Category: স্বাস্থ্য

  • সারা দেশে ১৪৮৯০টি কমিউনিটি ক্লিনিক নির্মাণের পরিকল্পনা আছে: স্বাস্থ্যমন্ত্রী

    সারা দেশে ১৪৮৯০টি কমিউনিটি ক্লিনিক নির্মাণের পরিকল্পনা আছে: স্বাস্থ্যমন্ত্রী

    www.HelloBangla.News – স্বাস্থ্য – ২৫ জুন, ২০২৪: সারা দেশে ১৪ হাজার ৮৯০টি কমিউনিটি ক্লিনিক নির্মাণের পরিকল্পনা আছে, বলে জানিয়েছেন স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণ মন্ত্রী ডা. সামন্ত লাল সেন। তিনি আও বলেন, বর্তমানে ১৪ হাজার ৩২০টি কমিউনিটি ক্লিনিক চালু আছে বলেও তিনি জানান।

    আজ মঙ্গলবার (২৫ জুন) জাতীয় সংসদ অধিবেশনে সংরক্ষিত আসনের সংসদ সদস্য ফরিদা ইয়াসমিনের এক লিখিত প্রশ্নের উত্তরে স্বাস্থ্যমন্ত্রী এ তথ্য জানান।

    স্পিকার শিরীন শারমিন চৌধুরী অধিবেশনে সভাপতিত্ব করেন। এ দিনের প্রশ্নোত্তর টেবিলে উপস্থাপিত হয়।

    স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, “সারা দেশে মোট ১৪,৮৯০টি কমিউনিটি ক্লিনিক নির্মাণের পরিকল্পনা আছে। এর মধ্যে বর্তমানে সারা দেশে মোট ১৪,৩২০টি কমিউনিটি ক্লিনিক চালু আছে। এছাড়া ৬৩টি কমিউনিটি ক্লিনিকের নির্মাণকাজ চলমান রয়েছে। কমিউনিটি ক্লিনিক থেকে গ্রামীণ জনগণকে মূলত স্বাস্থ্য শিক্ষা, স্বাস্থ্য উন্নয়ন, পুষ্টি, পরিবার পরিকল্পনা, উচ্চরক্তচাপ ও ডায়াবেটিস রোগ শনাক্তকরণ, সীমিত নিরাময়মূলক সেবাসহ জরুরি ও জটিল রোগীদের যথাযথ ব্যবস্থাপনার জন্য উচ্চতর পর্যায়ে রেফার সংক্রান্ত সেবাদান করা হচ্ছে।”

    তিনি বলেন, “অসংক্রামক রোগসমূহ প্রাথমিকভাবে নিরূপণ এবং উচ্চতর পর্যায়ে রেফার যেমন: উচ্চরক্তচাপ, ডায়াবেটিস, আর্সেনিকোসিস, অটিজম ইত্যাদি কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে। অসংক্রামক রোগ প্রতিরোধ ও নিয়ন্ত্রণে কমিউনিটি ক্লিনিকে নিয়মিত স্বাস্থ্য শিক্ষা কার্যক্রম আরও জোরদারকরণ এবং একটি কার্যকর রেফারেল ব্যবস্থাপনা প্রতিষ্ঠার জন্য প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে ।

  • রাসেলস ভাইপার সাপ নিয়ে আপনারা আতঙ্কিত হবেন না: স্বাস্থ্যমন্ত্রী

    রাসেলস ভাইপার সাপ নিয়ে আপনারা আতঙ্কিত হবেন না: স্বাস্থ্যমন্ত্রী

    www.HelloBangla.News – স্বাস্থ্য – ২২ জুন, ২০২৪: রাসেলস ভাইপার সাপ নিয়ে আপনারা আতঙ্কিত হবেন না, বলে জানিয়েছেন স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণমন্ত্রী ডা. সামন্ত লাল সেন। তিনি বলেন, “রাসেলস ভাইপার নিয়ে স্বাস্থ্যমন্ত্রী হিসেবে আমি জনগণকে বলব আপনারা আতঙ্কিত হবেন না। রাসেলস ভাইপারের যে অ্যান্টিভেনম সেটা আমাদের হাসপাতালগুলোতে পর্যাপ্ত মজুদ আছে। আমি পরিষ্কার নির্দেশ দিয়েছি, কোনো অবস্থাতেই অ্যান্টিভেনমের ঘাটতি রাখা যাবে না।”

    আজ শনিবার (২২ জুন) সকালে মন্ত্রী অনলাইন প্লাটফর্মে জেলাগুলোর সিভিল সার্জন, পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা, বিভাগীয় পরিচালক, মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পরিচালকসহ সমগ্র স্বাস্থ্য বিভাগের কর্মকর্তাদের সঙ্গে সভা করেন।

    সভায় মন্ত্রী দেশের বিভিন্ন জেলার সিভিল সার্জন ও মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পরিচালক, বিভাগীয় পরিচালকদের সঙ্গে সর্প দংশন ও রাসেলস ভাইপার নিয়ে কথা বলেন এবং সামগ্রিক পরিস্থিতির খোঁজখবর নেন।

    সভায় স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, “সাপে দংশনের ক্ষেত্রে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হচ্ছে রোগীকে দ্রুত ডাক্তারের কাছে নিয়ে যাওয়া। অনতিবিলম্বে ডাক্তারের কাছে নিয়ে গেলে এ ক্ষেত্রে যথাযথ চিকিৎসার মাধ্যমে রোগীকে সম্পূর্ণ সুস্থ করে তোলা সম্ভব।

    স্বাস্থ্যমন্ত্রী দেশের সমগ্র হাসপাতালে পর্যাপ্ত অ্যান্টিভেনম মজুদ রাখার নির্দেশ দেন।

    স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, “সাপে দংশনের বিষয়ে জনগণকে সচেতন করা খুবই জরুরি। রোগীকে হাসপাতালে আনতে যাতে দেরি না হয় সে বিষয়ে আমাদের সবাইকে সচেতন ও উদ্বুদ্ধ করতে হবে।”

    এছাড়া মন্ত্রী সভায় সিভিল সার্জন ও স্বাস্থ্য বিভাগের কর্মীদের নিজ নিজ এলাকার সংসদ সদস্যদের সঙ্গে সমন্বয় করে কাজ করার তাগিদ দেন।

    সভায় স্বাস্থ্য সেবা বিভাগের সচিব মো. জাহাঙ্গীর আলম, স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক প্রফেসর ডা. রোবেদ আমিনসহ বিশেষজ্ঞরা উপস্থিত ছিলেন।

  • বায়ু দূষণে ২০২১ সালে বাংলাদেশে মৃত্যু হয় ২ লাখ ৩৫ হাজার জনের

    বায়ু দূষণে ২০২১ সালে বাংলাদেশে মৃত্যু হয় ২ লাখ ৩৫ হাজার জনের

    www.HelloBangla.News – স্বাস্থ্য – ২০ জুন, ২০২৪: সদ্য এক প্রতিবেদন বাংলাদেশ ও বিশ্বব্যাপী বাতাসের মানের উদ্বেগজনক অবস্থা তুলে ধরা হয়েছে। যেখানে বলা হয়েছে দূষিত বায়ু স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর। প্রতিবেদনটি প্রকাশিত হয়েছে ইউনিসেফের সঙ্গে অংশীদারত্বের ভিত্তিতে হেলথ ইফেক্টস ইনস্টিটিউট (এইচইআই) থেকে।

    স্টেট অব গ্লোবাল এয়ারের (এসওজিএ)-২০২৪ সালের প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী, শুধু ২০২১ সালেই বাংলাদেশে ২ লাখ ৩৫ হাজারের বেশি মৃত্যুর কারণ ছিল এ বায়ুদূষণ, যা জনস্বাস্থ্যের ক্ষেত্রে বড় ধরনের এক চ্যালেঞ্জে পরিণত হয়েছে। শুধু তাই নয় এতে আরও বলা হয়েছে দক্ষিণ এশিয়াসহ পূর্ব-পশ্চিম, মধ্য এবং দক্ষিণাঞ্চলীয় আফ্রিকার দেশগুলোতে বায়ুদূষণজনিত রোগের প্রাদুর্ভাব সবচেয়ে বেশি।

    আজ বৃহস্পতিবার (২০ জুন) ইউনিসেফ এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানিয়েছে।

    প্রতিবেদনে আরও উঠে এসেছে, পাঁচ বছরের কম বয়সী শিশুরা বায়ুদূষণজনিত রোগের শিকার হয়ে থাকে বেশি। এর প্রভাবে অপরিণত অবস্থায় জন্মগ্রহণ, কম ওজন নিয়ে জন্মগ্রহণ, হাঁপানি ও ফুসফুসের রোগসহ বিভিন্ন ধরনের স্বাস্থ্যগত সমস্যার দেখা দেয়।

    বাংলাদেশ, আফ্রিকা এবং এশিয়ার বেশ কয়েকটি দেশে, লোয়ার-রেসপাইরেটরি-ট্র্যাক্ট ইনফেকশন বা নিম্ন শ্বাসনালীর সংক্রমণে পাঁচ বছরের কমবয়সী যত শিশুর মৃত্যু হয়, তার ৪০ শতাংশের জন্যই দায়ী বায়ুদূষণ। ২০২১ সালে, বাংলাদেশে বায়ু দূষণের কারণে ১৯ হাজারেরও বেশি পাঁচ বছরের কম বয়সী শিশুর মৃত্যু রেকর্ড করা হয়েছে।

    ২০২১ সালে বায়ুদূষণ সম্পর্কিত কারণে বিশ্বব্যাপী পাঁচ বছরের কম বয়সী সাত লাখের বেশি শিশুর মৃত্যু হয়। সারা বিশ্বে এ বয়সী শিশুদের মৃত্যুর প্রধান কারণ ‘অপুষ্টির’ পরই ‘বায়ু দূষণ’ দ্বিতীয় শীর্ষস্থানীয় ঝুঁকি হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে। মারা যাওয়া শিশুদের মধ্যে প্রায় পাঁচ লাখ শিশুর মৃত্যু হয়েছে আফ্রিকা ও এশিয়ায় বিভিন্ন দেশে; দূষিত জ্বালানি ব্যবহার করে ঘরের ভেতরে রান্না করাই ছিল এ বায়ুদূষণের কারণ।

    জরুরি পদক্ষেপের প্রয়োজনীয়তার ওপর জোর দিয়ে বাংলাদেশে ইউনিসেফের রিপ্রেজেন্টেটিভ শেলডন ইয়েট বলেন, লাখ লাখ মানুষেরা, বিশেষ করে শিশুরা স্বাস্থ্যঝুঁকির মধ্যে রয়েছে। নিম্নমানের বাতাসের ক্ষতিকর প্রভাব শিশুদের ওপরই বেশি দেখা যায়; এর প্রভাবে তারা হাঁপানি ও নিউমোনিয়ার মতো রোগে আক্রান্ত হয়। শুধু আজ আমাদের শিশুদের স্বাস্থ্যের জন্য নয়, ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্যও বাতাসের গুণগত মান উন্নত করতে টেকসই সমাধান বাস্তবায়ন করা গুরুত্বপূর্ণ।

    প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, বাংলাদেশে ব্যাপক হারে ওজন গ্যাসের উপস্থিতি রয়েছে, যা বায়ু দূষণজনিত রোগের অন্যতম কারণ। ২০২১ সালে, বিশ্বব্যাপী ওজন-সম্পর্কিত ক্রনিক অবস্ট্রাকটিভ পালমোনারি ডিসঅর্ডার (সিওপিডি) জনিত মৃত্যুর প্রায় অর্ধেক (৫০ শতাংশ) ঘটেছে ভারতে (২৩৭,০০০ মৃত্যু), চীনে (১২৫,৬০০ মৃত্যু) এবং বাংলাদেশে (১৫,০০০ মৃত্যু)।

    শিশুর স্বাস্থ্যের ওপর বায়ুদূষণের ভয়াবহ প্রভাব বেশ পরিষ্কারভাবে বর্ণনা করা হয়েছে প্রতিবেদনটিতে। বায়ুদূষণের ফলে শিশুদেরই সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হতে দেখা যায়; বায়ু দূষণের ক্ষতিকর এ প্রভাব, শিশু মাতৃগর্ভে থাকা অবস্থাতেই শুরু হয়ে সারাজীবনের জন্য স্থায়ী হতে পারে। প্রাপ্তবয়স্কদের তুলনায় শিশুরা শ্বাস নেবার সময় তাদের শরীরের ওজনের অনুপাতে বেশি বাতাস গ্রহণ করে; দূষিত বায়ুর সঙ্গে তারা দূষিত সব উপাদানও গ্রহণ করে থাকে; যার মারাত্মক প্রভাব পরে তাদের বিকাশমান ফুসফুস, শরীর ও মস্তিষ্কের ওপর।

    বায়ুদূষণজনিত এসব রোগের প্রভাব ও প্রাদুর্ভাব কিন্তু বিশ্বব্যাপী সমান নয়। উদাহরণস্বরূপ, বিশ্বজুড়ে মানুষের ইসকেমিক হৃদরোগে আক্রান্ত হওয়ার পেছনে বায়ুদূষণের অবদান গড়ে ২৮ শতাংশ হলেও ফিনল্যান্ড, নরেওয়ে, অস্ট্রেলিয়া ও কানাডার মতো উচ্চ আয়ের দেশগুলোতে এর হার ১০ শতাংশের; অন্যদিকে পূর্ব, পশ্চিম, মধ্য ও দক্ষিণাঞ্চলীয় আফ্রিকা ও দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোতে এর হার (যেমন নাইজেরিয়া, কেনিয়া, রুয়ান্ডা ও বাংলাদেশ) ৪০ শতাংশের বেশি।

    এ বছরের এসওজিএ প্রতিবেদনটিতে বায়ুদূষণের স্বাস্থ্যগত প্রভাব এবং এ বৈশ্বিক স্বাস্থ্য সংকট মোকাবিলায় সমন্বিত প্রচেষ্টার প্রয়োজনীয়তার বিষয়টি জোরালোভাবে তুলে ধরা হয়েছে।

  • চিকিৎসাক্ষেত্রে সাধারণ মানুষের আস্থা ফেরাতে হবে: স্বাস্থ্যমন্ত্রী

    চিকিৎসাক্ষেত্রে সাধারণ মানুষের আস্থা ফেরাতে হবে: স্বাস্থ্যমন্ত্রী

     

    www.HelloBangla.News – জাতীয়  – ১০ ফেব্রুয়ারি, ২০২৪: চিকিৎসাক্ষেত্রে সাধারণ মানুষের আস্থা ফেরাতে হবে, বলে জানিয়েছেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী ডা. সামন্ত লাল সেন। তিনি বলেন, “দেশের চিকিৎসায় সাধারণ মানুষের আস্থা ফেরানোর লক্ষ্যেই কাজ করছে সরকার। এছাড়া ভুটান বাংলাদেশের মধ্যে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক থেকে ১০-১৫ ইউনিটের বার্ন ইউনিট করার চিন্তা-ভাবনা করা হচ্ছে। পাশাপাশি অন্তত সার্কভিত্তিক দেশগুলোতে বাংলাদেশের চিকিৎসকদের বিভিন্ন ক্যাম্প করার চিন্তাভাবনা করা হচ্ছে।”

    আজ শনিবার (১০ ফেব্রুয়ারি) সকালে শেখ হাসিনা জাতীয় বার্ন অ্যান্ড প্লাস্টিক সার্জারি ইউনিটে এক সংবাদ সম্মেলনে এ কথা বলেন মন্ত্রী।

    স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, “বাংলাদেশের চিকিৎসকরা বিশ্বের সঙ্গে তাল মিলিয়ে চিকিৎসা সেবা দিচ্ছেন।”

    তিনি বলেন, “নাক রিকনস্ট্রাকশন সার্জারি বাংলাদেশে আগেও অনেক হয়েছে, তবে বিদেশি প্রথম রোগী ভুটানের ২৩ বছর বয়সী কলেজ পড়ুয়া শিক্ষার্থী কারমা দেমার সফল সার্জারি বার্ন ইনস্টিটিউটের একটি বড় অর্জন।”

    অনুষ্ঠানে বাংলাদেশে নিযুক্ত ভুটানের রাষ্ট্রদূত রিনচেন কুয়েনসিলসহ ইনস্টিটিউটের বিভিন্ন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

  • বিশ্ব রক্তদাতা দিবস ২০২৩: ‘রক্ত দান করুন, দান করুন প্লাজমা, যতবার সম্ভব গ্রহণ করুন জীবন বাঁচানোর এ অনন্য সুযোগ’

    বিশ্ব রক্তদাতা দিবস ২০২৩: ‘রক্ত দান করুন, দান করুন প্লাজমা, যতবার সম্ভব গ্রহণ করুন জীবন বাঁচানোর এ অনন্য সুযোগ’

    হৃদরোগ কিংবা হার্ট অ্যাটাক সাথে হেপাটাইটিস-বি, হেপাটাইটিস-সি, সিফিলিস, এইচআইভি (এইডস) অথবা দুরারোগ্য ক্যান্সার,উচ্চ রক্তচাপ – যে কটা রোগের নাম বললাম তার সবগুলোর ঝুঁকি থেকেই আপনি নিরাপদ থাকতে পারেন নিয়মিত রক্তদানের মাধ্যমে ।

    প্রতি বছর ১৪ জুন ‘বিশ্ব রক্তাদাতা দিবস’ উদযাপন করা হয়। ১৪ জুন এই দিনটি উদযাপনের একটি বিশেষ কারণ রয়েছে। বিজ্ঞানী কার্ল ল্যান্ডস্টেইনার রক্তের গ্রুপ পদ্ধতি আবিষ্কার করেন। এই অবদানের জন্য, কার্ল ল্যান্ডস্টেইনার ১৯৩০ সালে নোবেল পুরস্কার পান । রক্তদাতা দিবসটি বিজ্ঞানী কার্ল ল্যান্ডস্টেইনারকে উৎসর্গ করা হয়েছে। তার জন্মদিন ১৪ জুন।

    প্রতি বছর রক্তদাতা দিবসের একটি বিশেষ থিম থাকে। এ বছর বিশ্ব রক্তদাতা দিবস ২০২৩-এর থিম হল- (Give blood, give plasma, share life, share often.) ‘রক্ত দান করুন, দান করুন প্লাজমা, যতবার সম্ভব গ্রহণ করুন জীবন বাঁচানোর এ অনন্য সুযোগ’।

    সারা বিশ্বের মতো বাংলাদেশেও নানা কর্মসূচির মধ্য দিয়ে দিবসটি পালিত হবে। দেশে রক্তের চাহিদা পূরণে স্বেচ্ছা রক্তদাতাদের প্রতি আহ্বান জানিয়ে থাকছে নানা কর্মসূচি।

    আন্তর্জাতিকভাবে এবছর বিশ্ব রক্তদাতা দিবসের বিশ্বব্যাপী অনুষ্ঠানের আয়োজক দেশ আলজেরিয়া। ২০০৪ সালে দিবসটি প্রথম পালিত হয়। নিরাপদ রক্ত নিশ্চিতকরণ ও স্বেচ্ছা রক্তদাতাদের উৎসাহ দিতেই বিশ্বব্যাপী উদযাপিত হয়ে আসছে দিবসটি।

    বাংলাদেশে বুধবার দিবসটি পালনে সরকারি নানা উদ্যোগের পাশাপাশি এবারও এগিয়ে আসছে সাড়ে চার লক্ষাধিক সুসংগঠিত ডোনার পুল নিয়ে গঠিত কোয়ান্টাম ফাউন্ডেশন।

    আগামীকাল বিকালে রাজধানীর কাকরাইলের আইডিইবি ভবনে প্রথমবারের মতো দুই শতাধিক স্বেচ্ছা রক্তদাতা ও দুই শতাধিক থ্যালাসেমিক রক্তগ্রহীতার মিলনমেলা এবং বিশেষ সেমিনারের আয়োজন করছে কোয়ান্টাম।

    এ দেশে রক্ত চাহিদার একটা বড় অংশ প্রয়োজন হয় থ্যালাসেমিয়া রোগীদের জন্যে। হেমাটোলজি সোসাইটি অব বাংলাদেশ সূত্রে জানা যায়, দেশে থ্যালাসেমিয়া রোগীর সংখ্যা প্রায় ৮০ হাজার। থ্যালাসেমিয়ার বাহক রয়েছে এক কোটি সত্তর লাখেরও অধিক মানুষ। দিন দিন এ সংখ্যা বাড়ছে।

    একজন থ্যালাসেমিয়া রোগীর প্রতি মাসে ১ থেকে ৩ ব্যাগ রক্তের প্রয়োজন হয়। থ্যালাসেমিয়া ছাড়াও রক্তস্বল্পতা, প্রসূতির রক্তক্ষরণ, অগ্নিদগ্ধ রোগী, বড় অপারেশন, দুর্ঘটনা ইত্যাদি নানা কারণে রক্তের প্রয়োজন হয়। রক্তের এ চাহিদা পূরণে নতুন স্বেচ্ছা রক্তদাতার কোনো বিকল্প নেই।

    সাধারণত ১৮ থেকে ৬০ বছর বয়সী যেকোনো শারীরিক ও মানসিকভাবে সুস্থ সক্ষম ব্যক্তি প্রতি চার মাস পরপর রক্ত দিতে পারেন।

    প্রসঙ্গত, আমাদের দেশে প্রতিবছর প্রায় ৮ থেকে ১০ লাখ ব্যাগ রক্ত ও রক্ত উপাদানের চাহিদা রয়েছে। এরমধ্যে কোয়ান্টাম বছরে সরবরাহ করে এক লক্ষাধিক ব্যাগ। ২০০০ সালে প্রতিষ্ঠার পর থেকে দুই দশকের যাত্রায় কোয়ান্টাম গড়ে তুলেছে ৪ লাখ ৭৪ হাজার স্বেচ্ছা রক্তদাতার সুসংগঠিত ডোনার পুল। আর জীবন বাঁচানোর জন্যে এ পর্যন্ত সরবরাহ করেছে ১৫ লক্ষাধিক ইউনিট রক্ত ও রক্ত উপাদান।

    বিশ্ব সাস্থ্য সংস্থা এই দিবসটির উদ্দেশ্য হিসেবে বলেছে- যারা স্বেচ্ছায় রক্ত দিয়েছেন এবং নতুনদের রক্তদানে সাহস জুগিয়েছেন সেসব প্রত্যেক দাতাকে আলাদা করে ধন্যবাদ জ্ঞাপন করুন এবং রক্তদান দিবসকে উদযাপন করুন। নিয়মিত রক্তদানের মাধ্যমে সমস্ত দেশে সুরক্ষিত ও নিরাপদ রক্ত সরবরাহ করা সম্ভব। এবং অধিক মানুষের রক্তদানে প্রাণ বাঁচানো সম্ভব। মানুষদের উৎসাহিত করতে হবে রক্তদানে ও প্লাজমা দানের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা বিষয়ে।

    ভেবে দেখুন, আপনার দান করা মাত্র ৩৩০মিলি রক্ত অর্থাৎ এক ব্যাগ রক্ত একজন মানুষের জীবন রক্ষা করতে পারে । রক্তদান শুধু মাত্র রোগ থেকে নিজেকে রক্ষা করা না,একজন মুমূর্ষ মানুষের পাশে দাঁড়ানো । সাথে সাথে ধর্মীয় দিক থেকেও পবিত্র কাজ । কিন্তু সবসময় খেয়াল রাখতে হবে রক্তদানে এবং গ্রহনে যেন সঠিকভাবে তা পরীক্ষা করে নেয়া হয় ।

    তথ্যসূত্রঃ বাসস, ডব্লিউ এইচ ও

  • শিশুদের ডেংগু হলে দ্রুত পদক্ষেপ নিন

    শিশুদের ডেংগু হলে দ্রুত পদক্ষেপ নিন

    বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার গবেষণায় , বিশ্বের প্রায় অর্ধেক জনসংখ্যা এখন ডেঙ্গুর ঝুঁকিতে রয়েছে এবং প্রতিবছর আনুমানিক ১০০ থেকে ৪০০ মিলিয়ন মানুষ সংক্রমণ হচ্ছে। ডেঙ্গু জ্বরে বেশির ভাগ আক্রান্ত হয় ১৫ বছরের কম বয়সী শিশুরা। সাধারণত বর্ষা মৌসুমে এবং বস্তি এলাকায় ডেঙ্গু সংক্রমণের উচ্চহার দেখা যায়। এই ভাইরাসের চারটি ধরন শনাক্ত হয়েছে। একাধিক ধরনে বা দ্বিতীয়বার আক্রান্ত হলে রোগের তীব্রতা অনেক বেশি থাকে। বর্তমানে অনেক শিশু দ্বিতীয় বা তৃতীয়বার ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হচ্ছে বলে পরিস্থিতি জটিল হচ্ছে। এরই মধ্যে অনেক শিশুকে আবার ডেঙ্গু জ্বর নিয়ে জটিল অবস্থায় হাসপাতালে ভর্তি করা হচ্ছে। এ বিষয়ে খুব গুরুত্বপূর্ণ কিছু পরামর্শ আমরা জেনে নিচ্ছি চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের, অধ্যাপক ডা. প্রণব কুমার চৌধুরীর (সাবেক বিভাগীয় প্রধান, শিশুস্বাস্থ্য বিভাগ) কাছ থেকে –

    শুরুতেই সনাক্ত জরুরি

    ডেঙ্গু ভাইরাস শরীরে সংক্রমণের সাধারণত ৪ থেকে ৭ দিনের মধ্যে সাধারণ উপসর্গগুলো দেখা দেয়। প্রথম ১ থেকে ৫ দিনে হঠাৎ উচ্চমাত্রার জ্বর (প্রায় ১০৪ ডিগ্রি ফারেনহাইট), বমি ভাব, বমি, শরীরে র‌্যাশ (উপসর্গের প্রথম বা দ্বিতীয় দিনে ত্বকে লাল ফুসকুড়ি বা ৪ থেকে ৭ দিনের মধ্যে হামের মতো লাল বিন্দু), হাড়ের জোড়ায় ও মাংসপেশিতে প্রবল ব্যথা ইত্যাদি হচ্ছে ডেঙ্গু জ্বরের উপসর্গ।

    এর সঙ্গে কিছু লক্ষণ ডেঙ্গু জ্বরের ‘বিপজ্জনক চিহ্ন’ হিসেবে স্বীকৃত। যেমন পেটব্যথা, অনবরত বমি, শরীরে পানি জমা, নাক-মাড়ি থেকে রক্তপাত, অতিরিক্ত দুর্বলতা, অস্থিরতা, ২ সেন্টিমিটারের বেশি লিভারস্ফীতি, রক্তে হিমাটোক্রিটের মান বৃদ্ধি এবং অণুচক্রিকা দ্রুত কমতে থাকা।

    ডেঙ্গু জ্বরের ৫ থেকে ৭ দিন সময়কালে ‘মারাত্মক’ চিহ্নগুলো দেখা দিতে পারে। যেমন ডেঙ্গু শক সিনড্রোম (যা ৫ শতাংশ ক্ষেত্রে দেখা যায়), শরীরে পানি জমা, নাড়ি দুর্বল, শরীর শীতল হওয়া, রক্তচাপ আশঙ্কাজনক হারে কমে যাওয়া, অতিরিক্ত রক্তপাত, লিভারের এনজাইম এএসটি বা এএলটির মান ১ হাজার বা এর বেশি হওয়া, অচৈতন্য অবস্থা, হৃৎপিণ্ড ও অন্যান্য অঙ্গে রোগের লক্ষণ ইত্যাদি।

    যেসব সতর্কতা দরকার

    » শিশুর জ্বর হওয়ার প্রথম ২৪ ঘণ্টার মধ্যে চিকিৎসকের পরামর্শ নিন। ‘মৌসুমি জ্বর’ ভেবে সময়ক্ষেপণ করা যাবে না। এরই মধ্যে ডেঙ্গুর ‘বিপজ্জনক চিহ্ন’ বা ‘মারাত্মক’ চিহ্নগুলো প্রকাশ পায়। ফলে শিশু সংকটজনক পরিস্থিতিতে পড়ে যায়। এই মৌসুমে চিকিৎসকের সন্দেহ হলে প্রথম বা দ্বিতীয় দিনেই ডেঙ্গু এনএসওয়ান অ্যান্টিজেন পরীক্ষা করে ডেঙ্গু শনাক্ত করতে পারবেন।

    » জ্বর সম্পূর্ণ নেমে যাওয়ার ২৪ ঘণ্টা পর যদি রোগী বেশি অসুস্থতা অনুভব করে, তবে দ্রুত হাসপাতালে ভর্তি করা জরুরি। প্রয়োজনে রক্ত বা প্লাজমা সঞ্চালন এবং ডেঙ্গু শক সিনড্রোমের বিশেষ চিকিৎসা নিতে হবে। মনে রাখতে হবে, জ্বর। নেমে যাওয়ার পরই আসলে জটিলতা শুরু হয়।

    » যথাযথ চিকিৎসাসেবা পেলে ডেঙ্গু রোগীর মৃত্যুহার মাত্র ১ শতাংশ। কিন্তু শক দেখা দিলে তা বেড়ে ৪০ থেকে ৫০ শতাংশ পর্যন্ত হতে পারে। একসঙ্গে একাধিক অঙ্গের বিকলাবস্থা (পিএমআইসি), চিকিৎসাকালীন ওভারহাইড্রেশন এবং ডায়াবেটিস ও অ্যাজমার মতো দীর্ঘমেয়াদি অসুখে ভোগা শিশুর জন্য ডেঙ্গু বেশি প্রাণঘাতী।

    » এখনো বৈশ্বিকভাবে ডেঙ্গু প্রতিরোধের প্রধান উপায় ডেঙ্গু ভাইরাসবাহী মশার কামড় থেকে বাঁচার নানা ব্যবস্থা নেওয়া। যেমন শিশুকে ফুল শার্ট, ফুল প্যান্ট ও মোজা পরানো। দিনের বেলায়ও মশারি টানিয়ে ঘুমানো।

    তথ্যসূত্রঃ ডক্টরটিভি.নেট

  • কুমড়ার বীজঃ বিজ্ঞান ভিত্তিক স্বাস্থ্য উপকারিতা

    কুমড়ার বীজঃ বিজ্ঞান ভিত্তিক স্বাস্থ্য উপকারিতা

    বাড়িতে রান্না হওয়া মিষ্টি কুমড়ার ভাজি বা তরকারি অনেকের কাছেই পছন্দের। কিন্তু আপনি জানলে আরও অবাক হবেন মিষ্টি কুমড়ার বীজও যে পুষ্টিতে ভরপুর। এতে আছে প্রচুর পরিমানে প্রোটিন, ফাইবার, ম্যাঙ্গানিজ, কপার, ম্যাগনেসিয়াম, ফসফরাস, জিংক, আয়রন এবং অন্যান্য অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট। এই পুষ্টিগুন শুধু আপনাকে সুস্থই করে না , অনেক রোগ নিরাময়েও সাহায্য করে।

    রক্তের সুগার লেভেল কমায়

    কিছু পুরানো গবেষণা অনুসারে কুমড়া, কুমড়ার বীজ বা কুমড়ার রস রক্তে সুগারকে কমাতে সাহায্য করে। যা ডায়াবেটিস রোগীদের জন্য ভালো। একটি সমীক্ষা পরামর্শ দেয় যে প্রতিদিন পর্যাপ্ত ম্যাগনেসিয়াম গ্রহণ করলে টাইপ টু ডায়েবেটিসের ঝুঁকি ১৫ শতাংশ হ্রাস পায়।

    হার্টকে ভালো রাখে

    কুমড়ার বীজের প্রচুর অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট, ম্যাগনেসিয়াম, জিংক এবং আনস্যাচুরেটেড ফ্যাট রয়েছে যা আপনার হার্টের জন্য খুব উপকারি। এতে করে আপনার ভালো কোলেস্টেরল বৃদ্ধি পায়।

    ক্যান্সারের ঝুকি হ্রাস

    বেশ কিছু গবেষণায় দেখা গেছে যে কুমড়ার বীজে উদ্ভিদের এমন যৌগ আছে যা ক্যান্সারের বিরুদ্ধে সুরক্ষা দিতে সাহায্য করতে পারে, তাই যে কোনো ধরনের ক্যান্সারের ঝুঁকিতে থাকা মানুষদের এই স্বাস্থ্যকর বীজ খাওয়া উচিত।

    কুমড়ার বীজ খাওয়ার আরও উপকারিতাঃ

    • সঠিক হজম
    • কোষ্ঠ্যকাঠিন্য দূর করে
    • মূত্রাশয়ের রোগ প্রতিরোধ করে
    • মস্তিষ্কের শক্তি
    • পুরুষদের শুক্রানূ বৃদ্ধি
    • ভালো ঘুম

    কুমড়ার বীজ কীভাবে খাবেন

    মিষ্টি কুমড়ার বীজ নানাভাবে খাওয়া যায়। এটা আপনি কাঁচা বা ভাজা খেতে পারেন। অথবা আপনি এটা সালাদ বা স্মুদিতে যোগ করেও খেতে পারেন।

    তথ্যসূত্রঃ হেলথলাইন.কম

  • ধূমপান ও মদ্যপান খাদ্যনালিতে ক্যানসারের ঝুঁকি বাড়ায়

    ধূমপান ও মদ্যপান খাদ্যনালিতে ক্যানসারের ঝুঁকি বাড়ায়

    হ্যালো বাংলা ডেস্ক: ধূমপান, মদ্যপান ও তামাক সেবন খাদ্যনালিতে ক্যানসারের ঝুঁকি বাড়ায়। কিন্তু খাদ্যনালিতে ক্যানসার হয়েছে কিভাবে বুঝবেন। বিশেষজ্ঞরা জানয়েছেন খাদ্যনালির ক্যানসারে আক্রান্ত হওয়ার সম্ভাব্য কিছু উপসর্গ রয়েছে। তবে সেগুলি বেশ সাধারণ হওয়ায় অনেকের পক্ষেই বোঝা কঠিন যে এর কারণ ক্যানসার হতে পারে। মুখ, গলা ও খাদ্যনালিতে হওয়া ফুয়েল টিউমারই এই ধরনের ক্যানসারকে ডেকে আনে। এই  উপসর্গগুলো দেখলে আপনাকে সতর্ক হতে হবে।

    ১) ঠান্ডা লাগলে গলাব্যথা হওয়া স্বাভাবিক, তবে কোনও কারণ ছাড়াই যদি শক্ত খাবার গিলতে অসুবিধা হয়। পরবর্তী কালে তরল খাবার খেতে এমনকি, ঢোঁক গিলতেও কষ্ট হতে পারে। তখনি সতর্ক হতে হবে।

    ২) তাছাড়া খাদ্যনালিতে যদি ক্যানসার বাসা বাঁধে তাহলে হজমের সমস্যাও দেখা যায়। বুকে জ্বালাভাব, বার বার ঢেকুর ওঠা, পেটে যন্ত্রণা ইত্যাদি উপসর্গ দেখা দিতে পারে।

    ৩) হঠাৎ করে ওজন কমে যাওয়া, কোনও খাবারই খেতে ইচ্ছে না করা এই রোগের লক্ষণ।

    ৪) দীর্ঘ দিন ধরে কাশি, রাতে ঘুমের সময়ে শ্বাসকষ্ট, গলা ও বুকের মাঝখানে চিনচিনে ব্যথা, বিশেষ করে খাবার গিলতে গেলে কষ্ট হলে আপনাকে সতর্ক হতে হবে।

    ৫) তাছাড়া বমি বমি ভাব, ক্লান্তিবোধ, দুর্বলতা, খাওয়ার সময় দম বন্ধ হয়ে আসা বা একটানা কোষ্ঠকাঠিন্য এই রোগের লক্ষণ।

    ৬) গলার স্বরেও বদল আসতে পারে।

    যে ক্যানসারগুলির প্রকৃতি বিরল, তাদের লক্ষণগুলিও বিরল। তবে সব সময়ে মনে রাখতে হবে, উপসর্গ আছে মানেই সেটা ক্যানসার নয়। সেটি অন্য কোনও রোগেরও লক্ষণ হতে পারে। কিন্তু এই উপসর্গগুলি থাকলে পরীক্ষা-নিরীক্ষার মাধ্যমে যাচাই করিয়ে নেওয়া প্রয়োজন যে, আদৌ ক্যানসারের সম্ভাবনা আছে কি না।

    খাদ্যনালির ক্যানসারের ঝুঁকি এড়ানোর কিছু নিয়ম :

    ধূমপান, মদ্যপান ও তামাক সেবন খাদ্যনালিতে ক্যানসারের ঝুঁকি বাড়ায়। এই অভ্যাস ছাড়তে হবে।

    ওবিসিটিও ক্যানসার ডেকে আনে। এ ক্ষেত্রে ওজন নিয়ন্ত্রণে রাখা ভীষণ জরুরি। তাই পুষ্টিকর খাদ্যাভাস করতে হবে, সঙ্গে শরীরচর্চাও জরুরি। তাছাড়া খুব বেশি গরম চা, কফি পান থেকে বিরত থাকতে হবে।

    সূত্র: আনন্দবাজার পত্রিকা

  • ২৫ মে বিশ্ব থাইরয়েড দিবসে চাই জনসচেতনতা

    ২৫ মে বিশ্ব থাইরয়েড দিবসে চাই জনসচেতনতা

    থাইরয়েড সম্পর্কে জানা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। আজ ২৫ মে, বিশ্ব থাইরয়েড দিবস। অবসাদ, বিষণ্ণতা, ভুলে যাওয়া রোগ হতে পারে ‘থাইরয়েড’ জনিত কারনে। বিশ্বব্যাপী ৭৫ কোটি মানুষ থাইরয়েড সমস্যায় ভুগছেন। এ ব্যাপারে সচেতনতা বাড়াতে ২০০৯ সাল থেকে বিশ্বব্যাপী দিবসটি পালিত হয়ে আসছে। বাংলাদেশের বিভিন্ন সংগঠন গত কয়েক বছর ধরে দিবসটি যথাযথভাবে পালন করে থাকে। দিবসটির এবারের মূল বার্তা হলো- থাইরয়েড এবং যোগাযোগ।

    থাইরয়েড হরমোনজনিত একটি সমস্যা। থাইরয়েড প্রজাপতির ডানার মতো শরীরের একটি গ্রন্থি। যা গলার ষড়যন্ত্রের দুই পাশে থাকে। এ গ্রন্থির রং বাদামি। ঘাড়ের কাছে থাইরয়েড গ্ল্যান্ড থেকে নিঃসারিত হরমোন শরীরের মেটাবোলিজমকে নিয়ন্ত্রণ ও শরীরের প্রতিটি কোষকে প্রভাবিত করে। এই হরমোন শরীরের শক্তি, পুষ্টি ও অক্সিজেন উৎপাদন করতে সহায়তা করে। এর ব্যতিক্রম হলেই শরীরে নানা ধরনের সমস্যা দেখা দেয়। এই প্রসঙ্গে ডা. মারুফা মোস্তারী (সহকারী অধ্যাপক, এন্ডোক্রাইনোলজি বিভাগ) জানান এর ধরন, কারন, লক্ষণ, রোগ নির্নয় ও চিকিৎসা সম্পর্কে-

    ধরনঃ

    কয়েক ধরনের থাইরয়েড সমস্যা দেখা যায়। যেমন থাইরয়েড হরমোনের স্বল্পতা বা হাইপোথাইরয়ডিজম, হরমোন বেশি নিঃসরণ হওয়া বা হাইপারথাইরয়েডিজম। এ দুটি প্রধান সমস্যা ছাড়াও থাইরয়েড ফোলা, থাইরয়েড টিউমার ও থাইরয়েড ক্যানসারের মতো সমস্যাও হতে পারে।

    কারনঃ

    নানা কারণে থাইরয়েডের সমস্যা হতে পারে। এ হরমোন উৎপাদনে আয়োডিনের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। আয়োডিন কম থাকলে থাইরয়েড হরমোন কম উৎপন্ন হবে অথবা থাইরয়েড ফুলে যাবে। এই ফুলে যাওয়াকেই বলা হয় গলগণ্ড। আবার জন্মগতভাবে থাইরয়েড গ্রন্থির ত্রুটিতেও থাইরয়েডে সমস্যা দেখা দেয়। কারও থাইরয়েডের সমস্যা থাকলে তার সন্তানদেরও এ সমস্যা হতে পারে। শরীরের রোগ প্রতিরোধব্যবস্থার ত্রুটি এবং অ্যান্টিবডি তৈরির কারণে থাইরয়েডে সমস্যা দেখা দেয়।

    লক্ষণঃ প্রজননক্ষম নারীদের হাইপোথাইরয়েডিজমের হার পুরুষদের তুলনায় প্রায় দশ গুণ বেশি, জটিলতাও বেশি। অস্বাভাবিক ওজন বৃদ্ধি, সব সময় ক্লান্তিবোধ, অনিয়মিত মাসিক বা দীর্ঘদিন অতিরিক্ত মাসিকের মতো সমস্যা, স্মৃতিশক্তি দুর্বল হয়ে যাওয়া, চুল ও ত্বক শুষ্ক ও রুক্ষ হয়ে যাওয়া, কোষ্ঠকাঠিন্য, বারবার গর্ভপাত, বন্ধ্যত্বসহ বিভিন্ন লক্ষণ দেখা দেয়। শিশুদের বৃদ্ধি বাধাগ্রস্ত, বয়ঃসন্ধি বিলম্ব ও মানসিক বিকাশে সমস্যাও দেখা দেয়। অন্যদিকে হাইপারথাইরয়েডে হঠাৎ করেই ওজন কমা, কাঁপুনি, উদ্বেগ, অত্যধিক ঘাম ও ঋতুচক্রে কম রক্তক্ষরণের মতো সমস্যা দেখা দিতে পারে। থাইরয়েডে সমস্যার কারণে মাংসপেশির ক্ষয় বেড়ে যায়, সক্ষমতা কমে যায়। চোখ বড় হয়ে যেতে পারে।

    রোগ নির্ণয়ঃ

    উপসর্গ ছাড়াই চিকিৎসকেরা রক্তে ফ্রি থাইরক্সিন এবং টিএসএইচ (থাইরয়েড-স্টিমুলেটিং হরমোন) পরীক্ষা করতে দিতে পারেন। প্রয়োজনে থাইরয়েডের নানা অ্যান্টিবডি, গলার আলট্রাসনোগ্রাফি, রেডিও-আয়োডিন আপটেক পরীক্ষাও করতে হতে পারে। ক্যানসার সন্দেহ করলে সুই দিয়ে গলা থেকে টিস্যু নিয়ে বা বায়োপসি করার দরকার হতে পারে। নারীদের সন্তান নেওয়ার আগে ও গর্ভাবস্থায় উপসর্গ না থাকলেও থাইরয়েড পরীক্ষা করা নিরাপদ।

    চিকিৎসাঃ

    হাইপোথাইরয়েডিজমের ওষুধ সাধারণত আজীবন খেতে হয়। বারবার পরীক্ষা করে ওষুধের মাত্রা ঠিক করা প্রয়োজন। খুব অল্প কিছু ক্ষেত্রে থাইরয়েডে অস্ত্রোপচার দরকার হয়। থাইরয়েড সন্দেহ হলে অবশ্যই একজন হরমোনবিশেষজ্ঞের পরামর্শ নিন।

    তথ্যসূত্রঃ ডক্টরটিভি

  • কেন হাত-পা জ্বালা পোড়া করে

    কেন হাত-পা জ্বালা পোড়া করে

    হাত-পা জ্বালাপোড়া বা ঝিনঝিন করা পরিচিত একটি সমস্যা। তবে এটা কোনো রোগ নয়, বরং কিছু রোগের লক্ষণ। সাধারণত প্রান্তীয় স্নায়ু ক্ষতিগ্রস্ত হলে অনুভূতির সমস্যা দেখা দেয়। রোগের শুরুতে পা ঝিনঝিন বা জ্বালাপোড়া হলেও ধীরে ধীরে অনুভূতিশক্তি কমে যায়।

    এই রোগের প্রকোপ হাতের চেয়ে পায়ে বেশি হতে দেখা যায়। পায়ের তালু থেকে শুরু হয়ে ধীরে ধীরে ওপরে উঠতে থাকে। সমস্যা বেশি হলে অনেক সময় পায়ের অনুভূতি কমে যায়, পা থেকে স্যান্ডেল খুলে গেলেও রোগী টের পায় না। কখনো আঘাত পেলেও বোঝে না। এ রকম নীরব আঘাত থেকে ক্ষত তৈরি হয় এবং পরে গ্যাংগ্রিন হতে পারে।

    এসব সমস্যা কেন হয় 

    পেরিফেরাল নিউরোপ্যাথি অনেক কারণেই হতে পারে। এর অন্যতম কারণ হলো ডায়াবেটিস। অনিয়ন্ত্রিত ডায়াবেটিসে রক্তে উচ্চমাত্রার শর্করা থাকার কারণে এ জটিলতায় আক্রান্ত হতে পারেন শতকরা ৬০ থেকে ৭০ শতাংশ ডায়াবেটিসের রোগী।

    ভিটামিন বি-এর উপাদান, যেমন থায়ামিন (বি-১), পাইরোডক্সিন (বি-৬), সায়ানোকোবালামিন (বি-১২), নিকোটানিক অ্যাসিড ও রাইবোফ্ল্যাভিনের, ক্যালসিয়াম বা ভিটামিন-ডি-এর অভাবে পা জ্বালা ও ব্যথা করে।

    পরিবর্তিত বিপাকীয় ও হরমোনের সমস্যা, যেমন হাইপোথাইরডিজম, বাত-ব্যথা, যেমন রিউম্যাটয়েড আর্থ্রাইটিস, ক্যানসার, এইডসের কারণে এ সমস্যা হতে পারে।

    কিডনি অকার্যকর এবং যকৃতের সমস্যায় এ সমস্যা হতে পারে। অনেক সময় কেমোথেরাপি বা বিশেষ কিছু ওষুধ সেবনে, যেমন টিউবারকিউলোসিসের ওষুধ, দীর্ঘদিন ধরে গ্যাস্ট্রিকের ওষুধসহ আরও কিছু ওষুধ সেবনের ক্ষেত্রে পা জ্বালাপোড়া হতে পারে।

    দীর্ঘদিন ধরে অতিরিক্ত মদ্যপান বা ধূমপান করলে বা ভারী ধাতু দূষণসহ আরও কিছু কারণে ক্ষতিগ্রস্ত হয় স্নায়ু।

    অ্যালার্জিজনিত কাপড় ও মোজা ব্যবহার করা এবং ত্রুটিপূর্ণ জুতা পরলে।

    পায়ের স্নায়ু বা নার্ভ আহত হলে, অবরুদ্ধ (ইনট্রাপমেন্ট) ও চাপ (কমপ্রেশন) হলেও এই সমস্যা হতে পারে।

    এ ছাড়া মানসিক সমস্যায় আক্রান্ত ব্যক্তির বা বংশানুক্রমিক অসংগত স্নায়ুপদ্ধতির কারণেও অনেক সময় পায়ে জ্বালাপোড়া হয়।

    নারীদের মাসিক বন্ধ হয়ে যাওয়ার পর ইস্ট্রোজেনের অভাবেও এ সমস্যা হয়।

    কী করবেন 

    রোগ প্রতিরোধে পর্যাপ্ত পরিমাণে ভিটামিন সেবন করতে হবে এবং চিকিৎসায় ভিটামিন ইনজেকশন পুশ করতে হবে।

    ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রিত রাখতে হবে।

    মদ্যপান ও ধূমপান থেকে বিরত থাকতে হবে।

    স্নায়ু আঘাত, অবরুদ্ধ (ইনট্রাপমেন্ট) ও সংকোচন (কমপ্রেশন) হলে অবশ্যই চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে।

    সঠিক পরিমাপের খোলা ও আরামদায়ক জুতা ও মোজা পরতে হবে। পায়ের আর্চ সাপোর্ট, ইনসোল ও হিল প্যাড ব্যবহারে উপসর্গ অনেকটাই কমবে।

    পায়ের পেশির ব্যায়াম ও ঠান্ডা পানির (বরফ নয়) সেঁক নেওয়া যেতে পারে।

    লক্ষ রাখতে হবে, রোগী এমন কোনো ওষুধ সেবন করছে কি না, যে কারণে রোগীর পেরিফেরাল নিউরোপ্যাথি হচ্ছে। যদি এ ধরনের কোনো ওষুধ রোগী সেবন করে থাকে, তাহলে তা সঙ্গে সঙ্গেই বন্ধ করতে হবে। পেরিফেরাল নিউরোপ্যাথির রোগীর এসব ওষুধ সাধারণত দীর্ঘ সময়ের জন্য খেতে হয়।

    হাত-পা ঝিনঝিন করার অনুভূতি অস্বস্তিকর হলেও সঠিক কারণ নির্ণয় করার জন্য রক্তের শর্করা, ভিটামিন বি১২-এর মাত্রা, থাইরয়েড ও অন্যান্য পরীক্ষা লাগতে পারে। নার্ভ কনডাকশন টেস্ট করতে হতে পারে। কারণ অনুযায়ী চিকিৎসা প্রদান করা গেলে, তা নিরাময়যোগ্য হতে পারে। প্রয়োজনীয় ক্ষেত্রে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শ নিন।

    ডা. রেজওয়ানা সোবহান
    সহকারী অধ্যাপক, এন্ডোক্রাইনোলজি বিভাগ

    তথ্যসূত্রঃ ডক্টরটিভি