বেশি খাওয়া হয় বলে মাছ, মাংস, দুধ ও ডিমের দিকে একটু খেয়াল রাখতে হবে।

    এছাড়া রঙিন ও পানি জাতীয় সবজি যেমন-লাউ, পটল, পেঁপে, ঝিঙা, চিচিঙ্গা, টমেটো, চালকুমড়া, ক্যাপসিকাম ইত্যাদি খেতে পারেন। যেগুলো পাকস্থলীতে উত্তেজনা কমায় এবং সহজে হজম হয়।

    ইফতার

    ১. ইফতারে খেতে পারেন পুষ্টিগুণে ভরপুর খেজুর। এটি নিমেষেই দেহে শক্তি যোগায়। ইফতার শুরু করুন পানি ও ২টি খেজুর দিয়ে। তবে ডায়াবেটিক রোগীরা ১টি খেজুর খেতে পারেন।

    ২. সময় নিয়ে ভালো করে চিবিয়ে এবং ধীরে ধীরে ইফতার করুন। সব খাবার একবারে খাওয়া চলবে না। এতে করে খাবার পরিপাকে সমস্যা হবে না, সেই সঙ্গে তৃপ্তি সহকারে খাওয়া যাবে।

    ৩. শরবতে চিনির পরিবর্তে গুড় বা মধু ব্যবহার করুন। এছাড়া ডাবের পানি, চিনি ছাড়া ফলের রস, লাচ্ছি, স্মুদি, বিভিন্ন ফ্রুট শেইক, লেবু পানি বা স্যালাইনও রাখতে পারেন। ডায়বেটিক রোগীর খাবারে বাড়তি চিনি যোগ করা যাবে না।

    ৪. ভাজা-পোড়া খাবার খেতে হবে একটু হিসেব করে। অতিরিক্ত ভাজা খাবার শরীরে এসিডিটি, তৃষ্ণা, বদহজম, অস্বস্তি তৈরি করে। পিয়াজু, বেগুনি, আলু, মাংস ও সবজির চপ, বিভিন্ন পাকোড়া সপ্তাহের দিন হিসেবে ভাগ করে নিন।

    ৫. অল্প তেল, মসলায় রান্না করা ছোলার সঙ্গে শসা, টমেটো, লেবু, কাঁচা মরিচ, পুদিনা বা ধনে পাতার সালাদ খেলে ভিটামিন-সি’সহ অন্যান্য ভিটামিন ও মিনারেল পাওয়া যাবে। অনেকে কাঁচা ছোলা বা অঙ্কুরিত ছোলা খেতে পছন্দ করেন। যা খুবই স্বাস্থ্যকর। এই ছোলা মুখে ঘা সারাতে সাহায্য করে।

    ৬. ইফতারে খেতে পারেন মৌসুমি ফল। এসময় পেঁপে, তরমুজ, বাঙ্গি, কলা, মাল্টা, আপেল, আনারস, কমলা, পেয়ারা, আম পাওয়া যায়। ফ্রুট সালাদ করে খেলেও অনেক ধরনের ভিটামিন ও মিনারেলস পাওয়া যায় এবং রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতাও বাড়ে।

    ৭. এক কাপ দুধ বা দুধের তৈরি খাবার পুডিং, পায়েস, ছানা, সেমাই, ফ্রুট কাস্টার্ড আপনার প্রোটিন, ক্যালসিয়াম, পটাশিয়ামের ঘাটতি পূরণ করবে। দুধের সঙ্গে কাঠবাদাম যুক্ত করে খেতে পারেন।

    ৮. যারা এসিডিটির সমস্যায় ভুগছেন তারা মুড়ি ভালো করে চিবিয়ে খেলে এ সমস্যা থেকে মুক্তি পাবেন। কাঁচা পেঁপেও এক্ষেত্রে সাহায্য করে।

    ৯. চাল, ডাল, সবজি ও ডিম দিয়ে তৈরি নরম খিচুড়ি ইফতারের জন্য একটি ভালো খাবার। যদি কেউ নুডুলস খেতে চান তাহলে অল্প তেল, সবজি ও মাংস যুক্ত করে খেতে পারেন। তবে অবশ্যই অন্য খাবারের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে খেতে হবে।

    ১০. যাদের কোষ্ঠকাঠিন্যের সমস্যা আছে তারা ইসুবগুল, তোকমা প্রতিদিনের খাদ্য তালিকায় রাখুন।

    রাতের খাবার
    রাতে অল্প পরিমাণে পুষ্টিকর ও সহজপাচ্য খাবার প্রয়োজনীয় ক্যালরি চাহিদা পূরণ করবে। অল্প পরিমাণে ভাত, রুটির সঙ্গে মিক্সড সবজি, মাছ অথবা মাংস, সামান্য ডাল রাখতে পারেন।

    নিউট্রিশনিস্ট অ্যান্ড ডায়েট কনসালটেন্ট, জে বি ডায়াগনস্টিক কমপ্লেক্স, খুলনা

     

  • গ্রীন-টিঃ সুস্থতায় ভরপুর প্রতি কাপ!

    গ্রীন-টিঃ সুস্থতায় ভরপুর প্রতি কাপ!

    হেলথ ড্রিঙ্ক হিসাবে গ্রীন-টি বিশ্বব্যাপী জনপ্রিয় পানীয় জনপ্রিয়তা অর্জন করেছে। গ্রীন-টি এর উপকারিতা এত বেশি যে বেশ কিছু গবেষক এটি নিয়ে ভীষণ উৎসাহিত। কেন গ্রীন-টি পান করা উচিত তা ব্যাখ্যা করতে গিয়ে পিএইচডি গবেষক ক্রিস্টোফার ওচনার বলেছেন, “এটি আপনার পক্ষে খবই ভাল, তাই পান করার জন্য আমি সবচেয়ে স্বাস্থ্যকর জিনিসটি হিসেবে শুধু এটিকে ভাবতে পারি।” তিনি মাউন্ট সিনাই হাসপাতালের আইকান স্কুল অফ মেডিসিনের পুষ্টি বিষয়ক গবেষণা বিজ্ঞানী হিসেবে কর্মরত আছেন।

    অবশ্যই, কোনও খাবারই আপনাকে রোগ থেকে রক্ষা করবে না, যদি আপনি আপনার স্বাস্থ্য, জীবনযাত্রায় এবং অভ্যাসগুলো সম্পর্কে সচেতন না হোন। গ্রীন টি পান করার উপকারিতা অনেক বেশি। গ্রীন টি পান করায় আপনি যেসব উপকার পেতে পারেনঃ

    • গ্রীন-টি শরীরকে হাইড্রেটেড রাখতে সাহায্য করে।
    • অ্যান্টি-অক্সিডেন্টে ভরপুর।
    • ওজন কমাতে সাহায্য করে।
    • ডায়াবেটিস কন্ট্রোল করতে সাহায্য করে।
    • হার্ট সুস্থ রাখতে সাহায্য করে।
    • মস্তিষ্ক বা ব্রেইনের স্বাস্থ্য ভালো রাখতে সাহায্য করে।
    • রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি করে।
    • ক্যান্সার প্রতিরোধে সাহায্য করে।

    দিনে কতোবার পান করা উচিত?

    এ বিষয়ে ডঃ তপতী সাহা (কো-অর্ডিনেটর, ডায়েট্রি অ্যান্ড পেশেন্ট নিউট্রিশন সার্ভিসেস, স্কয়ার হসপিটাল লিমিটেড) বলেন-
    অনেকেই মনে করেন, গ্রীন-টি  খেলে শরীরের ওজন কমে। আসলে গ্রীন-টি  আমাদের ওজন কমানোর গতি বাড়ায়। কিন্তু ওজন কমানোর ব্যাপারে গ্রীন-টি  আমাদের সরাসরি সাহায্য করে না। আবার অনেকে সারা দিনে অনেকবার গ্রীন-টি  খান। এক্ষেত্রে গ্রীন-টি  আমাদের শরীরের অনেক অঙ্গ-প্রত্যঙ্গের ক্ষতি করে। আমাদের শরীরের অনেক অরগানকে অকেজো করে দেয়। সবকিছুরই একটা সীমা আছে। দিনে দু’বারের বেশি গ্রীন-টি  খাওয়া উচিত নয়। গ্রীন-টি  অবশ্যই আমাদের শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায়। আমাদের শরীরের ওজন কমানোর গতি বাড়ায়। গ্রীন-টি ’র কিছু হারবাল বেনিফিটস আছে, তাই সে ক্ষেত্রে আমরা দিনে দু’বারের বেশি গ্রীন-টি  খাবো না। তথ্যসূত্রঃ ডক্টর টিভি

  • কিডনি সুরক্ষায় যত্নশীল হোন

    কিডনি সুরক্ষায় যত্নশীল হোন

    কিডনি হল মানবদেহের গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গ, যা আমাদের শরীর থেকে বর্জ্য এবং অতিরিক্ত তরল ফিল্টার করতে সাহায্য করে। আপনার কিডনিকে সুস্থ রাখতে, স্বাস্থ্যকর জীবনযাপনের অভ্যাসগুলি গ্রহণ করা গুরুত্বপূর্ণ। যেমন, একটি সুষম খাদ্য বজায় রাখা, হাইড্রেটেড থাকা, নিয়মিত ব্যায়াম করা, ধূমপান এবং অত্যধিক অ্যালকোহল সেবন এড়ানো, এবং ডায়াবেটিস এবং উচ্চ রক্তচাপের মতো চিকিৎসা পরিস্থিতি পরিচালনা করা, যা কিডনি রোগের কারন হতে পারে। তাই নিয়মিত চেক আপ করানো উচিত।

    কিডনির ভালো যত্ন নেওয়ার জন্য সেরা উপায়গুলির মধ্যে একটি হল স্বাস্থ্যকর এবং সুষম খাদ্য খাওয়া। তো চলুন, জেনে নেই কিডনির সুরক্ষায় সেরা কিছু খাবার-

    কম পটাসিয়ামযুক্ত ফল: আপেল, বেরি, আঙ্গুর এবং আনারসের মতো ফলগুলিতে পটাসিয়াম কম এবং অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট সমৃদ্ধ, যা কিডনিকে সুস্থ রাখতে সাহায্য করে।

    শাকসবজি: ফুলকপি, বাঁধাকপি, রসূন, মরিচ এবং পেঁয়াজের মতো শাকসবজিতে পটাসিয়াম কম এবং ফাইবার বেশি, যা রক্তে শর্করার মাত্রা নিয়ন্ত্রণ করতে এবং কিডনি স্বাস্থ্যের উন্নতিতে সাহায্য করে।

    শস্যদানা: শস্যদানা যেমন বাদামী চাল, গমের রুটি এবং কুইনো ফাইবার, ভিটামিন এবং খনিজগুলির একটি দুর্দান্ত উৎস, যা কিডনিকে সুস্থ রাখতে সাহায্য করে।

    মাছ: স্যামন, টুনা এবং ম্যাকেরেলের মতো মাছ ওমেগা-3 ফ্যাটি অ্যাসিড সমৃদ্ধ, যা প্রদাহ কমাতে এবং কিডনির স্বাস্থ্যের উন্নতিতে সাহায্য করে।

    পানি: কিডনির স্বাস্থ্যের জন্য পর্যাপ্ত পানি পান করা অপরিহার্য কারণ এটি শরীর থেকে টক্সিন এবং বর্জ্য পদার্থ বের করে দিতে সাহায্য করে।

    সুতরাং, আপনার কাছে আছে, স্বাস্থ্যকর কিডনির জন্য সেরা কিছু খাবার। আপনার ডায়েটে এই খাবারগুলি অন্তর্ভুক্ত করতে মনে রাখবেন এবং সুস্থ কিডনির জন্য পর্যাপ্ত পানি পান করবেন।

    তথ্যসূত্রঃ হেলথলাইন.কম , এভেরিডেহেলথ.কম

  • ফুসফুসকে ভালো রাখতে যা খাবেন

    ফুসফুসকে ভালো রাখতে যা খাবেন

    ফুসফুস সুস্থ রাখার ক্ষেত্রে সবচেয়ে বড় ভূমিকা পালন করে খাদ্য। বয়স বাড়ার কারণে, অত্যধিক পরিবেশ দূষণ এবং বিভিন্ন অসুখ-বিসুখের ফলে যাদের ফুসফুসের কার্যক্ষমতা কমে গেছে, তাদের খাবারের প্রতি বিশেষ যত্ন নেওয়া প্রয়োজন। ভিটামিন এবং পুষ্টি সমৃদ্ধ যেসব খাদ্য গ্রহণে ফুসফুসের স্বাস্থ্য ভালো থাকে, তার কিছু উদাহরণঃ:

    চর্বিযুক্ত মাছ: যেকোনো সামুদ্রিক মাছেই ওমেগা -৩ ফ্যাটি অ্যাসিড থাকে। তবে বেশি পরিমানে পাবেন সামুদ্রিক মাছে যেমন ইলিশ, টুনা, সার্ডিন, স্যামন, ট্রাউট, হেরিং, কড মাছের তেলে। যা ফুসফুসের প্রদাহ কমাতে সাহায্য করতে পারে।

    বেরি: ব্লুবেরি, স্ট্রবেরি এবং অন্যান্য বেরিতে প্রচুর পরিমাণে অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট রয়েছে, যা ফুসফুসের টিস্যুকে ক্ষতির হাত থেকে রক্ষা করতে সাহায্য করতে পারে।

    আপেল: আপেলের মধ্যে রয়েছে কোয়ারসেটিন, যা একটি অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট যা সিগারেটের ধোঁয়া এবং দূষণের কারণে ফুসফুসকে ক্ষতির হাত থেকে রক্ষা করতে সাহায্য করে।

    ফল ও শাকসবজিঃ বেদানা, আপেল, আঙুর, কমলালেবু, পেয়ারা, গাজর, বিনস, শসা, কুমড়ো ইত্যাদি ফল ও শাকসবজি ফুসফুসের স্বাস্থ্যকে ঠিক রাখতে কার্যকর ভূমিকা পালন করে। এগুলোতে থাকা ভিটামিন-সি, ভিটামিন-এ, ফ্ল্যাভোনয়েড ও অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট ফুসফুসের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে এবং ফুসফুসের কার্যক্ষমতা বৃদ্ধি করতে সাহায্য করে। তাই প্রতিদিন শাকসবজি খান এবং খাবারের পরে ফল খান।

    আঁশযুক্ত শস্যঃ বাদামী চাল এবং পুরো গমের রুটির মতো গোটা শস্যে আঁশ বেশি থাকে, যা ফুসফুসের ভাল কার্যকারিতার সাথে যুক্ত।

    রসুন এবং পেঁয়াজঃ রসুন এবং পেঁয়াজে এমন যৌগ রয়েছে যা রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে এবং ফুসফুসের প্রদাহ কমাতে সাহায্য করতে পারে।

    বাদামঃ বাদাম ভিটামিন ই এর একটি ভাল উৎস, যা ফুসফুসের টিস্যুকে ক্ষতির হাত থেকে রক্ষা করতে সাহায্য করতে পারে।

    সর্বোত্তম ফুসফুসের কার্যকারিতা সমর্থন করার জন্য একটি স্বাস্থ্যকর এবং সুষম খাদ্য বজায় রাখা গুরুত্বপূর্ণ। উপরন্তু, ধূমপান এড়ানো এবং বায়ু দূষণের সংস্পর্শ ফুসফুসের স্বাস্থ্য রক্ষা করতে সাহায্য করতে পারে।
    তথ্যসূত্রঃ হেলথ লাইন ও বোল্ড স্কাই

  • ভারতে বাড়ছে করোনা, কয়েকটি রাজ্যে চিঠি

    ভারতে বাড়ছে করোনা, কয়েকটি রাজ্যে চিঠি

    এনডিটিভির খবরে বলা হয়, ভারতে ফের বাড়ছে করোনা। দেশটিতে গত ২৪ ঘণ্টায় করোনা শনাক্ত হয়েছে ৮৪১ জনের শরীরে; যা গত চার মাসের মধ্যে সর্বোচ্চ। কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় বলছে, বর্তমানে ভারতে করোনায় আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা ৫ হাজার ৩৮৯-এ ঠেকেছে।

    ঝাড়খন্ড এবং মহারাষ্ট্রে দুজনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেলেও, কেরালায় দুইজন সুস্থ হয়ে ওঠেছেন। সংক্রমণ সবচেয়ে বেশি ধরা পড়েছে কেরালা, মহারাষ্ট্র, কর্ণাটক এবং গুজরাটে।

    ভারতের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের বরাতে এনডিটিভি জানায়, দৈনিক গড় আক্রান্ত এক মাসে ছয় গুণ বেড়েছে। এক মাস আগে যেখানে দিনে গড়ে শনাক্ত হতো ১১২ জন; সেখানে এখন ৬২৬ জন গড়ে শনাক্ত হচ্ছেন।স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের ওয়েবসাইট অনুসারে, বর্তমানে করোনায় আক্রান্তের হার শূন্য দশমিক শূন্য এক শতাংশ। আর করোনা থেকে সেরে ওঠাদের হার ৯৮ দশমিক আট শূন্য।

    মন্ত্রণালয়ের ওয়েবসাইট অনুসারে, দেশব্যাপী টিকাকরণ অভিযানের অধীনে ২২০ কোটি ৬৪ লাখ ডোজ করোনার টিকা দেওয়া হয়েছে।

    এদিকে প্রকোপ বাড়তে থাকায় ছয় রাজ্যকে চিঠি দিয়েছে কেন্দ্র। এতে বলা হয়েছে, সংক্রমণের আকস্মিক বৃদ্ধি নিয়ন্ত্রণে রাজ্য সরকারকে মনোযোগ দেওয়া উচিত।

    কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্য সচিব বুধবার মহারাষ্ট্র, গুজরাট, তেলেঙ্গানা, তামিলনাড়ু, কেরালা এবং কর্ণাটকে চিঠি লিখে পরীক্ষা, চিকিত্সা, শনাক্তকরণ এবং টিকা দেওয়ার ওপর জোর দিতে বলেছেন। সূত্র: এনডিটিভি

  • সুস্থতায় বিশুদ্ধ পানি

    সুস্থতায় বিশুদ্ধ পানি

    সুস্বাস্থ্য বজায় রাখার জন্য বিশুদ্ধ পানি পান করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। মানবদেহের ৬০ ভাগ পানি। দৈনন্দিন কাজে দেহ থেকে সাধারনত যে পরিমান পানি বের হয়ে যায়, পুনরায় পানি পানে গ্রহণ না হলে শরীরের স্বাভাবিক ভারসাম্য ব্যহত হয়। বিশুদ্ধ পানি পান করার মাধ্যমে শরীর টক্সিন বের করে দিতে পারে। শরীরের তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণ করতে এবং কোষে পুষ্টি ও অক্সিজেন পরিবহন করতে পানি সাহায্য করে। হাইড্রেটেড থাকার জন্য প্রাপ্তবয়স্কদের দিনে কমপক্ষে ৮ গ্লাস জল পান করার পরামর্শ দেন স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা। উপরন্তু, স্বাস্থ্যকর ওজন বজায় রাখার জন্য বিশুদ্ধ পানি পান করা গুরুত্বপূর্ণ। কারণ, এটি ক্ষুধা কমাতে এবং অতিরিক্ত খাওয়া রোধ করতে সাহায্য করে থাকে।

  • কোষ্ঠকাঠিন্য থেকে মুক্তি পেতে যা যা খাবেন

    কোষ্ঠকাঠিন্য থেকে মুক্তি পেতে যা যা খাবেন

    শরীর সুস্থ রাখতে সবার প্রথমে নজর দেওয়া উচিত খাওয়াদাওয়ার উপর। কোষ্ঠকাঠিন্য দূড়ে রাখতে প্রয়োজন দৈনন্দিন খাদ্যভ্যাস তৈরি করা। যেমন পর্যাপ্ত পানি, ফাইবার যুক্ত খাবার, ফলমূল ও শাকসবজী, বীজ জাতীয় খাবার নিয়মিত খাদ্য তালিকায় থাকলে কোষ্ঠকাঠিন্যকে বিদায় জানাতে পারবেন। তাহলে জেনে নিন আপনার দৈনন্দিন ডায়েটে কি কি রাখলে কোষ্ঠকাঠিন্য থেকে মুক্তি পাওয়া সম্ভব হতে পারে-

    চিয়া সীড সুপার ফুড হিসেবে খ্যাত চিয়া সীড। ১০০ গ্রাম চিয়া সীডে রয়েছে ১৩.০৭ গ্রাম শর্করা, ১১.২ গ্রাম ফাইবার, ৫.৬ গ্রাম প্রোটিন। এতো পুষ্টিকর ও সমৃদ্ধশালী খাবার আপনার সুস্বাস্থ্য এবং কোষ্ঠকাঠিন্য থেকে রক্ষা পেতে নিয়মিত খাওয়া উচিত।

    আপেল প্রতিদিন একটা করে আপেল শরীরের প্রয়োজনীয় ফাইবারের চাহিদা মেটায়। আপেল শুধুমাত্র খেতে সুস্বাদু নয়, এতে প্রচুর ফাইবার থাকে। একটি মাঝারি সাইজের আপেলে ৪.৪ গ্রাম ফাইবার থাকে। আর, প্রতি ১০০ গ্রাম আপেলে ফাইবার থাকে ২.৪ গ্রাম।

    মসুর ডাল পুষ্টিকর ও প্রোটিনে ভরপুর মসুর ডাল। প্রতি কাপ রান্না করা মসুর ডালে ১৩.১ গ্রাম ফাইবার বর্তমান। এছাড়া, প্রতি ১০০ গ্রাম মসুর ডালে ফাইবারের পরিমাণ হল ৭.৩ গ্রাম। তাই, রোজ পরিমাণে অল্প হলেও মসুর ডাল খাওয়ার চেষ্টা করুন।

    পালং শাক অত্যন্ত স্বাস্থ্যকর একটি সবজি পালং শাক। এতে ভিটামিন এ, সি, কে ১, ফলিক অ্যাসিড, ক্যালশিয়াম এবং আয়রন ভরপুর। আর, মাত্র এক কাপ রান্না করা পালং শাক আমাদের শরীরে ৪ গ্রাম ফাইবার সরবরাহ করতে পারে।

    পেয়ারা ফাইবার এবং জল সমৃদ্ধ পেয়ারা কোষ্ঠকাঠিন্যে কমাতে পারে। রোজ যদি একটি করে পেয়ারা খান, তবে দ্রুত সুফল পাবেন।

    পপকর্ন কাজের ফাঁকে মুখ চালাতে অনেকেই পপকর্ন খান। এতে রয়েছে প্রচুর ফাইবার। কোষ্ঠকাঠিন্যের সমস্যা থাকলে পপকর্ন খেতে পারেন। তবে মাখন এবং নুন ছাড়া ভাজলেই বেশি উপকার পাবেন।

    তরমুজ তরমুজে জলের পরিমাণ সবচেয়ে বেশি। প্রায় ৯২ শতাংশ। হজমের গোলমাল, পেটের নানা সমস্যা, কোষ্ঠকাঠিন্য ঠেকাতে তরমুজ খেতে পারেন।

    ওটমিল কোষ্ঠকাঠিন্য থাকলে সকালের জলখাবারে রাখতে পারেন ওটস। এতে রয়েছে প্রচুর পরিমাণে ফাইবার, জল। হজমের গোলমাল কমিয়ে কোষ্ঠকাঠিন্যের সমস্যা নিয়ন্ত্রণে রাখতে ওটস বেশ উপকারী।

    কাঠবাদাম রোজ সকালে উঠে কাঠবাদাম খান। ম্যাগনেশিয়ামে ভরপুর এই বাদাম কোষ্ঠকাঠিন্যের ঘরোয়া ওষুধ। এ ছাড়া হজমের গোলমাল, পেটের নানাবিধ সমস্যায় সুফল মিলবে রোজ একটি করে কাঠবাদাম খেলে।