Author: Hello Bangla News

  • তামিম-সাকিবদের সঙ্গে আর কাজ করবেন না ব্যাটিং কোচ জেমি সিডন্স

    তামিম-সাকিবদের সঙ্গে আর কাজ করবেন না ব্যাটিং কোচ জেমি সিডন্স

    বাংলাদেশ জাতীয় দলের সঙ্গে আর কাজ করবেন না ব্যাটিং কোচ জেমি সিডন্স। যদিও থাকছেন বিসিবির অধীনেই।

    সংক্ষিপ্ত ছুটির পর ঢাকায় ফিরেছেন বাংলাদেশ জাতীয় দলের ব্যাটিং কোচে জেমি সিডন্স। এরপরই সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে তিনি জানিয়েছেন, সাকিব আল হাসান-তামিম ইকবালদের সঙ্গে আর কাজ করবেন না। তবে সাবেক এ অস্ট্রেলিয়ান ক্রিকেটার বাংলাদেশের ডেভেলপমেন্ট পর্যায় তথা ‘এ’ দল এবং টাইগার্স টিমের হয়ে কাজ করবেন

    ১১ বছর পর গত ফেব্রুয়ারিতে দ্বিতীয় দফায় বাংলাদেশ দলের ব্যাটিং কোচ হিসেবে দায়িত্ব নিয়েছিলেন জেমি সিডন্স। কিন্তু দ্বিতীয় মেয়াদের দায়িত্বও বেশি দিন পালন করতে পারলেন না। গত কয়েক সিরিজ ধরেই ব্যাটিং কোচ হিসেবে তার ভূমিকা খুব একটা ছিল না। অবশেষে সিডন্স নিজেই জানিয়েছেন, জাতীয় দলের সঙ্গে আর কাজ করবেন না তিনি। তবে বাংলাদেশের সঙ্গে পুরোপুরি সম্পর্ক ছেদ হচ্ছে না। আপাতত তরুণ ব্যাটারদের গড়ে তোলা নিয়ে কাজ করবেন।

    নিজের ফেসবুকে সিডন্স লিখেছেন, ‘সংক্ষিপ্ত ছুটি শেষে ঢাকায় ফিরেছি। এখন আর আমি জাতীয় দলের সঙ্গে কাজ করবো না। কারণ, আমার মনে হয় বিসিবিকে সেরাটা দিতে পারবো পরবর্তী প্রজন্মের সঙ্গে কাজ করে, যেন জাতীয় দলের পাশাপাশি থাকা ক্রিকেটারদের দেখভাল ভালোভাবে করা এবং দেশের জন্য পরবর্তী সুযোগটা কাজে লাগানোর জন্য তাদের প্রতিটা দিন উন্নতি করতে ভূমিকা রাখা যায়। তরুণ ক্রিকেটারদের স্কিল নিয়ে কোচিং করাতে আমি ভালোবাসি এবং বিসিবিও এটা চায়, সেজন্যই এটা সম্ভব করতে পেরেছি।’

    অস্ট্রেলিয়ান এই কোচ আরও বলেছেন, ‘জাতীয় দলে কাজ করলে খ্যাতি বেশি এবং সেটি আমিও পছন্দ করি। কিন্তু স্কিল গড়ে তোলা, উন্নতি এবং অনুশীলন হয় নেটে এবং মিরপুরের নেটে প্রচণ্ড গরমে ঘাম ঝরিয়ে। ‘এ’ দল ও টাইগার্সের হয়ে ভবিষ্যতের ক্রিকেটারদের নিয়ে কাজ করতে মুখিয়ে আছি।’

    ২০২১ সালের ডিসেম্বরে সিডন্সকে নিয়োগ দেওয়া হয়েছিল বিসিবির ব্যাটিং পরামর্শক হিসেবে। নতুন ভূমিকাতে গত বছরের ফেব্রুয়ারিতে বাংলাদেশে আসেন তিনি। অ্যাশওয়েল প্রিন্স চলে যাওয়ায় কোচ হিসেবেই কাজ করছিলেন। এরপর গত বছরের আগস্টে বিসিবি সভাপতি নাজমুল হাসান ঘোষণা দেন সিডন্স জাতীয় দলের বাইরের ক্রিকেটারদের নিয়ে কাজ করবেন। সেই কথা অনুযায়ীই সব হচ্ছিল। মাঝে মধ্যে জাতীয় দলের ব্যাটারদের নিয়েও কাজ করছিলেন। তবে এবার স্পষ্ট করে সিডন্স জানিয়ে দিয়েছেন আর নয় জাতীয় দল।

    ২০০৭ সালের অক্টোবরে প্রথম দফায় সিডন্স বাংলাদেশ জাতীয় দলের প্রধান কোচের দায়িত্ব গ্রহণ করেন। পদত্যাগ করেন ২০১১ সালের ওয়ানডে বিশ্বকাপের পর। তার অধীনে চার বছরে বড় দলের বিপক্ষে দেশে-বিদেশে বেশ কিছু ওয়ানডে সিরিজ জেতা ছাড়াও ব্যাটিং বিভাগে তামিম-সাকিবরা যথেষ্ট উন্নতি করেছিলেন। দ্বিতীয় মেয়াদে প্রায় এক বছর দায়িত্ব পালন করে এখন তিনি এইচপি, বাংলা টাইগার্স এবং ‘এ’ দলের সঙ্গে কাজ করবেন।

  • ডিজিটাল ইকোনমিতে রাজস্ব হারাচ্ছে সরকার

    ডিজিটাল ইকোনমিতে রাজস্ব হারাচ্ছে সরকার

    গতকাল শনিবার রাজধানীর বঙ্গবন্ধু সম্মেলন কেন্দ্রে ডিজিটাল অর্থনীতি থেকে কর আদায় সংক্রান্ত এক সংলাপে এসব কথা বলা হয়। সংস্থাটির নির্বাহী পরিচালক ফাহমিদা খাতুনের সভাপতিত্বে এতে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন সম্মাননীয় ফেলো অধ্যাপক ড. মোস্তাফিজুর রহমান।

    সরকারের নীতি সিদ্ধান্তে রাজনীতিবিদদের ভূমিকা সংকুচিত হচ্ছে উল্লেখ করে সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের (সিপিডি) সম্মাননীয় ফেলো দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য বলেছেন, দিন দিন সরকার অংশীজনের সঙ্গে আলোচনা না করে নীতিগত সিদ্ধান্তগুলো নিচ্ছে। এসব সিদ্ধান্তের ফলে রাজনীতিবিদদের ভূমিকা সংকুচিত হচ্ছে। আর অংশীজনদের সঙ্গে সমঝোতা ছাড়া এসব নীতি সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন করাও কষ্টকর হয়ে যাচ্ছে।

    দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য বলেন, সরকার আইএমএফের কাছ থেকে ঋণ নেওয়ার সময় বেশ কিছু শর্ত মেনে নিয়েছে। এর মধ্যে অন্যতম হলো কর-জিডিপি অনুপাত বাড়ানো, প্রতিবছর জিডিপির দশমিক ৫ শতাংশ হারে অতিরিক্ত কর আদায়, করছাড় যৌক্তিক করা এবং কর আদায়ে প্রশাসনিক দক্ষতা বৃদ্ধি। তবে সব শর্ত আদেশ দিয়ে কার্যকর করা যাবে না।

    তিনি বলেন, ‘এসব শর্ত পূরণ করতে প্রতিষ্ঠানকে অনেক পরিশ্রম করতে হবে। তবে এই সংস্কার কার্যক্রম অনেক আগে করার কথা থাকলেও আমরা তা করতে পারিনি।’

    মূল প্রবন্ধে মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, ডিজিটাল বাংলাদেশ থেকে স্মার্ট বাংলাদেশ হবে। খুব দ্রুত দেশের অর্থনীতির একটা বড় অংশ হবে ডিজিটাল ইকোনমি। বর্তমানে বিক্ষিপ্তভাবে এ খাত থেকে রাজস্ব আদায় করা হলেও তা সামান্য। বিভিন্ন সংস্থার সমন্বয়ে একটি তথ্যভান্ডার গঠনসহ এ খাতের জন্য সুনির্দিষ্ট নীতিমালা প্রণয়নের মাধ্যমে আরও বেশি রাজস্ব আহরণের সুযোগ রয়েছে। তবে অযৌক্তিকভাবে কর আরোপ করে সম্প্রসারণশীল খাতটি যাতে মুখ থুবড়ে না পড়ে, সে বিষয়েও গুরুত্ব দিতে হবে।

    মূল প্রবন্ধে বলা হয়, ফেসবুক, গুগল, অ্যামাজনের মতো অনাবাসী প্রতিষ্ঠান থেকে মূল্য সংযোজন কর (ভ্যাট) আদায় করা হলেও আয়কর আদায় করা সম্ভব হয় না। ২০১৯ সালের জুনে হাইকোর্টকে দেওয়া বিটিআরসির তথ্য অনুযায়ী পাঁচ মোবাইল অপারেটরের মাধ্যমে বিজ্ঞাপন বাবদ এসব প্রতিষ্ঠান ৮ হাজার ৭৫০ কোটি টাকা আয় করেছে। অথচ জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের তথ্য বলছে, এ সময়ে প্রতিষ্ঠানগুলোর আয় মাত্র ১৩৩ কোটি টাকা। এ ক্ষেত্রে সঠিক তথ্য দরকার। একইভাবে ফ্রিল্যান্সারদের মাধ্যমে কী পরিমাণ অর্থ দেশে আসছে, তার সঠিক তথ্য নির্ধারণ করে যৌক্তিক কর আরোপ করার সুপারিশ করা হয়।

    মূল প্রবন্ধে আরও বলা হয়, বাংলাদেশে ২০২১ সালে ডিজিটাল অর্থনীতির আকার ছিল ৫৬০ কোটি ডলারের। ২০২২ সালে তা বেড়ে দাঁড়ায় ৬৬০ কোটি ডলার। আগামী ২০২৬ সালে এর পরিমাণ হতে পারে ১ হাজার ৫০ লাখ ডলার। দেশের কর-জিডিপির অনুপাত বাড়াতে এ খাত থেকে রাজস্ব বাড়ানোর পরামর্শ দেওয়া হয়।

    অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি অর্থ মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটির সদস্য কাজী নাবিল আহমেদ বলেন, সরকার স্মার্ট বাংলাদেশ গড়তে কাজ করছে। স্মার্ট বাংলাদেশ হলে রাজস্ব আদায় থেকে প্রশাসনিক কার্যক্রম পর্যন্ত সবকিছু অটোমেশন হবে। তখন রাজস্ব আহরণের ক্ষেত্রে স্বচ্ছতা আরও বাড়বে। একই সঙ্গে গুগল, ফেসবুক, টুইটারের মতো আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠানকে পুরোপুরি রাজস্বের আওতায় আনা যাবে।

    জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) দক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন বিশেষ অতিথি ও জাতীয় পার্টির সংসদ সদস্য আহসান আদিলুর রহমান। তিনি বলেন, বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশন (বিটিআরসি) বলছে, গুগল, ফেসবুকের মতো বহুজাতিক প্রতিষ্ঠানগুলো বাংলাদেশ থেকে বিলিয়নের বেশি টাকা নিয়ে গেছে। জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) বলছে, ১৩৩ কোটি টাকা। তাদের কাছ থেকে যথাযথ রাজস্ব আদায় জরুরি।

    সিপিডির নির্বাহী পরিচালক ফাহমিদা খাতুন বলেন, কর-জিডিপির অনুপাত বাড়াতে ডিজিটাল অর্থনীতি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তবে বাংলাদেশে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে অনেক বড় বড় কোম্পানি থাকলেও তাদের থেকে খুব বেশি রাজস্ব আসে না। এসব প্রতিষ্ঠানকে যৌক্তিকভাবে করের আওতায় আনার আহ্বান জানান তিনি।
    অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য রাখেন– সিপিডির বিশেষ ফেলো দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য, এনবিআরের সাবেক চেয়ারম্যান আবদুল মজিদ, বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব সফটওয়্যার অ্যান্ড ইনফরমেশন সার্ভিসেস (বেসিস) পরিচালক হাবিবুল্লাহ নেয়ামুল করিম, বাংলাদেশ ফ্রিল্যান্সার ডেভেলপমেন্ট সোসাইটির চেয়ারম্যান তানজিবা রহমান, ই-কমার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ই-ক্যাব) সহসভাপতি মোহাম্মদ শাহাব উদ্দিন প্রমুখ।

  • বয়স মানেই অভিজ্ঞতা

    বয়স মানেই অভিজ্ঞতা

    যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসের সবচেয়ে বয়স্ক প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন। এ নিয়ে তার প্রথম মেয়াদের নির্বাচনের সময় ব্যাপক আলোচনা হয়েছিল। একই অবস্থা এবারও। এ বছর ৮০ পেরিয়ে ৮১-তে পা রাখতে চলেছেন তিনি। শনিবার (২৯ এপ্রিল) হোয়াইট হাউসে এক প্রেস ডিনারে সাংবাদিকদের সঙ্গে নিজের বয়স নিয়ে মজা করে বাইডেন বলেন, বয়সকে আমি অভিজ্ঞতা হিসেবেই দেখি।

    দেশটির সাম্প্রতিক জরিপগুলো বলছে, বাইডেনের ওপর আর মোটেই ভরসা করতে পারছেন না ভোটাররা। এমনকি তার নিজের দলের নেতারাও।

    এ বছর ৮০ পেরিয়ে ৮১-তে পা রাখতে চলেছেন বাইডেন। এ কারণে বয়স নিয়ে সমালোচনা প্রায়ই শুনতে হচ্ছে এই প্রেসিডেন্টকে। হোয়াইট হাউজের এক প্রেস ডিনারে শনিবার সাংবাদিকদের সঙ্গে নিজের বয়স নিয়ে নিজেই কৌতুক করেন বাইডেন।  খবর ব্যাংকক পোস্টের।

    এদিকে, ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বিদেশের মাটিতে বন্দি থাকা মার্কিন সাংবাদিকদের মুক্তি বিষয়ে আলোচনা করতে এ প্রেস ডিনার আয়োজন করা হয়েছিল। সেখানে ফ্রান্সের অবসরের বয়স নিয়ে চলা বিক্ষোভকে ইঙ্গিত করে মার্কিন প্রেসিডেন্টের বয়স নিয়ে মজা করেন সাংবাদিক রয় উড।

    রয় বলেন, ‘ফরাসিরা ৬৪ বছর পর্যন্তই কাজ করতে চায় না। এদিকে আমদের ৮০ বছরের প্রেসিডেন্ট আরও এক মেয়াদ কাজ চাইছেন।’

    জবাবে বাইডেন বলেন, ‘অনেকে আমাকে বৃদ্ধ বলে। বয়সকে আমি আমার অভিজ্ঞতা হিসেবেই দেখি।’ এ সময় মিডিয়া মোগল ৯২ বছরের রুপার্ট মারডককে নিয়েও মজা করেন বাইডেন।

    তিনি বলেন, ‘অনেকেই মনে করেন আমি রুপার্ট মারডককে পছন্দ করি না। এটা সত্য নয়। এমন একজন মানুষকে কীভাবে আমি অপছন্দ করতে পারি যিনি আমাকে হ্যারি স্টাইলসের মতো বানিয়ে ফেলেছেন’?

    উল্লেখ্য, হ্যারি স্টাইলস হলেন ২৯ বছরের মার্কিন গায়ক।

    এর আগে মঙ্গলবার (২৫ এপ্রিল) যুক্তরাষ্ট্রের আগামী প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন বলে আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেন দেশটির প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন। এর মাধ্যমে তিনি মূলত দ্বিতীয়বারের মতো ডেমোক্রেটিক পার্টির প্রার্থী মনোনয়ন লড়াইয়ের প্রচারণাও শুরু করলেন।

    সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম টুইটারে এক প্রচারণা ভিডিও প্রকাশের মাধ্যমে নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতার ঘোষণা দেন বাইডেন। ওই বার্তায় গণতন্ত্র ও মানুষের মৌলিক অধিকার ও স্বাধীনতার পক্ষে লড়াইয়ের প্রত্যয় ব্যক্ত করেন তিনি।

    বাইডেন বলেন, ‘প্রতিটি প্রজন্মের একটা বিশেষ সময় থাকে যখন তাদেরকে গণতন্ত্রের পক্ষে দাঁড়াতে হয়। মানুষের মৌলিক অধিকার ও স্বাধীনতা রক্ষায় দাঁড়াতে হয়। আমার বিশ্বাস, আমরাই সেই প্রজন্ম। আর এ কারণেই আমি আবারও প্রেসিডেন্ট পদে লড়ছি।’

  • ৫০ বছরের অংশীদারিত্ব অনুষ্ঠানে যোগ দিবেন প্রধানমন্ত্রী

    ৫০ বছরের অংশীদারিত্ব অনুষ্ঠানে যোগ দিবেন প্রধানমন্ত্রী

    প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বাংলাদেশ ও বিশ্বব্যাংকের মধ্যে ৫০ বছরের অংশীদারিত্ব উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে আজ সকালে যোগ দিবেন। তিনি ডব্লিউবি’র প্রিস্টন অডিটোরিয়ামে অনুষ্ঠেয় ‘বিশ্বব্যাংক-বাংলাদেশ অংশীদারিত্বের ৫০ বছরের প্রতিফলন’ বিষয়ক পূর্ণাঙ্গ অধিবেশনে ভাষণ দিবেন।

    এ অনুষ্ঠানে অন্যান্যের মধ্যে প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিষয়ক উপদেষ্টা সজীব ওয়াজেদ, পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এ কে আব্দুল মোমেন, পরিকল্পনামন্ত্রী এম এ মান্নান এবং প্রধানমন্ত্রীর বেসরকারি শিল্প ও বিনিয়োগ উপদেষ্টা সালমান ফজলুর রহমান উপস্থিত থাকবেন।

    বিশ্বব্যাংকের প্রেসিডেন্ট ডেভিড ম্যালপাস এবং প্রতিষ্ঠানটির সাবেক প্রধান অর্থনীতিবিদ কৌসিক বসু অনুষ্ঠানে বক্তব্য দিবেন এবং সমাপনী অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখবেন বৈশ্বিক ঋণদাতা ভিপি মার্টিন।

    পরে প্রধানমন্ত্রী বিশ্বব্যাংকের ইস্ট ডাইনিং রুমে বিশ্ব ব্যাংক প্রেসিডেন্ট, এমডি এবং ভিপিদের সাথে পূর্ণাঙ্গ অধিবেশন শেষে একটি উচ্চ পর্যায়ের ব্যবসায়িক মধ্যাহ্নভোজ সভায় যোগ দিবেন।

    তিনি বিশ্ব ব্যাংকের সদরদপ্তরে শিহাতা সম্মেলন কক্ষে বিশ্ব ব্যাংকের বোর্ড সদস্যদের সাথে একটি বৈঠকে ভাষণ দিবেন।

    ওয়াশিংটন ডিসিতে ডব্লিউবি সদরদপ্তরে পৌঁছালে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে বিশ্ব ব্যাংকের বাংলাদেশের কান্ট্রি ডিরেক্টর আবদুলায়ে সেক এবং এর এসএআর ভিপি মার্টিন রাইজার ফুলের তোড়া দিয়ে স্বাগত জানাবেন।

    অনুষ্ঠানের শুরুতে বিশ্বব্যাংকের প্রেসিডেন্টের সাথে প্রধানমন্ত্রী যৌথভাবে একটি চিত্র প্রদর্শনী উদ্বোধন করবেন এবং প্রদর্শনীর কিছু মূল চিত্র ঘুরে দেখবেন।

    পরে শেখ হাসিনা একটি নৃত্য পরিবেশন প্রত্যক্ষ করবেন।

    অনুষ্ঠানে ‘বাংলাদেশ-বিশ্বব্যাংকের ৫০ বছরের অংশীদারিত্ব’ বিষয়ক একটি ভিডিও প্রদর্শন করা হবে।

    সূত্র: বাসস

  • মহান মে দিবস

    মহান মে দিবস

    বাংলাদেশে এবারের মে দিবসের প্রতিপাদ্য নির্ধারণ করা হয়েছে ‘শ্রমিক-মালিক ঐক্য গড়ি, স্মার্ট বাংলাদেশ গড়ে তুলি’।

    শ্রম ছাড়া উৎপাদন সম্ভব নয়, শ্রমের মর্যাদা ছাড়া গণতান্ত্রিক সমাজ প্রতিষ্ঠা করা সম্ভব নয়, শ্রমিকের জীবনের নিরাপত্তা ছাড়া উৎপাদনশীল মানবিক সমাজ প্রতিষ্ঠা সম্ভব নয়। শ্রম ও মেধা দিয়ে যে উৎপাদন, তা থেকেই সমাজ বিকশিত হয়, পুঁজি বিকশিত হয়। কিন্তু মানুষ যখন কৃষি থেকে বিচ্যুত হয়ে শিল্পে এসেছে, তখন থেকে পুঁজিপতিরা ক্ষুদ্র থেকে দ্রুতই বড় হতে শুরু করে এবং যে মানুষ কৃষক থেকে শ্রমিকে রূপান্তরিত হয়েছে, তারা সত্যিকার অর্থে সর্বহারা শ্রেণি হিসেবে আরো কঠিন পরিস্থিতিতে পড়ে। এই পরিস্থিতি থেকে মুক্তির পথ দেখিয়েছে মে দিবস।

    মহান মে দিবস আজ। বিশ্বব্যাপী শ্রমজীবী মানুষের আন্দোলন-সংগ্রামের স্বীকৃতির দিন। শ্রমিকদের দাবির প্রতি সম্মান জানিয়ে প্রতিবছর ১ মে সারা বিশ্বে দিবসটি পালন করা হয়। বিশ্বের অন্যান্য দেশের মতো বাংলাদেশেও গুরুত্বের সঙ্গে দিবসটি পালন করা হচ্ছে। এ উপলক্ষ্যে আজ সরকারি ছুটি। এবারের মে দিবসের প্রতিপাদ্য বিষয় ‘শ্রমিক-মালিক ঐক্য গড়ি, স্মার্ট বাংলাদেশ গড়ে তুলি।’ মহান মে দিবস উপলক্ষ্যে পৃথক বাণী দিয়েছেন রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

    ১৯৭২ সালে বঙ্গবন্ধুর উদ্যোগে ও বলিষ্ঠ নেতৃত্বে বাংলাদেশ আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থার সদস্যপদ লাভ করে এবং আইএলওর ছয়টি কোর কনভেনশনসহ ২৯টি কনভেনশন অনুসমর্থন করে। এটি একটি বিরল ঘটনা এবং শ্রমজীবী মানুষের জীবনমান উন্নয়ন ও তাদের অধিকার রক্ষায় এক অনন্য স্বীকৃতি।

    মে দিবসে বাংলাদেশসহ বিশ্বের সব শ্রমজীবী মানুষকে আন্তরিক শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানিয়ে রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন বলেন, আর্থসামাজিক উন্নয়নে বিশ্বব্যাপী শ্রমজীবী মানুষের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। শিল্প ও শ্রমবান্ধব বর্তমান সরকার শ্রমিকের সার্বিক কল্যাণসাধন ও দক্ষতা বৃদ্ধিতে নিরন্তর কাজ করে যাচ্ছে। তিনি বলেন, ২০৪১ সালের মধ্যে উন্নত ও স্মার্ট বাংলাদেশ বিনির্মাণে উন্নত কর্মপরিবেশ, শ্রমিক-মালিক সুসম্পর্ক, শ্রমিকের পেশাগত নিরাপত্তা ও সুস্থতাসহ সার্বিক অধিকার নিশ্চিতকরণের কোনো বিকল্প নেই।

    প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বাণীতে বলেছেন, মালিক-শ্রমিকের মধ্যে সৌহার্দ ও সুসম্পর্ক বজায় রাখার মাধ্যমে নিরাপদ কর্মপরিবেশ, সামাজিক নিরাপত্তা ও শ্রমিক কল্যাণ নিশ্চিত করতে বাংলাদেশ শ্রম আইন যুগোপযোগী ও আধুনিকায়ন করে ‘বাংলাদেশ শ্রম (সংশোধন) আইন-২০১৮’ প্রণয়ন করা হয়েছে। তিনি বলেন, দেশের বিভিন্ন খাতে কর্মরত শ্রমিকদের কল্যাণ নিশ্চিত করতে বাংলাদেশ শ্রমিক কল্যাণ ফাউন্ডেশন গঠন করা হয়েছে। আমরা রপ্তানিমুখী গার্মেন্টস শিল্পে কর্মরত শ্রমিক-কর্মচারীদের সার্বিক কল্যাণে আর্থিক সহায়তা প্রদানে একটি কেন্দ্রীয় তহবিল গঠন করেছি এবং সহযোগিতা অব্যাহত রেখেছি। সব সেক্টরে শ্রমিকদের বেতন-ভাতা বাড়ানো হয়েছে।’

    ১৮৮৬ সালের এই দিনে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের শিকাগো শহরের হে মার্কেটের শ্রমিকরা ৮ ঘণ্টা কাজের দাবিতে জীবন উৎসর্গ করেছিলেন। ওই দিন তাদের আÍত্যাগের মধ্যদিয়ে বিশ্বে শ্রমিক শ্রেণির অধিকার প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল। শিকাগোর হে মার্কেটে দিনে ৮ ঘণ্টা কাজের দাবিতে অধিকার প্রতিষ্ঠার আন্দোলন করতে গিয়ে কয়েকজন শ্রমিককে জীবন দিতে হয়। এরপর থেকে সারা বিশ্বে দিনটি ‘মে দিবস’ হিসাবে পালিত হয়ে আসছে।

    এ উপলক্ষ্যে জাতীয় সংসদে বিরোধীদলীয় নেতা ও জাতীয় পার্টির প্রধান পৃষ্ঠপোষক রওশন এরশাদ, জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান ও বিরোধীদলীয় উপনেতা জিএম কাদেরসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দল এবং শ্রমিক সংগঠনগুলো মে দিবসের শুভেচ্ছা জানিয়ে বিবৃতি দিয়েছে। এসব বিবৃতিতে শ্রমিকদের ন্যায্য পাওনা নিশ্চিত করা এবং অধিকার প্রতিষ্ঠার ব্যাপারে উদ্যোগ নেওয়ার আহ্বান জানানো হয়।

    দিনের তাৎপর্য তুলে ধরে জাতীয় পত্রিকায় বিশেষ ক্রোড়পত্র প্রকাশ করা হয়েছে। বাংলাদেশ টেলিভিশন, বাংলাদেশ বেতার ও বেসরকারি টিভি চ্যানেলগুলো বিশেষ অনুষ্ঠান ও টকশো সম্প্রচার করছে।

    শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে আজ বেলা ১১টায় বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে আয়োজন করা হয়েছে মে দিবসের মূল অনুষ্ঠান।

    আজ বিকালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ডাসসংলগ্ন স্বোপার্জিত স্বাধীনতা মঞ্চে মহান মে দিবস উপলক্ষ্যে বাংলাদেশ গণসংগীত সমন্বয় পরিষদ আয়োজন করেছে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান। এতে সভাপতিত্ব করেন সংগঠনের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি কাজী মিজানুর রহমান, স্বাগত বক্তব্য দেবেন সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক মানজার চৌধুরী সুইট। আলোচনায় অংশ নেবেনÑনাট্যজন মামুনুর রশিদ, লেখক ও গবেষক গোলাম কুদ্দুছ, কবি ড. মুহাম্মদ সামাদ।

    অনুষ্ঠানে গণসংগীত পরিবেশন করবে ঋষিজ শিল্পীগোষ্ঠী, বাংলাদেশ উদীচী শিল্পীগোষ্ঠী, বহ্নিশিখা।

     

  • শিশুদের খাওয়ার সময় স্ক্রীনটাইম নয়

    শিশুদের খাওয়ার সময় স্ক্রীনটাইম নয়

    সাধারণত শিশু বা ছোট বাচ্চাদের খাওয়ার সময় টিভি বা মোবাইল ডিভাইসে ভিডিও দেখাকে নিরুতসাহিত করেন গবেষকরা। এতে করে নানারকম মানসিক ও শারীরিক ক্ষতির কারন দেখা দেয়। বাবা-মা’র সচেতন হতে হবে তার শিশুকে সুন্দরভাবে বেড়ে তোলবার জন্য। যেসব ক্ষতির কারন হতে পারে তা হলো-

    > যেসব শিশু টিভি বা মোবাইল দেখে খাবার খায় তারা আগ্রহহীনভাবে খেতে থাকে। কি খাচ্ছে, কি চিবোচ্ছে সে সম্পর্কে অবগত থাকে না। এবং শরীরের প্রয়োজন মিটে গেছে কিনা সেটাও বুঝতে পারে না। এর ফলে স্থুলতা বা ক্ষুধামন্দার মতো রোগ দেখা দিতে পারে।

    > অনেক শিশু খাবার মুখে নিয়ে বসে থাকে অথবা না চিবিয়ে সরাসরি গিলে ফেলে। কারন সে জানেই না কিভাবে খাবার খেতে হয় বা খাবারকে উপভোগ করতে হয়। এতে বদহজমের মত সমস্যাও হতে পারে।

    > ২০১৮ সালের একটি গবেষণায় দেখা যায় ৫-৬ বছরের যেসব শিশু স্ক্রিনে বেশি সময় দেয় তারা শাকসবজি ফলমূল কম খায়, আর চকলেট, চিপস, জাঙ্ক ফুড খেতে বেশি পছন্দ করে।

    > দুই বছর বয়স পর্যন্ত শিশুর মস্তিষ্কের বিকাশ সবচাইতে বেশি হয়। এ সময় ডিভাইসের ব্যবহার মস্তিষ্কের স্বাভাবিক বিকাশ বাধাগ্রস্থ করে।

    > খাওয়ার সময় ডিজিটাল স্ক্রিন দেখার অভ্যাস হয়ে গেলে, এটি তাদের দীর্ঘস্থায়ী অভ্যাসে পরিণত হবে। ফলে এই অভ্যাস সহজে ছাড়ানো সম্ভব হবে না। যখন থেকেই শিশু নিজ হাতে খেতে সক্ষম হয়ে ওঠে তখন থেকেই তাদের নিজে খাওয়ার জন্য উৎসাহ দিন এবং খাওয়ার জন্য কখনোই জোর করবেন না। খিদে পেলে সে নিজেই খাওয়া শিখে নেবে।

    উপরের মূল্যবান পরামর্শগুলো আজ থেকেই আপনার শিশুর জন্য কাজে লাগান। এতে করে একটি সুন্দর জীবন গড়ে তুলতে সহজ হবে।

    তথ্যসূত্রঃ চাইল্ড হেলথ কেয়ার

  • শেষ ফ্লাইটটি ‘অত্যন্ত সফল’ হয়েছে : ব্রিটিশ পররাষ্ট্রমন্ত্রী

    শেষ ফ্লাইটটি ‘অত্যন্ত সফল’ হয়েছে : ব্রিটিশ পররাষ্ট্রমন্ত্রী

    সুদান থেকে নাগরিকদের সরিয়ে নেওয়ার অভিযান ‘অত্যন্ত সফল’ হয়েছে বলে জানিয়েছে ব্রিটিশ সরকার। ব্রিটিশ পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, শেষ ফ্লাইটটি শনিবার বাংলাদেশ সময় রাত ২টায় রাজধানী খার্তুম থেকে ছেড়ে যায়। পররাষ্ট্রমন্ত্রী অ্যান্ড্রু মিচেল বলেন, ‘এমন বিপজ্জনক পরিস্থিতিতে আমরা সেখানে আজীবন থাকতে পারি না’।

    যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্ততায় সুদানে হওয়া ৭২ ঘণ্টার যুদ্ধবিরতি শেষ হয়। সেদিন সকাল থেকেই সশস্ত্র দলগুলো খার্তুম লড়াইয়ে জড়িয়ে পড়ে। বোমারু বিমান এবং ভারী কামান আঘাত হেনেছে খার্তুমের কিছু এলাকায়। সুদানি সেনাবাহিনী দাবি করছে, আধাসামরিক বাহিনীকে হটাতে চারপাশ থেকে শহরে আক্রমণ চালাচ্ছে তারা। যুদ্ধবিরতির মধ্যেও রাজধানী খার্তুমে লড়াই অব্যাহত আছে। খার্তুমের কিছু অংশে বিমান, ট্যাংক এবং আর্টিলারি হামলা অব্যাহত রয়েছে বলে জানা গেছে। যুদ্ধে প্রায় দুই সপ্তাহের লড়াইয়ে শত শত মানুষ মারা গেছে, হাজার হাজার মানুষ দেশ ছেড়ে পালিয়েছে।

    দুই সপ্তাহ আগে সুদানে গৃহযুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে হাজার হাজার মানুষ দেশ ছেড়ে পালিয়েছে। সরকারি হিসাবে, সংঘাতে এ পর্যন্ত অন্তত ৪৫৯ জনের প্রাণহানি হয়েছে। জাতিসংঘের আশঙ্কা, সংঘর্ষ এভাবে চলতে থাকলে কয়েক হাজার মানুষ বাস্তুচ্যুত হতে পারে। এদিকে সুদানের সাবেক প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, চলমান সংঘাত সিরিয়া ও লিবিয়ার চেয়েও ভয়াবহ হতে পারে।

    উদ্ভুত পরিস্থিতে বিভিন্ন দেশ তাদের নাগরিকদের সরিয়ে নিচ্ছে। অনেকে আবার ব্যক্তিগত উদ্যোগে নৌকা বা বাসে করে প্রতিবেশী দেশে পালাচ্ছে।

    মার্কিন সরকার শনিবার সন্ধ্যায় জানায়, তারা তাদের নাগরিকদের উদ্ধার অভিযান শেষ করেছে। মার্কিন নাগরিক এবং স্থায়ী বাসিন্দাদের আগেই পোর্ট সুদানে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল। সেখান থেকে নৌকায় করে লোহিত সাগর পাড়ি দিয়ে সৌদি আরবের জেদ্দায় তাদের নিয়ে যাওয়া হচ্ছে।

    যুক্তরাজ্য সরকার বলছে, ২১টি ফ্লাইটে এক হাজার ৮৮৮ জনকে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। সুদান থেকে তারা আর উদ্ধার ফ্লাইট চালাবে না।

    নাইরোবিতে বিবিসির সঙ্গে কথা বলার সময় মিচেল বলেন, ‘এটা ঠিক যে উদ্ধার ফ্লাইট শেষ হচ্ছে। আমি মনে করি না যে খার্তুমে এমন একজনও ব্রিটিশ আছেন যিনি এসব ফ্লাইটের কথা জানেন না। এই ভয়ানক সংকটে আটকে পড়া ব্রিটিশ নাগরিকদের সাহায্য করার জন্য প্রতিটি বিকল্পের দিকে তাকিয়ে আছে সরকার’।

    সূত্র: বিবিসি 

  • পর্তুগিজ অভিধানে ‘পেলে’ এখন বিশেষণ হিসেবে যুক্ত

    পর্তুগিজ অভিধানে ‘পেলে’ এখন বিশেষণ হিসেবে যুক্ত

    ‘পেলে’ শব্দটি সবাই চেনেন নাম হিসেবে।  বিশ্বসেরা ফুটবলার তিনি। এ নামটি ধারণ করে এক ব্রাজিলিয়ান নিজেকে এমনই উচ্চতায় নিয়ে গেছেন যে ‘পেলে’ এখন বিশেষণও। আর সেটা আভিধানিকভাবেই।

    তিনটি বিশ্বকাপ জেতা একমাত্র ফুটবলার হওয়ায় তার ক্যারিয়ারে জুটেছে অনেক তকমাও। বলা হচ্ছে প্রয়াত ব্রাজিল কিংবদন্তি পেলের কথা। সেই ফুটবলারের নামটিই এখন পর্তুগিজ এক অভিধানে ব্যবহার হচ্ছে বিশেষণ হিসেবে। এখন থেকে কারও গুণ বোঝাতে ‘অসাধারণ, অতুলনীয়, অনন্য’-এর সমার্থক হিসেবে ব্যবহৃত হবে পেলের নাম। যেমন- বাস্কেটবলসেরা বোঝাতে বলা হবে তিনি বাস্কেটবলের পেলে।

    অসাধারণ এই উদ্যোগটি গ্রহণ করেছে ব্রাজিলের অন্যতম জনপ্রিয় পর্তুগিজ অভিধান মিশেলিস ডিকশনারি। তাদের অনলাইন সংস্করণে ‘পেলে’ নামটি বিশেষণ হিসেবে যুক্ত হয়েছে।

    ব্রাজিল কিংবদন্তি কোলন ক্যানসারের কাছে হার মেনে পরপারে পাড়ি জমিয়েছেন গত ডিসেম্বরে। নিজের অনন্য কীর্তিতে অমর হয়ে আছেন। তারপরও পেলের প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে বিশেষ এক ক্যাম্পেইনের আয়োজন করে পেলে ফাউন্ডেশন। সেই ক্যাম্পেইনে ১ লাখ ২৫ হাজার স্বাক্ষর জোগাড়ের পরই পেলের নামটি অভিধানে যুক্ত করা হয়েছে।

    আনুষ্ঠানিকভাবে বুধবার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন মিশেলিস ডিকশনারির প্রকাশকগণ। তারা জানিয়েছেন, অনলাইন সংস্করণে দ্রুতই নামটি বিশেষণ হিসেবে অন্তর্ভুক্ত হবে। আর প্রিন্ট কপিতে যুক্ত হবে পরবর্তী সংস্করণে।

  • কারো লাঠিয়াল না কি রাজনৈতিক দল হবে, বিএনপিকেই সে সিদ্ধান্ত নিতে হবে: তথ্যমন্ত্রী

    কারো লাঠিয়াল না কি রাজনৈতিক দল হবে, বিএনপিকেই সে সিদ্ধান্ত নিতে হবে: তথ্যমন্ত্রী

    তথ্যমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ড. হাছান মাহমুদ বলেছেন, বিএনপিকেই সিদ্ধান্ত গ্রহণ করতে হবে তারা কি সাত সমুদ্র তেরো নদীর ওপারে বসে থাকা কারো লাঠিয়াল বাহিনী হিসেবে ব্যবহৃত হবে, না কি একটি  রাজনৈতিক দল হিসেবে টিকে থাকবে। তিনি বলেন, ‘আমি মনে করি, কোনো গণমানুষের সংগঠন যদি ক্রমাগতভাবে নির্বাচন বিমুখ থাকে, নির্বাচনে অংশগ্রহণ না করে, সেই সংগঠন আর গণমানুষের সংগঠন থাকে না, কর্মীনির্ভর স্বার্থরক্ষার সংগঠন হয়ে দাঁড়ায়। আসলে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারপার্সন চান তাদের স্বার্থরক্ষার জন্য বিএনপি একটা লাঠিয়াল বাহিনী হিসেবে থাক। সে কারণেই তিনি বিএনপিকে নির্বাচনে অংশগ্রহণ করতে দিতে চান না।’

    রোববার (৩০ এপ্রিল) দুপুরে সচিবালয়ে মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে মতবিনিময়কালে সাংবাদিকরা আগামী নির্বাচনে বিএনপির অংশগ্রহণ নিয়ে প্রশ্ন করলে তিনি এ কথা বলেন।

    ঈদের পরে বিএনপির আন্দোলনের ঘোষণা প্রসঙ্গে মন্ত্রী হাছান মাহমুদ বলেন, ‘বিএনপির এ ধরণের বাগাড়ম্বর ১৪ বছর ধরে শুনে আসছি। মানুষের কাছেও এগুলো হাস্যকর কৌতুক হয়ে দাঁড়িয়েছে। বিএনপির এ ধরণের হুমকি-ধমকি তাদের কর্মীরাও বিশ্বাস করে না, আস্থাও রাখে না। গত বছর ১০ ডিসেম্বরের পর বিএনপির ভেতরে আলোচনা হচ্ছে, আন্দোলন এভাবে মাঠে মারা গেলো কেন। মাঠে মারা যাওয়া আন্দোলনকে তারা আবার জীবিত করতে পারবে না।’

    ‘আওয়ামী লীগ নির্বাচনে বিশ্বাস করে না’ বিএনপি মহাসচিবের এমন বক্তব্য খন্ডন করে সম্প্রচারমন্ত্রী বলেন, ‘বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ সবসময় নির্বাচনের মাধ্যমেই ক্ষমতায় গেছে। আমরা জনগণের শক্তিতে, জনগণের রায়ে বিশ্বাস করি। বরং বিএনপিই নির্বাচনে বিশ্বাস করে না, সে জন্য তারা নির্বাচন বর্জন করছে, ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন পর্যন্ত তারা বর্জন করেছে। তারা ২০১৪ সালের নির্বাচন বর্জন করেছে, প্রতিহত করার অপচেষ্টা চালিয়েছে। ২০১৮ সালেও তারা নির্বাচনকে প্রশ্নবিদ্ধ করার লক্ষ্যেই অংশগ্রহণ করেছিলো। বিএনপি একটি রাজনৈতিক দল, তারা নির্বাচনে অংশগ্রহণ করবে কি করবে না, সেটি তাদেরই সিদ্ধান্তের ব্যাপার।’

    বিএনপি নেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার স্বাস্থ্য নিয়ে বিএনপির সাম্প্রতিক বক্তব্য সম্পর্কিত প্রশ্নের জবাবে হাছান মাহমুদ বলেন, ‘তাদের পরিকল্পনার অংশ হচ্ছে খালেদা জিয়াকে অসুস্থ দেখানো। খালেদা জিয়া সুস্থ আছেন। কিছুদিন আগে বিএনপির নেতারা বলেছিল যে, খালেদা জিয়াকে যদি বিদেশ না নেয়া হয় তাহলে তার জীবন শঙ্কা আছে। সেটি বলার মধ্যেই আমরা দেখতে পেলাম, খালেদা জিয়া বাংলাদেশের হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়েই ভালো হয়ে চলে গেছেন এবং বলেছেন যে, তিনি খুব ভালো আছেন। বিএনপিরই আসল উদ্দেশ্য হচ্ছে খালেদা জিয়াকে অসুস্থ বানিয়ে রাখা, অসুস্থ দেখানো, রাজনৈতিক ফায়দা লাভের উদ্দেশ্যে বিএনপি সেটি করে আসছে।’

  • মে দিবসের আদর্শে অনুপ্রাণিত হয়ে জাতীয় উৎপাদন বাড়ানোর আহবান প্রধানমন্ত্রীর

    মে দিবসের আদর্শে অনুপ্রাণিত হয়ে জাতীয় উৎপাদন বাড়ানোর আহবান প্রধানমন্ত্রীর

    প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা মহান মে দিবসের আদর্শে অনুপ্রাণিত হয়ে শ্রমিক এবং মালিক পরস্পর সুসম্পর্ক বজায় রেখে জাতীয় উৎপাদন বৃদ্ধিতে নিবেদিত হওয়ার আহবান জানিয়েছেন।

    তিনি আগামীকাল মহান মে দিবস উপলক্ষ্যে আজ এক বাণীতে এ আহবান জানান।

    ‘বিশ্বের শ্রমজীবী ও মেহনতি মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠার গৌরবোজ্জ্বল ত্যাগের ঐতিহাসিক দিন মহান মে দিবস- ২০২৩’ উপলক্ষ্যে বাংলাদেশসহ বিশ্বের সকল দেশের মেহনতি মানুষকে আন্তরিক শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, দিবসটির এবারের প্রতিপাদ্য ‘শ্রমিক-মালিক ঐক্য গড়ি, স্মার্ট বাংলাদেশ গড়ে তুলি’ অত্যন্ত যথার্থ হয়েছে।

    শেখ হাসিনা ১৮৮৬ সালের ১ মে যুক্তরাষ্ট্রের শিকাগো শহরে রক্তাক্ত আন্দোলনে শ্রমিকের ন্যায্য দাবি আদায়ের লক্ষ্যে আত্মাহুতি দেওয়া বীর শ্রমিকদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করেন।

    তিনি বলেন, সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ বাঙালি জাতির পিতা, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান আজীবন শোষিত, বঞ্চিত ও শ্রমজীবী মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠার জন্য সংগ্রাম করেছেন। শোষণহীন সমাজ প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে তিনি (বঙ্গবন্ধু) ১৯৭২ সালে শ্রমনীতি প্রণয়ন এবং পরিত্যক্ত কল-কারখানা জাতীয়করণ করে দেশের অর্থনীতিকে শক্তিশালী ও শ্রমিকদের ন্যায্য অধিকার নিশ্চিত করেন।

    প্রধানমন্ত্রী বলেন, আওয়ামী লীগ সরকার জাতির পিতার পদাঙ্ক অনুসরণ করে দেশের শ্রমজীবী মানুষের জীবন-মান উন্নয়ন ও কল্যাণে বিভিন্ন কার্যক্রম বাস্তবায়ন করে যাচ্ছে।

    তিনি বলেন, মালিক-শ্রমিকের মধ্যে সৌহার্দ্য ও সুসম্পর্ক বজায় রাখার মাধ্যমে নিরাপদ কর্মপরিবেশ, সামাজিক নিরাপত্তা ও শ্রমিক কল্যাণ নিশ্চিত করতে বাংলাদেশ শ্রম আইন যুগোপযোগী ও আধুনিকায়ন করে ‘বাংলাদেশ শ্রম (সংশোধন) আইন-২০১৮’ প্রণয়ন করা হয়েছে। দেশের বিভিন্ন খাতে কর্মরত শ্রমিকদের কল্যাণ নিশ্চিত করতে বাংলাদেশ শ্রমিক কল্যাণ ফাউন্ডেশন গঠন করা হয়েছে। এই তহবিল থেকে যে কোন শ্রমিক কর্মরত অবস্থায় দুর্ঘটনাজনিত কারণে স্থায়ীভাবে অক্ষম হলে অথবা মৃত্যুবরণ করলে, জরুরি চিকিৎসা ব্যয় নির্বাহ ও দুরারোগ্য ব্যাধির চিকিৎসার জন্য এবং শ্রমিকদের সন্তানের উচ্চ শিক্ষার জন্যেও আর্থিক সহায়তা পাচ্ছেন।

    শেখ হাসিনা বলেন, ‘আমরা রপ্তানিমুখী গার্মেন্টস শিল্পে কর্মরত শ্রমিক-কর্মচারীদের সার্বিক কল্যাণে আর্থিক সহায়তা প্রদানে একটি কেন্দ্রীয় তহবিল গঠন করেছি এবং সহযোগিতা অব্যাহত রেখেছি। সব খাতে শ্রমিকদের বেতন-ভাতা বাড়ানো হয়েছে।’

    প্রধানমন্ত্রী বলেন, শ্রমিকদের সামাজিক মর্যাদা, স্বাস্থ্য ও সেইফটি নিশ্চিতকল্পে জাতীয় শ্রমনীতি-২০১২, জাতীয় শিশুশ্রম নিরসন নীতি-২০১০, জাতীয় পেশাগত স্বাস্থ্য ও সেইফটি নীতিমালা-২০১৩, বাংলাদেশ শ্রম বিধিমালা-২০১৫ এবং গৃহকর্মী সুরক্ষা ও কল্যাণ নীতি-২০১৫ প্রণয়ন করা হয়েছে, যা বিশ্ব দরবারে বাংলাদেশকে স্থিতিশীল শিল্পসম্পর্ক এবং উদীয়মান অর্থনীতির দেশ হিসেবে  প্রমাণ করতে সক্ষম হয়েছে।

    তিনি বলেন,‘আমাদের সরকারের আন্তরিক প্রচেষ্টার ফলে আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থার সঙ্গে বাংলাদেশের সম্পর্ক এবং কার্যক্রম আরো সুদৃঢ় হয়েছে। শিল্প-কারখানায় কমপ্লায়েন্স নিশ্চিত করতে কল-কারখানা ও প্রতিষ্ঠান পরিদর্শন পরিদপ্তরকে অধিদপ্তরে উন্নীত করা হয়েছে। শ্রমিক ও তাদের পরিবারের কল্যাণে বিভিন্ন সেবার সম্প্রসারণ ও জোরদারকরণে আমরা শ্রম পরিদপ্তরকে সম্প্রতি অধিদপ্তরে রূপান্তরিত করেছি।’

    প্রধানমন্ত্রী বলেন, শ্রমিক ভাই-বোনদের যেকোন সমস্যা সংক্রান্ত অভিযোগ গ্রহণ, অভিযোগ নিষ্পত্তি ও প্রয়োজনীয় পরামর্শ প্রদানের জন্য সার্বক্ষণিক টোল ফ্রি হেল্প লাইন (১৬৩৫৭) চালু করা হয়েছে। শিল্প কারখানায় বিশেষ করে গার্মেন্টস শিল্পে নিরাপত্তা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে যথাযথ পরিদর্শন ও মনিটরিং ব্যবস্থা চলমান রয়েছে।

    নারী শ্রমিকদের নিরাপদ আবাসন ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে চট্টগ্রামের কালুরঘাটে এবং নারায়ণগঞ্জের বন্দরে দুইটি বহুতল শ্রমজীবী মহিলা হোস্টেল নির্মাণ করা হয়েছে। এছাড়াও শ্রমিকদের জন্য শোভন কর্মপরিবেশ নিশ্চিত করার প্রয়াসের অংশ হিসেবে রাজশাহীতে জাতীয় পেশাগত স্বাস্থ্য ও নিরাপত্তা বিষয়ক গবেষণা এবং প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউট নির্মাণ করা হচ্ছে।

    তিনি বলেন, ‘করোনা মহামারির সময়ে আমাদের সরকার শ্রমজীবী মানুষের পাশে থেকে ত্রাণ বিতরণসহ সর্বাত্মক কার্যক্রম পরিচালনা করেছে’। রপ্তানিমুখী পোশাক এবং চামড়াজাত পণ্য ও পাদুকা শিল্পে কোভিড-১৯ প্রাদুর্ভাবের কারণে কর্মহীন হয়ে পড়া ও দুস্থ শ্রমিকদের আর্থিক সহায়তাও  প্রদান করা হয়।

    শেখ হাসিনা বলেন, ‘আমি বিশ্বাস করি, মহান মে দিবসের আদর্শে অনুপ্রাণিত হয়ে শ্রমিক এবং মালিক পরস্পর সুসম্পর্ক বজায় রেখে জাতীয় উৎপাদন বৃদ্ধিতে নিবেদিত হবেন। আমরা শ্রমজীবী মানুষের কল্যাণ ও দেশের সার্বিক উন্নয়নের মধ্য দিয়ে জাতির পিতার স্বপ্নের উন্নত-সমৃদ্ধ সোনার বাংলাদেশ গড়ে তুলবো, ইনশাল্লাহ।’
    প্রধানমন্ত্রী ‘মহান মে দিবস-২০২৩’ উপলক্ষ্যে গৃহীত সকল কর্মসূচির সর্বাঙ্গীণ সাফল্য কামনা করেন।

    সূত্র : বাসস