Category: অর্থনীতি

  • বঙ্গবাজারের পোড়া টাকা বদলে দিতে বাংলাদেশ ব্যাংক যা বলছে

    বঙ্গবাজারের পোড়া টাকা বদলে দিতে বাংলাদেশ ব্যাংক যা বলছে

    অর্ধেকের কম পুড়লে সেই টাকার অবশিষ্টাংশের আনুপাতিক হারে টাকা ফেরত দেবে। এক্ষেত্রে নোট পবির্তন সম্পর্কিত নীতি অনুসরণ করছে বাংলাদেশ ব্যাংক।  টাকার অর্ধেক পুড়ে গেলে সেই টাকা পুরোপুরি বাতিল। ওই টাকা পরিবর্তন করে নতুন টাকা দেবে না বাংলাদেশ ব্যাংক।

    রাজধানীর বঙ্গবাজারে অগ্নিকাণ্ডে অনেক ব্যবসায়ীর নগদ টাকা পুড়ে গেছে। একজন ব্যবসায়ী টাকা পরিবর্তনের জন্য আইন মেনে আবেদনও করেছেন।

    বিষয়টি নিয়ে বাংলাদেশ ব্যাংকের সহকারী মুখপাত্র মো. সরোয়ার হোসেন বাংলানিউজকে বলেন, এ সম্পর্কিত বাংলাদেশ ব্যাংকের গাইডলাইন আছে, সেটাই অনুসরণ করা হবে। ক্ষতিগ্রস্ত টাকার মালিক পোড়া টাকাসহ আবেদন করলে বাংলাদেশ ব্যাংক গাইডলাইন অনুসরণ করে টাকা পরিবর্তন করে দেওয়ার ব্যবস্থা করবে।

    ’বাংলাদেশ ব্যাংক নোট রিফান্ড রিকুইজিশন-২০১২’ গাইডলাইনে ছেঁড়া ও পোড়া টাকার বদল সম্পর্কিত নির্দেশনা আছে। নির্দেশনার ১১ ধারাতে বলা হয়েছে, কোনো টাকার কমপক্ষে ৫১ শতাংশ অবশিষ্ট থাকলে তার মালিক আনুপাতিক হারে ক্ষতিপূরণ পেতে পারেন। এ জন্য তাকে সংশ্লিষ্ট থানায় একটি জিডি ও ইউনিয়ন চেয়ারম্যানের প্রত্যয়নপত্রসহ বাংলাদেশ ব্যাংকের কারেন্সি বিভাগে আবেদন করতে হবে।

    পোড়া টাকার ৫১ থেকে ৭৫ শতাংশ অবশিষ্ট থাকলে মালিক পুড়ে যাওয়ার টাকার ৫০ শতাংশ পাবেন। আর ৭৬ থেকে ৯০ শতাংশ অবশিষ্ট থাকলে পাবেন ৭৫ শতাংশ। টাকার ৫০ শতাংশ পুড়লেই মালিক টাকা পরিবর্তন করতে পারবেন না; পুরো টাকা বাতিল বলে গণ্য হবে।

    পুড়ে যাওয়া টাকা রিফান্ড বা ফেরত দেওয়ার ক্ষেত্রে টাকার মালিকের আবেদন বাংলাদেশ ব্যাংকের কারেন্সি বিভাগের প্রধানের নেতৃত্বে চার সদস্য কমিটি পর্যালোচনা করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবে।

    ছেঁড়া টাকার ক্ষেত্রেও একই পদ্ধতি অনুসরণ করা হয়। তবে ছেঁড়া টাকার ক্ষেত্রে উচ্চ পর্যায়ের কোনো তদন্ত কমিটি বা পর্যালোচনার প্রয়োজন হয় না। কোনো টাকার টাকার ৫১ শতাংশ বা বেশি অবশিষ্ট থাকলে বাংলাদেশ ব্যাংকের কারেন্সি বিভাগে জমা দিলে বিভাগ থেকেই আনুপাতিক হারে বদল করা হয়। ’বাংলাদেশ ব্যাংক নোট রিফান্ড রিকুইজিশন-২০১২’ গাইডলাইনের ৯ ধারায় বিষয়টি উল্লেখ করা হয়েছে।

    পোড়া টাকা রিফান্ড করার ক্ষেত্রে এই নীতিমালা ২০১২ সাল থেকে অনুসরণ করা হয়। পোড়া টাকা ফেরত দেওয়ার ক্ষেত্রে এর কোনো ব্যত্যয় হয়নি। বঙ্গবাজারের ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ীদের টাকা বদলে দেওয়ার ক্ষেত্রে একই পদ্ধতি অনুসরণ করা হবে। তবে অর্ধেক বা অর্ধেকের বেশি ক্ষতিগ্রস্ত টাকার মালিক তথ্য-প্রমাণসহ বাংলাদেশ ব্যাংকের গর্ভনর বরারবর আবেদন করলে টাকা পরিবর্তনের ক্ষেত্রে বিষয়টি বিশেষ বিবেচনায় আসতে পারে বলে জানিয়েছে অন্য একটি সূত্র। তবে এটা প্রায় অসম্ভব।

    বঙ্গবাজারে অগ্নিকাণ্ডে প্রায় পাঁচ হাজার দোকান মালামাল ও নগদ টাকাসহ পুড়ে গেছে। আগের দিন দোকানে বিক্রি করে ক্যাশ বাক্সে টাকা রেখে যান কোনো কোনো দোকান মালিত। পরের দিন দোকানে আসার আগেই আগুনের লেলিহান শিখায় সব পুড়ে শেষ হয়ে যায়। দেখা গেছে, একজন ক্যাশবাক্স থেকে পোড়া টাকার বান্ডিল নিয়ে অঝোরে কাঁদছেন।

    খোঁজ নিয়ে জানা যায়, একজন পোড়া টাকা পরিবর্তন করার জন্য টাকার অংশসহ প্রয়োজনীয় ফর্মালিটি মেনে বাংলাদেশ ব্যাংকের কারেন্সি বিভাগে আবেদন করেছেন। কারেন্সি বিভাগ আবেদনটি গ্রহণ করে পরবর্তি শুনানির জন্য বৈঠকের দিন ধার্য করেছে। বৈঠকে ’বাংলাদেশ ব্যাংক নোট রিফান্ড রিকুইজিশন-২০১২’ নীতিমালা অনুসরণ করা হবে। অন্য কেউ আবেদন করলে তার ক্ষেত্রেও একই নীতি অনুসরণ করবে বাংলাদেশ ব্যাংক। পোড়া টাকার অবশিষ্ট ৫১ শতাংশ বা তার বেশি হলে আনুপাতিক হারে টাকা ফেরত পাবেন।

  • দাম কমলো চিনির

    দাম কমলো চিনির

    বাজারে নিত্যপণ্যের ঊর্ধ্বগতির মধ্যে স্বস্তির খবর দিলো বাণিজ্য মন্ত্রণালয়। খোলা ও প্যাকেটজাত চিনির দাম খুচরা পর্যায়ে কেজিতে ৩ টাকা কমানোর ঘোষণা দিয়েছে মন্ত্রণালয়। শনিবার (৮ এপ্রিল) থেকে কার্যকর হবে নতুন দাম।

    বৃহস্পতিবার (৬ এপ্রিল) বাংলাদেশ ট্রেড অ্যান্ড ট্যারিফ কমিশন নতুন এই মূল্য তালিকা ঘোষণা করেছে। বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের যুগ্ম নিয়ন্ত্রক মোছা. শামীমা আকতার স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে এই তথ্য জানানো হয়েছে।

    বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, খুচরা পর্যায়ে কেজিতে ৩ টাকা কমেছে খোলা ও প্যাকেটজাত চিনি। প্রতি কেজি পরিশোধিত খোলা চিনি বিক্রি হবে ১০৪ টাকায়; আর পরিশোধিত প্যাকেটজাত চিনি বিক্রি হবে প্রতি কেজি ১০৯ টাকায়।

    মন্ত্রণালয় আরও জানায়, চলতি বছরের ১৯ মার্চ অনুষ্ঠিত ‘দ্রব্যমূল্য ও বাজার পরিস্থিতি পর্যালোচনা’ সংক্রান্ত টাস্কফোর্সের ৬ষ্ঠ সভার সিদ্ধান্তের ভিত্তিতে বাংলাদেশ সুগার রিফাইনার্স অ্যাসোসিয়েশনের (বিএসআরএ) আবেদনের পর্যালোচনায় বাংলাদেশ ট্রেড অ্যান্ড ট্যারিফ কমিশনের (বিটিসি) সুপারিশ অনুযায়ী পরিশোধিত চিনির সর্বোচ্চ খুচরা দাম নির্ধারণ করা হয়েছে।

    এর আগে, সবশেষ চলতি বছরের ৩০ জানুয়ারি চিনির দাম বাড়ানোর ঘোষণা দেয় বাণিজ্য মন্ত্রণালয়। যা কার্যকর হয় ১ ফেব্রুয়ারি থেকে। সেবার প্যাকেটজাত চিনির দাম ৫ টাকা বাড়িয়ে করা হয়েছিল ১১২ টাকা। আর প্রতি কেজি খোলা চিনির দাম বাড়িয়ে করা হয় ১০৭ টাকা।

     

  • ঈদ উপলক্ষে নতুন টাকা ছাড়া হবে আগামী ৯ এপ্রিল

    ঈদ উপলক্ষে নতুন টাকা ছাড়া হবে আগামী ৯ এপ্রিল

    প্র‌বিত্র ঈদ-উল-‌ফিতরের আনন্দকে আরও কয়েক গুণ বাড়িয়ে দিতে প্রতিবছরের মতো এবারও নতুন নোট বিনিময় শুরু করছে বাংলাদেশ ব্যাংক। আগামী ৯ এপ্রিল থেকে নতুন নোট সংগ্রহ করতে পারবেন গ্রাহকরা। আগামী ১৭ এপ্রিল পর্যন্ত (সাপ্তাহিক ও সরকারি ছুটির দিন ব্যতীত) নতুন নোট বি‌নিময় করতে পারবেন সাধারণ মানুষ।

    বাংলাদেশ ব্যাংকের ডিপার্টমেন্ট অব কমিউনিকেশন অ্যান্ড পাবলিকেশন্স থেকে দেওয়া সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

    এতে বলা হয়, সাপ্তাহিক ও সরকারি ছুটির দিন ছাড়া ঢাকা অঞ্চলের বিভিন্ন তপশিলি ব্যাংকের ৪০টি শাখা ও বাংলাদেশ ব্যাংকের বিভিন্ন অফিসের মাধ্যমে ৫, ১০, ২০ ও ৫০ টাকা মূল্যমানের নতুন নোট বিশেষ ব্যবস্থায় বিনিময় করা হবে। একই ব্যক্তি একাধিকবার নতুন নোট নিতে পারবেন না। তবে নোট উত্তোলনকালে কেউ ইচ্ছা করলে কাউন্টার থেকে মূল্যমান নির্বিশেষে যে কোনো পরিমাণ ধাতব মুদ্রা (কয়েন) গ্রহণ করতে পারবেন।

    যে ব্যাংকের যেসব শাখায় নতুন নোট পাওয়া যাবে

    এনসিসি ব্যাংক যাত্রাবাড়ী শাখা, ঢাকা। মিউচ্যুয়াল ট্রাস্ট ব্যাংক লিমিটেড, বাবু বাজার শাখা, ঢাকা। পূবালী ব্যাংক লিমিটেড, সদরঘাট শাখা, ঢাকা। জনতা ব্যাংক লিমিটেড, আব্দুল গণি রোড করপোরেট শাখা, ঢাকা। অগ্রণী ব্যাংক লিমিটেড, জাতীয় প্রেস ক্লাব করপোরেট শাখা, ঢাকা। রূপালী ব্যাংক লিমিটেড, স্থানীয় কার্যালয়, ঢাকা। এক্সিম ব্যাংক লিমিটেড, মতিঝিল শাখা, ঢাকা। সোনালী ব্যাংক লিমিটেড, রমনা করপোরেট শাখা, ঢাকা। ওয়ান ব্যাংক লিমিটেড, বাসাবো শাখা, ঢাকা। আল-আরাফাহ ইসলামী ব্যাংক লিমিটেড, নন্দীপাড়া শাখা, ঢাকা।

    এনসিসি ব্যাংক লিমিটেড, মালিবাগ শাখা, ঢাকা। অগ্রণী ব্যাংক লিমিটেড, রামপুরা টিভি শাখা, ঢাকা। এবি ব্যাংক লিমিটেড, প্রগতি সরণি শাখা, ঢাকা। প্রিমিয়ার ব্যাংক লিমিটেড, বসুন্ধরা শাখা, ঢাকা। প্রিমিয়ার ব্যাংক লিমিটেড, বনানী শাখা, ঢাকা। ব্যাংক এশিয়া লিমিটেড, বনানী-১১ শাখা, ঢাকা। আইএফআইসি ব্যাংক লিমিটেড, গুলশান শাখা, ঢাকা। ন্যাশনাল ব্যাংক লিমিটেড, মহাখালী শাখা, ঢাকা। সাউথইস্ট ব্যাংক লিমিটেড, কারওয়ানবাজার শাখা, ঢাকা। সোশ্যাল ইসলামী ব্যাংক লিমিটেড, বসুন্ধরা সিটি (পান্থপথ) শাখা, ঢাকা। প্রাইম ব্যাংক লিমিটেড, এলিফেন্ট রোড শাখা, ঢাকা। ডাচ-বাংলা ব্যাংক লিমিটেড, নিউমার্কেট শাখা, ঢাকা।

    ব্যাংক এশিয়া লিমিটেড, ধানমন্ডি শাখা, ঢাকা। সাউথইস্ট ব্যাংক লিমিটেড, মোহাম্মদপুর শাখা, ঢাকা। ব্র্যাক ব্যাংক লিমিটেড, শ্যামলী শাখা, ঢাকা। সোনালী ব্যাংক লিমিটেড, জাতীয় সংসদ ভবন শাখা, ঢাকা। ডাচ-বাংলা ব্যাংক লিমিটেড, মিরপুর শাখা, ঢাকা। এক্সিম ব্যাংক লিমিটেড, মিরপুর শাখা, ঢাকা। দ্য সিটি ব্যাংক লিমিটেড, বেগম রোকেয়া সরণি শাখা, ঢাকা। জনতা ব্যাংক লিমিটেড, রজনীগন্ধা, ঢাকা (সাবেক কচুক্ষেত করপোরেট শাখা)। ডাচ-বাংলা ব্যাংক লিমিটেড, এসএমই অ্যান্ড এগ্রিকালচার শাখা, দক্ষিণখান, ঢাকা।

    ইউনাইটেড কমার্শিয়াল ব্যাংক লিমিটেড, গাউসুল আযম অ্যাভিনিউ শাখা, ঢাকা। রূপালী ব্যাংক লিমিটেড, উত্তরা মডেল টাউন করপোরেট শাখা, ঢাকা। সোনালী ব্যাংক লিমিটেড, কোর্ট বিল্ডিং শাখা, গাজীপুর। মার্কেন্টাইল ব্যাংক লিমিটেড, নারায়ণগঞ্জ শাখা, নারায়ণগঞ্জ। এক্সিম ব্যাংক লিমিটেড, শিমরাইল শাখা, নারায়ণগঞ্জ। ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ লিমিটেড, কাচপুর শাখা, নারায়ণগঞ্জ। প্রিমিয়ার ব্যাংক লিমিটেড, নারায়ণগঞ্জ শাখা, নারায়ণগঞ্জ। মিউচ্যুয়াল ট্রাস্ট ব্যাংক লিমিটেড, সাভার শাখা, সাভার ও ট্রাস্ট ব্যাংক লিমিটেড, কেরানীগঞ্জ

  • বাংলাদেশসহ দক্ষিণ এশিয়ায় এলএনজির দাম কমায় স্পট মার্কেটে আগ্রহ

    বাংলাদেশসহ দক্ষিণ এশিয়ায় এলএনজির দাম কমায় স্পট মার্কেটে আগ্রহ

    তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাসের (এলএনজি) দাম দেড় বছরের মধ্যে সর্বনিম্নে পর্যায়ে নেমে যাওয়ায় স্পট মার্কেটে আগ্রহ দেখাচ্ছে দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলো। বাংলাদেশসহ দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোতে তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাসের (এলএনজি) দাম দেড় বছরের মধ্যে সর্বনিম্নে পর্যায়ে নেমে যাওয়ায় স্পট মার্কেটে আগ্রহ দেখা দিয়েছে।

    অয়েলপ্রাইসের ওয়েবসাইটে বলা হয়েছে, দক্ষিণ এশীয় দেশ বাংলাদেশ, ভারত, পাকিস্তান সাম্প্রতিক সপ্তাহে স্পট এলএনজি মার্কেটে আগ্রহ দেখিয়েছে। কারণ, বিশ্ববাজারে এলএনজির দাম ৭০ শতাংশের বেশি কমেছে। এর আগে, ২০২২ সালের আগস্টে এলএনজির দাম রেকর্ড উচ্চতায় পৌঁছে।

    রয়টার্সের গ্লোবাল এনার্জি ট্রানজিশন কলামিস্ট গ্যাভিন মাগুয়ারের মতে, এলএনজি ক্রয়ে দক্ষিণ এশিয়ার প্রত্যাবর্তন চলতি বছর এই অঞ্চলে কয়লার উচ্চ ব্যবহার ও আমদানি আংশিক কমাতে পারে।

    সূত্রের উদ্ধৃতি দিয়ে রয়টার্স বলেছে, গত সপ্তাহে এশিয়ার স্পট এলএনজির দাম আরও কমেছে। মার্চ ডেলিভারির জন্য প্রতি মিলিয়ন ব্রিটিশ থার্মাল ইউনিটে (এমএমবিটিইউ) ৮.১ শতাংশ কমে প্রায় ১৭ ডলার হয়েছে। যেখানে এপ্রিল ডেলিভারির জন্য এলএনজি প্রতি এমএমবিটিইউতে আরও কম ১৬.৫০ ডলার।

    দক্ষিণ এশিয়ায় আরও গ্যাসের চাহিদা ও চীনে চাহিদার প্রত্যাশিত গ্যাস পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে এলএনজি বাজার আরও চাঙা হতে পারে। কিন্তু, গ্রীষ্মে স্পট এলএনজি সরবরাহে ইউরোপের সঙ্গে প্রতিযোগিতা তীব্র হতে পারে। ফলে, এলএনজির দাম বাড়বে। যা আর্থিক সংকটে থাকা দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর সরকার হয়তো বহন করতে পারবে না।

    রিস্টাড এনার্জির জ্যেষ্ঠ এলএনজি বিশ্লেষক কৌশল রমেশ এ মাসের শুরুতে রয়টার্সকে বলেন, ২০২১ সালের আগস্টের পর সর্বনিম্ন পর্যায়ে দাম পতনের ফলে বাংলাদেশ, থাইল্যান্ড ও ভারতের মতো দক্ষিণ এশিয়ার এলএনজি গ্রাহকরা স্পট মার্কেটে ফিরে আসতে আগ্রহী হচ্ছে। আমরা সম্প্রতি থাইল্যান্ড ও বাংলাদেশের আগ্রহ দেখেছি।

    অয়েলপ্রাইস প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, স্পট এলএনজির দাম উল্লেখযোগ্যভাবে কমায় ভারত, বাংলাদেশ ও থাইল্যান্ড এ বছরের মাঝামাঝিতে এলএনজি কার্গো কিনতে আগ্রহী হয়েছে।

    ভারতের বৃহত্তম গ্যাস আমদানিকারক পেট্রোনেট গত মাসে বলেছিল, দাম কমে যাওয়ায় ভারতও এ বছর এলএনজি আমদানি বাড়ানোর আশা করছে।

    ইনস্টিটিউট ফর এনার্জি ইকোনমিকস অ্যান্ড ফাইন্যান্সিয়াল অ্যানালাইসিস (আইইইএফএ) এ সপ্তাহে এক প্রতিবেদনে বলেছে, ভারতে ২০২২ সালে এলএনজি আমদানি ১৫.২ শতাংশ হ্রাস পেয়েছে, তবে এলএনজির উচ্চ মূল্যের কারণে মোট ব্যয় ৪৪.৫ শতাংশ বেড়েছে। গত বছর বাংলাদেশের এলএনজি আমদানি ১৬ শতাংশ হ্রাস পেয়েছে এবং ২০২২ সালে পাকিস্তানের এলএনজি ব্যবহার ১৮.৯ শতাংশ হ্রাস পেয়েছে।

    আইইইএফএ বলছে, জীবাশ্ম জ্বালানির ওপর উচ্চ নির্ভরতা এবং আকাশছোঁয়া পণ্যের দামের কারণে পাকিস্তানের বৈদেশিক মুদ্রার মজুত দ্রুত হ্রাস পাচ্ছে।

  • বাংলাদেশ-ইন্দোনেশিয়ার মধ্যে অগ্রাধিকারমূলক বাণিজ্য চুক্তি হতে যাচ্ছে

    বাংলাদেশ-ইন্দোনেশিয়ার মধ্যে অগ্রাধিকারমূলক বাণিজ্য চুক্তি হতে যাচ্ছে

    বাংলাদেশ ও ইন্দোনেশিয়ার মধ্যকার অগ্রাধিকারমূলক বাণিজ্য চুক্তি সম্পাদিত  হওয়ার আশা প্রকাশ করেছেন বাণিজ্যমন্ত্রী টিপু মুনশি।

    রোববার (০২ এপ্রিল) মন্ত্রণালয়ে নিজ দফতরে ইন্দোনেশিয়ার রাষ্ট্রদূত হেরু হারতান্তো সুবোলোর সৌজন্য সাক্ষাতকালে তিনি এ আশাবাদ ব্যক্ত করেন। ইন্দোনেশিয়ার রাষ্টদূতও চুক্তি সম্পাদনের লক্ষ্যে অগ্রগতি সাধনের বিষয়ে একমত পোষণ করেন।

    বাণিজ্যমন্ত্রী জানান, ‘২০২১-২২ অর্থবছরে বাংলাদেশ ৭৮.৫৭ মিলিয়ন ইউএস ডলারের পণ্য ইন্দোনেশিয়ায় রপ্তানি করে।’ অন্যদিকে, দেশটি থেকে আমদানি ব্যয় ছিল তুলনামূলকভাবে অনেক বেশি। এই বিশাল বাণিজ্য ঘাটতিকে ভারসাম্য পর্যায়ে আনতে আরও বেশি বাংলাদেশি পণ্য ইন্দোনেশিয়ার বাজারে প্রবেশের সুযোগ সৃষ্টির বিষয়ে ব্যবস্থা গ্রহণে দেশটির প্রতি আহ্বান জানান মন্ত্রী।

    ইন্দোনেশিয়ায় বাংলাদেশি নাগরিকদের জন্য ভিসা সহজ করার বিষয়ে বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, ‘উভয়ের দেশের সম্পর্ক অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ, বন্ধুপ্রতীম এবং সৌহার্দ্যপূর্ণ। দুই দেশেরই পর্যটন খাতে ব্যাপক সম্ভাবনা রয়েছে। ভিসা প্রক্রিয়া সহজীকরণের মাধ্যমে উভয় দেশের ভ্রমনপিপাসু মানুষ ভ্রমণের সুযোগ পাবে এবং অর্থনীতিতে অবদান রাখবে।’

    দুই দেশের ব্যবসায়ী সম্প্রদায়ের দ্বারা সম্ভাবনাময় খাতে বাণিজ্য ও বিনিয়োগের সুযোগ আরও সম্প্রসারণ এবং ত্বরান্বিত করার উপর গুরুত্বারোপ করে টিপু মুনশি দুইদেশের ব্যবসায়ী সম্প্রদায়ের মধ্যে আরও ঘন ঘন যোগাযোগের পরামর্শ দেন যাতে করে তারা সম্ভাবনাময় খাত চিহ্নিত করা এবং বিনিয়োগের সুযোগ সৃষ্টি করা যেতে পারে।

    বিশেষ করে আরএমজি, ফার্মাসিউটিক্যালস, চামড়াজাত পণ্যসহ ছাড়াও অন্যান্য বাংলাদেশি পণ্যের প্রবেশের অনুমতি দিয়ে দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্যে ভারসাম্য বজায় রাখার আহবান জানান তিনি।

    এপ্রসঙ্গে মন্ত্রী বলেন, ২০২১-২২ অর্থবছরে বাংলাদেশ ৭৮.৫৭ মিলিয়ন ইউএস ডলারের পণ্য ইন্দোনেশিয়ায় রফতানি করে। অন্যদিকে দেশটি থেকে আমদানি করেছে প্রায় তিন হাজার ৮২ ইউএস ডলার সমমূল্যের পণ্য। এই বিশাল বাণিজ্য ঘাটতিকে ভারসাম্য পর্যায়ে আনতে আরও বেশি বাংলাদেশি পণ্য ইন্দোনেশিয়ার বাজারে প্রবেশের সুযোগ করার ব্যবস্থা গ্রহণে দেশটির প্রতি আহবান জানান।

    ইন্দোনেশিয়ায় বাংলাদেশি নাগরিকদের জন্য ভিসা সহজীকরণ প্রসঙ্গে মন্ত্রী বলেন, উভয়ের দেশের সম্পর্ক অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ, বন্ধুপ্রতীম এবং সৌহার্দ্যপূর্ণ। দুই দেশই পর্যটন খাতে ব্যাপক সম্ভাবনা রয়েছে। ভিসা প্রক্রিয়া সহজীকরণের মাধ্যমে উভয় দেশের ভ্রমণপিপাসু মানুষ ভ্রমণ করার সুযোগ পাবে এবং অর্থনীতিতে অবদান রাখবে।

    বাণিজ্যমন্ত্রী দুই দেশের ব্যবসায়ী গোষ্ঠীর মধ্য সম্পর্ক উন্নয়ন এবং বাণিজ্য প্রসারে এপেক্স চেম্বারের মধ্যে এমওইউ স্বাক্ষর আহ্বান জানালে ইন্দোনিশিয়ার রাষ্ট্রদূত সম্মত হন এবং সহযোগিতার ব্যাপারে প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।

    এসময় রাষ্ট্রদূত হেরু হারতান্তো সুবোলোর বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে বাংলাদেশে অভূতপূর্ব সাফল্য অর্জিত হয়েছে। স্বল্পোন্নত দেশে থেকে উন্নয়নশীল দেশে রুপান্তরিত হয়েছে।

    বাংলাদেশে বিনিয়োগের অপার সম্ভাবনার কথা উল্লেখ করে তিনি জানান, বাংলাদেশে পামওয়েল রিফাইনারি স্টেশন স্থাপনের বিষয়ে ইন্দোনেশিয়ার ব্যবসায়ীগণ ইচ্ছুক।

    এছাড়া, সাক্ষাৎকালে তারা ইন্দোনেশিয়া-বাংলাদেশের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক, অর্থনীতি-কূটনীতি, বাংলাদেশের চলমান উন্নয়ন কার্যক্রম, বাংলাদেশের ধর্মীয় সম্প্রীতি, কোভিড পরবর্তী এবং ইউক্রেন-রাশিয়া সংকটের মধ্যে বাংলাদেশের স্থিতিশীল অর্থনৈতিক অবস্থা, ব্যবসা-বাণিজ্যের প্রসার ইত্যাদি বিষয় নিয়ে আলোচনা করেন।

    এসময় বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাগণ উপস্থিত ছিলেন।

     

  • ডলারের দাম ১ টাকা বাড়ানো হলো রপ্তানি আয়ে

    ডলারের দাম ১ টাকা বাড়ানো হলো রপ্তানি আয়ে

    দেশে রপ্তানি আয় আনার প্রক্রিয়া ত্বরান্বিত করতে ব্যাংকগুলো এখন থেকে রপ্তানিকারকদের প্রতি ডলারে ১০৫ টাকা দেবে।  বৃহস্পতিবার এক বৈঠকে বাংলাদেশ ফরেন এক্সচেঞ্জ ডিলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাফেদা) এবং অ্যাসোসিয়েশন অভ ব্যাংকার্স, বাংলাদেশ (এবিবি) রপ্তানি আয়ে ডলারপ্রতি দাম এক টাকা বাড়িয়েছে। আগে এধরনের ডলার বিক্রি করে ১০৪ টাকা পাওয়া যেত। ডলারের নতুন এ দাম ১ এপ্রিল থেকে কার্যকর হবে। সংশ্লিষ্ট সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।

    ব্যাংকের শীর্ষ নির্বাহীদের সংগঠন অ্যাসোসিয়েশন অব ব্যাংকার্স বাংলাদেশ (এবিবি) ও বাংলাদেশ ফরেন এক্সচেঞ্জ ডিলারস অ্যাসোসিয়েশনের (বাফেদা) যৌথ সভায় এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

    বৈঠক প্রসঙ্গে সোনালী ব্যাংকের এমডি মো. আফজাল করিম বলেন, আজকের যৌথ সভায় রপ্তানি আয়ে ডলারের দাম এক টাকা বাড়িয়ে পুনর্র্নিধারণ করা হয়েছে। এখন থেকে রপ্তানি আয়ের বিপরীতে প্রতি ডলারে ১০৫ টাকা দেওয়া হবে। আর রেমিট্যান্সে আগের মত ১০৭ টাকা পাবেন।
    কিছু ব্যাংক আগ্রাসী হয়ে বেশি দামে ডলার কিনছে।

    এ বিষয়ে জানতে চাইলে বাফেদা চেয়ারম্যান জানান, এবিবি ও বাফেদা যৌথভাবে সবাই একমত হয়ে ডলারের রেট পুনর্র্নিধারণ করেছি। আজকেও বিষয়টি নিয়ে আলোচনা হয়েছে; সবাই জানিয়েছেন এই নির্ধারিত রেটেই ডলার কিনবেন। তারপরও যদি কেউ রেট বেশি দামে ডলার নেয় তাহলে আমাদের কিছু করার নেই। এটা দেখার দায়িত্ব নিয়ন্ত্রণ সংস্থা কেন্দ্রীয় ব্যাংকের। সুনির্দিষ্ট প্রমাণ পেলে তারা সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেবে।

    মূলত রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ শুরুর পর থেকে দেশে ডলার-সংকট শুরু হয়। সংকট মোকাবিলায় শুরুতে ডলারের দাম বেঁধে দেয় বাংলাদেশ ব্যাংক। কিন্তু তাতে ডলারের বাজারে অস্থিরতা সৃষ্টি হয়। পরবর্তীতে গত বছর সেপ্টেম্বরে ডলারের দাম নির্ধারণে এবিবি ও বাফেদার ওপর দায়িত্ব দেয় বাংলাদেশ ব্যাংক। এরপর যৌথভাবে ডলারের সর্বোচ্চ দাম নির্ধারণ করে দুই সংগঠন।

     

  • সিএনএন বাংলাদেশের উন্নয়ন নিয়ে সপ্তাহব্যাপী অনুষ্ঠান প্রচার করছে

    সিএনএন বাংলাদেশের উন্নয়ন নিয়ে সপ্তাহব্যাপী অনুষ্ঠান প্রচার করছে

    সিএনএন বাংলাদেশের উন্নয়ন বিষয়ে সপ্তাহব্যাপী বিশেষ অনুষ্ঠান প্রচার করছে । ‘গ্রোয়িং বাংলাদেশ’ নামের আয়োজনটি অর্থনৈতিক ও পরিবেশগতভাবে টেকসই উন্নয়নের পথে বাংলাদেশের এগিয়ে যাওয়ার নানা প্রসঙ্গ তুলে ধরা হচ্ছে। বুধবার দেশের ব্যবসায়ীদের শীর্ষ সংগঠন দ্য ফেডারেশন অব বাংলাদেশ চেম্বার্স অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির (এফবিসিসিআই) সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে। আয়োজনটি শুরু হয়েছে ২৭ মার্চ থেকে। চলবে টানা ৩১ মার্চ পর্যন্ত। এ ছাড়াও আগামী ১ এপ্রিল থাকছে ৩০ মিনিটের আরেকটি অনুষ্ঠান।

    এসব আয়োজনে সম্প্রতি এফবিসিসিআইর আয়োজনে ঢাকায় অনুষ্ঠিত হয় আন্তর্জাতিক সম্মেলন বাংলাদেশ বিজনেস সামিট। এতে বাংলাদেশের অর্থনীতির শক্তি ও সামর্থ্য বিদেশি বিনিয়োগকারী, ব্যবসায়ী ও নীতিনির্ধারকদের সামনে তুলে ধরা হয়। এ আয়োজনে আন্তর্জাতিক সম্প্রচার সহযোগী ছিল সিএনএন। এরই অংশ হিসেবে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সাক্ষাৎকার নেন সিএনএনের বিজনেস এডিটর-অ্যাট-লার্জ এবং খ্যাতনামা উপস্থাপক রিচার্ড কোয়েস্ট।

    পাশাপাশি বিভিন্ন উদ্ভাবনী কাজ দিয়ে বাংলাদেশের টেকসই অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির পথে অবদান রাখা বেশ কয়েকটি প্রতিষ্ঠানের উদ্যোক্তা এবং পেশাজীবীর সঙ্গেও কথা বলেছে সিএনএন। এসব সাক্ষাৎকারের ভিত্তিতেই এখন সপ্তাহব্যাপী বিশেষ অনুষ্ঠান প্রচার করছে আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমটি।

    গতকাল এফবিসিসিআইর সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, সিএনএনের অনুষ্ঠানে বেশকিছু বাংলাদেশি প্রতিষ্ঠানের উদ্ভাবনী কাজ সম্পর্কে তুলে ধরা হচ্ছে। এ বিষয়ে সিএনএন যাঁদের সঙ্গে কথা বলেছে, তাঁদের মধ্যে রয়েছেন– বন্যাসহিষ্ণু ঘর তৈরিতে অবদান রাখা স্থপতি মেরিনা তাবাসসুম, কৃষকদের আয় ও উৎপাদন বাড়াতে অবদান রাখা প্রতিষ্ঠান আই ফার্মারের অন্যতম প্রতিষ্ঠাতা ফাহাদ ইফাজ, বৈদ্যুতিক গাড়ি নিয়ে কাজ করা স্টার্টআপ প্রতিষ্ঠান এসওএলশেয়ারের হেড অব প্রজেক্টস সালমা ইসলাম, চামড়াজাত পণ্য প্রস্তুতকারক প্রতিষ্ঠান লেদারিনার প্রতিষ্ঠাতা তাসলিমা মিজি, ডিজাইনার রুকাইয়া আহমেদ পূর্ণা প্রমুখ।

  • ১০ বছর জেল, পুঁজিবাজারে কারসাজি করলেই সম্পদ বাজেয়াপ্ত

    ১০ বছর জেল, পুঁজিবাজারে কারসাজি করলেই সম্পদ বাজেয়াপ্ত

    শেয়ারবাজারে সব সময়ই সক্রিয় থাকে কারসাজি চক্র। সাধারণ বিনিয়োগকারীদের ঠকিয়ে অর্থ হাতিয়ে নেয়ার নিত্যনতুন পদ্ধতি অবলম্বন করে তারা। এই কারসাজি চক্রের জন্য বড় দুঃসংবাদ আসছে।

    পুঁজিবাজারে কারসাজি করলে সম্পদ বাজেয়াপ্ত হবে। পাশাপাশি জড়িতদের ১০ বছর পর্যন্ত কারাদণ্ডের বিধান রেখে আইন করছে সরকার। প্রস্তাবিত ‘বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন আইন-২০২২’ এর খসড়া অর্থমন্ত্রণালয়ের ওয়েবসাইটে প্রকাশ করা হয়েছে।

    বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন আইন-২০২২ নামে প্রস্তাবিত আইনে এসব বিধান রয়েছে। এছাড়া মালিকপক্ষ বা দায়িত্বশীল ঊর্ধ্বতনদের শেয়ার ব্যবসা বা ইনসাইডার ট্রেডিং বন্ধে গোয়েন্দা কার্যক্রম চালানোর সুযোগ রাখা হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা এসব বিধানকে সময়োপযোগী বলছেন।

    পুঁজিবাজারে কারসাজি বা প্রতারণামূলক কর্মকাণ্ডে জড়িত ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের অর্জিত সম্পদ বাজেয়াপ্ত হবে। পাশাপাশি সর্বোচ্চ ১০ বছরের কারাদণ্ড বা সর্বনিম্ন ১০ লাখ টাকা জরিমানা বা উভয় দণ্ড দেওয়া যাবে।

    কোম্পানি আইন বিশেষজ্ঞ ব্যারিস্টার মোকছেদুল ইসলাম বলেন, “শেয়ার বাজার নিয়ে কারসাজি প্রায়ই শোনা যায়, তার বিপক্ষে যে এই ধরনের আইন তৈরি করা হচ্ছে সেটাকে সাধুবাদ দিতে হয়। তবে এটাকে কিভাবে কার্যকর করবে কি করবে না তার উপর নির্ভর করবে এটা কতটুকু যুগোপযোগী হলো।”

    পুঁজিবাজার বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক আবু আহমেদ বলেন, “আগের যে আইনটা করা হয়েছিল সেটা অনেককিছু কাভার করেনি। এখন যেটা হচ্ছে সেটা গ্লোবাল অনুযায়ী ঠিকই আছে।”

    খসড়ায় আরও রয়েছে, শেয়ারবাজার সংশ্লিষ্ট কোনো কোম্পানি বা প্রতিষ্ঠান দেউলিয়া হলেও তার জিম্মায় থাকা কোনো বিনিয়োগকারীর সম্পদকে পরিসম্পদ হিসেবে গণ্য করা বা অন্যের দায় মেটাতে তা ব্যবহার করা যাবে না।

    এছাড়া নতুন আইনের খসড়ায় বিনিয়োগকারীদের ক্ষতির দ্বিগুণ ক্ষতিপূরণ দেয়ার বিধান রাখা হয়েছে। তালিকাভুক্ত কোম্পানির সঙ্গে অ-তালিকাভুক্ত প্রতিষ্ঠান একীভূতকরণ বা পুনর্গঠনের ক্ষমতা পাচ্ছে বিএসইসি।

     

  • সাত মাসে সঞ্চয়পত্রের বিক্রি কমেছে ২১ শতাংশ

    সাত মাসে সঞ্চয়পত্রের বিক্রি কমেছে ২১ শতাংশ

    দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতিতে জীবনযাত্রার ব্যয় মেটাতে হিমশিম খাচ্ছে মানুষ। আর্থিক টানাপড়েনে অনেকে শেষ সঞ্চয়টুকুও ভেঙে খাচ্ছে। আর এতে সঞ্চয়পত্রে বিনিয়োগ কমছে। চলতি ২০২২-২৩ অর্থবছরের জুলাই থেকে জানুয়ারি পর্যন্ত সাত মাসে সঞ্চয়পত্র, বন্ড ও ডাকঘর সঞ্চয় ব্যাংকে বিনিয়োগ বা বিক্রি কমেছে ২১ শতাংশ। টাকার অঙ্কে যার পরিমাণ ১২ হাজার ৮৪১ কোটি ৪০ লাখ টাকা। বাংলাদেশ ব্যাংকের সর্বশেষ এক পরিসংখ্যানে এই তথ্য উঠে এসেছে।

    অর্থ বিভাগ বলেছে, সঞ্চয়পত্রের বিক্রিতে আগের মতো প্রবৃদ্ধি না হওয়ার কারণ তিনটি। প্রথমত, সঞ্চয়পত্র কেনার প্রক্রিয়া অনলাইনভিত্তিক করা হয়েছে। দ্বিতীয়ত, বিনিয়োগ সীমা নামিয়ে আনা হয়েছে যৌক্তিক পর্যায়ে। তৃতীয়ত, মুনাফার হারের কয়েকটি স্তর করা হয়েছে। এসব সংস্কার কার্যকর করায় সঞ্চয়পত্রে মানুষের বিনিয়োগ আগের তুলনায় কমেছে।

    সঞ্চয়পত্রের সুদ বাবদ সরকারকে বিপুল টাকা খরচ করতে হয়। সাধারণত জনগণের করের টাকা থেকে এই সুদের টাকা পরিশোধ করা হয়। এ জন্য গত বছর সরকার নিয়মও বেঁধে দেয় যে পাঁচ লাখ টাকার ওপর সঞ্চয়পত্র কিনতে গেলে আয়কর রিটার্ন বাধ্যতামূলক, যা নিরুৎসাহিত করে অনেককেই।

    সঞ্চয়পত্রের নিট বিক্রি বলতে বোঝানো হয়, একটি নির্দিষ্ট সময়ে সঞ্চয়পত্রের বিক্রি ও ভাঙানোর মধ্যকার ব্যবধান। সম্প্রতি দেখা যাচ্ছে, যে পরিমাণ টাকার সঞ্চয়পত্র বিক্রি হচ্ছে, ভাঙানো হচ্ছে তার চেয়ে বেশি। অর্থাত্ প্রবৃদ্ধি হচ্ছে নেতিবাচক। যদিও ব্যাংকে সঞ্চয়ের তুলনায় সরকারি সঞ্চয়পত্রে মুনাফার হার তুলনামূলকভাবে বেশি।

    সরকারের বিভিন্ন কড়াকড়ি আরোপের কারণে সঞ্চয়পত্র বিক্রি দিন দিন কমছেই। অর্থ বিভাগ বলেছে, সঞ্চয়পত্রের বিক্রিতে আগের মতো প্রবৃদ্ধি না হওয়ার কারণ তিনটি। প্রথমত, সঞ্চয়পত্র কেনার প্রক্রিয়া অনলাইনভিত্তিক করা হয়েছে। দ্বিতীয়ত, বিনিয়োগ সীমা নামিয়ে আনা হয়েছে ‘যৌক্তিক পর্যায়ে’। তৃতীয়ত, মুনাফার হারের কয়েকটি স্তর করা হয়েছে। এসব সংস্কার কার্যকর করায় সঞ্চয়পত্রে মানুষের বিনিয়োগ আগের তুলনায় কমেছে।

    জাতীয় সঞ্চয় অধিদপ্তরের পরিচালক মো. শাহ আলম বলেছেন, সঞ্চয়পত্র বিক্রির হার খুব বেশি কমেনি, কিন্তু সমস্যা হলো নগদায়নের হার বেড়ে গেছে। অর্থাৎ টাকা তুলে ফেলার একটা প্রবৃত্তি আছে মানুষের মধ্যে।

    সঞ্চয় অধিদপ্তর সর্বশেষ তথ্যে দেখা যায়, জানুয়ারি মাসে সঞ্চয়পত্রের নিট বিক্রি হয়েছে ৩৭ কোটি ৪৩ লাখ টাকা। আগের মাস, অর্থাৎ গত ডিসেম্বরে সঞ্চয়পত্রের নিট বিক্রি হয় এক হাজার ৪৯১ কোটি টাকা ঋণাত্মক ছিল। নভেম্বরে নিট বিক্রি ঋণাত্মক ছিল ৯৮৩ কোটি ৩২ লাখ টাকা। অক্টোবরে নিট বিক্রি ৯৬৩ কোটি ১৬ লাখ টাকা ঋণাত্মক হয়। সেপ্টেম্বরেও সঞ্চয়পত্রের নিট বিক্রি ৭০ কোটি ৬৩ হাজার টাকা ঋণাত্মক ছিল।

    এতে দেখা যাচ্ছে, চলতি অর্থবছরের সাত মাসের চার মাসই সরকার কোষাগার থেকে গ্রাহকদের সুদ-আসল পরিশোধ করেছে। বিক্রির চাপ কমাতে ২০১৯ সালের ১ জুলাই থেকে মুনাফার ওপর উৎস করের হার ৫ শতাংশ থেকে বাড়িয়ে ১০ শতাংশ করা হয়। একই সঙ্গে এক লাখ টাকার বেশি সঞ্চয়পত্র কিনতে টিআইএন (কর শনাক্তকরণ নম্বর) বাধ্যতামূলক করা হয়। ব্যাংক অ্যাকাউন্ট না থাকলে সঞ্চয়পত্র বিক্রি না করার শর্ত আরোপসহ আরো কিছু কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হয়। এর পরও বিক্রি বাড়তে থাকে।

    বাজেট ঘাটতি মেটাতে চলতি অর্থবছর সঞ্চয়পত্র থেকে ৩৫ হাজার কোটি টাকা ঋণ নেওয়ার লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়। এর বিপরীতে প্রথম সাত মাসে এই খাত থেকে কোনো ঋণ পাওয়া যায়নি উল্টো তিন হাজার ৬৯ কোটি ৪৩ লাখ টাকা কোষাগার থেকে অথবা ব্যাংক ব্যবস্থা থেকে ঋণ নিয়ে শোধ করা হয়েছে।

    সূত্র জানায়, গত ২০২১-২০২২ অর্থবছরে সব মিলিয়ে এক লাখ আট হাজার কোটি টাকার বিভিন্ন ধরনের সঞ্চয়পত্র বিক্রি হয়। এর মধ্যে গ্রাহকদের মূল টাকা (বিনিয়োগ) ও মুনাফা (সুদ) বাবদ পরিশোধ করা হয় ৮৮ হাজার ১৫৪ কোটি টাকা। অর্থবছর শেষে বিক্রি হওয়া সঞ্চয়পত্রের সুদ-আসল পরিশোধের পর এই খাতে সরকারের নিট বিক্রির পরিমাণ ছিল ১৯ হাজার ৯১৫ কোটি ৭৫ লাখ টাকা, যা আগের অর্থবছরের চেয়ে ৫২.৪৪ শতাংশ কম। ২০২০-২০২১ অর্থবছরে নিট বিক্রির পরিমাণ ছিল ৪১ হাজার ৯৫৯ কোটি টাকা। ২০২১-২২০২ অর্থবছরের বাজেটে সরকার সঞ্চয়পত্র থেকে ৩২ হাজার কোটি টাকা ঋণ নেওয়ার লক্ষ্য ধরেছিল। সে হিসাবে দেখা যায়, গত অর্থবছরে লক্ষ্যের চেয়ে এই খাত থেকে ৩৭.৫০ শতাংশ কম ঋণ নিয়েছে সরকার।

    বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) তথ্য বলছে, পয়েন্ট-টু-পয়েন্ট ভিত্তিতে (মাসভিত্তিক) চলতি বছরের সেপ্টেম্বর মাসে মূল্যস্ফীতির হার ছিল ৯.১০ শতাংশ। আগস্টে এই হার ছিল আরো বেশি ৯.৫২ শতাংশ।  অক্টোবরে ছিল ৮ দশমিক ৯১ শতাংশ, নভেম্বরে ৮ দশমিক ৮৫ শতাংশ; ডিসেম্বরে ৭ দশমিক ৭১ শতাংশ।

  • চিনির দাম কমেনি বাজারে

    চিনির দাম কমেনি বাজারে

    চিনি আমদানিতে শুল্কছাড় দিয়েছিল সরকার রোজা সামনে রেখে । কিন্তু রোজা আসার পর শুল্কছাড়ের কোনো প্রভাব দেখা যাচ্ছে না বাজারে। ২ শতাংশ বেড়েছে হিসাবে চিনির দাম শুল্ক কমানোর পরেও। সরকার গত ৭ মাসে চিনির দাম চারবার বেঁধে দিয়েও বাজারের লাগাম টানতে পারেনি। ব্যবসায়ীদের দাবির মুখে শেষমেশ শুল্ক কমায় জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। এত কিছুর পরও সরকারের বেঁধে দেওয়া দামে চিনি পাওয়া যাচ্ছে না। কয়েক দিন আগে বাণিজ্যমন্ত্রী টিপু মুনশী আশা প্রকাশ করেছেন যে রোজার মধ্যে চিনির দাম কেজিতে ৫ টাকা কমতে পারে। গতকাল শুক্রবার রোজা শুরু হয়ে গেছে। এখন অপেক্ষার পালা, চিনির দাম কবে কমবে?

    রাজধানীর মৌলভীবাজারে গত বৃহস্পতিবার ৫০ কেজি ওজনের প্রতি বস্তা খোলা চিনি পাইকারিতে ৫ হাজার ৪০০ টাকার কমবেশিতে বিক্রি হয়েছে। এতে প্রতি কেজি চিনির পাইকারি দাম পড়ে ১০৮ টাকা। অথচ সরকারিভাবে খোলা এই চিনির খুচরা দাম বেঁধে দেওয়া আছে ১০৭ টাকা। অর্থাৎ পাইকারি বাজারেই সরকারের বেঁধে দেওয়া দামের চেয়ে বেশি দামে চিনি বিক্রি হচ্ছে। সরকার প্যাকেটজাত চিনির খুচরা মূল্য নির্ধারণ করেছে প্রতি কেজি ১১২ টাকা। কিন্তু এই দাম তো পরের বিষয়, বাজারে প্যাকেটজাত চিনি মিলছেই খুব কম। অবশ্য এখন খোলা চিনির সংকট নেই। খুচরা বাজারে প্রতি কেজি খোলা ও প্যাকেটজাত চিনি বিক্রি হচ্ছে কমবেশি ১২০ টাকায়।

    এতটুকু নিশ্চয়তা দিতে পারি, মিল থেকে দাম বাড়তি রাখা হচ্ছে না। সরবরাহেও কোনো সমস্যা নেই। এর পরও বাড়তি দামে চিনি বিক্রি হলে পাইকারি ও খুচরা বাজারে সরকারের পক্ষ থেকে তদারকি বাড়াতে হবে।

    গোলাম রহমান, মহাসচিব, সুগার রিফাইনার্স অ্যাসোসিয়েশন রাজধানীর সেগুনবাগিচা বাজারের আল্লাহর দান স্টোরের স্বত্বাধিকারী মো. শিপন প্রথম আলোকে বলেন, ‘পাইকারি বাজারে চিনির দাম এখনো বেশি। এর সঙ্গে পরিবহন খরচ ও শ্রমিকের মজুরি আছে। তাতে চিনি সরকার নির্ধারিত দামের চেয়ে বেশিতেই দোকানে ওঠাতে হয়। তাই আমাদের খুচরা বিক্রিতে লাভ করতে গেলে প্রশ্নের মুখোমুখি হতে হচ্ছে।’

    সরকারি সংস্থা ট্রেডিং করপোরেশন অব বাংলাদেশের (টিসিবি) তথ্য অনুযায়ী, বাজারে সরকারের বেঁধে দেওয়া দামের চেয়ে বেশিতে বিক্রি হচ্ছে চিনি। অর্থাৎ সরকার দাম বেঁধে দেওয়ার পাশাপাশি শুল্ক কমালেও বাজারে চিনির দাম আরেক দফা বেড়েছে। শুল্ক কমানোর পরে চিনির দাম ২ শতাংশের বেশি বেড়েছে। টিসিবির হিসাবেই বাজারে এখন প্রতি কেজি চিনি বিক্রি হচ্ছে ১১৫ থেকে ১২০ টাকায়।

    রাজধানীর মৌলভীবাজারের পাইকারি বিক্রেতারা বলছেন, ‘শুল্ক কমানোর আগে আমরা যে দামে চিনি মিল ফটক থেকে পেতাম, এখনো সেই দামেই পাচ্ছি। শুল্ক কমানোর সিদ্ধান্ত আসার পর ১০ দিন অতিবাহিত হলেও চিনির দামে কোনো পরিবর্তন নেই।’

    তবে মিল ফটক থেকে সরকারের বেঁধে দেওয়া পাইকারি দামেই চিনি বিক্রি হচ্ছে উল্লেখ করে সুগার রিফাইনার্স অ্যাসোসিয়েশনের মহাসচিব গোলাম রহমান প্রথম আলোকে বলেন, ‘এতটুকু নিশ্চয়তা দিতে পারি, মিল থেকে দাম বাড়তি রাখা হচ্ছে না। সরবরাহেও কোনো সমস্যা নেই। এর পরও বাড়তি দামে চিনি বিক্রি হলে পাইকারি ও খুচরা বাজারে সরকারের পক্ষ থেকে তদারকি বাড়াতে হবে।’ অবশ্য শুল্ক কমার প্রভাব বাজারে পড়তে আরও কিছুটা সময় লাগবে বলে মন্তব্য করেন তিনি।

    শুল্ক কমার প্রভাব বাজারে কখন পড়বে তা নিশ্চিত করে জানাতে পারেননি মিলমালিকদের প্রতিনিধিরা। তাঁরা বলছেন, চিনির বাজার যখন একটু একটু করে বাড়তে শুরু করেছিল, তখনই সরকারকে চিনি আমদানিতে বিদ্যমান শুল্ক কাঠামো সংস্কারের অনুরোধ করা হয়। সরকার বিষয়টি সেই সময় আমলে নিলে বাজার এতটা চড়ত না। রোজা সামনে রেখে যখন সরকার শুল্ক কমানোর সিদ্ধান্ত নিল, তখন বাজারে প্রভাব পড়ার মতো পরিস্থিতি নেই। তাঁরা বলেন, চিনি আমদানিতে দুই মাসের বেশি সময় লেগে যায়। নতুন চিনি না এলে বাজারে শুল্ক কমার প্রভাব পড়বে না।

    গত ১৯ মার্চ সচিবালয়ে ‘দ্রব্যমূল্য ও বাজার পরিস্থিতি পর্যালোচনা-সংক্রান্ত টাস্কফোর্সের ষষ্ঠ সভা’ শেষে বাণিজ্যমন্ত্রী টিপু মুনশি বলেন, চিনির দাম কেজিতে পাঁচ টাকা কমাতে রাজি হয়েছেন ব্যবসায়ীরা।

    গত ফেব্রুয়ারির শেষ সপ্তাহে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) চিনি আমদানিতে নিয়ন্ত্রণমূলক শুল্ক ৩০ শতাংশ থেকে কমিয়ে ২৫ শতাংশ করেছে। একই সঙ্গে প্রতি টন অপরিশোধিত চিনি আমদানিতে তিন হাজার টাকা এবং পরিশোধিত চিনিতে ছয় হাজার টাকা আমদানি শুল্ক প্রত্যাহার করেছে। এই সুবিধা আগামী ৩০ মে পর্যন্ত বহাল থাকবে। এই শুল্ক কাঠামোর মধ্যে আমদানি হওয়া প্রতি কেজি চিনিতে ৫ টাকা দাম কমতে পারে বলে ধারণা ব্যবসায়ীদের। অর্থাৎ এত কিছুর পরও খুব শিগগির প্রতি কেজি চিনি ১০০ টাকার নিচে নামার লক্ষণ নেই।

    টিসিবির তথ্য অনুযায়ী গত বছর এ সময়ে বাজারে প্রতি কেজি চিনির দাম ছিল ৭৫ থেকে ৮০ টাকা। সেই হিসাবে গত এক বছরে চিনির দাম ৫০ শতাংশের মতো বেড়েছে। বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের হিসাবে দেশে বছরে চিনির চাহিদা ১৮ থেকে ২০ লাখ টন। এর মধ্যে শুধু রোজার মাসেই চাহিদা থাকে তিন লাখ টনের। অথচ দেশের সরকারি চিনিকলগুলোতে সব মিলিয়ে উৎপাদন হয় মাত্র ৩০ থেকে ৩৫ হাজার টন।