Author: Hello Bangla News

  • বাংলাদেশি ব্যাটারদের আজ কঠিন পরীক্ষা, টার্গেট ৩২০

    বাংলাদেশি ব্যাটারদের আজ কঠিন পরীক্ষা, টার্গেট ৩২০

    পরিচিত কন্ডিশনে দুর্দান্ত ব্যাটিংয়ের প্রদর্শনী করল আয়ারল্যান্ড। ৩১তম ওয়ানডেতেই চতুর্থ সেঞ্চুরি পেয়ে গেলেন হ্যারি টেক্টর। আরেক ব্যাটার জর্জ ডকরেল বিধ্বংসী ব্যাটিংয়ে বাংলাদেশি বোলারদের কচুকাটা করলেন। দুজনের ৬ষ্ঠ উইকেট জুটি বাংলাদেশি বোলারদের নাকের জলে চোখের জলে করে ছেড়েছে। নির্ধারিত ৪৫ ওভারে আইরিশদের সংগ্রহ দাঁড়িয়েছে ৬ উইকেটে ৩১৯ রান। সিরিজে এগিয়ে যেতে হলে বাংলাদেশি ব্যাটারদের আজ কঠিন পরীক্ষাই দিতে হবে।

    প্রথম ওয়ানডে বৃষ্টিতে ভেসে যাওয়ায় সরাসরি বিশ্বকাপে খেলার স্বপ্ন ভেঙেছে আয়ারল্যান্ডের। শুক্রবার দ্বিতীয় ম্যাচে ব্যাটিংয়ে নেমে প্রথম ওভারেই উইকেট হারায় তারা। শূন্য করে ফিরে যান পল র্স্টালিং। পেসার হাসান মাহমুদ ১৬ রানে তুলে নেন দ্বিতীয় উইকেট। এরপর আন্দ্রে বালর্বিনি ও হ্যারি টেক্টর ৯৮ রানের জুটি গড়েন।

    চেমসফোর্ডের এসেক্স কাউন্টি গ্রাউন্ডে কর্তিত ৪৫ ওভারের ম্যাচে টস জিতে ফিল্ডিংয়ে নামা বাংলাদেশকে শুরুতেই সাফল্য এনে দেন তরুণ পেসার হাসান মাহমুদ। ইনিংসের প্রথম ওভারের পঞ্চম বলেই দলীয় ১ রানে পল স্টার্লিংয়ের (০) দুর্দান্ত ক্যাচ নেন মুশফিকুর রহিম। ফিল্ড আম্পায়ার সাড়া না দিলেও রিভিউ নিয়ে জয়ী হয় বাংলাদেশ। ৭ম ওভারে ফের হাসান মাহমুদের সাফল্য। তার বলে মিরাজের তালুবন্দি হয়ে ফিরেন অপর ওপেনার স্টিফেন দোহেনি (১২)। এরপর অধিনায়ক অ্যান্ড্রু বালবার্নি এবং হ্যারি টেক্টর প্রতিরোধ গড়েন।

    ২১তম ওভারেই তিন অংক স্পর্শ করে আয়ারল্যান্ডের স্কোর। ৫৩ বলে ফিফটি তুলে নেন টেক্টর। ৫৭ বলে ৪২ রান করা অ্যান্ড্রু বালবার্নিকে মুশফিকের গ্লাভসবন্দি করে ১০৪ বলে ৯৮ রানের জুটি ভাঙেন শরীফুল। এই পেসারের দ্বিতীয় শিকার লরকান টাকার (১৬)। কার্টিস ক্যাম্ফারকে (৮) লেগ বিফোরের ফাঁদে ফেলেন তাইজুল। এরপরই হ্যারি টেক্টর ক্যারিয়ারের চতুর্থ সেঞ্চুরি তুলে নেন ৯৩ বলে। ৩৬ ওভারে আইরিশদের স্কোর দুইশ ছাড়ায়। টেক্টরের সঙ্গী হয়ে ব্যাট হাতে ঝড় তোলেন জর্জ ডকরেল। মাত্র ৩১ বলে তুলে নেন ফিফটি।

    টেক্টর ফিরে যাওয়ার আগে খেলেন ১৪০ রানের দুর্দান্ত ইনিংস। ৪২তম ওভারে এবাদতের বলে বোল্ড হওয়ার আগে ১১২ বলের মুখোমুখি হয়ে দশটি ছক্কা ও সাতটি চার মারেন তিনি। জর্জ ডকরেল খেলেন ৭৪ রানের হার না মানা ইনিংস। তিনি ৪৭ বল খেলে চারটি ছক্কা ও তিনটি চার মারেন।

    মিরাজের বলে বিস্ফোরক ডকরেলের ক্যাচ ছাড়েন সাকিব। সেঞ্চুরিয়ান হ্যারি টেক্টর থামেন ইবাদতের বলে বোল্ড হয়ে। তার আগে ১১৩ বলে ৭ চার ১০ ছক্কায় খেলেন ১৪০ রানের বিস্ফোরক ইনিংস। তার বিদায়ে ভাঙে ডকরেলের সঙ্গে ৬৮ বলে ১১৫ রানের বিষ্ফোরক ৬ষ্ঠ উইকেট জুটি। শেষ পর্যন্ত ৪৫ ওভারে ৬ উইকেটে ৩১৯ রান তোলে আয়ারল্যান্ড। ৪৭ বলে ৩টি চার এব ৪টি ছক্কায় ৭৪* রানে অপরাজিত থাকেন ডকরেল। আট নম্বরে নামা মার্ক অ্যাডায়ারও ৮ বলে ২ ছক্কায় ২০ রান করেন। বাংলাদেশের হয়ে ২টি করে উইকেট নেন হাসান মাহমুদ এবং শরীফুল ইসলাম।

     

  • ইউটিউবে ভিউ বাড়াতে কি ধ্বংস করে দিলেন আস্ত বিমান?

    ইউটিউবে ভিউ বাড়াতে কি ধ্বংস করে দিলেন আস্ত বিমান?

    ভিডিওতে ভিউ বাড়াতে অনেক কিছুই করেন ইউটিউবাররা। অনেকভাবেই ভিডিওর মাধ্যমে দর্শকদের ধোঁকা দিয়ে থাকেন তারা। তবে ভিউ বাড়াতে বিশাল এক কাণ্ড করে বসেছেন যুক্তরাষ্ট্রের ট্রেভর জ্যাকব নামক ২৯ বছরের এক ইউটিউবার।

    ২৯ বছর বয়সী প্রাক্তন অলিম্পিক ‘স্নোবোর্ডার’ একটি প্রপেলার বিমান থেকে লাফ দিয়েছিলেন এবং দাবি করেছিলেন ইঞ্জিনের সমস্যার কারণে বিমান থেকে প্যারাশুট নিয়ে লাফ দিয়েছিলেন। তিনি একাই বিমানটি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের লোমপক থেকে ম্যামথ লেকসের দিকে যাচ্ছিলেন। ঘটনাটি প্রায় দেড় বছর আগের। কিন্তু পুরো বিষয়টিই আসলে একটি মিথ্যা ছিল। ইউটিউবে ভিউ ও ফলোয়ার বৃদ্ধির উদ্দেশ্যেই এই স্টান্টবাজি ভিডিও করেছিলে তিনি।

    পাইলট ট্রেভর জ্যাকব বৃহস্পতিবারে এই অভিযোগে দোষী সাব্যস্ত হয়েছেন এবং স্বীকারও করেছেন। শুধু তাই নয়, ফেডারেল তদন্তে বাধা দেওয়ার জন্য ইচ্ছাকৃতভাবেই বিমানটির ধ্বংসাবশেষ ধ্বংস করে ফেলেন তিনি। বিমানটি সান্তা বারবারা কাউন্টিতে বিধ্বস্ত হয়েছিল বলে জানায় ক্যালিফোর্নিয়ার কেন্দ্রীয় জেলায় অবস্থিত মার্কিন অ্যাটর্নি অফিস।

    তার বিরুদ্ধে ‘ফেডারেল তদন্তে বাধা দেওয়া, বিমানের ধ্বংসাবশেষ ধ্বংস এবং গোপন করার’ অভিযোগ আনা হয়েছে। এই অপরাধে তার ২০ বছর পর্যন্ত জেল হতে পারে। মার্কিন অ্যাটর্নি অফিসের একজন মুখপাত্রের মতে,  শুনানির জন্য জ্যাকব আগামী সপ্তাহে প্রাথমিক আদালতে উপস্থিত হবেন বলে ধারণা করা হচ্ছে।’ আনুষ্ঠানিক আবেদনের শুনানির কয়েক মাস পরেই তার সাজা ঘোষণা করা হবে। জ্যাকবের পাইলটের লাইসেন্সও ফেডারেল এভিয়েশন অ্যাডমিনিস্ট্রেশন প্রত্যাহার করেছে।

    ঘটনাটি ঘটেছিল নভেম্বর ২৪, ২০২১ সালে এবং জ্যাকব ‘আই ক্র্যাশড মাই এয়ারপ্লেন’ শিরোনামের একটি ভিডিও তৈরি করেছিলেন। তখন থেকে প্রায় ৩ মিলিয়ন ভিউ পেয়েছেন জ্যাকব। ভিডিওটিতে দেখা যায়, লোমপক সিটি বিমানবন্দর থেকে মসৃণ টেকঅফ করে পাহাড়ের ওপরে চলে যাচ্ছে বিমানটি। বিডিওতে জ্যাকব বলছে, সে ম্যামথ লেকে যাচ্ছে। একপর্যায়ে তার বন্ধু জনি স্ট্রেঞ্জের ছাইও দেখায়, যে ২০১৫ সালে সুইস আল্পসে লাফ দেওয়ার সময় মারা গিয়েছিলেন। ভিডিওতে প্রায় এক মিনিটের মাথায় প্লেনের প্রপেলারটি থেমে যায় এবং জ্যাকব দরজা খুলে ফেলেন। এরপর তিনি বলেন, বিমানের ইঞ্জিন বিকল হয়ে গেছে। তিনি দরজা দিয়ে বের হয়ে প্যারাশুটসহ লাফ দেন এবং মাটিতে নামেন। ওদিকে চালকবিহীন বিমানটি মাটিতে আছড়ে পড়ে। নিচে নামার পর তিনি বিমানের ধ্বংসাবশেষ খুঁজে পান আর ধ্বংস করেন। স্থানীয় কৃষকরা কয়েক ঘণ্টা পর তাকে উদ্ধার করেন।

    এফএএ-এর মতে, বিমান দুর্ঘটনাটি ইচ্ছাকৃত ছিল এবং এটি প্রমাণ করার জন্য প্রচুর প্রমাণ রয়েছে। জ্যাকবস বিমানে উড্ডয়নের আগে ক্যামেরা বসিয়েছিলেন, যেটি প্রপেলারের দিকে ছিল। তিনি একটি প্যারাশুট নিয়ে লাফ দিয়েছিলেন। ইঞ্জিন নষ্ট ও বন্ধ হয়ে গেছে বলার আগেই বিমানের দরজা খুলে ফেলেন। তিনি ইঞ্জিন আবার চালু করার চেষ্টা করেননি বা এয়ার ট্রাফিক কন্ট্রোলের সঙ্গে যোগাযোগ করেননি বা অবতরণ করার জন্য নিরাপদ জায়গা খোঁজেননি। জ্যাকবস একটি সেলফি স্টিক ব্যবহার করে বিমানটি থেকে লাফ দেন। এ জন্য মন্তব্যকারীদের তিরস্কারের শিকারও হয়েছিলেন। বিমানের ধ্বংসাবশেষ পুনরুদ্ধার এবং ধ্বংস করলেও তার ক্যামেরাগুলো কিন্তু ঠিকঠাক উদ্ধার করেছেন।

    জাস্টিস ডিপার্টমেন্টের রিলিজ বলছে, জ্যাকব এমন একটি কম্পানির কাছ থেকে স্পন্সরশিপ পেয়েছিলেন, যার ‘ওয়ালেট’ তিনি ওই ভিডিওতে প্রচার করেছিলেন। ভিডিওটির পূর্ববর্তী সংস্করণে জ্যাকবস প্লেনের সামনে দাঁড়িয়ে ‘রিজ ওয়ালেট’র জন্য একটি প্রচারমূলক বিজ্ঞাপন দেখিয়েছেন। তবে রিজের প্রতিনিধিরা এ সম্পর্কে কোনো মন্তব্য করেননি।

    সূত্র : লস অ্যাঞ্জেলেস টাইমস

  • পাঁচ বোর্ডের রোববারের (১৪ মে) এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষা স্থগিত

    পাঁচ বোর্ডের রোববারের (১৪ মে) এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষা স্থগিত

    ঘূর্ণিঝড় মোকার কারণে এসএসসি/সমমান পরীক্ষা স্থগিত করা হয়েছে। শুক্রবার (১২ মে) সন্ধ্যায় এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানিয়েছে বাংলাদেশ আন্তঃশিক্ষা বোর্ড সমন্বয় কমিটি।

    ঘূর্ণিঝড় মোখার কারণে কুমিল্লা, চট্টগ্রাম, বরিশাল, মাদরাসা ও কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের আগামী রোববারের (১৪ মে) এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষা স্থগিত করা হয়েছে।

    শুক্রবার (১২ মে) রাতে এক বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে বিষয়টি নিশ্চিত করেছে আন্তঃশিক্ষা বোর্ড সমন্বয় কমিটি।

    বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, ঘূর্ণিঝড় ‘মোকা’র কারণে চলমান এসএসসি/সমমান পরীক্ষা ২০২৩-এর চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ড, কুমিল্লা শিক্ষা বোর্ড, বরিশাল শিক্ষা বোর্ড, বাংলাদেশ মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ড এবং বাংলাদেশ কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের অধীন আগামী ১৪ মে (রোববার) অনুষ্ঠিতব্য পরীক্ষাগুলো স্থগিত করা হলো।

    এতে আরও বলা হয়, অন্যান্য বোর্ডের এই তারিখের পরীক্ষা যথারীতি অনুষ্ঠিত হবে। স্থগিত হওয়া পরীক্ষার পরিবর্তিত সময়সূচি বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে পরবর্তীতে জানিয়ে দেওয়া হবে।

    সারাদেশে গত ৩০ এপ্রিল শুরু হওয়া এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষা এখন মাঝপথে। ইতোমধ্যে বঙ্গোপসাগরে সৃষ্টি হয়েছে একটি প্রবল ঘূর্ণিঝড়, যার নাম দেওয়া হয়েছে মোখা। এটি বাংলাদেশে আঘাত হানবে বলে পূর্বাভাসে জানিয়েছে আবহাওয়া অধিদফতর। আগামীকাল শনিবার উপকূলীয় এলাকায় ঝড়ের প্রভাব পড়তে শুরু করবে এবং রোববার দেশের উপকূলে এটি আঘাত হানবে। সম্ভাব্য ক্ষয়ক্ষতির কথা বিবেচনা করে পাঁচটি বোর্ডের পরীক্ষা স্থগিত করল কর্তৃপক্ষ।

  • ভারত মহাসাগর অঞ্চলের সহনশীল ভবিষ্যতের জন্য ৬টি অগ্রাধিকার উত্থাপন করেছেন প্রধানমন্ত্রী

    ভারত মহাসাগর অঞ্চলের সহনশীল ভবিষ্যতের জন্য ৬টি অগ্রাধিকার উত্থাপন করেছেন প্রধানমন্ত্রী

    প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আজ ভারত মহাসাগর অঞ্চলের দেশগুলোর মধ্যে পারস্পরিক আস্থা ও শ্রদ্ধা জোরদার করা, অংশীদারিত্ব গড়ে তোলার পাশাপাশি এ অঞ্চলের স্থিতিশীল ভবিষ্যতের জন্য সামুদ্রিক কূটনীতি জোরদার করার আহ্বান জানিয়েছেন।
    আজ সন্ধ্যায় এখানে ২ দিনব্যাপী ইন্ডিয়ান ওশান কনফারেন্স (আইওসি) উদ্বোধনকালে তিনি একটি টেকসই পদ্ধতিতে রোহিঙ্গাদের নিজ বাসভূমিতে প্রত্যাবাসনে সক্রিয় বৈশ্বিক সহায়তা কামনা করেছেন।
    শেখ হাসিনা বলেন, “ভারত মহাসাগর ভৌগোলিক অবস্থানের কারণে শুধু বাংলাদেশের জন্য নয়, বরং এ অঞ্চলের সব দেশের জন্যই তাৎপর্যপূর্ণ। আমি এ ৬ষ্ঠ ভারত মহাসাগর সম্মেলনে ছয়টি অগ্রাধিকারের বিষয়ে গুরুত্ব আরোপ করতে চাই। আমরা সম্প্রতি ইন্দো-প্যাসিফিক আউটলুক প্রণয়ন করেছি।”
    বাংলাদেশ সরকারের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সহযোগিতায় ইন্ডিয়া ফাউন্ডেশন এই সম্মেলনের আয়োজন করছে।
    মরিশাসের প্রেসিডেন্ট এবং ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রীসহ ২৫টি দেশের মন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রী পর্যায়ের প্রতিনিধি দল সম্মেলনে যোগ দিচ্ছেন।
    এছাড়া ডি-৮, সার্ক ও বিমসটেকের প্রতিনিধিসহ প্রায় ১৫০ জন বিদেশী অতিথি সম্মেলনে অংশ নিচ্ছেন। সম্মেলনে মিয়ানমারকে আমন্ত্রণ জানানো হয়নি।
    উদ্বোধনী অধিবেশনে মরিশাসের প্রেসিডেন্ট পৃথ্বীরাজসিং রূপন, মালদ্বীপের ভাইস-প্রেসিডেন্ট ফয়সাল নাসেম, ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এস জয়শঙ্কর, বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এ কে আব্দুল মোমেন এবং সিঙ্গাপুরের প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মন্ত্রী ও পররাষ্ট্র বিষয়ক সেকেন্ড মন্ত্রী ড. মালিকী ওসমান সম্মেলনে বক্তব্য রাখেন।
    পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এ কে আবদুল মোমেন অনুষ্ঠানে ভার্চুয়ালি যুক্ত হয়ে বক্তৃতা করেন। পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী এম শাহরিয়ার আলম মঞ্চে উপস্থিত ছিলেন।
    প্রস্তাবগুলো উপস্থাপন করে প্রধানমন্ত্রী ভারত মহাসাগরে সহনশীল ভবিষ্যতের জন্য স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করতে শক্তিশালী অংশীদারিত্ব গড়ে তোলার জন্য দেশগুলোর মধ্যে পারস্পরিক আস্থা ও শ্রদ্ধা জোরদার করার ওপর জোর দিয়েছেন।
    প্রধানমন্ত্রী বলেন, ভারত মহাসাগরীয় অঞ্চলের দেশগুলোকে তাদের উন্নয়নের জন্য “সামুদ্রিক কূটনীতি” গড়ে তুলতে হবে, যার মাধ্যমে একটি সমৃদ্ধ ভবিষ্যত নিশ্চিত করা সম্ভব হবে। এ অঞ্চলের অনেক দেশের জলবায়ু ঝুঁকি প্রাকৃতিক দুর্যোগের প্রভাব কমাতে সহযোগিতা বাড়ানোর প্রয়োজনীয়তা স্মরণ করিয়ে দেয়।
    তিনি সমুদ্রে জরুরী পরিস্থিতিতে সাড়াদান, অনুসন্ধান ও উদ্ধার কার্যক্রমসহ ভারত মহাসাগরে সামুদ্রিক নিরাপত্তা এবং নিরাপত্তার বিষয়ে বিদ্যমান ব্যবস্থা জোরদার করার প্রয়োজনীয়তার উপর জোর দেন এবং আন্তর্জাতিক আইন অনুসারে নৌচলাচল ও ওভারফ্লাইটের স্বাধীনতার অনুশীলনকে সমুন্নত রাখার আহ্বান জানান।

    প্রধানমন্ত্রী এই অঞ্চলে ‘শান্তি সংস্কৃতি’ এবং জনগণকেন্দ্রিক উন্নয়ন জোরদারের আহ্বান জানিয়ে বলেন, এ অঞ্চলে শান্তিপূর্ণ, ন্যায়সঙ্গত ও অন্তর্ভুক্তিমূলক সমাজ গঠনের জন্য বিশ্ব জনসংখ্যার অর্ধেক নারীদের বিষয়ে যথাযথ মনোযোগ দেওয়া উচিত।
    তিনি আরও বলেন, এ লক্ষ্যে উন্মুক্ত, স্বচ্ছ, নিয়ম-ভিত্তিক বহুপাক্ষিক ব্যবস্থা জোরদার করা প্রয়োজন যা অন্তর্ভুক্তিমূলক অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির মাধ্যমে এই অঞ্চলে ও অঞ্চলের বাইরেও ন্যায়সঙ্গত ও টেকসই উন্নয়নকে সহজতর করবে।
    প্রধানমন্ত্রী বলেন, অনেক চ্যালেঞ্জ সত্ত্বেও বাংলাদেশ জোরপূর্বক বাস্তুচ্যুত মিয়ানমারের ১১ লাখের বেশি নাগরিককে সাময়িক আশ্রয় দিয়েছে।
    তিনি বলেন, “এই দৃষ্টিভঙ্গি এ অঞ্চলে একটি বড় মানবিক বিপর্যয় ঠেকিয়েছে। এখন, আমরা রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীকে নিরাপদ ও টেকসই উপায়ে তাদের মাতৃভূমিতে প্রত্যাবাসনের জন্য বিশ্ব সম্প্রদায়ের সক্রিয় সমর্থন চাই।”
    তিনি বলেন, বাংলাদেশ একটি উপকূলীয় রাষ্ট্র হিসাবে বহু শতাব্দী ধরে সামুদ্রিক কার্যকলাপের কেন্দ্রস্থল এবং এটি অনেক আঞ্চলিক প্ল্যাটফর্মে সক্রিয়। বাংলাদেশ ভারতীয় মহাসাগর রিম অ্যাসোসিয়েশনের বর্তমান সভাপতি এবং আন্তর্জাতিক সমুদ্রতল কর্তৃপক্ষের কাউন্সিলেরও বর্তমান সভাপতি।
    তিনি বলেন, বাংলাদেশ ভারত মহাসাগরীয় অঞ্চলের দীর্ঘদিনের পুরনো ও অপ্রচলিত চ্যালেঞ্জে বিশ্বাস করে।
    তিনি বলেন, “আমরা এই অঞ্চলে শান্তির জন্য আমাদের ভূমিকা পালনে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ রয়েছি এবং একটি সহনশীল ভবিষ্যত নিশ্চিত করতে অন্য সব দেশও একই কাজ করবে বলে আশা করি।”
    তিনি বলেন, বিশ্ব বাণিজ্যের ৯০% এবং তেল পরিবহনের ৬০% এই অঞ্চলের মহাসাগর ও সমুদ্র পথে পরিচালিত হয় এবং বৈশ্বিক সামুদ্রিক বাণিজ্যের প্রকৃত ব্যয় গত ১৫ বছরে তিনগুণ বেড়েছে।
    তিনি বলেন, “মহাসাগর সারা বিশ্বের বিভিন্ন দেশে টেকসই উন্নয়নের ক্ষেত্রে চমৎকার সুযোগ প্রদান করে। তবুও অনেক সম্ভাবনা এখনও অব্যবহৃত রয়ে গেছে। ”
    তিনি বলেন, এশিয়া-প্যাসিফিক ও আফ্রিকান অঞ্চলে ভারত মহাসাগর অঞ্চলের উল্লেখযোগ্য অর্থনৈতিক, রাজনৈতিক এবং কৌশলগত প্রভাব রয়েছে। এ অঞ্চলে বৈশ্বিক জনসংখ্যার ৬৪% এবং বৈশ্বিক জিডিপির ৬০% রয়েছে।
    তিনি বলেন, এ অঞ্চলের অনেক সম্ভাবনা থাকা সত্ত্বেও, অঞ্চলটি অনেক চ্যালেঞ্জের সম্মুখীন। তাই ভারত মহাসাগর অঞ্চলের দেশগুলিকে সকলের জন্য শান্তি ও সমৃদ্ধি নিশ্চিত করার জন্য অংশীদারিত্ব ও সহযোগিতা বৃদ্ধি করতে হবে।
    প্রধানমন্ত্রী বলেন, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বাংলাদেশের উন্নয়ন, প্রবৃদ্ধি ও স্থিতিশীলতার জন্য বাংলাদেশের সামুদ্রিক সম্পদের সর্বোত্তম ব্যবহারের ওপর জোর দিয়েছিলেন।
    তিনি আরো বলেন, একজন দূরদর্শী নেতা হিসেবে, বঙ্গবন্ধু বাংলাদেশের ‘মেরিটাইম জোন’-এর সীমানা নির্ধারণ করতে, সীমানার মধ্যে বিভিন্ন কার্যক্রম পরিচালনা করতে সক্ষমতা গড়ে তুলতে করতে এবং সমুদ্র সম্পদ অনুসন্ধানের সুবিধার্থে “টেরিটোরিয়াল ওয়াটারস অ্যান্ড মেরিটাইম জোনস অ্যাক্ট, ১৯৭৪” প্রণয়ন করেছিলেন।
    তিনি বলেন, এই আইনটি “সমুদ্রের আইন সম্পর্কিত জাতিসংঘ কনভেনশন, ১৯৮২” গৃহীত হওয়ার ৮ বছর আগে কার্যকর হয়েছিল, যখন বিশ্ব সম্প্রদায়ের কাছে বিষয়টি সম্পর্কে উপলব্ধি সীমিত ছিল।
    প্রধানমন্ত্রী বলেন, সম্মেলনের থিম – “শান্তি, অংশীদারিত্ব ও সমৃদ্ধি: একটি সহনশীল স্থিতিস্থাপক ভবিষ্যতের দিকে”- খুবই উপযুক্ত ও সময়োপযোগী।
    তিনি বলেন, কোভিড-১৯ মহামারী পরিস্থিতি এবং চলমান রাশিয়া-ইউক্রেন সংঘাতের ফলে নিষেধাজ্ঞা ও পাল্টা নিষেধাজ্ঞার প্রেক্ষিতে এ থিমটি আরও বেশি প্রাসঙ্গিক হয়ে উঠেছে।
    তিনি বলেন, “এগুলি বিশ্বের সকল দেশের জন্য অভূতপূর্ব চ্যালেঞ্জ তৈরি করেছে। বৈশ্বিক মন্দা, খাদ্য, জ্বালানি এবং সার সংকটের ফলে বিশ্বের সকল মানুষের জীবনযাত্রার অসহনীয় পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। ভারত মহাসাগরীয় অঞ্চলও জলবায়ু পরিবর্তন, সামুদ্রিক নিরাপত্তা, সন্ত্রাসবাদ ও প্রাকৃতিক দুর্যোগের মতো চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হয়েছে। ”
    তিনি বলেন, এসব চ্যালেঞ্জ কাটিয়ে উঠতে, এই অঞ্চলের দেশগুলিকে অংশীদারিত্ব গড়ে তুলতে এবং একটি উজ্জ্বল অঞ্চলের জন্য শান্তি ও সমৃদ্ধির লক্ষ্যে সম্মিলিত প্রচেষ্টা চালাতে হবে।
    তিনি বলেন, কোভিড-পরবর্তী বিশ্ব পরিস্থিতি এবং রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের প্রেক্ষাপটে ২০২২ সালের ডিসেম্বরে জাতিসংঘে সর্বসম্মতিক্রমে “শান্তির গ্যারান্টি হিসেবে ইন্টারন্যাশনাল ইয়ার অফ ডায়ালগ, ২০২৩” শীর্ষক একটি প্রস্তাব গৃহীত হয়েছিল।
    তিনি বলেন, সেই প্রস্তাবে ১৯৭৪ সালে জাতিসংঘে জাতির পিতার দেয়া ভাষণ থেকে ঐতিহাসিক উদ্ধৃতি রেজুলেশনের ১৪তম অনুচ্ছেদে সন্নিবেশিত হয়েছিল, যা বাংলাদেশের পররাষ্ট্রনীতির নীতিমালার অংশ।
    এতে লেখা আছে: “দারিদ্র্য, ক্ষুধা, রোগ-ব্যাধি, নিরক্ষরতা ও বেকারত্বের বিরুদ্ধে লড়াইয়ের গুরুত্বকে স্বীকৃতি দিয়ে এবং গঠনমূলক সহযোগিতা, সংলাপ ও পারস্পরিক বোঝাপড়ার চেতনায় সকলের প্রতি বন্ধুত্ব, কারও প্রতি বৈরীতা না করার উপর জোর দান এই উদ্দেশ্যগুলি অর্জনে সহায়ক হবে।”
    তিনি বলেন, ভারত মহাসাগরীয় অঞ্চলে এ বিষয়গুলো বাংলাদেশের জন্য খুবই প্রাসঙ্গিক, কারণ বাংলাদেশ একটি সহনশীল ভবিষ্যতের জন্য কর্মসূচি প্রণয়নের চেষ্টা করছে।
    বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবের উদ্ধৃতির সাথে সামঞ্জস্য রেখে তিনি বলেন, এই অঞ্চলে শান্তি ও সমৃদ্ধি নিশ্চিত করার জন্য আমাদের অভিন্ন লক্ষ্য অর্জনে অর্থপূর্ণ সহযোগিতা, সংলাপ ও পারস্পরিক বোঝাপড়ার আকারে বাংলাদেশের কার্যকর ‘অংশীদারিত্ব’ প্রয়োজন।
    জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে উদ্ধৃত করে তিনি বলেন, “মানবজাতির টিকে থাকার জন্য শান্তি অপরিহার্য; এটি সারা বিশ্বে নারী ও পুরুষের গভীরতম আকাঙ্খার প্রতিফলন।” সেই ভাষণে তিনি ভারত মহাসাগরকে একটি শান্তিপূর্ণ এলাকা হিসেবে বজায় রাখার ওপর বিশেষভাবে জোর দিয়েছিলেন।
    তিনি বলেন, বিশ্ব শান্তি ও মানবাধিকার প্রতিষ্ঠার জন্য বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবকে ২৩ মে, ১৯৭৩ সালে জুলিও-কুরি শান্তি পদক দেওয়া হয়েছিল।
    বঙ্গবন্ধুর দর্শন অনুসরণ করে শেখ হাসিনা বলেন, বাংলাদেশ বিশ্ব শান্তির প্রবল প্রবক্তা হয়ে উঠেছে। ১৯৯৭ সালে জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদে, আমরা “শান্তির সংস্কৃতি” বিষয়ে একটি প্রস্তাব পেশ করি যা সর্বসম্মতিক্রমে গৃহীত হয়েছিল।
    তিনি বলেন, পরবর্তীকালে, জাতিসংঘ ২০০০ সালকে “শান্তির সংস্কৃতির আন্তর্জাতিক বছর” হিসাবে ঘোষণা করেছে এবং ২০০১-২০১০ সালকে “শান্তির সংস্কৃতি ও অহিংসার দশক” হিসাবে মনোনীত করেছে।
    তিনি বলেন, “বাংলাদেশ “শান্তির সংস্কৃতি”কে একটি অপরিহার্য উপাদান হিসেবে দেখে যা শান্তির সকল দিককে শক্তিশালী করবে। এ কারণেই বাংলাদেশ জাতিসংঘের বৈশ্বিক শান্তিরক্ষা ও শান্তি-নির্মাণের প্রচেষ্টায় প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। বর্তমানে জাতিসংঘ শান্তিরক্ষায় আমাদের সৈন্যদের অবদান বিশ্বের মধ্যে সর্বোচ্চ।”
    প্রধানমন্ত্রী বলেন, গত এক দশকে বাংলাদেশ আর্থ-সামাজিক প্রবৃদ্ধি ও সামাজিক ন্যায়বিচারে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি অর্জন করেছে।
    তিনি বলেন, “বাংলাদেশ এখন বিশ্বের ৩৫তম বৃহত্তম অর্থনীতি। সাম্প্রতিক বছরগুলিতে চরম দারিদ্র্যের হার ৫.৬%-এ নেমে এসেছে এবং আমাদের মাথাপিছু আয় এক দশকের মধ্যে তিনগুণ বেড়ে ২৮২৪ ডলারে পৌঁছেছে। বাংলাদেশ ২০২৬ সালে স্বল্পোন্নত দেশ (এলডিসি) ক্যাটাগরি থেকে উন্নয়নশীল দেশে উন্নীত হওয়ার জন্য প্রয়োজনীয় সব মানদ- পূরণ করেছে”।
    শেখ হাসিনা বলেন, তার সরকার একটি সমৃদ্ধ অর্থনীতির জন্য সহায়ক শক্ত ভৌত অবকাঠামোসহ ‘স্মার্ট বাংলাদেশ’ গড়ে তুলতে চাইছে। গত বছর আমরা নিজস্ব-অর্থায়নে নির্মিত ‘পদ্মা বহুমুখী সেতু’ উদ্বোধন করেছিলাম।
    প্রধানমন্ত্রী বলেন, সম্প্রতি আমরা রাজধানীতে প্রথম মেট্রো রেল পরিষেবা উদ্বোধন করেছি। আমরা শীঘ্রই চট্টগ্রামে নদীর তলদেশে ৩.২ কিলোমিটার দীর্ঘ বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান টানেল সম্পূর্ণ করব যা দক্ষিণ এশিয়ায় এই ধরণের প্রথম টানেল।
    তিনি বলেন, “আমাদের আকাঙ্খা হল ২০৪১ সালের মধ্যে বাংলাদেশকে একটি জ্ঞানভিত্তিক, আধুনিক, উন্নত দেশ, ‘সোনার বাংলা’তে রূপান্তর করা এবং ২১০০ সালের মধ্যে একটি সমৃদ্ধ ও জলবায়ু সহনশীল ব-দ্বীপ গড়ে তোলা। এই লক্ষ্যগুলি অর্জনের জন্য আমাদের কৌশলের মধ্যে রয়েছে টেকসই অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি জোরদার এবং সবার জন্য সুযোগ সৃষ্টি করা।

    সূত্র : বাসস

  • অতি প্রবল ঘূর্ণিঝড়ে রূপ নিয়েছে ‘মোখা’

    অতি প্রবল ঘূর্ণিঝড়ে রূপ নিয়েছে ‘মোখা’

    দক্ষিণপূর্ব বঙ্গোপসাগর ও তৎসংলগ্ন মধ্য বঙ্গোপসাগর এলাকায় অবস্থানরত প্রবল ঘূর্ণিঝড় ‘মোখা’ উত্তর দিকে অগ্রসর ও ঘণীভূত হয়ে মধ্য বঙ্গোপসাগর ও তৎসংলগ্ন দক্ষিণপূর্ব বঙ্গোপসাগর এলাকায় অতি প্রবল ঘূর্ণিঝড়ে রূপ নিয়েছে।
    আজ সকাল সাড়ে ৮টায় আবহাওয়া অধিদপ্তরের ১০ নম্বর বিশেষ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
    আবহাওয়াবিদ হাফিজুর রহমান স্বাক্ষরিত বিশেষ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, ঘূর্ণিঝড়টি আজ ভোর ৬টায় চট্টগ্রাম সমুদ্রবন্দর থেকে ১ হাজার ৯৫ কিলোমিটার দক্ষিণ-দক্ষিণপশ্চিমে, কক্সবাজার সমুদ্রবন্দর থেকে ১ হাজার ২৫ কিলোমিটার দক্ষিণ-দক্ষিণপশ্চিমে, মোংলা সমুদ্রবন্দর থেকে ১ হাজার ৫৫ কিলোমিটার দক্ষিণ-দক্ষিণপশ্চিমে এবং পায়রা সমুদ্রবন্দর থেকে ১ হাজার ২০ কিলোমিটার দক্ষিণ-দক্ষিণপশ্চিমে অবস্থান করছিল। এটি আরো উত্তর-উত্তরপূর্ব দিকে অগ্রসর ও ঘণীভূত হতে পারে।
    অতি প্রবল ঘূর্ণিঝড় কেন্দ্রের ৭৪ কিলোমিটারের মধ্যে বাতাসের একটানা সর্বোচ্চ গতিবেগ ঘণ্টায় ১২০ কিলোমিটার, যা দমকা অথবা ঝড়ো হাওয়ার আকারে ১৪০ কিলোমিটার পর্যন্ত বৃদ্ধি পাচ্ছে। অতি প্রবল ঘূর্ণিঝড় কেন্দ্রের নিকটবর্তী এলাকায় সাগর খুবই বিক্ষুব্ধ রয়েছে।
    চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, মোংলা ও পায়রা সমুদ্র বন্দরসমূহকে ২ নম্বর দূরবর্তী হুঁশিয়ারী সংকেত দেখিয়ে যেতে বলেছে আবহাওয়া অফিস।
    উত্তর বঙ্গোপসাগর ও গভীর সাগরে অবস্থানরত সকল মাছ ধরার নৌকা ও ট্রলারকে উপকূলের কাছাকাছি থেকে সাবধানে চলাচল করতে এবং সেইসাথে তাদেরকে গভীর সাগরে বিচরণ না করতে বলা হয়েছে।

    সূত্র : বাসস

  • ইনস্টাগ্রামঃ ভিডিও বা রিল ডাউনলোড টিপস

    ইনস্টাগ্রামঃ ভিডিও বা রিল ডাউনলোড টিপস

    ইনস্টাগ্রাম রিল, অডিও বা ভিডিও ডাউনলোড করতে পারেন সহজেই। অসংখ্য প্রয়োজনীয় ভিডিও ফাইল ইন্সটাগ্রামকে করেছে জনপ্রিয় এবং সমৃদ্ধশালী। সেসব নিজ সংগ্রহে রাখতে পারেন আপনিও। এতে করে ফাইলটি অফলাইনেও ব্যবহার করতে পারবেন। ডাউনলোড করার জন্য বাছাইকৃত ভিডিওটির লিংক আপনি কপি করে অডিও বা ভিডিও ফরম্যাটে ডাউনলোডের জন্য এই সাইটে ভিজিট করবেন https://instavideosave.net/ । এরপর পেস্ট দিয়ে আপনি ডাউনলোডের মাধ্যমে সংরক্ষণ করতে পারবেন আপনার ডিভাইসে।

  • জাতীয় দলে খেলতে গেলেও আইপিএলের ফ্র্যাঞ্চাইজি মালিকদের অনুমতি নিতে হবে

    জাতীয় দলে খেলতে গেলেও আইপিএলের ফ্র্যাঞ্চাইজি মালিকদের অনুমতি নিতে হবে

    আইপিএলের সঙ্গে চুক্তিবদ্ধ থাকলে ক্রিকেটাররা নিজ দেশের জাতীয় দলে খেলতে গেলেও ফ্র্যাঞ্চাইজি মালিকদের অনুমতি নিতে হবে।

    কোটিপতি লিগ হিসেবে বিশ্ব ক্রিকেটে জনপ্রিয় ইন্ডিয়ান প্রিমিয়ার লিগ (আইপিএল)। ফ্র্যাঞ্চাইজি এ টুর্নামেন্টে বিশ্বের তারকা ক্রিকেটারদের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করার জন্য নতুন পদক্ষেপ নিতে যাচ্ছে আইপিএল কর্তৃপক্ষ।

    ইংল্যান্ডের একটি সংবাদমাধ্যমের দাবি, জোফরা আর্চার হতে পারেন এ ধরনের প্রথম ক্রিকেটার। যিনি দেশের আগে পাকাপাকিভাবে বেছে নিতে পারেন ফ্র্যাঞ্চাইজি ক্রিকেটকে। মুম্বাই ইন্ডিয়ান্স তাকে ধরে রাখার জন্য বার্ষিক চুক্তির প্রস্তাব দিয়েছে। আর্চার প্রস্তাব মেনে নিতে পারেন। সেক্ষেত্রে তাকে ইংল্যান্ড দলে রাখতে হলে মুম্বাই ইন্ডিয়ান্স কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে আগাম অনুমতি নিতে হবে ইংল্যান্ড ক্রিকেট বোর্ডকে।

    ক্রিকেট খেলুড়ে দলগুলো তাদের তারকা ক্রিকেটারদের সঙ্গে বার্ষিক চুক্তি সই করে থাকে। সেই চুক্তির মতোই এবার বিশ্বের তারকা ক্রিকেটারদের সঙ্গে বার্ষিক চুক্তিসই করতে যাচ্ছে আইপিলের ফ্র্যাঞ্চাইজি মালিকরা। এ চুক্তি কার্যকর হলে ক্রিকেটাররা বিভিন্ন দেশের লিগেও খেলার সুযোগ পাবেন।

    কারণ সেরা ক্রিকেটারদের ধরে রাখতে বার্ষিক চুক্তির দিকে এগোচ্ছেন আইপিএলের ফ্র্যাঞ্চাইজি মালিকরা।

    চোটের জন্য গত বছর আইপিএল খেলতে পারেননি আর্চার। এবারো কনুইয়ের চোটের জন্য প্রতিযোগিতার মাঝপথে দেশে ফিরে গেছেন। গত বছর নিলামে আর্চারকে ৮ কোটি টাকা দিয়ে কিনেও সেই অর্থে লাভ হয়নি মুম্বাইয়ের।

    আগামী দিনে যাতে এমন সমস্যা না হয়, তা নিশ্চিত করতেই আর্চারের সঙ্গে বার্ষিক চুক্তির ভাবনা মুম্বাই কর্তৃপক্ষের। তাহলে আর্চার বছরে কতগুলো ম্যাচ দেশের হয়ে খেলবেন, কোন কোন সিরিজে খেলবেন- এসব কিছুই নির্ধারণ করবে মুম্বাই। ফ্র্যাঞ্চাইজির অনুমতি না নিয়ে তাকে খেলাতে পারবে না ইংল্যান্ড।

    আর্চার মুম্বাইয়ের সঙ্গে বার্ষিক চুক্তিতে থাকলে বিশ্বের বিভিন্ন দেশের টি-টোয়েন্টি লিগে খেলতে পারবেন।

    ইংল্যান্ডের সংবাদমাধ্যমটির দাবি, শুধু আর্চার নন ইংল্যান্ডের বেশ কয়েকজন ক্রিকেটার রয়েছেন ফ্র্যাঞ্চাইজির নজরে। তাদের মধ্যে অন্যতম হলেন অ্যালেক্স হেলস। ২০২২ সালের নিলামে কলকাতা নাইট রাইডার্স তাকে কিনলেও আইপিএল থেকে তিনি নিজেকে সরিয়ে নিয়েছিলেন। তার সঙ্গেও বার্ষিক চুক্তি করতে যাচ্ছে আইপিএলের একটি ফ্র্যাঞ্চাইজি।

    সূত্র: আনন্দবাজার পত্রিকা

  • জাতীয় সংসদে ২০২৩-২৪ অর্থবছরের বাজেট পৌনে ৮ লাখ কোটি টাকা

    জাতীয় সংসদে ২০২৩-২৪ অর্থবছরের বাজেট পৌনে ৮ লাখ কোটি টাকা

    আগামী ১ জুন জাতীয় সংসদে ২০২৩-২৪ অর্থবছরের বাজেট পেশ করবেন অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল। প্রায় পৌনে ৮ লাখ কোটি টাকার বিশাল বাজেট দিতে যাচ্ছেন অর্থমন্ত্রী।

    ২০২৩-২৪ অর্থবছরের এই বাজেট নিয়ে অর্থমন্ত্রী মুস্তফা কামাল সংসদে পঞ্চম বাজেট উপস্থাপন করবেন। সর্বশেষ ২০২২ সালের ৯ জুন তিনি আগামী ৩০ জুন শেষ হতে যাওয়া চলতি ২০২২-২৩ অর্থবছরের জন্য ৬ লাখ ৭৮ হাজার ৬৪ কোটি টাকার বাজেট সংসদে উপস্থাপন করেছিলেন।

    টি দেশের ৫২তম এবং আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন সরকারের ২৪তম বাজেট। আকারের দিক থেকে এটিই হবে দেশের বৃহত্তম বাজেট। সর্বশেষ বাজেটের তুলনায় এর আকার হবে ১২ শতাংশ বেশি।

    এটি দেশের ৫২তম এবং আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন সরকারের ২৪তম বাজেট। আকারের দিক থেকে এটিই হবে দেশের বৃহত্তম বাজেট। সর্বশেষ বাজেটের তুলনায় এর আকার হবে ১২ শতাংশ বেশি।

    প্রথা অনুযায়ী জুন মাসের প্রথম বৃহস্পতিবার সংসদে নতুন অর্থবছরের বাজেট উপস্থাপন করেন অর্থমন্ত্রী। ৩০ জুন পাস হয় সেই বাজেট। ১ জুলাই থেকে শুরু হয় নতুন বাজেট বাস্তবায়ন।

    এ বছর জুন মাসের প্রথম দিনই বৃহস্পতিবার হওয়ায় রীতি অনুযায়ী সেদিনটিতেই ২০২৩-২০২৪ অর্থবছরের বাজেট জাতীয় সংসদে উপস্থাপনের প্রাথমিক সূচি চূড়ান্ত করেছে অর্থ মন্ত্রণালয়। সোমবার অর্থ মন্ত্রণালয়ে বাজেট নিয়ে আন্তঃমন্ত্রণালয়ের এক সভায় এ লক্ষ্য নির্ধারণ করে পরবর্তী কর্মসূচি ঠিক করা হয়।

  • বিশ্বজুড়ে বাস্তুচ্যুত মানুষের সংখ্যা প্রায় ৭১ মিলিয়ন

    বিশ্বজুড়ে বাস্তুচ্যুত মানুষের সংখ্যা প্রায় ৭১ মিলিয়ন

    সংঘাত এবং প্রাকৃতিক দুর্যোগে বিশ্বে ক্রমশ বেড়ে চলেছে বাস্তচ্যুত মানুষের সংখ্যা। যুদ্ধ বিগ্রহ, প্রাকৃতিক দুর্যোগ ও জলবায়ু পরিবর্তনগত কারণে গত এক বছরেই কয়েক মিলিয়ন মানুষ তাদের নিজ দেশেই বাস্তচ্যুত হয়েছেন। নিরাপত্তা ও আশ্রয়ের সন্ধানে বিপুল মানুষ পালিয়ে যাওয়ার যাচ্ছে দেশের অভ্যন্তরে।

    বৃহষ্পতিবার নরওয়ে রিফিউজি কাউন্সিল (এনআরসি) ও ইন্টারনাল ডিসপ্লেসড পিপলস (আইডিপি) এক যৌথ প্রতিবেদনে প্রকাশ করেছে। এনআরসি, আইডিপি

    প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এটি এরইমধ্যে সর্চ্চ রেকর্ড হিসেবে দেখা হচ্ছে বলে ২০২১ সালের তুলনায় ২০২২ সালে নতুন বাস্তুচ্যুত বেড়েছে ৬০ শতাংশ। এর আগে ২০২১ সালে সংখ্যাটি ছিল ৩ কোটি ৮০ লাখ।

    আইডিএম প্রধান আলেকজেন্ডার বিলাক বলেছেন, বিশ্বে ২০২২ সালে এ পর্যন্ত ৭১ দশমিক ১ মিলিয়ন মানুষ বাস্তচ্যুত হয়েছে। এই সংখ্যার মধ্যে ২০ শতাংশ রয়েছে রাশিয়া ইউক্রেন যুদ্ধের কারণে। একইসঙ্গে জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে পাকিস্তানের বন্যার কারণও রয়েছে। ২০২১ সাল থেকে অভ্যন্তরীণভাবে বাস্তুচ্যুত মানুষের সংখ্যা ২০ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে।

    ২০২২ সালে নতুন এই বাস্তচ্যুতের সংখ্যা ৬০ দশমিক ৯ মিলিয়ন। আর যা সকল রেকর্ডকে পেছনে ফেলে দিয়েছে বলেও প্রতিবেদনে প্রকাশ। বিলাক বলেন, এ সংখ্যাটি  যুক্তরাষ্ট্র ও প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলের চেয়ে অবশ্য বেশি।

    এদিকে গত বছর নানা সংঘাতের ফলে নতুন করে এটি বেড়েছে ২৮ দশমিক ৩ মিলিয়ন। যা গত বছরেরে তুলনায় প্রায় দ্বিগুণ ও গত এক দশকের বার্ষিক গড় থেকে তিনগুণ বেশি।

    গত বছর ইউক্রেনে যুদ্ধের কারণে ১ কোটি ৭০ লাখ ও পাকিস্তানে ভয়াবহ বন্যার কারণে ৮০ লাখ মানুষ তাদের বাড়িঘর ছাড়তে বাধ্য হয়েছিল।

    এছাড়া যুদ্ধ ও সংঘাতের কারণে সিরিয়া, আফ্রিকাসহ বিশ্বের বেশ কয়েকটি দেশের ১৬ দশমিক ৫ ইলিয়ন মানুষ বাস্তচ্যুতির কবলে পড়েছে। এদের মধ্যে অর্ধেকই রয়েছেন কঙ্গো ও ইথিওপিয়ার মানুষ।

    জাতিসংঘের বরাত দিয়ে সংস্থাটি জানিয়েছে, এর আগে চলতি বছরের ১৫ এপ্রিল ৭ লাখেরও বেশি মানুষ তাদের ঘর ছেড়ে যায় জাতিগত নানা সংঘাতের ফলে। অন্যদিকে ১ লাখ ৫০ হাজার মানুষ এরইমধ্যে বাস্তচ্যুত হয়েছে।

    বিলাক বলেন, স্পষ্টতই এটি একটি অস্থিতিশীল পরিস্থিতি। নতুন করে সুদানে আরো ৩ লাখেরও বেশি মানুষ এ পরিস্থিতির শিকার।

    প্রতিবেদনে দেখা যায়, গত তিন কোয়ার্টের মধ্যে শুধু খাদ্য সংকটের কারণেই সিরিয়া, আফগানিস্তান, কঙ্গো, কলোম্বিয়া, ইথিওপিয়া, ইয়েমেন, নাইজেরিয়া, সোমালিয়া ও সুদানের মানুষেরা ঘরছাড়া হয়েছে।

    এনআরসি প্রধান জেন ইগল্যান্ড বলেন, এটি একটি প্রবল ঝড়ে রুপ নিচ্ছে। পরিস্থিতি প্রকট আকার ধারণ করায় সামাজিক বৈষম্য আরো ঘনীভূত হয়েছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

  • আ.লীগের সম্পাদকমণ্ডলীর সভা শনিবার

    আ.লীগের সম্পাদকমণ্ডলীর সভা শনিবার

    আওয়ামী লীগের সম্পাদকমণ্ডলীর সভা অনুষ্ঠিত হবে আগামী শনিবার (১৩ মে)। আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনার ধানমন্ডির রাজনৈতিক কার্যালয়ে এদিন বিকাল ৪টায় সভা শুরু হবে।

    বৃহস্পতিবার (১১ মে) আওয়ামী লীগের দফতর সম্পাদক ব্যারিস্টার বিপ্লব বড়ুয়ার সই করা এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

    এতে বলা হয়, সভায় সভাপতিত্ব করবেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের। সভায় সংশ্লিষ্ট সবাইকে স্বাস্থ্য সুরক্ষাবিধি মেনে যথাসময়ে উপস্থিত থাকার অনুরোধ জানানো হয়েছে।