Author: Hello Bangla News

  • ৩ বিলিয়ন ডলার ঋণ সহায়তা পাচ্ছে বাংলাদেশ

    ৩ বিলিয়ন ডলার ঋণ সহায়তা পাচ্ছে বাংলাদেশ

    সহজ শর্তে বাংলাদেশকে তিন বিলিয়ন মার্কিন ডলার ঋণ দেবে দক্ষিণ কোরিয়া। বাংলাদেশি মুদ্রায় যা (প্রতি ডলার ১০৬ টাকা ধরে) ৩১ হাজার ৮০০ কোটি টাকা।  মেট্রোরেল নির্মাণসহ অন্য প্রকল্পেও এই ঋণ ব্যবহার করা যাবে। বাংলাদেশ ও দক্ষিণ কোরিয়ার মধ্যে একটি ফ্রেমওয়ার্ক অ্যারেঞ্জমেন্ট সই হয়েছে। বৃহস্পতিবার (৪ মে) ঢাকার দক্ষিণ কোরিয়ার দূতাবাস এ তথ্য জানায়।

    দক্ষিণ কোরিয়ার ইনচিওনে সই হওয়া এই ফ্রেমওয়ার্কের আওতায় ২০২৩-২০২৭  সাল পর্যন্ত অর্থনৈতিক উন্নয়ন সহযোগিতা তহবিল (ইডিসিএফ ) থেকে ৩ বিলিয়ন মার্কিন ডলার ঋণ সহায়তা দেওয়া হবে।

    দক্ষিণ কোরিয়ায় অনুষ্ঠিত এশীয় উন্নয়ন ব্যাংকের (এডিবি) বোর্ড অব গভর্নরসের ৫৬তম বার্ষিক সাধারণ সভা উপলক্ষে এই চুক্তি সই হয়।

    কোরিয়ার অর্থনীতি ও অর্থ বিভাগের প্রথম উপমন্ত্রী কিসুন বাং এবং অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগের (ইআরডি) সচিব শরিফা খান নিজ নিজ পক্ষে চুক্তিতে সই করেন।

    এই উপলক্ষে ঢাকা এমআরটি লাইন-৪ এবং আরও দুটি প্রকল্পের জন্য ইডিসিএফ লোন এগ্রিমেন্ট (সিএনজি বাস কেনা এবং রেলওয়ে সিগন্যালিং সিস্টেমের আধুনিকীকরণ) বিষয়ে সমঝোতা স্মারক সই করেন সংশ্লিষ্ট প্রতিনিধিরা।

    দুই পক্ষের সই করা চুক্তিটি কোরিয়া সরকারের পক্ষ থেকে আগামী পাঁচ বছরের জন্য বাংলাদেশ সরকারকে ৩ বিলিয়ন মার্কিন ডলার পর্যন্ত ছাড়ে ঋণ দেওয়ার আইনি ভিত্তি হিসেবে কাজ করবে।

    সেই অনুযায়ী ইডিসিএফ ঋণ পরিশোধের সময়কাল হবে ১৫ বছরের গ্রেস পিরিয়ডসহ ৪০ বছর। আর বার্ষিক সুদের হার হবে ০.০১-০.০৫ শতাংশ।

    প্রকল্পগুলো ভবিষ্যতে দুই সরকারের মধ্যে ঘনিষ্ঠ আলোচনার মাধ্যমে চিহ্নিত করা হবে। নতুন ফ্রেমওয়ার্ক অ্যারেঞ্জমেন্ট সইয়ের  মাধ্যমে বাংলাদেশ সারা বিশ্বে দক্ষিণ কোরিয়ার অফিসিয়াল ডেভেলপমেন্ট এইডের দ্বিতীয় বৃহত্তম প্রাপক হয়ে উঠেছে।

    দক্ষিণ কোরিয়া প্রজাতন্ত্রের সরকার বাংলাদেশের সঙ্গে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক এবং বাংলাদেশের উজ্জ্বল ভবিষ্যতের পরিপ্রেক্ষিতে যথেষ্ট পরিমাণে সহায়তা বাড়ানোর সাহসী সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

    ঢাকায় নিযুক্ত দক্ষিণ কোরিয়ার রাষ্ট্রদূত লি জ্যাং কিউন  বলেন, দুই দেশের মধ্যে কূটনৈতিক সম্পর্কের ৫০তম বার্ষিকীতে একটি নতুন ইডিসিএফ ফ্রেমওয়ার্ক অ্যারেঞ্জমেন্ট সই বিশেষভাবে অর্থবহ। রেয়াতযোগ্য ঋণ যথেষ্ট পরিমাণ বাড়ানোর ফলে দক্ষিণ কোরিয়া বাংলাদেশে মেগা প্রকল্পে সহায়তা করতে সক্ষম হবে বলে আশা করা হচ্ছে।

    তিনি বলেন, আমি আশা করি এই ৩ বিলিয়ন মার্কিন ডলারের সহায়তা বাংলাদেশের জনগণের দৈনন্দিন জীবনযাত্রা যেমন পরিবহন, স্বাস্থ্য ও শিক্ষাখাতে অবদান রাখবে, তেমনি  বাংলাদেশ ও কোরিয়ার জনগণের মধ্যে বন্ধুত্ব বাড়ানোর ক্ষেত্রে অনুঘটক হিসেবে কাজ করবে।

     

  • ২৫ কোটি ৮০ লাখ মানুষের খাদ্যসহায়তা লেগেছেঃ জাতিসংঘের প্রতিবেদনে

    ২৫ কোটি ৮০ লাখ মানুষের খাদ্যসহায়তা লেগেছেঃ জাতিসংঘের প্রতিবেদনে

    বুধবার প্রকাশিত জাতিসংঘের এক প্রতিবেদনে কথা বলা হয়েছে, গত বছর প্রায় ২৫ কোটি ৮০ লাখ মানুষের জরুরি খাদ্যসহায়তার প্রয়োজন পড়ে। আগের বছর এই সংখ্যা ছিল ১৯ কোটি ৩০ লাখ। জাতিসংঘ মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস বলেছেন, শত কোটি মানুষের এক-চতুর্থাংশের বেশি এখন তীব্র ক্ষুধার সম্মুখীন আর কেউ কেউ অনাহারের দ্বারপ্রান্তে। এটি বিবেকবর্জিত এক পরিস্থিতি। সংঘাত, অর্থনৈতিক দুরবস্থা ও জলবায়ু বিপর্যয় মোকাবেলা করতে যেয়ে গত বছর প্রায় ২৫ কোটি ৮০ লাখ মানুষের জরুরি খাদ্যসহায়তার প্রয়োজন পড়ে।

    মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস আরও বলেন, এটি ক্ষুধা দূর এবং সবার জন্য খাদ্যনিরাপত্তা ও উন্নত পুষ্টি নিশ্চিতের ক্ষেত্রে অগ্রগতি অর্জনে মানবসভ্যতার ব্যর্থতার এক পীড়াদায়ক অভিযোগ। জাতিসংঘের প্রতিবেদনে বলা হয়, জরুরি ভিত্তিতে খাদ্যসহায়তার প্রয়োজন এমন ৪০ শতাংশের বেশি মানুষের বসবাস ডেমোক্রেটিক রিপাবলিক অব কঙ্গো, ইথিওপিয়া, আফগানিস্তান, নাইজেরিয়া ও ইয়েমেনে।

    মহাসচিব বলেন, সংঘাত ও ব্যাপক বাস্তুচ্যুতি অব্যাহতভাবে বিশ্বব্যাপী ক্ষুধার্ত মানুষের সংখ্যা বাড়িয়ে দিচ্ছে। তিনি বলেন, ক্রমবর্ধমান দারিদ্র্য, গেঁড়ে বসা বৈষম্য, ব্যাপক অনুন্নয়ন, জলবায়ু সংকট এবং প্রাকৃতিক দুর্যোগও খাদ্যনিরাপত্তাহীনতার জন্য দায়ী।

    প্রতিবেদনে বলা হয়, ২০২২ সালে ৫৮টি দেশ ও ভূখণ্ডের ২৫ কোটি ৮০ লাখ মানুষ মারাত্মক খাদ্যনিরাপত্তাহীনতার মুখোমুখি হয়েছে। আগের বছর ৫৩টি দেশে ১৯ কোটি ৩০ লাখ মানুষ এ ধরনের খাদ্য নিরাপত্তাহীনতায় ভুগেছিল। টানা চার বছর ধরে এ সংখ্যা বাড়ছে।

  • জাপানে খোলা হবে ন্যাটোর লিয়াজোঁ অফিস

    জাপানে খোলা হবে ন্যাটোর লিয়াজোঁ অফিস

    আগামী বছর জাপানে একটি লিয়াজোঁ অফিস খোলার পরিকল্পনা করছে ন্যাটো। টোকিওতে এ অফিস খোলার মধ্য দিয়ে এশিয়ায় এ ধরনের প্রথম দপ্তর স্থাপন করতে যাচ্ছে প্রতিরক্ষা সংস্থাটি । খবর-রয়টার্স

    ইন্দো-প্রশান্ত অঞ্চলের সঙ্গে যোগাযোগ আরও বাড়াতে এবার জাপানে ‘মৈত্রী কার্যালয়’ চালুর পরিকল্পনা করছে যুক্তরাষ্ট্রের নেতৃত্বাধীন পশ্চিমাদের সামরিক জোট ন্যাটো। পরিকল্পনা বাস্তবায়িত হলে এশিয়ায় প্রথমবারের মতো ন্যাটোর কার্যালয় স্থাপিত হবে। জাপানি ও ন্যাটো কর্মকর্তাদের বরাতে বুধবার (৩ মে) নিক্কেই এশিয়া এক প্রতিবেদনে এ খবর জানিয়েছে।

    প্রতিবেদনটিতে বলা হয়, মৈত্রী কার্যালয়ের মাধ্যমে দক্ষিণ কোরিয়া, অস্ট্রেলিয়া ও নিউ জিল্যান্ডের মতো এশীয় নিরাপত্তা অংশীদারদের সঙ্গে আলোচনার পথ সুগম করবে। ফলে চীন ও রাশিয়ার মতো ভূ-রাজনৈতিক চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করা সহজ হবে।

    এ পরিকল্পনার আওতায় সাইবার নিরাপত্তা, নেতিবাচক প্রচারণাসহ নানা হুমকি সৃষ্টিকারী প্রযুক্তি মোকাবিলা করা হবে। জাপান ও ন্যাটোর কর্মকর্তারা এ পরিকল্পনার কথা নিশ্চিত করেছেন।

    তবে ন্যাটো ও জাপান সরকারের মুখপাত্র এ বিষয়ে কোনও মন্তব্য করেননি। বুধবার জাপানে জাতীয় ছুটি হিসেবে পালিত হয়।

    জানুয়ারিতে ন্যাটো প্রধান জেন্স স্টলটেনবার্গ জাপান সফর করেন। সফরে জাপানি প্রধানমন্ত্রী ফুমিও কিশিদার সঙ্গে ‘ঐতিহাসিক’ নিরাপত্তা চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় সম্পর্ক জোরদারের প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন তিনি।

    প্রস্তাবিত এই কার্যালয় আগামী বছর চালু হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। তবে কার্যালয়টির জন্য জাপান স্থান বরাদ্দ দেবে কিনা, অথবা নিজ খরচে এটি স্থাপন করবে ন্যাটো, এ বিষয়ে বিস্তারিত জানা যায়নি।

    নিউ ইয়র্ক, ভিয়েনা ও ইউক্রেনসহ বিভিন্ন দেশে ন্যাটোর এমন কার্যালয় চালু রয়েছে।

    সূত্র: রয়টার্স

  • অভ্যন্তরীণ ফ্লাইটের ভাড়া নির্ধারণ হবে টাকায়, ডলারে নয়!

    অভ্যন্তরীণ ফ্লাইটের ভাড়া নির্ধারণ হবে টাকায়, ডলারে নয়!

    ডলারের বিপরীতে টাকার দাম সম্প্রতি আরো কমে যাওয়ায় যে যাত্রীদের তুলনামূলক বেশি ভাড়া গুনতে হচ্ছিল, তাদের জন্য এই উদ্যোগ কিছুটা স্বস্তি নিয়ে আসবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

    আগামী ১ জুলাই থেকে বাংলাদেশে চলাচলকারী সব এয়ারলাইনসকে ডলারের পরিবর্তে টাকায় ফ্লাইটের ভাড়া নির্ধারণ করতে হবে। এমন সিদ্ধান্তের কথা জানিয়েছে বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ (বেবিচক)। টাকায় ফ্লাইটের ভাড়া নির্ধারণ করার সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়েছে বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব ইন্টারন্যাশনাল রিক্রুটিং এজেন্সি (বায়রা), অ্যাসোসিয়েশন অব ট্র্যাভেল এজেন্টস অব বাংলাদেশ (আটাব) ও হজ এজেন্সি অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (হাব)। তারা মনে করছে, এই সিদ্ধান্ত অভিবাসী শ্রমিকদের উপকৃত করবে।

    জানা গেছে, ডলারের বিপরীতে টাকার মান কমে যাওয়ার সুযোগ নিয়ে বিভিন্ন এয়ারলাইনস বা ট্র্যাভেল এজেন্ট অন্যায়ভাবে ফ্লাইটের টিকিটের জন্য বেশি ভাড়া নিচ্ছে। আর এ জন্যই মূলত ফ্লাইটের টিকিট ডলারের পরিবর্তে টাকায় নির্ধারণের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

    সম্প্রতি উপসচিব রোকসিন্দা ফারহানার সই করা প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, বাংলাদেশি এয়ারলাইনসগুলো যে দেশে ব্যবসা পরিচালনা করছে, সে দেশের মুদ্রায় টিকিট বিক্রি করবে। একইভাবে দেশি-বিদেশি সব ফ্লাইটে ভাড়া নির্ধারণ করা হবে বাংলাদেশি টাকায়।

    বিশ্বের মাত্র চারটি দেশ—বাংলাদেশ, দক্ষিণ কোরিয়া, ইন্দোনেশিয়া ও তাইওয়ান— মার্কিন ডলারে ফ্লাইট টিকিটের মূল্য নির্ধারণ করে। বাকি দেশগুলো এ ক্ষেত্রে তাদের নিজস্ব মুদ্রা ব্যবহার করে।

    এ বিষয়ে আটাব সাধারণ সম্পাদক আবদুস সালাম আরেফ গণমাধ্যমকে বলেন, ডলারের বিপরীতে টাকার দাম কমে যাওয়ায় গত বছরের তুলনায় এখন ফ্লাইটের টিকিটের দাম ৩৫ শতাংশ বেশি।

    হাব সভাপতি এম শাহাদাত হোসেন তসলিম গণমাধ্যমকে বলেন, ডলারে ফ্লাইটের ভাড়া নির্ধারণ করা হলে তা প্রায়শই বিভ্রান্তির কারণ হয়, বিশেষ করে অভিবাসী শ্রমিকদের কাছে।

    নতুন এই উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়েছে বিভিন্ন বেসরকারি এয়ারলাইনসও। তারা মনে করছে, টাকায় ভাড়া নির্ধারণ হলে তা যাত্রীদের জন্য কল্যাণ বয়ে আনবে।

  • মন যাদের ছোট, তাদের রাজনীতি করা উচিত নয়: সেতুমন্ত্রী

    মন যাদের ছোট, তাদের রাজনীতি করা উচিত নয়: সেতুমন্ত্রী

    প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার তিন দেশ সফর নিয়ে বিএনপির নেতাদের সমালোচনার জবাবে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বলেছেন, বিএনপি বলছে- শেখ হাসিনা কিছুই আনতে পারেননি, খালি হাতে ফিরবেন। মনটা যাদের ছোট, তাদের রাজনীতি করা উচিত নয়। দেশের অর্জনকে যারা নিজেদের মনে করে না, তাদের রাজনীতি করার প্রয়োজন নেই।

    বৃহস্পতিবার (৪ মে) সকালে রাজধানীর জাতীয় জাদুঘরের সামনে শুভ বুদ্ধ পূর্ণিমা জাতীয় সম্মিলিত শান্তি শোভাযাত্রা ও সম্প্রীতি উৎসবে এসব কথা বলেন তিনি। বাংলাদেশ বৌদ্ধ সাংস্কৃতিক পরিষদের সভাপতি প্রফেসর ডা. উত্তম কুমার বড়ুয়া অনুষ্ঠানের সভাপতিত্ব করেন। কাদের বলেন, রক্তের বিনিময়ে স্বাধীনতা অর্জন করেছি। স্বাধীনতার পর থেকে চ্যালেঞ্জ অতিক্রম করতে হয়েছে। আমাদের রাজনীতি হিংসামুক্ত একথা দাবি করতে পারি না। রাজনীতিতে নষ্ট ধারা এখনো প্রবাহিত। শান্তির রাজনীতি পদে পদে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।

    বিএনপি নেতাদের সমালোচনা করে সেতুমন্ত্রী বলেন, আপনারা অপরাজনীতি করে খাটো হয়েছেন, দেশকে খাটো করবেন না। শেখ হাসিনা নালিশ করতে যায়নি, দেশের অর্জনের জন্য গিয়েছেন। শেখ হাসিনাকে এই বিদেশ সফর ও অর্জনের জন্য সংবর্ধনা দেওয়া উচিত।

    তিনি বলেন, অসাম্প্রদায়িক বাংলাদেশ চাই, সন্ত্রাস চাই না। সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির বিরুদ্ধে মুক্তিযুদ্ধের চেতনাবিরোধী সন্ত্রাসকে রুখতে হবে। বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বীদের এ উৎসবে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির সবাই মিলেমিশে একাকার হয়ে গেছে। গৌতম বুদ্ধ শান্তির বাণী প্রচার করে গেছেন।

    সমাজে শান্তির সুবাতাস আনতে রাজনীতির অধিপতিদের দায়িত্ব নিতে হবে জানিয়ে ওবায়দুল কাদের বলেছেন, হিংসা-হানাহানি, যুদ্ধ-বিদ্রোহ বা সহিংসতা নয়, শান্তির পথ দেখাতে হবে। যুদ্ধবিগ্রহের বিশ্বে সম্প্রীতির সুবাতাস যেন বইতে পারে, সে পরিবেশ তৈরির দায়িত্বও রাজনীতির অধিপতিদের।

    একাত্তরে ‘রক্তের বিনিময়ে স্বাধীনতা অর্জন করার’ কথা উল্লেখ করে ওবায়দুল কাদের বলেন, স্বাধীনতার পর থেকে চ্যালেঞ্জ অতিক্রম করতে হয়েছে। আমাদের রাজনীতি হিংসামুক্ত, সেই দাবি করতে পারি না। রাজনীতিতে নষ্ট ধারা এখনও প্রবাহিত। শান্তির রাজনীতি পদে পদে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।

    তিনি বলেন, বিশ্বব্যাংক পদ্মা সেতু থেকে মুখ ফিরিয়ে দিয়েছিল। আজ তারা ভুল স্বীকার করে প্রধানমন্ত্রীকে সম্মাননা দিয়েছে। ২৫ হাজার কোটি টাকা বাজেট সহায়তা দিয়েছে বিশ্বব্যাংক।

    বাংলাদেশ বৌদ্ধ সাংস্কৃতিক পরিষদের সভাপতি অধ্যাপক ডা. উত্তম কুমারের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য দেন আওয়ামী লীগের দফতর সম্পাদক ব্যারিস্টার বিপ্লব বড়ুয়া, থাইল্যান্ড ও চীনা দূতাবাসের প্রতিনিধিসহ বৌদ্ধ সম্প্রদায়ের নেতারা।

    পরে এক বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা শাহবাগ থেকে রাজু ভাস্কর্যে গিয়ে শেষ হয়।

  • ফেসবুক অ্যাপ দিয়েই চেক করুন ইন্টারনেট স্পীড

    ফেসবুক অ্যাপ দিয়েই চেক করুন ইন্টারনেট স্পীড

    ফেসবুক এখন আর শুধু ছবি, ভিডিও অথবা স্ট্যাটাস পোস্ট আর সেসবে লাইক, কমেন্ট এবং শেয়ারে সীমাবদ্ধ নেই? ফেসবুকে এখন এমন অনেক ফিচার্স বা সুযোগ এসেছে, যা দৈনন্দিন জীবনে ভীষণভাবে কাজে লাগে। নিয়মিত ব্যবহারে অনেক সময় বিগড়ে যায় ইন্টারনেট নেটওয়ার্ক। এই ইন্টারনেট স্পিড চেক করার জন্য কেউ কেউ সাহায্য নেন গুগলের। তবে ফেসবুকের মাধ্যমেও যাচাই করা যায় ফোনের ইন্টারনেট স্পিড, যা অনেকের কাছেই অজানা। স্মার্টফোন কিংবা ট্যাব, ফেসবুক অ্যাপ দিয়ে এক মুহূর্তে জেনে নিতে পারেন ফোনের ইন্টারনেট গতি।

    যেভাবে দেখবেন ইন্টারনেট স্পিড?

    ফেসবুক অ্যাপটি যেন লেটেস্ট ভার্সনে ইন্সটল করা থাকে। না থাকলে সেটি অবশ্যই করুন। পাশাপাশি ফেসবুকে লগ ইন থাকতে হবে অ্যাকাউন্ট। ফিচারটি কেবল ফেসবুকের অ্যান্ড্রয়েড ভার্সনেই ব্যবহার করা যাবে।

    ►ফেসবুকের ওপরে ডান দিকে থ্রি লাইন ডটে ক্লিক করুন। এখানে মেন্যু অপশনে একাধিক ফিচার দেবে যা ব্যবহার করতে পারবেন।

    ► এরই মধ্যে নিচে স্ক্রল করে ‘সেটিংস অ্যান্ড প্রাইভেসি’ অপশনে ক্লিক করুন।

    ► এবার ‘ওয়াইফাই অ্যান্ড সেলুলার পারফরম্যান্স’ অপশনে ট্যাপ করুন।

    ► এই পেজে নীচের দিকে ‘চেক ইওর কারেন্ট স্পিড’ অপশনে ক্লিক করতে হবে।

    ► এখানে ইওর স্পীডে পারফরমেন্স শো করবে- লিমিটেড-গুড-এক্সিলেন্ট অপশন অনুযায়ী আপনার স্পীড দেখাবে

    ► এবং প্রাপ্ত স্পিড অনুযায়ী আপনি ইন্টারনেট ব্যবহারে কোন কাজ স্বাছন্দ্যভাবে করতে পারবে তাও জানিয়ে দিবে।

  • মেসি-এমবাপ্পেকে ছাড়িয়ে বিশ্বের সর্বোচ্চ বেতনভোগী রোনালদো

    মেসি-এমবাপ্পেকে ছাড়িয়ে বিশ্বের সর্বোচ্চ বেতনভোগী রোনালদো

    ফুটবল বিশ্বের দুই এলিয়েন-লিওনেল মেসি আর ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদো। নিজেদের রাজ্যে এ যুগলের রাজত্ব মুগ্ধ করেছে গোটা পৃথিবীর ফুটবলপ্রেমীদের। ফুটবলের রেকর্ড কিংবা মাইলফলকে হরহামেশাই একে অপরকে ছাড়িয়ে যান তারা। আরও একবার বিশ্বকাপজয়ী আর্জেন্টাইন তারকাকে টেক্কা দিলেন তিনি। ফলে বিশ্বের সর্বোচ্চ বেতনভোগী অ্যাথলেট এখন পর্তুগিজ এই সুপারস্টার।

    ইউরোপের শীর্ষ ফুটবল ছেড়ে সৌদি আরবে পাড়ি জমালেও আয়ে ভাঁটা পড়েনি ক্রিস্টিয়ানো রোনালদোর। এখনও বিশ্বের সবচেয়ে ধনী অ্যাথলেট এই পর্তুগিজ উইঙ্গার।

    যুক্তরাষ্ট্রের বিজনেস সাময়িকী ফোর্বস ২০২২ সালের ১ মে থেকে ২০২৩ সালের ১ মে পর্যন্ত বিশ্ব ক্রীড়াঙ্গনের সব খেলোয়াড়দের আয়ের তালিকা প্রকাশ করেছে ফোর্বস। যেখানে মাঠ থেকে আয় আর স্পন্সর, প্রচারণা ও আনুষঙ্গিক বিষয়াদি থেকে গত ১২ মাসের সর্বোচ্চ পারিশ্রমিকপ্রাপ্ত অ্যাথলেলের তালিকায় মেসি কিংবা এমবাপ্পেকে পিছনে ফেলেছেন রোনালদো।

    গেল বছরের শেষ দিকে ইউরোপের পাট চুকিয়ে মধ্যপ্রাচ্যের দেশ সৌদি আরবের ক্লাব আল নাসেরে সৌদি আরবে পাড়ি জমান রোনালদো। দেশটির ঐতিহ্যবাহী ক্লাবটিতে নাম লেখানোর পর সিআর সেভেন আয় করেছেন ১৩ কোটি ৬০ লাখ ডলার। যা তাকে খেলোয়াড়দের মধ্যে শীর্ষ ধনী বানিয়েছে।

    ফোর্বস মাঠের আয়ের মধ্যে প্রাইজমানি, বেতন ও বোনাসকে হিসাবে যুক্ত করেছে। মাঠের বাইরের আয়ের মধ্যে স্পন্সর চুক্তি, নিবন্ধনভুক্ত আয়, হাজিরা ফির পাশাপাশি খেলোয়াড়টি কোনো ব্যবসার সঙ্গে জড়িত থাকলে সেই ব্যবসা থেকে যে পরিমাণ টাকা ফেরত পেয়েছেন, সেসবও হিসাব করেছে ম্যাগাজিনটি।

    সম্প্রতি প্রকাশিত ফোর্বসের এক প্রতিবেদন বলছে, সৌদির ক্লাবটি থেকে রোনালদোর বার্ষিক বেতন আনুমানিক ৭ কোটি ৫০ লাখ ডলার। এছাড়া মাঠের খেলায় তার আয় ৪ কোটি ৬০ লাখ আর আনুষঙ্গিক থেকে আয় আরও ৯ কোটি ডলার। আর মাঠ থেকে মেসির আয় ৬ কোটি ৫০ লাখ ডলার এবং মাঠের বাইরে আয় করেছেন আরও ৬ কোটি ৫০ লাখ ডলার।

    এছাড়া তৃতীয় স্থানে থাকা এমবাপে মাঠ থেকে আয় করেছেন ১০ কোটি ডলার। আর মাঠের বাইরে থেকে তার আয় ২ কোটি ডলার। সব মিলিয়ে ১২ কোটি ডলার আয় করে সর্বোচ্চ পারিশ্রমিকপ্রাপ্ত অ্যাথলেটদের তালিকায় তিনে ফরাসি এই সেনসেশন।

    সেরা তিন পজিশন ফুটবলের দখলে থাকলেও চারে জায়গা করে নিয়েছেন বাস্কেটবল কিংবদন্তি লেব্রন জেমস। মোট ১১ কোটি ৯৫ লাখ ডলার আয় করে ফোর্বসের সর্বোচ্চ পারিশ্রমিকপ্রাপ্ত অ্যাথলেটের তালিকায় চতুর্থ তিনি।

    অন্যদিকে, মেক্সিকোর বক্সার ক্যানেলো আলভারেজ ১১ কোটি ডলার আয় করে পাঁচে আছেন। শীর্ষ দশে পরের দুই স্থানে রয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের দুই গলফার ডাস্টিন জনসন এবং ফিল মিকেলসন।

    অষ্টম স্থানে আছেন যুক্তরাষ্ট্রের আরেক বাস্কেটবল খেলোয়াড় স্টিফেন ক্যারি। অবসরে চলে যাওয়ার পরও নবম স্থানে রয়েছেন টেনিসের সুইস কিংবদন্তি রজার ফেদেরার। যুক্তরাষ্ট্রের বাস্কেটবল খেলোয়াড় কেভিন ডুরান্ট তালিকার দশম স্থানে আছেন।

     

  • পুতিনকে হত্যার লক্ষ্যে ইউক্রেনের হামলা

    পুতিনকে হত্যার লক্ষ্যে ইউক্রেনের হামলা

    হত্যার উদ্দেশ্যে রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের সরকারি বাসভবনে হামলা চালিয়েছে ইউক্রেন। বুধবার এমন তথ্য দিয়েছে রুশ কর্তৃপক্ষ।

    মঙ্গলবার গভীর রাতে মনুষ্যবিহীন দুটি ড্রোন থেকে এ হামলা চালানো হয় বলে জানিয়েছে আলজাজিরা।

    বর্তমান বিশ্বের সুপার পাওয়ার রাশিয়ার ক্ষমতাসীন প্রেসিডেন্টের ওপর চালানো এ হামলাকে অবিশ্বাস্য এবং স্পর্ধার সীমাহীন অপব্যবহার বলে আখ্যায়িত করেছেন মস্কোর কর্মকর্তারা।

    এ হামলাকে একটি পরিকল্পিত সন্ত্রাসী হামলা বলে আখ্যায়িত করে ক্রেমলিন জানিয়েছে, প্রেসিডেন্ট পুতিনকে হত্যার উদ্দেশ্যেই এ হামলা করা হয়েছে। মস্কো এই ব্যাপারে বিন্দুমাত্র ছাড় দেবে না।

  • আজান শুনে বক্তব্য থামিয়ে দিলেন রাহুল গান্ধী

    আজান শুনে বক্তব্য থামিয়ে দিলেন রাহুল গান্ধী

    কর্নাটক রাজ্যে তুমকুর জেলায় একটি নির্বাচনী জনসভায় ভাষণ দিচ্ছিলেন কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধী। এসময় পাশের মসজিদ থেকে ভেসে আসে আযান। সঙ্গে সঙ্গে নিজের বক্তৃতা থামিয়ে দেন রাহুল। সমর্থকরা স্লোগান দেয়ার চেষ্টা করলে তাদেরকেও ইশারায় চুপ থাকার নির্দেশ দেন তিনি। এ ঘটনার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। স্থানীয় সংবাদ মাধ্যমগুলোতে এ খবর উঠে এসেছে।

    আগামী ১০ মে দক্ষিণ ভারতের কর্নাটক রাজ্যে বিধানসভা নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। নির্বাচন সামনে রেখে সোমবার (১ মে) রাজ্যের তুমকুর জেলায় একটি নির্বাচনী জনসভায় ভাষণ দিচ্ছিলেন কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধী।

    আজান শেষ হলে আবারও বক্তব্য দেয়া শুরু করেন তিনি। রাহুলের এ ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে শেয়ার করেছেন অনেকে। চলতি মাসের ১০ তারিখ কর্নাটক রাজ্যে অনুষ্ঠিত হবে বিধানসভা নির্বাচন। দক্ষিণ ভারতের একমাত্র রাজ্য এটি, যেখানে বিজেপি ক্ষমতায় আছে।

    তবে এবার ক্ষমতা পুণঃরুদ্ধারে জোর প্রচারণা চালাচ্ছে দেশটির প্রধান বিরোধী দল কংগ্রেস। ধর্ম-বর্ণে বৈচিত্রময় ভারতে প্রায়ই আযান চলাকালীন বক্তৃতা বন্ধ রাখতে দেখা যায় রাজনৈতিক নেতাদের। এর আগে বিজেপির নেতা অমিত শাহ এবং নরেন্দ্র মোদিকেও দেখা গেছে আজানের সময় বক্তৃতা বন্ধ রাখতে।

  • সেপ্টেম্বরের মধ্যে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন সংশোধন হবে, বাতিল নয়: আইনমন্ত্রী

    সেপ্টেম্বরের মধ্যে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন সংশোধন হবে, বাতিল নয়: আইনমন্ত্রী

    বিতর্কিত ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন বাতিলের দাবি নাকচ করে দিলেও জাতিসংঘের মানবাধিকার বিষয়ক কমিশনের ‘টেকনিক্যাল নোটের’ ভিত্তিতে আগামী সেপ্টেম্বরের মধ্যে বহুল বিতর্কিত ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের ‘প্রয়োজনীয় সংশোধনী’ আনা হবে বলে জানিয়েছেন আইনমন্ত্রী অ্যাডভোকেট আনিসুল হক।

    আনিসুল হক বলছেন, সাংবাদিকের স্বাধীনতা ‘হরণে’ ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন তৈরি হয়নি। শুরুতে এ আইনের ‘কিছু অপব্যবহার হলেও’ বর্তামানে তা কমেছে।

    বুধবার (৩ মে) বিশ্ব মুক্ত গণমাধ্যম দিবসে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশের (টিআইবি) আলোচনা সভায় আইন নিয়ে সরকারের এই অবস্থানের কথা জানান তিনি।

    ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন বাতিলের দাবিতে শুক্রবার জাতীয় জাদুঘরের সামনে প্ল্যাকার্ড হাতে শিক্ষার্থীরা।

    বিতর্কিত ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন যে বাতিল হবে না, সে কথা আবারও জানালেন আইনমন্ত্রী আনিসুল হক।

    সভায় সংবাদকর্মীদের প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী বলেন, ‘আমি দ্ব্যর্থহীন কণ্ঠে বলতে চাই ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন বাতিল হবে না, তবে যেসব বিষয় নিয়ে আলোচনা হচ্ছে তেমন কিছু সংশোধন আনা হবে।’

    সাংবাদিকের স্বাধীনতা ‘হরণে’ ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন তৈরি হয়নি দাবি করে আনিসুল হক বলছেন, শুরুতে এ আইনের কিছু অপব্যবহার হলেও বর্তামানে তা কমেছে। আর সরকার গণমাধ্যমের স্বাধীনতার ‘পক্ষেই আছে’।

    আইনমন্ত্রী তিনি বলেন, “প্রযুক্তির বিকাশের সাথে সাথে যখন দেশে ডিজিটাল মাধ্যমের প্রচার বেড়েছে তখন সাইবার অপরাধ রোধে বিশ্বের অন্যান্য দেশের মত বাংলাদেশেও আইনের প্রয়োজন দেখা দিয়েছে। সাইবার অপরাধ রোধেই তখন ডিজিটাল সিকিউরিটি আইন করা হয়েছে। “

    এ আইন করার আগে ‘সব পক্ষের সাথে’ আলোচনা হয়েছে দাবি করে মন্ত্রী বলেন, “এই আইন যখন নতুন নতুন হয়েছে, তখন এর কিছু অপব্যবহার হয়েছে, তা আমি স্বীকার করি, সরকারও করে। কিন্তু কার্যকর পদক্ষেপের কারণে তা কমে এসেছে।”

    দেশের সাংবাদিক, আইনজীবী, বুদ্ধিজীবীদের পাশাপাশি আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংগঠনগুলোর আপত্তি ও উদ্বেগের মধ্যে ২০১৮ সালের ১৯ সেপ্টেম্বর জাতীয় সংসদে পাস হয় ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন।

    তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি আইনের ব্যাপক সমালোচিত ৫৭সহ কয়েকটি ধারা বাতিল করে নতুন ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন প্রণয়ন করা হলেও পুরনো আইনের বাতিল হওয়া ধারাগুলো নতুন আইনে রেখে দেওয়ায় এর অপপ্রয়োগের শঙ্কা ছিল উদ্বেগের কেন্দ্রে।

    ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের মামলায় গ্রেপ্তার লেখক মুশতাক আহমেদ ২০২১ সালে কারাগারে মারা যাওয়ার পর ওই আইন বাতিলের দাবিতে ক্ষোভ-বিক্ষোভ চলছিল।

    এরপর আইনের ‘অপব্যবহার’ বন্ধে আইনমন্ত্রীর আশ্বাসের মধ্যেও সংবাদকর্মীসহ বিভিন্ন ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার থেমে থাকেনি।

    সর্বশেষ মার্চের শেষে এক প্রতিবেদনকে কেন্দ্র করে প্রথম আলোর একজন সাংবাদিককে ভোররাতে বাড়ি থেকে তুলে নিয়ে গিয়ে পরে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের মামলায় গ্রেপ্তার দেখানোর ঘটনায় ওই আইন বিলোপের দাবি নতুন করে আলোচনায় আসে।

    প্যারিসভিত্তিক রিপোর্টার্স উইদাউট বর্ডারের বিবৃতিতে বলা হয়েছে, যে কোনো সমালোচনার জন্য ‘গণমাধ্যমের উপর খড়গ চালানো’ বাংলাদেশের সরকারকে বন্ধ করতে হবে।

    আর জাতিসংঘের মানবাধিকার বিষয়ক হাই কমিশনার ফোলকার টুর্ক বলেন, “এ আইনের ব্যবহার অবিলম্বে স্থগিত করে আন্তর্জাতিক মানবাধিকার আইনের শর্তের সঙ্গে সঙ্গতি রেখে সংস্কারের জন্য আমি আবারও বাংলাদেশ সরকারের প্রতি আহ্বান জানাচ্ছি।”

    মুদ্রিত পত্রিকার সম্পাদকদের একটি সংগঠন সম্পাদক পরিষদ গত মঙ্গলবার জাতীয় প্রেস ক্লাবের এক সভায় ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন বাতিলের দাবি জানায়। সেখানে বলা হয়, যদি আইন বাতিলে সরকারের কোনো প্রতিবন্ধকতা থাকে, তাহলে এমন একটি ধারা যুক্ত করতে হবে, যেখানে বলা থাকবে, এই আইন গণমাধ্যম, স্বাধীন সাংবাদিকতা ও মতপ্রকাশের স্বাধীনতার জন্য প্রযোজ্য নয়।

    বুধবার টিআইবির অনুষ্ঠানে আইনমন্ত্রী আনিসুল হক বলেন, সরকার এখন ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন আরও ‘স্বচ্ছ’ করার উদ্যোগ নিয়েছে।

    “জাতিসংঘের মানবাধিকার বিষয়ক কমিশনের পক্ষ থেকে আমাদের একটা টেকনিক্যাল (কারিগরি) নোট পাঠানো হয়েছে। আমরা সেটা নিয়ে কাজ করছি, তাদের কিছু ধারা বাদ দেওয়া এবং সংশোধনের বিষয়ে পরামর্শ ছিল।

    “যদিও আমাদের মতভেদ রয়েছে। আমরা বর্তমান সরকারের মেয়াদের মধ্যেই, অক্টোবরের পরে নয়, আমরা সেপ্টেম্বরের মধ্যে প্রয়োজনীয় সংশোধনীটা করব।”

    ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে সাংবাদিকদের অযথা গ্রেপ্তার না করার নির্দেশনা আছে জানিয়ে আনিসুল হক বলেন, “এখন মামলা হলেই তা গ্রহণ করা হয় না। এটা একটি বিশেষ সেলে পাঠানো হয়, এরপর যাচাই-বাছাই শেষে আদালতে মামলা দাখিল করা হয়। সেলকে বলা হয়েছে অযথা সাংবাদিকদের যেন গ্রেপ্তার করা না হয়।”

    বিশ্ব মুক্ত গণমাধ্যম সূচকে বাংলাদেশের নিম্নগামী অবস্থানের বিষয়ে আইনমন্ত্রীর কাছে তার বক্তব্য জানতে চান সাংবাদিকরা।

    মন্ত্রী বলেন, “গণমাধ্যমের স্বাধীনতার লিস্টে বাংলাদেশ যদি আফগানিস্তানের নিচে থাকে, তবে সেটা আসলেই প্রশ্নের সৃষ্টি করে।”

    গণমাধ্যমের লাইসেন্স দেওয়ার ক্ষেত্রে সরকারের ‘উদারতা’ এবং তথ্য অধিকার আইন প্রণয়নের কথা তুলে ধরে আনিসুল হক বলেন, “সরকার গণমাধ্যমের স্বাধীনতার পক্ষে আছে।“

    এর আগে আলোচনা পর্বে ঢাকা বিশবিদ্যালয়ের গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের অধ্যাপক গীতি আরা নাসরিন বলেন, “বেশি গণমাধ্যম থাকলেই গণমাধ্যমের স্বাধীনতা নিশ্চিত করে না, সেটা আমরা দেখছি। সবচেয়ে জরুরি মুক্তভাবে কাজ করতে পারা।”

    অনুষ্ঠানে সুইডেনের রাষ্ট্রদূত আলেকজান্দ্রা বার্গ ফন লিন্ডে তার দেশে গণমাধ্যমের স্বাধীনতা ও মানবাধিকারের উদাহরণ টানেন।

    তিনি বলেন, “গণমাধ্যমের স্বাধীনতা কোনো একক ব্যাপার নয়, এর জন্য একটি বাস্ততন্ত্রের প্রয়োজন পড়ে। গণমাধ্যমের স্বাধীনতা ও মানবাধিকার হাতে হাত রেখে চলে। একটা গণতান্ত্রিক দেশের জন্য এই দুটি বিষয়ই খুব গুরুত্বপূর্ণ।

    “যখন গণমাধ্যম স্বাধীন হয়, তখন সে তার সরকারকে প্রশ্ন করতে পারে, সমাজে কোনো বৈষম্য থাকলে সেটিকেও চ্যালেঞ্জ করতে পারে। গণমাধ্যম স্বাধীন হলেই কেবল সমাজকে পরিবর্তন সম্ভব।”

    ব্যারিস্টার জ্যোতির্ময় বড়ুয়া বলেন, “ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের অপপ্রয়োগ করতে হয় না, এর প্রয়োগ করেই অনেকক্ষেত্রে মানুষের বাক স্বাধীনতা হরণ করা হয়েছে।”

    বিভিন্ন উদাহরণ টেনে তিনি বলেন, “এসব ঘটনার ক্ষেত্রে দেখা যায়, আমাদের আইন প্রয়োগকারী সংস্থাগুলো নানাভাবে আইন দ্বারা প্রতিষ্ঠিত বিভিন্ন বিষয়কে লঙ্ঘন করে আসছে।”

    ‘শেপিং আ ফিউচার অব রাইটস’ শীর্ষক ওই আলোচনা অনুষ্ঠানে ইউনেস্কোর ঢাকা অফিসের অফিসার-ইন-চার্জ সুজান ভাইজ এবং বাংলাদেশে জাতিসংঘের আবাসিক প্রতিনিধি গুইন লুইসও বক্তব্য দেন।

    তারা জাতিসংঘের আর্টিকেল-১৯ এ গণমাধ্যম ও বাকস্বাধীনতার স্বীকৃতির প্রসঙ্গ তুলে বাংলাদেশে গণতন্ত্র ও সুশাসন প্রতিষ্ঠা করে এসডিজি লক্ষ্য বাস্তবায়নের গণমাধ্যমের স্বাধীনতা নিশ্চিতে আরও কাজ করার আহ্বান জানান।

    গুইন লুইস বলেন, “স্বাধীন গণমাধ্যম দারিদ্র দূরীকরণ থেকে শুরু করে,  সকল উন্নয়নের যাত্রায় সরকারকে জনগণের জবাবদিহিতায় উৎসাহিত করে।”

    আর বলার স্বাধীনতা নিশ্চিত হলে অন্য সবকিছুর স্বাধীনতা আসবে বলে মন্তব্য করেন জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের চেয়ারম্যান কামাল উদ্দিন আহমেদ।

    অনুষ্ঠান শেষে টিআইবির নির্বাহী পরিচালক ইফতেখারুজ্জামান বলেন, “এটা (ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন) বাতিল না হলে সেটা বাক স্বাধীনতার জন্য ভালো কিছু হবে না।“