Author: Hello Bangla News

  • প্রধানমন্ত্রী বড় বিনিয়োগের আহ্বান করেছেন মার্কিন ব্যবসায়ীদের কাছে

    প্রধানমন্ত্রী বড় বিনিয়োগের আহ্বান করেছেন মার্কিন ব্যবসায়ীদের কাছে

    প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা মঙ্গলবার মার্কিন ব্যবসায়ী সম্প্রদায়কে বাংলাদেশের নবায়নযোগ্য জ্বালানি, জাহাজ নির্মাণ, অটোমোবাইল এবং ফার্মাসিউটিক্যালে ব্যাপকভাবে বিনিয়োগ করার আহ্বান জানিয়েছেন এবং শুধুমাত্র মার্কিন বিনিয়োগকারীদের জন্য একটি নিবেদিত ‘বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চল’ রাখার প্রস্তাব পুনর্ব্যক্ত করেছেন

    বলেন, ‘আমি আপনাদেরকে আমাদের নবায়নযোগ্যযোগ্য জ্বালানি, জাহাজ নির্মাণ, অটোমোবাইল, ফার্মাসিউটিক্যালস, হালকা ও ভারী যন্ত্রপাতি, রাসায়নিক সার, আইসিটি, সামুদ্রিক সম্পদ এবং চিকিৎসা সরঞ্জাম ইত্যাদিসহ অনেক গতিশীল ও সম্ভাবনাময় খাতগুলোতে বিনিয়োগ করার জন্য আমন্ত্রণ জানাচ্ছি।’

    বাংলাদেশে সুযোগ অন্বেষণ ও বিনিয়োগের জন্য যুক্তরাষ্ট্রের ব্যবসায়ী নেতাদের প্রতিও আহ্বান জানান প্রধানমন্ত্রী।

    তিনি ‘ইউএস-বাংলাদেশ ইকোনমিক পার্টনারশিপ: শেয়ার্ড ভিশন ফর স্মার্ট গ্রোথ’ শীর্ষক উচ্চ পর্যায়ের এক্সিকিউটিভ বিজনেস গোলটেবিলের মূল বক্তব্য উপস্থাপনের সময় একথা বলেন।

     বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী অনুষ্ঠানে ইউএস বাংলাদেশ আইটি কানেক্ট পোর্টাল উদ্বোধন করেন।

    ইউএস-বাংলাদেশ বিজনেস কাউন্সিল এখানে ইউএস চেম্বার অব কমার্স ওয়াশিংটন, ডিসির গ্রেট হলে এই অনুষ্ঠানের আয়োজন করে।

    প্রধানমন্ত্রী আশা প্রকাশ করেন যে, যুক্তরাষ্ট্র-বাংলাদেশ বিজনেস কাউন্সিল আমাদের দুই বন্ধুপ্রতিম দেশের মধ্যে বাণিজ্য ও বিনিয়োগ সহযোগিতা এগিয়ে নিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে।

    তিনি বলেন, ‘২০৪১ সালের মধ্যে একটি উন্নত, সমৃদ্ধ ও স্মার্ট বাংলাদেশ গড়ার লক্ষ্যে আমাদের যাত্রায় অংশীদার হিসেবে আমাদের সাথে থাকার জন্য আমি আজকে এখানে আপনাদের আহ্বান জানাচ্ছি।’

    তিনি বলেন, বাংলাদেশের মাথাপিছু আয় বৃহত্তর প্রতিবেশীদের তুলনায় বেশি।

    তিনি আরো বলেন, ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক ফোরাম বাংলাদেশকে নারীর ক্ষমতায়নে শীর্ষ দক্ষিণ এশিয়ার শীর্ষ দেশ হিসেবে এবং বিশ্বব্যাপী নারীর রাজনৈতিক ক্ষমতায়নে শীর্ষ দশটি দেশের মধ্যে স্থান দিয়েছে।

    প্রধানমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশ ১৭ কোটি জনসংখ্যার বাজার এবং এর ভৌগোলিক অবস্থান ৩ বিলিয়ন জনসংখ্যার বাজারের কেন্দ্রে রয়েছে।

    তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশ এখন এই অঞ্চলে ও এর বাইরেও বাণিজ্য ও বিনিয়োগের জন্য একটি আদর্শ জায়গা হিসাবে আবির্ভূত হয়েছে। আমাদের ভৌত, আইনি এবং আর্থিক অবকাঠামো উন্নত করা হচ্ছে।

    প্রধানমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশ ১৭ কোটি জনসংখ্যার বাজার এবং এর ভৌগোলিক অবস্থান ৩ বিলিয়ন জনসংখ্যার বাজারের কেন্দ্রে রয়েছে।

    তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশ এখন এই অঞ্চলে ও এর বাইরেও বাণিজ্য ও বিনিয়োগের জন্য একটি আদর্শ জায়গা হিসাবে আবির্ভূত হয়েছে। আমাদের ভৌত, আইনি এবং আর্থিক অবকাঠামো উন্নত করা হচ্ছে।’

    প্রধানমন্ত্রী উল্লেখ করেছেন যে, অবকাঠামোতে বিনিয়োগের মাধ্যমে সামগ্রিক প্রবৃদ্ধি ধরে রাখার জন্য সরকারের প্রচেষ্টা সারা দেশে দৃশ্যমান।

    তিনি বলেন, ‘বৃহৎ পদ্মা নদীর উপর গত বছর আমরা নিজস্ব অর্থায়নে আমাদের দীর্ঘতম সেতুর নির্মাণ সম্পন্ন করেছি, যা এখন আঞ্চলিক উন্নয়নের একটি গুরুত্বপূর্ণ নজির।’

    প্রধানমন্ত্রী বলেন, তার সরকার মেট্রোরেলও নির্মাণ করেছে, গভীর সমুদ্রবন্দরসহ বন্দরের অবকাঠামো উন্নত করেছে। এগুলো অভ্যন্তরীণ ও আঞ্চলিক সংযোগ বাড়িয়েছে।

    প্রধানমন্ত্রী বলেন, তার সরকার মেট্রোরেলও নির্মাণ করেছে, গভীর সমুদ্রবন্দরসহ বন্দরের অবকাঠামো উন্নত করেছে। এগুলো অভ্যন্তরীণ ও আঞ্চলিক সংযোগ বাড়িয়েছে।

    তিনি আরো বলেন, ‘আমাদের জলবায়ু দায়িত্বশীল প্রবৃদ্ধি নীতি, শ্রম সংস্কার, এবং শ্রম নিরাপত্তা মান উন্নয়ন প্রশংসার দাবিদার।’

    প্রধানমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশ গর্বিত যে ইউএস গ্রিন বিল্ডিং কাউন্সিল (ইউএসজিবিসি) দ্বারা প্রত্যায়িত বিশ্বের শীর্ষ ১০০টি সবুজ পোশাক কারখানার মধ্যে ৫৩টি বাংলাদেশে। তিনি আরো বলেন যে বাংলাদেশ ২০২৬ সালে ‘স্বল্পোন্নত’ থেকে ‘উন্নয়নশীল’ দেশে পরিণত হবে।

    তিনি বলেন, ‘এর জন্য, আমাদের বৈশ্বিক প্রতিযোগিতা বাড়াতে এবং রপ্তানি ভিত্তি প্রসারিত করতে আমাদের সমর্থন প্রয়োজন হবে।’

    সূত্র : বাসস

  • প্রধানমন্ত্রীর আলোচনার আহ্বানে ঘটনাস্থল ত্যাগ করে বিএনপি-জামায়াত সমর্থকরা

    প্রধানমন্ত্রীর আলোচনার আহ্বানে ঘটনাস্থল ত্যাগ করে বিএনপি-জামায়াত সমর্থকরা

    প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা মঙ্গলবার (ওয়াশিংটন ডিসি) তাঁর বিরুদ্ধে রিটজ কার্লটন হোটেলের বাইরে বিক্ষোভরত একদল বিএনপি-জামায়াত সমর্থককে আলোচনার জন্য আহ্বান জানালে তারা ঘটনাস্থল ত্যাগ করে চলে যায়।

    এখানে রিটজ কার্লটন হোটেলের হলরুমে যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশী প্রবাসীদের পক্ষ থেকে প্রধানমন্ত্রীকে নাগরিক সংবর্ধনা দেয়া হয়।

    পরে প্রধানমন্ত্রীর স্পিচরাইটার এম নজরুল ইসলাম এক সংবাদ ব্রিফিংয়ে বলেন, ‘বিএনপি-জামায়াত সমর্থকদের সমস্যা নিয়ে তাদের সাথে কথা বলার জন্য প্রধানমন্ত্রী আগ্রহ প্রকাশ করার পরই তারা হোটেলের বাইরে তাদের অবস্থান ত্যাগ করে।’

    বাংলাদেশ-ডব্লিউবি অংশীদারিত্বের ৫০ বছর পূর্তি উপলক্ষে বিশ্বব্যাংকের একটি অনুষ্ঠানে যোগ দিতে ২৮ এপ্রিল শেখ হাসিনা ওয়াশিংটন ডিসি পৌঁছান।

    মুখপাত্র বলেন, নাগরিক সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে যোগ দিতে আসার সময় প্রধানমন্ত্রী হোটেলের বাইরে প্রচন্ড ঠান্ডা ও বৃষ্টির মধ্যে বিএনপি-জামায়াতের একটি গ্রুপকে বিক্ষোভ প্রদর্শন করতে দেখতে পেয়ে তিনি তাদের প্রতিনিধিদের সাথে কথা বলার ইচ্ছা প্রকাশ করেন।

    প্রধানমন্ত্রীর উদ্ধৃতি দিয়ে তিনি বলেন, ‘শেখ হাসিনা বলেছেন, তারা যা বলতে চায়, এখানে এসে তাদের তা বলতে দাও।’

    বিক্ষোভকারীদের হোটেলে নিয়ে যাওয়ার প্রয়োজনীয় অনুমতি পাওয়ার পরে প্রধানমন্ত্রীর পিএস-২ এবং সেখানকার বাংলাদেশ মিশনের আরও একজন কর্মকর্তা তাদের হোটেলে আমন্ত্রণ জানাতে যান।

    সূত্র : বাসস

  • অনুবাদ করুন ছবির ভিতরের লেখা

    অনুবাদ করুন ছবির ভিতরের লেখা

    বিশ্বের প্রায় সব দেশের মানুষ গুগল ট্রান্সলেটর ব্যবহার করেন। বিশ্বের প্রায় ১৩০টি ভাষায় যে কোনো লেখা অনুবাদ করা যায় এর মাধ্যমে। এমনকি এতে আছে ভয়েস টাইপিংয়ের সুবিধা। এছাড়াও যে কোনো লেখার ছবি তুলেও সেটি অনুবাদ করতে পারবেন। সোশ্যাল নেটওয়ার্কিং সাইটগুলি ব্রাউজ করার সময় ছবিগুলিতে লেখা শব্দগুলি অনুবাদ করা একটি সহজ এবং সহজ জিনিস হয়ে উঠেছে যখন আপনি বোধগম্য ছবি বা ভাষার মুখোমুখি হন যা আপনি যে ভাষায় কথা বলেন তার থেকে আলাদা, বা আপনি কোনও জায়গায় আছেন বা বিদেশে ভ্রমণ করছেন। এটি অনুবাদ করা সহজ হয়ে উঠেছে।

    বাছাই করা ডিফ্যল্ট ভাষা থেকে যে কোনো ভাষায় অনুবাদ করা যাবে। শুধু এক ভাষা থেকে অন্য ভাষাতে অনুবাদই নয়, টেক্সট কপি ও ডাউনলোডের অপশনও রয়েছে গুগল ট্রান্সলেটে।

    যা করতে হবে-
    > ডেস্কটপে গুগল ট্রান্সলেট ওয়েবসাইট খুলুন।
    > বাঁ দিকে ইমেজ ট্যাবে ক্লিক করুন।
    > যে ইমেজের টেক্সট অনুবাদ করতে চান, সেটি সিলেক্ট করুন।
    > কম্পিউটার থেকে জেপিজি, জেপিইজি, বা পিএনজি ছবি ট্রান্সলেশনের জন্য আপলোড করুন।
    > অরিজিনাল ও ট্রান্সলেট করা ইমেজগুলো নিজের স্ক্রিনে দেখতে পারবেন আপনি।

  • বৃষ্টিতে পরিত্যক্ত বাংলাদেশ-শ্রীলঙ্কা দ্বিতীয় ম্যাচটাও

    বৃষ্টিতে পরিত্যক্ত বাংলাদেশ-শ্রীলঙ্কা দ্বিতীয় ম্যাচটাও

    শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে তিন ম্যাচ ওয়ানডে সিরিজের প্রথম ম্যাচে মাঠে বল গড়ালেও ফল পায়নি বাংলাদেশ। বৃষ্টির কারণে ভেসে গিয়েছিলো সেই ম্যাচ। স্বাগতিক শ্রীলঙ্কা নারী দলের বিপক্ষে তিন ম্যাচ ওয়ানডে সিরিজের দ্বিতীয় ম্যাচে মঙ্গলবার মুখোমুখি হওয়ার কথা ছিল নিগার সুলতানাদের। কলম্বোর পাকিয়াসোথি সারাভানামুতু স্টেডিয়ামে বাংলাদেশ সময় সকাল ১০টা ৩০ মিনিটে শুরু হওয়ার কথা ছিল ম্যাচটি। তবে ম্যাচটি পরিত্যক্ত হয়েছে বৃষ্টির কারণে। ফলে প্রথম ওয়ানডের পর বাংলাদেশ ও শ্রীলঙ্কার দ্বিতীয় ওয়ানডেতেও কোনো ফলাফল আসেনি। এখন বৃহস্পতিবার বাংলাদেশ সময় সকাল সাড়ে ১০টায় তৃতীয় ও শেষ ম্যাচেই সিরিজের ভাগ্য নির্ধারিত হবে। এবার কোনো বল না হয়েই বাংলাদেশ ও শ্রীলঙ্কার দ্বিতীয় নারী ওয়ানডে ম্যাচটিও পরিত্যক্ত হলো বৃষ্টিতে।

    প্রথম ওয়ানডেতে কলম্বোর পি সারা ওভালে টস জিতে প্রথমে ব্যাটিংয়ে নেমেছিল স্বাগতিক শ্রীলঙ্কা। ৩৬.৪ ওভার শেষে ৬ উইকেটে ১৫২ রান তোলার পরই নামে বৃষ্টি। পরে আর সেই ম্যাচ শুরু করা যায়নি। সোমবার রাত থেকেই শুরু হয়েছিল এ বৃষ্টি। যা চলছিল মঙ্গলবার সকাল নাগাদ। মাঠের চার পাশেই থৈ থৈ করছিল পানি, ক্রিকেটাররা হোটেল থেকেই আসতে পারেননি মাঠে। একসময় বৃষ্টি না থামায় এবং মাঠ খেলার উপযোগী তৈরি না হওয়ায় দ্বিতীয় ওয়ানডেকে পরিত্যক্ত করতে বাধ্য হন ম্যাচ রেফারি।

    এর আগে বৃষ্টির কারণে সিরিজের প্রথম ওয়ানডে ম্যাচও পরিত্যক্ত হয়েছিল। কলম্বোর একই স্টেডিয়ামে সেই ম্যাচে টস জিতে প্রথমে ব্যাটিং করতে নেমে স্বাগতিক শ্রীলঙ্কা ৩৬ দশমিক ৪ ওভার ব্যাট করতে পেরেছিল। এই ওভারের মধ্যে ৬ উইকেট হারিয়ে ১৫২ রান সংগ্রহ করেছিল শ্রীলঙ্কা।

    এরপর শুরু হয় বৃষ্টি বাঁধা। পরবর্তীতে সেই বাঁধা কাটিয়ে আর খেলা মাঠে গড়ায়নি। যে কারণে ম্যাচটি পরিত্যক্ত হয়ে যায়। সেই ম্যাচে বল হাতে বাংলাদেশের পক্ষে বাঁ-হাতি স্পিনার নাহিদা আকতার ছিলেন উজ্জ্বল। কেননা এই স্পিনার ৭ ওভার বল করে ২৪ রান দিয়ে সংগ্রহ করেন ৩ উইকেট নেন। ১টি করে উইকেট নেন জাহানারা আলম, সুলতানা খাতুন ও ফাহিমা খাতুন।

    প্রথমবারের মতো শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে দ্বিপাক্ষিক ওয়ানডে সিরিজ খেলছে বাংলাদেশ নারী দল। এই সিরিজটি আইসিসি উইমেন্স চ্যাম্পিয়নশিপের অন্তর্ভূক্ত। ওয়ানডে সিরিজ শেষে পর শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে ৯ মে থেকে তিন ম্যাচের টি-টোয়েন্টি সিরিজ খেলবে সফরকারীরা।

  • যুক্তরাষ্ট্র হস্তক্ষেপ করবে না বাংলাদেশের নির্বাচনে: বেদান্ত প্যাটেল

    যুক্তরাষ্ট্র হস্তক্ষেপ করবে না বাংলাদেশের নির্বাচনে: বেদান্ত প্যাটেল

    বাংলাদেশের নির্বাচন বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্র হস্তক্ষেপ করবে না বলে জানিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দফতরের উপপ্রধান মুখপাত্র বেদান্ত প্যাটেল। তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশের নির্বাচন কীভাবে হবে তা নির্ধারণ করবে জনগণ।’

    ওয়াশিংটনে স্থানীয় সময় সোমবার মার্কিন পররাষ্ট্র দফতরের এক ব্রিফিংয়ে সময় সংবাদের ওয়াশিংটন প্রতিনিধি দস্তগীর জাহাঙ্গীরের এক প্রশ্নের জবাবে এ কথা বলেন তিনি।

    যুক্তরাষ্ট্র বাংলাদেশের গণতন্ত্রের গুরুত্বপূর্ণ সহযোগী। বাংলাদেশ দ্রুতই একটি জাতীয় নির্বাচনের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে। যুক্তরাষ্ট্র এ পরিস্থিতিকে কীভাবে দেখছে, যেখানে একটি দল নির্বাচনে অংশ নিতে চাইছে না। অথচ পরবর্তীতে বলতে পারে, নির্বাচন সুষ্ঠু ও অবাধ হয়নি-সময় সংবাদের এমন প্রশ্নের জবাবে পররাষ্ট্র দপ্তরের উপ-প্রধান মুখপাত্র বলেন, বাংলাদেশে যুক্তরাষ্ট্র একটি অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন চায়, যেখানে বাংলাদেশি জনগণের মতামতের প্রতিফলন ঘটবে। তবে যুক্তরাষ্ট্র বাংলাদেশের নির্বাচনে হস্তক্ষেপ করবে না।

    যুক্তরাষ্ট্র ও বাংলাদেশের মধ্যকার সম্পর্ক আরও শক্তিশালী হবে উল্লেখ করে বেদান্ত প্যাটেল আরও বলেন, যুক্তরাষ্ট্র ও বাংলাদেশ গত বছর কূটনৈতিক সম্পর্কের ৫০ বছর উদ্‌যাপন করেছে এবং সেই সম্পর্ক সামনে এগিয়ে নেয়ার ব্যাপারে ওয়াশিংটন আরও মনযোগী।

    তিনি আরও বলেন, ‘আমাদের দুই দেশের মধ্যে সহযোগিতার ব্যাপক সুযোগ ও সম্ভাবনা রয়েছে। জলবায়ু বলেন, অর্থনীতি বলেন ও মানবিক সহায়তা বলেন প্রভৃতি ক্ষেত্রে একসঙ্গে কাজ করছে দুই দেশ।

    মার্কিন পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এ বক্তব্য এমন সময়ে এলো যখন বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা যুক্তরাষ্ট্র সফর করছেন। এ সফরকালে এরই মধ্যে বাংলাদেশের অন্যতম প্রধান উন্নয়ন সহযোগী আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ)-এর ব্যবস্থাপনা পরিচালক ক্রিস্টালিনা জর্জিয়েভা তার সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছেন।

    এ সাক্ষাৎকালে বাংলাদেশের অভূতপূর্ব অগ্রগতির প্রশংসা করে ক্রিস্টালিনা জর্জিয়েভা বলেছেন, সব প্রতিবন্ধকতা মোকাবিলা করে সমৃদ্ধির পথে এগিয়ে যেতে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার মতো নেতৃত্ব প্রয়োজন।

    রোববার (৩০ এপ্রিল) ওয়াশিংটনে দ্য রিটজ-কার্লটন হোটেলের সভাকক্ষে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠকে একটি প্রতিনিধিদলের নেতৃত্ব দেন আইএমএফ প্রধান। বৈঠক শেষে পররাষ্ট্রমন্ত্রী এ কে আব্দুল মোমেন সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের বিস্তারিত জানান।

    আইএমএফ প্রধান বলেন, ‘বাংলাদেশ বিশ্বের একটি রোল মডেল… শেখ হাসিনার গতিশীল নেতৃত্বে দেশটি বিভিন্ন ক্ষেত্রে নজিরবিহীন অগ্রগতি করেছে। সব প্রতিবন্ধকতা মোকাবিলা করে তাই সমৃদ্ধির পথে এগিয়ে যেতে তার (শেখ হাসিনা) মতো নেতৃত্ব প্রয়োজন।’ জর্জিয়েভা করোনা মহামারির সময়েও বাংলাদেশের সামষ্টিক অর্থনীতিতে স্থিতিশীলতা বজায় রাখার প্রশংসা করেন।

    ব্যাপক অবকাঠামোগত উন্নয়ন, সংযোগ স্থাপন এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় বাংলাদেশ উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি অর্জন করেছে বলেও উল্লেখ করেন ক্রিস্টালিনা জর্জিয়েভা। বৈঠকে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী দেশের সার্বিক উন্নয়ন নিশ্চিত করতে তার সরকারের উদ্যোগ সম্পর্কে আইএমএফ প্রধানকে অবহিত করেন। তিনি বলেন, দেশের উন্নয়ন একদিনে হয়নি; বরং এটা দীর্ঘদিনের পরিকল্পনার ফল।

    সংবাদ সম্মেলনে বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর আবদুর রউফ তালুকদার, অর্থ বিভাগের সিনিয়র সচিব ফাতিমা ইয়াসমিন এবং অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগের সচিব শরিফা খান উপস্থিত ছিলেন।

  • বাংলাদেশকে ধ্বংস করার জন্য ২-৩টা রাজনৈতিক দল খুব চেষ্টা করছে: আইনমন্ত্রী

    বাংলাদেশকে ধ্বংস করার জন্য ২-৩টা রাজনৈতিক দল খুব চেষ্টা করছে: আইনমন্ত্রী

    বিএনপি-জামায়াত থাকলে বাংলাদেশ ধ্বংস হয়ে যাবে বলে মন্তব্য করেছেন আইনমন্ত্রী আনিসুল হক। তিনি বলেন, বাংলাদেশকে ধ্বংস করার জন্য ২-৩টা রাজনৈতিক দল খুব চেষ্টা করছে।

    ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আখাউড়ায় মনিয়ন্দ ইউনিয়নের শৌনলোহঘর প্রাথমিক বিদ্যালয় এবং তুলাই শিমুল উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে আজ মঙ্গলবার পৃথক পথসভায় বক্তৃতায় তিনি এসব কথা বলেন।

    জনগণকে সজাগ থাকার আহবান জানিয়ে মন্ত্রী বলেন, আমি বিশ্বাস করি, বাংলাদেশের মানুষ তাদের ষড়যন্ত্র প্রতিহত করবে এবং ছিন্নভিন্ন করে দেবে।

    তুলাই শিমুল উচ্চ বিদ্যালয় মাঠের পথসভায় আইনমন্ত্রী বলেন, শেখ হাসিনা থাকলেই বাংলাদেশের উন্নয়ন হবে। বিএনপি-জামায়াত থাকলে বাংলাদেশ ধ্বংস হয়ে যাবে।

    তিনি বলেন, বাংলাদেশকে বিশ্বে উন্নয়নের রোল মডেল হিসেবে ধরা হয়। জননেত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে আমরা আরও উন্নত হতে চাই।

    দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে নিজ নির্বাচনী এলাকা আখাউড়ায় আজ দিনভর গণসংযোগ করেন আইনমন্ত্রী। এ সময় তিনি বেশ কয়েকটি পথসভায় অংশ নেন। এসব পথসভায় নৌকা মার্কায় ভোট দেওয়ার আহবান জানিয়ে আনিসুল হক বলেন, আওয়ামী লীগকে ভোট দিয়ে আবারও শেখ হাসিনাকে প্রধানমন্ত্রী নির্বাচিত করলে বাংলাদেশের উন্নয়ন অব্যাহত থাকবে।

    এ সময় আখাউড়া উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি মোহাম্মদ আলী চৌধুরী, সাধারণ সম্পাদক ও পৌর মেয়র মো. তাকজিল খলিফা কাজল, কসবা উপজেলা চেয়ারম্যান চেয়ারম্যান রাশেদুল কায়সার জীবন, কসবা পৌরসভার মেয়র এম.জি হাক্কানি, মনিয়ন্দ ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মাহবুবুল আলম চৌধুরী দীপক, আখাউড়া উপজেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক মনির হোসেন বাবুল, যুবলীগের যুগ্ম আহবায়ক আব্দুল মমিন বাবুল, তুলাই শিমুল উচ্চ বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটি সভাপতি মো. লুৎফুর রহমান প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

    এর আগে আইনমন্ত্রী সকাল সাড়ে ১০টায় মনিয়ন্দ ইউনিয়ন পরিষদ চত্ত্বরে পথসভার মাধ্যমে গণসংযোগ শুরু করেন। পরে বেলা সাড়ে ৩টা পর্যন্ত তিনি মনিয়ন্দ ইউনিয়নের ৯টি পথসভায় যোগ দেন।

  • ওমিক্রম ও ডেল্টা মোকাবিলায় ১১ লাখ বাইভেলেন্ট ভ্যাক্সিন পাওয়া গেছে : স্বাস্থ্যমন্ত্রী

    ওমিক্রম ও ডেল্টা মোকাবিলায় ১১ লাখ বাইভেলেন্ট ভ্যাক্সিন পাওয়া গেছে : স্বাস্থ্যমন্ত্রী

    স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রী জাহিদ মালেক বলেছেন, করোনা ভাইরাস প্রতিরোধের পাশাপাশি ওমিক্রম ও ডেল্টা ভাইরাস মোকাবিলার জন্য সম্প্রতি আরো ১১ লাখ বাইভেলেন্ট ভ্যাক্সিন হাতে এসেছে।

    তিনি বলেন, ‘বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা এই ১১ লাখ ভ্যাক্সিন বাংলাদেশ সরকারকে দিয়েছে। খুব শীঘ্রই আরো ২০ লাখ বাইভেলেন্ট ভ্যাক্সিন দেবে বলেও জানিয়েছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা। শীঘ্রই এই ভ্যাক্সিনগুলো বুস্টার ডোজ হিসেবে দেয়া শুরু করা হবে।’

    স্বাস্থ্যমন্ত্রী আজ মঙ্গলবার দুপুরে সচিবালয়ে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে সার্বজনীন স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিতকরণের পথ পরিক্রমায় স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের অদম্য যাত্রায় “জাতীয় স্বাস্থ্য ও কল্যাণ দিবস-২০২৩” উদযাপন উপলক্ষে আয়োজিত সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে একথা জানান।

    বৈকালিক স্বাস্থ্যসেবা প্রসঙ্গে জাহিদ মালেক বলেন, বর্তমানে দেশের ৫১টি সরকারি হাসপাতালে রোগীরা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের কাছ থেকে বৈকালিক স্বাস্থ্যসেবা পাচ্ছেন। এই সেবায় আমরা লক্ষ্য করেছি, দেশের মানুষ খুশি হয়েছে। চিকিৎসকরাও খুশি মনে চিকিৎসা সেবা দিচ্ছেন। এজন্য এই সেবার আরও পরিধি বাড়ানো হচ্ছে। আগামী সপ্তাহের মধ্যেই আরও ১০০ হাসপাতালে এ সেবা চালু করা হবে।

    স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের প্রতিষ্ঠালগ্নের কথা বলতে গিয়ে স্বাস্থ্যমন্ত্রী জানান, ২ মে ১৯৭১ সালের তৎকালীন কোলকাতার থিয়েটার রোডে প্রথম যাত্রা শুরু হয় আজকের স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের। একারণেই ২ মে জাতীয় স্বাস্থ্য ও কল্যাণ দিবস-২০২৩ পালন করা হচ্ছে।

    স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের কর্মকান্ড তুলে ধরতে গিয়ে তিনি জানান, স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের জন্মলগ্ন থেকে ৫২ বছর হয়ে গেছে। এর মধ্যে সরকারি হাসপাতালে ৬০ হাজার বেড, ৪৫ হাজার নার্স, ৩৩ হাজার চিকিৎসক রয়েছে। এছাড়া, সারা দেশে ১৮ হাজার ক্লিনিক সুবিধা রয়েছে, যার মধ্যে ১৪ হাজার কমিউনিটি ক্লিনিক।

    জাহিদ মালেক বলেন, সব ওষুধ বর্তমানে দেশেই উৎপাদন হচ্ছে। সরকারি ৩৭টি ও বেসরকারি ৭২টি মেডিকেল কলেজ হয়েছে। স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউট করা হয়েছে ১৫টি। সব মিলিয়ে গত ৫২ বছরে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের অর্জন বলে শেষ করা যাবে না।

    স্বাস্থ্য অধিপ্তরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ডাঃ আবুল বাশার মোহাম্মদ খুরশীদ আলমের সভাপতিত্বে সভায় স্বাস্থ্য সেবা বিভাগের সচিব ড. মুঃ আনোয়ার হোসেন হাওলাদার, স্বাস্থ্য শিক্ষা ও পরিবার কল্যাণ বিভাগের সচিব মোঃ আজিজুর রহমান, পরিবার পরিকল্পনা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক সাহান আরা বানু এনডিসি, স্বাস্থ্য শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. মোঃ টিটো মিঞা প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

    সূত্র : বাসস

  • প্রধানমন্ত্রী বাংলাদেশের মসৃণ উত্তরণের জন্য বিশ্বব্যাংকের সহায়তা চেয়েছেন

    প্রধানমন্ত্রী বাংলাদেশের মসৃণ উত্তরণের জন্য বিশ্বব্যাংকের সহায়তা চেয়েছেন

    প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আজ উন্নয়নশীল দেশ হয়ে ওঠার পথে বাংলাদেশের মসৃণ উত্তরণ, পরবর্তীতে উচ্চ-মধ্যম আয়ের দেশ হিসেবে উত্তরণ লাভ এবং এর ডেল্টা প্ল্যান-২১০০ বাস্তবায়নের জন্য বিশ্বব্যাংকের সহযোগিতা বৃদ্ধি করার আহ্বান জানিয়েছেন।

    তিনি বলেছেন, “বাংলাদেশ ২০২৬ সালে জাতিসংঘের এলডিসি মর্যাদা থেকে মসৃণ ও টেকসই উত্তরণ লাভের জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছে। আমি বিশ্বব্যাংককে আমাদের মানব পুঁজি ও প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতা উন্নয়ন কর্মসূচিগুলিকে একটি মসৃণ উত্তরণের জন্য সহায়তা দেয়ার জন্য অনুরোধ করছি। সে লক্ষ্যে গুরুত্বপূর্ণ আইডিএ উইন্ডোটি সংরক্ষণ ও অব্যাহত রাখা প্রয়োজন।”

    এখানে বিশ্বব্যাংক সদর দপ্তরের প্রিস্টন অডিটোরিয়ামে অনুষ্ঠিত “বিশ্বব্যাংক-বাংলাদেশ অংশীদারিত্বের ৫০ বছরের প্রতিফলন” শীর্ষক পূর্ণাঙ্গ অধিবেশনে ভাষণ দেওয়ার সময় প্রধানমন্ত্রী বিশ্বব্যাংকের সামনে পাঁচটি সুনির্দিষ্ট পরামর্শ রেখেছেন যা বিশ্বব্যাংক ঋণদাতাদের বিবেচনায় নেয়া উচিত।

    অনুষ্ঠানে পাঁচটি প্রকল্প বাস্তবায়নে বাংলাদেশ ও বিশ্বব্যাংকের মধ্যে ২ দশমিক ৫ বিলিয়ন (আড়াই বিলিয়ন) ডলারের একটি চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়।

    এ সময় প্রধানমন্ত্রী বিশ্বব্যাংকের প্রেসিডেন্টের কাছে পদ্মা বহুমুখী সেতুর একটি ছবি তুলে দেন।
    তিনি বলেন, ২০৪১ সালের মধ্যে উচ্চ আয়ের অর্থনীতিতে পরিণত হওয়ার লক্ষ্য বাস্তবায়নের জন্য বাংলাদেশ অবকাঠামো ও লজিস্টিকসে বিনিয়োগ অব্যাহত রাখবে।

    প্রধানমন্ত্রী বলেন, “আমি আশা করব বিশ্বব্যাংক আগামী বছরগুলোতে আমাদের ভৌত ও সামাজিক উভয় খাতে মেগা-প্রকল্পগুলোতে সম্পৃক্ত হবে।”

    তিনি বলেন, বাংলাদেশ ২০৩১ সালের মধ্যে উচ্চ-মধ্যম আয়ের দেশে পরিণত হওয়ার জাতীয় আকাঙ্খার সঙ্গে জাতিসংঘের এসডিজির সমন্বয় করেছে।

    শেখ হাসিনা বলেন, “এসডিজি বাস্তবায়নের জন্য বিশ্বব্যাংক ও অন্যান্য উন্নয়ন সহযোগীদের বর্ধিত, ছাড় দেয়া এবং উদ্ভাবনী অর্থায়নের জরুরি প্রত্যাশা রয়েছে।”

    প্রধানমন্ত্রী উল্লেখ করেছেন যে, মহামারী, সশস্ত্র সংঘাত এবং জলবায়ু জরুরি অবস্থার কারণে চলমান বৈশ্বিক একাধিক সংকট বেশিরভাগ উন্নয়নশীল অর্থনীতিগুলোকে  গুরুতর চাপের মধ্যে ফেলেছে।

    তিনি বলেন, মহামারী ও সশস্ত্র সংঘাত থেকে উদ্ভূত একাধিক সংকট সত্ত্বেও, কিছু উন্নয়ন অংশীদার তাদের ঋণের খরচ এবং সুদের হার বাড়িয়েছে।

    প্রধানমন্ত্রী বলেন, “আমি বিশ্বব্যাংক ও অন্যান্য উন্নয়ন অংশীদারদেরকে কার্যকর বিকল্প খুঁজে বের করার আহ্বান জানাচ্ছি যাতে আমাদের অর্থনীতিগুলো উদ্ভুত চ্যালেঞ্জগুলি আরও ভালভাবে মোকাবেলা করতে পারে।”

    তিনি বলেন, বাংলাদেশ আশা করে যে, জলবায়ু সংক্রান্ত কর্মকা-ে বিশ্বব্যাংকের বর্ধিত সম্পৃক্ততা প্যারিস চুক্তির অধীনে অর্থায়নের ঘাটতি পূরণে সহায়তা করবে।

    প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, “আমরা জলবায়ু প্রশমন ও অভিযোজনের মধ্যে অর্থায়নের সমান বণ্টনের ওপর জোর দেব।”

    শেখ হাসিনা বলেন, বাংলাদেশ দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও প্রস্তুতিতে বিশ্বব্যাপী রোল-মডেল হিসেবে আবির্ভূত হয়েছে এবং আগাম সতর্কতা ব্যবস্থা, দুর্যোগ-সহিষ্ণু অবকাঠামো এবং সম্প্রদায় ভিত্তিক পদক্ষেপের ক্ষেত্রে প্রচুর বিনিয়োগ করেছে।

    তিনি বাংলাদেশকে জলবায়ু অভিযোজনের একটি জীবন্ত গবেষণাগার হিসেবে বর্ণনা করেন যেখানে বেশ কিছু প্রকৃতি-ভিত্তিক ও কৌশলগত সমাধান রয়েছে। প্রধানমন্ত্রী বাংলাদেশ ডেল্টা প্ল্যান ২১০০ এর অধীনে প্রকল্পগুলি বাস্তবায়নে আমাদের সাথে যোগ দেয়ার জন্য বিশ্বব্যাংক ও অন্যান্য উন্নয়ন সহযোগীদের আমন্ত্রণ জানান।”

    রোহিঙ্গা ইস্যুতে প্রধানমন্ত্রী বলেন, মিয়ানমারে তাদের নিরাপদ, মর্যাদাপূর্ণ ও স্বেচ্ছায় প্রত্যাবাসন নিশ্চিত করতে তারা জাতিসংঘ ও অন্যান্য আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলোর সঙ্গে কাজ করে যাচ্ছে, কিন্তু আজ পর্যন্ত একজন রোহিঙ্গাও ফিরে যায়নি।

    তিনি বলেন, “বিস্তৃত অঞ্চলের জন্য ক্রমবর্ধমান নিরাপত্তার প্রভাবের পাশাপাশি পরিস্থিতি আমাদের জন্য ক্রমেই কঠিন হয়ে উঠছে। আমি বিশ্বব্যাংককে আমাদের মানবিক প্রচেষ্টায় যোগদানের জন্য এবং রোহিঙ্গা ও তাদের সম্প্রদায়ের জন্য ৫৯০ মিলিয়ন ডলার অনুদানের জন্য ধন্যবাদ জানাই।”

    শেখ হাসিনা বলেন, বাংলাদেশ গত চার দশকে মিয়ানমার থেকে জোরপূর্বক বাস্তুচ্যুত রোহিঙ্গাদের আশ্রয় দিয়েছে এবং ২০১৭ সালের আগস্ট মাসে ব্যাপক নৃশংসতার পর থেকে তাদের সংখ্যা ১.২ মিলিয়নে পৌঁছেছে।

    শেখ হাসিনা বলেন, পদ্মা সেতু নির্মাণ নিয়ে বাংলাদেশ সরকারের বিরুদ্ধে দুর্নীতির মিথ্যা অভিযোগ আনা হয়েছিলো।

    প্রধানমন্ত্রী বলেন, নিজের ভাগ্য গড়তে নয়, দুঃস্থ মানুষের মুখে হাসি ফোটানোর জন্য তিনি ক্ষমতা গ্রহণ করেছেন।

    ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট বাবা-মা এবং তিন ভাইসহ সবকিছু হারিয়ে দেশবাসীকে পাশে পেয়ে তিনি দেশবাসীকে শুভেচ্ছা জানান।

    প্রধানমন্ত্রী বলেন যে, তাঁকে তাঁর জীবনের অনেক ঝুঁকির মুখোমুখি হতে হয়েছে, তবে তিনি কখনই মাথা নত করেননি।

    তিনি বলেন, ‘আমি কখনো মাথা নিচু করে দেশবাসীকে অসম্মান করতে চাই না।’
    প্রধানমন্ত্রী দেশবাসীকে স্মরণ করিয়ে দিয়ে বলেন, বাঙালি একটি বিজয়ী জাতি, আমরা বিজয়ী জাতি হিসেবে মাথা উঁচু করে এগিয়ে যেতে চাই।

    তিনি বলেন, বাংলাদেশের অব্যাহত ও অভূতপূর্ব উন্নয়ন সাধিত হয়েছে, কারণ তার আশেপাশে থাকা লোকদের কঠোর পরিশ্রম, আন্তরিকতা ও নিষ্ঠার সাথে কাজ করার কারণে এবং সে সাথে রয়েছে দেশের জনগণের অটুট সমর্থন।

    প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি (আইসিটি) বিষয়ক উপদেষ্টা সজীব আহমেদ ওয়াজেদ, পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এ কে আবদুল মোমেন, পরিকল্পনামন্ত্রী এম এ মান্নান এবং প্রধানমন্ত্রীর বেসরকারি শিল্প ও বিনিয়োগ উপদেষ্টা সালমান ফজলুর রহমানসহ অন্যরা উপস্থিত ছিলেন।

    বিশ্বব্যাংকের প্রেসিডেন্ট ডেভিড ম্যালপাস এবং এর প্রাক্তন প্রধান অর্থনীতিবিদ কৌসিক বসু অনুষ্ঠানে বক্তৃতা করেন এবং বৈশ্বিক ঋণদাতা ভিপি মার্টিন সমাপনী বক্তব্য রাখেন।

    শেখ হাসিনা বলেন, তিনি বিশ্বব্যাংকের সঙ্গে বাংলাদেশের অংশীদারিত্বের ৫০ বছর উপলক্ষ্যে সবার সাথে যোগ দিতে পেরে আনন্দিত।

    তিনি বলেন, “আমি প্রেসিডেন্ট মালপাসকে তার আমন্ত্রণ ও আতিথেয়তার জন্য ধন্যবাদ জানাই। বিশ্বব্যাংকে অনেক বাংলাদেশীকে নিয়োজিত দেখে আমি আনন্দিত।” তিনি আরো বলেন, বাংলাদেশ নির্বিঘে এগিয়ে যেতে থাকবে।

    প্রধানমন্ত্রী বলেন, বিশ্বব্যাংক একটি নেতৃস্থানীয় উন্নয়ন অংশীদার হিসেবে বাংলাদেশকে ধারাবাহিকভাবে সহায়তা করে আসছে। বিশ্বব্যাংক চলমান আইডিএ কর্মসূচির অধীনে বাংলাদেশের জন্য বর্তমান বৈদেশিক সহায়তার প্রায় ৩২ শতাংশ অবদান রাখে।

    তিনি আরো বলেন, “এছাড়া, আইএফসি এবং এমআইজিএ আমাদের বেসরকারী খাতকেও সহায়তা করছে।”

    শেখ হাসিনা বলেন, “এখানে (বিশ্বব্যাংক) আমার উপস্থিতি ইঙ্গিত দেয় যে, আমরা বিশ্বব্যাংকের প্রতি আমাদের আস্থা বজায় রেখেছি। আগামী দুই দশকে আমাদের সাফল্য নির্ভর করবে আমাদের সম্মিলিত সক্ষমতা এবং ন্যায়সঙ্গত ও টেকসই উপায়ে উদীয়মান চ্যালেঞ্জগুলি অতিক্রম করার প্রচেষ্টার উপর”।

    প্রধানমন্ত্রী বলেন, তার পিতা জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের দূরদর্শী নেতৃত্বে ১৯৭১ সালে বাংলাদেশ একটি স্বাধীন জাতি হিসেবে আত্মপ্রকাশ করে।

    তিনি বলেন, বঙ্গবন্ধু জাতীয়তাবাদ, গণতন্ত্র, সমাজতন্ত্র এবং ধর্মনিরপেক্ষতাকে আমাদের সংবিধানে মৌলিক রাষ্ট্রীয় নীতি হিসেবে গ্রহণ করেছিলেন। তার নৃশংস হত্যাকা-ের পর, জাতিকে সঠিক পথে ফিরিয়ে আনতে আমাদের দীর্ঘ ২১ বছরের গণতান্ত্রিক সংগ্রাম করতে হয়েছে।

    তিনি বলেন,  ২০০৯ সালে ক্ষমতা গ্রহন তার সরকার ২০২১ সালের মধ্যে একটি ‘ডিজিটাল বাংলাদেশ’ গড়ার অঙ্গীকার করে।

    তিনি বলেন, “টানা তিন মেয়াদে জনগণ ও দেশের সেবা করার সুযোগ লাভের জন্য আমি আমাদের জনগণের কাছে কৃতজ্ঞ। গত দেড় দশকে, রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা ও সুষ্ঠু সামষ্টিক অর্থনৈতিক মৌলিক বিষয়গুলির জন্য বাংলাদেশে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন ঘটেছে।”

    প্রধানমন্ত্রী বলেন, ২০১৫ সালে, বিশ্বব্যাংক বাংলাদেশকে নিম্ন-মধ্যম আয়ের দেশ হিসাবে শ্রেণীবদ্ধ করেছে এবং ২০২১ সালে, জাতিসংঘ এটিকে দ্বিতীয়বারের মতো এলডিসি মর্যাদা থেকে উত্তরণ লাভের যোগ্য ঘোষণা করেছে।

    শেখ হাসিনা বলেন, বাংলাদেশ ২৬.৯ বিলিয়ন মার্কিন ডলার মূল্যের অর্থনৈতিক উদ্দীপনা প্যাকেজ এবং বিনামূল্যের গণ টিকাদানের মাধ্যমে সফলভাবে কোভিড-১৯ মহামারী মোকাবেলা করেছে।

    তিনি বলেন, “আমাদের নিজস্ব সম্পদে পদ্মা বহুমুখী সেতুর সমাপ্তি এবং গত বছর এর উদ্বোধন সম্ভবত আমাদের সহনশীলতা ও সাফল্য অর্জনের সেরা উদাহরণ।”

    শেখ হাসিনা উল্লেখ করেন যে, বাংলাদেশ আজ বিশ্বের ৩৫তম বৃহত্তম অর্থনীতি হিসাবে আবির্ভূত হয়েছে, যার জিডিপি ৪৬০ বিলিয়ন মার্কিন ডলার।

    তিনি বলেন, “আমাদের অর্থনীতি গত এক দশকে গড়ে ৬ শতাংশ হারে বৃদ্ধি পাচ্ছে। মহামারীর ঠিক আগে এটি ৮.১৫ শতাংশে পৌঁছেছে। এর ফলে ২০২২ সালে মাথাপিছু আয় ২,৮২৪ মার্কিন ডলারে পৌঁছেছে।

    প্রধানমন্ত্রী বলেন, ২০২২ সালে সার্বিক দারিদ্র্যের হার ১৮.৭ শতাংশে নেমে এসেছে যা ২০০৬ সালে ছিল ৪১.৫ শতাংশ।

    তিনি বলেন, তার সরকার সামাজিক সুরক্ষার জন্য জাতীয় বাজেট বরাদ্দ ৪০ গুণ বাড়িয়েছে, যা জিডিপির ২.৫ শতাংশ।

    শেখ হাসিনা বলেন, তার সরকার এক বছর আগে সর্বজনীন পেনশন স্কিম চালু করার সিদ্ধান্ত ঘোষণা করেছে।

    প্রধানমন্ত্রী বলেন, সরকার বিনা খরচে সকল গৃহহীন ও ভূমিহীন মানুষকে আবাসন প্রকল্পের আওতায় আনার জন্য কাজ করে যাচ্ছেন।

    শেখ হাসিনা বলেন, “আশ্রয়ণ প্রকল্পের অধীনে, আমরা প্রায় ৫০ লাখ মানুষকে বিনা খরচে বাড়ি দিয়েছি এবং আয়সংস্থানমূলক দক্ষতা ও সহায়তা দিয়েছি।” প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, তার সরকার প্রতিটি বাড়ির দোরগোড়ায় স্বাস্থ্যসেবা এবং বিদ্যুৎ পৌঁছে দিয়েছে।

    তিনি বলেন, বাংলাদেশের শ্রমশক্তিতে নারীদের অংশগ্রহণের হার আমাদের আঞ্চলিক দেশগুলোর তুলনায় বেশি।

    শেখ হাসিনা বলেন, “আমাদের সরকার সম্প্রতি আমাদের জাতীয় জিডিপিতে নারীদের গৃহস্থালির কাজ প্রতিফলিত করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।”

    প্রধানমন্ত্রী বলেন, তারা বাংলাদেশকে একটি আঞ্চলিক সংযোগ, বিমান ও লজিস্টিক হাব হিসেবে গয়ে তোলার বিষয়টিকে গুরুত্ব দেয়।

    তিনি বলেন, “আমরা ১০০টি বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চল প্রতিষ্ঠার লক্ষ্য নির্ধারণ করেছি, যা ২০৩০ সালের মধ্যে আনুমানিক দশ মিলিয়ন কর্মসংস্থান সৃষ্টি করবে। বাংলাদেশ ইতিমধ্যেই বিশ্বব্যাপী সরবরাহ শৃঙ্খলে একটি নির্ভরযোগ্য অংশীদার হিসাবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেছে। বিশ্বের শতাধিক সেরা সবুজ কারখানার অর্ধেকেরও বেশি এখন বাংলাদেশে রয়েছে।

    প্রধানমন্ত্রী বলেন, তার সরকার ২০৪১ সালের মধ্যে একটি ‘স্মার্ট বাংলাদেশ’ গড়ে তোলার জন্য তার পরবর্তী রূপকল্প চালু করেছে যার লক্ষ্য ডিজিটালভাবে নাগরিকদের ক্ষমতায়িত করা; চেহারাহীন সরকারি সেবা প্রদান; একটি জ্ঞান-ভিত্তিক নগদ অর্থ লেনদেনহীন অর্থনীতি; এবং একটি অধিকার-ভিত্তিক ন্যায়সঙ্গত এবং অন্তর্ভুক্তিমূলক সমাজ।

    সূত্র : বাসস

  • রোহিঙ্গা সমস্যা সমাধানে ভারতকে অধিকতর কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের আহ্বান রাষ্ট্রপতির

    রোহিঙ্গা সমস্যা সমাধানে ভারতকে অধিকতর কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের আহ্বান রাষ্ট্রপতির

    রাষ্ট্রপতি মো: সাহাবুদ্দিন জোরপূর্বক বাস্তচ্যুত রোহিঙ্গাদের তাদের দেশ মায়ানমারে দ্রুত প্রত্যাবাসনে ভারতকে অধিকতর কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের আহ্বান জানিয়েছেন।

    আজ দুপুরে বঙ্গভবনে রাষ্ট্রপতির সাথে ঢাকায় নিযুক্ত ভারতের হাইকমিশনার প্রণয় কুমার ভার্মার সৌজন্য সাক্ষাৎকালে তিনি এ আহবান জানান ।

    রাষ্ট্রপতি বলেন, বাংলাদেশ মানবিক কারণে রোহিঙ্গাদের আশ্রয় দিলেও তাদের অবস্থান শুধু বাংলাদেশেই নয়, পুরো অঞ্চলের জন্য সমস্যা তৈরী করছে। রাষ্ট্রপতির প্রেস সচিব মোঃ জয়নাল আবেদীন বাসসকে একথা জানান।

    বাংলাদেশ ভারতকে সবচেয়ে ঘনিষ্ঠ এবং গুরুত্বপূর্ণ প্রতিবেশী বিবেচনা করে উল্লেখ করে রাষ্ট্রপতি এই সম্পর্ককে “দৃঢ় ও অনন্য” বলে অভিহিত করেন ।

    রাষ্ট্রপতি সাহাবুদ্দিন জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নেতৃত্বে বাংলাদেশের মহান স্বাধীনতা যুদ্ধে ভারতের জনগণ ও সরকারের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকার কথা কৃতজ্ঞতার সাথে স্মরণ করেন।

    বীর মুক্তিযোদ্ধা শাহাবুদ্দিন ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধে ভারতে অবস্থাকালীন প্রশিক্ষণ গ্রহণ ও মুক্তিযুদ্ধের অংশগ্রহণের কথাও তুলে ধরেন।

    বাংলাদেশে ভারতের রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীর সফর এবং বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর ভারত সফরের কথা উল্লেখ করে রাষ্ট্রপতি বলেন, এরফলে দু’দেশের সম্পর্কে নতুন অধ্যায়ের সূচনা হয়েছে।

    বাংলাদেশ ভারতের সাথে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ককে বিশেষ গুরুত্ব প্রদান করে উল্লেখ করে, রাষ্ট্রপতি সাহাবুদ্দিন বলেন, “চট্টগ্রাম ও মোংলা বন্দর ব্যবহারের জন্য যে চুক্তি হয়েছে তাতে দু’ দেশের ব্যবসা-বাণিজ্য বৃদ্ধির পাশাপাশি আর্থ-সামাজিক উন্নয়নও ত্বরান্বিত হবে।”

    গত ২৪ এপ্রিল বাংলাদেশের চট্টগ্রাম ও মোংলা বন্দর ব্যবহার করে নিজ দেশে পণ্য পরিবহণের বাণিজ্যিক অনুমতি পেয়েছে ভারত।

    এর আগে ২০১৮ সালে ভারতে এসিএমপি (চট্টগ্রাম এবং মংলা পোর্ট) চুক্তি স্বাক্ষর করে ঢাকা ও দিল্লি। এর আওতায় ভারতকে চট্টগ্রাম ও মোংলা বন্দর ব্যবহার করে নিজ দেশে পণ্য পরিবহণের অনুমতি দেয় বাংলাদেশ।

    পানি বন্টন চুক্তিসহ দু’দেশের অমীমাংসিত ইস্যুগুলো পারস্পরিক সহযোগিতা ও আলোচনার মাধ্যমে অচিরেই সমাধান হবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন রাষ্ট্রপতি।

    ভারতের হাইকমিশনার বলেন, তার দেশ বাংলাদেশের সাথে সম্পর্ক উন্নয়নকে বিশেষ গুরুত্ব দেয়।  গত দেড় দশকে দু’দেশের মধ্যে কানেক্টিভিটি অনেক বৃদ্ধি পেয়েছে। উভয় দেশের জনগণ তার সুফল ভোগ করছে।

    সন্ত্রাসবাদ ও জঙ্গিবাদের বিরুদ্ধে বাংলাদেশ সরকারের “জিরো টলারেন্স নীতির প্রশংসা করে তিনি বলেন, এর ফলে এ অঞ্চলে স্থিতিশীলতা এসেছে যা দুদেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নে ইতিবাচক অবদান রাখছে।

    সাক্ষাৎকালে রাষ্ট্রপতির সচিবগণ এবং ডেপুটি হাইকমিশনার বিনয় জর্জও উপস্থিত ছিলেন।

    সূত্র : বাসস

  • ফোকাস এবং স্মৃতিশক্তি বাড়াতে ৫টি ব্রেন ফুড

    ফোকাস এবং স্মৃতিশক্তি বাড়াতে ৫টি ব্রেন ফুড

    শরীরের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অংশ মস্তিষ্ক৷ মাথাই মানুষের ভাবনাচিন্তাকে নিয়ন্ত্রণ করে৷ বোধবুদ্ধি তৈরি করে মস্তিষ্কই৷ ধারালো মস্তিষ্ক হলে সব সময় পরিস্থিতি থাকে নিয়ন্ত্রণে। জীবনে তুঙ্গ সাফল্য পাওয়া যায়। প্রখর স্মৃতিশক্তি মানুষকে অন্যদের থেকে আলাদা করে। মস্তিষ্ক সুস্থ থাকলেই স্মৃতিশক্তি ঠিক থাকে৷ বুদ্ধি শান দিতে দরকার ডায়েট। যা কম বয়স থেকেই শুরু করতে হবে। বড় বয়সেও খাওয়া যেতে পারে।

    বর্তমান জীবনযাত্রায় প্রতিদিনই চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হতে হয়। স্কুল-কলেজ হোক বা অফিস-আদালত-যা সামলানোর জন্য দরকার ক্ষুরধার মস্তিষ্ক৷ ডায়েটে এমন জিনিস রাখুন যা মানসিক চাপ কমায় এবং বুদ্ধি শাণিত করতে পারে৷ মস্তিষ্ককে তীক্ষ্ণ করতে এমন কিছু বিশেষ খাবার আছে যেগুলি খেলে স্মৃতিশক্তি বৃদ্ধি পায়, মস্তিষ্কের শক্তি বাড়াতেও সাহায্য করে। চলুন জেনে নেওয়া যাক কী কী খাবেন-

    কুমড়োর বীজ- কুমড়ার বীজ ফেলে দেবেন না কারণ এগুলি সুপারফুড হিসেবে কাজ করে। কুমড়োর বীজ মস্তিষ্ককে তীক্ষ্ণ করতে খুবই সহায়ক৷ কুমড়োর বীজে নানা ধরনের অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট পাওয়া যায় যা মস্তিষ্কের ফ্রি র‍্যাডিক্যাল দূর করে। ফ্রি র‍্যাডিক্যালের কারণে মস্তিষ্কের কোষ ক্ষতিগ্রস্ত হয়৷ মস্তিষ্কের কোষ ক্ষতিগ্রস্ত হতে শুরু করলে স্মৃতিশক্তি দুর্বল হয়ে পড়ে।

    হলুদ- হলুদে কারকিউমিন যৌগ পাওয়া যায় যার মধ্যে প্রদাহরোধী গুণ থাকে৷ হলুদের নানা ঔষধি গুণ রয়েছে। কারকিউমিন রক্ত এবং মস্তিষ্কের মধ্যে বাধা কমায়৷ ফলে বুদ্ধি ক্ষুরধার হয়।

    বাদাম- বাদাম সম্পর্কে সকলেই জানেন। বাদাম মস্তিষ্কের কার্যকারিতা বাড়ায়৷ বাদাম হার্টের স্বাস্থ্যের উন্নতি করে। একটি গবেষণায় দেখা গিয়েছে, নিয়মিত বাদাম খেলে প্রাপ্তবয়স্কদের স্মৃতিহ্রাসের ঝুঁকি হ্রাস করে। বাদামে উপস্থিত স্বাস্থ্যকর ফ্যাট, অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট এবং ভিটামিন ই-এর মতো পুষ্টিগুণ মস্তিষ্কে বার্ধক্যের প্রভাব কমায়।

    ব্লুবেরি- এটি ঔষধি ফল। নানা ধরনের অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট রয়েছে যা প্রদাহ কমায়। মস্তিষ্কের ক্ষমতা বাড়াতে এই ফল খুবই কার্যকরী। ব্লুবেরিতে অ্যান্থোসায়ানিন যৌগ পাওয়া যায় যা অ্যান্টি-ইনফ্লেমেটরি এবং অ্যান্টিঅক্সিডেন্টে ভরপুর। অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট থাকায় অক্সিডেটিভ স্ট্রেস মস্তিষ্কে তৈরি হয় না৷ প্রদাহ কমায়। সেই সঙ্গে কমে মস্তিষ্কে বার্ধক্যের প্রভাব

    ডার্ক চকোলেট- ডার্ক চকোলেটে ক্যাফেইন এবং অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট রয়েছে যা মস্তিষ্কের কার্যকারিতা সক্রিয় করে। তবে দুধ দিয়ে তৈরি চকোলেটে এই সুবিধা নেই। চকোলেটের ফ্ল্যাভোনয়েড মস্তিষ্কের সেই অংশগুলিকে সক্রিয় করে যা শেখার এবং স্মৃতির সঙ্গে সম্পর্কিত।

    তথ্যসূত্রঃ হেলথ.হার্ভার্ড.এডু অ্যান্ড হেলথলাইন