Author: Hello Bangla News

  • একদিনে রাশিয়ায় করোনায় ৩৭ জনের মৃত্যু

    একদিনে রাশিয়ায় করোনায় ৩৭ জনের মৃত্যু

    রাশিয়ায় গত ২৪ ঘন্টায় করোনায় ৩৭ জন মারা গেছে। নতুন করে আক্রান্ত হয়েছে ৮,৯৫৫ জন।

    ফেডারেল এন্টি ক্রাইসিস সেন্টার শনিবার সাংবাদিকদের এ কথা জানিয়েছে। খবর বার্তা সংস্থা তাসের।

    রাশিয়ায় হঠাৎ করেই বেড়েছে করোনাভাইরাসের সংক্রমণ।  পাশাপাশি এই ভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে মারা যাওয়া মানুষের সংখ্যাও বেড়েছে।  এদিকে এর একদিন আগে আক্রান্তের সংখ্যা ছিল আট হাজার ৯১৫ জন। মারা গিয়েছিল ৩৮ জন। দেশটিতে করোনা মহামারি শুরুর পর থেকে দুই কোটি ২৭ লাখ ছয় হাজার ৯৮০ জন করোনায় আক্রান্ত এবং মারা গেছে তিন লাখ ৯৭ হাজার ৫৩৪ জন।

    গত ২৪ ঘন্টায় নয় হাজার ৯৫৬ রোগী সুস্থ হয়েছে। এ নিয়ে সুস্থ হওয়ার মোট সংখ্যা দুই কোটি ২০ লাখ ৮০ হাজার ৯৪৯ জন।

    রাজধানী মস্কোতে গত ২৪ ঘন্টায় এক হাজার ৩১৭ জন করোনায় আক্রান্ত হয়েছে। মারা গেছে আট জন।

  • বঙ্গবাজারের পোড়া টাকা বদলে দিতে বাংলাদেশ ব্যাংক যা বলছে

    বঙ্গবাজারের পোড়া টাকা বদলে দিতে বাংলাদেশ ব্যাংক যা বলছে

    অর্ধেকের কম পুড়লে সেই টাকার অবশিষ্টাংশের আনুপাতিক হারে টাকা ফেরত দেবে। এক্ষেত্রে নোট পবির্তন সম্পর্কিত নীতি অনুসরণ করছে বাংলাদেশ ব্যাংক।  টাকার অর্ধেক পুড়ে গেলে সেই টাকা পুরোপুরি বাতিল। ওই টাকা পরিবর্তন করে নতুন টাকা দেবে না বাংলাদেশ ব্যাংক।

    রাজধানীর বঙ্গবাজারে অগ্নিকাণ্ডে অনেক ব্যবসায়ীর নগদ টাকা পুড়ে গেছে। একজন ব্যবসায়ী টাকা পরিবর্তনের জন্য আইন মেনে আবেদনও করেছেন।

    বিষয়টি নিয়ে বাংলাদেশ ব্যাংকের সহকারী মুখপাত্র মো. সরোয়ার হোসেন বাংলানিউজকে বলেন, এ সম্পর্কিত বাংলাদেশ ব্যাংকের গাইডলাইন আছে, সেটাই অনুসরণ করা হবে। ক্ষতিগ্রস্ত টাকার মালিক পোড়া টাকাসহ আবেদন করলে বাংলাদেশ ব্যাংক গাইডলাইন অনুসরণ করে টাকা পরিবর্তন করে দেওয়ার ব্যবস্থা করবে।

    ’বাংলাদেশ ব্যাংক নোট রিফান্ড রিকুইজিশন-২০১২’ গাইডলাইনে ছেঁড়া ও পোড়া টাকার বদল সম্পর্কিত নির্দেশনা আছে। নির্দেশনার ১১ ধারাতে বলা হয়েছে, কোনো টাকার কমপক্ষে ৫১ শতাংশ অবশিষ্ট থাকলে তার মালিক আনুপাতিক হারে ক্ষতিপূরণ পেতে পারেন। এ জন্য তাকে সংশ্লিষ্ট থানায় একটি জিডি ও ইউনিয়ন চেয়ারম্যানের প্রত্যয়নপত্রসহ বাংলাদেশ ব্যাংকের কারেন্সি বিভাগে আবেদন করতে হবে।

    পোড়া টাকার ৫১ থেকে ৭৫ শতাংশ অবশিষ্ট থাকলে মালিক পুড়ে যাওয়ার টাকার ৫০ শতাংশ পাবেন। আর ৭৬ থেকে ৯০ শতাংশ অবশিষ্ট থাকলে পাবেন ৭৫ শতাংশ। টাকার ৫০ শতাংশ পুড়লেই মালিক টাকা পরিবর্তন করতে পারবেন না; পুরো টাকা বাতিল বলে গণ্য হবে।

    পুড়ে যাওয়া টাকা রিফান্ড বা ফেরত দেওয়ার ক্ষেত্রে টাকার মালিকের আবেদন বাংলাদেশ ব্যাংকের কারেন্সি বিভাগের প্রধানের নেতৃত্বে চার সদস্য কমিটি পর্যালোচনা করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবে।

    ছেঁড়া টাকার ক্ষেত্রেও একই পদ্ধতি অনুসরণ করা হয়। তবে ছেঁড়া টাকার ক্ষেত্রে উচ্চ পর্যায়ের কোনো তদন্ত কমিটি বা পর্যালোচনার প্রয়োজন হয় না। কোনো টাকার টাকার ৫১ শতাংশ বা বেশি অবশিষ্ট থাকলে বাংলাদেশ ব্যাংকের কারেন্সি বিভাগে জমা দিলে বিভাগ থেকেই আনুপাতিক হারে বদল করা হয়। ’বাংলাদেশ ব্যাংক নোট রিফান্ড রিকুইজিশন-২০১২’ গাইডলাইনের ৯ ধারায় বিষয়টি উল্লেখ করা হয়েছে।

    পোড়া টাকা রিফান্ড করার ক্ষেত্রে এই নীতিমালা ২০১২ সাল থেকে অনুসরণ করা হয়। পোড়া টাকা ফেরত দেওয়ার ক্ষেত্রে এর কোনো ব্যত্যয় হয়নি। বঙ্গবাজারের ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ীদের টাকা বদলে দেওয়ার ক্ষেত্রে একই পদ্ধতি অনুসরণ করা হবে। তবে অর্ধেক বা অর্ধেকের বেশি ক্ষতিগ্রস্ত টাকার মালিক তথ্য-প্রমাণসহ বাংলাদেশ ব্যাংকের গর্ভনর বরারবর আবেদন করলে টাকা পরিবর্তনের ক্ষেত্রে বিষয়টি বিশেষ বিবেচনায় আসতে পারে বলে জানিয়েছে অন্য একটি সূত্র। তবে এটা প্রায় অসম্ভব।

    বঙ্গবাজারে অগ্নিকাণ্ডে প্রায় পাঁচ হাজার দোকান মালামাল ও নগদ টাকাসহ পুড়ে গেছে। আগের দিন দোকানে বিক্রি করে ক্যাশ বাক্সে টাকা রেখে যান কোনো কোনো দোকান মালিত। পরের দিন দোকানে আসার আগেই আগুনের লেলিহান শিখায় সব পুড়ে শেষ হয়ে যায়। দেখা গেছে, একজন ক্যাশবাক্স থেকে পোড়া টাকার বান্ডিল নিয়ে অঝোরে কাঁদছেন।

    খোঁজ নিয়ে জানা যায়, একজন পোড়া টাকা পরিবর্তন করার জন্য টাকার অংশসহ প্রয়োজনীয় ফর্মালিটি মেনে বাংলাদেশ ব্যাংকের কারেন্সি বিভাগে আবেদন করেছেন। কারেন্সি বিভাগ আবেদনটি গ্রহণ করে পরবর্তি শুনানির জন্য বৈঠকের দিন ধার্য করেছে। বৈঠকে ’বাংলাদেশ ব্যাংক নোট রিফান্ড রিকুইজিশন-২০১২’ নীতিমালা অনুসরণ করা হবে। অন্য কেউ আবেদন করলে তার ক্ষেত্রেও একই নীতি অনুসরণ করবে বাংলাদেশ ব্যাংক। পোড়া টাকার অবশিষ্ট ৫১ শতাংশ বা তার বেশি হলে আনুপাতিক হারে টাকা ফেরত পাবেন।

  • বাংলাদেশের মোট জনসংখ্যা ১৬ কোটি ৯৮ লাখ

    বাংলাদেশের মোট জনসংখ্যা ১৬ কোটি ৯৮ লাখ

    দেশের মোট জনসংখ্যা এখন ১৬ কোটি ৯৮ লাখ ২৮ হাজার ৯১১ জন। এর মধ্যে পুরুষ ৮ কোটি ৪০ লাখ ৭৭ হাজার ২০৩ জন, নারী ৮ কোটি ৫৬ লাখ ৫৩ হাজার ১২০ জন, হিজড়া ১২ হাজার ৬২৯ জন এবং ব্যালেন্স পপুলেশন ৮৫ হাজার ৯৫৭ জন।

    রোববার (০৯ এপ্রিল) জনশুমারি ও গৃহগণনা ২০২২ পিইসি জরিপের আলোকে সমন্বয়কৃত জনসংখ্যা সম্পর্কিত সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানানো হয়েছে। এ সময় পরিকল্পনামন্ত্রী এম এ মান্নান ও পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী ড. শামসুল আলম উপস্থিত ছিলেন।

    জনশুমারি ও গৃহগণনা-২০২২ এর প্রকল্প পরিচালক মো. দিলদার হোসেন  প্রতিবেদনে বলেন, জনশুমারি ও গৃহগণনা ২০২২ এর প্রাথমিক প্রতিবেদন অনুযায়ী দেশের গণনাকৃত মোট জনসংখ্যা ছিল ১৬ কোটি ৫১ লাখ ৫৮ হাজার ৬১৬ জন। পিইসিতে (প্রাথমিক প্রতিবেদন) প্রাপ্ত ২.৭৫ শতাংশ এনইসি-এর প্রেক্ষিতে ৪৬ লাখ ৭০ হাজার ২৯৫ জন যোগ হয়ে দেশের সমন্বয়কৃত মোট জনসংখ্যা হলো ১৬ কোটি ৯৮ লাখ ২৮ হাজার ৯১১ জন। সমন্বয়কৃত মোট জনসংখ্যার ৬৮.৩৪ শতাংশ পল্লিতে এবং ৩১.৬৬ শতাংশ শহরে বাস করে।

    বিভাগভিত্তিক জনসংখ্যা পর্যালোচনা করলে দেখা যায়, সবচেয়ে বড় বিভাগ ঢাকার গণনাকৃত জনসংখ্যা ছিল ৪ কোটি ৪২ লাখ ১৫ হাজার ১০৭ জন; সমন্বয়কৃত জনসংখ্যা হলো ৪ কোটি ৫৬ লাখ ৪৩ হাজার ৯১৫ জন, যা দেশের মোট সমন্বয়কৃত জনসংখ্যার ২৬.৮৮ শতাংশ। সবচেয়ে কম জনসংখ্যা বরিশাল বিভাগে, মোট সমন্বয়কৃত জনসংখ্যার ৫.৪৯ শতাংশ।

    প্রাথমিক প্রতিবেদন অনুযায়ী দেশে পুরুষের সংখ্যা ছিল ৮ কোটি ১৭ লাখ ১২ হাজার ৮২৪ জন, নারীর সংখ্যা ৮ কোটি ৩৩ লাখ ৪৭ হাজার ২০৬ জন এবং হিজড়ার সংখ্যা ১২ হাজার ৬২৯ জন। পিইসি জরিপ অনুসারে, পুরুষের এনইসি ২.৮১ শতাংশ, সে হিসেবে সমন্বয়কৃত পুরুষের সংখ্যা ৮ কোটি ৪০ লাখ ৭৭ হাজার ২০৩ জন; মহিলার এনইসি ২.৬৯ শতাংশ, সে হিসেবে সমন্বয়কৃত নারীর সংখ্যা ৮ কোটি ৫৬ লাখ ৫৩ হাজার ১২০ জন।

    এখানে উল্লেখ্য, হিজড়া জনসংখ্যা খুব কম হওয়ায় তার এনইসি হিসাব করা সম্ভব হয়নি। এছাড়াও জনশুমারি ও গৃহগণনা ২০২২ এ ১৭ হাজার ৫০৭টি থানার ৮৫ হাজার ৯৫৭ জনের আংশিক তথ্য পাওয়া গেছে, যাদের লিঙ্গসহ অন্যান্য ব্যক্তিগত তথ্য পাওয়া যায়নি। বিষয়টি শুমারির প্রাথমিক প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। এই জনসংখ্যারও এনইসি হিসাব করা সম্ভব হয়নি বিধায় তাদেরকে ব্যালান্স পপুলেশন হিসেবে গণনাকৃত ও সমন্বয়কৃত উভয় অংশে যোগ করা হয়েছে।

  • সারা বছর ধরে ডেঙ্গু প্রতিরোধ কার্যক্রম পরিচালনা করা হবে: সমবায়মন্ত্রী

    সারা বছর ধরে ডেঙ্গু প্রতিরোধ কার্যক্রম পরিচালনা করা হবে: সমবায়মন্ত্রী

    ডেঙ্গু প্রতিরোধে সারা বছর কার্যক্রম পরিচালনা করা হবে বলে জানিয়েছেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রী তাজুল ইসলাম।

    সারা দেশে মশাবাহিত রোগ প্রতিরোধে রোববার (৯ এপ্রিল) সচিবালয়ে মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে আয়োজিত আন্তঃমন্ত্রণালয় সভায় তিনি এসব কথা বলেন।

    সভায় ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের মেয়র ফজলে নূর তাপস, চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের মেয়র রেজাউল করিম চৌধুরী ও স্থানীয় সরকার বিভাগের সচিব মুহম্মদ ইবরাহিম উপস্থিত ছিলেন।

    মন্ত্রী বলেন, আগে আমরা মৌসুমি পরিকল্পনা নিতাম। আমরা এপ্রিল, মে, জুন ও জুলাই পর্যন্ত ডেঙ্গু প্রতিরোধের কার্যক্রম পরিচালনা করতাম। এখন বছরজুড়ে করার পরিকল্পনা নিচ্ছি।

    বাংলাদেশসহ বিভিন্ন দেশের ডেঙ্গু পরিস্থিতি তুলে ধরতে গিয়ে তাজুল ইসলাম বলেন, জানুয়ারি থেকে ৮ এপ্রিল পর্যন্ত বাংলাদেশে ৮৭৫ জন ডেঙ্গু রোগে আক্রান্ত হয়েছেন। আর জানুয়ারি থেকে ২৫ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত ফিলিপাইনে ১৯ হাজার ৪০৪ জন, জানুয়ারি থেকে ১৯ এপ্রিল পর্যন্ত ভিয়েতনামে ১৫ হাজার ১২৯ জন, জানুয়ারি থেকে ১৪ মার্চ পর্যন্ত শ্রীলঙ্কায় ১৪ হাজার ৯৮৯ জন, মালয়েশিয়ায় জানুয়ারি থেকে ২৫ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত ১৭ হাজার ৩৮৮ জন, সিঙ্গাপুরে জানুয়ারি থেকে ১১ মার্চ পর্যন্ত এক হাজার ৯৬২ জন ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়েছেন।

    এই ছয়টি দেশের মধ্যে বাংলাদেশ অনেক ভালো অবস্থানে আছে জানিয়ে তিনি বলেন, নিয়মিত মনিটরিংয়ের কারণে বাংলাদেশের অবস্থান ভালো। শহুরে এলাকায় এডিস মশার প্রাদুর্ভাব সবচেয়ে বেশি। এই কারণে আমাদের সিটি করপোরেশনের মেয়রদের নিয়ে নিবিড়ভাবে কাজ করছি। এখান থেকে যে নির্দেশনা দেওয়া হয়, তা বাস্তবায়ন করতে তারা স্বতঃস্ফূর্তভাবে নিজ নিজ প্রতিষ্ঠানের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা-কর্মচারীদের নির্দেশনা দিচ্ছেন। এই কারণে অন্য দেশগুলোর চেয়ে আমরা তুলনামূলক ভালো আছি।

    গত বছর ডেঙ্গুর সংক্রমণ বেশি ছিল, সেই হিসাবে চলতি বছরে ডেঙ্গু মোকাবিলায় সরকারের প্রস্তুতি সম্পর্কে জানতে চাইলে মন্ত্রী বলেন, গত বছরেও সমসাময়িক দেশগুলোর তুলনায় আমাদের অবস্থান ভালো ছিল। কিন্তু তাতে আমরা সন্তুষ্ট ছিলাম না। সে জন্য আমাদের প্রস্তুতিতে কোনো ঘাটতি আছে কি না, আরও কিছু করণীয় আছি কি না, তা খতিয়ে দেখতে এই সভা করা হয়েছে।

    স্থানীয় সরকারমন্ত্রী বলেন, সভায় আমরা সিদ্ধান্ত নিয়েছি, ডিসেম্বর পর্যন্ত আমরা করব। তবে এই সময়কে পিক সিজন ও লিন সিজনে ভাগ করা হয়েছে। অর্থাৎ এডিসের জন্য একটি উর্বর সময়, অন্যটি অনুর্বর মৌসুম। আমরা সেই অনুযায়ী পরিকল্পনা নিয়ে কাজ করে যাচ্ছি।

    সভায় ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের মেয়র ফজলে নূর তাপস, চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের মেয়র রেজাউল করিম চৌধুরী ও স্থানীয় সরকার বিভাগের সচিব মুহম্মদ ইবরাহিম উপস্থিত ছিলেন।

    ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের মেয়র ফজলে নূর তাপস বলেন, গত বছর যেহেতু আমরা দেখেছি, জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবের কারণে আশ্বিন মাস এবং শীতকাল পর্যন্ত ডেঙ্গু ছড়িয়েছে। এ জন্য আমাদের কর্মপরিকল্পনা বছরব্যাপী করেছি। ডেঙ্গু প্রতিরোধী কার্যক্রমের সময় আমরা বাড়িয়েছি। আগে যেমন করা হতো আষাঢ়, শ্রাবণ ও ভাদ্র পর্যন্ত। এখন আমরা আশ্বিন মাস পর্যন্ত এটি বাড়িয়েছি।

  • ঈদযাত্রা নির্বিঘ্ন করার নির্দেশ ওবায়দুল কাদেরের

    ঈদযাত্রা নির্বিঘ্ন করার নির্দেশ ওবায়দুল কাদেরের

    ঈদযাত্রা নির্বিঘ্ন করতে সড়কে দায়িত্ব পালনকারী সরকারি ও বেসরকারি সংস্থাগুলো যে প্রতিশ্রুতি দিয়েছে সেটা সুচারুরূপে পালনের নির্দেশ দিয়েছেন সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের।

    রোববার (৯ এপ্রিল) বনানীতে বিআরটিএ’র প্রধান কার্যালয়ের সম্মেলন কক্ষে ঈদ উপলক্ষে সড়কপথে যাত্রীসাধারণের যাতায়াত নিরাপদ ও নির্বিঘ্ন করার লক্ষ্যে প্রস্তুতিমূলক সভায় তিনি এ মন্তব্য করেন।

    মন্ত্রী বলেন, সড়কে শৃঙ্খলা এবং নিরাপত্তা এখনো নিশ্চিত করা যায়নি। গাজীপুরে বিআরটি সড়ক সাধারণ মানুষকে অনেক ভোগান্তিতে ফেলেছে।

    ঈদ যাত্রায় যেন কোন গোলযোগ সৃষ্টি না হয় তার জন্য যেকোন মূল্যে এই রাস্তাটি সচল রাখার কথা বলেন মন্ত্রী।

    ভিভিপিদের আইন মানার পাশাপাশি রাজনৈতিক প্রভাবভুক্ত থেকে মোটরসাইকেল আরোহীদেরকেও আইনের আওতায় আনতে পুলিশ প্রশাসনকে সময় নির্দেশ দেন কাদের।

    তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, বাড়তি ভাড়া আদায়ের প্রবণতা কমলেও তা এখনো বন্ধ হয়নি।

    চলতি বছরের অক্টোবর-নভেম্বর মাসেই রাজধানীর রাস্তায় ইলেকট্রিক গাড়ি চলাচল শুরু করবে বলেও বৈঠকে জানান ওবায়দুল কাদের।

    মন্ত্রী বলেন, যার যার যে দায়িতে তিনি যেভাবে প্রতিজ্ঞা করেছেন সেভাবে পালন করুন। এটা হলো আমার আপনাদের কাছে অনুরোধ। যতই আমরা অবকাঠামো নির্মাণ নিয়ে আলোচনা করি, সেটা খুবই স্বাভাবিক। প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে সেটা সম্ভব হয়েছে। উন্নয়ন অনেক হয়েছে।

    সেতুমন্ত্রী বলেন, সবচেয়ে বড় ঘাটতি আমাদের শৃঙ্খলার। সড়কে সেটা কার্যকর হয়নি। পরিবহনেও হয়নি। আরও অনেক ছয় লেন বা আট লেন হবে পরিকল্পনা আছে। তবে ডিসিপ্লিন কীভাবে কার্যকর করতে পারা যাবে সেটাই সবচেয়ে চ্যালেঞ্জ। ডিসিপ্লিন থাকলে যানজট ও দুর্ঘটনা কমে যাবে।

    ওবায়দুল কাদের বলেন, এখন গতানুগতিক একটা মিটিং করে, বক্তৃতা দিয়ে যদি মনে হয় দায়িত্ব শেষ হয়ে গেছে তাহলে শৃঙ্খলা ফেরানো যাবে না। এখানে সবাই পরিকল্পনার কথা বললেন, কিন্তু গার্মেন্টস মালিকরা কি সেটা শুনবেন সেই গ্যারান্টি কোথায়। প্রতিবার এই নিয়ম চালু হয়। নির্দেশনা দেওয়া হয় কিন্তু পালন করেন কয়জন? খুব সহজে এটা বাস্তবায়ন করা যাবে না এটাই বাস্তবতা। ঈদে ভোগান্তি কমাতে ঢাকার প্রবেশ পথ বিশেষ নজরদারি করতে হাইওয়ে পুলিশ ও বিআরটিএ’কে নির্দেশনা দিয়েছি।

    নবীনগর ও চন্দ্রার যানজট নিয়ে মন্ত্রী নিজের অভিজ্ঞতার কথা তুলে ধরে বলেন, সেখানে রাত পার হয়ে ভোর হয়। এরপর আনফিট গাড়ি থাকে, চালক অতিরিক্ত গাড়ি চালিয়ে ঘুমিয়ে পড়ে। এভাবেই সময় নষ্ট হয়।

    মন্ত্রী বলেন, আমরা এই কষ্টটা দূর করতে পারছি না। এই কষ্টটা আমারও আছে। আমাদের প্রতিবেশী দেশ ভারতে প্রতি মিনিটে ১৬ জন রাস্তায় মারা যায়। সৌদি আরবে দুর্ঘটনায় ২৪ জনের মধ্যে ২০ জন বাংলাদেশি নিহত হয়েছেন। আমাদের লোক মারা গেল কেউ তো সেটা নিয়ে কিছু বলে না। শুধুমাত্র প্রধানমন্ত্রী ছাড়া। শুধু এখনকার ব্যাপার সবার চোখে পড়ে। যেভাবে দোষ দেওয়া হয় তাতে মনে হয় এদেশে সড়কে কিছুই হয়নি। এমনকি বজ্রপাতে প্রাণহানি হলেও সরকারকে দোষ দেওয়া হয়।

    গাজীপুর বিআরটি প্রকল্পকে ভোগান্তির অন্যতম স্থান উল্লেখ করে কাদের বলেন, বিআরটি প্রকল্প শেষ হওয়ার কথা বললেও কিন্তু শেষ হয় না। যথেষ্ট মানুষকে ভোগান্তি দিচ্ছে। কত মানুষ বিদেশে যাবে অথচ মানুষ মিস করে বিমানের ফ্লাইট।

    মতবিনিময় সভায় আরও উপস্থিত ছিলেন সড়ক পরিবহন শ্রমিক ফেডারেশনের সভাপতি শাহজাহান খান, সড়ক ও সেতু সচিব এ বি এম আমান উল্লাহ নুরী, বাংলাদেশ পুলিশের মহাপরিদর্শক চৌধুরী আবদুল্লাহ আল-মামুন, সড়ক পরিবহন মালিক সমিতির মহাসচিব এনায়েত উল্লাহ, যাত্রী কল্যাণ সমিতির মহাসচিব মোজাম্মেল হক চৌধুরী।

  • মনের যত্ন প্রতিদিন

    মনের যত্ন প্রতিদিন

    মানসিক সুস্থতা ও সুস্থ ভাবাবেগ আমাদের সার্বিক সুস্থতার এক গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়। শারীরিক সুস্থতার জন্যে আমরা অনেক কিছু করি– জিম যাই, হাঁটতে বেরোই, সাঁতার কাটি বা অন্যান্য খেলাধুলা করি। ঠিক একই রকম ভাবে, আমরা সুস্থ ভাবাবেগ ও মানসিকতার অধিকারী হবারও চেষ্টা করতে পারি।

    একটি প্রচলিত ভুল ধারণা হল, মানসিক রোগ নেই মানেই সেই ব্যক্তি মানসিক ভাবে সুস্থ। কিন্তু বিশেষজ্ঞরা এই ধারনাটির সাথে একমত নন।

    মানসিক আবেগকে নিয়ন্ত্রণ করা ও তার ভারসাম্য বজায় রাখা সহজ কাজ না। কারণ এইটা রপ্ত করতে না পারলে জীবনে বিভিন্ন দুঃখ-কষ্ট, ব্যক্তিগত সম্পর্কে সমস্যা, ও অন্যান্য মানসিক ব্যধির উদয় হতে পারে। সুস্থ ভাবাবেগ ও মনের অধিকারী হলে আমরা নিশ্চিন্তে যে কোনও প্রতিকূলতার সম্মুখীন হতে পারি। তাছাড়া এর ফলে আমরা দৈননিন জীবনে আরও কর্মঠ হয়ে উঠতে পারি। একজন মানসিক সুস্থ ব্যক্তি নিজের সাথে ও অন্যের সাথে আরও ভাল সম্পর্ক স্থাপনে সক্ষম হন, আর যে কোনও বাঁধা কাটিয়ে জীবনে এগিয়ে চলতে পারেন।

    ব্যাঙ্গালোর শহরের একজন কাউন্সেলর মৌল্লিকা শর্মার মতে, “আমাদের বিভিন্ন প্রতিকূলতার সম্মুখীন হতে হয়। অপছন্দের পরিস্থিতি ও লোকেদের মাঝে বাস করতে হয়। আমরা সেই সমস্ত পরিস্থিতিকে নিয়ন্ত্রণ করার চেষ্টা করি। অথচ তার বদলে আমাদের চারিপাশের প্রতি দৃষ্টিভঙ্গিকে পাল্টে ফেলা কিন্তু অনেক বেশি সহজ। এই পরিস্থিতিগুলো অনুযায়ী যত নিজেকে খাপ খাওয়াতে পারব, ততই মানসিক সুস্থতার পথে এক ধাপ এগিয়ে যাব।”

    মনের যত্ন নিন

    কথাটা কি খুব খাপছাড়া ও কঠিন লাগল? বিশেষজ্ঞরা বলছেন যে দৈনন্দিন জীবনে সামান্য পরিবর্তন আনলেই কিন্তু এই কাজটা খুব সহজ হয়ে উঠবে। আপনি সেই জন্যে নিচে লেখা পরামর্শগুলি মেনে দেখতে পারেন:

    ১. শরীরের যত্ন নিন

    শারীরিক সুস্থতার সাথে মানসিক সুস্থতার নিবিড় যোগাযোগ রয়েছে। এর জন্যে আপনি পুষ্টিকর খাবার খান, পর্যাপ্ত বিশ্রাম নিন, নিয়মিত ব্যায়াম করুন, এবং শরীরের যত্ন নিন। এর ফলে আপনার শরীর রোজকার ধকলের সাথে যুঝে উঠতে পারবে। ভিটামিন বি-১২ ও ওমেগা ৩ ফ্যাটি অ্যাসিড সমৃদ্ধ খাবার আপনার মস্তিষ্কের আবেগ নিয়ন্ত্রণকারী হরমোনগুলিকে চাঙ্গা রাখতে সাহায্য করে। পর্যাপ্ত বিশ্রামও খুবই প্রয়োজনীয়; কারণ ঘুমের সময় আমাদের শরীর সমস্ত ক্ষতিগ্রস্ত কোষগুলিকে সারিয়ে তোলে। পর্যাপ্ত ঘুমের অভাবে আপনি ক্লান্ত ও খিটখিটে হয়ে পড়বেন। নিয়মিত ব্যায়াম আপনার খিদে বাড়াতে সাহায্য করবে; ফলে আপনার ভাল ঘুম হবে, এবং সব মিলিয়ে আপনি মানসিক ভাবে সুস্থ থাকবেন।

    ২. ব্যায়াম করুন, ফুসফুসে টাটকা বাতাস ভরুন

    সূর্যের আলো আমাদের শরীরে সেরটিনিন নামে একটি রাসায়নিকের মাত্রা বাড়াতে সাহায্য করে। এই সেরিটিনিন আমাদের মস্তিষ্ককে আবেগ নিয়ন্ত্রণ করতে সাহায্য করে। ফলে সূর্যের আলোয় আমাদের মন ভাল হয়ে যায়। কায়িক পরিশ্রমও সুস্থ মনের জন্যে জরুরি। ব্যায়ামের ফলে শরীরে স্ফূর্তি আসে, ক্লান্তি ও মানসিক চাপ হ্রাস পায়। মনকে চাঙ্গা রাখতে নিজের পছন্দের কোনও কাজ করুন।

    ৩. নিজের যত্ন নিন

    মানসিক সুস্থতা ও সুস্থ ভাবাবেগ পেতে নিজের যত্ন নেওয়া দরকার। মনের মধ্যে আবেগ চেপে রাখবেন না। অবদমিত আবেগ প্রকাশের ফলে মানসিক চাপ ও জটিলতা কমে যায়। নিজের জন্যে কিছুটা সময় আলাদা রাখুন; নিজের মনের কথা শুনুন, বই পড়ুন, ব্যক্তিগত শখ-আহ্লাদ মেটান, বা এমনি হাত-পা ছড়িয়ে সব কাজ ভুলে একটু আরাম করুন।

    মনোযোগ বাড়াতে সব যন্ত্রপাতি দূরে সরিয়ে নিজের আশেপাশের দুনিয়াটাকে উপলব্ধি করুন। নিমহ্যান্সের ক্লিনিক্যাল সাইকোলজির অধ্যাপক ডাঃ এম মঞ্জুলার কথা অনুযায়ী, “ভূত ও ভবিষ্যৎ ভুলে বর্তমানে থাকার নামই মনোযোগ। খামখেয়ালের স্রোতে না ভেসে গিয়ে নিজের ইচ্ছা অনুযায়ী চিন্তায় সাড়া দেওয়া; একবারে একটি কাজেই মন দেওয়া, পরের ছিদ্রান্বেষণ না করে যে কোনও পরিস্থিতিতে স্থির ও অবিচল থাকার নামই মনোযোগ। এর ফলে আপনি চারপাশে থেকে আরও বেশি অভিজ্ঞতা অর্জন করতে পারবেন যা আপনাকে যে কোনও অবস্থায় মাথা ঠাণ্ডা রাখতে সাহায্য করবে।”

    ৪. পছন্দের লোকজনের সাথে সময় কাটান

    পছন্দের লোকের সাথে সময় কাটালে নিজের প্রতি ভালবাসা ও শ্রদ্ধা জন্মায়। বন্ধুবান্ধব, পরিবার, সহকর্মী এবং প্রতিবেশীদের সাথে ভাল সম্পর্ক বজায় রাখুন। এর ফলে আপনি সবার সাথে নিজেকে যুক্ত অনুভব করবেন। সহকর্মীদের সাথে একদিন খেতে যান, বা অনেকদিন বাদে কোনও পুরানো বন্ধুর সাথে দেখা করুন। একটি মিষ্টি হাসি ও স্নেহের আলিঙ্গনের বিকল্প কোনও প্রযুক্তি হতে পারে না।

    ৫. কোনও শখ গড়ে তুলুন বা নতুন কিছু করুন

    পছন্দ অনুযায়ী কাজ করলে পরে মনও ভাল থাকে। এর ফলে মাথায় দুশ্চিন্তা আসে না এবং অবদমিত আবেগগুলিও প্রকাশ পায়। তাছাড়া শখের কাজকর্ম করলে আত্মবিশ্বাসও বৃদ্ধি পায়। নতুন কাজের সঙ্গে যুক্ত হলে নতুন দৃষ্টিভঙ্গিও তৈরি হয়, ফলে বাইরের জগতে আপনি নিজেকে আত্মবিশ্বাসের সাথে মেলে ধরতে শেখেন। নতুন জিনিস শিখলে মনের একঘেয়ে চিন্তা কেটে যায়, মনঃসংযোগ বাড়ে, এবং নতুন কিছু শেখার আনন্দে মন ভাল থাকে।

    ৬. দুশ্চিন্তাকে নিয়ন্ত্রণে রাখুন

    আমাদের সবারই বিভিন্ন লোকজন বা পরিস্থিতির কারণে দুশ্চিন্তা হয়। এই কারণগুলিকে প্রথমে চিহ্নিত করুন, তারপর সেগুলির উপর পুনরায় বিচার করুন। আপনি সেগুলি থেকে দূরে থাকার চেষ্টা করতে পারেন, যদি তা সম্ভব হয়। অনেক সময় সঠিক পরিকল্পনার অভাবে আপনি সেই ব্যক্তিদের বা পরিস্থিগুলিকে সামলাতে পারেন না। এই জন্যেই স্ট্রেস ম্যানেজমেন্ট শেখা জরুরি।

    মৌল্লিকা শর্মা বলেন, “আপনি যদি পরীক্ষা নিয়ে দুশ্চিন্তায় ভোগেন, তবে পরীক্ষার প্রতি আপনার দৃষ্টিভঙ্গি পাল্টাতে হবে। পরীক্ষা আপনার জীবনের মাপকাঠি না, সেটা সাময়িক এবং আবশ্যিক। কিছু ক্ষেত্রে আপনি দুশ্চিন্তার উৎসগুলিকে এড়িয়ে চলতে পারেন, কিন্তু আপনাকে এটাও বুঝতে হবে যে সবসময়ে তা সম্ভব না। কাজেই আপনাকে নিজেই দুশ্চিন্তাকে সামাল দেওয়ার কোনও পন্থা খুঁজে বের করতে হবে। উদাহরণস্বরূপ আপনি কোনও বন্ধুর সাথে এই বিষয়ে আলোচনা করতে পারেন, ধৈর্য ধরে নিজের উপরে বিশ্বাস রাখতে পারেন, পরিস্থিতিকে পুনরায় ভিন্ন দৃষ্টিভঙ্গি থেকে বিচার করতে পারেন, প্রাণায়াম করতে পারেন, একটু হাঁটতে যেতে পারেন, গান শুনতে পারেন, ব্যায়াম করতে পারেন, ইত্যাদি।”

    ৭. নিজের উপরে ভরসা হারাবেন না

    আমরা সকলেই আলাদা, এবং আমাদের প্রত্যেকের মধ্যেই নিজস্ব ক্ষমতা এবং দুর্বলতা ররেছে। নিজের দুর্বলতাকে মেনে নিয়ে নিজের ক্ষমতার উপরে ভরসা রাখলে জীবনে এগিয়ে চলার সাহস পাওয়া যায়। সবারই কোনও না কোনও দুর্বলতা থাকে, আপনারও আছে; কেউই নিখুঁত নয়। আপনি নিজের দুর্বলতাকে দূর করার প্রয়াস করতে পারেন, অথবা সেগুলোকে নীরবে মেনে নিতে পারেন। আর পাঁচটা সাধারণ মানুষের মত আপনিও নিখুঁত নন, এটা মেনে নেওয়াটাই কিন্তু সুস্থ মানসিকতার পরিচয়। নিজের ক্ষমতা বুঝে বাস্তবসম্মত লক্ষ্য তৈরি করুন। সর্বপরি না বলতে শিখুন। এটা কোনও অন্যায় নয়।

    ৮. আশির্বাদ কুড়োন

    একঘেয়ে শোনালেও এটা সত্যি যে, যা পেয়েছেন তা নিয়ে কৃতজ্ঞ হলে, যা পাননি তাই নিয়ে কষ্ট কমে যায়। গবেষণায় দেখা গেছে যে এর ফলে মনের মধ্যে ইতিবাচক মানসিকতা জন্ম নেয়। একটি কৃতজ্ঞতা খাতা বানান। প্রত্যেকদিন রাত্রে শোবার আগে লিখে ফেলুন যে, আপনি আজ কেন ও কিসের জন্য কৃতজ্ঞ। নিজের মধ্যে কৃতজ্ঞতাবোধ জাগিয়ে তুললে, সবার আশীর্বাদ মনে রাখলে,দেখবেন প্রত্যেকদিনই আপনার কৃতজ্ঞতার কারণের অভাব হচ্ছে না।

    ৯. নিজেকে মেলে ধরুন

    অনেক সময়ই আমরা নিজের আবেগ মেলে ধরতে লজ্জা পাই। নিজের মনোভাব মেলে ধরতে পারা, মনকে পরিষ্কার রাখতে সাহায্য করে। অনেকেই নিজের ইচ্ছা বা ভাবনা চেপে রাখেন, যা খুবই ক্ষতিকর। এর ফলে সেই মানসিকতা আরও বেড়ে যায়। ফলে দুশ্চিন্তাও পাল্লা দিয়ে বাড়ে। ফলে অন্য কোনও দিকে সমস্যা দেখা দিতে পারে।

    আবেগ চেপে রাখার ফলে গুরুতর রকম ডিপ্রেশন আর অ্যাংজাইটি ডিসঅর্ডার দেখা দিতে পারে। সামান্য রাগ বা দুঃখও চেপে রাখা উচিত নয়। শুধু জানতে হবে যে সবদিক বজায় রেখে আবেগের বহিঃপ্রকাশের উপায় কী। ডাঃ মঞ্জুলা বলেন, “কোন আবেগই, মূলত, ভাল বা খারাপ নয়। সমস্ত আবেগই প্রয়োজনীয় এবং গুরুত্বপূর্ণ। সেই আবেগের মাত্রা ও বহিঃপ্রকাশের ধরণের উপর নির্ভর করে এই ভাল বা খারাপ হওয়া নির্ভর করে।”

    ১০.সাহায্য চান

    এই পৃথিবীতে আক্ষরিক অর্থে সুখী ও নিশ্চিন্ত জীবন কেউ কাটান না। কাজেই মন খারাপ হলে, বিপদে পড়লে, হতাশাগ্রস্থ হয়ে পড়লে, বিচলিত হলে, রেগে গেলে, অথবা পরিস্থিতির সাথে খাপ না খাওয়াতে পারলে, বিশ্বাসযোগ্য কোনও ব্যক্তি যেমন – আপনার জীবনসঙ্গী, বন্ধু, অভিভাবক, ভাই-বোন বা আত্মীয়ের সাথে কথা বলুন। তাতেও না হলে একজন কাউন্সেলরের পরামর্শ নিন। দেরি করবেন না। এতে লজ্জার কিছুই নেই; বরং একে আশার আলো হিসেবে দেখুন। জীবনের বাঁধা বিপত্তিতে একলা চলতে হবে না। প্রাণোচ্ছল জীবনের এটাই একমাত্র রাস্তা।

    রাজিয়া সুলতানা রীমা (সাইকোলজিস্ট)

  • চোখ ব্যথার সমাধান হবে ব্যায়ামে

    চোখ ব্যথার সমাধান হবে ব্যায়ামে

    চিকিৎসকদের মতে, চোখের পেশির ওপর বাড়তি চাপ নিয়ন্ত্রণ করতে গেলে ‘স্ক্রিন টাইম’ কমাতে হবে।  কিন্তু যদি কারো পক্ষে তা করা সম্ভব না হয়, সে ক্ষেত্রে একমাত্র উপায় হলো নিয়মিত চোখের ব্যায়াম করা।  দিনের যেকোনো সময়ে, কাজের ফাঁকে চোখের পাঁচটি ব্যায়াম করতে পারলেই উপকার মিলবে।

    প্রয়োজনে-অপ্রয়োজনে বেশির ভাগ মানুষকে এখন দিনের বেশির ভাগ সময় মোবাইল বা ল্যাপটপে চোখ রেখে কাটাতে হয়। পড়াশোনা, বিনোদন, কেনাকাটা, অফিসের কাজ সবই এখন অনলাইনে। ফলে কম্পিউটার বা ফোনের স্ক্রিনের দিকে বেশিক্ষণ তাকিয়ে থাকছেন সবাই। আর তার ফলে বাড়ছে চোখের সমস্যা। একটানা অনেকক্ষণ চোখের পেশির ওপর চাপ পড়লে চোখ থেকে পানি পড়া, চোখে ব্যথা হওয়া, ক্লান্তি, মাথা যন্ত্রণার মতো নানা রকম সমস্যা দেখা দিতে পারে।

    একটি রেখা বরাবর চোখের মণি ওপর-নিচ করা: চোখের মণি গোল গোল করে ঘোরানোর মতোই এই ব্যায়াম করার সময়ে একটি সরলরেখা বরাবর চোখের মণি ওপর থেকে নিচে, নিচ থেকে ওপরে এবং বাঁদিক থেকে ডানদিকে আবার ডানদিক থেকে বাঁদিকে সঞ্চালন করতে হয়। চোখের পাতা বন্ধ করে এই ব্যায়াম অভ্যাস করলেও কিন্তু চোখের কষ্ট অনেকটাই কমে।

    চোখের মণি ঘোরানো: একটানা চোখের কাজ করলে চোখের পেশির ওপর চাপ পড়া স্বাভাবিক। তাই কাজের ফাঁকে ফাঁকে চোখ বন্ধ করে, চোখের মণি গোল করে চোখের চারদিকে ঘোরান। একবার বাঁদিক থেকে ডানদিক, আবার ডানদিক থেকে বাঁদিকে ঘোরানো অভ্যাস করুন।

    গরম সেঁক দেয়া: চোখের ওপর গরম সেঁক দিলে অশ্রুগ্রন্থি থেকে জল বেরিয়ে আসে। চোখের পেশির চাপ নিয়ন্ত্রণ করতে এই পদ্ধতি অনেকটাই সাহায্য করে। চোখে ব্যথা নিয়ে ব্যায়াম করতে না পারলে গরম সেঁক দিয়ে আগে ব্যথা কমিয়ে নিন। তার পর হালকা ব্যায়াম করুন।

    হাতের তালু ঘষে চোখের ওপর তাপ দেয়া: ইংরেজিতে যাকে বলে পামিং। শুরুতে দুই হাতের তালু ভালো করে ঘষতে থাকুন যতক্ষণ-না গরম হয়ে উঠছে। এর পর আলতো করে দু-চোখের পাতার ওপর দুই হাতের তালু রাখুন। আরাম পাবেন। অনেকক্ষণ কম্পিউটার বা ফোনের দিকে তাকিয়ে থাকলে মাঝেমধ্যেই পামিং করা অভ্যাস করুন।

    ঘনঘন চোখের পলক ফেলা: চোখের সামনে এমন কোনো জিনিস অতর্কিতে এসে পড়লে আপনা থেকেই চোখের পলক পড়ে যায়। এই পলক ফেলার অভ্যাসও কিন্তু চোখের জন্য খুব গুরুত্বপূর্ণ। কম্পিউটার বা মোবাইল থেকে বিচ্ছুরিত তীব্র আলো একভাবে চোখের ওপর এসে পড়লে সমস্যা হতেই পারে। এ সমস্যা থেকে সহজে মুক্তি পাওয়ার উপায় হলো বারবার চোখের পলক ফেলা।

  • চ্যাট জিপিটি এখন অ্যাপল ওয়াচে!

    চ্যাট জিপিটি এখন অ্যাপল ওয়াচে!

    চ্যাট জিপিটি চলে এলো অ্যাপল ইউজারদের আরও কাছে। বড় বড় টেক জায়ান্টদের প্রতিযোগিতায় হিমশিম খাইয়ে দেয়া এই চ্যাটবট এখন পাচ্ছেন অ্যাপল ওয়াচেই

    অ্যাপল ওয়াচ ব্যবহারকারীরা কোনো ঝামেলা ছাড়াই ওয়াচজিপিটি অ্যাপটি অ্যাপল অ্যাপ স্টোর থেকে ডাউনলোড করে নিতে পারবেন। যার মাধ্যমে খুব সহজে চ্যাটজিপিটি ব্যবহার করতে পারবেন। সম্প্রতি এই ওয়াচজিপিটি অ্যাপ ও অ্যাপল ঘড়িতে নিয়ে তার ব্যবহারের একটি ডেমো ভিডিও প্রকাশ্যে এসেছে। সেখানে দেখা যাচ্ছে, ওয়াচজিপিটি অ্যাপটি অ্যাপল ওয়াচের হোম স্ক্রিনে আছে। সেখানে ট্যাপ করলেই সব চ্যাটবট ফাংশনগুলো ব্যবহার করা যাবে।

    যদিও চ্যাটজিপিটির মতো স্মার্টওয়াচের ক্ষেত্রেও এই ওয়াচজিপিটি থেকে আপনি যা জানতে চান তা লিখতে হবে সবকিছু টাইপ করে। তবে ওয়াচজিপিটিতে রয়েছে বাড়তি সুবিধা। তা হলো ভয়েস ইনপুট সাপোর্ট, আপনি আপনার অজ্ঞাত সব প্রশ্ন ওয়াচজিপিটির কাছে মুখে বলেও জানতে পারেন। সব মিলিয়ে চ্যাট জিপিটির জয়জয়কার চলছে!

  • নির্বাচন নিয়ে কোনো সংলাপ হবে না, বললেন কামরুল ইসলাম

    নির্বাচন নিয়ে কোনো সংলাপ হবে না, বললেন কামরুল ইসলাম

    নির্বাচন নিয়ে কোনো সংলাপ হবে না জানিয়ে বিএনপিকে ভোটের প্রস্তুতি নেয়ার আহ্বান জানিয়েছেন আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য অ্যাডভোকেট কামরুল ইসলাম।

    বৃহস্পতিবার (৬ এপ্রিল) সুপ্রিম কোর্টে সময় সংবাদের সঙ্গে এক সাক্ষাৎকারে তিনি একথা বলেন।

    তিনি বলেন, ‘বিএনপির কথা হচ্ছে, তাদেরকে ক্ষমতায় বসিয়ে দেবে এমন একটি সরকার তারা নির্বাচনের সময় চায়। সে গ্যারান্টি তো আমরা দিতে পারব না। তাদের এই হঠকারিতা কোনো সংকট না, এটি তাদের সৃষ্টি করা সংকট। এটি দেশের কোনো রাজনৈতিক সংকট না।’

    কামরুল বলেন, ‘নির্দলীয় তত্ত্বাবধায়ক সরকার নিয়ে আলোচনার কোনো সুযোগ নাই। সংবিধান অনুযায়ীই ভোট হবে। সংবিধানের বাইরে যাওয়ার সুযোগ কারও নেই।’

    বিএপির সঙ্গে কোনো সংলাপ বা সমঝোতায় সরকার যাবে না উল্লেখ করে কামরুল ইসলাম বলেন, ‘যে আন্দোলনে মানুষের কোনো সম্পৃক্ততা নেই সে আন্দোলন দিয়ে সরকার পতন সম্ভব নয়।’

  • ২-১ ব্যবধানে সিরিজ জিতে নিল নিউজিল্যান্ড

    ২-১ ব্যবধানে সিরিজ জিতে নিল নিউজিল্যান্ড

    কুইন্সটাউনে আজ নিউজিল্যান্ড-শ্রীলঙ্কা তৃতীয় টি-টোয়েন্টি ম্যাচ যেন ছিল ‘থ্রিলার মুভি’। ম্যাচের রং বদলাতে থাকে ক্ষণে ক্ষণে। পেন্ডুলামের মতো দুলতে থাকা সিরিজ নির্ধারণী ম্যাচের নিষ্পত্তি হয়েছে শেষ ওভারে। ৪ উইকেটের শ্বাসরুদ্ধকর জয়ে তিন ম্যাচের টি-টোয়েন্টি সিরিজ ২-১ ব্যবধানে জিতে যায় কিউইরা।

    সিরিজ নির্ধারণী রোমাঞ্চকর ম্যাচে শ্রীলঙ্কাকে ৪ উইকেটে হারিয়েছে নিউজিল্যান্ড। হারিয়ে শেষ হাসিটা হাসল নিউজিল্যান্ড। কুইন্সটাউনের জন ডেভিস ওভাল স্টেডিয়ামে টস হেরে ব্যাট করতে নেমে কুশল মেন্ডিসের অর্ধশতকে ৬ উইকেটে ১৮২ রান করে লঙ্কানরা। জবাবে ১ বল হাতে রেখে ৬ উইকেটে ১৮৩ রান করে কিউইরা। ফলে তিন ম্যাচের টি-টোয়েন্টি সিরিজটি ২-১ ব্যবধানে জিতে নিল স্বাগতিকরা।

    উদ্বোধনী জুটিতে ৭৬ রান করেন দুই ওপেনার পাথুম নিশাঙ্কা ও কুশল মেন্ডিস। ব্যক্তিগত ২৫ রানে ইশ সোদির শিকার হন নিশাঙ্কা। এরপর কুশল মেন্ডিসকে নিয়ে ৪৬ রানের জুটি গড়েন কুশল পেরেরা। মারমুখি ব্যাটিংয়ে ২১ বলে ৩৩ রান করেন পেরেরা।

    এরপর ক্যারিয়ারের ১৩তম অর্ধশতক তুলে ৭৬ রানে আউট হন কুশল মেন্ডিস। শেষ দিকে ধনঞ্জয়া ডি সিলভার ২০ রানে চ্যালেঞ্জিং স্কোর পায় শ্রীলঙ্কা। কিউইদের পক্ষে বেন লিস্টার দুটি এবং ইশ সোদি ও অ্যাডাম মিলনে একটি করে উইকেট নেন।

    জবাবে টিম সেফার্টের ব্যাটিংয়ে জয়ে পথে ছিল নিউজিল্যান্ড। ৪৪ বলে ৮৮ রান করেন এই ওপেনার। তার বিদায়ে হারের শঙ্কায় পড়ে স্বাগতিকরা। পরে শেষ ওভারের নাটকীয়তায় জয় পায় নিউজিল্যান্ড। শেষ ওভারে দরকার ছিল ১০ রান।

    প্রথম বলে মার্ক চাপম্যান ছক্কা হাঁকিয়ে সমীকরণ নামিয়ে আনলেন ৫ বলে ৪ রান। কিন্তু সহজ এই লক্ষ্য মেলাতে গিয়ে তালগোল পাকিয়ে ফেলে তারা। পরের টানা তিন বলে একটি ওয়াইডসহ তিন উইকেট হারায় কিউইরা। এরপরও জিততে পারেনি শ্রীলঙ্কা। এক বল বাকি থাকতে ৪ উইকেটে ম্যাচ জিতে নেয় নিউজিল্যান্ড।