Author: Hello Bangla News

  • বিশ্বে প্রথম রোবটের সাহায্যে জন্ম নিলো মানব শিশু!

    বিশ্বে প্রথম রোবটের সাহায্যে জন্ম নিলো মানব শিশু!

    প্রথমবারের মতো রোবটের সাহায্যে দু’টি শিশুর জন্ম হয়েছে, যা দেখে হতবাক বিজ্ঞানীরাও। শুনেই চমকে উঠলেন তো? কীভাবে কোনও রোবটের পক্ষে শিশুর জন্ম দেওয়া সম্ভব? রোবট যে কোনও একদিন মানুষের জায়গা ছিনিয়ে নেবে, তা অনেক আগেই অনুমান করা গিয়েছিল। তবে সেই দিন যে এত শীঘ্র এগিয়ে আসবে, বিজ্ঞানীরা ছাড়া হয়তো কেউই বুঝতে পারেনি।

    প্রযুক্তি যত উন্নত হচ্ছে, ততই বিজ্ঞানের ক্ষেত্রে একের পর এক পরিবর্তন লক্ষ্য করা যাচ্ছে। আর সেই সব পরিবর্তন তাক লাগিয়ে দিচ্ছে মানুষকে। বিজ্ঞানীরাও প্রতিনিয়ত অবিশ্বাস্যকর সব আবিষ্কার করে চলেছে। এতদিন রেস্তরাঁ থেকে হাসপাতাল, স্কুল থেকে পার্লার- সবেতেই রোবটিক যন্ত্রের ব্যবহার নজর কেড়েছিল। কিন্তু এবার যা হল, তা হয়তো সৃষ্টির নিয়মকেও চ্যালেঞ্জ করবে। প্রথমবারের মতো রোবটের সাহায্যে দু’টি শিশুর জন্ম হয়েছে, যা দেখে হতবাক বিজ্ঞানীরাও। শুনেই চমকে উঠলেন তো? কীভাবে কোনও রোবটের পক্ষে শিশুর জন্ম দেওয়া সম্ভব? চলুন জেনে নেওয়া যাক এমন ঘটনা কীভাবে ঘটল।

    নিউইয়র্ক পোস্টের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, “রোবোটিক সূঁচের সাহায্যে একটি মানুষের ডিম্বাণুতে শুক্রাণু প্রবেশ করানো হয়েছে, এরপর ভ্রূণটি ধীরে ধীরে বড় হয়েছে। আর অবশেষে দু’টি মেয়ে শিশুর জন্ম হয়েছে।” বিশেষজ্ঞদের মতে, এই নতুন প্রযুক্তির কারণে আইভিএফ-এর খরচও অনেকাংশে কমবে।

    MIT টেকনোলজি রিভিউ অনুসারে, দু’টি মেয়ের জন্ম হয়েছে। বিজ্ঞানীদের একটি দল নিউ ইয়র্ক সিটির নিউ হোপ ফার্টিলিটি সেন্টারে মানুষের ডিম্বাণুতে শুক্রাণুকে প্রবেশ করাতে একটি রোবোটিক সূঁচের ব্যবহার করা হয়েছিল। এই প্রক্রিয়ায় দু’টি সুস্থ ভ্রূণ উৎপন্ন হয়, যা থেকে দু’টি মেয়ের জন্ম হয়।

    তথ্যসূত্রঃ টেকনোলজি রিভিউ

  • বাবরের বিশ্বরেকর্ড

    বাবরের বিশ্বরেকর্ড

    ওয়ানডেতে দ্রুততম ৫ হাজার রানের বিশ্বরেকর্ড গড়েছেন পাকিস্তানের অধিনায়ক বাবর আজম।
    আজ করাচিতে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে সিরিজের চতুর্থ ওয়ানডেতে ক্যারিয়ারের ৯৭তম ইনিংসে ৫ হাজার রান পূর্ণ করেন বাবর।

    এতদিন এই বিশ্বরেকর্ডের মালিক ছিলেন দক্ষিণ আফ্রিকার হাশিম আমলা। ২০১৫ সালে ডারবানে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে ক্যারিয়ারের ১০১তম ইনিংসে ওয়ানডেতে দ্রুততম ৫ হাজার রান করেছিলেন আমলা।

    আট বছর পর আমলাকে সরিয়ে বিশ্বরেকর্ডের মালিক হলেন বাবর।

    নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে চতুর্থ ওয়ানডে খেলতে নামার আগে বাবরের পরিসংখ্যান ছিলো ৯৮ ম্যাচের ৯৬ ইনিংসে ৪৯৮১ রান। ৫ হাজার রানের ক্লাবে প্রবেশ করতে ১৯ রান প্রয়োজন ছিলো বাবরের।
    টস হেরে প্রথমে ব্যাট করতে নামা পাকিস্তানের ইনিংসের ১৭তম ওভারের প্রথম বলে ১ রান নিয়ে ওয়ানডেতে ৫ হাজার পূর্ণ করেন বাবর।

  • বাংলাদেশের শেয়ারবাজারে সক্রিয় হচ্ছেন বিদেশি বিনিয়োগকারীরা

    বাংলাদেশের শেয়ারবাজারে সক্রিয় হচ্ছেন বিদেশি বিনিয়োগকারীরা

    গত মার্চ মাসে শেয়ারবাজারে বিদেশি বিনিয়োগকারীদের মোট টার্নওভার ছিল ৮৭ কোটি ৫১ লাখ টাকা। এপ্রিল মাসে তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১৮২ কোটি টাকায়। অর্থাৎ এক মাসে বিদেশিদের লেনদেন বেড়েছে ৯৫ কোটি টাকা বা ১০৮ শতাংশ। এই চিত্র শুধু শেয়ারবাজারে নয়, সব খাতেই।

    শেয়ারবাজারে সক্রিয় হচ্ছেন বিদেশি বিনিয়োগকারীরা। গত মার্চ মাসের তুলনায় এপ্রিল মাসে বিদেশি বিনিয়োগকারীদের লেনদেন বেড়ে দ্বিগুণ হয়েছে।

    বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (বিডা) সম্প্রতি প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে দেখা গেছে, চলতি বছরের প্রথম তিন মাসে (জানুয়ারি-মার্চ) দেশে বিদেশি বিনিয়োগ প্রস্তাব গত বছরের একই সময়ের তুলনায় ১২৬ শতাংশ বেড়েছে। এ সময়ে বস্ত্র, রাসায়নিক ও কৃষি খাতে উল্লেখযোগ্য পরিমাণে বিনিয়োগ প্রস্তাব এসেছে।

    গত মার্চ মাসে বাংলাদেশ বিজনেস সামিট উদ্বোধন করার সময় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, বাংলাদেশে এখন জ্বালানি, পানি, লজিস্টিক এবং পরিবহন খাতে ৩৫০ বিলিয়ন মার্কিন ডলারের অবকাঠামো গড়ার সুযোগ রয়েছে। ২০২৫ সালের মধ্যে শুধু লজিস্টিকস খাতই ৯০ বিলিয়ন মার্কিন ডলারের বাজারে পরিণত হবে বলে আশা করা হচ্ছে। এদিকে চলতি মাসে শুরুতে যুক্তরাষ্ট্রে সফরে গিয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা মার্কিন ব্যবসায়ীদের বাংলাদেশে বড় বিনিয়োগের জন্য আহ্বান জানান। এদিন প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমি আপনাদের আমাদের নবায়নযোগ্য জ্বালানি, জাহাজ নির্মাণ, অটোমোবাইল, ফার্মাসিউটিক্যালস, হালকা ও ভারী যন্ত্রপাতি, রাসায়নিক সার, আইসিটি, সামুদ্রিক সম্পদ এবং চিকিৎসা সরঞ্জাম ইত্যাদিসহ অনেক গতিশীল ও সম্ভাবনাময় খাতে বিনিয়োগ করার জন্য আমন্ত্রণ জানাচ্ছি।

    এ প্রসঙ্গে বেসরকারি গবেষণা প্রতিষ্ঠান সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের (সিপিডি) ফেলো ড. মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, কৃষি প্রক্রিয়াজাতকরণ নিয়ে বিশ্বের অনেক বড় বড় কোম্পানি বাংলাদেশের প্রতি আগ্রহ দেখাচ্ছে। তিনি উল্লেখ করেন, বাংলাদেশ কৃষিনির্ভর দেশ হওয়ায় এই খাতকে ব্যবহারের বিশেষ সুযোগ রয়েছে। কারণ, অনেক দেশই তাদের প্রয়োজনীয় কৃষিপণ্য অন্য দেশ থেকে আমদানি করে। এখানে যদি সেই চাহিদাকে অ্যাড্রেস করা যায়, তাহলে এটিও রফতানির জন্য বিশাল খাত হয়ে উঠতে পারে।

    তিনি বলেন, বাংলাদেশে যেভাবে অভ্যন্তরীণ বাজার বড় হচ্ছে, সেটা কিনা সিঙ্গাপুরের কয়েকগুণ বড়। আর এই বাজারে বিশেষ করে মধ্যবিত্ত শ্রেণির ভোগ্যপণ্য ব্যবহার বেড়েছে, বড় চাহিদা তৈরি হয়েছে। সে জন্য অনেক বিদেশি বিনিয়োগকারী এরমধ্যেই বাংলাদেশকে লক্ষ্য করে আসতে শুরু করেছে।

    ফরেন ইনভেস্টর্স চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি (এফআইসিসিআই) ২০২১ সালে একটি গবেষণা করেছিল, সেখানে কৃষি ব্যবসাতে বিনিয়োগের জন্য অবারিত সুযোগ আছে বলে চিহ্নিত করা হয়। গবেষণায় বলা হয়েছে, বাংলাদেশে কৃষি, ডিজিটাল ইকোনমি ও গ্রিন ফাইন্যান্স—এই তিনটা খাতে সবচেয়ে বেশি বিনিয়োগের সুযোগ রয়েছে।

    প্রসঙ্গত, দেশে ৩৮টি হাইটেক পার্ক নির্মাণ করা হয়েছে, যেগুলো বিদেশি বিনিয়োগের জন্য উন্মুক্ত রাখা হয়েছে। আশা করা যাচ্ছে, ২০২৫ সালের মধ্যে তথ্যপ্রযুক্তি পণ্য খাতে রফতানি আয় পাঁচ বিলিয়ন ডলারে পরিণত হবে। এর বড় একটি অংশ আসবে বিদেশি বিনিয়োগ থেকে।

    এছাড়া অবকাঠামো খাতেও বিনিয়োগের জন্য বিদেশিদের আগ্রহী করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। সরকার রূপকল্প-২০৪১ সালের যে পরিকল্পনা নিয়েছে, সেখানে অবকাঠামো খাতে বিদেশি বিনিয়োগ আকৃষ্ট করার কথা বিশেষভাবে বলা হয়েছে।

    উল্লেখ্য, বাংলাদেশে গত এক দশকে স্বয়ংক্রিয় ও হালকা প্রকৌশল জাতীয় শিল্পের বিশাল বাজার গড়ে উঠেছে। অনেক বড় বড় শিল্প কারখানা গড়ে ওঠায় এসব সহযোগী শিল্প প্রতিষ্ঠান গড়ে উঠেছে দেশজুড়ে। বাংলাদেশে গাড়ির ইঞ্জিনের যন্ত্রাংশ থেকে শুরু করে কৃষি ও নির্মাণকাজের যন্ত্রপাতি, প্লাস্টিক পণ্যের ছাঁচ, নাট-বল্টু, বেয়ারিং ইত্যাদি অনেক কিছুই এখন তৈরি করা হয়। বিভিন্ন যন্ত্রাংশ আমদানি করে বাংলাদেশে গাড়ির যন্ত্রাংশ, ধান মাড়াই মেশিন, প্রকৌশল যন্ত্রপাতি, নানারকম খেলনা তৈরি করা হয়। গত অর্থবছরে এই খাত থেকে ৭৯ কোটি ডলারের পণ্য রফতানি হয়েছিল। অর্থনীতিবিদরা বলছেন, হালকা প্রকৌশল খাতে বিনিয়োগ বাড়ানো গেলে দেশের চেহারা বদলে যাবে।

    বাংলাদেশ ব্যাংকের হিসাবে, দেশে ২০২১-২২ অর্থবছরে প্রত্যক্ষ বিদেশি বিনিয়োগ বা এফডিআই এসেছে ৪৭০ কোটি ৮০ লাখ ডলার।

    কেন্দ্রীয় ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, চলতি অর্থবছরের জুলাই-জানুয়ারি এই সাত মাসে এফডিআই এসেছে ৩০৬ কোটি ডলার। যা এর আগের অর্থবছরের একই সময়ের চেয়ে ১২ দশমিক ৩১ শতাংশ বেশি। ২০২১-২২ অর্থবছরের প্রথম সাত মাসে ২৭৩ কোটি ডলারের বিনিয়োগ এসেছিল।

    বাংলাদেশের বিনিয়োগ উন্নয়ন বোর্ড এবং অর্থনীতিবিদরা বলছেন, বিদেশি বিনিয়োগকারীদের জন্য এই দেশে বিনিয়োগের অনেক সুযোগ রয়েছে।

    বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী চলতি বছরের প্রথম তিন মাসে (জানুয়ারি-মার্চ) দেশে বিদেশি বিনিয়োগ প্রস্তাব গত বছরের একই সময়ের তুলনায় ১২৬ শতাংশ বেড়েছে। এ সময়ে বস্ত্র, রাসায়নিক ও কৃষি খাতে উল্লেখযোগ্য পরিমাণে বিনিয়োগ প্রস্তাব এসেছে।

    বিডায় নিবন্ধিত শিল্পের ত্রৈমাসিক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, জানুয়ারি থেকে মার্চ—এই তিন মাসে বিডায় বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের মোট ২৩১টি শিল্প ইউনিট নিবন্ধিত হয়েছে। এরমধ্যে ২০৬টি শিল্প ইউনিট স্থানীয়, ১১টি শতভাগ বিদেশি ও ১৪টিতে যৌথ বিনিয়োগের প্রস্তাব রয়েছে।

    বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, নিবন্ধিত এসব প্রতিষ্ঠান থেকে মোট ১৬ হাজার ৭৮৬ কোটি টাকার বিনিয়োগ প্রস্তাব এসেছে। এরমধ্যে দেশীয় বা স্থানীয় প্রতিষ্ঠানের বিনিয়োগ প্রস্তাব প্রায় ১১ হাজার ৭৫০ কোটি টাকার। আর ৫ হাজার ৩৬ কোটি টাকা বিদেশি ও যৌথ বিনিয়োগের প্রস্তাব রয়েছে।

    গত বছরের (২০২২) জানুয়ারি-মার্চ সময়ে শতভাগ বিদেশি ও যৌথ বিনিয়োগের পরিমাণ ছিল ২ হাজার ২২৭ কোটি টাকার। সে হিসাবে বিডায় বিদেশি ও যৌথ বিনিয়োগ প্রস্তাব বৃদ্ধি পেয়েছে প্রায় ১২৬ শতাংশ।

    বিডার তথ্য অনুযায়ী, বস্ত্র, রাসায়নিক ও কৃষি খাতে উল্লেখযোগ্য পরিমাণে বিনিয়োগ প্রস্তাব এসেছে। এসব বিনিয়োগ প্রস্তাব বাস্তবায়িত হলে প্রায় ৩৯ হাজার ৯০০ জনের কর্মসংস্থান হবে। তবে বিডার এ হিসাবে দেশের অর্থনৈতিক অঞ্চল, রফতানি প্রক্রিয়াকরণ অঞ্চল, হাইটেক পার্ক এবং ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্প করপোরেশনের (বিসিক) বিনিয়োগ প্রস্তাব অন্তর্ভুক্ত নয়।

    নিবন্ধিত এসব বিনিয়োগ প্রস্তাবকে কখনও চূড়ান্ত বিনিয়োগ হিসেবে বিবেচনা করা হয় না। কারণ, যারা বিনিয়োগের আগ্রহ দেখিয়ে নিবন্ধন নেন, পরে তাদের একটা অংশ বিভিন্ন বাস্তবতায় আর বিনিয়োগ করেন না।

    অবশ্য গত বছর যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্টের সর্বশেষ বিনিয়োগের পরিবেশ সংক্রান্ত রিপোর্টে বলা হয়েছে, দুর্নীতি, আমলাতান্ত্রিক দীর্ঘসূত্রতা, অপর্যাপ্ত অবকাঠামো এবং সীমিত অর্থায়নের সুযোগের মতো বেশ কিছু কারণ বাংলাদেশে বিদেশি বিনিয়োগের ক্ষেত্রে বড় বাধা সৃষ্টি করছে।

    দেশে বিদেশি বিনিয়োগ আকর্ষণে একটি আয়োজনে অংশ নিতে আর্জেন্টিনা, ব্রাজিলসহ লাতিন আমেরিকা এবং ইউরোপের কয়েকটি দেশে যাবেন বাংলাদেশি ব্যবসায়ীদের একটি প্রতিনিধিদল। ৬ থেকে ১৭ মে এই আয়োজন অনুষ্ঠিত হবে। এতে সহযোগিতা করছে বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (বিডা)।

    এর আগে গত মার্চ মাসে রাজধানীর আগারগাঁওয়ে বিডা কার্যালয়ে লাতিন আমেরিকা-বাংলাদেশ চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি (এলএবিসিসিআই) ও বিডা একটি সমঝোতা স্মারক সই করে। চুক্তি সই অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন বিডার নির্বাহী চেয়ারম্যান লোকমান হোসেন মিয়া। তিনি বলেন, বিডা ও এলএবিসিসিআইয়ের মধ্যে সমঝোতা স্মারকের মাধ্যমে বাংলাদেশ ও লাতিন আমেরিকার মধ্যে বাণিজ্য ও বিনিয়োগের নতুন দ্বার উন্মোচিত হলো। তার মতে, এর মাধ্যমে বাংলাদেশের সঙ্গে লাতিন আমেরিকার দেশগুলোর বাণিজ্য ও বিনিয়োগ দিন দিন বৃদ্ধি পাবে।

    জানা গেছে, ৬ থেকে ১৭ মে নেদারল্যান্ডস, বেলজিয়াম, লুক্সেমবার্গ, আর্জেন্টিনা ও ব্রাজিলে একটি ব্যবসায় আয়োজন অনুষ্ঠিত হবে। যৌথভাবে এই আয়োজন করেছে বিডা, এলএবিসিসিআই ও ডাচ্‌-বাংলা চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি (ডিবিসিসিআই)।

  • প্রধানমন্ত্রীর সফরের অর্জনে বিএনপির গাত্রদাহ আর ফখরুলের মিথ্যাচারের রেকর্ডভঙ্গ: তথ্যমন্ত্রী

    প্রধানমন্ত্রীর সফরের অর্জনে বিএনপির গাত্রদাহ আর ফখরুলের মিথ্যাচারের রেকর্ডভঙ্গ: তথ্যমন্ত্রী

    বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক এবং তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ বলেছেন, প্রধানমন্ত্রীর জাপান, আমেরিকা ও যুক্তরাজ্য সফরের অর্জনে বিএনপি নেতাদের গাত্রদাহ শুরু হয়েছে। তাদের হতাশা এবং গাত্রদাহ থেকে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর মিথ্যাচারের অতীতের সব রেকর্ড ভঙ্গ করেছেন।

    শুক্রবার (৫ মে) বিকেলে চট্টগ্রাম বেতার কেন্দ্রের মাল্টিপারপাস ভবনের ভিত্তিপ্রস্তুর স্থাপনশেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তথ্যমন্ত্রী এসব কথা বলেন।

    সম্প্রতি গণমাধ্যমের স্বাধীনতার ক্ষেত্রে বাংলাদেশের অবস্থান আফগানিস্তানের নিচে দেখানো ফ্রান্সভিত্তিক সংস্থা রিপোর্টার্স স্যান্স ফ্রন্টিয়ার্স- এর রিপোর্ট সম্পর্কে তথ্যমন্ত্রী বলেন, ‘এই রিপোর্টটি একটি উদ্দেশ্যপ্রণোদিত এবং গাঁজাখোরী গল্প ছাড়া অন্য কিছু নয়। বাংলাদেশের গণমাধ্যমের স্বাধীনতা আজকে পৃথিবীতে উন্নয়নশীল দেশগুলোর জন্য উদাহরণ। অনেক ক্ষেত্রে বাংলাদেশের গণমাধ্যমের স্বাধীনতা অনেক উন্নত দেশের চেয়েও বেশি।’

    ড. হাছান মাহমুদ বলেন, বঙ্গবন্ধুকন্যা জননেত্রী শেখ হাসিনা তো দেশের জন্য গিয়েছেন। জাপান আমাদেরকে ৩০ বিলিয়ন ইয়েন বিভিন্ন প্রকল্পে সহায়তা করার চুক্তি করেছে। যে বিশ্ব ব্যাংক আমাদের পদ্মা সেতু থেকে মুখ ফিরিয়ে নিয়েছিল, সেই বিশ্বব্যাংক ভুল বুঝে প্রধানমন্ত্রীকে আমন্ত্রণ জানিয়ে ওয়াশিংটনে নিয়ে গেছে, সাপ্তাহিক ছুটির দিনে তারা অনুষ্ঠানের আয়োজন করেছে এবং ২ দশমিক ২৫ বিলিয়ন ডলারের চুক্তি স্বাক্ষর করেছে। সে অর্জনগুলো বিএনপি মানুষের কাছে বিকৃতভাবে কেন মিথ্যাচার করছে সেটিই আমার প্রশ্ন ? মির্জা ফখরুল ইসলাম  সাহেবদের অনুরোধ জানাবো, দেশের জন্য জননেত্রী শেখ হাসিনা যেই সাহায্য সহযোগিতা এবং সম্মান বয়ে এনেছেন সেজন্য তারাও সম্মানিত বোধ করতে পারেন।

    তথ্যমন্ত্রী বলেন, ‘বঙ্গবন্ধুকন্যা শেখ হাসিনা তো দেশের জন্য সফরে গিয়েছেন। জাপান আমাদের ৩০ বিলিয়ন ইয়েন বিভিন্ন প্রকল্পে সহায়তার চুক্তি করেছে। যে বিশ্ব ব্যাংক আমাদের পদ্মা সেতু থেকে মুখ ফিরিয়ে নিয়েছিল, সেই বিশ্বব্যাংক তাদের ভুল উপলব্ধি করে প্রধানমন্ত্রীকে আমন্ত্রণ জানিয়ে ওয়াশিংটনে নিয়ে গেছে। সাপ্তাহিক ছুটির দিনে তারা অনুষ্ঠানের আয়োজন করেছে এবং ২ দশমিক ২৫ বিলিয়ন ডলারের চুক্তি স্বাক্ষর করেছে।’

    ‘সে অর্জনগুলো নিয়ে বিএনপি মানুষের কাছে বিকৃতভাবে কেন মিথ্যাচার করছে সেটিই আমার প্রশ্ন’ উল্লেখ করে সম্প্রচারমন্ত্রী বলেন, ‘মির্জা ফখরুল ইসলাম সাহেবদের অনুরোধ জানাবো, দেশের জন্য জননেত্রী শেখ হাসিনা যে সাহায্য সহযোগিতা এবং সম্মান বয়ে এনেছেন সেজন্য তারাও সম্মানিত বোধ করতে পারেন।’

    ‘আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ) প্রধান আমাদের প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে দেখা করে বলেছেন, বাংলাদেশের উন্নয়ন অগ্রগতির জন্য শেখ হাসিনার নেতৃত্ব প্রয়োজন। তিনি শেখ হাসিনার নেতৃত্বের ভূয়সী প্রশংসা করেছেন। এগুলো দেখে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর সাহেবের গাত্রদাহ হচ্ছে, সেজন্য তিনি মিথ্যাচার করছেন। একই সঙ্গে তিনি তার মিথ্যাচারের ইতিপূর্বের সব রেকর্ড ভঙ্গ করেছেন,’ যোগ করেন তিনি।

    ফ্রান্সভিত্তিক সংগঠন রিপোর্টার্স স্যান্স ফ্রন্টিয়ার্সের প্রতিবেদন বিষয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তথ্যমন্ত্রী বলেন, ‘আফগানিস্তানে যেখানে মেয়েরা স্কুল এবং ইউনিভার্সিটিতে যেতে পারে না, যে আফগানিস্তানে কেউ কথাই বলতে পারে না, সেটার নিচে বাংলাদেশকে দেখিয়েছে তারা। এতেই তো প্রমাণিত হয় এই রিপোর্টটি একটি উদ্দেশ্যপ্রণোদিত ভুয়া এবং গাঁজাখোরী গল্প ছাড়া অন্য কিছু নয়।’

    ‘এই সংগঠন জননেত্রী শেখ হাসিনার ছবি বিকৃত করে তাদের অনলাইনে প্রচ্ছদ ছাপিয়েছিল এবং আপত্তিকর ক্যাপশন দিয়েছিল এবং সেটার পরিপ্রেক্ষিতে ফ্রান্সের আদালতে মামলা হয়েছে’ উল্লেখ করেন তিনি।

    এর আগে তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী চট্টগ্রাম বেতার কেন্দ্রকে ঐতিহাসিকতা বর্ণনা করে বলেন, বঙ্গবন্ধু গ্রেফতার হবার পূর্ব মুহূর্তে তার স্বাধীনতার ঘোষণা যেটি ওয়ারলেসের মাধ্যমে বিভিন্ন জায়গায় পাঠানো হয়েছিল, সেটি এই চট্টগ্রাম বেতার কেন্দ্রে পাঠ করে প্রথম শুনিয়েছিলেন তৎকালীন চট্টগ্রাম আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এম এ হান্নান। চট্টগ্রাম বেতার কেন্দ্র থেকে ২৬ মার্চ সারাদিন এটি প্রচার করা হয়। পরবর্তীতে ২৭ মার্চ চট্টগ্রাম আওয়ামী লীগের নেতারা যখন সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেন একজন সেনাবাহিনীর অফিসার দিয়ে বঙ্গবন্ধুর ঘোষণাটি পাঠ করা প্রয়োজন। তখন প্রথমে ইপিআরের মেজর রফিক বীর উত্তমের সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়। তিনি বলেছিলেন আমি এম্বুশ নিয়ে আছি, সরে গেলে মুক্তিযুদ্ধের ক্ষতি হতে পারে। তিনিই জিয়াউর রহমানের খোঁজ দিয়েছিলেন।

    ‘মেজর রফিকের ‘লক্ষ প্রাণের বিনিময়ে’ বইয়ে সবিস্তারে বর্ণিত আছে। মেজর রফিক লিখেছেন ‘২৫ মার্চ রাতে জিয়াউর রহমান সোয়াত জাহাজ থেকে পাকিস্তানিদের অস্ত্র খালাস করতে যাচ্ছিলেন। পথে বাঁধা পেয়ে তিনি ফেরত আসেন, পরে ২৭ মার্চ বঙ্গবন্ধুর পক্ষে স্বাধীনতার ঘোষণাটি পাঠ করেন।’

    মন্ত্রী বলেন, অনেক ইতিহাস বিকৃতি ঘটানো হয়েছে, যা চিরদিনের জন্য বন্ধ করার লক্ষ্যে আমরা সমগ্র পৃথিবীর আর্কাইভ থেকে তথ্য সংগ্রহের জন্য তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে একটি প্রকল্প গ্রহণ করেছি। পৃথিবীর বিভিন্ন আর্কাইভে বঙ্গবন্ধুর স্বাধীনতার ঘোষণা, আমাদের স্বাধিকার আদায়ের আন্দোলন, স্বাধীনতা যুদ্ধ, সেগুলোর নানা দলিল সংরক্ষিত আছে। পৃথিবীর অন্যতম সেরা আর্কাইভ ‘ব্রিটিশ পাথে’ থেকে এরকম ১৫৬ টি ডকুমেন্ট সংগ্রহ করার জন্য আমরা চুক্তিবদ্ধ হয়েছি।’

    যারা ইতিহাস বিকৃতি ঘটিয়েছে, তারা জানে না সারা পৃথিবীতে সত্য ইতিহাস সংরক্ষিত আছে। সেটা তো বিকৃত করা সম্ভবপর হয়নি। আমরা সেটিই সংগ্রহ করার উদ্যোগ গ্রহণ করেছি, চিরদিনের জন্য এই বিতর্ক কেউ যেন আর উপস্থাপন করতে না পারে।

  • আজ এক অন্যরকম চন্দ্রগ্রহণ

    আজ এক অন্যরকম চন্দ্রগ্রহণ

    গ্রহণের সময় সূর্য ও চাঁদের মাঝখানে চলে আসবে পৃথিবী, যার কারণে চাঁদের পৃষ্ঠে বড় ছায়া পড়বে। ক্রমশ অদৃশ্য যাবে চাঁদ। সুতরাং পূর্ণিমার রাতও অন্ধকার হয়ে যাবে।

    গ্রহণটি শুরু হবে রাত ৯টা ১২ মিনিট ১৮ সেকেন্ডে। আর শেষ হবে রাত ১টা ৩৩ মিনিট ৪২ সেকেন্ডে। এরমধ্যে মধ্যবর্তী গ্রহণ হবে রাতে ১১টা ২৩ মিনিটে।

    আজ সূর্য, চাঁদ এবং পৃথিবী একই সরলরেখায় থাকবে। বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে এই চন্দ্রগ্রহণ দেখা যাবে। চাঁদ, পৃথিবী ও সূর্যের কক্ষপথের আকৃতির জন্যই এই গ্ৰহণ অন্যরকম হতে চলেছে। গ্রহণের সময় সূর্য ও চাঁদের মাঝখানে চলে আসবে পৃথিবী, যার কারণে চাঁদের পৃষ্ঠে বড় ছায়া পড়বে। ক্রমশ অদৃশ্য যাবে চাঁদ। সুতরাং পূর্ণিমার রাতও অন্ধকার হয়ে যাবে। পৃথিবীর বেশিরভাগ অংশেই দেখা যাবে এই চন্দ্রগ্রহণ। ঠিক সেই সময় চাঁদ দিগন্তের উপরে থাকবে। ইন দ্য স্কাই-এর রিপোর্ট অনুসারে, এর মধ্যে অ্যান্টার্কটিকা, এশিয়া, রাশিয়া, আফ্রিকা এবং ওশিয়ানিয়া অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। রাতের আকাশে এক অন্য অবতারে দেখা যাবে চাঁদকে। বুদ্ধপূর্ণিমার মতো দিনে চন্দ্রগ্রহণের সাক্ষী হতে চলেছে গোটা দেশ। তাহলে আর দেরি কেন, জেনে নিন আরও বিশদে।

    আবহাওয়াবিদ সাঈদ আহমদ চৌধুরী জানান, বাংলাদেশের আকাশে গ্রহণটি দেখা যাবে না।

    অস্ট্রেলিয়ার কিম্বলটন শহর হতে দক্ষিণ পশ্চিম দিকে উপচ্ছায়ায় চাঁদের প্রবেশ হবে শুক্রবার (০৫ মে) স্থানীয় সময় রাত ১১টা ২৭ মিনিট ৫৪ সেকেন্ডে। অস্ট্রেলিয়ার কোকাস আইল্যান্ড হতে দক্ষিণ-পূর্ব দিকে ভারত মহাসাগরে রাত ১১টা ৫৬ মিনিট ১৮ সেকেন্ডে হবে মধ্যবর্তী গ্রহণ।

    উপচ্ছায়া হতে চাঁদের নির্গমন হবে মরিশাসের মাথুরিন বন্দর হতে উত্তর-পশ্চিম দিকে ভারত মহাসাগরে স্থানীয় সময় রাত ১২টা ৪২ সেকেন্ড।

  • কোভিড মহামারির জরুরি অবস্থা আর থাকছে না

    কোভিড মহামারির জরুরি অবস্থা আর থাকছে না

    বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার কর্মকর্তারা বলছেন, কোভিড-১৯ এখন আর বিশ্বব্যাপী স্বাস্থ্য জরুরি অবস্থা থাকছে না। প্রাণঘাতী করোনাভাইরাসের মহামারির পর্ব শেষ হলো।

    বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও) এক বিবৃতিতে এ তথ্য জানিয়েছে। খবর বিবিসি।

    বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা ২০২০ সালের ৩০ জানুয়ারি করোনা ভাইরাস সংক্রমণের বিষয়টি মাথায় রেখে বিশ্বজুড়ে স্বাস্থ্যে জরুরি অবস্থা জারি করে।

    ২০১৯ সালের ডিসেম্বরে চীনের উহানে প্রথম করোনাভাইরাস শনাক্ত হয়। চীনে করোনায় প্রথম কোনো রোগীর মৃত্যু হয় ২০২০ সালের ৯ জানুয়ারি।

    এক বিবৃতিতে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা বলেছে, ২০২১ সালে প্রতি সপ্তাহে করোনায় আক্রান্ত হয়ে প্রায় ১ লাখ মানুষ মারা যেত। সে হার ২৪ এপ্রিল ৩ হাজার ৫০০ জনে নেমে এসেছে।

    ডব্লিউএইচও’র প্রধান ড. তেদ্রোস আধানম গেব্রিয়েসুস বলেন, আশার বিষয় হচ্ছে আমি কোভিড-১৯ কে বিশ্বব্যাপী স্বাস্থ্য জরুরি অবস্থা নয় বলে ঘোষণা করেছি। তার মানে এই নয় যে, করোনা বিশ্বব্যাপী আর স্বাস্থ্যঝুঁকি থাকছে না।

    তিনি বলেন, গতকাল জরুরি কমিটি ১৫তম বারের মতো বৈঠক করেছে। তারা আমাকে সুপারিশ করেছে বৈশ্বিক স্বাস্থ্য জরুরি অবস্থার অবসান ঘটানোর ঘোষণা দিতে। আমি সেই পরামর্শটি গ্রহণ করেছি।

    বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার প্রধান জানান, করোনা মহামারিতে বিশ্বে ৭০ লাখ মানুষ মারা গেছে। তবে তিনি বলেন, মৃত্যুর প্রকৃত সংখ্যা ২ কোটির কাছাকাছি।

  • প্রধানমন্ত্রী আজ বিকেলে রাজা তৃতীয় চার্লস এর সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে যোগ দেবেন

    প্রধানমন্ত্রী আজ বিকেলে রাজা তৃতীয় চার্লস এর সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে যোগ দেবেন

    প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা যুক্তরাজ্যের রাজা ও রানীর রাজ্যাভিষেকের আগে সরকার ও রাষ্ট্রপ্রধান বা বিদেশী প্রতিনিধিদের জন্য রাজা তৃতীয় চার্লস এর সংবর্ধনায় যোগ দেবেন।

    বিকাল ৫.১৫ মিনিটে বাকিংহাম প্যালেসে অনুষ্ঠানটি শুরু হবে।

    জাপানে দ্বিপাক্ষিক সফর ও যুক্তরাষ্ট্রের ওয়াশিংটন ডিসি নগরীতে বাংলাদেশের সাথে বিশ্বব্যাংকের ৫০ বছর পূর্তি উপলক্ষে অনুষ্ঠানে যোগদানের পর প্রধানমন্ত্রী তার সফরের তৃতীয় ধাপে ৬ মে অনুষ্ঠিতব্য রাজা তৃতীয় চার্লসের রাজ্যাভিষেক অনুষ্ঠানে যোগ দিতে ৪ মে রাত ১১টা ৪৯ মিনিটে লন্ডনে পৌঁছান।

    সংবর্ধনার আগে, প্রধানমন্ত্রী আজ বিকেলে কমনওয়েলথ দেশগুলোর সরকারের নেতাদের দ্বিবার্ষিক শীর্ষ সম্মেলনে কমনওয়েলথ সরকার প্রধানদের বৈঠকে যোগ দেবেন।

    লন্ডনে কমনওয়েলথ সেক্রেটারিয়েট মার্লবোরো হাউসে এই শীর্ষ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হবে।

    বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর এ অনুষ্ঠানে যোগ দেওয়ার কথা রয়েছে।

    কমনওয়েলথের প্রধান রাজা তৃতীয় চার্লস কমনওয়েলথ সরকার প্রধানদের সাথে ১৪টা থেকে ১৪.৪৫ পর্যন্ত কুশল বিনিময় করবেন।

    কমনওয়েলথ নেতৃবৃন্দ প্রধান সম্মেলন কক্ষে রুদ্ধদ্বার বৈঠক করবেন। বিকাল ৩টা থেকে ৪.৩০ মিনিট পর্যন্ত অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করবেন রুয়ান্ডার প্রেসিডেন্ট পল কাগামে।

    অনুষ্ঠানে কমনওয়েলথ সরকার প্রধানদের ছবি ধারণ করা হবে।

    তৃতীয় চার্লস (৭৪), তার মা রানী দ্বিতীয় এলিজাবেথের মৃত্যুর পর গত ৮ সেপ্টেম্বর, ২০২২-এ গ্রেট ব্রিটেন এবং উত্তর আয়ারল্যান্ড যুক্তরাজ্যের রাজা হন।

    রাজকীয় ঐতিহ্য অনুসারে, জাতীয় শোক পালন ও ব্যাপক প্রস্তুতির কয়েক মাস পরে ব্রিটিশ রাজার রাজ্যাভিষেক অনুষ্ঠিত হয়।

    আগামী ৬ মে লন্ডনের ওয়েস্টমিনস্টার অ্যাবেতে রাজা তৃতীয় চার্লসের রাজ্যাভিষেক অনুষ্ঠিত হবে।

    অনুষ্ঠানে আয়ারল্যান্ড, ফ্রান্স, স্পেন, বেলজিয়াম, জাপান, হাঙ্গেরি এবং অস্ট্রেলিয়াসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্রপ্রধানরা উপস্থিত থাকবেন বলে আশা করা হচ্ছে।

    প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা গত বছর লন্ডনে রাজা তৃতীয় চার্লসের সঙ্গে দেখা করেছিলেন এবং রানী দ্বিতীয় এলিজাবেথের মৃত্যুতে শোক প্রকাশ করেছিলেন।

    সূত্র : বাসস

  • রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বিভিন্নস্থানে ভূমিকম্প

    রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বিভিন্নস্থানে ভূমিকম্প

    রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে ভূমিকম্প অনুভূত হয়েছে।  আজ ভোর ৫টা ৫৭ মিনিটে রাজধানী ঢাকা থেকে ৪২ কিলোমিটার দূরে দোহারে ৪ দশমিক ৩ মাত্রার এই ভূমিকম্প অনুভূত হয়।

    আবহাওয়া অধিদপ্তরের পরিচালক আবহাওয়াবিদ মো. আজিজুর রহমান বাসস’কে জানান, ভোরে অনুভূত হওয়া ভূমিকম্পের উৎপত্তি স্থল ছিল আগারগাঁও ভূমিকম্প পরিমাপক স্টেশন থেকে ৩০ কিলোমিটার দূরে পূর্ব-দক্ষিণ- পূর্ব দোহারে।

    তিনি জানান, হালকা মাত্রার এই ভূমিকম্পের রিখটার স্কেলে মাত্রা ৪ দশমিক ৩ ছিল।

    তবে প্রাথমিকভাবে হতাহত অথবা ক্ষয়ক্ষতির কোন খবর পাওয়া যায়নি। রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে ভূমিকম্প অনুভূত হয়েছে বলে খবর পাওয়া গেছে।

    সূত্র : বাসস

  • জীবনের প্রতিটি ধাপেই বায়ু দূষণের প্রভাবঃ গবেষণা

    জীবনের প্রতিটি ধাপেই বায়ু দূষণের প্রভাবঃ গবেষণা

    মানবজীবনের প্রতিটি ধাপই বায়ুদূষণের দ্বারা প্রভাবিত। গবেষণার তথ্যমতে, এটি মায়ের গর্ভে থাকা ভ্রূণ থেকে শুরু করে কিশোর বয়সের জ্ঞান বিকাশ ও প্রাপ্ত বয়স্কদের মানসিক স্বাস্থ্যকে প্রভাবিত করে। সোমবার (১৭ এপ্রিল) লন্ডন থেকে প্রকাশিত গবেষণা প্রতিবেদনে এমন তথ্য উঠে এসেছে। সূত্র : আল-জাজিরা।

    মানবজীবনে বায়ুদূষণের প্রভাব শীর্ষক এ গবেষণাটি পরিচালনা করেছে লন্ডনের ইম্পেরিয়াল কলেজের পরিবেশ গবেষণা দল। দীর্ঘ এক দশক ধরে ৩৫ হাজার গবেষণার ওপর জরিপ চালিয়ে প্রতিবেদনটি তৈরি করেছেন তারা।

    ইম্পেরিয়াল কলেজের পরিবেশ গবেষণা দলটি কাজ করেছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও), দ্য ইউকে কমিটি অন দ্য মেডিকেল ইফেক্টস অফ এয়ার পলিউশন, দ্য রয়েল কলেজ অফ ফিজিশিয়ানস, দ্য হেলথ ইফেক্টস ইনস্টিটিউট, দ্য ইন্টারন্যাশনাল এজেন্সি ফর রিসার্চ অন ক্যান্সারসহ ৩৫ হাজার গবেষণার ওপর।

    প্রাপ্ত গবেষণা প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মানুষের মস্তিষ্ক ও স্বাস্থ্যের ওপর চরমভাবে প্রভাব ফেলে বায়ুদূষণ। এমনকি গর্ভাবস্থায় থাকা মানব ভ্রূণের ওপরও প্রভাব ফেলে এটি। আর গর্ভাবস্থার প্রভাব থাকে জীবনভর।

    প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, বায়ুদূষণ নবজাতকের স্বাস্থ্য, ওজন, গর্ভপাত ও মৃতপ্রসবের জন্য অনেকটা দায়ী। গর্ভবতী মা নিঃশ্বাসের মাধ্যমে দূষিত বাতাস নেওয়ার ফলে গর্ভে থাকা ভ্রূণ দুর্বল হতে পারে। এটি শিশুর বিকাশের ওপর বিরূপ প্রভাব ফেলে। দূষিত বাতাসের সঙ্গে থাকা রাসায়নিকগুলো গর্ভবতী নারীর রক্তে প্রবেশ করে এর প্রবাহকে পরিবর্তন করতে পারে, যা ভ্রূণের বৃদ্ধিকে কমিয়ে দিতে পারে।

    ডব্লিউএইচও’র তথ্য মতে, প্রতি বছর ২ কোটি শিশু কম ওজন নিয়ে পৃথিবীতে আসে। আর দেড় কোটি শিশু উপযুক্ত সময়ের আগে জন্ম নেয়।

    বায়ুদূষণ শুধুমাত্র মায়ের ক্ষতিই করে না, এটি পুরুষের বীর্যেও এর প্রভাব অনেক। দূষিত বাতাসে থাকা পুরুষদের বীর্যের পরিমাণ তুলনামূলকভাবে কমে যায়।

    গবেষণা প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, বায়ুদূষণ শিশুদের ফুসফুসের বৃদ্ধিকে কমিয়ে দেয়। এতে করে উচ্চ রক্তচাপে ভুগে তারা। এমনকি এটি তাদের জ্ঞান বৃদ্ধির গতি হ্রাস করে ও মানসিক সমস্যার সৃষ্টি করে।

    গবেষক দলটি বলছে, ৮ থেকে ৯ বছর বয়সী দুই হাজার শিশুকে তারা পেয়েছে, যাদের কি না তুলনামূলকভাবে ফুসফুসের বৃদ্ধি পাঁচ শতাংশ কম হয়েছে। এর মূলে রয়েছে ডিজেল থেকে উৎপন্ন হওয়া নাইট্রোজেন ডাই অক্সাইড।

    দূষিত বায়ুর ফলে অনেক মানুষ হাঁপানিতে ভুগছে। ২০১৭ সাল থেকে ২০১৯ সাল পর্যন্ত লন্ডনের দূষিত বায়ুর কারণে হাঁপানি ও ক্ষতিগ্রস্ত ফুসফুস নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হতে হয়েছে এক হাজার ৭০০ এর বেশি রোগীকে। হাসপাতালে ভর্তি হওয়া রোগীদের মধ্যে সাত শতাংশই ছিল শিশু।

    এ ছাড়া বায়ুদূষণের জন্য শিশুদের হৃদরোগে মৃত্যুর ঘটনাসহ স্ট্রোকের ঝুঁকি বাড়তে পারে এবং পরবর্তী জীবনে শিশুরা কার্ডিওভাসকুলার রোগে ভুগতে পারে।

  • অগ্নিসন্ত্রাসী ও হুকুমদাতাদের বিচার হবে : তথ্যমন্ত্রী

    অগ্নিসন্ত্রাসী ও হুকুমদাতাদের বিচার হবে : তথ্যমন্ত্রী

    তথ্যমন্ত্রী এবং আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ড. হাছান মাহমুদ বলেছেন, ‘বাংলাদেশে ২০১৩-১৪-১৫ সালে বিএনপি-জামাতের নেতাদের নির্দেশে সন্ত্রাসীরা রাজনৈতিক দাবি-দাওয়া আদায়ের নামে অবরোধের সময় যেভাবে পেট্রোল বোমা নিক্ষেপ করে অগ্নিসন্ত্রাস চালিয়ে মানুষ হত্যা করেছে, তা শুধু দেশের ইতিহাসেই নয়, পৃথিবীর রাজনৈতিক ইতিহাসে সমসাময়িককালে কোথাও ঘটেনি।’

    তিনি বলেন, শুধু যারা পেট্রোল বোমা নিক্ষেপ করেছে, তাদের বিচার হলেই হবে না, যারা এর হুকুমদাতা-অর্থদাতা, তাদেরও বিচার হতে হবে। এবং এই অপরাধের যদি বিচার না হয় তাহলে এ ধরনের অপরাধ আরও ঘটবে।

    বৃহস্পতিবার দুপুরে রাজধানীতে ঢাকা মেডিকেল কলেজ এলাকায় কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার প্রাঙ্গণে ‘অগ্নিসন্ত্রাসের আর্তনাদ’ সংগঠন আয়োজিত ‘মানবাধিকার লঙ্ঘনকারী বিএনপি-জামাতের অগ্নিসন্ত্রাসী ও হুকুমদাতাদের বিচারের দাবিতে প্রতিকী অনশন’ শীর্ষক কর্মসূচিতে প্রধান অতিথির বক্তৃতায় মন্ত্রী এসব কথা বলেন।

    অগ্নিসন্ত্রাসী ও হুকুমদাতাদের বিচার হবে : তথ্যমন্ত্রী

    সম্প্রচারমন্ত্রী বলেন, বিএনপি-জামাতের সন্ত্রাসীরা ২০১৩-১৪-১৫ সালে অসহায় মানুষের ওপর, স্কুলগামী বালক-বালিকার ওপর, বিশ্ব ইজতেমা থেকে ফেরত মানুষের ওপর, বাসযাত্রীদের ওপর, অবরোধের কারণে থেমে থাকা ট্রাকে ঘুমন্ত চালকের ওপর পেট্রোল বোমা নিক্ষেপ করে পুড়িয়ে তাদের শরীর অঙ্গার করে দিয়েছে, মানবতাকে ভুলুন্ঠিত করেছে।

    হাছান মাহমুদ বলেন, ‘শুধু পেট্রোল বোমা নিক্ষেপকারীরাই অপরাধী নয়, এর নির্দেশ সাত সমুদ্র তেরো নদীর ওপারে লন্ডন থেকে এসেছে। মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর সাহেব, গয়েশ্বর রায় বাবু, মির্জা আব্বাসসহ বিএনপির নেতারাই এই হামলার নির্দেশদাতা। তাদের নির্দেশে, তাদের অর্থায়নেই এই পেট্রোল বোমা হামলা পরিচালনা করা হয়েছে। আজকে সেই পেট্রোল বোমা হামলার শিকার যারা, তারা বিচারের দাবি নিয়ে এসেছে। মির্জা ফখরুল সাহেব বড় বড় কথা বলেন, কিন্তু তার দলের নেতৃত্বে যে অপরাধ হয়েছে, তার দায় তিনি এড়াতে পারেন না। সব অপরাধীরই বিচার হতে হবে।’

    তিনি বলেন, অগ্নিসন্ত্রাসের শিকার এই খেটে খাওয়া মানুষগুলো এ দেশের নাগরিক ও মালিক। তারা রাজনীতি করে না, রাজনীতি বোঝে না এবং তারা কোনো রাজনৈতিক কর্মসূচিতেও যায়নি, প্রাত্যহিক কাজে জীবিকার তাগিদে বেরিয়েছিল। এই ধরনের ন্যাক্কারজনক মানবতাবিরোধী ঘটনা বিশ্বের কোথাও ঘটেনি।

    পেট্রোল বোমা হামলার শিকার ও তাদের পরিবার-পরিজনদের সঙ্গে সংহতি জানিয়ে মন্ত্রী বলেন, ‘এই মামলা দ্রুত নিষ্পত্তি প্রয়োজন। তাই আমি মনে করি এই মামলাগুলো দ্রুত বিচার ট্রাইবুনালের মাধ্যমে হওয়া প্রয়োজন এবং অগ্নিসন্ত্রাসের হুকুমদাতা, অর্থদাতাদেরও বিচারের আওতায় আনা উচিত। এই অপরাধের উপযুক্ত বিচার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবির সাথে আমি একাত্মতা প্রকাশ করছি।’

    এ সময় বিদেশি সংস্থা, কূটনীতিকদের উদ্দেশ্যে মন্ত্রী বলেন, যারা মানবাধিকারের কথা বলেন, তাদের উচিত এই অধিকার ক্ষুন্ন হওয়া মানুষগুলোর সাথে সংহতি জানানো। তাহলে এই ধরনের অপরাধ চিরতরে বন্ধ হওয়ার পথ সুগম হবে।

    পেট্রোলবোমা হামলায় আহত সংসদ সদস্য এড. খোদেজা নাসরিনের সভাপতিত্বে অগ্নিসন্ত্রাসের আর্তনাদ সংগঠনের আহবায়ক শাহাদাৎ হোসেন বাবুলের সঞ্চালনায় ও মো: রাশেদুল ইসলামের সমন্বয়ে পেট্রোল বোমায় অগ্নিদগ্ধ গীতা রাণী সেন, নিহত নাহিদের মাতা রুনি বেগম, নিহত ইউসুফের সন্তান জাহেদুল ইসলাম, নিহত আনোয়ার হোসেনের স্ত্রী পারভীন, নিহত পুলিশ সদস্য সিদ্ধার্থের পিতা বিমল চন্দ্র সরকারসহ পেট্রোলবোমা হামলার শিকার প্রায় শতাধিক নারী-পুরুষ কর্মসূচিতে অপরাধীদের বিচার দাবি করে মর্মস্পর্শী বক্তব্য দেন।

    পেট্রোলবোমায় আহত ও নিহতদের স্বজনদের সঙ্গে সংহতি প্রকাশ করে বক্তব্য রাখেন আওয়ামী লীগের ত্রাণ ও সমাজ কল্যাণ সম্পাদক আমিনুল ইসলাম আমিন, সাবেক বিচারপতি এএইচএম শামসুদ্দিন চৌধুরী মানিক, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক আআমস আরেফিন সিদ্দিক, ঢাবি সমাজ কল্যাণ অনুষদের ডিন জিয়া রহমান, আওয়ামী লীগের উপ প্রচার সম্পাদক সৈয়দ আব্দুল আউয়াল শামীম, সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোটের সভাপতি গোলাম কুদ্দুস, একুশে টেলিভিশনের প্রধান নির্বাহী পীযুষ বন্দোপাধ্যায়, ব্যারিস্টার তানিয়া আমীর প্রমুখ।

    পরবর্তীতে কর্মসূচিতে আগত পেট্রোলবোমায় আহত ও নিহতদের স্বজনদের পানি ও জুস পান করিয়ে তাদের অনশন ভঙ্গ করান আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ড. হাছান মাহমুদ।