Category: অর্থনীতি

  • চ্যালেঞ্জিং অর্থনীতিতেও বাংলাদেশ বর্ধনশীল: আইএমএফ

    চ্যালেঞ্জিং অর্থনীতিতেও বাংলাদেশ বর্ধনশীল: আইএমএফ

    বাংলাদেশের অর্থনীতিতে চ্যালেঞ্জ আছে উল্লেখ করে আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) মিশন প্রধান রাহুল আনন্দ বলেছেন, ‘এই চ্যালেঞ্জিং অর্থনীতিতেও বাংলাদেশ একটি বর্ধনশীল দেশ।’ তবে বাংলাদেশের বিভিন্ন খাতের ওপর চাপ অব্যাহত থাকবে বলেও জানিয়েছেন তিনি।

    রোববার (০৭ মে) এক লিখিত বক্তব্যে এ পর্যবেক্ষণ জানায় সংস্থাটি। মিশন প্রধান রাহুল আনন্দের নেতৃত্বে আইএমএফের দলটি বাংলাদেশের সাম্প্রতিক সামষ্টিক অর্থনৈতিক উন্নয়ন এবং বাস্তবায়ন নিয়ে আলোচনা করতে গত ২৫ এপ্রিল ঢাকায় আসে।

    আইএমএফ জানায়, বাংলাদেশ এশিয়া-প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলে একটি চ্যালেঞ্জিং অর্থনৈতিক পটভূমিতে দ্রুত বর্ধনশীল অর্থনীতির দেশ। বাংলাদেশ বর্ধনশীল দেশ হলেও ক্রমাগত মুদ্রাস্ফীতির চাপ, বৈশ্বিক আর্থিক অবস্থার উচ্চতর অস্থিরতা, ট্রেডিং অংশীদারদের মধ্যে মন্দা প্রবৃদ্ধি, বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ এবং টাকার ওপর চাপ অব্যাহত থাকবে।

    আইএমএফের স্টাফ পর্যায়ের এক প্রতিনিধিদল গত ২৫ এপ্রিল থেকে আজ ৭ মে পর্যন্ত বাংলাদেশ সফর করেছে। সেই সফরের পরিসমাপ্তিতে বাংলাদেশ মিশনপ্রধান রাহুল আনন্দ এ কথা বলেন।

    লিখিত বক্তব্যে সংস্থাটি জানায়, সফরের সময় আমরা সাম্প্রতিক সামষ্টিক অর্থনৈতিক ও আর্থিক খাতের উন্নয়ন নিয়ে আলোচনা করেছি। আমরা তহবিল-সমর্থিত প্রোগ্রামের অধীনে মূল প্রতিশ্রুতি পূরণের অগ্রগতিও পর্যালোচনা করেছি। এক্সটেন্ডেড ক্রেডিট ফ্যাসিলিটি (ইসিএফ) বা এক্সটেন্ডেড ফান্ড ফ্যাসিলিটি (ইএফএফ) বা রেজিলিয়েন্স অ্যান্ড সাসটেইনেবিলিটি ফ্যাসিলিটি (আরএসএফ) ব্যবস্থার প্রথম পর্যালোচনায় এটি আনুষ্ঠানিকভাবে মূল্যায়ন করা হবে, যা এ বছরের শেষের দিকে হবে বলে আশা করা হচ্ছে।

    আইএমএফ এর প্রতিনিধি দল বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর আবদুর রউফ তালুকদার, অর্থসচিব ফাতিমা ইয়াসমিন এবং অন্যান্য ঊর্ধ্বতন সরকারি ও বাংলাদেশ ব্যাংক কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠক করেছে। বেসরকারি খাতের প্রতিনিধি, দ্বিপাক্ষিক দাতা এবং উন্নয়ন সহযোগীদের সঙ্গেও দেখা করেছে।

    গত বছরের ২৪ জুলাই ঋণ চেয়ে আইএমএফের কাছে চিঠি দিয়েছিল বাংলাদেশ। এতে পরিমাণের কথা উল্লেখ ছিল না। পরে ১২ অক্টোবর ওয়াশিংটনে বিশ্বব্যাংক-আইএমএফের বার্ষিক সম্মেলনে যোগ দিয়ে গভর্নর আব্দুর রউফ তালুকদার ৪৫০ কোটি ডলারের ঋণসহায়তার কথা উল্লেখ করেন।

    এরপর চলতি বছরের ৩০ জানুয়ারি বাংলাদেশের জন্য ৪৭০ কোটি ডলারের ঋণ অনুমোদন করে আইএমএফ। এই ঋণের প্রথম কিস্তি ইতিমধ্যে ছাড় করা হয়েছে। ২০২৬ সাল পর্যন্ত আইএমএফের কর্মসূচি চালু থাকার কথা রয়েছে।

  • বাংলাদেশে বিনিয়োগ সম্প্রসারণে সম্মত হাঙ্গেরি: বাণিজ্যমন্ত্রী

    বাংলাদেশে বিনিয়োগ সম্প্রসারণে সম্মত হাঙ্গেরি: বাণিজ্যমন্ত্রী

    বাংলাদেশের সঙ্গে ব্যবসা-বাণিজ্য, বিনিয়োগ ও ব্যবসায়িক সম্পর্ক আরও গভীর ও সম্প্রসারিত করতে হাঙ্গেরি সরকার সম্মত হয়েছে বলে জানিয়েছেন বাণিজ্যমন্ত্রী টিপু মুনশি।

    বাংলাদেশের সঙ্গে হাঙ্গেরি বাণিজ্য ও ব্যবসায়িক সম্পর্ক আরও গভীর এবং সম্প্রসারণে সম্মত হয়েছে বলে জানিয়েছেন বাণিজ্যমন্ত্রী টিপু মুনশি। শুক্রবার বুদাপেস্টে হাঙ্গেরির পররাষ্ট্র ও বাণিজ্যমন্ত্রী পিটার সিজ্জারটোর সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় বৈঠকে এ আগ্রহের কথা জানানো হয়।

    এ সময় টিপু মুনশি বলেন, বিস্তৃত সুযোগ-সুবিধা, আকর্ষণীয় প্রণোদনা ও অনুকূল ব্যবসায়িক পরিবেশসহ এই অঞ্চলে বাংলাদেশের সবচেয়ে উদার বিনিয়োগ ব্যবস্থা রয়েছে। এসময় বৈঠকে হাঙ্গেরির ব্যবসায়ী ও কোম্পানিগুলোকে বাংলাদেশে বিনিয়োগ ও বাণিজ্য সম্প্রসারণের আহ্বান জানান তিনি।

    দেশটির পররাষ্ট্র ও বাণিজ্যমন্ত্রীর আমন্ত্রণে টিপু মুনশি হাঙ্গেরি সফর করছেন। এটি বাংলাদেশের কোনো বাণিজ্যমন্ত্রীর হাঙ্গেরিতে প্রথম সরকারি সফর। বিস্তৃত সুযোগ-সুবিধা ও অনুকূল ব্যবসায়িক পরিবেশসহ এই অঞ্চলে বাংলাদেশের সবচেয়ে উদার বিনিয়োগ ব্যবস্থা রয়েছে উল্লেখ করে হাঙ্গেরির ব্যবসায়ী ও কোম্পানিগুলোকে বাংলাদেশে বাণিজ্য সম্প্রসারণের আহ্বান জানান টিপু মুনশি।

    তিনি হাঙ্গেরির সরকারকে ইইউ আলোচনার সময় সমর্থন দেওয়ার পাশাপাশি বাংলাদেশকে নীতি সহায়তা এবং অপারেশনাল সহযোগিতা বাড়ানোর জন্য অনুরোধ করেন। এ সময় হাঙ্গেরির বাণিজ্যমন্ত্রী এ ব্যাপারে তাঁর দেশের সহযোগিতার আশ্বাস দেন। বিগত সময়ে দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্যের উল্লেখযোগ্য বৃদ্ধির বিষয়ে সন্তুষ্টি প্রকাশ করেন দুই মন্ত্রী।

    এ ছাড়া দুই দেশের বিনিয়োগকারী এবং ব্যবসায়ীদের আরও কাছাকাছি আনতে বেসরকারি খাতের মধ্যে সহযোগিতা বৃদ্ধির প্রয়োজনীয়তার ওপর জোর দিয়েছেন। ‘স্টাইপেন্ডিয়াম হাঙ্গেরিকাম’ প্রোগ্রামে উভয় মন্ত্রী সন্তুষ্টি প্রকাশ করেন। বৈঠককালে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে বাংলাদেশের শক্তিশালী অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির প্রশংসা করেন পিটার সিজ্জারটো।

  • বাংলাদেশের শেয়ারবাজারে সক্রিয় হচ্ছেন বিদেশি বিনিয়োগকারীরা

    বাংলাদেশের শেয়ারবাজারে সক্রিয় হচ্ছেন বিদেশি বিনিয়োগকারীরা

    গত মার্চ মাসে শেয়ারবাজারে বিদেশি বিনিয়োগকারীদের মোট টার্নওভার ছিল ৮৭ কোটি ৫১ লাখ টাকা। এপ্রিল মাসে তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১৮২ কোটি টাকায়। অর্থাৎ এক মাসে বিদেশিদের লেনদেন বেড়েছে ৯৫ কোটি টাকা বা ১০৮ শতাংশ। এই চিত্র শুধু শেয়ারবাজারে নয়, সব খাতেই।

    শেয়ারবাজারে সক্রিয় হচ্ছেন বিদেশি বিনিয়োগকারীরা। গত মার্চ মাসের তুলনায় এপ্রিল মাসে বিদেশি বিনিয়োগকারীদের লেনদেন বেড়ে দ্বিগুণ হয়েছে।

    বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (বিডা) সম্প্রতি প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে দেখা গেছে, চলতি বছরের প্রথম তিন মাসে (জানুয়ারি-মার্চ) দেশে বিদেশি বিনিয়োগ প্রস্তাব গত বছরের একই সময়ের তুলনায় ১২৬ শতাংশ বেড়েছে। এ সময়ে বস্ত্র, রাসায়নিক ও কৃষি খাতে উল্লেখযোগ্য পরিমাণে বিনিয়োগ প্রস্তাব এসেছে।

    গত মার্চ মাসে বাংলাদেশ বিজনেস সামিট উদ্বোধন করার সময় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, বাংলাদেশে এখন জ্বালানি, পানি, লজিস্টিক এবং পরিবহন খাতে ৩৫০ বিলিয়ন মার্কিন ডলারের অবকাঠামো গড়ার সুযোগ রয়েছে। ২০২৫ সালের মধ্যে শুধু লজিস্টিকস খাতই ৯০ বিলিয়ন মার্কিন ডলারের বাজারে পরিণত হবে বলে আশা করা হচ্ছে। এদিকে চলতি মাসে শুরুতে যুক্তরাষ্ট্রে সফরে গিয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা মার্কিন ব্যবসায়ীদের বাংলাদেশে বড় বিনিয়োগের জন্য আহ্বান জানান। এদিন প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমি আপনাদের আমাদের নবায়নযোগ্য জ্বালানি, জাহাজ নির্মাণ, অটোমোবাইল, ফার্মাসিউটিক্যালস, হালকা ও ভারী যন্ত্রপাতি, রাসায়নিক সার, আইসিটি, সামুদ্রিক সম্পদ এবং চিকিৎসা সরঞ্জাম ইত্যাদিসহ অনেক গতিশীল ও সম্ভাবনাময় খাতে বিনিয়োগ করার জন্য আমন্ত্রণ জানাচ্ছি।

    এ প্রসঙ্গে বেসরকারি গবেষণা প্রতিষ্ঠান সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের (সিপিডি) ফেলো ড. মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, কৃষি প্রক্রিয়াজাতকরণ নিয়ে বিশ্বের অনেক বড় বড় কোম্পানি বাংলাদেশের প্রতি আগ্রহ দেখাচ্ছে। তিনি উল্লেখ করেন, বাংলাদেশ কৃষিনির্ভর দেশ হওয়ায় এই খাতকে ব্যবহারের বিশেষ সুযোগ রয়েছে। কারণ, অনেক দেশই তাদের প্রয়োজনীয় কৃষিপণ্য অন্য দেশ থেকে আমদানি করে। এখানে যদি সেই চাহিদাকে অ্যাড্রেস করা যায়, তাহলে এটিও রফতানির জন্য বিশাল খাত হয়ে উঠতে পারে।

    তিনি বলেন, বাংলাদেশে যেভাবে অভ্যন্তরীণ বাজার বড় হচ্ছে, সেটা কিনা সিঙ্গাপুরের কয়েকগুণ বড়। আর এই বাজারে বিশেষ করে মধ্যবিত্ত শ্রেণির ভোগ্যপণ্য ব্যবহার বেড়েছে, বড় চাহিদা তৈরি হয়েছে। সে জন্য অনেক বিদেশি বিনিয়োগকারী এরমধ্যেই বাংলাদেশকে লক্ষ্য করে আসতে শুরু করেছে।

    ফরেন ইনভেস্টর্স চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি (এফআইসিসিআই) ২০২১ সালে একটি গবেষণা করেছিল, সেখানে কৃষি ব্যবসাতে বিনিয়োগের জন্য অবারিত সুযোগ আছে বলে চিহ্নিত করা হয়। গবেষণায় বলা হয়েছে, বাংলাদেশে কৃষি, ডিজিটাল ইকোনমি ও গ্রিন ফাইন্যান্স—এই তিনটা খাতে সবচেয়ে বেশি বিনিয়োগের সুযোগ রয়েছে।

    প্রসঙ্গত, দেশে ৩৮টি হাইটেক পার্ক নির্মাণ করা হয়েছে, যেগুলো বিদেশি বিনিয়োগের জন্য উন্মুক্ত রাখা হয়েছে। আশা করা যাচ্ছে, ২০২৫ সালের মধ্যে তথ্যপ্রযুক্তি পণ্য খাতে রফতানি আয় পাঁচ বিলিয়ন ডলারে পরিণত হবে। এর বড় একটি অংশ আসবে বিদেশি বিনিয়োগ থেকে।

    এছাড়া অবকাঠামো খাতেও বিনিয়োগের জন্য বিদেশিদের আগ্রহী করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। সরকার রূপকল্প-২০৪১ সালের যে পরিকল্পনা নিয়েছে, সেখানে অবকাঠামো খাতে বিদেশি বিনিয়োগ আকৃষ্ট করার কথা বিশেষভাবে বলা হয়েছে।

    উল্লেখ্য, বাংলাদেশে গত এক দশকে স্বয়ংক্রিয় ও হালকা প্রকৌশল জাতীয় শিল্পের বিশাল বাজার গড়ে উঠেছে। অনেক বড় বড় শিল্প কারখানা গড়ে ওঠায় এসব সহযোগী শিল্প প্রতিষ্ঠান গড়ে উঠেছে দেশজুড়ে। বাংলাদেশে গাড়ির ইঞ্জিনের যন্ত্রাংশ থেকে শুরু করে কৃষি ও নির্মাণকাজের যন্ত্রপাতি, প্লাস্টিক পণ্যের ছাঁচ, নাট-বল্টু, বেয়ারিং ইত্যাদি অনেক কিছুই এখন তৈরি করা হয়। বিভিন্ন যন্ত্রাংশ আমদানি করে বাংলাদেশে গাড়ির যন্ত্রাংশ, ধান মাড়াই মেশিন, প্রকৌশল যন্ত্রপাতি, নানারকম খেলনা তৈরি করা হয়। গত অর্থবছরে এই খাত থেকে ৭৯ কোটি ডলারের পণ্য রফতানি হয়েছিল। অর্থনীতিবিদরা বলছেন, হালকা প্রকৌশল খাতে বিনিয়োগ বাড়ানো গেলে দেশের চেহারা বদলে যাবে।

    বাংলাদেশ ব্যাংকের হিসাবে, দেশে ২০২১-২২ অর্থবছরে প্রত্যক্ষ বিদেশি বিনিয়োগ বা এফডিআই এসেছে ৪৭০ কোটি ৮০ লাখ ডলার।

    কেন্দ্রীয় ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, চলতি অর্থবছরের জুলাই-জানুয়ারি এই সাত মাসে এফডিআই এসেছে ৩০৬ কোটি ডলার। যা এর আগের অর্থবছরের একই সময়ের চেয়ে ১২ দশমিক ৩১ শতাংশ বেশি। ২০২১-২২ অর্থবছরের প্রথম সাত মাসে ২৭৩ কোটি ডলারের বিনিয়োগ এসেছিল।

    বাংলাদেশের বিনিয়োগ উন্নয়ন বোর্ড এবং অর্থনীতিবিদরা বলছেন, বিদেশি বিনিয়োগকারীদের জন্য এই দেশে বিনিয়োগের অনেক সুযোগ রয়েছে।

    বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী চলতি বছরের প্রথম তিন মাসে (জানুয়ারি-মার্চ) দেশে বিদেশি বিনিয়োগ প্রস্তাব গত বছরের একই সময়ের তুলনায় ১২৬ শতাংশ বেড়েছে। এ সময়ে বস্ত্র, রাসায়নিক ও কৃষি খাতে উল্লেখযোগ্য পরিমাণে বিনিয়োগ প্রস্তাব এসেছে।

    বিডায় নিবন্ধিত শিল্পের ত্রৈমাসিক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, জানুয়ারি থেকে মার্চ—এই তিন মাসে বিডায় বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের মোট ২৩১টি শিল্প ইউনিট নিবন্ধিত হয়েছে। এরমধ্যে ২০৬টি শিল্প ইউনিট স্থানীয়, ১১টি শতভাগ বিদেশি ও ১৪টিতে যৌথ বিনিয়োগের প্রস্তাব রয়েছে।

    বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, নিবন্ধিত এসব প্রতিষ্ঠান থেকে মোট ১৬ হাজার ৭৮৬ কোটি টাকার বিনিয়োগ প্রস্তাব এসেছে। এরমধ্যে দেশীয় বা স্থানীয় প্রতিষ্ঠানের বিনিয়োগ প্রস্তাব প্রায় ১১ হাজার ৭৫০ কোটি টাকার। আর ৫ হাজার ৩৬ কোটি টাকা বিদেশি ও যৌথ বিনিয়োগের প্রস্তাব রয়েছে।

    গত বছরের (২০২২) জানুয়ারি-মার্চ সময়ে শতভাগ বিদেশি ও যৌথ বিনিয়োগের পরিমাণ ছিল ২ হাজার ২২৭ কোটি টাকার। সে হিসাবে বিডায় বিদেশি ও যৌথ বিনিয়োগ প্রস্তাব বৃদ্ধি পেয়েছে প্রায় ১২৬ শতাংশ।

    বিডার তথ্য অনুযায়ী, বস্ত্র, রাসায়নিক ও কৃষি খাতে উল্লেখযোগ্য পরিমাণে বিনিয়োগ প্রস্তাব এসেছে। এসব বিনিয়োগ প্রস্তাব বাস্তবায়িত হলে প্রায় ৩৯ হাজার ৯০০ জনের কর্মসংস্থান হবে। তবে বিডার এ হিসাবে দেশের অর্থনৈতিক অঞ্চল, রফতানি প্রক্রিয়াকরণ অঞ্চল, হাইটেক পার্ক এবং ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্প করপোরেশনের (বিসিক) বিনিয়োগ প্রস্তাব অন্তর্ভুক্ত নয়।

    নিবন্ধিত এসব বিনিয়োগ প্রস্তাবকে কখনও চূড়ান্ত বিনিয়োগ হিসেবে বিবেচনা করা হয় না। কারণ, যারা বিনিয়োগের আগ্রহ দেখিয়ে নিবন্ধন নেন, পরে তাদের একটা অংশ বিভিন্ন বাস্তবতায় আর বিনিয়োগ করেন না।

    অবশ্য গত বছর যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্টের সর্বশেষ বিনিয়োগের পরিবেশ সংক্রান্ত রিপোর্টে বলা হয়েছে, দুর্নীতি, আমলাতান্ত্রিক দীর্ঘসূত্রতা, অপর্যাপ্ত অবকাঠামো এবং সীমিত অর্থায়নের সুযোগের মতো বেশ কিছু কারণ বাংলাদেশে বিদেশি বিনিয়োগের ক্ষেত্রে বড় বাধা সৃষ্টি করছে।

    দেশে বিদেশি বিনিয়োগ আকর্ষণে একটি আয়োজনে অংশ নিতে আর্জেন্টিনা, ব্রাজিলসহ লাতিন আমেরিকা এবং ইউরোপের কয়েকটি দেশে যাবেন বাংলাদেশি ব্যবসায়ীদের একটি প্রতিনিধিদল। ৬ থেকে ১৭ মে এই আয়োজন অনুষ্ঠিত হবে। এতে সহযোগিতা করছে বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (বিডা)।

    এর আগে গত মার্চ মাসে রাজধানীর আগারগাঁওয়ে বিডা কার্যালয়ে লাতিন আমেরিকা-বাংলাদেশ চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি (এলএবিসিসিআই) ও বিডা একটি সমঝোতা স্মারক সই করে। চুক্তি সই অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন বিডার নির্বাহী চেয়ারম্যান লোকমান হোসেন মিয়া। তিনি বলেন, বিডা ও এলএবিসিসিআইয়ের মধ্যে সমঝোতা স্মারকের মাধ্যমে বাংলাদেশ ও লাতিন আমেরিকার মধ্যে বাণিজ্য ও বিনিয়োগের নতুন দ্বার উন্মোচিত হলো। তার মতে, এর মাধ্যমে বাংলাদেশের সঙ্গে লাতিন আমেরিকার দেশগুলোর বাণিজ্য ও বিনিয়োগ দিন দিন বৃদ্ধি পাবে।

    জানা গেছে, ৬ থেকে ১৭ মে নেদারল্যান্ডস, বেলজিয়াম, লুক্সেমবার্গ, আর্জেন্টিনা ও ব্রাজিলে একটি ব্যবসায় আয়োজন অনুষ্ঠিত হবে। যৌথভাবে এই আয়োজন করেছে বিডা, এলএবিসিসিআই ও ডাচ্‌-বাংলা চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি (ডিবিসিসিআই)।

  • ৩ বিলিয়ন ডলার ঋণ সহায়তা পাচ্ছে বাংলাদেশ

    ৩ বিলিয়ন ডলার ঋণ সহায়তা পাচ্ছে বাংলাদেশ

    সহজ শর্তে বাংলাদেশকে তিন বিলিয়ন মার্কিন ডলার ঋণ দেবে দক্ষিণ কোরিয়া। বাংলাদেশি মুদ্রায় যা (প্রতি ডলার ১০৬ টাকা ধরে) ৩১ হাজার ৮০০ কোটি টাকা।  মেট্রোরেল নির্মাণসহ অন্য প্রকল্পেও এই ঋণ ব্যবহার করা যাবে। বাংলাদেশ ও দক্ষিণ কোরিয়ার মধ্যে একটি ফ্রেমওয়ার্ক অ্যারেঞ্জমেন্ট সই হয়েছে। বৃহস্পতিবার (৪ মে) ঢাকার দক্ষিণ কোরিয়ার দূতাবাস এ তথ্য জানায়।

    দক্ষিণ কোরিয়ার ইনচিওনে সই হওয়া এই ফ্রেমওয়ার্কের আওতায় ২০২৩-২০২৭  সাল পর্যন্ত অর্থনৈতিক উন্নয়ন সহযোগিতা তহবিল (ইডিসিএফ ) থেকে ৩ বিলিয়ন মার্কিন ডলার ঋণ সহায়তা দেওয়া হবে।

    দক্ষিণ কোরিয়ায় অনুষ্ঠিত এশীয় উন্নয়ন ব্যাংকের (এডিবি) বোর্ড অব গভর্নরসের ৫৬তম বার্ষিক সাধারণ সভা উপলক্ষে এই চুক্তি সই হয়।

    কোরিয়ার অর্থনীতি ও অর্থ বিভাগের প্রথম উপমন্ত্রী কিসুন বাং এবং অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগের (ইআরডি) সচিব শরিফা খান নিজ নিজ পক্ষে চুক্তিতে সই করেন।

    এই উপলক্ষে ঢাকা এমআরটি লাইন-৪ এবং আরও দুটি প্রকল্পের জন্য ইডিসিএফ লোন এগ্রিমেন্ট (সিএনজি বাস কেনা এবং রেলওয়ে সিগন্যালিং সিস্টেমের আধুনিকীকরণ) বিষয়ে সমঝোতা স্মারক সই করেন সংশ্লিষ্ট প্রতিনিধিরা।

    দুই পক্ষের সই করা চুক্তিটি কোরিয়া সরকারের পক্ষ থেকে আগামী পাঁচ বছরের জন্য বাংলাদেশ সরকারকে ৩ বিলিয়ন মার্কিন ডলার পর্যন্ত ছাড়ে ঋণ দেওয়ার আইনি ভিত্তি হিসেবে কাজ করবে।

    সেই অনুযায়ী ইডিসিএফ ঋণ পরিশোধের সময়কাল হবে ১৫ বছরের গ্রেস পিরিয়ডসহ ৪০ বছর। আর বার্ষিক সুদের হার হবে ০.০১-০.০৫ শতাংশ।

    প্রকল্পগুলো ভবিষ্যতে দুই সরকারের মধ্যে ঘনিষ্ঠ আলোচনার মাধ্যমে চিহ্নিত করা হবে। নতুন ফ্রেমওয়ার্ক অ্যারেঞ্জমেন্ট সইয়ের  মাধ্যমে বাংলাদেশ সারা বিশ্বে দক্ষিণ কোরিয়ার অফিসিয়াল ডেভেলপমেন্ট এইডের দ্বিতীয় বৃহত্তম প্রাপক হয়ে উঠেছে।

    দক্ষিণ কোরিয়া প্রজাতন্ত্রের সরকার বাংলাদেশের সঙ্গে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক এবং বাংলাদেশের উজ্জ্বল ভবিষ্যতের পরিপ্রেক্ষিতে যথেষ্ট পরিমাণে সহায়তা বাড়ানোর সাহসী সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

    ঢাকায় নিযুক্ত দক্ষিণ কোরিয়ার রাষ্ট্রদূত লি জ্যাং কিউন  বলেন, দুই দেশের মধ্যে কূটনৈতিক সম্পর্কের ৫০তম বার্ষিকীতে একটি নতুন ইডিসিএফ ফ্রেমওয়ার্ক অ্যারেঞ্জমেন্ট সই বিশেষভাবে অর্থবহ। রেয়াতযোগ্য ঋণ যথেষ্ট পরিমাণ বাড়ানোর ফলে দক্ষিণ কোরিয়া বাংলাদেশে মেগা প্রকল্পে সহায়তা করতে সক্ষম হবে বলে আশা করা হচ্ছে।

    তিনি বলেন, আমি আশা করি এই ৩ বিলিয়ন মার্কিন ডলারের সহায়তা বাংলাদেশের জনগণের দৈনন্দিন জীবনযাত্রা যেমন পরিবহন, স্বাস্থ্য ও শিক্ষাখাতে অবদান রাখবে, তেমনি  বাংলাদেশ ও কোরিয়ার জনগণের মধ্যে বন্ধুত্ব বাড়ানোর ক্ষেত্রে অনুঘটক হিসেবে কাজ করবে।

     

  • প্রধানমন্ত্রী বড় বিনিয়োগের আহ্বান করেছেন মার্কিন ব্যবসায়ীদের কাছে

    প্রধানমন্ত্রী বড় বিনিয়োগের আহ্বান করেছেন মার্কিন ব্যবসায়ীদের কাছে

    প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা মঙ্গলবার মার্কিন ব্যবসায়ী সম্প্রদায়কে বাংলাদেশের নবায়নযোগ্য জ্বালানি, জাহাজ নির্মাণ, অটোমোবাইল এবং ফার্মাসিউটিক্যালে ব্যাপকভাবে বিনিয়োগ করার আহ্বান জানিয়েছেন এবং শুধুমাত্র মার্কিন বিনিয়োগকারীদের জন্য একটি নিবেদিত ‘বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চল’ রাখার প্রস্তাব পুনর্ব্যক্ত করেছেন

    বলেন, ‘আমি আপনাদেরকে আমাদের নবায়নযোগ্যযোগ্য জ্বালানি, জাহাজ নির্মাণ, অটোমোবাইল, ফার্মাসিউটিক্যালস, হালকা ও ভারী যন্ত্রপাতি, রাসায়নিক সার, আইসিটি, সামুদ্রিক সম্পদ এবং চিকিৎসা সরঞ্জাম ইত্যাদিসহ অনেক গতিশীল ও সম্ভাবনাময় খাতগুলোতে বিনিয়োগ করার জন্য আমন্ত্রণ জানাচ্ছি।’

    বাংলাদেশে সুযোগ অন্বেষণ ও বিনিয়োগের জন্য যুক্তরাষ্ট্রের ব্যবসায়ী নেতাদের প্রতিও আহ্বান জানান প্রধানমন্ত্রী।

    তিনি ‘ইউএস-বাংলাদেশ ইকোনমিক পার্টনারশিপ: শেয়ার্ড ভিশন ফর স্মার্ট গ্রোথ’ শীর্ষক উচ্চ পর্যায়ের এক্সিকিউটিভ বিজনেস গোলটেবিলের মূল বক্তব্য উপস্থাপনের সময় একথা বলেন।

     বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী অনুষ্ঠানে ইউএস বাংলাদেশ আইটি কানেক্ট পোর্টাল উদ্বোধন করেন।

    ইউএস-বাংলাদেশ বিজনেস কাউন্সিল এখানে ইউএস চেম্বার অব কমার্স ওয়াশিংটন, ডিসির গ্রেট হলে এই অনুষ্ঠানের আয়োজন করে।

    প্রধানমন্ত্রী আশা প্রকাশ করেন যে, যুক্তরাষ্ট্র-বাংলাদেশ বিজনেস কাউন্সিল আমাদের দুই বন্ধুপ্রতিম দেশের মধ্যে বাণিজ্য ও বিনিয়োগ সহযোগিতা এগিয়ে নিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে।

    তিনি বলেন, ‘২০৪১ সালের মধ্যে একটি উন্নত, সমৃদ্ধ ও স্মার্ট বাংলাদেশ গড়ার লক্ষ্যে আমাদের যাত্রায় অংশীদার হিসেবে আমাদের সাথে থাকার জন্য আমি আজকে এখানে আপনাদের আহ্বান জানাচ্ছি।’

    তিনি বলেন, বাংলাদেশের মাথাপিছু আয় বৃহত্তর প্রতিবেশীদের তুলনায় বেশি।

    তিনি আরো বলেন, ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক ফোরাম বাংলাদেশকে নারীর ক্ষমতায়নে শীর্ষ দক্ষিণ এশিয়ার শীর্ষ দেশ হিসেবে এবং বিশ্বব্যাপী নারীর রাজনৈতিক ক্ষমতায়নে শীর্ষ দশটি দেশের মধ্যে স্থান দিয়েছে।

    প্রধানমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশ ১৭ কোটি জনসংখ্যার বাজার এবং এর ভৌগোলিক অবস্থান ৩ বিলিয়ন জনসংখ্যার বাজারের কেন্দ্রে রয়েছে।

    তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশ এখন এই অঞ্চলে ও এর বাইরেও বাণিজ্য ও বিনিয়োগের জন্য একটি আদর্শ জায়গা হিসাবে আবির্ভূত হয়েছে। আমাদের ভৌত, আইনি এবং আর্থিক অবকাঠামো উন্নত করা হচ্ছে।

    প্রধানমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশ ১৭ কোটি জনসংখ্যার বাজার এবং এর ভৌগোলিক অবস্থান ৩ বিলিয়ন জনসংখ্যার বাজারের কেন্দ্রে রয়েছে।

    তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশ এখন এই অঞ্চলে ও এর বাইরেও বাণিজ্য ও বিনিয়োগের জন্য একটি আদর্শ জায়গা হিসাবে আবির্ভূত হয়েছে। আমাদের ভৌত, আইনি এবং আর্থিক অবকাঠামো উন্নত করা হচ্ছে।’

    প্রধানমন্ত্রী উল্লেখ করেছেন যে, অবকাঠামোতে বিনিয়োগের মাধ্যমে সামগ্রিক প্রবৃদ্ধি ধরে রাখার জন্য সরকারের প্রচেষ্টা সারা দেশে দৃশ্যমান।

    তিনি বলেন, ‘বৃহৎ পদ্মা নদীর উপর গত বছর আমরা নিজস্ব অর্থায়নে আমাদের দীর্ঘতম সেতুর নির্মাণ সম্পন্ন করেছি, যা এখন আঞ্চলিক উন্নয়নের একটি গুরুত্বপূর্ণ নজির।’

    প্রধানমন্ত্রী বলেন, তার সরকার মেট্রোরেলও নির্মাণ করেছে, গভীর সমুদ্রবন্দরসহ বন্দরের অবকাঠামো উন্নত করেছে। এগুলো অভ্যন্তরীণ ও আঞ্চলিক সংযোগ বাড়িয়েছে।

    প্রধানমন্ত্রী বলেন, তার সরকার মেট্রোরেলও নির্মাণ করেছে, গভীর সমুদ্রবন্দরসহ বন্দরের অবকাঠামো উন্নত করেছে। এগুলো অভ্যন্তরীণ ও আঞ্চলিক সংযোগ বাড়িয়েছে।

    তিনি আরো বলেন, ‘আমাদের জলবায়ু দায়িত্বশীল প্রবৃদ্ধি নীতি, শ্রম সংস্কার, এবং শ্রম নিরাপত্তা মান উন্নয়ন প্রশংসার দাবিদার।’

    প্রধানমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশ গর্বিত যে ইউএস গ্রিন বিল্ডিং কাউন্সিল (ইউএসজিবিসি) দ্বারা প্রত্যায়িত বিশ্বের শীর্ষ ১০০টি সবুজ পোশাক কারখানার মধ্যে ৫৩টি বাংলাদেশে। তিনি আরো বলেন যে বাংলাদেশ ২০২৬ সালে ‘স্বল্পোন্নত’ থেকে ‘উন্নয়নশীল’ দেশে পরিণত হবে।

    তিনি বলেন, ‘এর জন্য, আমাদের বৈশ্বিক প্রতিযোগিতা বাড়াতে এবং রপ্তানি ভিত্তি প্রসারিত করতে আমাদের সমর্থন প্রয়োজন হবে।’

    সূত্র : বাসস

  • ডিজিটাল ইকোনমিতে রাজস্ব হারাচ্ছে সরকার

    ডিজিটাল ইকোনমিতে রাজস্ব হারাচ্ছে সরকার

    গতকাল শনিবার রাজধানীর বঙ্গবন্ধু সম্মেলন কেন্দ্রে ডিজিটাল অর্থনীতি থেকে কর আদায় সংক্রান্ত এক সংলাপে এসব কথা বলা হয়। সংস্থাটির নির্বাহী পরিচালক ফাহমিদা খাতুনের সভাপতিত্বে এতে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন সম্মাননীয় ফেলো অধ্যাপক ড. মোস্তাফিজুর রহমান।

    সরকারের নীতি সিদ্ধান্তে রাজনীতিবিদদের ভূমিকা সংকুচিত হচ্ছে উল্লেখ করে সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের (সিপিডি) সম্মাননীয় ফেলো দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য বলেছেন, দিন দিন সরকার অংশীজনের সঙ্গে আলোচনা না করে নীতিগত সিদ্ধান্তগুলো নিচ্ছে। এসব সিদ্ধান্তের ফলে রাজনীতিবিদদের ভূমিকা সংকুচিত হচ্ছে। আর অংশীজনদের সঙ্গে সমঝোতা ছাড়া এসব নীতি সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন করাও কষ্টকর হয়ে যাচ্ছে।

    দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য বলেন, সরকার আইএমএফের কাছ থেকে ঋণ নেওয়ার সময় বেশ কিছু শর্ত মেনে নিয়েছে। এর মধ্যে অন্যতম হলো কর-জিডিপি অনুপাত বাড়ানো, প্রতিবছর জিডিপির দশমিক ৫ শতাংশ হারে অতিরিক্ত কর আদায়, করছাড় যৌক্তিক করা এবং কর আদায়ে প্রশাসনিক দক্ষতা বৃদ্ধি। তবে সব শর্ত আদেশ দিয়ে কার্যকর করা যাবে না।

    তিনি বলেন, ‘এসব শর্ত পূরণ করতে প্রতিষ্ঠানকে অনেক পরিশ্রম করতে হবে। তবে এই সংস্কার কার্যক্রম অনেক আগে করার কথা থাকলেও আমরা তা করতে পারিনি।’

    মূল প্রবন্ধে মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, ডিজিটাল বাংলাদেশ থেকে স্মার্ট বাংলাদেশ হবে। খুব দ্রুত দেশের অর্থনীতির একটা বড় অংশ হবে ডিজিটাল ইকোনমি। বর্তমানে বিক্ষিপ্তভাবে এ খাত থেকে রাজস্ব আদায় করা হলেও তা সামান্য। বিভিন্ন সংস্থার সমন্বয়ে একটি তথ্যভান্ডার গঠনসহ এ খাতের জন্য সুনির্দিষ্ট নীতিমালা প্রণয়নের মাধ্যমে আরও বেশি রাজস্ব আহরণের সুযোগ রয়েছে। তবে অযৌক্তিকভাবে কর আরোপ করে সম্প্রসারণশীল খাতটি যাতে মুখ থুবড়ে না পড়ে, সে বিষয়েও গুরুত্ব দিতে হবে।

    মূল প্রবন্ধে বলা হয়, ফেসবুক, গুগল, অ্যামাজনের মতো অনাবাসী প্রতিষ্ঠান থেকে মূল্য সংযোজন কর (ভ্যাট) আদায় করা হলেও আয়কর আদায় করা সম্ভব হয় না। ২০১৯ সালের জুনে হাইকোর্টকে দেওয়া বিটিআরসির তথ্য অনুযায়ী পাঁচ মোবাইল অপারেটরের মাধ্যমে বিজ্ঞাপন বাবদ এসব প্রতিষ্ঠান ৮ হাজার ৭৫০ কোটি টাকা আয় করেছে। অথচ জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের তথ্য বলছে, এ সময়ে প্রতিষ্ঠানগুলোর আয় মাত্র ১৩৩ কোটি টাকা। এ ক্ষেত্রে সঠিক তথ্য দরকার। একইভাবে ফ্রিল্যান্সারদের মাধ্যমে কী পরিমাণ অর্থ দেশে আসছে, তার সঠিক তথ্য নির্ধারণ করে যৌক্তিক কর আরোপ করার সুপারিশ করা হয়।

    মূল প্রবন্ধে আরও বলা হয়, বাংলাদেশে ২০২১ সালে ডিজিটাল অর্থনীতির আকার ছিল ৫৬০ কোটি ডলারের। ২০২২ সালে তা বেড়ে দাঁড়ায় ৬৬০ কোটি ডলার। আগামী ২০২৬ সালে এর পরিমাণ হতে পারে ১ হাজার ৫০ লাখ ডলার। দেশের কর-জিডিপির অনুপাত বাড়াতে এ খাত থেকে রাজস্ব বাড়ানোর পরামর্শ দেওয়া হয়।

    অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি অর্থ মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটির সদস্য কাজী নাবিল আহমেদ বলেন, সরকার স্মার্ট বাংলাদেশ গড়তে কাজ করছে। স্মার্ট বাংলাদেশ হলে রাজস্ব আদায় থেকে প্রশাসনিক কার্যক্রম পর্যন্ত সবকিছু অটোমেশন হবে। তখন রাজস্ব আহরণের ক্ষেত্রে স্বচ্ছতা আরও বাড়বে। একই সঙ্গে গুগল, ফেসবুক, টুইটারের মতো আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠানকে পুরোপুরি রাজস্বের আওতায় আনা যাবে।

    জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) দক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন বিশেষ অতিথি ও জাতীয় পার্টির সংসদ সদস্য আহসান আদিলুর রহমান। তিনি বলেন, বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশন (বিটিআরসি) বলছে, গুগল, ফেসবুকের মতো বহুজাতিক প্রতিষ্ঠানগুলো বাংলাদেশ থেকে বিলিয়নের বেশি টাকা নিয়ে গেছে। জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) বলছে, ১৩৩ কোটি টাকা। তাদের কাছ থেকে যথাযথ রাজস্ব আদায় জরুরি।

    সিপিডির নির্বাহী পরিচালক ফাহমিদা খাতুন বলেন, কর-জিডিপির অনুপাত বাড়াতে ডিজিটাল অর্থনীতি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তবে বাংলাদেশে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে অনেক বড় বড় কোম্পানি থাকলেও তাদের থেকে খুব বেশি রাজস্ব আসে না। এসব প্রতিষ্ঠানকে যৌক্তিকভাবে করের আওতায় আনার আহ্বান জানান তিনি।
    অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য রাখেন– সিপিডির বিশেষ ফেলো দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য, এনবিআরের সাবেক চেয়ারম্যান আবদুল মজিদ, বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব সফটওয়্যার অ্যান্ড ইনফরমেশন সার্ভিসেস (বেসিস) পরিচালক হাবিবুল্লাহ নেয়ামুল করিম, বাংলাদেশ ফ্রিল্যান্সার ডেভেলপমেন্ট সোসাইটির চেয়ারম্যান তানজিবা রহমান, ই-কমার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ই-ক্যাব) সহসভাপতি মোহাম্মদ শাহাব উদ্দিন প্রমুখ।

  • সমৃদ্ধির জন্য শেখ হাসিনার নেতৃত্ব প্রয়োজন : আইএমএফ প্রধান

    সমৃদ্ধির জন্য শেখ হাসিনার নেতৃত্ব প্রয়োজন : আইএমএফ প্রধান

    বাংলাদেশের অভূতপূর্ব উন্নয়নের ভূয়োসী প্রশংসা করে আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ)-এর ব্যবস্থাপনা পরিচালক ক্রিস্টালিনা জর্জিয়েভা বলেছেন, সকল বাধা-বিপত্তি মোকাবিলা করে দেশকে সমৃদ্ধির পথে এগিয়ে নিয়ে যেতে বাংলাদেশে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার মতো নেতৃত্ব প্রয়োজন।

    তিনি শনিবার ওয়াশিংটনের রিজ-কার্লটন হোটেলে বাংলাদেশ প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাতকালে একথা বলেন।

    ক্রিস্টালিনা বলেন, ‘বাংলাদেশ বিশ্বে একটি রোল মডেল। শেখ হাসিনার গতিশীল নেতৃত্বে দেশটি বিভিন্ন ক্ষেত্রে অভূতপূর্ণ উন্নয়ন অর্জন করেছে।’

    এক প্রেস ব্রিফিংয়ে বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এ কে আব্দুল মোমেন সাংবাদিকদের জানান, আইএমএফ প্রধান বৈঠকে একটি প্রতিনিধি দলের নেতৃত্ব দেন।

    মূলত সোমবার বিশ্বব্যাংকের সঙ্গে বাংলাদেশের অংশীদারিত্বের ৫০ বছর পূর্তি উদযাপন অনুষ্ঠানে যোগ দিতে শেখ হাসিনা বর্তমানে এক সরকারি সফরে যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থান করছেন।

    পররাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, আইএমএফ প্রধান বলেছেন, শেখ হাসিনার গতিশীল নেতৃত্ব কোভিড-১৯ এর পরও বাংলাদেশকে অর্থনৈতিকভাবে স্থিতিশীল রেখেছে।

    জর্জিয়েভা আরো বলেন,  সকল বাধা-বিপত্তি মোকাবিলা করে দেশকে সমৃদ্ধির পথে এগিয়ে নিয়ে যেতে বাংলাদেশ প্রধানমন্ত্রীর মতো নেতৃত্ব জরুরি।

    তিনি বাংলাদেশে কোভিড-১৯ মহামারিকালেও সামষ্টিক অর্থনীতিতে স্থিতিশীলতা বজায় রাখায় প্রধানমন্ত্রীর প্রশংসা করেন।

    তিনি বলেন, ব্যাপক অবকাঠামোগত উন্নয়ন, সুসংযোগ স্থাপন এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় বাংলাদেশ উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি অর্জন করেছে।

    এ সময় বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তাঁর দেশের সার্বিক উন্নয়ন নিশ্চিত করতে তাঁর সরকারের বিভিন্ন উদ্যোগ সম্পর্কে আইএমএফ প্রধানকে অবহিত করেন।

    তিনি আরো বলেন, দেশের উন্নয়ন একদিনে হয়নি। এটা দীর্ঘদিনের পরিকল্পনার ফসল। ব্রিফিংকালে বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর আব্দুর রউফ তালুকদার, অর্থনীতি বিভাগের জ্যেষ্ঠ সচিব ফাতিমা ইয়াসমিন ও অর্থনীতি বিষয়ক বিভাগের সচিব শরীফা খান উপস্থিত ছিলেন।

    সূত্র : বাসস

  • বাংলাদেশ অবশ্যই বিনিয়োগের আঞ্চলিক কেন্দ্র হিসেবে আবির্ভূত হচ্ছে: প্রধানমন্ত্রী

    বাংলাদেশ অবশ্যই বিনিয়োগের আঞ্চলিক কেন্দ্র হিসেবে আবির্ভূত হচ্ছে: প্রধানমন্ত্রী

    প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আরো বেশি পরিমাণে বিশাল আকারের জাপানী বিনিয়োগের আহ্বান জানিয়ে বলেছেন, সরকারের বাস্তবসম্মত নীতির কারণে বাংলাদেশ বিনিয়োগ, শিল্পায়ন ও রপ্তানির জন্য আঞ্চলিক কেন্দ্র হতে যাচ্ছে।

    টোকিও’তে ওয়েস্টিন হোটেলের গ্যালাক্সি বল রুমে বাংলাদেশ ইনভেস্টমেন্ট সামিটের উদ্বোধন কালে তিনি আজ বলেন, ‘আমাদের বাস্তবসম্মত নীতি এবং দূরদৃষ্টির কারণে বাংলাদেশ নিশ্চিত ভাবে বিনিয়োগ, শিল্পায়ন এবং এই অঞ্চলে এবং এর বাইরে বিভিন্ন গন্তব্যে রপ্তানির আঞ্চলিক কেন্দ্র হিসেবে আবির্ভূত হচ্ছে।’

    বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি) এবং বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (বিডা) যৌথভাবে ‘বাংলাদেশ ও জাপানের মধ্যে বাণিজ্য ও বিনিয়োগের সুযোগ’ শীর্ষক এই সম্মেলনের আয়োজন করে।

    বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর উপস্থিতিতে জেসিসিআই এবং এফবিসিসিআই-এর অন্তর্ভুক্ত বাংলাদেশ ও জাপানের বেসরকারি কোম্পানির মধ্যে ১১টি সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষর (এমওইউ) বিনিময় করা হয়।
    সম্মেলনে উপস্থাপনা করেন বিএসইসির চেয়ারম্যান (সিনিয়র সচিব) অধ্যাপক শিবলী রুবায়াত-উল-ইসলাম।

    বাংলাদেশে বিনিয়োগে রিটার্ন ধারাবাহিকভাবে বেশি উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, এ ছাড়াও বাংলাদেশের ব্যবসাবান্ধব রাজস্ব ও অ-আর্থিক নীতি ও প্রণোদনা, স্থিতিশীল গণতন্ত্র, বিচক্ষণ শাসন ও নেতৃত্ব বিদেশি বিনিয়োগে ভালো রিটার্নের নিশ্চয়তা দিচ্ছে।

    শেখ হাসিনা বলেন, ‘আমরা আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে আপনাদের আশ্বস্ত করতে পারি যে, বাংলাদেশ বৈশ্বিক বিনিয়োগকারীদের জন্য অটুট ভবিষ্যতের নিশ্চয়তা দেয়। তাই আমরা, বিশেষ করে জাপানি বিনিয়োগকারীসহ বিশ্বের সকল বিনিয়োগকারীকে বাংলাদেশে বিনিয়োগের সুযোগগুলো দেখার জন্য স্বাগত জানাই।’

    তিনি বলেন, ‘তবে, প্রকৃত বিনিয়োগ এখনও কম। আমরা জাপানের কাছ থেকে আরও বিনিয়োগ চাই। আমি আপনাদের সবাইকে বাংলাদেশে ব্যবসা ও বিনিয়োগের সম্ভাবনাগুলো অনুসন্ধান করতে আসার জন্য আমন্ত্রণ জানাচ্ছি।’

    প্রধানমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশ ১৭ কোটি মানুষের দেশ যেটি নিজেই একটি ক্রমবর্ধমান বাজার এবং প্রায় তিন বিলিয়ন ভোক্তার একটি বৃহৎ বাজারের কেন্দ্রস্থলে এর অবস্থান ব্যবসা সম্প্রসারণের জন্য একটি বিশাল আকর্ষণ প্রদান করে।

    শেখ হাসিনা বলেন, এইচএসবিসি গ্লোবাল রিসার্চ প্রজেকশন রিপোর্ট ইঙ্গিত করে যে, বাংলাদেশ ২০৩০ সালের মধ্যে যুক্তরাজ্য ও জার্মানিকে ছাড়িয়ে বিশ্বব্যাপী নবম বৃহত্তম ভোক্তা বাজার হয়ে উঠবে বলে আশা করা হচ্ছে।

    প্রধানমন্ত্রী স্থানীয় ও জাপানি বিনিয়োগকারীদের মনে করিয়ে দেন যে, যেহেতু তারা সচেতন যে কোভিড-১৯ মহামারি বিশ্বব্যাপী বিপর্যয় সৃষ্টি করেছে এবং বাণিজ্য ও বিনিয়োগকে মারাত্মকভাবে প্রভাবিত করেছে।

    তিনি বলেন, ‘তবে, আমরা কার্যকর পদক্ষেপ এবং হস্তক্ষেপের মাধ্যমে সংকট মোকাবেলা করতে পেরেছি। আমাদের অর্থনীতি শক্তিশালী স্থিতিস্থাপকতা দেখিয়েছে, প্রবৃদ্ধি বজায় রেখেছে এবং এখনও অস্থির বিশ্ব আর্থিক পরিস্থিতি এবং সরবরাহের দিকের সীমাবদ্ধতার চাপকে ধরে রেখেছে। বাংলাদেশ তার অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি বজায় রেখেছে এবং ২০২১-২০২২ অর্থবছরে জিডিপি বৃদ্ধির হার ৭.১% ধরে রেখেছি। ইউক্রেন যুদ্ধ সত্ত্বেও, আমরা চলতি অর্থবছরে ৬.৫% বৃদ্ধির হার অর্জন করছি।’
    বাংলাদেশের ক্রমবর্ধমান অর্থনীতির কথা উল্লেখ করে শেখ হাসিনা বলেন, আইসিটি, ইলেকট্রনিক্স, অবকাঠামো, চামড়া, টেক্সটাইল, আতিথেয়তা ও পর্যটন, ভারী শিল্প, রাসায়নিক ও সার এবং এসএমইর মতো বিভিন্ন খাতে সুযোগ অনেক বেড়েছে।

    সরকার প্রধান বলেন, ‘আমাদের সরকার ব্যবসা করার সাবলীল, সহজ এবং কার্যকর উপায়গুলো সহজতর করার জন্য যথাসাধ্য চেষ্টা করছে।’

    প্রধানমন্ত্রী বলেন, বিদেশি বিনিয়োগের জন্য তাঁর সরকার ১০০টি বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চল, হাই-টেক এবং সফটওয়্যার পার্ক নির্মাণ করছে।

    তিনি বলেন, ‘আমি জাপানি বিনিয়োগকারীদের আশ্বস্ত করতে চাই যে, বাংলাদেশ আপনাদের জন্য প্রস্তত, এবং সেখানে গেলে আপনাদের দুর্দান্ত অভিজ্ঞতা হবে। আপনারা ব্যবসার সুবিধার জন্য প্রয়োজনীয় সমস্ত সংস্থা এবং কাঠামো সুবিধার জন্য তৈরি করা হয়েছে।

    শেখ হাসিনা বলেন, বাংলাদেশে জাপানি বিনিয়োগকারীদের সুবিধার্থে বিশেষকরে সরকারি-বেসরকারি যৌথ অর্থনৈতিক সংলাপের (পিপিইডি) মতো উচ্চ পর্যায়ের যৌথ প্ল্যাটফর্ম রয়েছে।
    তিনি বলেন, সম্প্রতি ১১ এপ্রিল ২০২৩-এ অনুষ্ঠিত ৫ম পিপিইডি বৈঠকের ফলাফলকে বাংলাদেশ স্বাগত জানায়।

    তিনি বলেন, ‘যেহেতু, বাংলাদেশ ২০২৬ সালের মধ্যে এলডিসি থেকে স্নাতক হতে চলেছে, আমরা দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য ও বিনিয়োগ সম্প্রসারণের জন্য একটি অর্থনৈতিক অংশীদারিত্ব চুক্তি সম্ভব করার জন্য জাপানের সাথে কাজ করছি।’

    বাংলাদেশি ও জাপানি কোম্পানিগুলোর মধ্যে সহযোগিতা দেখে প্রধানমন্ত্রী সন্তোষ প্রকাশ করেন।
    তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশে বিনিয়োগের জন্য যেসব কোম্পানি আজ প্রতিশ্রুতি দিয়েছে, আমি তাদের সফল অংশীদারিত্ব কামনা করছি। আমরা জাপানি বিনিয়োগকারীদের কাছ থেকে বিশেষকরে আড়াইহাজারে জাপানি অর্থনৈতিক অঞ্চলে আরও বিনিয়োগ আশা করি।’

    জাপানে বসবাসরত অনাবাসী বাংলাদেশি এবং বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত মানুষের সংখ্যা ধীরে ধীরে বাড়ছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, তারা তাদের রেমিটেন্সের মাধ্যমে বাংলাদেশের অর্থনৈতিক কর্মকান্ডে উল্লেখযোগ্য অবদান রাখছে।

    ‘আমি তাদের আরো উদ্যোক্তা বিকাশ, ব্যবসায়িক উদ্যোগে এবং তাদের জাপানি বন্ধুদের সাথে যৌথ উদ্যোগে জড়িত হওয়ার জন্যও আহ্বান জানাচ্ছি,’ তিনি বলেন।

    প্রধানমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশ একটি সমৃদ্ধ ভবিষ্যতের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে।

    তিনি বলেন, ‘আমরা চাই আপনারা সবাই আমাদের উন্নয়ন ও অর্জনের অংশীদার হোন। বাংলাদেশে বিনিয়োগ করুন। আমরা নিশ্চিত যে, আপনার বিনিয়োগ আপনাকে ব্যাপক সাফল্য এনে দেবে।’
    শেখ হাসিনা বলেন, আমরা জাপানের কাছ থেকে আরও বিনিয়োগ চাই।

    তিনি বলেন, আওয়ামী লীগ সরকারের রূপকল্প-২০২১ ও রূপকল্প-২০৪১ অনুযায়ী তাঁর সরকারের ধারাবাহিকতায় তারা আমার জনগণের আর্থ-সামাজিক অবস্থার উন্নয়ন করে চলেছে।

    তিনি বলেন, ‘একটি দেশ হিসেবে বাংলাদেশকে এখন ‘উন্নয়নের রোল মডেল’ হিসেবে উল্লেখ করা হচ্ছে এবং দারিদ্র্য বিমোচন, নারীর ক্ষমতায়ন, ডিজিটালাইজেশন, খাদ্য উৎপাদন এবং জলবায়ু পরিবর্তনের চ্যালেঞ্জ মোকাবেলা থেকে শুরু করে অনেক ক্ষেত্রে উদাহরণ স্থাপন করেছে।

    প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, বাংলাদেশের সহনশীল জনগণ এখন আশা ও আশাবাদ নিয়ে ২০২৬ সালের মধ্যে এলডিসি বিভাগ থেকে একটি উন্নয়নশীল দেশে পরিণত হওয়ার জন্য অপেক্ষা করছে।’

    তিনি বলেন, ‘আমরা ২০৪১ সালের মধ্যে একটি আধুনিক, উন্নত এবং জ্ঞানভিত্তিক ‘স্মার্ট বাংলাদেশ’ এর দিকে আমাদের যাত্রায় দৃঢ় প্রতিজ্ঞ।’

    গত বছর বাংলাদেশ জাপানের সঙ্গে কূটনৈতিক সম্পর্কের ৫০ বছর পূর্তি উদযাপন করেছে ।
    তিনি বলেন, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ছিলেন দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে ধংসযঞ্জে পরিণত হওয়া থেকে বিস্ময়করভাবে উন্নয়নের মডেলে পরিণত হওয়া জাপানের একজন একনিষ্ঠ ভক্ত।

    শেখ হাসিনা বলেন, ‘আমাদেরও একই রকম গল্প আছে। আমাদের জাতির পিতা ১৯৭১ সালে যুদ্ধ-বিধ্বস্ত দেশ গড়ার কাজ শুরু করেছিলেন। দুর্ভাগ্যবশত, তিনি তাঁর স্বপ্ন বাস্তবায়ন করতে পারেননি কারণ, তিনি এবং তাঁর পরিবারের প্রায় অধিকাংশ সদস্যকে ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্টে নির্মমভাবে হত্যা করা হয়েছিল। আমি ও আমার ছোট বোন শেখ রেহানা বিদেশে অবস্থান করায় প্রাণে বেঁচে যাই।

    প্রধানমন্ত্রী বলেন, ১৯৯৬ সালে ক্ষমতায় আসার পর থেকে আমি আমার পিতা ও জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের একটি আধুনিক ও উন্নত দেশ গড়ার স্বপ্ন বাস্তবায়নে নিরলস কাজ করে যাচ্ছি।

    আলোচনার শুরুতেই তিনি গভীর শ্রদ্ধার সঙ্গে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে স্মরণ করেন, যিনি নেতৃত্ব দিয়েছিলেন এবং ১৯৭১ সালে আমাদের একটি নিজস্ব মাতৃভূমি বাংলাদেশ উপহার দিয়েছিলেন।

    তিনি বলেন, ‘১৯৭২ সালের ১০ ফেব্রুয়ারি দ্রুতই জাপান আমাদের নতুন দেশকে স্বীকৃতি দেয়। তারপরে, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ১৯৭৩ সালের অক্টোবরে জাপান সফর করেন এবং দুই দেশের দীর্ঘস্থায়ী বন্ধুত্বের ভিত্তি স্থাপন করেন।’

    পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এ কে আবদুল মোমেন, প্রধানমন্ত্রীর বেসরকারি শিল্প ও বিনিয়োগ বিষয়ক উপদেষ্টা সালমান ফজলুর রহমান, পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শাহরিয়ার আলম, তথ্য যোগাযোগ ও প্রযুক্তি প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলক এবং বিডা’র নির্বাহী চেয়ারম্যান (সিনিয়র সচিব) লোকমান হোসেন মিয়া প্রমুখ এ সময় উপস্থিত ছিলেন।

    জাপানের অর্থনীতি, বাণিজ্য ও শিল্পমন্ত্রী নিশিমুরা ইয়াসুতোশি, জাপান এক্সটার্নাল ট্রেড অর্গানাইজেশনের (জেইটিআরও) চেয়ারম্যান ইশিগুরো নোরিহিকো, জাপান চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি (জেসিসিআই) কেন কোবায়াশিসহ জাপান ও বাংলাদেশের সিইও এবং শীর্ষ ব্যবসায়ী নেতারা উপস্থিত ছিলেন।

  • সাড়ে ১৩ হাজার কোটি টাকা ঈদে রেমিট্যান্স এসেছে

    সাড়ে ১৩ হাজার কোটি টাকা ঈদে রেমিট্যান্স এসেছে

    পবিত্র ঈদ-উল-ফিতরে প্রবাসী বাংলাদেশিরা বৈধ বা ব্যাংকিং চ্যানেলে ৯৫ কোটি ৮৭ লাখ মার্কিন ডলার সমপরিমাণ অর্থ রেমিট্যান্স হিসেবে দেশে পাঠিয়েছেন। দেশীয় মুদ্রায় (প্র‌তি ডলার ১০৭ টাকা ধ‌রে) যার পরিমাণ দাঁড়ায় ১৩ হাজার ৬০০ কোটি টাকা।

    কেন্দ্রীয় ব্যাংকের তথ্য পর্যালোচনা করে দেখা গেছে, চলতি এপ্রিলের প্রথম ২১ দিনে রেমিট্যান্স এসেছে ১২৭১ দশমিক ৭১ মিলিয়ন মার্কিন ডলার (১২৭ কোটি ১৭ লাখ ডলার)। তার মধ্যে রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকগুলোর মাধ্যমে ১৭ কোটি ৩৭ লাখ ডলার, বিশেষায়িত একটি ব্যাংকের মাধ্যমে ৩ কোটি ৬৩ লাখ ৪০ হাজার মার্কিন ডলার, বেসরকারি ব্যাংকগুলোর মাধ্যমে এসেছে ১০৫ কোটি ৭৩ লাখ ডলার এবং বিদেশি ব্যাংকগুলোর মাধ্যমে এসেছে ৪২ লাখ ৯০ হাজার মার্কিন ডলার রেমিট্যান্স।

    এতে দেখা গেছে, চলতি এপ্রিলের প্রথম ২১ দিনে ১২৭১ দশমিক ৭১ মিলিয়ন মার্কিন ডলার (১২৭ কোটি ১৭ লাখ ডলার) রেমিট্যান্স এসেছে। তার মধ্যে রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকগুলোর মাধ্যমে ১৭ কোটি ৩৭ লাখ ডলার, বিশেষায়িত একটি ব্যাংকের মাধ্যমে ৩ কোটি ৬৩ লাখ ৪০ হাজার মার্কিন ডলার, বেসরকারি ব্যাংকগুলোর মাধ্যমে এসেছে ১০৫ কোটি ৭৩ লাখ ডলার এবং বিদেশি ব্যাংকগুলোর মাধ্যমে এসেছে ৪২ লাখ ৯০ হাজার মার্কিন ডলার রেমিট্যান্স।

    এর আগে চলতি এপ্রিলের প্রথম ৭ দিনে ৪৭ কোটি ৬৮ লাখ মার্কিন ডলার রেমিট্যান্স পাঠিয়েছেন প্রবাসীরা। পরে ৮ থেকে ১৪ এপ্রিল পাঠিয়েছে ৪৮ কোটি ১৮ লাখ মার্কিন ডলার। আর ১৫ থেকে ২১ এপ্রিল পাঠান ৩১ কোটি ৩০ লাখ মার্কিন ডলার।

    তথ্য বিশ্লেষণে দেখা যায়, প্রবাসীরা রোজার শুরু ও মাঝামাঝিতে বেশি রেমিট্যান্স পাঠিয়েছেন। শেষ দিকে তা কমে গেছে। যার কারণে চলতি মাসের প্রথমদিকে রেমিট্যান্স প্রবাহ বেশি থাকলেও শেষ দিকে কম ছিল।

    কেন্দ্রীয় ব্যাংকের তথ্যমতে, গেল মার্চ মাসে বৈধপথে ২০১ কোটি ৭৭ লাখ ডলার রেমিট্যান্স এসেছে। দেশীয় মুদ্রায় (প্র‌তি ডলার ১০৭ টাকা ধ‌রে) যার পরিমাণ ২১ হাজার ৫৮৯ কোটি টাকা। যা আগের মাসের চেয়ে ৪৫ কোটি ৭২ লাখ ডলার বেশি। গত ফেব্রুয়ারিতে রেমিট্যান্স এসেছিল ১৫৬ কোটি ১২ লাখ ডলার।

    এ ছাড়া আগের বছরের (২০২২ সালের) মার্চ মাসের তুলনায় রেমিট্যান্স বেড়েছে ৮ দশ‌মিক ৪৯ শতাংশ বা ১৫ কো‌টি ৮০ লাখ ডলার। গত বছর মার্চে প্রবাসী আয় ছিল ১৮৫ কোটি ৯৭ লাখ ডলার।

    ২০২২-২৩ অর্থবছরের প্রথম (জুলাই থেকে মার্চ পর্যন্ত) ৯ মাসে মোট রেমিট্যান্স এসেছে ১ হাজার ৬৩০ কোটি মার্কিন ডলার। আগের অর্থবছরে একই সময়ে রেমিট্যান্স এসেছিল এক হাজার ৫২৯ কোটি ডলার। আলোচ্য সময়ে ৭৪ কোটি মার্কিন ডলার রেমিট্যান্স বেশি এসেছে।

    ২০২১-২০২২ অর্থবছরে মোট রেমিট্যান্স এসেছিল ২ হাজার ১০৩ কোটি ১৭ লাখ মার্কিন ডলার। এর আগে ২০২০-২১ অর্থবছরে রেমিট্যান্স আহরণের পরিমাণ ছিল ২ হাজার ৪৭৭ কোটি ৭৭ লাখ মার্কিন ডলার।

  • বরগুনায় ২৮০০ কোটি টাকার তরমুজ বিক্রি হয়েছে

    বরগুনায় ২৮০০ কোটি টাকার তরমুজ বিক্রি হয়েছে

    চলতি মৌসুমে জেলায় উৎপাদিত তরমুজ ২ হাজার ৮০০ কোটি টাকার বিক্রি হয়েছে। বরগুনা জেলা কৃষি অফিস জানায়, জেলায় এ বছর তরমুজ উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছিল ১১ হাজার ৫১২ হেক্টর। জেলার ৬ উপজেলায় লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়ে তরমুজ চাষ হয়েছে ১৫ হাজার ৮৩৮ হেক্টর জমিতে।

    গত বছরের থেকে চলতি বছর জেলায় ৪ হাজার ৩২৬ হেক্টর বেশি জমিতে তরমুজ চাষ হয়েছে।
    জেলায় এ বছর মোট তরমুজ উৎপাদন হয়েছে ৬ লাখ ৯২ হাজার ৩২৫ টন। গত সপ্তাহ পর্যন্ত যা বিক্রি হয়েছে ২ হাজার ৮০০ কোটি টাকায়।

    তরমুজ চাষিরা জানান, বৃষ্টির কারণে তেমন ক্ষতির মুখে পড়েননি। তারা পূর্বেও অভিজ্ঞতা দিয়ে বৃষ্টির পানি নিষ্কাশন কওে তরমুজ ক্ষেত স্বাভাবিক রেখেছেন। এ বছর রৌদ্রের তাপ বেশি থাকায় তরমুজের দাম বেশি ছিল। তাই চাষিরা তরমুজের দাম ভালো পেয়েছেন।

    কৃষিবিদ সিএম রেজাউল করিম জানিয়েছেন, বৃষ্টির কারণে তরমুজ চাষির ক্ষতি কাটাতে আমরা বিভিন্ন দিকনির্দেশনা দিয়েছি। সে কারণে তরমুজ চাষিদের তেমন ক্ষতি হয়নি। পাশাপাশি রোজা ও তাপমাত্রা স্বাভাবিকের থেকে বেশি থাকায় চাষিরা ভালো দাম পেয়েছেন।

    বরগুনা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক আবু সৈয়দ মোহাম্মদ জোবাইদুল আলম জানান, জেলায় এ বছর লক্ষ্যমাত্রা থেকে বেশি তরমুজ চাষ হয়েছে। তিনি জানান- জেলায় উৎপাদিত তরমুজের ৯৫ শতাংশ থেকেই ২ হাজার ৮০০ কোটি টাকার তরমুজ বিক্রি হয়েছে। বরগুনার তরমুজ সুস্বাদু হওয়ার কারণে চাহিদা বেশি থাকে। তাই চাষিরা বেশি দামে বিক্রি করতে পেরেছে।

    সূত্র : বাসস