Author: Hello Bangla News

  • চ্যালেঞ্জিং অর্থনীতিতেও বাংলাদেশ বর্ধনশীল: আইএমএফ

    চ্যালেঞ্জিং অর্থনীতিতেও বাংলাদেশ বর্ধনশীল: আইএমএফ

    বাংলাদেশের অর্থনীতিতে চ্যালেঞ্জ আছে উল্লেখ করে আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) মিশন প্রধান রাহুল আনন্দ বলেছেন, ‘এই চ্যালেঞ্জিং অর্থনীতিতেও বাংলাদেশ একটি বর্ধনশীল দেশ।’ তবে বাংলাদেশের বিভিন্ন খাতের ওপর চাপ অব্যাহত থাকবে বলেও জানিয়েছেন তিনি।

    রোববার (০৭ মে) এক লিখিত বক্তব্যে এ পর্যবেক্ষণ জানায় সংস্থাটি। মিশন প্রধান রাহুল আনন্দের নেতৃত্বে আইএমএফের দলটি বাংলাদেশের সাম্প্রতিক সামষ্টিক অর্থনৈতিক উন্নয়ন এবং বাস্তবায়ন নিয়ে আলোচনা করতে গত ২৫ এপ্রিল ঢাকায় আসে।

    আইএমএফ জানায়, বাংলাদেশ এশিয়া-প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলে একটি চ্যালেঞ্জিং অর্থনৈতিক পটভূমিতে দ্রুত বর্ধনশীল অর্থনীতির দেশ। বাংলাদেশ বর্ধনশীল দেশ হলেও ক্রমাগত মুদ্রাস্ফীতির চাপ, বৈশ্বিক আর্থিক অবস্থার উচ্চতর অস্থিরতা, ট্রেডিং অংশীদারদের মধ্যে মন্দা প্রবৃদ্ধি, বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ এবং টাকার ওপর চাপ অব্যাহত থাকবে।

    আইএমএফের স্টাফ পর্যায়ের এক প্রতিনিধিদল গত ২৫ এপ্রিল থেকে আজ ৭ মে পর্যন্ত বাংলাদেশ সফর করেছে। সেই সফরের পরিসমাপ্তিতে বাংলাদেশ মিশনপ্রধান রাহুল আনন্দ এ কথা বলেন।

    লিখিত বক্তব্যে সংস্থাটি জানায়, সফরের সময় আমরা সাম্প্রতিক সামষ্টিক অর্থনৈতিক ও আর্থিক খাতের উন্নয়ন নিয়ে আলোচনা করেছি। আমরা তহবিল-সমর্থিত প্রোগ্রামের অধীনে মূল প্রতিশ্রুতি পূরণের অগ্রগতিও পর্যালোচনা করেছি। এক্সটেন্ডেড ক্রেডিট ফ্যাসিলিটি (ইসিএফ) বা এক্সটেন্ডেড ফান্ড ফ্যাসিলিটি (ইএফএফ) বা রেজিলিয়েন্স অ্যান্ড সাসটেইনেবিলিটি ফ্যাসিলিটি (আরএসএফ) ব্যবস্থার প্রথম পর্যালোচনায় এটি আনুষ্ঠানিকভাবে মূল্যায়ন করা হবে, যা এ বছরের শেষের দিকে হবে বলে আশা করা হচ্ছে।

    আইএমএফ এর প্রতিনিধি দল বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর আবদুর রউফ তালুকদার, অর্থসচিব ফাতিমা ইয়াসমিন এবং অন্যান্য ঊর্ধ্বতন সরকারি ও বাংলাদেশ ব্যাংক কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠক করেছে। বেসরকারি খাতের প্রতিনিধি, দ্বিপাক্ষিক দাতা এবং উন্নয়ন সহযোগীদের সঙ্গেও দেখা করেছে।

    গত বছরের ২৪ জুলাই ঋণ চেয়ে আইএমএফের কাছে চিঠি দিয়েছিল বাংলাদেশ। এতে পরিমাণের কথা উল্লেখ ছিল না। পরে ১২ অক্টোবর ওয়াশিংটনে বিশ্বব্যাংক-আইএমএফের বার্ষিক সম্মেলনে যোগ দিয়ে গভর্নর আব্দুর রউফ তালুকদার ৪৫০ কোটি ডলারের ঋণসহায়তার কথা উল্লেখ করেন।

    এরপর চলতি বছরের ৩০ জানুয়ারি বাংলাদেশের জন্য ৪৭০ কোটি ডলারের ঋণ অনুমোদন করে আইএমএফ। এই ঋণের প্রথম কিস্তি ইতিমধ্যে ছাড় করা হয়েছে। ২০২৬ সাল পর্যন্ত আইএমএফের কর্মসূচি চালু থাকার কথা রয়েছে।

  • সরকার অবাধ ও সুষ্ঠুভাবে আগামী নির্বাচন করতে চায় : ব্রিটিশ পররাষ্ট্রমন্ত্রীকে প্রধানমন্ত্রী

    সরকার অবাধ ও সুষ্ঠুভাবে আগামী নির্বাচন করতে চায় : ব্রিটিশ পররাষ্ট্রমন্ত্রীকে প্রধানমন্ত্রী

    প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, আওয়ামী লীগ সরকারও বাংলাদেশের আগামী সাধারণ নির্বাচন যুক্তরাজ্যের মত অবাধ ও সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করতে চায় এবং এ লক্ষ্যে সকলের সহযোগিতা কামনা করছে।

    প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে তাঁর অবস্থানস্থল ক্লারিজ হোটেলের দ্বিপাক্ষিক সভা কক্ষে যুক্তরাজ্যের পররাষ্ট্রমন্ত্রী জেমস ক্লিভারলি এবং তার পত্নী সুজানা স্পার্কস-এর অনুষ্ঠিত বৈঠকে তিনি এই মন্তব্য করেন।

    প্রধানমন্ত্রীর বরাত দিয়ে পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এ কে আবদুল মোমেন বলেন, ‘আমরা চাই সুষ্ঠু নির্বাচন হোক। আমার দল সব সময় দেশে গণতন্ত্র বজায় রেখেছে। আমরা দেশের গণতন্ত্রকে একটি শক্তিশালী ভিত্তি দিয়েছি।’

    বৈঠক শেষে শনিবার হোটেলে সাংবাদিকদের ব্রিফিংকালে পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, যুক্তরাজ্যের পররাষ্ট্রমন্ত্রী বাংলাদেশে আসন্ন সাধারণ নির্বাচন সুষ্ঠুভাবে অনুষ্ঠানের বিষয়ে কথা বলেন।

    জবাবে শেখ হাসিনা বলেন, ‘আমরা সুষ্ঠু নির্বাচন করতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ, যাতে সবার অংশগ্রহণ প্রয়োজন। সুষ্ঠু নির্বাচন করতে আমি সবার সহযোগিতা চাই।’

    প্রধানমন্ত্রী বলেন, আওয়ামী লীগ সরকার সুষ্ঠু নির্বাচন অনুষ্ঠানের জন্য প্রয়োজনীয় সবকিছু করেছে, কেউ যাতে নির্বাচনে কারচুপি করতে না পারে সেজন্য ছবিসহ ভোটার তালিকা এবং স্বচ্ছ ব্যালট বাক্স তৈরি করা হয়েছে।

    উল্টো বিএনপি ভোট কারচুপির জন্য ১ কোটি ২৩ লাখ ভুয়া ভোটার যুক্ত করে ভোটার তালিকা তৈরি করেছিল।

    তিনি বলেন, সুষ্ঠু নির্বাচন অনুষ্ঠানের জন্য প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামো তৈরির পাশাপাশি নির্বাচন কমিশনকে যথেষ্ট স্বাধীন ও শক্তিশালী করা হয়েছে।

    প্রধানমন্ত্রী বলেন, তাঁরা ওয়েস্টমিনিস্টারের আদলে গণতন্ত্রে বিশ্বাসী, যার অনুসরণে বাংলাদেশ জাতীয় সংসদে প্রশ্নোত্তর পর্ব চালু করেছে।

    মোমেন বলেন, বৈঠকে রোহিঙ্গা ইস্যু ছাড়াও জলবায়ুু, ব্যবসা-বাণিজ্যের মতো বেশ কিছু দ্বিপাক্ষিক বিষয় আলোচনায় এসেছে।
    বিপুল সংখ্যক রোহিঙ্গাকে বাংলাদেশে আশ্রয় দেওয়ার ক্ষেত্রে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর মানবিক ভূমিকার ভূয়সী প্রশংসা করেন যুক্তরাজ্যের পররাষ্ট্রমন্ত্রী।

    তিনি বলেন, রোহিঙ্গাদের দ্রুত প্রত্যাবাসনে ব্রিটেন বাংলাদেশের পাশে থাকবে।

    মোমেন বলেন, ব্রিটিশ সরকার রোহিঙ্গা ইস্যুতে নিরাপত্তা পরিষদে একটি বিল তুলেছে এবং রেজুলেশন পাস করতে কার্যকর ভূমিকা রেখেছে।

    যুক্তরাজ্যের পররাষ্ট্রমন্ত্রী রাজা তৃতীয় চার্লসের অভিষেক অনুষ্ঠানে যোগ দেওয়ায় বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।

    শেখ হাসিনা বলেন, স্বাধীনতার পর পাকিস্তানের কারাগার থেকে মুক্তি পেয়ে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান লন্ডনে এলে তাঁকে উষ্ণ অভ্যর্থনা জানানো হয়। এর পর থেকে যুক্তরাজ্যের সঙ্গে বাংলাদেশের খুব ভালো সম্পর্ক রয়েছে।

    জেমস ক্লিভারলি বলেন, ‘বছরের পর বছর ধরে বাংলাদেশ ও যুক্তরাজ্যের মধ্যে সম্পর্ক অত্যন্ত গভীর হয়েছে এবং দিন যতই এগিয়ে আসছে এ সম্পর্ক ততই জোরদার হচ্ছে।’

    তিনি শেখ হাসিনার গতিশীল নেতৃত্বে বাংলাদেশের অর্থনৈতিক অগ্রগতির প্রশংসা করেন।

    বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী প্রয়াত রাণী দ্বিতীয় এলিজাবেথের ভূয়সী প্রশংসা করেন এবং স্মরণ করেন যে রানী সর্বদা তাঁর এবং তাঁর ছোট বোন শেখ রেহানার খোঁজ খবর নিতেন।

    পররাষ্ট্রমন্ত্রী মোমেন বলেন, কমনওয়েলথ লিডারস ইভেন্টের সময় শেখ হাসিনা রাজা তৃতীয় চার্লসের সঙ্গে মতবিনিময় করেন। প্রধানমন্ত্রী রাজাকে বাংলাদেশ সফরের আমন্ত্রণ জানান এবং রাজা ইতিবাচক সাড়া দেন।

    প্রধানমন্ত্রীর বেসরকারি শিল্প ও বিনিয়োগ উপদেষ্টা সালমান ফজলুর রহমান, পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী মো. শাহরিয়ার আলম, প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব মো. তোফাজ্জেল হোসেন মিয়া, পররাষ্ট্র সচিব মাসুদ বিন মোমেন, প্রধানমন্ত্রীর স্পিচ রাইটার এম নজরুল ইসলাম এবং যুক্তরাজ্যে বাংলাদেশের হাইকমিশনার সাইদা মুনা তাসনীম প্রমুখ অন্যান্যের মধ্যে বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন।

    সূত্র : বাসস

  • রাষ্ট্রপতির সাথে সেনাপ্রধানের সৌজন্য সাক্ষাৎ

    রাষ্ট্রপতির সাথে সেনাপ্রধানের সৌজন্য সাক্ষাৎ

    রাষ্ট্রপতি মো: সাহাবুদ্দিনের সাথে আজ বঙ্গভবনে সাক্ষাৎ করেছেন সেনাবাহিনী প্রধান জেনারেল এস এম শফিউদ্দিন আহমেদ।
    রাষ্ট্রপতির প্রেস সচিব মো: জয়নাল আবেদীন বাসসকে জানান, সাক্ষাতকালে সেনাপ্রধান তাঁর বাহিনীর বিভিন্ন কার্যক্রম সম্পর্কে রাষ্ট্রপতিকে অবহিত করেন।

    সেনাপ্রধান ‘ফোর্সেস গোল ২০৩০’ এর আওতায় নানামুখী উন্নয়ন কর্মকান্ড ও পদক্ষেপ বাস্তবায়নের অগ্রগতি সম্পর্কেও রাষ্ট্রপ্রধানকে জানান।

    এ সময় তিনি তার সম্প্রতি ভারত সফরের নানাদিক রাষ্ট্রপতিকে অবহিত করেন।

    সশস্ত্র বাহিনী বিভাগের সর্বাধিনায়ক রাষ্ট্রপতি সাহাবুদ্দিন এ সময় বলেন,  মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে গঠিত বাংলাদেশ সেনাবাহিনী আমাদের দেশের গৌরব।

    সেনাবাহিনীকে ঐতিহ্যের প্রতীক উল্লেখ করে তিনি বলেন, দেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষার পাশাপাশি দেশের আর্থসামাজিক উন্নয়নে এবং বিভিন্ন প্রাকৃতিক দুর্যোগসহ যেকোনো প্রয়োজনে সব সময় তারা জনগণের পাশে দাঁড়িয়েছে।

    তিনি আশা প্রকাশ করেন, সেনাবাহিনী ‘ফোর্সেস গোল ২০৩০’ এর আওতায় গৃহীত উন্নয়ন কার্যক্রম আগামীতেও অব্যাহত থাকবে।
    রাষ্ট্রপতি সেনা বাহিনীর সার্বিক সাফল্য কামনা করেন। এ সময় বঙ্গভবনের সংশ্লিষ্ট সচিবগণ উপস্থিত ছিলেন। সূত্র : বাসস

  • ৭ মে জননেত্রী শেখ হাসিনা না ফিরলে দেশে গণতন্ত্রও ফিরতো না : তথ্যমন্ত্রী

    ৭ মে জননেত্রী শেখ হাসিনা না ফিরলে দেশে গণতন্ত্রও ফিরতো না : তথ্যমন্ত্রী

    তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী এবং আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ড. হাছান মাহমুদ বলেছেন, ‘২০০৭ সালের ৭ মে জননেত্রী শেখ হাসিনা যদি সমস্ত রক্তচক্ষুকে উপেক্ষা করে, নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে, জীবনকে হাতের মুঠোয় নিয়ে দেশে না ফিরতেন তাহলে বাংলাদেশে গণতন্ত্রও ফিরতো না।’

    তিনি বলেন, ‘১৯৮১ সালে ১৭ মে তিনি প্রথম বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের সভাপতি হিসেবে বাংলাদেশে পদার্পণ করেছিলেন। আজ ৭ মে তার বিদেশ থেকে দ্বিতীয় দফা প্রত্যাবর্তনের দিন এবং প্রকৃতপক্ষে গণতন্ত্র ও গণতন্ত্রের মানসকন্যার স্বদেশ প্রত্যাবর্তন দিবস।’
    মন্ত্রী আজ দুপুরে জাতীয় প্রেসক্লাবে ‘বাংলার স্থপতি’ শীর্ষক ৭ খন্ড বইয়ের প্রকাশনা এবং গ্রন্থকার অ্যালভীন দীলিপ বাগচীর সম্বর্ধনা অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তৃতায় এসব কথা বলেন। বাংলাদেশ খ্রিস্টান যুব কল্যাণ সমিতির সভাপতি ইলারিশ আর গোমেজের সভাপতিত্বে বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থা পরিচালনা পর্ষদের চেয়ারম্যান অধ্যাপক আ আ ম স আরেফিন সিদ্দিক, সাবেক সচিব মো: শহীদ উল্লাহ খন্দকার, বিশপ থিওটোনিয়াস গোমেজ প্রমুখ অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তৃতা দেন।

    তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী বলেন, ‘আজ ৭ মে একটি ঐতিহাসিক দিন। বাংলাদেশের গণতন্ত্রের ইতিহাসে, গণতান্ত্রিক আন্দোলনের ইতিহাসে আজকের দিনটি অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ, গুরুত্বপূর্ণ। প্রথমে তার বিরুদ্ধে মামলা দেওয়া হয়েছিলো, এরপর তার দেশে আসার ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হলো। বঙ্গবন্ধুকন্যা বলেছিলেন যে, আমার বিরুদ্ধে মামলা দেওয়া হয়েছে আমি ঢাকায় গিয়ে মামলা লড়বো। আমি তখন তার বিশেষ সহকারী হিসেবে কাজ করতাম। বিমানবন্দরে আমি নিজেও গিয়েছিলাম। বিমানবন্দরে যাওয়ার সময় কোনো মানুষ দেখিনি, বিমানবন্দর থেকে তিনি আসছিলেন তখন রাস্তার দু’ধার ছাপিয়ে হাজার হাজার, লক্ষ লক্ষ মানুষ চলে আসলো শেখ হাসিনাকে বরণ করার জন্য।’

    হাছান মাহমুদ বলেন, ‘বঙ্গবন্ধু যেমন অসীম সাহসী ছিলেন আমাদের নেত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনা বঙ্গবন্ধুকন্যাও অসীম সাহসী। তার সবচেয়ে বড় গুণ হচ্ছে তিনি প্রচন্ড সংকটের মধ্যে ধৈর্য্য হারান না, যেমন বঙ্গবন্ধু হারাননি। বঙ্গবন্ধুকে ২৫ মার্চ যখন গ্রেপ্তার করা হয় তখন শুধু সেনাবাহিনী গিয়েছিলো তা নয়, তাকে গ্রেপ্তারের আগে চারপাশে বিভিন্ন বিস্ফোরণ ঘটানো হয়, ধানমন্ডি এলাকায় গোলাগুলি করা হয়। তিনি সে সময় ধৈর্য্য হারাননি। বঙ্গবন্ধু বরং পাকিস্তানিদের বলেছিলেন- তোমাদের এতো গোলাগুলি-বিস্ফোরণ ঘটানো, মানুষকে কষ্ট দেওয়ার প্রয়োজন ছিলো না। আমার কাছে আসলেই তো আমাকে নিয়ে যেতে পারতে। তাকে গ্রেপ্তারের পূর্ব মুহূর্তে তিনি স্বাধীনতা ঘোষণা করে গেছেন। বঙ্গবন্ধুকন্যা জননেত্রী শেখ হাসিনাও প্রচন্ড সংকটে ধৈর্য্য হারাননি।’

    তিনি বলেন, ‘বিবিসির অনলাইন জরিপে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ বাঙালি হিসেবে বিবেচিত হয়েছিলেন। এর কারণ বিশ্লেষণে বলতে হয়, বাঙালি জাতিসত্ত্বার উন্মেষের ৫ হাজার বছরের ইতিহাসে বাঙালি কখনো স্বাধীন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা করতে পারে নাই। বাংলা ভাষাভাষীর কিছু অঞ্চল নিয়ে কোনো কোনো সময় স্বাধীন রাজা ছিলো কিন্তু কোনো স্বাধীন রাষ্ট্র কখনো প্রতিষ্ঠিত হয় নাই। কিন্তু বাঙালির স্বাধীনতার আকাঙ্খা ছিলো। তিতুমীর, সূর্যসেন, নেতাজী সুভাষ বসু অনেকেই স্বাধীনতার জন্য লড়াই করেছেন, বিদ্রোহ করেছেন, কিন্তু স্বাধীনতা আসেনি। বঙ্গবন্ধুই সেই নেতা যিনি বাঙালি জাতিকে ধীরে ধীরে, পলে পলে আন্দোলনের মধ্য দিয়ে স্বাধীনতার লক্ষ্যে মনন তৈরি করে চূড়ান্তভাবে স্বাধীনতা ঘোষণা করেছেন এবং তার সেই ঘোষণার মধ্য দিয়ে একটি জাতি রক্তক্ষয়ী সংগ্রামের মধ্য দিয়ে ৩০ লক্ষ শহীদের রক্তের বিনিময়ে আমাদের স্বাধীনতাকে ছিনিয়ে এনেছে, জয় বাংলা শ্লোগানে মৃত্যুকে আলিঙ্গন করেছে। বিশ্ব ইতিহাসে এমন উদাহরণ বিরল। এ জন্যই ইতিহাসের পাতায় বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব, জাতির পিতা মুজিব, তিনি সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ বাঙালি।’

    তথ্যমন্ত্রী এ সময় ‘বাংলার স্থপতি’ বইয়ের গ্রন্থকার অ্যালভীন দীলিপ বাগচীকে অভিনন্দন জানান। তিনি জাতির পিতা বঙ্গবন্ধুর ওপর বিশ্লেষণধর্মী ইতিহাস ভিত্তিক এই গ্রন্থ রচনার জন্য দীলিপ বাগচী এবং তার পরিবারকে আন্তরিক ধন্যবাদ এবং আগামীতে বঙ্গবন্ধুকন্যা জননেত্রী শেখ হাসিনাকে নিয়ে গ্রন্থ রচনার জন্য তাকে অনুরোধ জানান।’

    ড. হাছান বলেন, এখন বঙ্গবন্ধুকে নিয়ে বিভিন্ন জন প্রচুর বই লেখে, অনেক ক্ষেত্রে লেখার প্রতিযোগিতাও তৈরি হয়েছে এবং সেটি করতে গিয়ে অনেক ইতিহাস বিকৃতি হচ্ছে এবং বইয়ের মান রক্ষিত হচ্ছে না। এ বিষয়ে আমি মনে করি বঙ্গবন্ধুর ওপর দেশে-বিদেশে যে সমস্ত বই রচিত হয়েছে সেগুলো নির্দিষ্ট মানদন্ড মেনে চলা প্রয়োজন এবং বইতে কোনোভাবেই যেন ন্যূনতম ইতিহাস বিকৃতি না ঘটে সে ব্যাপারে সচেতন থাকা প্রয়োজন।

    সূত্র : বাসস

  • কাঁচা আম খাওয়ার স্বাস্থ্য উপকারিতা এবং পার্শ্বপতিক্রিয়া

    কাঁচা আম খাওয়ার স্বাস্থ্য উপকারিতা এবং পার্শ্বপতিক্রিয়া

    কাঁচা আম, অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট, ভিটামিন এবং খনিজ সমৃদ্ধ। কাঁচা আমে ক্যালোরি কম এবং এতে উল্লেখযোগ্য পরিমাণে ফাইবার রয়েছে, যা হজমে সহায়তা করতে পারে এবং অন্ত্রের গতিবিধি উন্নত করতে পারে। ডঃ স্মিতা বারোদি (বি এ এম এস, এম এস) জানিয়েছেন, কাঁচা আমে এনজাইম থাকে যা প্রোটিনকে ভেঙে ফেলতে সাহায্য করে, এবং হজম শক্তি বৃদ্ধিতে সাহায্য করে।

    কাঁচা আমের অন্যান্য কিছু স্বাস্থ্য উপকারিতাগুলির মধ্যে রয়েছে:

    রক্তে শর্করার মাত্রা কমায়: কাঁচা আম উচ্চ ফাইবার সামগ্রী এবং ম্যাঙ্গিফেরিন এবং গ্যালিক অ্যাসিডের মতো যৌগগুলির উপস্থিতির কারণে রক্তে শর্করার মাত্রা নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করে।

    রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায়: কাঁচা আম ভিটামিন সি-এর একটি ভালো উৎস, যা রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধিতে সহায়তা করে।

    ত্বকের স্বাস্থ্যের উন্নতি করে: কাঁচা আমে থাকা অ্যান্টিঅক্সিডেন্টগুলি, ফ্রি র‌্যাডিক্যালের কারণে হওয়া ক্ষতি থেকে ত্বককে রক্ষা করতে সাহায্য করে। এবং আমের ভিটামিন এ উন্নত ত্বক পেতে সাহায্য করে।

    হার্টের স্বাস্থ্যের জন্য সহায়ক: কাঁচা আমে পটাসিয়াম থাকে, যা রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করে এবং হার্টের স্বাস্থ্যকে সমর্থন করে।

    কাঁচা আম খাওয়ার সম্ভাব্য পার্শ্ব প্রতিক্রিয়া:

    অতিরিক্ত কোনোকিছুই ভালো নয়। তেমনি কাঁচা আম অতিরিক্ত খেলে হতে পারে- ডায়রিয়া, বদহজম এবং পেটে ব্যথার মতো গ্যাস্ট্রিক সমস্যা।

    আম খাওয়ার পর কারও গলা ব্যথা বা অ্যালার্জিজনিত সমস্যাও হতে পারে।

    সুতরাং, যদি আপনি কাঁচা আম খাওয়ার জন্য কোন প্রতিকূল পরিস্থিতি অনুভব করেন, তাহলে এটি খাওয়া বন্ধ করুন এবং অবিলম্বে একজন ডাক্তার বা আয়ুর্বেদিক চিকিত্সকের সাথে যোগাযোগ করুন। তারা আপনার উপসর্গগুলির জন্য যথাযথভাবে আপনাকে গাইড করতে সক্ষম হবে। তথ্যসূত্রঃ ফার্মইজি

  • বাংলাদেশ ও আয়ারল্যান্ডের ওয়ানডে সিরিজ দেখা যাবে না

    বাংলাদেশ ও আয়ারল্যান্ডের ওয়ানডে সিরিজ দেখা যাবে না

    আগামী ৯ মে থেকে বাংলাদেশ ও আয়ারল্যান্ডের ওয়ানডে সিরিজ বাংলাদেশের টিভি চ্যানেলে দেখা নিয়ে শঙ্কা তৈরি হয়েছে। ইংল্যান্ডের চেমসফোর্ডে আয়ারল্যান্ডের বিপক্ষে তিন ম্যাচের ওয়ানডে সিরিজ খেলবে বাংলাদেশ। সিরিজ শুরুর আগে বাংলাদেশের সমর্থকদের খেলা দেখা নিয়ে শঙ্কা তৈরি হয়েছে। এক বিজ্ঞপ্তিতে এই সিরিজের ব্রডকাস্টারদের তালিকা প্রকাশ করেছে আয়ারল্যান্ড ক্রিকেট। সেখানে নেই বাংলাদেশের কোনও টিভি চ্যানেলের নাম! লেখা- দ্রুত নিশ্চিত করা হবে। আপাতত বাংলাদেশের মানুষ টিভিতে এই সিরিজ দেখতে পাচ্ছেন না।

    বাংলাদেশে খেলা দেখা না গেলেও ভারতের দর্শকরা বাংলাদেশ ও আয়ারল্যান্ডের মধ্যকার তিন ম্যাচের ওয়ানডে সিরিজ দেখতে পারবেন। ফ্যানকোডের মাধ্যমে সাকিবদের খেলা দেখতে পারবেন ভারতের দর্শকরা। আয়ারল্যান্ডের সমর্থকরা প্রিমিয়ার স্পোর্টসের মাধ্যমে খেলা দেখার সুযোগ পাবেন। অন্যদিকে নর্থ আমেরিকার দর্শকরা উইলো টিভিতে সাকিব-তামিমদের ম্যাচ উপভোগ করতে পারবেন।

    বাংলাদেশের খেলা সম্প্রচার নিয়ে বিসিবির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা সাংবাদিকদের বলেছিলেন, ‘আমরা আয়ারল্যান্ড ক্রিকেট বোর্ডের সঙ্গে কথা বলেছি এবং জানতে চেয়েছি যে বাংলাদেশে কোন চ্যানেলে খেলা দেখাবে। তারা বিষয়টা এখনও নিশ্চিত করতে পারেনি। আমরা যত তাড়াতাড়ি সম্ভব, জানতে পারবো।’

  • বাংলাদেশে বিনিয়োগ সম্প্রসারণে সম্মত হাঙ্গেরি: বাণিজ্যমন্ত্রী

    বাংলাদেশে বিনিয়োগ সম্প্রসারণে সম্মত হাঙ্গেরি: বাণিজ্যমন্ত্রী

    বাংলাদেশের সঙ্গে ব্যবসা-বাণিজ্য, বিনিয়োগ ও ব্যবসায়িক সম্পর্ক আরও গভীর ও সম্প্রসারিত করতে হাঙ্গেরি সরকার সম্মত হয়েছে বলে জানিয়েছেন বাণিজ্যমন্ত্রী টিপু মুনশি।

    বাংলাদেশের সঙ্গে হাঙ্গেরি বাণিজ্য ও ব্যবসায়িক সম্পর্ক আরও গভীর এবং সম্প্রসারণে সম্মত হয়েছে বলে জানিয়েছেন বাণিজ্যমন্ত্রী টিপু মুনশি। শুক্রবার বুদাপেস্টে হাঙ্গেরির পররাষ্ট্র ও বাণিজ্যমন্ত্রী পিটার সিজ্জারটোর সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় বৈঠকে এ আগ্রহের কথা জানানো হয়।

    এ সময় টিপু মুনশি বলেন, বিস্তৃত সুযোগ-সুবিধা, আকর্ষণীয় প্রণোদনা ও অনুকূল ব্যবসায়িক পরিবেশসহ এই অঞ্চলে বাংলাদেশের সবচেয়ে উদার বিনিয়োগ ব্যবস্থা রয়েছে। এসময় বৈঠকে হাঙ্গেরির ব্যবসায়ী ও কোম্পানিগুলোকে বাংলাদেশে বিনিয়োগ ও বাণিজ্য সম্প্রসারণের আহ্বান জানান তিনি।

    দেশটির পররাষ্ট্র ও বাণিজ্যমন্ত্রীর আমন্ত্রণে টিপু মুনশি হাঙ্গেরি সফর করছেন। এটি বাংলাদেশের কোনো বাণিজ্যমন্ত্রীর হাঙ্গেরিতে প্রথম সরকারি সফর। বিস্তৃত সুযোগ-সুবিধা ও অনুকূল ব্যবসায়িক পরিবেশসহ এই অঞ্চলে বাংলাদেশের সবচেয়ে উদার বিনিয়োগ ব্যবস্থা রয়েছে উল্লেখ করে হাঙ্গেরির ব্যবসায়ী ও কোম্পানিগুলোকে বাংলাদেশে বাণিজ্য সম্প্রসারণের আহ্বান জানান টিপু মুনশি।

    তিনি হাঙ্গেরির সরকারকে ইইউ আলোচনার সময় সমর্থন দেওয়ার পাশাপাশি বাংলাদেশকে নীতি সহায়তা এবং অপারেশনাল সহযোগিতা বাড়ানোর জন্য অনুরোধ করেন। এ সময় হাঙ্গেরির বাণিজ্যমন্ত্রী এ ব্যাপারে তাঁর দেশের সহযোগিতার আশ্বাস দেন। বিগত সময়ে দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্যের উল্লেখযোগ্য বৃদ্ধির বিষয়ে সন্তুষ্টি প্রকাশ করেন দুই মন্ত্রী।

    এ ছাড়া দুই দেশের বিনিয়োগকারী এবং ব্যবসায়ীদের আরও কাছাকাছি আনতে বেসরকারি খাতের মধ্যে সহযোগিতা বৃদ্ধির প্রয়োজনীয়তার ওপর জোর দিয়েছেন। ‘স্টাইপেন্ডিয়াম হাঙ্গেরিকাম’ প্রোগ্রামে উভয় মন্ত্রী সন্তুষ্টি প্রকাশ করেন। বৈঠককালে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে বাংলাদেশের শক্তিশালী অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির প্রশংসা করেন পিটার সিজ্জারটো।

  • বাংলাদেশ নিয়ে বিশ্বের প্রশংসায় বিএনপির মাথা খারাপ হয়ে গেছে: তথ্যমন্ত্রী

    বাংলাদেশ নিয়ে বিশ্বের প্রশংসায় বিএনপির মাথা খারাপ হয়ে গেছে: তথ্যমন্ত্রী

    তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী এবং আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ড. হাছান মাহমুদ বলেছেন, বাংলাদেশ নিয়ে বিশ্বের প্রশংসায় বিএনপি নেতাদের মাথা খারাপ হয়ে গেছে।

    তিনি বলেন, ‘জননেত্রী শেখ হাসিনার কারণেই আজ সমগ্র বাংলাদেশ বদলে গেছে। সেই কারণে সমগ্র পৃথিবী আজ শেখ হাসিনা ও বাংলাদেশের প্রশংসা করছে। শুধু প্রশংসা করতে পারে না বিএনপি। বাংলাদেশ নিয়ে সমগ্র বিশ্বের প্রশংসা শুনে বিএনপি নেতাদের মাথা খারাপ হয়ে গেছে। এখন তারা আবোল-তাবোল বকছে।’

    মন্ত্রী আজ দুপুরে চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়া উপজেলা নবনির্মিত তেলিপাড়া সেতুসংলগ্ন চত্বরে বিভিন্ন দপ্তরের অর্থায়নে চার ইউনিয়নে প্রায় ২৫০ কোটি টাকা ব্যয়ে বাস্তবায়িত শতাধিক প্রকল্পের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তৃতায় এসব কথা বলেন।

    ড. হাছান বলেন, ‘বিএনপি নেতাদের একটু মানসিক চিকিৎসা করা প্রয়োজন। সম্ভবত গরমের কারণে তাদের মাথা একটু খারাপ হয়ে গেছে। কারণ কিছু কিছু মানুষ আছে বেশি গরম পড়লে মাথা ঠিক রাখতে পারেনা। তাদেরও এটা হয়েছে কি না সেটিই আমার প্রশ্ন ? আবার কিছু মানুষ আছে শীতকাল আসলে মাথা ঠিক থাকে না। তাদের কিন্তু দুই মৌসুমেই মাথা ঠিক থাকে না।’

    তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী বলেন, ‘বিএনপির নেতা মির্জা ফখরুল, গয়েশ্বর বাবু, খন্দকার মোশাররফ, রিজভী আহমেদ ও আমির খসরু সাহেব দেখি আমাদের সমালোচনা করে। আমি তাদের বলবো, আপনারা মাথা খারাপ না করে ঠান্ডা রাখুন। আপনারাও স্বীকার করুন, আজকে দেশ জননেত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে বদলে গেছে।’

    আওয়ামী লীগের যুগ্ন সাধারণ সম্পাদক এলাকার জনতার উদ্দেশ্যে বলেন, ‘যারা শুধু ভোট আসলে বড় বড় কথা বলে, তাদের জিজ্ঞেস করবেন আমরা যে চকচকে রাস্তা করেছি, তার গর্তগুলো তারা ভরাট করতে পারবে কিনা। আমরা কাজ করি আর তারা শুধু ভুল খোঁজে। বিএনপি মূলত: ‘ভুল ধরা পার্টি’।’

    এ সময় দলের কর্মীদের প্রতি হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে হাছান মাহমুদ বলেন, ‘দলের নাম বিক্রি করে কেউ অপকর্মে লিপ্ত হলে তাদের কোন জায়গা আমাদের দলে নেই। তাদের ব্যাপারে কঠোর সিদ্ধান্ত নেয়া হবে। সরফভাটা ইউনিয়নের পাহাড়ি এলাকায় কিছু সন্ত্রাসীর অবস্থান এবং নানা অপরাধ কর্মকান্ড ঘটছে। সেখানে পুলিশ বিট দেয়া হয়েছে। খুব সহসাই তাদের সন্ত্রাসী কার্যক্রম সমূলে দমন করা হবে।’

    শনিবার সড়ক ও জনপথ বিভাগ, এলজিইডি, পানি উন্নয়ন বোর্ড, শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তর এবং জেলা পরিষদসহ সরকারের বিভিন্ন দপ্তরের প্রায় ২৫০ কোটি টাকা ব্যয়ে বাস্তবায়িত প্রকল্প উদ্বোধন উপলক্ষে রাঙ্গুনিয়া উপজেলার সরফভাটা, শিলক ও পদুয়া ইউনিয়নে পৃথক তিনটি পথসভায় যোগ দেন স্থানীয় চট্টগ্রাম ৭ আসনের সংসদ সদস্য হাছান মাহমুদ।

    বিকেলে ৩ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত সুখবিলাস উচ্চ বিদ্যালয়ের একাডেমিক ভবন উদ্বোধন করেন তথ্যমন্ত্রী। বিদ্যালয়ের সভাপতি খালেদ মাহমুদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান স্বজন কুমার তালুকদার, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আতাউল গণি ওসমানি এবং উপজেলা আওয়ামী লীগের সদস্য এরশাদ মাহমুদ।

    সূত্র: বাসস

  • শেখ হাসিনাকে অনুপ্রেরণা হিসেবে দেখেন যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী ঋষি সুনাক

    শেখ হাসিনাকে অনুপ্রেরণা হিসেবে দেখেন যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী ঋষি সুনাক

    যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী ঋষি সুনাক বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে একজন সফল অর্থনৈতিক নেতা হিসেবে অভিহিত করে বলেছেন, ‘আপনি আমাদের জন্য অনুপ্রেরণা।’

    সুনাক বলেন, ‘আমি আপনাকে অনেক বছর ধরে অনুসরণ করছি। আপনি একজন সফল অর্থনৈতিক নেতা।’

    স্থানীয় সময় শুক্রবার (৫ মে) কমনওয়েলথ সেক্রেটারিয়েটের দ্বিপাক্ষিক সভা কক্ষে তাদের প্রথম দ্বিপাক্ষিক বৈঠকে সুনাককে উদ্ধৃত করে যুক্তরাজ্যে বাংলাদেশের হাইকমিশনার সাইদা মুনা তাসনিম এ কথা বলেন।

    তাসনিম বলেন, ‘যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, তার দুই মেয়ে ও স্ত্রী তার (শেখ হাসিনা) বড় ভক্ত। তিনি গত অক্টোবরে দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকে তার মেয়েরা শেখ হাসিনার মতো মহান নেতা হবেন এই কামনা করেছেন।’

    সুনাক বলেন, ‘আপনি আমার দুই মেয়ের জন্য মহান অনুপ্রেরণা।’

    ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী বাংলাদেশের সমৃদ্ধির জন্য শেখ হাসিনার নেতৃত্বের ভূয়সী প্রশংসা করেন। পাশাপাশি রোহিঙ্গাদের আশ্রয়, ভূমিহীন ও গৃহহীন বাংলাদেশের জনগণকে সরকারি খরচে বাড়ি দেওয়া, জলবায়ু পরিবর্তনসহ বিভিন্ন আন্তর্জাতিক ফোরামে তার গৌরবময় ভূমিকার ভূয়সী প্রশংসা করেন।

    কভিড-১৯ মহামারি পরবর্তী সময়ে ছয় শতাংশের বেশি অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি বজায় রাখার কথা উল্লেখ করে সুনাক বলেন, ‘বাংলাদেশের অর্থনৈতিক অগ্রগতি উল্লেখযোগ্য।’ তিনি বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীকে উন্নয়নের ‘রোল মডেল’ হিসেবে বর্ণনা করেন।

    ৩৫ মিনিট স্থায়ী বৈঠকে দুই নেতা উভয় দেশের পারস্পরিক সুবিধা সংক্রান্ত বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা করেন।

    ‘৫০ বছরেরও বেশি সময় ধরে আমাদের চমৎকার সম্পক বিদ্যমান’ উল্লেখ করে সুনাক বলেন, ‘যুক্তরাজ্য বাংলাদেশের সঙ্গে সম্পর্ককে মূল্য দেয়।’

    বৈঠকের শুরুতে শেখ হাসিনা যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী হওয়ায় ঋষি সুনাককে অভিনন্দন জানান। শেখ হাসিনা বলেন, ‘এশীয় ঐতিহ্য থেকে আপনি এত অল্প বয়সে প্রধানমন্ত্রী হয়েছেন। এমন তরুণ নেতৃত্ব দেখে আমার ভালো লাগছে।’

    বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘তার সরকার ইতোমধ্যে সাত লাখ পরিবারকে বাড়ি দিয়েছে।’ শেখ হাসিনা বাংলাদেশে ব্রিটিশ কোম্পানিগুলোর কাছে আরও বড় বিনিয়োগ চেয়েছেন।

    ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আমরা দুই দেশের মধ্যে ব্যবসায়িক সম্পর্ক উন্নত করেছি।’ তিনি ঢাকা ও লন্ডনের মধ্যে একটি যৌথ ইস্তেহার সই করায় সন্তোষ প্রকাশ করেন। দুই নেতা রোহিঙ্গা ইস্যু নিয়েও কথা বলেন।

    সুনাক বিপুল সংখ্যক রোহিঙ্গাকে আশ্রয় দেওয়ার জন্য বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর মানবিক দৃষ্টিভঙ্গির প্রশংসা করেন। সুনাক বলেন, ‘যুক্তরাজ্য বুঝতে পেরেছে, রোহিঙ্গারা বাংলাদেশের জন্য বড় বোঝা।’

    শেখ হাসিনা রোহিঙ্গা ইস্যুতে বাংলাদেশকে সমর্থন দেওয়ায় যুক্তরাজ্যকে ধন্যবাদ জানান। তিনি বলেন, ‘রোহিঙ্গারা আমাদের জন্য বড় বোঝা এবং বড় নিরাপত্তা হুমকি।’

    রোহিঙ্গাদের দুর্দশা দেখতে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বাংলাদেশে আমন্ত্রণ জানালে সুনাক ইতিবাচক সাড়া দেন।

    লন্ডনের ওয়েস্টমিনস্টার অ্যাবেতে রাজা তৃতীয় চার্লসের রাজ্যাভিষেক অনুষ্ঠানে যোগ দিতে ১৩০টি দেশের রাষ্ট্র ও সরকার প্রধানরা লন্ডনে পৌঁছেছেন।

    দুই প্রধানমন্ত্রীর বৈঠকের পর সাংবাদিকদের ব্রিফিংকালে বাংলাদেশের হাইকমিশনার বলেন, ‘বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীসহ তাদের মধ্যে মাত্র সাত জনের সঙ্গে সুনকের বৈঠক হয়েছে, যা প্রমাণ করে রাজনৈতিক, কূটনৈতিক এবং অর্থনৈতিক দিক থেকে যুক্তরাজ্যের সঙ্গে বাংলাদেশের চমৎকার সম্পর্ক রয়েছে।’

    রাষ্ট্রদূত মুনা তানিম বলেন, ‘অর্থনৈতিক ও ব্যবসায়িক সম্পর্কের মাধ্যমে যুক্তরাজ্যের সঙ্গে বাংলাদেশের বন্ধন কৌশলগত পর্যায়ে পৌঁছেছে।’

    ব্রিফিংয়ের সময় প্রধানমন্ত্রীর স্পিচরাইটার এম নজরুল ইসলাম উপস্থিত ছিলেন।

    সূত্র: বাসস

  • সিংহাসনে আরোহণ করলেন রাজা তৃতীয় চার্লস

    সিংহাসনে আরোহণ করলেন রাজা তৃতীয় চার্লস

    আনুষ্ঠানিকভাবে রাজা হিসেবে যুক্তরাজ্যের সিংহাসনে আরোহণ করেছেন প্রয়াত রাণী দ্বিতীয় এলিজাবেথের উত্তরাধিকারী যুবরাজ হিসেবে প্রায় পুরো একটি জীবনকাল পার করে দেওয়া ৭৪ বয়সী তৃতীয় চার্লস। স্থানীয় সময় ১২টা ২ মিনিটে ক্যান্টারবেরির আর্চবিশপ জাস্টিন ওয়েলবি রাজার মাথায় রাজকীয় কর্তৃত্বের পবিত্র ও প্রাচীন প্রতীক হিসেবে সেন্ট এডওয়ার্ড স্বর্ণমুকুট পরিয়ে দেন। এ সময় তিনি বলেন, ‘ঈশ্বর রাজাকে রক্ষা করুন।’

    শপথ গ্রহণের পর তাঁকে মুকুট পরিয়ে দেওয়া হয়। এরপর তিনি সিংহাসনে বসেন। পরে রানি ক্যামিলাকেও মুকুট পরিয়ে দেওয়া হয়। শনিবার দিনভর নানা আনুষ্ঠানিকতার মধ্য দিয়ে অভিষেক হয় রাজা তৃতীয় চার্লস ও তাঁর স্ত্রী কুইন কনসোর্ট ক্যামিলার। জীবনে একবারই এই মুকুট পরার সুযোগ পেলেন রাজা। ঘণ্টাখানেকের মুকুটটি তার মাথায় থাকবে। মুকুট পরিয়ে দেওয়ার পর শুরু হয় সিংহাসনে আরোহণের পর্ব। ক্যান্টারবেরি ও ইয়র্কের আর্চবিশপ এবং তাঁদের সহকারীরা রাজাকে সিংহাসনের দিকে নিয়ে যান। এরপর সিংহাসনে বসেন রাজা তৃতীয় চার্লস। এটি অভিষেকের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অংশ।

    রাজা-রানির সিংহাসনে বসার মুহূর্তে অ্যাবের ঘণ্টা বাজতে থাকে। পাশে থাকা হর্স গার্ড প্যারেড থেকে দেয়া হয় গান স্যালুট। রাজা সিংহাসনে আরোহণের পর তার ডান হাতে চুমু খেয়ে আনুগত্য প্রকাশ করেন প্রিন্স উইলিয়াম।

    সর্বশেষ ১৯৫৩ সালে নিজের আভিষেকে সেইন্ট এডওয়ার্ড মুকুটটি পরেছিলেন রানি দ্বিতীয় এলিজাবেথ। এবার ৭০ বছর পর তাঁর ছেলে চার্লস নিজের অভিষেকে মুকুটটি পরলেন। এই মুকুটটি ১৬৬১ সালে রাজা দ্বিতীয় চার্লসের জন্য তৈরি করা হয়েছিল। অ্যাংলো-স্যাক্সন রাজা ও সেন্ট এডওয়ার্ড দ্য কনফেসরের নামানুসারে মুকুটটির নাম দেওয়া হয়েছে। এডওয়ার্ড মুকুটটিকে পবিত্র স্মৃতিচিহ্ন হিসেবে বিবেচনা করা হয় এবং এটি কয়েক শ বছর ধরে অভিষেকে ব্যবহার করা হচ্ছে।

    এর আগে যুক্তরাজ্যের রাজতন্ত্রের ৪০তম সিংহাসন আরোহী হিসেবে শপথ নেন চার্লস। ক্যান্টারবেরির আর্চবিশপ শপথ অনুষ্ঠান পরিচালনা করেন। তিনি বলেন, অভিষেক শপথের আইনি প্রয়োজনীয়তা রয়েছে। রাজাকে আর্চবিশপ বলেন, নতুন রাজা যেন তাঁর শাসনকালে আইনের শাসন ও চার্চ অব ইংল্যান্ডের মর্যাদা সমুন্নত রাখেন।

    রাজা তৃতীয় চার্লস পবিত্র গসপেলে হাত রেখে শপথ নেন। এ সময় তিনি আইনের শাসন ও চার্চ অব ইংল্যান্ডের মর্যাদা সমুন্নত রাখার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন। এ ছাড়া একজন ‘একনিষ্ঠ প্রোটেস্ট্যান্ট’ হিসেবে দ্বিতীয় শপথও নেন রাজা তৃতীয় চার্লস।

    এর আগে অভিষেক অনুষ্ঠানে যোগ দিতে যুক্তরাজ্যের ওয়েস্টমিনস্টার অ্যাবেতে পৌঁছান ব্রিটিশ রাজা তৃতীয় চার্লস এবং তাঁর স্ত্রী কুইন কনসোর্ট ক্যামিলা। বাকিংহাম প্যালেস থেকে একটি ঘোড়ার গাড়িতে করে শোভাযাত্রায় অংশ নিয়ে ওয়েস্টমিনস্টার অ্যাবেতে পৌঁছেন তাঁরা। ওয়েস্টমিনস্টার অ্যাবেতে সংগীত ও প্রতীকী আয়োজনে আরও নানা কর্মসূচির পর, রাজা ও রানি ক্যাথেড্রলটি ছেড়ে যান।

    সেসময় সেখানে উপস্থিত সবাই যুক্তরাজ্যের জাতীয় সংগীত ‘গড সেভ দ্য কিং’ (ঈশ্বর রাজাকে রক্ষা করুন) গাইতে থাকেন।

    রাজা চার্লসের অভিষেকে যোগ দিতে দেশ-বিদেশের নেতা ও তারকারাও ওয়েস্টমিনস্টার অ্যাবেতে জড়ো হয়েছেন। বিশ্বের প্রায় ১০০ দেশের রাষ্ট্রপ্রধান এবং বিশ্বের গণ্যমান্য ব্যক্তিরা উপস্থিত হয়ে এই অনুষ্ঠানে যোগ দিয়েছেন।

    গত বছরের সেপ্টেম্বরে রাণী দ্বিতীয় এলিজাবেথের মৃত্যুর পর তাঁর বড় ছেলে চার্লস যুক্তরাজ্যের রাজা হন।

    সূত্র : বাসস