www.HelloBangla.News – বিনোদন – ২২ ফেব্রুয়ারি, ২০২৪: অমর একুশে উপলক্ষ্যে গতকাল বুধবার (২১ ফেব্রুয়ারি) বিকালের আয়োজনে পরিবেশিত হয়েছে একুশের গান, নৃত্য ও আবৃত্তি। বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমি ও বাংলাদেশ গ্রুপ থিয়েটার ফেডারেশনের যৌথ আয়োজনে চলা ‘একুশের সাংস্কৃতিক উৎসব’ শেষ হবে আজ।
অমর একুশের বার্তা – বিনোদন – ২২ ফেব্রুয়ারি ২০২৪ (২)
গতকাল অমর একুশের অনুষ্ঠানের শুরুতেই পরিবেশিত হয় সমবেত নৃত্য ‘ফেব্রুয়ারী কোটি মানুষের’, নৃত্য পরিবেশন করে নন্দনকলা কেন্দ্র নৃত্যদল এবং নৃত্য পরিচালনা করেন নৃত্য পরিচালক এম আর ওয়াসেক। এরপর পরিবেশিত হয় একক সংগীত ‘বাংলা আমার বাংলা ভাষা’ ও ‘এই মাটি আমার ভাইয়ের রক্তে আঁকা মায়েরি কান্না মাখা’, সংগীত পরিবেশন করেন মিরাজ মেহেদী। এরপর কবিতা আবৃত্তি করেন আহকাম উল্লাহ। এরপর সমবেত নৃত্য ‘সোনায় মোড়ানো বাংলা মোদের’ পরিবেশন করে নবরস নৃত্যদল এবং নৃত্য পরিচালনা করেন সৈয়দা শামছি আরা সায়কা। এরপর শিল্পী বিশ্বাস পরিবেশন করেন একক সংগীত ‘পলাশের পাপড়ীতে একুশের গান’ ও ‘সব কটা জানালা খুলে দাও না’। এরপর ‘আজকের গান একুশের গান’ ও ‘আমি বাংলার গান গাই’ একক সংগীত পরিবেশন করেন শৌভিক পাল। এরপর নন্দনকলা কেন্দ্র নৃত্যদল পরিবেশন করেন সমবেত নৃত্য ‘মিলিত প্রাণের কলরবে’, নৃত্য পরিচালনা করেন এম আর ওয়াসেক। এরপর কবিতা আবৃত্তি করেন গোলাম সারোয়ার। এরপর এ এফ এম ওমর আল-ফারুক এজাজ পরিবেশন করেন একক সংগীত ‘কোন কথা বলোনা বন্ধু ভেজা চোখ মুছে নাও’ ও ‘যে মাটির বুকে ঘুমিয়ে আছে লক্ষ মুক্তি সোনা’। সবশেষ নবরস নৃত্যদল পরিবেশন করে সমবেত নৃত্য ‘একুশের চেতনায় বাংলাকে ভালোবাসি’ , নৃত্য পরিচালনা করেন সৈয়দা শামছি আরা সায়কা। অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন আব্দুল্লাহ বিপ্লব ও তামান্না তিথি।
অমর একুশে বইমেলায় সোহরাওয়ার্দী উদ্যানের মুক্তমঞ্চে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান আজ বিকাল ৪.০০ টায় শুরু হবে। অনুষ্ঠানটি প্রতিদিন বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির অফিশিয়াল ফেইসবুক থেকে সরাসরি সম্প্রচার করা হয়।
www.HelloBangla.News – বিনোদন – ২০ ফেব্রুয়ারি, ২০২৪: বাঙালি সংস্কৃতির প্রচার-প্রসার ও বিশ্বময় সম্প্রসারণের লক্ষ্যে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ১৯৭৪ সালের ১৯ ফেব্রুয়ারি বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমি প্রতিষ্ঠা করেন। সেই থেকে জাতীয় সংস্কৃতি ও কৃষ্টির উন্নয়ন, সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য সংরক্ষন ও প্রসারের মাধ্যমে সকল মানুষের জন্য শিল্প সংস্কৃতির প্রবাহ তৈরি করে শিল্প-সংস্কৃতিঋদ্ধ সৃজনশীল মানবিক বাংলাদেশ গঠনের অভিলক্ষ্যে কাজ করে যাচ্ছে বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমি।
বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির ৫০ বছর পূর্তি ও সূবর্ণজয়ন্তী উপলক্ষ্যে বছরব্যাপী বর্ণাঢ্য কর্মসূচি হাতে নিয়েছে বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমি। গতকাল সোমবার বিকাল ৪.০০ টা থেকে শুরু হয়েছে বছরব্যাপী উদযাপন।
৫০ বছর পূর্তি উদযাপন শুরু – বিনোদন – ২০ ফেব্রুয়ারি ২০২৪ (২)_1
এই উপলক্ষে বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির মহাপরিচালক লিয়াকত আলী লাকী বলেন, “বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমি প্রতিষ্ঠা করেছেন। তিনি না হলে এই একাডেমিও তৈরী হতো না। এই একাডেমির সুবর্ণজয়ন্তী উদযাপনে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা যেদিন সময় দেবেন সেদিনই আমরা আরো বড় পরিসরে বর্ণাঢ্য আয়োজনে সারা বাংলাদেশ জুড়ে আয়োজন এবং উদযাপন করবো।”
আলোচনা পর্বে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সম্মানিত সচিব জনাব খলিল আহমদ। বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির সুবর্ণজয়ন্তী উপলক্ষ্যে দেয়া বক্তব্যে তিনি বলেন “বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির শাখা শুধু দেশে নয়, বিদেশেও হবে। জেলা উপজেলা ছাড়িয়ে দেশের বাহিরেও হবে বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির কালচারাল সেন্টার।”
জনাব খলিল আহমদ আরো বলেন “সংস্কৃতিবান না হলে অসাম্প্রদায়িক হওয়া যায় না, যারা নিয়মিত সংস্কৃতির চর্চা করে অনুশীলনের মধ্যে থাকে তারা অন্য সবার থেকে চিন্তা চেতনায় এগিয়ে থাকে।”
এর আগে স্বাগত বক্তব্য প্রদান বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির সচিব জনাব সালাহউদ্দিন আহাম্মদ। ৫০ বছরে বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির নানামুখী কার্যক্রম এবং জাতীয় পর্যায়ে সংস্কৃতি চর্চায় একাডেমির ভুমিকা তুলে ধরেন তিনি। পরে সভাপতির বক্তব্য প্রদান করেন একাডেমির মহাপরিচালক জনাব লিয়াকত আলী লাকী।
তিনি বলেন “বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমি প্রতিষ্ঠা করেছেন। তিনি না হলে এই একাডেমিও তৈরী হতো না। এই একাডেমির সুবর্ণজয়ন্তী উদযাপনে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা যেদিন সময় দেবেন সেদিনই আমরা আরো বড় পরিসরে বর্ণাঢ্য আয়োজনে সারা বাংলাদেশ জুড়ে আয়োজন এবং উদযাপন করবো।”
মহাপরিচালক ঘোষণা করেন “আমরা আর্ট মার্কেট শুরু করছি। শিল্পীদের নানা অনুষঙ্গ, শিল্পকর্ম এতে বিক্রি হবে, আমরা বাজারটি তৈরি করার মধ্য দিয়ে পেশাবৃত্তিক শিল্পচর্চায় শিল্পীদের নিযুক্ত করতে চাই। আমরা আর্ট মার্কেটের এই ধারা অব্যাহত রাখবো, আমরা প্রতি ৩ মাস পরপর এই আর্ট মার্কেট আয়োজন করবো।”
তিনি আরো বলেন “আগামী একবছর আমরা তৃণমুল পর্যায়ে উপজেলা- ইউনিয়নকে বেশি প্রাধান্য দেবো। আমাদের ডাটাবেজে আমরা সারাদেশের সকল শিল্পীকে সেখানে সংযুক্ত করব আমি বিশ্বাস করি লক্ষাধিক শিল্পী সেখানে যুক্ত হবে এবং এটি হবে অন্যতম প্লাটফর্ম”।
এরপর পরিবেশিত হয় সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান। বছরব্যাপী আয়োজনের ১ম দিনে শুরুতেই সমবেত সঙ্গীত। “একি অপরুপ রুপে মা তোমায়” পরিবেশন করে বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির শিশু- কিশোর সঙ্গীত দল। কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের কবিতা অবলম্বনে ‘বীরপুরুষ’ পরিবেশন করে বাংলোদেশ শিশু নৃত্য দল। এছাড়াও পরবেশিত হয় নৃত্য “এসো শ্যামলো সুন্দরো” পরিবেশন করে একাডেমির প্রতিশ্রুতিশীল নৃত্যদল। এছাড়াও পরিবেশিত হয় ধামাইল নৃত্য, বাউল গান, শিশু কন্ঠশিল্পীদের অভিভাবকদের অংশগ্রহণে দলীয় পরিবেশনা “ধনধান্য পুষ্প ভরা আমাদের এই বসুন্ধরা” সমবেত নৃত্য “আজ যত যুদ্ধবাজ”, ‘বিপুল তরঙ্গ রে,’ ‘চলো বাংলাদেশ’ এবং সমবেত সঙ্গীত “মঙ্গল হোক এই শতকে মঙ্গল সবার”।
www.HelloBangla.News – বিনোদন – ১৯ ফেব্রুয়ারি, ২০২৪: বাংলাদেশর প্রধানমন্ত্রীকে নিয়ে লেখা ‘শেখ হাসিনার দর্শন : ভিশন ও নেতৃত্ব, উন্নয়নের চাবিকাঠি’ শীর্ষক বইয়ের প্রকাশনা উৎসব গতকাল রবিবার (১৮ ফেব্রুয়ারি) অনুষ্ঠিত হয়েছে। বইটির লেখক পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি ও সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এ কে আব্দুল মোমেন।
বাংলা একাডেমির আবদুল করিম সাহিত্যবিশারদ মিলনায়তনে উক্ত প্রকাশনা উৎসব অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী আ.ক. ম মোজাম্মেল হক। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করবেন সাবেক পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী ড. শামসুল আলম।
অনুষ্ঠানে আলোচক ছিলেন প্রথমআলোর ব্যবস্থাপনা সম্পাদক ও কথাসাহিত্যিক আনিসুল হক এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ শাহাদাত হোসেন সিদ্দিকী। এছাড়া বই সম্পর্কে বক্তত্ব রাখেন বইটির লেখক ড. এ কে আব্দুল মোমেন।
স্বাগত বক্তব্য প্রদান করেন বেঙ্গলবুকসের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মাহমুদুল হাসান। এছাড়া বেঙ্গলবুকস নিয়ে বক্তব্য রাখেন প্রতিষ্ঠানটির প্রকল্পপ্রধান আজহার ফরহাদ। ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেন বেঙ্গলবুকসের কনসালট্যান্ট গাজী মুনছুর আজিজ।
‘শেখ হাসিনার দর্শন : ভিশন ও নেতৃত্ব, উন্নয়নের চাবিকাঠি’ শীর্ষক এই বইটিতে বিভিন্ন সময়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে নিয়ে সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্দুল মোমেনের লেখা ২১টি প্রবন্ধ সংকলিত হয়েছে। লেখক শেখ হাসিনার শাসনামলে বিভিন্ন সেক্টরে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতির নানা তথ্য তুলে ধরা হয়েছে। এ ছাড়া রাষ্ট্রনায়ক হিসেবে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বের নানা বিষয়ও উঠে এসেছে। লেখকের সঙ্গে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নানা স্মৃতির কথাও বলা হয়েছে বইটিতে।
www.HelloBangla.News – বিনোদন – ১৫ ফেব্রুয়ারি, ২০২৪: ঢাকের তালে বসন্ত নৃত্যের রঙিন পরিবেশনা ও শোভাযাত্রার মাধ্যমে ঋতুরাজকে বরণের উৎসব পালন করেছে বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমি। শীতের নির্জীব প্রকৃতি ছেড়ে সহসা জেগে ওঠা প্রকৃতির রূপ, রস, বর্ণ, গন্ধ, স্পর্শ আর সৌন্দর্যের সাথে তাল মিলিয়ে বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির শিল্পীরা সেজেছিলো বসন্তের সাজে।
ঋতুরাজ বসন্তকে বরণের আয়োজন শুরু হয় রমনা পার্কে, ঢাকের তালে বসন্ত নৃত্যের মাধ্যমে। রমনায় শতায়ু অঙ্গণের পাশে ২২৫ জন নৃত্যশিল্পীর পরিবেশনার মধ্য দিয়ে শুরু হয় বসন্তবরণের আয়োজন। রমনার প্রাণ প্রকৃতির রঙ আর শিশু শিল্পী ও নৃত্য শিল্পীদের পরিবেশনা যেন মিলে মিশে একাকার।
বর্ণাঢ্য বসন্ত বরণ অনুষ্ঠান – বিনোদন – ১৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৪ (২)
আয়োজনে প্রধান অতিথি হিসেবে ছিলেন গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের মাননীয় মন্ত্রী জনাব র আ ম উবায়দুল মোকতাদির চৌধুরী, এমপি। রমনার এ আয়োজনে তাকে স্বাগত জানান বাংলাদেশ বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির মহাপরিচালক। সংস্কৃতি ক্ষেত্রে বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমি ও মহাপরিচালকের নানামুখী কার্যক্রমের প্রসংশা করেন তিনি।
অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য প্রদান করেন একাডেমির সচিব জনাব সালাহউদ্দিন আহাম্মদ। সভাপতির বক্তব্য প্রদান করেন একাডেমির মহাপরিচালক।
বসন্ত নৃত্য পরিবেশনার পর ঢাকের তালে শুরু হয় বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা। রমনা থেকে বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমি পর্যন্ত প্রায় ৩ শতাধিক শিল্পী এই শোভাযাত্রায় অংশ নেয়। রমনা পার্ক প্রদক্ষিণ করে মৎস্য ভবন হয়ে শোভাযাত্রা বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমিতে এসে শেষ হয়।
২য় পর্যায়ে বিকেলের সাংস্কৃতিক পরিবেশনা হয় শিল্পকলা একাডেমির উন্মুক্ত মঞ্চে। আয়োজনে শুরুতেই পরিবেশিত হয় দলীয় নৃত্য ‘ঢাক নৃত্য’। পরিবেশন করে বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমি প্রতিশ্রুতিশীল নৃত্যদল। এরপর বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমি নৃত্যদল পরিবেশন করে দলীয় নৃত্য ‘শুভেচ্ছা ও ভালোবাসা’। এরপর দলীয় সংগীত ‘আনন্দ লোকে’ পরিবেশন করে বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমি শিশু সংগীত দল। দ্বৈত আবৃত্তি ‘রুমঝুম কে বাজায়’পরিবেশন করে ডালিয়া আহমেদ ও জয়ন্ত চট্টোপাধ্যায়। একক সংগীত ‘যেথা রামধনু উঠে হেসে’ পরিবেশন করে মেহরিন মাহমুদ।
এরপর দ্বৈত সংগীত পরিবেশন করে নওশিন তাবাসসুম স্মরণ এবং মোমিন বিশ্বাস। ধারাবাহিক পরিবেশনায় থাকবে দলীয় নৃত্য ‘সুন্দরের অত্যন্ত প্রহরী’ পরিবেশন করে বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমি শিশু নৃত্য দল। এরপর দ্বৈত নৃত্য ‘আজি দক্ষিণ পবনে’ পরিবেশন করে আবু নাইম এবং আনন্দিতা খান। দ্বৈত সংগীত পরিবেশন করে সারমিন সাথী ইসলাম এবং বুলবুল ইসলাম। এরপর আবার দলীয় সংগীত ‘মন শুধু মন ছুয়েছে’ পরিবেশন করবে ঢাকা সাংস্কৃতিক দল। দ্বৈত আবৃত্তি করবেন তামান্না তিথি ও মাহিদূল ইসলাম। দলীয় নৃত্য ‘বসন্ত মুখর আজি’/ ‘নীল দিগন্তে’ পরিবেশন করে রেওয়াজ পারফর্মার্স স্কুল। নৃত্য পরিচালনা করেছেন মুনমুন আহমেদ। দ্বৈত নৃত্য ‘বিশ্ববীণা রবে/ আজু সখি’ পরিবেশন করে সামিনা হোসেন এবং মাহতাব মেহেদী। এরপর একক সংগীত ‘চেনা চেনা লাগে’ পরিবেশন করে মো: ইউসুফ আহমেদ খান। দ্বৈত সংগীত পরিবেশন করে কিরণ চন্দ্র রায় এবং চন্দনা মজুমদার। দ্বৈত নৃত্য ‘ফাগুন লেগেছে শাখে শাখে’পরিবেশন করে জুয়েইরিয়াহ মৌলি এবং মারিয়া ফারিহ উপমা। এরপর দলীয় ক্ষুদ্র-নৃ-গোষ্ঠী নৃত্য পরিবেশন করে তপস্যা নৃত্যদল। পরিচালনা করেছেন নৃত্য পরিচালক- ফিফা চাকমা। এরপর দ্বৈত আবৃত্তি করে শিমুল মোস্তফা এবং রুপা চক্রবর্তী। দ্বৈত নৃত্য ‘একটুকু ছোঁয়া লাগে’ পরিবেশন করে অনিক বোস এবং কস্তুরী মুখার্জী। এরপর দলীয় নৃত্য ‘অবাক চোখে’ পরিবেশন করে কথক নৃত্য সম্প্রদায়। নৃত্য পরিচালনা করেছেন নৃত্য পরিচালক সাজু আহমেদ। আবার পরিবেশিত হবে দ্বৈত নৃত্য ‘বাগিচায় বুলবুলি’ পরিবেশন করে আরোহী ইসলাম (আরিফুল ইসলাম অর্ণব) এবং হেনা হোসেন। সবশেষ বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির নৃত্যদলের অংশগ্রহনে পরিবেশিত হয় ফ্যাশন ডান্স প্যারেড। অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন সংগীতা চৌধুরী এবং আব্দুল্লাহ বিপ্লব।
বিপুল সংখ্যক দর্শক বসন্ত বরণ অনুষ্ঠানটি উপভোগ করে।
www.HelloBangla.News – বিনোদন – ১৪ ফেব্রুয়ারি, ২০২৪: সরকার বিভিন্ন ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ দেশের ২১ জন বিশিষ্ট নাগরিককে চলতি বছরের একুশে পদক প্রদানের সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছে।
মঙ্গলবার সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের উপসচিব আইরীন ফারজানা স্বাক্ষরিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।
এবার ভাষা আন্দোলন ক্যাটাগরিতে মরণোত্তর একুশে পদক পাচ্ছেন ২ জন। তারা হলেন- মৌ. আশরাফুদ্দীন আহমদ ও বীর মুক্তিযোদ্ধা হাতেম আলী মিয়া।
শিল্পকলার বিভিন্ন শ্রেণিতে ১১ জন পেয়েছেন এই পদক। সংগীতে পেয়েছেন জালাল উদ্দীন খাঁ (মরণোত্তর), বীর মুক্তিযোদ্ধা কল্যাণী ঘোষ, বিদিত লাল দাস (মরণোত্তর), এন্ড্রু কিশোর (মরণোত্তর) ও শুভ্র দেব। অভিনয়ে ডলি জহর ও এমএ আলমগীর, আবৃতিতে খান মো. মুস্তাফা ওয়ালীদ (শিমুল মুস্তাফা) ও রূপা চক্রবর্তী, নৃত্যকলায় শিবলী মোহাম্মদ এবং চিত্রকলায় শাহজাহান আহমেদ বিকাশ।
মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক প্রামাণ্যচিত্র নির্মাণ ও আর্কাইভিংয়ে কাওসার চৌধুরী, সমাজসেবায় মো. জিয়াউল হক ও আলহাজ রফিক আহামদ।
ভাষা ও সাহিত্যে এবার একুশে পদক পেয়েছেন ৪ জন। তারা হলেন মুহাম্মদ সামাদ, লুৎফর রহমান রিটন, মিনার মনসুর ও রুদ্র মুহম্মদ শহিদুল্লাহ (মরণোত্তর)। এছাড়া শিক্ষায় প্রফেসর ড. জিনবোধি ভিক্ষু রয়েছেন এ তালিকায়।
রাষ্ট্রের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ বেসামরিক সম্মাননা ‘একুশে পদক’। ভাষা আন্দোলনের শহীদদের স্মরণে চালু করা একুশে পদক সরকার প্রতিবছর বিভিন্ন ক্ষেত্রে বিশেষ অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে দিয়ে থাকে। বাংলাদেশের বিশিষ্ট সাহিত্যিক, শিল্পী, শিক্ষাবিদ, ভাষাসৈনিক, ভাষাবিদ, গবেষক, সাংবাদিক, অর্থনীতিবিদ, দারিদ্র্য বিমোচনে অবদানকারী, সামাজিক ব্যক্তিত্ব ও প্রতিষ্ঠানকে জাতীয় পর্যায়ে অনন্য অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে ১৯৭৬ সাল থেকে একুশে পদক দেয়া হচ্ছে।
www.HelloBangla.News – বিনোদন – ১২ ফেব্রুয়ারি, ২০২৪: জনপ্রিয় অভিনেত্রী তাসনিয়া ফারিণ ইরানের ঐতিহ্যবাহী ফজর আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবে ক্রিস্টাল সিমোর্গ অ্যাওয়ার্ড পুরস্কার লাভ করেছেন। ‘ফাতিমা’ সিনেমায় অনবদ্য অভিনয়ের স্বীকৃতিস্বরূপ আউটস্ট্যান্ডিং আর্টিস্টিক কন্ট্রিবিউশন ক্যাটাগরিতে তিনি এ পুরস্কার পেয়েছেন।
আজ সোমবার (১২ ফেব্রুয়ারি) প্রথম প্রহরে ফারিণ নিজেরই এ সংবাদ তার ফেসবুক পোস্টে জানিয়েছেন।
তবে পুরস্কার প্রদানের সময় ফারিণ উপস্থিত ছিলেন না। তার পক্ষে এ পুরস্কার গ্রহণ করেছেন সিনেমার পরিচালক ধ্রুব হাসান। এ কথা বর্ণনা করে ফারিণ লেখেন, ‘আমার ফিল্ম ফাতিমার জন্য ইস্টার্ন ভিস্তা বিভাগে আমাকে ক্রিস্টাল সিমোর্গ পুরস্কার দিয়ে সম্মানিত করার জন্য ৪২তম ফজর চলচ্চিত্র উৎসবকে ধন্যবাদ। ইচ্ছে ছিল আরও একদিন থেকে নিজের হাতে পুরস্কার গ্রহণের, কিন্তু থাকতে পারলাম না।’
পুরস্কার হিসেবে ফারিণকে একটি ক্রিস্টাল পদক ও একটি সনদ দেওয়া হয়েছে।
ছোট পর্দার জনপ্রিয় অভিনেত্রী তাসনিয়া ফারিণ। সাবলীল অভিনয় দিয়ে অল্প সময়েই হয়েছেন দর্শকপ্রিয়। নিয়মিত নাটকে কাজ করছেন তিনি। একাধিক ওয়েবফিল্মেও তাকে দেখা গেছে। কাজ করেছেন কলকাতার সিনেমাতে।
অভিনয় জীবনের শুরুতে ফারিণ কাজ করেছিলেন এই ‘ফাতিমা’ নামের পূর্ণদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্রে । সিনেমার গল্পটি আবর্তিত হয়েছে ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধের সময় একজন নারীর চ্যালেঞ্জকে ঘিরে।আর এই ছবিতে অনবদ্য অভিনয়ের জন্য পুরস্কার পাওয়াতে তিনি বেশ আনন্দিত। এদিকে কলকাতায় অতুনু ঘোষ নির্দেশনায় ‘আরও এক পৃথিবী’ সিনেমায় অভিনয় করেছেন ফারিণ।
তাসনিয়া ফারিণ এসআরকে স্টুডিওস’ এ কোরিয়ান সিরিজ ‘লিজেন্ড দ্যা ব্লু সির’ এর ডাবিংকৃত ‘জলপরীতে’ অনবদ্য কন্ঠাভিনয় করেছেন। সিরিজটি বেশ জনপ্রিয়তা পায়।
www.HelloBangla.News – বিনোদন – ৯ ফেব্রুয়ারি ২০২৪: শিল্পী শাহানুর মামুনের প্রতিষ্ঠিত ঢাকা ওয়াটারকালার একাডেমির আয়োজনে বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির জাতীয় চিত্রশালায় দিনব্যাপী জলরং কর্মলাশা অনুষ্ঠিত হয়। নেপালি শিল্পী এনবি গুরুং এবং শাহানুর মামুন যৌথভাবে কর্মশালা পরিচালনা করেন।
প্রতিশ্রুতিশীল ও বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক ও বর্তমান ১১০ জন শিল্পী এই কর্মশালায় অংশগ্রহন করেন। তরুন শিল্পীদের উৎসাহ দিতে চারজন শিল্পীকে পুরস্কৃত করা হয়। পুরস্কৃত শিল্পীরা হলেন জান্নাতুল ফেরদৌস, জাহিদ খান, আলাউদ্দিন আজাদ ও সামিউল আলম।
‘ঢাকা ওয়াটারকালার একাডেমি প্রতিষ্ঠিত হয় তরুনদের মধ্যে জলরং’কে জনপ্রিয় করতে। বাংলাদেশ নদীমাতৃক দেশ এবং জলরঙে বাংলাদেশের প্রাকৃতিক সৌন্দয সবচেয়ে সুন্দর করে উপস্থাপিত হয়। জলরং বেশ কষ্টসাধ্য এবং নিয়মিত চর্চা করতে হয়। বাংলাদেশের তরুন শিল্পীদের দেশের মানুষের কাছে তুলে ধরতে আমরা নিয়মিত কাজ করছি।বলেন ঢাকা ওয়াটার কালার একাডেমির প্রতিষ্ঠাতা ও পরিচালক শাহানুর মামুন।
তিনি আরও বলেন, “আমরা নিয়মিত দেশী-বিদেশী শিল্পী ও প্রশিক্ষকের মাধ্যমে কর্মশালা, আর্ট ক্যাম্প ও প্রদর্শনীর আয়োজন করে থাকি। নেপাল থেকে আগত বিখ্যাত জলরং শিল্পী ও প্রশিক্ষক এনবি গুরুং এর কাছ থেকে আমাদের তরুন শিল্পীরা অনেক কিছু শিখতে পারবে আশা করি।”
“এই তরুণ শিল্পীরা পরিশ্রমী ও আন্তরিক। তারা আরও ভাল করবে এবং আমি চাই তারা দেশে এবং বিদেশে তাদের শৈল্পিক উৎকর্ষ দেখাবে” বলেন এনবি গুরুং।
“আমরা তরুণ অংশগ্রহণকারীদের উৎসাহিত করার চেষ্টা করি সবসময়।তাদের শিল্পকর্মের উপর ভিত্তি করে চারজন শিল্পীকে সম্মানিত করছি। ছাত্র-ছাত্রীদের পাশাপাশি সমসাময়িক শিল্পীরা এই কর্মশালায় অংশ নিচ্ছেন এবং আমরা এই কর্মশালায় করা চিত্রকর্ম নিয়ে খুব শীঘ্রই একটি দলগত প্রদর্শনীর আয়োজন করার পরিকল্পনা করছি” বলেন ঢাকা ওয়াটার কালার একাডেমির সহ-প্রতিষ্ঠাতা ও পরিচালক জান্নাতুন নাহার রিন্টি।
পুরষ্কার ও সনদ বিতরণ অনুষ্ঠানে প্রখ্যাত ভাস্কর-চিত্রশিল্পীহামিদুজ্জামান খান, ভাস্কর আইভি জামান, নেপালি শিল্পী এনবি গুরুং, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা অনুষদের অধ্যাপক জামাল উদ্দিন আহমেদ, ঢাবির শিক্ষক আনিসুজ্জামান আনিস ও কামালউদ্দিন উপস্থিত ছিলেন। অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন শিল্পী শাহানুর মামুন।
অংশগ্রহণকারী ও পুরস্কার প্রাপ্তরা অতিথিদের কাছ থেকে সনদ ও সম্মাননা স্মারক গ্রহণ করেন।
www.HelloBangla.News – বিনোদন – ৮ ফেব্রুয়ারি, ২০২৪: আহমেদ রুবেল মঞ্চ দিয়ে অভিনয়ের যাত্রা শুরু করলেও টেলিভিশনে বেশ জনপ্রিয়তা পেয়েছেন। সেই সুবাদে অভিনয় করেছেন বেশ কিছু চলচ্চিতেও। গতকাল বুধবার সন্ধ্যা ৬টা দিকে হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে তিনি মারা যান। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ৫৫ বছর।
জাান গেছে, পরিচালক নুরুল আলম আতিকের নির্মিত নতুন সিনেমা ‘পেয়ারার সুবাস’র–বিশেষ প্রদর্শনী ছিল। এই সিনেমায় তিনি অভিনয় করেন। সন্ধ্যায় বিশেষ প্রদর্শনীতে অংশ নিতে আহমেদ রুবেল নিজেই গাড়ি চালিয়ে বসুন্ধরা সিটিতে আসেন। পার্কিং থেকে হলে ঢোকার সময় হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়েন তিনি। পরে রাজধানীর একটি বেসরকারি হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানায়, হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে তার মৃত্যু হয়েছে।
মঞ্চ, চলচ্চিত্র ও টেলিভিশনের গুণী এই অভিনেতার প্রতি শেষ শ্রদ্ধা জানাতে তার মরদেহ আজ বৃহস্পতিবার (৮ ফেব্রুয়ারি) সকাল সাড়ে ১০টা থেকে দুপুর সাড়ে ১২টা পর্যন্ত বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির প্রাঙ্গণে রাখা হয়। বেলা সাড়ে ১১টায় অ্যাম্বুলেন্স থেকে নামানোর সঙ্গে সঙ্গে তার মরদেহ ঘিরে ধরেন সবাই। এরপর একে একে ফুলেল শুভেচ্ছা ও ভালোবাসায় সিক্ত করেন। ঢাকা থিয়েটার ছাড়াও আহমেদ রুবেলকে শ্রদ্ধা জানাতে আসে আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় সাংস্কৃতিক বিষয়ক উপকমিটি, গ্রাম বাংলা থিয়েটার, অভিনয় শিল্পী সংঘ, সংসদ সদস্য ও চিত্রনায়ক ফেরদৌস।
এরপর বাদ আছর নিজ শহর গাজীপুরে জানাজা শেষে স্থানীয় কবরস্থানে তার দাফন সম্পন্ন হয়।
একুশে টেলিভিশনের আলোচিত ধারাবাহিক নাটক ‘প্রেত’-এ অভিনয় করে দর্শকপ্রিয়তা পান আহমেদ রুবেল। আহীর আলম পরিচালিত প্রেত নাটকের গল্প লিখেছিলেন মুহম্মদ জাফর ইকবাল। তারপর থেকে নাটকে ও সিনেমায় ব্যস্ততা বেড়েই চলে তার।
একটা সময় নন্দিত লেখক, নাট্যকার ও পরিচালক হুমায়ুন আহমেদের পরিচালনায় অভিনয় শুরু করেন। তার পরিচালিত শ্যামল ছায়া সিনেমায় অভিনয় করেছেন আহমেদ রুবেল। এছাড়া অনেকগুলো ধারাবাহিক নাটকেও অভিনয় করেছেন তিনি। সালাউদ্দিন লাভলুর সাড়া জাগানো নাটক ‘রঙের মানুষ’ ও মোস্তফা সরোয়ার ফারুকীর জনপ্রিয় নাটক ‘৬৯’- এ সাবলীল অভিনয় করে দর্শকনন্দিত হন।
তার অভিনীত ‘গেরিলা’, ‘মেঘলা আকাশ’, ‘আলফা’, ‘লাল মোরগের ঝুঁটি’-সহ আরও বেশ কয়েকটি সিনেমা প্রশংসিত হয়েছে। নাসিরউদ্দিন ইউসুফ পরিচালিত ‘আলফা’ সিনেমাটি অস্কারে গিয়েছিল।
গেরিলা সিনেমায় তিনি শহীদ আলতাফ মাহমুদের চরিত্রে অভিনয় করেন ।
১৯৬৮ সালের ৩ মে চাঁপাইনবাবগঞ্জ শহরের রাজারামপুর গ্রামে জন্ম হয়েছিল আহমেদ রুবেলের। তার বাবার নাম আয়েশ উদ্দিন। বেড়ে উঠেছেন ঢাকায়। মৃত্যুর আগে গাজীপুরে স্থায়ীভাবে বসবাস করছিলেন তিনি।
www.HelloBangla.News – বিনোদন – ৪ ফেব্রুয়ারি, ২০২৪: বাংলাদেশ গ্রুপ থিয়েটার ফেডারেশন রাষ্ট্রভাষা বাংলার জন্য শহিদদের স্মরণে ১৯৮০ সাল থেকে প্রতিবছর ফেব্রুয়ারি মাসের প্রথম সপ্তাহব্যাপী ঢাকায় কেন্দ্রীয় শহিদ মিনারে আয়োজন করে আসছে ‘জাতীয় পথনাট্যোৎসব’। একই ধারাবাহিকতায় এ বছরও ‘রাজনীতির মাপকাঠি শিল্প সাহিত্য সংস্কৃতি’ স্লোগানে রাজধানীসহ দেশের ২১টি জেলায় একযোগে শুরু হয় ‘জাতীয় পথনাট্যোৎসব ২০২৪’।
বাংলাদেশ গ্রুপ থিয়েটার ফেডারেশন আয়োজিত বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির সহযোগিতায় কেন্দ্রীয় শহিদ মিনারে পয়লা ফেব্রুয়ারি বৃহস্পতিবার নাট্যোৎসরের উদ্বোধন করা হয়। উৎসবে দেশের তিন শ নাট্যদল অংশ নেবে।
উৎসবে আজ রবিবার (৪ ফেব্রুয়ারি) প্রদর্শিত হবে নাট্যদল সময় প্রযোজিত নাটক ‘পিঁপড়া’। জনপ্রিয় কথাসহিত্যিক হূমায়ুন আহমেদের ছোটগল্প ‘পিঁপড়া’ অবলম্বনে এর নাট্যরূপ ও নির্দেশনা দিয়েছেন আকতারুজ্জামান। ধর্ষণ বিরোধী সচেতনতা বৃদ্ধির বার্তা দেয়া এই নাটকে অভিনয় করছেন – ফখরুল ইসলাম মিঠু, মাহমুদুল আলম / সাঈফ, সাইফুল বাবু, রাকিব আল হাসান / মুক্তা। পোশাক পরিকল্পনা করেছেন মানসুরা আক্তার লাভলী।
রবিবার সময় প্রযোজিত নাটক ‘পিঁপড়া’ ছাড়াও ঢাকা মঞ্চ পরিবেশন করবে নাটক ‘ইঁদুর’। এ কে এম আহসান কবীরের রচনায় নাটকটি নির্দেশনা দিয়েছেন মিজানুল হক নিক্তি। নাট্যযোদ্ধা মঞ্চস্থ করবে নাটক ‘টক্কর’। রচনা ও নির্দেশনায় ফয়সাল আহমেদ। নাটক ‘স্মৃতি মিনার’ পরিবেশন করবেন স্বরবীথি থি। রচনা বজলুর রশিদ, নির্দেশনা শওকত হাসান।
৫ ফেব্রুয়ারি মঞ্চস্থ হবে নাটক ‘আমাদের জন্ম হলো’। সব্যসাচী লেখক সৈয়দ শামসুল হকের রচনায় নির্দেশনা দিয়েছেন খোরশেদুল আলম। প্রযোজনা শব্দ নাট্যচর্চা কেন্দ্র। নাটক ‘ফায়ারিং স্কোয়াড’। নবনাটের পরিবেশনায় নাটকটি রচনা ও নির্দেশনায় এস.কে.রতন। মুক্তালয় নাট্যাঙ্গন মঞ্চস্থ করবে নাটক ‘চতুর ভোলা’। রচনা ও নির্দেশনা আমিনুল হক আমীন। গ্রন্থিক নাট্যগোষ্ঠীর নাটক ‘এখানেই শেষ নয়’। রচনা ও নির্দেশনা মতিউর রহমান রানা।
৬ ফেব্রুয়ারি মঞ্চস্থ হবে নাটক ‘তাহাদের কথা’। রচনা ও নির্দেশনা মমিনুল হক দীপু। এটি পরিবেশন করবে পদাতিক নাট্য সংসদ টিএসসি। নাটক ‘বিরঙ্গনা কাব্য’। রচনা ও নির্দেশনা সাইফুল ইসলাম সোহাগ। প্রযোজনা ব্যতিক্রম নাট্যগোষ্ঠী। নাটক ‘পাখির ভবিষ্যৎ’। রচনা ও নির্দেশনা নাহিদ স্মৃতি। প্রযোজনা অপেরা নাটকের দল। নাটক ‘দিবস রজনী’। রচনা ও নির্দেশনা তাপস সরকার। প্রযোজনা লোকনাট্য গোষ্ঠী। উদীচী শিল্পীগোষ্ঠী মঞ্চস্থ করবে নাটক ‘শরীফার গল্প’। রচনা ও নির্দেশনায়- নাজমুল হক বাবু।
৭ ফেব্রুয়ারি ঢাকার উৎসবের সমাপনী দিনে মঞ্চস্থ হবে নাটক ‘ভাস্কর্য’। রচনা ও নির্দেশনা আফরিন হুদা। প্রযোজনা ঢাকা থিয়েটার মঞ্চ। নাটক ‘প্রতিরোধ’। রচনা মনসুর রহমান চঞ্চল, নির্দেশনা শাহজাহান শোভন। পরিবেশনা নাট্যভূমি। নাটক ‘বোবা মিনার’। রচনা আলী আনোয়ার, নির্দেশনা নাজমুল হাসান শুভ। পরিবেশনায় মতিঝিল থিয়েটার সম্প্রদায়। থিয়েটার অঙ্গনের প্রযোজনায় নাটক ‘রুধির প্লাবন’। রচনা ও নির্দেশনা প্রবীর দত্ত। রঙ্গনা নট্যগোষ্ঠীর নাটক ‘দাম দিয়ে কিনেছি বাঙলা’। রচনা ফয়সাল আহমদ, নির্দেশনা জিয়াউল হাসান জিয়া।
www.HelloBangla.News – বিনোদন – ১ ফেব্রুয়ারি, ২০২৪: সারাদেশে একযোগে শুরু হয়েছে জাতীয় পিঠা উৎসব ১৪৩০। গতকাল বুধবার, বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমিতে উৎসবের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন মন্ত্রিপরিষদ সচিব জনাব মোঃ মাহবুব হোসেন।
এতে বিশেষ অতিথি হিসেবে ছিলেন সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সচিব জনাব খলিল আহমদ এবং সম্মানিত অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মঞ্চসারথি জনাব আতাউর রহমান, একাডেমির সচিব জনাব সালাহউদ্দিন আহাম্মদ এবং বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির মহাপরিচালক জনাব লিয়াকত আলী লাকী।
শুরু হলো জাতীয় পিঠা উৎসব – বিনোদন – ১ ফেব্রুয়ারি ২০২৪ (২)
প্রথম পর্বে একাডেমির বাউলকুঞ্জের সামনে বেলুন উড়িয়ে জাতীয় পিঠা উৎসব ১৪৩০ এর শুভ উদ্বোধন করেন মন্ত্রিপরিষদ সচিব। এরপর পরিবেশিত হয় গ্রামবাংলার জনপ্রিয় লাঠি খেলা। এরপর ঢাকের তালে মঞ্চে পরিবেশিত হয় বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির প্রতিশ্রুতিশীল নৃত্যশিল্পীদলের ঢাকী নৃত্য। উদ্বোধনী আয়োজনে প্রদর্শিত হয় জাতীয় পিঠা উৎসব ১৪৩০ এর ভিডিওচিত্র।
আলোচনা পর্বে স্বাগত বক্তব্য প্রদান করেন বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির সচিব এবং জাতীয় পিঠা উৎসব ১৪৩০ উদযাপন কমিটির আহ্বায়ক জনাব সালাহউদ্দিন আহাম্মদ। প্রবন্ধ পাঠ করেন লেখক ও গবেষক বাশার খান। পিঠার পূর্বের সময়কার ঐতিহ্য লুপ্ত প্রায় ৪ শতাধিক ধরন নিয়ে আলোচনা উপস্থাপন করেন তিনি। সম্মানিত অতিথি হিসেবে বক্তব্য প্রদান করেন ২১শে পদক ও স্বাধীনতা পদকপ্রাপ্ত গুণি নাট্যজন মঞ্চসারথি জনাব আতাউর রহমান।
আলোচনা অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে মন্ত্রিপরিষদ সচিব জনাব মোঃ মাহবুব হোসেন বলেন, “আমাদের এই স্বাধীন দেশকে উন্নত, স্মার্ট বাংলাদেশ হিসেবে গড়তে হবে। জঙ্গী মুক্ত সমাজ গড়ার জন্য আমাদের যুব সম্প্রদায়কে নানা ধরনের গ্রামীণ খেলাধূলা এবং সংস্কৃতির সাথে যুক্ত করতে হবে। বাঙালি হিসেবে পিঠার প্রতি আমাদের যে জায়গা সেটাও আমাদের বুঝতে হবে। পিঠা আমাদের সংস্কৃতির অংশ হিসেবে অনেক আগে থেকেই যুক্ত। কিন্তু ধীরে ধীরে তার অনেকটা হারাতে বসেছে। এই সময়ে এ ধরনের উদ্যোগের প্রসংশা করে তিনি বলেন সারাদেশব্যাপী একযোগে এই আয়োজন একটা বড় বিষয়।”
সারাদেশে মেলা আয়োজনের ঘোষণা দিয়ে সভাপতির বক্তব্যে একাডেমির মহাপরিচালক জনাব লিয়াকত আলী লাকী বলেন- “পিঠা উৎসব আমাদের জন্য গৌরবের। আমাদের দেশের হাজার হাজার মনিষী আমাদের মাথা উচু্ করে দাঁড়াতে শিখিয়েছেন। আমরা মাথা উচুঁ করেই আমাদের সংস্কৃতিকে বিশ্ব দরবারে হাজির করবো। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন ১০ টা বক্তৃতায় যা না হয়, একটা নাটকে তার থেকে বেশি কাজ হয়। সংস্কৃতি এমনই শক্তিশালী মাধ্যম।”
আলোচনা পর্বের পর শুরু হয় লোক- সাংষ্কৃতিক পরিবেশনা। শুরুতেই অনুষ্ঠিত হয় বিশেষ লোকসঙ্গীতানুষ্ঠান-বাংলাদেশেরে অপরিমেয় সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য আবহমান বাংলার লোকনন্দন পরিবেশনা। এরপর আহসান উল্লাহ তমাল পরিবেশন করেন একক আবৃত্তি। একক সংগীত পরিবেশন করেন অনিমা মুক্তি গোমেজ এবং আবুবকর সিদ্দীক। এরপর কবিরুল ইসলাম রতন এর পরিচালনায় ও নৃত্যালোক সাংস্কৃতিক কেন্দ্রের পরিবেশনায় হয় সমবেত নৃত্য। একক আবৃত্তি পরিবেশন করেন রেজিনা ওয়ালী লীনা । এরপর রবিউল ইসলাম শান্ত (শিশু ) পরিবেশন করেন শাহ আব্দুল করিম এর গাওয়া গান। রংপুরের আঞ্চলিক সংগীত পরিবেশন করেন এ কে এম মোস্তাফিজুর রহমান। সৈয়দ শায়লা আহমেদ লীমার পরিচালনা ও ভঙ্গিমা ডান্স থিয়েটারের পরিবেশনায় সমবেত নৃত্য অনুষ্ঠিত হয়। এরপর ডালিয়া আহমেদ পরিবেশন করেন একক আবৃত্তি। জাহিদুল কবির লিটন পরিবেশন করেন শাহের গান ও সৃজনী সরকার জিতু (শিশু) পরিবেশন করেন আব্দুল লতিফ এর গান। আবারো পরিবেশিত হয় কবিরুল ইসলাম রতন এর পরিচালনায় ও নৃত্যালোক সাংস্কৃতিক কেন্দ্রের পরিবেশনায় সমবেত নৃত্য। এরপর আবার বাবু সরকার পরিবেশন করেন জালাল খা এর গান; সুমী মীর্জা পরিবেশন করেন আরকুম শাহ এর গান এবং মাটি রহমান পরিবেশন করেন সাধক চাঁন মিয়া। সবশেষ সৈয়দ শায়লা আহমেদ লীমার পরিচালনা ও ভঙ্গিমা ডান্স থিয়েটারের পরিবেশনায় সমবেত নৃত্য পরিবেশিত হয়। অনুষ্ঠান সঞ্চালনায় ছিলেন ডালিয়া আহমেদ ও আব্দুল্লাহ বিপ্লব।
এবারে পিঠা মেলায় অংশগ্রহণকারীদের মধ্যে ২৫ টি পিঠাশিল্পীকে পুরস্কার এবং জেলায় জেলায় ৫ জন পিঠাশিল্পীকে পুরস্কৃত করা হবে বলেও ঘোষণা দেন মহাপরিচালক।
জাতীয় পিঠা উৎসব চলবে প্রতিদিন বিকাল ৩ টা থেকে রাত ৮ টা পর্যন্ত।