Category: স্বাস্থ্য

  • স্বাস্থ্যকর তেলে রান্না করুন

    স্বাস্থ্যকর তেলে রান্না করুন

    নিয়মিত রান্নায় সয়াবিন তেল দেশের ভোজ্যতেল হিসেবে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে আসছে। ২০১৩ সালে, সরকার বাধ্যতামূলক করেছে যে সয়াবিন তেল সহ ভোজ্যতেলকে ভিটামিন এ দিয়ে সুরক্ষিত করতে হবে। আজ, সয়াবিন তেল বাংলাদেশের ভোজ্য তেল উৎপাদনের একটি প্রধান উপাদান, যেখানে ১০ মিলিয়নেরও বেশি পরিবার ভর্তুকিযুক্ত সয়াবিন তেল পাচ্ছে। কিন্তু এর পূর্ব থেকেই সরিষা বীজের তেল বাংলাদেশের সর্বাধিক ব্যবহৃত রান্নার তেল হিসেবে গ্রাম থেকে শহরে সর্বদা ব্যবহার করা হতো। বর্তমানে সময়ে সচেতন মানুষদের মধ্যে আবারও ধীরে ধীরে সরিষা তেলের জনপ্রিয়তা ফিরে আসছে।

    সয়াবিন তেল পলিআনস্যাচুরেটেড ফ্যাটি অ্যাসিডের একটি সমৃদ্ধ উৎস, যা স্বাস্থ্য সুবিধার জন্য পরিচিত। এটি ভিটামিন ই এর একটি ভাল উৎস, যা একটি অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট। এ তেলে তামা, জিঙ্ক এবং ম্যাগনেসিয়ামের মতো উপকারী খনিজও রয়েছে। তুলনামূলকভাবে, সরিষার তেলে লিনোলিক অ্যাসিড এবং অলিক অ্যাসিড রয়েছে, যা হৃদরোগের জন্য উপকারী। এতে ওমেগা-৩ ফ্যাটি অ্যাসিডও রয়েছে, যা প্রদাহ কমাতে সাহায্য করতে পারে। উপরন্তু, সরিষার তেলে মনোস্যাচুরেটেড ফ্যাটি অ্যাসিড বেশি থাকে, যা রক্তের কোলেস্টেরলের মাত্রা কমাতে উপকারী।

    কি খাবেন সরিষার তেল নাকি সয়াবিন তেল ?

    এ বিষয়ে ডা. সিরাজুল ইসলাম মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালের ক্লিনিক্যাল নিউট্রিশন বিভাগের চীফ কনসালটেন্ট, পুষ্টিবিদ সামিরা খালেক সুকৃতি বলেন, “আমাদের দেশে যত ধরনের ভোজ্যতেল ব্যবহার হয় তার মধ্যে সবচেয়ে ভালো সরিষার তেল। সয়াবিন তেলে অনেক সময় অসাধু ব্যবসায়ীরা পাম অয়েলসহ বিভিন্ন কিছু মেশায়। অধিক মুনাফার জন্য তারা এ কাজ করে। কিন্তু সরিষার তেলে সে সুযোগ নেই। কারণ সরিষার তেলে এমন কিছু মেশালে ভালোভাবে মিক্সড হয় না। এ কারণে সরিষার তেল তুলনামূলক ভালো। সানফ্লাওয়ার অয়েলের সঙ্গেও অন্য তেল মেশানো যায়।’

    তিনি আরো বলেন- ক্যাস্টর অয়েল নিয়মিত খাওয়ার জন্য উপকারী নয়। রান্নায় নিয়মিত ব্যবহারের জন্য সানফ্লাওয়ার অয়েল ভালো, যদি সেটি খাঁটি হয়।

    সয়াবিন ও সরিষার তেলের পুষ্টিগুন ও ক্যালরি

    পুষ্টিগুন ও ক্যালরির বিষয়ে জানতে চাইলে ডা. সামিরা বলেন, ‘ক্যালরির দিক থেকে মোটামুটি সব তেল প্রায় সমান। তেল যেহেতু ফ্যাটের অধীন, এক গ্রাম ফ্যাট থেকে ৯ ক্যালরি পাওয়া যায়। ফলে তেলের ক্ষেত্রে ক্যালরির ডিসটেন্স কিন্তু বেশি হচ্ছে না।

    আমাদের দেহে দুই ধরনের ফ্যাট রয়েছে, স্যাচুরেটেড ফ্যাট ও আনস্যাচুরেটেড ফ্যাট। এক্ষেত্রে সয়াবিন তেলের চেয়ে সরিষার তেল তুলনামূলক ভালো, অলিভ অয়েল আরো ভালো। কিন্তু তেল ব্যবহারে সচেতন হতে হবে। অনেকে মনে করেন, অলিভ অয়েল দিয়ে রান্না করলে বেশি পুষ্টি হবে। কিন্তু যখন আপনি অলিভ অয়েল বেশি তাপে রান্না করবেন গুণগত মান নষ্ট হবে। অলিভ অয়েল দিয়ে আপনি হালকা ডিম ভাজতে পারেন কিন্তু খুব বেশি তাপে রান্না করলে কাঙ্ক্ষিত পুষ্টিগুণ পাবেন না।’

    আমাদের দেশে তেল-মসলা বেশি খাওয়া হয়। এ জন্য সয়াবিন তেল ব্যবহার করা হয়। চাইলে সরিষাবাটা তেল দিয়েও রান্না করা যায়। সরিষার তেল সয়াবিন তেলের চেয়ে বরং পরিমাণে কম লাগে। এতে শরীরে ক্যালরি বাড়ার আশঙ্কাও কমে যায়। জানান এই পুষ্টিবিদ।

  • করোনার বুস্টার ডোজ আপাতত বন্ধ

    করোনার বুস্টার ডোজ আপাতত বন্ধ

    করোনার টিকার মজুত ফুরিয়ে যাওয়ায় গত বৃহস্পতিবার থেকে সাময়িকভাবে তৃতীয় ও চতুর্থ বুস্টার ডোজ দেয়া বন্ধ হচ্ছে।

    বুধবার বিকেলে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সম্মেলন কক্ষে টিকা বিষয়ক জরুরি সংবাদ সম্মেলনে অধিদপ্তরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক (পরিকল্পনা ও উন্নয়ন) অধ্যাপক ডা. আহমেদুল কবীর এ তথ্য জানান।

    স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক বলেন, বুস্টার ডোজ নিতে ততটা বাধ্যবাধকতা না থাকায় অনেকে নিতে চাচ্ছেন না। বিশেষ করে চতুর্থ ডোজে তেমন সাড়া মিলছে না। তারপরও বুস্টারের যত টিকা ছিল তা শেষ।

    তিনি জানান, এসব টিকা কোভ্যাক্সের মাধ্যমে আনা হয়। ইতোমধ্যে চাহিদা দেয়া হয়েছে, আসতে ৩-৪ সপ্তাহ লাগবে। আসা মাত্রই আবারও দেয়া হবে। এ দফায় ৩০ লাখ টিকা আসবে। চাহিদা অনুযায়ী আরও টিকা দেয়া যাবে।

    আহমেদুল কবীর বলেন, দেশে এখন পর্যন্ত ১৫ কোটি মানুষকে প্রথম ডোজের টিকা দেয়া হয়েছে। এর মধ্যে দ্বিতীয় ডোজ পেয়েছেন ১৪ কোটির কাছাকাছি। তৃতীয় বা প্রথম বুস্টার ডোজ নিয়েছেন ছয় কোটি এবং চতুর্থ ডোজ বা দ্বিতীয় বুস্টার ডোজ নিয়েছেন ছয় লাখের বেশি মানুষ।

  • বদহজম দূর করার প্রাকৃতিক উপায়

    বদহজম দূর করার প্রাকৃতিক উপায়

    হোটেল রেস্টুরেন্ট, বিভিন্ন দাওয়াত বা অনুষ্ঠানে রান্না সুস্বাদু হলে অনেকেই বেশি খেয়ে ফেলেন। যার ফলে তাকে ভুগতে হয় বদহজমের সমস্যায়। চিকিৎসা বিজ্ঞানের ভাষায় একে বলে ডিসপেপসিয়া। পেট ফাঁপা, পেটে গ্যাস হওয়া, পেট ব্যথা করা, পেটের উপরের দিকে জ্বালা-পোড়া করা, মুখে আম্লিক স্বাদ লাগা এবং বমি হওয়া এগুলোই ডিসপেপসিয়া বা বদ হজমের লক্ষণ। বদহজমের সমস্যা থেকে মুক্তি পাওয়ার সহজ কিছু উপায় জানবো আজ।

    • প্রাচীনকাল থেকেই হজমজনিত সমস্যা দূর করার কাজে আয়ুর্বেদিক প্রতিকার হিসেবে ব্যবহার হয়ে আসছে জিরা। অগ্নাশয় এর এনজাইম নিঃসরণকে উদ্দীপিত করে হজমে সহায়তা করে জিরা। এক চামচ ভাজা জিরা এক গ্লাস পানিতে মিশিয়ে পান করুন।
    • এক গ্লাস ঘোলের মধ্যে এক চামচের চার ভাগের এক ভাগ পরিমাণ গোলমরিচের গুরা মিশিয়ে পান করুন।
    • আপনারা অনেকেই দেখবেন, রেস্টুরেন্ট বা হোটেলে খাওয়ার শেষে মৌরি বীজ দিয়ে যায়। এর কারণ হলো, ইহা হজম শক্তির বৃদ্ধি করে এবং মৌরি বীজ চাবিয়ে খেলে বদহজম থেকে মুক্তিও পাওয়া সম্ভব। এই বীজ থেকে নিঃসরিত তেল অন্ত্রের পেশি সংকোচন, বদহজম, বমিভাব ও গ্যাস কমাতে পারে। দুই-তিন চা চামচ মৌরী বীজের গুঁড়া দিয়ে তৈরিকৃত চা-ও পান করতে পারেন।
    • পুদিনা বদহজম, আন্ত্রিক পেশী সংকোচন ও বমি ভাব প্রশমিত করতে পারে। বদহজম দূর করতে দিনে দুই তিনবার পুদিনার ক্যাপসুল (পেপারমিন্ট অয়েল সাপ্লিমেন্ট) সেবন করতে পারেন। পুদিনা চা পছন্দ করলে দেড় চা চামচ শুষ্ক পুদিনা পাতা এক মগ পানিতে ফুটিয়ে নিন। তারপর চা বানিয়ে গরম বা ঠান্ডা অবস্থায় পান করতে পারেন বুক জ্বালা থাকলে পুদিনা সুপারিশকৃত নয়।

    বদহজম এড়াতে পরামর্শঃ

    যদি দুগ্ধজাত খাবার গ্যাস বৃদ্ধি ও পেটফাঁপার অনুভূতি দেয়, তাহলে আপনার সম্ভবত ল্যাকটোজ ইনটলারেন্স রয়েছে। আপনার বদহজমের প্রবণতা থাকলে খাদ্যতালিকা থেকে ল্যাকটোজ বাদ দিয়ে দিন।

    • ধীরে ধীরে ভালো করে চিবিয়ে খাবার খাবেন। খাবার চিবিয়ে না খেলে শরীরের ভেতর বাতাস ঢুকে গ্যাস বৃদ্ধি ও পেটফাঁপা হতে পারে।
    • ঘুমাতে যাওয়ার কমপক্ষে তিন ঘন্টা আগে খাবার খেয়ে নিন। কারণ ঘুমের সময় খাবার ভালোভাবে হজম হয় না।
  • খুব শীঘ্রই বিএসএমএমইউ’তে চালু হবে ‘বঙ্গবন্ধু ক্যান্সার সেন্টার’

    খুব শীঘ্রই বিএসএমএমইউ’তে চালু হবে ‘বঙ্গবন্ধু ক্যান্সার সেন্টার’

    জাপানের টোকিওতে অবস্থিত বিশ্বমানের ক্যান্সার গবেষণায় পথিকৃৎ ‘ন্যাশনাল ক্যান্সার সেন্টার’-এ প্রথমবারের মত কোন বাংলাদেশী গবেষক ও চিকিৎসক হিসেবে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ডা. মো. শারফুদ্দিন আহমেদ লেকচার প্রদান করার সম্মাননা পান।
    এ অনুষ্ঠানে অধ্যাপক ডা. মো. শারফুদ্দিন আহমেদ ‘বাংলাদেশের ক্যান্সার পরিস্থিতি ও ক্যান্সার চিকিৎসায় বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ের ভূমিকা’ শীর্ষক লেকচার প্রদান করেন।
    মঙ্গলবার জাপানে ক্যান্সার ‘রোগের চিকিৎসা ও ক্যান্সার প্রতিরোধে গবেষণা’ সংক্রান্ত বিষয় নিয়ে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ডা. মো. শারফুদ্দিন আহমেদ বেশ কয়েকটি আন্তর্জাতিক সভায় বক্তব্য দিতে গিয়ে এই কথা জানান।
    এসময় অধ্যাপক ডা. মো. শারফুদ্দিন আহমেদ বলেন, সর্বকালের শ্রেষ্ঠ বাঙালি, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নামে প্রতিষ্ঠিত মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য হিসেবে দায়িত্ব নিয়ে সুদক্ষ চিকিৎসক, নার্স ও মেডিক্যাল টিমের সহযোগিতায় বাংলাদেশের চিকিৎসা ও গবেষণা বিষয়ক কর্মকাণ্ড ব্যাপক কার্যক্রম হাতে নিয়েছি। শুধু দেশের গণ্ডিতেই নয়, আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলেও বাংলাদেশকে তুলে ধরতে ও গবেষণা কার্যক্রমে সকলকে সম্পৃক্ত করতে আমরা নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছি। এরই ধারাবাহিকতায় ইতোমধ্যেই আমেরিকা, কোরিয়া, মালয়েশিয়া, ভারতসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশের বিশ্ববিদ্যালয় ও ইন্সটিটিউটের সাথে আমরা সম্মিলিতভাবে গবেষণা কার্যক্রম শুরু করেছি। আজ জাপানের ন্যাশনাল ক্যান্সার সেন্টারের সাথে গুরুত্বপূর্ণ এ আলোচনা-সেই ধারাবাহিকতারই অংশ।
    গুরুত্বপূর্ণ এই অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন জাপানের ন্যাশনাল ক্যান্সার সেন্টারের ‘ডিভিশন অব প্রিভেনশন’- এর প্রধান ড. মানামি ইনোউয়ে, ডিভিশন অব ইন্টারন্যাশনাল হেলথ পলিসি রিসার্চ-এর প্রধান ড. তমোহিরো মাৎসুদা, সেকশন হেড (ডিভিশন অব প্রিভেনশন) ড. সারাহ কে আবে, হামামাৎসু ইউনিভার্সিটি স্কুল অব মেডিসিন সিনিয়র এসিস্ট্যান্ট প্রফেসর ড. শাফিউর রহমান, ডিভিশন অব ইন্টারন্যাশনাল হেলথ পলিসি রিসার্চের স্টাফ সায়েন্টিস্ট ড. লরেলিন গ্যাটেলিয়ার, হিতোৎসুবাশি ইন্সটিটিউট ফর এডভান্সড স্টাডি’র রিসার্চ এসোসিয়েট ড. রাশেদুল ইসলাম ও ইউনিভার্সিটি অব টোকিও’র পিএইচডি ফেলো ড. তাজবীর আহমেদ।

  • দেশে অ্যান্টিবায়োটিক প্রতিরোধী হয়ে উঠছে টাইফয়েড

    দেশে অ্যান্টিবায়োটিক প্রতিরোধী হয়ে উঠছে টাইফয়েড

    স্যালমোনেলা টাইফি (এস টাইফি) ব্যাকটেরিয়ার সংক্রমণে টাইফয়েডে আক্রান্ত হয় মানুষ। দীর্ঘস্থায়ী জ্বর, বমি বমি ভাব, ফুসকুড়ি, মাথাব্যথা, ডায়রিয়া এ রোগের প্রধান লক্ষণ। প্রাণঘাতীও হয়ে উঠতে পারে এ রোগ। টাইফয়েড জ্বর নিরাময়ে অ্যান্টিবায়োটিক গ্রহণের ব্যবস্থাপত্র দেন চিকিৎসকরা। তবে টাইফয়েডের এ ব্যাকটেরিয়া এখন অ্যান্টিবায়োটিক প্রতিরোধী স্ট্রেইন বা ধরন তৈরি করছে। এরই মধ্যে স্ট্রেইনটি ছড়িয়ে পড়েছে সারা বিশ্বে। বাংলাদেশেও টাইফয়েডের ব্যাকটেরিয়ার অ্যান্টিবায়োটিক প্রতিরোধী স্ট্রেইন দেখা যাচ্ছে। এটি বড় ঝুঁকির কারণ হতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করছেন রোগতত্ত্ব ও জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা।
    ‘দি ইন্টারন্যাশনাল অ্যান্ড ইন্টারকন্টিনেন্টাল স্প্রেড অ্যান্ড এক্সপ্যানশন অব অ্যান্টিমাইক্রোবিয়াল রেজিস্ট্যান্স স্যালমোনেলা টাইফি: অ্যা জিনোমিক এপিডেমিওলজি স্টাডি’ শীর্ষক এক গবেষণায় টাইফয়েডের ব্যাকটেরিয়ার অ্যান্টিবায়োটিক প্রতিরোধী হয়ে ওঠার বিষয়টি তুলে ধরা হয়েছে। সম্প্রতি ল্যানসেট মাইক্রোব সাময়িকীতে গবেষণাটি প্রকাশ করা হয়েছে। গবেষণায় বাংলাদেশ, ভারত, নেপাল ও পাকিস্তানে টাইফয়েড জ্বরের প্রায় সাড়ে তিন হাজার টাইফি স্ট্রেইন নমুনার জিনোম সিকোয়েন্সিং করা হয়। এর সঙ্গে আগেই জিনোম সিকোয়েন্স করা চার হাজারের বেশি নমুনা পর্যালোচনার জন্য যুক্ত করা হয়। এর ফলাফল বিশ্লেষণে দেখা গিয়েছে, নমুনায় ফ্লুরোকুইনোলন প্রতিরোধী, বহু ওষুধ প্রতিরোধী (এমডিআর) ও অ্যাজিথ্রোমাইসিন প্রতিরোধী ব্যাকটেরিয়ার উপস্থিতি রয়েছে। গবেষণায় বাংলাদেশ, যুক্তরাষ্ট্র, নেদারল্যান্ডস, ভারত, পাকিস্তান ও যুক্তরাজ্যের ২৮ জন গবেষক অংশ নেন।
    বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (ডব্লিউএইচও) তথ্য অনুযায়ী, প্রতি বছর বিশ্বে ১ কোটি ১০ লাখ থেকে ১ কোটি ২০ লাখ মানুষ টাইফয়েডে আক্রান্ত হন। এর মধ্যে প্রায় দেড় লাখ মানুষের মৃত্যু হয়। এটি সাধারণত দূষিত খাবার বা পানির মাধ্যমে ছড়ায়। টাইফয়েডে আক্রান্ত ব্যক্তির মলের মাধ্যমে জীবাণু পানিতে মিশে অন্যদের সংক্রমিত করে। দীর্ঘস্থায়ী জ্বর, বমি বমি ভাব, ফুসকুড়ি, মাথাব্যথা, ডায়রিয়া এ রোগের প্রধান লক্ষণ, তবে কখনো কখনো কোষ্ঠকাঠিন্যও দেখা দেয়। টাইফয়েড জ্বর অ্যান্টিবায়োটিকের মাধ্যমে চিকিৎসার পরামর্শ দেয়া হলেও বিভিন্ন ধরনের অ্যান্টিবায়োটিকের অযৌক্তিক ব্যবহার বর্তমানে চিকিৎসাকে করে তুলছে জটিল।
    বিল অ্যান্ড মেলিন্ডা গেটস ফাউন্ডেশনের অর্থায়নে করা গবেষণায় ওষুধ প্রতিরোধী টাইফয়েডকে একটি বৈশ্বিক সমস্যা হিসেবে তুলে ধরা হয়েছে। এতে ২০১৪ থেকে ২০১৯ সাল পর্যন্ত বাংলাদেশ, ভারত, নেপাল ও পাকিস্তানের সাড়ে তিন হাজার নমুনার জিনোম সিকোয়েন্স করা হয়েছে। তাছাড়া এতে ১৯০৫ থেকে ২০১৮ সালের মধ্যে ৭০টিরও বেশি দেশ থেকে নেয়া চার হাজারের বেশি নমুনার জিনোম সিকোয়েন্সিংয়ের ফলাফলও বিশ্লেষণ করা হয়। চারটি দেশের জনসংখ্যাভিত্তিক টাইফয়েড জ্বরকে পর্যবেক্ষণ করার পাশাপাশি গবেষণায় গত তিন দশকে অ্যান্টিমাইক্রোবিয়াল প্রতিরোধী এস টাইফির উত্থান ও ভৌগোলিক বিস্তার পর্যালোচনা করা হয়।
    গবেষকরা বলছেন, চলতি শতকের শুরু থেকে দক্ষিণ এশিয়ায় টাইফয়েডে প্রাথমিকভাবে প্রয়োগকৃত অ্যান্টিবায়োটিকের প্রতিরোধ কমতে শুরু করেছে। ম্যাক্রোলাইডস ও কুইনোলনের মতো প্রধান অ্যান্টিবায়োটিকের বিরুদ্ধে টাইফয়েডের প্রতিরোধী স্ট্রেইনও বেড়েছে, যা অন্যান্য দেশে ছড়িয়ে পড়েছে।
    ল্যানসেটে প্রকাশিত গবেষণায় বলা হয়েছে, ওষুধ প্রতিরোধী এস টাইফি স্ট্রেইন ১৯৯০ সালে বিভিন্ন দেশে অন্তত শতাধিকবার ছড়িয়ে পড়েছে। এ স্ট্রেইন বেশির ভাগ ক্ষেত্রেই দক্ষিণ এশিয়া, দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া, পূর্ব ও দক্ষিণ আফ্রিকায় ছড়িয়ে পড়েছে। ৯০ দশকের এস টাইফি টাইফয়েডের চিকিৎসার ভিত্তি মনে করা হতো ফ্লুরোকুইনোলন শ্রেণীর ওষুধকে। ২০১০ সালে এসে এ ওষুধ টাইফয়েড চিকিৎসায় অকার্যকর হয়ে পড়ে। ২০১৬ সালে পাকিস্তানে এস টাইফির প্রাদুর্ভাব দেখা দেয়। এ স্ট্রেইনও তৃতীয় প্রজন্মের ফ্লুরোকুইনোলন ও সেফালোস্পোরিন ওষুধ প্রতিরোধী হয় বলে গবেষণায় উঠে আসে। সম্প্রতি কয়েক বছরে এস টাইফি স্ট্রেইনের মধ্যে অ্যাজিথ্রোমাইসিন প্রতিরোধ পাওয়া যায়। ফলে বর্তমানে হুমকিতে পড়েছে টাইফয়েডের চিকিৎসার ক্ষেত্রে মুখে খাওয়া অ্যান্টিমাইক্রোবিয়ালের কার্যকারিতা।
    জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বলছেন, নগরায়ণ ও জলবায়ুর পরিবর্তনের কারণে টাইফয়েড জ্বর আন্তর্জাতিকভাবে রোগের বোঝায় পরিণত হচ্ছে। বিশ্বের জনবহুল শহরগুলোর মতো বাংলাদেশের রাজধানীতে জনসংখ্যার আধিক্য ও অপর্যাপ্ত জমি, প্লাবিত, নাজুক স্যানিটেশন ব্যবস্থার কারণে টাইফয়েডপ্রবণ। এসব অঞ্চল অ্যান্টিবায়োটিক রেজিস্ট্যান্স গড়ে ওঠার জন্যও উপযোগী। ফলে অ্যান্টিবায়োটিকের অযৌক্তিক ব্যবহার কমিয়ে রোগ নির্ণয় প্রাপ্তির উন্নতীকরণ ও কার্যকর টাইফয়েড প্রতিরোধী ব্যবস্থার টিকার মাধ্যমে এ সংক্রামক রোগের বিস্তার ঠেকানোর ওপর জোর দেয়ার পরামর্শ দিচ্ছেন তারা।
    ওই গবেষণায় বলা হয়, অল্প সময়ে কাজ করে বলে বাংলাদেশে অ্যাজিথ্রোমাইসিন অ্যান্টিবায়োটিক খুবই জনপ্রিয়। জ্বর, ডায়রিয়ার জন্যও এ ওষুধ দেয়া হয়। বাংলাদেশে অ্যাজিথ্রোমাইসিনের সংবেদনশীলতা ধীরে ধীরে কমে যাচ্ছে। ২০১০ সালের পর দেশে ধীরে ধীরে অ্যাজিথ্রোমাইজিন প্রতিরোধী হয়ে উঠছে টাইফয়েড। ৯০ দশকে যে ওষুধে টাইফয়েডের চিকিৎসা হতো, সেসব ওষুধ টাইফয়েড নিরাময়ে দুর্বল হয়ে পড়েছে। একই সঙ্গে ২০০০ সাল-পরবর্তী ব্যবহূত ওষুধগুলোর ক্ষেত্রেও টাইফয়েড প্রতিরোধী হয়ে উঠেছে।
    মূলত চারটি দেশ থেকেই নমুনার জিনোম সিকোয়েন্সিং করা হয়েছে। টাইফয়েডের যে লিনিয়েজের (এইচ৫৮) কথা এ গবেষণায় বলা হয়েছে তাতে অ্যান্টিবায়োটিক প্রতিরোধী ক্ষমতা খুব বেশি, মাল্টি ড্রাগ রেজিস্ট্যান্সও (এমডিআর) হচ্ছে। অন্যতম গবেষক ও বাংলাদেশের চাইল্ড হেলথ রিসার্চ ফাউন্ডেশনের গবেষক আরিফ মোহাম্মদ তন্ময় বণিক বার্তাকে বলেন, এইচ৫৮ লিনিয়েজটি বাংলাদেশসহ ভারত, পাকিস্তান, নেপালে কমে যাচ্ছে। অন্যান্য দেশে কমার ক্ষেত্রে সুনির্দিষ্ট নয়। টাইফয়েডের এইচ৫৮ লিনিয়েজ দক্ষিণ এশিয়ায় উত্পন্ন এমনটি ধরা হয়। পরবর্তী সময়ে তা বিভিন্ন দেশে ছড়িয়ে পড়েছে। এখন এসব দেশে না বাড়লেও আফ্রিকায় বাড়ছে। ভ্রমণ করার সঙ্গে এ টাইফয়েডের সম্পর্ক রয়েছে। প্রবাসী কেউ বাংলাদেশে থেকে ফিরে গিয়ে টাইফয়েডে আক্রান্ত হলে তখন তার ইতিহাস দেখা হয়। হালকা জ্বর নিয়ে চিকিৎসকের কাছে গেলে তখন তার ভ্রমণ ইতিহাস জানতে চাওয়া হয়। বিশেষ করে বাংলাদেশ, ভারত, পাকিস্তান এসব দেশে ভ্রমণের ইতিহাস খতিয়ে দেখা হয় অথবা নিকটাত্মীয়দের মধ্যে কেউ জ্বর বা টাইফয়েডে আক্রান্ত হয়েছে কিনা। এসবকে ভ্রমণ সম্পর্কিত টাইফয়েড বলা হয়।
    বিশ্বে এ পর্যন্ত টাইফয়েডের সর্বোচ্চ নমুনা নিয়ে কাজ করে এ গবেষণা করা হয় বলেই জানান তিনি। টাইফয়েডের সাড়ে সাত হাজার জিনোম নিয়ে কাজ করা এটিই প্রথম কোনো গবেষণা। এর আগে এত নমুনার জিনোম সিকোয়েন্সিং করে কোনো কাজ করা হয়নি।
    রোগতত্ত্ব, রোগ নিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের (আইইডিসিআর) উপদেষ্টা ও সাবেক প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ড. মুশতাক হোসেন বলেন, মানুষের ভ্রমণের মাধ্যমেই স্ট্রেইনগুলো বিভিন্ন দেশে ছড়ায়, এতে সরাসরি কাউকে দায়ী করা যায় না। টাইফয়েডের বিভিন্ন টাইপ বিভিন্ন দেশে পাওয়া যেতে পারে। ভৌগোলিক ও অযৌক্তিকভাবে অ্যান্টিবায়োটিক ব্যবহারের কারণে অ্যান্টিবায়োটিকের রেজিস্ট্যান্স হয়। এর জন্য আমাদের জীবনাচার দায়ী। আমাদের ওষুধের ওপর নির্ভরশীলতা দায়ী। পৃথিবীর সব দেশেই বিভিন্ন ব্যাকটেরিয়া কোনো না কোনোভাবে অ্যান্টিবায়োটিক প্রতিরোধী হয়ে উঠছে। কোথাও কোথাও অ্যান্টিবায়োটিক রেজিস্ট্যান্স কিছুটা কমে এসেছে। আমাদের দেশের মতো বহু দেশে যত্রতত্র ওষুধ গ্রহণ ও বিক্রির সুযোগ নেই।
    এ রোগতত্ত্ববিদের মতে, ওষুধ প্রস্তুতকারক প্রতিষ্ঠানের মালিকরা ওষুধ গ্রহণকে উৎসাহ দেন। আফ্রিকাতে চকোলেটের মতো অ্যান্টিবায়োটিক বিক্রি হচ্ছে। এজন্য সচেতনতা বৃদ্ধির পাশাপাশি চিকিৎসকের ব্যবস্থাপত্র ছাড়া ওষুধ বিক্রির সুযোগ না দেয়ার ব্যবস্থা করা উচিত।
    যুক্তরাষ্ট্রের রোগ নিয়ন্ত্রণ ও প্রতিরোধ কেন্দ্র (সিডিসি) বলছে, ২০০৬ থেকে ২০১৫ সালের মধ্যে পাকিস্তানে ভ্রমণ করা টাইফয়েড জ্বরে আক্রান্ত রোগীদের ৭৯ শতাংশ মার্কিন ফ্লুরোকুইনোলন প্রতিরোধী ছিলেন। ২০১৬ থেকে ২০১৮ সাল পর্যন্ত পাকিস্তান ভ্রমণ করা ২৯ জন মার্কিন নাগরিক টাইফয়েডে আক্রান্ত হলে দেখা যায়, ওই টাইফয়েডের স্ট্রেইন বিভিন্ন ওষুধ প্রতিরোধী।
    বিভিন্ন রোগের ব্যাকটেরিয়াগুলো এখন অ্যান্টিবায়োটিক প্রতিরোধী হয়ে উঠছে মন্তব্য করে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের জনস্বাস্থ্য বিষয়ক পরামর্শক কমিটির সদস্য অধ্যাপক ডা. আবু জামিল ফয়সাল বলেন, স্যালমোনেলা টাইফি ব্যাকটেরিয়া প্রশমনের জন্য সাধারণত অ্যাজিথ্রোমাইসিন প্রয়োগ করা হয়। তবে অযৌক্তিক ব্যবহারের কারণে এ ওষুধ প্রতিরোধী হয়েছে টাইফয়েড। এখন এটা খুবই ভয়ের যে বহু মানুষের টাইফয়েড হচ্ছে। জনস্বাস্থ্যের দিক থেকে চিন্তা করলে আমরা যে যত্রতত্র অ্যান্টিবায়োটিক গ্রহণ করি, এটা বন্ধ করতে হবে। প্রয়োজনে কঠোর আইন প্রয়োগ করতে হবে। সচেতনতা বাড়াতে হবে যেন হুট করে অযৌক্তিকভাবে কেউ অ্যান্টিবায়োটিক গ্রহণ না করে।

  • রক্তে ভালো কোলেস্টেরল বাড়াতে যা খাবেন

    রক্তে ভালো কোলেস্টেরল বাড়াতে যা খাবেন

    রক্তে যে প্রোটিন আছে তার মধ্যে এই কোলেস্টেরল থাকে। রক্তের মাধ্যমে এটি শরীরে ঘুরে বেড়ায়। এই প্রোটিনকে বলা হয় লিপো প্রোটিন। এটা দুই রকমের; লো ডেনসিটি (কম ঘনত্বের) লিপোপ্রোটিন (এলডিএল) ও হাই ডেনসিটি (বেশি ঘনত্বের) লিপোপ্রোটিন (এইচডিএল)।এলডিএল : এলডিএল বা লো ডেনসিটি লিপোপ্রোটিনকে বলা হয় খারাপ কোলেস্টেরল। এই জাতীয় কোলেস্টেরল সহজেই মানবদেহের ধমনিগাত্রে জমা হতে পারে। এতে প্রোটিন কম ও ফ্যাট বেশি থাকে। কারো রক্তে এই ধরনের কোলেস্টেরল যত কম থাকবে, অ্যাথেরোসকেরেসিস, হার্ট অ্যাটাক, স্ট্রোক ও অন্যান্য জটিলতা থেকে তিনি তত বেশি রক্ষা পাবেন।

    এমন কিছু খাবার আছে, যা খেলে রক্তে ভালো কোলেস্টেরল বাড়বে এবং খারাপ কোলেস্টেরল কমবে। এই খাবারগুলো সম্পর্কে জেনে নিতে পারেন।♦ যেকোনো রকমের ডাল বা ছোলা রোজ যদি এক কাপ খাওয়া হয়, তবে ২০ শতাংশ পর্যন্ত খারাপ কোলেস্টেরলের মাত্রা কমবে।

    ♦ এক বাটি ওট মিল, লাল আটার রুটি ও সবজি, ওমেগা ৩ সমৃদ্ধ মাছ ও বাদাম খারাপ কোলেস্টেরল ঠেকানোর জন্য ভালো।♦ চায়ের মধ্যে গ্রিন টি খুবই ভালো। দিনে যদি দুই থেকে তিন কাপ গ্রিন টি খাওয়া হয়, তাহলে খারাপ কোলেস্টেরল অনেকটাই আয়ত্তে থাকবে।♦ খাদ্য তালিকায় রাখুন চিয়াসিড। এতে এলডিএলের মাত্রা কম থাকবে। এতে নানারকম অ্যান্টিঅক্সিড্যান্টস ও ওমেগা-৩ ফ্যাটি এসিড আছে, যা স্বাস্থ্যের জন্য দারুণ উপকারী।

    ♦ সয়াবিনে আছে আনস্যাচুরেটেড ফ্যাট, ফাইবার ও প্রোটিন। প্রাণিজ প্রোটিনের পরিবর্তে বিকল্প প্রোটিন হিসেবে নিয়মিত সয়াবিন গ্রহণ করায় প্লাজমা কোলেস্টেরলের পরিমাণ ২৩ থেকে ২৫ শতাংশ কমে।

    ♦ ডায়েটে বেগুনি রঙের ফল এবং শাক-সবজি অন্তর্ভুক্ত করুন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এতে অ্যান্থোসায়ানিন নামক অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট রয়েছে, যা এইচডিএল কোলেস্টেরলের মাত্রা বাড়াতে সহায়তা করে।